কিশোরগঞ্জের ভৈরবে আলোচিত কলেজ শিক্ষার্থী আবু সুফিয়ান হত্যার ঘটনায় মামলার প্রধান আসামি মেরাজ মিয়া (২৬) ও তার সহযোগী ইব্রাহীম ওরফে নিদানকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে রেলওয়ে থানা পুলিশ।
সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে রোববার (০১ ফেব্রুয়ারি) রাতে উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের বাঁশগাড়ি এলাকা থেকে মেরাজকে এবং পৌর শহরের পঞ্চবটী এলাকা থেকে ইব্রাহীম ওরফে নিদানকে গ্রেপ্তার করা হয়। মেরাজ পঞ্চবটী এলাকার মুর্শিদ মিয়ার ছেলে এবং নিদান একই এলাকার জয়নাল মিয়ার ছেলে। ভৈরব রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সাঈদ আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ওসি জানান, গত ২৯ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) রাত ১২টায় পৌর শহরের নিউটাউন এলাকার একটি রেস্তোরাঁ সংলগ্ন রেললাইনের পাশ থেকে কলেজ শিক্ষার্থী আবু সুফিয়ানের (১৯) রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আবু সুফিয়ান কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার কর্শাকড়িয়াইল ইউনিয়নের বাদে কড়িয়াল এলাকার আবু তাহের মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় ৩১ জানুয়ারি (শনিবার) রাতে নিহতের বাবা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে ভৈরব রেলওয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পর রোববার রাতে প্রধান আসামি মেরাজকে তার শ্বশুরবাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যে নিদানকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মেরাজ হত্যার দায় স্বীকার করেছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও উদ্ধার করা হয়েছে। আসামিরা জানায়, ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে তারা আবু সুফিয়ানকে হত্যা করেছে। গ্রেপ্তারকৃত মেরাজ একজন চিহ্নিত ছিনতাইকারী এবং তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ১৪টি মামলা রয়েছে। তার সহযোগী নিদানের বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা রয়েছে।
ওসি আরও জানান, ২৯ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জগামী এগারসিন্দুর ট্রেনে করে ভৈরবে এসেছিলেন আবু সুফিয়ান। রাত ১০টা থেকে ১২টার মধ্যে যেকোনো সময় তিনি ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে প্রাণ হারান। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ভৈরবসহ পুরো জেলায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠলে পুলিশ তৎপর হয়ে ওঠে এবং মামলা দায়েরের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রধান আসামিদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
এনআই