পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া (কেপি) প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফ্রিদির বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। ইসলামাবাদের একটি আদালত বুধবার (২৮ জানুয়ারি) এই পরোয়ানা জারি করে। মূলত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর মন্তব্য এবং তাদের সুনাম ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে দায়ের করা সাইবার অপরাধ মামলায় তাকে আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেয়া হলেও তিনি তা উপেক্ষা করেন।
আর এরই জেরে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। সংবাদমাধ্যম দ্য ডন বলেন, মামলাটি প্রিভেনশন অব ইলেকট্রনিক ক্রাইমস অ্যাক্ট (পেকা) আইনের আওতায় জাতীয় সাইবার অপরাধ তদন্ত কর্তৃপক্ষের (এনসিসিআইএ) কাছে নথিভুক্ত করা হয়েছে। সিনিয়র সিভিল জজ আব্বাস শাহ মামলার শুনানি পরিচালনা করেন।
শুনানিতে তিনি বলেন, আদালতের সমন পাওয়ার পরও মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফ্রিদি একাধিকবার হাজির হননি। এই প্রেক্ষাপটে বিচারক তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাকে আদালতে হাজির করার আদেশ দেন।
মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। এর আগেও গত ৪ জানুয়ারি একই মামলায় আদালত সোহাইল আফ্রিদির বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল। সে সময় আদালত বলেছিল, বারবার সমন উপেক্ষা করে কোনও ধরনের বৈধ কারণ ছাড়াই আদালতে অনুপস্থিত থাকছেন তিনি।
আদালত আরও জানায়, একাধিকবার সুযোগ দেয়া হলেও খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের এই মুখ্যমন্ত্রী আদালতের নির্দেশ মানেননি এবং অভিযোগের জবাব দেননি। বিচারকের মতে, তার এই ধারাবাহিক অনুপস্থিতি আসলে আইনি প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়ার ইচ্ছাকৃত চেষ্টা।
এদিকে জিও নিউজের খবরে বলা হয়েছে, সাইবার অপরাধ মামলার পাশাপাশি সোহাইল আফ্রিদির বিরুদ্ধে ইসলামাবাদে ২৬ নভেম্বরের এক বিক্ষোভে ভূমিকার অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আদালতেও মামলা চলছে। এছাড়া খাইবার পাখতুনখাওয়ার একটি জাতীয় পরিষদ আসনের উপনির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশনের (ইসিপি) কাছেও একটি মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এরই মধ্যে পেশোয়ার হাইকোর্ট ইসিপিকে ওই মামলায় মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা পদক্ষেপ না নিতে নির্দেশ দিয়েছে। হারিপুর উপনির্বাচনের সময় সরকারি কর্মকর্তাদের হুমকি দেয়ার অভিযোগে ইসিপি যে নোটিশ দিয়েছিল, সেটি চ্যালেঞ্জ করে মুখ্যমন্ত্রী এই রিট আবেদন করেন।
বিচারপতি সৈয়দ আরশাদ আলী ও বিচারপতি ফাহিম ওয়ালির সমন্বয়ে গঠিত দুই সদস্যের বেঞ্চ এই আবেদন শুনানি করেন। মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষে আইনজীবী বশির খান ওয়াজির আদালতে জানান, যেই বক্তব্যের জন্য ইসিপি নোটিশ দিয়েছে, সেটি উপনির্বাচনী এলাকার বাইরে দেয়া হয়েছিল এবং ওই সময় মুখ্যমন্ত্রী প্রদেশব্যাপী উন্নয়ন প্রকল্প ঘোষণার সফরে ছিলেন।
এবি