ঢাকার ধামরাই উপজেলার রোয়াইল ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দালাল চক্রের দৌরাত্ম দিন দিন উদ্বেগজনক আকার ধারণ করছে। সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশের যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে ঘুষ বাণিজ্য ও অনিয়ম চলছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রোয়াইল ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সরকারি ভাবে দুইজন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা ও একজন অফিস সহকারী (পিয়ন) কর্মরত থাকলেও নিয়মিতভাবে অন্তত ১০ থেকে ১২ জন ব্যক্তি সেখানে ভূমি সেবার কাজ করছেন। তাঁদের অনেকের হাতে ল্যাপটপ, সামনে চেয়ার-টেবিল—দেখে মনে হয় তাঁরা সরকারি কর্মকর্তা। অথচ বাস্তবে তাঁদের কেউই সরকারি কর্মচারী নন।
বিধি অনুযায়ী ভূমি অফিসের রেকর্ড রুম সংরক্ষিত থাকার কথা থাকলেও সেখানে অবাধ যাতায়াত লক্ষ্য করা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, দালালরা নিজেরাই বিভিন্ন মৌজার ভলিউম বই বের করে পুরোনো জোত থেকে জমির পরিমাণ কর্তন করে নতুন জোত সৃষ্টি করছেন এবং তা নতুন ভলিউমে লিপিবদ্ধ করছেন।
অভিজ্ঞতার অভাব ও নিয়ম না জানার কারণে জমির মালিকেরা পরে নানামুখী আইনি জটিলতায় পড়ছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
অফিসে ঢুকলেই নজরে পড়েন ইব্রাহিম নামের এক ব্যক্তি। চোখে চশমা, হাতে ল্যাপটপ—চেয়ার-টেবিলে বসে কাজ করার ভঙ্গি দেখে যে কেউ তাঁকে বড় কোনো কর্মকর্তা মনে করবেন। অথচ সরকারি নথি অনুযায়ী, ইব্রাহিম নামে কোনো ব্যক্তি রোয়াইল ইউনিয়ন ভূমি অফিসে নিয়োগপ্রাপ্ত নন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সাভারের নয়ারহাট এলাকার বাসিন্দা ইব্রাহিম প্রতিদিন সকাল ৯টার দিকে মোটরসাইকেলে করে অফিসে আসেন। সরকারি মামলা কিংবা জটিল ভূমি বিরোধের তদন্ত চলাকালে তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা যায়। অভিযোগ রয়েছে, তিনি অফিসের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা বিল্লাল হোসেনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে কাজ করেন।
এক ভুক্তভোগী জমির মালিক অভিযোগ করে বলেন, “আমার জমি অন্যের নামে নামজারি করে দেওয়া হয়। পরে মিস কেস করলে তদন্তে আসেন বিল্লাল স্যার। আমার পক্ষে রিপোর্ট দেওয়ার কথা বলে টাকা নেন। পরে জানতে পারি, অপরপক্ষের কাছ থেকেও টাকা নিয়ে তাদের পক্ষেই রিপোর্ট দিয়েছেন।”
ভূমি অফিস সূত্র জানায়, ডিজিটাল ভূমিসেবার আওতায় প্রতিটি উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তার নামে একটি করে সরকারি আইডি থাকে। এই আইডি ব্যবহার করেই নামজারি, খতিয়ান সংশোধনসহ সব ভূমি সেবা দেওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, রোয়াইল ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তা মো. বিল্লাল হোসেনের আইডিটি নিয়মিতভাবে ইব্রাহিম নিজেই ব্যবহার করছেন। এই আইডির মাধ্যমে তিনি দিনের পর দিন বিভিন্ন ভূমি সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।
রোয়াইল ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, “অনেকে এখানে কাজ করছিল, তাদের বের করে দেওয়া হয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে কাউকে কাজ করতে বলিনি।”
অন্যদিকে অভিযুক্ত উপ-সহকারী কর্মকর্তা বিল্লাল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো বক্তব্য না দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান।
ইখা