জামায়াতের ৪১ দফা নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা
রাষ্ট্র পরিচালনায় যুবকদের প্রাধান্য, নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত, প্রযুক্তি নির্ভর সমাজ গঠন জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপসহ ২৬টি বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে ৪১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।নির্বাচনি ইশতেহারে যে ২৬ বিষয়ে অগ্রাধিকার দিবে জামায়াত-১. 'আতীয় স্বার্থে আপসহীন বাংলাদেশ' এই জোবানের আলোকে স্বাধীনছে, সার্ককৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থে আপসহীন রাষ্ট্র গঠন (National interest)।২. বৈষমাহীন, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক একটি মানবিক বাংলাদেশ গঠন 15ocial justice)!৩. যুবকদের ক্ষমতায়ন এবং এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় তাদেরাক প্রাধান্য দেওয়া (Youth First)৪. নারীদের জন্য নিরাপদ, মঘাদাপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক রাষ্ট্র গঠন (Wor (Women Participation)৫. আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নয়নের মাধ্যমে মাদক, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসমুক্ত একটি নিরাপদ রাষ্ট্র বিনির্মাণ (Public Safety and Security)!৬. সকল পর্যায়ে সৎ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠন (Zero Corruption)!৭. প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ও স্মার্ট সমাজ গঠন (Tech-based Societyll)৮. প্রযুক্তি, ম্যানুফ্যাকচারিং, কৃষি ও শিল্পদহ নানা সেক্টরে ব্যাপকভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি। সরকারি চাকরিতে বিনামূালা অ্যাবদন, মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ ও সকল ধরানর বৈষম্য দূরীকরণ (Widespread Employment)!৯. ব্যাংকসহ সার্বিক আর্থিক যাতে সংস্কারের মাধ্যমে আস্থা ফিরিয়ে এনে বিনিয়োগ ও বাবসাবান্ধব টেকসই ও স্বচ্ছ অর্থনীতি বিনির্মাণ (Robust and Sustainable Economy)!১০. সমানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতির নির্বাচনসহ সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকাররাবস্থা শক্তিশালী করে সুসংহত ও কার্ঘকর গণতন্ত্র নিশ্চিত। করা (Strong and Functional Democracy)!১১. বিগত সময়ে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় হওয়া খুন, ওম ও বিচারবহিভূত হত্যাকাণ্ডের বিচার ও মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করা (Justice and Human Rightsil১২. জুলাই বিপ্লবের ইতিহাস সংরক্ষণ, শহীদ পরিবার, আহত ও পঙ্গু পঙ্গুত্ববরণকারী জুলাই যোদ্ধাদের পুনর্বাসন এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হবে July Spirit)১৩. কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার ও কৃষকদের সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে কৃষিতে বিপ্লব সৃষ্টি করা (Agro-Revolution)১৪. ২০৩০ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ ভেজালমুক্ত খাদ্য নিরাপত্তা এবং 'তিন শূন্য ভিশন' (পরিবেশগত অবক্ষয়ের শূন্যতা, বার্জার শূন্যতা এবং বন্যা-ঝুঁকির শূন্যতা, বাস্তবায়নের মাধ্যমে 'সবুজ ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ' গড়া (Food Security and Environmental Sustainability)১৫. ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশের পাশাপাশি ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠা, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতের মাধ্যমে ব্যাপকভিত্তিতে শিল্পায়ণ ও কর্মসংস্থান তৈরি (Industrialisation)i১৬. শ্রমিকদের মজুরি ও জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি এবং মানসম্মত কাজের পরিবেশ, বিশেষ করে নারীদের নিরাপদ কাজের পরিবেশ, সৃষ্টি করা (Reasonable Salary and Hassle-free Job Environment)!১৭. প্রবাসীদের ভোটাধিকারসহ সকল অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং দেশ গঠনে আনুপাতিক ও বাস্তবসম্মত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা (Pro-Expatriate Approach)!১৮. সংখ্যাগুরু-সংখ্যালঘু (মেজরিটি-মাইনরিটি) নয়; বরং বাংলাদেশের নাগরিক হিমোব সকলের নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং পিছিয়ে থাকা নাগরিক ও শ্রেণি-গোষ্ঠীর জন্য বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করা (Inclusive Nation!!১৯. আধুনিক ও সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা প্রদান (Universal Healthcare System) এবং গরিব ও অসহায় জনগোষ্ঠীর জন্য পর্যায়ক্রমে বিনামূল্যে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা।২০. সমসাময়িক বিশ্বের চাহিদাকে সামনে রেখে শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার এবং পর্যায়ক্রাম বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করা (Educational Reform)I২১. দ্রব্যমূলা ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রেখে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং অন্যান্য মৌলিক চাহিদার পূর্ণ সংস্থানের নিশ্চয়তা (Provision of Necessities)!২২. যাতায়াতব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো এবং রাজধানীর সাথে দেশের বিভাগীয় শহরগুলোর সড়ক/রেলপথের দূরত্ব পর্যায়ক্রমে দুই-তিন ঘণ্টায় নামিয়ে আনা। দেশের আঞ্চলিক যোগাযোগ ও ঢাকার অভ্যন্তরীণ যাতায়াতব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন আনা [Transport Revolutionji২৩. নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য স্বল্পমূলো আবাসন নিশ্চিত করা (Affordable Housing)!২৪. ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পূর্ণ বিলোপে চলমান বিচার ও সংস্কার কার্যক্রমকে অব্যাহত রেখে বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদী বাবস্থার পুনর্জন্ম রোধ করা (Reform Pro-fascist System)২৫. সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তাবাবস্থা চালু করার মাধ্যাম নিরাপদ কর্মজীবন ও পর্যায়ক্রমে সকল নাগরিকদের আন্তর্জাতিক মানের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত। করা (Social Security)!২৬. সকল পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে সুশাসন নিশ্চিত করে একটি সুধী ও সমৃদ্ধ কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা (Welfare State)।এমআর-২
জনগণের রায়ের ভিত্তিতে বাংলাদেশ চলবে : তারেক রহমান
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের রায়ের ভিত্তিতে বাংলাদেশ চলবে। কিন্তু একটি দল জাল ব্যালট পেপার ছাপাচ্ছে। নিরীহ মা-বোনদের থেকে বিকাশ নম্বর নিচ্ছে। যারা নির্বাচনের আগে প্রতারণা করছে, তারা কিভাবে সৎ মানুষের শাসন প্রতিষ্ঠা করবে।বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টায় বরিশাল নগরের ঐতিহাসিক বেলস পার্ক ময়দানে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় তারেক রহমান এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি ‘গুপ্ত’ দলের লোকেরা জালেম হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে বলে মন্তব্য করে বলেন, বর্তমানে দেশে নতুন জালেমের আবির্ভাব হয়েছে। বাংলাদেশে নারী পুরুষ মিলে মাঠে কাজ করে। নতুন জালেম যাদের মানুষ গুপ্ত হিসেবে চেনে সেই জালেমদের নেতা নারীদের নিয়ে কলঙ্কিত শব্দ ব্যবহার করেছেন। এরা ইসলামের রাজনীতি করে কিন্তু এরা নারীদের নিয়ে কিভাবে কলঙ্কিত শব্দ ব্যবহার করে। কানো রাজনৈতিক দলের নাম উল্লেখ না করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, দুঃখের বিষয় যারা জনগণের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, তাদের ভাষায় একটি রাজনৈতিক দল কথা বলছে। জনগণ সেই রাজনৈতিক দলটিকে গুপ্ত নামে চেনে।তিনি বলেন, জালেমদের নেতা প্রকাশ্যে বলেছেন, বাংলাদেশের নারীদের অত্যন্ত কলঙ্কিত শব্দ ব্যবহার করেছেন। যেই দলের দেশের মা-বোনদের প্রতি শ্রদ্ধা নেই, তাদের কষ্টের প্রতি সম্মান নেই, তাদের থেকে বাংলাদেশের অগ্রগতি আশা করা যায় না।তারেক রহমান বলেন, নারীদের পেছনে ফেলে, নারীদের ঘরে বন্ধ করে রেখে কোনোভাবে সামনে এগোনো যাবে না। দেশ গড়তে হলে নারী-পুরুষদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। তা না হলে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব না।তিনি বলেন, গুপ্ত সংগঠনের নেতারা ভুয়া সিল ছাপাচ্ছে, বিভিন্ন প্রেসে জাল ব্যালট পেপার ছাপাচ্ছে। নির্বাচনের আগেই যারা অনৈতিক কাজ করে ভোটকে প্রভাবিত করছে, তারা কী করে সৎ মানুষের শাসন কায়েম করবে? আইডি হ্যাকের নামে মিথ্যা কথা বলে যারা, তারা সৎ মানুষ হতে পারে না।তারেক রহমান আরও বলেন, ১৫ বছরের ভোটাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জনগণ নানা নিপীড়ন ও হত্যার শিকার হয়েছে। তিনি বলেন, “যারা দেশের মালিক মনে করতেন, তারা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। জনগণই এখন দেশের নিয়ন্ত্রক। ১২ ফেব্রুয়ারি মানুষ তাদের নির্বাচিত করবে যারা জনগণের ইচ্ছা অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করবে।”তিনি সতর্ক করে বলেন, ভোট গ্রহণের দিনে কেউ ষড়যন্ত্র করলে তা ব্যর্থ হবে। তিনি জুলাই আন্দোলনে শহীদদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে বলেন, “শহীদদের প্রত্যাশা অনুযায়ী দেশের গণতন্ত্র পুনর্গঠন ও উন্নয়নের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।”তিনি জনগণকে সচেতন ও সঠিক ভোট দেয়ার আহ্বান জানান। নারী ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে তিনি ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, নবীর স্ত্রী বিবি খাদিজা (রা:) একজন কর্মজীবী নারী ছিলেন। বদরের যুদ্ধে হযরত আয়েশা (রা:) সৈনিকদের সরঞ্জাম ও চিকিৎসা সেবা প্রদান করেছিলেন।তারেক রহমান বলেন, নারীদের ঘরে বন্দি রাখলে দেশ এগোবে না। বাংলাদেশের নারীদের শিক্ষা ও ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে তিনি বেগম খালেদা জিয়ার অবদান উল্লেখ করেন।বরিশালের কৃষি উৎপাদন বাড়াতে হিমাগার স্থাপন, কৃষি কার্ডের মাধ্যমে বীজ ও সার বিতরণ এবং ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফের প্রতিশ্রুতি দেন তারেক রহমান।তিনি বলেন, ভোলার গ্যাস ব্যবহার করে শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। তরুণদের প্রশিক্ষণ ও উদ্যোক্তা হিসেবে তৈরি করা হবে।তিনি গুপ্ত দলের উদ্দেশ্যে বলেন, ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে জনগণের পাশে থাকতে হবে। সতর্ক করে বলেন, নির্বাচনের আগে অনৈতিক কাজ করলে কেউ সৎ শাসন দিতে পারবে না। ভোট অধিকার হাইজ্যাক করতে দেয়া যাবে না।এ সময় তারেক রহমান ধানের শীষে ভোট প্রার্থনা করে বরিশাল বিভাগের ২১টি আসনের প্রার্থীদের পরিচয় করান। বলেন, “আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নজর রাখুন, ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে তারা আপনাদের দেখাশোনা করবে।” জনসভায় নেতাকর্মীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে। তার বক্তব্যে জনগণের ক্ষমতার গুরুত্ব ও দলের শক্তি স্পষ্ট হয়।দীর্ঘ দুই দশক পর বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দুপুর ১১টা ৫৫ মিনিটে হেলিকপ্টারযোগে বরিশাল স্টেডিয়ামের আউটার মাঠে অবতরণ করেন। হেলিকপ্টার থেকে নামার পর তারেক রহমানকে স্বাগত জানান বরিশাল বিভাগ ও জেলার শীর্ষ নেতারা।তারেক রহমানকে এক নজর দেখতে সকাল থেকেই বের্লেস পার্ক ও আশপাশের এলাকায় বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার লাখো নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ সেখানে উপস্থিত হন। স্বাগত জানান বরিশাল বিভাগের শীর্ষ নেতা-কর্মীরা। এরপর সেখান থেকে গাড়িতে করে দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে সভা মঞ্চে পৌঁছান তিনি।এসময় সড়কের দুই পাশ থেকে নেতাকর্মীরা তাকে নিয়া উচ্ছ্বাসিত হয়ে শ্লোগান দিতে থাকে। মঞ্চে উঠে তিনিও হাত নেড়ে জনসমাবেশে উপস্থিত লাখো নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের অভিবাদন গ্রহণ করেন। এর আগে বেলা ১১টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও দোয়া-মোনাজাতের মাধ্যমে জনসভার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লা আমান প্রথম বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন। বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক জনসভায় সভাপতিত্ব করেন। মহানগরের সদস্যসচিব জিয়াউদ্দিন সিকদার ও বরিশাল দক্ষিণ জেলার সদস্যসচিব আবুল কালাম শাহীন যৌথভাবে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দির আহমেদ বীর বিক্রম, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও বরিশাল সদর আসনের ধানের শীষের প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার, উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার, বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, বিভাগের ২১টি সংসদীয় আসনের বিএনপি ও জোট মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থীরা সহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।সর্বশেষ ২০০৬ সালে বরিশাল সফর করেছিলেন তারেক রহমান। তখন তিনি দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন। এবার তিনি চেয়ারম্যান হিসেবে বরিশাল আসায় দক্ষিণাঞ্চলে বিএনপির রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা ও আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে বলে দলীয় নেতারা মন্তব্য করেছেন। তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে প্রশাসনও নিরাপত্তা জোরদার করেছে। মাঠ ও আশপাশের এলাকায় পুলিশ, বিজিবি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কড়া নজরদারিতে রয়েছেন।ইখা
জাতীয়
সব দেখুন
শিশু মোহনাকে দেখতে হাসপাতালে বিমান উপদেষ্টা
গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নির্যাতিত শিশু মোহনার (১১) চিকিৎসার খোঁজখবর নিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বেসামরিক বিমান পরিবহন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। এ সময় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাণিজ্য উপদেষ্টার কাছে টেলিফোনে মোহনার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন।বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা মোহনার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে চিকিৎসকদের কাছ থেকে বিস্তারিত খোঁজ নেন। শিশুটির চিকিৎসার সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিতে তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাদের আশ্বস্ত করেন।এ সময় উপদেষ্টার সঙ্গে ছিলেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও বিমানের এমডি ডা. হুমায়রা সুলতানা, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আলম হোসেন এবং হাসপাতালের পরিচালক ডা. আমিনুল ইসলাম।মোহনার উদ্দেশে উপদেষ্টা বলেন, প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস নিজেই আমাকে তোমার খোঁজ নিতে পাঠিয়েছেন। তোমার আর ভয়ের কোনো কারণ নেই, আমরা তোমার পাশে আছি।পরিদর্শনকালে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস টেলিফোনে বাণিজ্য উপদেষ্টার কাছে মোহনার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন। মোহনার সঙ্গে আচরণ জাতির জন্য লজ্জাজনক বলে মনে করেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি মোহনার চিকিৎসার ব্যয়সহ তার সকল দায়িত্ব সরকার বহন করবে বলেও জানান।বাণিজ্য এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, শিশুর প্রতি এমন নিষ্ঠুরতা সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। অপরাধীরা ইহকাল ও পরকালে উপযুক্ত শাস্তি পাবে।এছাড়া তিনি মোহনার বাবা মোস্তফাকে একটি চাকরিতে নিয়োগ দেওয়ার আশ্বাস প্রদান করেন।উল্লেখ্য, গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এমডি ও সিইও সাফিকুর রহমানকে গত ২ ফেব্রুয়ারি গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে গত ৩১ জানুয়ারি গুরুতর জখম অবস্থায় মোহনাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।এফএস
নির্বাচনি প্রচারণা নিয়ে দল ও প্রার্থীদের নতুন নির্দেশনা ইসির
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা যথাযথভাবে প্রতিপালন নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।ইসি সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন মল্লিক বলেন, এ সংক্রান্ত একটি চিঠি সকল রিটানিং অফিসারকে পাঠানো হয়েছে। আজ বুধবার বাসসকে এ তথ্য জানান তিনি।চিঠিতে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫ এর বিধি ১৬-তে উল্লেখ রয়েছে— ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নির্বাচনি প্রচারণায় কোনো প্রার্থী বা তার নির্বাচনি এজেন্ট বা প্রার্থীর পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা পরিচালনা করতে পারবে। তবে সেক্ষেত্রে— (ক) প্রার্থী বা তার নির্বাচনি এজেন্ট বা দল বা প্রার্থী সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নাম, অ্যাকাউন্ট আইডি, ই-মেইল আইডিসহ অন্যান্য শনাক্তকরণ তথ্যাদি উক্তরূপে প্রচার-প্রচারণা শুরুর পূর্বে রিটার্নিং অফিসারের নিকট দাখিল করবেন।’রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫ এ নির্বাচনি ব্যয়সীমা সম্পর্কে বিধি ২২-এর (২) এ আরো উল্লেখ রয়েছে যে, ‘কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কিংবা তৎকর্তৃক মনোনীত প্রার্থী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী কিংবা তাহাদের পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি কর্তৃক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নির্বাচন বিষয়ক কোনো কনটেন্ট তৈরি, বিজ্ঞাপন প্রদান, বুস্টিং ও স্পন্সরশিপসহ সকল প্রচার-প্রচারণার ব্যয়ের শিরোনামে সামগ্রিক নির্বাচনি ব্যয়সহ নির্বাচন কমিশন বরাবর দাখিল করিবেন।’এক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার প্রচারণায় যে ব্যয় হবে তা নির্বাচনি ব্যয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে রিটার্নিং অফিসারকে দাখিল করার বিধান রয়েছে।এমতাবস্থায়, রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালায় উল্লিখিত বিষয়সমূহ যথাযথভাবে প্রতিপালন নিশ্চিত করার জন্য নির্দেশিত হয়ে অনুরোধ করা হলো। একইসাথে রিটার্নিং অফিসারগণকে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীগণ কোন কোন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করছে, সে সংক্রান্ত তথ্য নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে জনসংযোগ শাখায় প্রেরণ করার জন্য নির্দেশিত হয়ে অনুরোধ করা হলো।’এমআর-২
শাহজালাল বিমানবন্দর: সক্ষমতার দ্বিগুণ চাপে স্থবির যাত্রী সেবা
আকাশ পথে দেশের প্রধান বহির্গমন পথ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী সংখ্যায় রেকর্ড গড়লেও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অব্যবস্থাপনা ও ভোগান্তি। অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, তৃতীয় টার্মিনাল চালুর অনিশ্চয়তা এবং আকাশচুম্বী বিমানভাড়ার কারণে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী ও প্রবাসী কর্মীরা। বার্ষিক ৮০ লাখ যাত্রী সামলানোর সক্ষমতা নিয়ে এই বন্দর এখন প্রায় ১ কোটি ২৭ লাখ যাত্রীর চাপ সামলাচ্ছে!বিমানবন্দর সূত্রের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে শাহজালাল বিমানবন্দর দিয়ে যাতায়াত করেছেন অন্তত ১ কোটি ২৭ লাখ ২০ হাজার যাত্রী। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ১ কোটি ২৫ লাখ এবং ২০২৩ সালে ছিল ১ কোটি ১৭ লাখ। অর্থাৎ এক বছরে যাত্রী বেড়েছে প্রায় ১.৮ শতাংশ। মোট যাত্রীর বড় অংশই (১ কোটি ৩১ হাজার ২০০ জন) আন্তর্জাতিক রুটের, যা মূলত প্রবাসীদের ওপর বিমানবন্দরের নির্ভরশীলতাকে স্পষ্ট করে। বর্তমানে সক্ষমতার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ যাত্রী সেবা দিচ্ছে বিমানবন্দরটি! যাত্রী বাড়লেও বহুল প্রতীক্ষিত তৃতীয় টার্মিনাল এখনো চালু না হওয়ায় অদূর ভবিষ্যতে এই ভোগান্তি থেকে রেহাই পাচ্ছেন না ভুক্তভোগীরা। অপারেটর নিয়োগ নিয়ে জটিলতা থাকায় বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার এর সিদ্ধান্ত পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের ওপর ছেড়ে দিয়েছে। ফলে আধুনিক সেবার সুফল পেতে আরও দীর্ঘ অপেক্ষার প্রহর গুনতে হচ্ছে যাত্রীদের।অন্যদিকে সরকারের নানা নির্দেশনার পরও টিকিটের দাম সাধারণের নাগালের বাইরে। ট্রাভেল এজেন্টরা জানিয়েছেন-মধ্যপ্রাচ্যের টিকিটের দাম ৩৫–৪০ হাজার থেকে বেড়ে বর্তমানে ৭৫–৮০ হাজার টাকায় ঠেকেছে। আন্তর্জাতিক রুটের ৬৬ শতাংশ বাজার বিদেশি এয়ারলাইন্সের দখলে থাকায় ভাড়া নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়েছে। বিমানের সক্ষমতা বাড়িয়ে আসন সংকট দূর না করলে ভাড়া কমানো সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।এদিকে শীতকালীন ঘন কুয়াশার সাথে যোগ হয়েছে কারিগরি ত্রুটি। গত ২৯ অক্টোবর রানওয়ের লাইট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আইএলএস (ILS) ক্যাটাগরি-২ থেকে ১-এ নেমে এসেছে। এতে ৫০০ মিটারের পরিবর্তে ১,২০০ মিটার দৃশ্যমানতা ছাড়া ফ্লাইট নামতে পারছে না। ফলে প্রায়ই ফ্লাইট ডাইভার্ট করতে হচ্ছে, যা পরবর্তীতে টার্মিনালে অতিরিক্ত ভিড় ও ট্রলি সংকটের সৃষ্টি করছে।কাতার প্রবাসী এক যাত্রী সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, আমাদের বিমান বন্দরে যত বিমান উঠানামা করে তার কয়েকগুন আন্তর্জাতিক বিমান কাতারের বিমান বন্দরে উঠানামা করে। তারপরও সেখানে কোন ভোগান্তির শিকার হতে হয়না । এর প্রধানতম কারণ সেখানে সব কিছু নিয়মের মধ্যে হয় এবং যারা দায়িত্বশীল আছেন তারা তাদের ওপর ন্যস্ত দায়িত্বটুকু সঠিকভাবে পালন করেন। আর আমাদের দেশে আসলে এটা বিমান বন্দর না কোন হাটবাজারের দৃশ্য দেখে বুঝার উপায় নেই। ডিজিটাল প্রযুক্তি বসানো হলেও সেগুলোর ব্যবহার কার্যত না হওয়ায় সময় নষ্ট হচ্ছে। এতে বাড়তি চাপের সৃষ্টি হচ্ছে।নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন, ই-গেটে পাসপোর্ট স্ক্যান করার সঙ্গে সঙ্গে গেট খুলে যায়। এরপর যাত্রী ই-গেটের মনিটরে তাকালে পাসপোর্টের ছবির সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য যাচাই হয়। এ প্রক্রিয়া শেষে যাত্রীকে যেতে হয় ইমিগ্রেশন পুলিশের ডেস্কে। সেখানে আবার তাঁর তথ্য যাচাই করা হয়। ছবি তোলা ও প্রয়োজনীয় ভ্রমণ-সংক্রান্ত কাগজপত্র দেখার পর পাসপোর্টে বহির্গমন সিল দেওয়া হয়।ওই কর্মকর্তার ভাষ্য, ই-গেট ও ইমিগ্রেশন পুলিশের সার্ভারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থা নেই। এ জন্য ই-গেট পার হয়েও যাত্রীকে আবার ইমিগ্রেশন ডেস্কে যেতে হচ্ছে।জানা যায়, সাধারণত বিদেশগামী যাত্রীর নাম-পরিচয়, পাসপোর্ট, ভিসা নম্বরসহ ২১ ধরনের তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে মিললে তিনি ই-গেটের চার ধাপ পেরোতে পারবেন। সবকিছু ঠিক থাকলে বিমানবন্দরে দায়িত্বরত অন্য কোনো কর্মকর্তার সহযোগিতা তাঁর লাগার কথা নয়। ই-গেটই বলে দেবে যাত্রীর সব তথ্য ঠিক আছে। অথচ সেখানে ম্যানুয়্যালি আবার কাজ করতে হচ্ছে ফলে বাড়তি যাত্রীদের সামলানোর ক্ষেত্রে ই-গেট যেভাবে ভুমিকা রাখতে পারতো সেভাবে পারছে না।এ বিষয়ে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, যাত্রীদের দ্রুত ও আধুনিক ইমিগ্রেশন সেবা দিতে ২০২৩ সালের ১৭ জুলাই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ই-গেট চালু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও দুটি স্থলবন্দরে মোট ৪৪টি ই-গেট স্থাপন করা হয়। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে ২৬টি ই-গেট রয়েছে। কেন ই-গেটের সুফল যাত্রীরা পাচ্ছেন না– এমন প্রশ্নে ইমিগ্রেশন পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, ই-গেটে যাত্রীর বিদেশযাত্রার সরকারি আদেশ, শ্রম ভিসায় যাদের জনশক্তি, তাদের কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) সনদ, গন্তব্যস্থলের ঠিকানা বা নিষেধাজ্ঞা-সংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই যাত্রীদের ইমিগ্রেশনে এসবির ডেস্কে গিয়ে এসব তথ্য যাচাই করতে হয়। এ জন্য পুরোপুরি ই-গেটের মাধ্যমে যাত্রীর ইমিগ্রেশন শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না।এতসব সংকটের মধ্যেও কিছু আশার কথা শুনিয়েছেন আরএমএমআরইউ-এর ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক তাসনিম সিদ্দিকী। তিনি জানান- সার্বক্ষণিক ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি ও হটলাইন চালুর ফলে হয়রানি কিছুটা কমেছে। লাগেজ হ্যান্ডলারদের বডি ক্যামেরা ব্যবহার ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য দুটি বিশেষ লাউঞ্জ ও ভর্তুকি মূল্যে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন রাগিব সামাদ জানান, বিদ্যমান সীমাবদ্ধতার মধ্যেই সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। ট্রলি সংকট ও যানজটকে তিনি সাময়িক বলে উল্লেখ করেন। নিরাপত্তা এবং যাত্রী সেবা নিশ্চিত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।পিএম
সারাদেশে নির্বাচনে দায়িত্ব পালনে ১০৫১ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে সারাদেশে মোবাইল কোর্ট পরিচালনাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে ১ হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা নির্বাচনী আচরণবিধি তদারকির পাশাপাশি অপরাধ প্রতিরোধ এবং ভোটগ্রহণ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে দায়িত্ব পালন করবেন।মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) এ-সংক্রন্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, নিয়োগপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা আগামী ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নিজ নিজ দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবেন।এতে আরও উল্লেখ করা হয়, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা ভোটগ্রহণের দিনসহ ভোটের পরবর্তী দুই দিন পর্যন্ত মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯-এর ৫ ধারা অনুযায়ী ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটরা তাদের নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেটদের দায়িত্ব বণ্টন এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনার এলাকা নির্ধারণ করে দেবেন।নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের আগে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যোগদান করবেন। এ ছাড়া দায়িত্ব পালনের আগে তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।প্রতিদিন পরিচালিত মোবাইল কোর্টের তথ্য নির্ধারিত ছকে সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও রিটার্নিং কর্মকর্তাকে অবহিত করতে হবে। পাশাপাশি তারা স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে বিজিবি, কোস্টগার্ড ও সশস্ত্র বাহিনীর টিমকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেবেন।নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের তালিকা দেখতে এখানে ক্লিক করুন।এমআর-২
ভোটকেন্দ্রে বিএনসিসি মোতায়েন হবে না: ইসি
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোটকেন্দ্রে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের (বিএনসিসি) ক্যাডেট মোতায়েনের সিদ্ধান্ত বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসলো ইসি। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ইসির উপ-সচিব মো. মনির হোসেনের সই করা চিঠি থেকে বিষয়টি জানা গেছে।রিটার্নিং কর্মকর্তাদের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে স্থাপিত আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালট (ওসিভি ও আইসিপিভি) গণনা কেন্দ্রে শৃঙ্খলা রক্ষায় বিএনসিসি ক্যাডেটরা কাজ করবেন। রিটার্নিং অফিসারের নির্দেশনা অনুযায়ী তারা সেখানে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করবেন। আগের ঘোষণা অনুযায়ী সাধারণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে তাদের আর মোতায়েন করা হবে না।এর আগে ইসি বিএনসিসির ক্যাডেটদের কেন্দ্রে কেন্দ্রে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তবে বিএনপি তাদের ঝুঁকির মধ্যে না ফেলার দাবি জানিয়েছিল।এসআর
জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত
শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী এবং জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা যাওয়া ওই আসনের নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এ তথ্য জানিয়েছেন।গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ১৭-এর ১ উপধারায় বলা হয়েছে, যদি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময়সীমা পার হওয়ার পর এবং ভোট গ্রহণের আগে কোনো বৈধভাবে মনোনীত প্রার্থী মৃত্যুবরণ করেন, তবে সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচনী কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল বা স্থগিত করতে হবে।আইন অনুযায়ী, এ ক্ষেত্রে প্রার্থীকে অবশ্যই নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ‘বৈধ প্রার্থী’ হিসেবে স্বীকৃত হতে হবে।প্রার্থীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা একটি গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ওই আসনের নির্বাচনী কার্যক্রম বাতিলের ঘোষণা দেবেন এবং পরবর্তী সময়ে কমিশন নতুন তফসিল ঘোষণা করবে।এসকে/আরআই
জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক, বঙ্গভবনের কর্মকর্তা আটক
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনায় বঙ্গভবনের এক কর্মকর্তাকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আটককৃত ওই কর্মকর্তার নাম মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলম।তিনি বঙ্গভবনের রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ের সহকারী প্রোগ্রামার। জামায়াত আমিরের ডিভাইস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বিতর্কিত পোস্ট ইস্যুতে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত মধ্যরাতে তাকে আটক করা হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ডিবি প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলম নামের একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।এদিকে রাজধানীর মতিঝিল এজিবি কলোনিতে অভিযান পরিচালনা করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার পর এ অভিযান শুরু করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা যায়, জামায়াত ইসলামির আমিরের এক্স হ্যান্ডেল হ্যাককারীকে ধরতে মতিঝিলের এজিবি কলোনিতে অভিযান চালাচ্ছে ডিবি পুলিশ।এ বিষয়ে আগে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেছিলেন, একটি অভিযান চলছে। এ বিষয়ে এখনই কিছু বলা ঠিক হবে না। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।এদিকে ডা. শফিকুর রহমানের ভেরিফায়েড এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেল হ্যাকের ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন ও অগ্রগতি জানাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য পরিকল্পনাবিদ সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বঙ্গভবনে গিয়ে এ সংক্রান্ত লিখিত অভিযোগপত্র জমা দেয়।জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত ৩১ জানুয়ারি বিকেল ৪টার পর ডা. শফিকুর রহমানের এক্স আইডি হ্যাকারদের কবলে পড়ে। পরে বিকেল ৪টা ৩৭ মিনিটে ওই আইডি থেকে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও আপত্তিকর পোস্ট প্রকাশ করা হয়। বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পর কেন্দ্রীয় আইটি টিম দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে বিকেল ৫টা ৯ মিনিটে আইডিটির পাসওয়ার্ড পরিবর্তনের মাধ্যমে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করে। পরে বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে আইডিটি হ্যাক হওয়ার বিষয়টি জানিয়ে একটি জরুরি ঘোষণা দেয়া হয়।ঘটনার পর ওই রাতেই থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয় এবং পরদিন সকালে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। সে সময় হ্যাকিংয়ের উৎস ও পদ্ধতি নিয়েও একটি প্রেজেন্টেশন দেয়া হয় বলে জানায় জামায়াত।দলটির দাবি, তদন্তে দেখা গেছে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় অফিসিয়াল ই-মেইলসহ একাধিক অফিসিয়াল ঠিকানায় একটি ফিশিং মেইল পাঠানো হয়েছিল, যার মাধ্যমে ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ নেয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ফিশিং মেইলটি বঙ্গভবনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সরকারি ই-মেইল অ্যাড্রেস থেকে পাঠানো হয়েছিল।এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া না পাওয়ায় মঙ্গলবার সরাসরি বঙ্গভবনে গিয়ে অভিযোগ জানানো হয়েছে বলে দাবি করে জামায়াত। প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আদিল চৌধুরী জানান, বিষয়টি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে জানানো হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।এবি
আবারও ভূমিকম্পে কাঁপলো দেশ
ভূমিকম্পে কাঁপলো বাংলাদেশ। বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৩৪ মিনিটে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে অনুভূত হয় এই ভূকম্পন। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৯। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) তথ্য জানিয়েছে।তবে অ্যান্ড্রয়েড অ্যালার্ট সিস্টেমের সূত্রে গুগল প্রথমে জানিয়েছিল, ভূমিকম্পের মাত্রা ৪ দশমিক ৯ এবং এর উৎপত্তিস্থল মিয়ানমারের ম্রাউক-ইউ শহর থেকে ৪২ কিলোমিটার দূরে।ইউএসজিএসের তথ্য বলছে, মিয়ানমারের ইয়েনাংইয়াং শহর থেকে ৯৫ কিলোমিটার পশ্চিমে মাঝারি মাত্রার এই ভূমিকম্প উৎপত্তি হয়। এর কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ৬২ কিলোমিটারর গভীরে।তাৎক্ষণিকভাবে ভূমিকম্পে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।এর আগে, মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ভোরে ভূমিকম্পে কাঁপে বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা। ভোর ৪টা ৩৬ মিনিটে অনুভূত সেই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ১। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।এফএস
সর্বশেষ প্রকাশিত
রাজনীতি
সব দেখুন
’আমি প্রথম বিদ্রোহ করেছি, জামায়াত আমিরের বক্তব্য ঠিক আছে’
এলডিপির চেয়ারম্যান ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বলেন, আমি প্রথম বিদ্রোহ করেছি, জামায়াত আমিরের বক্তব্য ঠিক আছে, কোনো আপত্তি নেই। তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের একটি বক্তব্যকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সেটি ঠিক আছে।মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ১১-দলীয় জোটের এক সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কর্নেল অলি আহমেদ বলেন, জামায়াতের আমির কোথাও বলেননি যে তিনি (কর্নেল অলি) স্বাধীনতার ঘোষক। তার বক্তব্যের ব্যাখ্যায় কর্নেল অলি বলেন, তিনি বলেছেন, প্রথম বিদ্রোহ হয়েছে এটা সত্য।এর আগে, গত ২ ফেব্রুয়ারি দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দরে আয়োজিত এক সমাবেশে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, চট্টগ্রাম থেকেই স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়া হয় এবং চট্টগ্রাম থেকেই প্রথম ‘We revolt’ বলে বিদ্রোহ করা হয়। ওই বক্তব্যে তিনি কর্নেল অলি আহমেদের নাম উল্লেখ করে তাকে স্বাধীনতার ঘোষণাদাতা হিসেবে উপস্থাপন করেননি বলেই কর্নেল অলি তার বক্তব্যে বলেছেন।একই দিন জামায়াত আমিরের ওই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা আগে লোহাগাড়ায় ১১-দলীয় জোটের আরেক সমাবেশে কর্নেল অলি আহমেদ বলেন, চট্টগ্রাম থেকে আমি বিদ্রোহ ঘোষণা করি। এই বক্তব্যগুলোর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপির কিছু নেতাকর্মী দাবি করেন, জামায়াতের আমির নাকি কর্নেল অলি আহমেদকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।তিনি দাবি করেন, তবে চট্টগ্রাম বন্দরের সমাবেশের ভিডিও যাচাই করে দেখা যায়, ডা. শফিকুর রহমান শুধু বলেছেন চট্টগ্রাম থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়া হয়, তিনি কোথাও কর্নেল অলি আহমেদের নাম উল্লেখ করেননি।রাঙ্গুনিয়ায় দেওয়া বক্তব্যে কর্নেল অলি আহমেদ আরো বলেন, ডা. শফিকুর রহমান কারও সম্মানহানিকর কোনো কথা বলেননি। তিনি বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন।এফএস
’আমি প্রথম বিদ্রোহ করেছি, জামায়াত আমিরের বক্তব্য ঠিক আছে’
এলডিপির চেয়ারম্যান ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বলেন, আমি প্রথম বিদ্রোহ করেছি, জামায়াত আমিরের বক্তব্য ঠিক আছে, কোনো আপত্তি নেই। তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের একটি বক্তব্যকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সেটি ঠিক আছে।মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ১১-দলীয় জোটের এক সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কর্নেল অলি আহমেদ বলেন, জামায়াতের আমির কোথাও বলেননি যে তিনি (কর্নেল অলি) স্বাধীনতার ঘোষক। তার বক্তব্যের ব্যাখ্যায় কর্নেল অলি বলেন, তিনি বলেছেন, প্রথম বিদ্রোহ হয়েছে এটা সত্য।এর আগে, গত ২ ফেব্রুয়ারি দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দরে আয়োজিত এক সমাবেশে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, চট্টগ্রাম থেকেই স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়া হয় এবং চট্টগ্রাম থেকেই প্রথম ‘We revolt’ বলে বিদ্রোহ করা হয়। ওই বক্তব্যে তিনি কর্নেল অলি আহমেদের নাম উল্লেখ করে তাকে স্বাধীনতার ঘোষণাদাতা হিসেবে উপস্থাপন করেননি বলেই কর্নেল অলি তার বক্তব্যে বলেছেন।একই দিন জামায়াত আমিরের ওই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা আগে লোহাগাড়ায় ১১-দলীয় জোটের আরেক সমাবেশে কর্নেল অলি আহমেদ বলেন, চট্টগ্রাম থেকে আমি বিদ্রোহ ঘোষণা করি। এই বক্তব্যগুলোর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপির কিছু নেতাকর্মী দাবি করেন, জামায়াতের আমির নাকি কর্নেল অলি আহমেদকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।তিনি দাবি করেন, তবে চট্টগ্রাম বন্দরের সমাবেশের ভিডিও যাচাই করে দেখা যায়, ডা. শফিকুর রহমান শুধু বলেছেন চট্টগ্রাম থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়া হয়, তিনি কোথাও কর্নেল অলি আহমেদের নাম উল্লেখ করেননি।রাঙ্গুনিয়ায় দেওয়া বক্তব্যে কর্নেল অলি আহমেদ আরো বলেন, ডা. শফিকুর রহমান কারও সম্মানহানিকর কোনো কথা বলেননি। তিনি বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন।এফএস
৩ নেতাকে সুখবর দিল বিএনপি
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কৃত ৩ নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি।বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।এতে বলা হয়, ইতোপূর্বে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং দলের নীতি ও আদর্শ পরিপন্থি কার্যকলাপের জন্য চট্টগ্রাম উত্তর জেলাধীন রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার অন্তর্গত ৭ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইউছুফ সওদাগর, কিশোরগঞ্জ জেলাধীন করিমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. রফিকুর রহমানকে দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিস্কার করা হয়েছিল। এতে আরও বলা হয়, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক সদস্য আহসান উল্লাহ চৌধুরী হাসানের দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সকল পর্যায়ের পদ স্থগিত করা হয়েছিল। আবেদনের প্রেক্ষিতে দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক তাদের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিএনপি। এফএস
৭ ফেব্রুয়ারি উত্তরাঞ্চলের তিন জেলা সফরে তারেক রহমান
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হিসাবে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি দেশের উত্তরাঞ্চলের ৩টি জেলা সফর করবেন। জেলাগুলো হলো দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও নীলফামারী।আজ বুধবার বিকালে দিনাজপুরে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও দিনাজপুর-৬ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, এবার বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনি সফর সড়ক পথে নয়, তিনি হেলিকপ্টার যোগে দিনাজপুরসহ রংপুর বিভাগের ৩টি জেলায় নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেবেন। তবে ৭ ফেব্রুয়ারি দিন নির্ধারিত হলেও এখনো সময় ঠিক হয়নি। এটা নির্ভর করবে নিরাপত্তা, আবহাওয়া ও তার নির্বাচনি সফরসূচি নির্ধারকদের ওপর।তিনি বলেন, এদিন তারেক রহমান দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও নীলফামারী জেলায় দলের মনোনীত প্রার্থীদের নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হিসেবে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য রাখবেন।ঠাকুরগাঁও-১ (সদর) আসনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দিনাজপুর-৬ আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং নীলফামারী-২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী শাহরিন ইসলাম তুহিনের নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হিসেবে জনসভায় বক্তব্য রাখবেন তারেক রহমান।ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, দিনাজপুরে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনি জনসভা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সফল করতে জেলা বিএনপির নেতা-কর্মীদের সাথে বৈঠক করেছি। সেই সাথে আমরা প্রস্তুতি কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছি। তিনি জানান, ওই দিন তারেক রহমানের প্রয়াত নানা ইস্কান্দার মজুমদার, নানি তৈয়বা মজুমদার ও খালা সাবেক মন্ত্রী খুরশীদ জাহান হকের কবর জিয়ারত করার কথা রয়েছে। এফএস
জামায়াতের ৪১ দফা নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা
রাষ্ট্র পরিচালনায় যুবকদের প্রাধান্য, নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত, প্রযুক্তি নির্ভর সমাজ গঠন জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপসহ ২৬টি বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে ৪১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।নির্বাচনি ইশতেহারে যে ২৬ বিষয়ে অগ্রাধিকার দিবে জামায়াত-১. 'আতীয় স্বার্থে আপসহীন বাংলাদেশ' এই জোবানের আলোকে স্বাধীনছে, সার্ককৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থে আপসহীন রাষ্ট্র গঠন (National interest)।২. বৈষমাহীন, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক একটি মানবিক বাংলাদেশ গঠন 15ocial justice)!৩. যুবকদের ক্ষমতায়ন এবং এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় তাদেরাক প্রাধান্য দেওয়া (Youth First)৪. নারীদের জন্য নিরাপদ, মঘাদাপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক রাষ্ট্র গঠন (Wor (Women Participation)৫. আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নয়নের মাধ্যমে মাদক, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসমুক্ত একটি নিরাপদ রাষ্ট্র বিনির্মাণ (Public Safety and Security)!৬. সকল পর্যায়ে সৎ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠন (Zero Corruption)!৭. প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ও স্মার্ট সমাজ গঠন (Tech-based Societyll)৮. প্রযুক্তি, ম্যানুফ্যাকচারিং, কৃষি ও শিল্পদহ নানা সেক্টরে ব্যাপকভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি। সরকারি চাকরিতে বিনামূালা অ্যাবদন, মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ ও সকল ধরানর বৈষম্য দূরীকরণ (Widespread Employment)!৯. ব্যাংকসহ সার্বিক আর্থিক যাতে সংস্কারের মাধ্যমে আস্থা ফিরিয়ে এনে বিনিয়োগ ও বাবসাবান্ধব টেকসই ও স্বচ্ছ অর্থনীতি বিনির্মাণ (Robust and Sustainable Economy)!১০. সমানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতির নির্বাচনসহ সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকাররাবস্থা শক্তিশালী করে সুসংহত ও কার্ঘকর গণতন্ত্র নিশ্চিত। করা (Strong and Functional Democracy)!১১. বিগত সময়ে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় হওয়া খুন, ওম ও বিচারবহিভূত হত্যাকাণ্ডের বিচার ও মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করা (Justice and Human Rightsil১২. জুলাই বিপ্লবের ইতিহাস সংরক্ষণ, শহীদ পরিবার, আহত ও পঙ্গু পঙ্গুত্ববরণকারী জুলাই যোদ্ধাদের পুনর্বাসন এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হবে July Spirit)১৩. কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার ও কৃষকদের সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে কৃষিতে বিপ্লব সৃষ্টি করা (Agro-Revolution)১৪. ২০৩০ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ ভেজালমুক্ত খাদ্য নিরাপত্তা এবং 'তিন শূন্য ভিশন' (পরিবেশগত অবক্ষয়ের শূন্যতা, বার্জার শূন্যতা এবং বন্যা-ঝুঁকির শূন্যতা, বাস্তবায়নের মাধ্যমে 'সবুজ ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ' গড়া (Food Security and Environmental Sustainability)১৫. ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশের পাশাপাশি ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠা, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতের মাধ্যমে ব্যাপকভিত্তিতে শিল্পায়ণ ও কর্মসংস্থান তৈরি (Industrialisation)i১৬. শ্রমিকদের মজুরি ও জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি এবং মানসম্মত কাজের পরিবেশ, বিশেষ করে নারীদের নিরাপদ কাজের পরিবেশ, সৃষ্টি করা (Reasonable Salary and Hassle-free Job Environment)!১৭. প্রবাসীদের ভোটাধিকারসহ সকল অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং দেশ গঠনে আনুপাতিক ও বাস্তবসম্মত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা (Pro-Expatriate Approach)!১৮. সংখ্যাগুরু-সংখ্যালঘু (মেজরিটি-মাইনরিটি) নয়; বরং বাংলাদেশের নাগরিক হিমোব সকলের নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং পিছিয়ে থাকা নাগরিক ও শ্রেণি-গোষ্ঠীর জন্য বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করা (Inclusive Nation!!১৯. আধুনিক ও সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা প্রদান (Universal Healthcare System) এবং গরিব ও অসহায় জনগোষ্ঠীর জন্য পর্যায়ক্রমে বিনামূল্যে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা।২০. সমসাময়িক বিশ্বের চাহিদাকে সামনে রেখে শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার এবং পর্যায়ক্রাম বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করা (Educational Reform)I২১. দ্রব্যমূলা ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রেখে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং অন্যান্য মৌলিক চাহিদার পূর্ণ সংস্থানের নিশ্চয়তা (Provision of Necessities)!২২. যাতায়াতব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো এবং রাজধানীর সাথে দেশের বিভাগীয় শহরগুলোর সড়ক/রেলপথের দূরত্ব পর্যায়ক্রমে দুই-তিন ঘণ্টায় নামিয়ে আনা। দেশের আঞ্চলিক যোগাযোগ ও ঢাকার অভ্যন্তরীণ যাতায়াতব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন আনা [Transport Revolutionji২৩. নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য স্বল্পমূলো আবাসন নিশ্চিত করা (Affordable Housing)!২৪. ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পূর্ণ বিলোপে চলমান বিচার ও সংস্কার কার্যক্রমকে অব্যাহত রেখে বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদী বাবস্থার পুনর্জন্ম রোধ করা (Reform Pro-fascist System)২৫. সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তাবাবস্থা চালু করার মাধ্যাম নিরাপদ কর্মজীবন ও পর্যায়ক্রমে সকল নাগরিকদের আন্তর্জাতিক মানের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত। করা (Social Security)!২৬. সকল পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে সুশাসন নিশ্চিত করে একটি সুধী ও সমৃদ্ধ কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা (Welfare State)।এমআর-২
জাতির উদ্দেশে বিটিভিতে ভাষণ দেবেন নাহিদ ইসলাম
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার অংশ হিসেবে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নির্বাচনী মিডিয়া উপকমিটির প্রধান মাহাবুব আলম এ তথ্য জানান।তার বক্তব্য বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে সম্প্রচারের জন্য নির্বাচন কমিশনের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছে দলটি।মাহাবুব আলম বার্তায় জানান, আজ ভাষণের প্রচারের জন্য আবেদন করেছে এনসিপি। এখনো স্লট দেওয়া হয়নি।এদিকে আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান।এমআর-২
তিস্তা হবে উত্তর অঞ্চলের অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু: ডা. শফিকুর রহমান
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তিস্তা হবে উত্তর অঞ্চলের অর্থনীতির কেন্দ্র বিন্দু। তিস্তা এ অঞ্চলের অহংকার। কথা দিচ্ছি, তিস্তাকে আমরা জীবন দিব। যে কোনো কিছুর বিনিময় হলেও আমরা তিস্তা মহা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবো। আমরা বুড়িমারী স্থল বন্দরের উন্নয়ন করবো। সড়ক পথ ও রেল পথের উন্নয়ন করা হবে।বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় তিস্তা ব্যারেজ হেলিপ্যাড মাঠে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াত আমির এসব কথা বলেন।তিনি বলেন, উত্তর অঞ্চল অবহেলিত এ অঞ্চল থেকেই উন্নয়নের বীজ রোপন করা হবে। দীর্ঘদিন এ জাতিকে বিভক্ত করে একদল মতলবাজ ব্যবসা করেছেন, চাঁদাবাজী করেছেন। এটা আমরা বন্ধ করতে চাই। উত্তর অঞ্চলে কৃষি শিল্পের রাজধানী করা হবে।জামায়াতের আমারী আরো বলেন, একদল ভয়ে আছেন ভয়ের কোন কারণ নেই । আমরা ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করবো। আমরা সবাইকে নিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই। আমরা জীবন দিবো তবু আমার মা-বোনদের গায়ে হাত দিতে দিবো না। আমরা নারী জাতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করবো।জামায়াতের আমীর বলেন, কেউ কেউ প্রথমে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে ছিলেন না। পরে যখন দেখে অবস্থা খারাপ তখন হ্যাঁ ভোটের পক্ষে কথা বলছেন। আমরা বসন্তের কোকিল না। আমরা দেশে ছেড়ে পালিয়ে যাই না। আমরা দেশে আছি দেশেই থাকবো।দীর্ঘদিন রাষ্ট্র পরিচালনাকারী দল গুলোর সমালোচনা করে জামায়াতের আমীর বলেন, এ দেশের মানুষ তোমাদের অনেক দেখেছে এখন বিশ্রামে যাও । এবার আমাদের একটু সুযোগ দাও। আমরা বসন্তের কোকিল নয়। আমরা দেশের উন্নয়ন করবো।তিনি বলেন, ওরা রাজনীতির নামে দুর্নীতি করেছে। দুনীর্তি আর রাজনীতি এক সাথে চলে না। ওদের রাজনীতি করার অধিকার নেই। আমরা দুর্নীতি মুক্ত বাংলাদেশ করবো। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমি জামায়াতের বিজয় চাই না; আমি ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। আমি হ্যাঁ ভোটের বিজয় চাই। হ্যাঁ ভোটের বিজয় মানে জনতার বিজয়। এতে নতুন বাংলাদেশ পাবো। লালমনিরহাট জেলা জামায়াতের আমীর ও লালমনিরহাট-৩ আসনের প্রার্থী আবু তাহের-র সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন, ১১ দলীয় জোটের নেতারা। এর আগে জামায়াতের আমীর কুড়িগ্রাম থেকে তিস্তা ব্যারেজ হেলিপ্যাড মাঠে হেলিকপ্টারে আসেন।শফিকুর রহমান বলেন, মানুষ বাংলাদেশের পরিবর্তন চায়। এবারের নির্বাচন কোনো সাধারণ নির্বাচন না। এবার দুটি ভোট— একটি ‘হ্যাঁ’, ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি, ‘না’ মানে গোলামি। ‘হ্যাঁ’ ভোট মা-বোনদের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবে। আপনারা প্রথম ভোটটা ‘হ্যাঁ’তে দেবেন, দ্বিতীয়টা ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীকে দিয়ে ইনসাফ কায়েম করবেন।পিএম
‘সত্য চাপা থাকে না, আমাদের সাইবার টিম তাদের গলা টিপে ধরেছে’
একটি গোষ্ঠী আমার পেছনে লেগেছে। আমার এক্স আইডি হ্যাক করে যা তা চালায় দিয়েছে। আর অমনি একটা দল ঝাঁপিয়ে পড়ে তাইরে, নাইরে গান শুরু করেছে। লজ্জা, ওদের চুনোপুঁটি তো গাইলো বটে তাদের বড় বড় মাথা গুলোও গাইতে শুরু করে দিয়েছে। কিন্তু তারা পেরে উঠেনি, আমাদের সাইবার টিম তাদেরকে গলা টিপে ধরেছে। সত্য কখনও ধামাচাপা দেওয়া যায় না। ইতোমধ্যে প্রধান অপরাধীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। সত্য মেঘের আড়ালে ঢাকা থাকে না। সূর্যকে মেঘ ঢেকে রাখতে পারে না বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি।জামায়াত আমির বলেন, জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না। আমরা চাই দেশের ১৮ কোটি মানুষের বিজয়। আর বিভক্তি নয়। আমরা কোনো দলীয় রাষ্ট্র কায়েম করতে চাই না। এ বিজয়ে আমি তিস্তা পাড়ের মানুষের মাঝে গণজোয়ার দেখছি। আমরা দেশে আধিপত্যবাদীদের ক্ষমতা দেখতে চাই না, আমরা চাই সমতা থাকুক বাংলাদেশে।তিনি বলেন, রংপুরের সন্তান শহীদ আবু সাঈদ বুক পেতে দিয়ে বলেছে অধিকার দাও; না হলে গুলি। সাঈদ বুকে তিন তিনটি গুলি নিয়েছে বীরের মতো। এখান থেকে আন্দোলন গড়ে উঠেছে। সাঈদ, মুগ্ধ, হাদিসহ ১৪ শত শহীদ হয়েছে। এদের রক্তে নদীগুলো লাল হয়েছে। আমরা এ রক্তের সঙ্গে বিশ্বাস ঘাতকতা করবো না। তারা জীবন দিয়ে দেশের যে আমানত আমাদের হাতে তুলে দিয়ে গেছেন, সেই আমানত রক্ষায় প্রয়োজনে আমরাও জীবন দিতে প্রস্তুত।নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে জামায়াত আমির বলেন, কুড়িগ্রাম জেলা দেশের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া জনপদ। এই পিছিয়ে পড়া কুড়িগ্রাম থেকে শুরু হবে আমাদের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা। আমার কাছে দাবি জানাতে হবে না। বঞ্চিতদের আর মিছিল করতে হবে না। উন্নয়ন করা আমাদের ইমানি দায়িত্ব। এখানে (কুড়িগ্রামকে) কৃষি শিল্পের রাজধানীতে পরিণত করবো আমরা। কৃষি বিপ্লব হলে সবাই কাজ পাবেন। বঞ্চিত এই এলাকায় যেন আল্লাহ মণি-মুক্তায় ভরিয়ে দেয়।তিনি বলেন, কুড়িগ্রামের প্রধান দুঃখ তিনটি বড় নদী। এই নদী গুলো হত্যা করে মরুভূমি করা হয়েছে। রাষ্ট্রের বাজেট সব চুরি করা হয়েছে। ২৮ লাখ কোটি টাকা চুরি করে বিদেশে পাচার কর হয়েছে। আমাদের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ করে দিলে এসব টাকা পেটে হাত ঢুকিয়ে বের করে আনবো।এমআর-২
চলতি সপ্তাহে সর্বাধিক পঠিত
বিএনপিকে অস্তিত্বহীন করতে গিয়ে হাসিনা নিজেই অস্তিত্বহীন: এসএম জাহাঙ্গীর
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৮ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন বলেছেন, পলাতক হাসিনা বিএনপিকে অস্তিত্বহীন করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু আজ তিনি নিজেই অস্তিত্বহীন হয়ে গেছেন। জুলুম-নির্যাতনের ফল কখনোই ভালো হয় না, আর তার প্রমাণ তিনি নিজেই দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন।মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর দক্ষিণখান ৪৭নং ওয়ার্ডের ফায়দাবাদ চৌরাস্তা প্রাঙ্গণে নির্বাচনের ১৩তম দিনের প্রচারণা ও গণসংযোগ শুরুর আগে এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।বক্তব্যে এস এম জাহাঙ্গীর বিগত ১৭ বছরের দুঃশাসনের চিত্র তুলে ধরে বলেন, দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামা থেকে শুরু করে বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মীকে মিথ্যা মামলায় জেল খাটতে হয়েছে। তিনি বলেন,"আমরা যখন ফ্যাসিস্ট সরকারের মিথ্যা মামলায় জেলে ছিলাম, তখন সেখানে আলেমদের সাথে আমাদের দেখা হতো। এই সরকারের জুলুমের কারণে বিএনপির বহু নেতাকর্মীর পরিবার আজ চরম দুর্দশায় দিন কাটাচ্ছে। ভবিষ্যতে আর কোনো নেতাকর্মী যেন এমন অন্যায়ের শিকার না হয়, আমি সেই চেষ্টা করবো।বিগত নির্বাচনগুলোতে সাধারণ মানুষ ভোট দিতে পারেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, পলাতক হাসিনার আমলে আপনারা আপনাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। এবার সময় এসেছে। সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটকেন্দ্রে যাবেন এবং ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করবেন।দক্ষিণখান এলাকার বিদ্যমান সমস্যাগুলো নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে এই বিএনপি নেতা বলেন, এই এলাকাটি বর্তমানে বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত। আমি যদি আপনাদের ভোটে নির্বাচিত হতে পারি, তবে এই এলাকার প্রতিটি সমস্যাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সমাধান করার কাজ শুরু করবো।গণসংযোগ ও পথসভায় আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম.কফিল উদ্দিন। এছাড়া দক্ষিণখান ও উত্তরখান থানা এবং বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতৃবৃন্দসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। পথসভা শেষে তিনি বিশাল এক মিছিল নিয়ে এলাকার বিভিন্ন সড়কে গণসংযোগ করেন।পিএম
রাজধানীতে গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নের কারণ জানাল তিতাস
অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নের অংশ হিসেবে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। এ অবস্থার উন্নতি কখন হবে, এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাজধানীর শনির আখড়া, রায়েরবাগ, হাবিব নগর এলাকায় উচ্চচাপ বিশিষ্ট গ্যাস পাইপলাইন থেকে অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কাজ চলছে। এ অবস্থায় ঢাকার দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় গ্যাসের স্বল্পচাপ বিরাজ করছে।গ্রাহকদের এ সমস্যার জন্য তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ দুঃখ প্রকাশ করেছে। এমআর-২
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ফ্রি ইন্টারনেট পাবে সবাই: মাহদী আমিন
বিএনপি যদি ক্ষমতায় যায়, তাহলে সবার জন্য বিনা মূল্যে ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন। পাশাপাশি দলটি জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিতেও কাজ করবে বলে জানিয়েছেন তিনি। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাজধানীতে ‘আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে আইসিটি সেক্টরের ভূমিকা ও করণীয়’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ কথা জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘আসন্ন নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে বিএনপি জয়লাভ করে সরকার গঠন করবে।’তিনি আরও জানান, ‘১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জয়লাভ করলে বাংলাদেশের জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে কাজ করবে বিএনপি।’তিনি আরও বলেন, ‘যারা মেধাবী তাদের জন্য জুতসই সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার পরিকল্পনায় এ বিষয়গুলো রেখেছেন।’ আরডি
‘কিছু অর্বাচীন বালকদের হাত থেকেও দেশকে রক্ষা করতে হবে'
শেখ হাসিনার হাত থেকে দেশ পরিত্রাণ পেয়েছে। পাশাপাশি কিছু অর্বাচীন বালকদের হাত থেকেও দেশকে রক্ষা করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাজধানীর পল্টনের আনন্দ ভবনে বায়রা ও হাব নেতাদের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।মির্জা আব্বাস বলেন, ‘কিছু ছেলে আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়ে লম্বা লম্বা কথা বলছে। ঘুম থেকে উঠে আল্লাহর নাম না নিলেও তারা আমার নাম নেয়। আরে ভাই, ঘুম থেকে উঠে আল্লাহর নাম নাও, প্রশংসা করো।’তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকা ৮ আসনে তারা এমন কিছু করতে চাচ্ছে যাদের সারাদেশের ভোট বন্ধ হয়ে যায়। তবুও আমরা ধৈর্য ধরে আছি, সহ্য করে আছি। কিন্তু ধৈর্য্যের বাঁধ ভাঙ্গবে না। বিএনপি স্বচ্ছ নির্বাচন চায়।’তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচন কেউ দান করেনি। কেউ কেউ বলে ৫ আগস্ট সবকিছু করে ফেলেছে, অথচ ১৭ বছর আমরা কী পরিমাণ ত্যাগ করেছি। শেখ হাসিনা পালানোর পালানোর পর আমাদের যেই রকম ভালো থাকার কথা ছিলো, সেই রকম ভালো আমরা নেই। কোন স্বার্থের জন্য মির্জা আব্বাসকে কেউ এক কাপ চা খাওয়াতে পারেনি।’এসময় নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশে বিলম্ব করা হলে তা মেনে নেয়া হবে না জানিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘ভোটের পর যদি ১২ ঘন্টার বেশি ফল দিতে দেরি করে, সেটা কোনভাবেই মেনে নেয়া হবে না। এজন্য ভোটের আগে দরকার হলে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। কেন্দ্র ভিত্তিক ফল ঘোষণার আগে কোন পোলিং এজেন্ট কেন্দ্র ছাড়বে না।’
উনি সকালে উঠে আল্লাহর নাম নিয়ে চাঁদাবাজি শুরু করেন: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
ঢাকা-৮ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, পাবলো এসকোবার কার্টেল কিং ছিলেন তেমনি ঢাকা-৮ আসনেও তার মতো একজন রয়েছেন। উনি সকাল বেলা উঠে আল্লাহর নাম নিয়ে চাঁদাবাজি শুরু করে। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে ঢাকা-৮ আসনে নির্বাচনি প্রচারণায় গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘যতই শক্তিশালী হোক না কেন, তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসবো। সমাজের সবচেয়ে উপরস্থ কর্মকর্তা ব্যক্তি উনি। সকাল বেলা উঠে আল্লাহর নাম নিয়ে চাঁদাবাজি শুরু করে।’তিনি বলেন, ‘এখানে অনেকগুলা অসভ্য মানুষদের পাল্লায় পড়েছি। কথা বলে গ্যাংস্টারদের ভাষায়। জুনিয়রদেরকে ভালোবাসা ও সম্মান দিতে শিখেনি। একটা আইয়ামে জাহেলিয়াতে আছি। পাকিস্তানের একজন গ্যাংস্টার আছে দাউদ ইব্রাহিম, তেমনি এখানেও এ ধরনের দাউদ ইব্রাহিমরা চলে এসেছে।’তিনি আরও বলেন, ‘ভোটের মাধ্যমে আপনারা তাদেরকে সভ্য করবেন। ভোটের মাধ্যমে আগামী ১২ তারিখে আমরা আইয়ামে জাহেলিয়া থেকে মুক্ত হতে চাই। ভোটের মাধ্যমে আমরা যারা মানুষের সঙ্গে বেয়াদবি করছে, সন্ত্রাসী আচরণ করছে; আমরা তাদের থেকে মুক্ত হতে চাই।’আরডি
যশোরে আলমসাধু উল্টে দুই ভাই হতাহত
যশোরে স্যালোইঞ্জিনচালিত আলমসাধু উল্টে দুই ভাই হতাহত হয়েছেন। বুধবার (৪ জানুয়ারি) ভোরে সদর উপজেলার সতীঘাটা কামালপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত ওহিদুর রহমান (৩০) মণিরামপুর উপজেলার আমিনপুর গ্রামের মৃত নুরুজ্জামানের ছেলে। দুর্ঘটনায় আহত তাঁর ছোট ভাই তৌহিদুর রহমান (২৫) যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার ভোর ছয়টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে আলমসাধু নিয়ে যশোরের রাজারহাট মোড়ের দিকে রওনা হন দুই ভাই। আলমসাধুটি চালাচ্ছিলেন ওহিদুর রহমান। পথে সতীঘাটা কামালপুর এলাকায় দ্রুতগতিতে একটি স্পিডব্রেকার পার হওয়ার সময় আলমসাধুর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যায়। এতে গাড়িটি উল্টে গেলে ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান ওহিদুর রহমান। গুরুতর আহত হন তাঁর ভাই তৌহিদুর।পরে স্থানীয় লোকজন তৌহিদুরকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ ডা. বিচিত্র মল্লিক বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত তৌহিদুর রহমানের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তিনি পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।কোতোয়ালি মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনিসুর রহমান খান বলেন, আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে দুর্ঘটনায় নিহত আলমসাধু চালক ওহিদুর রহমানের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।ইখা
থাইল্যান্ডে রোবোটিক্স প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক জিতলেন চুয়াডাঙ্গার তরুণ বিজ্ঞানী জিহাদ
রোবোটিক্স প্রতিযোগিতায় একের পর এক আন্তর্জাতিক সাফল্যের মাধ্যমে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করে চলেছেন চুয়াডাঙ্গার দর্শনা এলাকার তরুণ বিজ্ঞানী মোহাম্মদ জাহিদ হাসান জিহাদ। সর্বশেষ থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক রোবোটিক্স প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক অর্জন করেছেন তিনি।গত ২৯ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতা ‘ওয়ার্ল্ড স্টেম ইনভেনশন ইনোভেশন ২০২৬’–এর আন্তর্জাতিক পর্বে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল স্বর্ণপদক অর্জন করে। এই দলের সদস্য হিসেবে রোবোটিক্স অ্যান্ড ড্রোন ক্যাটাগরিতে স্বর্ণপদক পান জিহাদ।বাংলাদেশ ইয়াং সায়েন্টিস্ট অ্যান্ড ইনোভেটরস সোসাইটি (বাইসিস)-এর নেতৃত্বে চুয়াডাঙ্গা সায়েন্স অ্যান্ড রোবোটিক্স ক্লাব এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। জিহাদ ওই ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা।বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় এক হাজার প্রতিযোগীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতাটি মালয়েশিয়া বুক অব রেকর্ডস কর্তৃক রেকর্ডসংখ্যক প্রতিযোগীর অংশগ্রহণে আয়োজিত আন্তর্জাতিক উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।এই বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে মালয়েশিয়া ইয়াং সায়েন্টিস্ট অর্গানাইজেশন (মাইসো)। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন থাইল্যান্ডে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার দাতুক ওয়ান জাইদি ওয়ান আব্দুল্লাহ এবং মাইসোর সভাপতি ড. রাজমি বিন আব্দু রাজ্জাক।বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিলেন বাইসিসের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর সাদেকুল ইসলাম ও ওমর মাররওয়ান।আন্তর্জাতিক এই সাফল্যে চুয়াডাঙ্গাসহ দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অঙ্গনে আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি ছড়িয়ে পড়েছে।ইখা
শার্শায় বিএনপির সহসভাপতির নেতৃত্বে ৬ জনের জামায়াতে যোগদান
আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যশোরের শার্শার রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে নতুন সমীকরণ। উপজেলার নিজামপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি জালাল উদ্দীনের নেতৃত্বে ৬ জন নেতাকর্মী আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকালে উপজেলার গোড়পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে নিজামপুর ইউনিয়ন জামায়াত আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় এই যোগদান অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।জামায়াতে যোগদানকারীদের মধ্যে রয়েছেন নিজামপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি জালাল উদ্দীনসহ ছয়জন নেতাকর্মী। জনসভায় তারা শার্শা আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা আজিজুর রহমানের হাতে ফুল দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দলে যোগ দেন।যোগদানের বিষয়ে শার্শা উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “জামায়াতে ইসলামীতে মানুষের আস্থা বাড়ছে। আগামী দিনে দেশ পরিচালনায় জামায়াত ভূমিকা রাখবে—এই বিশ্বাস থেকে বিভিন্ন দল ও মতের মানুষ আমাদের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন।”তবে এ বিষয়ে নিজামপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুস সালাম বলেন, “জালাল উদ্দীনকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে প্রায় ১৫ দিন আগে ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।”স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে এ ঘটনাকে নির্বাচনের আগে শার্শা উপজেলার রাজনৈতিক পরিস্থিতির একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।ইখা
একই পদে একই কাজ, ভিন্ন নীতি কেন—ইবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন
প্রভাষক নিয়োগে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় বৈষম্য বাতিলের দাবিতে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা। আল কুরআন, আল হাদিস, আরবি সাহিত্য ও আল ফিকহ বিষয়ে প্রভাষক পদে আবেদনের ক্ষেত্রে আলাদা যোগ্যতা নির্ধারণকে বৈষম্যমূলক বলে অভিযোগ করেন তারা।মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন দাবি-সংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। এ সময় তারা ‘একই পদ একই কাজ, ভিন্ন নীতি কেন আজ?’, ‘অনার্স দিয়ে বিসিএস হয়, প্রভাষক কেন নয়’, ‘একশন টু একশন, ডাইরেক্ট একশন’, ‘অনার্সে যোগ্যতা, তবুও কেন বঞ্চনা’ এবং ‘২৪-এর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই’—এমন নানা স্লোগান দেন।শিক্ষার্থীরা বলেন, সাম্প্রতিক প্রভাষক নিবন্ধন বিজ্ঞপ্তিতে মাদ্রাসা শিক্ষা ধারার কিছু বিষয়ে—আল হাদিস, আল কুরআন, আরবি সাহিত্য ও আল ফিকহ—আবেদনের জন্য মাস্টার্স ডিগ্রি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অথচ সমমনা অন্যান্য বিষয়ে অনার্স ডিগ্রিধারীরাই প্রভাষক পদের জন্য আবেদন করতে পারছেন। এতে করে মাদ্রাসা শিক্ষা ধারার শিক্ষার্থীরা বারবার বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশে বৈষম্য দূর হওয়ার যে প্রত্যাশা ছিল, বাস্তবে তা প্রতিফলিত হচ্ছে না। শিক্ষাগত যোগ্যতায় সমতা থাকা সত্ত্বেও শুধু বিভাগভিত্তিক ভিন্ন নীতি গ্রহণ গ্রহণযোগ্য নয়।এ সময় শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো—১) মাদ্রাসা শিক্ষায় আরবি প্রভাষক পদের ক্ষেত্রে মাস্টার্সের শর্ত বাতিল করে অনার্স ডিগ্রিকে যোগ্যতা হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। তা না হলে, যেসব বিষয়ে অনার্স ডিগ্রিধারীরা প্রভাষক পদের জন্য আবেদন করতে পারছেন, সেসব ক্ষেত্রেও মাস্টার্স বাধ্যতামূলক করতে হবে।২) কামিল পর্যায়ে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে। আগে যেখানে ৮০০ নম্বরের পরীক্ষা ছিল, বর্তমানে তা ১৭০০ নম্বরে উন্নীত হলেও শিক্ষক সংখ্যা কমানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা। বিষয় বাড়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সব ক্যাটাগরিতে শিক্ষক নিয়োগ বাড়ানোর দাবি জানান তারা।৩) অনার্স ডিগ্রিধারীদের সহকারী মৌলভী পদে বিএড ছাড়াই আবেদন করার সুযোগ দিতে হবে এবং পদটিকে দশম গ্রেডভুক্ত করতে হবে।শিক্ষার্থীরা জানান, দাবি আদায় না হলে তারা আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।ইখা
বেনাপোলে বাছুরসহ গরু জবাই: দুই কসাইকে জরিমানা
যশোরের বেনাপোলে বাছুরসহ গরু জবাইয়ের অভিযোগে অভিযান চালিয়ে দুই কসাইকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে পৌরসভা। একই সঙ্গে জব্দ করা মাংস বাজেয়াপ্ত করে পরবর্তীতে নষ্ট করা হয়।মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে বেনাপোল বাজারের মাংস পট্রিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে আলম কসাই ও মানিক কসাইকে একত্রে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।বিষয়টি নিশ্চিত করেন বেনাপোল পৌরসভার স্যানিটার ইন্সপেক্টর রাশেদা খাতুন। তিনি জানান, বাছুরসহ গরু জবাই আইনত দন্ডনীয় অপরাধ এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।তবে অভিযানের পরপরই ঘটনাটি নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এলাকাবাসীর একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন এই অপরাধের দায় এককভাবে কসাইদের নয়। তাদের অভিযোগ, পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত স্যানিটারি অফিসারের অনুমতি ও অবহেলার কারণেই এসব পশু জবাই করা হয়ে থাকে।স্থানীয়দের দাবি, প্রতিদিন টাকার বিনিময়ে অসুস্থ ও রুগ্ন গরু জবাইয়ের অনুমতি দেওয়া হয়। অথচ নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি পশু পরীক্ষা করে তবেই জবাইয়ের অনুমতি দেওয়ার দায়িত্ব স্যানিটারি অফিসারের। তারা জনস্বাস্থ্য রক্ষায় পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি ।অভিযোগকারীদের বক্তব্য, যদি সঠিকভাবে পশু পরীক্ষা করা হতো, তাহলে বাছুরসহ বা অসুস্থ গরু জবাইয়ের সুযোগই থাকত না। তাই এ ঘটনায় শুধু কসাই নয়, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট স্যানিটারি অফিসারের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।এ ব্যাপারে বেনাপোল পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও শার্শা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়াজ মাখদুম জানান, খবর পাওয়ার সাথে সাথে ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে দুই কসাইকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে আদায় করা হয়েছে। তাদেরকে শেষবারের মত সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ রকম কোন ঘটনা ঘটলে শুধু জরিমানা নয় জেলও দেয়া হবে এবং অভিযান অব্যাহত থাকবে।ইখা
মেঘনায় গাঁজাসহ প্রাইভেটকার জব্দ
কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় সেনাবাহিনীর চেকপোস্টে তল্লাশি চালিয়ে একটি প্রাইভেটকারসহ ৪২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের পাড়ারবন্দর এলাকায় এই অভিযান পরিচালিত হয়।জানা গেছে, হোমনা থানা এলাকা থেকে পুলিশ একটি সন্দেহভাজন গাড়ি ধাওয়া করলে সেটি মেঘনা উপজেলায় প্রবেশ করে। পাড়ারবন্দর এলাকায় সেনাবাহিনীর চেকপোস্ট দেখে গাড়িটি থামিয়ে চালক ও মাদক ব্যবসায়ী দ্রুত পালিয়ে যান। পরবর্তীতে সেনাবাহিনী গাড়িটিতে তল্লাশি চালিয়ে ৪২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করে। জব্দকৃত গাঁজা ও প্রাইভেটকারটি আইনি প্রক্রিয়ার জন্য হোমনা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।মেঘনা সেনাবাহিনী ক্যাম্প সূত্রে জানানো হয়েছে, “আমরা স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রোধে নিয়মিত চেকপোস্ট পরিচালনা করছি। এই রুটটি মাদক পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত হওয়ায় আমাদের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর এই অবস্থান কঠোর থাকবে।”এনআই
মেঘনায় ফিটনেসবিহীন মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান
কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় ফিটনেসবিহীন ও অবৈধ মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার মানিকারচর ও টিএনটি মোড় এলাকায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট অমৃতা শারলীন রাজ্জাক এ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে মেঘনা উপজেলা ক্যাম্পের সেনাবাহিনী সহায়তা প্রদান করে।অভিযান সূত্রে জানা যায়, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ৬৬ ও ৯২ ধারার অধীনে তিনটি মামলায় তিনজনকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বা বৈধ লাইসেন্স না থাকার অভিযোগ ছিল। মামলার শুনানি শেষে অভিযুক্তদের মোট ১,৪০০ টাকা জরিমানা করা হয়।অভিযান শেষে অমৃতা শারলীন রাজ্জাক বলেন, “সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের তৎপরতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। এ ছাড়া মানিকারচর বাজারে ফুটপাত দখল করে থাকা দোকানগুলো সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুনরায় কেউ ফুটপাতে দোকান রাখলে আইনানুগ ব্যবস্থা ও জরিমানা করা হবে।”এনআই
নির্বাচন মানে ক্ষমতার পালাবদল নয়, পরিবর্তনের রূপরেখা: চট্টগ্রামের ডিসি
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, "আগামী নির্বাচন মানে কেবল ক্ষমতার পালাবদল নয়, এটি হবে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের নতুন রূপরেখা। রক্তাক্ত বাংলাদেশকে কলঙ্কমুক্ত করতে আমাদের অতীতের গ্লানি মুছে একটি স্বচ্ছ নির্বাচন উপহার দিতে হবে। এমন একটি নির্বাচন হবে যার মাধ্যমে নাগরিক প্রত্যাশা পূরণ হবে; ব্যক্তি নয়, বরং বাংলাদেশ জিতবে।"তিনি আরও বলেন, "ভোটাররা ভোট দিয়ে হাসিমুখে বাড়ি ফিরবেন এবং এই নির্বাচন আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হবে।"বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চন্দনাইশ উপজেলা মিলনায়তনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তাদের সাথে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাজিব হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার নাজির আহমেদ খাঁন, লে. কর্নেল মাহমুদুল হাসান, আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা ফরিদা পারভীন সুলতানা এবং সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বশির আহমদ।এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মঈনউদ্দিন হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. শরীফ, সহকারী পুলিশ সুপার সোহানুর রহমান সোহাগ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঝন্টু বিকাশ চাকমা, চন্দনাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইলিয়াছ খান প্রমুখ।এনআই
এনসিটি ইজারা ইস্যুতে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে অচল চট্টগ্রাম বন্দর
নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) দুবাইভিত্তিক বহুজাতিক অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দর। ২৪ ঘণ্টার সর্বাত্মক কর্মবিরতি শেষে বুধবার সকাল থেকে আন্দোলন অনির্দিষ্টকালে রূপ নেওয়ায় বন্দরের সব ধরনের অপারেশন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে দেশের আমদানি–রপ্তানি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, তৈরি হয়েছে নজিরবিহীন বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সংকট।বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে বন্দরের জেটিতে কোনো ধরনের কন্টেইনার ওঠানামা হয়নি। গ্যান্ট্রি ক্রেন, রাবার টাইরড গ্যান্ট্রি ক্রেনসহ সব যন্ত্রপাতি বন্ধ রয়েছে। জাহাজ ভেড়ানো, পণ্য খালাস, রপ্তানি কন্টেইনার লোডিং, সব কার্যক্রম থমকে গেছে। জেটিতে জায়গা খালি থাকলেও শ্রমিক-কর্মচারীদের কর্মবিরতির কারণে নতুন কোনো জাহাজ ভিড়তে পারছে না।বন্দর সূত্রে জানা গেছে, কর্মবিরতির প্রভাবে বহির্নোঙরে অপেক্ষমাণ জাহাজের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৬টিতে। এই সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। দীর্ঘ সময় নোঙরে অপেক্ষা করায় প্রতিটি জাহাজকে বিপুল অঙ্কের ডেমারেজ চার্জ গুনতে হচ্ছে, যার বোঝা শেষ পর্যন্ত এসে পড়ছে আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকদের ওপর।শিপিং সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চট্টগ্রাম বন্দরের এই অচলাবস্থা আন্তর্জাতিক শিপিং লাইনের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। নির্ভরযোগ্য বন্দর হিসেবে দেশের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়ছে, যা ভবিষ্যতে ফ্রেইট চার্জ বৃদ্ধি ও রুট পরিবর্তনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।গত ২৪ ঘণ্টা ধরে পণ্য ডেলিভারি বন্ধ থাকায় বন্দর এলাকার ভেতরে ও বাইরে হাজার হাজার ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও কন্টেইনারবাহী যানবাহন আটকে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কর্তৃপক্ষ নতুন করে কোনো গাড়িকে বন্দরের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে না। ফলে চট্টগ্রাম নগরীর আশপাশের সড়কগুলোতেও ভয়াবহ যানজট সৃষ্টি হয়েছে।পরিবহন খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দিনের পর দিন গাড়ি আটকে থাকায় জ্বালানি, শ্রমিক মজুরি ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বেড়ে যাচ্ছে। এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে শেষ পর্যন্ত পণ্যের পরিবহন খরচ বাড়ানোর আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।এনসিটি ইস্যুতে শ্রমিক-কর্মচারীদের অসন্তোষ নতুন নয়। গত শনিবার থেকে তারা টানা তিন দিন প্রতিদিন আট ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করেন। এতে বন্দরের কার্যক্রম আংশিকভাবে ব্যাহত হলেও কর্তৃপক্ষ ও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না আসায় মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হয় ২৪ ঘণ্টার সর্বাত্মক কর্মবিরতি। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় বুধবার সকাল থেকেই আন্দোলন অনির্দিষ্টকালের কর্মসূচিতে রূপ নেয়।আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, এনসিটির মতো একটি কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল বিদেশি অপারেটরের হাতে তুলে দেওয়া হলে দেশের বন্দর ব্যবস্থাপনা, জাতীয় নিরাপত্তা এবং শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে।এই অচলাবস্থায় আমদানি পণ্য খালাস ও রপ্তানি পণ্য জাহাজীকরণের জন্য আসা হাজার হাজার ট্রাক বন্দরে আটকে রয়েছে। আমদানিকারকরা বলছেন, কন্টেইনার খালাসে দেরি হওয়ায় তাদের প্রতিদিন অতিরিক্ত স্টোর রেন্ট, ডেমারেজ ও নানা ধরনের মাশুল গুনতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে পণ্যের মূল্যই এই অতিরিক্ত খরচে বেড়ে যাচ্ছে।রপ্তানিকারকরা আরও গভীর সংকটে পড়েছেন। সময়মতো পণ্য পাঠাতে না পারায় বিদেশি ক্রেতাদের কাছ থেকে অর্ডার বাতিল, জরিমানা এবং দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক, চামড়া, হিমায়িত খাদ্য ও কৃষিপণ্য খাত সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।রমজান সামনে রেখে বন্দরে আটকে পড়েছে বিপুল পরিমাণ ভোগ্যপণ্যবাহী কন্টেইনার। ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, এই সংকট দীর্ঘ হলে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে মূল্যস্তরে। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যেতে পারে।চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম ঐক্য পরিষদের সমন্বয়করা দাবি করেছেন, শ্রমিক-কর্মচারীরা কোনো রাজনৈতিক নির্দেশনায় নয়, বরং নিজেদের অস্তিত্ব ও দেশের স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে স্বতঃস্ফূর্তভাবে আন্দোলনে নেমেছেন। তাদের অভিযোগ, ঢাকায় বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) কার্যালয়ে বন্দর কর্মকর্তাদের আটকে রেখে এনসিটি ইজারা চুক্তিতে সই করানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।নেতৃবৃন্দ স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, এনসিটি ইজারা দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত তারা ‘দেশবিরোধী’ হিসেবে দেখছেন এবং এই সিদ্ধান্ত বাতিল না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের আমদানি–রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ পরিচালনা করে। এই বন্দর দীর্ঘ সময় অচল থাকলে জাতীয় অর্থনীতি, বৈদেশিক বাণিজ্য, রাজস্ব আদায় এবং শিল্প উৎপাদনে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। দ্রুত রাজনৈতিক ও নীতিগত সমাধান না এলে সংকট আরও গভীর হবে বলে তারা সতর্ক করেছেন।পিএম
রামুতে বিএনপি নেতার মরদেহ উদ্ধার, তদন্তে পুলিশ
কক্সবাজারের রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নে নজরুল ইসলাম নামে এক বিএনপি নেতার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি ওই ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে উপজেলার একটি খামারবাড়ি থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার রাতে খামারের শ্রমিকদের খাবার পৌঁছে দিতে বাড়ি থেকে বের হন নজরুল ইসলাম। প্রায় এক ঘণ্টা পর খামারের শ্রমিকরা তাঁকে ভেতরে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।নিহতের ছোট ভাই সাইফুল ইসলাম বলেন, "আমার ভাইয়ের হাতে আঘাতের চিহ্ন ছিল।" এই আঘাতের কারণেই পরিবারের মধ্যে মৃত্যুর কারণ নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল শামসুদ্দিন আহমদ প্রিন্স।রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের আবেদন করা হয়েছিল। তবে শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকায় আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশ ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে।এ ঘটনায় এলাকায় নানা গুঞ্জন ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।এনআই
ভৈরবে ‘ঢাকা কাচ্চি ডাইন’কে ২০ হাজার টাকা জরিমানা
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণের অভিযোগে ‘ঢাকা কাচ্চি ডাইন’কে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫টায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ. কে. এম. আজিমুল হকের নেতৃত্বে এই অভিযান চালানো হয়।ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে ঢাকা কাচ্চি ডাইনে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বোরহানি তৈরি, অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি এবং ফ্রিজে রক্তমাখা মাংস সংরক্ষণের দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে তাদের সতর্ক করে দেওয়া হয়। অভিযানে ভৈরব থানা-পুলিশের একটি দল সহায়তা প্রদান করে।পরবর্তীতে পৌর শহরের অন্য একটি ‘কাচ্চি ডাইন’ আউটলেটে অভিযান চালানো হলেও সেখানে কোনো অনিয়ম পাওয়া যায়নি।এনআই
প্যারোলে মুক্তি মেলেনি ছেলের, বাবার মরদেহ নেয়া হলো কারাগারে
কারাগারের চার দেয়ালে বন্দি থেকেই কানে আসে বাবার মৃত্যুর খবর। ইচ্ছে ছিলো বাবার শেষ বিদায়ের আগে বাবার জানাজায় অংশ নেয়া। কিন্তু সে ইচ্ছে পূরণ হলো না ছেলে মিলন মিয়ার, প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হলেও বাবার জানাজায় অংশ নিতে মিলেনি মুক্তি। আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। এমন দৃশ্য দেখে হতবাক হয়ে পড়েন উপস্থিত অনেকে।বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। এ সময় জেলা কারাগারজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে।জানা যায়, কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার পানাউল্লারচর এলাকার বাসিন্দা মিলন মিয়া (৪৫)। রাজনৈতিক মামলায় আটক থাকা অবস্থায় মারা যান তার বাবা ফুল মিয়া। দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন তিনি। মঙ্গলবার দুপুরে ভৈরবের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বাবার জানাজায় অংশ নিতে প্যারোলে মুক্তির জন্য গতকালই আদালতে আবেদন করা হয়। কিন্তু আবেদন নামঞ্জুর হওয়ায় শেষ পর্যন্ত বুধবার সকালে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। মিলনের এক চাচাকে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও অন্য স্বজনরা পান সাধারণ সাক্ষাতের সুযোগ। বাবার মরদেহ ছেলেকে দেখাতে ৬০ কিলোমিটার দূর থেকে মরদেহ কারাগারে আনতে হয়েছে।আইনজীবী ও পরিবারের সদস্যরা জানান, বাবার জানাজায় অংশ নিতে গতকালেই জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসকের কাছে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হয়। তবে সেই আবেদন নামঞ্জুর করে মরদেহ কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। কারাগারের ভেতরে বাবার মরদেহ দেখে মিলন বারবার মরদেহের ওপর ঢলে পড়েন। ২০২৪ সালের ১৪ আগষ্ট একটি রাজনৈতিক মালায় মওিলন মিয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে আরও কয়েকটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।নিহতের চাচা মতিউর রহমান বলেন, ‘আমার ভাই মারা গেলে জেলখানায় থাকা ভাতিজাকে প্যারোলে মুক্তির জন্য আদালতে আবেদন করা হয়। কিন্তু আদালত জামিন না মঞ্জুর করায় আমার ভাইয়ের মরদেহ জেলখানায় আনা হয়।’এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার রিতেশ চাকমা বলেন, জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয় থেকে পাওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী কারাগারের গেটেই মরদেহ দেখার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।পিএম
ভৈরবে ট্রেনে কাটা পড়ে বৃদ্ধের মৃত্যু, দুই পা বিচ্ছিন্ন
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাতপরিচয় এক বৃদ্ধের (৭০) মরদেহ উদ্ধার করেছে ভৈরব রেলওয়ে থানা পুলিশ। বুধবার(৪ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৬টার দিকে ঢাকাগামী তিতাস কমিউটার ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ওই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়।ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনের পশ্চিম আউটার সিগন্যাল এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। রেলওয়ে পুলিশ জানায়, আজ সকালে রেললাইন পার হওয়ার সময় ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে তাঁর শরীর থেকে দুই পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে মরদেহটি থানায় নিয়ে আসে। নিহতের পরনে একটি বেগুনি রঙের গেঞ্জি ও চেক লুঙ্গি ছিল।ঘটনার পর জেলা পিবিআইকে খবর দেওয়া হলেও ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে তারা নিহতের পরিচয় শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়।ভৈরব রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইয়িদ আহম্মেদ বলেন, “ভোর ৬টার পর তিতাস কমিউটার ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাতনামা ওই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়। আমরা মরদেহ উদ্ধার করেছি। পিবিআই পরিচয় শনাক্তে ব্যর্থ হওয়ায় আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে তাঁর পরিচয় জানার চেষ্টা করছি।”এই ঘটনায় ভৈরব রেলওয়ে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। বর্তমানে নিহতের পরিচয় শনাক্তে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।এনআই
গজারিয়ার মেঘনা নদী থেকে অজ্ঞাতনামা নারীর মরদেহ উদ্ধার।
মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় মেঘনা নদী থেকে অজ্ঞাতনামা এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ-পুলিশ। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫টার দিকে ইউনিয়নের ছোট রায়পাড়া গ্রাম সংলগ্ন আব্দুল মোনায়েম অটো ব্রিকস এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।গজারিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শরজিৎ কুমার ঘোষ এ তথ্য জানান। তিনি আরও জানান, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে গজারিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল গজারিয়া থানাধীন বালুয়াকান্দি ইউনিয়নের ছোট রায়পাড়া গ্রামে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আব্দুল মোনায়েম অটো ব্রিকস সংলগ্ন মেঘনা নদীর তীরে মরদেহটি পানিতে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পান পুলিশ সদস্যরা। পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।প্রাথমিকভাবে মরদেহটি পরীক্ষা করে আনুমানিক ৩০ বছর বয়সী এক অজ্ঞাতনামা নারীর বলে ধারণা করা হচ্ছে। শরীরের কোথাও দৃশ্যমান আঘাত বা জখমের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ের লক্ষ্যে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সিগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।এনআই
নির্বাচনী উত্তাপে শরীয়তপুর: ঘাটি দখলে মরিয়া বিএনপি–জামায়াত জোট
তিন নদী-পদ্মা, কীর্তিনাশা ও মেঘনার বেষ্টনীতে গড়ে ওঠা ব-দ্বীপ জেলা শরীয়তপুরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ প্রতিদিনই নতুন মাত্রা পাচ্ছে। তফসিল ঘোষণার পর জেলার রাজনীতিতে নেমেছে প্রতিদ্বন্দ্বিতার নতুন স্রোত।ফরায়েজি আন্দোলনের পথিকৃৎ হাজী শরীয়তউল্লাহর নামানুসারে নামকরণ হওয়া শরীয়তপুর জেলায় তিনটি সংসদীয় আসন রয়েছে শরীয়তপুর-১ (পালং–জাজিরা), শরীয়তপুর-২ (নড়িয়া–সখিপুর) ও শরীয়তপুর-৩ (ডামুড্যা–ভেদরগঞ্জ–গোসাইরহাট)।জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় মোট ভোটার ১১ লাখ ৫০ হাজার ৬০০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৫ লাখ ৯৭ হাজার ৩৮০ জন, নারী ৫ লাখ ৫৩ হাজার ২০৬ জন এবং হিজড়া জনগোষ্ঠীর ভোটার ১৪ জন।নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরপরই তিনটি আসনেই রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়ে যায় বহুগুণ। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই বিএনপি ও জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটসহ বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা বাড়ি বাড়ি গণসংযোগ, লিফলেট বিতরণ, মোটর শোভাযাত্রা ও পথসভায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।সরেজমিনে দেখা যায় সদর, নড়িয়া, জাজিরা, ডামুড্যা, সখিপুর ও ভেদরগঞ্জ উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বাজার এলাকায় নিয়মিত সভা-সমাবেশে নির্বাচনী আবহ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে শরীয়তপুরের তিনটি আসনেই বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সরাসরি ও কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত শরীয়তপুরে জুলাই অভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর দলটির সাংগঠনিক তৎপরতা অনেকটাই স্তিমিত। মামলার চাপে শীর্ষ পর্যায়ের বহু নেতা এলাকা ছাড়লেও দলটির ঐতিহ্যবাহী ভোটব্যাংক নিজেদের দখলে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলো।এর প্রভাব পড়েছে নির্বাচনী মাঠে। বিভিন্ন এলাকায় প্রচার-প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও উত্তেজনার খবর মিলছে।এদিকে গত মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর বাজার এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে উভয় পক্ষের ছয়জন আহত হন। পরদিন বুধবার (২৮ জানুয়ারি) এ ঘটনায় দুই পক্ষ পৃথক দুটি মামলা দায়ের করে।শরীয়তপুর-১ (পালং–জাজিরা):সদর ও জাজিরা উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনটি ঐতিহাসিকভাবে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। স্বাধীনতার পর দুইবার স্বতন্ত্র প্রার্থী, একবার জাতীয় পার্টি এবং ২০০৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত টানা আওয়ামী লীগ এ আসনের প্রতিনিধিত্ব করলেও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনে দৃশ্যপট বদলেছে। বিএনপির প্রার্থী জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ আহমেদ আসলাম (ধানের শীষ) এবং জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় মহাসচিব মাওলানা জালালউদ্দিন আহমেদ (রিকশা)। এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৯৫ হাজার ৪৪৯ জন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রয়েছেন আটজন।শরীয়তপুর-২ (নড়িয়া–সখিপুর):স্বাধীনতার পর এ আসনটি আটবার আওয়ামী লীগের দখলে থাকলেও এবারের নির্বাচনে পালাবদলের ইঙ্গিত মিলছে। বিএনপির প্রার্থী জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান কিরণ এবং জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হোসেন ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন। নদীভাঙন প্রতিরোধ ও অবহেলিত এলাকার উন্নয়ন এখানকার ভোটারদের প্রধান দাবি। এ আসনে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১৫ হাজার ৫২ জন এবং প্রার্থী নয়জন।শরীয়তপুর-৩ (ডামুড্যা–গোসাইরহাট–ভেদরগঞ্জ):তিন উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন তারেক রহমানের সাবেক একান্ত সচিব মিয়া নুরুদ্দিন অপু। জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ আজহারুল ইসলাম। অতীতে আওয়ামী লীগের একচেটিয়া প্রভাব থাকলেও এবারের নির্বাচনে প্রতিযোগিতা বেশ জমে উঠেছে। এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৪০ হাজার ৯৯ জন। এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন চারজন প্রার্থী।শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও শরীয়তপুর-২ আসনের প্রার্থী শফিকুর রহমান কিরণ বলেন,গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য অনেক রক্ত ঝরেছে। কোনো সিদ্ধান্ত বা বিতর্ক যেন নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ না করে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। আমরা শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চাই।তিনি বলেন, মাঝে কোনো সমস্যা হলে আলোচনা করেই সমাধান সম্ভব। আমরা সবাই শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন করতে চাই।জামায়াত মনোনীত শরীয়তপুর ২ এর প্রার্থী অধ্যাপক মাহমুদ হোসেন বলেন, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের রাজনীতি থেকে মানুষ পরিবর্তন চায়। সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ থাকলে জনগণ আমাদের পক্ষেই রায় দেবে। প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ ও কঠোর ভূমিকা প্রত্যাশা করছি।সব মিলিয়ে শরীয়তপুরে নির্বাচনী পরিবেশ প্রাণবন্ত হলেও সাধারণ ভোটারদের প্রত্যাশা একটাই একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। ভোটারদের আশা, যেই বিজয়ী হোন না কেন, জেলার দীর্ঘদিনের সমস্যা নদীভাঙন, যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতা ও উন্নয়ন ঘাটতি নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেবেন। পদ্মা সেতু নির্মিত হলেও এসব সমস্যার কারণে এখনো কাঙ্ক্ষিত সুফল পাচ্ছেন না জেলার লাখো মানুষ।এসআর
জনগণের রায়ের ভিত্তিতে বাংলাদেশ চলবে : তারেক রহমান
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের রায়ের ভিত্তিতে বাংলাদেশ চলবে। কিন্তু একটি দল জাল ব্যালট পেপার ছাপাচ্ছে। নিরীহ মা-বোনদের থেকে বিকাশ নম্বর নিচ্ছে। যারা নির্বাচনের আগে প্রতারণা করছে, তারা কিভাবে সৎ মানুষের শাসন প্রতিষ্ঠা করবে।বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টায় বরিশাল নগরের ঐতিহাসিক বেলস পার্ক ময়দানে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় তারেক রহমান এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি ‘গুপ্ত’ দলের লোকেরা জালেম হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে বলে মন্তব্য করে বলেন, বর্তমানে দেশে নতুন জালেমের আবির্ভাব হয়েছে। বাংলাদেশে নারী পুরুষ মিলে মাঠে কাজ করে। নতুন জালেম যাদের মানুষ গুপ্ত হিসেবে চেনে সেই জালেমদের নেতা নারীদের নিয়ে কলঙ্কিত শব্দ ব্যবহার করেছেন। এরা ইসলামের রাজনীতি করে কিন্তু এরা নারীদের নিয়ে কিভাবে কলঙ্কিত শব্দ ব্যবহার করে। কানো রাজনৈতিক দলের নাম উল্লেখ না করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, দুঃখের বিষয় যারা জনগণের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, তাদের ভাষায় একটি রাজনৈতিক দল কথা বলছে। জনগণ সেই রাজনৈতিক দলটিকে গুপ্ত নামে চেনে।তিনি বলেন, জালেমদের নেতা প্রকাশ্যে বলেছেন, বাংলাদেশের নারীদের অত্যন্ত কলঙ্কিত শব্দ ব্যবহার করেছেন। যেই দলের দেশের মা-বোনদের প্রতি শ্রদ্ধা নেই, তাদের কষ্টের প্রতি সম্মান নেই, তাদের থেকে বাংলাদেশের অগ্রগতি আশা করা যায় না।তারেক রহমান বলেন, নারীদের পেছনে ফেলে, নারীদের ঘরে বন্ধ করে রেখে কোনোভাবে সামনে এগোনো যাবে না। দেশ গড়তে হলে নারী-পুরুষদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। তা না হলে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব না।তিনি বলেন, গুপ্ত সংগঠনের নেতারা ভুয়া সিল ছাপাচ্ছে, বিভিন্ন প্রেসে জাল ব্যালট পেপার ছাপাচ্ছে। নির্বাচনের আগেই যারা অনৈতিক কাজ করে ভোটকে প্রভাবিত করছে, তারা কী করে সৎ মানুষের শাসন কায়েম করবে? আইডি হ্যাকের নামে মিথ্যা কথা বলে যারা, তারা সৎ মানুষ হতে পারে না।তারেক রহমান আরও বলেন, ১৫ বছরের ভোটাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জনগণ নানা নিপীড়ন ও হত্যার শিকার হয়েছে। তিনি বলেন, “যারা দেশের মালিক মনে করতেন, তারা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। জনগণই এখন দেশের নিয়ন্ত্রক। ১২ ফেব্রুয়ারি মানুষ তাদের নির্বাচিত করবে যারা জনগণের ইচ্ছা অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করবে।”তিনি সতর্ক করে বলেন, ভোট গ্রহণের দিনে কেউ ষড়যন্ত্র করলে তা ব্যর্থ হবে। তিনি জুলাই আন্দোলনে শহীদদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে বলেন, “শহীদদের প্রত্যাশা অনুযায়ী দেশের গণতন্ত্র পুনর্গঠন ও উন্নয়নের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।”তিনি জনগণকে সচেতন ও সঠিক ভোট দেয়ার আহ্বান জানান। নারী ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে তিনি ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, নবীর স্ত্রী বিবি খাদিজা (রা:) একজন কর্মজীবী নারী ছিলেন। বদরের যুদ্ধে হযরত আয়েশা (রা:) সৈনিকদের সরঞ্জাম ও চিকিৎসা সেবা প্রদান করেছিলেন।তারেক রহমান বলেন, নারীদের ঘরে বন্দি রাখলে দেশ এগোবে না। বাংলাদেশের নারীদের শিক্ষা ও ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে তিনি বেগম খালেদা জিয়ার অবদান উল্লেখ করেন।বরিশালের কৃষি উৎপাদন বাড়াতে হিমাগার স্থাপন, কৃষি কার্ডের মাধ্যমে বীজ ও সার বিতরণ এবং ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফের প্রতিশ্রুতি দেন তারেক রহমান।তিনি বলেন, ভোলার গ্যাস ব্যবহার করে শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। তরুণদের প্রশিক্ষণ ও উদ্যোক্তা হিসেবে তৈরি করা হবে।তিনি গুপ্ত দলের উদ্দেশ্যে বলেন, ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে জনগণের পাশে থাকতে হবে। সতর্ক করে বলেন, নির্বাচনের আগে অনৈতিক কাজ করলে কেউ সৎ শাসন দিতে পারবে না। ভোট অধিকার হাইজ্যাক করতে দেয়া যাবে না।এ সময় তারেক রহমান ধানের শীষে ভোট প্রার্থনা করে বরিশাল বিভাগের ২১টি আসনের প্রার্থীদের পরিচয় করান। বলেন, “আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নজর রাখুন, ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে তারা আপনাদের দেখাশোনা করবে।” জনসভায় নেতাকর্মীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে। তার বক্তব্যে জনগণের ক্ষমতার গুরুত্ব ও দলের শক্তি স্পষ্ট হয়।দীর্ঘ দুই দশক পর বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দুপুর ১১টা ৫৫ মিনিটে হেলিকপ্টারযোগে বরিশাল স্টেডিয়ামের আউটার মাঠে অবতরণ করেন। হেলিকপ্টার থেকে নামার পর তারেক রহমানকে স্বাগত জানান বরিশাল বিভাগ ও জেলার শীর্ষ নেতারা।তারেক রহমানকে এক নজর দেখতে সকাল থেকেই বের্লেস পার্ক ও আশপাশের এলাকায় বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার লাখো নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ সেখানে উপস্থিত হন। স্বাগত জানান বরিশাল বিভাগের শীর্ষ নেতা-কর্মীরা। এরপর সেখান থেকে গাড়িতে করে দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে সভা মঞ্চে পৌঁছান তিনি।এসময় সড়কের দুই পাশ থেকে নেতাকর্মীরা তাকে নিয়া উচ্ছ্বাসিত হয়ে শ্লোগান দিতে থাকে। মঞ্চে উঠে তিনিও হাত নেড়ে জনসমাবেশে উপস্থিত লাখো নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের অভিবাদন গ্রহণ করেন। এর আগে বেলা ১১টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও দোয়া-মোনাজাতের মাধ্যমে জনসভার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লা আমান প্রথম বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন। বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক জনসভায় সভাপতিত্ব করেন। মহানগরের সদস্যসচিব জিয়াউদ্দিন সিকদার ও বরিশাল দক্ষিণ জেলার সদস্যসচিব আবুল কালাম শাহীন যৌথভাবে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দির আহমেদ বীর বিক্রম, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও বরিশাল সদর আসনের ধানের শীষের প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার, উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার, বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, বিভাগের ২১টি সংসদীয় আসনের বিএনপি ও জোট মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থীরা সহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।সর্বশেষ ২০০৬ সালে বরিশাল সফর করেছিলেন তারেক রহমান। তখন তিনি দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন। এবার তিনি চেয়ারম্যান হিসেবে বরিশাল আসায় দক্ষিণাঞ্চলে বিএনপির রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা ও আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে বলে দলীয় নেতারা মন্তব্য করেছেন। তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে প্রশাসনও নিরাপত্তা জোরদার করেছে। মাঠ ও আশপাশের এলাকায় পুলিশ, বিজিবি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কড়া নজরদারিতে রয়েছেন।ইখা
প্রকৃতি রক্ষায় আমতলীতে গাছে বসানো হচ্ছে পাখিদের ঘর
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও পাখিদের নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করতে বরগুনার আমতলীতে গাছের ডালে মাটির তৈরি কৃত্রিম বাসা স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন “আমরা আমতলীবাসী”।বুধবার (৪ জানুয়ারি) উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এ কর্মসূচি পালন করেন সংগঠনের সদস্যরা। তারা হাতে তৈরি মাটির বাসা গাছের ডালে স্থাপন করে পাখিদের বসবাসের উপযোগী পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করেন।সংগঠন সূত্রে জানা যায়, অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার এবং বড় গাছ কাটার কারণে দিন দিন পাখির সংখ্যা কমে যাচ্ছে। ফলে হারিয়ে যাচ্ছে পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এসব প্রাণী। পাখিদের ফিরিয়ে আনতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সুমাইয়া শিলা বলেন, “পাখিরা আমাদের প্রকৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের আবাসস্থল তৈরি করতেই আমরা কাজ করছি।”প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোঃ সাইদুর রহমান বলেন, “আমরা চাই নতুন প্রজন্ম পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে আসুক। গাছ কাটার ফলে পাখিরা আশ্রয় হারাচ্ছে। তাই কৃত্রিম বাসা তৈরি করে তাদের থাকার ব্যবস্থা করছি।”কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি রেজাউল করিম, দপ্তর সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা মারিয়া ইসলামসহ অন্যান্য সদস্যরা।উল্লেখ্য, ২০২২ সালে একঝাঁক তরুণদের নিয়ে “আমরা আমতলীবাসী” সংগঠনটি গঠিত হয়, যারা নিয়মিত সামাজিক ও পরিবেশবান্ধব কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।এসআর
কুয়াকাটায় ফ্রি হোটেল ম্যানেজমেন্ট ও ই-টিকেটিং কোর্সের শুভ উদ্বোধন
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় সম্পূর্ণ সরকারি খরচে তিন মাস মেয়াদি ফ্রি হোটেল ম্যানেজমেন্ট, ই-টিকেটিং ও রিজার্ভেশন কোর্সের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় কুয়াকাটা পৌরসভা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাউছার হামিদ।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. মোতালেব শরীফ। সঞ্চালনা করেন রুরাল ইনহ্যান্সমেন্ট অর্গানাইজেশন (রিও)-এর নির্বাহী পরিচালক মো. সাইদুর রহমান সাইদ।বিশেষ অতিথি ছিলেন, উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমি সুপারভাইজার মো. মনিরুজ্জামান খান, সিকদার রিসোর্টের জেনারেল ম্যানেজার মো. আনোয়ার-উল আজিম, হোটেল সী ক্রাউনের ম্যানেজার মো. আবুল কালাম, মহিপুর প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. হাবিবুল্লাহ খান রাব্বী, কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. হোসাইন আমীর। কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান প্রমুখ।পিএম
তালতলীতে ইয়াবাসহ আটক ২, ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা
বরগুনার তালতলী উপজেলার স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ইসহাক আকন ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য সহকারী আবুল কালামকে আটক করেছে নৌবাহিনী। পরে তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২০ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১ টার দিকে উপজেলা শহরের মালিপাড়া এলাকার একটি পরিত্যক্ত ভবন এর ৩য় তলায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন- ইসহাক আকন সবুজ (৪০) উপজেলার করাইবাড়িয়া ইউনিয়নের পশ্চিম ঝাড়াখালী এলাকার মো. শাহালী আকনের ছেলে। তিনি তালতলী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক। মো. আবুল কালাম (৩৯) উপজেলার শহরের মালিপাড়া এলাকার জালাল উদ্দিনের ছেলে। তিনি উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য সহকারী হিসেবে কর্মরত আছেন।নৌবাহিনী সূত্রে জানা যায়, নৌ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলা শহরের মালিপাড়া একটি পরিত্যক্ত ভবন এর ৩য় তলায় লেফটেন্যান্ট শাকিল মাহমুদ এর নেতৃত্বে একটি মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে মাদককারবারি ইসহাক আকন ও আবুল কালামকে আটক করে। অভিযানে তাদের কাছ থেকে মাদক সেবনের সরঞ্জামাদি, সীম কার্ড, মোবাইল ফোন, দেশীয় অস্ত্র ও আটককৃত ব্যক্তিদের দেহ তল্লাশি চালিয়ে ১ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে তালতলী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সেবক মন্ডল ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ মোতাবেক ২০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও একশত টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান বলেন, 'সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।'পিএম
তারেক রহমানের জনসভায় যোগ দিতে বরিশালের পথে ভোলার ২০ হাজার নেতাকর্মী
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপির) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জনসভায় যোগ দিতে সড়ক ও নৌপথে ভোলা থেকে প্রায় ২০ হাজার নেতাকর্মী বরিশালের উদ্দেশ্য রওয়ানা দিয়েছেন। প্রায় দুই দশক পর প্রিয় নেতাকে একনজর দেখতে তৃনমূল নেতাকর্মীদের যেন আগ্রহের শেষ নেই। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে ভোলার ভেদুরিয়া লঞ্চঘাট থেকে ৭টি লঞ্চ ও ৩টি ট্রলার যোগে কয়েক হাজার নেতাকর্মী বরিশালের উদ্দেশ্য রওয়ানা দিয়েছেন। এর আগে, মঙ্গলবার রাতে চরফ্যাশনের ঘোষেরহাট লঞ্চঘাট থেকে ২টি, লালমোহন থেকে ২টি, মনপুরা থেকে ১টি লঞ্চ যোগে কয়েক হাজার নেতাকর্মীসহ জেলার অন্যান্য উপজেলা থেকে নিজ উদ্যোগেও অনেককে বরিশাল যেতে দেখা গেছে। এছাড়াও একই দিন বরিশাল গেছেন ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম, ভোলা-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. হাফিজ ইব্রাহিম, ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন।সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. হেলাল উদ্দিন জানান, উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে বুধবার সকালে তারেক রহমানের জনসভায় যোগ দিতে ভেদুরিয়া লঞ্চঘাট থেকে ৭টি লঞ্চ ও ৩টি ট্রলার যোগে কয়েক হাজার নেতাকর্মী নিয়ে আমরা বরিশালের উদ্দেশ্য রওয়ানা দিয়েছি। একই লঞ্চে আবার ভোলায় ফিরবেন বলে জানান তিনি।জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুক কবির সোপান জানান, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জনসভা সফল করতে ভোলা থেকে দলে দলে নেতাকর্মীরা বরিশালের উদ্দেশ্য রওনা দিয়েছেন। ভোলা থেকে প্রায় ২০ হাজার নেতাকর্মী তারেক রহমানের সমাবেশে যোগ দিবেন। ব্যাক্তি উদ্যোগে ও দলীয়ভাবে নেতাকর্মীরা বরিশাল যাচ্ছেন।এসআর
অপহরণের নাটক সাজিয়ে মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা, যুবক আটক
নিজেই আত্মগোপনে থেকে অপহরণের নাটক সাজিয়ে পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা করার অভিযোগে আশরাফুল নামের এক যুবককে আটক করেছে মদন থানা–পুলিশ। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুর আনুমানিক একটার দিকে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করে তাঁকে আটক করা হয়।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আশরাফুল নিজেকে অপহরণ করা হয়েছে—এমন তথ্য পরিবারের সদস্যদের জানান। বিষয়টি বিশ্বাসযোগ্য মনে হওয়ায় পরিবারের পক্ষ থেকে মদন থানায় একটি অভিযোগ করা হয়। অভিযোগে অপহরণের আশঙ্কা ও মুক্তিপণের দাবির বিষয় উল্লেখ থাকায় পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে।তদন্তের একপর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ নিশ্চিত হয়, আশরাফুল প্রকৃতপক্ষে অপহৃত নন; তিনি নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন। পরে মঙ্গলবার দুপুরে মদন নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকার রায়হান নামের এক ব্যক্তির বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়।মদন থানার ওসি (তদন্ত) দেবাংশু দে বলেন, পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আশরাফুল স্বীকার করেছেন যে, তিনি নিজেই অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন এবং বাস্তবে কোথাও অপহৃত হননি। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ইখা
ত্রিশালে উন্নয়ন হবে দল–মত নির্বিশেষে, সবার জন্য দরজা খোলা: ডা. লিটন
বিগত সরকার জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে জনপ্রতিনিধি পরিবর্তনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ধ্বংস করে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন।বুধবার সকালে ত্রিশাল পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কেরানিবাড়ি মোড়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন বলেন, ‘সাধারণ মানুষের জন্যই আমাদের রাজনীতি। তাই জনগণের মন জয় করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। মানুষের দুঃখ-কষ্ট অনুধাবন করা আমাদের প্রধান দায়িত্ব।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিগত দিনে এলাকার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আগামী দিনে দল–মত নির্বিশেষে ত্রিশালের উন্নয়ন করা হবে। সাধারণ মানুষের সেবায় আমার দরজা সব সময় খোলা থাকবে।’বিএনপি নেতা রুবায়েত হোসেন শামীম মণ্ডলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ত্রিশাল পৌরসভার সাবেক মেয়র আমিনুল ইসলাম আমিন সরকার, উপজেলা যুবদলের অন্যতম নেতা মাজহারুল আলম জুয়েল মণ্ডল, উপজেলা শ্রমিক দলের সাবেক সভাপতি শফিকুল ইসলাম শোভা, মামুনুর রশিদ দীপক, মাসুদ আলম, আবুল কালাম আজাদ, আতাউর রহমান, সোহাগ ও রাজুসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতারা।সভায় বক্তারা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।ইখা
‘আগামী ভালুকা’র রূপরেখা দিলেন ডা. জাহিদুল ইসলাম
ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনে ১১ দলীয় জোট মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ডা. জাহিদুল ইসলাম তার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন।রবিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে ভালুকা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে জোটের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘আগামী ভালুকার ইশতেহার’ শীর্ষক এই ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে ১২ দফা অঙ্গীকারের মাধ্যমে একটি আধুনিক, উন্নত ও টেকসই ভালুকা গড়ার রূপরেখা তুলে ধরেন তিনি।শাপলা কুঁড়ি প্রতীকের প্রার্থী ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, তিনি নির্বাচিত হলে জনপ্রতিনিধি নয়, জনগণের কর্মচারী হিসেবে কাজ করতে চান। তার ভাষায়, ‘এই ইশতেহার কোনো অলীক স্বপ্ন নয়; এটি ভালুকার প্রতিটি মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার একটি বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ।’সংবাদ সম্মেলনে ভালুকার বর্তমান অবকাঠামোগত দুরবস্থার চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে ঘুরে সাধারণ মানুষের যে ভোগান্তি তিনি দেখেছেন, তা অত্যন্ত হতাশাজনক। পাশের উপজেলাগুলো যেখানে আধুনিক সড়ক ও অবকাঠামোতে এগিয়ে যাচ্ছে, সেখানে ভালুকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর অবস্থা এমন যে অনেক জায়গায় ধান চাষ করা যায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।তিনি আরও বলেন, স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে বারবার ভালুকার অভ্যন্তরীণ সড়কের খানাখন্দ ও ভেঙে পড়া ড্রেনেজ ব্যবস্থার খবর প্রকাশিত হলেও কার্যকর ও স্থায়ী সমাধান হয়নি। এ কারণে তার ইশতেহারে অবকাঠামো উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।ইশতেহারে ঘোষিত ১২ দফার মধ্যে রয়েছে—পরিবেশ সুরক্ষায় রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং ও বনায়ন, প্রতিটি ইউনিয়নে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন, ১০০ শয্যার আধুনিক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও মোবাইল ক্লিনিক চালু, দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়ন, নারী ক্ষমতায়নে আইটি ও ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ, স্মার্ট কৃষি ব্যবস্থা চালু, কোডিং ও ম্যাথ সলভিংসহ আধুনিক শিক্ষার প্রসার, মাতৃস্বাস্থ্যে ‘মমতা কেন্দ্র’ স্থাপন, পরিকল্পিত শিল্পায়ন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ও সড়ক উন্নয়ন, নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকরণ এবং মাসিক গণশুনানির মাধ্যমে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা।ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনের পর অনেক জনপ্রতিনিধিকে এলাকায় পাওয়া যায় না। তবে তিনি নির্বাচিত হলে প্রতি মাসে জনগণের কাছে তার কাজের হিসাব তুলে ধরবেন এবং জনগণের মতামতের ভিত্তিতেই এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় জোটের স্থানীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। শেষে তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং একটি সমৃদ্ধ, মানবিক ও উন্নত ভালুকা গড়তে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।ইখা
পাল্টাপাল্টি অভিযোগে উত্তপ্ত নেত্রকোনা-৩ আসনের নির্বাচনী মাঠ
প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে নেত্রকোনা-৩ (আটপাড়া–কেন্দুয়া) আসনের নির্বাচনী পরিবেশ। জেলার পাঁচটি আসনের মধ্যে এই আসনটিকেই সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ছয়জন প্রার্থী। আটপাড়া ও কেন্দুয়া উপজেলার ২০টি ইউনিয়নে গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে চলছে প্রচার-প্রচারণা। তবে শুরু থেকেই বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও সংঘর্ষের ঘটনায় নির্বাচনী সমীকরণ ভিন্ন দিকে মোড় নিচ্ছে।বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে লড়ছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম হিলালী। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সদ্য বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা, কেন্দুয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান মো. দেলায়ার হোসেন ভূঁইয়া দুলাল। তিনি ঘোড়া প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।নির্বাচনের শুরু থেকেই উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা, ভাঙচুর ও নির্বাচনী কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলছে। এক প্রার্থীর পূর্বনির্ধারিত সভা-মিছিলে অপর পক্ষের লোকজন ঢুকে পড়ার ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে উত্তেজনা।বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রফিকুল ইসলাম হিলালী বলেন, গত সতেরো বছর মানুষ তাদের ভোট দিতে পারেনি। এখন মানুষ বিএনপিকে ক্ষমতায় দেখতে চায়। ইতিমধ্যে আটপাড়া–কেন্দুয়ায় ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। জনগণের ভোটে এ আসনে ধানের শীষই বিজয়ী হবে।অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. দেলায়ার হোসেন ভূঁইয়া দুলাল বলেন, জনগণের কথা চিন্তা করেই তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। জনগণের রায় তাঁর পক্ষেই যাবে বলে তিনি আশাবাদী।এদিকে দাড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে নীরবে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক মো. খায়রুল কবীর নিয়োগী। তিনিও বিজয় নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. আবুল হোসেন তালুকদার (লাঙ্গল), ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মো. শামছুদ্দোহা (চেয়ার) এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জাকির হোসাইন সুলতান (হাতপাখা) নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন।পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, জেলার পাঁচটি আসনের মধ্যে নেত্রকোনা-৩ আসনে আলাদাভাবে বাড়তি নজরদারি রাখা হয়েছে।অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া উইং) হাফিজুল ইসলাম বলেন, যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সব পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।এই আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ২০ হাজার ৬৮৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১৪ হাজার ৮৮৪ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৫ হাজার ৭৯৪ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৯ জন। নতুন ভোটার রয়েছেন ২৭ হাজার ৪১০ জন। পোস্টাল ভোট রয়েছে ৪ হাজার ২০৯টি।নেত্রকোনা-৩ আসনে রয়েছে দুটি উপজেলা, একটি পৌরসভা ও ২০টি ইউনিয়ন। মোট ভোটকেন্দ্র ১৪৯টি এবং ভোটকক্ষ ৭৯৪টি (স্থায়ী ৭৩৪টি ও অস্থায়ী ৬০টি)।১৯৭৩ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির প্রতিনিধিরা এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন ইফতেখার উদ্দিন তালুকদার। প্রতিযোগিতাপূর্ণ এই আসনে শেষ পর্যন্ত কার হাতে বিজয়ের মুকুট উঠবে, তা জানতে অপেক্ষা ভোটের দিনের।ইখা
শেরপুর-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যু
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত গভীর রাতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ। এছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেয়া এক পোস্টে নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন নুরুজ্জামান বাদল। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। পরে সেখান থেকে দ্রুত ময়মনসিংহে নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।ময়মনসিংহ নেয়ার পথে রাত ২টার দিকে শহরের প্রবেশমুখ ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। পরিবারের পক্ষ থেকে মৃতের ভাই মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।এছাড়াও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেয়া একটি পোস্টে নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। পোস্টে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শেরপুর জেলা শাখার সম্মানিত সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ সংসদীয় আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল আনুমানিক আজ রাত ৩টায় কিডনিজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও সহকর্মীদের ধৈর্য ধারণের তৌফিক দান করুন।এবি
ধানের শীষে ভোট দিয়ে জনগণের সেবার সুযোগ দিন: ডা. জাহিদ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দিনাজপুর-৬ আসনে ধানের শীষে ভোট দিয়ে জনগণের পাশে থেকে সেবা করার সুযোগ চেয়েছেন বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন। সেই সঙ্গে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে গড়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-কে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে হাকিমপুর উপজেলার আলীহাট ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজনে বাওনা বাজারে নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এরপর তিনি ওই ইউনিয়নের মনশাপুর, হরিহরপুর ও সাদুড়িয়া বাজারেও নির্বাচনী পথসভায় বক্তব্য রাখেন।আলীহাট ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বুলবুল আহম্মেদের সভাপতিত্বে ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, “আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনার ভোট আপনার অধিকার। কোনো প্রলোভন বা প্রতারণায় কান না দিয়ে সকাল সকাল ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ধানের শীষে ভোট দেবেন। আপনাদের ভোটে বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করলে আমি আজীবন আপনাদের পাশে থেকে সেবা করার সুযোগ পাব, ইনশাআল্লাহ।”বিএনপির নির্বাচনি অঙ্গীকার তুলে ধরে তিনি বলেন, “বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমান ইতিমধ্যে ঘোষণা করেছেন—আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে। মা-বোনেরা পাবেন ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষকদের জন্য থাকবে বিশেষ কৃষি কার্ড। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষিপণ্য, রাসায়নিক সার ও সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। মনে রাখতে হবে, বিএনপি অগ্রগতি ও উন্নয়নের দল।”তিনি আরও বলেন, “হাকিমপুর-হিলি পোর্টসহ এই আসনের চার উপজেলার রাস্তাঘাট, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন করা হবে। যেহেতু এই এলাকা কৃষিপ্রধান, তাই কৃষকরা যাতে উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পান, সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে এবং এলাকার উন্নয়নে ধানের শীষে ভোট দিয়ে আমাকে জয়যুক্ত করুন।”পথসভায় উপস্থিত ছিলেন হাকিমপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. ফেরদৌস রহমান, সহ-সভাপতি মো. শাহিনুর ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. সাখাওয়াত হোসেন শিল্পী, যুগ্ম সম্পাদক এস এম রেজা বিপুল, ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. রেজাউল ইসলাম, পৌর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফরিদ খান, সাধারণ সম্পাদক মো. নাজমুল হোসেন প্রমুখ। এ ছাড়া উপজেলা যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, তাঁতি দল এবং আলীহাট ইউনিয়ন বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।এনআই
তিস্তা হবে উত্তর অঞ্চলের অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু: ডা. শফিকুর রহমান
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তিস্তা হবে উত্তর অঞ্চলের অর্থনীতির কেন্দ্র বিন্দু। তিস্তা এ অঞ্চলের অহংকার। কথা দিচ্ছি, তিস্তাকে আমরা জীবন দিব। যে কোনো কিছুর বিনিময় হলেও আমরা তিস্তা মহা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবো। আমরা বুড়িমারী স্থল বন্দরের উন্নয়ন করবো। সড়ক পথ ও রেল পথের উন্নয়ন করা হবে।বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় তিস্তা ব্যারেজ হেলিপ্যাড মাঠে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াত আমির এসব কথা বলেন।তিনি বলেন, উত্তর অঞ্চল অবহেলিত এ অঞ্চল থেকেই উন্নয়নের বীজ রোপন করা হবে। দীর্ঘদিন এ জাতিকে বিভক্ত করে একদল মতলবাজ ব্যবসা করেছেন, চাঁদাবাজী করেছেন। এটা আমরা বন্ধ করতে চাই। উত্তর অঞ্চলে কৃষি শিল্পের রাজধানী করা হবে।জামায়াতের আমারী আরো বলেন, একদল ভয়ে আছেন ভয়ের কোন কারণ নেই । আমরা ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করবো। আমরা সবাইকে নিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই। আমরা জীবন দিবো তবু আমার মা-বোনদের গায়ে হাত দিতে দিবো না। আমরা নারী জাতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করবো।জামায়াতের আমীর বলেন, কেউ কেউ প্রথমে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে ছিলেন না। পরে যখন দেখে অবস্থা খারাপ তখন হ্যাঁ ভোটের পক্ষে কথা বলছেন। আমরা বসন্তের কোকিল না। আমরা দেশে ছেড়ে পালিয়ে যাই না। আমরা দেশে আছি দেশেই থাকবো।দীর্ঘদিন রাষ্ট্র পরিচালনাকারী দল গুলোর সমালোচনা করে জামায়াতের আমীর বলেন, এ দেশের মানুষ তোমাদের অনেক দেখেছে এখন বিশ্রামে যাও । এবার আমাদের একটু সুযোগ দাও। আমরা বসন্তের কোকিল নয়। আমরা দেশের উন্নয়ন করবো।তিনি বলেন, ওরা রাজনীতির নামে দুর্নীতি করেছে। দুনীর্তি আর রাজনীতি এক সাথে চলে না। ওদের রাজনীতি করার অধিকার নেই। আমরা দুর্নীতি মুক্ত বাংলাদেশ করবো। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমি জামায়াতের বিজয় চাই না; আমি ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। আমি হ্যাঁ ভোটের বিজয় চাই। হ্যাঁ ভোটের বিজয় মানে জনতার বিজয়। এতে নতুন বাংলাদেশ পাবো। লালমনিরহাট জেলা জামায়াতের আমীর ও লালমনিরহাট-৩ আসনের প্রার্থী আবু তাহের-র সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন, ১১ দলীয় জোটের নেতারা। এর আগে জামায়াতের আমীর কুড়িগ্রাম থেকে তিস্তা ব্যারেজ হেলিপ্যাড মাঠে হেলিকপ্টারে আসেন।শফিকুর রহমান বলেন, মানুষ বাংলাদেশের পরিবর্তন চায়। এবারের নির্বাচন কোনো সাধারণ নির্বাচন না। এবার দুটি ভোট— একটি ‘হ্যাঁ’, ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি, ‘না’ মানে গোলামি। ‘হ্যাঁ’ ভোট মা-বোনদের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবে। আপনারা প্রথম ভোটটা ‘হ্যাঁ’তে দেবেন, দ্বিতীয়টা ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীকে দিয়ে ইনসাফ কায়েম করবেন।পিএম
দিনাজপুরে অস্ত্র-গুলি ও মাদক উদ্ধার
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুইটি বিদেশি ওয়ান শুটার গান, গুলি এবং বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (২৯ বিজিবি)।বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ২৯ বিজিবি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এ এম জাবের বিন জব্বার, পিএসসি।অভিযানের বিবরণ: বিজিবি জানায়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। গোপন সংবাদ ছিল যে, সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র ও মাদকের একটি বড় চালান বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে। এই তথ্যের ভিত্তিতে গত দুই-তিন সপ্তাহ ধরে বিশেষ টহল দল সক্রিয় ছিল।গত ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে মোহনপুর বিওপির আওতাধীন কোতয়ালী থানার শংকরপুর ইউনিয়নের গিলাবাড়ী এলাকায় ওত পেতে থাকে বিজিবির একটি দল। ৪ ফেব্রুয়ারি ভোর রাত আনুমানিক ৩টা ২৫ মিনিটে কয়েকজন চোরাকারবারিকে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢুকতে দেখে বিজিবি তাদের ঘেরাও করে। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা ছয়টি বস্তা ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।এনআই
মা-বোনদের সম্মান করা আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব: জামায়াত আমির
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা মায়েদেরকে কথা দিচ্ছি, আমাদের সবকিছুর বিনিময়ে আপনাদের চলাচলে শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। মা-বোনদের সম্মান করা আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।তিনি আরো বলেন, জামায়াতী ইসলামী এই যুগে সবচেয়ে বড় দল। কিন্তু আমরা কোনো দলীয় সরকার কায়েম করতে চাই না। আমরা কোনো পরিবার ও গোষ্ঠীতন্ত্র কায়েম করতে চাই না। আমরা বাংলাদেশ জামায়াতীর বিজয়ও চাই না। আমরা চাই ১৮ কোটি মানুষের বিজয়।তিনি বলেন, তিস্তা পাড় থেকে এই বিজয় শুরু হয়েছে। সারা বাংলায় এখন মুক্তির গণ জোয়ার শুরু হয়েছে। এতে দেশের মেয়েরাই আমাদের শক্তি জুগিয়েছিল।৪ দিন আগে আমার এক্স আইডি হ্যাক করে যাত্রা চালানো হয়েছে। আর একটি দল তাইরে নাইরে বলে ঝাঁপিয়ে পড়ছে। লজ্জা, ওদের চুনুপুটিসহ বড় বড় নেতারাও গান গাওয়া শুরু করলো। আমাদের সাইবার টিম তাদেরকে শক্তভাবে ধরে ফেলেছে। অভিযুক্তকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। সত্য ঢাকা থাকে না।তিনি বলেন, রংপুর অঞ্চলের আবু সাইদ বলেছিল ভেতরে তুমুল ঝড়, বুক পেতেছি গুলি কর। গুলি পিঠে নেয় নাই, তিন তিনটি গুলি বুকে নিয়েছিল। এটাই বীরত্বের পরিচয়। এখান থেকে জুলাই আন্দোলন জ্বলে উঠেছিল। আপনারা বড়ই সৌভাগ্যবান।আমরা আপনাদেরকে কথা দিচ্ছি, আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে আপসহীন যোদ্ধা হিসেবে আবরার ফাহাদ প্রথমে শাহাদৎ বরণ করেছিল। তার রাস্তা ধরে আবু সাইদের মৃত্যু। সেই রাস্তা ধরে তাদের সহযোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদি হয়েছেন। একে একে তারা ১৪শ জন শহীদ হয়েছে। এই ১৪শ বীরের লাশ এখন এই জাতির ঘাড়ে। এই ১৪শ জন বীরের রক্ত আমাদের নদীগুলো লাল করে দিয়েছে। আমরা এই বীরদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করবো না।তিনি বলেন, আমাদের নদীগুলোকে কঙ্কাল বানিয়ে হত্যা করা হয়েছে। সবগুলো চোর। নদী ভাঙনরোধের জন্য যতগুলো বাজেট হয়েছে সব তাদের পেটে গিয়েছে। এই চোরেরা টাকা চুরি করে বিদেশে পাচার করেছে ২৮ লক্ষ কোটি টাকা। আমরা যদি সুযোগ পাই তাহলে ওদের বুকের হাত ঢুকিয়ে সব বের করে আনা হবে। ক্ষমতায় গেলে দেশের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া জেলা কুড়িগ্রাম থেকে উন্নয়ন শুরু হবে।বুধবার দুপুর সাড়ে ১২ টায় কুড়িগ্রাম কলেজ মাঠে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এ সময় এনসিপি'র সদস্য সচিব আকতার হোসেন, জেলা জামায়াতের আমিরসহ ৪টি সংসদীয় আসনের প্রার্থীসহ কেন্দ্রীয় ও জেলা জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিল।এফএস
গাইবান্ধায় একই মঞ্চে জনতার মুখোমুখি চার এমপি প্রার্থী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনের চারজন সংসদ সদস্য প্রার্থী একই মঞ্চে উঠে স্থানীয় ভোটারদের মুখোমুখি হয়েছেন।বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) গাইবান্ধা জেলা কমিটির আয়োজনে শহরের পৌর পার্কে এই ব্যতিক্রমধর্মী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে অংশ নেন ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল মাজেদ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী মিহির ঘোষ, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের প্রার্থী আহসানুল হাবীব সাঈদ এবং জনতার দলের প্রার্থী শাহেদুর জাহান।অনুষ্ঠানে প্রার্থীরা গাইবান্ধা-২ আসনের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তারা অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন, নারীর ক্ষমতায়ন, মাদক নির্মূলসহ বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন।এ সময় ভোটাররাও জেনে-বুঝে সৎ ও যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনের অঙ্গীকার করেন। পরে উপস্থিত ভোটাররা এমপি প্রার্থীদের কাছে বিভিন্ন বিষয়ে সরাসরি প্রশ্ন করেন। প্রার্থীরাও তাৎক্ষণিকভাবে প্রশ্নগুলোর উত্তর দেন।এমন ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও আলোড়ন সৃষ্টি করে। অনুষ্ঠানে সুজনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার স্থানীয় ভোটাররা উপস্থিত ছিলেন।ইখা
শাহজাদপুরে বিল থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার গালা ইউনিয়নের ভেড়াকোলা বিলের মধ্য থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির (৪০) মরদেহ উদ্ধার করেছে থানা-পুলিশ। এ সময় মরদেহটি দেখতে শত শত উৎসুক মানুষ ভিড় করেন।বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার ভেড়াকোলা গ্রামের বড়বাড়ি নামক স্থানের একটি ডোবায় মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে শাহজাদপুর থানায় খবর দেওয়া হলে উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইমদাদুল হকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরবর্তীতে শাহজাদপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হাফিজুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, মরদেহটি আনুমানিক ৮-১০ দিন আগের হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, অন্য কোথাও থেকে এখানে মাছ ধরতে এসে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। নিহতের শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তাঁর পরনে হলুদ-সাদা রঙের গেঞ্জি ও লুঙ্গি ছিল।শাহজাদপুর থানার উপ-পরিদর্শক মো. ইমদাদুল হক বলেন, "খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। পানিতে নেমে মরদেহটি পর্যবেক্ষণ করে সতর্কতার সাথে উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক অবস্থায় শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি।"শাহজাদপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হাফিজুর রহমান জানান, অজ্ঞাত মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। পরিচয় শনাক্তের সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। আগামীকাল ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।এনআই
অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে চৌহালীতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন
যমুনা নদীর সরকারি জমিতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে সিরাজগঞ্জের চৌহালীতে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে চৌহালী উপজেলার আঞ্চলিক সড়ক ও ইউএনওর কার্যালয়ে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, চৌহালী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. জাহিদ মোল্লা, সাবেক সভাপতি ভিপি আনোয়ার হোসেন মোল্লা, সিরাজগঞ্জ জেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়ক মো. ইউনুস আলী সিকদার ও চৌহালী উপজেলা জামাতের আমির আবু সাইদ মো. ছালেহ্সহ অনেকেই। স্থানীয় বিক্ষোভকারীরা চৌহালী নৌ পুলিশ ফাঁড়ি আইসিসহ পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলে। চৌহালী নৌকাঘাটের মাঝি ও মুদিদোকানী মোশাররফ হোসেন বলেন চৌহালী নৌ পুলিশের কাজ কি? এদের কোন সহযোগিতা পাচ্ছিনা বরং তারা আমাদের সাথে দুর্ব্যবহার করছে। বিক্ষোভকারীরা দ্রুত অবৈধ বালুবন্ধে কার্যকর ভূমিকা চায় উপজেলা প্রশাসনের।এসব অভিযোগ অস্বীকার করে চৌহালী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির আইসি মো. ফিরোজ আহমেদ বলেন, যদি বৈধ বালু যমুনা নদী দিয়ে যায় আমরা কি করবো। আমরা আজ থেকে কঠোর হচ্ছি। এ বিষয়ে চৌহালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউএনও এইচ.এম খোদাদাদ হোসেন অবৈধ বালু বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। পিএম
পাবনা-৪ আসনে জামায়াত প্রার্থীর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী–আটঘরিয়া) আসনে জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দল সমর্থিত জোটের প্রার্থী অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডল তাঁর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন।বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে ঈশ্বরদী প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এই ইশতেহার ঘোষণা করা হয়। পাবনা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা জহুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডল নিজেই ইশতেহার পাঠ করেন।ইশতেহারে ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়ার অবকাঠামো ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে রেলগেটে আন্ডারপাস নির্মাণ, বিমানবন্দর চালু করা, শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে আটঘরিয়ায় আধুনিক কৃষি কলেজ ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট স্থাপন, ঈশ্বরদী–আটঘরিয়া সরকারি হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা।এ ছাড়া দুই উপজেলায় খেলাধুলার জন্য আধুনিক মানের স্টেডিয়াম ও মাঠ নির্মাণ, আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা চালু, শিল্প ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন, পদ্মা নদীর ভাঙন রোধে গাইড বাঁধ নির্মাণ, মাদক ও সন্ত্রাস দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। ইশতেহারে এসবসহ মোট ৪৮ দফা উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়।মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন জামায়াত প্রার্থী অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডল।পাবনা-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব গোলাম রাব্বানী জোবায়ের খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের আমির ড. নুরুজ্জামান প্রামাণিক, আটঘরিয়া উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির মাওলানা আমিরুল ইসলাম, ঈশ্বরদী পৌর জামায়াতের আমির গোলাম আজম খানসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।ইখা
নির্বাচনী আচরণবিধি উপেক্ষা, ধানের শীষের প্রচারণায় পাবিপ্রবি অধ্যাপক কামরুজ্জামান
নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে সরাসরি প্রচারণায় অংশ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে।মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পাবনা-৫ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের নির্বাচনী গণসংযোগ কর্মসূচিতে পাবিপ্রবি ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে লিফলেট হাতে স্লোগান দিচ্ছেন অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান।এ ঘটনায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পাবনার সচেতন নাগরিক সমাজের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি বেতনভুক্ত একজন শিক্ষক হয়ে প্রকাশ্যে কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেওয়াকে সংশ্লিষ্টরা ‘পেশাগত অসদাচরণ’ ও ‘নির্বাচনী আইন লঙ্ঘন’ হিসেবে দেখছেন।সংসদ নির্বাচন আচরণবিধিমালা অনুযায়ী, সরকারি, আধা-সরকারি কিংবা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী কোনো প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারেন না। আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি প্রার্থীর বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।এ ছাড়া গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২-এর ৮৬ ধারায় বলা হয়েছে, সরকারি কর্মে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি তাঁর পদ বা প্রভাব ব্যবহার করে বা সরাসরি প্রচারণায় অংশ নিয়ে নির্বাচনী ফলাফল প্রভাবিত করতে পারবেন না। এ অপরাধের জন্য এক থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরির শর্তাবলীর ৪৭ (৫) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তা রাজনৈতিক মতামত পোষণের স্বাধীনতা ভোগ করবেন; তবে সেই মতামত প্রকাশ বা প্রচার করতে পারবেন না এবং কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে পারবেন না।এ বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান বলেন, ‘আচরণবিধি সম্পর্কে বিষয়টি সেভাবে আমার জানা ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন সম্পর্কে জানতে চেয়েও আমি কোনো স্পষ্ট উত্তর পাইনি।’বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বিজন কুমার ব্রহ্ম বলেন, ‘শিক্ষকদের বিষয়ে অনেক দিক বিবেচনা করতে হয়। বিষয়টি এখনো আমার নজরে আসেনি এবং এ নিয়ে কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগও করেনি। অভিযোগ পেলে এবং তা সত্য প্রমাণিত হলে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।’ইখা
নওগাঁয় জামায়াত–বিএনপির সংঘর্ষ: দোষারোপ করে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন
নওগাঁয় জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করেছে উভয় দল। সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার জন্য একে অপরকে দায়ী করেছেন বিএনপি ও জামায়াতের নেতারা।বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় নওগাঁ জেলা বিএনপির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন জেলা বিএনপির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নু। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনী প্রচারণাকালে জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে জনসভা শেষে প্রকাশ্যে খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন করেন। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন যুবক বিষয়টি ভিডিও ধারণ করতে গেলে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা তাঁদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নেন এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে গেলে গ্রামবাসী ও স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে জামায়াতের নেতা-কর্মীদের কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা গ্রামবাসী ও বিএনপি নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নিলে বিএনপি ও ছাত্রদলের অন্তত পাঁচজন নেতা-কর্মী গুরুতর আহত হন।আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নু আরও বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা আড়াল করতেই নিরীহ মানুষ ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে জামায়াতে ইসলাম পরিকল্পিতভাবে মিথ্যাচার করছে এবং সংঘর্ষের ঘটনাকে হামলা হিসেবে উপস্থাপন করে ভোটারদের সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করছে।তিনি ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করে হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি আহতদের উন্নত চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। জামায়াতের প্রার্থী সংবাদ সম্মেলনে নওগাঁয় জামায়াত আমিরের সমাবেশ পণ্ড করার জন্য হুমকি ও চাপ সৃষ্টির যে অভিযোগ এনেছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও দাবি করেন তিনি।অন্যদিকে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে শহরের দয়ালের মোড়ে পৌর জামায়াত কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আ স ম সায়েম। তিনি অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার দুপুরে গণসংযোগ শেষে গোপাই মাখনা গ্রামে এক কর্মীর বাড়িতে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন তিনি। হঠাৎ বেলা তিনটার দিকে সেখানে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু হয়।আ স ম সায়েম বলেন, কয়েকজন ব্যক্তি জোরপূর্বক তিনি যে বাড়িতে ছিলেন, সেখানে ঢোকার চেষ্টা করেন এবং ছবি তুলতে থাকেন। তাঁর কর্মীরা বাধা দিলে তারা নিজেদের জামায়াতের কর্মী পরিচয় দেন। তবে স্থানীয়রা জানান, ওই ব্যক্তিদের আগে কখনো জামায়াতের কোনো কর্মসূচিতে দেখা যায়নি। এরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে সংঘর্ষ শুরু হয়।তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সদর মডেল থানা ও ভীমপুর পুলিশ ফাঁড়িকে জানানো হলেও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে প্রায় এক ঘণ্টা সময় নেয়। পুলিশের সঙ্গে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও স্থানীয় সন্ত্রাসীরা ছিলেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, পুলিশের সামনে বিএনপির কর্মীরা লোহার পাইপ দিয়ে জামায়াতের কর্মীদের ওপর হামলা চালালেও পুলিশ তখন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে।সংবাদ সম্মেলনে আ স ম সায়েম অভিযোগ করেন, মুস্তাফিজ নামের তাঁদের এক কর্মীকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় আঘাত করা হয়েছে। এতে তাঁর কানের পর্দা ফেটে গেছে এবং বর্তমানে তিনি হাসপাতালে ভর্তি আছেন।জামায়াত প্রার্থী বলেন, জামায়াতে ইসলামীর ভাবমূর্তি ও জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে প্রতিপক্ষ পরিকল্পিতভাবে শান্তিপূর্ণ নওগাঁকে অশান্ত করার চেষ্টা করছে। তিনি দাবি করেন, তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছে। আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি জামায়াতের আমিরের নওগাঁ সফর ও সমাবেশ ব্যাহত করতেই এই সংঘর্ষ ঘটানো হয়েছে।উল্লেখ্য, মঙ্গলবার বিকেলে সদর উপজেলার হাঁসাইগাড়ী ইউনিয়নের মাখনা কোমলগোটা গ্রামে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।ইখা
গোলাপগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় যুবক নিহত
সিলেটের গোলাপগঞ্জে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকের নিচে পিষ্ট হয়ে শানাজ আহমদ (২৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে গোলাপগঞ্জ সরকারি এমসি একাডেমির সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত শানাজ বিশ্বনাথ উপজেলার শ্রীপুর রামপাশা গ্রামের মখন মিয়ার ছেলে। তিনি সিলেট নগরীর একটি পোল্ট্রি ফার্মের গাড়িচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সিলেট থেকে সহকর্মীদের সঙ্গে এক বিয়ের দাওয়াত খেতে গোলাপগঞ্জ পৌর এলাকার ফুলবাড়ি পূর্বপাড়া গ্রামে এসেছিলেন শানাজ। দাওয়াত খেয়ে অন্য একজনের মোটরসাইকেল নিয়ে তিনি গোলাপগঞ্জ পৌর শহরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে সরকারি এমসি একাডেমির সামনে পৌঁছালে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডিভাইডারের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এ সময় তিনি মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে ডিভাইডারের অপর প্রান্তে গিয়ে পড়েন। ঠিক সেই মুহূর্তে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের (ঢাকা মেট্রো-ট-১৮২৮৬৯) চাকার নিচে তিনি পিষ্ট হন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।খবর পেয়ে গোলাপগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল শেষে মরদেহ থানায় নিয়ে যান।গোলাপগঞ্জ মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অনুপম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।এনআই
সুনামগঞ্জ ২: জামায়াত প্রার্থী নির্বাচনী প্রচারের গাড়ি ভাঙচুর, আহত ২
সুনামগঞ্জ ২ (দিরাই শাল্লা) আসনের জামায়াত ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী শিশির মনিরের নির্বাচনী প্রচারের গাড়ি ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা।হামলায় প্রচার গাড়িতে থাকা ২ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাতে দিরাইয়ের তাড়ল এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।স্থানীয় এলাকাবাসী ও দিরাই থানা পুলিশ জানায়, প্রতিদিনের মত সুনামগঞ্জ ২ আসনের জামায়াতের প্রার্থী শিশির মনিরের নির্বাচনী প্রচারণা শেষে তার প্রচারের গাড়িটি দিরাইয়ের তাড়ল এলাকায় আসা মাত্র দুটি মোটরসাইকেল হেলমেট পরিহিত অবস্থায় এসে শিশির মনিরের নির্বাচনী প্রচারের গাড়ি ভাঙচুর করে।দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক বলেন, দিনব্যাপী নির্বাচনী প্রচারণা শেষে যখন জামায়াত প্রার্থীর নির্বাচনী গাড়িটি দিরাইয়ের তাড়ল এলাকায় আসে তখন দুর্বৃত্তরা তার গাড়ি ভাঙচুর করে।তিনি আরও জানান, সেই দুজনের হেলমেট পড়া থাকায় তাদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশ চেষ্টা করছে আসামিদের ধরতে কিংবা চিহ্নিত করতে।সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) রাকিবুল হাসান রাসেল বলেন, হামলার ঘটনার বিষয়ে খুঁজ নেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।এসআর
সুনামগঞ্জ ২: জামায়াত প্রার্থী নির্বাচনী প্রচারের গাড়ি ভাঙচুর, আহত ২
সুনামগঞ্জ ২ (দিরাই শাল্লা) আসনের জামায়াত ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী শিশির মনিরের নির্বাচনী প্রচারের গাড়ি ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা।হামলায় প্রচার গাড়িতে থাকা ২ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাতে দিরাইয়ের তাড়ল এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।স্থানীয় এলাকাবাসী ও দিরাই থানা পুলিশ জানায়, প্রতিদিনের মত সুনামগঞ্জ ২ আসনের জামায়াতের প্রার্থী শিশির মনিরের নির্বাচনী প্রচারণা শেষে তার প্রচারের গাড়িটি দিরাইয়ের তাড়ল এলাকায় আসা মাত্র দুটি মোটরসাইকেল হেলমেট পরিহিত অবস্থায় এসে শিশির মনিরের নির্বাচনী প্রচারের গাড়ি ভাঙচুর করে।দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক বলেন, দিনব্যাপী নির্বাচনী প্রচারণা শেষে যখন জামায়াত প্রার্থীর নির্বাচনী গাড়িটি দিরাইয়ের তাড়ল এলাকায় আসে তখন দুর্বৃত্তরা তার গাড়ি ভাঙচুর করে।তিনি আরও জানান, সেই দুজনের হেলমেট পড়া থাকায় তাদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশ চেষ্টা করছে আসামিদের ধরতে কিংবা চিহ্নিত করতে।সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) রাকিবুল হাসান রাসেল বলেন, হামলার ঘটনার বিষয়ে খুঁজ নেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।এসআর
টানা ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
ট্রান্সফরমার মেরামত, সঞ্চালন লাইন উন্নয়ন কাজের জন্য আজ সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকাল থেকে সিলেট নগরীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় টানা ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। গতকাল রবিবার (২৫ জানুয়ারি) সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-৩ এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সোমবার সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৩৩ কেভি গোটাটিকর ও জগন্নাথপুর এবং ১১ কেভি বরইকান্দি, স্টেশন, কদমতলী, শিববাড়ী, লালাবাজার, কামারবাজার ও মাসুকগঞ্জ ফিডারের আওতাধীন নগরীর অন্তত ৬২টি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকা এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে বরইকান্দি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, সুনামপুর, কামুসনা, ধরাধরপুর, পুরান তেতলী, টেকনিক্যাল রোড, খোজারখলা, বাবনা পয়েন্ট, পুলেরমুখ, ঝালপাড়া, চাঁদনীঘাট, কদমতলী, রেলওয়ে স্টেশন, বঙ্গবীর রোড, মোমিনখলা, বারখলা, গালিমপুর, মুন্সিবাজার, আলমনগর, পিঠাকরা, ফরহাদপুর, গাঙপাড়, বনগাঁও, কামালবাজার, পুরানগাঁও, ছোট দিঘলী, বাইপাস রোড, মাসুক বাজার, তাজপুর, মিরেরগাঁও, গুপ্তেরগাঁওসহ আশপাশের এলাকা।তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ হলে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। সাময়িক এ ভোগান্তির জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-৩ এর কর্তৃপক্ষ।এইচএ
সুনামগঞ্জে আড়াই শতাধিক ভারতীয় শটগানের গুলিসহ যুবক আটক
সুনামগঞ্জে আড়াই শতাধিক ভারতীয় শটগানের গুলিসহ এক যুবককে আটক করেছে র্যাব। রবিবার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে জেলার সদর উপজেলার আব্দুজ জহুর সেতু এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।র্যাব সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯-এর একটি দল ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় একটি ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে সন্দেহভাজন এক যুবককে আটক করা হয়। পরে তার সাথে থাকা একটি ব্যাগ তল্লাশি করে ভারত থেকে আনা শটগানের সিসার গুলির ৬টি প্যাকেট জব্দ করা হয়। প্রতিটি প্যাকেট কসটেপ দিয়ে মোড়ানো ছিল এবং প্রতিটিতে ১০টি করে সিসার গুলি পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে আড়াই শতাধিক সিসার গুলি জব্দ করে র্যাব।বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন র্যাব-৯-এর এএসপি মো. আব্দুল্লাহ আল নোমান (বা সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা)। তিনি জানান, আটককৃত যুবক বর্তমানে র্যাব হেফাজতে রয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাব সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলেও তিনি জানান।এনআই
অনলাইন ভোট
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনের দিন গণভোট আয়োজন করা হবে। আপনি কি এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?
আন্তর্জাতিক
সব দেখুন
নারীদের মোটরসাইকেল চালানোর অনুমতি দিলো ইরান
ইরানে নারীরা এখন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মোটরসাইকেল চালানোর জন্য লাইসেন্স নিতে পারবেন। দেশটির সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে বুধবার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এর মধ্য দিয়ে দেশটিতে দুই চাকার যান চালানো নিয়ে দীর্ঘদিনের আইনি অস্পষ্টতার অবসান ঘটেছে।এর আগে, দেশটির আইনে নারীদের মোটরসাইকেল কিংবা স্কুটার চালানো স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ ছিল না। তবে নারীদের লাইসেন্স দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছিল কর্তৃপক্ষ। এই আইনি অস্পষ্টতার কারণে দুর্ঘটনার শিকার হলেও অনেক সময় নারীদেরই দায়ী করা হতো।ইরানের ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফ মঙ্গলবার নারীদের লাইসেন্স প্রদান সংক্রান্ত এক প্রস্তাবে সই করেন। দেশটির বার্তা সংস্থা ইলনা বলেছে, সড়ক আইন স্পষ্ট করার লক্ষ্যে ওই প্রস্তাব আনা হয়। গত জানুয়ারির শেষের দিকে ইরানের মন্ত্রিসভায় প্রস্তাবটি অনুমোদন পায়। ইলনা বলেছে, প্রস্তাব অনুযায়ী ট্রাফিক পুলিশকে নারী আবেদনকারীদের জন্য ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি পুলিশের সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরীক্ষা গ্রহণ এবং নারীদের মোটরসাইকেল চালানোর লাইসেন্স দিতে হবে।ক্ষমতাসীন সরকার-বিরোধী বিক্ষোভে ইরানে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা ভয়াবহ অস্থিতিশীলতার মাঝে কর্তৃপক্ষ নারীদের মোটরসাইকেল চালানোর লাইসেন্স দেওয়ার ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত ডিসেম্বরের শেষের দিকে অর্থনৈতিক দুর্দশা থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেওয়ায় কঠোর অভিযান চালিয়ে দমন করা হয়। বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংসতার অভিযোগে ইরানের সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ নিয়ে দুই দেশের মাঝে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে; ইরানের আশপাশে বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন রেখেছে ওয়াশিংটন। তেহরান স্বীকার করেছে, সাম্প্রতিক বিক্ষোভ-সহিংসতায় ৩ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। নিহতদের বেশির ভাগই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও পথচারী বলে দাবে করেছে ইরানের সরকার।১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে ইরানে নারীরা বিভিন্ন ধরনের সামাজিক বিধিনিষেধের মুখে পড়েন। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালানোর ক্ষেত্রে পোশাকবিধি তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।জনসমক্ষে নারীদের স্কার্ফ পরিধান ও শালীন এবং ঢিলেঢালা পোশাক পরতে হয়। তবে গত কয়েক বছরে অনেক নারী এসব বিধি অমান্য করছেন। গত কয়েক মাসে মোটরসাইকেলে নারীদের চলাচল ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২২ সালে দেশটির নৈতিকতা পুলিশের হেফাজতে মাহসা আমিনি নামের এক তরুণীর মৃত্যুর পর এই প্রবণতা আরও তীব্র হয়। পোশাকবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক ওই তরুণীর মৃত্যুর ঘটনায় সেই সময় দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।তার মৃত্যুর পর ইরানজুড়ে নারীদের নেতৃত্বে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখা দেয়; যেখানে তারা আরও বেশি স্বাধীনতার দাবি জানান।সূত্র: এএফপিএবি
‘সরি, পাপা’ লিখে ৩ বোনের লাফিয়ে পড়ে মৃত্যু, তদন্তে প্রকাশ পেল যা
বহুতল ভবনের বারান্দা থেকে লাফিয়ে পড়ে তিন বোনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় প্রাথমিক তদন্ত প্রকাশ করা হয়েছে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ভোররাতে ভারতের উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে একটি আবাসিক ভবনে ঘটনাটি ঘটে। নিহত তিন বোনের বয়স ১২, ১৪ ও ১৬ বছর। পুলিশ জানায়, তারা একটি হাতে লেখা নোট রেখে গেছে, যেখানে লেখা ছিল-‘সরি, পাপা’।প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না দেয়ার মতো তুচ্ছ পারিবারিক বিরোধের পর তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। পুলিশ একটি ডায়েরি ও আট পৃষ্ঠার নোট উদ্ধার করেছে, যেখানে তাদের দৈনন্দিন অভ্যাস ও মানসিক অবস্থার কথা লেখা ছিল।পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তিন বোনই কোরিয়ান সংস্কৃতি ও কেপপ সংগীতের প্রতি অতিমাত্রায় আসক্ত ছিল। কোভিড-১৯ মহামারির সময় থেকে তাদের মোবাইল ব্যবহার বেড়ে যায় এবং ধীরে ধীরে তারা স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয়।হৃদয়বিদারক এই ঘটনার পর এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। পরিবার ও প্রতিবেশীরা গভীরভাবে শোকাহত। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে এবং শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে পরিবার ও সমাজকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।যদি কেউ মানসিক সংকটে থাকেন বা এমন কাউকে চেনেন, তাহলে কাছাকাছি যেকোনো মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বা সহায়তা কেন্দ্রে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।এবি
ভারতীয় পার্লামেন্টে তুলকালাম, মোদিকে ঘিরে ধরে হট্টগোল
ভারতের সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভায় বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের হট্টগোল আর বিক্ষোভের কারণে ভাষণ দিতে পারেননি দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলের দিকে লোকসভায় রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর নরেন্দ্র মোদির ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তৃতা দেওয়ার থাকলেও বিরোধীদের হট্টগোলে তা আর হয়নি।দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, রাষ্ট্রপতির ভাষণের পর ‘ধন্যবাদ প্রস্তাব’ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভাষণ বাতিল করা হয়েছে। এই ঘটনায় লোকসভায় যে হট্টগোল তৈরি হয়, তার সূচনা হয়েছিল বুধবার সকাল থেকেই। বিরোধীরা শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক অবস্থানে ছিলেন। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে সাবেক সেনাপ্রধান এম এম নারাভানের অপ্রকাশিত স্মৃতিকথা থেকে উদ্ধৃতি দেওয়ার অনুমতি না দেওয়ায় প্রতিবাদ জানান বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা।দিনভর একাধিকবার লোকসভার অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করা হয়। বিকেল ৫টায় অধিবেশন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রধানমন্ত্রী মোদির বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার কিছুক্ষণ আগে বিরোধী দলের কয়েকজন নারী সাংসদ ক্ষমতাসীন দলের নির্ধারিত সব আসনের সামনে দাঁড়িয়ে চেয়ার আটকে দেন। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আসনও ছিল। বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের মধ্যে বর্ষা গায়কোয়াড় ও জ্যোতিমণিও ছিলেন।তারা ‘সঠিক কাজ করো’ লেখা একটি বড় ব্যানার হাতে ধরে বিক্ষোভ করেন। মঙ্গলবার লোকসভার বিরোধী দলীয় আট সংসদ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করার প্রতিবাদে ওই কর্মসূচি পালন করেন বিক্ষোভকারীরা।বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের হট্টগোলের মাঝে স্পিকারের দায়িত্বে থাকা সন্ধ্যা রায় অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করেন। এ সময় কয়েকজন মন্ত্রী তাদের আসন ছেড়ে যেতে অনুরোধ জানানোর পর নারী সংসদ সদস্যরা অবরোধ তুলে নেন।পরে বিজেপি নেতা মনোজ তিওয়ারি জানান, ওই নারী সংসদ সদস্যরা প্রধানমন্ত্রী মোদিকে আক্রমণ করার উদ্দেশ্যেই হট্টগোল করেছেন। তিনি বলেন, যা ঘটেছে তা অত্যন্ত ভীতিকর। এতে কংগ্রেসের হতাশার মাত্রাই প্রকাশ পেয়েছে। নারী সাংসদরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে প্রধানমন্ত্রীর আসনের চারপাশে অবস্থান নিয়েছিলেন। কিরেন রিজিজুর দ্রুত সিদ্ধান্তের কারণেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।দুপুরে অধিবেশন পুনরায় শুরু হলে ২০২০ সালে চীনের সঙ্গে সংঘাতের বিষয়টি নিয়ে বিরোধী সদস্যরা স্লোগান দিতে থাকেন। হট্টগোলের মাঝেই আবারও অধিবেশন মুলতবি এবং প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ বাতিল করা হয়। শেষ পর্যন্ত লোকসভায় ‘ধন্যবাদ প্রস্তাব’ গৃহীত হয়নি। আগামীকাল পর্যন্ত অধিবেশন মুলতবি থাকায় আলোচনা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।এমআর-২
ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টা, অভিযুক্ত রায়ান রাউথের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টার মামলায় দোষী সাব্যস্ত রায়ান রাউথের বিরুদ্ধে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সাজা ঘোষণা করা হবে। প্রসিকিউটররা ফ্লোরিডার ফোর্ট পিয়ার্সে শুনানিতে বিচারক আইলিন ক্যাননকে ৫৯ বছর বয়সী রাউথের জন্য আজীবন কারাদণ্ড দেয়ার আবেদন জানিয়েছেন। খবর জিও নিউজের।রাউথ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে ট্রাম্পের গলফ কোর্সের ঝোপে লুকিয়ে থেকে তাকে গুলি করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। সিক্রেট সার্ভিস তাকে শনাক্ত করলে তিনি পালিয়ে যান, তবে পরে গ্রেপ্তার হন। ঘটনাস্থল থেকে স্বয়ংক্রিয় অ্যাসল্ট-স্টাইল রাইফেল উদ্ধার করা হয়।গত সেপ্টেম্বরে জুরি তাকে হত্যাচেষ্টাসহ পাঁচটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। তিনি নিজেই আদালতে নিজের পক্ষে মামলা লড়েন। প্রসিকিউটরদের মতে, রাউথ মাসের পর মাস হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন এবং এতে কোনো অনুশোচনা দেখাননি।অন্যদিকে রাউথ আদালতে দাবি করেছেন, তিনি ট্রাম্পকে হত্যা করতে চাননি এবং তার মানসিক চিকিৎসা প্রয়োজন। তিনি ২৭ বছরের কারাদণ্ড চেয়েছেন। এই ঘটনা ২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় হত্যাচেষ্টা হিসেবে আলোচিত হয়। এর আগে, বক্তব্য দেয়ার সময় ট্রাম্পকে স্নাইপার দিয়ে দূর থেকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিলএবি
শিশুদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার সীমিত করল স্পেন, ‘স্বৈরাচার’ বললেন মাস্ক
শিশু-কিশোরদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের প্রস্তাব করেছে স্পেন। স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর এমন প্রস্তাবে ‘স্বৈরাচার’ আখ্যা দিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্ক।প্রস্তাবিত বিধি অনুসারে, ১৬ বছরের কম বয়সী কিশোরদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার সীমিত হবে। প্রস্তাবিত আইনটির আওতায় পিতামাতাদের জন্যও পরিষ্কার অনুমোদন থাকবে, যাতে তারা শিশুদের জন্য সীমা নির্ধারণ করতে পারেন এবং সামাজিক চাপ কমাতে সাহায্য হয়।মঙ্গলবার (০৩ জানুয়ারি) স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ঘোষণা করেছেন, তারা ১৬ বছরের কম বয়সী কিশোরদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার বন্ধ করার একটি পদক্ষেপ নিচ্ছেন। একই সঙ্গে টেক কোম্পানিগুলোকে ঘৃণামূলক ও ক্ষতিকর কনটেন্টের জন্য দায়িত্বশীল অবস্থান বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।সানচেজ জানান, সামাজিক মাধ্যম একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র যেখানে আইন উপেক্ষিত হয় এবং অপরাধগুলো সহ্য করা হয়। তিনি এছাড়াও মাস্ককে উদ্দেশ্য করে বলেন, তার এক্স প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে প্রশাসনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন।এর উত্তরে ইলন মাস্ক এক্স-এ লিখেছেন, ডার্টি সানচেজ স্বৈরশাসক ও স্পেনের জনগণের বিশ্বাসঘাতক।কিছুক্ষণ পর তিনি আরও লিখেন, সানচেজ হলেন প্রকৃত ফ্যাসিস্ট টোটালিটেরিয়ান।২০২৫ সালের আগস্টে প্রকাশিত একটি জরিপে দেখা যায়, ৮২ শতাংশ মানুষ মনে করেন ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার বন্ধ করা উচিত, যা ২০২৪ সালের ৭৩ শতাংশ থেকে বেড়েছে।এমআর-২
ইরানের প্রথম ‘টার্গেট’ হবে ইসরাইল, আইআরজিসির হুঁশিয়ারি
ইরানে যদি যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালায়, তাহলে ইসরাইল প্রতিশোধের প্রথম টার্গেট বা লক্ষ্য হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর একজন কমান্ডার।সম্প্রতি লেবাননের আল মায়াদিন টেলিভিশনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে আইআরজিসি কমান্ডার হোসেন দাঘিঘি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র আক্রমণ করলে (ইরানে) ইসরাইলই হবে তেহরানের প্রথম লক্ষ্য।’দাঘিগি বলেন, ইরানের সামরিক কৌশল মূলত প্রতিরোধ ও আত্মরক্ষাভিত্তিক। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, যেকোনো যুদ্ধ শুরু হলে তার প্রতিক্রিয়া হবে অনিশ্চিত ও ব্যাপক। খবর ইরান ইন্টারন্যাশনালের। আইআরজিসি’র এই কমান্ডারের ভাষ্য, ‘আমাদের কৌশল প্রতিরোধমূলক ও আত্মরক্ষামূলক, যা শত্রুর ওপর বড় ধরনের ক্ষতি চাপিয়ে দিতে সক্ষম। কিন্তু যদি যুদ্ধ শুরু হয়, তাহলে আমাদের প্রতিক্রিয়ার তীব্রতা এমন হবে যে শত্রুপক্ষ তা হিসাব করতে পারবে না এবং সংঘাতের পরিসর হবে আরও বিস্তৃত হবে।’ এদিকে, চলমান উত্তেজনার মধ্যেই অবস্থান পরিবর্তন করে মার্কিন নৌবাহিনীর আব্রাহাম লিংকন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপকে দক্ষিণ ইয়েমেনের জলসীমায় নেয়া হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট একটি সামরিক গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে ইরানভিত্তিক সংবাদ সংস্থা ডব্লিউএএনএ। সূত্রের মতে, একাধিক ডেস্ট্রয়ার ও একটি সহায়ক সাবমেরিনসহ যুক্তরাষ্ট্রের এই বহরটি বর্তমানে ইয়েমেনের সোকোত্রা দ্বীপের পূর্বে এডেন উপসাগরের কাছে মোতায়েন রয়েছে। সেই হিসাবে বহরটি ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় বন্দর চাবাহার থেকে আনুমানিক ১ হাজার ৪০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে, যা আগের তুলনায় ইরানের উপকূলীয় জলসীমা থেকে আরও বেশি দূরত্ব নির্দেশ করে। ইরানি কর্মকর্তারা যখন ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি নিয়ে সতর্কবার্তা দিচ্ছেন, তখনই যুদ্ধজাহাজের অবস্থান পরিবর্তনের খবর এলো। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কিছু জানা যায়নি। মার্কিন কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য দেয়নি। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় নৌবহর ইরানের দিকে যাচ্ছে বলে স্থানীয় সময় সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ফের দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এমআর-২
ফিলিস্তিনের পক্ষে স্টিকার লাগানোয় ২ ব্রিটিশ নাগরিককে ভারত ছাড়ার নির্দেশ
ভারতে ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ লেখা স্টিকার লাগানোর অভিযোগে ২ ব্রিটিশ নাগরিকের ‘পর্যটক ভিসা’ বাতিল করেছে ভারত। একই সঙ্গে তাদের দ্রুত দেশ ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে দেশটি। খবর এনডিটিভিরপ্রতিবেদনে বলা হয়, রাজ্যটির বিভিন্ন শহরে ইসরাইলের বিরুদ্ধে স্টিকার লাগাতেন এই দম্পতি। ভারতের গোয়েন্দা বিভাগ বিষয়টিকে গুরুতর কিছু হিসেবে বিবেচনা করে জেলা পুলিশকে সতর্ক করে। এরপর দুই ব্রিটিশ নাগরিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং দেশত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়।ওই দুই পর্যটকের নাম লুইস গ্যাব্রিয়েল ডি. এবং তার বান্ধবী আনুশি এমা ক্রিস্টিন। তারা পর্যটন ভিসায় ভারতে এসেছিলেন। গত ২১ জানুয়ারি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে তথ্য আসে, ওই দম্পতি স্টিকার লাগানোর সঙ্গে জড়িত। সিসিটিভি ফুটেজ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য পর্যালোচনা করে গোয়েন্দা বিভাগ সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করে।বিষয়টিকে গুরুতর মনে করায় গোয়েন্দা বিভাগ জেলা পুলিশকে অবহিত করে। রাজ্যটির সিআইডি কর্মকর্তা রাজেশ মীনার নেতৃত্বে একটি দল তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা পর্যটন ভিসায় থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছিলেন। যা ভিসার শর্তের সরাসরি লঙ্ঘন।ভারতের অভিবাসন ও বিদেশি আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। উভয় বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিল করা হয়। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে ‘লিভ ইন্ডিয়া নোটিশ’ জারি করা হয়। এনডিটিভি জানিয়েছে, এমন ক্ষেত্রে ভারত সরকার চাইলে বিদেশি ওই নাগরিকদের নিষেধাজ্ঞা এবং বহিষ্কারের আদেশও শোনাতে পারতেন। তবে ওই দম্পতি কি বলছে, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেনি এনডিটিভি।এমআর-২
হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন জাহাজকে ধাওয়া দিল ইরান
হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাবাহী একটি তেল ট্যাংকারকে ধাওয়া করেছে ইরান। তবে শেষ পর্যন্ত মার্কিন যুদ্ধজাহাজের পাহারায় ট্যাংকারটি আটকের হাত থেকে পালিয়ে নিরাপদ স্থানে চেলে যেতে সক্ষম হয়।মঙ্গলবার (০৩ জানুয়ারি) ইউরো নিউজের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশের সময় ইরানি নৌবাহিনীর ছয়টি সশস্ত্র স্পিডবোট স্টেনা ইম্পেরেটিভ নামে মার্কিন ওই ট্যাংকারটির গতিরোধ করার চেষ্টা করে।সমুদ্র নিরাপত্তাবিষয়ক সংস্থা ভ্যানগার্ড টেক তাদের গ্রাহকদের পাঠানো বার্তায় জানায়, ৫০ ক্যালিবার মেশিনগান সজ্জিত ইরানের অন্তত ছয়টি স্পিডবোট মার্কিন জাহাজটিকে ঘিরে ফেলে। এ সময় ইরানি সেনারা ট্যাংকারটির নাবিকদের ইঞ্জিন বন্ধ করার নির্দেশ দেন ও জাহাজে ওঠার প্রস্তুতি নেন। তবে ট্যাংকারটির ক্যাপ্টেন নির্দেশ অমান্য করে দ্রুত গতি বাড়িয়ে দেন।উদ্ভূত এই পরিস্থিতিতে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ও ট্যাংকারটিকে নিরাপত্তা দিয়ে সরিয়ে নিয়ে যায়।বিষয়টি নিশ্চিত করে যুক্তরাজ্যভিত্তিক মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন্স এজেন্সি (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, তারা ওমানের উপকূল থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার উত্তরে ইরানের নৌবাহিনীর দ্বারা একটি জাহাজ আক্রান্ত হওয়ার খবর পেয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, মার্কিন পতাকাবাহী ওই ট্যাংকারটিই সেখানে বাধার মুখে পড়েছিল।এদিকে, আরব সাগরে একটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ড্রোনটি যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের খুব কাছে চলে আসায় আত্মরক্ষার্থে সেটিকে গুলি করে নামানো হয়।সেন্টকমের মুখপাত্র টিম হকিন্স বলেন, মঙ্গলবার একটি মার্কিন এফ-৩৫সি যুদ্ধবিমান থেকে ড্রোনটিকে ভূপাতিত করা হয়। ড্রোনটির উদ্দেশ্য স্পষ্ট ছিল না এবং মার্কিন বাহিনীর সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেই সেটি যুদ্ধজাহাজের দিকে এগিয়ে আসছিল।এমআর-২
শবে বরাতের রাতে ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ গেল ১০ ফিলিস্তিনির
পবিত্র শবে বরাতের রাতে গাজা রাতভর চালানো ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চার বছর বয়সী একটি শিশুকন্যাও রয়েছে বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।এদিকে ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) জেরুজালেমে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। চলমান যুদ্ধ ও কূটনৈতিক তৎপরতা নিয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।অন্যদিকে, অধিকৃত পশ্চিম তীরের জেরিকো শহরে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় এক অভিযানের সময় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে এক তরুণ ফিলিস্তিনি নিহত হন।গাজার দক্ষিণ সীমান্তে রাফাহ ক্রসিং আংশিকভাবে পুনরায় চালু হওয়ার দ্বিতীয় দিনে ইসরায়েল মাত্র ১৬ জন ফিলিস্তিনি রোগী ও তাদের স্বজনদের গাজা ছাড়ার অনুমতি দিয়েছে। এতে চিকিৎসা সহায়তার জন্য গাজা ছাড়ার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকার চিত্র উঠে এসেছে।২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের অভিযানে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭১ হাজার ৮০৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এছাড়া আরও ১ লাখ ৭১ হাজার ৫৭৫ জন আহত হয়েছেন।এমআর-২
৬ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল মিয়ানমার
মিয়ানমারে গতকাল মঙ্গলবার ৬ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে। স্থানীয় সময় রাত ৯টা ৪মিনিটে ঘটা এই ভূমিকম্পের কম্পণ অনুভূত হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।ইউরোপের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা সংস্থা ইউরোপিয়ান-মেডিটেরেনিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী রাখাইন রাজ্যের রাজধানী আকিয়াব বা সিতওয়ে থেকে ৭০ কিলোমিটার পূর্বে এবং ভূপৃষ্ঠের ৫৭ কিলোমিটার গভীরে ছিল এই ভূমিকম্পের উৎপপত্তিস্থল।ইএমএসসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ৭১ ঘণ্টায় এই নিয়ে তৃতীয়বার ভূমিকম্প হলো মিয়ানমারে। তবে এসব ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।মিয়ানমারে সর্বশেষ বড় ভূমিকম্প হয়েছিল ২০২৫ সালের মার্চ মাসে। ৭ দশমিক ৭ মাত্রার সেই ভূমিকম্পে দেশটিতে নিহত হয়েছিলেন ৩ হাজার ৫ শতাধিক মানুষ, আহত হয়েছিলেন আরও কয়েক হাজার।সেই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল হাজার হাজার ভবন, বাড়িঘর, সড়ক ও বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যবস্থা। সেই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমারের মধ্যাঞ্চলীয় প্রদেশ সাগাইং।সূত্র : এএফপিএবি
খেলা
সব দেখুন- মারা গেছেন কিংবদন্তি গোলরক্ষক রঞ্জিত দাস
- পাকিস্তানের ভারত ম্যাচ বয়কট নিয়ে যা বললো আইসিসি
- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলবে পাকিস্তান, বয়কট করবে ভারত ম্যাচ
- টিভিতে আজকের খেলা, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
- আড়াই কোটি টাকার নতুন টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট আয়োজনের ঘোষণা বিসিবির
- বিশ্বকাপের জার্সি উন্মোচন অনুষ্ঠান স্থগিত করল পাকিস্তান
বিনোদন
সব দেখুন
দীর্ঘ বিরতির পর প্লেব্যাকে ফাহমিদা নবী, সঙ্গে ইমরান
দীর্ঘ বিরতির পর আবারও সিনেমার গানে কণ্ঠ দিলেন বরেণ্য সংগীতশিল্পী ফাহমিদা নবী। ২ বছরের বেশি সময় পর ২০২৪ সালের মাঝামাঝিতে এস এম কাইয়ুম পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘অন্তর্বর্তী’–এর একটি গানে প্লেব্যাকের মাধ্যমে তাঁর প্রত্যাবর্তন ঘটে। এবার সেই ছবিরই আরও একটি নতুন গানে কণ্ঠ দিলেন তিনি। এই গানে ফাহমিদা নবীর সহশিল্পী হিসেবে যুক্ত হয়েছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ইমরান মাহমুদুল। এই প্রথম কোনো গানে একসঙ্গে শোনা যাবে এই দুই শিল্পীকে।‘তোর ঋণ’ শিরোনামের গানটির কথা লিখেছেন সিনেমার নির্মাতা এস এম কাইয়ুম নিজেই। এতে সুর দিয়েছেন রাহুল কুমার দত্ত এবং সংগীত আয়োজন করেছেন মুশফিক লিটু। গত শুক্রবার মুশফিক লিটুর স্টুডিওতে ফাহমিদা নবীর কণ্ঠ ধারণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।নির্মাতা জানান, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই ইমরান মাহমুদুলের অংশের রেকর্ডিং শেষ হওয়ার কথা।নতুন গানটি প্রসঙ্গে ফাহমিদা নবী বলেন, ‘এটি ছোট ছোট কথায় গাঁথা একটি মিষ্টি প্রেমের গান। কাজের পরিবেশ ও পুরো টিমের পেশাদারিত্ব আমাকে মুগ্ধ করেছে। ইমরানের সঙ্গে এই প্রথম গাওয়ার অভিজ্ঞতাও ভীষণ ভালো।এর আগে ‘অন্তর্বর্তী’ সিনেমায় ফাহমিদা নবী কণ্ঠ দিয়েছিলেন ‘থাক না দূরের হয়ে’ শিরোনামের আরেকটি গানে।‘অন্তর্বর্তী’ এস এম কাইয়ুমের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। ছবির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন আহমেদ রুবেল, আবু হুরায়রা তানভীর ও নীলাঞ্জনা নীলা। এটি প্রয়াত অভিনেতা আহমেদ রুবেলের শেষ অভিনীত সিনেমা। বর্তমানে ছবিটির পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজ চলছে।সব প্রস্তুতি শেষে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শনের পাশাপাশি চলতি বছরই দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির আশা নির্মাতার।এইচএ
২৩ বছর পর আবার মুক্তি পাচ্ছে সালমানের ‘তেরে নাম’
বলিউডের বিখ্যাত একটি চরিত্র রাধে। ২০০৩ সালের সিনেমা ‘তেরে নাম’-এ সালমান খান অভিনয় করেছিলেন এই চরিত্রটিতে। মুক্তির পর গান, গল্প ও সালমানের দুর্দান্ত অভিনয়ে সিনেমাটি ভারতবর্ষজুড়ে তুমুল জনপ্রিয়তা পায়। কামাই করে নেয় কাড়ি কাড়ি টাকাও। পুনরায় দর্শকদের সামনে আসছে ছবিটি।সিনেমাটি ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারতের বিভিন্ন হলে প্রদর্শিত হবে। পিঙ্কভিলা এমনই তথ্য দিয়েছে।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু সিনেমা আবার নতুন করে প্রেক্ষাগৃহে ফিরে আসে। সেই ধারাবাহিকতায় ২০০৩ সালের ‘তেরে নাম’-ও ফিরে আসছে। নতুন শোতে ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে টিকিট বিক্রি শুরু হবে। সালমান খানের প্রেমিক চরিত্রের জন্য আলোচিত এই সিনেমা ধীরে ধীরে একটি কাল্ট ফলোয়িং অর্জন করেছে। এবার শক্তিশালী কমব্যাকের প্রত্যাশা রয়েছে ছবিটিকে ঘিরে।‘তেরে নাম’ সিনেমায় সালমান খানের অসহায়ত্বের অভিনয় দর্শকের মন কাঁদায় আজওসিনেমার জনপ্রিয় গানগুলো গেয়েছিলেন ছিলেন হিমেশ রেশমিয়া। সাজিদ ওয়াজিদ গানের সংযোজন করেছেন, এবং ব্যাকগ্রাউন্ড সংগীত তৈরি করেছেন বিক্রম বিকি গোস্বামী। মুক্তির সময় এটি ১৫ আগস্টের বিশেষ প্রেক্ষাপটে প্রকাশ পেয়েছিল এবং বাজেটের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি আয় করেছিল। তবে সবচেয়ে বেশি প্রশংসা পেয়েছে সিনেমার আবেগপূর্ণ দৃশ্যায়নের জন্য।সালমান খানের নায়িকা হয়ে রাতারাতি তারকা বনে যান ভূমিকাগল্পের কেন্দ্রে রয়েছে রাধে মোহন চরিত্রে সালমান খান এবং নির্জারা ভরাডওয়াজ চরিত্রে ভূমিকা চাওলা। গল্পটি তাদের দুঃখজনক ও নাটকীয় প্রেমের উপর ভিত্তি করে যা নানা মোড় নিয়ে দর্শকদের অবাক করে। রাধে অবিরাম চেষ্টা করেন নির্জারাকে জিততে। যদিও তার পরিবার ও সমাজের প্রত্যাশা তাদের একসঙ্গে হতে বাধা দেয়।সিনেমার ট্র্যাজিক সমাপ্তি দর্শকদের হৃদয়ে দীর্ঘদিন ধরে অম্লান হয়ে আছে। এবার বড় পর্দায় এই আবেগ পুনরায় অনুভব করার সুযোগ মিলবে।এইচএ
বিমানবন্দরে নিরাপত্তারক্ষীর হাতে আটকালেন শাহরুখ খান
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে বলিউড মেগাস্টার শাহরুখ খানের নতুন একটি ভিডিও। বিমানবন্দরের চেকিংয়ে ক্যামেরাবন্দি হন এ অভিনেতা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এই সময়ের প্রতিবেদন বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) মুম্বাই বিমানবন্দরে পা রাখেন শাহরুখ। এ সময় নায়ক পরেছিলেন আকাশি রংয়ের হুডি ও জিন্স প্যান্ট। মাথায় কালো টুপিও।ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, মুম্বাই বিমানবন্দরে চেকিংয়ের সময় এক নিরাপত্তারক্ষী তাকে আটকে দেন। হঠাৎ শাহরুখকে সানগ্লাস খুলে ফেলতে বলেন। এমন পরিস্থিতিতে নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে কোনও তর্ক-বিতর্কে জড়াননি অভিনেতা। বরং বিরক্তি প্রকাশ না করে সহযোগিতা করতে যায় তাকে। নিরাপত্তারক্ষীর কথায় সানগ্লাস খুলে হাসেন শাহরুখ। নিরাপত্তা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতেই গার্ডের কাঁধে হাত রেখে চলে যান। এ ভিডিও নেটদুনিয়ায় মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে। বলিউড কিং খ্যাত এ তারকার ব্যবহারে মুগ্ধ নেটিজনরা। প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মন্তব্যের ঘরে এক ভক্ত লেখেন, ‘এই জন্যই তিনি রাজা।’ আরেক জন লেখেন , ‘একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে শাহরুখ খান জানেন যে এটি নিরাপত্তারক্ষীর কর্তব্য। যা তিনি সততার সঙ্গেই পালন করেছেন।’ বর্তমানে ‘কিং’ সিনেমা নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন শাহরুখ খান। নতুন এ সিনেমায় মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করছেন শাহরুখের একমাত্র মেয়ে অভিনেত্রী সুহানা খান। ‘কিং’ সিনেমায় জনপ্রিয় তারকাদের মধ্যে দেখা যাবে রানি মুখার্জি, দীপিকা পাডুকোন এবং অভিষেক বচ্চনকে। সিদ্ধার্থ আনন্দের পরিচালনায় নতুন এ সিনেমার পোস্টার ইতিমধ্যে প্রকাশ করা হয়েছে নেটদুনিয়ায়। এইচএ
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সম্মানিত হচ্ছেন ৩০ জন
২০২৩ সালের জন্য চলচ্চিত্রের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার’ ঘোষণা করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে ২৮টি ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য মোট ৩০ জন শিল্পী ও কুশলীকে এই পুরস্কারের জন্য মনোনীত করে। এবারের আসরে চলচ্চিত্রের সর্বোচ্চ সম্মান আজীবন সম্মাননা যৌথভাবে পাচ্ছেন প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ এবং বরেণ্য চিত্রগ্রাহক ও নির্মাতা আব্দুল লতিফ বাচ্চু। বছরের শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র নির্বাচিত হয়েছে কে. এম. হালিমুজ্জামান (খন্দকার সুমন) প্রযোজিত সিনেমা ‘সাঁতাও’। একই সিনেমার জন্য শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পরিচালকের পুরস্কারও জিতেছেন খন্দকার সুমন।এদিকে, প্রথম সিনেমা দিয়েই বাজিমাত করেছেন আফরান নিশো ‘সুড়ঙ্গ’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরস্কার পাচ্ছেন। অন্যদিকে ‘সাঁতাও’ সিনেমার জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী নির্বাচিত হয়েছেন আইনুন পুতুল।পার্শ্বচরিত্রে শ্রেষ্ঠ অভিনেতার সম্মাননা পাচ্ছেন মনির আহমেদ শাকিল (সুড়ঙ্গ) এবং শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন নাজিয়া হক অর্ষা (ওরা সাত জন)। শ্রেষ্ঠ খল চরিত্রে আশীষ খন্দকার (অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন) এবং শ্রেষ্ঠ কৌতুক চরিত্রে শহীদুজ্জামান সেলিম (সুড়ঙ্গ) জয়ী হয়েছেন। শিশু শিল্পী শাখায় শ্রেষ্ঠ হয়েছেন মো. লিয়ন এবং বিশেষ পুরস্কার পাচ্ছেন আরিফ হাসান আনাইরা খান (উভয়ই ‘আম কাঁঠালের ছুটি’ সিনেমার জন্য)।আবার, সংগীতে একক প্রাধান্য দেখিয়েছে ‘প্রিয়তমা’ ও ‘সুড়ঙ্গ’। ‘ও প্রিয়তমা’ গানের জন্য বালাম শ্রেষ্ঠ গায়ক এবং ‘সুড়ঙ্গ’ সিনেমার জন্য অবন্তী দেব সিঁথি শ্রেষ্ঠ গায়িকা নির্বাচিত হয়েছেন। 'ঈশ্বর' গানের জন্য শ্রেষ্ঠ গীতিকার হিসেবে সোমেশ্বর অলি এবং সুরকার হিসেবে প্রিন্স মাহমুদ পুরস্কৃত হয়েছেন। শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক হয়েছেন ইমন চৌধুরী (অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন)।সেরা কাহিনিকার হিসেবে ফারুক হোসেন (প্রিয়তমা), চিত্রনাট্যকার হিসেবে নিয়ামুল মুক্তা (রক্তজবা) এবং শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতা হিসেবে যৌথভাবে রায়হান রাফী ও সৈয়দ নাজিম উদ দৌলা (সুড়ঙ্গ) নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া শ্রেষ্ঠ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হিসেবে ‘মরিয়ম’ এবং প্রামাণ্য চলচ্চিত্র হিসেবে ‘লীলাবতী নাগ: দ্য রেবেল’ রাষ্ট্রীয় এই স্বীকৃতি পেয়েছে।এফএস
অর্থ-বাণিজ্য
সব দেখুন
৫ ঘণ্টার ব্যবধানে স্বর্ণের দাম ভরিতে বাড়লো ১০ হাজার ৯০৬ টাকা
মাত্র ৫ ঘণ্টার ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও বৃদ্ধি করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ১০ হাজার ৯০৬ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এতে এক ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।স্থানীয় বাজারে তেজাবী স্বর্ণের (পাকা স্বর্ণ) দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে এ দাম বাড়ানো হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল পৌনে ৪টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।আজ মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি বৈঠকে করে এ দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।এর আগে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) তিন দফা সোনার দাম কমানো হয়। প্রথমে ১ হাজার ৯২৫ টাকা, দ্বিতীয় দফায় ৬ হাজার ৫৯০ টাকা এবং তৃতীয় দফায় ৫ হাজার ৪২৪ কমানো হয়। এতে একদিনে তিন দফায় ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম কমানো হম ১৩ হাজার ৯৩৯ টাকা।একদিনে তিন দফা কমানোর পর আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম বাড়ানো হয়েছে ৫ হাজার ৪২৪ টাকা। এ দাম বাড়ানোর পাঁচ ঘণ্টার ব্যবধানে এখন আবার দাম বাড়ানো হলো।এখন সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনায় ১০ হাজার ৯০৬ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ১০ হাজার ৪৩৯ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ৮ হাজার ৯২৩ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম ২ লাখ ১৪ হাজার ৪৪৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনায় ৭ হাজার ২৯০ টাকা বাড়িয়ে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭৫ হাজার ৪৮৫ টাকা। আজ সকাল সাড়ে ১০টায় সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনায় ৫ হাজার ৪২৪ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৫১ হাজার ১৮৪ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ৫ হাজার ১৯১ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৩৯ হাজার ৭৫৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়।এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ৪ হাজার ৪৩৩ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম ২ লাখ ৫ হাজার ৫২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনায় ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা বাড়িয়ে দাম নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৬৮ হাজার ১৯৫ টাকা। আজ বিকেল ৩টা ৪৪ মিনিট পর্যন্ত এ দামে সোনা বিক্রি হয়েছে।সোনার দাম বাড়ানোর পাশাপাশি রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ১৭৫ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৫৩২ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ১৭৫ টাকা বাড়িয়ে ৬ হাজার ২৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ১৬৩ টাকা বাড়িয়ে ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম ১১৭ টাকা বাড়িয়ে ৪ হাজার ২৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।এইচএ
স্বর্ণের দাম বাড়লো ভরিতে ৫৪২৪ টাকা
দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছে ৫ হাজার ৪২৪ টাকা। এতে এক ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫১ হাজার ১৮৪ টাকা। স্থানীয় বাজারে তেজাবী স্বর্ণের (পাকা স্বর্ণের) দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই দাম বাড়ানো হয়েছে।আজ মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি বৈঠকে করে এই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।গতকাল তিন দফা স্বর্ণের দাম কমানো হয়। প্রথমে ১ হাজার ৯২৫ টাকা, দ্বিতীয় দফায় ৬ হাজার ৫৯০ টাকা এবং তৃতীয় দফায় ৫ হাজার ৪২৪ কমানো হয়। এতে একদিনে তিন দফায় ভালো মানের এক ভরি স্বর্ণের দাম কমানো হয় ১৩ হাজার ৯৩৯ টাকা। একদিনে তিন দফা কমানোর পর এখন আবার দাম বাড়ানো হলো। এখন সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ৫ হাজার ৪২৪ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫১ হাজার ১৮৪ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ ৫ হাজার ১৯১ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৩৯ হাজার ৭৫৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ ৪ হাজার ৪৩৩ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম ২ লাখ ৫ হাজার ৫২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা বাড়িয়ে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬৮ হাজার ১৯৫ টাকা।এর আগে গতকাল বিকাল ৩টা ৪৫ মিনিট থেকে সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ৫ হাজার ৪২৪ টাকা কমিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৪৫ হাজার ৭৬০ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ ৫ হাজার ১৯১ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৫৬৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ ৪ হাজার ৪৩৩ টাকা কমিয়ে নতুন দাম ২ লাখ ১ হাজার ৮৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা কমিয়ে দাম নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫২১ টাকা। আজ সকাল ১০টা ২৮ মিনিট পর্যন্ত এই দামে স্বর্ণ বিক্রি হয়েছে। স্বর্ণের দাম বাড়ানো হলেও রুপার দাম কমানো হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৬ হাজার ৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ২০২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৯০৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।এইচএ
দেশের রিজার্ভ বেড়ে ৩৩.৩৪ বিলিয়ন ডলার
দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে এখন ৩৩ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানান।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবশেষ তথ্য মতে, ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৩ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলার। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ৭৪৮ দশমিক ৯৫ মিলিয়ন বা ২৮ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে।এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩২ দশমিক ৬২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর বিপিএম-৬ পদ্ধতিত রিজার্ভ ছিল ২৮ দশমিক ০২ বিলিয়ন ডলার। প্রসঙ্গত, নিট রিজার্ভ গণনা করা হয় আইএমএফের বিপিএম-৬ পরিমাপ অনুসারে। মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায় বিয়োগ করলে নিট বা প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ পাওয়া যায়।এমআর-২
এলপি গ্যাসের দাম বাড়ল
দেশে ভোক্তা পর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বেড়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৫০ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৩৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি) দাম বাড়ানোর নতুন ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকেই নতুন দাম কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজির দাম ১ হাজার ৩০৬ টাকা থেকে ৫০ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৩৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে গত ৪ জানুয়ারি সবশেষ সমন্বয় করা হয় এলপি গ্যাসের দাম। সে সময় ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৫৩ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৩০৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। একইসঙ্গে সোমবার অটোগ্যাসের দামও বাড়িয়েছে বিইআরসি। ফেব্রুয়ারি মাসে ভোক্তা পর্যায়ে ২ টাকা ৩৪ পয়সা বাড়িয়ে অটোগ্যাসের মূসকসহ দাম প্রতি লিটার ৬২ টাকা ১৪ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে গত ৪ জানুয়ারি সবশেষ সমন্বয় করা হয় অটোগ্যাসের দাম। সে সময় ভোক্তা পর্যায়ে ২ টাকা ৪৮ পয়সা বাড়িয়ে অটোগ্যাসের মূসকসহ দাম প্রতি লিটার ৫৯ টাকা ৮০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল।এমআর-২
অস্থির স্বর্ণের বাজার, ভরিতে কমেছে ৬৫৯০ টাকা
সোনার বাজারে অস্থিরতা যেন কাটছেই না। আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামার প্রভাব পড়ছে দেশের বাজারেও। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই ফের সোনার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা। এতে ভরিপ্রতি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫১ হাজার ১৮৪ টাকা।বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা ৪৫ মিনিট থেকে নতুন এই দাম কার্যকর হবে। এদিন বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটির বৈঠকে স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।এর আগে গত রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঘোষণা দিয়ে আজ থেকে ভরিপ্রতি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৯২৫ টাকা কমানো হয়েছিল। তবে রাতের সেই সিদ্ধান্তের পর সোমবার সকালে আবারও দাম কমানোর ঘোষণা এলো।নতুন দর অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৬ হাজার ২৯৮ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৩৯ হাজার ৭৫৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা কমিয়ে নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫ হাজার ৫২০ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬৮ হাজার ১৯৫ টাকা। তবে স্বর্ণের দাম কমলেও রুপার দামে কোনো পরিবর্তন হয়নি। বাজুসের তথ্যমতে, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৭ হাজার ২৯০ টাকা, ২১ ক্যারেটের রুপা ৬ হাজার ৯৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপা ৫ হাজার ৯৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৪ হাজার ৪৩২ টাকা অপরিবর্তিত রয়েছে।এইচএ
জ্বালানি তেলের পর এবার এলপিজির নতুন দাম নির্ধারণ আজ
জ্বালানি তেলের পর এবার ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম নতুন করে সমন্বয় করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি)। ভোক্তা পর্যায়ে এই মাসে এলপিজির দাম বাড়ছে নাকি কমছে, তা জানা যাবে আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি)। এক মাসের জন্য এলপিজির নতুন দাম ঘোষণা করা হবে এদিন।গতকাল রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিইআরসির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে এ তথ্য।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সৌদি আরামকো ঘোষিত ফেব্রুয়ারি (২০২৬) মাসের সৌদি সিপি অনুযায়ী এই মাসের জন্য ভোক্তা পর্যায়ে বেসরকারি এলপিজির মূল্য সমন্বয় সম্পর্কে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের নির্দেশনা সোমবার দুপুর ৩টায় ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইইবি) ঢাকাস্থ কমিশন কার্যালয়ের শুনানি কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে ঘোষণা করা হবে।জানুয়ারি মাসে দেশে ভোক্তাপর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৩০৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। আর গত ডিসেম্বরে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ২৫৩ টাকা নির্ধারণ করেছিল বিইআরসি।ইতোমধ্যে ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের নতুন দাম নির্ধারণ করেছে করেছে সরকার। বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবার ২ টাকা করে কমানো হয়েছে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম।নতুন দর অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেল ১০০ টাকা, প্রতি লিটার কেরোসিন ১১২ টাকা, প্রতি লিটার পেট্রোল ১১৬ টাকা এবং প্রতি লিটার অকটেন ১২০ টাকায় বিক্রি হবে ফেব্রুয়ারি মাস জুড়ে। গতকাল রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) থেকে কার্যকর হয়েছে জ্বালানি তেলের নতুন এই দাম।জানা গেছে, বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ গত বছরের মার্চ থেকে শুরু করেছে সরকার। এরপর থেকে প্রতি মাসেই নতুন দাম ঘোষণা করা হচ্ছে। বর্তমানে জ্বালানি তেলের দর নির্ধারণ ছাড়াও আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে মিল রেখে প্রতি মাসে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম নির্ধারণ করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।এইচএ
এবার পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে যা বললেন অর্থ উপদেষ্টা
পে-স্কেলের দাবি বাস্তবায়নের জন্য টানা তিন দিনের কর্মসূচি দিয়েছে আন্দোলনকারীরা। এদিকে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, পে-স্কেল বাস্তবায়ন হতে সময় লাগলেও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারবে না পরবর্তী নির্বাচিত সরকার।মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে ক্রয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে এসব কথা বলেন তিনি।বর্তমান সরকারের অবস্থান ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, পরবর্তী সরকারের জন্য একটা স্বস্তিদায়ক অর্থনৈতিক অবস্থা রেখে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। চব্বিশের ৫ আগস্টের পর নড়বড়ে অর্থনীতি দেড় বছরে ঠিক হয়েছে।অর্থ উপদেষ্টা বলেন, সরকার গণভোটের জন্য বরাদ্দ রেখেছে। কিন্তু ‘হ্যাঁ’ ভোটের জন্য নয়। গণভোটের কারণে এবার নির্বাচনে অন্যবারের চেয়ে বরাদ্দ বেশি লাগছে।তিনি আরও বলেন, আগের সরকারের অনেক অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প বন্ধ হওয়ায় কর্মসংস্থান কমে গেছে। সেটা চ্যালেঞ্জ হবে কিছুটা।এফএস
৫ ঘণ্টার ব্যবধানে স্বর্ণের দাম ভরিতে বাড়লো ১০ হাজার ৯০৬ টাকা
মাত্র ৫ ঘণ্টার ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও বৃদ্ধি করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ১০ হাজার ৯০৬ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এতে এক ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।স্থানীয় বাজারে তেজাবী স্বর্ণের (পাকা স্বর্ণ) দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে এ দাম বাড়ানো হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল পৌনে ৪টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।আজ মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি বৈঠকে করে এ দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।এর আগে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) তিন দফা সোনার দাম কমানো হয়। প্রথমে ১ হাজার ৯২৫ টাকা, দ্বিতীয় দফায় ৬ হাজার ৫৯০ টাকা এবং তৃতীয় দফায় ৫ হাজার ৪২৪ কমানো হয়। এতে একদিনে তিন দফায় ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম কমানো হম ১৩ হাজার ৯৩৯ টাকা।একদিনে তিন দফা কমানোর পর আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম বাড়ানো হয়েছে ৫ হাজার ৪২৪ টাকা। এ দাম বাড়ানোর পাঁচ ঘণ্টার ব্যবধানে এখন আবার দাম বাড়ানো হলো।এখন সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনায় ১০ হাজার ৯০৬ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ১০ হাজার ৪৩৯ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ৮ হাজার ৯২৩ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম ২ লাখ ১৪ হাজার ৪৪৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনায় ৭ হাজার ২৯০ টাকা বাড়িয়ে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭৫ হাজার ৪৮৫ টাকা। আজ সকাল সাড়ে ১০টায় সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনায় ৫ হাজার ৪২৪ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৫১ হাজার ১৮৪ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ৫ হাজার ১৯১ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৩৯ হাজার ৭৫৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়।এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ৪ হাজার ৪৩৩ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম ২ লাখ ৫ হাজার ৫২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনায় ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা বাড়িয়ে দাম নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৬৮ হাজার ১৯৫ টাকা। আজ বিকেল ৩টা ৪৪ মিনিট পর্যন্ত এ দামে সোনা বিক্রি হয়েছে।সোনার দাম বাড়ানোর পাশাপাশি রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ১৭৫ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৫৩২ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ১৭৫ টাকা বাড়িয়ে ৬ হাজার ২৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ১৬৩ টাকা বাড়িয়ে ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম ১১৭ টাকা বাড়িয়ে ৪ হাজার ২৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।এইচএ
স্বর্ণের দাম বাড়লো ভরিতে ৫৪২৪ টাকা
দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছে ৫ হাজার ৪২৪ টাকা। এতে এক ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫১ হাজার ১৮৪ টাকা। স্থানীয় বাজারে তেজাবী স্বর্ণের (পাকা স্বর্ণের) দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই দাম বাড়ানো হয়েছে।আজ মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি বৈঠকে করে এই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।গতকাল তিন দফা স্বর্ণের দাম কমানো হয়। প্রথমে ১ হাজার ৯২৫ টাকা, দ্বিতীয় দফায় ৬ হাজার ৫৯০ টাকা এবং তৃতীয় দফায় ৫ হাজার ৪২৪ কমানো হয়। এতে একদিনে তিন দফায় ভালো মানের এক ভরি স্বর্ণের দাম কমানো হয় ১৩ হাজার ৯৩৯ টাকা। একদিনে তিন দফা কমানোর পর এখন আবার দাম বাড়ানো হলো। এখন সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ৫ হাজার ৪২৪ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫১ হাজার ১৮৪ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ ৫ হাজার ১৯১ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৩৯ হাজার ৭৫৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ ৪ হাজার ৪৩৩ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম ২ লাখ ৫ হাজার ৫২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা বাড়িয়ে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬৮ হাজার ১৯৫ টাকা।এর আগে গতকাল বিকাল ৩টা ৪৫ মিনিট থেকে সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ৫ হাজার ৪২৪ টাকা কমিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৪৫ হাজার ৭৬০ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ ৫ হাজার ১৯১ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৫৬৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ ৪ হাজার ৪৩৩ টাকা কমিয়ে নতুন দাম ২ লাখ ১ হাজার ৮৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা কমিয়ে দাম নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫২১ টাকা। আজ সকাল ১০টা ২৮ মিনিট পর্যন্ত এই দামে স্বর্ণ বিক্রি হয়েছে। স্বর্ণের দাম বাড়ানো হলেও রুপার দাম কমানো হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৬ হাজার ৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ২০২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৯০৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।এইচএ
দেশের রিজার্ভ বেড়ে ৩৩.৩৪ বিলিয়ন ডলার
দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে এখন ৩৩ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানান।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবশেষ তথ্য মতে, ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৩ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলার। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ৭৪৮ দশমিক ৯৫ মিলিয়ন বা ২৮ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে।এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩২ দশমিক ৬২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর বিপিএম-৬ পদ্ধতিত রিজার্ভ ছিল ২৮ দশমিক ০২ বিলিয়ন ডলার। প্রসঙ্গত, নিট রিজার্ভ গণনা করা হয় আইএমএফের বিপিএম-৬ পরিমাপ অনুসারে। মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায় বিয়োগ করলে নিট বা প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ পাওয়া যায়।এমআর-২
এলপি গ্যাসের দাম বাড়ল
দেশে ভোক্তা পর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বেড়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৫০ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৩৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি) দাম বাড়ানোর নতুন ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকেই নতুন দাম কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজির দাম ১ হাজার ৩০৬ টাকা থেকে ৫০ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৩৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে গত ৪ জানুয়ারি সবশেষ সমন্বয় করা হয় এলপি গ্যাসের দাম। সে সময় ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৫৩ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৩০৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। একইসঙ্গে সোমবার অটোগ্যাসের দামও বাড়িয়েছে বিইআরসি। ফেব্রুয়ারি মাসে ভোক্তা পর্যায়ে ২ টাকা ৩৪ পয়সা বাড়িয়ে অটোগ্যাসের মূসকসহ দাম প্রতি লিটার ৬২ টাকা ১৪ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে গত ৪ জানুয়ারি সবশেষ সমন্বয় করা হয় অটোগ্যাসের দাম। সে সময় ভোক্তা পর্যায়ে ২ টাকা ৪৮ পয়সা বাড়িয়ে অটোগ্যাসের মূসকসহ দাম প্রতি লিটার ৫৯ টাকা ৮০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল।এমআর-২
অস্থির স্বর্ণের বাজার, ভরিতে কমেছে ৬৫৯০ টাকা
সোনার বাজারে অস্থিরতা যেন কাটছেই না। আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামার প্রভাব পড়ছে দেশের বাজারেও। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই ফের সোনার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা। এতে ভরিপ্রতি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫১ হাজার ১৮৪ টাকা।বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা ৪৫ মিনিট থেকে নতুন এই দাম কার্যকর হবে। এদিন বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটির বৈঠকে স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।এর আগে গত রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঘোষণা দিয়ে আজ থেকে ভরিপ্রতি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৯২৫ টাকা কমানো হয়েছিল। তবে রাতের সেই সিদ্ধান্তের পর সোমবার সকালে আবারও দাম কমানোর ঘোষণা এলো।নতুন দর অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৬ হাজার ২৯৮ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৩৯ হাজার ৭৫৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা কমিয়ে নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫ হাজার ৫২০ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬৮ হাজার ১৯৫ টাকা। তবে স্বর্ণের দাম কমলেও রুপার দামে কোনো পরিবর্তন হয়নি। বাজুসের তথ্যমতে, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৭ হাজার ২৯০ টাকা, ২১ ক্যারেটের রুপা ৬ হাজার ৯৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপা ৫ হাজার ৯৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৪ হাজার ৪৩২ টাকা অপরিবর্তিত রয়েছে।এইচএ
শিক্ষাঙ্গন
সব দেখুন
১৪ বছর ধরে গুম ইবির দুই শিক্ষার্থী, সন্ধানে মানববন্ধন
রবিউল আলম, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: ২০১২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সাভার থেকে গুম হওয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) দুই মেধাবী শিক্ষার্থীর সন্ধানের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এই কর্মসূচি পালিত হয়।গুম হওয়া দুই শিক্ষার্থী হলেন—দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মো. ওয়ালিউল্লাহ এবং আল-ফিকহ অ্যান্ড লিগ্যাল স্টাডিজ বিভাগের আল মোকাদ্দাস। নিখোঁজ হওয়ার সময় তাঁরা ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার বিভিন্ন দায়িত্বে ছিলেন।মানববন্ধনে দাওয়াহ বিভাগের শিক্ষার্থী কাফি বলেন, “প্রশাসনের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে সেই সময় আমাদের দুই ভাইকে গুম করা হয়েছে। তাঁদের অপরাধ ছিল—তাঁরা ন্যায় ও ইনসাফের কথা বলতেন। তাঁদের সঠিক সন্ধান দিন এবং অবিলম্বে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিন। দুঃখের বিষয়, চব্বিশের বিপ্লবের পরও প্রশাসন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে।”আল-ফিকহ অ্যান্ড লিগ্যাল স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সালেহ আহমেদ বলেন, “আমার ভাই বিভাগে প্রথম স্থান অধিকারী মেধাবী ছাত্র ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাঁদের ফিরিয়ে আনতে এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়নি। তৎকালীন প্রশাসনের যাঁরা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাঁদের বিচারের দাবি জানাচ্ছি।”শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি বলেন, “বিপ্লব পরবর্তী সময়ে আমরা আশা করেছিলাম তাঁরা পরিবারের কাছে ফিরে আসবেন। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও তা সম্ভব হয়নি। গত ১৭ বছরে হওয়া সব গুম-খুনের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করতে হবে। তৎকালীন প্রক্টরসহ নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় নিয়ে আসুন।”ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকা থেকে কুষ্টিয়াগামী হানিফ এন্টারপ্রাইজের একটি বাসে (নম্বর: ৩৭৫০) যাওয়ার পথে নিখোঁজ হন তাঁরা। বাসটি সাভারের নবীনগর এলাকায় পৌঁছালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে ৮ থেকে ১০ জন তাঁদের নামিয়ে নিয়ে যায়। এরপর থেকে দীর্ঘ ১৪ বছরেও তাঁদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।উল্লেখ্য, গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর ওয়ালিউল্লাহ ও মুকাদ্দাসের সন্ধানে ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি পুনর্গঠন করে বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।এনআই
একই পদে একই কাজ, ভিন্ন নীতি কেন—ইবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন
প্রভাষক নিয়োগে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় বৈষম্য বাতিলের দাবিতে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা। আল কুরআন, আল হাদিস, আরবি সাহিত্য ও আল ফিকহ বিষয়ে প্রভাষক পদে আবেদনের ক্ষেত্রে আলাদা যোগ্যতা নির্ধারণকে বৈষম্যমূলক বলে অভিযোগ করেন তারা।মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন দাবি-সংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। এ সময় তারা ‘একই পদ একই কাজ, ভিন্ন নীতি কেন আজ?’, ‘অনার্স দিয়ে বিসিএস হয়, প্রভাষক কেন নয়’, ‘একশন টু একশন, ডাইরেক্ট একশন’, ‘অনার্সে যোগ্যতা, তবুও কেন বঞ্চনা’ এবং ‘২৪-এর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই’—এমন নানা স্লোগান দেন।শিক্ষার্থীরা বলেন, সাম্প্রতিক প্রভাষক নিবন্ধন বিজ্ঞপ্তিতে মাদ্রাসা শিক্ষা ধারার কিছু বিষয়ে—আল হাদিস, আল কুরআন, আরবি সাহিত্য ও আল ফিকহ—আবেদনের জন্য মাস্টার্স ডিগ্রি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অথচ সমমনা অন্যান্য বিষয়ে অনার্স ডিগ্রিধারীরাই প্রভাষক পদের জন্য আবেদন করতে পারছেন। এতে করে মাদ্রাসা শিক্ষা ধারার শিক্ষার্থীরা বারবার বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশে বৈষম্য দূর হওয়ার যে প্রত্যাশা ছিল, বাস্তবে তা প্রতিফলিত হচ্ছে না। শিক্ষাগত যোগ্যতায় সমতা থাকা সত্ত্বেও শুধু বিভাগভিত্তিক ভিন্ন নীতি গ্রহণ গ্রহণযোগ্য নয়।এ সময় শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো—১) মাদ্রাসা শিক্ষায় আরবি প্রভাষক পদের ক্ষেত্রে মাস্টার্সের শর্ত বাতিল করে অনার্স ডিগ্রিকে যোগ্যতা হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। তা না হলে, যেসব বিষয়ে অনার্স ডিগ্রিধারীরা প্রভাষক পদের জন্য আবেদন করতে পারছেন, সেসব ক্ষেত্রেও মাস্টার্স বাধ্যতামূলক করতে হবে।২) কামিল পর্যায়ে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে। আগে যেখানে ৮০০ নম্বরের পরীক্ষা ছিল, বর্তমানে তা ১৭০০ নম্বরে উন্নীত হলেও শিক্ষক সংখ্যা কমানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা। বিষয় বাড়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সব ক্যাটাগরিতে শিক্ষক নিয়োগ বাড়ানোর দাবি জানান তারা।৩) অনার্স ডিগ্রিধারীদের সহকারী মৌলভী পদে বিএড ছাড়াই আবেদন করার সুযোগ দিতে হবে এবং পদটিকে দশম গ্রেডভুক্ত করতে হবে।শিক্ষার্থীরা জানান, দাবি আদায় না হলে তারা আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।ইখা
গণ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির নতুন কমিটি গঠন
সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (গবিসাস) ত্রয়োদশ কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠন করা হয়েছে। এতে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মোজাহিদুল ইসলাম নিরব এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন তাহমিদ হাসান।মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইকিউএসি সভাকক্ষে এক বছর মেয়াদি এই কমিটির ঘোষণা দেওয়া হয়।১০ সদস্যবিশিষ্ট কার্যনির্বাহী পরিষদের অন্য সদস্যরা হলেন—যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মাহিদুজ্জামান সিয়াম, অর্থ সম্পাদক মো. রাজিউল ইসলাম শান্ত, সাংগঠনিক সম্পাদক মবিনুল ইসলাম রাশা, দপ্তর সম্পাদক সানজিদা খানম ঊর্মি, ক্রীড়া সম্পাদক জান্নাতুল লামিশা, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. রুবাই ইসলাম চয়ন এবং কার্যনির্বাহী সদস্য শামিম রেজা ও শরীফুল ইসলাম রিফাত।নতুন কমিটি ঘোষণার অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গবিসাসের সদ্য বিদায়ী সভাপতি সানজিদা জান্নাত পিংকি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা ও কৃষি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. ফজলুল করিম।এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন গবিসাসের বর্তমান ও সাবেক নেতৃবৃন্দ, প্রক্টরিয়াল বডির সদস্য, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (গকসু) সদস্য এবং বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।ইখা
নোবিপ্রবিতে ৭ মাস ধরে পিএইচডি ফেলোশিপ বন্ধ, গবেষণায় স্থবিরতা
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) পিএইচডি ফেলোশিপ ব্যবস্থাপনায় চরম অসঙ্গতি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ উঠেছে রিসার্চ সেলের বিরুদ্ধে । একদিকে গবেষণা নীতিমালা, ফেলোশিপ এগ্রিমেন্ট ও রিসার্চ ইথিক্স নিয়ে ধারাবাহিক প্রশাসনিক কার্যক্রম চললেও, দীর্ঘ ৭ মাস ধরে ফেলোশিপের অর্থ পাচ্ছেন না পিএইচডি গবেষকরা। এতে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর গবেষণা কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ার পাশাপাশি গবেষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।রিসার্চ সেল সূত্রে পাওয়া অফিসিয়াল নোটিশ অনুযায়ী, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে নোবিপ্রবি রিসার্চ সেলের উদ্যোগে ‘রিসার্চ ইথিক্স ও পিএইচডি ফেলোশিপ এগ্রিমেন্ট’ সংক্রান্ত ওয়ার্কশপ ও সেশন আয়োজন করার কথা থাকলেও পরবর্তীতে দুইবার নোটিশ দিয়ে ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ এ করার কথা ছিলো। কিন্তু অদৃশ্য কারণে ১৯ তারিখেও সেশনটি আয়োজন করা হয় নাই।তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, এসব কার্যক্রম চলাকালীন সময়েই একাধিক পিএইচডি গবেষক দীর্ঘ ৭ মাস ধরে ফেলোশিপের অর্থ পাননি। ফলে প্রশাসনের অগ্রাধিকার ও বাস্তব পদক্ষেপ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পিএইচডি গবেষক জানান, তিনি ২০২৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর গবেষণা কার্যক্রম শুরু করেন। প্রথম বছর থেকেই নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে গেছেন। দিন রাত এক করে, এমনকি ঈদের ছুটিও ক্যাম্পাসে কাটাতে হয়েছে গবেষণার চাপে। তার গবেষণার অগ্রগতি পিএইচডি বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট সবাই সন্তোষজনক বলে মূল্যায়ন করেছেন। প্রথম বছরের কাজের ভিত্তিতে তিনি তিনটি ভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে অংশগ্রহণ করেন। পাশাপাশি একটি রিভিউ পেপার ও একটি ল্যাবভিত্তিক গবেষণাপত্র বর্তমানে Q1 মানের আন্তর্জাতিক জার্নালে ‘under review’ অবস্থায় রয়েছে। নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তিনি পিএইচডি বোর্ডের সামনে সফলভাবে প্রথম বছরের কাজ উপস্থাপন করেন। বর্তমানে দ্বিতীয় বছরের গবেষণা চলমান, যার প্রায় ৫০ শতাংশ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তবে অর্থনৈতিক সংকটে গবেষণা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানান তিনি। তার ভাষ্যমতে, গবেষণার প্রয়োজনীয় খরচ চালাতে গিয়ে সুপারভাইজারকে ব্যক্তিগতভাবে কয়েক লক্ষ টাকা ব্যয় করতে হয়েছে, যা কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থায় গ্রহণযোগ্য নয়। অন্যদিকে গবেষক নিজেও প্রায় ৫০ হাজার টাকা নিজের পকেট থেকে খরচ করেছেন।তিনি আরোও জানান, প্রায় ৩ মাস আগে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার গবেষণা ব্যয়ের বাউচার রিসার্চ সেলে জমা দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি বা লিখিত জবাব পাওয়া যায়নি। আন্তর্জাতিক সেমিনারে অংশগ্রহণের জন্য বরাদ্দ অর্থের বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। গবেষণাসংক্রান্ত কাজে তাইওয়ানে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হলেও প্রয়োজনীয় আর্থিক ও প্রশাসনিক সহায়তা না থাকায় তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, টানা ৭ মাস ধরে নিয়মিত ফেলোশিপের অর্থ প্রদান বন্ধ থাকা সত্ত্বেও কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।অন্য আরেকজন পিএইচডি স্টুডেন্ট বলেন- পিএইচডি ফেলোশিপ পাওয়া গিয়েছিল শেষ জুন ২০২৫ এর পরে ৭ মাস হয়ে গিয়েছে, ফেলোশিপের কোন আপডেট পাওয়া যাচ্ছে না। জানুয়ারী মাসে ১২,১৪,১৯ তারিখ ৩ টা নোটিশ হয়েছে। কোন আপডেট পাওয়া যাচ্ছে না। ফেলোশিপ এর অর্থ এবং বার্ষিক অর্থায়নের না পাওয়ার কারণে গবেষণা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড.মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন- আমরা তাদের সাথে এগ্রিমেন্ট এ যাচ্ছি। এগ্রিমেন্ট ছাড়া টাকা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না কারণ যদি মাঝখানে কেউ পিএইচডি ফেলোশিপ ছেড়ে চলে যায় তাহলে টাকার কি হবে,যেহেতু এটা সরকারি টাকা এটার কি হবে। এই জন্য আমরা তাদের সাথে একটা এগ্রিমেন্ট এ যাচ্ছি। এগ্রিমেন্টটা প্রক্রিয়াধীন আছে, এটা বিশ্ববিদ্যালয় এগ্রিমেন্ট করবে। পিএইচডি ফেলোশিপ এর সাথে রিসার্চ সেলের একটা এগ্রিমেন্ট হবে যে এরা যদি মাঝপথে ইনকমপ্লিটলি কাজটা রেখে দিয়ে চলে যায় তাহলে তাহলে টাকার কি হবে যেহেতু এটা সরকারি টাকা। এই জন্য এগ্রিমেন্টটা হবে।৭ মাস ধরে টাকা না পাওয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড.মুহাম্মদ ইসমাইল বলেন- পিএইচডি ফেলোশিপ এর টাকা দেওয়ার বিষয়টি অফিসিয়াল প্রসেস এ আছে। আগামী বৃহস্পতিবার দেওয়ার কথা।পিএইচডি শিক্ষার্থীদের আবাসিক সুবিধার বিষয়ে তিনি আরোও বলেন, আমরা আমাদের আন্ডার গ্রাজুয়েট শিক্ষার্থীদের আবাসিক সুবিধা দিতে পারতেছি নাহ, পিএইচডি স্টুডেন্টদের তো দেওয়ার কথায় নাহ। তারপরে আমরা লাস্ট মিটিংয়ে আমাদের আবাসিক এলাকার কিছু ফ্ল্যাটকে পিএইচডি স্টুডেন্টদেরকে বরাদ্দ দেওয়ার জন্য চিন্তা করছি, এই বিষয়ে নীতিমালা হচ্ছে। নীতিমালা হলে আমরা সেই আলোকে ব্যবস্থা করবো।পিএম
তথ্য-প্রযুক্তি
সব দেখুন
ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের নিবন্ধন বাতিল করবেন যেভাবে
নিজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সিমকার্ড পরিবর্তন করতে হলে কিংবা অন্য কাউকে ব্যবহার করতে দিতে হলে অথবা বিক্রির আগে অবশ্যই মোবাইল ডি-রেজিস্ট্রেশন করতে হবে বলে নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি)।মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) বিটিআরসির স্পেকট্রাম বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ‘ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনআইআর)’ সিস্টেমটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হয়েছে। এর আওতায় নেটওয়ার্কে সচল সব মোবাইল ফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হয়েছে।ফলে এখন থেকে নিজের নামে নিবন্ধিত মোবাইল ফোনের সিমকার্ড পরিবর্তন, অন্য কাউকে ব্যবহার করতে দেওয়া কিংবা বিক্রির আগে অবশ্যই ডি-রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। অর্থাৎ জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) সঙ্গে যুক্ত হ্যান্ডসেটের নিবন্ধন বাতিল বা অবমুক্ত করতে হবে।এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সিম কেনার সময় ব্যবহৃত এনআইডি বা পাসপোর্ট নম্বরের শেষ চারটি সংখ্যা প্রয়োজন হবে। নিবন্ধিত ফোন বিক্রি বা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া এখন থেকে অনুসরণ করতে হবে। নিবন্ধিত মুঠোফোন ‘ডি-রেজিস্ট্রেশন’ করার উপায়সিটিজেন পোর্টাল (neir.btrc.gov.bd)এনইআইআর পোর্টালে লগ ইন করে ড্যাশবোর্ডে যেতে হবে। তালিকা থেকে ডিভাইস নির্বাচন করতে হবে। ‘ডি-রেজিস্টার’ এ ক্লিক করুন এবং প্রয়োজনীয় বিবরণ দিয়ে ডি-রেজিস্টার প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে হবে।ইউএসএসডি চ্যানেল (*১৬১৬১#)মোবাইলের কল অপশনে যেয়ে ডায়াল করুন *১৬১৬১#। এরপর ডি রেজিষ্ট্রেশন অপশনে ক্লিক করে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করুন।তবে ডি-রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে গ্রাহক তার ফোনে যে সিমটি ব্যবহার করছেন তা অবশ্যই নিজের এনআইডি দিয়ে নিবন্ধিত হতে হবে। ক্লোন বা ডুপ্লিকেট আইএমইআই নম্বর যুক্ত হ্যান্ডসেট ডি-রেজিস্ট্রেশন করার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত তথ্য হিসেবে পরবর্তী ব্যবহারকারীর সিম নম্বর দিতে হবে।ডি-রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানতে বিটিআরসি’র ওয়েবসাইট neir.btrc.gov.bd ভিজিট করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিটিআরসি’র কল সেন্টার (১০০) অথবা সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটরের নিকটস্থ কাস্টমার কেয়ার সেন্টার থেকেও সহায়তা নেওয়া যাবে।এমআর-২
আইফোন বিক্রিতে নতুন রেকর্ড অ্যাপলের
আইফোন বিক্রিতে নতুন ইতিহাস গড়েছে অ্যাপল। সর্বশেষ প্রান্তিকে আইফোন থেকে আয় হয়েছে ৮৫ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি। এটাই আইফোনের ইতিহাসে এক প্রান্তিকে সর্বোচ্চ আয়।২০২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের আয় প্রতিবেদন প্রকাশ করে এ তথ্য জানায় অ্যাপল। সব মিলিয়ে এ সময়ে কোম্পানির মোট আয় দাঁড়িয়েছে ১৪৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ১৬ শতাংশ বেশি।অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী টিম কুক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বলেন, আইফোনের চাহিদা ছিল “অবিশ্বাস্যরকম বেশি”। তার ভাষায়, “এটাই আমাদের সবচেয়ে শক্তিশালী আইফোন লাইনআপ।” তিনি আরও বলেন, জনপ্রিয়তার দিক থেকেও এটি আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে।তবে সাফল্যের পেছনে বড় বাধাও ছিল। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নতুন সিরি সংস্করণ চালু হতে দেরি হয়েছে। তারপরও বিক্রি কমেনি।আইফোন ১৭ সিরিজ এতে বড় ভূমিকা রেখেছে। বেস মডেলেই দেওয়া হয়েছে আগে শুধু ‘প্রো’ সংস্করণে থাকা কিছু ফিচার। যেমন- অলওয়েজ-অন ডিসপ্লে। এ ছাড়া রয়েছে বেশি রিফ্রেশ রেটের স্ক্রিন।‘আইফোন এয়ার’ মডেলের বিক্রি প্রত্যাশার চেয়ে কম হয়েছে- এমন গুঞ্জনও ছিল। তবে সেটির প্রভাব মোট বিক্রিতে তেমন পড়েনি বলে ইঙ্গিত মিলেছে।তবে বাড়তি চাহিদার কারণে সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। টিম কুক জানান, আইফোন ১৭–এর উচ্চ চাহিদার কারণে সরবরাহ কিছুটা সীমিত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে চিপ তৈরিতে ব্যবহৃত উন্নত প্রযুক্তির সরবরাহে চাপ রয়েছে।অন্যদিকে অ্যাপলের সেবাভিত্তিক আয়ও বেড়েছে। অ্যাপল মিউজিক, আইক্লাউড, অ্যাপল টিভি প্লাসসহ বিভিন্ন সাবস্ক্রিপশন সেবা থেকে আয় বেড়েছে ১৪ শতাংশ। তবে ম্যাক কম্পিউটার ও ওয়্যারেবল পণ্যের আয় কিছুটা কমেছে।এখন অ্যাপলের বড় লক্ষ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। আগামী মাসগুলোতে সিরিতে আনা হবে নতুন এআই সুবিধা। এ কাজে গুগলের সঙ্গে অংশীদারিত্ব করছে অ্যাপল। গুগলের জেমিনি এআই মডেলের বিশেষ সংস্করণ ব্যবহার করা হবে সিরির উন্নত সংস্করণে।এ ছাড়া একটি এআই স্টার্টআপও কিনছে অ্যাপল। প্রতিষ্ঠানটির নাম কিউ.এআই। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারে এ অধিগ্রহণ হতে যাচ্ছে।এই স্টার্টআপের প্রযুক্তি ভবিষ্যতের ডিভাইসে ব্যবহার হতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের পেটেন্টে এমন প্রযুক্তির ইঙ্গিত আছে যা হেডফোন বা চশমায় ব্যবহার করা যাবে। মুখের ত্বকের সূক্ষ্ম নড়াচড়ার মাধ্যমে নির্দেশ দেওয়া সম্ভব হবে—এমন ধারণাও আছে।শুধু তা-ই নয়, ভবিষ্যতে সিরিকে পুরোপুরি এআই চ্যাটবটে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। আইফোন ও ম্যাক ডিভাইসের ভেতরেই থাকবে এই স্মার্ট সহকারী। শোনা যাচ্ছে, সিরির জন্য আলাদা এআইভিত্তিক ওয়েব সার্চ টুলও তৈরি করছে অ্যাপল।এইচএ
কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহারে ফ্রি প্রশিক্ষণ দিচ্ছে যুক্তরাজ্য
কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারে দক্ষ করতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। চালু করা হয়েছে একাধিক অনলাইন প্রশিক্ষণ কোর্স। এর মধ্যে অনেক কোর্সে বিনামূল্যে অংশ নেওয়া যাচ্ছে। প্রযুক্তি খাতের বড় প্রতিষ্ঠানগুলো কোর্স তৈরিতে যুক্ত রয়েছে। অ্যামাজন, গুগল ও মাইক্রোসফট এ উদ্যোগে সহায়তা করেছে। মোট ১৪টি কোর্স শেষ করলে পাওয়া যাবে ভার্চুয়াল ব্যাজ।কোর্সগুলোতে শেখানো হবে এআই টুল ব্যবহারের মৌলিক কৌশল। যেমন- চ্যাটবটকে কীভাবে কার্যকরভাবে প্রশ্ন করতে হয়? প্রশাসনিক কাজের সহকারী হিসেবে এআই ব্যবহার, দ্রুত নোট লেখা, ইমেইল খসড়া তৈরি ও তথ্য গোছানো।সরকারের লক্ষ্য বড় হচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে এক কোটি কর্মীকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা। এ উদ্যোগকে ১৯৭১ সালে ওপেন ইউনিভার্সিটি চালুর পর সবচেয়ে বড় দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি বলা হচ্ছে।যুক্তরাজ্যের প্রযুক্তিমন্ত্রী লিজ কেন্ডাল বলেছেন, তাদের লক্ষ্য মানুষ যেন কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহারে আত্মবিশ্বাসী হয়। পরিবর্তন থামানো যাবে না। তবে পরিবর্তনের ফল কী হবে, তা নীতিনির্ধারণেই ঠিক হয়। ঝুঁকি থেকে মানুষকে সুরক্ষা দিয়ে এআইয়ের সুফল সবার কাছে পৌঁছে দিতে চায় সরকার।তবে সমালোচনাও আছে। ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক পলিসি রিসার্চ (আইপিপিআর) বলছে, শুধু চ্যাটবট ব্যবহার শেখালেই হবে না। কর্মীদের দরকার বিশ্লেষণী চিন্তা। সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ও নেতৃত্বগুণ। থাকতে হবে এআই নিরাপদভাবে ব্যবহারের আত্মবিশ্বাস।সংস্থাটির গবেষক রোয়া পাওয়েল বলেন, এআই যুগের দক্ষতা ছোট টেকনিক্যাল কোর্সে সীমাবদ্ধ নয়। মানুষকে বিস্তৃত দক্ষতায় প্রস্তুত করতে হবে।ব্রিটিশ কম্পিউটার সোসাইটি (বিসিএস)–ও উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে তারা বলছে, দায়িত্ব শুধু কর্মীদের নয়। প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ পর্যায়েও প্রযুক্তি বোঝার সক্ষমতা বাড়াতে হবে। বোর্ড পর্যায়ের সিদ্ধান্ত নির্ধারকদেরও এআই সম্পর্কে জ্ঞান থাকা জরুরি।কোর্সগুলোর সময়সীমা ভিন্ন। কিছু কোর্স ২০ মিনিটের। কিছু আবার কয়েক ঘণ্টার। যুক্তরাজ্যের যে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক এতে অংশ নিতে পারবেন।এ উদ্যোগে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে বেশ কয়েকটি বড় সংস্থা। এর মধ্যে আছে এনএইচএস, ব্রিটিশ চেম্বার্স অব কমার্স এবং লোকাল গভর্নমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন। তারা তাদের কর্মী ও সদস্যদের অংশ নিতে উৎসাহ দেবে।এইচএ
হ্যাকার থেকে রক্ষা পেতে স্ক্যাম অ্যান্ড্রয়েডের ৪টি নতুন স্মার্ট ফিচার
ব্যবহারকারীদের আরও নিরাপদ ও সংযুক্ত রাখতে অ্যান্ড্রয়েডে যুক্ত হলো একগুচ্ছ নতুন ফিচার। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তায় তৈরি এসব সুবিধা প্রতিদিনের যোগাযোগকে করবে আরও সহজ, নিরাপদ ও স্মার্ট। সন্দেহজনক মেসেজ শনাক্ত করা থেকে শুরু করে বন্ধু–পরিবারের লাইভ লোকেশন দেখা কিংবা গাড়ি পার্ক করা অবস্থায় গেম খেলা সবই এখন আরও সহজ অ্যান্ড্রয়েডে। জেনে জেনে নেয়া যাক অ্যান্ড্রয়েডের নতুন ৪টি ফিচার সম্পর্কে। সন্দেহজনক মেসেজে সঙ্গে সঙ্গে সতর্কবার্তা: প্রতারণা থেকে ব্যবহারকারীদের রক্ষা করতে গুগল মেসেজেসে যুক্ত হয়েছে এআই-চালিত স্ক্যাম ডিটেকশন। এই ফিচার সন্দেহজনক কথোপকথনের ধরণ শনাক্ত করে আগেই সতর্ক করে দেবে। অনেক সময় নিরীহ মেসেজ থেকেই ধীরে ধীরে প্রতারণা শুরু হয় এই ফিচার সেই ঝুঁকি চিহ্নিত করে রিয়েল-টাইম সতর্কবার্তা দেবে। প্রয়োজনে এক ক্লিকেই মেসেজ ব্লক ও রিপোর্ট করা যাবে। ভালো খবর হলো, এই প্রক্রিয়া পুরোপুরি ডিভাইসের মধ্যেই সম্পন্ন হয় আপনার ব্যক্তিগত কথোপকথন থাকবে সম্পূর্ণ নিরাপদ।লাইভ লোকেশন শেয়ার করে থাকুন নিশ্চিন্ত: এবার ফাইন্ড মাই ডিভাইস অ্যাপেই বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে লাইভ লোকেশন শেয়ার করা যাবে। কারও সঙ্গে দেখা করার সময় বা প্রিয়জন নিরাপদে বাসায় পৌঁছেছেন কি না সেটা নিশ্চিত করতে এই ফিচার বেশ কাজে আসবে। ম্যাপে সরাসরি দেখা যাবে আপনার পরিচিতদের অবস্থান। কাকে, কত সময়ের জন্য লোকেশন দেখাবেন সবকিছুই থাকবে আপনার নিয়ন্ত্রণে, সঙ্গে থাকবে নিয়মিত রিমাইন্ডার।গাড়ি পার্ক করা অবস্থায় গেমিংয়ের মজা: অ্যান্ড্রয়েড অটোতে যুক্ত হয়েছে নতুন গেমিং সুবিধা। গাড়ি পার্ক করা থাকলে এখন গাড়ির স্ক্রিনেই খেলা যাবে জনপ্রিয় গেমগুলো। অপেক্ষার সময়টুকু আর বিরক্তিকর নয় গেম খেলেই কাটানো যাবে সময়।কেনাকাটায় স্মার্ট সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে ক্রোম: অ্যান্ড্রয়েডে ক্রোম ব্রাউজারে যুক্ত হয়েছে নতুন শপিং ইনসাইট। এখন পণ্যের দামের ইতিহাস, মূল্য কমার নোটিফিকেশন কিংবা বিভিন্ন ওয়েবসাইটের দাম তুলনা করা যাবে সহজেই। ঠিক সময়ে কেনাকাটা করতে চাইলে ক্রোমের অ্যাড্রেস বারে থাকা “প্রাইস ইস লো” নোটিফিকেশনই হয়ে উঠবে আপনার গাইড।সব মিলিয়ে, অ্যান্ড্রয়েডের এই নতুন ফিচারগুলো শুধু প্রযুক্তিগত আপডেট নয় বরং ব্যবহারকারীদের দৈনন্দিন জীবনকে আরও নিরাপদ, সংযুক্ত ও স্বস্তিদায়ক করে তুলতেই এই উদ্যোগ। প্রযুক্তির সঙ্গে নিরাপত্তা ও সুবিধার ভারসাম্য রাখতেই অ্যান্ড্রয়েডের এই নতুন পদক্ষেপ।এইচএ
হোয়াটসঅ্যাপ-ফেসবুক -ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারে গুনতে হবে টাকা
সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় এক আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে টেক জায়ান্ট মেটা। জনপ্রিয় তিন প্ল্যাটফর্ম— হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকের জন্য বিশেষ প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন চালুর পরিকল্পনা করছে মার্ক জাকারবার্গের এই সংস্থা। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই নতুন সেবাটি বর্তমান ‘মেটা ভেরিফাইড’ বা ব্লু টিক সাবস্ক্রিপশন থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হবে। মূলত যারা সাধারণ ব্যবহারকারীদের তুলনায় একটু বেশি আধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করতে চান, তাদের কথা মাথায় রেখেই এই বিশেষ পেইড প্ল্যান নিয়ে আসছে মেটা।দীর্ঘ সময় ধরে এই তিনটি অ্যাপই বিশ্বজুড়ে বিনামূল্যে ব্যবহার করা গেলেও এখন আয়ের নতুন উৎস খুঁজছে সংস্থাটি। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিতে বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পর সেই ব্যয় সামলাতে এই প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিবেদনগুলো বলছে, এই প্রিমিয়াম সেবার মূল আকর্ষণ হবে মেটার উন্নত ‘মানুস এআই এজেন্ট’। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা স্মার্ট রিপ্লাই, দ্রুত কন্টেন্ট তৈরির সুবিধা এবং স্বয়ংক্রিয় নানা কাজ সহজেই সেরে নিতে পারবেন। এছাড়া ইনস্টাগ্রামের জন্য ‘ভাইবস’ নামক একটি নতুন এআই টুল যুক্ত হতে পারে, যার মাধ্যমে আকর্ষণীয় ছোট এআই ভিডিও তৈরি করা সম্ভব হবে। ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীদের দীর্ঘদিনের কিছু ব্যক্তিগত চাহিদাও এই প্রিমিয়াম মডেলে জায়গা পেতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। যেমন—কে আপনাকে ফলো করছে না তা দেখার বিশেষ সুবিধা কিংবা অন্য পক্ষকে না জানিয়েই গোপনে তাদের ‘স্টোরি’ দেখার অপশন। হোয়াটসঅ্যাপের ক্ষেত্রেও প্রিমিয়াম গ্রাহকদের জন্য বাড়তি কাস্টমাইজেশন এবং এআই-চালিত চ্যাট ফিচার যুক্ত হতে পারে। তবে মেটা কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, এই নতুন সুবিধাগুলো নেওয়া পুরোপুরি ব্যবহারকারীর ইচ্ছার ওপর নির্ভর করবে। যারা অর্থ খরচ করতে চান না, তারা আগের মতোই বর্তমানের ফ্রি ভার্সনটি ব্যবহার চালিয়ে যেতে পারবেন।নতুন এই পদক্ষেপের ফলে গোপনীয়তা নিয়ে ব্যবহারকারীদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে হোয়াটসঅ্যাপে বিজ্ঞাপনের আনাগোনা বাড়ার পর অনেকেই আশঙ্কা করছেন যে তাদের ব্যক্তিগত তথ্য ভবিষ্যতে এআই প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহার করা হবে কি না। যদিও মেটার দাবি, ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত সুরক্ষার নীতিতে কোনো পরিবর্তন আনা হবে না। মূলত উন্নত এআই অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতেই এই প্রিমিয়াম মডেলের আবির্ভাব ঘটছে। এখন দেখার বিষয়, সোশ্যাল মিডিয়ার এই নতুন ব্যবসায়িক মডেলে সাধারণ ব্যবহারকারীরা কতটা সাড়া দেন এবং মেটার এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয়।এইচএ
শিশুদের মানসিক ক্ষতির অভিযোগে ফেসবুক, টিকটক ও ইউটিউবের বিরুদ্ধে মামলা
যুক্তরাষ্ট্রে নজিরবিহীন মামলার মুখে পড়েছে বিশ্বের ৩ জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্লাটফর্ম ফেসবুক, গুগল ও টিকটক। কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতি আসক্তি তৈরি এবং এর ফলে মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করার অভিযোগে আদালতের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে জনপ্রিয় এই ৩ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে। এএফপির প্রতিবেদন মতে, স্থানীয় সময় সোমবার (২৬ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলসে ফেসবুক, টিকটক ও ইউটিউবের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা, অ্যালফাবেট ও বাইটড্যান্সের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) থেকে আদালত এই মামলার জুরি নির্বাচন শুরু করবে। এই মামলাকে মার্কিন বিচার ব্যবস্থার ইতিহাসের একটি ‘মাইলফলক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন বিশ্লেষকরা।এই মামলার রায় ৩ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিরুদ্ধে গেলে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে এ ধরনের আরও হাজারো মামলার ঢেউ উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে। আদালতে মেটার সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গকে সাক্ষ্য দিতে ডাকা হতে পারে বলে জানা গেছে। কম বয়সি শিশু, তরুণ ও তরুণীরা ওই তিন প্রতিষ্ঠানের সেবা ও পণ্য ব্যবহার করে অবসাদ, খাবারে অনাসক্তি, মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি, এমনকি, আত্মহত্যাও করেছেন—এমন দাবি করেছেন বাদী পক্ষের হাজারো মানুষ। বাদী-পক্ষের আইনজীবীরা ১৯৯০ ও ২০০০ এর দশকে তামাক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা আইনি কৌশল বেছে নিচ্ছেন। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে বিশ্বখ্যাত সিগারেট উৎপাদন ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ‘ত্রুটিপূর্ণ’ পণ্য বিক্রির অভিযোগ আনা হয়েছিল। বিচারক নিয়োগের পর আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে বিচারপতি ক্যারোলিন কুল-এর আদালতে মামলার কার্যক্রম শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই মামলা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন ১৯ বছর বয়সি এক মার্কিন নারী। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার খাতিরে শুধু নামের আদ্যাক্ষর ‘কে জি এম’ ব্যবহার করে তার পরিচয় দেয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তির কারণে তিনি ‘মানসিক ক্ষতির’ শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ। যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের মামলা ও আদালতের অভিযোগ গ্রহণের নজির নেই। সোশাল মিডিয়া ভিক্টিমস ল সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা ম্যাথু বার্গম্যান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এবারই প্রথম কোনো সমাজমাধ্যম প্রতিষ্ঠানকে শিশুদের ক্ষতি করার অভিযোগে বিচারকদের সামনে দাঁড়াতে হচ্ছে।’ বার্গম্যানের আইনজীবীরা এ ধরনের প্রায় এক হাজার মামলার দায়িত্বে আছেন। আইনজীবীদের এই প্রতিষ্ঠানটি অনলাইনে তরুণ-তরুণীদের ক্ষতি করার জন্য সমাজমাধ্যম প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহির আওতায় আনার অঙ্গীকার করেছে। বার্গম্যান বলেন, ‘কে জি এম ও তার পরিবার যে একটি আদালতকক্ষে বিশ্বের সবচেয়ে বড়, ক্ষমতাবান ও বিত্তবান প্রতিষ্ঠানগুলোর মুখোমুখি দাঁড়াতে পেরেছেন, এটাই একটি উল্লেখযোগ্য ও গুরুত্বপূর্ণ বিজয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এটা বুঝতে পারছি যে এ ধরনের মামলাগুলো জেতা অনেক কঠিন এবং আগের, একই ধরনের ঘটনার নজির ও তথ্য-প্রমাণ টেনে বিজয়ী হওয়ার দায়ভার আমাদের ওপর বর্তেছে। আমাদেরকে প্রমাণ করতে হবে, এসব প্রতিষ্ঠান এমনভাবে তাদের প্ল্যাটফর্ম ডিজাইন করেছে যা কেজিএম-এর (মানসিক) ক্ষতি নিশ্চিত করে। এই দায়িত্ব আমরা খুশি মনেই কাঁধে নিয়েছি।’ এই বিচারের রায় ভবিষ্যতে একই ধরনের সব মামলার রায়কে সরাসরি প্রভাবিত করবে বলে মত দেন বার্গম্যান। গত সপ্তাহে অপর সমাজমাধ্যম স্ন্যাপচ্যাট আদালতের বাইরে চুক্তি করে এই মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছে। ওই চুক্তির বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্লাটফর্মগুলোর দাবি, মার্কিন যোগাযোগ নৈতিকতা আইনের ২৩০ ধারা তাদেরকে সুরক্ষা দিচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহারকারীরা কী পোস্ট করছেন, তা নিয়ে কোনো ধরনের দায়বদ্ধতা থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোকে রেহাই দেয় এই ধারা। তবে মামলায় বিবাদীদের যুক্তি—সমাজমাধ্যম প্রতিষ্ঠান এমনভাবে তাদের প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে, যা মানুষের মনোযোগ ধরে রাখে। পাশাপাশি সেখানে এমন সব কনটেন্টের প্রচারণা করা হয়, যা ব্যবহারকারীদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটায়। বার্গম্যান আরও বলেন, ‘আমরা সমাজমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম থেকে ক্ষতিকারক কন্টেন্ট সরিয়ে নিতে না পারার জন্য মূল প্রতিষ্ঠানগুলোকে দায়ী করছি না।’ তার ভাষায়, ‘তাদের দোষ, তারা এমনভাবে প্ল্যাটফর্মগুলো বানিয়েছে যা শিশুদের আসক্ত করে তোলে। তাদের এলগরিদম এমন যে শিশুরা কনটেন্ট থেকে চোখ সরাতে পারে না।’ ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নর্দার্ন ক্যালিফোর্নিয়া ও অন্যান্য অঙ্গরাজ্যের ফেডারেল আদালতেও একই ধরনের অভিযোগে অসংখ্য মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলার বিষয়ে উল্লেখিত তিন প্রতিষ্ঠান গণমাধ্যমের কাছে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। এইচএ
আইন-আদালত
সব দেখুন
নাহিদের রিট খারিজ, বিএনপি প্রার্থী কাইয়ুমের নির্বাচনে বাধা নেই
দ্বৈত নাগরিকত্ব ও তথ্য গোপনের অভিযোগে ঢাকা-১১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. এম এ কাইয়ুমের প্রার্থিতার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী নাহিদ ইসলামের রিট খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর ফলে ঢাকা-১১ আসনে ড. এম এ কাইয়ুমের নির্বাচনে কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবী।মঙ্গলবার (০২ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন লিপু, অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মূসা। কাইয়ুমের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান খান, ব্যারিস্টার কাজী আক্তার হোসেন। সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি) নাহিদ ইসলাম এ রিট দায়ের করেন। রিটে ঢাকা-১১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর প্রার্থিতা স্থগিত চাওয়া হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের রিটে বিবাদী করা হয়েছে।নাহিদ ইসলামের পক্ষে অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মূসা ও অ্যাডভোকেট আলী আজগর শরীফী রিটটি দায়ের করেন।এর আগে, ঢাকা-১১ আসনে ১২ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলটির ক্ষুদ্র ঋণ বিষয়ক সম্পাদক ড. এম এ কাইয়ুমের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।এমআর-২
প্রবাস
সব দেখুন
দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত
দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গ শহরে সন্ত্রাসীদের গুলিতে খালেদ নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। আজ শনিবার জোহানেসবার্গ শহরের ইন্ড স্ট্রিট এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।নিহত খালেদের বাড়ি বাংলাদেশের সিলেট জেলায়। স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশিদের বরাতে জানা যায়, তিনি তার মামা এডভোকেট আফরোজ উদ্দিনের মালিকানাধীন একটি ব্যবসা পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন। প্রতিদিনের মতো আজও দোকানে করতে গেলে সন্ত্রাসীরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।গুলিবিদ্ধ অবস্থায় খালেদকে দ্রুত উদ্ধার করে জোহানেসবার্গের একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে তার মরদেহ হাসপাতালেই রাখা হয়েছে।খালেদ জোহানেসবার্গে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত মুখ। তার আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে গভীর শোক ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।এফএস
লাইফস্টাইল
সব দেখুন
ঘাড় ব্যথা থেকে প্রতিকারের উপায়
অনেকেরই ঘাড় ব্যথা একটি নিত্যনৈমিত্তিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান যুগে দীর্ঘ সময় কম্পিউটারে কাজ করা, স্মার্টফোন ব্যবহারের আধিক্য এবং ভুল ভঙ্গিতে ঘুমানোর কারণে এই সমস্যাটি সাধারণ মনে হলেও এটি কখনো কখনো গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। এক সপ্তাহের বেশি ঘাড়ে ব্যথা থাকলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।ঘাড় ব্যথা তীব্র হলে তা আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ব্যাপক ব্যাঘাত ঘটায়, তাই সময়মতো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং এর কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি।চিকিৎসকদের মতে, ঘাড় ব্যথার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে দীর্ঘক্ষণ একই ভঙ্গিতে বসে থাকা বা মাথা নিচু করে কাজ করা, যা ঘাড়ের পেশিতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। এ ছাড়া দুর্ঘটনাজনিত আঘাত, খেলাধুলার সময় চোট বা মেরুদণ্ডের জটিল সমস্যা যেমন স্পন্ডাইলোসিস এই ব্যথার জন্য দায়ী হতে পারে। ঘাড়ের পেশিতে অতিরিক্ত টানের ফলে সৃষ্ট মাসল স্প্যাজম যেমন কষ্টদায়ক হতে পারে, তেমনি সংক্রমণ, টিউমার বা আর্থ্রাইটিসের মতো রোগও এই ব্যথার উৎস হতে পারে।ঘাড় ব্যথার লক্ষণ হিসেবে মূলত ঘাড়ে তীব্র বা হালকা ব্যথা, জ্বালাপোড়া অনুভব করা, ব্যথা হাতে বা বাহুতে ছড়িয়ে পড়া এবং ঘনঘন মাথাব্যথা দেখা দিতে পারে।ঘাড় ব্যথার চিকিৎসা সাধারণত এর কারণ ও তীব্রতার ওপর নির্ভর করে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যথানাশক বা পেশি শিথিলকারী ওষুধ সেবনের পাশাপাশি ফিজিওথেরাপি ব্যায়াম ঘাড়ের পেশি শক্তিশালী করতে অত্যন্ত কার্যকর।এ ছাড়া ব্যথা কমাতে হিট বা আইস থেরাপি এবং মেরুদণ্ডের চাপ কমাতে ট্রাকশন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। বিশেষ ক্ষেত্রে স্টেরয়েড ইনজেকশন বা সবশেষে সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে।তবে প্রতিরোধের কিছু অভ্যাস গড়ে তুললে এই সমস্যা থেকে দূরে থাকা সম্ভব। দীর্ঘ সময় একভাবে বসে না থেকে মাঝে মাঝে বিরতি নেওয়া, কম্পিউটারে কাজ করার সময় সঠিক ভঙ্গি বজায় রাখা এবং নিয়মিত ঘাড়ের ব্যায়াম করা জরুরি। পাশাপাশি শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং ভারী বস্তু তোলার সময় সতর্কতা অবলম্বন করলে মেরুদণ্ড ও ঘাড়ের ওপর বাড়তি চাপ এড়ানো যায়।নিজেই করুন প্রতিকার: প্রতিদিনকার রুটিনে কিছু পরিবর্তন এনে সাধারণ ঘাড় ব্যথার প্রতিকার করা যায়। বসে থাকার সময় আপনার মেরুদণ্ড যেন সরলরেখায় থাকে এবং কান সরাসরি আপনার কাঁধের ওপরে থাকে। দীর্ঘ সময় একটানা বসে কাজ না করে এক ঘণ্টা পরপর ১০ মিনিট বিরতি নিন। যদি দীর্ঘ দূরত্বে ভ্রমণ করেন বা দীর্ঘ সময় ধরে কম্পিউটারে কাজ করেন, তবে উঠে পড়ুন, ঘুরে দেখুন এবং ঘাড় ও কাঁধ সামনে–পেছনে প্রসারিত করুন। কাজের টেবিল–চেয়ার ও কম্পিউটার এমনভাবে সামঞ্জস্য করুন, যাতে মনিটর চোখের স্তরের সমান থাকে। এইচএ
