এইমাত্র
  • সেনাবাহিনীর নার্সিং সার্ভিসে নিয়োগ, বিবাহিতরাও পাচ্ছেন সুযোগ
  • হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল-গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচল নিয়ে ইরান-চীন আলোচনা
  • ইরানের পর কিউবা এখন ‘সময়ের ব্যাপার মাত্র’: ট্রাম্প
  • বাহরাইনে হোটেলে ড্রোন হামলা, মার্কিন সেনারা সেখানে ছিলেন ধারণা করা হচ্ছে
  • সৌদি আরবকে ধন্যবাদ দিলেন ইরানের রাষ্ট্রদূত
  • জামালপুরে স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যা করল আইনজীবি স্বামী
  • আইভী ও বদির জামিন স্থগিত
  • তীরে গিয়ে তরী ডুবাল ইংল্যান্ড, ফাইনালে ভারত
  • প্রধানমন্ত্রীর পূর্বঘোষিত দুই ইফতার মাহফিল বাতিল
  • আজারবাইজানে হামলার দাবি অস্বীকার ইরানের
  • আজ শুক্রবার, ২২ ফাল্গুন, ১৪৩২ | ৬ মার্চ, ২০২৬
    দেশজুড়ে

    কক্সবাজারে ১২ লাখ টাকায় ‘প্রক্সি’ দিয়ে প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগের অভিযোগ

    গাজী গোফরান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট (চট্টগ্রাম) প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:১৯ পিএম
    গাজী গোফরান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট (চট্টগ্রাম) প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:১৯ পিএম

    কক্সবাজারে ১২ লাখ টাকায় ‘প্রক্সি’ দিয়ে প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগের অভিযোগ

    গাজী গোফরান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট (চট্টগ্রাম) প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:১৯ পিএম

    সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা–২০২৫ ঘিরে কক্সবাজার জেলায় প্রক্সি পরীক্ষার মাধ্যমে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক প্রার্থীর বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।


    অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন রাজস্ব খাতভুক্ত সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের মণ্ডলপাড়া গ্রামের আমান উল্লাহ নাহিন (৩১) নামে এক প্রার্থী নিজে লিখিত পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও উত্তীর্ণ হয়েছেন—এমন অভিযোগ রয়েছে। তার পরীক্ষার রোল নম্বর ৪৬২১০৬৫।


    অভিযোগ রয়েছে, কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া উপজেলার বাসিন্দা মো. আনোয়ার হোসেন এই অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। তিনি বর্তমানে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে (ডিপিএইচই) মেকানিক পদে কর্মরত।


    সূত্র জানায়, চূড়ান্ত কাগজপত্র জমা দেওয়ার উদ্দেশ্যে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) আমান উল্লাহ নাহিন কক্সবাজার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে আসেন। পরে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে স্বাস্থ্য সনদ সংগ্রহকালে প্রতিবেদকের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়।


    প্রক্সি পরীক্ষার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রথমে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরবর্তী আলাপচারিতায় স্বীকার করেন যে, তার হয়ে অন্য একজন লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেন, আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে ১২ লাখ টাকার চুক্তির মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।


    তার ভাষ্যমতে, বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে আনোয়ার হোসেন ‘প্রক্সি ডন’ ও ‘ডিভাইস ডন’ নামে পরিচিত ছিলেন। এ সংক্রান্ত কথোপকথনের অডিও সংরক্ষিত রয়েছে বলেও প্রতিবেদককে জানান তিনি।


    নাহিন আরও অভিযোগ করেন, চুক্তি অনুযায়ী লিখিত ও মৌখিক উভয় পরীক্ষায় সহযোগিতার কথা থাকলেও অর্থ পরিশোধে বিলম্ব হওয়ায় মৌখিক পরীক্ষার সময় সহযোগিতা পাননি। পরে নিজ উদ্যোগে ভাইভা বোর্ডের একজনকে প্রভাবিত করে মৌখিক পরীক্ষা দেন বলেও দাবি করেন তিনি। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান।


    একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, লিখিত পরীক্ষায় প্রক্সি দিতে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সঙ্গে প্রায় ৩ লাখ টাকার চুক্তি করা হয়েছিল।


    এ বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহীন মিয়া বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


    কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আ. মান্নান বলেন, প্রক্সির মাধ্যমে সরকারি চাকরি লাভের সুযোগ নেই। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


    অনুসন্ধানে জানা যায়, আনোয়ার হোসেন অতীতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় প্রক্সি জালিয়াতির ঘটনায় অভিযুক্ত ছিলেন। ২০১৯ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব রেসিডেন্স, হেলথ অ্যান্ড ডিসিপ্লিন কমিটি তার মাস্টার্স পরীক্ষার সনদ স্থগিত করে। সংশ্লিষ্ট ঘটনায় তিনি কারাভোগও করেন।


    ভুক্তভোগীদের কয়েকজন দাবি করেন, বিভিন্ন সরকারি নিয়োগ ও বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে প্রক্সি পরীক্ষার প্রস্তাব দেওয়া হতো। পুরো প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতিতে প্রশ্নোত্তর আদান-প্রদানের অভিযোগও রয়েছে।


    অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন অতীতে সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করলেও বর্তমানে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেন। সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধও জানান তিনি।


    আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি দেওয়া বা সহায়তা করা গুরুতর দণ্ডনীয় অপরাধ। চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী মাহমুদ ইসলাম সুমন বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে বাংলাদেশ দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ অনুযায়ীও ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।


    তিনি জানান, প্রক্সির মাধ্যমে চাকরি প্রাপ্তি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বাতিলসহ ফৌজদারি মামলা দায়ের করা সম্ভব।

    ইখা

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    Loading…