ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. দেলাওয়ার হোসেনের নির্বাচনী বিলবোর্ড ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে জামায়াতের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ তুলে ধরেন জামায়াতের জেলা নেতারা।
এরপর নেতাকর্মীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠ থেকে শুরু হয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বাসভবনের সামনে দিয়ে অতিক্রম করে জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে দিয়ে চৌরাস্তা হয়ে পুনরায় বড় মাঠে এসে শেষ হয়।
মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশে জামায়াত নেতারা অভিযোগ করেন, গভীর রাতে পরিকল্পিতভাবে জামায়াত প্রার্থীর নির্বাচনী বিলবোর্ড ভেঙে ফেলা হয়েছে। দাড়িপাল্লা প্রতীকের প্রচারণা বাধাগ্রস্ত করতেই এ ধরনের ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
জামায়াত নেতারা বলেন, “বিলবোর্ড ভেঙে জামায়াতকে দমিয়ে রাখা যাবে না। এটি নিন্দনীয় ও দুঃখজনক ঘটনা।” তারা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। বিষয়টি ইতোমধ্যে প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে বলেও জানান তারা।
এ সময় জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি কফিল উদ্দিনসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ঠাকুরগাঁও বড় মাঠসংলগ্ন এলাকায় স্থাপিত নির্বাচনী বিলবোর্ডটি গভীর রাতে ছিঁড়ে ও ভেঙে ফেলা হয়েছে, যা সরাসরি নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন।
এ বিষয়ে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মো. দেলাওয়ার হোসেন বলেন, “আমরা জানি এসব কারা করছে বা করাচ্ছে। তবে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বলেই আমরা পাল্টা কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছি না। কিন্তু এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটলে আমরা বসে থাকব না। সমস্ত প্রমাণসহ দুষ্কৃতকারীদের আইনের হাতে তুলে দেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, “ডাকসু নির্বাচনের সময় যেভাবে ছাত্রশিবির প্যানেলের ফেস্টুন বিকৃত করা হয়েছিল, তার প্রভাব ফলাফলেও পড়েছিল। ইনশাআল্লাহ, ঠাকুরগাঁওবাসীও এবার দুষ্কৃতকারীদের উপযুক্ত জবাব দেবে।”
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেন, “ঘটনাটি আমাদের নজরে এসেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
রিটার্নিং কর্মকর্তা ইশরাত ফারজানা জানান, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইখা