পটুয়াখালীর গলাচিপা পৌর শহরের সদর সড়কে গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ‘ভাই ভাই লেডি টেইলার অ্যান্ড বোরকা হাউজ’ নামের একটি দর্জি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। এতে দোকানটির বিপুল পরিমাণ কাপড়, সেলাই মেশিনসহ বিভিন্ন মূল্যবান সরঞ্জাম আগুনে পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন নেভাতে ব্যবহৃত পানির কারণে পাশের আছাদ টেইলার ও সেঞ্চুরি টেইলার নামের আরও দুটি দোকানের মালামাল পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগুনে অন্তত একটি দোকানের সব মালামাল পুড়ে গেছে এবং অন্য দুটি দোকানে পানির কারণে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০ লাখ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে আগুন লাগার খবর পেয়ে গলাচিপা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে ‘ভাই ভাই টেইলার’-এ আগুনের সূত্রপাত হয়।
আগুন নেভানোর সময় দায়িত্ব পালনকালে আতিক নামের এক ফায়ার সার্ভিস সদস্য মাথায় আঘাত পেয়ে আহত হন। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সময় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে আগুন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে দেখা যায়। পাশাপাশি ঘটনাস্থলে গলাচিপা থানা পুলিশের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
সেঞ্চুরি টেইলারের প্রতিনিধি মো. রাহাত হাওলাদার বলেন, ‘রাত পৌনে ১২টার দিকে আগুন লাগার খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসি। প্রথমে স্থানীয়রা তালা ভেঙে দোকানে পানি ছিটিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। বশির প্যাদার ভাই ভাই টেইলার থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি।’
গলাচিপা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তদন্ত শেষে অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটকে দায়ী করা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সদর সড়কের দোকানগুলো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। দোকানের পাশ দিয়ে ঝুলে থাকা বৈদ্যুতিক তার অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এ ছাড়া রাস্তার ওপর পলিথিন ও ত্রিপল টানিয়ে রাখায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রবেশে বাধা সৃষ্টি হয়। এলাকাটিতে পর্যাপ্ত পানির উৎসও নেই।’
ইখা