পাবনার ঈশ্বরদীতে ধানের শীষের নির্বাচন পরিচালনার খরচ হিসেবে এক ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবী ও ২ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে।
রবিবার (০১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের বড়ইচারা এলাকায় অবস্থিত বঙ্গ মিলার্স লিঃ এর প্রধান ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় রবিবার সন্ধ্যায় পৌর শহরের ইস্তা এলাকায় নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও ঈশ্বরদী পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক রুমন আলী।
রুমন আলী অভিযোগ করে বলেন, সকল নিয়ম মেনেই দীর্ঘদিন যাবৎ ঈশ্বরদীর বড়ইচারা এলাকায় অবস্থিত বঙ্গ মিলার্স লিঃ এ বিভিন্ন মালামাল সরবরাহ করে আসছি। শনিবার দুপুরে উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক হাসান আলী বিশ্বাসের নির্দেশে ঈশ্বরদী পৌর কৃষক দল নেতা আলম ওরফে ডাকাত আলম, জামরুল ইসলাম, আলম হোসেন ও শহিদুল ইসলাম চেনু সরদার সহ অজ্ঞাত কয়েকজন বিএনপি মনোনীত পাবনা-৪ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবের নির্বাচন পরিচালনার খরচ হিসেবে ১০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা প্রায় দুই লক্ষ টাকার মালামাল (এসডিবি ও এলডিবি পলিথিন) লুট করে নিয়ে যায় এবং একটি ইঞ্জিন চালিত ভুটভটি গাড়ি ভাঙচুর ও চালককে মারপিট করে।
তিনি আরো বলেন, এর আগেও গত ২৮ জানুয়ারি হাসান আলী বিশ্বাসের নির্দেশে আলম ডাকাত চাঁদা দাবী করেছিলেন। বর্তমানে নিজের জীবন ও ব্যবসায়ীক নিরাপত্তা নিয়ে চরম হুমকির মুখে আছি। নির্বাচনের আগেই যদি এ ধরনের পরিস্থিতি সম্মুখীন হয় তবে নির্বাচন পরবর্তীতে হাবিবুর রহমান হাবিব এমপি নির্বাচিত হলে আমরা কিভাবে ব্যবসা করব। এ বিষয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে ঈশ্বরদী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হবে বলেও জানান ভুক্তভোগী রুমন আলী।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত বঙ্গ মিলার্স লিঃ এ কর্মরত কর্মচারী বাচ্চু হোসেন, কোম্পানির অভ্যন্তরে মুরগি সরবরাহকারী শুভ হোসেন, ডিম সরবরাহকারী মনির হোসেন সহ অন্যান্যরা বিভিন্ন সময় এমন হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন।
এদিকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সলিমপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক হাসান আলী বিশ্বাস জানান, এ ঘটনায় কে বা কাহারা সম্পৃক্ত তা আমার জানা নেই। তবে আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না এবং কাউকে কোন নির্দেশও দেইনি।
তবে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও অভিযুক্ত ডাকাত আলম ও পাবনা-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি সম্ভব হয়নি।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ঈশ্বরদী থানার উপ-পরিদর্শক জামাল মিয়া জানান, মুঠোফোনে জানতে পারি প্রান কোম্পানির অভ্যন্তরে ঝামেলা চলছে। পরে দুপুরেই ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। তবে এখনো লিখিত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এসআর