চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জুমার খুতবায় ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ায় এক খতিবকে এলাকা ছাড়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি সীতাকুণ্ড উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সাহাব উদ্দিন রাজু। এ ঘটনায় খতিবকে হুমকি দেওয়ার একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা নিয়ে এলাকায় আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
হুমকির অভিযোগে থাকা খতিবের নাম হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ আল আমিন। তিনি উপজেলার বাড়াকুণ্ড ইউনিয়নের মান্দারিটোলা বাইতুল আমান জামে মসজিদের খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ভাইরাল হওয়া অডিওতে খতিবকে এলাকা ছাড়ার হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি কুরুচিপূর্ণ ভাষায় গালাগালির শব্দ শোনা যায় বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে অভিযুক্ত যুবদল নেতা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
খতিব মাওলানা মোহাম্মদ আল আমিন বলেন, “গত জুমার নামাজে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার পক্ষে কথা বলেছি। ভোটকে পবিত্র আমানত হিসেবে উল্লেখ করে ঋণখেলাপি, চাঁদাবাজ ও জুলুমকারীদের বর্জন করে যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছি। এ বক্তব্যে ক্ষিপ্ত হয়ে রোববার মো. সাহাব উদ্দিন রাজু আমাকে মুঠোফোনে গালিগালাজ করেন এবং এলাকায় এলে মারধরের হুমকি দেন।”
তিনি আরও বলেন, “আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। বিষয়টি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। প্রশাসনের সহযোগিতায় আগামী জুমার নামাজও পড়াতে চাই।”
অভিযোগ অস্বীকার করে যুবদল নেতা মো. সাহাব উদ্দিন রাজু বলেন, “খতিবের সঙ্গে আমার কোনো ফোনালাপ হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো অডিওটি এআই দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। এটি বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের উদ্দেশ্যে ছড়ানো হচ্ছে। তবে জুমার খুতবায় খতিব রাজনৈতিক ও গণভোট বিষয়ে পক্ষপাতমূলক বক্তব্য দিয়েছেন।”
এদিকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, সীতাকুণ্ডে তাদের নারী কর্মীদের নির্বাচনী প্রচার কাজে বাধা দেওয়া হচ্ছে।
চট্টগ্রাম-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরী বলেন, “নির্বাচনী গণসংযোগের সময় আমাদের নারী কর্মীদের বিভিন্ন স্থানে হেনস্তা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হচ্ছে। এটি নির্বাচনী আচরণবিধি ও মৌলিক মানবাধিকারের লঙ্ঘন।”
তিনি জানান, মঙ্গলবার সীতাকুণ্ড পৌরসভার ইদুলপুর, ভাটিয়ারী ইউনিয়নের জাহানাবাদ ও কুমিরা লোহারপুল এলাকায় জামায়াতের নারী কর্মীদের প্রচার কাজে বাধা দেওয়া হয়।
এ ছাড়া মঙ্গলবার সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ভোটার সম্মানি রশিদ’ নামে একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়ে। এতে বিএনপির প্রার্থী লায়ন আসলাম চৌধুরীর ছবি ও ধানের শীষ প্রতীক ব্যবহার করে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। কার্ডটিতে ভোটারের এনআইডি ও বিকাশ নম্বরের ঘর থাকলেও তথ্য অসম্পূর্ণ ছিল। বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বিএনপির প্রার্থী লায়ন আসলাম চৌধুরীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব মো. মোরসালীন বলেন, “এ ধরনের কোনো ফটোকার্ড সম্পর্কে আমরা অবগত নই। এটি গুজব ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা।”
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহিনুল ইসলাম বলেন, “খতিবকে হুমকির বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। জামায়াতের নারী কর্মীদের হেনস্তার বিষয়টি মৌখিকভাবে শুনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বাইতুল আমান জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আইনুল কবির ও সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল আজিম বলেন, “খতিব কাউকে উদ্দেশ করে নয়, যোগ্য ও সৎ মানুষকে ভোট দেওয়ার কথা বলেছেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কিছু লোক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। বিষয়টি সমাধান হয়ে যাবে বলে আমরা আশা করছি।”
ইখা