সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলায় সরিষা ও সরিষার মধু উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। উন্নত জাতের সরিষা সম্প্রসারণ এবং আধুনিক মৌচাষ প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে একদিকে ফসলের উৎপাদন বাড়ছে, অন্যদিকে কৃষকের আয়েও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানা গেছে, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে বেলকুচি উপজেলায় ৭ হাজার ৭৩০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করা হয়। চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে ৮ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবে আবাদ হয়েছে ৮ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে।
সরিষা উৎপাদন বৃদ্ধির পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে বারি সরিষা–১৪, বারি সরিষা–১৭ ও বারি সরিষা–২০ জাত। এসব জাত স্বল্পমেয়াদি, উচ্চ ফলনশীল ও রোগ সহনশীল হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে আমন ধান কাটার পর পতিত জমিতে সরিষা আবাদ করে অল্প সময়েই ভালো ফলন পাচ্ছেন কৃষকেরা।
সরিষা চাষের পাশাপাশি উপজেলায় সরিষার মধু উৎপাদনেও আশাব্যঞ্জক চিত্র দেখা যাচ্ছে। সরিষার ফুলকে কেন্দ্র করে মৌবক্স স্থাপনের ফলে মধু উৎপাদন বেড়েছে। গত অর্থবছরে বেলকুচি উপজেলায় সরিষার মধু উৎপাদনের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৩ হাজার ২৫০ কেজি। চলতি অর্থবছরেও একই পরিমাণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর বিপরীতে এ পর্যন্ত উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৯ হাজার ২৫০ কেজি।
ধুকুরিয়াবেড়া ইউনিয়নের তালুকদার মেটুয়ানী গ্রামের কৃষক সফি জানান, চলতি মৌসুমে তিনি ১০ বিঘা জমিতে সরিষা আবাদ করেছেন। শুরু থেকেই কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা জমি প্রস্তুত, বীজ বপন, সার প্রয়োগ ও রোগবালাই ব্যবস্থাপনা বিষয়ে নিয়মিত পরামর্শ দিয়েছেন। এতে তাঁর আবাদ ভালো হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার ভালো ফলন পাওয়ার আশা করছেন তিনি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুকান্ত ধর বলেন, মৌবক্স স্থাপনের ফলে পরাগায়ন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর কারণে সরিষার ফলন শতকরা ১৫ থেকে ২০ ভাগ পর্যন্ত বেড়েছে। পাশাপাশি মৌচাষিরা সরাসরি মধু বিক্রি করে অতিরিক্ত আয় করতে পারছেন, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করছে।
তিনি আরও জানান, সরিষা আবাদে সেচের প্রয়োজন হয় না এবং কম সময়ে এই ফসল চাষ করা যায়। সরিষার বড় শত্রু জাব পোকা হলেও এ মৌসুমে এর আক্রমণ দেখা যায়নি। সরিষার তেলে রয়েছে নানা ওষুধি গুণ। পাশাপাশি সরিষার খৈল পশুখাদ্য ও জমির উর্বরতা বৃদ্ধিতে ব্যবহার করা হয়। সরিষার গাছ জ্বালানি হিসেবে কাজে লাগে এবং জমিতে সরিষা আবাদ করলে পাতাঝরার মাধ্যমে মাটির খাদ্য চাহিদার একটি বড় অংশ পূরণ হয়।
কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা মনে করছেন, পরিকল্পিতভাবে উন্নত জাতের সরিষা সম্প্রসারণ, কৃষক প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক মৌচাষ প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়ানো গেলে আগামী বছরগুলোতে বেলকুচি উপজেলা সরিষা ও সরিষার মধু উৎপাদনে একটি মডেল এলাকা হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
আরডি