ফেব্রুয়ারি মাস এলেই শহীদ মিনারগুলোর কদর যেন হঠাৎ করেই বেড়ে যায়। বিশেষ করে একুশে ফেব্রুয়ারি সামনে এলেই শুরু হয় ধোয়া-মোছা ও অস্থায়ী শহীদ মিনার তৈরির তোড়জোড়। কিন্তু ভাষা আন্দোলনের ৭৩ বছর পেরিয়ে গেলেও বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আজও স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মিত হয়নি।
উপজেলায় মোট ২০৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৫৩টিতেই নেই কোনো স্থায়ী শহীদ মিনার। ফলে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে কলাগাছ ও বাঁশের কঞ্চি দিয়ে অস্থায়ী শহীদ মিনার তৈরি করে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে হয়। যেসব প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার আছে, সেগুলোরও অনেকটি বছরের অধিকাংশ সময় পড়ে থাকে অযত্ন ও অবহেলায়।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, পাথরঘাটায় ১৪৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র ১১টিতে স্থায়ী শহীদ মিনার রয়েছে; বাকি ১৩৮টি বিদ্যালয়ে কোনো শহীদ মিনার নেই। অন্যদিকে, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের আওতাধীন ৫৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল, মাদ্রাসা ও কলেজ) মধ্যে ৩৯টিতে স্থায়ী শহীদ মিনার থাকলেও ১৫টি প্রতিষ্ঠান এখনো এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
শিক্ষার্থীরা জানায়, প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারি এলে তারা বাধ্য হয়ে বাঁশের কঞ্চি ও কলাগাছ দিয়ে অস্থায়ী শহীদ মিনার তৈরি করে দিবসটি পালন করে। তাদের দাবি, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দ্রুত স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ করা হোক। স্থানীয় অভিভাবকদের মতে, নতুন সরকারের কাছে আমাদের জোর দাবি—শিশুরা যাতে ছোটবেলা থেকেই ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগ ও সঠিক ইতিহাস জানতে পারে, সে জন্য অতি দ্রুত প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার স্থাপন করা প্রয়োজন।
চরটানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আতিকুর রহমান বলেন, “২১শে ফেব্রুয়ারি আমাদের জাতীয় জীবনের এক ঐতিহাসিক দিন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, ভাষা আন্দোলনের এত বছর পরও অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থায়ী শহীদ মিনার নেই। আমরা প্রতি বছর কলাগাছ দিয়ে অস্থায়ী মিনার তৈরি করি, যা ভাষা শহীদদের মর্যাদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।”
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জিনাত জাহান জানান, বর্তমানে শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য সরাসরি কোনো সরকারি বরাদ্দ নেই। তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বরাদ্দের জন্য আবেদন করা হয়েছে। আপাতত যেসব প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী মিনার নেই, সেখানে অস্থায়ীভাবে দিবসটি পালনের ব্যবস্থা করা হয়।
পাথরঘাটা উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার মনিরুল ইসলাম বলেন, “গত বছর উপজেলা পরিষদ থেকে বরাদ্দ পেয়ে ১২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও বরাদ্দ সাপেক্ষে দ্রুত সময়ের মধ্যে শহীদ মিনার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
এনআই