এইমাত্র
  • ফের ভারতীয়দের জন্য বড় ধাক্কা এলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে
  • পাকিস্তানে খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
  • খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণ করল ভারতের সংসদ
  • চট্টগ্রামে গভীর নলকূপের গর্তে পড়া শিশু মেজবাহ মারা গেছে
  • নির্বাচনি দায়িত্বে কোনো আওয়ামী দোসর নেই: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
  • গভীর গর্তে পড়ে যাওয়া শিশু মিসবাহ উদ্ধার
  • হাবিপ্রবিতে ভর্তি পরীক্ষায় প্রক্সি দিতে এসে আটক ২
  • যশোর কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন সেই ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম
  • শেরপুরে চেয়ারে বসা নিয়ে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহত ৩০
  • ক্রিকেট দল না পাঠালেও শুটিং দলকে ভারতে যেতে অনুমতি সরকারের
  • আজ বুধবার, ১৫ মাঘ, ১৪৩২ | ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬
    দেশজুড়ে

    শিল্প বর্জ্যের আগ্রাসনে বিপর্যস্ত ভালুকার খীরু নদী

    সাজ্জাদুল আলম খান, ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:২৭ পিএম
    সাজ্জাদুল আলম খান, ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:২৭ পিএম

    শিল্প বর্জ্যের আগ্রাসনে বিপর্যস্ত ভালুকার খীরু নদী

    সাজ্জাদুল আলম খান, ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:২৭ পিএম

    শিল্প বর্জ্যের অব্যবস্থাপনায় একসময় চিরসবুজ ভালুকার বুক চিরে বয়ে চলা খীরু নদী এখন নীরব মৃত্যুর সাক্ষী। বছরের পর বছর বিভিন্ন ডাইং ও শিল্পকারখানার অপরিশোধিত কেমিক্যাল বর্জ্য নদীতে পড়ায় খীরুর স্বচ্ছ মিঠাপানি রূপ নিয়েছে বিষাক্ত কালো তরলে। এর ভয়াবহ প্রভাবে কৃষি, মৎস্য, পশুপাখি ও মানবস্বাস্থ্যসহ পুরো পরিবেশব্যবস্থা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, ভালুকা উপজেলার বিভিন্ন ডাইং কারখানা থেকে দীর্ঘদিন ধরে লাউতি, বেতিয়াহাঙ্গুন, বিলাইজুড়ি, বাধ সাতরা ও রুপির খাল দিয়ে গরম ও দুর্গন্ধযুক্ত কেমিক্যাল বর্জ্য খীরু নদীতে ফেলা হচ্ছে। এতে নদীর পানি কালো হয়ে আশপাশের গ্রামজুড়ে ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ। খাল-বিল হয়ে এই দূষিত পানি ছড়িয়ে পড়ায় ধ্বংস হচ্ছে মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণী, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পশুপাখি এবং বাড়ছে পানিবাহিত রোগ ও চর্মরোগ। কৃষিজমির সেচব্যবস্থাও পড়েছে চরম সংকটে।

    বোরো মৌসুমে প্রতি বছর নদীর পানি ব্যবহার করে চাষাবাদ করলেও গত কয়েক বছর ধরে কাঙ্ক্ষিত ফলন পাচ্ছেন না কৃষকেরা। স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, নদীর দূষিত পানি সেচ দিলে ধানের গোছা ভালো হলেও থোড় আসার পর ধান চিটা হয়ে যায়। এতে উৎপাদন খরচও উঠছে না। অনেক ক্ষেত্রে দুর্গন্ধযুক্ত পানি পান করে হাঁস, গরু ও ছাগলের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে।

    ভালুকা, ভরাডোবা, মেদুয়ারী ও হবিরবাড়ী ইউনিয়নের জামিরদিয়া ও কাশর এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত অসংখ্য ডাইং মিল থেকে নিয়মিত কালো বর্জ্যপানি খালে ফেলা হচ্ছে। বিশেষ করে হবিরবাড়ী এলাকার বিলাইজুড়ি ও লাউতি খাল দিয়ে দিনরাত গরম বর্জ্য প্রবাহিত হওয়ায় আশপাশের মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। দুর্গন্ধে স্বাভাবিক বসবাস কঠিন হয়ে পড়েছে। শিশুদের মধ্যে পেটের পীড়া ও বিভিন্ন জটিল রোগের প্রকোপ বাড়ছে।

    একসময় খীরু নদী ছিল এ অঞ্চলের প্রাণ। বর্ষা মৌসুমে পালতোলা নৌকা ও যাত্রীবাহী লঞ্চের ভেঁপুর শব্দে মুখর থাকত নদীর তীর। শিশুরা সাঁতার কাটত, জেলেরা দল বেঁধে মাছ ধরত। তবে শিল্প বর্জ্য, নদীদূষণ ও নাব্যতা হ্রাসের কারণে আশির দশক থেকেই ধীরে ধীরে নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আজ খীরু নদী কার্যত প্রাণহীন।

    দীর্ঘদিনের দূষণে খীরু নদী থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে রুই, কাতল, বোয়াল, পাবদা, কাচকি, চাপিলা, টেংরা, গুলশা, মলা, ঢেলা, বাইলা ও চিংড়িসহ বহু দেশীয় মাছ। হারিয়ে গেছে কচ্ছপ, উদ ও গুইসাপের মতো জলজ প্রাণী। নদীর পাড়ের হিজল গাছে আর বসে না গাংচিল, বক, পানকৌরি কিংবা মাছরাঙা। মাছ না থাকায় পাখিরাও এলাকা ছেড়ে চলে গেছে।

    স্থানীয়রা জানান, নদীর পাড় ও খাল-বিলের আশপাশের জমির মাটি এখন আলকাতরার মতো কালচে ও কিচকিচে হয়ে গেছে। এসব জমিতে নামলে হাঁটু পর্যন্ত দেবে যায় কাদার নিচে। কিছুক্ষণ কাজ করলেই হাত-পা ও শরীরে চুলকানি ও ফুসকুড়ি দেখা দেয়। ফলে শ্রমিকরা জমিতে কাজ করতে অনীহা প্রকাশ করছেন, এতে সময়মতো চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে।

    অভিযোগ রয়েছে, অধিকাংশ ডাইং কারখানায় বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) থাকলেও তা নিয়মিত চালু রাখা হয় না। বর্ষা মৌসুম কিংবা প্রশাসনিক অভিযানের সময় ইটিপি চালু দেখানো হলেও অন্য সময় অপরিশোধিত বর্জ্য সরাসরি খাল-বিল ও নদীতে ফেলা হয়। পরিবেশ অধিদপ্তরের কিছু কর্মকর্তাকে ‘ম্যানেজ’ করে কারখানা কর্তৃপক্ষ নির্বিঘ্নে এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ।

    বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ভালুকা আঞ্চলিক শাখার সদস্যসচিব কামরুল হাসান পাঠান কামাল বলেন, ‘হবিরবাড়ীর লাউতি, বিলাইজুড়ি ও বেতিয়াহাঙ্গুনসহ অসংখ্য সংযোগ খাল দিয়ে ডাইং মিলের দূষিত বর্জ্য খীরু নদীতে ফেলা হচ্ছে। এটি সরাসরি পরিবেশগত নৈরাজ্য। আমরা একাধিকবার মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দিলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।’

    সচেতন মহলের মতে, শিল্পকারখানাগুলোতে ইটিপি যথাযথভাবে চালু করে বর্জ্য পরিশোধনের পর নদীতে পানি ফেললে একদিকে যেমন কৃষিকাজে সেচযোগ্য পানি পাওয়া যাবে, অন্যদিকে দেশীয় মাছের বংশবিস্তার ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা সম্ভব হবে। শিল্প বর্জ্য বন্ধ করা গেলে আবারও প্রাণ ফিরে পেতে পারে সবুজ-শ্যামল ভালুকা—এমন আশাই করছেন স্থানীয়রা।

    ইখা

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    সর্বশেষ প্রকাশিত

    Loading…