আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনে নির্বাচনী তৎপরতা ক্রমেই তীব্র হয়ে উঠছে। ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গণসংযোগ, পথসভা, উঠান বৈঠক, লিফলেট বিতরণ ও জনসভায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে তাঁরা তুলে ধরছেন উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি এবং এলাকার বিদ্যমান সমস্যা সমাধানের পরিকল্পনা। পাশাপাশি নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বানও জানানো হচ্ছে।
দীর্ঘদিন পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনায় ভালুকার ভোটারদের মধ্যেও বাড়ছে আগ্রহ ও উদ্দীপনা। বিএনপি, স্বতন্ত্র, গণ অধিকার পরিষদ, এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীদের প্রচারণায় উপজেলা জুড়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফখরউদ্দিন আহমেদ বাচ্চু ধানের শীষ প্রতীকে উপজেলার বিভিন্ন ওয়ার্ডে দিনব্যাপী গণসংযোগ ও পথসভা করছেন। বক্তৃতায় তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে প্রতিটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড এবং সাধারণ মানুষের জন্য স্বাস্থ্য কার্ড চালু করা হবে। পাশাপাশি ভালুকায় অবকাঠামো, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ মোর্শেদ আলম হরিণ প্রতীকে প্রচারণায় গুরুত্ব দিচ্ছেন তরুণদের কর্মসংস্থান, কৃষিপণ্য বিপণন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং নারী শিক্ষার প্রসারে। তাঁর ভাষায়, দলীয় চাপ নয়, ভোটারদের প্রত্যাশাই তাঁর রাজনীতির মূল ভিত্তি।
এনসিপির প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম শাপলাকলি প্রতীকে কৃষি ভর্তুকি, সারের সহজলভ্যতা এবং গ্রামীণ সড়ক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। অপরদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. মোস্তফা কামাল হাতপাখা প্রতীকে নৈতিকতা ও ইসলামী মূল্যবোধের ভিত্তিতে সমাজ গঠনের অঙ্গীকার তুলে ধরছেন।
এদিকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও গণভোটকে কেন্দ্র করে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। সরকারি দপ্তর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পৌরসভা ও জনবহুল এলাকায় গণভোট ও নতুন বাংলাদেশ বিষয়ক ব্যানার-বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে সভা ও লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে সরকারি উদ্যোগগুলোর প্রচার করা হচ্ছে।
ভালুকা আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫৯ জন। উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় রয়েছে মোট ১০৭টি ভোটকেন্দ্র—এর মধ্যে ৭টি নারী, ৭টি পুরুষ ও ৯৩টি সাধারণ কেন্দ্র।
ভালুকা পৌরসভার বাসিন্দা হাবিবুর রহমান বলেন, “এবার নির্বাচন অনেক জমজমাট। প্রার্থীরা অনেক প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তবে আমরা চাই, যিনি নির্বাচিত হবেন তিনি যেন কথা নয়, কাজের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করেন।”
আরেক ভোটার সজিব খান বলেন, “কৃষি কার্ড বা ভর্তুকির চেয়ে আমাদের বেশি দরকার ন্যায্য দামে ফসল বিক্রির নিশ্চয়তা।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে ভালুকায় চার থেকে পাঁচজন প্রার্থীর মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠতে পারে। জোরদার প্রচারণা ও ভোটারদের উচ্চ অংশগ্রহণের কারণে এ আসনে একটি প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন তাঁরা।
ইখা