জেলার কামারখন্দ উপজেলার চৌবাড়ী এলাকায় ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালটি দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় পড়ে আছে। ১৬ কোটি ১৯ লক্ষ টাকা ব্যায়ে নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে।
নির্মাণ কাজ শেষে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আনুষ্ঠানিক ভাবে হস্তান্তরের পরেও হাসপাতালটি চালু না হওয়ায় কামারখন্দ বেলকুচি ও উল্লাপাড়া উপজেলার পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
জনবল ও নিরাপত্তা না থাকায় হাসপাতালটিতে একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার চৌবাড়ী বাজার পেরিয়ে আঞ্চলিক সড়কের পাশে অবস্থিত দোতলা সাদা ভবনটির ফটোকে ঝুলছে পুরনো তালা। ভেতর ঢুকে দেখাযায় চত্বরজুড়ে আগাছা, করিডোরে মাকড়সার জাল, ভাঙ্গা জানালার কাচ ও ধুলাবালিতে ঢাকা কক্ষ। যেখানে থাকার কথা রোগীর শয্যা, সেখানে এখন ফাঁকা কক্ষ ও নীরবতা।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সহায়তায় ভিতরে প্রবেশ করে দেখা যায় জনবল না থাকায় এটি এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।
হাসপাতালের রান্না ঘরের পেছনের গেট দিয়ে ঢুকে দরজা ভেঙে ৫৫টি সিলিং ফ্যান, ৯০টি লাইট প্রতিটি ইউনিটের সার্কিট ব্রেকার, ওয়াশরুমের সেনেটারি ফিটিংস, একটি এসির আউটডোর ইউনিট, পাওয়ার স্টেশনের ট্রান্সফরমার, জেনারেটর কয়েল, ব্যাটারি, তামার তার সহ আনুমানিক ৪০ লক্ষ টাকা চুরি করে নিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে কামারখন্দ উপজেলা ৫০ শয্যা বিশিষ্ট কমপ্লেক্স সূত্র।
কামারখন্দ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আব্দুল মোমিন উদ্দিন বলেন, ভবন খালি থাকায় প্রায় ৪০ লক্ষ টাকার চুরির ঘটনা ঘটেছে। আমাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জনবল সংকটে থাকায় নাইটগার্ড দেওয়া সম্ভব হয়নি। পুলিশকে একাধিকবার মৌখিক অভিযোগ দেওয়ার পর লিখিত অভিযোগ করি। পরে সেটি মামলা হয়।
কামারখন্দ উপজেলা স্যানিটারী ইন্সপেক্টর মো. আবু সাঈদ বলেন, নিয়মিত চুরি হচ্ছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পরিদর্শন করেছে সেখানে আমি গিয়েছিলাম। স্থানীয়রাও আমাদের অভিযোগ করেছে হাসপাতালের ভেতরে ঢুকে মাদক সেবন করা হয়।
চৌবাড়ী ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তোজাম্মেল হক বলেন, হাসপাতাল টি চালু হলে শিক্ষার্থীরা চিকিৎসা সেবা পেত। কিন্তু এখন সবাই সেবা থেকে বঞ্চিত। কামারখন্দ থানা পুলিশের উপ পরিদর্শক (এসআই) মো. বাবুল আক্তার বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর পরিদর্শন করেছি। জনবল না থাকায় বিভিন্ন সময় চুরির ঘটনা ঘটেছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. নুরুল আমীন বলেন, কামারখন্দের ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালেই জনবল সংকট রয়েছে। এ জন্য চৌবাড়ীর ২০ শয্যা হাসপাতালে জনবল দেওয়া সম্ভব হয়নি। চুরির ঘটনায় মামলা হয়েছে। এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।
এসআর