বাংলাদেশের নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্র কোনো পক্ষ নেবে না: রাষ্ট্রদূত
বাংলাদেশের আগামী জাতীয় নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্র কোনো পক্ষ নেবে না বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন।তিনি বলেন, নির্বাচনের ফলাফল সম্পূর্ণ বাংলাদেশের জনগণের সিদ্ধান্ত। জনগণ যে সরকার নির্বাচিত করবে, তাদের সঙ্গেই কাজ করতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত।বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবনে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ কথা বলেন তিনি।এর আগে বেলা ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে এ বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদও উপস্থিত ছিলেন।মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকার বাংলাদেশের নির্বাচনে কোনো পক্ষ নেয় না। এই নির্বাচনের ফল কী হবে, তা নির্ধারণ করবেন কেবল বাংলাদেশের জনগণ।তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ যে সরকারকে নির্বাচিত করবে, আমরা তাদের সঙ্গেই ভবিষ্যতে কাজ করতে প্রস্তুত।নির্বাচন প্রস্তুতি প্রসঙ্গে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশন কীভাবে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, সে বিষয়ে সিইসি তাকে বিস্তারিত অবহিত করেছেন। এ তথ্যগুলো নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট বলেও জানান।তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে তার নিশ্চিতকরণ শুনানির সময় থেকেই তিনি বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে আগ্রহী ছিলেন। বলেন, আমি নির্বাচনের দিনটির দিকে তাকিয়ে আছি এবং এর ফলাফল দেখার অপেক্ষায় আছি।মার্কিন রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতে তিনি জানতে পেরেছেন যে নির্বাচনকে একটি উৎসবমুখর দিনে পরিণত করার প্রত্যাশা রয়েছে। আমিও আশা করি, এটি একটি উৎসবমুখর নির্বাচন হবে, যেখানে বাংলাদেশের জনগণ নির্বিঘ্নে তাদের মতামত প্রকাশ করতে পারবে। এমআর-২
ইরানে এবারের হামলা হবে আগের চেয়ে বড়: ট্রাম্প
ইরানে আগের চেয়ে বড় ধরণের হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি তাদের হামলা আটকাতে চাইলে তাদের সঙ্গে চুক্তি করতে হবে এবং ইরান কোনো ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না।গত বছরের জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ওই সময় দখলদার ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ চলছিল ইরানের। ওই হামলার চেয়ে বড় হামলা হবে হুমকি দিয়ে ট্রাম্প লিখেন, “বিশাল এক যুদ্ধজাহাজের বহর ইরানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রচণ্ড শক্তি আর নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে এটি বেশ দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। এর আগে ভেনেজুয়েলায় যে বাহিনী পাঠানো হয়েছিল, বিশাল রণতরী ‘আব্রাহাম লিঙ্কন’-এর নেতৃত্বে থাকা এই বহরটি তার চেয়েও বড়। তারা যেকোনো সময় অভিযানে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত। আর প্রয়োজন পড়লে অনেক দ্রুত এবং ভয়াবহ হামলা চালাতেও তারা পিছপা হবে না।”“আমি আশা করছি, ইরান দ্রুত আলোচনার টেবিলে আসবে এবং একটি সঠিক চুক্তিতে রাজি হবে। স্পষ্ট কথা হলো—কোনো পরমাণু অস্ত্র রাখা যাবে না। এই চুক্তি সবার জন্যই ভালো হবে। সময় কিন্তু শেষ হয়ে আসছে, হাতে একদমই সময় নেই! আমি ইরানকে আগেও বলেছি, একটা সমাধানে আসুন। তারা শোনেনি বলেই গত জুনে ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ হয়েছিল এবং ইরানের অনেক বড় ক্ষতি হয়ছিল। পরের বার হামলা হলে এটি আরও মারাত্মক হবে! তাই আবারও তেমন পরিস্থিতি ডেকে আনবেন না।”এমআর-২
জাতীয়
সব দেখুন
শিক্ষকদের বেতন সুবিধা বাড়ল, জুলাই থেকে কার্যকর
সহকারী শিক্ষক-শিক্ষিকা পদনাম অন্তর্ভুক্তি এবং উচ্চতর শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে অগ্রিম বর্ধিত বেতন সুবিধা প্রদান সংক্রান্ত নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এ প্রজ্ঞাপন জারি করে।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবরের সম্মতির আলোকে (চাকরি বেতন ও ভাতা) আদেশ, ২০১৫-এর ১২(২) নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তৎকালীন এডুকেশন ডিপার্টমেন্টের ১৯৭০ সালের ১৭ জুলাইয়ের মেমোরেন্ডাম নম্বর ৮৩২-এর তফসিলে ‘সহকারী শিক্ষক-শিক্ষিকা’ পদনাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে উক্ত পদে কর্মরত শিক্ষকদের জন্য অগ্রিম বর্ধিত বেতন সুবিধা সংযোজন করা হয়েছে।নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২য় শ্রেণির এমএড বা মাস্টার্স ডিগ্রিধারী শিক্ষকরা একটি অগ্রিম বর্ধিত বেতন ইনক্রিমেন্ট পাবেন এবং ১ম শ্রেণির এমএড বা মাস্টার্স ডিগ্রিধারী শিক্ষকরা দুইটি অগ্রিম বর্ধিত বেতন ইনক্রিমেন্টের সুবিধা পাবেন।প্রজ্ঞাপনে আরও জানানো হয়, এ আদেশ ২০১৫ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।এমআর-২
‘সৌদিতে থাকা ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশের পাসপোর্ট দেওয়া হবে’
সৌদি আরবে থাকা ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশের পাসপোর্ট দেওয়া হবে। তবে পাসপোর্ট দেওয়া মানেই তারা বাংলাদেশের নাগরিক, এমন নয় বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আমাদের ত্রুটির কারণে প্রচুর রোহিঙ্গা বাংলাদেশের পাসপোর্ট নিয়ে সৌদি আরবে গেছে বহু বছর আগে। তখন হাতে লেখা পাসপোর্ট ছিল। এর মধ্যে প্রচুর দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, যারা আমাদের পাসপোর্ট নিয়ে সৌদি আরবে গেছেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ তাদের পাসপোর্ট নবায়নের জন্য আমাদের ওপর চাপ দিচ্ছে।তিনি বলেন, একটি সিদ্ধান্ত যখন নেওয়া হয়, তখন কোনো দেশের প্রেক্ষাপটে সেখানে আরো অনেক স্বার্থ জড়িত থাকে। আমরা চেষ্টা করেছিলাম, যেন এটা করতে না হয়। কিন্তু আমাদের অন্যান্য স্বার্থের কারণে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে—এই ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশের পাসপোর্ট দেওয়া হবে। তবে পাসপোর্ট দেওয়া মানেই তারা বাংলাদেশের নাগরিক—এমন নয়।পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, যেকোনো দেশের নাগরিককে পাসপোর্ট দেওয়া যায়—এর উদাহরণ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রয়েছে। অন্য দেশের নাগরিককেও পাসপোর্ট দেওয়া সম্ভব। আমাদের মূল বিষয় হলো—এই মানুষগুলো মায়ানমার থেকে এসেছে। তারা এথনিসিটি নিয়ে গবেষণা করতেই পারে, সেটা ভিন্ন বিষয়। কিন্তু বর্তমানে এখানে থাকা ১৩ লাখ মানুষের পূর্বপুরুষরা শত শত বছর ধরে সেখানে বসবাস করে আসছিলেন। কাজেই তাদের ফেরত নিতে হবে।তিনি আরও বলেন, সারা পৃথিবীই স্বীকার করে যে রোহিঙ্গারা একটি জনগোষ্ঠী, যারা মায়ানমারের আরাকানের অধিবাসী। আমাদের সেই দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই বিষয়টি ডিল করতে হবে। ছোটখাটো টেকনিক্যাল ইস্যুর কারণে এটি আটকে থাকবে না। যদি তাদের ফেরত পাঠানোর মতো পরিবেশ সৃষ্টি করা যায়, সেটার জন্য আমাদের আরো অনেক কাজ করতে হবে। এমআর-২
‘বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে ভারত মতামত দেওয়ার অধিকার রাখে না’
বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ভারত মতামত দেওয়ার অধিকার রাখে না বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং তথ্য উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন তিনি।কোনো কোনো জেলায় ডিসিদের গণভোটের পক্ষে সেভাবে প্রচারণায় দেখা যাচ্ছে না- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে উপদেষ্টা বলেন, আমরা যা করছি তা হলো, আমরা উপদেষ্টারা দেশের ৬৪ জেলায় গিয়ে বিভিন্ন জেলার যারা সুশীল সমাজের আছেন, শিক্ষক প্রতিনিধি আছেন, ছাত্র প্রতিনিধি আছেন, যারা ধর্মীয় নেতা আছেন- সবাইকে গণভোটটা কেন হচ্ছে, গণভোটের অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো কী- এটা বুঝিয়ে দিচ্ছি। এখন যেহেতু নির্বাচনের প্রচার শুরু হয়ে গেছে, এখন আর আমরা কোনো উপদেষ্টা সেখানে যাচ্ছি না। আমাদের কিছু ম্যাটেরিয়াল আছে গণভোটের স্বপক্ষে, সেটাই আমরা বিলি করে বেড়াচ্ছি। তিনি বলেন, কিন্তু জেলা প্রশাসকেরা কোথায় প্রচার করছেন, করছেন না... জেলা প্রশাসকেরা প্রচার করবেন হচ্ছে যে ১২ তারিখে সাধারণ ভোটের পাশাপাশি একটা গণভোট হবে। সাধারণ ভোটের পাশাপাশি জনগণ যেন গণভোটে যেতে পারে সে খবরটা জানানো। এর বেশি তো আর তাদের কিছু করার কথা না। সার্বিকভাবে এখন পর্যন্ত ভোটের পরিবেশ কেমন দেখছেন? দুই দলের মধ্যে ঢিল ছোড়াছুড়ি হচ্ছে। পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকেও ভোট নিয়ে মন্তব্য আসছে- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে রিজওয়ানা হাসান বলেন, শোনেন, প্রথম কথা হচ্ছে নির্বাচনের পরিবেশ তো উত্তেজনাপূর্ণ হবে। এক দল আরেক দলকে হারাবার চেষ্টা করবে, এক দল জিতবার চেষ্টা করবে। যে দল জিতবার চেষ্টা করবে সে তার পক্ষকে ঘায়েল করার জন্য কথা বলবে, প্রতিপক্ষ আরেকজনকে ঘায়েল করার কথা বলবে, এটা খুব স্বাভাবিক কথা। তিনি বলেন, কোনো কোনো জায়গায় হয়তো ভদ্রতা সভ্যতার সীমাটা রাখা হচ্ছে না, সেজন্য সব দলকেই দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। যদি কোনোটা আইনশৃঙ্খলা পর্যায়ে পৌঁছে যায় তখন সেটা সরকারের দায়িত্ব। তার আগ পর্যন্ত কে কার জনসভায় কী বললো না বললো সেটা তো সরকারের দায়িত্ব না। নির্বাচন সম্পূর্ণ একটি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় মন্তব্য করে রিজওয়ানা হাসান বলেন, সেখানে অন্য দেশ বিশ্লেষণ করতে পারে, কিন্তু মতামত তো দেওয়ার সুযোগ রাখে না। তার বিশ্লেষণ থাকতে পারে কিন্তু কে জিতলে কী ধারণা করবে জিতবার আগেই এত কথা বলে দিলে তো এই মন্তব্য বস্তুনিষ্ঠ সেরকম মনে করার কোনো সুযোগ নেই। এমআর-২
মেয়েকে ‘শেষ বার্তা’ পাঠিয়ে পুলিশ সদস্যের আত্মহত্যা
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানাধীন পুলিশ ফাঁড়ির টয়লেট থেকে শফিকুল ইসলাম (৪২) নামে এক কনস্টেবলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃত শফিকুল ইসলামের গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর জেলার মতলব থানার মৌটুপী গ্রামে। তিনি ওই এলাকার মান্নান মল্লিকের ছেলে। তিনি যাত্রাবাড়ী ফাঁড়িতে কর্মরত ছিলেন। ২০০৩ সালে তিনি পুলিশ সার্ভিসে যোগ দেন শফিকুল ইসলাম। পুলিশের ধারণা, হাতাশা থেকেই আত্মহত্যা করেছেন তিনি। আত্মহত্যার আগে রাত ৩টা ২৫ মিনিটে বড় মেয়েকে মোবাইলে ম্যাসেজ করে শফিকুল লিখেন, ‘আমি তোমার জন্য কিছুই করতে পারলাম না। আমাকে ক্ষমা করে দিও। জুনায়েদ ও জিহাদকে দেখে রেখো।’ এরপর মেয়ে ফোন দিলে আর রিসিভ করেননি। শফিকুল ইসলামের সম্বন্ধী (স্ত্রীর বড় ভাই) আব্দুল হান্নান জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তিনি মানসিক ডিপ্রেশনে ভুগছিলেন।যাত্রাবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাসেল জানান, ফাঁড়ির ওয়াশরুমে তার ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া গেছে। পরে মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।এইচএ
এবার দুদকের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে
অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের করা মামলায় সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।আজ বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন। গত ২৫ জানুয়ারি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দুদকের সহকারী পরিচালক আখতারুজ্জামান তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দুদক। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আনিস আলমগীরের নামে ২৫ লাখ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ এবং ৩ কোটি ৮৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদসহ মোট ৪ কোটি ৯ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে।গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর রাজধানীর ধানমন্ডি থেকে আনিস আলমগীরকে জিজ্ঞাবাসাবাদের জন্য ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে নেওয়া হয়। পরে তাকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেফতার দেখানো হয়। ১৫ ডিসেম্বর তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে তোলা হয়।ওই দিন আনিস আলমগীরের জামিন আবেদন করা হয়। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন। রিমান্ড শেষে ২০ ডিসেম্বর কারাগারে পাঠানো হয় তাকে। এর পর থেকে তিনি কারাগারে আছেন।এইচএ
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন: ৩ জেলায় নামছে ৩৮ প্লাটুন বিজিবি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করতে রাজধানী ঢাকাসহ তিন জেলায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) থেকে মাঠে নামছেন বিজিবি ৫ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা।আজ বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরের ৫ ব্যাটালিয়নের ট্রেনিং গ্রাউন্ডে এক সংবাদ সম্মেলনে ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তৈমুর হাসান এ তথ্য জানান।এতে জানানো হয়, ঢাকা সেক্টরের আওতাধীন বিজিবি ৫ ব্যাটালিয়ন এলাকায় মোট ৩৮ প্লাটুন সদস্য মোতায়েন করা হবে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পাঁচটি সংসদীয় আসনে ১১ প্লাটুন, সাভার ও ধামরাইয়ের দুইটি আসনে ৬ প্লাটুন, ফরিদপুরের চারটি আসনে ১৩ প্লাটুন এবং মানিকগঞ্জের তিনটি আসনে ৮ প্লাটুন দায়িত্ব পালন করবে।বিশেষ নিরাপত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তিনিরাপত্তা জোরদারে রাজধানীর প্রবেশপথসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি করা হবে। লেফটেন্যান্ট কর্নেল তৈমুর হাসান জানান, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিজিবির বিশেষায়িত কে-৯ ডগ স্কোয়াড মোতায়েন থাকবে। এছাড়া যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবির র্যাপিড অ্যাকশন টিম (র্যাট), কুইক রেসপন্স ফোর্স (কিউআরএফ) এবং প্রয়োজনে হেলিকপ্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে এবার বডি ওর্ন ক্যামেরা, নাইট ভিশন ডিভাইস, এপিসি ও আধুনিক সিগন্যাল সরঞ্জাম ব্যবহার করা হবে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে ব্যাটালিয়ন সদরে একটি মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে।বিজিবি অধিনায়ক বলেন, এবার বিজিবির ভোট কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। প্রিজাইডিং অফিসার সহায়তা চাইলে কিংবা কেন্দ্রে সহিংসতা বা জাল ভোটের আশঙ্কা দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্রে প্রবেশ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।বিজিবি কর্মকর্তা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, সরকার, নির্বাচন কমিশন ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আসন্ন নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে।এইচএ
বাংলাদেশের নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্র কোনো পক্ষ নেবে না: রাষ্ট্রদূত
বাংলাদেশের আগামী জাতীয় নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্র কোনো পক্ষ নেবে না বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন।তিনি বলেন, নির্বাচনের ফলাফল সম্পূর্ণ বাংলাদেশের জনগণের সিদ্ধান্ত। জনগণ যে সরকার নির্বাচিত করবে, তাদের সঙ্গেই কাজ করতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত।বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবনে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ কথা বলেন তিনি।এর আগে বেলা ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে এ বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদও উপস্থিত ছিলেন।মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকার বাংলাদেশের নির্বাচনে কোনো পক্ষ নেয় না। এই নির্বাচনের ফল কী হবে, তা নির্ধারণ করবেন কেবল বাংলাদেশের জনগণ।তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ যে সরকারকে নির্বাচিত করবে, আমরা তাদের সঙ্গেই ভবিষ্যতে কাজ করতে প্রস্তুত।নির্বাচন প্রস্তুতি প্রসঙ্গে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশন কীভাবে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, সে বিষয়ে সিইসি তাকে বিস্তারিত অবহিত করেছেন। এ তথ্যগুলো নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট বলেও জানান।তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে তার নিশ্চিতকরণ শুনানির সময় থেকেই তিনি বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে আগ্রহী ছিলেন। বলেন, আমি নির্বাচনের দিনটির দিকে তাকিয়ে আছি এবং এর ফলাফল দেখার অপেক্ষায় আছি।মার্কিন রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতে তিনি জানতে পেরেছেন যে নির্বাচনকে একটি উৎসবমুখর দিনে পরিণত করার প্রত্যাশা রয়েছে। আমিও আশা করি, এটি একটি উৎসবমুখর নির্বাচন হবে, যেখানে বাংলাদেশের জনগণ নির্বিঘ্নে তাদের মতামত প্রকাশ করতে পারবে। এমআর-২
‘একদিন জুলাই আন্দোলনকারীরাই বিশ্বে নেতৃত্ব দেবে’
জুলাই আন্দোলনকারীরাই একদিন বিশ্বে নেতৃত্ব দেবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো-২০২৬ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দেশের রাজনীতিতে জুলাই আন্দোলন যেমন নতুন সম্ভাবনার দাড় উন্মোচন করেছিল তেমনই ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নতুন সম্ভাবনার উন্মোচন করবে। জুলাই আন্দোলনকারীরাই একদিন বিশ্বে নেতৃত্ব দেবে। জুলাই অভুত্থ্যানে ইন্টারনেট বন্ধ করার পর যে বিক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, তার কারণেই মহাশক্তিশালী এক সরকারের পতন ঘটেছিল। ড. ইউনূস বলেন, ‘ডিজিটাল খাতই বর্তমানে মূল খাত। কারণ এটি থেকেই পরিবর্তন আসবে। এ খাত থেকেই অন্যান্য সব খাত প্রভাবিত হবে।’ নাগরিক সেবার ডিজিটাইলেশন কাগজে কলমে হলেও আদতে বাস্তবায়ন হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সরকার শুধু একধরনের সিস্টেম তৈরি করে জনগণের হাতে ছেড়ে দিবে। জনগণ নিজেদের মতো করে তা ব্যাবহার করবে। এটিই তথ্য প্রযুক্তির শক্তি।’ পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘পাহাড়ের তিন জেলায় থাকা আড়াই হাজার স্কুলের মধ্যে মাত্র ১২টি স্কুলে ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপন করা হয়েছিল। যে স্কুলে শিক্ষক নেই, ইন্টারনেটই সে স্কুলের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে কাজ করতে পারবে।’ সবার জন্য চাকরি নিশ্চিতের ধারণা একটি ভুল জিনিস উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এটি একটি দাস প্রথার সামিল। উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য সরকারকে সহায়তা করতে হবে।’ সরকারি কর্মকর্তাদের পাঁচ বছরের বেশি সরকারি চাকরি করা উচিত নয় বলে মনে করেন তিনি। বলেন, ‘তাহলে তার মাইন্ড সেট হয়ে যায়। সৃজনশীলতা নষ্ট হয়। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ১০ বছর পর পর নতুন করে শুরু করা উচিত। কারণ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে লক্ষ্য পরিবর্তন হলেও মানুষরা সেই প্রতিষ্ঠানে পুরোনো ধ্যান ধারণা নিয়ে বসে রয়েছে।’ এমঅর-২
সর্বশেষ প্রকাশিত
রাজনীতি
সব দেখুন
আমরা এমন নেতা বেছে নেব, যে সৎ, বিশ্বস্ত ও আমানতদার: জামায়াত আমিরের স্ত্রী
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে যে নেতার হাতে দেশ ও জাতি নিরাপদ থাকবে তাকে বেছে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের স্ত্রী স্ত্রী ডা. আমেনা বেগম।বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর মনিপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মহিলা সমাবেশে তিনি এ আহ্বান জানান।ডা. আমেনা বলেন, যাদের হাতে দেশ নিরাপদ, সেই দেশপ্রেমিক শক্তিকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।তিনি হযরত উমর (রা.)-এর উদাহরণ টেনে বলেন, সেই ধরনের আল্লাহভীরু, ফরহেজগার, আমানতদার, বিশ্বস্ত ও দায়িত্বশীল নেতা নির্বাচন করতে হবে।ডা. আমেনা বেগম বলেন, বাংলাদেশে একটা কাঙ্ক্ষিত দেশ গঠন করা সময়ের ব্যাপার। ইনশাআল্লাহ যতি আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হই, আমরা সবাই যদি চেষ্টা করি, আগামী ১২ তারিখ আমরা ভোটকেন্দ্রে যাব, নিজেদের বিবেকের রায় আমরা প্রদান করব এবং সৎ, যোগ্য, ইমানদার, আমানতদার প্রার্থী বাছাই করে নেব। যাদের হাতে দেশ ও জাতি নিরাপদ থাকবে।এ সময় ঢাকা-১৫ আসনের প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের জন্য ভোট চান তিনি।একই সমাবেশে জামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নুরুন্নেসা সিদ্দীকা বলেন, আমরা এক স্বৈরাচারের হাত থেকে মুক্ত হয়ে আরেক স্বৈরাচারের হাতে বন্দি হতে চাই না। যারা নির্বাচনের আগে নারীদের গায়ে হাত তুলছে, ভোটের পরও নারীরা তাদের কাছে নিরাপদ নয়।এ সময় কারচুপি ও প্রশাসনিক ইঞ্জিনিয়ারিং করে ভোটে জালিয়াতি করলে হাসিনার চেয়েও খারাপ পরিণতি হবে বলে হুঁশিয়ার করেন তিনি। এমআর-২
আমরা এমন নেতা বেছে নেব, যে সৎ, বিশ্বস্ত ও আমানতদার: জামায়াত আমিরের স্ত্রী
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে যে নেতার হাতে দেশ ও জাতি নিরাপদ থাকবে তাকে বেছে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের স্ত্রী স্ত্রী ডা. আমেনা বেগম।বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর মনিপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মহিলা সমাবেশে তিনি এ আহ্বান জানান।ডা. আমেনা বলেন, যাদের হাতে দেশ নিরাপদ, সেই দেশপ্রেমিক শক্তিকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।তিনি হযরত উমর (রা.)-এর উদাহরণ টেনে বলেন, সেই ধরনের আল্লাহভীরু, ফরহেজগার, আমানতদার, বিশ্বস্ত ও দায়িত্বশীল নেতা নির্বাচন করতে হবে।ডা. আমেনা বেগম বলেন, বাংলাদেশে একটা কাঙ্ক্ষিত দেশ গঠন করা সময়ের ব্যাপার। ইনশাআল্লাহ যতি আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হই, আমরা সবাই যদি চেষ্টা করি, আগামী ১২ তারিখ আমরা ভোটকেন্দ্রে যাব, নিজেদের বিবেকের রায় আমরা প্রদান করব এবং সৎ, যোগ্য, ইমানদার, আমানতদার প্রার্থী বাছাই করে নেব। যাদের হাতে দেশ ও জাতি নিরাপদ থাকবে।এ সময় ঢাকা-১৫ আসনের প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের জন্য ভোট চান তিনি।একই সমাবেশে জামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নুরুন্নেসা সিদ্দীকা বলেন, আমরা এক স্বৈরাচারের হাত থেকে মুক্ত হয়ে আরেক স্বৈরাচারের হাতে বন্দি হতে চাই না। যারা নির্বাচনের আগে নারীদের গায়ে হাত তুলছে, ভোটের পরও নারীরা তাদের কাছে নিরাপদ নয়।এ সময় কারচুপি ও প্রশাসনিক ইঞ্জিনিয়ারিং করে ভোটে জালিয়াতি করলে হাসিনার চেয়েও খারাপ পরিণতি হবে বলে হুঁশিয়ার করেন তিনি। এমআর-২
বাস থামিয়ে কিশোরীর কথা শুনলেন তারেক রহমান
ময়মনসিংহ সার্কিট হাউস মাঠে নির্বাচনী জনসভা শেষে গাজীপুরের রাজবাড়ি মাঠের জনসভায় যোগ দিতে বিশেষ বাসে ফিরছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ থেকে ফেরার পথে ভালুকা উপজেলার সিডস্টোর এলাকায় তারেক রহমানের গাড়িবহর থামানোর ইশারা দেয় এক কিশোরী। তার ইশারা দেখে বাস থামিয়ে কথা বলেন তারেক রহমান। কিশোরীর হাত নাড়ানো দৃষ্টি কাড়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের। এ সময় তিনি গাড়ি থামানোর নির্দেশ দেন। গাড়ি থামলে সেই কিশোরী বাসের দরজার সামনে আসে। তারেক রহমান বাসের দরজা খুলে দিলে কিশোরী মন খুলে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে। কিশোরী খুব স্বাচ্ছন্দ্য ও সাবলীল ভঙ্গিতে তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলে। সে দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে থাকে, ‘আমি মনে করেছিলাম, মানুষের ও জনগণের সেবা করে, পলিটিক্স করে নিজের পাওয়ারে ভবিষ্যতে পার্লামেন্টে গিয়ে আপনার সঙ্গে দেখা করে আসব। আমার রক্তে রাজনীতি। আমি রাজনীতি ছাড়ব না। আমার জন্য দয়া করে দোয়া করবেন।’ কিশোরী দোয়ার আবেদন জানানোর সঙ্গে সঙ্গেই তারেক রহমান তার মাথায় হাত বুলিয়ে দোয়া করেন এবং তার সঙ্গে হাত মেলান। কিশোরী আরও বলতে থাকে, ‘আমি অনেক খুশি হয়েছি, আপনি আমার সাথে দেখা করেছেন। আমার অনেক দিনের শখ ছিল। সকালে আপনাকে দেখে আমার আশ মেটেনি। থ্যাংক ইউ।’ শেষে কিশোরী সদ্য প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার একটি বাঁধানো ছবি তারেক রহমানের দিকে এগিয়ে দিয়ে বলে, ‘আপনি কি এটা নেবেন, দয়া করে? আপনি কি এটা নেবেন, দয়া করে?’ সঙ্গে সঙ্গে তারেক রহমান তার মায়ের সেই ছবিটি গ্রহণ করেন এবং কিশোরীকে ধন্যবাদ জানান। এরপর কিশোরী আবারও তারেক রহমানের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সালাম দেয়। জবাবে বিএনপি চেয়ারম্যান সালামের উত্তর দেন। এরপর কিশোরী তারেক রহমানের পাশে বসা তার সহধর্মিণী ডা. জোবায়দা রহমানকেও সালাম দিয়ে বিদায় নেয়। এ সময় কিশোরীর সঙ্গে থাকা এক যুবকও তারেক রহমান ও ডা. জোবায়দা রহমানকে সালাম জানিয়ে বিদায় নেন। এরপর বাসটি গাজীপুরের উদ্দেশে রওনা হয়। তারেক রহমানের এই মানবিক আচরণ এবং সাধারণ মানুষের প্রতি তার ভালোবাসার ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়। জানা গেছে, ওই কিশোরীর নাম সাফওয়ানা সিদ্দিক রেয়ান। সে সিডস্টোর সাহারা নায়েব গার্লস স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। তার বাবার নাম মো. সোহেল এবং মায়ের নাম মিসেস লিয়া আক্তার। রেয়ানের সঙ্গে ছিলেন তার ছোট চাচা ছাত্রদল নেতা মাওলানা মোহাইমুন ইসলাম রাফি। তাদের বাড়ি ভালুকা উপজেলার সিডস্টোর হবির বাড়ি এলাকায়। রাইয়ানের বাবা সোহেলও এক সময় ছাত্রদলের কর্মী ছিলেন।এফএস
হিন্দুদের জামায়াত জামাই আদরে রাখবে : কৃষ্ণ নন্দী
খুলনা-১ (দাকোপ-বটিয়াঘাটা) আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী বলেছেন, হিন্দুদের বলা হয়- জামায়াত ক্ষমতায় এলে হিন্দুরা এ দেশে থাকতে পারবে না। কিন্তু আমি বলতে চাই জামায়াত ক্ষমতায় এলে হিন্দুদের এদেশে জামাই আদরে রাখবে। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে হিন্দুদের ভারতে যাওয়া লাগবে না।মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে খুলনা সার্কিট হাউস ময়দানে জামায়াতে ইসলামীর নিবার্চনী জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। কৃষ্ণ নন্দী বলেন, জামায়াত টাকা দিয়ে ভোট কেনে না। টাকা দিয়ে গরু, ছাগল বিক্রি হয়। একটি দল বস্তার মুখ খুলে দিয়েছে। আপনারা টাকায় ভোট বিক্রি করবেন না।তিনি বলেন, জামায়াত কখনো টাকা দিয়ে ভোট কেনে না। জামায়াত কখনো বিকাশে টাকা দিচ্ছে না ভোট কেনার জন্য, আপনারা হাটবাজারে গরু-ছাগল কেনার মতো ভোট কিনে বেড়াচ্ছেন।সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।এফএস
‘চা খাওয়ার দাওয়াত দিয়েছি, এটিও নাকি হুমকি’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী মির্জা আব্বাস বলেছেন, আমি চা খাওয়ার দাওয়াত দিয়েছি, এটাও নাকি হুমকি। এটাও আমার দোষ। কোথায় কী হয়ে যায়, সব দোষ মির্জা আব্বাসের।মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীর মালিবাগের গুলবাগ এলাকায় নির্বাচনি প্রচারণাকালে তিনি এ কথা বলেন।মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমি তাদের কথায় ভীত। যে যত কথাই বলুক, আমি তাদের ফাঁদে পা দেব না। আমি তোমাদের বয়সে ঢাকা শহর দাপিয়ে বেড়িয়েছি। শহরজুড়ে আমার বন্ধু-আত্মীয়স্বজন আছে। আমার যত ভক্ত আছে, তোমাদের আত্মীয়স্বজনও তত নেই। আমার ভোট আমি চাইব, তুমিও ভোট চাও। এলাকার জন্য কী করেছ, আর কী করবে, সেটা বলো। তোমরা পায়ে পাড়া দিয়ে ঝগড়া করার চেষ্টা করছো।’বিএনপির এ নেতা পরে মৌচাক মোড় হয়ে মালিবাগ মোড় ও রাজারবাগ পুলিশ গেট পর্যন্ত গণসংযোগ করেন। এরপর বিকেলে ১১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে এক বিশাল নির্বাচনি মিছিলে নেতৃত্ব দেন।তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের সময় কিছু অতিথি পাখি দেখা যায়। পরে আর পাওয়া যায় না। ১৯৯১ সাল থেকে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। কেউ বলতে পারবে না আমাকে পাওয়া যায়নি। আন্দোলন-সংগ্রামের সময় এ এলাকার মানুষ হাত তুলে সমর্থন দিয়েছে। পুলিশি হামলা হলে বিভিন্ন মার্কেটে আশ্রয় নিয়েছি।’মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমি অনেকবার এমপি ছিলাম। কেউ বলতে পারবে না আমার কাছে এসে খালি হাতে ফিরে গেছে। কিন্তু যা পারবো না, তা কখনো আশ্বাস দিইনি। মিথ্যা আশ্বাস দিই না। আমি ফেরেশতা না, তবে কারও ক্ষতি করার জন্য মিথ্যা বলি না।’‘কিছু মাছের পোনা এসেছে। এদের ঠিকানা কী? আমি জেলে থাকাকালেও এলাকার মানুষ বিভিন্ন প্রয়োজনে আমার বাসায় গেছে। আমার স্ত্রী ও কর্মকর্তারা সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছেন। আজ লম্বা লম্বা কথা বলছেন, কয়জনকে সাহায্য করেছেন? এলাকার কতজনের জানাজায় গেছেন, কয়জনের বিয়েতে গেছেন? আবার বলেন, আমার এলাকা,’ যোগ করেন তিনি।মির্জা আব্বাস বলেন, ‘একজন বলছে, চাঁদাবাজি না কমালে লাল কার্ড দেখাবে। আরে, চাঁদাবাজি তো আপনারাই করছেন। চাঁদাবাজির তকমা দিয়ে নির্বাচন করতে চাচ্ছেন। চাঁদাবাজদের কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে না? যারা লাল কার্ড দেখানোর কথা বলছেন, ১২ তারিখে জনগণই আপনাদের লাল কার্ড দেখাবে।’তিনি আরও বলেন, ‘ভাবটা এমন যেন বিএনপি ক্ষমতায়। আওয়ামী লীগকে যেভাবে সরানো হয়েছে, বিএনপিকেও সেভাবে তাড়ানো হবে। বিএনপি বানের জলে ভেসে আসেনি। সবকিছুতেই বিএনপির দোষ। দেশে এখন থেকেই অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা চলছে।’এমআর-২
বিএনপি এতো খারাপ হলে তাদের ২ মন্ত্রী কেন পদত্যাগ করেননি: তারেক রহমান
জামায়াতে ইসলামীকে উদেশ্য করে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপির বিরুদ্ধে একটি রাজনৈতিক দল পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচারের ভাষায় কথা বলছে। বিএনপি সরকারের দুর্নীতি নিয়ে তারা এত সোচ্চার, অথচ ২০০১-০৬ পর্যন্ত বিএনপি সরকারে তো তাদেরও দুইজন সদস্য (মন্ত্রী) ছিল। বিএনপি যদি তখন দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়নই হয়, তাহলে তারা কেন পদত্যাগ করেনি। কারণ, তারা জানতো খালেদা জিয়া দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপস করেনি, তিনি দুর্নীতি কমাতে উদ্যোগ নিয়েছিলেন।মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ময়মনসিংহ জেলা সার্কিট হাউজ মাঠে নির্বাচনী সমাবেশে দেয়া বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।তারেক রহমান বলেন, অনেক দল আছে, যারা জনসভায় এসে বাকিদের নিয়ে সমালোচনা করে। কিন্তু রাজনৈতিক দল সমালোচনা করলে জনগণের উন্নয়ন হয় না। বিএনপি ছাড়া কারোরই দেশ নিয়ে পরিকল্পনা নেই।১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে যথারীতি ধানের শীষে ভোট দেয়ার আহবান জানিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেছেন, ভোটের হিসাব কড়ায়-গণ্ডায় বুঝে নিতে হবে। কেউ যাতে ভোট লুটপাট করতে না পারে, পাহারা দিতে হবে।তারেক রহমান এ সময় বলেন, আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে, জনগণের শাসন কায়েম করা সম্ভব হবে। বাংলাদেশকে জনগণের বাংলাদেশ, কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ করা হবে।বিএনপি ক্ষমতায় এলে দলটির প্রতিশ্রুত ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ড, কৃষক কার্ড ও কর্মসংস্হান নিয়ে পরিকল্পনাও সমাবেশে তুলে ধরেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।এমআর-২
জামায়াত ক্ষমতায় এলে হিন্দুদের জামাই আদরে রাখা হবে: কৃষ্ণনন্দী
জামায়াত ক্ষমতায় এলে হিন্দুদের ভারতে যেতে হবে না। তাদের এখানে জামাই আদরে রাখা হবে। জামায়াত কখনো টাকা দিয়ে ভোট কেনে না বলে জানিয়েছেন খুলনা-১ আসনে জামায়াত ইসলামী মনোনীত প্রার্থী কৃষ্ণনন্দী।মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুর ৩টায় খুলনা সার্কিট হাউস মাঠে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী জনসভায় এ কথা বলেন তিনি।কৃষ্ণনন্দী বলেন, একটি দল চাঁদাবাজির টাকার বস্তার মুখ খুলে দিয়েছে ভোট কেনার জন্য। আপনারা হাট-বাজারে গরু-ছাগল কেনার মতো করে ভোট কিনে বেড়াচ্ছেন- এটা ঠিক নয়।তিনি আরও বলেন, জামায়াত কখনো ভোট কেনার জন্য বিকাশে টাকা দেয় না।এমআর-২
‘আমাদের প্রার্থীদের ওপর আঘাত এলে এখন থেকে পাল্টা আঘাত’
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার অভিযোগ তুলে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যদি আমাদের প্রার্থীদের ওপর আঘাত হয়, তবে এখন থেকে পাল্টা আঘাত আসবে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ঢাকা-৮ আসনের অন্তর্গত ফকিরাপুলে দলটির স্থানীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।নাহিদ করেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আজ হাবীবুল্লাহ বাহার কলেজে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে গেলে সেখানে তাকে বাধা দেওয়া হয়। তিনি বলেন, ‘এ সময় তার ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়েছে। গতকাল ঢাকা-১৮ আসনের প্রার্থী আরিফুল ইসলাম আদিবের ওপরও বিএনপি নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে।’তিনি বলেন, ‘যদি আঘাত আসে, তাহলে পাল্টা আঘাত দেওয়া হবে। এক দলের প্রার্থীদের দিকে ডিম নিক্ষেপ করা হলে অন্য দলের প্রার্থীদের ওপরেও ডিম পড়বে। আমরা এই ধরনের পরিবেশ চাই না। তবে নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ প্রশাসন যদি নীরব ভূমিকা পালন করে, তবে আমাদের যা করণীয় আমরা তা-ই করব।’গত কয়েক দিনে দেশের ছয়-সাতটি জেলায় ১১ দলের অন্যতম শরিক দল জামায়াতে ইসলামীর নারীকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন এনসিপি আহ্বায়ক। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন ও পুলিশের নীরবতার সুযোগে একটি বিশেষ দল ও জোট আচরণবিধি লঙ্ঘন করে সুবিধা নিচ্ছে, যা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট করছে।’বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আপনারা যদি আওয়ামী লীগের মতো সন্ত্রাসী কায়দায় প্রতিদ্বন্দ্বীকে মাঠ থেকে সরাতে চান, তবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আপনাদের পার্থক্য কী? আপনারা আওয়ামী লীগের ভোট পাওয়ার জন্য মঞ্চে জয় বাংলা স্লোগান দিচ্ছেন। কিন্তু মনে রাখবেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে জনগণ কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড মেনে নেবে না।’বিএনপিকে ২০১৮ সালের নির্বাচন ও ২৮ অক্টোবরের আন্দোলনের ব্যর্থতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে নাহিদ বলেন, ‘১৮ সালে আপনারা মাঠে নামতে পারেননি, ২৮ অক্টোবর তিন মিনিটও দাঁড়াতে পারেননি। তখন আমরা আপনাদের প্রতি সহানুভূতি দেখিয়েছি। কিন্তু এখন আপনারা সমালোচনা সইতে পারছেন না। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে আপনারা বেয়াদব বলছেন; কিন্তু ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণই ব্যালটের মাধ্যমে নির্ধারণ করবে— কে বেয়াদব আর কে গ্যাংস্টার।’সংবাদ সম্মেলনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, তিনি ও তার দল শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশে প্রচারণা চালাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু হাবীবুল্লাহ বাহার কলেজে যাওয়ার পর তাদের ওপর ইট-পাটকেল ও ডিম নিক্ষেপ করা হয়।তিনি বলেন, ‘পুলিশের উপস্থিতিতেই আমাদের ভাইদের ওপর উপর্যুপরি কিল, ঘুষি ও লাথি মারা হয়েছে। আমাদের নারী সদস্যদের ওপর বরফ নিক্ষেপ করা হয়েছে, যার ফলে একজনের মাথায় চারটি সেলাই লেগেছে।’এমআর-২
চলতি সপ্তাহে সর্বাধিক পঠিত
গাজীপুরে আগামী ১২ তারিখ নির্বাচন শেষে খাল খনন শুরু করব: তারেক রহমান
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, রাজধানের একদম নিকটে অবস্থিত গাজীপুর একট শিল্পের রাজধানী। এদেশে এই গার্মেন্টস শিল্প এনেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তার হাত ধরেই শিল্পের প্রসার ঘটেছিল বাংলাদেশে। এর ফলে দেশের লক্ষ লক্ষ মা বোন ও ভাইদের কর্মসংস্থান হয়েছে। এদেশ থেকে বিদেশে শ্রমিক পাঠানোর কাজটির বিএনপি সরকার করেছিল। এদেশের খেটে খাওয়া মানুষের উন্নয়নের জন্য জন্য যদি কেউ চিন্তা করে থাকে সেটি বিএনপি সরকার। এই শিল্পকে নিয়ে আমাদের একটা বড় পরিকল্পনা রয়েছে। গাজীপুর পুরো বাংলাদেশের শিল্পের রাজধানী। গাজীপুরে যাতে আরও লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান হয় সেই জন্য আমরা পরিকল্পনা নিয়েছি, ফ্যামিলি কার্ড কৃষক ভাইদের কৃষি কার্ড প্রদান বাস্তবায়ন করব। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাত ১১ টা ৫০ মিনিটে ঐতিহাসিক গাজীপুরে রাজবাড়ী মাঠে মহানগর বিএনপির আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে এসব কথা বলেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, গাজীপুরের মধ্যে বড় বড় কয়েকটি খাল রয়েছে সেগুলো হলো তুরাগ, লবনদহ, চিলাই। আগামী ১২ তারিখ নির্বাচন শেষে এই তিন খাল খনন শুরু করব। সাথে আপনারা থাকবেন। দূষিত পানি যাতে আর গাজীপুরে না থাকতে পারব সেই ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়াও গাজীপুরের জয়দেবপুর রেল গেইট এলাকায় তীব্র দুর্ভোগ থাকে। এই দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত এখানে ফ্লাইওভার করতে হবে। শিল্প কারখানায় মা বোনদের নিরাপত্তার পাশাপাশি শ্রমিকদের আবাসনের জন্য কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, ২৪ এর জুলাই আন্দোলনে গাজীপুরের মানুষের বিড়াট একটা ভূমিকা রয়েছে। লাখ লাখ মানুষ রাজপথে অধিকার আদায়ে লড়াই করেছে। এইযে গনতন্ত্রের লড়াই হয়েছে সেটি রক্ষা করতে আগামী ১২ তারিখ সবাই ভোর বেলায় ভোটকেন্দ্রে যাবেন। ফজরের নামাজ ভোট কেন্দ্রের সামনে জামাত করে পড়বেন। যাতে আগে থেকেই কেউ সেখানে অবস্থান না করতে পারে। বিগত বছরে যেভাবে ভোট ডাকাতি হয়েছে এবার সেই ডাকাতি করতে দিবেন না। নিজ অধিকার নিশ্চিত করেই ফিরবেন। বক্তব্যের মাঝে তারেক রহমান গাজীপুরের ৫টি আসনে মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থীদের সম্মুখে এনে পরিচয় করিয়ে দেন। এসময় তিনি বলেন, গাজীপুর নিয়ে আমাদের যেসব পরিকল্পনাগুলো রয়েছে এগুলো বাস্তবায়ন করতে এই প্রার্থীদের পাশে থাকবেন। তাদের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। এর আগে সন্ধ্যা ৬ টায় ময়মনসিংহ থেকে গাজীপুরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করেন তারেক রহমান। গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা থেকে জয়দেবপুর সড়ক ধরে নেতাকর্মীদের ভিড় ঠেলে দীর্ঘসময় অতিক্রমের পর রাত ১১টা ৫০ মিনিটে ডা.জোবায়দা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে সভামঞ্চে উঠেন তারেক রহমান।জানা গেছে, দীর্ঘ ২১ বছর পর নির্বচনী সভায় প্রধান অতিথি হয়ে গাজীপুরে আসলেন তারেক রহমান। এর আগে ২০০৫ সালের ২৯ মার্চ গাজীপুরের শহীদ বরকত স্টেডিয়ামে বিএনপির ইউনিয়ন প্রতিনিধি সম্মেলনে এসেছিলেন তিনি। এসআর
গাজীপুরকে গার্মেন্টস শিল্পের রাজধানী গড়ে তুলব: তারেক রহমান
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, রাজধানের একদম নিকটে অবস্থিত গাজীপুর গার্মেন্টস শিল্পের রাজধানী। এদেশে এই গার্মেন্টস শিল্প এনেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তার হাত ধরেই শিল্পের প্রসার ঘটেছিল বাংলাদেশে। এর ফলে দেশের লক্ষ লক্ষ মা বোন ও ভাইদের কর্মসংস্থান হয়েছে। এদেশ থেকে বিদেশে শ্রমিক পাঠানোর কাজটির বিএনপি সরকার করেছিল। এদেশের খেটে খাওয়া মানুষের উন্নয়নের জন্য জন্য যদি কেউ চিন্তা করে থাকে সেটি বিএনপি সরকার। এই শিল্পকে নিয়ে আমাদের একটা বড় পরিকল্পনা রয়েছে। গাজীপুর পুরো বাংলাদেশের শিল্পের রাজধানী। গাজীপুরে যাতে আরও লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান হয় সেই জন্য আমরা পরিকল্পনা নিয়েছি, ফ্যামিলি কার্ড কৃষক ভাইদের কৃষি কার্ড প্রদান বাস্তবায়ন করব। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাত ১১টা ৫০ মিনিটে ঐতিহাসিক গাজীপুরে রাজবাড়ী মাঠে মহানগর বিএনপির আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে এসব কথা বলেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, গাজীপুরের মধ্যে বড় বড় কয়েকটি খাল রয়েছে সেগুলো হলো তুরাগ, লবনদহ, চিলাই। আগামী ১২ তারিখ নির্বাচন শেষে এই তিন খাল খনন শুরু করব। সাথে আপনারা থাকবেন। দূষিত পানি যাতে আর গাজীপুরে না থাকতে পারব সেই ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়াও গাজীপুরের জয়দেবপুর রেল গেইট এলাকায় তীব্র দুর্ভোগ থাকে। এই দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত এখানে ফ্লাইওভার করতে হবে। শিল্প কারখানায় মা বোনদের নিরাপত্তার পাশাপাশি শ্রমিকদের আবাসনের জন্য কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, ২৪ এর জুলাই আন্দোলনে গাজীপুরের মানুষের বিড়াট একটা ভূমিকা রয়েছে। লাখ লাখ মানুষ রাজপথে অধিকার আদায়ে লড়াই করেছে। এইযে গনতন্ত্রের লড়াই হয়েছে সেটি রক্ষা করতে আগামী ১২ তারিখ সবাই ভোর বেলায় ভোটকেন্দ্রে যাবেন। ফজরের নামাজ ভোট কেন্দ্রের সামনে জামাত করে পড়বেন। যাতে আগে থেকেই কেউ সেখানে অবস্থান না করতে পারে। বিগত বছরে যেভাবে ভোট ডাকাতি হয়েছে এবার সেই ডাকাতি করতে দিবেন না। নিজ অধিকার নিশ্চিত করেই ফিরবেন। বক্তব্যের মাঝে তারেক রহমান গাজীপুরের ৫টি আসনে মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থীদের সম্মুখে এনে পরিচয় করিয়ে দেন। এসময় তিনি বলেন, গাজীপুর নিয়ে আমাদের যেসব পরিকল্পনাগুলো রয়েছে এগুলো বাস্তবায়ন করতে এই প্রার্থীদের পাশে থাকবেন। তাদের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। এর আগে সন্ধ্যা ৬ টায় ময়মনসিংহ থেকে গাজীপুরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করেন তারেক রহমান। গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা থেকে জয়দেবপুর সড়ক ধরে নেতাকর্মীদের ভিড় ঠেলে দীর্ঘসময় অতিক্রমের পর রাত ১১ টা ৫০ মিনিটে ডা.জোবায়দা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে সভামঞ্চে উঠেন তারেক রহমান।জানা গেছে, দীর্ঘ ২১ বছর পর নির্বচনী সভায় প্রধান অতিথি হয়ে গাজীপুরে আসলেন তারেক রহমান। এর আগে ২০০৫ সালের ২৯ মার্চ গাজীপুরের শহীদ বরকত স্টেডিয়ামে বিএনপির ইউনিয়ন প্রতিনিধি সম্মেলনে এসেছিলেন তিনি। এসআর
ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে মাদকবিরোধী কোর্স অনুষ্ঠিত
রমনা রেজিমেন্টের অধীনস্থ ৩ বিএনসিসি ব্যাটালিয়নের সার্বিক তত্ত্বাবধানে মাদকবিরোধী কোর্স অনুষ্ঠিত হয়েছে।মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় রাজধানীর ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিএনসিসি প্লাটুনের মোট ১৪০ জন ক্যাডেট অংশগ্রহণ করেন। পাশাপাশি ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের শিক্ষার্থীরাও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।প্রশিক্ষণ চলাকালে ক্যাডেট ও শিক্ষার্থীদের মাদকবিরোধী কোর্সের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা প্রদান করা হয়। এ প্রশিক্ষণ তাদের আপদকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলা, মাদকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আর্তমানবতার সেবায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম করে তুলবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) পরিচালক মাজহারুল ইসলাম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মেজর মুস্তারী, ব্যাটালিয়ন অ্যাডজুট্যান্ট, ৩ বিএনসিসি ব্যাটালিয়ন, রমনা রেজিমেন্ট।বক্তাগণ বলেন, এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ক্যাডেট ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা ও নেতৃত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।এসআর
ঢাকা-১৮ আসনে ১১ দলীয় জোট প্রার্থীর ওপর হামলার অভিযোগ
ঢাকা-১৮ আসনের ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব তার নির্বাচনী প্রচারণায় হামলার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে উত্তরায় বিএনএস সেন্টারে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে আদিব এই অভিযোগ করেন। এসময় তিনি হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন।সংবাদ সম্মেলনে আদিব জানান, সোমবার সকালে ঢাকার খিলক্ষেত থানার ডুমনি বাজার এলাকায় গণসংযোগ করার সময় তার ওপর অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটে। তিনি অভিযোগ করেন, তার নেতাকর্মীদের ক্রমাগত হামলা ও মামলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।বক্তব্যকালে আদিব সরাসরি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে বলেন, ‘আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিএনপির পক্ষ থেকে হামলাকারীর বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে এবং তাকে দল থেকে বহিষ্কার করতে হবে। অন্যথায় আমরা উত্তরা অবরোধ কর্মসূচি ডাক দিতে বাধ্য হব।’তিনি আরও যোগ করেন, ‘নির্বাচন কমিশনকে এই হামলার সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে।’এদিকে, দলের কেন্দ্রীয় নেতার ওপর এই হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশে এ ধরনের হামলা গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ। অবিলম্বে দোষীদের চিহ্নিত করে শাস্তির দাবি জানিয়েছে দলটি।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে কিনা বা নির্বাচন কমিশন কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে কিনা, সে বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।আরডি
‘বিএনপি ক্ষমতায় গেলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে’
ঢাকা-৭ আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও দলটির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হামিদুর রহমান বলেছেন, বিএনপি সবসময়ই স্বাধীন সাংবাদিকতায় বিশ্বাসী। আগামী নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করে দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলে বাংলাদেশে গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে।রবিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে কবি নজরুল সরকারি কলেজ সাংবাদিক সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত ‘কনকসাস বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড ও সার্টিফিকেট’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।নির্বাচনী এলাকা নিয়ে নিজের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে হামিদুর রহমান বলেন, “পুরান ঢাকা বর্তমানে নানা সমস্যায় জর্জরিত। বিশেষ করে বুড়িগঙ্গার দূষণ, ডেঙ্গু আতঙ্ক এবং যত্রতত্র ছড়িয়ে থাকা রাসায়নিক গুদাম জনজীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে। নির্বাচিত হলে এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধানসহ পুরান ঢাকার তীব্র গ্যাস সংকট নিরসনে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করবো।”জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের ফলেই আমরা দীর্ঘ সময় পর সত্যিকারের স্বাধীনতা ফিরে পেয়েছি। তরুণ সাংবাদিকদের কাছে আমার প্রত্যাশা— আপনারা লেখনীর মাধ্যমে এই বিপ্লবের শহীদদের কলমের মাধ্যমে তুলে ধরবেন।” কবি নজরুল সরকারি কলেজ সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মো. আতিক হাসান শুভর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মো. বাইজীদ হোসেন সা’দ-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এ এ জহির উদ্দিন তুহিন এবং বাংলাদেশ শান্তি সংঘের সভাপতি মো. ইয়াসিন শেখ। এ ছাড়াও সমিতির প্রধান উপদেষ্টা আলী আজম, জায়েদ হোসেন মিশু ও সাজ্জাদ হোসাইনসহ কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানে সেরা প্রতিবেদনের জন্য কলেজের একদল তরুণ সংবাদকর্মীর হাতে ‘বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড’ তুলে দেওয়া হয়।ইখা
নিয়োগ ঠেকাতে বিভাগীয় সভাপতিকে বাসা থেকে অপহরণের অভিযোগ ছাত্রদলের বিরুদ্ধে
নিয়োগ বোর্ড আটকাতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সভাপতি মো. শরিফুল ইসলাম জুয়েলকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদের বিরুদ্ধে। এতে ক্ষুব্ধ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। পরে বিক্ষোভ মিছিল করেন তারা।বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকাল ৯ টার দিকে ঝিনাইদহের নিজ বাসভবনের সামনে থেকে মোটরসাইকেলে তাকে তুলে নেওয়ার একটি সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া যায়। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, নিয়োগ বোর্ডে উপস্থিত হওয়ার জন্য বিভাগের সভাপতি বাসা থেকে বের হলে তাকে একটি বাইকে তুলে নিতে দেখা যায়। পরে ওই শিক্ষকের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ক্যাম্পাস সূত্র জানায়, আজকে বিভাগের প্রভাষক নিয়োগ নির্বাচনী বোর্ড ছিল। বিভাগের সভাপতি এ উদ্দেশ্যে সকাল আটটার দিকে তার ঝিনাইদহের বাসা থেকে বের হয়ে ক্যাম্পাসের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেন। এ সময় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তাকে মোটরসাইকেলে উঠিয়ে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যান।এদিকে সকাল ১০ টায় নিয়োগ নির্বাচনী বোর্ড এর সময় নির্ধারিত থাকলেও ১ ঘণ্টা পরে বিভাগের সভাপতি ছাড়াই বোর্ড অনুষ্ঠিত হয়। এই বোর্ডে ইতোমধ্যে লিখিত পরীক্ষা শেষ হয়েছে। দুপুরের পর মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা যায়। ৩২ জন প্রার্থীর মধ্যে ২১ জন উপস্থিত ছিলেন। প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত অপহরণকৃত ওই শিক্ষক সেখানে উপস্থিত হননি। তবে ওই শিক্ষককে বাড়িতে পৌঁছে দিছে বলে দাবি সাহেদ আহম্মেদের। শরিফুল ইসলামের পরিবার জানায়, সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বোর্ডে উপস্থিত হওয়ার জন্য কল দিচ্ছিলো। তিনি অসুস্থ থাকাতে প্রথমে যেতে পারবেন না বলে ওনাদের বলেন। কিন্তু ওনাকে বারবার কল দেওয়াতে অসুস্থ অবস্থায় ক্যাম্পাসে যাওয়ার জন্য রেডি হয়ে বেরিয়ে পড়েন। তিনি যখন বাসার নিচে নামেন তখন একটা মোটরসাইকেলের শব্দ শুনি। তখন ভাবছিলাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গাড়ি পাঠিয়েছে তাকে নিতে। কারণ মোবাইলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের যিনি কল দিছিলেন তিনি গাড়ি পাঠাচ্ছেন এমন বলেন। কিন্তু এর প্রায় আধাঘণ্টা পর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গাড়ি চালক হাসমত নামের একজন কল দিয়ে তার অবস্থান জানতে চান। তিনি বলেন, তিনি নাকি তাকে (জুয়েল) নিতে আসছেন।এ বিষয়ে অভিযুক্ত শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ বলেন, ‘প্রক্টর ও রেজিস্ট্রার অস্ত্রের মুখে ট্যুরিজমের সভাপতিকে তড়িঘড়ি করে নিয়োগ বোর্ড করাচ্ছে, এর আগে তাকে প্রক্টরের মাধ্যমে কিছু শিক্ষার্থীরা গিয়ে হুমকিও দিয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ ডিলিট করছে। জুয়েল (স্যার) নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন, তাই আমাকে কল দিলে নিরাপত্তার জন্য নিয়ে আসলাম। পরে বাড়িতে দিয়ে আসলাম।’এদিকে তিনি এক ফেসবুক পোস্টে বলেন, ‘প্রিয় শিক্ষার্থী এবং সাংবাদিক ভাইয়ের আমার অবস্থান সুস্পষ্ট। আজ সকালে THM বিভাগের সন্মানিত চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম জুয়েল নিরাপত্তাহীনতায় থাকায় আমাকে সকালে ফোন দিয়েছিল এবং আমি নিজে সশরীরে গিয়ে তাঁকে নিয়ে আসি। সহকারী অধ্যাপক শরিফুল ইসলাম জুয়েল আমার দীর্ঘদিনের পরিচিত ছোটভাই। উল্লেখ্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এবং রেজিস্টার ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে হুমকি ধামকি দিয়েছে এবং গতপরশু সোমবার প্রক্টরের নির্দেশে THM বিভাগে গুটিকয়েক লোক পাঠিয়ে দরজা বন্ধ করে তাদের ৪ জন শিক্ষককে জোর পূর্বক মারধর হুমকি দিয়ে শিক্ষক নিয়োগের প্ল্যানিং করেছে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত। ৪ জন শিক্ষককে প্রাননাশের হুমকি এবং সিসি ক্যামেরা ফুটেজ জোর পূর্বক ডিলিট করা হয়েছে। গতকাল এবং আজ প্রক্টর তাকে হুমকি ধামকি দিচ্ছে।’বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক বলেন, ‘সকালে আমি কল দিয়েছিলাম, বলল- অসুস্থ। এখানে হুমকি দেওয়া হয়নি। অসুস্থ হলে আগে জানাবে এটা তো নিয়ম।’উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, ‘উনি (সভাপতি) সকালেই জানালো অসুস্থতার কারণে আসতে পারবেন না। যদি নিরাপত্তার প্রয়োজন হতো, আমরা নিরাপত্তা দিতাম। অপহরণের বিষয়ে সে এখনও অভিযোগ করেননি। এদিকে নিয়োগ বোর্ড কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে।’ইখা
রঙিন পোস্টার-ফেসটুন ব্যবহার, যশোরে ধানের শীষের প্রার্থীকে শোকজ
নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে রঙিন পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন ব্যবহারের অভিযোগে যশোর-২ (চৌগাছা–ঝিকরগাছা) আসনের বিএনপি প্রার্থী সাবিরা সুলতানাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি।মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) তাকে এ শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়। আগামী ২৯ জানুয়ারি যশোর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে স্বশরীরে হাজির হয়ে শোকজের জবাব দিতে বলা হয়েছে।নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির বিচারক গোলাম রসুল স্বাক্ষরিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা চৌগাছা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে দেখেছেন যে, ধানের শীষ প্রতীকের প্রচারণায় বিপুল পরিমাণ রঙিন ফেস্টুন, ব্যানার ও পোস্টার ব্যবহার করা হয়েছে। বর্তমান নির্বাচনী আইন অনুযায়ী এসব সামগ্রী ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।চিঠিতে আরও বলা হয়, এ ধরনের প্রচারণা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা ২০২৫-এর ৭ (গ) (ঙ) ধারার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এ কারণে আগামী ২৯ জানুয়ারি বিকেল ৩টার মধ্যে যশোর জেলা ও দায়রা জজ আদালত ভবনে অবস্থিত অনুসন্ধান কমিটির কার্যালয়ে প্রার্থী বা তার প্রতিনিধিকে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এ বিষয়ে বিএনপি প্রার্থী সাবিরা সুলতানা সাংবাদিকদের বলেন, “রঙিন পোস্টার ও ব্যানারগুলো অনেক আগের। কর্মী-সমর্থকেরা ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার জায়গা থেকে নিজ উদ্যোগে সেগুলো টাঙিয়েছিল। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনার পর আমি নেতাকর্মীদের এসব সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলাম। যেগুলো থেকে গেছে, তা আমার অজানা। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে শোকজের জবাব দেব।”ইখা
বেনাপোল বন্দর দিয়ে তিন মাস পর ৫১০ টন চাল আমদানি
বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে প্রায় তিন মাস পর চারটি চালানে ৫১০ মেট্রিক টন নন-বাসমতি সিদ্ধ চাল আমদানি হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ১৪টি ট্রাকে করে আমদানি করা চালের চালানগুলো বেনাপোল বন্দরের ৩১ নম্বর ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ডে প্রবেশ করে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) এসব চাল বন্দর থেকে খালাস করে দেশের অভ্যন্তরে সরবরাহ করা হবে।চাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান হাজী মুসা করিম অ্যান্ড সন্স। আমদানিকৃত চালের কাস্টমস ছাড়করণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট মেসার্স ভূইয়া এন্টারপ্রাইজ।বন্দর সূত্র জানায়, দেশের বাজারে চালের দাম স্থিতিশীল রাখতে সরকার শুল্কমুক্ত সুবিধায় এই চাল আমদানির অনুমতি দিয়েছে। সর্বশেষ গত বছরের নভেম্বর মাসে বেনাপোল বন্দর দিয়ে ৬ হাজার ১২৮ মেট্রিক টন চাল আমদানি হয়েছিল।সরকার চলতি মাসের ১৮ জানুয়ারি নতুন করে ২৩২টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে মোট দুই লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানির অনুমতি দেয়। এ চাল আগামী ৩ মার্চের মধ্যে দেশে আমদানি ও বাজারজাত করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।আমদানিকারক সূত্রে জানা গেছে, বেনাপোল বন্দর পর্যন্ত প্রতিকেজি চালের আমদানি খরচ পড়েছে প্রায় ৫০ টাকা। খোলা বাজারে এই চাল প্রতিকেজি ৫১ টাকা দরে বিক্রি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) মো. শামীম হোসেন বলেন, ‘চারটি চালানে মোট ৫১০ মেট্রিক টন নন-বাসমতি সিদ্ধ চাল আমদানি হয়েছে। আমদানিকৃত চাল দ্রুত খালাস ও সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’ইখা
যশোর আইটি পার্কের হোটেল বন্ধ, ৬৪ কর্মচারি বেকার
যশোরের শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের 'হোটেল এন্ড রিসোর্টের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ এই নির্দেশনা দেন। এতে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত ৬৪ কর্মী চাকরি হারালেন। ফলে তারা হতাশ হয়ে পড়েছেন। জানা গেছে, গত ২০১৭ সালের ১০ ডিসেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায় ৩০৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই আইটি পার্কটির উদ্বোধন করেন। পার্কটির মূল উদ্দেশ্য ছিল দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের বিকাশ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। সরকার পার্কটি পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছিল ‘টেকসিটি বাংলাদেশ লিমিটেড’ নামক একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে। ব্যবসায়ে লোকসান ঠেকানোর অজুহাতে ২০২৩ সালের ২৬ জানুয়ারি টেকসিটি তাদের ডরমিটরি ভবনটি ১০ বছরের জন্য সাব-লিজ দেয় আমেরিকা ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘খান প্রোপার্টিজ গ্রুপ’-কে। এরপরই সেখানে 'যশোর আইটি পার্ক হোটেল এন্ড রিসোর্ট' নামে তিন তারকা মানের বাণিজ্যিক হোটেল যাত্রা শুরু করে।নতুন করে বরাদ্দ দেবার উদ্দেশ্যে হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ এই সাব-লিজ বাতিল ও কার্যক্রম বন্ধের পদক্ষেপ নেয়। হঠাৎ কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণায় বিপাকে পড়েছেন সেখানে কর্মরত ৬৪ জন কর্মী। আইসিটি পার্ক ইনভেস্টার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শাহজালাল জানান, খান প্রোপার্টিজের চুক্তি ছিলো টেকসিটি বাংলাদেশ লিমিটেডের সাথে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর সরকারের সাথে টেকসিটি লিমিটেডের চুক্তি বাতিল করা হয়। ফলে খান প্রোপার্টিজের চুক্তিও অঘোষিতভাবে বাতিল হয়। পরে হাইটেক পার্ক অথরিটি খান প্রোপার্টিজকে সাময়িক সময়ের জন্য অপারেশন অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেয়। ওই সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় হোটেল এন্ড রিসোর্টটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে বলে। খান প্রোপার্টিজের পাবলিক রিলেশন অফিসার শামসুজ্জামান স্বজন জানান, নিয়ম মেনে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছিলাম। আমরা এখানে অনেক টাকা লগ্নি করেছি। হঠাৎ করে পার্কের হোটেল এন্ড রিসোর্টের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করায় ৬৪ জন কর্মী কর্মসংস্থান হারিয়েছেন। আকস্মিক চাকরি হারিয়ে তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের যশোরের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী পরিচালক নজরুল ইসলাম জানান যশোর আইসিটি পার্কের এমটিভি ভবনটি হাইটেক পার্ক অথরিটি নিজেরাই পরিচালনা করবে। হোটেল ও ক্যান্টিনের জন্য নতুন টেন্ডার আহবান করা হচ্ছে। এজন্য খান প্রপার্টিজের অপারেশন বন্ধ করতে বলা হয়েছে।এসআর
দ্বিমত পোষণ করায় ইবি ছাত্রদল নেতাকে ‘কারণ দর্শানো নোটিশ’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও বিএনপিপন্থি অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মন্তব্য করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নেতাকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ‘কারণ দর্শানো নোটিশ’ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। তাকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্র। তিনি হলেন- ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার পারভেজ।মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতির মাধ্যমে এ নোটিশ দেওয়া হয়।কারণ দর্শানো নোটিশে লেখা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (কুষ্টিয়া) শাখার দায়িত্বশীল পদে আসীন থেকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের ভিত্তিতে আপনার বিরুদ্ধে কেন স্থায়ী সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, এই মর্মে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হলো। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির আজ এই নির্দেশনা প্রদান করেন।নোটিশের বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রদল নেতা আনোয়ার পারভেজ বলেন, ‘আমাকে কেন্দ্র নোটিশ দিয়েছেন, ৪৮ ঘণ্টা সময় দিয়েছে, আমি নিয়মতান্ত্রিকভাবে অফিসে গিয়ে লিখিত বক্তব্য দিব। বাকিটা কেন্দ্র বুঝবেন।’কারণ দর্শানো নোটিশের বিষয়ে জানতে কেন্দ্রে অনেক বার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে মোবাইল রিসিভ করেনি।উল্লেখ্য, সম্প্রতি এক মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের পদত্যাগ দাবি করে আল্টিমেটাম দেন। মানববন্ধনের পরপরই শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার পারভেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেন, ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্মানিত প্রক্টর স্যারের পদত্যাগের আল্টিমেটাম ইবি ছাত্রদলের কোন সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নয়।’ইখা
ইট-বালু ফেলে হাসপাতালের প্রবেশপথ বন্ধের অভিযোগ
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার কেরানীহাট মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালের প্রবেশপথ অবরুদ্ধ করে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জমির মালিক পক্ষের বিরুদ্ধে। এতে নারী চিকিৎসকসহ হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, কর্মচারী ও রোগীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে হাসপাতালটির সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আজিজুল হক।লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, '২০১৬ সালের ২২ জানুয়ারি ১৩০ জন শেয়ারহোল্ডারের সমন্বয়ে কেরানীহাট মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে হাসপাতালটি সুনামের সঙ্গে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছে। জমির মালিক পক্ষের সঙ্গে ১০ বছরের একটি চুক্তির মেয়াদ শেষে তা নবায়নের প্রক্রিয়া চলছিল। তবে জমির মালিক বদিউল আলম অসুস্থ থাকায় চুক্তি নবায়নের বিষয়টি চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি।'তিনি আরও জানান, 'বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের লক্ষ্যে কেরানীহাট প্রগতিশীল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের শরণাপন্ন হলে জমির মালিকের ছেলে সাইফুল ইসলাম, রবিউল আলম ও মোহাম্মদ শাহেদ উপস্থিত থেকেও সমবায় সমিতির সিদ্ধান্ত মানতে অস্বীকৃতি জানান। পরবর্তীতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাতকানিয়া ক্যাম্পে যোগাযোগ করে। সেনাবাহিনীর উদ্যোগে গত ১১ জানুয়ারি একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং পরবর্তী বৈঠকের তারিখ নির্ধারিত ছিল ২৫ জানুয়ারি। তবে হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাংবাদিক শহিদুল ইসলাম বাবরের নির্বাচনী ব্যস্ততার কারণে ২৪ জানুয়ারি বৈঠকের সময় পরিবর্তনের জন্য লিখিত আবেদন করা হয়।'লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, 'ওই আবেদনের সিদ্ধান্ত জানার আগেই বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ভোর রাতে সাইফুল ইসলাম, রবিউল আলম, মোহাম্মদ শাহেদ ও ইমনসহ কয়েকজন ব্যক্তি স্থানীয় লোকজন নিয়ে হাসপাতালের একমাত্র সিঁড়িপথে ইট ও বালু ফেলে চলাচলের পথ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেন। এতে হাসপাতালে অবস্থানরত নারী চিকিৎসকসহ চিকিৎসক, নার্স, কর্মচারী এবং রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।'খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও অভিযুক্তরা পুলিশের অনুরোধ উপেক্ষা করে ইট ও বালু সরিয়ে নেয়নি বলে অভিযোগ করা হয়।বর্তমানে হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে উল্লেখ করে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আজিজুল হক প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের ডিএমডি মোহাম্মদ সোলাইমান বাবুল, এক্সিকিউটিভ মেম্বার ফরিদুল ইসলাম সিদ্দিকী, নাসির উদ্দিন ও আবু জাকারিয়া।হাসপাতালের প্রবেশপথে ইট-বালু ফেলে রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে মালিকপক্ষের রবিউল আলম বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে করা চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় কাজ করতে এসব ইট-বালু আনা হয়েছে। তবে তা হাসপাতালের প্রবেশপথ অবরুদ্ধ করে রাখার জন্য নয় বলে জানান তিনি।এসআর
‘ক্ষমতায় এলে ১ মাসের মধ্যে হাদির হত্যাকারীদের গ্রেফতার করব’
‘১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় এলে ১ মাসের মধ্যে হাদি ভাইয়ের হত্যাকারীকে গ্রেফতার করবো ইনশাআল্লাহ’ বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।তিনি বলেন, যারাই ভোট চাইতে আসবে, বলবেন হাদি হত্যার বিচারের নিশ্চয়তা দিতে হবে।বুধবার (২৮ জানুয়ারি) কুমিল্লার দেবিদ্বার নিউমার্কেট চত্বরে এনসিপির নির্বাচনি পদযাত্রার পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।আসিফ মাহমুদ বলেন, কুমিল্লাকে বিভাগ ঘোষণা করতে সব ধরনের কার্যক্রম সম্পন্ন করেছি। ১১ দলীয় ঐক্য জোট ক্ষমতায় আসার এক মাসের মধ্যে বিভাগ ঘোষণা করা হবে ইনশাআল্লাহ।‘আমরা ইতিহাসের একটি সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ কেমন হবে তার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ হবে। দেবীদ্বার উপজেলা থেকে ১১ জন ভাই বাংলাদেশকে ফ্যাসিবাদ মুক্ত করতে জীবন দিয়েছিল। আমরা গত ১৭ বছর নিপীড়ন দেখেছি। গত ১৭ মাসে আরেকটি দল নিপীড়ন শুরু করে দিয়েছে। গত আওয়ামী আমলে গুম, খুন, হত্যাসহ সব ধরনের জুলুম করেছে। বর্তমানে একটি দল ক্ষমতায় না গিয়েও একই জুলুমের বাদ আমাদের দিয়েছে। সুতরাং ভোট দেওয়ার জন্য এই আমলনামাই যথেষ্ট। আপনারা গুম, খুন, হত্যাসহ সব ধরনের জুলুম থেকে মুক্ত করতে ১১ দলীয় ঐক্য জোটকে বিজয়ী করুন।’তিনি বলেন, ‘বিএনপির দেবিদ্বার ও তিন আসনের প্রার্থী কুমিল্লায় উন্নয়ন কার্যক্রম যাতে না হয় সেই জন্য প্রধান উপদেষ্টাকে পর্যন্ত বলেছেন। ১১ দলীয় ঐক্য জোট ক্ষমতায় এলে তরুণদের আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। যেই তরুণরা জুলাই বিপ্লবে জীবন দিয়েছে, তারা কারো দয়ার ওপর নির্ভরশীল হতে পারে না। আমরা তরুণদের সম্মানজনক কাজ দিয়ে সম্মানিত করতে চাই। আমরা বার বার বলেছি, ব্যাংক লুটেরা ও বিদেশি নাগরিকদের মনোনয়ন দেওয়া যাবে না। কিন্তু তারা ব্যাংক লুটেরা ও বিদেশি নাগরিকদের মনোনয়ন দিয়ে ক্ষমতায় এলে কী করবে তার নমুনা দেখিয়ে দিয়েছে।’ আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আরেকটি বড় দলের নেতারা উপরে উপরে ভালো কথা বলছে। কিন্তু তাদের এক নেতা নারীদের কাপড় খুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। সেই দলের নেতারা ১১ দলীয় ঐক্য জোটের প্রার্থীদের ওপর বিভিন্ন সময়ে সন্ত্রাসী হামলা করছে। হ্যাঁ ভোটকে বিজয়ী করলে আগামীতে আর কেউ হাসিনার মতো ফ্যাসিস্ট হতে পারবে না। আর কাউকে অধিকারের জন্য জীবন দিতে হবে না। তাদের চেয়ারম্যান গণভোট ও সংস্কার নিয়ে কোনো কথা বলছে না। বড় নেতারা হ্যাঁ ভোটের কথা বললেও জেলা উপজেলা পর্যায়ের নেতারা মাঠ পর্যায়ে না ভোটের পক্ষে ক্যাম্পেইন করছে। এমআর-২
বিএনপি এমন বাংলাদেশ গড়বে, যেখানে কেউ গুম হবে না: সালাহউদ্দিন আহমদ
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বিএনপি এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলবে, যেখানে আর কোনো মানুষ গুম হবে না এবং কোনো মা সন্তান হারানোর বেদনা অনুভব করবেন না।বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার সাহারবিল ইউনিয়নের বিএমএস উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ ও একই এলাকায় অনুষ্ঠিত পৃথক নির্বাচনী পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ তথা বিএনপি ভূমিধস বিজয় অর্জন করবে। জনগণের বিপুল সমর্থন ও জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে বিএনপি এমন একটি সরকার গঠন করবে, যার প্রকৃত মালিক হবে জনগণ। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়েই জনগণ তাদের রাষ্ট্রের মালিকানা ফিরে পাবে।”তিনি বলেন, “আপনার ভোট আপনি দেবেন, যাকে ইচ্ছা তাকে দেবেন। পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করবেন। বাংলাদেশে যেন আর কখনো গুমের ঘটনা না ঘটে—এমন রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করবে বিএনপি।”বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “বিএনপির কর্মসূচি, পরিকল্পনা ও রাষ্ট্রচিন্তা যদি জনগণের পছন্দ হয়, তাহলে তারা বিএনপিকে ভোট দেবে। অন্য রাজনৈতিক দলগুলোরও উচিত তাদের পরিকল্পনা জনগণের সামনে তুলে ধরা। জনগণ যাকে পছন্দ করবে, তাকেই ভোট দেবে—এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।”তিনি আরও বলেন, “কিন্তু কেউ কেউ ধর্মের নামে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে—ভোট দিলে জান্নাত পাওয়ার মতো কথা বলে ধোঁকাবাজি করছে। এ ধরনের অপপ্রচার থেকে জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে।”নিজের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “গণতন্ত্রের সংগ্রাম করতে গিয়ে আমার জীবন একসময় চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছিল। দেশে এমন এক সময় ছিল, যখন মানুষ মুক্তভাবে কথা বলতে পারেনি, ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। এবার মানুষ স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবে এবং নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবে।”এ সময় জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ইউসুফ বদরী, মাতামুহুরী (সাংগঠনিক) উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামিল ইব্রাহীম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক হেফাজতুর রহমান টিপু, সাংগঠনিক সম্পাদক শোয়াইবুল ইসলাম সবুজসহ জেলা ও উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।ইখা
রামগড়ে অগ্নিকাণ্ডে চার প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত
খাগড়াছড়ির রামগড় বাজারে গভীর রাতে অগ্নিকাণ্ডে চারটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে কয়েক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।বুধবার (২৭ জানুয়ারি) মধ্যরাতে রামগড় বাজারের কাজী মার্কেটে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মার্কেটের সামনে থাকা একটি ট্রান্সফরমার থেকে বৈদ্যুতিক লাইনের মাধ্যমে প্রথমে একটি স-মিলে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে আগুন দ্রুত পাশের মা সেলুন, সেবা টেলিকম ও সততা কম্পিউটার নামের আরও তিনটি প্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়ে।খবর পেয়ে রামগড় ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে চারটি প্রতিষ্ঠানের মালামাল ও ডেকোরেশন সামগ্রী পুড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়।ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, আগুনে দোকানগুলোর আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি ও পণ্যসামগ্রী সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। এতে আনুমানিক ৪ থেকে ৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তারা ধারণা করছেন।এদিকে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভা প্রশাসক কাজী শামীম। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করতে বলা হয়েছে।ইখা
সীতাকুণ্ডে মসজিদে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে বক্তব্য, খতিবকে যুবদল নেতার হুমকি
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জুমার খুতবায় ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ায় এক খতিবকে এলাকা ছাড়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি সীতাকুণ্ড উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সাহাব উদ্দিন রাজু। এ ঘটনায় খতিবকে হুমকি দেওয়ার একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা নিয়ে এলাকায় আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।হুমকির অভিযোগে থাকা খতিবের নাম হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ আল আমিন। তিনি উপজেলার বাড়াকুণ্ড ইউনিয়নের মান্দারিটোলা বাইতুল আমান জামে মসজিদের খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।ভাইরাল হওয়া অডিওতে খতিবকে এলাকা ছাড়ার হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি কুরুচিপূর্ণ ভাষায় গালাগালির শব্দ শোনা যায় বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে অভিযুক্ত যুবদল নেতা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।খতিব মাওলানা মোহাম্মদ আল আমিন বলেন, “গত জুমার নামাজে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার পক্ষে কথা বলেছি। ভোটকে পবিত্র আমানত হিসেবে উল্লেখ করে ঋণখেলাপি, চাঁদাবাজ ও জুলুমকারীদের বর্জন করে যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছি। এ বক্তব্যে ক্ষিপ্ত হয়ে রোববার মো. সাহাব উদ্দিন রাজু আমাকে মুঠোফোনে গালিগালাজ করেন এবং এলাকায় এলে মারধরের হুমকি দেন।”তিনি আরও বলেন, “আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। বিষয়টি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। প্রশাসনের সহযোগিতায় আগামী জুমার নামাজও পড়াতে চাই।”অভিযোগ অস্বীকার করে যুবদল নেতা মো. সাহাব উদ্দিন রাজু বলেন, “খতিবের সঙ্গে আমার কোনো ফোনালাপ হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো অডিওটি এআই দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। এটি বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের উদ্দেশ্যে ছড়ানো হচ্ছে। তবে জুমার খুতবায় খতিব রাজনৈতিক ও গণভোট বিষয়ে পক্ষপাতমূলক বক্তব্য দিয়েছেন।”এদিকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, সীতাকুণ্ডে তাদের নারী কর্মীদের নির্বাচনী প্রচার কাজে বাধা দেওয়া হচ্ছে।চট্টগ্রাম-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরী বলেন, “নির্বাচনী গণসংযোগের সময় আমাদের নারী কর্মীদের বিভিন্ন স্থানে হেনস্তা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হচ্ছে। এটি নির্বাচনী আচরণবিধি ও মৌলিক মানবাধিকারের লঙ্ঘন।”তিনি জানান, মঙ্গলবার সীতাকুণ্ড পৌরসভার ইদুলপুর, ভাটিয়ারী ইউনিয়নের জাহানাবাদ ও কুমিরা লোহারপুল এলাকায় জামায়াতের নারী কর্মীদের প্রচার কাজে বাধা দেওয়া হয়।এ ছাড়া মঙ্গলবার সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ভোটার সম্মানি রশিদ’ নামে একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়ে। এতে বিএনপির প্রার্থী লায়ন আসলাম চৌধুরীর ছবি ও ধানের শীষ প্রতীক ব্যবহার করে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। কার্ডটিতে ভোটারের এনআইডি ও বিকাশ নম্বরের ঘর থাকলেও তথ্য অসম্পূর্ণ ছিল। বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।এ বিষয়ে বিএনপির প্রার্থী লায়ন আসলাম চৌধুরীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব মো. মোরসালীন বলেন, “এ ধরনের কোনো ফটোকার্ড সম্পর্কে আমরা অবগত নই। এটি গুজব ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা।”সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহিনুল ইসলাম বলেন, “খতিবকে হুমকির বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। জামায়াতের নারী কর্মীদের হেনস্তার বিষয়টি মৌখিকভাবে শুনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”বাইতুল আমান জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আইনুল কবির ও সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল আজিম বলেন, “খতিব কাউকে উদ্দেশ করে নয়, যোগ্য ও সৎ মানুষকে ভোট দেওয়ার কথা বলেছেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কিছু লোক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। বিষয়টি সমাধান হয়ে যাবে বলে আমরা আশা করছি।”ইখা
শ্রীপুরে আন্তঃনগর অগ্নিবীণা ট্রেনের নিচে পড়ে বৃদ্ধের মৃত্যু
গাজীপুরের শ্রীপুরে আন্তঃনগর অগ্নিবীণা ট্রেনের নিচে পড়ে আব্দুর রাজ্জাক (৭০) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে তারাকান্দাগামী রেলপথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুর রাজ্জাক নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর উপজেলার পাটলী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বর্তমানে গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। রেললাইন মাস্টার শামীমা জাহান জানান, কমলাপুর থেকে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর অগ্নিবীণা ট্রেনটি তারাকান্দী দিকে যাওয়ার সময় তিনি ট্রেনের নিচে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।নিহতের সন্তান জানান, তার বাবা কয়েকদিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের লোকজন বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করলেও কোনো সন্ধান পাননি। মঙ্গলবার হঠাৎ করে ফোনের মাধ্যমে জানতে পারেন যে তার বাবা ট্রেন দুর্ঘটনায় মারা গেছেন।রেলওয়ে পুলিশ জানান, আমরা খবর পেয়েছি ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করব। এসআর
৩১ জানুয়ারি টাঙ্গাইল আসছেন তারেক রহমান, উচ্ছ্বসিত নেতাকর্মীরা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আগামী শনিবার (৩১ জানুয়ারি) টাঙ্গাইল সফরে আসছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এদিন টাঙ্গাইল শহরের ধরুন চরজানা বাইপাস এলাকায় আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন তিনি। তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে জনসভার প্রস্তুতি ও সমাবেশস্থল পরিদর্শন করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এবং টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ।বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু টাঙ্গাইল শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে ধরুন চরজানা বাইপাস এলাকাকে জনসভাস্থল হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়। এ সময় চেয়ারম্যানের নিরাপত্তা বাহিনী (সিএসএফ)-এর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, নির্বাচনী জনসভার সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ভেন্যু পরিদর্শন সম্পন্ন হয়েছে। টাঙ্গাইলে যেভাবে ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, তাতে এই জনসভা স্মরণকালের জনসমাগমে পরিণত হবে বলে আমরা আশাবাদী। টাঙ্গাইলের জনগণ অধীর আগ্রহে আমাদের নেতা তারেক রহমানকে এক নজর দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন। তিনি আগামী দিনের বাংলাদেশ কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেবেন। ইনশাআল্লাহ, এই জনসভা থেকেই নির্বাচনে বিজয়ের পথ আরও সুদৃঢ় হবে।দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে ২৯ জানুয়ারি রাজশাহী সফরের পর উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা ঘুরে সর্বশেষ ৩১ জানুয়ারি টাঙ্গাইল সফরে আসবেন তারেক রহমান। সফরের দিন দুপুর ২টায় জেলা বিএনপির আয়োজনে ধরুন বাইপাস এলাকায় অনুষ্ঠিত জনসভায় তিনি বক্তব্য রাখবেন।তার আগমনকে কেন্দ্র করে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। জনসভা সফল করতে মঞ্চ নির্মাণ, জনসমাগম ব্যবস্থাপনা, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিকল্পনাসহ সব ধরনের কাজ চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তারেক রহমানের এই জনসভাকে ঘিরে বুধবার সকাল থেকেই টাঙ্গাইল বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। টাঙ্গাইল জেলার আটটি সংসদীয় আসনের নেতাকর্মীরাও এই সফরকে ঘিরে ব্যাপক আনন্দ ও উদ্দীপনা প্রকাশ করেছেন।এসআর
গাজীপুরে আগামী ১২ তারিখ নির্বাচন শেষে খাল খনন শুরু করব: তারেক রহমান
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, রাজধানের একদম নিকটে অবস্থিত গাজীপুর একট শিল্পের রাজধানী। এদেশে এই গার্মেন্টস শিল্প এনেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তার হাত ধরেই শিল্পের প্রসার ঘটেছিল বাংলাদেশে। এর ফলে দেশের লক্ষ লক্ষ মা বোন ও ভাইদের কর্মসংস্থান হয়েছে। এদেশ থেকে বিদেশে শ্রমিক পাঠানোর কাজটির বিএনপি সরকার করেছিল। এদেশের খেটে খাওয়া মানুষের উন্নয়নের জন্য জন্য যদি কেউ চিন্তা করে থাকে সেটি বিএনপি সরকার। এই শিল্পকে নিয়ে আমাদের একটা বড় পরিকল্পনা রয়েছে। গাজীপুর পুরো বাংলাদেশের শিল্পের রাজধানী। গাজীপুরে যাতে আরও লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান হয় সেই জন্য আমরা পরিকল্পনা নিয়েছি, ফ্যামিলি কার্ড কৃষক ভাইদের কৃষি কার্ড প্রদান বাস্তবায়ন করব। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাত ১১ টা ৫০ মিনিটে ঐতিহাসিক গাজীপুরে রাজবাড়ী মাঠে মহানগর বিএনপির আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে এসব কথা বলেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, গাজীপুরের মধ্যে বড় বড় কয়েকটি খাল রয়েছে সেগুলো হলো তুরাগ, লবনদহ, চিলাই। আগামী ১২ তারিখ নির্বাচন শেষে এই তিন খাল খনন শুরু করব। সাথে আপনারা থাকবেন। দূষিত পানি যাতে আর গাজীপুরে না থাকতে পারব সেই ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়াও গাজীপুরের জয়দেবপুর রেল গেইট এলাকায় তীব্র দুর্ভোগ থাকে। এই দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত এখানে ফ্লাইওভার করতে হবে। শিল্প কারখানায় মা বোনদের নিরাপত্তার পাশাপাশি শ্রমিকদের আবাসনের জন্য কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, ২৪ এর জুলাই আন্দোলনে গাজীপুরের মানুষের বিড়াট একটা ভূমিকা রয়েছে। লাখ লাখ মানুষ রাজপথে অধিকার আদায়ে লড়াই করেছে। এইযে গনতন্ত্রের লড়াই হয়েছে সেটি রক্ষা করতে আগামী ১২ তারিখ সবাই ভোর বেলায় ভোটকেন্দ্রে যাবেন। ফজরের নামাজ ভোট কেন্দ্রের সামনে জামাত করে পড়বেন। যাতে আগে থেকেই কেউ সেখানে অবস্থান না করতে পারে। বিগত বছরে যেভাবে ভোট ডাকাতি হয়েছে এবার সেই ডাকাতি করতে দিবেন না। নিজ অধিকার নিশ্চিত করেই ফিরবেন। বক্তব্যের মাঝে তারেক রহমান গাজীপুরের ৫টি আসনে মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থীদের সম্মুখে এনে পরিচয় করিয়ে দেন। এসময় তিনি বলেন, গাজীপুর নিয়ে আমাদের যেসব পরিকল্পনাগুলো রয়েছে এগুলো বাস্তবায়ন করতে এই প্রার্থীদের পাশে থাকবেন। তাদের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। এর আগে সন্ধ্যা ৬ টায় ময়মনসিংহ থেকে গাজীপুরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করেন তারেক রহমান। গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা থেকে জয়দেবপুর সড়ক ধরে নেতাকর্মীদের ভিড় ঠেলে দীর্ঘসময় অতিক্রমের পর রাত ১১টা ৫০ মিনিটে ডা.জোবায়দা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে সভামঞ্চে উঠেন তারেক রহমান।জানা গেছে, দীর্ঘ ২১ বছর পর নির্বচনী সভায় প্রধান অতিথি হয়ে গাজীপুরে আসলেন তারেক রহমান। এর আগে ২০০৫ সালের ২৯ মার্চ গাজীপুরের শহীদ বরকত স্টেডিয়ামে বিএনপির ইউনিয়ন প্রতিনিধি সম্মেলনে এসেছিলেন তিনি। এসআর
জবিতে কারিকুলাম ডেভেলপমেন্ট বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) রসায়ন বিভাগের উদ্যোগে ‘কারিকুলাম ডেভেলপমেন্ট অ্যাকোর্ডিং টু বিএনকিউএফ’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে বিভাগীয় কক্ষে ইউজিসি’র হায়ার এডুকেশন অ্যাক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (HEAT) সাব-প্রজেক্টের আওতায় এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে আউটকাম বেইজড এডুকেশন (OBE) কারিকুলাম অনুযায়ী শিক্ষাদান কার্যক্রম শুরু হবে এবং সে লক্ষ্যে সকল বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করছে।উপাচার্য তার বক্তব্যে বলেন, 'তাত্ত্বিক প্রস্তুতি ছাড়াই অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহারিক প্রয়োগের ফলে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন ব্যাহত হয়। একাডেমিক কাউন্সিলের মাধ্যমে ওবিই কারিকুলাম বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতা থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগ সফল হবে। পাশাপাশি, এই প্রকল্পের আওতায় প্রণীত কারিকুলাম অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যও একটি মানসম্মত উদাহরণ হবে।'বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন HEAT প্রকল্পে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রতিনিধিত্ব করায় রসায়ন বিভাগকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, 'বিএনকিউএফ অনুযায়ী ওবিই কারিকুলাম প্রণয়ন বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।' তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই সেমিনারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সকলেই কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন।রসায়ন বিভাগের HEAT সাব-প্রজেক্ট ম্যানেজার (SPM) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সৈয়দ আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. পরিমল বালা। সেমিনারে কী-নোট স্পিকার হিসেবে ছিলেন সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুল আলম এবং আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের আইকিউএসি পরিচালক অধ্যাপক ড. ফারহিন হাসান।অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সহযোগী সাব-প্রজেক্ট ম্যানেজার ও রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবুল কালাম মো. লুৎফর রহমান এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সহযোগী সাব-প্রজেক্ট ম্যানেজার অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ লোকমান হোসেন।ইখা
টাঙ্গাইল-২ আসনে জামায়াত কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ
টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর–ভূঞাপুর) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মাওলানা হুমায়ুন কবিরের পক্ষে নির্বাচনী প্রচার চালাতে গিয়ে জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জামায়াতের চারজন কর্মী আহত হয়েছেন।বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে ভূঞাপুর উপজেলার অর্জুনা ইউনিয়নের জগৎপুরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, উপজেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল আলমের নেতৃত্বে কয়েকজন কর্মী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট চাইতে গেলে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা বাধা দেন। একপর্যায়ে বাক্বিতণ্ডার পর হামলার ঘটনা ঘটে।আহতরা হলেন— উপজেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল আলম, অর্জুনা ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি নুরুল ইসলাম খান, গাবসারা ইউনিয়ন জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক আবু হুজাইদা এবং জামায়াতের শুরা সদস্য আহম্মদ আলী খান। আহতদের ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।আহত রবিউল আলম বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইছিলাম। তখন স্থানীয় বিএনপির ২০ থেকে ৩০ জন নেতাকর্মী আমাদের বাধা দেয়। ভোট চাওয়া আমাদের নাগরিক অধিকার—এ কথা বলতেই তারা আমাদের ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করে।”ভূঞাপুর উপজেলা জামায়াতের আমির আব্দুল্লাহ আল মামুন অভিযোগ করে বলেন, “নির্বাচনী প্রচারণায় আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর নিয়মিত বাধা ও হামলার ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে নারী কর্মীরা বেশি হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এসব ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ভূঞাপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিমুজ্জামান তালুকদার সেলুর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাব্বির রহমান বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. রাজিব হোসেনের নেতৃত্বে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”ইখা
হাত পাখার নারী কর্মীদের ওপর জামায়াতের হামলা, আহত ৩
ভোলা-৪ আসনে ইসলামী আন্দোলনের মনোনিত প্রার্থীর নারী কর্মীদের ওপর একই আসনের জামায়াত প্রার্থীর কর্মীদের হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী কামাল উদ্দিনের তিন কর্মী আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা আহত তিনজনকে উদ্ধার করে চরফ্যাশন হাসপাতালে পাঠিয়েছেন।এই ঘটনায় ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার বরাবর একটি অভিযোগ করেছেন।বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় চরফ্যাশন পৌরসভা ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ইসলামি আন্দোলনের মনোনিত প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালে এই হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটে।স্থানীয়রা জানায়, ভোলা-৪ আসনে ইসলামী আন্দোলনের মনোনিত হাতা পাখা প্রতীকের প্রার্থী কামাল উদ্দিনের মেয়ে মারিয়া কামাল ও তার দুইভাইসহ কয়েকজন নারী কর্মীদের নিয়ে পৌরসভা ৬ নম্বর ওয়ার্ডে সকাল ৯টার দিকে তার বাবার পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালায়। এ সময় জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী মোস্তফা কামালের কর্মী সোহেল ও আলাউদ্দিন তাদের নির্বাচনী প্রচারণায় বাঁধা দেন। এনিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। পরে সোহেল ও আলাউদ্দিন দলবদ্ধ হয়ে হাত পাখার কর্মীদের ওপর হামলা চালায়।ভোলা-৪ আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী কামাল উদ্দিনের মেয়ে মারিয়া কামাল চরফ্যাশন প্রেসক্লাবে লিখিত বক্তব্যে জানান, তিনি তার দুই ভাই ফয়সাল আহমেদ ও তাহজিবসহ ৭ থেকে ৮ জন নারী কর্মীকে নিয়ে সকাল ৯টায় পৌরসভা ৬ নম্বর ওয়ার্ডে নির্বাচনী প্রচারণা চালায়। এসময় জামায়াত ইসলামীর কর্মী সোহেল ও আলাউদ্দিন তাদের প্রচারণায় বাঁধা দেন এবং এলাকা ছেড়ে যেতে হুমকি দেন। এনিয়ে তাদের সাথে বাকবিতন্ডা শুরু হয়। এসময় জামায়াত ইসলামীর কর্মীরা দলবদ্ধভাবে তাদের ওপর হামলা চালায়। পরে স্বজন ও স্থানীয়রা আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে চরফ্যাশন হাসপাতালে প্রথামিক চিকিৎসা দিয়েছেন।ভোলা-৪ আসনে ইসলামী আন্দোলনের হাত পাখা প্রতীকের প্রার্থী কামাল উদ্দিন জানান, জামায়াত ইসলামীর কর্মীরা আমাদের নারী কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তারা বিভিন্নভাবে আমার নির্বাচনী প্রচারণা বানচাল করতে চায়। আমার এতে নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের মধ্যে আতংক সৃষ্টি করছে।ঘটনার পর পরই জামায়াত কর্মী আলাউদ্দিন ও সোহেল তাদের মোঠোফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় তাদের বক্তব্য নেয়া যায়নি। তবে চরফ্যাশন উপজেলা জামায়াত ইসলামির আমীর অধ্যক্ষ মীর মোঃ শরিফ জানান, যদি আমাদের কর্মী এই ঘটনার সাথে জড়িত থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. লোকমান হোসেন জানান, উভয় পক্ষ মৌখিকভাবে আমাকে ঘটনাটি অবগত করেছেন। তবে তারা নিজেরাই সমঝোতা করবে বলেও জানিয়েছেন।এসআর
নির্বাচনকে ঘিরে ভোলার সড়কে নৌবাহিনীর তল্লাশি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে ভোলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে তল্লাশি ও নিরাপত্তা কার্যক্রম জোরদার করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে ভোলা শহরের পান বাজার চত্বরসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যানবাহন থামিয়ে তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করেন। নির্বাচনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ ও প্রধান সড়কগুলোতে নৌবাহিনীর সদস্যরা যানবাহন থামিয়ে তল্লাশি চালান। এসময় সন্দেহভাজন যানবাহন ও ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করা হয়। যেকোনো ধরনের নাশকতা, সহিংসতা ও এড়াতে এই ধরনের তল্লাশি কার্যক্রম চলমান থাকবে বলেও জানান নৌ-বাহিনী। এসময় নৌবাহিনীর সঙ্গে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন এদিকে সড়কে নৌবাহিনীর তৎপরতায় সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তারা আশা প্রকাশ করেন, এমন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নির্বাচনের পরিবেশকে শান্তিপূর্ণ রাখতে সহায়ক হবে।এসআর
জামায়াতের মিছিলে হামলা, ভোলায় বিএনপি প্রার্থীকে শোকজ
জামায়াতের মিছিলে হামলা ও নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ভোলা-২ (বোরহানউদ্দিন ও দৌলতখান) আসনের বিএনপি প্রার্থী মো. হাফিজ ইব্রাহিমকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে নির্বাচন অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি।মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ভোলার সিভিল জজ মো. সুমন হোসেন স্বাক্ষরিত নোটিশটি প্রার্থীর কাছে পাঠানো হয়।নোটিশে বলা হয়, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশনে সুপারিশ করা হবে না—সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। আগামী ২৯ জানুয়ারি দুপুর ১২টায় দৌলতখান সিভিল জজ আদালতের অস্থায়ী কার্যালয়ে স্বশরীরে অথবা উপযুক্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে মৌখিক কিংবা লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ২৫ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৭টার দিকে বোরহানউদ্দিন উপজেলায় জামায়াতের একটি শান্তিপূর্ণ মিছিলে বিএনপির নেতাকর্মীরা হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এতে জামায়াতের কয়েকজন কর্মী আহত হন বলে অভিযোগ রয়েছে।এ ঘটনায় বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে দ্রুত তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে অবহিত করা হয়েছে।উল্লেখ্য, গত ২৫ জানুয়ারি বোরহানউদ্দিন উপজেলার বোরহানগঞ্জ বাজার এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনার জন্য উভয় পক্ষই একে অপরকে দায়ী করেছে।ইখা
গলাচিপায় নির্বাচনী প্রচারে ২ পক্ষের সমর্থকদের সংঘর্ষ-ভাঙচুর
পটুয়াখালীর গলাচিপায় বকুলবাড়িয়া ইউনিয়নে নির্বাচনী প্রচারকে কেন্দ্র করে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী নুরুল হক নুর ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী অফিস ও একটি ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেল আনুমানিক পাঁচটার দিকে বকুলবাড়িয়া ইউনিয়নের বটতলা বাজার এলাকায় গণঅধিকার পরিষদ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর পৃথক নির্বাচনী মিছিলকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষ ঘটে। সংঘর্ষের সময় স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের নির্বাচনী অফিস এবং ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয়ের সাইনবোর্ড, চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।ঘটনার একাধিক ভিডিও ফুটেজে হামলা, পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও পটুয়াখালী–৩ (গলাচিপা–দশমিনা) আসনে বিএনপি–সমর্থিত প্রার্থী নুরুল হক নুরের কর্মী-সমর্থকেরা পরিকল্পিতভাবে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছেন। ঘোড়া প্রতীকের সমর্থনে মিছিল চলাকালে এই হামলা হয় বলে দাবি তাদের।স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের নির্বাচন পরিচালনা বকুলবাড়িয়া ইউনিয়ন কমিটির আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির সরদার বলেন, ‘মঙ্গলবার বিকেলে নুরুল হক নুর তাঁর কর্মীদের নিয়ে বকুলবাড়িয়া বটতলা বাজারে আসেন। সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে নুরুল হক নুর চলে গেলে তাঁর দলের নেতাকর্মীরা আমাদের নির্বাচনী অফিসে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে।’ তিনি দাবি করেন, এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।অন্যদিকে গণঅধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। দলটির দাবি, ট্রাক প্রতীকের সমর্থনে নুরুল হক নুরের নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকেরা বাধা সৃষ্টি করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।গণঅধিকার পরিষদের গলাচিপা মিডিয়া টিমের পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক আবু নাঈম বলেন, ‘বিকেলে নুর ভাইয়ের গণসংযোগ ছিল। কিন্তু বকুলবাড়িয়া বটতলা বাজারে হাসান মামুনের ঘোড়া প্রতীকের সমর্থকেরা বাধা দেয়। এ নিয়ে বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে নুর ভাই আমাদের কর্মীদের নিয়ে উলানিয়ায় চলে যান। এরপর কী ঘটেছে, তা আমাদের জানা নেই।’ঘটনার সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকায় দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। বর্তমানে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে নুরুল হক নুরের নিরাপত্তা জোরদার করতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, ‘নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালে সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি।’উল্লেখ্য, এর আগেও সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দশমিনা উপজেলার চরবোরহান এলাকায় দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও নির্বাচনী অফিস ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার সকালে সংবাদ সম্মেলন করে নুরুল হক নুর স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের বিরুদ্ধে তাঁর নির্বাচনী প্রচারণায় হামলার অভিযোগ করেন। গত বছরের ১২ জুন একই এলাকায় নুরুল হক নুরকে অবরুদ্ধ করার অভিযোগও ওঠে।ইখা
গলাচিপায় গভীর রাতে অগ্নিকাণ্ডে দর্জি দোকান পুড়ে ছাই
পটুয়াখালীর গলাচিপা পৌর শহরের সদর সড়কে গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ‘ভাই ভাই লেডি টেইলার অ্যান্ড বোরকা হাউজ’ নামের একটি দর্জি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। এতে দোকানটির বিপুল পরিমাণ কাপড়, সেলাই মেশিনসহ বিভিন্ন মূল্যবান সরঞ্জাম আগুনে পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন নেভাতে ব্যবহৃত পানির কারণে পাশের আছাদ টেইলার ও সেঞ্চুরি টেইলার নামের আরও দুটি দোকানের মালামাল পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগুনে অন্তত একটি দোকানের সব মালামাল পুড়ে গেছে এবং অন্য দুটি দোকানে পানির কারণে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০ লাখ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে আগুন লাগার খবর পেয়ে গলাচিপা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে ‘ভাই ভাই টেইলার’-এ আগুনের সূত্রপাত হয়।আগুন নেভানোর সময় দায়িত্ব পালনকালে আতিক নামের এক ফায়ার সার্ভিস সদস্য মাথায় আঘাত পেয়ে আহত হন। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।ঘটনার সময় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে আগুন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে দেখা যায়। পাশাপাশি ঘটনাস্থলে গলাচিপা থানা পুলিশের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।সেঞ্চুরি টেইলারের প্রতিনিধি মো. রাহাত হাওলাদার বলেন, ‘রাত পৌনে ১২টার দিকে আগুন লাগার খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসি। প্রথমে স্থানীয়রা তালা ভেঙে দোকানে পানি ছিটিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। বশির প্যাদার ভাই ভাই টেইলার থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি।’গলাচিপা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তদন্ত শেষে অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটকে দায়ী করা হচ্ছে।’তিনি আরও বলেন, ‘সদর সড়কের দোকানগুলো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। দোকানের পাশ দিয়ে ঝুলে থাকা বৈদ্যুতিক তার অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এ ছাড়া রাস্তার ওপর পলিথিন ও ত্রিপল টানিয়ে রাখায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রবেশে বাধা সৃষ্টি হয়। এলাকাটিতে পর্যাপ্ত পানির উৎসও নেই।’ইখা
জামালপুর-১ আসনে নিজ প্রার্থীকেই অবাঞ্ছিত ঘোষণা করলেন গণঅধিকারের নেতা-কর্মীরা
জামালপুর ১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) আসনের গণঅধিকার পরিষদ মনোনীত ট্রাক প্রতীকের এমপি প্রার্থী রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ এনে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে দলটির নেতা-কর্মীরা।মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাতে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক মামুন মিয়া ও ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব দুলাল হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানান।বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য ও নেতা-কর্মীদের সাথে প্রতারণার অভিযোগে গণঅধিকার পরিষদের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও ডাংধরা ইউনিয়ন গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম রফিককে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হলো। একই সাথে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার আওতাধীন ডাংধরা ইউনিয়ন গণঅধিকার পরিষদ বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলো।বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব দুলাল হোসেন বলেন, কেন্দ্রীয় সভাপতি ভিপি নুরুল হক নুরুর নির্দেশ অমান্য করায় এবং তৃনমুল গণঅধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীদের সাথে প্রতারণা করেছেন এমপি প্রার্থী রফিকুল ইসলাম। যে কারণে দলের সিদ্ধান্তে তাঁকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। তাঁর নির্বাচনী কর্মকান্ডে গণঅধিকার পরিষদের কোনো নেতা-কর্মী অংশ নেবেন না।এ বিষয়ে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘একতরফাভাবে উপজেলা গণঅধিকার পরিষদ আমাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে। এ সিদ্ধান্ত আমি মানি না। নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে আমি নির্বাচন করে যাব। আশাকরি এ আসনে আমি জয়লাভ করব।’ইখা
জামালপুরে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থীকে অপহরণ করে মারধরের অভিযোগ
জামালপুর-৩ আসনের গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী লিটন মিয়াকে অপহরণ করে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাতে তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।জামালপুর জেলা গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে লিটন মিয়ার নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি জানান। পোস্টে তিনি লেখেন, ‘দুপুর থেকে লিটন মিয়ার খোঁজ মিলছে না। মোবাইল বন্ধ।’নিখোঁজ লিটন মিয়া মেলান্দহ উপজেলার ছবিলাপুর গ্রামের কোরবান আকন্দের ছেলে। তিনি জেলা যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।এরপর রাত আনুমানিক ১১টার দিকে মেলান্দহ উপজেলার মহিরামকুল এলাকা থেকে স্থানীয় লোকজন তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করেন। খবর পেয়ে মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবায়দুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেন।আহত লিটন মিয়া সাংবাদিকদের জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা থেকে জামালপুরে ফিরে তিনি শহরের নয়াপাড়া পাঁচরাস্তা মোড়ে ‘স্পাইসি ড্রাগন’ নামের একটি হোটেলে খাবার খান। এরপর তিনি বিজয় চত্বরে গিয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকেন এবং পরে মেলান্দহ রোডে হাঁটাহাঁটি করছিলেন। এ সময় একটি মাইক্রোবাসে করে ৬–৭ জন যুবক এসে তাকে জোরপূর্বক তুলে নেয়।তার ভাষ্য অনুযায়ী, এরপর চোখ ও হাত বেঁধে তাকে মারধর করা হয় এবং নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে মারধর শেষে তাকে মেলান্দহ উপজেলার মহিরামকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা।লিটন মিয়া আরও জানান, মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে তিনি নিজেই তার মোবাইল ফোন বন্ধ করে দিয়েছিলেন। তার ব্যবহৃত প্রাইভেটকার দুই ঘণ্টা পর ফেরার কথা থাকলেও সেটি ফিরেছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য দিতে পারেননি তিনি। তিনি দাবি করেন, এর আগের দিন সোমবার অপরিচিত কয়েকজন ব্যক্তি তাকে হুমকি দিয়েছিল।এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আগে অবহিত না করার কারণ জানতে চাইলে তিনি সন্তোষজনক কোনো উত্তর দিতে পারেননি।মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘ট্রাক প্রতীকের সংসদ সদস্য প্রার্থী লিটন মিয়াকে উদ্ধার করে মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটির কিছু বিষয়ে অসঙ্গতি রয়েছে।’ বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।ইখা
শিল্প বর্জ্যের আগ্রাসনে বিপর্যস্ত ভালুকার খীরু নদী
শিল্প বর্জ্যের অব্যবস্থাপনায় একসময় চিরসবুজ ভালুকার বুক চিরে বয়ে চলা খীরু নদী এখন নীরব মৃত্যুর সাক্ষী। বছরের পর বছর বিভিন্ন ডাইং ও শিল্পকারখানার অপরিশোধিত কেমিক্যাল বর্জ্য নদীতে পড়ায় খীরুর স্বচ্ছ মিঠাপানি রূপ নিয়েছে বিষাক্ত কালো তরলে। এর ভয়াবহ প্রভাবে কৃষি, মৎস্য, পশুপাখি ও মানবস্বাস্থ্যসহ পুরো পরিবেশব্যবস্থা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, ভালুকা উপজেলার বিভিন্ন ডাইং কারখানা থেকে দীর্ঘদিন ধরে লাউতি, বেতিয়াহাঙ্গুন, বিলাইজুড়ি, বাধ সাতরা ও রুপির খাল দিয়ে গরম ও দুর্গন্ধযুক্ত কেমিক্যাল বর্জ্য খীরু নদীতে ফেলা হচ্ছে। এতে নদীর পানি কালো হয়ে আশপাশের গ্রামজুড়ে ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ। খাল-বিল হয়ে এই দূষিত পানি ছড়িয়ে পড়ায় ধ্বংস হচ্ছে মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণী, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পশুপাখি এবং বাড়ছে পানিবাহিত রোগ ও চর্মরোগ। কৃষিজমির সেচব্যবস্থাও পড়েছে চরম সংকটে।বোরো মৌসুমে প্রতি বছর নদীর পানি ব্যবহার করে চাষাবাদ করলেও গত কয়েক বছর ধরে কাঙ্ক্ষিত ফলন পাচ্ছেন না কৃষকেরা। স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, নদীর দূষিত পানি সেচ দিলে ধানের গোছা ভালো হলেও থোড় আসার পর ধান চিটা হয়ে যায়। এতে উৎপাদন খরচও উঠছে না। অনেক ক্ষেত্রে দুর্গন্ধযুক্ত পানি পান করে হাঁস, গরু ও ছাগলের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে।ভালুকা, ভরাডোবা, মেদুয়ারী ও হবিরবাড়ী ইউনিয়নের জামিরদিয়া ও কাশর এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত অসংখ্য ডাইং মিল থেকে নিয়মিত কালো বর্জ্যপানি খালে ফেলা হচ্ছে। বিশেষ করে হবিরবাড়ী এলাকার বিলাইজুড়ি ও লাউতি খাল দিয়ে দিনরাত গরম বর্জ্য প্রবাহিত হওয়ায় আশপাশের মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। দুর্গন্ধে স্বাভাবিক বসবাস কঠিন হয়ে পড়েছে। শিশুদের মধ্যে পেটের পীড়া ও বিভিন্ন জটিল রোগের প্রকোপ বাড়ছে।একসময় খীরু নদী ছিল এ অঞ্চলের প্রাণ। বর্ষা মৌসুমে পালতোলা নৌকা ও যাত্রীবাহী লঞ্চের ভেঁপুর শব্দে মুখর থাকত নদীর তীর। শিশুরা সাঁতার কাটত, জেলেরা দল বেঁধে মাছ ধরত। তবে শিল্প বর্জ্য, নদীদূষণ ও নাব্যতা হ্রাসের কারণে আশির দশক থেকেই ধীরে ধীরে নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আজ খীরু নদী কার্যত প্রাণহীন।দীর্ঘদিনের দূষণে খীরু নদী থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে রুই, কাতল, বোয়াল, পাবদা, কাচকি, চাপিলা, টেংরা, গুলশা, মলা, ঢেলা, বাইলা ও চিংড়িসহ বহু দেশীয় মাছ। হারিয়ে গেছে কচ্ছপ, উদ ও গুইসাপের মতো জলজ প্রাণী। নদীর পাড়ের হিজল গাছে আর বসে না গাংচিল, বক, পানকৌরি কিংবা মাছরাঙা। মাছ না থাকায় পাখিরাও এলাকা ছেড়ে চলে গেছে।স্থানীয়রা জানান, নদীর পাড় ও খাল-বিলের আশপাশের জমির মাটি এখন আলকাতরার মতো কালচে ও কিচকিচে হয়ে গেছে। এসব জমিতে নামলে হাঁটু পর্যন্ত দেবে যায় কাদার নিচে। কিছুক্ষণ কাজ করলেই হাত-পা ও শরীরে চুলকানি ও ফুসকুড়ি দেখা দেয়। ফলে শ্রমিকরা জমিতে কাজ করতে অনীহা প্রকাশ করছেন, এতে সময়মতো চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে।অভিযোগ রয়েছে, অধিকাংশ ডাইং কারখানায় বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) থাকলেও তা নিয়মিত চালু রাখা হয় না। বর্ষা মৌসুম কিংবা প্রশাসনিক অভিযানের সময় ইটিপি চালু দেখানো হলেও অন্য সময় অপরিশোধিত বর্জ্য সরাসরি খাল-বিল ও নদীতে ফেলা হয়। পরিবেশ অধিদপ্তরের কিছু কর্মকর্তাকে ‘ম্যানেজ’ করে কারখানা কর্তৃপক্ষ নির্বিঘ্নে এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ।বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ভালুকা আঞ্চলিক শাখার সদস্যসচিব কামরুল হাসান পাঠান কামাল বলেন, ‘হবিরবাড়ীর লাউতি, বিলাইজুড়ি ও বেতিয়াহাঙ্গুনসহ অসংখ্য সংযোগ খাল দিয়ে ডাইং মিলের দূষিত বর্জ্য খীরু নদীতে ফেলা হচ্ছে। এটি সরাসরি পরিবেশগত নৈরাজ্য। আমরা একাধিকবার মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দিলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।’সচেতন মহলের মতে, শিল্পকারখানাগুলোতে ইটিপি যথাযথভাবে চালু করে বর্জ্য পরিশোধনের পর নদীতে পানি ফেললে একদিকে যেমন কৃষিকাজে সেচযোগ্য পানি পাওয়া যাবে, অন্যদিকে দেশীয় মাছের বংশবিস্তার ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা সম্ভব হবে। শিল্প বর্জ্য বন্ধ করা গেলে আবারও প্রাণ ফিরে পেতে পারে সবুজ-শ্যামল ভালুকা—এমন আশাই করছেন স্থানীয়রা।ইখা
জামালপুর–১ আসনে হাতপাখায় ভোট চাইলেন চরমোনাই
জামালপুর–১ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থীকে বিজয়ী করার আহ্বান জানিয়েছেন চরমোনাই পীর মুফতী সৈয়দ রেজাউল করিম। তিনি হাতপাখা প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য ভোটারদের প্রতি অনুরোধ জানান।সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে বকশীগঞ্জ উপজেলার এনএম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।মুফতী সৈয়দ রেজাউল করিম বলেন, ‘৫৪ বছরে কী হয়েছে, তা আমরা সবাই জানি। হাতে আর সময় নেই। সবাইকে বুঝিয়ে আমাদের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে হবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে যদি হাতপাখাকে বিজয়ী করা যায়, তাহলে দুনিয়াতে শান্তি আসবে। ইসলামী আদর্শ ধারণ করলে আল্লাহ আখিরাতেও শান্তি দান করবেন।’এ সময় তিনি জামালপুর–১ আসনের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী আবদুর রউফ তালুকদারের হাতে হাতপাখা প্রতীক তুলে দেন এবং সবার জন্য দোয়া করেন।ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী আবদুর রউফ তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ জনসভায় আরও বক্তব্য দেন দলের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক নুরুল করিম আকরাম, জামালপুর জেলা সভাপতি মোস্তফা কামাল, বকশীগঞ্জ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শাহজালাল, মুফতী হামিদুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতারা।ইখা
বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই নিয়োগ, এক দশক ধরে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক বাকীবিল্লাহ
বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই নিয়মবহির্ভূতভাবে নিয়োগ পেয়েছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. বাকীবিল্লাহ—এমন প্রমাণ মিলেছে নথিপত্র অনুসন্ধানে। কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি (সার্কুলার) প্রকাশ ছাড়াই তিনি গত প্রায় ১০ বছর ধরে ওই বিভাগে শিক্ষকতা করে আসছেন।মো. বাকীবিল্লাহর নিয়োগপত্র ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র বিশ্লেষণ করে জানা যায়, ২০১৫ সালের ১৭ অক্টোবর করা একটি ব্যক্তিগত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এবং একই বছরের ২০ ডিসেম্বর নিয়োগ বাছাই কমিটির সুপারিশে তাঁকে ফোকলোর বিভাগের প্রভাষক হিসেবে (সহযোগী অধ্যাপক পদের বিপরীতে) নিয়োগ দেওয়া হয়।তবে তার নিয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট পদের জন্য জাতীয় কোনো দৈনিকে কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে আনুষ্ঠানিক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সাধারণত সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগের ক্ষেত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থী নির্বাচন করা হয়। কিন্তু বাকীবিল্লাহর ক্ষেত্রে কোনো প্রতিযোগিতার সুযোগ না দিয়েই ব্যক্তিগত আবেদনের ভিত্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে নথিতে উঠে এসেছে।এর আগে ২০১৫ সালের ১২ মে ফোকলোর বিভাগে প্রভাষক–১ পদের জন্য একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল। ওই বিজ্ঞপ্তির বিপরীতে আবেদন করে অন্য একজন শিক্ষক স্থায়ীভাবে নিয়োগ পান। বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনের শেষ সময় ছিল ১৫ জুন বিকেল ৫টা পর্যন্ত।বিজ্ঞপ্তি ছাড়া নিয়োগের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে মো. বাকীবিল্লাহ বলেন, ‘আমি যতটুকু জানি, এ ধরনের কোনো অনিয়ম হয়নি। যাঁর সঙ্গে নিয়োগ হয়েছে, তার সঙ্গে আমার যোগ্যতার পার্থক্য রয়েছে। নিয়োগ দেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ। রেজিস্ট্রার বা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বললে বিষয়টি পরিষ্কার হবে। আমাদের দুজনেরই একই সার্কুলারে নিয়োগ হয়েছে।’তবে তার নিয়োগপত্রে আবেদনের তারিখ ১৭ অক্টোবর উল্লেখ থাকায় সময়ের হিসাবে বড় ধরনের গরমিল দেখা যাচ্ছে। একই সার্কুলারে এক পদের বিপরীতে দুজনের নিয়োগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এটা আমি বলতে পারব না। কে কোন পদে নিয়োগ পেয়েছে, সেটা বিশ্ববিদ্যালয়ই বলতে পারবে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রার্থীরা সিদ্ধান্ত নেন না।’এ বিষয়ে নিয়োগ বাছাই কমিটির সদস্য ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক মো. মাহবুব হোসেন ঘটনার সত্যতার ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, ‘বিষয়টি অনেক আগের। তখন যেসব কাগজপত্র ছিল, সেগুলো দেখেই আমরা মত দিয়েছিলাম। তবে নিয়োগ বোর্ডের মূল দায়িত্ব সভাপতির। আমরা অভ্যন্তরীণ সদস্য ছিলাম, বহিঃস্থ সদস্যও ছিলেন। পুরো বিষয়টি একটি কমিটির মাধ্যমে হয়েছে। তবে এককভাবে সভাপতিকেই দায়ী করছি না।’তৎকালীন উপাচার্য ও নিয়োগ বাছাই কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মোহীত উল আলম বলেন, ‘বিষয়টি আমার মনে নেই। সিন্ডিকেট, টিন্ডিকেট ও কাগজপত্র রয়েছে—সেগুলো দেখলেই পরিষ্কার হবে। আমাদের কমিটির সব সিদ্ধান্ত রেজিস্ট্রার দপ্তরে সংরক্ষিত আছে।’বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘ইউজিসির অনুমোদনের ভিত্তিতে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এর বাইরে কিছু হয়ে থাকলে সেটি বৈধতার মধ্যে পড়ে না।’বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান বিজ্ঞপ্তি ছাড়া নিয়োগের বিষয়টিকে ‘অসম্ভব’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী সহযোগী অধ্যাপকের বিপরীতে প্রভাষক নিয়োগ দিতেও দুইবার বিজ্ঞপ্তি দিতে হয়। দুই দফা বিজ্ঞপ্তির পর যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে নতুন করে বিজ্ঞপ্তি দিতে হয়। বিজ্ঞপ্তি ছাড়া নিয়োগ হলে সেটি বৈধ নয়।’ইখা
ঠাকুরগাঁওয়ে জামায়াত প্রার্থীর নির্বাচনী বিলবোর্ড ভাঙচুরের অভিযোগ
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. দেলাওয়ার হোসেনের নির্বাচনী বিলবোর্ড ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে জামায়াতের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন।বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ তুলে ধরেন জামায়াতের জেলা নেতারা।এরপর নেতাকর্মীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠ থেকে শুরু হয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বাসভবনের সামনে দিয়ে অতিক্রম করে জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে দিয়ে চৌরাস্তা হয়ে পুনরায় বড় মাঠে এসে শেষ হয়।মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশে জামায়াত নেতারা অভিযোগ করেন, গভীর রাতে পরিকল্পিতভাবে জামায়াত প্রার্থীর নির্বাচনী বিলবোর্ড ভেঙে ফেলা হয়েছে। দাড়িপাল্লা প্রতীকের প্রচারণা বাধাগ্রস্ত করতেই এ ধরনের ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।জামায়াত নেতারা বলেন, “বিলবোর্ড ভেঙে জামায়াতকে দমিয়ে রাখা যাবে না। এটি নিন্দনীয় ও দুঃখজনক ঘটনা।” তারা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। বিষয়টি ইতোমধ্যে প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে বলেও জানান তারা।এ সময় জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি কফিল উদ্দিনসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ঠাকুরগাঁও বড় মাঠসংলগ্ন এলাকায় স্থাপিত নির্বাচনী বিলবোর্ডটি গভীর রাতে ছিঁড়ে ও ভেঙে ফেলা হয়েছে, যা সরাসরি নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন।এ বিষয়ে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মো. দেলাওয়ার হোসেন বলেন, “আমরা জানি এসব কারা করছে বা করাচ্ছে। তবে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বলেই আমরা পাল্টা কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছি না। কিন্তু এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটলে আমরা বসে থাকব না। সমস্ত প্রমাণসহ দুষ্কৃতকারীদের আইনের হাতে তুলে দেওয়া হবে।”তিনি আরও বলেন, “ডাকসু নির্বাচনের সময় যেভাবে ছাত্রশিবির প্যানেলের ফেস্টুন বিকৃত করা হয়েছিল, তার প্রভাব ফলাফলেও পড়েছিল। ইনশাআল্লাহ, ঠাকুরগাঁওবাসীও এবার দুষ্কৃতকারীদের উপযুক্ত জবাব দেবে।”এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেন, “ঘটনাটি আমাদের নজরে এসেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”রিটার্নিং কর্মকর্তা ইশরাত ফারজানা জানান, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ইখা
আওয়ামী লীগ ভোট চুরির সংস্কৃতি চালু করেছিল: এটিএম আজহারুল ইসলাম
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার হারিয়ারকুটি ইউনিয়নে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে এক নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাতে অনুষ্ঠিত এ জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন রংপুর–২ (বদরগঞ্জ–তারাগঞ্জ) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম।বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এ দেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। পতিত আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। তারা ভোট চুরির একটি সংস্কৃতি চালু করেছিল। আওয়ামী লীগের শাসনামলে মানুষ ভোটকেন্দ্রে গিয়ে দেখেছে, তাদের ভোট আগেই দেওয়া হয়ে গেছে।’তিনি আরও বলেন, ‘২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্রসমাজের আন্দোলনের মুখে ওই সরকার শেষ পর্যন্ত পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।’নিজের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘আমাকে বিনা অপরাধে ১৪ বছর কারাবন্দি করে রাখা হয়েছিল। আমার বিরুদ্ধে তিনটি মৃত্যুদণ্ডের আদেশও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মহান আল্লাহর রহমতে আজ আমি আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারছি।’তিনি বলেন, ‘জীবনে আমার চাওয়া–পাওয়ার আর কিছু নেই। বাকি জীবনটা আপনাদের খাদেম হয়ে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চাই।’ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে আপনাদের সেবা করার সুযোগ দেবেন—এই আশাই রাখি।’ক্ষমতায় গেলে দলের লক্ষ্য ও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা মানুষকে ত্রাণনির্ভর করে রাখব না। কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করব, যাতে মানুষ সম্মানের সঙ্গে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে।’একই সঙ্গে তিনি দুর্নীতি, লুটপাট ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচন শুধু ক্ষমতার লড়াই নয়। এটি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার এবং দেশের ভবিষ্যৎ রক্ষার সংগ্রাম।’শেষে তিনি বলেন, ‘যদি ইনসাফভিত্তিক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র চান, তাহলে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট দিয়ে জামায়াতে ইসলামিকে জয়যুক্ত করুন।’জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় ও জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন নেতাও বক্তব্য দেন।ইখা
ওয়ারিশন সনদ জালিয়াতি করে জমি খারিজের অভিযোগ
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় আব্দুল্লাহ মাসুদ নামে এক ব্যক্তি ভুয়া ওয়ারিশন সনদের ভিত্তিতে জমি খারিজের সময় নিজের মা ও বোনদের ওয়ারিশ হিসেবে দেখিয়ে তার সৎ মা ও অন্যান্য ভাই-বোনদের নাম বাদ দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।অনুসন্ধানে জানা যায়, দেবীগঞ্জ উপজেলার দেবীডুবা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ২০২২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি তারিখে ১১২ নম্বর স্মারকে ইস্যু দেখানো একটি ওয়ারিশন সনদকে ঘিরে এই বিতর্কের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পরেশ চন্দ্র রায় প্রধান লিখিত প্রত্যয়ন দিয়ে জানান, ওই ওয়ারিশন সনদটি তার শপথ গ্রহণের আগের দেখানো হয়েছে এবং এতে থাকা স্বাক্ষর তার নিজের নয়। তিনি সনদটিকে ভুয়া বলে দাবি করেন।চেয়ারম্যানের প্রত্যয়ন অনুযায়ী, তিনি ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি চেয়ারম্যান হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। অথচ আলোচিত ওয়ারিশন সনদে ইস্যুর তারিখ দেখানো হয়েছে ২০২২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি। ফলে ওই সনদের বিষয়ে তিনি কিংবা ইউনিয়ন পরিষদ অবগত ছিলেন না বলে লিখিতভাবে উল্লেখ করেন তিনি।জানা গেছে, দেবীডুবা ইউনিয়নের সোনাপোতা এলাকার বাসিন্দা আবুল হোসেন মৃত্যুকালে দুই স্ত্রী, সাত মেয়ে ও দুই ছেলে রেখে যান। এছাড়া মানিক নামে এক ছেলে পিতার মৃত্যুর আগেই অবিবাহিত অবস্থায় মারা যান। পারিবারিক ও স্থানীয় তথ্য অনুযায়ী তার মোট বৈধ ওয়ারিশের সংখ্যা ১১ জন।কিন্তু ভুয়া দাবি করা ওই ওয়ারিশন সনদে আবুল হোসেনের ওয়ারিশ হিসেবে মাত্র সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়। এতে দ্বিতীয় স্ত্রী মোছাঃ ছকিনা খাতুন, ছেলে মোঃ আব্দুল্লাহ মাসুদ এবং পাঁচ মেয়ের নাম থাকলেও প্রথম স্ত্রী মঞ্জুয়ারা খাতুন, দুই মেয়ে মোছাঃ আনজুমা হাসনেয়ারা ও মোছাঃ ফাতেমা বেগম এবং ছেলে মোঃ মোজাম্মেল হকের নাম বাদ দেওয়া হয়।দেবীডুবা ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য উমাপদ রায় বলেন, আবুল হোসেনের দুই স্ত্রী ও নয়জন সন্তানসহ মোট ওয়ারিশ ১১ জন। অথচ আলোচিত ওয়ারিশন সনদে মাত্র সাতজনের নাম রয়েছে। এতে কয়েকজন বৈধ ওয়ারিশকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যা নিয়মবহির্ভূত।অভিযোগ রয়েছে, এই ভুয়া ওয়ারিশন সনদের ভিত্তিতেই আব্দুল্লাহ মাসুদ একই ইউনিয়নের সোনাপোতা ধানপাড়া এলাকার ১ দশমিক ২০ একর জমি নিজের নামে খারিজ করে নেন। এ সংক্রান্ত নামজারি মামলার নম্বর ৩৪০৫ (IX-X)/২০২৪-২০২৫। নামজারির সময় তিনি তার সৎ মা ও ভাই-বোনদের নাম বাদ দিয়ে কেবল নিজের মা ও বোনদের ওয়ারিশ হিসেবে দেখিয়ে ভূমি অফিসে কাগজপত্র দাখিল করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আবুল হোসেনের ছেলে মোঃ মোজাম্মেল হক বলেন, আমার বাবা দুই স্ত্রী ও নয়জন সন্তান রেখে মারা যান। আমার মা বড় স্ত্রী হলেও তার নাম, আমার নাম এবং আমার দুই বোনের নাম ওয়ারিশন সনদে নেই। এই সনদের মাধ্যমে আমাদের পিতৃপরিচয় অস্বীকার করা হয়েছে।অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুল্লাহ মাসুদ ওয়ারিশন সনদ ও জমি খারিজের বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা না দিয়ে এড়িয়ে যান।খারিজের বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, বাদ পড়া ওয়ারিশদের মধ্য থেকে মিসকেস করলে যাচাই-বাছাই শেষে সত্যতা পেলে খারিজটি বাতিল করা হবে।এসআর
জলঢাকায় বিএনপি ও জাতীয় পার্টির অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীর জামায়াতে যোগদান
নীলফামারীর জলঢাকায় আদর্শ ও ন্যায়ভিত্তিক রাজনীতিতে অনুপ্রাণিত হয়ে বিএনপি ও জাতীয় পার্টির অর্ধশতাধিক স্থানীয় নেতাকর্মী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন।মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেল ৫টায় উপজেলার শিমুলবাড়ী ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত এক ‘হিন্দু উঠান বৈঠকে’ তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে দলটিতে যোগ দেন।নবযোগদানকারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—বিএনপির ওয়ার্ড সভাপতি আব্দুস সোবহান চিনু, জাতীয় পার্টির ৩ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি শুকুর আলী, সদস্য জাহাঙ্গীর আলম, তফে হোসেন, লোকমান, শিক্ষক শ্রী সুপেন্দ্র নাথ, শ্রী আনাম, ডা. পুশিনাথ চন্দ্র, শ্রী সুধীর চন্দ্র বাবু, নিরেন চন্দ্র, শ্রী কালিপদ চন্দ্র (রাজবাড়ী), শ্রী রামু চন্দ্র, ইউপি সদস্য নারায়ণ অধিকারীসহ মোট অর্ধশতাধিক স্থানীয় নেতাকর্মী।যোগদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে বিএনপি নেতা আব্দুস সোবহান চিনু বলেন, “জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ন্যায়পরায়ণতা, ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠনের প্রচেষ্টা এবং আদর্শিক আচরণ আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। মূলত এসব কারণেই আমি জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছি।”সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী-৩ (জলঢাকা) আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফী। তিনি বলেন, “ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমেই আজ রাজনৈতিক দলগুলো প্রকাশ্যে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছে। আওয়ামী লীগের দমন-পীড়নের কারণেই জামায়াতে ইসলামী আজ মানুষের অন্তরে স্থান করে নিয়েছে।”তিনি আরও বলেন, “আমরা ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের মতো কোনো একতরফা নির্বাচন চাই না। সাম্প্রতিক ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিজয় প্রমাণ করেছে—যারা গঠনমূলক কাজ করে, তারাই নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্য।”শিমুলবাড়ী ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর আব্দুল কুদ্দুসের সভাপতিত্বে এবং ইউনিয়ন সেক্রেটারি মো. দেলোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন—জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত উপজেলা আমীর কামরুজ্জামান, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ফায়সাল মুরাদ ও জাকির হোসেনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।এনআই
দিনাজপুর-৬ আসনে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন স্বতন্ত্র প্রার্থী
প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে অভিযোগ তুলে দিনাজপুর-৬ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহনেওয়াজ ফিরোজ শুভ। তিনি ‘ঘোড়া’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন।মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় দিনাজপুরের বিরামপুর ঢাকা মোড়ে চাংপাই রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন।সংবাদ সম্মেলনে শাহনেওয়াজ ফিরোজ শুভ অভিযোগ করে বলেন, “প্রশাসন সব প্রার্থীর ক্ষেত্রে সমান ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করছে না। বিভিন্ন সময়ে আমি জীবননাশের হুমকি পেয়েছি। এসব কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে প্রশাসনের কাছে অস্ত্রের লাইসেন্স চাওয়া হলেও তা দেওয়া হয়নি।”তিনি আরও বলেন, “এ অবস্থায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সম্ভব নয়।”এনআই
দীর্ঘ ২০ বছর পর নওগাঁয় আসছেন তারেক রহমান, চলছে মঞ্চ তৈরির প্রস্ততি
সার দেশে নির্বাচনী প্রচারণা এবং রাজনৈতিক সফরের অংশ হিসেবে দীর্ঘ ২০ বছর পর নওগাঁয় আসছেন তারেক রহমান। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেল তিনটায় শহরের এটিম মাঠে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তার বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে চলছে মঞ্চ তৈরির কাজ। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে এটিম মাঠ এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মঞ্চ তৈরি এবং মাইক লাগানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকরা। তার এই আগমনকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে বইছে উৎসবের আমেজ। নওগাঁ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রহমান রিপন বলেন, দীর্ঘ ২০ বছর পরে নওগাঁয় আমাদের চেয়ারম্যান আসছেন। তাকে বরণ করে নিতে নওগাঁবাসী অধীর অপেক্ষায় রয়েছে। নওগাঁর উন্নয়নের ব্যাপারে তিনি কথা বলবেন, তার যে চিন্তা ও পরিকল্পনা রয়েছে সেগুলো তিনি তুলে ধরবেন। আমরা শতভাগ প্রস্তুত নেতাকে বরণ করে নিতে। তার আগমন উপলক্ষে বিএনপির নেতাকর্মীরা ঈদের মতো আনন্দ উপভোগ করছে। তার নিরাপত্তার বিষয়ে পুলিশ সুপারের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে । তাকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বলয়ের মধ্য দিয়ে নওগাঁয় আনা হবে। আশা করছি প্রায় ২ লাখের বেশি মানুষের সমাগম ঘটবে। উল্লেখ্য, তারেক রহমান বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে ঢাকা থেকে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে রওনা হবেন।রাজশাহী সমাবেশ শেষে তিনি নওগাঁর জনসভায় যোগ দিবেন এবং নওগাঁর জনসভা শেষে বগুড়ার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন।ইখা
পুলিশ হেনস্তাকারী তুহিন ও বাসচালক গ্রেপ্তার
রাজশাহীর পুঠিয়ায় বাসচাপায় তিনজনের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের কাজে বাধা ও পুলিশ সদস্যদের হেনস্তার অভিযোগে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ত্রিপল-ই বিভাগের ছাত্র হাসানুর রহমান ওরফে তুহিন (২৬) এবং দুর্ঘটনাকবলিত বাসের চালক সাইফুল ইসলামকে (৪৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।গ্রেপ্তার সাইফুল ইসলামের বাড়ি নাটোর সদর উপজেলার কানাইখালী দক্ষিণ পটুয়াপাড়া এলাকায় এবং তুহিনের বাড়ি রাজশাহী নগরীর শাহমখদুম থানার বড়বনগ্রাম চকপাড়ায়। পুলিশ জানায়, তুহিনকে সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশ হেনস্তার মামলায় এবং বাসচালক সাইফুল ইসলামকে সড়ক পরিবহন আইনে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র গাজিউর রহমান পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়।সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দুর্ঘটনার পরপরই বাসচালক বাস নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে গুজব ছড়ানো হয় যে, পুলিশ বাসচালককে ছেড়ে দিয়েছে। বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে পুলিশ। এই গুজবের ভিত্তিতে উত্তেজিত ছাত্র-জনতা নিহত শিক্ষার্থীর মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরিতে বাধা দেয় এবং বেলপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও এক উপপরিদর্শককে (এসআই) অবরুদ্ধ করে রাখে।পুলিশ জানায়, এ সময় ওই এসআইকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয় এবং কান ধরিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। গ্রেপ্তার তুহিনকে এ ঘটনার ‘মূল উসকানিদাতা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ।এ ঘটনায় বেলপুকুর থানায় সড়ক পরিবহন আইনে একটি এবং সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশ সদস্যদের হেনস্তার অভিযোগে পৃথক আরেকটি মামলা করা হয়েছে।পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার তুহিনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাসচালক সাইফুল ইসলামকেও আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।এর আগে গত ২৫ জানুয়ারি বিকেলে রাজশাহীর বেলপুকুর উপজেলার পোল্লাপুকুর এলাকায় রাজকীয় পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে একটি অটোরিকশার সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শান্ত ইসলাম নিহত হন। আহত আরও ছয়জনকে হাসপাতালে নেওয়ার পর সেখানে এক নারী ও এক পুরুষ মারা যান।দুর্ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা মহাসড়ক অবরোধ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বেলপুকুর থানার ওসি ও পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গেলে তাঁদের ঘিরে ধরে উত্তেজিত জনতা। পরে উপজেলা প্রশাসন, পুঠিয়া থানা, রাজশাহী মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত সদস্য এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।ইখা
চাটমোহরে তিন দফায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রচারে বাঁধা, মাইক ভাঙচুর
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-৩ আসনে গত ৫ দিনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক সংসদ কেএম আনোয়ারুল ইসলামের (ঘোড়া প্রতিক) প্রচার কাজে তিন দফায় বাধা, মারপিট ও মাইক ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এই আসন ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। ভোটারদের মধ্যে সৃষ্টি হচ্ছে সংশয় আর উৎকণ্ঠা। সন্ত্রাসীদের এমন আচরণ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচন কর্তাদের নিরব ভুমিকায় হতাশা প্রকাশ করে মঙ্গলবার বেলা ১১টায় পৌর শহরের নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনও করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী কেএম আনোয়ারুল ইসলাম।অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে চাটমোহর উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের রেলবাজারে স্বতন্ত্র প্রার্থী কেএম আনোয়ারুল ইসলামের প্রচার মাইক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এরপর গত শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার ফৈলজানা বাজারে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ছেলে কেএম মনোয়ারুল ইসলাম শাফির প্রচারে বাঁধা ও তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করেন সেখানকার স্থানীয় বহিস্কৃত যুবদল নেতা লোকমান ও তার সহযোগীরা। এরপর সবশেষ সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে চাটমোহর পৌর শহরের দোলং এলাকায় এই স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রচার মাইক ভাঙচুর করে দূর্বৃত্তরা।প্রত্যেকটি ঘটনায় স্বতন্ত্র প্রার্থী কেএম আনোয়ারুল ইসলাম রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও থানা পুলিশকে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচন কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে তেমন কোন ভুমিকা না নেওয়ার অভিযোগ স্বতন্ত্র প্রার্থীর।স্বতন্ত্র প্রার্থী কেএম আনোয়ারুল ইসলাম জানান, আসন্ন সংসদ নির্বাচনে পাবনা জেলার পাঁচটি আসনের কোথাও কোন নির্বাচনী সহিংসতা না থাকলেও পাবনা-৩ আসনে প্রায় প্রতিদিনই আমার কর্মী, সমর্থকদের লাঞ্চিত করা সহ আমার প্রচার মাইক ভাঙচুর করা হচ্ছে। একটি দলের প্রার্থী বাহিরাগত সন্ত্রাসী এলাকায় ঢুকিয়ে এসব কর্মকান্ড করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।এ বিষয়ে চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সরোয়ার হোসেন বলেন, এগুলো নির্বাচনী কাজে বাধা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অপরাধ। আমাদের কাছে অভিযোগ আসলে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত করবো। এখানে তিনজন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এসকল বিষয়ে দায়িত্বে আছেন। তাদের কাছে অভিযোগ করলে নির্বাচনী আচরণবিধি বিধান অনুযায়ী উনারা ব্যবস্থা গ্রহন করবেন। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষ থেকে আমাদের কাছে একটি জিডি করেছেন। সেই প্রেক্ষিতে আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করবো।এ বিষয়ে পাবনা-৩ আসনের চাটমোহরে দায়িত্বপ্রাপ্ত ইলেকট্ররাল ইনকুয়ারী কমিটির সহকারী ম্যাজিষ্ট্রেট ইসরাত জাহান বর্ষা জানান, এসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়ে আমাদের কাছে অভিযোগ এসেছে। সোমবার বিকেলে একটি ঘটনার প্রেক্ষিতে চাটমোহরের সেই জায়গায় আমাদের অপর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গাজী মোহাম্মদ দিদারুল ইসলাম সাহেব গিয়েছিলেন। তবে কারা এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে সে বিষয়ে সঠিক কোন তথ্য কেউ জানাতে পারে নাই। এসব ভাঙচুরের ঘটনা ফৌজদারি অপরাধ তাই পুলিশ তদন্ত সাপেক্ষে এগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।ইখা
চাটমোহরে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য, ৪ নেতাকে বহিষ্কার করলো বিএনপি
পাবনা-৩ আসনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার অভিযোগে চাটমোহর উপজেলা ও পৌর বিএনপির ৪ নেতাকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় বিএনপি।বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।বহিষ্কৃত নেতারা হলেন: চাটমোহর উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. হাসাদুল ইসলাম হীরা, চাটমোহর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. তৌহিদুল ইসলাম তাইজুল, চাটমোহর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মো. আসাদুজ্জামান লেবু এবং চাটমোহর উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মো. আরিফুল ইসলাম আরিফ।ঘটনার প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য, বহিষ্কৃত নেতারা জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি হাসান জাফির তুহিনের (ধানের শীষ) বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। তারা দীর্ঘ দিন ধরে স্থানীয় প্রার্থীর দাবিতে মিছিল ও আন্দোলন করে আসছিলেন। বর্তমানে তারা এই আসনের বিদ্রোহী প্রার্থী ও সদ্য বহিষ্কৃত সাবেক সংসদ সদস্য কে এম আনোয়ারুল ইসলামের (ঘোড়া প্রতীক) পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তাদের বিরুদ্ধে এই কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।এনআই
সিরাজগঞ্জে ১৬ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত হাসপাতাল পরে আছে অচল অবস্থায়
জেলার কামারখন্দ উপজেলার চৌবাড়ী এলাকায় ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালটি দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় পড়ে আছে। ১৬ কোটি ১৯ লক্ষ টাকা ব্যায়ে নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে।নির্মাণ কাজ শেষে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আনুষ্ঠানিক ভাবে হস্তান্তরের পরেও হাসপাতালটি চালু না হওয়ায় কামারখন্দ বেলকুচি ও উল্লাপাড়া উপজেলার পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।জনবল ও নিরাপত্তা না থাকায় হাসপাতালটিতে একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার চৌবাড়ী বাজার পেরিয়ে আঞ্চলিক সড়কের পাশে অবস্থিত দোতলা সাদা ভবনটির ফটোকে ঝুলছে পুরনো তালা। ভেতর ঢুকে দেখাযায় চত্বরজুড়ে আগাছা, করিডোরে মাকড়সার জাল, ভাঙ্গা জানালার কাচ ও ধুলাবালিতে ঢাকা কক্ষ। যেখানে থাকার কথা রোগীর শয্যা, সেখানে এখন ফাঁকা কক্ষ ও নীরবতা।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সহায়তায় ভিতরে প্রবেশ করে দেখা যায় জনবল না থাকায় এটি এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।হাসপাতালের রান্না ঘরের পেছনের গেট দিয়ে ঢুকে দরজা ভেঙে ৫৫টি সিলিং ফ্যান, ৯০টি লাইট প্রতিটি ইউনিটের সার্কিট ব্রেকার, ওয়াশরুমের সেনেটারি ফিটিংস, একটি এসির আউটডোর ইউনিট, পাওয়ার স্টেশনের ট্রান্সফরমার, জেনারেটর কয়েল, ব্যাটারি, তামার তার সহ আনুমানিক ৪০ লক্ষ টাকা চুরি করে নিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে কামারখন্দ উপজেলা ৫০ শয্যা বিশিষ্ট কমপ্লেক্স সূত্র।কামারখন্দ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আব্দুল মোমিন উদ্দিন বলেন, ভবন খালি থাকায় প্রায় ৪০ লক্ষ টাকার চুরির ঘটনা ঘটেছে। আমাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জনবল সংকটে থাকায় নাইটগার্ড দেওয়া সম্ভব হয়নি। পুলিশকে একাধিকবার মৌখিক অভিযোগ দেওয়ার পর লিখিত অভিযোগ করি। পরে সেটি মামলা হয়।কামারখন্দ উপজেলা স্যানিটারী ইন্সপেক্টর মো. আবু সাঈদ বলেন, নিয়মিত চুরি হচ্ছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পরিদর্শন করেছে সেখানে আমি গিয়েছিলাম। স্থানীয়রাও আমাদের অভিযোগ করেছে হাসপাতালের ভেতরে ঢুকে মাদক সেবন করা হয়।চৌবাড়ী ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তোজাম্মেল হক বলেন, হাসপাতাল টি চালু হলে শিক্ষার্থীরা চিকিৎসা সেবা পেত। কিন্তু এখন সবাই সেবা থেকে বঞ্চিত। কামারখন্দ থানা পুলিশের উপ পরিদর্শক (এসআই) মো. বাবুল আক্তার বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর পরিদর্শন করেছি। জনবল না থাকায় বিভিন্ন সময় চুরির ঘটনা ঘটেছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. নুরুল আমীন বলেন, কামারখন্দের ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালেই জনবল সংকট রয়েছে। এ জন্য চৌবাড়ীর ২০ শয্যা হাসপাতালে জনবল দেওয়া সম্ভব হয়নি। চুরির ঘটনায় মামলা হয়েছে। এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।এসআর
সুনামগঞ্জে আড়াই শতাধিক ভারতীয় শটগানের গুলিসহ যুবক আটক
সুনামগঞ্জে আড়াই শতাধিক ভারতীয় শটগানের গুলিসহ এক যুবককে আটক করেছে র্যাব। রবিবার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে জেলার সদর উপজেলার আব্দুজ জহুর সেতু এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।র্যাব সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯-এর একটি দল ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় একটি ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে সন্দেহভাজন এক যুবককে আটক করা হয়। পরে তার সাথে থাকা একটি ব্যাগ তল্লাশি করে ভারত থেকে আনা শটগানের সিসার গুলির ৬টি প্যাকেট জব্দ করা হয়। প্রতিটি প্যাকেট কসটেপ দিয়ে মোড়ানো ছিল এবং প্রতিটিতে ১০টি করে সিসার গুলি পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে আড়াই শতাধিক সিসার গুলি জব্দ করে র্যাব।বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন র্যাব-৯-এর এএসপি মো. আব্দুল্লাহ আল নোমান (বা সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা)। তিনি জানান, আটককৃত যুবক বর্তমানে র্যাব হেফাজতে রয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাব সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলেও তিনি জানান।এনআই
শায়েস্তাগঞ্জ র্যাব-৯ এর অভিযানে এয়ারগান উদ্ধার
র্যাব-৯ এর অভিযানে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থেকে ১টি এয়ারগান উদ্ধার হয়েছে।শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাতে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাব-৯ সিলেটের মিডিয়া অফিসার অতিঃ পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ।এর আগে শুক্রবার রাত ১০টায় র্যাব-৯ সিপিসি-৩ শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল অস্ত্র উদ্ধারের বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার নূরপুর ইউনিয়নের সুতাং বাজারে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক সংলগ্ন এলাকার এয়ারগান পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।এ প্রেক্ষিতে ব্যাপক তল্লাশী করে হলুদ রঙের প্লাস্টিকের বস্তায় মোড়ানো পরিত্যক্ত অবস্থায় ১টি এয়ারগান উদ্ধার হয়। ওই সময় এয়ারগানটির সাথে সংশ্লিষ্ট কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে র্যাব-৯ এর তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। উদ্ধারকৃত এয়ারগানটি নাশকতার কাজে ব্যবহার করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে উদ্ধারকৃত এয়ারগানটি জিডি মূলে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এসআর
তাহাজ্জুদ পড়ে ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান তারেক রহমানের
ভোটারদের তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ফজরের নামাজ পড়তে হবে। সকালে ভোট শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই লাইনে দাঁড়াতে হবে।বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে নির্বাচনি জনসভায় দেওয়া বক্তৃতায় তারেক রহমান এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি জেলার ৪ আসনের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন।বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, এ দেশের মানুষের ভোটের অধিকার, অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য যারা জীবন বাজি রেখে রাজপথে ছিল সেই মানুষগুলোর প্রতি সম্মান জানাতে হলে আমাদের সজাগ থাকতে হবে। গণতন্ত্র রক্ষার জন্য সজাগ থাকতে হবে। ভোট যাতে সবাই দিতে পারে। কিন্তু এরই ভেতরে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। টের পাচ্ছেন কিছু আপনারা? গত কয়েকদিন ধরে দেখবেন পত্রিকায় সংবাদ বের হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় খবর আসছে। বিএনপি আমরা বহু বছর ধরে বলে আসছি প্রবাসে যারা আমাদের আত্মীয় স্বজন, বন্ধু বান্ধব আছে, যারা বাংলাদেশি আছে তাদের ভোটের ব্যবস্থা করার জন্য। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার সেই ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু আমরা পত্রিকার মাধ্যমে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানতে পারছি যে একটি রাজনৈতিক দল সবগুলো পোষ্টাল ব্যলট দখলের চেষ্টা করছে। সজাগ থাকতে হবে। তারা ভোট কেনার চেষ্টা করছে। এখন আবার ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং করছে। আপনার, আপনার পরিচিত মানুষগুলোর ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং করার চেষ্টা করছে। জনগণকে সজাগ থাকতে হবে। সতর্কও থাকতে হবে। তিনি বলেন, একই সঙ্গে একটি রাজনৈতিক দল অনেক সময় বলছে অমুককে দেখেছেন, তমুককে ক্ষমতায় দেখেছেন। এবার আমাদের দেখুন। এখন ১৯৭১ সালে কি হয়েছিল? ১৯৭১ সালে এ দেশ স্বাধীন হয়েছিল। লক্ষ মানুষের প্রাণের বিনিময়ে এ দেশ স্বাধীন হয়েছিল। কিন্তু সেদিন এ রাজনৈতিক দল কাদের পক্ষ নিয়েছিল। যারা এ দেশকে স্বাধীন হতে দেয়নি তাদের পক্ষ নিয়েছিল। তাদের পক্ষ নেওয়ার ফলে লক্ষ লক্ষ মা বোন তাদের সম্মানহানী হয়েছে। লক্ষ লক্ষ মানুষ শহীদ হয়েছিল। ভাই যাদের দেখা বলছেন, তাদেরতো ৫০ বছর আগেই দেখেছি। তাদের ভূমিকা দেশের বিরুদ্ধে ছিল। কাজেই নতুন করে আর দেখবার কিছু নাই। এখন একমাত্র রাস্তা হচ্ছে জনগণের শাসন কায়েম করা। যারা এ দেশের মানুষের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকবে। ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ষড়যন্ত্র যে করছে তার আরও একটি খবর হচ্ছে, তাদের লোকজন বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনআইডি নাম্বার নিচ্ছে। নিরীহ মা বোনদের মোবাইল নাম্বার নিচ্ছে। তারা বলে সৎ মানুষের শাসন কায়েম করবে। বিকাশ নাম্বার নিচ্ছে। ফোন নাম্বার নিচ্ছে। বিকাশ করে টাকা পাঠাচ্ছে। এই বলে তাদের পরিকল্পনা। অনেকেই ইতোমধ্যে ধরাও পড়েছে। এগুলোও পত্রিকায় খবর এসেছে। তাহলে যারা নির্বাচনের আগে মানুষকে এভাবে টাকা পাঠাচ্ছে, আগেই যারা অসৎ কাজ করে তারা কি করে সৎ মানুষের শাসন কায়েম করবে। যারা নির্বাচনের আগেই অসৎ কাজ করে কোনোভাবেই তাদের পক্ষে সৎ কাজ করা সম্ভব নয়। তারা যদি ক্ষমতায়ও যায়। এদেশে একমাত্র শহীদ জিয়া এবং বেগম খালেদা জিয়া প্রমাণ করে দেখিয়েছেন কিভাবে দুর্নীতিকে দুর করতে হয়।হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের জন্য নির্ধারিত স্থানে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় তিনি প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন। জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাবেক এমপি শাম্মী আক্তারের সভাপতিত্বে এতে বক্তৃতা করেন হবিগঞ্জ-১ আসনের প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া, হবিগঞ্জ-২ আসনের প্রার্থী ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন, হবিগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী জি কে গউছ ও হবিগঞ্জ-৪ আসনের প্রার্থী সৈয়দ মো. ফয়সল। এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায় সভাস্থলে পৌছেন তারেক রহমান। এরপরই তিনি মঞ্চে মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করেন।এফএস
বিএনপির প্রথম নির্বাচনী সমাবেশ সিলেটে, মাদ্রাসা মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা আনুষ্ঠানিকভাবে সিলেটে থেকে সমাবেশ শুরু করেছে বিএনপি। সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে এ সমাবেশের কার্যক্রম শুরু হয়।প্রথম নির্বাচনী সমাবেশে ভাষণ দেবেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী আলিয়া মাদরাসা মাঠ কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকাল থেকেই সিলেট ও সুনামগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থক আলিয়া মাদরাসা মাঠে জড়ো হতে থাকেন। সমাবেশ শুরুর নির্ধারিত সময়ের কয়েক ঘণ্টা আগেই মাঠের পাশাপাশি আশপাশের সড়কগুলোতেও বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।দুপুর ১২টার দিকে সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের।সকাল থেকেই বাস, লেগুনা ও পিকআপে করে আগত বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে প্রবেশ করছেন। তাদের হাতে দলীয় প্রতীক ধানের শীষসংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা গেছে। অনেকেই বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের মনোগ্রামসংবলিত টি-শার্ট পরিহিত ছিলেন।নগরের জিন্দাবাজার ও চৌহাট্টা পয়েন্টসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিলগুলো সড়ক প্রদক্ষিণ করে আলিয়া মাদরাসা মাঠের দিকে অগ্রসর হতে দেখা যায়।সমাবেশে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার মোট ১১টি সংসদীয় আসনে দল মনোনীত ও জোট সমর্থিত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেবেন। বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আয়োজিত এই নির্বাচনী সমাবেশে তিন লাখ বা তার বেশি মানুষের সমাগমের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। প্রায় দুই দশক পর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিলেট আগমনকে ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে।এইচএ
সুনামগঞ্জে ৬টি উপজেলায় অস্ত্র, গোলাবারুদ ও মাদকদ্রব্য জব্দ
সুনামগঞ্জের ৬টি উপজেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ দেশি বিদেশি অস্ত্র, গোলাবারুদ ও মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে।গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৭ পদাতিক ডিভিশনের অধীনস্থ ইউনিট মধ্যরাত থেকে থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত জগন্নাথপুর, দোয়ারাবাজার, ছাতক, শান্তিগঞ্জ, বিশ্বম্ভরপুর ও সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় এই অভিযান পরিচালনা করে।অভিযান পরিচালনা করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ১৭ পদাতিক ডিভিশনের অধীনস্থ ইউনিটের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. সালেহ আল হেলাল।বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়,অভিযানকালে ৪ জন চিহ্নিত সন্ত্রাসী গ্রেপ্তারের পাশাপাশি ২টি বিদেশী পিস্তল, ৪টি .২২ রাইফেল, ৪টি পাইপ গান, ১টি স্টান গান এবং গোলাবারুদসহ (৮০টি দেশীয় সাউন্ড বোমা, ৬ রাউন্ড বিদেশী কার্তুজ ও ১ রাউন্ড শর্টগান কার্তুজ) অসংখ্য দেশীয় প্রাণঘাতী অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য (১৫০০ লিটার দেশীয় মদ, ২০ বোতল বিদেশী মদ, ১১.৩ কেজি গাঁজা এবং ৪৭১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট) জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি এবং জব্দকৃত মালামাল আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়।বুধবার দুপুরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার, চোরাচালান দমন এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বদা বদ্ধপরিকর। জনজীবনে শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। এছাড়াও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য নিকটস্থ সেনা ক্যাম্প অথবা যে কোন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নিকট প্রদান করার আহবান জানানো হয়।এসআর
অনলাইন ভোট
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনের দিন গণভোট আয়োজন করা হবে। আপনি কি এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?
আন্তর্জাতিক
সব দেখুন
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সমবেদনা জানিয়ে ভারতীয় পার্লামেন্টে নিরবতা পালন
ভারতের পার্লামেন্টে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ অন্যান্য নেতাদের মৃত্যুতে সমবেদনা জানিয়েছেন দেশটির আইনপ্রণেতারা। মৃতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ অন্যান্যরা নিরবতা পালন করেন।ভারতীয় বার্তাসংস্থা ফ্রি প্রেস জার্নাল জানায়, আজ বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বাজেট অধিবেশন শুরু হয়। তার আগে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত মহারাষ্ট্রের উপমূখ্যমন্ত্রী, লোকসভার সাবেক পাঁচ সদস্য এবং বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব আনা হয়। এ সময় সবার নাম উচ্চারণ করা হয়। এরপর সাংসদরা দাঁড়িয়ে তাদের প্রতি সমবেদনা ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।গত ৩০ ডিসেম্বর ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন খালেদা জিয়া। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর ঢাকায় এসেছিলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ওই সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকে দেওয়া লিখিত শোকবার্তা বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হস্তান্তর করেছিলেন তিনি।তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুর পর ভারতের পাশাপাশি পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের প্রতিনিধিরা এসেছিলেন।এমআর-২
ইরানে এবারের হামলা হবে আগের চেয়ে বড়: ট্রাম্প
ইরানে আগের চেয়ে বড় ধরণের হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি তাদের হামলা আটকাতে চাইলে তাদের সঙ্গে চুক্তি করতে হবে এবং ইরান কোনো ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না।গত বছরের জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ওই সময় দখলদার ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ চলছিল ইরানের। ওই হামলার চেয়ে বড় হামলা হবে হুমকি দিয়ে ট্রাম্প লিখেন, “বিশাল এক যুদ্ধজাহাজের বহর ইরানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রচণ্ড শক্তি আর নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে এটি বেশ দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। এর আগে ভেনেজুয়েলায় যে বাহিনী পাঠানো হয়েছিল, বিশাল রণতরী ‘আব্রাহাম লিঙ্কন’-এর নেতৃত্বে থাকা এই বহরটি তার চেয়েও বড়। তারা যেকোনো সময় অভিযানে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত। আর প্রয়োজন পড়লে অনেক দ্রুত এবং ভয়াবহ হামলা চালাতেও তারা পিছপা হবে না।”“আমি আশা করছি, ইরান দ্রুত আলোচনার টেবিলে আসবে এবং একটি সঠিক চুক্তিতে রাজি হবে। স্পষ্ট কথা হলো—কোনো পরমাণু অস্ত্র রাখা যাবে না। এই চুক্তি সবার জন্যই ভালো হবে। সময় কিন্তু শেষ হয়ে আসছে, হাতে একদমই সময় নেই! আমি ইরানকে আগেও বলেছি, একটা সমাধানে আসুন। তারা শোনেনি বলেই গত জুনে ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ হয়েছিল এবং ইরানের অনেক বড় ক্ষতি হয়ছিল। পরের বার হামলা হলে এটি আরও মারাত্মক হবে! তাই আবারও তেমন পরিস্থিতি ডেকে আনবেন না।”এমআর-২
ইরানের বিক্ষোভে নিজের মৃত্যুর খবর টিভিতে দেখলেন ইসরাইলি তরুণী
ইরানের বিক্ষোভে নিহত এক ভুক্তভোগী হিসেবে নিজের ছবি ইসরাইলের একটি টেলিভিশনে সম্প্রচার হতে দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন নোয়া জিয়ন নামের এক ইসরাইলি তরুণী। ঘটনাটি সাম্প্রতিক অস্থিরতা ও তা মোকাবিলায় ইরান সরকারের ভূমিকা নিয়ে ইসরাইলি প্রশাসনের ছড়ানো ভুয়া খবরের একটি দৃষ্টান্ত হিসেবেই সামনে এসেছে।প্রেস টিভির এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, কখনোই ইরানে পা রাখেননি নোয়া। গেল সোমবার (২৬ জানুয়ারি) নিজ বাড়িতে থাকার সময় ইসরাইলের চ্যানেল ১২ নিউজ চালু করেন তিনি। সেখানে দেখতে পান, ‘ইরানে বিক্ষোভে চার ইহুদি নিহত’ শিরোনামের নিচে তার ছবি দেখানো হচ্ছে! প্রতিবেদনটিতে তাকে ভুলভাবে সানাজ জাভাহেরিয়ান নামে পরিচয় করানো হয় এবং সেখানে ওই চ্যানেলটি দাবি করে যে তিনি একজন বিক্ষোভকারী ছিলেন এবং গ্রেফতার হওয়ার পর ইরানি নিরাপত্তা বাহিনী তাকে পিটিয়ে হত্যা করে। ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা এক ভিডিওতে নোয়া বলেন, আমি কখনো ভাবিনি যে আমার জীবনে এমন কিছু ঘটবে… আমি তো আমার বাড়িতেই আছি! তিনি আরও বলেন, আমি এখানে, আমি জীবিত, বাড়িতে বসে আছি এবং আধা ঘণ্টার মধ্যে আমি প্রশিক্ষণে যাব। জীবনে কখনোই আমি ইরানে যাইনি। ভিডিওটি ইরান পরিস্থিতি নিয়ে ইসরাইলি ভুয়া খবরের হাস্যকর দিকটিই তুলে ধরেছে বলে মনে করছেন অনেকে। এদিকে, এখন পর্যন্ত চ্যানেল ১২ এ বিষয়ে কোনো প্রকাশ্য সংশোধনী বা বিবৃতি দেয়নি। এরই মধ্যে নোয়ার গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেক ব্যবহারকারী একে ‘ইসরাইলি প্রোপাগান্ডা’র ব্যর্থতা অথবা নিছক সাংবাদিকতার ভুল হিসেবে তুলে ধরেছেন। একটি পোস্টে বলা হয়, ‘ইসরাইলি প্রোপাগান্ডা এতটাই কার্যকর যে টিভিতেই নিজের বসতিস্থাপনকারীদের মেরে ফেলে।’ এমআর-২
এবার ইরানের দিকে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের আরও এক নৌবহর
ইরানের দিকে আরও একটি নৌবহর যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরমাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিতীয় নৌবহর মোতায়েন করতে যাচ্ছে মার্কিনিরা। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় প্রবেশ করে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ও এটির সঙ্গে থাকা অন্যান্য যুদ্ধজাহাজ।দ্বিতীয় নৌবহর যাচ্ছে এমন তথ্য জানিয়ে বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ট্রাম্প ইরানকে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি এক বক্তব্যে বলেন, “এ মুহূর্তে আরেকটি সুন্দর নৌবহর ইরানের দিকে ভেসে যাচ্ছে। আমি আশা করি তারা আমাদের সঙ্গে চুক্তি করবে।”এর আগে সংবাদমাধ্যম এক্সিওসকে ট্রাম্প বলেন, ভেনেজুয়েলার চেয়েও বড় নৌবহর ইরানের কাছে অবস্থান করছে। এখন তিনি জানালেন দ্বিতীয় নৌবহর দেশটির দিকে যাচ্ছে।ইরানের দিকে আসার আগে রণতরী ও যুদ্ধজাহাজ ভেনেজুয়েলার কাছে মোতায়েন করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। কয়েক মাস এগুলো সেখানে অবস্থানের পর গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করে নিয়ে আসে মার্কিন সেনারা। এরপর ইরানের দিকে নিয়ে আসা হয় ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে।ট্রাম্প এক্সিওসের সঙ্গে দাবি করেছেন ইরান তাদের সঙ্গে চুক্তি করতে চায়। তিনি ওই সাক্ষাৎকারে বলেন, “তারা চুক্তি করতে চায়। আমি জানি, তারা একাধিকবার যোগাযোগ করেছে। তারা কথা বলতে চায়।”এদিকে দ্বিতীয় কোন নৌবহরটি ইরানের দিকে যাচ্ছে সেটি স্পষ্ট করেননি ট্রাম্প।এমআর-২
ঘুষের দায়ে দ. কোরিয়ার সাবেক ফার্স্ট লেডির কারাদণ্ড
ঘুষ গ্রহণের দায়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক ফার্স্ট লেডি কিম কন হিকে এক বছর ৮ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইয়োনহ্যাপের বরাতে জানা যায়, বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট এই রায় ঘোষণা করেন।আদালত কিমকে শেয়ারমূল্য কারসাজি ও রাজনৈতিক তহবিল আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ থেকে খালাস দিলেও, ইউনিফিকেশন চার্চের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করেন।কিম ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইয়লের স্ত্রী। তার বিরুদ্ধে ব্যবসায়ী, রাজনীতিক ও ইউনিফিকেশন চার্চের কাছ থেকে অন্তত ২ লাখ মার্কিন ডলার মূল্যের উপহার ও অর্থ গ্রহণের অভিযোগ ছিল।গত ডিসেম্বরে প্রসিকিউটররা জানান, কিম আইনের ঊর্ধ্বে অবস্থান নিয়েছিলেন এবং ধর্মীয় গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগসাজশ করে সংবিধাননির্ধারিত ধর্ম ও রাষ্ট্রের পৃথকীকরণ নীতিকে দুর্বল করেছিলেন।প্রসিকিউটর মিন জুং-কি অভিযোগ করেন, কিমের ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।তবে সাবেক ফার্স্ট লেডি কিম সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এসব অভিযোগ চরমভাবে অন্যায়। গত মাসে শেষ সাক্ষ্যে তিনি নিজের নির্দোষতার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।একই সঙ্গে তিনি ক্ষমা চেয়ে বলেন, গুরুত্বহীন একজন মানুষ হয়েও আমি ঝামেলা সৃষ্টি করেছি—এর জন্য দুঃখিত।কিমের স্বামী সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইয়েল গত বছর ক্ষমতাচ্যুত হন এবং ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সামরিক আইন জারির ঘটনায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। পৃথক আরেক মামলায় তার মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকিও রয়েছে।২০২৩ সালে গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা একটি ভিডিওতে কিমকে ২ হাজার ২০০ ডলারের একটি বিলাসবহুল ব্যাগ গ্রহণ করতে দেখা যায়। এই ঘটনা ‘ডিওর ব্যাগ কেলেঙ্কারি’ নামে পরিচিতি পায় এবং তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইউন-এর জনপ্রিয়তা আরও কমিয়ে দেয়।এই কেলেঙ্কারি ২০২৪ সালের এপ্রিলের সাধারণ নির্বাচনে ইউন-এর দলের বড় ধরনের পরাজয়ের অন্যতম কারণ হয়ে ওঠে।কিমের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবিতে বিরোধী দলসমর্থিত ৩টি বিল ভেটো করেছিলেন ইউন, যার সর্বশেষটি ছিল ২০২৪ সালের নভেম্বরে। এক সপ্তাহ পরই তিনি সামরিক আইন ঘোষণা করেন।এমআর-২
হরমুজ প্রণালীতে আকাশসীমা বন্ধ করে মহড়ার ঘোষণা দিল ইরান
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে হরমুজ প্রণালী ও তার আশপাশে লাইভ-ফায়ার মহড়া করার ঘোষণাও দিয়েছে ইরান।মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) নোটিশ টু এয়ারম্যান (নোটেম) জারি করেছে ইরানের সরকার। সেই নোটিশে হরমুজ প্রণালী ও তার আশপাশের এলাকায় ভূপৃষ্ঠ থেকে ২৫ হাজার ফুট উচ্চতা পর্যন্ত বিমান চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ২৫ হাজার ফুট উচ্চতার নিচে কোনো বিমান দেখা গেলে সেটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে— সেই সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে নোটেমে।গত ২৬ জানুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় প্রবেশ করেছে মার্কিন বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনসহ বেশ কয়েকটি রণতরীর বড় একটি বহর। এই বহর আসার পরের দিনই মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক বিমান মহড়ার ঘোষণা দিলো সেন্টকোম।২০১৬ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পার ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তিক্ততা শুরু হয় তেহরানের। পরে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর এই শত্রুতা আরও গভীর হয়।ইরানের পরমাণু প্রকল্পকে গিরে গত বছর জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতও হয়েছে ইরানের। ১২ দিনের সেই সংঘাতে ইরানের পরমাণু প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়, নিহত হন ইরানের বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কমান্ডার এবং পরমাণু বিজ্ঞানী।১২ দিনের সংঘাত শেষে যুদ্ধবিরতি হলেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা হ্রাস পায়নি, উপরন্তু ইরানের সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ সেই উত্তেজনাকে ফের উসকে দিয়েছে। গত ডিসেম্বরের শেষ থেকে চলতি জানুয়ারির মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত চলেছে এই বিক্ষোভ। বিক্ষোভের সময়েই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ‘যে কোনো সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান চালানোর হুমকি দিয়েছিলেন। প্রধানত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশেই জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে এশিয়া-প্রশান্ত অঞ্চল থেকে রওনা হয়ে ২৬ জানুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় পৌঁছায় মার্কিন বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনসহ বেশ কয়েকটি রণতরীর একটি বহর। এই বহর আসার পরের দিন ২৭ জানুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক বিমান মহড়ার ঘোষণা দেয় মাকিন সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকোম)।গতকাল সেন্টকম সামরিক বিমান মহড়ার ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালীতে লাইভ-ফায়ার মহড়ার ঘোষণা দেয় ইরান।উল্লেখ্য, বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য হরমুজ প্রণালী কৌশলগতভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ রুট। প্রতিদিন এই রুট দিয়ে লাখ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা হয়।এমআর-২
ইসরাইলি গুপ্তচরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করলো ইরান
ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রয়টার্স জানায়, ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষতিসাধন এবং ইসরাইলি গোয়েন্দাদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়ার দাবি করেছে তেহরান কর্তৃপক্ষ। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে চলমান চরম উত্তেজনার মধ্যেই এই দণ্ড কার্যকর করার বিষয়টি সামনে এলো।ইরানের বিচার বিভাগ জানায়, দণ্ডিত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে মোসাদের এজেন্টদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে আসছিলেন এবং ইরানের সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনা সম্পর্কিত সংবেদনশীল তথ্য পাচার করেছিলেন। এছাড়া দেশের ভেতরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু করার ষড়যন্ত্রেও তাঁর সংশ্লিষ্টতা ছিল বলে জানানো হয়েছে। তবে নিরাপত্তার খাতিরে ওই ব্যক্তির পরিচয় বা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সুনির্দিষ্ট স্থান প্রকাশ করা হয়নি।ইরান বরাবরই তাদের দেশে ইসরাইলি অনুপ্রবেশ ও গুপ্তচরবৃত্তির বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়ে থাকে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানের পরমাণু বিজ্ঞানী ও সামরিক কর্মকর্তাদের ওপর বেশ কয়েকটি হামলার ঘটনায় তেহরান সরাসরি ইসরাইলকে দায়ী করে আসছে। আজকের এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনাটি মূলত ইসরাইলি গোয়েন্দা তৎপরতার বিরুদ্ধে ইরানের একটি কঠোর সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই ধরনের গোপন বিচার প্রক্রিয়া ও দ্রুত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সমালোচনা করলেও ইরান একে তাদের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দাবি করছে। ইসরাইলের পক্ষ থেকে বরাবরের মতোই এই গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ বা মৃত্যুদণ্ড নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।এমআর-২
ইরানে হামলায় কাউকে ভূমিও আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেবে না সৌদি
মধ্যপ্রাচ্যে অব্যাহত উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপ হয়েছে। এই কথোপকথনে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ করেছেন, যেকোনো মূল্যে যুদ্ধ প্রতিরোধে যেকোনো প্রক্রিয়া বা উদ্যোগকে স্বাগত জানাবে তেহরান। রয়টার্স জানায়, মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত এই ফোনালাপে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়।ফোনালাপের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল সৌদি আরবের দৃঢ় অবস্থান। রিয়াদ তেহরানকে আশ্বস্ত করেছে যে ইরানের ওপর কোনো সম্ভাব্য হামলা চালানোর জন্য সৌদি আরবের ভূমি বা আকাশসীমা কোনো পক্ষকেই ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। সৌদি আরবের এই অবস্থানকে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। এতে স্পষ্ট হয়েছে যে রিয়াদ তার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে উত্তেজনা কমিয়ে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে আগ্রহী।প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান সৌদি আরবের এই সাহসী ও সহযোগিতামূলক ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য ও বোঝাপড়াই পারে বাইরের শক্তির হস্তক্ষেপ ও যুদ্ধের হুমকি মোকাবিলা করতে। ফোনালাপে দুই নেতাই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দেন এবং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে এই নজিরবিহীন কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং রিয়াদের আকাশসীমা ব্যবহারের অস্বীকৃতি এই বার্তাই দেয় যে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশগুলো এখন সংঘাতের চেয়ে সংলাপ ও সমঝোতাকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে। দুই দেশের এমন অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি বজায় রাখার প্রচেষ্টায় একটি নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।সূত্র: রয়টার্স।এমআর-২
দুবাইয়ে তৈরি হচ্ছে বিশ্বের প্রথম ‘স্বর্ণের রাস্তা’
মধ্যপ্রাচ্যের ধনী দেশ আরব আমিরাতের দুবাইয়ে তৈরি হচ্ছে বিশ্বের প্রথম ‘গোল্ড স্ট্রিট’ বা স্বর্ণের রাস্তা। দুবাইয়ের গোল্ড ডিস্ট্রিক্ট প্রকল্পের অংশ হিসেবে এই উচ্চাভিলাষী উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছে আবাসন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইথরা দুবাই। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) এক জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই নতুন বাণিজ্যিক হাবের উদ্বোধন করা হয়।ইথরা দুবাইয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই গোল্ড স্ট্রিটটি মূলত স্বর্ণের বিভিন্ন উপাদানে নির্মিত হবে এবং এটি পুরো ডিস্ট্রিক্টের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে কাজ করবে। তবে এর নির্মাণশৈলী ও নকশা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য ধাপে ধাপে প্রকাশ করা হবে। দুবাই গোল্ড ডিস্ট্রিক্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব দুবাইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ইব্রাহিম আল-শাইবানি এবং দুবাই চেম্বার্সের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আলী রাশেদ লুতাহসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।নতুন এই বিশেষায়িত জোনে স্বর্ণ ও অলঙ্কার খুচরা বিক্রয়, পাইকারি বাণিজ্য, বুলিয়ন সার্ভিস এবং বিনিয়োগ সংশ্লিষ্ট সব ব্যবসাকে একই ছাতার নিচে নিয়ে আসা হয়েছে। এখানে ইতোমধ্যে জাওহারা জুয়েলারি, মালাবার গোল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ডস, আল রোমাইজান এবং তানিষ্কের মতো খ্যাতনামা ব্র্যান্ডগুলো কার্যক্রম শুরু করেছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক জুয়েলারি চেইন জয়আলুকাস এখানে তাদের মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম ফ্ল্যাগশিপ স্টোর খোলার পরিকল্পনা করছে।পর্যটন ও বাণিজ্যের কথা মাথায় রেখে এই ডিস্ট্রিক্টে ছয়টি হোটেলে মোট এক হাজারেরও বেশি কক্ষের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ২০২৫ সাল থেকেই এখানে দর্শনার্থীদের যাতায়াত সহজ করতে পর্যটকবাহী বাসের রুট চালু করা হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর প্রায় ১৪৭টি দেশের মানুষ এই এলাকাটি পরিদর্শন করেছেন।প্রসঙ্গত, সংযুক্ত আরব আমিরাত বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্বর্ণ বাণিজ্য কেন্দ্র। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশটি ভারত, সুইজারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলোতে প্রায় ৫৩.৪১ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের স্বর্ণ রপ্তানি করেছে। ইথরা দুবাইয়ের প্রধান নির্বাহী ইশাম গালাদারি জানান, এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো স্বর্ণ ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী এবং ক্রেতাদের জন্য একটি একক ও সমৃদ্ধ বাণিজ্যিক বলয় তৈরি করা।সূত্র: গলফ নিউজ।এমঅর-২
ভারতীয় পার্লামেন্টের দুই কক্ষেই খালেদা জিয়ার স্মরণে শোকপ্রস্তাব
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ভারতের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিনেই পার্লামেন্টের উভয় কক্ষে শোকপ্রস্তাব গ্রহণ করার কথা রয়েছে।আজ বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ভারতের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভা ও নিম্নকক্ষ লোকসভায় এই প্রস্তাব আনা হবে। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও এএনআইয়ের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।বাংলাদেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া গত বছরের (২০২৫) ৩০ ডিসেম্বর ভোরে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। পরদিন ৩১ ডিসেম্বর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় রাজধানীর জিয়া উদ্যানে তার স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয় তাকে।মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) প্রকাশিত বাজেট অধিবেশনের কার্যতালিকা থেকে এই তথ্য জানা গেছে। কার্যতালিতায় উল্লেখ করা হয়েছে, বুধবারের অধিবেশনে প্রয়াত তিন নেতার জন্য শোকপ্রস্তাব আনা হবে। তাদের মধ্যে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও ভারতের প্রয়াত দুই নেতা রয়েছেন।ভারতের পার্লামেন্টে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর উভয় কক্ষের যৌথ অধিবেশনে ভাষণের মাধ্যমে অধিবেশন শুরু হবে। এরপর রাজ্যসভার কার্যতালিকা অনুযায়ী, রাজ্যসভায় সাবেক এমপি এল গণেশন ও সুরেশ কলমাদির মৃত্যুতে শোকপ্রস্তাব গ্রহণ করা হবে। এছাড়া লোকসভায় সাবেক এমপি শালিনী পাতিল, ভানু প্রকাশ মির্ধা, সত্যেন্দ্র নাথ ব্রহ্ম চৌধুরী, সুরেশ কলমাদি এবং কবীন্দ্র পুরকায়স্থের মৃত্যুতে শোকপ্রস্তাব থাকবে।রাজ্যসভায় পার্লামেন্টের মহাসচিব ২৬৯তম রাজ্যসভা অধিবেশনে উভয় কক্ষে পাস হওয়া এবং রাষ্ট্রপতির সম্মতি পাওয়া বিলগুলোর একটি বিবরণী টেবিলে উপস্থাপন করতে পারেন।এইচএ
খেলা
সব দেখুন- ব্রুকের অবিশ্বাস্য তাণ্ডবে শ্রীলঙ্কায় সিরিজ জিতল ইংল্যান্ড
- আইসিসি থেকে বড় সুখবর পেল বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা
- সাকিবের জাতীয় দলে ফেরা নিয়ে সবশেষ যা জানা গেল
- বিশ্বের সবচেয়ে তলানির ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ বিপিএল!
- অতিরিক্ত চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে চাকরি হারান স্প্যানিশ কোচ
- ভারতে ছড়িয়ে পড়েছে নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণ, বিশ্বকাপ নিয়ে শঙ্কা!
বিনোদন
সব দেখুন
মদিনায় বিয়ে করলেন পাক অভিনেত্রী কুবরা খান
পাকিস্তানের জনপ্রিয় শোবিজ অভিনেত্রী লাইবা খান বিয়ে করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেই এই সুখবর ভক্তদের জানান তিনি।ইনস্টাগ্রামে লাইবা খান তার বিয়ে অনুষ্ঠানের কয়েকটি ছবি পোস্ট করেন। বিয়ে অনুষ্ঠিত হয় পবিত্র মদিনায়। ছবি প্রকাশের পরপরই ভক্ত ও শোবিজ অঙ্গনের অনেকে তাকে অভিনন্দন ও শুভকামনা জানান।ইনস্টাগ্রামে বিয়ের ঘোষণা দিয়ে লাইবা খান লেখেন নতুন জীবনের শুরু নিয়ে কথা। তার পোস্টে ভক্তদের ভালোবাসা ও দোয়ার বার্তা ভরে যায়।ছবিগুলোতে দেখা যায়, খুবই সাধারণ আয়োজন। চারপাশে ছিল শান্ত ও ধর্মীয় পরিবেশ। এই সরলতা তার অনুসারীদের মন ছুঁয়ে গেছে।এর কয়েক মাস আগে এক সাক্ষাৎকারে লাইবা খান বলেছিলেন, শোবিজ অঙ্গনের অনেক বড় নামের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ তার হয়নি। তবুও নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট।সেই সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, অভিনয়ে তিনি অনেক কিছু অর্জন করেছেন বলে মনে করেন। ভবিষ্যতে তিনি অভিনয় থেকে সরে এসে দাম্পত্য জীবনকে সময় দিতে চান।এইচএ
বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে সিনেমা বানাতে চান রায়হান রাফি
সত্য ঘটনা অবলম্বনে সিনেমা ও ওয়েব ফিল্ম নির্মাণের জন্য খ্যাতি রয়েছে পরিচালক রায়হান রাফির। আগেও বেশকিছু বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে সিনেমা বানিয়ে হইচই ফেলেছেন গুণি এই নির্মাতা। সবশেষ ওটিটিতে রাফি পরিচালিত ওয়েব ফিল্ম ‘অমীমাংসিত’ মুক্তি পায়। ধারণা করা হয়ে থাকে, এটি সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত। যদিও বিষয়টি কখনোই সরাসরি স্বীকার করেননি তিনি। তবে সিনেমাটি মুক্তি দিতে কম কাঠ-খড় পোড়াতে হয়নি তাকে। প্রথমে ‘অমীমাংসিত’ মুক্তির সময় সেন্সর বোর্ড সিনেমাটিকে নিষিদ্ধ করেছিল। তবে সরকার পরিবর্তনের পর এটি মুক্তির অনুমতি পায়। এবার বহুল আলোচিত বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে সিনেমা নির্মাণের পরিকল্পনা করছেন রাফি। রাফি জানান, ‘বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে সিনেমা নির্মাণের পরিকল্পনা করছেন তিনি। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় ঘটে যাওয়া ওই বিদ্রোহে বিডিআরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ মোট ৭৪ জন নিহত হন।’ রাফি বলেন, ‘আমার খুব ইচ্ছে আছে বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে সিনেমা বানানোর। এতজন সেনাকে হত্যা করা হলো, একের পর এক লাশ বের হলো, গণকবর হলো। ভেতরে কী ঘটনা ঘটেছিল তা এখনো পুরোপুরি জানি না। আরও তথ্য জানা গেলে তখন এটি নিয়ে সিনেমা বানাবো।’তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন সময় সত্য ঘটনা অবলম্বনে কাজ করতে গিয়ে তাকে অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে। ‘অমীমাংসিত’ মুক্তির সময়ও সেন্সর বোর্ড প্রথমে সিনেমাটিকে নিষিদ্ধ করেছিল। তবে সরকার পরিবর্তনের পর এটি মুক্তি পেয়েছে।তিনি বলেন, ‘সাহস থাকলে সত্য ঘটনা অবলম্বনে বারবার কাজ করা যায়। আমার লক্ষ্য হলো, সমাজে একই ধরনের অন্যায় যেন পুনরায় না ঘটে সেই সচেতনতা তৈরি করা।’তিনি জানান, সিনেমাটি ৪টি গল্প নিয়ে তৈরি হচ্ছে এবং এই সিনেমার মাধ্যমে প্রথমবার প্রযোজক হিসেবে নাম লেখাচ্ছেন। এটি রোজার ঈদে মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে।বর্তমানে রাফি ব্যস্ত তার প্রযোজনা করা নতুন সিনেমা ‘প্রেশার কুকার’ নিয়ে। এ ছাড়া ভৌতিক ঘরানার ‘আন্ধার’ সিনেমার শ্যুটিং শেষ করেছেন। এটিও এ বছর মুক্তি পাওয়ার কথা।উল্লেখ্য, বরগুনার আলোচিত রিফাত-মিন্নি হত্যাকাণ্ড অবলম্বনে তিনি তৈরি করেছেন ‘পরাণ’। এরপর গাজীপুরের প্রবাসী দম্পতির হত্যা নিয়ে ‘জানোয়ার’, ঢাকার কদমতলী এলাকায় ট্রিপল মার্ডার নিয়ে ‘ফ্রাইডে’ বানিয়ে আলোচিত হয়েছেন রায়হান রাফি।সম্প্রতি তার ওটিটি ওয়েব ফিল্ম ‘অমীমাংসিত’ মুক্তি পেয়েছে। সেটিও সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত বলে জানা যায়।এইচএ
চিরনিদ্রায় কিংবদন্তি জাভেদ, উত্তরার কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন
বাংলা চলচ্চিত্রের অ্যাকশন ও নাচের জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম ইলিয়াস জাভেদ আর নেই। বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকাল সোয়া ১১টায় রাজধানীর উত্তরায় নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্যবার বিএফডিসির চত্বরে পা রেখেছেন তিনি। তবে আজ বিকেলে সেখানে আসলেন শেষবারের মতো, যেখান থেকে আর কোনোদিন ফেরা হবে না তাঁর। বিকেলে তাঁর মরদেহ এফডিসিতে আনা হলে এক শোকাতুর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রিয় সহকর্মীকে শেষ দেখা দেখতে ছুটে আসেন খ্যাতিমান অভিনেতা আলমগীর, নায়ক উজ্জ্বল, পরিচালক দেওয়ান নজরুল, দেলোয়ার জাহান ঝন্টু, শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর, ওমর সানী, প্রযোজক খোরশেদ আলম খসরু, নৃত্য পরিচালক আজিজ রেজা, জয় চৌধুরী, মুক্তিসহ আরও অনেকে।এফডিসির মসজিদের কাছে মরদেহ রাখা হলে সেখানে উপস্থিত চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। আসরের নামাজের পর সেখানে প্রথম জানাজা সম্পন্ন হয়। এরপর বিকেল ৫টার দিকে মরদেহ উত্তরার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বাদ মাগরিব দ্বিতীয় জানাজা শেষে সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টর কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।১৯৬৪ সালে উর্দু চলচ্চিত্র ‘নয়ি জিন্দেগি’র মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে জাভেদের। তবে ১৯৬৬ সালে শাবানার বিপরীতে ‘পায়েল’ সিনেমাটি তাঁকে দর্শকপ্রিয়তার তুঙ্গে নিয়ে যায়। তাঁর উল্লেখযোগ্য কিছু সিনেমা হলো, নিশান, মালেকা বানু, সাহেব বিবি গোলাম, কাজল রেখা, পাপী শত্রু, রাখাল রাজা, আবদুল্লাহ"জাভেদ ভাই শুধু একজন অভিনেতা ছিলেন না,তিনি ছিলেন আমাদের চলচ্চিত্রের নাচের শৈলীর পথপ্রদর্শক। তাঁর চলে যাওয়া একটি যুগের অবসান। মিশা সওদাগর, সভাপতি, চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি।জাভেদের প্রয়াণে ঢালিউড পাড়ায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর অসামান্য অবদান বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবে।এসআর
মারা গেছেন সোনালী যুগের অভিনেতা জাভেদ
দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন বাংলা সিনেমার সোনালী যুগের জনপ্রিয় অভিনেতা ইলিয়াস জাভেদ। অবশেষে আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন তিনি (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। তার মৃত্যুর খবরটি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য সনি রহমান বলেন, ‘জাভেদ ভাই দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন। আজ চিরবিদায় নিয়ে চলে গেলেন। সবাই জাভেদ ভাইয়ের আত্মার শান্তির জন্য দোয়া করবেন।কিংবদন্তি এই নায়ক দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন। এ ছাড়া হার্টের সমস্যাও ছিল তাঁর। এর আগে দুইবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি।১৯৬৪ সালে উর্দু ছবি ‘নয়ি জিন্দেগি’ দিয়ে নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন জাভেদ। তবে ১৯৬৬ সালে ‘পায়েল’ সিনেমার পর দর্শকপ্রিয়তা বাড়তে থাকে এই নায়কের। এই সিনেমায় তাঁর নায়িকা ছিলেন শাবানা।এছাড়া তিনি ছিলেন একজন নৃত্য পরিচালকও। তাঁর আসল নাম রাজা মোহাম্মদ ইলিয়াস। নৃত্য পরিচালনা দিয়ে চলচ্চিত্র জগতে অভিষেক ঘটলেও পরবর্তীতে নায়ক হিসেবে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন শতাধিক চলচ্চিত্রে। তিনি তাঁর অনেক কাজের মধ্যে ‘নিশান’ চলচ্চিত্রের জন্য বেশি পরিচিত।জাভেদের জন্ম ১৯৪৪ সালে, ব্রিটিশ ভারতের পেশাওয়ারে। পরে তিনি স্বপরিবারে সেখান থেকে পাঞ্জাবে চলে আসেন। ১৯৮৪ সালে চিত্রনায়িকা ডলি চৌধুরীকে বিয়ে করেন তিনি।এইচএ
অর্থ-বাণিজ্য
সব দেখুন
বাণিজ্যিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে চট্টগ্রাম সফরে মার্কিন রাষ্ট্রদূত
বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম সফর করেছেন। তার এই প্রথম সফরে ব্যবসায়িক ও নাগরিক সমাজের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। বৈঠকে তিনি বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার ঘোষণা দেন। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের চট্টগ্রাম সফর নিয়ে মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের মুখপাত্র পূর্ণিমা রাইয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম বন্দরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৬০ হাজার মেট্রিক টন উচ্চমানের গমের আগমন উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেন, যা আমেরিকার কৃষক এবং বাংলাদেশের কৃষিপণ্য আমিদানিকারকদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যকে আরও এগিয়ে নেবে।এরপর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্য আমদানিকারকদের সঙ্গে বৈঠক করেন, যেখানে আমেরিকান কৃষিণ্যের উৎকৃষ্ট মান তুলে ধরেন এবং বাণিজ্য ও পরিবহন-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করেন।রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের উপকরণ ব্যবহার করে আসা বিএসআরএম স্টিল ও পাহাড়তলী টেক্সটাইল মিলস পরিদর্শন করেন। সফরের মাধ্যমে তিনি তুলে ধরেন- কীভাবে আমেরিকান উদ্ভাবন বাংলাদেশে শিল্পখাতের প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখছে।প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন নতুন আমেরিকান কর্নার পরিদর্শন করেন এবং মেয়র শাহাদাত হোসেন ও প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এস. এম. নছরুল কদিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি সেখানে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের প্রাক্তন অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গেও কথা বলেন।চট্টগ্রাম ওয়ার সেমেটারিতে রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত আমেরিকার পাইলট অফিসার উইলিয়াম বি. রাইস-এর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান।চট্টগ্রামের জনগণের সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বাণিজ্যিক সুযোগ এবং নিরাপত্তা বিষয়ে সহযোগিতা আরও গভীর করার মাধ্যমে রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেনের এই সফর যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করবে।এবি
স্বর্ণের ভরি ২ লাখ ৬২ হাজার ছাড়াল
বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও রুপার ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধিতে দেশের বাজারেও রেকর্ডের পর রেকর্ড হচ্ছে। এবার স্বর্ণের দাম ভরিতে একলাফে ৫ হাজার ২৪৯ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এখন থেকে দেশের বাজারে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হবে ২ লাখ ৬২ হাজার ৪৪০ টাকায়।সোমবার রাতে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। এতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের মূল্য বেড়েছে। সে কারণে স্বর্ণের দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাজুস। আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে সারা দেশে সোনার নতুন এ দর কার্যকর হবে।নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম বেড়ে ২ লাখ ৫০ হাজার ৪৮৪ টাকা; ১৮ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১৪ হাজার ৭৩৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৭৬ হাজার ৫৯৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।এদিকে দাম বেড়েছে করল রুপারও। ২২ ক্যারেটের রুপার দাম ভরিতে ৭ হাজার ৭৫৭ টাকা, ২১ ক্যারেটের রুপার ভরি ৭ হাজার ৪০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৭৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।এফএস
মুক্তিযোদ্ধা ভাতা বাড়ল ৫ হাজার টাকা
অর্থ মন্ত্রণালয়ে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ৩২তম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের মাসিক ভাতার হার ৫ হাজার টাকা বাড়ানো হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের আগে ভাতা পেত ২০ হাজার টাকা।এ ছাড়া বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারীদের ভাতা, প্রতিবন্ধীদের ভাতা এবং মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির আওতায় দেওয়া মাসিক ভাতা বাড়ানোর সিদ্ধান্তসহ বেশকিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রবিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুর ২টায় অনুষ্ঠিত হওয়া এই সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমদ। এতে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সংক্রান্ত কমিটির কার্যপরিধিভুক্ত মোট ১৫টি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির উপকারভোগীর সংখ্যা ও ভাতার হার নির্ধারিত হয়েছে। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির এই সভায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের মাসিক ভাতার হার ৫ হাজার টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং আহতদের মাসিক সম্মানি ভাতা এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ভিজিএফ কার্যক্রমকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির কার্যপরিধিভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।সভায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ২ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৪ জন জেলেকে নতুনভাবে অন্তর্ভুক্ত করে মোট ১৫ লাখ জেলেকে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় আনার সুপারিশ করা হয়।সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত বয়স্ক ভাতা কার্যক্রমের উপকারভোগীর সংখ্যা এক লাখ বৃদ্ধি করে ৬২ লাখে উন্নীত করা হয়েছে। যার মধ্যে ৫৯ লাখ ৯৫ হাজার জন বয়স্ক ব্যক্তি মাসিক ৬৫০ টাকার স্থলে ৭০০ টাকা হারে ভাতা পাবেন এবং ৯০ বছর ঊর্ধ্ব ২ লাখ ৫ হাজার জন বয়স্ক ব্যক্তি মাসিক ১০০০ টাকা হারে ভাতা পাবেন। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত ২৯ লাখ বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতার মধ্যে ২৮ লাখ ৭৫ হাজার জন মাসিক ৬৫০ টাকার স্থলে ৭০০ টাকা হারে ভাতা পাবেন এবং ৯০ বছর ঊর্ধ্ব ২৫ হাজার বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মাসিক ১০০০ টাকা হারে ভাতা পাবেন।মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত প্রতিবন্ধী ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তি কার্যক্রমে ৩৬ লাখ প্রতিবন্ধী ব্যক্তির মধ্যে ৩৫ লাখ ৮১ হাজার ৯০০ জন মাসিক ৯০০ টাকা হারে এবং ১৮ হাজার ১০০ জন মাসিক ১০০০ টাকা হারে প্রতিবন্ধী ভাতা পাবেন। চলতি অর্থবছরে ৩৪ লাখ ৫০ হাজার প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ভাতা পাচ্ছেন। অন্যদিকে, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের বৃত্তির মাসিক হার ৫০ টাকা বৃদ্ধি করে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও উচ্চতর স্তরে যথাক্রমে ৯৫০ টাকা, ১০০০ টাকা, ১ হাজার ১০০ টাকা এবং ১ হাজার ৩৫০ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রমে উপকারভোগীর সংখ্যা ৭ হাজার জন বৃদ্ধি করে মোট ২ লাখ ২৮ হাজার ৩৮৯ জনে উন্নীত করা হয়। মাসিক ভাতার হার ৬৫০ টাকার স্থলে ৭০০ টাকায় উন্নীত করা হয়।অন্যদিকে, অনগ্রসর শিক্ষার্থীদের বৃত্তি/মেধাবৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩ হাজার ১৯৮ জন বৃদ্ধি করে মোট ৪৫ হাজার ৩৩৮ জনে উন্নীত করা হয়েছে। অনগ্রসর শিক্ষার্থীদের বৃত্তি/মেধাবৃত্তি মাসিক হার প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও উচ্চতর স্তরে যথাক্রমে ৭০০ টাকা, ৮০০ টাকা, ১০০০ টাকা এবং ১২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এ ছাড়া অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রমে মোট ৫ হাজার ৪৯০ জনকে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত ক্যান্সার, কিডনি, লিভার-সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ এবং থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের আর্থিক সহায়তা কার্যক্রমের উপকারভোগীর সংখ্যা ৫ হাজার বৃদ্ধি করে ৬৫ হাজার জনে উন্নীত করা হয়েছে। এককালীন চিকিৎসা সহায়তার পরিমাণ ৫০ হাজার টাকার স্থলে দ্বিগুণ করে ১ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির উপকারভোগীর সংখ্যা ১ লাখ ২৪ হাজার বৃদ্ধি করে ১৮ লাখ ৯৫ হাজার ২০০ জনে উন্নীত করা হয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় একজন মা মাসিক ৮৫০ টাকা হারে ভাতা পেয়ে থাকেন। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে সুবিধাভোগী পরিবারের সংখ্যা ৫ লাখ বৃদ্ধি করে ৬০ লাখে উন্নীত করা হয়েছে। এ কর্মসূচিতে প্রতি পরিবার কেজিতে ১৫ টাকা দরে মাসে ৩০ কেজি করে মোট ৬ মাস খাদ্য সহায়তা পেয়ে থাকেন। এবি
এবার স্বর্ণের দাম ইতিহাসের সব রেকর্ড ভাঙল
দেশের বাজারে আবার সোনার দাম বাড়ানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম বাড়ানো হয়েছে ১ হাজার ৫৭৪ টাকা। এতে এক ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫৭ হাজার ১৯১ টাকা। এর মাধ্যমে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে সোনার সর্বোচ্চ দামের নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হলো।স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার (পাকা সোনা) দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই দাম বাড়ানো হয়েছে। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।রোববার (২৫ জানুয়ারি) বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি বৈঠকে করে এই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এফএস
নতুন পে-স্কেল নিয়ে শঙ্কায় টিআইবি
সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির উদ্যোগ যৌক্তিক হলেও এর অতিরিক্ত বোঝা বইবার অর্থনৈতিক সক্ষমতা যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।রোববার (২৫ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের পেশাগত উৎকর্ষতা এবং যাদের অর্থে বেতন-ভাতা প্রদান করা হয়, সেই জনগণ সহজে সেবা প্রাপ্তি নিশ্চিতে জনপ্রশাসনে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি সরকারি খাতে দুর্নীতি ও অনিয়ম রোধে কার্যকর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়ে সংস্থাটি বলছে, এর অন্যথা হলে নতুন পে-স্কেল ঘুষ দুর্নীতির প্রিমিয়াম বৃদ্ধির অব্যর্থ হাতিয়ারে পরিণত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। আরডি
‘গতবারের চেয়ে এবার রমজানের পণ্যের দাম কম থাকবে’
দেশে রোজায় পণ্যের কোনো সরবরাহ সংকট নেই, বরং আমদানি গত বছরের চেয়ে ৪০ শতাংশ বেশি হয়েছে। যে কারণে আসন্ন রোজায় পণ্যের দাম গত বছরের চেয়ে কম থাকবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন।রবিবার (২৫ জানুয়ারি) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আসন্ন রমজান উপলক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য ও বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা বিষয়ক টাস্কফোর্স কমিটির বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, আমরা বর্তমান বাজারের স্থিতি নিয়েছি। উৎপাদন ও আমদানির পরিমাণগত বিশ্লেষণ করেছি। গত বছরের চেয়ে এ বছরের রমজানের বাজার আরও বেশি স্থিতিশীল থাকবে।তিনি বলেন, আমরা উৎপাদন ও আমদানির যে তথ্য দেখেছি, এটা বিশ্লেষণ করে দেখেছি, গড় আমদানির পরিমাণ বেড়েছে ৪০ শতাংশেরও বেশি। সামগ্রিকতার বিবেচনায় দেখেছি, বাজারের মূল্য স্থিতিশীল থেকে নিম্নগামী। আশা করছি বাজার স্থিতিশীল থাকবে।বাণিজ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় প্রতিদিনই বাজার মনিটরিং করা হয়। তাছাড়া ভোক্তা অধিদপ্তর যেসব পদক্ষেপ নেয় রমজানে এটা আরও গতিশীল করা হয়, জোরদার করা হয়। এবছরও তাই করা হবে।’ এমআর-২
অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হচ্ছে স্বর্ণ
দেশের বাজারে আবার সোনার দাম বাড়ানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম বাড়ানো হয়েছে ৭ হাজার ৩৪৮ টাকা। এতে এক ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬৯ হাজার ৭৮৮ টাকা। এর মাধ্যমে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে সোনার সর্বোচ্চ দামের নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হলো। স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার (পাকা সোনা) দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই দাম বাড়ানো হয়েছে।আজ বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকাল ১০টা ১৫ মিনিট থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।গত বুধবার (২৫ জানুয়ারি) বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি বৈঠকে করে এই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।এর আগে ২৭ জানুয়ারি ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম বাড়ানো হয় ৫ হাজার ২৪৯ টাকা। এতে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে এক ভরি সোনার দাম হয় ২ লাখ ৬২ হাজার ৪৪০ টাকা। এই রেকর্ড দাম নির্ধারণের পর এখন আবার দাম বাড়ানো হলো। এতে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে সোনার সর্বোচ্চ দামের নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হলো।এখন সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনায় ৭ হাজার ৩৪৮ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৬৯ হাজার ৭৮৮ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ৬ হাজার ৯৯৯ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৫৭ হাজার ৪৮৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ৬ হাজার ৭ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম ২ লাখ ২০ হাজার ৭৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনায় ৫ হাজার ১৩২ টাকা বাড়িয়ে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮১ হাজার ৭২৫ টাকা।এর আগে গত ২৬ জানুয়ারি সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনায় ৫ হাজার ২৪৯ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৬২ হাজার ৪৪০ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৫০ হাজার ৪৮৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়।এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ৪ হাজার ৩১৫ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম ২ লাখ ১৪ হাজার ৭৩৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনায় ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা বাড়িয়ে দাম নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৭৬ হাজার ৫৯৩ টাকা। আজ বুধবার সকাল ১০টা ১৪ মিনিট পর্যন্ত এই দামে সোনা বিক্রি হয়েছে। সোনার দাম বাড়ানো হলেও রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ হাজার ৭৫৭ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৭ হাজার ৪০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৭৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।এইচএ
বাণিজ্যিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে চট্টগ্রাম সফরে মার্কিন রাষ্ট্রদূত
বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম সফর করেছেন। তার এই প্রথম সফরে ব্যবসায়িক ও নাগরিক সমাজের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। বৈঠকে তিনি বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার ঘোষণা দেন। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের চট্টগ্রাম সফর নিয়ে মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের মুখপাত্র পূর্ণিমা রাইয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম বন্দরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৬০ হাজার মেট্রিক টন উচ্চমানের গমের আগমন উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেন, যা আমেরিকার কৃষক এবং বাংলাদেশের কৃষিপণ্য আমিদানিকারকদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যকে আরও এগিয়ে নেবে।এরপর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্য আমদানিকারকদের সঙ্গে বৈঠক করেন, যেখানে আমেরিকান কৃষিণ্যের উৎকৃষ্ট মান তুলে ধরেন এবং বাণিজ্য ও পরিবহন-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করেন।রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের উপকরণ ব্যবহার করে আসা বিএসআরএম স্টিল ও পাহাড়তলী টেক্সটাইল মিলস পরিদর্শন করেন। সফরের মাধ্যমে তিনি তুলে ধরেন- কীভাবে আমেরিকান উদ্ভাবন বাংলাদেশে শিল্পখাতের প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখছে।প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন নতুন আমেরিকান কর্নার পরিদর্শন করেন এবং মেয়র শাহাদাত হোসেন ও প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এস. এম. নছরুল কদিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি সেখানে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের প্রাক্তন অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গেও কথা বলেন।চট্টগ্রাম ওয়ার সেমেটারিতে রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত আমেরিকার পাইলট অফিসার উইলিয়াম বি. রাইস-এর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান।চট্টগ্রামের জনগণের সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বাণিজ্যিক সুযোগ এবং নিরাপত্তা বিষয়ে সহযোগিতা আরও গভীর করার মাধ্যমে রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেনের এই সফর যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করবে।এবি
স্বর্ণের ভরি ২ লাখ ৬২ হাজার ছাড়াল
বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও রুপার ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধিতে দেশের বাজারেও রেকর্ডের পর রেকর্ড হচ্ছে। এবার স্বর্ণের দাম ভরিতে একলাফে ৫ হাজার ২৪৯ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এখন থেকে দেশের বাজারে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হবে ২ লাখ ৬২ হাজার ৪৪০ টাকায়।সোমবার রাতে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। এতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের মূল্য বেড়েছে। সে কারণে স্বর্ণের দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাজুস। আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে সারা দেশে সোনার নতুন এ দর কার্যকর হবে।নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম বেড়ে ২ লাখ ৫০ হাজার ৪৮৪ টাকা; ১৮ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১৪ হাজার ৭৩৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৭৬ হাজার ৫৯৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।এদিকে দাম বেড়েছে করল রুপারও। ২২ ক্যারেটের রুপার দাম ভরিতে ৭ হাজার ৭৫৭ টাকা, ২১ ক্যারেটের রুপার ভরি ৭ হাজার ৪০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৭৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।এফএস
মুক্তিযোদ্ধা ভাতা বাড়ল ৫ হাজার টাকা
অর্থ মন্ত্রণালয়ে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ৩২তম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের মাসিক ভাতার হার ৫ হাজার টাকা বাড়ানো হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের আগে ভাতা পেত ২০ হাজার টাকা।এ ছাড়া বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারীদের ভাতা, প্রতিবন্ধীদের ভাতা এবং মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির আওতায় দেওয়া মাসিক ভাতা বাড়ানোর সিদ্ধান্তসহ বেশকিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রবিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুর ২টায় অনুষ্ঠিত হওয়া এই সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমদ। এতে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সংক্রান্ত কমিটির কার্যপরিধিভুক্ত মোট ১৫টি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির উপকারভোগীর সংখ্যা ও ভাতার হার নির্ধারিত হয়েছে। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির এই সভায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের মাসিক ভাতার হার ৫ হাজার টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং আহতদের মাসিক সম্মানি ভাতা এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ভিজিএফ কার্যক্রমকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির কার্যপরিধিভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।সভায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ২ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৪ জন জেলেকে নতুনভাবে অন্তর্ভুক্ত করে মোট ১৫ লাখ জেলেকে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় আনার সুপারিশ করা হয়।সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত বয়স্ক ভাতা কার্যক্রমের উপকারভোগীর সংখ্যা এক লাখ বৃদ্ধি করে ৬২ লাখে উন্নীত করা হয়েছে। যার মধ্যে ৫৯ লাখ ৯৫ হাজার জন বয়স্ক ব্যক্তি মাসিক ৬৫০ টাকার স্থলে ৭০০ টাকা হারে ভাতা পাবেন এবং ৯০ বছর ঊর্ধ্ব ২ লাখ ৫ হাজার জন বয়স্ক ব্যক্তি মাসিক ১০০০ টাকা হারে ভাতা পাবেন। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত ২৯ লাখ বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতার মধ্যে ২৮ লাখ ৭৫ হাজার জন মাসিক ৬৫০ টাকার স্থলে ৭০০ টাকা হারে ভাতা পাবেন এবং ৯০ বছর ঊর্ধ্ব ২৫ হাজার বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মাসিক ১০০০ টাকা হারে ভাতা পাবেন।মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত প্রতিবন্ধী ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তি কার্যক্রমে ৩৬ লাখ প্রতিবন্ধী ব্যক্তির মধ্যে ৩৫ লাখ ৮১ হাজার ৯০০ জন মাসিক ৯০০ টাকা হারে এবং ১৮ হাজার ১০০ জন মাসিক ১০০০ টাকা হারে প্রতিবন্ধী ভাতা পাবেন। চলতি অর্থবছরে ৩৪ লাখ ৫০ হাজার প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ভাতা পাচ্ছেন। অন্যদিকে, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের বৃত্তির মাসিক হার ৫০ টাকা বৃদ্ধি করে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও উচ্চতর স্তরে যথাক্রমে ৯৫০ টাকা, ১০০০ টাকা, ১ হাজার ১০০ টাকা এবং ১ হাজার ৩৫০ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রমে উপকারভোগীর সংখ্যা ৭ হাজার জন বৃদ্ধি করে মোট ২ লাখ ২৮ হাজার ৩৮৯ জনে উন্নীত করা হয়। মাসিক ভাতার হার ৬৫০ টাকার স্থলে ৭০০ টাকায় উন্নীত করা হয়।অন্যদিকে, অনগ্রসর শিক্ষার্থীদের বৃত্তি/মেধাবৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩ হাজার ১৯৮ জন বৃদ্ধি করে মোট ৪৫ হাজার ৩৩৮ জনে উন্নীত করা হয়েছে। অনগ্রসর শিক্ষার্থীদের বৃত্তি/মেধাবৃত্তি মাসিক হার প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও উচ্চতর স্তরে যথাক্রমে ৭০০ টাকা, ৮০০ টাকা, ১০০০ টাকা এবং ১২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এ ছাড়া অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রমে মোট ৫ হাজার ৪৯০ জনকে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত ক্যান্সার, কিডনি, লিভার-সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ এবং থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের আর্থিক সহায়তা কার্যক্রমের উপকারভোগীর সংখ্যা ৫ হাজার বৃদ্ধি করে ৬৫ হাজার জনে উন্নীত করা হয়েছে। এককালীন চিকিৎসা সহায়তার পরিমাণ ৫০ হাজার টাকার স্থলে দ্বিগুণ করে ১ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির উপকারভোগীর সংখ্যা ১ লাখ ২৪ হাজার বৃদ্ধি করে ১৮ লাখ ৯৫ হাজার ২০০ জনে উন্নীত করা হয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় একজন মা মাসিক ৮৫০ টাকা হারে ভাতা পেয়ে থাকেন। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে সুবিধাভোগী পরিবারের সংখ্যা ৫ লাখ বৃদ্ধি করে ৬০ লাখে উন্নীত করা হয়েছে। এ কর্মসূচিতে প্রতি পরিবার কেজিতে ১৫ টাকা দরে মাসে ৩০ কেজি করে মোট ৬ মাস খাদ্য সহায়তা পেয়ে থাকেন। এবি
এবার স্বর্ণের দাম ইতিহাসের সব রেকর্ড ভাঙল
দেশের বাজারে আবার সোনার দাম বাড়ানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম বাড়ানো হয়েছে ১ হাজার ৫৭৪ টাকা। এতে এক ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫৭ হাজার ১৯১ টাকা। এর মাধ্যমে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে সোনার সর্বোচ্চ দামের নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হলো।স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার (পাকা সোনা) দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই দাম বাড়ানো হয়েছে। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।রোববার (২৫ জানুয়ারি) বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি বৈঠকে করে এই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এফএস
নতুন পে-স্কেল নিয়ে শঙ্কায় টিআইবি
সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির উদ্যোগ যৌক্তিক হলেও এর অতিরিক্ত বোঝা বইবার অর্থনৈতিক সক্ষমতা যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।রোববার (২৫ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের পেশাগত উৎকর্ষতা এবং যাদের অর্থে বেতন-ভাতা প্রদান করা হয়, সেই জনগণ সহজে সেবা প্রাপ্তি নিশ্চিতে জনপ্রশাসনে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি সরকারি খাতে দুর্নীতি ও অনিয়ম রোধে কার্যকর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়ে সংস্থাটি বলছে, এর অন্যথা হলে নতুন পে-স্কেল ঘুষ দুর্নীতির প্রিমিয়াম বৃদ্ধির অব্যর্থ হাতিয়ারে পরিণত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। আরডি
শিক্ষাঙ্গন
সব দেখুন
হাবিপ্রবিতে ভর্তি পরীক্ষায় প্রক্সি দিতে এসে আটক ২
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্মাতক ভর্তি পরীক্ষায় প্রক্সি দেয়ার সময় ২ জনকে আটক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুর ১১ টায় ডি ইউনিটের অর্ন্তভুক্ত সমাজবিজ্ঞান অনুষদ ও বিভাগ পরিবর্তনের ভর্তি পরীক্ষা দেয়ার সময় তাদেরকে আটক করা হয়৷ প্রক্সি দিতে আসা মোঃ বিদ্যুৎ হোসেন (৩১) জয়পুরহাট কালাই উপজেলার পাঁচপাইকা গ্রামের বাসিন্দা ও নিউক্লিয়াস কোচিং সেন্টার বৈরাগীর মোড় শাখার ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক এবং রাজু আহমেদ (২৯) ঢাকার জুরাইন এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিদ্যুৎ হোসেন জয়পুরহাটের হারাইল হাউজ স্টেটের বাসিন্দা আবুল হাসনাতের পুত্র হুজাইফা সাবিতের হয়ে প্রক্সি দিতে আসেন। প্রক্সি দেয়ার বিনিময়ে হুজাইফা সাবিতের মামা আবুজার গিফারীর সাথে বিদ্যুতের বাইক কিনে দেয়ার চুক্তি হয়। অন্যদিকে, রাজু আহমেদ টাঙ্গাইলের কালিহাতি উপজেলার বাসিন্দা এস.এম এনামুর রহমানের পুত্র আকীব রাহা তিতুমীরের হয়ে টাকার বিনিময়ে প্রক্সি দিতে আসেন।এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. শামসুজ্জোহা বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি ইউনিটের পরীক্ষা চলাকালীন অবস্থায় ২ জনকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাদেরকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশের সহযোগীতায় আমরা পুরো চক্রটিকে ধরার জন্য চেষ্টা করছি এবং যাদের হয়ে তারা পরীক্ষা দিতে এসেছেন তাদের পরীক্ষা বাতিল বলে গণ্য করা হবে।’আরডি
শুক্রবার জবির ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষা, পরিবহন নিয়ে নির্দেশনা
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা আগামী ৩০ জানুয়ারি (শুক্রবার) অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষ্যে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে পরিবহন সংক্রান্ত নির্দেশনা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক ড. তারেক বিন আতিক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনা জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভর্তি পরীক্ষার কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলের দৈনিক চলমান যানবাহনগুলো কর্মদিবসের ন্যায় যথারীতি যথা স্থান থেকে যাত্রা শুরু করে বেলা ১১টায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পৌঁছাবে। পরবর্তীতে ক্যাম্পাস থেকে স্ব-স্ব রুটে ভর্তি পরীক্ষা কার্যক্রম শেষে সন্ধ্যা ৬টায় ছেড়ে যাবে। এতে আরও বলা হয়, উক্ত দিনে পরিবহন পুলের অন্যান্য সকল সেবা বন্ধ থাকবে।উল্লেখ্য, আগামী শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুর ৩টা ৩০ মিনিট থেকে বিকাল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ‘বি’ ইউনিটের এই ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।এসআর
শিক্ষার মানোন্নয়নে গকসুর প্রতিশ্রুতি এখনও কাগজে-কলমে
সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে (গবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (গকসু) দায়িত্ব গ্রহণের চার মাস পার হলেও শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ও উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে কোনো কার্যকর কর্মসূচি চোখে পড়েনি। নির্বাচনের আগে দেওয়া উচ্চশিক্ষা এবং গবেষণার ক্ষেত্রসহ নানা অগ্রাধিকার ইশতাহার বাস্তবায়নের কোনো চিহ্ন না থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর গণ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং ৯ অক্টোবর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেন। দীর্ঘ পাঁচ বছর পর গঠিত চতুর্থ এই ছাত্র সংসদ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছিল ব্যাপক প্রত্যাশা। শিক্ষার্থীরা আশা করেছিল যে ছাত্র সংসদ একাডেমিক পরিবেশ উন্নয়ন, গবেষণা কার্যক্রমে সহায়তা, বিভিন্ন সেমিনার ও কর্মশালা আয়োজন, লাইব্রেরি ও গবেষণাগার সুবিধা সম্প্রসারণ এবং উচ্চশিক্ষায় সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদানে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে। কিন্তু বাস্তবে চার মাস পেরিয়ে গেলেও এসব বিষয়ে গকসুর পক্ষ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ কিংবা লিখিত কর্মপরিকল্পনা প্রকাশিত হয়নি।গকসুর কার্যক্রম নিয়ে বায়োকেমিস্ট্রি এন্ড মলিকুলার বায়োলজির বিভাগের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী ফাহাদ বলেন, "আমরা ছাত্র সংসদ বলতে বুঝতাম ক্লাস ও পরীক্ষার মান, কোর্স কনটেন্ট, গবেষণার সুযোগ, স্কলারশিপ বা উচ্চশিক্ষা বিষয়ক গাইডলাইনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে শিক্ষার্থীদের জন্য সংসদ বড় ভূমিকা পালন করে কিন্তু আমাদের গকসুর এরকম কোন কার্যক্রম নেই যা চরম হতাশাজনক। নিয়মিত শিক্ষার্থী–প্রতিনিধি বৈঠক, বিভাগভিত্তিক একাডেমিক সমস্যা চিহ্নিতকরণ কিংবা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগও দেখা যাচ্ছে না।"নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক শিক্ষার্থী বলেন, “শিক্ষার মানোন্নয়নে গকসু চাইলেই ৪ মাসে কোন একটা প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে পারতো এতদিনে, কিন্তু তারা এমন কিছু চেয়েছে কি না সন্দেহ। চেয়ে থাকলে এতদিনে বাকী কাজগুলোর মতো এটাও দৃশ্যমান হতো। নির্বাচনি আলাপনে সকলেই বলেছিলো, যেই জিতুক আমরা একসাথে কাজ করবো। কিন্তু গত চারমাসে তারা কি কখনো একসাথে বসেছিলো? তারা তাদের নির্বাচনি ইশতাহারে শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে অনেক পরিকল্পনা করেছিল, বলেছিলো যেই জিতুক, সমন্বয় করে সব কাজ করা হবে। তা কি হয়েছে?”এ প্রসঙ্গে ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি ইয়াছিন আল মৃদুল দেওয়ান বলেন, "নির্বাচিত হওয়ার পর প্রায় দুই মাস কেটে গেছে বিভিন্ন আন্দোলনে। এই কারণে শিক্ষার মান উন্নয়নে কোনো কর্মসূচি নেওয়া সম্ভব হয়নি। তাই আমি এটিকে গকসুর ব্যর্থতা হিসেবে দেখতে চাই না। আমাদের সদিচ্ছা রয়েছে। তবে কিছু বিভাগে শিক্ষক সংকট সমাধানে প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। সামনে শিক্ষার মানোন্নয়নে কর্মসূচি গ্রহণের পরিকল্পনা আছে আমাদের। শীঘ্রই একটা জব ফেয়ার আয়োজন করার আলোচনা চলমান আছে।"এসআর
দাখিল পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ, পরীক্ষার্থীদের মানতে হবে বিশেষ নির্দেশনা
চলতি বছরের দাখিল পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড। সূচি অনুযায়ী, আগামী ২১ এপ্রিল থেকে দাখিল পরীক্ষা শুরু হবে।মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ‘কুরআন মাজিদ ও তাজভিদ’ বিষয়ের পরীক্ষার মাধ্যমে পরীক্ষা শুরু হবে। তত্ত্বীয় পরীক্ষা চলবে আগামী ২৪ মে পর্যন্ত।প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে পরীক্ষা শুরু হবে। উল্লেখযোগ্য বিষয়ের তারিখগুলো হলো—২১ এপ্রিল: কুরআন মাজিদ ও তাজভিদ, ২৬ এপ্রিল: গণিত, ২৮ এপ্রিল: আরবি দ্বিতীয় পত্র, ৩০ এপ্রিল: বাংলা প্রথম পত্র, ৩ মে: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, ৫ মে: ইংরেজি প্রথম পত্র, ৭ মে: ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র, ১০ মে: হাদিস শরিফ, ১৭ মে: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, ২০ মে: জীববিজ্ঞান এবং ২৪ মে: উচ্চতর গণিত।বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষে আগামী ৭ থেকে ১৪ জুনের মধ্যে সব বিষয়ের ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ১৮ জুনের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষার নম্বরসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বোর্ডে জমা দিতে হবে।এদিকে পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পরীক্ষার্থীদের জন্য বোর্ড থেকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে—১. পরীক্ষা শুরুর কমপক্ষে ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই কেন্দ্রে আসন গ্রহণ করতে হবে।২. প্রথমে বহুনির্বাচনি এবং পরে সৃজনশীল/রচনামূলক (তত্ত্বীয়) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। উভয়ের মধ্যে কোনো বিরতি থাকবে না।৩. পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষার কমপক্ষে তিন দিন আগে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে প্রবেশপত্র সংগ্রহ করতে হবে।৪. সৃজনশীল, বহুনির্বাচনি ও ব্যবহারিক—প্রতিটি অংশে আলাদাভাবে পাস করতে হবে।৫. কেন্দ্রসচিব ছাড়া অন্য কেউ কেন্দ্রে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। কেন্দ্রসচিব কেবল সাধারণ (নন-অ্যান্ড্রয়েড) ফোন ব্যবহার করতে পারবেন।৬. সাধারণ সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে।বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রয়োজনে বোর্ড কর্তৃপক্ষ সময়সূচি পরিবর্তনের ক্ষমতা সংরক্ষণ করে। এইচএ
তথ্য-প্রযুক্তি
সব দেখুন
আয় বাড়তে চ্যাটজিপিটিতে ওপেনএআই চালু করলো বিজ্ঞাপন
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক জনপ্রিয় চ্যাটবট চ্যাটজিপিটিতে এবার বিজ্ঞাপন যুক্ত করতে যাচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কোম্পানি ওপেনএআই। আসছে সপ্তাহগুলোতেই পরীক্ষামূলকভাবে এই বিজ্ঞাপন চালু হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) এক ব্লগ পোস্টে ওপেনএআই জানায়, আসন্ন কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই চ্যাটজিপিটিতে বিজ্ঞাপন পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হবে। প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে এই বিজ্ঞাপন দেখানো হবে এবং তা সীমাবদ্ধ থাকবে ফ্রি ও নিম্নস্তরের সাবস্ক্রিপশন ব্যবহারকারীদের জন্য। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, চ্যাটজিপিটির ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার সঙ্গে সঙ্গে পরিচালন ব্যয়ও দ্রুত বাড়ছে। সেই ব্যয় সামাল দিতেই নতুন আয়ের উৎস হিসেবে বিজ্ঞাপন চালুর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।পরীক্ষামূলক এই বিজ্ঞাপন কার্যক্রম সফল হলে ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশেও এবং আরও বিস্তৃত পরিসরে বিজ্ঞাপন চালু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে পেইড বা প্রিমিয়াম ব্যবহারকারীরা আপাতত এই বিজ্ঞাপনের বাইরে থাকবেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলেও, বিজ্ঞাপন চ্যাটজিপিটির ব্যবহার অভিজ্ঞতায় কতটা প্রভাব ফেলবে—সেদিকেই এখন নজর থাকবে গ্রাহকদের।এইচএ
৫৪ বছর পর আবারও চাঁদে মানুষ পাঠাচ্ছে নাসা
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ সংস্থা নাসা জানিয়েছে, আর্টেমিস টু মিশন উৎক্ষেপণ হবে ৬ ফেব্রুয়ারি। এটি হবে ১৯৭২ সালের পর মানুষের প্রথম চাঁদ অভিযান। মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে সংস্থাটি।এই মিশনের যাত্রা হবে ১০ দিনের। এতে অংশ নেবেন নাসার তিন নভোচারী। তারা হলেন রিড উইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার ও ক্রিস্টিনা কোচ। তাদের সঙ্গে থাকবেন কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন। তারা চাঁদের চারপাশ ঘুরে আবার পৃথিবীতে ফিরে আসবেন।আর্টেমিস টু মিশনে চাঁদের পৃষ্ঠে নামা হবে না। তবে এই মিশন ভবিষ্যতের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে ২০২৭ সালের আর্টেমিস থ্রি মিশনের পথ তৈরি হবে। ওই মিশনে বহু বছর পর আবার মানুষ চাঁদে পা রাখবে।এই উৎক্ষেপণের সময়সূচি খুব সীমিত। পৃথিবী ও চাঁদের কক্ষপথের কারণে এই সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। মূল উৎক্ষেপণ হবে ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে। এখান থেকেই এক সময় অ্যাপোলো মিশনগুলো চাঁদের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল।যদি ৬ ফেব্রুয়ারি উৎক্ষেপণ সম্ভব না হয়, তাহলে বিকল্প তারিখ রাখা হয়েছে। সম্ভাব্য তারিখগুলো হলো ৭, ৮, ১০ ও ১১ ফেব্রুয়ারি।৫৩ বছর ধরে কোনো মানুষবাহী মহাকাশযান নিম্ন পৃথিবী কক্ষপথের বাইরে যায়নি। আর্টেমিস টু সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটাতে যাচ্ছে।এই মিশনে ব্যবহার করা হবে ওরিয়ন মহাকাশযান। এটি বহন করবে নাসার স্পেস লঞ্চ সিস্টেম বা এসএলএস রকেট। উৎক্ষেপণের পর প্রথমে মহাকাশযানটি পৃথিবীর চারপাশে ঘুরবে। সেখানে জীবনধারণ ব্যবস্থা পরীক্ষা করা হবে। এরপর এটি চাঁদের দিকে যাবে।চাঁদের কাছ দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় এর মাধ্যাকর্ষণ শক্তি ব্যবহার করা হবে। সেই শক্তিতে ভর করে মহাকাশযানটি আবার পৃথিবীর পথে ফিরে আসবে।এমআর-২
ঘুমানোর সময় রাউটার বন্ধ রাখলে শরীর যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়
সম্প্রতি এমন দাবি বেশ ছড়িয়ে পড়েছে যে, মাত্র এক সপ্তাহ রাতে ওয়াই-ফাই বন্ধ রাখলেই নাকি ঘুম গভীর হয়, মানসিক চাপ কমে, এমনকি দীর্ঘদিনের মাথাব্যথাও সেরে যায়। কিন্তু প্রশ্ন হলো এই দাবিগুলো কতটা সত্যি। বিশেষজ্ঞরা এ প্রসঙ্গে কথা বিস্তারিত কথা বলেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ওয়াই-ফাই রাউটার থেকে যে রেডিয়েশন বের হয়, তা অত্যন্ত নিম্নমাত্রার এবং ‘নন-আয়নাইজিং’ ধরনের। হায়দরাবাদের একটি বেসরকারি হাসপাতালের কনসালট্যান্ট চিকিৎসক ডা. হিরণ এস. রেড্ডি জানান, এই ধরনের রেডিয়েশন বর্তমান বৈজ্ঞানিক তথ্য অনুযায়ী মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর নয়। তাই টানা সাত রাত ঘুমানোর সময় রাউটার বন্ধ রাখলেও শরীরে বড় কোনও জৈবিক পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।তবে কিছু মানুষ মনে করেন, তারা ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক তরঙ্গের প্রতি বেশি সংবেদনশীল। এমন ক্ষেত্রে মাথাব্যথা, অস্বস্তি বা ঘুমের সমস্যা কিছুটা কম মনে হতে পারে। যদিও ‘ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক হাইপারসেন্সিটিভিটি’ নামে পরিচিত এই ধারণার পক্ষে এখনও শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। নিউরোলজিস্টদের মতে, ঘুমের সবচেয়ে বড় শত্রু ওয়াই-ফাই নয় বরং আমাদের হাতে থাকা স্মার্টফোন আর ল্যাপটপ। অ্যাপোলো হাসপাতালের নিউরোলজিস্ট ডা. সুধীর কুমার বলেন, রাউটার থেকে নির্গত তরঙ্গ ঘরের কয়েক মিটার দূরত্বেই আরও দুর্বল হয়ে যায় এবং তা ঘুমের হরমোন মেলাটোনিনে তেমন প্রভাব ফেলে না। কিন্তু মোবাইল বা ল্যাপটপের নীল আলো সরাসরি মেলাটোনিন নিঃসরণে বাধা দেয়। ফলে দেরিতে ঘুম আসে, ঘুম হয় হালকা, আর সকালে উঠেও ক্লান্ত লাগে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাতে ওয়াই-ফাই বন্ধ রাখার সঙ্গে সঙ্গে অনেকেই স্বাভাবিকভাবেই স্ক্রিন ব্যবহার কমিয়ে দেন। নোটিফিকেশন বন্ধ থাকে, সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রলিং কমে যায়। এর ফলে মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে শান্ত হয় এবং ঘুমের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়। ভালো ঘুম মানেই ভালো মন, উন্নত স্মৃতিশক্তি, কম মানসিক চাপ এবং শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। রাতে ৭ দিন ওয়াই-ফাই বন্ধ রাখলেই শরীরে বড় কোনও অদ্ভুত পরিবর্তন হবে এমন দাবি করার মতো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনো নেই। তবে যদি এর ফলে আপনার স্ক্রিন টাইম কমে, ঘুম গভীর হয় এবং মন শান্ত থাকে, তাহলে সেটি নিঃসন্দেহে স্বাস্থ্যের জন্য ভালো অভ্যাস হতে পারে। অর্থাৎ, উপকারটা রাউটার বন্ধে নয় বরং ভালো ঘুমের অভ্যাসে।এইচএ
পৌনে ২ কোটি ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস
ইনস্টাগ্রামের অন্তত ১ কোটি ৭৫ লাখ ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য ডার্ক ওয়েবে ফাঁস হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। শনিবার (১১ জানুয়ারি) বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, এই বিশাল তথ্য ভাণ্ডারে ব্যবহারকারীদের ইমেইল অ্যাড্রেস, ফোন নম্বর, পূর্ণ নাম এবং আংশিক ঠিকানার মতো স্পর্শকাতর তথ্য রয়েছে। খবর আনাদুলো এজেন্সির।সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা 'ম্যালওয়্যারবাইটস' প্রথম এই ফাঁসের বিষয়টি চিহ্নিত করে এবং জানায়, ফাঁস হওয়া তথ্যের মধ্যে কোনো পাসওয়ার্ড না থাকলেও, এই তথ্যগুলো ব্যবহার করে পরিচয় চুরি বা আর্থিক জালিয়াতির মতো অপরাধ ঘটানো সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তথ্য ফাঁসের ঘটনাটি মূলত ২০২৪ সালের ইনস্টাগ্রামের এপিআই-এর একটি ত্রুটি বা দুর্বলতা থেকে উদ্ভূত হয়েছে। 'সলোনিক' ছদ্মনামের এক হ্যাকার গত সপ্তাহে ডার্ক ওয়েবের একটি ফোরামে এই ১ কোটি ৭৫ লাখ তথ্য বিনামূল্যে উন্মুক্ত করে দেন। এরপর থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবহারকারীরা হঠাৎ করে অসংখ্য 'পাসওয়ার্ড রিসেট' ইমেইল পাওয়ার অভিযোগ করছেন। সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, হ্যাকাররা ফাঁস হওয়া ইমেইলগুলো ব্যবহার করে ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্টে অননুমোদিত প্রবেশের চেষ্টা চালাচ্ছে।ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা অবশ্য তাদের সিস্টেমে সরাসরি কোনো হ্যাকিং বা অনুপ্রবেশের দাবি অস্বীকার করেছে। মেটার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পাসওয়ার্ড রিসেট ইমেইল আসার ঘটনাটি একটি কারিগরি সমস্যার কারণে ঘটেছে। তারা জানায়, ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট এখনো সুরক্ষিত আছে। তবে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা এই দাবিকে ‘শব্দের মারপ্যাঁচ’ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, সরাসরি সার্ভার হ্যাক না হলেও এপিআই-এর মাধ্যমে বড় বড় ডেটাসেট চুরি হওয়াও সমান ঝুঁকিপূর্ণ। ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তার স্বার্থে অ্যাকাউন্টে টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু রাখা এবং অপরিচিত কোনো লিংকে ক্লিক না করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।এমআর-২
ফ্রিল্যান্সারদের নিবন্ধন ও আইডি কার্ড দেবে সরকার
বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে ফ্রিল্যান্সারদের নিবন্ধন ও আইডি কার্ড (পরিচয়পত্র) দেবে সরকার। এ জন্য জাতীয় ফ্রিল্যান্সার নিবন্ধন ও আইডি কার্ড কার্যক্রমের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সম্পন্ন হয়েছে।আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হবে। ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানিয়েছে।নিবন্ধিত ফ্রিল্যান্সাররা তাদের আইডি কার্ড দিয়ে ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ, ঋণ ও ক্রেডিট কার্ড সুবিধা, আর্থিক প্রণোদনা, সরকারি ও বেসরকারি প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সহজে লাভ করতে পারবেন।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে আরেকটি যুগান্তকারী মাইলফলক অর্জিত হলো। দেশের প্রথম জাতীয় ফ্রিল্যান্সার নিবন্ধন ও আইডি কার্ড কার্যক্রমের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম freelancers.gov.bd-এর ভালনারেবিলিটি এসেসমেন্ট এন্ড পেনেট্রেশণ টেস্টিং সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে প্ল্যাটফর্মটির নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নিশ্চিত করা হয়েছে।মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হবে।এই উদ্যোগটির মাধ্যমে ব্যাংক, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি খাতের সঙ্গে ফ্রিল্যান্সারদের সংযোগ আরো শক্তিশালী হবে। যা দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আশা।মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তরুণ সমাজের আত্মকর্মসংস্থান, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে এটি একটি কৌশলগত জাতীয় উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।এইচএ
ইন্টারনেটের গতি বাড়িয়ে নতুন প্যাকেজ ঘোষণা
ইন্টারনেট প্যাকেজে ৩ গুণ পর্যন্ত গতি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড। তবে মাসিক মূল্য সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।আজ রবিবার (১১ জানুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়।এই উদ্যোগ গ্রাহকদের জন্য আরও নির্ভরযোগ্য, দ্রুত ও মানসম্মত ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করবে এবং দেশের ডিজিটাল রূপান্তর প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করবে বিটিসিএল।নতুন প্যাকেজ অনুযায়ী, মাসিক ৩৯৯ টাকায় ৫ এমবিপিএসের ‘সুলভ-৫’ প্যাকেজ এখন ২০ এমবিপিএসের ‘সাশ্রয়ী-২০’ প্যাকেজে উন্নীত করা হয়েছে। একইভাবে ৫০০ টাকায় ১২ এমবিপিএস ‘সুলভ-১২’ প্যাকেজ এখন ২৫ এমবিপিএস ‘সাশ্রয়ী-২৫’ এবং ৫০০ টাকায় ১৫ এমবিপিএস ‘ক্যাম্পাস-১৫’ প্যাকেজ এখন ৫০ এমবিপিএস ‘ক্যাম্পাস-৫০’ প্যাকেজে রূপান্তরিত হয়েছে। এ ছাড়া ৮০০ টাকায় ১৫ এমবিপিএস প্যাকেজ এখন ৫০ এমবিপিএস, ১০৫০ টাকায় ২০ এমবিপিএস প্যাকেজ ১০০ এমবিপিএস, ১১৫০ টাকায় ২৫ এমবিপিএস প্যাকেজ ১২০ এমবিপিএস এবং ১৩০০ টাকায় ৩০ এমবিপিএস প্যাকেজের গতি বাড়িয়ে ১৩০ এমবিপিএস করা হয়েছে।সবচেয়ে উচ্চ গতির প্যাকেজগুলোর মধ্যে ১৫০০ টাকায় ৪০ এমবিপিএস প্যাকেজ এখন ১৫০ এমবিপিএস এবং ১৭০০ টাকায় ৫০ এমবিপিএস প্যাকেজ ১৭০ এমবিপিএসে উন্নীত করা হয়েছে।বিটিসিএল কর্তৃপক্ষ জানায়, অনলাইন শিক্ষা, দাপ্তরিক কাজ, ভিডিও স্ট্রিমিং, গেমিংসহ বিভিন্ন স্মার্ট ও ডিজিটাল সেবা ব্যবহারে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।এএইচ
আইন-আদালত
সব দেখুন
মুক্তিযোদ্ধা চাচাকে বাবা বানিয়ে চাকরি নেয়ার অভিযোগে সিনিয়র সহকারী সচিব কারাগারে
আপন চাচাকে বাবা সাজিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় বিসিএস ক্যাডার হওয়ার অভিযোগে দুদকের করা মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে মো. কামাল হোসেনকে। বর্তমানে তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (সিনিয়র সহকারী সচিব) হিসেবে কর্মরত।আজ বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ তার জামিন বাতিল করে এ আদেশ দেন। দুদকের প্রসিকিউটর দেলোয়ার জাহান রুমি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আসামি জামিনের শর্ত ভঙ্গ করায় আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করেছেন।আদালত জানান, কামাল হোসেন গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর উচ্চ আদালত থেকে চার সপ্তাহের আগাম জামিন নেন। পরে ২৩ ডিসেম্বর নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে সহযোগিতার শর্তে ডিএনএ পরীক্ষা পর্যন্ত তার জামিন মঞ্জুর করা হয়। তবে দুই দফায় জামিনের শর্ত পালন না করায় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জামিন বাতিলের আবেদন জানানো হয়। শুনানি শেষে আদালত কামাল হোসেনকে কারাগারে পাঠান। গত ২৬ ডিসেম্বর দুদকের উপসহকারী পরিচালক মো. মনজুরুল ইসলাম মিন্টু বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামি মো. কামাল হোসেনের প্রকৃত জন্মদাতা পিতা মো. আবুল কাশেম ও মা মোছা. হাবীয়া খাতুন। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সুযোগ-সুবিধা ভোগের উদ্দেশ্যে তিনি আপন চাচা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আহসান হাবীব এবং চাচি মোছা. সানোয়ারা খাতুনকে পিতা-মাতা সাজান। এই জালিয়াতির মাধ্যমেই তিনি ৩৫তম বিসিএস পরীক্ষায় মুক্তিযোদ্ধা কোটায় প্রশাসন ক্যাডারে চাকরি পান। দুদকের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কামাল হোসেন কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের সিরাজনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণি এবং ফিলিপনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার সময় তার প্রকৃত বাবা মো. আবুল কাশেমের নাম ব্যবহার করেছিলেন। তবে নবম শ্রেণিতে ওঠার পর একই স্কুলে রেজিস্ট্রেশনের সময় তিনি কৌশলে চাচা-চাচিকে নিজের পিতা-মাতা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে চরম প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়।এইচএ
প্রবাস
সব দেখুন
বাংলাদেশিসহ ৫ লাখ অভিবাসীকে বৈধতা দিল স্পেন
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অন্য দেশগুলো যখন সীমান্তে দেয়াল তুলছে, তখন স্পেন হাঁটছে ভিন্ন পথে। যখন আশপাশের দেশগুলো অভিবাসী বহিষ্কার নিয়ে আলোচনা করছে, তখন স্পেন অন্তর্ভুক্তির পথ বেছে নিয়েছে।সোমবার (২৬ জানুয়ারি) স্পেন সরকার প্রায় পাঁচ লাখ অনিয়মিত অভিবাসীকে বৈধ করার ঘোষণা দিয়েছে। এতে স্পষ্ট হলো, যাদের এত দিন ‘অদৃশ্য’ বলা হতো, তারাই স্পেনের উন্নয়নের বড় চলনশক্তি।এই প্রক্রিয়া দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সরকার ‘রাজকীয় ডিক্রি’ বা বিশেষ নির্বাহী আদেশ জারি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে আজ মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পরপরই কোনো দীর্ঘ সংসদীয় বিতর্ক ছাড়াই এটি কার্যকর হবে।এই সিদ্ধান্ত শুধু নীতিগত পরিবর্তন নয়, বরং ইউরোপের কোনো একক দেশে নেওয়া সবচেয়ে বড় মানবিক ও অর্থনৈতিক উদ্যোগগুলোর একটি। এর মাধ্যমে স্পেন নিজেকে অভিবাসীবান্ধব দেশ হিসেবে আরও স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত করল।একবিংশ শতাব্দীতে ইউরোপের আর কোনো দেশ এত বড় পরিসরে অভিবাসীদের বৈধতার সুযোগ দেয়নি। আগে ইতালি বা গ্রিস সীমিত আকারে কিছু খাতে অভিবাসী নিয়মিতকরণ করলেও, স্পেনের এই ডিক্রি গৃহস্থালি কাজ থেকে শুরু করে হাই-টেক স্টার্টআপ—সব খাতের জন্য উন্মুক্ত। এমনকি ২০০৫ সালের বহুল আলোচিত ‘সাপাতেরো নিয়মিতকরণ’ কর্মসূচিকেও এটি ছাড়িয়ে গেছে।বার্সেলোনা, মাদ্রিদ ও ভালেন্সিয়ার মতো শহরে বসবাসরত হাজার হাজার বাংলাদেশি, ভারতীয় ও পাকিস্তানি পরিবারের জন্য এই ডিক্রি বড় স্বস্তি নিয়ে এসেছে।বর্তমানে স্পেনে প্রায় ৫০ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি বসবাস করছেন বলে ধারণা করা হয়। তাদের একটি বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় কঠিন জীবন কাটাচ্ছিলেন।বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আইনের ফলে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার বাংলাদেশি সরাসরি উপকৃত হতে পারেন। পর্যটন, কৃষি ও খুচরা ব্যবসা খাতে কাজ করা এসব প্রবাসী এখন বৈধ শ্রম চুক্তি করতে পারবেন, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা পাবেন এবং নির্বিঘ্নে দেশে পরিবারের কাছে যাতায়াত করতে পারবেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রায় ৫ লাখ ‘ছায়া শ্রমিক’ সুরক্ষিত নাগরিক জীবনে প্রবেশ করবেন।স্পেন সরকারের এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে অর্থনৈতিক বাস্তবতা। দেশটির কল্যাণ রাষ্ট্র টিকিয়ে রাখতে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক প্রয়োজন। পাঁচ লাখ মানুষকে বৈধ করলে বছরে প্রায় দুই বিলিয়ন ইউরো কর ও সামাজিক নিরাপত্তা অনুদান সরকারি কোষাগারে যোগ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।এই ডিক্রি বিশেষভাবে নির্মাণ শিল্প, বয়স্কদের যত্ন ও সেবা খাতের শ্রম সংকট কমাতে সহায়ক হবে। যেখানে দক্ষিণ এশীয় অভিবাসীরা আগে থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন।প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ও পদেমোস দলের এই ‘রাজকীয় ডিক্রি’কে অনেকেই রাজনৈতিক মাস্টারস্ট্রোক হিসেবে দেখছেন। সংসদীয় ভোট এড়িয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিরোধীদের বাধা দেওয়ার সুযোগ কমে গেছে। ফলে অনিশ্চয়তায় থাকা পাঁচ লাখ মানুষের জন্য বৈধতার পথ প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই খুলে যাচ্ছে।এইচএ
লাইফস্টাইল
সব দেখুন
ঘি খাওয়ার উপকারিতা জানলে অবাক হবেন!
আয়ুর্বেদশাস্ত্রে ঘিকে বলা হয় সুপার ফুড। গরম পানির সঙ্গে মিশিয়ে বা খালি খাওয়া যেতে পারে। অনেক তারকা তো কালো কফির সঙ্গেও মিলিয়ে খান।হজমশক্তি বাড়ায়:ঘি খেলে হজমের এনজাইমের নিঃসরণকে উদ্দীপিত করে। পাশাপাশি ঘি পাকস্থলীর অ্যাসিডের উৎপাদনকে বাড়িয়ে দেয়। খাদ্যকে ভাঙতে ও পুষ্টি শোষণে সহায়তা করে ঘি। বাড়ায় হজমশক্তি।শক্তি জোগায়:ঘি মিডিয়াম চেইন ফ্যাটি অ্যাসিড (এমসিএফএ) সমৃদ্ধ, শক্তির জন্য শরীরে দ্রুত বিপাক হয়। ঘি দিয়ে দিন শুরু করলে শরীরে প্রচুর শক্তি উৎপাদন হয়, যা আপনাকে আরও সতর্ক ও মনোযোগী করে তোলে।ঘিয়ে আছে ওজন নিয়ন্ত্রক সিএলএ:ঘিয়ে আছে কনজুগেটেড লিনোলিক অ্যাসিড (সিএলএ)। গবেষণায় দেখা গেছে, সিএলএ স্থূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করে। সিএলএ ওজন কমাতে এবং শরীরের চর্বি কমায়। গুড ফ্যাটের ঘনত্ব খাওয়ার আগ্রহ কমিয়ে আনে। ফলে ওজন থাকে নিয়ন্ত্রণে।মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ায়:মস্তিষ্কের কোষগুলোর বিকাশ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য গুড ফ্যাটের প্রয়োজন হয়। ঘিতে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় প্রয়োজনীয় ফ্যাট, যা মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। ঘিয়ে থাকা আমিষ, মস্তিষ্কে থাকা নিউরোট্রান্সমিটারকে কাজ করতে সহায়তা করে। এতে করে ধীরে ধীরে স্মৃতিশক্তি বাড়তে থাকে। পাশাপাশি এতে থাকা ওমেগা-৬, ওমেগা-৩, ফ্যাটি অ্যাসিড শরীর ও মস্তিষ্ককে চাঙা রাখে। ঘি দিয়ে দিন শুরু করলে জ্ঞানক্রিয়া তৎপর হয় এবং মানসিক স্বচ্ছতা বাড়ে।রোগ প্রতিরোধক্ষমতা শক্তিশালী করে:ঘিতে রয়েছে বিউটারিক অ্যাসিড। এটি খাবার হজম সহজ করে। প্রদাহ কমায় ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়। যার ফলে ইনফেকশন ও রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখে:হরমোন উৎপাদন ও নিয়ন্ত্রণের জন্য গুড ফ্যাট অপরিহার্য। খালি পেটে ঘি খেলে হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকে। হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণে শরীরের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। যেমন চুল পড়ে যাওয়া, ওজন বেড়ে যাওয়া, ওজন কমে যাওয়া, বিষণ্নতা, বন্ধ্যত্বসহ বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে। তাই পরিমিত পরিমাণে খালি পেটে ঘি খাওয়া যেতে পারে।ত্বক ভালো রাখে:ঘিয়ে থাকে ভিটামিন এ, ডি, ই এবং কে। সেই সঙ্গে থাকে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা ত্বকের ভেতর থেকে পুষ্টি জোগায়। তাই ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। ঘি বর্ণকে উজ্জ্বল করে। সকালে ঘি দিয়ে দিন শুরু করতে পারেন, দেখবেন বার্ধক্যজনিত লক্ষণগুলো দূর হয়ে যাচ্ছে।মেটাবলিজম উন্নত করে:ঘিয়ে থাকা মিডিয়াম চেইন ফ্যাটি অ্যাসিড মেটাবলিজম বা বিপাক উন্নত করে এবং চর্বি পোড়াতে সহায়তা করে। মেটাবলিজম হলো সুপারহিরোর মতো, শরীরের সবকিছুর ভারসাম্য রক্ষা করে। অর্থাৎ মেটাবলিজম হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে ক্যালরি বার্ন করে খাবারকে শক্তিতে রূপান্তরিত করে। মেটাবলিজম ভালো থাকলে ওজন বাড়ে না।জয়েন্টের ব্যথা কমে:ঘি ভিটামিন কে–এর খুব ভালো উৎস। যা ক্যালসিয়াম শোষণ করে। ঘিতে রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান, যা প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। ফলে আর্থ্রাইটিস ও জয়েন্টের ব্যথা কমে।কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে:ঘি পাচনতন্ত্রের জন্য একটি প্রাকৃতিক লুব্রিকেন্ট হিসেবে কাজ করে, মল নরম করতেও সহায়তা করে। খালি পেটে ঘি খেলে অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো হয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়।তবে একসঙ্গে অনেকখানি ঘি খাবেন না। এক চামচ ঘি–ই যথেষ্ট। প্রয়োজনে কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন। আরেকটি বিষয়, ভালো মানের ঘি বাছাই করতে চেষ্টা করুন।চোখের জন্য খুবই উপকারী।সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া ও ওয়েবএমডি।এফএস
