যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে হরমুজ প্রণালী ও তার আশপাশে লাইভ-ফায়ার মহড়া করার ঘোষণাও দিয়েছে ইরান।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) নোটিশ টু এয়ারম্যান (নোটেম) জারি করেছে ইরানের সরকার। সেই নোটিশে হরমুজ প্রণালী ও তার আশপাশের এলাকায় ভূপৃষ্ঠ থেকে ২৫ হাজার ফুট উচ্চতা পর্যন্ত বিমান চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ২৫ হাজার ফুট উচ্চতার নিচে কোনো বিমান দেখা গেলে সেটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে— সেই সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে নোটেমে।
গত ২৬ জানুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় প্রবেশ করেছে মার্কিন বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনসহ বেশ কয়েকটি রণতরীর বড় একটি বহর। এই বহর আসার পরের দিনই মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক বিমান মহড়ার ঘোষণা দিলো সেন্টকোম।
২০১৬ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পার ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তিক্ততা শুরু হয় তেহরানের। পরে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর এই শত্রুতা আরও গভীর হয়।
ইরানের পরমাণু প্রকল্পকে গিরে গত বছর জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতও হয়েছে ইরানের। ১২ দিনের সেই সংঘাতে ইরানের পরমাণু প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়, নিহত হন ইরানের বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কমান্ডার এবং পরমাণু বিজ্ঞানী।
১২ দিনের সংঘাত শেষে যুদ্ধবিরতি হলেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা হ্রাস পায়নি, উপরন্তু ইরানের সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ সেই উত্তেজনাকে ফের উসকে দিয়েছে। গত ডিসেম্বরের শেষ থেকে চলতি জানুয়ারির মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত চলেছে এই বিক্ষোভ। বিক্ষোভের সময়েই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ‘যে কোনো সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান চালানোর হুমকি দিয়েছিলেন।
প্রধানত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশেই জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে এশিয়া-প্রশান্ত অঞ্চল থেকে রওনা হয়ে ২৬ জানুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় পৌঁছায় মার্কিন বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনসহ বেশ কয়েকটি রণতরীর একটি বহর। এই বহর আসার পরের দিন ২৭ জানুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক বিমান মহড়ার ঘোষণা দেয় মাকিন সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকোম)।
গতকাল সেন্টকম সামরিক বিমান মহড়ার ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালীতে লাইভ-ফায়ার মহড়ার ঘোষণা দেয় ইরান।
উল্লেখ্য, বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য হরমুজ প্রণালী কৌশলগতভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ রুট। প্রতিদিন এই রুট দিয়ে লাখ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা হয়।
এমআর-২