এইমাত্র
  • ফের ভারতীয়দের জন্য বড় ধাক্কা এলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে
  • পাকিস্তানে খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
  • খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণ করল ভারতের সংসদ
  • চট্টগ্রামে গভীর নলকূপের গর্তে পড়া শিশু মেজবাহ মারা গেছে
  • নির্বাচনি দায়িত্বে কোনো আওয়ামী দোসর নেই: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
  • গভীর গর্তে পড়ে যাওয়া শিশু মিসবাহ উদ্ধার
  • হাবিপ্রবিতে ভর্তি পরীক্ষায় প্রক্সি দিতে এসে আটক ২
  • যশোর কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন সেই ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম
  • শেরপুরে চেয়ারে বসা নিয়ে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহত ৩০
  • ক্রিকেট দল না পাঠালেও শুটিং দলকে ভারতে যেতে অনুমতি সরকারের
  • আজ বুধবার, ১৫ মাঘ, ১৪৩২ | ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬
    দেশজুড়ে

    ওয়ারিশন সনদ জালিয়াতি করে জমি খারিজের অভিযোগ

    নাজমুস সাকিব মুন, পঞ্চগড় প্রতিনিধি প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৫৩ এএম
    নাজমুস সাকিব মুন, পঞ্চগড় প্রতিনিধি প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৫৩ এএম

    ওয়ারিশন সনদ জালিয়াতি করে জমি খারিজের অভিযোগ

    নাজমুস সাকিব মুন, পঞ্চগড় প্রতিনিধি প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৫৩ এএম

    পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় আব্দুল্লাহ মাসুদ নামে এক ব্যক্তি ভুয়া ওয়ারিশন সনদের ভিত্তিতে জমি খারিজের সময় নিজের মা ও বোনদের ওয়ারিশ হিসেবে দেখিয়ে তার সৎ মা ও অন্যান্য ভাই-বোনদের নাম বাদ দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

    অনুসন্ধানে জানা যায়, দেবীগঞ্জ উপজেলার দেবীডুবা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ২০২২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি তারিখে ১১২ নম্বর স্মারকে ইস্যু দেখানো একটি ওয়ারিশন সনদকে ঘিরে এই বিতর্কের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পরেশ চন্দ্র রায় প্রধান লিখিত প্রত্যয়ন দিয়ে জানান, ওই ওয়ারিশন সনদটি তার শপথ গ্রহণের আগের দেখানো হয়েছে এবং এতে থাকা স্বাক্ষর তার নিজের নয়। তিনি সনদটিকে ভুয়া বলে দাবি করেন।

    চেয়ারম্যানের প্রত্যয়ন অনুযায়ী, তিনি ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি চেয়ারম্যান হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। অথচ আলোচিত ওয়ারিশন সনদে ইস্যুর তারিখ দেখানো হয়েছে ২০২২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি। ফলে ওই সনদের বিষয়ে তিনি কিংবা ইউনিয়ন পরিষদ অবগত ছিলেন না বলে লিখিতভাবে উল্লেখ করেন তিনি।

    জানা গেছে, দেবীডুবা ইউনিয়নের সোনাপোতা এলাকার বাসিন্দা আবুল হোসেন মৃত্যুকালে দুই স্ত্রী, সাত মেয়ে ও দুই ছেলে রেখে যান। এছাড়া মানিক নামে এক ছেলে পিতার মৃত্যুর আগেই অবিবাহিত অবস্থায় মারা যান। পারিবারিক ও স্থানীয় তথ্য অনুযায়ী তার মোট বৈধ ওয়ারিশের সংখ্যা ১১ জন।

    কিন্তু ভুয়া দাবি করা ওই ওয়ারিশন সনদে আবুল হোসেনের ওয়ারিশ হিসেবে মাত্র সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়। এতে দ্বিতীয় স্ত্রী মোছাঃ ছকিনা খাতুন, ছেলে মোঃ আব্দুল্লাহ মাসুদ এবং পাঁচ মেয়ের নাম থাকলেও প্রথম স্ত্রী মঞ্জুয়ারা খাতুন, দুই মেয়ে মোছাঃ আনজুমা হাসনেয়ারা ও মোছাঃ ফাতেমা বেগম এবং ছেলে মোঃ মোজাম্মেল হকের নাম বাদ দেওয়া হয়।

    দেবীডুবা ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য উমাপদ রায় বলেন, আবুল হোসেনের দুই স্ত্রী ও নয়জন সন্তানসহ মোট ওয়ারিশ ১১ জন। অথচ আলোচিত ওয়ারিশন সনদে মাত্র সাতজনের নাম রয়েছে। এতে কয়েকজন বৈধ ওয়ারিশকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যা নিয়মবহির্ভূত।

    অভিযোগ রয়েছে, এই ভুয়া ওয়ারিশন সনদের ভিত্তিতেই আব্দুল্লাহ মাসুদ একই ইউনিয়নের সোনাপোতা ধানপাড়া এলাকার ১ দশমিক ২০ একর জমি নিজের নামে খারিজ করে নেন। এ সংক্রান্ত নামজারি মামলার নম্বর ৩৪০৫ (IX-X)/২০২৪-২০২৫। নামজারির সময় তিনি তার সৎ মা ও ভাই-বোনদের নাম বাদ দিয়ে কেবল নিজের মা ও বোনদের ওয়ারিশ হিসেবে দেখিয়ে ভূমি অফিসে কাগজপত্র দাখিল করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

    এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আবুল হোসেনের ছেলে মোঃ মোজাম্মেল হক বলেন, আমার বাবা দুই স্ত্রী ও নয়জন সন্তান রেখে মারা যান। আমার মা বড় স্ত্রী হলেও তার নাম, আমার নাম এবং আমার দুই বোনের নাম ওয়ারিশন সনদে নেই। এই সনদের মাধ্যমে আমাদের পিতৃপরিচয় অস্বীকার করা হয়েছে।

    অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুল্লাহ মাসুদ ওয়ারিশন সনদ ও জমি খারিজের বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা না দিয়ে এড়িয়ে যান।

    খারিজের বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, বাদ পড়া ওয়ারিশদের মধ্য থেকে মিসকেস করলে যাচাই-বাছাই শেষে সত্যতা পেলে খারিজটি বাতিল করা হবে।

    এসআর

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    সর্বশেষ প্রকাশিত

    Loading…