নওগাঁয় নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশসহ সাত দফা দাবিতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মচারীরা বিক্ষোভ ও কর্মবিরতি পালন করেছেন।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের ব্যানারে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন বিভিন্ন দপ্তরের কর্মচারীরা। সকাল ৯টার দিকে তারা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।
এদিন সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে দুই ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করা হয়। এতে সরকারি সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সেবা নিতে আসা সাইফুল ইসলাম বলেন, তিনি খাস জমির বন্দোবস্ত সংক্রান্ত কাজের জন্য রাজস্ব শাখায় এসেছিলেন। আজই ছিল কাজ শেষ করার শেষ দিন। কিন্তু এসে দেখেন, পে-স্কেলের দাবিতে কর্মচারীরা আন্দোলনে রয়েছেন, অফিসে কেউ নেই।
আদালতে সেবা নিতে আসা রহিদুল সরকার বলেন, তাঁর একটি দেওয়ানি মামলার আপিল শুনানি রয়েছে। সে জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করতে এসেছিলেন। কিন্তু কোনো কর্মচারী অফিসে না থাকায় তিনি বিপাকে পড়েছেন। শুনানি পিছিয়ে গেলে তাঁর জন্য বড় সমস্যা তৈরি হবে বলে জানান তিনি।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কর্মচারীরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কর্মচারীরা বৈষম্যহীন বেতন কাঠামোর দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু সরকার নানা অজুহাতে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন করছে না। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে বর্তমান বেতন দিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে।
তাঁরা বলেন, সরকার বিভিন্ন দাবিতে উদ্যোগ নিলেও পে-স্কেল বাস্তবায়নে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। দ্রুত দাবি বাস্তবায়ন না হলে আগামী নির্বাচনে দায়িত্ব পালন না করার পাশাপাশি নির্বাচন বয়কটের ঘোষণাও দেন আন্দোলনকারীরা।
আন্দোলনকারী হাফিজুর রহমান শুভ বলেন, “নো পে-স্কেল, নো ইলেকশন। আমাদের দাবি আদায় না হলে আমরা কোনো নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করব না, ভোটেও অংশ নেব না।”
আরেক আন্দোলনকারী নাহিদ আল-সালাম বলেন, “আমাদের বারবার আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে। পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য কমিশন গঠন করেও তা কার্যকর করা হয়নি। এখন বলা হচ্ছে, এটি নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব। তাহলে এই সরকার কেন কমিশন গঠন করল? বৈষম্য দূর না হলে মানুষ আবারও আন্দোলনে নামবে।”
কর্মচারীদের সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—২০১৫ সালের পে-স্কেলের গেজেটে বাতিল হওয়া তিনটি টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল, বেতন জ্যেষ্ঠতা সংরক্ষণ, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে গ্রাচুইটির পাশাপাশি পেনশন চালু এবং গ্রাচুইটির হার ৯০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০০ শতাংশ নির্ধারণ।
ইখা