দেশের রিজার্ভে বড় সুখবর, ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল
দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে এখন ৩৫ হাজার ৩১ দশমিক ৪৫ মিলিয়ন বা ৩৫ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবশেষ তথ্যানুযায়ী, ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলার। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ২৮৯ দশমিক ৪২ মিলিয়ন বা ৩০ দশমিক ২৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে।এর আগে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৪ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর বিপিএম-৬ পদ্ধতিত রিজার্ভ ছিল ৩০ দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলার। নিট রিজার্ভ গণনা করা হয় আইএমএফের বিপিএম-৬ পরিমাপ অনুসারে। মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায় বিয়োগ করলে নিট বা প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ পাওয়া যায়।বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুর গত ১৯ জানুয়ারি বলেছিলেন, ‘চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে ৩৫ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে। এমনকি এই লক্ষ্যমাত্রা আমরা অতিক্রম করে যাব। আর এটি সম্ভব হবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে নেয়া ঋণের কিস্তির অর্থ ছাড়াই।’জানা গেছে, দেশের ইতিহাসে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে ২০২১ সালের আগস্টে। তখন আন্তব্যাংক কেনাবেচায় প্রতি মার্কিন ডলারের দর ছিল ৮৪ টাকা ২০ পয়সা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের সময় রিজার্ভ কমে হয় ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলার। আইএমএফের হিসাবপদ্ধতি অনুযায়ী তখন রিজার্ভ ছিল ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার। এরপর প্রতি ডলার ৩৬ টাকা বেড়ে ১২০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। আমদানিতে বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব দিয়ে ডলারের দাম বাজারের ওপর ছেড়ে দেয়ার পাশাপাশি প্রবাসী আয় বাড়ানোর পদক্ষেপ নেয়। এ ছাড়া ধীরে ধীরে আমদানি বিধিনিষেধ উঠিয়ে দেয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য উদারীকরণের নীতি নেয়। ফলে বাড়তে থাকে প্রবাসী আয়। এর ফলে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিনিয়ত ডলার কিনতে থাকে। এতে রিজার্ভ বেড়েছে।চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম ২৩ দিনে দেশে ২৫৬ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে, যা গত বছরের একই বছরের সময়ের তুলনায় ২৩ শতাংশ বেশি। জাতীয় নির্বাচন ও রোজা উপলক্ষে দুই মাস ধরে দেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স আসা বেড়েছে। জানুয়ারি মাসে প্রবাসী আয় এসেছে ৩১৭ কোটি ডলার। তার আগের মাস ডিসেম্বরে এসেছিল ৩২২ কোটি ডলার। এদিকে প্রবাসী আয় বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কিনে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক।জানা যায় চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যাংকগুলো থেকে কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর চলতি মাসে এখন পর্যন্ত কিনেছে ১৫৩ কোটি ডলার। এর ফলে রিজার্ভ নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।এফএস
এবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ৪ পরিচালককে বদলি
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা ব্যবস্থায় হঠাৎ বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। গভর্নর পরিবর্তনের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির চারজন পরিচালক এবং একজন অতিরিক্ত পরিচালককে নতুন দায়িত্বে বদলি করা হয়েছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) জারি করা ব্যাংকের এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন এ অফিস আদেশ অনুযায়ী, পরিচালক মো. জয়নুল ইসলাম হিউম্যান রিসোর্সেস ডিপার্টমেন্ট-১ থেকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন বিভাগে বদলি হয়ে নতুন দায়িত্ব পালন করবেন। তার বদলে পরিচালক মো. শহিদ রেজা আর্থিক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন বিভাগ থেকে বদলি হয়ে হিউম্যান রিসোর্সেস ডিপার্টমেন্ট-১-এ যোগ দেবেন। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে উভয় বিভাগের অভিজ্ঞতা এবং প্রশাসনিক দক্ষতা সমন্বিতভাবে ব্যবহার করা হবে বলে জানা গেছে।তৃতীয় বদলি হিসেবে পরিচালক মো. বায়েজিদ সরকার ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ থেকে বদলি হয়ে মতিঝিল অফিসে ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক (কারেন্সি হিসেবে) দায়িত্ব পালন করবেন। এ পদে তিনি ব্যাংকের অর্থ এবং নীতি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ড তদারকি করবেন।এছাড়াও, পরিচালক গাজী মো. মাহবুবুল ইসলাম মতিঝিল অফিস থেকে বদলি হয়ে ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১-এ যোগ দেবেন, যেখানে তিনি নীতি নির্ধারণ এবং নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে সহায়তা করবেন।অতিরিক্ত পরিচালক হিসেবে মো. কামরুল ইসলাম গভর্নর অফিস থেকে বদলি হয়ে সদরঘাট অফিসে দায়িত্ব পালন করবেন। তার বদলির মাধ্যমে সদরঘাট অফিসের প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও সুসংগঠিত ও দক্ষভাবে পরিচালনা করা হবে।এই বদলিগুলি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে অফিস আদেশে। এফএস
জাতীয়
সব দেখুন
দেশে ফের শক্তিশালী ভূমিকম্প
দেশে ফের ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। আজ বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০ টা ৫৩ মিনিটে এ কম্পন অনুভূত হয়।ইএমএসসি ওয়েবসাইট অনুযায়ী রিখটার স্কেলে এর মাত্র ছিল ৫ দশমিক ১। এর উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমারের সাংগাই অঞ্চলের মনিওয়া শহর থেকে প্রায় ১১২ কিলোমিটার উত্তর-উত্তরপশ্চিমে এবং মাওলাইক শহর থেকে প্রায় ৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে।ভূমিকম্পটির অবস্থান ছিল ২৩ দশমিক ০৪১১ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ ও ৯৪ দশমিক ৭২৬৮ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে। ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল ১০১ কিলোমিটার।রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় এ কম্পন অনুভূত হয়েছে। ঢাকার বনশ্রী, সবুজবাগ, মগবাজার, মালিবাগ এলাকার একাধিক বাসিন্দারা এই কম্পন অনুভবের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। কম্পন অনুভূত হওয়ায় রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় মানুষ ঘরবাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন।এছাড়া সিলেটেও ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে বলে খবর। এই কম্পনে নগরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।এদিকে কক্সবাজারসহ চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলায়ও ভূমিকম্প অনুভূত হয় বলে জানিয়েছেন সেখানের বাসিন্দারা। ভূমিকম্পনে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি। এফএস
আমরা সীমান্ত বাহিনীকে আরও আধুনিক ও সুসংহত করব: প্রধানমন্ত্রী
দীর্ঘ সংগ্রামের পর আজ জনগণের রায়ে নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনা করছে। দেশের প্রশ্নে আমরা সীমান্ত বাহিনীকে আরও আধুনিক ও সুসংহত করব। আমাদের সদস্যরা দেশপ্রেম ও পেশাগত উৎকর্ষতায় সীমান্তে দায়িত্ব পালন করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সেনা দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে শহীদ সেনা অফিসারদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় ও ইফতার অনুষ্ঠানের এসব কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালের পিলখানায় শাহাদাতবরণকারী সদস্যদের পরিবারবর্গ ও নিকটাত্মীয়রা, পিলখানায় চাকরিরত সেই সব সেনা অফিসার যারা দুঃসহ স্মৃতি আজও বয়ে বেড়াচ্ছেন।তিনি বলেন, মাহে রমজানের এই পড়ন্ত বিকেলে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের, ৯০ -এর গণআন্দোলন এবং ২৪ -এর গণঅভ্যুত্থানে শাহাদাতবরণকারী সব ছাত্র-জনতাকে। গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে শাহাদাতবরণকারী ৫৭ জন দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন বীর শহীদকে। আমি তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত শহীদ পরিবারবর্গের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। তারেক রহমান বলেন, এই দিনটি এলে প্রকৃতি যেন আবার স্মৃতি ও শোকের ভারে নীরব হয়ে যায়, বাতাসে ভেসে আসে সেই বিভীষিকাময় মুহূর্তের আর্তনাদ। আমাদের হৃদয় গভীর বেদনায় ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির এই নির্মম ঘটনা আমাদের জাতীয় জীবনে এক গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে, যার বেদনা সময় পেরিয়ে আজও বহমান।তিনি বলেন, ঘটনার দীর্ঘ ১৭ বছর পরে শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত এই প্রাঙ্গণে আজ আমার কণ্ঠ ভারী হয়ে আসছে। আমি কেবল একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে নয়, একজন সেনা পরিবারের সদস্য হিসেবে, একজন সহযোদ্ধার সন্তানের মতো আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি। ২০০৯ সালের সেই বিভিষীকাময় ঘটনায় ৫৭ জন মেধাবী ও দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাসহ সর্বমোট ৭৪টি প্রাণ ঝরে গিয়েছিল। প্রতিটি নাম একটি পরিবারের আলো নিভে যাওয়ার গল্প, প্রিয়জন হারানোর বেদনাবিধুর অধ্যায়, একটি সন্তানের পিতৃহীন হওয়ার ইতিহাস, একটি স্বপ্নের অসমাপ্ত মহাকাব্য।প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি বিশ্বাস করি, পিলখানার ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির ঘটনাকে ইতিহাসে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা না দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। তাই সেনাবাহিনী ও আপনাদের সঙ্গে আলোচনা করে ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির স্মৃতিকে অম্লান করে রাখতে বর্তমান সরকার কাজ করবে।আমাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শিকড় আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসে প্রোথিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের যেদিন চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, সেদিন সেনাবাহিনীর সঙ্গে তদানীন্তন ইপিআরের সদস্যরা বেতারকেন্দ্রে দায়িত্বে নিয়োজিত থেকে গৌরবময় ইতিহাসের সাক্ষী হয়েছে এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্ন থেকে সেনাবাহিনীর সঙ্গে অবিস্মরণীয় অবদান রেখে চলেছে। পরবর্তীকালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে সুসংহত করতে বিশেষ গুরুত্বারোপ করে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ শুরু করেন। সেনাবাহিনী থেকে যোগ্য ও মেধাবী অফিসারদের প্রেষণে প্রেরণের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়। ১৯৭৮ সালে এই বাহিনীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ঘটনা হলো সামরিক কায়দায় নতুন করে পুনর্গঠিত হওয়া। পূর্বের উইংসমূহকে পরিবর্তন করে ব্যাটালিয়নে রূপান্তর করা হয়। দুটি নতুন ব্যাটালিয়ন সংযোজন করে বাহিনীর সংগঠনকে পরিবর্ধিত করা হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ও স্বাধীনতা পরবর্তী দেশ গঠনে সেনাবাহিনীর রয়েছে গৌরবোজ্জল ইতিহাস— এমন মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সেনাবাহিনী আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রতীক। আমি মনে করি, পিলখানার এই মর্মান্তিক ঘটনা ছিল আমাদের সার্বভৌমত্বকে নস্যাতের একটি অপপ্রয়াস। পিলখানার ঘটনার পরিক্রমায় আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর দুর্বলতা ফুটে ওঠে। তাই বহির্বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও আধুনিক, সময়োপযোগী ও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে আমাদের সরকার কাজ করবে। একই সঙ্গে শহীদ পরিবারের সদস্যদের কল্যাণে তাদের সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও আমরা পুনর্ব্যক্ত করছি।এমআর-২
রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করে গ্রেফতারের দাবি নাহিদের
রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম।বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বনানী সামরিক কবরস্থানে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের শহিদদের কবর জিয়ারত শেষে এ দাবি জানান তিনি।নাহিদ বলেন, চব্বিশের জুলাইয়ে গণহত্যা ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন। এজন্য তিনি গণহত্যার দায় এড়াতে পারেন না। সংসদের প্রথম অধিবেশনে তাকে অভিসংশন করতে হবে। এরপর গণহত্যার দায়ে তাকে গ্রেফতার করতে হবে।এমআর-২
নতুন আইজিপিকে র্যাঙ্ক ব্যাজ পরালেন প্রধানমন্ত্রী
নতুন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরকে র্যাঙ্ক ব্যাজ পরিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে নবনিযুক্ত আইজিপিকে র্যাঙ্ক ব্যাজ পরান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ উপস্থিত ছিলেন।এর আগে পুলিশের নতুন মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন আলী হোসেন ফকির। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে নবনিযুক্ত আইজিপি পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে পৌঁছালে পুলিশের একটি চৌকস দল তাকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। এরপর তিনি দায়িত্বভার বুঝে নেন।গত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে এই পদে নিয়োগ প্রদান করে।আলী হোসেন ফকির ১৯৯৫ সালের ১৫ নভেম্বর ১৫তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে যোগদান করেন। তিনি নেত্রকোনা, ফেনী ও মাগুরা জেলার পুলিশ সুপার ছিলেন। আরআরএফ সিলেটের কমান্ড্যান্ট এবং ৩ এপিবিএন খুলনা, ৫ এপিবিএন ঢাকা, ৭ এপিবিএন সিলেটের অধিনায়ক ছিলেন। ডিআইজি হিসেবে তিনি পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স এবং এসপিবিএনে কর্মরত ছিলেন।বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি। এছাড়াও, তিনি ১৫তম বিসিএস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক, ১৫তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের আহ্বায়ক এবং অফিসার্স ক্লাব ঢাকা ও খুলনা ক্লাবের সদস্যসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ম্যানেজমেন্টে বিকম (অনার্স) ও এমকম এবং এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন।এমআর-২
প্রার্থীদের নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাব দিতে ইসির নির্দেশ
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সব প্রার্থীকে আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাব জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব এএসএম ইকবাল হাসান স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত চিঠি সব রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়।চিঠিতে বলা হয়, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর ৪৪(গ) অনুচ্ছেদ অনুসারে নির্বাচিত প্রার্থীগণের নামের গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে নির্বাচনের সব প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে ব্যয়ের রিটার্ন দাখিলের বিধান রয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রার্থীগণের নাম, ঠিকানা সম্বলিত গেজেট ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয়েছে।চিঠিতে আরও বলা হয়, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীগণ কর্তৃক ব্যয় বিবরণী দাখিল নিশ্চিতকরণে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে জারিকৃত পরিপত্র-১৮ অনুসারে কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া নির্ধারিত সময়ে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে দাখিলকৃত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের স্ব-স্ব নির্বাচনি ব্যয়ের রিটার্নের তথ্য আগামী ২৫ মার্চের মধ্যে ইসিতে পাঠাতে হবে।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। সেই হিসেবে আগামী ১৫ মার্চ গেজেট প্রকাশের ৩০ দিন পূর্ণ হবে। আর ওই দিনেই নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বী সব প্রার্থীকে নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাব দিতে হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ২ হাজারের বেশি প্রার্থী।এমআর-২
ফোন করে অসুস্থ জামায়াত আমিরের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের অসুস্থতার খবর শুনে ফোনকলে তার সঙ্গে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাদের আমির ডা. শফিকুর রহমানের সাময়িক অসুস্থতার খবর শুনে কুশল জিজ্ঞেস করেন। এরপর তিনি ফোনে কথা বলার আগ্রহ প্রকাশ করলে আমি জামায়াত আমিরের কাছে ফোন দেই। পরে তিনি ফোনকলে আমিরে জামায়াতের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।’এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে জামায়াত আমির ইফতারের দাওয়াত দেন বলেও উল্লেখ করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, ‘আমাদের আমির তাকে (প্রধানমন্ত্রীকে) সপরিবারে, তার স্ত্রী ও কন্যাকে সেখানে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন। উভয়কেই আমরা দাওয়াতপত্র দিয়েছি। তিনি সেটা গ্রহণ করেছেন।’প্রসঙ্গত, গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর শেওড়াপাড়া এলাকায় একটি আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে যাওয়ার কথা ছিল জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের। যাত্রাপথে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। তবে আজ তার স্বাস্থ্যের পরিস্থিতি ভালো আছে। দুপুরে তিনি বনানীর সামরিক কবরস্থানে শহীদ সেনা সদস্যদের কবর জিয়ারত করেন।এমআর-২
ঈদের আগে-পরে ২০ দিন ট্রেনে থাকছে না সেলুনকার
আসন্ন ঈদ উপলক্ষে যাত্রীসেবা নিশ্চিতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঈদের ১০ দিন আগে এবং ঈদের পর ১০ দিন পর্যন্ত ট্রেনে সেলুনকার সংযোজন না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রেলপথ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা রেজাউল করিম সিদ্দিকীর পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঈদযাত্রায় সুন্দরবন, মধুমতি, বেনাপোল, জাহানাবাদ, রূপসীবাংলা এক্সপ্রেস ও নকশীকাঁথা কমিউটার ট্রেন ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনের শহরতলী প্ল্যাটফর্ম থেকে পরিচালনা করা হবে।রেলওয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১৬ মার্চ থেকে ঈদের পূর্বদিন পর্যন্ত ঢাকাগামী একতা, দ্রুতযান, পঞ্চগড়, নীলসাগর, কুড়িগ্রাম, লালমনি, রংপুর, চিলাহাটি ও বুড়িমারী এক্সপ্রেস ট্রেনসমূহের ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশনে যাত্রা বিরতি থাকবে না।এইচএ
পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার সাজ্জাত আলী
পারিবারিক কারণ দেখিয়ে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির আবেদন করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে অব্যাহতিপত্রে স্বাক্ষর করে পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠান তিনি।ডিএমপির ৩৮তম পুলিশ কমিশনার হিসেবে ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর দায়িত্বভার গ্রহণ করছিলেন শেখ মো. সাজ্জাত আলী। চব্বিশের ৫ আগস্ট রাজধানীতে ভঙ্গুর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্যে ডিএমপি কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে তিনি। শেখ মো. সাজ্জাত আলী ১৯৮৬ সালে ২১ জানুয়ারি সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে তিনি ঝিনাইদহ, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স ও এসবিতে দায়িত্ব পালন করেন। উপ-পুলিশ কমিশনার হিসেবে তিনি ডিএমপি, পুলিশ সুপার হিসেবে নড়াইল, বাগেরহাট ও লক্ষ্মীপুর জেলায় দায়িত্ব পালন করেন। তিনি খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ডিআইজি পদে পদোন্নতি লাভ করে তিনি হাইওয়ে পুলিশ, চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স ও ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজির দায়িত্ব সফলতার সাথে পালন করেন। ২০১৬ সালে ৩ নভেম্বর তাকে বাধ্যতামূলক অবসর প্রদানের সময় তিনি পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি বর্তমান সরকার কর্তৃক গঠিত পুলিশ সংস্কার কমিশনের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণ করেন এবং দেশে-বিদেশে পেশাগত নানা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।শেখ মো. সাজ্জাত আলী ১৯৬১ সালের ২৫ মার্চ ঢাকা জেলায় সম্ভ্রান্ত এক মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতার নাম শেখ ওয়েজেদ আলী এবং মাতার নাম মিসেস নুরজাহান বেগম। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত এবং দুই কন্যা ও এক পুত্র সন্তানের জনক।এমআর-২
সর্বশেষ প্রকাশিত
রাজনীতি
সব দেখুন
গোপন বিষয় প্রকাশ করে শপথ ভেঙেছেন রাষ্ট্রপতি: জামায়াত
সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর বিভিন্ন বিষয় জনসমক্ষে প্রকাশ করায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার।বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি’ পদটি দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ। এ পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তির প্রতিটি বক্তব্য ও পদক্ষেপ জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তা রাষ্ট্রীয় শপথ ও গোপনীয়তা রক্ষার নীতিমালার সঙ্গে সম্পৃক্ত। রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ও গোপনীয় বিষয় জনসমক্ষে প্রকাশ করে শপথ ভঙ্গ করেছেন এবং রাষ্ট্রের গোপন বিষয়ের মতো আমানত রক্ষায় ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। এতে দেশবাসীর মনে নানা প্রশ্ন, বিতর্ক ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। আমি তার এই সাক্ষাৎকারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি।তিনি বলেন, একজন রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার বক্তব্য জাতির সামনে নতুন বিতর্ক ও অনিশ্চয়তার জন্ম দিয়েছে। সংবিধান, রাষ্ট্রীয় শপথ এবং সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার প্রশ্নে তিনি জাতিকে বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলে দিয়েছেন। ‘রাষ্ট্রপতি’ পদে থেকে এমন বক্তব্য প্রদান করে তিনি শপথ ভঙ্গ করেছেন, যা রাষ্ট্রের মর্যাদা ও ভাবমর্যাদার সঙ্গে একেবারেই অসামঞ্জস্যপূর্ণ।তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সাংবিধানিক শালীনতা বজায় রাখা প্রত্যেক দায়িত্বশীল ব্যক্তির কর্তব্য। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সংযত ও পরিমিত বক্তব্য দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রতি জনগণের আস্থা অটুট রাখতে রাষ্ট্রপতিকে সংবিধান ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে বক্তব্য প্রদান করতে হবে এবং রাষ্ট্রের মর্যাদা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় আরও সতর্ক থাকতে হবে।এমআর-২
গোপন বিষয় প্রকাশ করে শপথ ভেঙেছেন রাষ্ট্রপতি: জামায়াত
সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর বিভিন্ন বিষয় জনসমক্ষে প্রকাশ করায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার।বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি’ পদটি দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ। এ পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তির প্রতিটি বক্তব্য ও পদক্ষেপ জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তা রাষ্ট্রীয় শপথ ও গোপনীয়তা রক্ষার নীতিমালার সঙ্গে সম্পৃক্ত। রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ও গোপনীয় বিষয় জনসমক্ষে প্রকাশ করে শপথ ভঙ্গ করেছেন এবং রাষ্ট্রের গোপন বিষয়ের মতো আমানত রক্ষায় ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। এতে দেশবাসীর মনে নানা প্রশ্ন, বিতর্ক ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। আমি তার এই সাক্ষাৎকারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি।তিনি বলেন, একজন রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার বক্তব্য জাতির সামনে নতুন বিতর্ক ও অনিশ্চয়তার জন্ম দিয়েছে। সংবিধান, রাষ্ট্রীয় শপথ এবং সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার প্রশ্নে তিনি জাতিকে বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলে দিয়েছেন। ‘রাষ্ট্রপতি’ পদে থেকে এমন বক্তব্য প্রদান করে তিনি শপথ ভঙ্গ করেছেন, যা রাষ্ট্রের মর্যাদা ও ভাবমর্যাদার সঙ্গে একেবারেই অসামঞ্জস্যপূর্ণ।তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সাংবিধানিক শালীনতা বজায় রাখা প্রত্যেক দায়িত্বশীল ব্যক্তির কর্তব্য। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সংযত ও পরিমিত বক্তব্য দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রতি জনগণের আস্থা অটুট রাখতে রাষ্ট্রপতিকে সংবিধান ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে বক্তব্য প্রদান করতে হবে এবং রাষ্ট্রের মর্যাদা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় আরও সতর্ক থাকতে হবে।এমআর-২
প্রধানমন্ত্রীকে স্বপরিবারে ইফতারের দাওয়াত জামায়াতে ইসলামীর
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সপরিবারে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইফতার অনুষ্ঠানে দাওয়াত দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী। আন্তরিকতার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী দাওয়াত গ্রহণ করেছেন বলে জানিয়েছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে দাওয়াতপত্র নিয়ে সচিবালয়ে প্রবেশ করে জামায়াতের প্রতিনিধি দল।সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জামায়াত নেতাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সৌজন্য এ সাক্ষাতে পরস্পর শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী মুঠোফোনে বিরোধী দলীয় নেতা জামায়াত আমিরের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনীতির সব বিতর্কের জায়গা যেন সংসদ হয়। এর সমর্থন জানিয়ে জামায়াত নেতারা বলেন, রাজপথে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন হতেই পারে। তবে অতীতের মতো রাজনীতিতে খারাপ চর্চা যেন না হয়। সরকারকে মূল্যায়নের সময় এখন হয়নি। জাতি অপেক্ষা করছে ভালো কিছুর জন্য। বিরোধী দল ও সরকারি দলের মধ্যে সুন্দর সমন্বয় ও সহংহিতর মধ্য দিয়ে দেশটিকে এগিয়ে নেয়ার আশা প্রকাশ করেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি।এমআর-২
অনুদানের অর্থ ফেরত দেওয়ার ঘোষণা তাসনিম জারার
নির্বাচনী তহবিলে অনুদানের অর্থ ফেরত দেওয়া ঘোষণা দিয়েছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা।গতকাল মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এ ঘোষণা দেন তাসনিম জারা।ফেসবুকে তাসনিম জারা লিছেন, ‘আমাদের নির্বাচনী তহবিলে যে আপনারা অনুদান দিয়েছিলেন, তার জন্য আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের পরিপ্রেক্ষিতে যারা প্রদত্ত অনুদান ফেরত পেতে চান, তারা দয়া করে নিঃসংকোচে এই ফর্মটি পূরণ করে অর্থ ফেরত নিন।আপনি ব্যাংকে অনুদান দিয়ে থাকলে, এই ফর্মটি পূরণ করুন: https://forms.gle/9a3H74yrLFFeJoFw8’তাসনিম জারা আরো লেখেন, ‘যারা সরাসরি ব্যাংকে ক্যাশ জমা দিয়েছিলেন, তারা ডিপোজিট স্লিপ হারিয়ে গেলে বা না থাকলেও আবেদন করুন। সেক্ষেত্রে কিছু অতিরিক্ত যাচাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আপনার অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। বিকাশে অনুদান দিয়ে থাকলে, এই ফর্মটি পূরণ করুন : https://forms.gle/NKTkkNVZvUvyrsGYA’ফেসবুকে তাসনিম জারা লেখেন, ফর্ম জমা দেওয়ার শেষ তারিখ : ১০ মার্চ, ২০২৬। আপনাদের আস্থা ও ভালোবাসার জন্য কৃতজ্ঞতা।এইচএ
হঠাৎ অসুস্থ জামায়াত আমির
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানী শেওড়াপাড়া এলাকায় কাফরুল পশ্চিম থানার উদ্যোগে আলোচনাসভা ও ইফতার মাহফিলে যাওয়ার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মুসা জানান, আজকের ইফতার মাহফিলে জামায়াত আমিরের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল। তিনি যাত্রাও করেছিলেন। হঠাৎ যাত্রাপথে তিনি বমি করেন এবং শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে যান। যার কারণে তিনি প্রোগ্রামস্থলে আসতে পারেননি। সবাই তার দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া করবেন।ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির সেলিম উদ্দিন জানান, আমরা জামায়াত আমিরের জন্য দোয়া করি—আল্লাহ যেন ওনাকে দ্রুত সুস্থ করে দেন। জাতি আশা করেছিল তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন। যে কোনো কারণে তিনি হেরে গিয়ে প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা হয়েছেন। ইনশাআল্লাহ তিনি প্রমাণ করবেন বিরোধীদলীয় নেতার আদর্শ কেমন হওয়া উচিত।এমআর-২
রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে ‘বিস্ফোরক’ মন্তব্য জামায়াত আমিরের
সম্প্রতি কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগ করেছেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। এসব অভিযোগের ব্যাপারে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৫টা ৬ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকের এক পোস্টে ওই মন্তব্য করেন তিনি।পোস্টে জামায়াত আমির লিখেন, ‘৫ আগস্ট ২০২৪ বিষয়ে রাষ্ট্রপতি অনেক কিছুই চেপে গেছেন। কথিত পলাতক প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়ে উনি উপস্থিত নেতৃবৃন্দকে যা বলেছিলেন এবং পরবর্তীতে জাতিকে যা জানিয়েছিলেন, তার বর্তমান বক্তব্যে তিনি তা স্বীকার করেননি। আর এখন যা বলছেন, সেদিন তার কিছুই তিনি বলেননি। কোটি-কোটি মানুষ যা শুনলো এবং সেদিন তিনি যা বললেন আর এখন যা বলছেন তার হিসেব রাষ্ট্রপতি মিলিয়ে দেবেন কি?’তিনি আরও বলেন, জাতি অবুঝ নয়। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ জায়গা থেকে এ রকম আচরণ অগ্রহণযোগ্য।সম্প্রতি বাংলাদেশের দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকাকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি কিছু ক্ষোভও প্রকাশ করেন।তিনি বলেছেন, তাকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল, তবে বিএনপি ও সামরিক বাহিনী সমর্থন না দেওয়ায় সেটা সম্ভব হয়নি।এমআর-২
স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনায় এনসিপির কমিটি গঠন
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনায় কমিটি গঠন করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে দলটির দফতর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।এতে বলা হয়, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্দেশক্রমে 'স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটি' গঠন করা হলো।স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান সারজিস আলম, সদস্যসচিব (এমপি) আব্দুল হান্নান মাসউদ, সদস্য আরিফুল ইসলাম আদীব, আলাউদ্দিন মোহাম্মদ, তাহসীন রিয়াজ ও অ্যাড মঞ্জিলা ঝুমা।এছাড়াও কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ, সকল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, এবং জেলার নেতৃবৃন্দ সার্বিক সহযোগিতা করবেন।এফএস
‘হাসনাত কই, লীগ তো দোকান খোলা শুরু করছে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের কার্যালয় খোলা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সংস্কার আর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হতাহতের ঘটনায় দায়ীদের বিচার হবে কিনা তা জানতে চাইলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।আজ সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও এনসিপির মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ট্যাগ করে একটি পোস্টে এ প্রসঙ্গ তোলেন তিনি।নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী লিখেছেন, ‘হাসনাত আব্দুল্লাহ কই? লীগ তো দোকান খোলা শুরু করছে। নির্বাচন তো হইলো, এইবার সংস্কার আর বিচার হইব্বে।’এর আগে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয় শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার। এরপর ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়। অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার। এই নির্বাচনে হাসনাত কুমিল্লা থেকে জয়ী হলেও ঢাকা-৮ আসনে লড়ে হেরে যান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।এইচএ
চলতি সপ্তাহে সর্বাধিক পঠিত
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পরিচয় পেয়েও সাংবাদিকদের বেধড়ক পিটুনি
রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সংবাদকর্মীদের ওপর পুলিশের বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার রাতে মাদকবিরোধী অভিযানের সংবাদ সরাসরি সম্প্রচার করার সময় বাংলানিউজের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার তোফায়েল আহমেদসহ বেশ কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর লাঠিচার্জ করে একদল পুলিশ সদস্য। বারবার নিজেদের পরিচয় দেওয়ার পরও কোনো তোয়াক্কা না করে পুলিশ তাদের বেধড়ক লাঠিপেটা ও শারীরিক নির্যাতন চালায়।সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদক নির্মূলে বিশেষ অভিযানে নামে পুলিশ।জনগুরুত্বপূর্ণ এই অভিযানের দৃশ্য জনসমক্ষে তুলে ধরতে ফেসবুক লাইভ করছিলেন সাংবাদিক তোফায়েল আহমেদসহ অন্যান্য সাংবাদিকরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লাইভ চলাকালীন কোনো উসকানি ছাড়াই একদল পুলিশ সদস্য এসে তোফায়েলকে লক্ষ্য করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। তিনি নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে পুলিশ। এ সময় তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় এবং একের পর এক লাঠির আঘাত করা হয়।ঘটনাস্থলে উপস্থিত আজকের পত্রিকার মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার কাওসের আহম্মেদ রিপন বলেন, ‘পুলিশ কোনো ধরনের বাছবিচার ছাড়াই সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়। তোফায়েলকে যখন মারা হচ্ছিল, তখন আমরা তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করি। কিন্তু পুলিশ সদস্যরা এতটাই মারমুখী ছিলেন যে, তারা আমাদেরও লাঠিপেটা করে।’পুলিশের পিটুনিতে গুরুতর আহত তোফায়েল আহমেদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়েছে।মাথায় ও পিঠে আঘাতের ফলে তার রক্তক্ষরণ হয়। সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ভোঁতা অস্ত্রের (লাঠি) আঘাতে তার শরীরে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের ঝুঁকি রয়েছে।আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন অপেশাদার আচরণে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা দেওয়ার বদলে সংবাদকর্মীদের ওপর এমন হামলাকে ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’ হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল। এ প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মাসুদ আলম বলেন, ‘যেহেতু ভিডিও ফুটেজ আছে, তাই ভিডিও দেখে সাংবাদিক পেটানোর ঘটনায় যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় পুলিশের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাংবাদিক নেতারা।এদিকে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে রাতেই তীব্র নিন্দার ঝড় ওঠে বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের পক্ষ থেকে। সাংবাদিক নেতারা বলেন, রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভের ওপর এমন আক্রমণ গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের শামিল। তারা অবিলম্বে হামলাকারী পুলিশ সদস্যদের বরখাস্ত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় রাজপথে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।অপরাধ দমনের নামে পুলিশের এমন ‘বেপরোয়া’ আচরণ খোদ বাহিনীর ইমেজকে সংকটে ফেলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। জননিরাপত্তার দোহাই দিয়ে রক্ষক যখন ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়, তখন আইনের শাসন নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দেয়। তাছাড়া অতি উৎসাহী এসব পুলিশ সদস্যদের জন্য সরকারও বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে পারে বলে মত নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের।এবি
রাজধানীতে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৪
রাজধানীর হাজারীবাগে একটি বাসায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে শিশুসহ একই পরিবারের ৪ জন দগ্ধ হয়েছেন। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৪টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। দগ্ধরা হলেন- শেখ রোমান (৩৫), তার স্ত্রী পিংকি আক্তার (৩২) ও তাদের ছেলে রুহান (৩), ও রোমানের শ্যালক অপু (২৩)। তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করানো হয়েছে।দগ্ধ রুমানের গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনায়। তিনি একটি রিয়েল এস্টেট কম্পানিতে চাকরি করেন। পরিবার নিয়ে রায়েরবাজারে ভাড়া বাসায় থাকেন। দগ্ধ রোমানের ভাই মামুন বলেন, পূর্ব রায়েরবাজারের একটি ৬ তলা ভবনের নিচতলায় ভোর ৪টার দিকে রান্না করতে গ্যাসের চুলা জ্বালালে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।এতে একই পরিবারের চারজন দগ্ধ হন। পরে তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে র্তি করা হয়।বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন শাওন বিন রহমান বলেন, দগ্ধ ৪ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের মধ্যে শেখ রোমানের শরীরের ৭০ শতাংশ, পিংকি আক্তারের ৭৫ শতাংশ, রুহানের শরীরের ৩৫ ও অপুর শরীরের ৫০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।এমআর-২
মার্কেট বন্ধ করা সেই চাঁদাবাজ গ্রেপ্তার করে মাইকিং করল পুলিশ
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মার্কেট বন্ধ করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে এক চাঁদাবাজকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।ব্যবসায়ীদের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চাঁদাবাজকে গ্রেপ্তারের পর তাকে নিয়েই এলাকায় মাইকিং করা হয়। পুলিশ জানায়, কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বরদাশত করা হবে না।এফএস
রাজধানীতে বাস-লেগুনা সংঘর্ষে প্রাণ গেল ২ জনের
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় বাস-লেগুনা সংঘর্ষে ২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও একজন। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মীর হাজারীবাগের গুন্ডিগড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।নিহতদের একজন আজিজুল ইসলাম (৪৫)। অপর নিহত ব্যক্তির পরিচয় এখনো জানা যায়নি। তার বয়স আনুমানিক ৫৫ বছর বলে ধারণা করা হচ্ছে।ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মো. ফারুক গণমাধ্যমকে বলেন, যাত্রাবাড়ী এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাজু জানান, মীর হাজারীবাগ গুন্ডিগড় এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনার একটি সংবাদ পেয়েছি। একটি লেগুন যাত্রী নামাচ্ছিল। এ সময় বাহাদুরশাহ পরিবহনের একটি বাস সামনে থেকে লেগুনাটিকে সজরে ধাক্কা দেয়। এ ঘটনায় বাহাদুরশাহ পরিবহন জব্দ ও চালককে আটক করা হয়েছে।এমআর-২
আদাবরে চাঁদা না পেয়ে কারখানায় সশস্ত্র হামলা, গ্রেপ্তার ৩
রাজধানীর আদাবর এলাকায় একটি এমব্রয়ডারি কারখানায় স্থানীয় কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজ চক্রের সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে। এ সময় তারা কয়েকজন শ্রমিককে কুপিয়ে আহত করে। এ ঘটনার পর এমব্রয়ডারি ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে থানা ঘেরাও করেন। পরে এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত রাসেলসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার বাকি দুজন হলেন, মারুফ ও হাসান।শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় আদাবরের ১৭ নম্বর রোডে এই ঘটনা ঘটে। রাত সাড়ে ১০টার দিকে দেড় শতাধিক লোক হামলার বিচারের দাবিতে থানা ঘেরাও করেন।স্থানীয়রা জানান, শনিবার সন্ধ্যায় আবির এমব্রয়ডারি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রায়হান জহিরের কারখানায় আকস্মিকভাবে দেশীয় অস্ত্রসহ কিশোর গ্যাং চক্রের সদস্যরা হামলা চালায়। এ সময় ওই কারখানার কয়েকজন শ্রমিককে কুপিয়ে আহত করা হয় বলে জানিয়েছেন মোস্তাফিজুর রায়হান জহিরের ভাতিজা মারুফ হাসান সুমন। তিনি জানান, রাসেল ওরফে কালা রাসেল নামের স্থানীয় এক কিশোর গ্যাং সদস্য তার চাচার কাছে ঈদ উপলক্ষ্যে চাঁদা দাবি করে। তিনি তা দিতে অস্বীকার করায় সন্ধ্যায় রাসেলের নেতৃত্বে ১০-১২ জন কিশোর গ্যাং সদস্য তাদের কারখানায় হামলা চালায়। এ সময় কারখানার কয়েকজন শ্রমিককে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলছেন, আদাবরের কিশোর গ্যাং লিডার রাসেল ওরফে কালা রাসেলের নেতৃত্বেই আজকের এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। তারা মূলত আদাবরের আরেক কিশোর গ্যাং লিডার রানার অনুসারী হিসেবে বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি ও দখলবাজি করে থাকে। এই রানা আদাবর ও মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন জায়গায় চাঁদার দাবিতে হামলা চালায়। তবে জীবননাশের ভয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাসিন্দারা এসব তথ্য জানান।এদিকে, এই ঘটনার বিচারের দাবিতে রাত সাড়ে ১০টায় আদাবর থানা ঘেরাও করেন এমব্রয়ডারি মালিক ও শ্রমিকরা। তাদের আদাবর থানার সামনের সড়কে দাঁড়িয়ে সন্ত্রাসীদের বিচারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। পরবর্তীতে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।এ বিষয়ে তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, আদাবর থানার সামনে আজ শতাধিক লোক জড়ো হয়েছিল। আবির এমব্রয়ডারি কারখানায় একটি ঘটনা ঘটার প্রেক্ষিতে তারা থানার সামনে অবস্থান নেয়। গতকাল ওই কারখানায় শ্রমিকদের বেতন দেওয়ার সময় ১০-১২ জনের একটি সশস্ত্র গ্রুপ চাপাতি নিয়ে হামলা চালায়। এতে বেশ কয়েকজন শ্রমিক আহত হন এবং তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।তিনি আরও জানান, রাসেল ওরফে কালা রাসেলের আদাবর ১৬ নম্বরের বাসায় শ্রমিকরা একত্রিত হয়ে ঘেরাও করলে পুলিশ তার বাবাকে হেফাজতে নেয়। এরপর সেখান থেকে শ্রমিকরা বিচারের দাবিতে থানার সামনে জড়ো হয়। আদিব এমব্রয়ডারির মালিক জহির ইতোমধ্যে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এই ঘটনায় অভিযুক্ত রাসেলসহ তিনজনকেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।এবি
যশোরে হাত-পা বেঁধে মুখে টেপ পেঁচিয়ে শিশুকে ধর্ষণ!
যশোরের বাঘারপাড়ায় হাত-পা বেঁধে মুখ টেপ পেঁচিয়ে সাড়ে ৫ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। মিষ্টির প্রলোভনে ডেকে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয়। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বাঘারপাড়া উপজেলার খলশী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ওই শিশুকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুর মা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার দুপুর ১২ টার দিকে মিষ্টির প্রলোভন দেখিয়ে আমার মেয়েকে বাড়ির পাশে আব্দুল হাই মাষ্টারের বাগানে ডেকে নিয়ে নিয়ে যায় খলশী গ্রামের আহাদ আলীর ছেলে শিহাব (১৮)। সেখানে হাত-পা বেঁধে মুখে টেপ পেঁচিয়ে শিহাব তাকে ধর্ষণ করে। আমার মেয়ে বাড়ি ফিরে ঘটনাটি আমাদেরকে জানায়৷ বুধবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সোয়া ১ টার দিকে তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রাহুল দেব জানান, ভর্তির সময় ওই শিশু শারীরিক যন্ত্রনায় কাতর ছিলো। তাকে ভর্তি করে চিকিৎসার জন্য গাইনী ওয়ার্ডে পাঠানো হয়েছে৷ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে। বাঘারপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহমুদুল হাসান জানান, শিশুকে ধর্ষণের তথ্য জানার পর ঘটনাস্থলে পুলিশের টিম পাঠানো হয়। বিষয়টি তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ঘটনার সাথে জড়িত শিহাবকে আটকের চেষ্টা চলছে। এসআর
দামুড়হুদায় দিনদুপুরে সশস্ত্র হামলা, বিচারের দাবিতে এলাকাবাসী
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা খাঁ পাড়ায় এক তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একদল সশস্ত্র যুবকের বর্বরোচিত হামলায় ও প্রতিনিয়ত বিভিম্ন হুমকিতে একটি পরিবার আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। ওই গ্রামের জাহিদুল মেম্বারের ভাড়াটে বাহিনীর এই নৃশংসতায় বর্তমানে ঢাকার দুটি হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন সাজু ও রাজু নামে দুই ভাই। এঘটনার প্রতিবাদে আসামীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে ভুক্তভোগী পরিবারটি এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান ধর্মঘট করেছে। এসময় দামুড়হুদা উপজেলা শহর যানযটের শহরে পটিনত হয়। মারাত্নক ভাবে আহত সাজু ও রাজু দামুড়হুদা খাঁপাড়ার বাবলু খাঁর দু'ছেলে।এবিষয়ে সাজু ও রাজুর চাচা খসরু খাঁ বাদীহয়ে ৭ নাম উল্লেখ সহ আরো ৮/১০ জনকে অজ্ঞত আাসামী করে ২২ ফেব্রুয়ারী দামুড়হুদা মডেল থানায় একটি মামলা করলেও ওই মামলায় পুলিশ কাউকে আটক করতে সক্ষম হয়নি।এদিকে, গ্রামবাসীদের প্রতিরোধে হামলাকারীদের এক যুবক সাজু (৩০) গণপিটুনিতে মারাত্মক ভাবে আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় দু'দিন পর (২৩ ফেব্রুয়ারী) মারা যায়। তার মৃত্যুর পর ঘটনাটি ভিন্নদিকে মোড় নেওয়ায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে ভুক্তভোগী পরিবারটি।এই পরিস্থিতিতে প্রকৃত আসামীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে ভুক্তভোগী পরিবারটি এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারী) সকালে দামুড়হুদা উপজেলা সদরের জিরো পয়েন্ট চৌরাস্তা মোড়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন তারা। এর আগে তারা উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়কে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিল করেন।প্রসঙ্গ: গত শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারী) বিকেলে দামুড়হুদা খাঁ পাড়ার বাবলু খাঁর বাড়িতে নেমে আসে অতর্কিত এক নারকীয় তাণ্ডব। প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, চুয়াডাঙ্গা থেকে মোটরসাইকেল যোগে আসা একদল হেলমেটধারী যুবক রামদা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাবলু খাঁর বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। হামলাকারীরা বাবলু খাঁর দুই ছেলে সাজু ও রাজুকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। ঘরের মেঝেতে জমে থাকা জমাট বাঁধা রক্ত আর ভাঙা আসবাবপত্র এখনো সেই বীভৎসতার সাক্ষী দিচ্ছে।হামলায় গুরুতর আহত দুই ভাইয়ের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। বর্তমানে একজন ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে এবং অন্যজন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্স ও হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।হামলার কারণ হিসেবে জানা গেছে, একটি গরু চুরির ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জাহিদুল মেম্বারের সাথে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে মোবাইল ভাঙা এবং সেই মোবাইল কিনে দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধ চরম আকার ধারণ করলে জাহিদুল মেম্বার ক্ষিপ্ত হয়ে ভাড়াটে বাহিনী দিয়ে এই হামলা চালান বলে অভিযোগ উঠেছে।ঘটনার সময় সাজু, রাজু ও তার পরিবারের চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসলে ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে গেলেও সাজু নামে তাদের একজনকে ধাওয়া করে ধরে গণপিটুনি দিয়ে রক্তাক্ত করে রাস্তায় ফেলে রাখে। সংবাদ পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠান। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাজুকে ঢাকায় পাঠালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৩ ফেব্রুয়ারী তার মৃত্যু হয়। পুলিশের কাছে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে সাজু জানিয়েছিল, জাহিদুল মেম্বারই তাদের ভাড়া করে এনেছিলেন।হামলার কয়েক দিন পার হলেও মূল অভিযুক্ত জাহিদুল মেম্বার এখনো গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী। উল্টো পরিবারটিকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রশাসনের নির্লিপ্ততার প্রতিবাদে এবং বিচারের দাবিতে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী রাজপথে অবস্থান নিলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে তারা অবস্থান ধর্মঘট তুলে নিলে প্রায় দু'ঘন্টা পর যানবাহন চলাচল সাবাভিক হয়।দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মেসবাহ উদ্দিন ঘটনার সত্যতা করে জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ কাজ করছে এবং অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।একটি তুচ্ছ ঘটনা থেকে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এখন চুয়াডাঙ্গার অন্যতম আলোচিত ও ভীতিকর বিষয়ে পরিণত হয়েছে। বাবলু খাঁর পরিবার এখন কেবল তাদের ছেলেদের সুস্থতা নয়, বরং এই বর্বরোচিত হামলার পরিকল্পনাকারী জাহিদুল মেম্বার ও তার বাহিনীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চায়।এসআর
ঝিনাইদহে প্রতিবন্ধীদের খাবারের টাকা দিয়ে শিক্ষকদের বেতন দেওয়ার অভিযোগ
ঝিনাইদহ সরকারি বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী আবাসিক বিদ্যালয়ে নিবাসী শিক্ষার্থীদের মাসিক খাদ্য মেন্যু ও বরাদ্দের হিসাব নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।সরকার নির্ধারিত মেন্যু ও দৈনিক বরাদ্দ থাকলেও প্রকৃত শিক্ষার্থীর তুলনায় বেশি সংখ্যা দেখিয়ে বিল-ভাউচার প্রস্তুতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কাগজে-কলমে চাল, ডাল, তেল, সবজি, ডিম, মৌসুমি ফল ও মাছ-মাংসের পূর্ণাঙ্গ তালিকা থাকলেও বাস্তবে সরবরাহে ঘাটতির অভিযোগ রয়েছে। এতে বরাদ্দের অর্থ ও প্রকৃত ব্যয়ের মধ্যে গরমিল তৈরি হচ্ছে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে সরেজমিনে গিয়ে প্রধান শিক্ষক মো. হাসানুজ্জামানকে পাওয়া যায়নি। পরে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বিদ্যালয় সংক্রান্ত তথ্য জানতে জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, তিনি জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত থেকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন।প্রধান শিক্ষক স্বীকার করেন, প্রকৃত শিক্ষার্থীর চেয়ে বেশি সংখ্যা দেখিয়ে বিল-ভাউচার প্রস্তুত হয়েছে। তার দাবি, বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট থাকায় অতিরিক্ত বিলের অর্থ দিয়ে বাইরে থেকে দুইজন শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে বেতন দেওয়া হচ্ছে। দুজন শিক্ষকের নাম, শিল্পী ও নিম্মি, তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া কিভাবে সম্পূর্ণ হয়েছে, কেন তাদের বেতন প্রতিবন্ধীদের খাবারের টাকা থেকে দেওয়া হচ্ছে এমন প্রশ্ন করলে তিনি তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন, এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঝিনাইদহ সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল কাদের খাবারের টাকা থেকে শিক্ষকদের বেতন দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন, তিনি বলেন “প্রতিষ্ঠান সচল রাখতে কিছু বিষয় সমন্বয় করতেই হয়। দুজন শিক্ষকের বেতন দিতে অতিরিক্ত বিল প্রস্তুত করা হয়। বিষয়টি আমাদের নলেজে আছে। সমন্বয় না করলে প্রতিষ্ঠান চালানো কঠিন।এ বিষয়টি ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক, মোঃ আব্দুল্লাহ আল মাসউদ কে জানালে তিনি তাৎক্ষণিক সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে তার অধীনস্থ একজন কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দেন।এসআর
কালীগঞ্জে রেল লাইনের পাশ থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে রেল লাইনের পাশ থেকে অজ্ঞাত এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার বারবাজার এলাকা থেকে আনুমানিক ২০/২১ বছর বয়সী ওই যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, সকালে রেল লাইনের পাশের পুকুর পাড়ে এক যুবকের লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয় এলাকাবাসী। পরে রেল পুলিশ এসে তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ট্রেনের ধাক্কায় যুবকের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারনা করছে পুলিশ।যশোর রেল পুলিশের এস আই জৌতিষচন্দ্র বর্মন বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য পাঠিয়েছি। আমরা ধারনা করছি ট্রেনের ধাক্কায় যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের পর রিপোর্ট এলে সঠিক কারণ জানা যাবে।এসআর
কুষ্টিয়ায় নিখোঁজের ২১ ঘন্টা পর শিশুর মরদেহ উদ্ধার
কুষ্টিয়ার মিরপুরে নিখোঁজের ২১ ঘন্টা পর গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ খাল থেকে আলী হোসেন নামে সাড়ে ৩ বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার ধুবইল ইউনিয়নের কাদেরপুর গ্রাম সংলগ্ন ক্যানেলে শিশুটির ভেসে ওঠা মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। নিহত আলী হোসেন ওই গ্রামের কাতার প্রবাসী রহমত আলী কহনের ছেলে।পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুর থেকে শিশু আলী হোসেন নিখোঁজ ছিল। পরিবারের সদস্যরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে সন্ধ্যার পরে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্স খুঁজে না পেলে তারা খুলনার ডুবুরি দল কে খবর দেন।পরে বুধবার সকালে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল খোঁজাখুঁজি করাকালে স্থানীয় লোকজন ৫০০ গজ দুরে জিকে ক্যানেলে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশ ও পরিবারকে খবর দেন। পরে সেখান থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।মিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহিদুল ইসলাম সময়ের কণ্ঠস্বর কে জানান, শিশুটির শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিক অবস্থায় ধারণা করা হচ্ছে, খেলার ছলে জিকে ক্যানেলের পাড়ে গিয়ে তার মৃত্যু হয়েছে।তিনি আরও জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।ইখা
ফটিকছড়িতে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশকে মারধর, চালক আটক
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে দায়িত্ব পালনকালে ট্রাফিক সার্জেন্ট ইন্সপেক্টর (টিএসআই) মো. মফিজ উদ্দিন মারধরের শিকার হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলা সদর বিবিরহাট বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।পুলিশ সূত্র জানায়, নিয়মিত ডিউটির অংশ হিসেবে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় যানবাহনের কাগজপত্র যাচাই করছিলেন টিএসআই মফিজ উদ্দিন। এ সময় একটি ডাম্প ট্রাক থামিয়ে কাগজপত্র পরীক্ষা করতে চাইলে চালক আকবর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তিনি অতর্কিতভাবে টিএসআই মফিজ উদ্দিনের ওপর চড়াও হন এবং উপর্যুপরি আঘাত করেন। এতে তিনি মুখমণ্ডলে আঘাতপ্রাপ্ত হন।ঘটনার পরপরই উপস্থিত স্থানীয় জনতা ও পুলিশ সদস্যরা অভিযুক্ত চালক আকবরকে আটক করে। বর্তমানে তিনি ফটিকছড়ি থানা হেফাজতে রয়েছেন। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।আহত পুলিশ সদস্য মো. মফিজ উদ্দিন বলেন, "আমি বাসস্টেশনে নিয়মিত ডিউটির অংশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলাম। কাগজপত্র যাচাইয়ের জন্য ডাম্প ট্রাকটি থামালে চালক হঠাৎ করে আমার ওপর হামলা চালায়।"ফটিকছড়ি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, "ঘটনার সঙ্গে জড়িত চালককে আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।"এনআই
দফায় দফায় সংঘর্ষে রণক্ষেত্র হাতিয়া, বিএনপির সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
দফায় দফায় সংঘর্ষে নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়া রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। টানা কয়েক ঘণ্টার সংঘর্ষের পর এ বিষয়ে লিখিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি (প্রেস রিলিজ) দিয়েছে হাতিয়া উপজেলা বিএনপি।বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এক বিজ্ঞপ্তিতে হাতিয়া উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়, নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্যের উসকানিতে হাতিয়ার চানন্দী ইউনিয়নের প্রকল্প বাজারে ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে ১১-দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা। আব্দুল হান্নান মাসউদের নেতৃত্বে বহিরাগত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা প্রকল্প বাজারে বিএনপির কার্যালয়, কয়েকটি দোকান ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে।দুপুর ১২টা থেকে চলা প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী এই তাণ্ডবে হান্নান ও তাঁর বাহিনীর হামলায় নারীসহ অন্তত ৩০ জন স্থানীয় বাসিন্দা আহত হয়েছেন।স্থানীয়দের উদ্ধৃতি দিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী হাতিয়া ও লক্ষ্মীপুর সীমান্তের টাংকির ঘাটসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে সকালে পিকআপ ও গাড়িযোগে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের নিয়ে চানন্দীতে যান হান্নান। পরে তিনি প্রকল্প বাজারে গিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীমসহ দলটির নেতাকর্মীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেন। একপর্যায়ে হান্নান উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে তাঁর নেতাকর্মীদের ক্ষিপ্ত করে তোলেন। বক্তব্য শেষ হওয়ার পরপরই বাজারে উঠে এসে তাণ্ডব চালানো শুরু করেন অনুসারীরা। তারা ব্যাপক ভাঙচুর ও লোকজনকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় বিএনপির লোকজন এগিয়ে গেলে হান্নানের বহিরাগত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা তাঁদেরও পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করে। এত কিছুর পরও হান্নান প্রকল্প বাজারে অবস্থান নিয়ে আরও সন্ত্রাসী জড়ো করার চেষ্টা করছেন। ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে প্রশাসন থেকে তাঁকে বারবার অনুরোধ করলেও তিনি কারও কথা কর্ণপাত করছেন না।ঘটনার বিষয়ে চানন্দী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, "প্রকল্পে মাসউদ উশৃঙ্খল বক্তব্য প্রদান করেন। তাঁর এমন বক্তব্যের পর দলের নেতাকর্মীরা বাজারে উঠে প্রথমে বিএনপির অফিস ভাঙচুর করে। পরে তারা বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর শুরু করলে স্থানীয় লোকজন প্রতিরোধের চেষ্টা করে। এ সময় হান্নানের লোকজন স্থানীয়দের মারধর শুরু করলে বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী এগিয়ে গিয়ে তা প্রতিরোধের চেষ্টা করে হামলার শিকার হন। আমাদের কর্মী হেলালসহ অন্তত ১২ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এখনও হান্নান নিজে বাজারের পাশে অবস্থান নিয়ে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের উসকে দিচ্ছেন।"প্রেস রিলিজে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।এনআই
বঙ্গোপসাগরে আনোয়ারার জেলেদের ওপর জলদস্যুর হামলা
মাছ ধরতে গিয়ে বঙ্গোপসাগরে জলদস্যুর হামলার শিকার হয়েছেন চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার পূর্ব গহিরা এলাকার জেলেরা। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) গভীর সমুদ্রে কক্সবাজার সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে নৌ পুলিশ।এ ঘটনায় এক মাঝি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এবং অন্তত ১১ জন মাঝিমাল্লা আহত হয়েছেন। জলদস্যুরা তিনটি ফিশিং ট্রলার থেকে জ্বালানি তেল, মাছ ধরার সরঞ্জামসহ প্রয়োজনীয় মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।গুলিবিদ্ধ মাঝির নাম মনি মাঝি (৫৮)। তিনি আনোয়ারা উপজেলার ৩ নম্বর রায়পুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড গহিরা এলাকার মৃত ছিদ্দিক আহমেদের ছেলে। তিনি পূর্ব গহিরা তেলিপাড়ার মো. জসিম কোম্পানির মালিকানাধীন একটি ফিশিং ট্রলারে কর্মরত ছিলেন। হামলার পর গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।অন্যান্য আহতরা হলেন— হেফাজ মাঝি, আবুল হাসেম, জিয়াউল হক, আবুল কাশেম, আবদুর রহমান, আরফাত, জাবেদ, ফরিদ, জব্বার ও মিজান।ভুক্তভোগী মাঝিমাল্লাদের ভাষ্য অনুযায়ী, একই সময় পূর্ব গহিরা এলাকার মো. হেফাজ কোম্পানি ও মো. কাশেম কোম্পানির মালিকানাধীন আরও দুটি ফিশিং ট্রলার জলদস্যুর কবলে পড়ে। এ সময় ট্রলারে থাকা মাঝিমাল্লাদের মারধরসহ বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হয়। পরে ট্রলারগুলোর জ্বালানি, জাল ও মাছ ধরার অন্যান্য সরঞ্জাম লুট করে নিয়ে যায় জলদস্যুরা।হামলার শিকার একটি ট্রলার মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১২টার দিকে উপকূলে ফিরে আসে। অন্য দুটি ট্রলারও বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল নাগাদ আনোয়ারা উপকূলে ফিরেছে বলে জানা গেছে।মাঝিমাল্লাদের দাবি, জলদস্যুরা নিজেদের বাঁশখালী, কুতুবদিয়া ও মহেশখালী এলাকার বাসিন্দা বলে পরিচয় দিয়েছে। তবে এই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘মঙ্গলবার রাতে মাছ শিকারে গিয়ে তিনটি ট্রলার জলদস্যুর কবলে পড়ে। এতে মনি নামের এক মাঝি গুলিবিদ্ধ হন এবং আরও ৯-১০ জনকে মারধর করা হয়। জলদস্যুরা ট্রলারগুলোর জ্বালানি ও সরঞ্জাম লুট করে নিয়ে গেছে।’এ বিষয়ে বার আউলিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘ঘটনাটি ঘটেছে কক্সবাজার জেলাধীন গভীর সমুদ্র এলাকায়। আমরা বিকেলে গহিরা এলাকায় গিয়ে ঘটনার উপাত্ত সংগ্রহ করেছি এবং আহত জেলে ও মাঝিদের সাথে কথা বলেছি।’ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের জনসংযোগ কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়ামুল হক বলেন, ‘একজন মাঝি গুলিবিদ্ধ হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন—এমন তথ্য আমরা পেয়েছি। সাগরে আমাদের টহল কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’এনআই
ট্রাক-সিএনজি সংঘর্ষে নিহত সেন্টমার্টিনের সাংবাদিক মালেক
বিশ্বের শ্রেষ্ঠতম পর্যটন স্পট ক্ষ্যাত প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনের বাসিন্দা, দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অন্যতম ভূমিকা পালনকারী সাহসী কলম সৈনিক আব্দুল মালেক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন।তথ্য নিয়ে জানা যায়, বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) কক্সবাজারের খরুলিয়া বাংলা বাজার সড়কে ট্রাক ও সিএনজি গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে তাদের বহনকারী সিএনজিটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে মালেকসহ দুই-তিনজন গুরুতর আহত হন।এরপর স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক দ্বীপের সন্তান আব্দুল মালেককে মৃত ঘোষণা করেন।নিহতের পরিবারের সদস্যরা গণমাধ্যমকর্মীদের জানিয়েছেন, মালেক দেশের রেমিট্যান্স যোদ্ধা হিসেবে নাম লেখাতে বিদেশ যাওয়ার উদ্দেশ্যে রামু জোয়ারিয়া নালা এলাকায় তিন দিনের একটি প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছিলেন।আজ বুধবার ছিল তার প্রশিক্ষণের শেষ দিন। প্রশিক্ষণ শেষে কক্সবাজারে ফেরার পথে বাংলা বাজার এলাকা সংলগ্ন প্রধান সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তার এই অকাল মৃত্যুতে পরিবারসহ সহপাঠীদের মাঝে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।দ্বীপের সন্তান নিহত আব্দুল মালেক কক্সবাজার থেকে প্রকাশিত পত্রিকা দৈনিক হিমছড়িতে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনের পর্যটন ব্যবসাকে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করার জন্য অন্যতম ভূমিকা পালন করতেন।দ্বীপের পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সেন্টমার্টিনবাসীর অধিকার রক্ষা করার জন্যও মালেক সবসময় সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। কক্সবাজার জেলায় গণমাধ্যমকর্মীসহ সকলের কাছে পরিচিত মুখ হিসেবে চিহ্নিত ছিলেন।নিহত আব্দুল মালেকের নিথর মরদেহ বর্তমানে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে রয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষ করার পর তার নিজ জন্মভূমি সেন্টমার্টিন দ্বীপে নিয়ে আসার প্রস্তুতি চলছে বলেও গণমাধ্যমকর্মীদের জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।এফএস
প্রতিবেদনের জেরে সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি, অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা
চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন ঘিরে প্রকাশিত সংবাদকে কেন্দ্র করে এক সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক।অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম অহিদুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি নিজেকে দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন এবং সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের অনুসারী বলে জানা গেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সংবাদ প্রকাশের জেরে তিনি সাংবাদিককে ফোনে হুমকি ও গালিগালাজ করেন।ভুক্তভোগী সাংবাদিক মো. রেজাউল করিম সাজ্জাদ (২৮) চট্টগ্রামের আঞ্চলিক টেলিভিশন সিপ্লাস টিভি ও অনলাইন সংবাদমাধ্যম চাটগাঁ নিউজে কর্মরত। পাশাপাশি তিনি আনোয়ারা প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।সাজ্জাদের অভিযোগ, সংসদ সদস্যের হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় রোগী ভোগান্তি ও বিতর্কিত পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর তাকে একাধিকবার হুমকি দেওয়া হয়। পরে একটি ফোনালাপে অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেকে “দক্ষিণ জেলা ছাত্রদল নেতা অহিদ” পরিচয় দিয়ে বলেন, এমপির বিরুদ্ধে কোনো রোগী, চিকিৎসক বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অডিও রেকর্ডে অভিযুক্তকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে এবং হুমকি দিতে শোনা যায়। এক পর্যায়ে তিনি বলেন, 'এই তথ্য সাজ্জাদের কাছে কীভাবে গেল, ওকে ব্লেড দিয়ে আঘাত করবো। সম্পর্ক ভালো আছে, ভালো থাক।' এ বিষয়ে সাংবাদিক রেজাউল করিম সাজ্জাদ বলেন, 'রোগীদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করে সংবাদ প্রকাশ করার পর স্থানীয় কয়েকজন নেতাকর্মী আমাকে হুমকি দেন। সর্বশেষ গত রাতে এক ছাত্রদল নেতা আমার সহকর্মীর মাধ্যমে আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন। এটি শুধু আমার জন্য নয়, সামগ্রিকভাবে স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য হুমকিস্বরূপ।'বিষয়টি অস্বীকার অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা অহিদুল বলেন, আমি কোনো ধরনের হুমকি দিইনাই। আমি বিশেষ করে আমার নেতা নিজাম সাহেব ও আমার দলকে নিয়ে যাতে আর মিথ্যা সংবাদ প্রচার না করে তার জন্য তাকে সাবধান করেছি। হুমকির বিষয়ে যদি কোনো ধরনের নিউজ করেন তাহলে আপনার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবো।'আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ঘটনার পর আনোয়ারায় কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা বলেন, সংবাদ প্রকাশের জেরে এ ধরনের হুমকি স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি আঘাত। দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।আনোয়ারা প্রেস ক্লাবের সভাপতি এম. আনোয়ারুল হক বলেন, 'বিভিন্ন সময়ে এসব ছাত্রদল নেতাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির অভিযোগ রয়েছে। সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার ঘটনা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য গুরুতর হুমকি। আমি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং প্রশাসনের কাছে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।'ইখা
নাগরপুরে ছাত্র-জনতার হাতে ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক
টাঙ্গাইলের নাগরপুরে ২০ পিস ইয়াবাসহ দুই চিহ্নিত মাদক কারবারিকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় সচেতন জনতা। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক সোয়া ১১টার দিকে উপজেলার মামুদনগর ইউনিয়নের নতুন বাজার সংলগ্ন মনির মার্কেটের সামনে থেকে তাদের আটক করা হয়।আটককৃতরা হলেন— নাগরপুর উপজেলার মামুদনগর গ্রামের মৃত মিন্নত মিয়ার ছেলে মো. জয়নাল আবেদীন (৪০) এবং কুমিল্লা জেলার বুড়িচং থানার মোড়ান গ্রামের মৃত বাচ্চু মিয়ার মেয়ে মোছা. পিংকি আক্তার (২৪)।এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন রাতে অভিযুক্তরা মাদক বিক্রির উদ্দেশ্যে নতুন বাজারের আমগাছতলায় অবস্থান করছিলেন। তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক হওয়ায় স্থানীয় লোকজন তাদের আটক করে থানা-পুলিশকে খবর দেয়। সংবাদ পেয়ে নাগরপুর থানার এসআই (নি.) মো. জুয়েল মিয়ার নেতৃত্বে একটি চৌকস পুলিশ দল রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আসামিদের নিজ হেফাজতে নেয়।পরবর্তীতে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তল্লাশি চালিয়ে জয়নাল আবেদীনের পরিহিত প্যান্টের পকেট থেকে ১০ পিস এবং পিংকি আক্তারের ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে ১০ পিসসহ মোট ২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবার ওজন ২ গ্রাম এবং আনুমানিক বাজারমূল্য ৬ হাজার টাকা বলে পুলিশ জানিয়েছে।জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা স্বীকার করেছেন যে, তারা দীর্ঘদিন ধরে মামুদনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় মাদকসেবীদের কাছে ইয়াবা বিক্রি করে আসছিলেন।এ বিষয়ে নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মুরাদ হোসেন মুঠোফোনে জানান, "মাদকের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছি। সাধারণ মানুষের এই সচেতনতা আমাদের মাদক নির্মূল অভিযানকে আরও সহজ করবে। এ ঘটনায় থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে এবং আজ বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) আটককৃতদের বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। নাগরপুরকে মাদকমুক্ত রাখতে আমাদের এই অভিযান নিয়মিত চলবে।"এনআই
দেবরের আত্মহত্যার পর ভাবীর আত্মহত্যা!
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে দেবরের আত্মহত্যার ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন তারই চাচাতো ভাবী। স্থানীয়রা বলছেন, তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছিল, সেই জের ধরে এই ঘটনা ঘটেছে। এমন ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ভেদরগঞ্জ উপজেলার মহিষার ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভেদরগঞ্জ উপজেলার মধ্য মহিষার এলাকার মিল্টন মল্লিকের সঙ্গে গোপন প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল তারই চাচাতো ভাই ও মালেশিয়া প্রবাসী ফয়সাল মল্লিকের স্ত্রী এলিনা আক্তারের। তিন মাস আগে বিষয়টি জানাজানি হলে তাদের মধ্যে ঝামেলার সৃষ্টি হয়। গতকাল মঙ্গলবার মোহাম্মদপুর এলাকায় ইফতার শেষে নিজ কর্মস্থলের পাশের একটি ভাড়া বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন মিল্টন মল্লিক। ধারণা করা হয়, প্রেমের সম্পর্কের জেরেই এ ঘটনা ঘটিয়েছেন তিনি। এদিকে তার মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছালে বুধবার সকালে মধ্য মহিষার এলাকায় স্বামীর বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন ভাবী এলিনা আক্তারও।স্থানীয় বাসিন্দা মিঠু বলেন, মিল্টন আমার কাছের বন্ধু ছিল। সাত মাস আগে লিবিয়া থেকে ফিরে এসে ঢাকায় মিষ্টির দোকানে কাজ করত। গতকাল শুনলাম, সে ইফতার শেষে আত্মহত্যা করেছে। আজ তার মরদেহ দেশে আসার কথা। হঠাৎ করে সকালে শুনতে পাই, তার যে চাচাতো ভাবী আছে সেও আত্মহত্যা করেছে। এলাকাবাসীর অনেকেই ধারণা করত, তাদের দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল।তাদের এক নিকটাত্মীয় আব্দুল খালেক মাদবর বলেন, তারা দুজন প্রেমের সম্পর্কে ছিল। সেই ঘটনার সূত্র ধরে দুজনেই আত্মহত্যা করেছে। আমরা আগে থেকেই আভাস পেয়েছিলাম, দুজন প্রেমের সম্পর্ক করে আসছিল। এমন ঘটনা এর আগে এই এলাকায় ঘটেনি।এ বিষয়ে ভেদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাসার বলেন, সকালে হাসপাতাল থেকে জানতে পারি সেখানে আত্মহত্যা করা একজনকে আনা হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।এফএস
ডিসির কার্যালয়ে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সিকাণ্ড, মৌখিকে ধরা পড়ে ৯ জনের জেল
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সির মাধ্যমে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার অভিযোগে ৯ পরীক্ষার্থীকে আটক করে ১৫ দিন করে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকালে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও রাজস্ব প্রশাসন নিয়োগ নির্বাচনী কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ নাহিদ হাসান খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মৌখিক পরীক্ষায় এ ঘটনা ধরা পড়ে। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, মোঃ নিজাম উদ্দিন, পিয়াস, সাব্বির, মেহেদী, শফিকুল, নজরুল, জসিম, রাহিমা আক্তার ও ফয়সাল।জেলা প্রশাসন সূত্রে যায়, গত ২০ ফেব্রুয়ারি লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। রাজস্ব প্রশাসনের অধীনে ২০তম গ্রেডের অফিস সহায়ক ৫৫টি, নিরাপত্তা প্রহরী ৩টি এবং পরিচ্ছন্নতা কর্মী ১টিসহ মোট ৫৯টি শূন্য পদে জনবল নিয়োগের লক্ষ্যে এ পরীক্ষা নেওয়া হয়। লিখিত পরীক্ষার ফলাফল ২২ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয় এবং উত্তীর্ণদের মৌখিক পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ উপস্থিত হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।বুধবার মৌখিক পরীক্ষার সময় সন্দেহের সৃষ্টি হলে পরীক্ষার্থীদের লিখিত খাতার হাতের লেখার সঙ্গে তাদের তাৎক্ষণিক লেখার মিল পাওয়া যায়নি। এছাড়া জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কথাবার্তায় অসংলগ্নতা দেখা দেয়। একপর্যায়ে জিজ্ঞাসাবাদে তারা প্রক্সির মাধ্যমে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার কথা স্বীকার করে। ঘটনার পর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে প্রত্যেককে ১৫ দিনের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সূফি সাজ্জাদ আল ফোজায়েল, রাহুল ঘোষ পলাশ, আমিন অর রশিদ, মশিউর রহমান ও রিয়াদ হোসেন।মোহাম্মদ নাহিদ হাসান খান জানান, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা অসদুপায় বরদাস্ত করা হবে না। ভবিষ্যতেও এমন অনিয়ম প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।এসআর
সাংবাদিক কন্যা উম্মে হাবিবার ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন
মানিকগঞ্জের সিংগাইরে সায়েস্তা ইউনিয়নের সাহরাইল গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে অষ্টম শ্রেণির সরকারি বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন করেছে সাংবাদিকের কন্যা উম্মে হাবিবা। তার এই কৃতিত্বে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দ ও গর্বের আবহ সৃষ্টি হয়েছে।উম্মে হাবিবা সিংগাইর উপজেলা প্রতিনিধি ও সিংগাইর প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমানের কন্যা।বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সরকারিভাবে ফলাফল প্রকাশের পর বিষয়টি নিশ্চিত করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, চলতি বছরের সরকারি অষ্টম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের মাধ্যমে উম্মে হাবিবা ট্যালেন্টপুলে স্থান লাভ করেছে। তার নিয়মিত অধ্যবসায়, শিক্ষকদের নিবিড় তত্ত্বাবধান, কঠোর পরিশ্রম এবং পরিবারের উৎসাহ-প্রেরণাই এ সাফল্যের মূল চালিকা শক্তি।বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সালমা সাবরিন বলেন, উম্মে হাবিবা অত্যন্ত মেধাবী, মনোযোগী ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থী। তার এই অর্জন আমাদের প্রতিষ্ঠানের জন্য গর্বের। আমরা তার উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করি।উম্মে হাবিবা জানায়, ভবিষ্যতে সে আরও ভালো ফলাফল অর্জন করে উচ্চশিক্ষায় এগিয়ে যেতে চায় এবং দেশের কল্যাণে কাজ করার স্বপ্ন দেখে। তার এই সাফল্যে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সহপাঠী ও এলাকাবাসী অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেছেন।এসআর
পদ্মার দুই ইলিশ ২০ হাজার টাকায় বিক্রি
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ার পদ্মা নদীতে ৪ কেজি ওজনের দুটি ইলিশ মাছ ধরা পড়েছে। পরে মাছ দুটি ৫ হাজার টাকা কেজি দরে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে।বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে দৌলতদিয়ায় হালিমের মৎস্য আড়ত থেকে ব্যবসায়ী শাহজাহান শেখ ইলিশ মাছ দুটি কিনে নেয়।স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী মো. শাহজাহান শেখ বলেন, “পদ্মা নদীর ৪ কেজি ওজনের ইলিশ মাছ দুইটি সকালে সেকেন হালদার হালিমের মৎস্য আড়তে নিয়ে আসলে সেখান থেকে ৪ হাজার ৮শ টাকা প্রতি কেজি দরে মোট ১৯ হাজার ২শ টাকা দিয়ে মাছ দুটি কিনে নেই। পরে ইতালি'র এক প্রবাসীর কাছে মাছ দুটি ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দিয়েছি।তিনি আরও জানান, “পদ্মার ইলিশের চাহিদা অনেক বেশি। দৌলতদিয়া মাছ বাজারে বিভিন্ন ধরনের বড় বড় মাছ পাওয়া গেলেও এত বড় ইলিশ মাছ তেমন একটা পাওয়া যায় না। তাই মাছ দুটির দাম একটু বেশি হলেও আমি কিনে নেই।”গোয়ালন্দ উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আনোয়ারুল ইসলাম পাইলট বলেন, “এ বছর পদ্মা নদীতে মাঝে মধ্যেই বড় বড় মাছ ধরা পড়ছে। তবে এত বড় ইলিশ মাছ সচরাচর পাওয়া যায় না। বড় বড় মাছ পেয়ে স্থানীয় জেলে ও মাছ ব্যাবসায়ীরা তা বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন।”এসআর
ভোলায় মায়ের কোল থেকে ৩ মাসের শিশু চুরি
ভোলা সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নে নেশাদ্রব্য দিয়ে মায়ের কোল থেকে জিদনী ইসলাম আলিফা নামের ৩ মাস বয়সী এক শিশু চুরির ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর পুলিশের বেশ কয়েকটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের দক্ষিণ চরপাতা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। শিশু জিদনী ওই গ্রামের আব্দুর রব ও সুমাইয়া দম্পতির তৃতীয় কন্যা সন্তান।শিশুটির পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে শিশুটির মা সুমাইয়া বেগম শিশুটিকে সঙ্গে করে স্থানীয় মালেরহাট বাজার সংলগ্ন একটি ক্লিনিকে ঔষধ আনতে যান। সেখানে একটি চক্র দুইশো টাকার একটি নোটের সঙ্গে নেশাদ্রব্য দিয়ে তাকে অচেতন করে শিশুটিকে নিয়ে পালিয়ে যায়। এরপর শিশুটির মায়ের জ্ঞান ফিরলে দুইশো টাকার নোট দিয়ে শিশুটিকে চুরি করে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে পূনরায় জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে তাকে উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।শিশুটির দাদি ফাতেমা খানম জানান, সকালে নাতনীকে নিয়ে তার ছেলের বউ ক্লিনিকে গেলে বোরকা পরিহিত এক নারী দুইশো টাকার একটি নোট মুখের সামনে ধরে নোটটি কত টাকার জানতে চান। এর পরই জ্ঞান হারান শিশুর মা সুমাইয়া। পরে চক্রটি শিশুটিকে নিয়ে পালিয়ে যায়। এসময় তিনি চক্রটি শনাক্ত করে দ্রুত তার নাতনীকে উদ্ধার করে তাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবী জানান।এদিকে, এ ঘটনায় শিশুটির স্বজন ও পরিবারে চলছে আহাজারি। শিশুটির মা ভোলা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি আছেন। বাবা বিভিন্ন জায়গায় শিশুটিকে খুঁজছেন।ভোলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. ইব্রাহিম বলেন, ঘটনার পর তিনিসহ পুলিশের কয়েকটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। শিশুটি উদ্ধারে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বেশ কয়েকটি টিম কাজ করছে।ইখা
বরিশাল আদালতে এজলাসে বিশৃঙ্খলা: আইনজীবী সমিতির সভাপতি গ্রেফতার
বরিশাল অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতে এজলাসে বিচার কার্যক্রম চলাকালে বিচারকের সামনে আইনজীবীদের বিশৃঙ্খলার অভিযোগে বরিশাল আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ্যাড. সাদিকুল রহমান লিংকনকে আটক করা হয়েছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১২টায় বরিশাল আদালত প্রাঙ্গণে তার চেম্বার থেকে তাকে আটক করেছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। পরে তাকে অতিরিক্ত চীফ ম্যাট্রোপলিটন আদালতে হাজির হলে আদালতের বিচারক এসএম শরীয়ত উল্লাহ তাকে জেল হাজতে প্রেরণ নির্দেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন উল ইসলাম। তিনি বলেন, তাকে আদালত থেকে কারাগারে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। এদিকে আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ্যাড. সাদিকুল রহমান লিংকনকে আটকের ঘটনায় আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ শুরু করে আইনজীবীরা। এতে যে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে আদালতে চত্বরে বিপুল সংখ্যক র্যাব, পুলিশ, সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। বরিশাল জেলা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হাফিজ আহমেদ বাবলু জানান, যেখানে বিস্ফোরক মামলায় মানুষজনকে জেলা জজ আদালত থেকে জামিন নিতে হচ্ছে, সেখানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের নিম্ন আদালত থেকেই জামিন দেয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনজীবীরা বিক্ষোভ মঙ্গলবার থেকে আদালত বর্জন করে বিক্ষোভ শুরু করে।এরই ধারাবাহিকতায় আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ্যাড. সাদিকুল রহমান লিংকনকে আটক করে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। তিনি আরও বলেন, অবিলম্বে অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন আদালতের বিচারকের অপসারণ দাবী জানাই। যতক্ষণ পর্যন্ত তাকে অপসারণ করা না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের বর্জন কর্মসূচি চলবে বলে হুশিয়ারী দেন তিনি।এসআর
ছয়টি ছানা রেখে মা কুকুরকে পিটিয়ে হত্যা
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় একটি কুকুরকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে নুরুল হক নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। কুকুরটির ছয়টি ছানা রয়েছে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নের বাদুরতলী বাঁধঘাট গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।ছানাসহ কুকুরটি লালনপালন করতেন বাঁধঘাট গ্রামের নাসরিন নাহার। তিনি অভিযোগ করে বলেন, প্রায় ৬ থেকে ৭ বছর ধরে আমি কুকুরটিকে লালন-পালন করে আসছি। এক মাস আগে কুকুরটি ছয়টি ছানার জন্ম দেয়। কিন্তু দুটি হাঁসের বাচ্চা কামড়ে মারার অজুহাতে প্রতিবেশী নুরুল হক কুকুরটিকে পিটিয়ে হত্যা করে মাটিচাপা দেন। পরে মা কুকুরকে হত্যার বিষয়ে জানতে গেলে আমার মেয়ে ইলাকেও মারধর করে নুরুল হক।তিনি আরও বলেন, মা কুকুরটিকে হারিয়ে ছানাগুলো ছোটাছুটি করছে। কুকুর হত্যার বিচার চাই।এ বিষয়ে জানতে নুরুল হকের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তিনি রাজি হননি। তবে তার বড় ভাই নান্টু মিয়া বলেন, ওই কুকুরটি অনেক ক্ষতি করেছে, তাই তাকে হত্যা করেছে। কিন্তু হত্যা করে ভুল করেছে, প্রয়োজনে ক্ষতিপূরণ চাইতে পারত।কলাপাড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের কর্মকর্তা মারুফ বিল্লাহ বলেন, একটি অবুঝ প্রাণীকে পিটিয়ে মারা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। কুকুরটির মালিক আমাদের কাছে এলে তাদের আইনি সহায়তা করা হবে। এসআর
দু'মুঠো ভাতের লড়াইয়ে বন্দি এক নগর
বরিশাল নগরের পূর্ব পাশে কাউয়ার চর খেয়াঘাট। খেয়া পেরিয়ে পশ্চিম দিকে তাকালে চোখ পরে ভিন্ন এক নগরের। নাম তার হিরন নগর; নামের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। সেখানে নগর আছে, কিন্তু নাগরিক সুবিধা নেই। নেই নগরের স্বাচ্ছন্দ্য; আছে মানুষ, নেই মানুষের মতো বেঁচে থাকার অধিকার। নগরের বাসিন্দারা সবাই বেঁচে থাকার লড়াইয়ে ব্যস্ত, দু'মুঠো ভাত যোগাড় করতে ক্লান্ত।পশ্চিম আকাশে সূর্য ঢলে পড়েছে। কীর্তনখোলার স্বচ্ছ জলে সূর্যের আলো ঝিলমিল করছে। কীর্তনখোলার মৃদু ঠেউয়ে দোলে দোলে খেয়া পার হওয়ার মুহূর্তটুকু ছিল দারুণ উপভোগ্য। কিন্তু সেই মনভোলানো আনন্দ মুহুর্তেই ম্লান হয়ে গেল। সড়ক ধরে একটু হেঁটে নগরের কাছাকাছি আসতেই এক ধরনের ভটকা গন্ধে নাক বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম। যত সামনে আগানো যায়, ততই স্পষ্ট হয়; এ নগর সৌন্দর্যের নয়, অন্ধকার নগর, মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন এখানকার নাগরিকরা।নগরে ঢুকতেই চোখে পড়ে গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে থাকা ছোট ছোট ভাঙাচোরা ঘর। দালান তো দূরের কথা, ভালো টিনের ঘরও দুর্লভ। সরকারের দেওয়া পাঁকা ঘরগুলোরও নাজেহাল অবস্থা। বাঁশ-কাঠের খুঁটি, ফুটো টিনের চালা; যার ফাঁক দিয়ে বৃষ্টির পানি ঢোকে, শিশির ঢোকে, ঢোকে হাহাকার। কোনো কোনো ঘরের বেড়া কাগজের চটের। আবার কেউ তাও জোগাড় করতে না পেরে পুরোনো সিমেন্টের বস্তা সেলাই করে বেড়া দিয়েছেন। বেড়ার সেই ছেঁড়া-ফুটো কাগজ লজ্জা ঢাকতে অনেকটাই অক্ষম।এখানকার বাসিন্দাদের প্রত্যেক পরিবারকে ২০১২ সালে দরজাসহ দুই শতাংশ জমি দিয়েছিল সরকার। বর্তমানে পরিবারে লোকসংখ্যা বেড়েছে, এক পরিবার ৩ পরিবারে পরিণত হয়েছে। কিন্তু বাড়েনি জমি, পরিবর্তন হয়নি তাদের ভাগ্যের। অর্থনৈতিক দুরবস্থা আর অভাব-অনটন লেগে আছে এখানকার প্রতিটি ঘরে, প্রতিটি নিঃশ্বাসে। কথা হয় নগরের বাসিন্দাদের সাথে। জানান তাদের করুন-দুর্দশার কাহিনী ও জীবনের নির্মম গল্প। ৪০ বছর বয়সী নার্গিস বেগমের কর্মব্যস্ততা শুরু হয় ভোর ৬টায়, শেষ হয় গভীর রাতে। ক্লান্ত চোখে তিনি বলেন, "ভোর ৬ টায় ঘুম থেকে উঠে বাসার কাজ-কাম শুরু করি। এরপর ৮ টায় খেয়া পার হয়ে ওপার (বরিশাল শহর) যাই। খেয়াঘাট থেকে আধা ঘন্টা হেটে মুন্সিগ্রেজের ওখানে যে বাসায় কাজ করি সেখানে পৌছাই। সেখান থেকে কাজ করে বাড়ি ফিরতে ফিরতে ৩টা-৪টা বেজে যায়। এসে বিকালে আবার এখানে ভাপা পিঠা বেচি (বিক্রয় করি)। তারপর রান্না করতে করতে শীতকালে রাত ১১টা বেজে যায়, গরমে আরো বেশি।"এই দীর্ঘ খাটুনির পরও তার স্বস্তি নেই, ঘরে নেই শান্তি । স্বামী কাজ করেন বিল্ডিং ভাঙার শ্রমিক হিসেবে; সপ্তাহে এক-দুই দিন কাজ জোটে। অথচ সেই কষ্টার্জিত টাকায় ১৯ বছরের বড় ছেলে নেশায় ডুবে আছে। টাকা না পেলে ভাঙচুর করে ঘর-দুয়ার (দরজা)।" নার্গিসের পানি টলটল করা চোখে তখন শুধু অসহায়ত্ব।অনাহারে-অর্ধাহারে জীবন কাটান ৪২ বছর বয়সী হাসান শিকদারের ৫ সদস্যের পরিবার। ভাড়া করা রিকশা চালক হাসান বলেন, ডেইলি ছয়-শাতশো টাকা কামাই (আয়) করি। এর মাঝে গ্যারেজে দিতে হয় ৪০০ টাকা । ৭০ বছর বয়সী বিছানায় পড়া মা-কে ঠিকমতো চিকিৎসা করাতে পারি না, ঔষধ খাওয়াতে পারি না। মাছ-গোশত কী খামু! ঠিকমতো নুন মরিচ দিয়া ভাতই খাইতে পারি না! কুরবানীতে মানুষ গোশত দিলে একটু খাই, না দিলে নাই। অবরোধের সময় ইউএনও দইডা ঝাটকা মাছ দিছিলো। বড় পোলা (ছেলে) মাদ্রাসায়, মোটামুটি ফ্রিতে মাদ্রাসায় পড়াই, প্রাইভেট পড়াইতে পারি না।"২০১২ সালে বরিশাল শহরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের ভাটারখাল বস্তির বাসিন্দাদের পুনর্বাসন করা হয় সদর উপজেলার চর কাউয়ারে। প্রয়াত মেয়র শওকত হোসেন হিরণ এই কলোনির নাম দেন হিরণ নগর। আজ এখানে প্রায় ৩০০ পরিবারে আনুমানিক দুই হাজার মানুষের বসবাস। সবাই দিন আনে, দিন খায়। সরকারের দেওয়া সেই ২ শতাংশ জমিতে টোঙের মতো ছোট একটি ঘর ছাড়া ফসল চাষ কিংবা গবাদি পশু পালন তো দূরের কথা, হাঁস-মুরগি পালনও সম্ভব না।এখানকার বাসিন্দাদের মতে, তাদের জীবনের প্রধান সমস্যা- মাদকাসক্তি ও কর্মসংস্থানের অভাব। নিরাপদ পানির সংকট, পয়ঃনিষ্কাশনের দুরবস্থা, খেলার মাঠ ও সুস্থ বিনোদনের কোনো সুযোগ না থাকা তাদের জীবনকে আরো দুরুহ করে তুলেছে। নদীতীরবর্তী নিচু এলাকা হওয়ায় জোয়ারের পানিতে প্রায়ই তলিয়ে যায় ঘরবাড়ি। এসব সমস্যার সমাধানে প্রয়োজন সরকারি সহায়তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা, নারীদের প্রশিক্ষণ ও টেকসই কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা।রেহেলা বেগম দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। ঘরে তার দুই বিবাহযোগ্যা মেয়ে, তাই দূরে কোথাও কাজে যেতে পারেন না। কাঁপা গলায় তিনি বলেন, “দেড়-দুই মাস ধইরা ওই ঘরের ভাবিরা খাওয়ায়। হেগোও অবস্থাও ভালো না, দিন আনে দিন খায়। এমনে আর কয়দিন চলবে জানি না।” চোখ মুছতে মুছতে বলেন, “মাইয়াগোর বিয়া দিতে পারি না। সন্ধ্যা হইলে নেশাখোরদের উৎপাত বাড়ে। ঘরেও ঠিকমতো থাকতে পারি না। ওই দ্যাহেন, গাঁজার আগুন দিয়া পায়খানার বেড়া পুইড়া ফেলাইছে বদমাইশগুলা। ঘরের পাশে বইসা সিগারেট, গাঁজা, বাবা খায়; কিছু কইলে উল্টো ধমকানি দেয়, গালি দেয়, ঘর দুয়ার পিটায়। ওই ঘরের ভাবি কত কষ্ট করে দুইডা মুরা (মুরগি) পালছিল, ওরা রাতে ঘর থেকে চুরি কইরা নিয়া গেছে।”২০২২ সালে সিডিপি প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, শিক্ষার দিক থেকে এখানকার বাসিন্দারা যথেষ্ট পিছিয়ে। ১৭ দশমিক ১ শতাংশ বাসিন্দা নিরক্ষর। ৬২ দশমিক ৫ শতাংশ খানাপ্রধানের পেশা দিনমজুরি। তাঁদের মধ্যে ২৬ দশমিক ৬ শতাংশ ভূমিহীন। ভবিষ্যতে ৯৮ দশমিক ২ শতাংশ খানার যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত, ৯৭ দশমিক ৬ শতাংশ খানার স্বাস্থ্যহানি, ৯২ শতাংশ খানার নিরাপদ পানিপ্রাপ্তি ও ৯১ দশমিক ৬ শতাংশ খানার জীবিকার উৎস হারানোর আশঙ্কা করা হয় গবেষণার ভবিষ্যৎ পূর্বাভাসে।সিডিপির বরিশাল অঞ্চলের সমন্বয়ক আ.জ.ম রাশেদ জানান, '২০২২ সালের পর আমাদের এ নিয়ে পুনরায় গবেষণা হয়নি। তবে আমাদের পর্বেক্ষণ হচ্ছে, অবস্থার উন্নতি হয়নি; বরং এসব এলাকার মানুষের দুর্দশা বেড়েছে।’হিরন নগরের বাসিন্দাদের মানবেতর জীবনের কষ্টগাথা শুনতে বেলা গড়িয়ে এলো। মিন্টু, রহিমা, শাহানাজ; একেকটি নাম, একেকটি দীর্ঘ কষ্টের উপাখ্যান। হঠাৎ টের পাই, কিছু মাদকাসক্ত আমাদের অনুসরণ করছে, আর চোখ তাকাচ্ছে আমার দিকে। আমরা দ্রুত পায়ে সেখানে থেকে সরে আসি। ফের খেয়া নৌকায় বসে দেখলাম পশ্চিম আকাশের লাল আভা প্রায় মুছে গেছে, মুছেনি হিরণ নগরের বাসিন্দাদের দুঃখ। শান্ত নদী যেমন নীরবে বয়ে চলে, তেমনি কীর্তনখোলার তীরের এই নগরের মানুষও দিনের পর দিন নীরবে বয়ে নিয়ে যাচ্ছে তাদের সীমাহীন দুঃখ-দুর্দশা।ইখা
আমতলীতে পুত্রবধূর মৃত্যুর শোকে শ্বশুরের মৃত্যু
বরগুনার আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের তক্তাবুনিয়া গ্রামে প্রসূতি পুত্রবধূর মৃত্যুর খবর শুনে শোকে পাথর হয়ে শ্বশুরও মারা গেছেন। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। একই বাড়িতে দুইজনের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের মাতম চলছে।পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তক্তাবুনিয়া গ্রামের সোহাগ প্যাদার স্ত্রী লামিয়া বেগম (২০) মঙ্গলবার ভোরে নিজ বাড়িতে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় (নরমাল ডেলিভারি) একটি কন্যাসন্তান প্রসব করেন। সন্তান প্রসবের পর তাঁর প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হলে স্বজনরা দ্রুত তাঁকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার দুপুরে লামিয়া বেগম মারা যান।এদিকে পুত্রবধূর অকাল মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছালে তা সহ্য করতে পারেননি শ্বশুর মোস্তফা প্যাদা (৭০)। বিকেলে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. কামরুল হাসান সেতু মল্লিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "পুত্রবধূর মৃত্যুর খবর শুনে বৃদ্ধ শ্বশুর মোস্তফা প্যাদা মারা গেছেন। এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক একটি ঘটনা। মঙ্গলবার রাত ১০টায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁদের মরদেহ দাফন করার কথা রয়েছে।"এনআই
ত্রিশালে মোবাইল কোর্টের অভিযানে ৫ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
ময়মনসিংহের ত্রিশালে বাজার তদারকি ও ওজন কারচুপি রোধে বিশেষ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দিনব্যাপী উপজেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প, বেকারি, মাংসের দোকান ও মনিহারি দোকানে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ৫টি মামলায় মোট ৩৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আরাফাত সিদ্দিকী এই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন। অভিযান চলাকালীন পরিমাপে কারচুপি পাওয়ায় ‘ইভা ফিলিং স্টেশন’কে ওজন ও পরিমাপক মানদণ্ড আইন ২০১৮ অনুযায়ী দণ্ড প্রদান করা হয়। এছাড়া অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘনের দায়ে অন্যান্য বেকারি, ফলের দোকান ও মাংসের দোকানকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের আওতায় জরিমানা করা হয়। অভিযানে কারিগরি ও আইনানুগ সহযোগিতা প্রদান করেন বিএসটিআই ময়মনসিংহ জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শকবৃন্দ ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ। ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকী জানান, সাধারণ মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে এবং বাজারে পণ্যের সঠিক ওজন ও গুণমান বজায় রাখতে এই অভিযান চালানো হয়েছে। জনস্বার্থে বাজার তদারকিসহ সকল প্রকার অপরাধ প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসনের এমন অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।এফএস
ভালুকায় ইন্টারনেট ব্যবসা দখল চেষ্টার অভিযোগ
ময়মনসিংহের ভালুকায় ইন্টারনেট ব্যবসা দখলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ইন্টারনেট কেবল কেটে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা, গ্রাহকদের জোরপূর্বক অন্য নেটওয়ার্কে যুক্ত করার চেষ্টা এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দীর্ঘদিন ধরে ঘরছাড়া রয়েছেন বলে দাবি করেছেন ইন্টারনেট ব্যবসায়ী নাজমুল।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ডাকাতিয়া ইউনিয়নের পাঁচগাঁও এলাকার ‘অরেঞ্জ কমিউনিকেশন’-এর স্বত্বাধিকারী নাজমুলের ওয়াইফাই সংযোগ জোরপূর্বক দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য শামসুল মেম্বার ও তাঁর সহযোগীরা। গত রবিবার হাজীর বাজার এলাকায় নাজমুলের সংযোগের কেবল কেটে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।ভুক্তভোগীর দাবি, শামসুল মেম্বারের নেতৃত্বে তাঁর ছেলে তুষার, মুখলেছসহ কয়েকজন সংঘবদ্ধভাবে এ ঘটনা ঘটায়। এতে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে অরেঞ্জ কমিউনিকেশনের সেবা নেওয়া একাধিক গ্রাহকের ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। গত দুদিন ধরে সেবা না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় গ্রাহকরাও।নাজমুল জানান, দীর্ঘদিন ধরে তাঁর কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল। চাঁদা না দিলে এলাকায় ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না এবং প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় আপস-মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও অভিযুক্তরা তা মানেননি। বরং পরবর্তীতে তাঁর ওপর হামলার চেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবি করেন নাজমুল।এ ঘটনায় নাজমুল বাদী হয়ে ভালুকা মডেল থানায় শামসুলসহ পাঁচজনকে আসামি করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।ভালুকা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহিদুল ইসলাম জানান, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, ইন্টারনেট ব্যবসা নিয়ে বিরোধের কারণে যেন সাধারণ গ্রাহকরা ভোগান্তিতে না পড়েন, সে বিষয়ে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।এনআই
ফুলপুরে সারের কৃত্রিম সংকট ও বেশি দামে বিক্রি, ব্যবসায়ীর জরিমানা
ময়মনসিংহের ফুলপুরে সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগে বাজার মনিটরিং, সতর্কীকরণ এবং এক ব্যবসায়ীকে অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে পৌরসভার আমুয়াকান্দা বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে ‘শফিক এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ১ হাজার টাকা জরিমানা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. শফিকুল ইসলাম।অভিযানে উপজেলা কৃষি অফিসার নাদিয়া ফেরদৌসি ও কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কামরুল হাসান কামুসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।ফুলপুর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ নাদিয়া ফেরদৌসি জানান, সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কৃষকদের কাছ থেকে বেশি দাম নেওয়ার অপরাধ বন্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত থাকবে।এনআই
দেওয়ানগঞ্জে মৃত গরুর মাংস বিক্রির চেষ্টা, কসাই পলাতক
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চর আমখাওয়া ইউনিয়নের মৌলভীর চর গ্রামে মৃত গরু জবাই করে মাংস বিক্রির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক কসাইয়ের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে অভিযুক্ত কসাই ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার চর আমখাওয়া ইউনিয়নের মৌলভীরচর বাজারে এই ঘটনা ঘটে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চর আমখাওয়া ইউনিয়নের টুপকার চর গ্রামের মো. তারা মিয়া দীর্ঘদিন ধরে মৌলভীর চর বাজারে গরুর মাংস বিক্রি করে আসছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, গত রাতে একটি মৃত গরু জবাইয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। রাত আনুমানিক ২টার দিকে এক স্থানীয় ব্যক্তি বিষয়টি টের পেয়ে ঘটনাস্থলে যান। সেখানে তিনি দেখতে পান, একটি গরু বস্তা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে এবং সেটি জবাইয়ের প্রস্তুতি চলছে।অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুললে অভিযুক্ত কসাইয়ের সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি গোপন রাখার জন্য তাঁকে 'ঘুষ' প্রদানের প্রস্তাব দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তিনি সেখান থেকে সরে যান। পরদিন সকালে বাজারে ওই মাংস বিক্রির প্রস্তুতি চলছে—এমন খবর পেয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় তিনি পুনরায় ঘটনাস্থলে যান। এ সময় এলাকাবাসী জড়ো হলে অভিযুক্ত কসাই তারা মিয়া পালিয়ে যান।খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন চর আমখাওয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. জিয়াউল ইসলাম জিয়া। উপস্থিত সকলের সামনে যাচাই-বাছাই শেষে গরুটি মৃত ছিল বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়। পরে জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জব্দকৃত মাংস নষ্ট করার ব্যবস্থা নেয় ইউনিয়ন পরিষদ।ইউপি চেয়ারম্যান জিয়াউল ইসলাম জানান, সকালে মুঠোফোনে তিনি মৃত গরু জবাইয়ের খবর পান। তিনি বলেন, "আমি কয়েকজনসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে কসাই তারা মিয়া ও তাঁর দুই সহযোগী যন্ত্রপাতি ও মাংস ফেলে রেখে পালিয়ে যান। পরে মাংসগুলো মাটির নিচে পুঁতে ফেলা হয়েছে।"এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।এনআই
ফুলপুরে নিখোঁজের ৪৬ দিন পর নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার
ময়মনসিংহ ফুলপুরে নিখোঁজের ৪৬ দিন পর এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ বাড়ির পাশের একটি বিল থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ নিহত তহুরুন নেছা (৭৫) বওলা ইউনিয়নের সুতারপাড়া মহদীপুর এলাকার মৃত ওয়াহেদ আলীর স্ত্রী, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন বলে জানা গেছে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে আরো জানা গেছে ৪৬ দিন আগে তিনি বাড়ি থেকে নিখোঁজ হলে থানায় সাধারণ ডায়েরি,এলাকায় মাইকিং,আত্বীয় স্বজনের বাড়ি সহ বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।গতকাল রাতে বওলার জয়কান্দা বিলে একটি ভাসমান লাশ দেখা গেছে বলে পুলিশকে খবর দেয় এলাকাবাসী। পরে খোঁজাখোঁজি করে ধলা বিলের একটি ঝোপের মধ্যে থেকে অর্ধগলিত মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।প্রথমে মরদেহটি অজ্ঞাত মরদেহ বলে খবর ছড়িয়ে পড়ায় চাঞ্চলের সৃষ্টি হয়,পরের ওই নারীর ছেলে তাইজ উদ্দিন,ময়েজ উদ্দিন লাশটি তাদের মায়ের বলে শনাক্ত করে। ফুলপুর থানার ওসি মোঃ রাশেদুল হাসান জানান অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল করে,মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর কারণ জানা যায়নি।এসআর
সারের ডিলার অনিয়ম করলে লাইসেন্স বাতিলের নির্দেশ এমপির
সারের ডিলাররা অনিয়ম করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে ডিলারদের লাইসেন্স বাতিল করার নির্দেশনা দিয়েছেন ঠাকুরগাঁও ২ আসনের নব নির্বাচিত সংসদ সদস্য ডা: আব্দুস সালাম।বুধবার সন্ধ্যায় শপথ গ্রহণের পর প্রথমবার এলাকায় এসে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভায় কৃষি কর্মকর্তাকে তিনি এ নির্দেশনা দেন।সংসদ সদস্য বলেন, এই উপজেলায় কৃষকদের সবচেয়ে বড় সমস্যা সার সংকট। তারা ভোটের আগে আমাকে এই দুর্ভোগের বিষয়ে বার বার অবগত করেছে। কৃষি নির্ভর এই আসনের মানুষের জন্য প্রথমকাজ হিসেবে এটা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে চাই। ডিলাররা সার সংকট তৈরি করলে তাদের লাইসেন্স বাতিল করুন। কোন অনিয়মকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।এলাকায় মাদক-চুরি ও চাঁদাবাজির প্রসঙ্গ তুলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা: আব্দুস সালাম। তিনি বলেন, বিগত সরকারের আমলে কি হয়েছে, তা শুনতে চাই না। নতুন করে সবকিছু শুরু করতে চাই। এলাকা হবে মাদক মুক্ত, চুরি ছিনতাই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে-আর চাঁদাবাজদের কোন ঠাই নেই। ধরে সোজা পুলিশে দিবেন।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার দাসের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য এতে আরও বক্তব্য দেন বালিয়াডাঙ্গী থানার ওসি বুলবুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আহসান উল হক, উপজেলা বিএনপি'র সাবেক সভাপতি এ্যাড. সৈয়দ আলম, আহ্বায়ক এ্যাড ইউসুফ আলী, উপজেলা বিএনপি'র সাবেক সাধারণ সম্পাদক ড. টিএম মাহবুবর রহমান, উপজেলা প্রকৌশলী মাইনুল ইসলাম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সামিয়েল মার্ডিসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা এতে বক্তব্য দেন। এফএস
নবাবগঞ্জে বাবার বাড়িতে গৃহবধূর আত্মহত্যা
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায় শায়েলা পারভীন (৩৩) নামে এক স্বামী পরিত্যক্তা নারী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে উপজেলার ৩ নম্বর গোলাপগঞ্জ ইউনিয়নের কামালপুর কালাইচড়া গ্রামে বাবার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শায়েলা ওই গ্রামের সরোয়ার উদ্দিনের মেয়ে।নিহতের মা আকতারা বানু জানান, রাত নয়টার দিকে সবার সঙ্গে খাবার খেয়ে শায়েলা ঘুমাতে যান। শায়েলা ও তাঁর মেয়ে সাধারণত একই ঘরে থাকতেন। তবে ওই রাতে নাতনি তাঁর নানির (আকতারা বানু) সঙ্গে ঘুমায়। সকালে শায়েলাকে ডাকাডাকি করে কোনো সাড়া না পেয়ে পরিবারের লোকজনের সন্দেহ হয়। পরে জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখেন, তিনি ঘরের তিরের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলছেন। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি স্থানীয়দের জানানো হলে তাঁরা পুলিশে খবর দেন।খবর পেয়ে নবাবগঞ্জ থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নুরুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিক সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। আত্মহত্যার সঠিক কারণ জানতে তদন্ত চলছে।এনআই
জনগণের খাদেম হয়ে বেঁচে থাকতে চাই: আজহারুল ইসলাম
তারাগঞ্জ (রংপুর) রংপুর-২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ) আসনের নব নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম জনগণের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।তিনি বলেন, আমি আপনাদের খাদেম হয়ে আপনাদের সঙ্গে দেখা করতে এসেছি। আপনারা দোয়া করবেন, জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আল্লাহ যেন আমাকে আপনাদের সেবা করার তৌফিক দান করেন।বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) তারাগঞ্জ উপজেলার ইকরচালী ইউনিয়নের জগদীশপুর, বালাপাড়া, জুম্মাপাড়া, সরকারপাড়া, শাহ্পাড়া, কামারপাড়া এবং ইকরচালী বাজারসহ বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকায় গণসংযোগ ও মতবিনিময় করেন।স্থানীয় জনগণের সঙ্গে কুশল বিনিময়কালে তিনি তাদের সুখ-দুঃখ, সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন। অনেকেই রাস্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি সহায়তা ও কর্মসংস্থানের বিষয়ে নিজেদের দাবি তুলে ধরেন। তিনি এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আশ্বাস দেন।এ সময় বিভিন্ন এলাকার নারী-পুরুষ, প্রবীণ ও তরুণরা ফুল দিয়ে তাকে শুভেচ্ছা জানান। সাধারণ মানুষের ভালোবাসা ও স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে পুরো এলাকা উৎসবমুখর পরিবেশ ধারণ করে।সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, জনগণের আস্থা ও ভালোবাসাই তার শক্তি। তিনি দল-মত নির্বিশেষে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন, সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে চান। এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।পরে তিনি তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের চিকিৎসা সেবা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হামদুল্লাহর কাছে হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা ও সেবার মান বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চান।এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন তারাগঞ্জ উপজেলা জামাতের আমির এস.এম আলমগীর হোসেন, রংপুর জেলা কর্ম পরিষদ ও সূরা সদস্য আব্দুল হান্নান খান ও তারাগঞ্জ উপজেলার জামায়াতের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।এসআর
ফুলবাড়ীতে ট্রাক-ভ্যান সংঘর্ষে চালকসহ নিহত ২
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ট্রাক ও ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে ভ্যানচালকসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে দিনাজপুর-ঢাকা মহাসড়কের বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন রাঙামাটি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহতরা হলেন— উপজেলার বারাই এলাকার আব্দুল রফিকের মেয়ে রোমানা আক্তার (২৫) এবং ২ নম্বর আলাদিপুর ইউনিয়নের জামডাঙ্গা গ্রামের মৃত কফিল উদ্দিনের ছেলে ভ্যানচালক মো. আইনুল ইসলাম (৪০)। এ ঘটনায় আহত মোছা. ইয়াসমিন (৩০) বারাই বাজরাপাড়া গ্রামের মো. এনদার মেয়ে। তাঁকে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, সকালে বারাই এলাকা থেকে যাত্রী নিয়ে একটি ভ্যান রাঙামাটির দিকে যাচ্ছিল। পথে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সাথে ভ্যানটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ভ্যানচালক আইনুল ও যাত্রী রোমানা নিহত হন। স্থানীয়রা আহত ইয়াসমিনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হলে ফুলবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করে।এনআই
উলিপুরে ভোটকেন্দ্র সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ
কুড়িগ্রামের উলিপুরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েকটি ভোটকেন্দ্রে মেরামত ও সংস্কারে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে, নামকাওয়াস্তে কাজ করে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নার্গিস ফাতিমা তোকদারের যোগসাজশে বরাদ্দের টাকা নয়ছয় করেছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। সরেজমিনে কয়েকটি কেন্দ্রে ঘুরে এর সত্যতা পাওয়া গেছে।উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে রাজস্ব খাতের আওতায় উপজেলার ৬৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোটকেন্দ্র মেরামত ও সংস্কারের জন্য প্রথম ধাপে ২৮ লাখ ৯৩ হাজার ৩৩৭ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরে দ্বিতীয় ধাপে একই বিদ্যালয়গুলোর জন্য আরও ৫৭ লাখ ৮৬ হাজার ৬৭০ টাকা প্রদান করা হয়। দুই ধাপে মোট বরাদ্দের পরিমাণ দাঁড়ায় ৮৬ লাখ ৮০ হাজার ১০ টাকা।এর মধ্যে দড়িচর পাঁচপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, বুড়াবুড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, খামার বজরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১ লাখ টাকা এবং দক্ষিণ খামার বজরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বিদ্যালয় ভবনের ক্ষতিগ্রস্ত কক্ষ, দরজা-জানালা, বেঞ্চ-ডেস্ক, স্যানিটেশন ব্যবস্থা এবং বিদ্যুৎ ও পানির লাইনের জরুরি সংস্কার করার কথা থাকলেও বাস্তবে তা করা হয়নি। কোথাও শুধু কয়েকটি এলইডি বাল্ব লাগানো, কোথাও আংশিক রং করা, কোথাও অস্থায়ী টিনের বেড়া নির্মাণ কিংবা মাঠে সামান্য মাটি ফেলার কাজ দেখা গেছে।বিশ্বস্ত একটি সূত্র জানায়, কোনো কোনো বিদ্যালয়ে বরাদ্দের অর্ধেকেরও কম অর্থ ব্যয় হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে জরুরি সংস্কারের প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও নতুন মালামাল কেনার নামে ভুয়া বিল-ভাউচার প্রস্তুতের চেষ্টা চলছে।দড়িচর পাঁচপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, দেড় লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও শুধু বিদ্যুৎ ও পানির লাইনের কিছু মেরামত করা হয়েছে। বুড়াবুড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চারটি এলইডি বাল্ব স্থাপন, গাইড ওয়ালের আংশিক মেরামত ও কিছু স্থানে রং করার কাজ দেখা গেছে।খামার বজরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জহুরুল হক জানান, বরাদ্দের ১ লাখ টাকা দিয়ে টয়লেট রং, ছাদ বাগানের সংস্কার ও সোলার লাইনের মেরামত করা হয়েছে।দক্ষিণ খামার বজরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৫০ মিটার অস্থায়ী টিনের বেড়া নির্মাণ করা হয়েছে। তবে প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম দাবি করেন, তিনি মাত্র ২৬ হাজার টাকা পেয়েছেন এবং সেই অর্থ দিয়েই কাজ সম্পন্ন করেছেন।দড়িচর পাঁচপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহনাজ বেগম বলেন, আমি বরাদ্দের সঠিক কাজ করেছি বলে দাবি করেন তিনি।বুড়াবুড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খন্দকার আব্দুল্লাহেল কাফী দেড় লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, “আমি এক লাখ টাকা পেয়েছি এবং যথাযথভাবে ব্যয় করেছি।”এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার নার্গিস ফাতিমা তোকদার বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা বিদ্যালয় পরিদর্শন করে কাজ বুঝে নেবেন। তবে ভোট গ্রহণ গত ১২ ফেব্রুয়ারি শেষ হলেও ভোটের আগে বরাদ্দ পাওয়া সত্ত্বেও কেন কাজ সম্পন্ন হয়নি এ প্রশ্নের স্পষ্ট জবাব দেননি তিনি।এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহামুদুল হাসান বলেন, ভোটকেন্দ্র মেরামত ও সংস্কার কাজের বরাদ্দ পাশ হয়ে আসার পর উপজেলা শিক্ষা অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে লিখিত ও মৌখিকভাবে বলে দিয়েছি এই বরাদ্দের অবকাঠামোগত কাজ শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে। এতে কেউ যদি কোন প্রকার অনিয়ম করে থাকে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথোভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ইখা
বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ‘অপপ্রচারের’ প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মিথ্যা, ভিত্তীহীন ও বানোয়াট অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. হানজালা। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য মো. সামসুজ্জোহা খান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থীর নিকট পরাজিত হন। তারপর থেকেই আমার বিরুদ্ধে ও দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মিথ্য ও ভিত্তীহীন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। বিএনপির নামধারী কিছু ব্যক্তি রাজনৈত্তিক স্বার্থ হাসিলের জন্য তথ্য গোপন রেখে ফেইক একাউন্ট তৈরীর মাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে এসব অপপ্রচার চালাচ্ছেন আমি তার তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।তিনি আরও বলেন, খারাপ সময়ে আমি দল এবং জনগণের জন্য সবসময় কাজ করেছি। আগামিতে জনগণের সেবায় তাদের পাশে থেকে কাজ করব ইনশাল্লাহ। সেই সঙ্গে যারা তথ্য গোপন রেখে ফেসবুকে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।এ সময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি এমএ ওয়াদুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম কবির মিল্টন, পৌর বিএনপির সভাপতি মো. শহিদুর রহমান সরকার, সাধারণ সম্পাদক আনারুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহমান, যুবদল নেতা জাহাঙ্গীর আলম লিটন, রুবেল হাসান রতন, মনছুর আলমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।ইখা
ডিজিটাল প্রতারণা ও মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা এমপি চাঁদের
রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ ডিজিটাল প্রতারণা ও মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ডিজিটাল অন্ধকার ও মাদকের ছায়াজগতের বিরুদ্ধে সমন্বিত ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টায় বাঘা উপজেলার বাজুবাঘা ইউনিয়নের তেপুকুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।এমপি চাঁদ বলেন, আমার জানামতে লালপুরের পর বাঘায় তুলনামূলক বেশি হ্যাকার সক্রিয় রয়েছে। খুব শিগগিরই থানার ওসির সঙ্গে সমন্বয় করে হ্যাকার ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে। ডিজিটাল প্রতারণা, ইমু-বিকাশ হ্যাকিং, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও অবৈধ কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। সে যেই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।তিনি তেপুকুরিয়া-আড়পাড়া এলাকাকে বিশেষ নজরদারির আওতায় আনার কথাও উল্লেখ করেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।উন্নয়ন কাজের স্বচ্ছতা প্রসঙ্গে এমপি চাঁদ বলেন, প্রতিটি প্রকল্প শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করতে হবে। খারাপ কাজের সঙ্গে আমার নিজের সন্তান জড়িত থাকলেও তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি শাম্মী আক্তারের সভাপতিত্বে ১ কোটি ৩৮ লাখ ৭৮ হাজার ২৪৪ টাকা ব্যয়ে একাডেমিক ভবন নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।বাজুবাঘা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট ফিরোজ আহমেদ রঞ্জুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আহসান হাবিব, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফখরুল হাসান বাবলু, বাউসা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম এবং জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক এসএম সালাউদ্দিন আহমেদ শামীম সরকার।এ সময় উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আশরাফ আলী মলিন, সদস্য সুরুজ্জামান সুরুজ, মোকলেছুর রহমান মুকুল, বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা আলাউদ্দিন, বাজুবাঘা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাহার আলী, বাউসা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন, সাবেক সভাপতি প্রভাষক আনোয়ার হোসেন পলাশ, রেজাউল করিম বাদশা, রহিম উদ্দিন, প্রভাষক নবাব আলী, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান, বাজুবাঘা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ইমামুল হক, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সেলিম সরকার, ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি দুলাল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক সান্টু আলী, ছাত্রনেতা সৌরভ হোসেন, আমির হামজা মধু, জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন, সহকারী প্রকৌশলী সুমন রানা, ঠিকাদার জমির উদ্দিন, যুবদল নেতা সালে আহাম্মেদ সালাম, শফিকুল ইসলাম শফিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।ইখা
হিন্দুরা কোনো নির্দিষ্ট দলের ভোটব্যাংক নয়: এমপি সিরাজ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনোত্তর বগুড়ার শেরপুরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় উপজেলা ও পৌর বিএনপির আয়োজনে বগুড়ার শেরপুর শহরের টাউন ক্লাব পাবলিক লাইব্রেরি মহিলা অনার্স কলেজ চত্বরে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে শ্রীশ্রীগীতা ও চন্ডী পাঠ করা হয়।সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া-৫ শেরপুর-ধুনট নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্য গোলাম মো. সিরাজ। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শেরপুর পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র স্বাধীন কুমার কুন্ডু।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে সাংসদ জিএম সিরাজ বলেন, আগে একটি ধারণা ছিল, হিন্দুরা একটি বিশেষ দলের ভোটব্যাংক। এই নির্বাচনে সেই ধারণা মিথ্যা প্রমাণিত করে ভালোবাসার বিজয় হয়েছে। “১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিজয়। বৈষম্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। সেই বৈষম্যবিরোধী চেতনার পরিপন্থীভাবে দেশ পরিচালনার কারণেই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়েছে। তাই মুক্তিযুদ্ধ আমাদের মূল ভিত্তি।”তিনি আরও বলেন, “সংস্কার প্রস্তাবনায় বিএনপির কিছু আপত্তি ছিল। অন্তবর্তী সরকার সেগুলো উপেক্ষা করে গণভোটের আয়োজন করেছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে সংবিধান কতটুকু সংশোধন হবে, তা সংসদেই আলোচনা করে নির্ধারণ করা হবে।”অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন, পূজা মন্ডপ কমিটি এবং ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর নেতৃবৃন্দ নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও উত্তরীয় পরিয়ে সম্মান জানান।সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের শেরপুর সভাপতি ডা. বিপ্লব কুমার বর্মন, শ্রী শ্রী জগন্নাথ মন্দির কমিটির সহ-সভাপতি প্রকাশ সরকার, শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারী মন্দিরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাধন চক্রবর্তী, সাপ্তাহিক তথ্যমালা পত্রিকার সম্পাদক সুজিত বসাক, ধুনট উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ বিকাশ চন্দ্র সাহা, বগুড়া জেলা হিন্দু মহাজোটের সহ-সভাপতি আশীষ চন্দ্র সরকার, ব্যবসায়ী পীযূষ চক্রবর্তী, ডা. অরুণাংশু মন্ডল, পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক জয় কিশোর মুন্সী, ডা. অপু বসাক, ডা. তন্ময় বর্মন, গোবিন্দ কাঙ্গাল ভক্ত কমিটির সভাপতি রঞ্জিত কৈরি, শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারী মন্দির কমিটির শুভ অধিকারী, ধুনট উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি আশীষ কুমার সাহা, পৌর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শেফালী ঘোষ, অশোক কুমার কুন্ডু, শেরপুর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর সৌমেন্দ্রনাথ ঠাকুর শ্যাম, নিমাই ঘোষ, গোবিন্দ বাগচী, চন্দন কুমার দাস রিংকু প্রমুখ।এছাড়া বক্তব্য রাখেন বগুড়া জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা জানে আলম খোকা, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কে. এম. মাহবুবর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, জেলা ও উপজেলা বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আসিফ সিরাজ রব্বানী, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ আহমেদ প্রমুখ। এ সভায় উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ড থেকে কয়েক হাজার সনাতন ধর্মাবলম্বী উপস্থিত ছিলেন। এসআর
সিংড়ায় আবাদি জমিতে পুকুর খনন, ৮টি এক্সকেভেটর জব্দ
নাটোরের সিংড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে তিন ফসলি আবাদি কৃষি জমিতে অবৈধভাবে পুকুর খননের অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দিনব্যাপী উপজেলার চৌগ্রাম, ইটালি, রামানন্দ খাজুরা, সুকাশের বনকুড়াইল, কলমের নজরপুর, পুন্ডরি ও মির্জাপুর এলাকায় এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল রিফাতের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযান চলাকালে মাটি কাটার এক্সকেভেটর (ভেকু) নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে অভিযুক্তরা। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ৮টি এক্সকেভেটর, ১৬টি ব্যাটারি ও গাড়িতে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। তবে প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে সংশ্লিষ্টরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।অভিযানকালে উদ্ধারকৃত যন্ত্রাংশগুলো জব্দ তালিকায় রাখা হয়েছে, যাতে পুনরায় অবৈধভাবে মাটি খনন বা পুকুর খনন কার্যক্রম পরিচালনা করা না যায়।সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল রিফাত জানান, কৃষি জমিতে অবৈধভাবে মাটি কাটা ও পুকুর খনন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের কর্মকাণ্ড পরিবেশ ও কৃষি উৎপাদনের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের অপরাধে জড়িত হলে মাটি ও বালু ব্যবস্থাপনা আইনসহ সংশ্লিষ্ট আইনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।অভিযান চলাকালে এলাকাবাসীকে সতর্ক করে বলা হয়, কোনোভাবেই যেন ফসলি জমির 'টপ সয়েল' বা উপরিভাগের মাটি কাটা কিংবা অবৈধ পুকুর খনন না হয়। এ ধরনের যেকোনো অবৈধ কর্মকাণ্ডের তথ্য পেলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনকে জানানোরও আহ্বান জানানো হয়।এনআই
সিংড়ায় নদীতে প্লাস্টিকের বাক্সে মিললো ৫০ রাউন্ড পিস্তলের গুলি
নাটোরের সিংড়া পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের কাঁটাপুকুরিয়া মহল্লায় নাগর নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে দুই শিশুর নজরে আসে একটি বক্স সেই বক্সে ছিল পিস্তলের ৫০ রাউন্ড গুলি ও অস্ত্র পরিষ্কারের সরঞ্জাম। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সেগুলো উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।জানা যায়, কাঁটাপুকুরিয়া মহল্লার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলমের শিশু পুত্র মোস্তাকিম হোসেন (৯) ও জাবের হোসেন (৭)।মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৩টার দিকে তাদের বাড়ির পশ্চিম পাশে পার্শ্ববর্তী নাগর নদীতে মাছ ধরতে যায়। এসময় তারা নদীর মধ্যে একটি নীল রঙের প্লাস্টিকের বাক্স দেখতে পায়। বাক্সটি খুলে তারা এর ভেতরে ৫০ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, পিস্তলের ব্যারেল পরিষ্কার করার প্লাস্টিকের তৈরি ক্লিনিং রড ও দুটি ব্রাশ পায়। তবে প্রতিটি গুলির পিছনে ইংরেজিতে CBC 32 AUTO লেখা ছিলশিশুরা বিষয়টি বুঝতে না পেরে বাক্সটি নিজ বাড়িতে নিয়ে রাখে। পরে শিশুর মা মরিয়ম বেগম (৪০) সিংড়া থানায় ফোন করে খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাক্সসহ ভেতরের গুলি ও সরঞ্জাম উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।এঘটনা জানতে চাইলে শিশুদের মা মরিয়ম বেগম বলেন, নদীর পানি কমে যাওয়ায় তার দুই ছেলে মাছ ধরতে গিয়েছিল। কিছুক্ষণ পর তারা হঠাৎ একটি মাঝারি আকারের বক্স হাতে নিয়ে বাড়িতে ফিরে আসে। কৌতূহলবশত বক্সটি খুলে তিনি ভেতরে পিস্তলের গুলি দেখতে পান। বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে থানায় খবর দেন এবং পরে উদ্ধারকৃত বক্সসহ গুলি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।এবিষয়ে সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ.ব.ম আব্দুন নূর বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি প্লাস্টিকের বাক্সের ভেতর থাকা ৫০ রাউন্ড পিস্তলের গুলি ও অস্ত্র পরিষ্কারের কিছু সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। এসব কোথা থেকে এলো এবং কারা রেখে গেছে, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এসআর
টাংগুয়ার হাওরে পর্যটকবাহী হাউজবোটে অগ্নিকাণ্ড
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার টাংগুয়ার হাওরে পর্যটকবাহী মাছরাঙা নামের একটি হাউজবোটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে হাউজবোটটির বেশ কিছু অংশ পুড়ে গেছে। এ সময় হাউসবোটে কোনো পর্যটক না থাকায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার বালিজুড়ী ইউনিয়নের আনোয়ারপুর বাজারের পূর্ব পাড়ে রক্তি নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।প্রতক্ষ্যদশী ও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রক্তি নদীতে নোঙর করে হাউজবোটটির মেরামতের কাজ করছিল মিস্ত্রি ও কর্মচারীরা। হঠাৎ করেই হাউজবোটটির পেছন দিকে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। আর মুহূর্তের মধ্যেই আগুন দাউদাউ করে ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় ব্যবসায়ীসহ আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।টাঙ্গুয়া হাওরের পর্যটকবাহী নৌ সমিতির সভাপতি রব্বানী জানান, মাছরাঙা হাউজবোটটিতে আগুন লাগার পর আনোয়ারপুর বাজারের ব্যবসায়ী ও আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে হাউজবোটটির ভেতরের অধিকাংশ সরঞ্জাম পুড়ে যায়।বালিজুড়ী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বাবুল মিয়া জানান, হাউজবোড লাগা আগুন সবাই মিলে নিভানো হয়েছে। তাহিরপুর থানার ওসি মো. আমিনুল ইসলাম জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাচ্ছি। আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ পরে বলতে পারবো।ইখা
ঢাকা তুরাগে ১১ কোটি টাকা ডাকাতি মামলার আসামী তাহিরপুর থেকে আটক
বহুল আলোচিত ঢাকা তুরাগে সংগঠিত ১১ কোটি টাকা ডাকাতি মামলার মোঃ জনি মিয়া নামে এক আসামীকে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা থেকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার(২৪ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০ টায় উপজেলা উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়ন ট্যাকেরঘাট এলাকা থেকে আটক করা হয়।আটক জনি মিয়া(৩৫) উপজেলা উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের বড়ছড়া গ্রামের মোঃ গনি মিয়ার ছেলে।পুলিশ জানায়, তুরাগ থানার মামলা নং ১০(৩) ২৩, ধারা ৩৯৫/৩৯৭/৪১২/৩৫ পেনাল কোড, এর পলাতক আসামী জনি মিয়া(৩৫) কে অদ্য রাতে টেকেরঘাট অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই মোঃ রিপন উদ্দিন সংর্গীয় ফোর্সসহ অভিযান পরিচালনা করে বড়চড়া এলাকা থেকে ওয়ারেন্ট মূলে গ্রেফতার করে।টেকেরঘাট অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই মোঃ রিপন উদ্দিন জানিয়েছেন,আটক জনি মিয়াকে তাহিরপুর থানা সোপর্দ করা হয়েছে।তাহিরপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আমিনুল ইসলাম এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।এবি
ট্যাকেরঘাট খনি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ সাময়িক বরখাস্ত
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ট্যাকেরঘাট চুনাপাথর খনি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ মো. খায়রুল আলমকে ৬০ দিনের জন্য সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সিনিয়র শিক্ষক মো. মর্তুজ আলীকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাৎ, আর্থিক হিসাব-নিকাশ সঠিকভাবে উপস্থাপন না করা, কমিটির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অনীহা এবং প্রশাসনিক নির্দেশনা অমান্যের অভিযোগ উঠেছে। অ্যাডহক কমিটির সভাপতি আবু সুফিয়ান টিপু স্বাক্ষরিত একাধিক স্মারক ও নোটিশ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। অ্যাডহক কমিটির অভিভাবক সদস্য বাসির আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।অভিভাবক সদস্য বাসির আহমেদ জানান, ২০২২ সালে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ সরকার ‘অটোপাস’ ঘোষণা করলে ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অটোপাসের পর সেই টাকা আর ফেরত দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া এসএসসি টেস্ট পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জরিমানা বাবদ নেওয়া টাকা উত্তীর্ণ হলে ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও, কৃতকার্য ও অকৃতকার্য কোনো শিক্ষার্থীই সেই টাকা ফেরত পায়নি। ওই অর্থ স্কুল ফান্ডে জমা থাকলেও দীর্ঘ সময়েও তা শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানে সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং অফিস সময় সংক্রান্ত নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করার অভিযোগও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।কমিটি দাবি করেছে, প্রতিষ্ঠানের গত পাঁচ বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব চাওয়া হলেও তা সন্তোষজনকভাবে দাখিল করা হয়নি। এ বিষয়ে একাধিকবার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেওয়া জবাব সন্তোষজনক ছিল না।সর্বশেষ গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত অ্যাডহক কমিটির সভায় বিষয়টি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। পরবর্তীতে ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ২১ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত অধ্যক্ষকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। বরখাস্তের মেয়াদ শেষে উপযুক্ত প্রমাণাদিসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে; অন্যথায় বিধি অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।এদিকে শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সিনিয়র শিক্ষক মো. মর্তুজ আলীকে অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিদ্যালয় কোড ২৭০৫ এবং কলেজ কোড ২৭০২। এ বিষয়ে অধ্যক্ষ খায়রুল আলমের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।এনআই
সুনামগঞ্জে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের বাজার মনিটরিং, ৪ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
সুনামগঞ্জে পবিত্র রমজান উপলক্ষে বাজার মনিটরিং করেছেন জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া ও পুলিশ সুপার আ. ব. ম. জাকির হোসেন, পিপিএম।অভিযান চলাকালে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে শহরের ৪টি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে ২৪ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়। পরে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করেন জেলার শীর্ষ কর্মকর্তারা।অভিযান চলাকালে একটি দোকানে লেবুর দাম যাচাই করলে দোকানদার ১২০ টাকার পরিবর্তে ৪০ টাকা বলেন। এ সময় উপস্থিত ক্রেতারা কম দামে লেবু কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়েন।পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা ও পণ্যের গুণগত মান বজায় রাখার লক্ষ্যে নিয়মিত তদারকির অংশ হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়। এদিন সুনামগঞ্জ পৌর শহরের আলফাত উদ্দিন স্কয়ার (ট্রাফিক পয়েন্ট), জগন্নাথবাড়ি এলাকা, কাঁচাবাজার, ডিএস রোড, ফলবাজার, মধ্যবাজার ও পাইকারি বাজারসহ বিভিন্ন মার্কেট ও বিপণিবিতানে মূল্য তালিকা প্রদর্শন এবং সহনীয় পর্যায়ে দাম রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এ ছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য বিক্রি না করার জন্য সতর্ক করা হয়।অভিযানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সুনজিত কুমার চন্দ, সুনামগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ, ম্যাজিস্ট্রেট সোয়াদ সাত্তার চৌধুরীসহ জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।পুলিশ সুপার আ. ব. ম. জাকির হোসেন বলেন, “রমজান রহমতের মাস। এই মাসে ব্যবসায়ীরা কোনো প্রকার সিন্ডিকেট করে ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণা করতে পারবেন না। কোনোভাবেই নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানো যাবে না।”ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, “কোনোভাবেই যেন রমজান মাসে পণ্যের দাম বৃদ্ধি না হয়। যদি কেউ পণ্যের দাম বেশি রাখেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।এনআই
হবিগঞ্জে উপজেলা বিএনপি সভাপতিকে আটকের পর মহাসড়ক অবরোধ
হবিগঞ্জের বাহুবল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম-কে মোবাইল ফোনে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করার অভিযোগে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফেরদৌস চৌধুরী তুষারকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শায়েস্তানগর এলাকায় অবস্থিত তার নিজ বাসা থেকে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। অভিযানে ডিবি পুলিশের একটি দল অংশ নেয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে সন্ধ্যা ৭টার দিকে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা ঢাকা–সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেন। এর আগে দুপুর ২টার দিকেও বিএনপি নেতার মুক্তির দাবিতে মহাসড়কে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় ওসিকে প্রত্যাহারের দাবিও জানান বিক্ষোভকারীরা।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাহুবল থানার ওসিকে উদ্দেশ্য করে গালাগালের একটি অডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে। ভাইরাল হওয়া ওই অডিওতে আপত্তিকর ও অশালীন ভাষা ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। অডিওটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে অডিওর সত্যতা যাচাই ও সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়। তদন্তের ধারাবাহিকতায় অভিযুক্ত হিসেবে উপজেলা বিএনপির সভাপতিকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে।এ বিষয়ে হবিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) রাখী রানী দাস বলেন, “আজ দুপুরে শহরের শায়েস্তানগর এলাকা থেকে বাহুবল উপজেলা বিএনপির সভাপতিকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।”এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এক পক্ষ বিষয়টিকে আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন হিসেবে দেখছেন, অন্যদিকে বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি ঘটনাটি রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্য প্রণোদিত।প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোন ধারায় মামলা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।ইখা
অনলাইন ভোট
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আগস্টের পর কিছু সাধারণ ও নিরীহ লোককে আসামি করা হয়েছে। আপনিও কি তাই মনে করেন?
আন্তর্জাতিক
সব দেখুন
ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল আফগানিস্তান
আফগানিস্তানের হিন্দুকুশ অঞ্চলে বুধবার রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। পাকিস্তানের ইসলামাবাদ, সোয়াত, পেশাওয়ার, চিত্রালসহ বিভিন্ন শহরে কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।পাকিস্তান আবহাওয়া বিভাগ (পিএমডি) জানিয়েছে, ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র ছিল হিন্দুকুশ অঞ্চলে ৩৬.৯৯° উত্তর অক্ষাংশ ও ৭১.৪১° পূর্ব দ্রাঘিমাংশে।প্রভাবিত শহরগুলোর বাসিন্দারা তীব্র ঝাঁকুনি অনুভবের কথা জানিয়েছেন, ফলে অনেকেই বাড়ি ও অফিস ছেড়ে খোলা স্থানে আশ্রয় নেন।তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।সূত্র : রয়টার্স, দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনএবি
২০২৫ সালে রেকর্ড ১২৯ সাংবাদিক নিহত
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে গত বছর কাজের সময় রেকর্ড ১২৯ জন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের প্রাণ গেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর হাতে। বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় কাজ করা যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টসের (সিপিজে) বার্ষিক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।বুধবার সংস্থাটি বলেছে, টানা দ্বিতীয় বছরের মতো ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে সংবাদকর্মীদের প্রাণহানির রেকর্ড হয়েছে। এমনকি ২০২৪ সালের মতো গত বছরও দুই-তৃতীয়াংশ সাংবাদিকের প্রাণহানির ঘটনায় ইসরায়েল দায়ী।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ইসরায়েলি গোলাবর্ষণে ৮৬ জন সাংবাদিক নিহত হন। তাদের অধিকাংশই ছিলেন গাজার ফিলিস্তিনি সাংবাদিক। একই সঙ্গ ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিদের পরিচালিত একটি গণমাধ্যম কার্যালয়ে ইসরায়েলি হামলায় ৩১ জন গণমাধ্যমকর্মী নিহত হন। সিপিজে সাংবাদিকদের হতাহতের সংখ্যা নথিভুক্ত করার কাজ শুরুর পর ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বাধিক প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ছিল এটি।সিপিজে যে ৪৭টি হত্যাকাণ্ডকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা বা ‘হত্যা’ হিসেবে নথিভুক্ত করেছে, তার ৮১ শতাংশের জন্যও ইসরায়েল দায়ী বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। গাজায় প্রবেশাধিকারে বিধিনিষেধ থাকায় সাংবাদিকদের হতাহতের সংখ্যা যাচাই করা যায়নি। যে কারণে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী সাড়া দেয়নি। অতীতে ইসরায়েলি বাহিনী বলেছে, গাজায় ইসরায়েলি সৈন্যরা কেবল যোদ্ধাদের লক্ষ্য করেছে। তবে যুদ্ধক্ষেত্রে কাজ করার ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই ঝুঁকি থাকে।ইসরায়েল গত সেপ্টেম্বরে ইয়েমেনেরে ওই গণমাধ্যম কার্যালয় লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দায় স্বীকার করেছিল। সেই সময় সেটিকে হুথিদের প্রচারণা শাখা হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল ইসরায়েল।হামাসের সঙ্গে গাজায় নিহত কিছু সাংবাদিকের যোগাযোগ ছিল বলে কয়েকটি ঘটনায় ইসরায়েল স্বীকার করেছে। তবে এর পক্ষে যাচাইযোগ্য প্রমাণ দেয়নি। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ইসরায়েলের এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। নিহত প্রতিবেদকদের সঙ্গে গাজার সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের কোনও সম্পর্ক ছিল না বলে জানিয়েছে তারা। সিপিজে ইসরায়েলের এমন অভিযোগকে ‘ভয়াবহ অপবাদ’ বলে আখ্যা দিয়েছে।গাজায় বিদেশি সাংবাদিকদের প্রবেশের অনুমতি দেয় না ইসরায়েল। যে কারণে সেখানে নিহত সব গণমাধ্যমকর্মীই ছিলেন ফিলিস্তিনি।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী এখন পর্যন্ত যেকোনও দেশের সামরিক বাহিনীর তুলনায় সর্বোচ্চসংখ্যক নিশানাভিত্তিক সাংবাদিক হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। সিপিজে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বজুড়ে সাংবাদিক হতাহতের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহত ১২৯ সাংবাদিকের মধ্যে অন্তত ১০৪ জন সংঘাত-সংশ্লিষ্ট ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। গাজা ও ইয়েমেনের বাইরে সাংবাদিকদের জন্য সবচেয়ে প্রাণঘাতী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে সুদান; যেখানে ৯ জন নিহত হন। এছাড়া মেক্সিকোতে ৬ জন নিহত হয়েছেন।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর হাতে চারজন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন এবং ফিলিপাইনে তিন সাংবাদিকের প্রাণহানি ঘটেছে।রাশিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে সাংবাদিকদের নিশানা করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং উল্টো ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রুশ সাংবাদিকদের লক্ষ্য করার অভিযোগ তুলেছে। যদিও কিয়েভ ওই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সিপিজের প্রতিবেদনের বিষয়ে ওয়াশিংটনে নিযুক্ত রাশিয়ার দূতাবাসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সূত্র: রয়টার্সএবি
বোমা হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে শ্রীলঙ্কার সাবেক গোয়েন্দা প্রধান গ্রেপ্তার
শ্রীলঙ্কায় ইস্টার সানডেতে ভয়াবহ সিরিজ বোমা হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে দেশটির সাবেক গোয়েন্দা প্রধান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল সুরেশ সাল্লেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ভোরে দেশটির অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তাকে হেফাজতে নেয়।সিআইডির এক কর্মকর্তা বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘ইস্টার সানডে হামলার ষড়যন্ত্র, সহায়তা ও মদদের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’ ২০১৯ সালের ২১ এপ্রিল ইস্টার সানডের সকালে প্রায় একই সময়ে ছয়টি স্থানে বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। হামলার লক্ষ্য ছিল তিনটি গির্জা ও তিনটি বিলাসবহুল হোটেল। এতে শত শত মানুষ আহত হন এবং ৪৫ জন বিদেশিসহ বহু প্রাণহানি ঘটে। এ হামলার পর শ্রীলঙ্কার পর্যটনখাত মারাত্মক ধাক্কা খায় এবং অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। খবর আল জাজিরার।তৎকালীন সরকার একটি স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর ওপর দায় চাপালেও গোয়েন্দা সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ২০২৩ সালে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-৪ এক প্রতিবেদনে দাবি করে, হামলার আগে সুরেশ সাল্লে হামলাকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। উল্লেখ্য, হামলার আগে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে সতর্কবার্তা দিলেও তা উপেক্ষিত হয়েছিল। এবি
পাকিস্তানে শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাত
পাকিস্তানের ইসলামাবাদ ও খাইবার পাখতুনখোয়ার কিছু অংশে ৫ দশমিক ৬ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডন জানায়, পেশোয়ার, চিত্রাল, সোয়াত, সোয়াবি, বাজাউর, মারদান, চরসাদ্দা এবং মানসেহরাতের পাশাপাশি ইসলামাবাদেও কম্পন অনুভূত হয়েছে।পাকিস্তান আবহাওয়া অধিদফতরের (পিএমডি) তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটি বিকেল ৪টা ১২ মিনিটে আঘাত হানে এবং এর গভীরতা ছিল ১১৪ কিলোমিটার। সংস্থাটি জানায়, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল আফগানিস্তানের হিন্দুকুশ অঞ্চল। পাকিস্তান আরবীয়, ইউরেশীয় ও ভারতীয়– এই তিনটি প্রধান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত, যার ফলে দেশটিতে পাঁচটি ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল সৃষ্টি হয়েছে। একাধিক ফল্ট লাইনের সংযোগস্থলে অবস্থানের কারণে এ অঞ্চলে প্রায়ই টেকটোনিক মুভমেন্ট ঘটে থাকে। গত সপ্তাহেও খাইবার পাখতুনখোয়ার বিভিন্ন এলাকায় ৫.৯ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে।এমআর-২
ইসরায়েল সফরে গেলেন নরেন্দ্র মোদি
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২ দিনের সফরে ইসরায়েলে পৌঁছেছেন। সফরকালে তিনি দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করবেন। এছাড়া ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে মোদির ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। খবর আলজাজিরার।ফিলিস্তিনের গাজায় চলমান ইসরায়েলি অভিযানে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন নেতানিয়াহু। এরই মধ্যে এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক সংঘাতে গাজায় অন্তত ৭২ হাজার ৭৩ জন নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় ভারত এর বিরোধিতা করেছিল। দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইসরায়েলের নীতির কড়া সমালোচক ছিল ভারত, বিশেষ করে অ-আরব দেশগুলোর মধ্যে ভারত অন্যতম ছিল। তবে ১৯৯২ সালে দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়।২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর থেকে ভারত-ইসরায়েল সম্পর্ক দ্রুত জোরদার হয়েছে। উভয় দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, কৃষি ও বাণিজ্য খাতে সহযোগিতা বেড়েছে।নেতানিয়াহুর কার্যালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ইসরায়েল ও ভারতের মধ্যে একটি অসাধারণ জোট রয়েছে এবং আমরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করব।গত বছর ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের নয়াদিল্লি সফরের সময় দুই দেশ পারস্পরিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে একটি বিনিয়োগ চুক্তি সই করে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩.৯ বিলিয়ন ডলার এবং পারস্পরিক বিনিয়োগের বর্তমান পরিমাণ প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলার। এমআর-২
তুরস্কে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত, পাইলট নিহত
তুরস্কে উড্ডয়নের সময় দেশটির বিমান বাহিনীর একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ভোরে এ দুর্ঘটনায় পাইলট নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।প্রতিবেদনে বলা হয়, বিমানটি বালিকেসিরে অবস্থিত ৯ম মেইন জেট বেস কমান্ডের অধীনস্থ ছিল। স্থানীয় সময় রাত প্রায় ১টার দিকে এটি বিধ্বস্ত হয়। কর্মকর্তারা বলেন, উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই যুদ্ধবিমানটির সঙ্গে রেডিও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপরই তাৎক্ষণিকভাবে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। পরে জরুরি উদ্ধারকারী দল বিমানটির ধ্বংসাবশেষের অবস্থান শনাক্ত করে এবং নিশ্চিত করে যে পাইলট নিহত হয়েছেন। ওই পাইলটকে মেজর ইব্রাহিম বোলাত হিসেবে শনাক্ত করেছে তুরস্কের জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। তারা জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি এবং সরকারি দুর্ঘটনা মূল্যায়ন কমিটির কারিগরি তদন্তের পর তা নির্ধারণ করা হবে। বালিকেসির-এর গভর্নর ইসমাইল উস্তাওগলু বলেন, বিমানটি একটি নিয়মিত উড্ডয়নে ছিল। তিনি পাইলটের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং দায়িত্ব পালনকালে নিহত হওয়ায় তাকে শহীদ হিসেবে অভিহিত করেন। জানা যায়, বালিকেসির পাবলিক প্রসিকিউটরস অফিস একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা ও প্রমাণ সংগ্রহ করছে প্রসিকিউটর ও ফরেনসিক দল। তবে দুর্ঘটনার কোনো সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাথমিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।এমআর-২
যুক্তরাষ্ট্রে ছুরি হামলায় ৪ জন নিহত
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় ৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন ৩২ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে টাকোমার উত্তর-পশ্চিমে কী পেনিনসুলা এলাকায় একটি বাড়ির বাইরে এ হামলার ঘটনা ঘটে। পিয়ার্স কাউন্টি শেরিফ অফিস জানায়, সকাল ৮টা ৪১ মিনিটের দিকে তারা খবর পায় এবং ঘটনাস্থলে রওনা হয়।কিন্তু কর্মকর্তারা পৌঁছানোর আগেই সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ওই ব্যক্তি বাড়ির বাইরে কয়েকজনের ওপর ছুরিকাঘাত শুরু করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। প্রথম ডেপুটি ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে প্রায় তিন মিনিট সময় নেন এবং সকাল ৯টা ৩৩ মিনিটে গুলির শব্দ শোনা যায় ।ছুরিকাঘাতে তিনজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। আরেকজনকে হাসপাতালে নেওয়া হলে পরে তিনি মারা যান। ঘটনার তদন্ত করছে পিয়ার্স কাউন্টি ফোর্স ইনভেস্টিগেশন টিম।যে বাড়ির সামনে হামলার ঘটনা ঘটেছে সেটি এমন এক নারীর বলে ধারণা করা হচ্ছে, যিনি তার ছেলের বিরুদ্ধে এক বছরের সুরক্ষা আদেশের আবেদন করেছিলেন।আদালতের নথি অনুযায়ী, তিনি অভিযোগ করেন তার ছেলে হুমকিমূলক মন্তব্য করতেন এবং মানসিক স্বাস্থ্য ও মাদকাসক্তির সমস্যায় ভুগছিলেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার ছেলে তাকে মানসিকভাবে নির্যাতন করেছেন, ব্যক্তিগত জিনিসপত্র নষ্ট করেছেন এবং তার পোষা বিড়ালকে আঘাত করেছেন।এখনও পর্যন্ত সন্দেহভাজন ও নিহতদের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।এমআর-২
আমি না থাকলে ৩ কোটি ৫০ লাখ মানুষ নিহত হতো: ট্রাম্প
গত বছরে জম্মু-কাশ্মিরের পেহেলগামে জঙ্গি হামলাকে কেন্দ্র করে যে সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছিল ভারত এবং পাকিস্তান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ না ঘটলে সেই যুদ্ধে কমপক্ষে ৩ কোটি ৫০ লাখ মানুষ নিহত হতো। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজে এই দাবি করেছেন।মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট কংগ্রেসে দেওয়া স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে এ দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ভারত-পাকিস্তানের সংঘাত যে তার হস্তক্ষেপেই থেমেছে— তা ও আরও একবার স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন তিনি।ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “আমরা গর্বের সঙ্গে বলতে পারি যে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে এবং বাইরে মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তা আমরা আরও সুরক্ষিত করেছি। আমি ক্ষমতা নেওয়ার প্রথম দশ মাসে ৮টি যুদ্ধ আমি থামিয়েছি। পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধ সেসবের মধ্যে একটি। যদি আমি না থাকতাম, তাহলে পাকিস্তান এবং ভারত পরমাণু যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ত।”“পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নিজে আমাকে এ কথা বলেছেন। তিনি আরও বলেছেন, এই যুদ্ধে হস্তক্ষেপের মাধ্যমে আমি দু’দেশের কমপক্ষে ৩৫ মিলিয়ন (৩ কোটি ৫০ লাখ) মানুষের জীবন বাঁচিয়েছি।”প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল ভারতের জম্মু-কাশ্মির রাজ্যের অনন্তনাগ জেলার পেহেলগাম উপজেলার বাইসরন উপত্যকায় বন্দুকধারী সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন ২৫ জন ভারতীয় নাগরিক। এ ঘটনায় সৃষ্ট উত্তেজনার জেরে ৪ মে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন সিঁদুর’ পরিচালনা করে ভারতের সেনাবাহিনী।ভারতের সেনাবাহিনীর এ অভিযানের জবাবে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী পরিচালনা করে ‘অপারেশন বুনিয়ান উল মারসুস’। চার দিন সংঘাতের পর যুদ্ধবিরতিতে যায় ভারত ও পাকিস্তান।প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এর আগেও অজস্রবার দাবি করেছেন যে তার একক কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় এই যুদ্ধবিরতি সম্ভব হয়েছে। পাকিস্তানের সরকার তা সমর্থনও করেছে, কিন্তু ভারত এখনও ট্রাম্পের এই দাবিকে আমল দেয়নি।স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, তার লক্ষ্য এখন নবম যুদ্ধের অবসান ঘটানো।“এখন আমার লক্ষ্য হলো নবম যুদ্ধ, অর্থাৎ রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান হত্যাযজ্ঞ থামানো। যদি আমি প্রেসিডেন্ট থাকতাম— এই যুদ্ধটাই বাঁধতো না।”এমআর-২
মিয়ানমারের রাখাইনে জান্তার বিমান হামলা, নিহত ১৭
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের পোন্নাগিউন টাউনশিপে দেশটির জান্তা বাহিনী বিমান হামলায় অন্তত ১৭ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। এতে আরও ১৪ জন আহত হয়েছেন।স্থানীয় সংবাদমাধ্যম নারিনজারা জানায়, গত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সামরিক জান্তা রাজ্যের পোন্নাগিউন টাউনশিপে অবস্থিত ইয়োয়েঙ্গু গ্রামের বাজারে বিমান হামলা চালায়। হামলায় ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে। আরাকান আর্মি (এএ) জানায়, প্রথমেই ১১ জন নিহত হয়। বিকেল গড়াতে গড়াতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৭ জনে দাঁড়ায়।হামলায় নিরীহ নারী-পুরুষ ও শিশুসহ ১৪ জন আহত হয়েছেন। কয়েকটি বাড়ি ও দোকানপাট পুড়ে গেছে। জান্তা বাহিনী নিয়মিত রাখাইনের স্কুল, হাসপাতাল, বাজার ও ধর্মীয় স্থাপনা, এমনকি মঠেও বোমা হামলা চালাচ্ছে। এতে প্রতিদিন সাধারণ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত মিয়ানমারে বিতর্কিত নির্বাচনের পর সামরিক নেতৃত্বের প্রভাব বজায় রেখে সামরিক জান্তা বেসামরিক সরকার গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। চীন, রাশিয়া ও ভারতসহ কয়েকটি বড় শক্তি এ নির্বাচনকে স্বাগত জানিয়ে নেপিদোর সঙ্গে যোগাযোগ স্বাভাবিক করার ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যেও গৃহযুদ্ধ চলা রাখাইন রাজ্যে নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন নেই। আরাকান আর্মির সঙ্গে চলমান সংঘর্ষে বারবার পিছিয়ে পড়ার পর রাখাইনে বেসামরিক গ্রামগুলোতে বিমান ও নৌবাহিনীর গোলাবর্ষণ বাড়িয়েছে সামরিক জান্তা। চীনা অবকাঠামোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিয়াকফিউ অঞ্চলে সাম্প্রতিক লড়াইয়ে সরাসরি মুখোমুখি সংঘর্ষে সুবিধা করতে না পেরে তারা আকাশ ও সমুদ্র থেকে হামলা চালায়। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় মিন প্যিন গ্রামে বিমান হামলায় এক নারী ও এক শিশুর মৃত্যু এবং বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। এর আগের দিন নৌবাহিনীর একটি জাহাজ থেকে ছোড়া গোলা কিয়াউক পিয়াউ গ্রামে একটি বসতঘরে আঘাত করলে ৮০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা নিহত হন। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, যুদ্ধক্ষেত্রে পরাজয়ের পরই গ্রামগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। সংঘর্ষের এ ধরন রাখাইনে বেসামরিক জনগণের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে। এমআর-২
ভারতে বাংলাদেশি সন্দেহে ১৮ জন আটক
ভারতের কর্ণাটকের রাজধানী বেঙ্গালুরু থেকে বাংলাদেশি সন্দেহে ১৮ জনকে আটক করেছে রাজ্য পুলিশ। আটকদের মধ্যে শিশু ও নারীও আছে।জানা যায়, ১৮ জনের মধ্যে শিশু বাদে বাকিরা বেঙ্গালুরুতে পরিযায়ী শ্রমিক হিসাবে কাজ করতেন। দীর্ঘ দিন সেখানে থাকতেন। তবে সম্প্রতি তাদের গতিবিধি নিয়ে সন্দেহের উদ্রেক হওয়ায় তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। এক পর্যায়ে পুলিশ তাদের নাগরিকত্ব বিষয়ক বৈধ নথিপত্র দেখতে চাইলে, তারা তা প্রদর্শনে ব্যর্থ হন।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সন্দেহজনক গতিবিধির কারণে আটক করা হয়েছে এই ১৮ জনকে। কোনো বৈধ নথিপত্রও তাদের কাছ থেকে পাওয়া যায়নি। গতকাল মঙ্গলবার বিকালের দিকে বেঙ্গালুরু-হাওড়া দুরন্ত এক্সপ্রেসে চাপিয়ে তাদের পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে আসা হয়। তার পরে তাদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হবে— তা এখনও স্পষ্ট নয়।হাওড়া স্টেশনে আনার পর এই ১৮ জনকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হবে, তা স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি। এ ব্যাপারে পুলিশ কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসা করা হলেও, তারা কোনও উত্তর দিতে রাজি হননি।এমআর-২
বিনোদন
সব দেখুন
ডিসি মাসুদকে অভিনন্দন জানালেন ওমর সানি
ঢাকাই সিনেমার একসময়ের জনপ্রিয় নায়ক ওমর সানী। আগের মতো অভিনয়ে নিয়মিত নন। সর্বশেষ ‘ডেডবডি’ সিনেমায় দেখা গিয়েছিল তাকে। বর্তমানে তার ব্যস্ততা কাটছে নিজের ব্যবসা ঘিরে। তার পরিবারের সবাই দেশের বাইরে থাকলেও তিনি দেশে থেকেই ব্যবসা সামলাচ্ছেন।ব্যবসায়িক ব্যস্ততার মাঝেও নিজের ফেসবুক আইডিতে নানা রকম পোস্ট দিয়ে আলোচনায় আসেন এই অভিনেতা।গতকাল (২৫ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে ওমর সানী ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মাসুদ আলমকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। পোস্টে ওমর সানী লেখেন, ‘অভিনন্দন ডিসি মাসুদ, একটি সন্তানকে দ্রুত উদ্ধার করার জন্য।’এ সময় তিনি আরও উল্লেখ করেন, এ ঘটনার নেপথ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা রয়েছে বলে তার প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পদক্ষেপে অপহরণের এক ঘণ্টার মধ্যে এক স্কুলছাত্রকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রধানমন্ত্রীর ফোনকলের পর রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলমের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে এই স্কুলছাত্রকে উদ্ধার করে পুলিশ।মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর খিলগাঁওয়ের নির্মাণাধীন একটি ভবন থেকে ছেলেটিকে উদ্ধার করা হয়। অপহরণের শিকার স্কুলছাত্রের বাবার নাম খন্দকার শামীম। তিনি সচিবালয়ের কর্মচারী।এইচএ
রাসেল ক্রোর টিকটকে ভিন্ন এক জগৎ
হলিউডের অভিনেতা—এই পরিচয়ের বাইরে ভিন্ন আরেক জগৎ আছে রাসেল ক্রোর। ইতোমধ্যে ভক্তরা আবিষ্কার করেছেন তাঁর একটি ‘গোপন’ টিকটক অ্যাকাউন্ট, আছে যেখানে তিনি বিলাসবহুল ঘড়ির প্রতি নিজের গভীর ভালোবাসা ভাগ করে নিচ্ছেন।অ্যাকাউন্টটির নাম ‘igp366’—যা তাঁর ব্র্যান্ড ‘ইনডোর গার্ডেন পার্টি’র প্রতি ইঙ্গিত দেয়। বায়োতে তিনি লিখেছেন, ঘড়ি আর ব্র্যান্ড নিয়েই এখানে তাঁর আলোচনা । কোনো তারকাসুলভ প্রচার নয়, বরং এটি তার শখের প্রকাশ।আপাতত তিনি দেখিয়েছেন নিজের ‘কারেন্ট রোটেশন’—অর্থাৎ নিয়মিত পরা প্রিয় কয়েকটি ঘড়ি। সংগ্রহে রয়েছে রোলেক্স, টুডার, ওমেগার মতো ঐতিহ্যবাহী ব্র্যান্ড।বিশেষভাবে নজর কাড়ে তাঁর রোলেক্স ডেটোনা—যা তিনি গত জুলাইয়ে উইম্বলডনে পরেছিলেন। এই ঘড়ির মূল্য প্রায় ৪০ হাজার ৬০০ ডলার। ভিডিওর শুরুতেই রাসেল ক্রো দেখান সুইস ব্র্যান্ড ওমেগার বিশেষ সংস্করণ সিমস্টার ডাইভার ৩০০এম, সিক্সটি ইয়ার্স অব জেমস বন্ড। জেমস বন্ড চরিত্রের ৬০ বছর পূর্তি উপলক্ষে তৈরি এ ঘড়ির নীল ডায়াল মনে করিয়ে দেয় ১৯৯৫ সালের ‘গোল্ডেন আই’–এ জেমস বন্ডরূপে পিয়ার্স ব্রসনানের হাতে দেখা সেই বিখ্যাত ঘড়িকে। দাম প্রায় ৯ হাজার ৪০০ ডলার। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০০১ সালে ব্রসনানের পর বন্ড চরিত্রে অভিনয়ের সম্ভাব্য তালিকায় ক্রোর নামও ছিল, যদিও শেষ পর্যন্ত অভিনয় করেন ড্যানিয়েল ক্রেইগ।টিকটক ভিডিওতে দেখা গেছে রাসেল ক্রোর সোনালি অস্কার মূর্তি—এক কোণে প্রায় নির্লিপ্তভাবে রাখা। ২০০১ সালে ‘গ্ল্যাডিয়েটর’ ছবিতে ম্যাক্সিমাস চরিত্রে অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেতার অস্কার জিতেছিলেন তিনি। সেই অস্কার যেন অনায়াসে পড়ে আছে অন্যান্য স্মারকের পাশে—যা ভক্তদের কাছে আরও ‘ফ্লেক্স’ হিসেবে ধরা দিয়েছে।ঘড়ির প্রতি ক্রোর অনুরাগ নতুন নয়। ২০১৮ সালে ‘আর্ট অব ডিভোর্স’ নিলামে তিনি ৩৭ লাখ ডলারের স্মারক, শিল্পকর্ম ও গয়না বিক্রি করেছিলেন। সেখানে ২৪টি ঘড়িও ছিল—পানেরাই, ব্রাইটলিং, কার্টিয়ের, শোপার্ডসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের।ক্রো নিজেই বলেছিলেন, ছোটবেলায় কোনো ‘ফ্ল্যাশি’ ঘড়ি ছিল না—বড় হয়ে সে অভাব পুষিয়ে নিয়েছেন। তাঁর কাছে ঘড়ি কেবল সময় জানানোর যন্ত্র নয়; প্রতিটি ঘড়ি যেন জীবনের একেকটি অধ্যায়ের স্মৃতি।এইচএ
টক্সিকে যশের ভিন্ন চরিত্র, নতুন লুকে চমক
সিনেমা ‘টক্সিক: আ ফেয়ারি টেল ফর গ্রোন-আপস’ নিয়ে দর্শকদের আগ্রহের কমতি নেই। আসন্ন সিনেমাটির দুটি টিজার প্রকাশ করেছেন নির্মাতারা, যা দর্শকদের মনে আগ্রহের ছাপ ফেলে দিয়েছে। টিজারগুলোতে যশের দুটি আলাদা রূপ দেখে সিনেমাটি নিয়ে যেমন কৌতুহল বেড়েছে, ঠিক তেমনি তার লুক নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনাও। এর মধ্যেই সদ্য নিজের সিগনেচার দাড়ি কেটে একদম নতুন লুকে হাজির হয়ে ভক্তদের বড়সড় চমক দিয়েছেন এই সুপারস্টার । এদিকে জানা গেছে, তার এই নতুন লুক সিনেমারই অংশ। সোস্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া যশের নতুন লুক দেখা যায়, দীর্ঘদিনের লম্বা চুল ও ঘন দাড়ি ছেড়ে ছোট চুলে ক্লিন শেভড লুকে হাজির হয়ে ভক্তদের চমকে দিয়েছেন তিনি। সিনেমাটির টিজারে যশকে দুটি আলাদা চরিত্রে দেখা গেছে। একদিকে লম্বা চুল ও দাড়িতে তার চিরচেনা ‘রায়া’ চরিত্র, অন্যদিকে ছোট চুলে একেবারেই তরুণ লুকে ‘টিকিট’ নামের অন্য আরেকটি চরিত্রে।‘রায়া’ চরিত্রের পরিচয় দিতে গিয়ে তাকে কুয়াশার মধ্যে সিগারেট হাতে দেখা গেছে, যেখানে তিনি বলছেন, 'ড্যাডি ইজ হোম'। অন্যদিকে ‘টিকিট’ চরিত্রের পোস্টারে তার রক্তমাখা মুখ সিনেমার অ্যাকশনধর্মী গল্পের ইঙ্গিত দিচ্ছে।কন্নড় ও ইংরেজি ভাষায় নির্মিত এই ছবিটি হিন্দি, তামিল, তেলুগু ও মালায়লাম ভাষায় ডাবিং করে প্রকাশ করা হবে। আগামী ২০২৬ সালের ১৯ মার্চ বিশ্বজুড়ে সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।এইচএ
মেহজাবীনকে ছাড়ানোর নেপথ্যে কারা? মুখ খুললেন তিশা
হযরত শাহজালাল (রা.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১৪ বোতল বিদেশি মদসহ জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরীর আটকে হয়েছেন, এমন খবরে নেটদুনিয়া তোলপাড়। এ সময় সামনে এলো আরেক চাঞ্চল্যকর তথ্য। কাস্টমসের সেই ‘রহস্যজনক’ ছাড়ের নেপথ্যে নাকি প্রভাব খাটিয়েছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা! নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র সংবাদ মাধ্যমকে এমন তথ্য দিয়েছে। সূত্র জানায়, সম্প্রতি দেশের এক প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের অফিসে আড্ডায় অংশ নেন নুসরাত ইমরোজ তিশা। সেখানে কথার প্রসঙ্গে মেহজাবীন চৌধুরীর এই মদকাণ্ডের বিষয়টি উঠে আসে। আড্ডায় তিশা নিজেই নিশ্চিত করেন যে, মেহজাবীনের মদসহ আটকের ঘটনাটি সম্পূর্ণ সত্যি। সূত্রমতে, বিমানবন্দরে আটকের পর মেহজাবীনের পক্ষ থেকে তিশা-ফারুকীর কাছে ফোনকল আসে এবং তারাই প্রভাব খাটিয়ে অভিনেত্রীকে কাস্টমসের জাল থেকে মুক্ত হতে সাহায্য করেন বলে আড্ডায় স্বীকার করেন তিশা।প্রকাশিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৭ আগস্ট ব্যাংকক থেকে বিএস-২১৮ ফ্লাইটে ঢাকায় ফেরেন মেহজাবীন, তাঁর স্বামী আদনান আল রাজীব ও নির্মাতা শঙ্খ দাসগুপ্ত। গ্রিন চ্যানেল পার হওয়ার সময় কাস্টমসের তল্লাশিতে তাদের লাগেজ থেকে ১৪ বোতল মদ উদ্ধার করা হয়। অবৈধভাবে অ্যালকোহল বহনের দায়ে মামলা হওয়ার বিধান থাকলেও, অদৃশ্য ইশারায় মুচলেকা ছাড়াই তাদের সসম্মানে ছেড়ে দেওয়া হয়। সে সময় জব্দ পণ্যের রসিদ করে বিষয়টি ধামাচাপা দেয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। প্রটোকল দিতে আসা এভিয়েশন সিকিউরিটির দুই কর্মকর্তাও মুচলেকা দিয়ে জানান, মদের বিষয়ে তারা কিছুই জানতেন না। মদকাণ্ড ও কাস্টমসের ছাড়ের বিষয়টি শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশ্যে আসার পর আজ রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে এক ফেসবুক পোস্টে মুখ খোলেন মেহজাবীন। সেখানে মদের বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার বা স্পষ্ট না করলেও তিনি দাবি করেন, ক্যারিয়ারের এই সময়ে তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ‘টার্গেট’ করা হচ্ছে।পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমি যখন নতুন করে কাজে মনোনিবেশ করেছি, ঠিক তখনই আবার আমার মানহানি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। নারীরাই আজকাল সহজ টার্গেট হচ্ছে, এর পেছনে কে বা কারা আছে তা আমার জানা নেই।’
অর্থ-বাণিজ্য
সব দেখুন
এবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ৪ পরিচালককে বদলি
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা ব্যবস্থায় হঠাৎ বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। গভর্নর পরিবর্তনের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির চারজন পরিচালক এবং একজন অতিরিক্ত পরিচালককে নতুন দায়িত্বে বদলি করা হয়েছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) জারি করা ব্যাংকের এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন এ অফিস আদেশ অনুযায়ী, পরিচালক মো. জয়নুল ইসলাম হিউম্যান রিসোর্সেস ডিপার্টমেন্ট-১ থেকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন বিভাগে বদলি হয়ে নতুন দায়িত্ব পালন করবেন। তার বদলে পরিচালক মো. শহিদ রেজা আর্থিক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন বিভাগ থেকে বদলি হয়ে হিউম্যান রিসোর্সেস ডিপার্টমেন্ট-১-এ যোগ দেবেন। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে উভয় বিভাগের অভিজ্ঞতা এবং প্রশাসনিক দক্ষতা সমন্বিতভাবে ব্যবহার করা হবে বলে জানা গেছে।তৃতীয় বদলি হিসেবে পরিচালক মো. বায়েজিদ সরকার ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ থেকে বদলি হয়ে মতিঝিল অফিসে ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক (কারেন্সি হিসেবে) দায়িত্ব পালন করবেন। এ পদে তিনি ব্যাংকের অর্থ এবং নীতি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ড তদারকি করবেন।এছাড়াও, পরিচালক গাজী মো. মাহবুবুল ইসলাম মতিঝিল অফিস থেকে বদলি হয়ে ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১-এ যোগ দেবেন, যেখানে তিনি নীতি নির্ধারণ এবং নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে সহায়তা করবেন।অতিরিক্ত পরিচালক হিসেবে মো. কামরুল ইসলাম গভর্নর অফিস থেকে বদলি হয়ে সদরঘাট অফিসে দায়িত্ব পালন করবেন। তার বদলির মাধ্যমে সদরঘাট অফিসের প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও সুসংগঠিত ও দক্ষভাবে পরিচালনা করা হবে।এই বদলিগুলি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে অফিস আদেশে। এফএস
প্রয়োজনেই গভর্নর পরিবর্তন, আরও অনেক জায়গায় হবে: অর্থমন্ত্রী
পরিবর্তন শুধু বাংলাদেশ ব্যাংকে হয়নি, অনেক জায়গায় হয়েছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তাদের অগ্রাধিকার ও কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রয়োজনেই বিভিন্ন জায়গায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। প্রয়োজনবোধে পরিবর্তন হতেই থাকবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ।বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে উত্তরে এ কথা বলেন তিনি।কোন বিবেচনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পরিবর্তন করা হলো? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে আমীর খসরু বলেন, বিবেচনার তো কিছু নেই। একটা নতুন সরকার আসছে। নতুন সরকারের প্রায়োরিটি আছে। স্বাভাবিকভাবেই পরিবর্তন খালি বাংলাদেশ ব্যাংকেই তো হয়নি, পরিবর্তন অনেক জায়গায় হচ্ছে এবং এটা হতেই থাকবে।তিনি বলেন, নতুন সরকারের নিজস্ব কর্মসূচি, পছন্দ ও নীতিগত চিন্তা-ভাবনা রয়েছে। এসব বাস্তবায়নের জন্য যেখানে প্রয়োজন, সেখানে পরিবর্তন আনা হবে। অর্থমন্ত্রী বলেন, নতুন সরকারের যে প্রোগ্রাম আছে, প্রিফারেন্স আছে, যে চিন্তা-ভাবনা আছে— সবগুলো মিলিয়ে এগুলো বাস্তবায়নের জন্য যেখানে যেখানে প্রয়োজন, সেখানে তো পরিবর্তন হবে।তিনি বলেন, শুধু বাংলাদেশ ব্যাংকে পরিবর্তন হয়নি, অনেক জায়গায় হয়েছে এবং প্রয়োজনবোধে আরও অনেক জায়গায় পরিবর্তন হতে থাকবে। খুবই স্বাভাবিক এটা। এমআর-২
পদত্যাগ করিনি, তবে শুনেছি আমি আর নেই: আহসান এইচ মনসুর
সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে—এমন তথ্য ছড়িয়ে পড়ার পর হঠাৎ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ত্যাগ করেছেন গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। এদিকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বের হতে দেখা যায়।চলে যাওয়ার সময় নতুন গভর্নর নিয়োগ ও তার পদত্যাগের বিষযয়ে জানতে চাওয়া হলে গভর্নর বলেন, ‘আমি পদত্যাগ করিনি, তবে খবরে শুনেছি।’ এর বাইরে আর কিছু বলেননি তিনি। জানা গেছে, ড. আহসান এইচ মনসুরকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নতুন গভর্নর নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন গভর্নর হিসেবে মোস্তাকুর রহমানকে নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত এক শিক্ষাবিদকে গভর্নর পদে নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে আজই (বুধবার) এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।সূত্র জানায়, সকালে নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে কার্যালয়ে আসেন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। এর মধ্যেই তার অপসারণের খবর বিভিন্ন মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। এ খবর শোনার পর তিনি সহকর্মী বা ঊর্ধ্বতন কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে কথা না বলে তাৎক্ষণিক অফিস ত্যাগ করেন। তার এই আকস্মিক প্রস্থান ঘিরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কার্যালয়ে কিছুটা চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।এইচএ
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মোস্তাকুর রহমান। বর্তমান গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের স্থলাভিষিক্ত হবেন তিনি।আজ বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।মোস্তাকুর রহমান ২০২৪ সালের মে মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক থেকে পরিচালক পদে পদোন্নতি পান। এর আগে তিনি বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) অতিরিক্ত পরিচালক ছিলেন।এইচএ
আরো ৮৭ মিলিয়ন ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক
একাধিক নিলাম পদ্ধতির মাধ্যমে ৮টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে আরো ৮৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল মঙ্গলবার প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৩০ পয়সা দরে কেনা হয়েছে।চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে মোট ডলার ক্রয়ের পরিমাণ দাড়িঁয়েছে ১ হাজার ৫৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ক্রয় করা হয়েছে ৫ হাজার ৪৬৮ দশমিক ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।সূত্র জানায়, টাকার বিপরীতে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা এবং রেমিট্যান্স ও রপ্তানি খাতকে পুনরুদ্ধার করার চলমান কৌশলের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক এ ডলার ক্রয় করেছে।এবি
ফেব্রুয়ারির প্রথম ২৩ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ২৫৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার
দেশে ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম ২৩ দিনে ২৫৬ কোটি ৭০ লাখ বা ২.৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। গড়ে প্রতিদিন এসেছে ১১ কোটি ১৬ লাখ ডলার। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান তথ্য জানিয়েছেন।আরিফ হোসেন জানান, গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ২০৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার। অর্থাৎ বছর ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে এসেছে ২ হাজার ১৯৯ কোটি ৯০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স; বছর ব্যবধানে যা বেড়েছে ২১ দশমিক ৯০ শতাংশ।এ বছরের জানুয়ারি মাসে দেশে এসেছে ইতিহাসে কোনো এক মাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ ও চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। আর গত ডিসেম্বরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার; যা ছিল দেশের ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ও চলতি অর্থবছরের কোনো এক মাসে আসা সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়। উল্লেখ্য, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছর জুড়ে দেশে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা দেশের ইতিহাসে কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড।এবি
দেশের রিজার্ভে বড় সুখবর, ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল
দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে এখন ৩৫ হাজার ৩১ দশমিক ৪৫ মিলিয়ন বা ৩৫ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবশেষ তথ্যানুযায়ী, ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলার। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ২৮৯ দশমিক ৪২ মিলিয়ন বা ৩০ দশমিক ২৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে।এর আগে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৪ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর বিপিএম-৬ পদ্ধতিত রিজার্ভ ছিল ৩০ দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলার। নিট রিজার্ভ গণনা করা হয় আইএমএফের বিপিএম-৬ পরিমাপ অনুসারে। মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায় বিয়োগ করলে নিট বা প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ পাওয়া যায়।বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুর গত ১৯ জানুয়ারি বলেছিলেন, ‘চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে ৩৫ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে। এমনকি এই লক্ষ্যমাত্রা আমরা অতিক্রম করে যাব। আর এটি সম্ভব হবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে নেয়া ঋণের কিস্তির অর্থ ছাড়াই।’জানা গেছে, দেশের ইতিহাসে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে ২০২১ সালের আগস্টে। তখন আন্তব্যাংক কেনাবেচায় প্রতি মার্কিন ডলারের দর ছিল ৮৪ টাকা ২০ পয়সা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের সময় রিজার্ভ কমে হয় ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলার। আইএমএফের হিসাবপদ্ধতি অনুযায়ী তখন রিজার্ভ ছিল ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার। এরপর প্রতি ডলার ৩৬ টাকা বেড়ে ১২০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। আমদানিতে বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব দিয়ে ডলারের দাম বাজারের ওপর ছেড়ে দেয়ার পাশাপাশি প্রবাসী আয় বাড়ানোর পদক্ষেপ নেয়। এ ছাড়া ধীরে ধীরে আমদানি বিধিনিষেধ উঠিয়ে দেয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য উদারীকরণের নীতি নেয়। ফলে বাড়তে থাকে প্রবাসী আয়। এর ফলে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিনিয়ত ডলার কিনতে থাকে। এতে রিজার্ভ বেড়েছে।চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম ২৩ দিনে দেশে ২৫৬ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে, যা গত বছরের একই বছরের সময়ের তুলনায় ২৩ শতাংশ বেশি। জাতীয় নির্বাচন ও রোজা উপলক্ষে দুই মাস ধরে দেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স আসা বেড়েছে। জানুয়ারি মাসে প্রবাসী আয় এসেছে ৩১৭ কোটি ডলার। তার আগের মাস ডিসেম্বরে এসেছিল ৩২২ কোটি ডলার। এদিকে প্রবাসী আয় বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কিনে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক।জানা যায় চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যাংকগুলো থেকে কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর চলতি মাসে এখন পর্যন্ত কিনেছে ১৫৩ কোটি ডলার। এর ফলে রিজার্ভ নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।এফএস
এবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ৪ পরিচালককে বদলি
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা ব্যবস্থায় হঠাৎ বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। গভর্নর পরিবর্তনের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির চারজন পরিচালক এবং একজন অতিরিক্ত পরিচালককে নতুন দায়িত্বে বদলি করা হয়েছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) জারি করা ব্যাংকের এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন এ অফিস আদেশ অনুযায়ী, পরিচালক মো. জয়নুল ইসলাম হিউম্যান রিসোর্সেস ডিপার্টমেন্ট-১ থেকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন বিভাগে বদলি হয়ে নতুন দায়িত্ব পালন করবেন। তার বদলে পরিচালক মো. শহিদ রেজা আর্থিক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন বিভাগ থেকে বদলি হয়ে হিউম্যান রিসোর্সেস ডিপার্টমেন্ট-১-এ যোগ দেবেন। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে উভয় বিভাগের অভিজ্ঞতা এবং প্রশাসনিক দক্ষতা সমন্বিতভাবে ব্যবহার করা হবে বলে জানা গেছে।তৃতীয় বদলি হিসেবে পরিচালক মো. বায়েজিদ সরকার ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ থেকে বদলি হয়ে মতিঝিল অফিসে ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক (কারেন্সি হিসেবে) দায়িত্ব পালন করবেন। এ পদে তিনি ব্যাংকের অর্থ এবং নীতি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ড তদারকি করবেন।এছাড়াও, পরিচালক গাজী মো. মাহবুবুল ইসলাম মতিঝিল অফিস থেকে বদলি হয়ে ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১-এ যোগ দেবেন, যেখানে তিনি নীতি নির্ধারণ এবং নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে সহায়তা করবেন।অতিরিক্ত পরিচালক হিসেবে মো. কামরুল ইসলাম গভর্নর অফিস থেকে বদলি হয়ে সদরঘাট অফিসে দায়িত্ব পালন করবেন। তার বদলির মাধ্যমে সদরঘাট অফিসের প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও সুসংগঠিত ও দক্ষভাবে পরিচালনা করা হবে।এই বদলিগুলি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে অফিস আদেশে। এফএস
প্রয়োজনেই গভর্নর পরিবর্তন, আরও অনেক জায়গায় হবে: অর্থমন্ত্রী
পরিবর্তন শুধু বাংলাদেশ ব্যাংকে হয়নি, অনেক জায়গায় হয়েছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তাদের অগ্রাধিকার ও কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রয়োজনেই বিভিন্ন জায়গায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। প্রয়োজনবোধে পরিবর্তন হতেই থাকবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ।বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে উত্তরে এ কথা বলেন তিনি।কোন বিবেচনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পরিবর্তন করা হলো? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে আমীর খসরু বলেন, বিবেচনার তো কিছু নেই। একটা নতুন সরকার আসছে। নতুন সরকারের প্রায়োরিটি আছে। স্বাভাবিকভাবেই পরিবর্তন খালি বাংলাদেশ ব্যাংকেই তো হয়নি, পরিবর্তন অনেক জায়গায় হচ্ছে এবং এটা হতেই থাকবে।তিনি বলেন, নতুন সরকারের নিজস্ব কর্মসূচি, পছন্দ ও নীতিগত চিন্তা-ভাবনা রয়েছে। এসব বাস্তবায়নের জন্য যেখানে প্রয়োজন, সেখানে পরিবর্তন আনা হবে। অর্থমন্ত্রী বলেন, নতুন সরকারের যে প্রোগ্রাম আছে, প্রিফারেন্স আছে, যে চিন্তা-ভাবনা আছে— সবগুলো মিলিয়ে এগুলো বাস্তবায়নের জন্য যেখানে যেখানে প্রয়োজন, সেখানে তো পরিবর্তন হবে।তিনি বলেন, শুধু বাংলাদেশ ব্যাংকে পরিবর্তন হয়নি, অনেক জায়গায় হয়েছে এবং প্রয়োজনবোধে আরও অনেক জায়গায় পরিবর্তন হতে থাকবে। খুবই স্বাভাবিক এটা। এমআর-২
পদত্যাগ করিনি, তবে শুনেছি আমি আর নেই: আহসান এইচ মনসুর
সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে—এমন তথ্য ছড়িয়ে পড়ার পর হঠাৎ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ত্যাগ করেছেন গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। এদিকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বের হতে দেখা যায়।চলে যাওয়ার সময় নতুন গভর্নর নিয়োগ ও তার পদত্যাগের বিষযয়ে জানতে চাওয়া হলে গভর্নর বলেন, ‘আমি পদত্যাগ করিনি, তবে খবরে শুনেছি।’ এর বাইরে আর কিছু বলেননি তিনি। জানা গেছে, ড. আহসান এইচ মনসুরকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নতুন গভর্নর নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন গভর্নর হিসেবে মোস্তাকুর রহমানকে নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত এক শিক্ষাবিদকে গভর্নর পদে নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে আজই (বুধবার) এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।সূত্র জানায়, সকালে নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে কার্যালয়ে আসেন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। এর মধ্যেই তার অপসারণের খবর বিভিন্ন মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। এ খবর শোনার পর তিনি সহকর্মী বা ঊর্ধ্বতন কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে কথা না বলে তাৎক্ষণিক অফিস ত্যাগ করেন। তার এই আকস্মিক প্রস্থান ঘিরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কার্যালয়ে কিছুটা চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।এইচএ
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মোস্তাকুর রহমান। বর্তমান গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের স্থলাভিষিক্ত হবেন তিনি।আজ বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।মোস্তাকুর রহমান ২০২৪ সালের মে মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক থেকে পরিচালক পদে পদোন্নতি পান। এর আগে তিনি বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) অতিরিক্ত পরিচালক ছিলেন।এইচএ
আরো ৮৭ মিলিয়ন ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক
একাধিক নিলাম পদ্ধতির মাধ্যমে ৮টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে আরো ৮৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল মঙ্গলবার প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৩০ পয়সা দরে কেনা হয়েছে।চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে মোট ডলার ক্রয়ের পরিমাণ দাড়িঁয়েছে ১ হাজার ৫৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ক্রয় করা হয়েছে ৫ হাজার ৪৬৮ দশমিক ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।সূত্র জানায়, টাকার বিপরীতে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা এবং রেমিট্যান্স ও রপ্তানি খাতকে পুনরুদ্ধার করার চলমান কৌশলের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক এ ডলার ক্রয় করেছে।এবি
শিক্ষাঙ্গন
সব দেখুন
জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ
দেশে অষ্টম শ্রেণির জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর দেড়টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ফল ঘোষণা করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এবারের পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ– এই দুই গ্রেডে মোট ৪৫ হাজার ২০০ শিক্ষার্থী বৃত্তি পাচ্ছে।এখন থেকে শিক্ষার্থীরা অনলাইনে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে গিয়ে ‘Scholarship Result’ অপশনে রোল নম্বর ও সাল ২০২৬ লিখে ফল জানতে পারবে। এ ছাড়া মোবাইল ফোনের মেসেজ অপশনে গিয়ে বোর্ডের নাম, রোল নম্বর এবং সাল লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠালেও ফিরতি এসএমএসে ফল জানা যাবে।ফল ঘোষণার সময় আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, ঢাকার চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. খন্দোকার এহসানুল কবির, আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক ও মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকার পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার।জানা যায়, এ বছর সারা দেশে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ শিক্ষার্থী জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়। দেশের ৬১১টি কেন্দ্রে গত ২৮ ডিসেম্বর একযোগে পরীক্ষা শুরু হয়। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম দিন বাংলা, ২৯ ডিসেম্বর ইংরেজি এবং ৩০ ডিসেম্বর গণিত বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর কারণে ৩১ ডিসেম্বরের বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পরে স্থগিত পরীক্ষা ৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়।নীতিমালা অনুযায়ী বোর্ডভিত্তিক আনুপাতিক হারে এবং উপজেলা পর্যায়ে নির্ধারিত কোটার ভিত্তিতে ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে।ঢাকা বোর্ডের তথ্য মতে, এ বোর্ডের অধীনে মোট ৮৭ হাজার ৯৪৯ শিক্ষার্থী নিবন্ধিত ছিল। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ৮০ হাজার ২১৮ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর ৯১ দশমিক ২ শতাংশ। নিবন্ধিতদের মধ্যে ৭ হাজার ৭৩১ জন (৮ দশমিক ৮ শতাংশ) পরীক্ষায় অংশ নেয়নি।এছাড়া পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যেও সব বিষয়ে পরীক্ষা দেয়নি ১০ হাজার ৩০ জন। সব বিষয়ে অংশ নেয় ৭৭ হাজার ৯১৯ জন শিক্ষার্থী, যা মোট পরীক্ষার্থীর ৮৮ দশমিক ৬ শতাংশ। অর্থাৎ মোট পরীক্ষার্থীর প্রায় ১১ দশমিক ৪ শতাংশ শিক্ষার্থী সব বিষয়ে পরীক্ষা দেয়নি।শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ঢাকার পর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, রাজশাহীতে সর্বোচ্চ ৪৩ হাজার ৬৬০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেওয়ার সুযোগ পায় (প্রায় ১২ দশমিক ৬০ শতাংশ)। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, কুমিল্লায় ৪০ হাজার ২১৯ জন (প্রায় ১১ দশমিক ৬০ শতাংশ) এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, দিনাজপুরে ৪০ হাজার ২৩১ জন (প্রায় ১১ দশমিক ৬১ শতাংশ) পরীক্ষার্থী অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়। এই দুই বোর্ড মিলিয়ে মোট পরীক্ষার্থীর ২৩ শতাংশের বেশি।এ ছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, যশোরে ৩৮ হাজার ৬৭৬ জন (প্রায় ১১ দশমিক ১৬ শতাংশ), মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রামে ২৯ হাজার ৫ জন (প্রায় ৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ) পরীক্ষার্থী ছিল।নতুন ও অপেক্ষাকৃত ছোট বোর্ডগুলোর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ময়মনসিংহে ২৩ হাজার ২০০ জন (প্রায় ৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ) এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, সিলেটে ২৩ হাজার ২২ জন (প্রায় ৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ) পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এই দুই বোর্ড মিলিয়ে মোট পরীক্ষার্থীর ১৩ শতাংশের বেশি।সবচেয়ে কম পরীক্ষার্থী ছিল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, বরিশালে। এ বোর্ডে ২০ হাজার ৬২৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পায় (প্রায় ৫ দশমিক ৯৫ শতাংশ)।এমআর-২
বাকৃবিতে ভেটেরিনারি উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন কর্মশালার উদ্বোধন
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ভেটেরিনারি শিক্ষাকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করার লক্ষ্যে 'ভেটেরিনারি উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন ও সক্ষমতা শক্তিশালীকরণ' শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ক্লিনিক্যালি দক্ষ ভেটেরিনারি গ্র্যাজুয়েট তৈরির লক্ষ্যকে সামনে রেখে ‘হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট)’ প্রকল্পের আওতায় এ কর্মশালার আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদ। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভেটেরিনারি শিক্ষার আধুনিকায়ন কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেল তিনটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন কক্ষে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।কর্মশালায় প্রকল্পের লক্ষ্য, কর্মপরিকল্পনা ও প্রত্যাশিত ফলাফল তুলে ধরেন ফিজিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ও প্রকল্পের সাব-প্রজেক্ট ম্যানেজার ড. মুহাঃ ইলিয়াছুর রহমান ভূঁইয়া। তিনি জানান, হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রকল্পের আওতায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে এ গবেষণা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রতিযোগিতামূলক রিসার্চ অ্যাওয়ার্ডিং প্রক্রিয়ায় প্রথম পর্বে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় দুই বছর মেয়াদি এ গবেষণা প্রকল্পের জন্য নির্বাচিত হয়।প্রকল্পের প্রত্যাশিত ফলাফল নিয়ে প্রকল্পের সাব-প্রজেক্ট ম্যানেজার ড. মুহাঃ ইলিয়াছুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত কাজের মাধ্যমে এমন শ্রেণিকক্ষ গড়ে তোলা হবে যেখানে প্রতিটি লেকচার ডিজিটালি রেকর্ড থাকবে। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির সীমাবদ্ধতা থাকবে না। তারা যেকোনো সময় পাঠ দেখতে পারবে। পাঠদান হবে প্রযুক্তিনির্ভর এবং একঘেয়েমি দূর করতে আধুনিক উপস্থাপন পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে।গবেষণাগারে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বৃদ্ধি করা হবে। শিক্ষার্থীদের গবেষণায় যুক্ত করা হবে। হাতে-কলমে শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে। ভেটেরিনারি টিচিং হাসপাতালকে আরও আধুনিক করা হবে। লক্ষ্য একটিই যে একজন শিক্ষার্থীকে ক্লিনিক্যালি দক্ষ ভেটেরিনারিয়ান হিসেবে গড়ে তোলা।ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. বাহানুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ড. এম আরিফুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানজিমুদ্দিন খান। প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা ও উন্নয়ন পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশাররফ উদ্দীন ভূঞা। এছাড়াও ভেটেরিনারি অনুষদের সকল বিভাগের শিক্ষক ও অন্যান্য অনুষদের শিক্ষকবৃন্দ কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন।উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, স্মার্টনেস শুধু পোশাক বা উপস্থাপনায় নয়, এটি আসে জ্ঞান ও চিন্তার গভীরতা থেকে। আগে শিক্ষকরা চক-ডাস্টার দিয়ে পড়াতেন। পরিশ্রম করতেন। আন্তরিকতা ছিল প্রশ্নাতীত। এখন স্লাইডভিত্তিক শিক্ষা এসেছে। তবে সব বিষয়ের জন্য একই পদ্ধতি প্রযোজ্য নয়। কোথাও স্লাইড দরকার, কোথাও আলোচনা, কোথাও ছবি বা ভিডিও, আবার কোথাও ব্যবহারিক শিক্ষার গুরুত্ব বেশি। কোন বিষয় কীভাবে পড়ানো হবে, তা নির্ভর করে শিক্ষকের প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতার ওপর।প্রকল্পের প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়িত হলে শিক্ষকরা আরও নিবিড়ভাবে পাঠদান করতে পারবেন।প্রধান অতিথি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানজিমুদ্দিন খান বলেন, প্রতিযোগিতামূলক গবেষণায় অর্থায়ন পাওয়াটা অনেক বড় একটি অর্জন। আবেদন প্রক্রিয়া জটিল ও সময়সাপেক্ষ আবার ব্যয়ও বেশি। অনুমোদন না পেলে গবেষণার অগ্রগতি থেমে যায়, আত্মবিশ্বাসেও প্রভাব পড়ে। সেদিক থেকে বাকৃবিকে অভিনন্দন জানাই।তিনি বলেন, দেশে ভেটেরিনারি সায়েন্সে দক্ষ বিজ্ঞানীর সংখ্যা বাড়ছে। তবে কাজের যথাযথ প্রচার ও স্বীকৃতি সবসময় মেলে না। সাম্প্রতিক সরকারি উদ্যোগ, স্কলারশিপ এবং বিনামূল্যে ভেটেরিনারি ক্লিনিক চালু হওয়ায় সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এখন প্রয়োজন উপযুক্ত পরিবেশ, যান্ত্রিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা। হিট প্রকল্প সে লক্ষ্যেই কাজ করছে।শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ বিনিয়োগকে গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষাকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখা ঠিক নয়। যুক্তরাষ্ট্র শিক্ষাকে জাতীয় প্রতিরক্ষা ওলনিরাপত্তার অংশ হিসেবে বিবেচনা করে সর্বোচ্চ বিনিয়োগ করে। রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিতে শিক্ষাখাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। তবে আমি প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানাবো, আর্থিক বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখবেন। আপনাদের কাজটি যাতে আগামীর গবেষকদের জন্য অনুপ্রেরণার হয়ে ওঠে সেই চেষ্টা করবেন। এসআর
সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় জবির সাবেক নেত্রী শামসুন্নাহার ভুঁইয়া
সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থীতা ঘিরে আলোচনায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী, সাবেক কাউন্সিলার ও মহিলা দলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাবেক সাধারণ সম্পাদিকা শামসুন্নাহার ভুঁইয়া।জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পেতে বিএনপিতে মহিলা দলের পাশাপাশি সাবেক ছাত্রদল করা নেত্রীরা বেশ এগিয়ে আছেন। জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন ৫০টি। প্রতি ছয়জন সাধারণ সদস্যের বিপরীতে একটি সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন হবে।১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয় পায়। আসন অনুপাতে সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনের মধ্যে দলটি পাবে ৩৫টি। বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার সংরক্ষিত নারী আসনগুলো হবে নবীন-প্রবীণের মিশ্রণে।নেত্রীদের মধ্যে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাবেক সাধারণ সম্পাদিকা শামসুন্নাহার ভুঁইয়া বর্তমানে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য। তিনি সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে।১৯৮৩-৮৪ সালের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (তৎকালীন কলেজ) ছাত্রদলের ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার আগে থেকে সক্রিয় সদস্য হিসেবে আন্দোলন সংগ্রামে অংশ নেন শামসুন্নাহার ভুঁইয়া। ১৯৯০ সালের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। থানা পর্যায়ের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালনের পরে, ২০০৩-৭ সাল পর্যন্ত বৃহত্তর লালবাগ থানা মহিলা দলের আহ্বায়ক ও পরে ২০১৫- ২০ সাল পর্যন্ত ঢাকা মহানগর দক্ষিণ মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদিকার দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।জনপ্রতিনিধি হিসেবে জনপ্রিয় কাউন্সিলার শামসুন্নাহার ভুঁইয়া ২০১৫ ও ২০১৯ সালের ব্যাপক কারচুপির মধ্যেও বিএনপির থেকে নির্বাচন করে বিপুল ভোটে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে পরাজিত করেন।তিনি ২০০১ সালে অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের পুরান ঢাকার ২৭,২৮ ও ৩০ নং ওয়ার্ড প্রথমবার ও পরে আবারও ঢাকাকে দুই ভাগে ভাগ করলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৭,২৮ ও ৩০ নং ওয়ার্ড থেকে ২০১৫ সালে ও ২০১৯ সালের নির্বাচনে জয় পান। অর্থাৎ টানা তিনবারের সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলার ছিলেন তিনি।পারিবারিকভাবে স্বামী সিরাজুল ইসলাম জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (তৎকালীন জগন্নাথ কলেজ) ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এসআর
জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফল দুপুরে, শিক্ষার্থীরা যেভাবে পাবে
জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফল বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টায় প্রকাশ করা হবে। দুপুর ১টায় শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের কাছে ফল হস্তান্তর করা হবে। এরপর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ফল প্রকাশ করা হবে। জানা গেছে, এ বছর মোট ৪৫ হাজার ২০০ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়া হবে। এর মধ্যে ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ—এই দুই ধরনের বৃত্তির জন্য কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে। বোর্ডভিত্তিক আনুপাতিক হারে বৃত্তি বণ্টন করা হবে। পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়েও ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ বৃত্তির জন্য নির্দিষ্ট কোটা রাখা হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ বৃত্তি প্রদান করা হবে।শিক্ষার্থীরা দুইভাবে ফল দেখতে পারবে১. অনলাইন পদ্ধতি : প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে (dpe.gov.bd) গিয়ে ‘Scholarship Result’ অপশনে রোল নম্বর ও সাল ২০২৬ (2026) দিলেই ফল দেখা যাবে।২. এসএমএস পদ্ধতি : মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে বোর্ডের নাম, রোল নম্বর এবং সাল টাইপ করে ১৬২২২ (16222) নম্বরে পাঠিয়ে দিলেই ফিরতি মেসেজে রেজাল্ট জানা যাবে।গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর সারাদেশে একযোগে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা শুরু হয়। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। দেশের ৬১১টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।পরীক্ষার প্রথম দিন বাংলা, ২৯ ডিসেম্বর ইংরেজি এবং ৩০ ডিসেম্বর গণিত বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হয়। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর কারণে ৩১ ডিসেম্বরের বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পরে স্থগিত এই পরীক্ষা এবছরের ৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়।এবি
তথ্য-প্রযুক্তি
সব দেখুন
ছবি-ভিডিও এআই দিয়ে তৈরি কি না, জানবেন যেভাবে
কনটেন্টের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নতুন একটি সুবিধা চালু করেছে গুগল। কারণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির ফলে এখন আসল ছবি বা ভিডিও আর এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্ট আলাদা করা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। গুগলের জেমিনি অ্যাপ ব্যবহার করে এখন সহজেই জানা যাবে কোনো ছবি বা ভিডিও গুগলের এআই দিয়ে তৈরি বা সম্পাদিত কি না। এই সুবিধাটি সম্ভব হয়েছে গুগলের বিশেষ ওয়াটারমার্কিং প্রযুক্তি সিনথআইডির মাধ্যমে, যা এআই-তৈরি কনটেন্টের ভেতরে অদৃশ্য ডিজিটাল চিহ্ন সংযুক্ত করে।কীভাবে যাচাই করবেন এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্ট, ধাপে ধাপে প্রক্রিয়াটি তুলে ধরা হলো— জেমিনি অ্যাপে প্রবেশ: প্রথমে জেমিনি অ্যাপটি চালু করুন। এই যাচাই সুবিধা বর্তমানে সমর্থিত সব ভাষা ও দেশে চালু রয়েছে। সঠিক ফল পেতে অ্যাপটির সর্বশেষ সংস্করণ ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছে গুগল। কনটেন্ট আপলোড: যে ছবি বা ভিডিও যাচাই করতে চান, সেটি সরাসরি জেমিনি অ্যাপে আপলোড করুন। ভিডিওর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০০ এমবি সাইজ এবং ৯০ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের ফাইল আপলোড করা যাবে। ফাইল যুক্ত করার প্রক্রিয়াটি সাধারণ মেসেজিং অ্যাপের মতোই সহজ।ফাইল আপলোডের পর জেমিনিকে সরাসরি প্রশ্ন করুন—‘এটি কি গুগল যাচাই দিয়ে তৈরি?’ অথবা ‘এই কনটেন্টটি কি যাচাই -জেনারেটেড?’ স্বাভাবিক ও কথোপকথনের ভঙ্গিতেই প্রশ্ন করা যাবে, কারণ জেমিনি বিভিন্নভাবে করা প্রশ্ন বুঝতে সক্ষম।এরপর জেমিনি আপলোড করা কনটেন্টে সিনথআইডি ওয়াটারমার্ক আছে কি না তা স্ক্যান করে জানাবে। ভিডিওর ক্ষেত্রে অডিও ও ভিজ্যুয়াল উভয় অংশেই এই শনাক্তকরণ করা হয়। প্রয়োজনে জেমিনি নির্দিষ্ট করে জানাবে ভিডিওর কোন অংশে এআই-তৈরি উপাদান রয়েছে।কীভাবে কাজ করে সিনথআইডি:সিনথআইডি প্রযুক্তি এআই দিয়ে কনটেন্ট তৈরির সময়ই তাতে অদৃশ্য ডিজিটাল ওয়াটারমার্ক যুক্ত করে। এটি মানুষের চোখে ধরা পড়ে না, তবে বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্ত করা যায়। এই ওয়াটারমার্ক এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে ক্রপ করা, ফিল্টার দেওয়া, কমপ্রেশন বা ফ্রেমরেট পরিবর্তনের পরও তা শনাক্ত করা সম্ভব হয়।কনটেন্টের স্বচ্ছতা বাড়ানোর উদ্যোগ: ২০২৩ সালে চালুর পর থেকে গুগল ইতোমধ্যে ২০ বিলিয়নের বেশি এআই-তৈরি কনটেন্টে সিনথআইডি ওয়াটারমার্ক যুক্ত করেছে।এইচএ
বিশ্বজুড়ে বিভ্রাট ইউটিউব এখন স্বাভাবিক, জানা গেল কারণ
হঠাৎ করেই বিশ্বব্যাপী ব্যাপক বিভ্রাটের কবলে পড়েছিল জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ইউটিউব। মঙ্গলবার গভীর রাতে কয়েক লাখ ব্যবহারকারী সাইটটিতে প্রবেশ করতে বা ভিডিও দেখতে গিয়ে চরম বিড়ম্বনায় পড়েন। তবে ভোর রাতে আবারও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে বলে জানা গেছে। ইউটিউব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সমস্যাটি এখন সম্পূর্ণ সমাধান করা হয়েছে এবং সব পরিষেবা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে।ইন্টারনেট বিভ্রাট পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ডাউনডিটেক্টর-এর তথ্য অনুযায়ী, গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) রাত ১টার দিকে সমস্যার পরিমাণ চরমে পৌঁছায়। সে সময় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৩ লাখেরও বেশি ব্যবহারকারী ইউটিউবে ঢুকতে না পারার অভিযোগ জানান। বিভ্রাট চলাকালীন অনেক ব্যবহারকারী সাইটটির হোমপেজে গেলে তাদের ‘পরে আবার ফিরে আসার’ বার্তা দেখানো হচ্ছিল।ইউটিউব জানিয়েছে, মূলত তাদের ‘সুপারিশ ব্যবস্থা’ বা রিকমেন্ডেশন সিস্টেমে ত্রুটির কারণেই এই সমস্যার সৃষ্টি হয়। এর ফলে ইউটিউব অ্যাপ, ইউটিউব মিউজিক, কিডস এবং টিভি—সবগুলো প্ল্যাটফর্মেই ভিডিও প্রদর্শনে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছিল।বিভ্রাট কাটিয়ে ওঠার পর এক বিবৃতিতে ইউটিউব জানায়, ‘আমাদের সুপারিশ ব্যবস্থার সমস্যাটি সমাধান করা হয়েছে। ইউটিউব ডটকমসহ আমাদের সব প্ল্যাটফর্ম ও অ্যাপ এখন স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে।’ বার্তা সংস্থা এএফপির সাংবাদিকেরা জিএমটি ভোর ৪টার দিকে সাইটটি ব্যবহার করে দেখেছেন যে এটি পুনরায় সক্রিয় হয়েছে।গুগলের মালিকানাধীন এই প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম। প্রতি মাসে প্রায় ২৫০ কোটিরও বেশি সক্রিয় ব্যবহারকারী ইউটিউব ব্যবহার করেন। এত বিশাল সংখ্যক ব্যবহারকারীর জীবনে ইউটিউব একটি অপরিহার্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যার ফলে কয়েক ঘণ্টার এই বিভ্রাট বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করে।এইচএ
নিজের ফোনেই পাবেন ভোটের ফলাফল
বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ বা স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে ভোটের ফলাফল দ্রুত এবং সঠিকভাবে জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য ইলেকশন কমিশন (ইসি) সম্প্রতি স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি নামের একটি অ্যাপ চালু করেছে। এই অ্যাপটি ব্যবহার করে ভোটাররা রিয়েল টাইমে ফলাফল দেখতে পারবেন এবং নির্বাচনি তথ্য সহজে জানতে পারবেন।জেনে নিন কীভাবে ঘরে বসেই এই অ্যাপের মাধ্যমে ভোটের ফলাফল জানতে পারবেন-অ্যাপ ডাউনলোড ও ইনস্টলেশন: অ্যাপটি অ্যান্ড্রয়েড এবং আইওএস প্ল্যাটফর্মে উভয়েই পাওয়া যাবে। গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপল অ্যাপ স্টোর থেকে ‘Smart Election Management BD’ লিখে সার্চ করে ডাউনলোড করা যাবে। ডাউনলোডের পর ফোনে ইনস্টল করে অ্যাপটি ওপেন করতে হবে।অ্যাকাউন্ট বা লগইন প্রক্রিয়া: সাধারণত ভোটের ফলাফল দেখার জন্য লগইন করতে হয় না। তবে ব্যক্তিগত ভোটার তথ্য বা ইভিএম সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য পেতে অ্যাপটি আপনাকে ভোটার আইডি বা জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর দিয়ে লগইন করতে বলবে। লগইন করলে ভোটের নথি, ভোটার স্ট্যাটাস এবং নির্বাচনী কেন্দ্র সম্পর্কিত তথ্য পাওয়া যাবে।ভোটের ফলাফল দেখার ধাপক. নির্বাচন ও কেন্দ্র নির্বাচন: অ্যাপের হোম স্ক্রিনে ‘ইলেকশন রেজাল্টস’ বা ‘ভোটিং রেজাল্টস’ অপশনটি থাকবে। এখানে নির্বাচনের ধরন নির্বাচন করতে হবে (জাতীয় সংসদ, উপজেলা, পৌরসভা, বা ইউনিয়ন নির্বাচন)। এরপর জেলা ও উপজেলা/ওয়ার্ড নির্বাচন করতে হবে।খ. কেস্টিং এবং ফলাফল: নির্বাচনি কেন্দ্র অনুযায়ী ভোটের লাইভ আপডেট দেখার সুযোগ থাকবে। প্রতিটি কেন্দ্রে ভোট গণনার পর ফলাফল সরাসরি অ্যাপে আপলোড হবে। ভোটের ভোটের সংখ্যা, প্রার্থী বা দল অনুযায়ী ভাগফল এবং ভোটের শতাংশ দেখা যাবে।গ. গ্রাফ এবং চার্টের মাধ্যমে উপস্থাপনা: অ্যাপটি ফলাফলকে গ্রাফ বা চার্টে দেখায়, যাতে কোন প্রার্থী বা দলের অবস্থান সহজে বোঝা যায়। লাইভ আপডেটের ফলে ভোটের ধাপ ধাপে অগ্রগতি দেখা যাবে।এইচএ
ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের নিবন্ধন বাতিল করবেন যেভাবে
নিজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সিমকার্ড পরিবর্তন করতে হলে কিংবা অন্য কাউকে ব্যবহার করতে দিতে হলে অথবা বিক্রির আগে অবশ্যই মোবাইল ডি-রেজিস্ট্রেশন করতে হবে বলে নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি)।মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) বিটিআরসির স্পেকট্রাম বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ‘ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনআইআর)’ সিস্টেমটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হয়েছে। এর আওতায় নেটওয়ার্কে সচল সব মোবাইল ফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হয়েছে।ফলে এখন থেকে নিজের নামে নিবন্ধিত মোবাইল ফোনের সিমকার্ড পরিবর্তন, অন্য কাউকে ব্যবহার করতে দেওয়া কিংবা বিক্রির আগে অবশ্যই ডি-রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। অর্থাৎ জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) সঙ্গে যুক্ত হ্যান্ডসেটের নিবন্ধন বাতিল বা অবমুক্ত করতে হবে।এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সিম কেনার সময় ব্যবহৃত এনআইডি বা পাসপোর্ট নম্বরের শেষ চারটি সংখ্যা প্রয়োজন হবে। নিবন্ধিত ফোন বিক্রি বা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া এখন থেকে অনুসরণ করতে হবে। নিবন্ধিত মুঠোফোন ‘ডি-রেজিস্ট্রেশন’ করার উপায়সিটিজেন পোর্টাল (neir.btrc.gov.bd)এনইআইআর পোর্টালে লগ ইন করে ড্যাশবোর্ডে যেতে হবে। তালিকা থেকে ডিভাইস নির্বাচন করতে হবে। ‘ডি-রেজিস্টার’ এ ক্লিক করুন এবং প্রয়োজনীয় বিবরণ দিয়ে ডি-রেজিস্টার প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে হবে।ইউএসএসডি চ্যানেল (*১৬১৬১#)মোবাইলের কল অপশনে যেয়ে ডায়াল করুন *১৬১৬১#। এরপর ডি রেজিষ্ট্রেশন অপশনে ক্লিক করে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করুন।তবে ডি-রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে গ্রাহক তার ফোনে যে সিমটি ব্যবহার করছেন তা অবশ্যই নিজের এনআইডি দিয়ে নিবন্ধিত হতে হবে। ক্লোন বা ডুপ্লিকেট আইএমইআই নম্বর যুক্ত হ্যান্ডসেট ডি-রেজিস্ট্রেশন করার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত তথ্য হিসেবে পরবর্তী ব্যবহারকারীর সিম নম্বর দিতে হবে।ডি-রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানতে বিটিআরসি’র ওয়েবসাইট neir.btrc.gov.bd ভিজিট করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিটিআরসি’র কল সেন্টার (১০০) অথবা সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটরের নিকটস্থ কাস্টমার কেয়ার সেন্টার থেকেও সহায়তা নেওয়া যাবে।এমআর-২
আইফোন বিক্রিতে নতুন রেকর্ড অ্যাপলের
আইফোন বিক্রিতে নতুন ইতিহাস গড়েছে অ্যাপল। সর্বশেষ প্রান্তিকে আইফোন থেকে আয় হয়েছে ৮৫ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি। এটাই আইফোনের ইতিহাসে এক প্রান্তিকে সর্বোচ্চ আয়।২০২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের আয় প্রতিবেদন প্রকাশ করে এ তথ্য জানায় অ্যাপল। সব মিলিয়ে এ সময়ে কোম্পানির মোট আয় দাঁড়িয়েছে ১৪৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ১৬ শতাংশ বেশি।অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী টিম কুক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বলেন, আইফোনের চাহিদা ছিল “অবিশ্বাস্যরকম বেশি”। তার ভাষায়, “এটাই আমাদের সবচেয়ে শক্তিশালী আইফোন লাইনআপ।” তিনি আরও বলেন, জনপ্রিয়তার দিক থেকেও এটি আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে।তবে সাফল্যের পেছনে বড় বাধাও ছিল। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নতুন সিরি সংস্করণ চালু হতে দেরি হয়েছে। তারপরও বিক্রি কমেনি।আইফোন ১৭ সিরিজ এতে বড় ভূমিকা রেখেছে। বেস মডেলেই দেওয়া হয়েছে আগে শুধু ‘প্রো’ সংস্করণে থাকা কিছু ফিচার। যেমন- অলওয়েজ-অন ডিসপ্লে। এ ছাড়া রয়েছে বেশি রিফ্রেশ রেটের স্ক্রিন।‘আইফোন এয়ার’ মডেলের বিক্রি প্রত্যাশার চেয়ে কম হয়েছে- এমন গুঞ্জনও ছিল। তবে সেটির প্রভাব মোট বিক্রিতে তেমন পড়েনি বলে ইঙ্গিত মিলেছে।তবে বাড়তি চাহিদার কারণে সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। টিম কুক জানান, আইফোন ১৭–এর উচ্চ চাহিদার কারণে সরবরাহ কিছুটা সীমিত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে চিপ তৈরিতে ব্যবহৃত উন্নত প্রযুক্তির সরবরাহে চাপ রয়েছে।অন্যদিকে অ্যাপলের সেবাভিত্তিক আয়ও বেড়েছে। অ্যাপল মিউজিক, আইক্লাউড, অ্যাপল টিভি প্লাসসহ বিভিন্ন সাবস্ক্রিপশন সেবা থেকে আয় বেড়েছে ১৪ শতাংশ। তবে ম্যাক কম্পিউটার ও ওয়্যারেবল পণ্যের আয় কিছুটা কমেছে।এখন অ্যাপলের বড় লক্ষ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। আগামী মাসগুলোতে সিরিতে আনা হবে নতুন এআই সুবিধা। এ কাজে গুগলের সঙ্গে অংশীদারিত্ব করছে অ্যাপল। গুগলের জেমিনি এআই মডেলের বিশেষ সংস্করণ ব্যবহার করা হবে সিরির উন্নত সংস্করণে।এ ছাড়া একটি এআই স্টার্টআপও কিনছে অ্যাপল। প্রতিষ্ঠানটির নাম কিউ.এআই। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারে এ অধিগ্রহণ হতে যাচ্ছে।এই স্টার্টআপের প্রযুক্তি ভবিষ্যতের ডিভাইসে ব্যবহার হতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের পেটেন্টে এমন প্রযুক্তির ইঙ্গিত আছে যা হেডফোন বা চশমায় ব্যবহার করা যাবে। মুখের ত্বকের সূক্ষ্ম নড়াচড়ার মাধ্যমে নির্দেশ দেওয়া সম্ভব হবে—এমন ধারণাও আছে।শুধু তা-ই নয়, ভবিষ্যতে সিরিকে পুরোপুরি এআই চ্যাটবটে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। আইফোন ও ম্যাক ডিভাইসের ভেতরেই থাকবে এই স্মার্ট সহকারী। শোনা যাচ্ছে, সিরির জন্য আলাদা এআইভিত্তিক ওয়েব সার্চ টুলও তৈরি করছে অ্যাপল।এইচএ
কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহারে ফ্রি প্রশিক্ষণ দিচ্ছে যুক্তরাজ্য
কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারে দক্ষ করতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। চালু করা হয়েছে একাধিক অনলাইন প্রশিক্ষণ কোর্স। এর মধ্যে অনেক কোর্সে বিনামূল্যে অংশ নেওয়া যাচ্ছে। প্রযুক্তি খাতের বড় প্রতিষ্ঠানগুলো কোর্স তৈরিতে যুক্ত রয়েছে। অ্যামাজন, গুগল ও মাইক্রোসফট এ উদ্যোগে সহায়তা করেছে। মোট ১৪টি কোর্স শেষ করলে পাওয়া যাবে ভার্চুয়াল ব্যাজ।কোর্সগুলোতে শেখানো হবে এআই টুল ব্যবহারের মৌলিক কৌশল। যেমন- চ্যাটবটকে কীভাবে কার্যকরভাবে প্রশ্ন করতে হয়? প্রশাসনিক কাজের সহকারী হিসেবে এআই ব্যবহার, দ্রুত নোট লেখা, ইমেইল খসড়া তৈরি ও তথ্য গোছানো।সরকারের লক্ষ্য বড় হচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে এক কোটি কর্মীকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা। এ উদ্যোগকে ১৯৭১ সালে ওপেন ইউনিভার্সিটি চালুর পর সবচেয়ে বড় দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি বলা হচ্ছে।যুক্তরাজ্যের প্রযুক্তিমন্ত্রী লিজ কেন্ডাল বলেছেন, তাদের লক্ষ্য মানুষ যেন কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহারে আত্মবিশ্বাসী হয়। পরিবর্তন থামানো যাবে না। তবে পরিবর্তনের ফল কী হবে, তা নীতিনির্ধারণেই ঠিক হয়। ঝুঁকি থেকে মানুষকে সুরক্ষা দিয়ে এআইয়ের সুফল সবার কাছে পৌঁছে দিতে চায় সরকার।তবে সমালোচনাও আছে। ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক পলিসি রিসার্চ (আইপিপিআর) বলছে, শুধু চ্যাটবট ব্যবহার শেখালেই হবে না। কর্মীদের দরকার বিশ্লেষণী চিন্তা। সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ও নেতৃত্বগুণ। থাকতে হবে এআই নিরাপদভাবে ব্যবহারের আত্মবিশ্বাস।সংস্থাটির গবেষক রোয়া পাওয়েল বলেন, এআই যুগের দক্ষতা ছোট টেকনিক্যাল কোর্সে সীমাবদ্ধ নয়। মানুষকে বিস্তৃত দক্ষতায় প্রস্তুত করতে হবে।ব্রিটিশ কম্পিউটার সোসাইটি (বিসিএস)–ও উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে তারা বলছে, দায়িত্ব শুধু কর্মীদের নয়। প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ পর্যায়েও প্রযুক্তি বোঝার সক্ষমতা বাড়াতে হবে। বোর্ড পর্যায়ের সিদ্ধান্ত নির্ধারকদেরও এআই সম্পর্কে জ্ঞান থাকা জরুরি।কোর্সগুলোর সময়সীমা ভিন্ন। কিছু কোর্স ২০ মিনিটের। কিছু আবার কয়েক ঘণ্টার। যুক্তরাজ্যের যে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক এতে অংশ নিতে পারবেন।এ উদ্যোগে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে বেশ কয়েকটি বড় সংস্থা। এর মধ্যে আছে এনএইচএস, ব্রিটিশ চেম্বার্স অব কমার্স এবং লোকাল গভর্নমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন। তারা তাদের কর্মী ও সদস্যদের অংশ নিতে উৎসাহ দেবে।এইচএ
আইন-আদালত
সব দেখুন
যুবলীগের সম্রাটের ২০ বছরের কারাদণ্ড
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাবেক সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তার অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ বাজেয়াপ্ত করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।আজ বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার ৬ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সম্রাটকে দুদক আইনে ১০ বছর কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ১০ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মানি লন্ডারিংয়ের অপরাধে আরও ১০ বছর কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ৬ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।আদালত সূত্র জানায়, আসামি সম্রাট পলাতক থাকায় তার আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি হয়নি। ২ ফেব্রুয়ারি মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়। অভিযোগপত্রে উল্লিখিত ২১ জন সাক্ষীর সবাই আদালতে সাক্ষ্য দেন।মামলাটি ২০১৯ সালের ১২ নভেম্বর দায়ের করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ-পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম। মামলায় তার বিরুদ্ধে ২ কোটি ৯৪ লাখ ৮০ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়। তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ২৬ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক।এর আগে গত বছরের ১৭ জুলাই সম্রাটের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। অভিযোগ গঠনের সময় তিনি উপস্থিত না থাকায় তার জামিন বাতিল করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।জানা গেছে, ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান চলাকালে কুমিল্লা থেকে সম্রাট ও তার সহযোগী যুবলীগ নেতা এনামুল হক ওরফে আরমানকে গ্রেফতার করা হয়। পরে ২০২২ সালের ২২ আগস্ট তিনি জামিনে মুক্তি পান।এইচএ
প্রবাস
সব দেখুন
বাহরাইনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপিত
বাংলাদেশ দূতাবাসের সার্বিক তত্ত্বাবধানে প্রথমবারের মতো বাহরাইনস্থ জাতিসংঘের কার্যালয় ও আরব ওপেন ইউনিভার্সিটির সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপিত হয়েছে। মঙ্গলবার বাহরাইনের আরব ওপেন ইউনিভার্সিটির অডিটোরিয়ামে এ উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।রাষ্ট্রদূত মো. রইস হাসান সরোয়ারের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, কূটনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, বাহরাইন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, বাংলাদেশ স্কুল ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন King Hamad Global Center for Peaceful Coexistence-এর নির্বাহী পরিচালক মুনীরা নাওফল আল-দোসেরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, আরব ওপেন ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট ড. নাজমা ত্বাকী এবং বাহরাইনে নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি খালিদ আল-মিকওয়াদ। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন Bahrain Authority for Culture and Antiquities-এর ডাইরেক্টর জেনারেল মিস ফারাহ মোহাম্মদ মাততারসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও কূটনৈতিক ব্যক্তিত্ব।অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত এবং UNESCO কর্তৃক প্রেরিত ভিডিও বার্তা ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।স্বাগত বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত মো. রইস হাসান সরোয়ার ভাষা শহীদদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করে বলেন, মাতৃভাষার অধিকার আদায়ে বাঙালির আত্মত্যাগ বিশ্ব ইতিহাসে অনন্য দৃষ্টান্ত। তিনি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের বৈশ্বিক স্বীকৃতির প্রেক্ষাপট তুলে ধরে সকল ভাষার সংরক্ষণ ও চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মকে মাতৃভাষার প্রতি সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের নিজ নিজ মাতৃভাষায় কবিতা আবৃত্তি। চীন, মিশর, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান, লেবানন, মালয়েশিয়া, নেপাল, কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতরা তাদের ভাষায় কবিতা আবৃত্তি করে বহুভাষিক সংস্কৃতির এক অনন্য আবহ তৈরি করেন।আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় জুনিয়র ও সিনিয়র গ্রুপের বিজয়ীদের মধ্যে ক্রেস্ট ও সনদ বিতরণ করা হয়। রাষ্ট্রদূত অনুষ্ঠানে আগত কয়েকজন বিদেশি অতিথিকেও সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করেন।শেষ পর্বে রাষ্ট্রদূত অতিথিদের নিয়ে চিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। প্রদর্শনীতে বাহরাইনের প্রায় ১১টি স্কুলের ৭২টি চিত্রকর্ম স্থান পায়।ইখা
লাইফস্টাইল
সব দেখুন
ইফতারের কতক্ষণ পর চা খাবেন
আমাদের দৈনন্দিন রুটিনে চা একটি অত্যাবশ্যকীয় রুটিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। চা পান করা অনেকেই অভ্যাস। সকালে ঘুম থেকে উঠে এক কাপ চা না খেলে যেন দিনই শুরু হয় না। তবে এই রমজানে সেটা সম্ভব না। তাই ইফতার করেই অনেকে অস্থির হয়ে থাকেন চা পানের জন্য। কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না ইফতারের ঠিক কতক্ষণ পর চা পান করা উচিত। এমনকি জানি না এর উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে।শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বার করতে চা সাহায্য করে। তাই চলুন জেনে নিন ইফতারের কতক্ষণ পর চা পান উচিত এবং ইফতারের পর চা পানের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে-জেনে নিন ইফতারের পর চা খাওয়ার উপকারিতা: স্নায়ুকে শিথিল করে: চায়ের মধ্যে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও ক্যাফেইন মানসিক সতেজতা আনতে পারে। একই সঙ্গে সারাদিনের ক্লান্তিভাব দূর করতে সাহায্য করে।পরিপাকতন্ত্রে সহায়তা করে: হালকা গরম চা হজম প্রক্রিয়া সহজ করতে সাহায্য করতে পারে, বিশেষ করে যদি আদা বা পুদিনা পাতা দেয়া হয়।ডিহাইড্রেশন কমাতে পারে: হারবাল বা গ্রিন টি শরীরের পানিশূন্যতা কমাতে সহায়ক হতে পারে।হজম প্রক্রিয়া: সারাদিন না খেয়ে থাকার ফলে আমার হজম প্রক্রিয়ায় ব্যঘাত ঘটে। তবে ইফতারের পর চা পান আমাদের হজম প্রক্রিয়া সহজ করতে সহায়তা করে। বিশেষ করে যদি আদা বা পুদিনা চা বেশ উপকারী।ইফতারের পর চা খাওয়ার ক্ষতিকর দিক: আয়রন শোষণে বাধা দেয়: চায়ের ট্যানিন নামক উপাদান শরীরের আয়রন শোষণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে, যা রক্তস্বল্পতার ঝুঁকি বাড়ায়।অ্যাসিডিটি হতে পারে: ইফতারের পরপর চা খেলে গ্যাস্ট্রিক বা অ্যাসিডিটির সমস্যা হতে পারে, বিশেষ করে দুধ চা হলে।পানিশূন্যতা বাড়াতে পারে: চায়ে ক্যাফেইন থাকে, যা প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়িয়ে শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি বের করে দিতে পারে। এতে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে।ইফতারের কতক্ষণ পর চা পান উচিত: ইফতারের প্রায় ৩০-৪০ মিনিট পর চা পান করা ভালো। হারবাল টি, গ্রিন টি বা আদা-লেবু চা শরীরের জন্য উপকারী। যারা গ্যাস্ট্রিক বা অ্যাসিডিটির সমস্যায় ভুগছেন তারা সুস্থ থাকার জন্য দুধ চা এড়িয়ে চলুন।এইচএ
