ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য মহারাষ্ট্রের বারামতিতে ছোট যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হয়ে রাজ্যটির উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারসহ পাঁচজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার পর সামনে এসেছে ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট পিঙ্কি মালির সেই শেষ ফোনালাপ, যা এখন হৃদয়বিদারক স্মৃতি হয়ে রয়ে গেছে পরিবারের কাছে। ‘কাল কথা হবে’ বলে বাবাকে জানলেও সেই কাল আর কখনোই আসবে না পিঙ্কির জীবনে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, মহারাষ্ট্রের বারামতিতে বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট পিঙ্কি মালিও রয়েছেন। দুর্ঘটনার পর তার বাবা শিবকুমার মালির সঙ্গে শেষ ফোনালাপের কথা প্রকাশ্যে এসেছে। মুম্বাইয়ের ওরলির বাসিন্দা পিঙ্কি মালি ফোনে তার বাবাকে বলেছিলেন, ‘বাবা, আমি অজিত পাওয়ারের সঙ্গে বারামতিতে যাচ্ছি। তাকে নামিয়ে দিয়ে নান্দেদ যাব। কাল কথা হবে।’
শিবকুমার মালি জানান, তিনি মেয়েকে বলেছিলেন কাজ শেষ হলে পরদিন কথা হবে। কিন্তু সেই ‘আগামীকাল’ আর কখনও আসবে না। তিনি বলেন, ‘আমি ওকে বলেছিলাম, কাল কাজ শেষে কথা হবে। কিন্তু সেই কাল আর কোনোদিনই আসবে না।’
শিবকুমার মালি জানান, সম্প্রতি অজিত পাওয়ারের সঙ্গে একাধিক সফরে গিয়েছিলেন পিঙ্কি। মেয়েকে হারিয়ে তিনি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি আমার মেয়েকে হারিয়েছি। ঠিক কীভাবে দুর্ঘটনাটা ঘটলো, সে বিষয়ে আমার কোনও প্রযুক্তিগত ধারণা নেই। আমি পুরোপুরি বিধ্বস্ত। আমি শুধু আমার মেয়ের মরদেহটা চাই, যাতে সম্মানের সঙ্গে শেষকৃত্য করতে পারি, এটাই আমার শেষ চাওয়া।’
এর আগে বুধবার সকালে মহারাষ্ট্রের পুনে জেলার বারামতি বিমানবন্দরের কাছে দুর্ঘটনাটি ঘটে। দিল্লিভিত্তিক ভিএসআর ভেঞ্চার্স পরিচালিত লিয়ারজেট ৪৫ বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। বিমানে মোট পাঁচজন ছিলেন। তারা হলেন— মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার, তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মকর্তা বিদীপ যাদব, ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট পিঙ্কি মালি, পাইলট-ইন-কমান্ড সুমিত কাপুর এবং সেকেন্ড-ইন-কমান্ড শম্ভাবী পাঠক।
ফ্লাইটের তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি সকাল ৮টা ১০ মিনিটে মুম্বাই থেকে উড্ডয়ন করে এবং সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটের দিকে রাডার থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়। এরপর সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে এটি বিধ্বস্ত হয়। অজিত পাওয়ার পুনে জেলায় ৫ ফেব্রুয়ারির জেলা পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে চারটি নির্বাচনী সমাবেশে ভাষণ দিতে যাচ্ছিলেন।
মূলত বিমানটি অবতরণের সময় নিয়ন্ত্রণ হারালে দুর্ঘটনাটি ঘটে। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জরুরি পরিষেবা ও ঊর্ধ্বতন নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। দুর্ঘটনার তদন্তে বুধবারই দিল্লি থেকে এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (এএআইবি)-এর একটি দল পুনের উদ্দেশে রওনা দেয়।
এবি