বাগানের চারদিকে তাকালেই চোখে পড়ে শুধু বরই আর বরই। থোকায় থোকায় ঝুলে থাকা ফলের ভারে গাছগুলো নুইয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও মনে হয়, পাতার চেয়েও বরই বেশি। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই দূরদূরান্ত থেকে ক্রেতারা ছুটে আসছেন বাগানে। সুমিষ্ট স্বাদের বরই খেয়ে পছন্দ করে কিনে নিচ্ছেন অনেকে।
এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার সদর ইউনিয়নের জৌতা গ্রামের আবু জাফরের বলসুন্দরী বরই বাগানে।
জৌতা গ্রামের বাসিন্দা আবু জাফর দেশের সুনামধন্য নেছারিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে কামিল পাস করেছেন। কারও অধীনে চাকরি করার আগ্রহ না থাকায় চাকরির পেছনে না ছুটে নিজ উদ্যোগে কিছু করার স্বপ্ন দেখেন তিনি। বাড়ির সামনে একটি মুদি দোকান দিয়ে ব্যবসা শুরু করলেও সেখানে আশানুরূপ সাফল্য পাননি।
দুই বছর আগে ইউটিউব দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে অনলাইনে ঝিনাইদহ থেকে বরইয়ের চারা সংগ্রহ করেন আবু জাফর। এরপর ৫০ শতক জমিতে বরই চাষ শুরু করেন। সে সময় তার খরচ হয় প্রায় ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা। প্রথম বছরেই সেই উদ্যোগ সফলতায় রূপ নেয়। ওই মৌসুমে তিনি প্রায় ২ লাখ টাকার বরই বিক্রি করেন।
সাফল্যের ধারাবাহিকতায় চলতি মৌসুমে কৃষি বিভাগের সহায়তায় তিনি প্রায় দেড়শতক জমিতে বরই চাষ করেছেন। তার বাগানে বলসুন্দরী, ভারতকুল, কাশ্মীরি ও আপেল কুল জাতের প্রায় ৪০০টি গাছ রয়েছে। প্রতিটি গাছেই এসেছে বাম্পার ফলন। চলতি মৌসুমে প্রায় ৫ লাখ টাকার বরই বিক্রি হবে বলে আশাবাদী এই চাষি। তবে এ মৌসুমে শ্রমিকসহ আনুষঙ্গিক খরচ হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টাকা।
আবু জাফর জানান, তার বাগানে কোনো ধরনের রাসায়নিক সার বা কীটনাশক ব্যবহার করা হয় না। নিজ উদ্যোগে তৈরি করা জৈব সারই ব্যবহার করেন তিনি। এতে একদিকে যেমন উৎপাদন খরচ কমেছে, অন্যদিকে বরইয়ের স্বাদ ও মান বেড়েছে বলে মনে করছেন ক্রেতারা। তার বাগানের বরই এখন আশপাশের এলাকায় ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে।
বরই কিনতে আসা এম এ হান্নান বলেন, “বরই মৌসুমে বাজার থেকে না কিনে আমি জাফরের বাগান থেকেই ১৩০ টাকা কেজি দরে কিনেছি। বরই খুব সুস্বাদু হওয়ায় আত্মীয়স্বজনদের উপহার হিসেবেও পাঠিয়েছি।”
আবু জাফরের সাফল্য দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছেন স্থানীয় যুবক মো. সোহরাব হোসেন। তিনি বলেন, “এ বছর আমি স্বল্প পরিসরে ৫০টি গাছ দিয়ে বরই চাষ শুরু করেছি। ফলনও ভালো আসছে। জাফরের সাফল্য দেখে অনেকেই বরই চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।”
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মিলন বলেন, “এই সফল কৃষি উদ্যোক্তার পাশে শুরু থেকেই কৃষি বিভাগ রয়েছে। বরইয়ের চারা, কৃষি উপকরণ, প্রশিক্ষণ এবং জৈব সার উৎপাদনে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও এই সহায়তা অব্যাহত থাকবে।”
ইখা