শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে রেজাউল করিম নামে এক জামায়াত নেতা নিহত হয়েছেন। নিহত রেজাউল ঝিনাইগাতী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ছিলেন। এসময় উভয় দলের অন্তত অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হন।
বুধবার রাত পৌনে ১০টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার সময় তিনি মারা যান।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন শেরপুরের জামায়াতের প্রার্থী রাশেদুল ইসলাম।
তিনি জানান, এ ঘটনায় ৫০-এর বেশি জামায়াত সমর্থক আহত হন। তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে রেজাউল করিম ইন্তেকাল করেন।
বিকালে ঝিনাইগাতী উপজেলা মিনি স্টেডিয়াম মাঠে ওই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে বুধবার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে নির্বাচনি ইশতেহার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পূর্ব নির্ধারিত সময় অনুযায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আশরাফুল ইসলাম রাসেল, ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল হাসানসহ অন্যান্যরা ইশতেহার পাঠ মঞ্চে অনুষ্ঠান শুরুর জন্য অপেক্ষা করছিলেন।
ওই সময় জামায়াত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের নেতাকর্মীরা আগে থেকেই চেয়ারে বসা থাকলেও বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল অনুষ্ঠানস্থলে না পৌঁছায় বিএনপি নেতাকর্মীরা তার অপেক্ষায় ছিলেন। ফলে তাদের সবাই চেয়ারে বসতে পারেননি। এ নিয়ে বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল ও জামায়াত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের কর্মী-সমর্থকরা চেয়ারে বসা নিয়ে বাকবিতণ্ডা শুরু করেন। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া শুরু হয়।
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক কর্মী-সমর্থক আহত হন। জ্বালিয়ে দেওয়া হয় একটি মোটরসাইকেল। এ সময় সংবাদ সংগ্রহকালে দুজন সাংবাদিকও আহত হন এবং তাদের সাথে থাকা একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।
এদিকে সংঘর্ষের খবর পেয়ে সেনাবাহিনীর ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
জামায়াত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের অভিযোগ, পূর্বপরিকল্পিতভাবে বিএনপি ও তাদের সমর্থকরা জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা করে। আমরা প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।
বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেলের দাবি, উগ্রবাদী জামায়াতিরা পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করছে। তারা দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরির ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে ইশতেহার অনুষ্ঠান শুরুর প্রাক্কালে পূর্বপ্রস্তুতি নিয়ে হামলা চালিয়েছে। এতে আমাদের দলের অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছে। বর্তমানে তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন।
ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রাজীব সাহা জানান, এখন পর্যন্ত মোট আহতের সঠিক সংখ্যা বলা যাচ্ছে না। তবে এ পর্যন্ত ১২ জনের মতো হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। চারজনকে জেলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। আর ১০/১২ জনের মতো প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল হাসানকে ফোন করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে পরে কথা বলবেন বলে ফোন কেটে দেন।
তবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভূঁঞা জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। এ ঘটনায় এখনো কোন মামলা হয়নি। অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম রাসেল জানান, ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্যদের সমর্থকদের মধ্যে চেয়ারে বসা নিয়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এফএস