এইমাত্র
  • দেশ ছেড়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী
  • বঙ্গভবন নয়, এবার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় হবে মন্ত্রিসভার শপথ
  • ১৭ ফেব্রুয়ারি সকালে এমপি, বিকেলে মন্ত্রিসভার শপথ
  • মন্ত্রিপরিষদ সচিব হলেন এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া
  • ফলাফল বাতিল ও পুনর্নির্বাচন চান বিএনপি সমর্থিত ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী
  • মার্চেই শুরু হচ্ছে ইয়ুথ ক্রিকেট লিগ
  • সাইবেরিয়ায় তেলের বড় খনির সন্ধান পেয়েছে রাশিয়া
  • ভবিষ্যতের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: মির্জা ফখরুল
  • তারেক রহমানের শপথে শেহবাজ শরিফকে আমন্ত্রণের পরিকল্পনা
  • ডা. শফিকুর রহমান ও নাহিদ ইসলামের বাসায় যাবেন তারেক রহমান
  • আজ রবিবার, ১ ফাল্গুন, ১৪৩২ | ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
    বঙ্গভবন নয়, এবার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় হবে মন্ত্রিসভার শপথ
    নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও নতুন মন্ত্রিসভার শপথ নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। কবে শপথ হবে এবং নতুন মন্ত্রিসভায় কারা থাকছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানা জল্পনা। শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। আগে এ আয়োজন বঙ্গভবনে হলেও এবার প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে মন্ত্রিসভার শপথ।শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে সরকার গঠন করতে যাওয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর একাধিক সূত্র সময়ের কন্ঠস্বরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও নতুন মন্ত্রিসভার শপথের সময় ইতিমধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে এমপিদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে। শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন।একই দিন বিকেলে নতুন মন্ত্রিপরিষদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায়। এ শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পেয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে প্রায় দুই দশক পর আবারও সরকার গঠনের পথে দলটি।উল্লেখ্য, ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোটগ্রহণ হয়। এর মধ্যে বিএনপি ২০৯টি আসনে জয়ী হয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন। আর ১১ দলীয় জোটে থাকা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পেয়েছে ছয়টি আসন।১১ দলীয় জোটের হয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস পেয়েছে দুটি আসন। এছাড়া একটি করে আসনে জয়লাভ করেছে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন, খেলাফত মজলিস ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পেয়েছেন সাতটি আসন।এফএস
    ১৭ ফেব্রুয়ারি সকালে এমপি, বিকেলে মন্ত্রিসভার শপথ
    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও নতুন মন্ত্রিসভার শপথের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে এমপিদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে। শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। একই দিন বিকেলে নতুন মন্ত্রিপরিষদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায়। এ শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় এবং সরকার গঠন করতে যাওয়া বিএনপির একাধিক সূত্রে সময়ের কন্ঠস্বরকে এ তথ্য নিশ্চিত হয়েছে।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পেয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে প্রায় দুই দশক পর আবারও সরকার গঠনের পথে দলটি।নির্বাচনের ঘোষিত ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয় পেয়েছে। ফল ঘোষণা স্থগিত থাকা দুটি আসনেও দলটির প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। এ ছাড়া বিএনপির শরিকরা পেয়েছে তিনটি আসন। সব মিলিয়ে বিএনপি ও তার মিত্রদের আসন সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১২।অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন এবং তাদের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের শরিকরা পেয়েছে ৯টি আসন। ফলে জামায়াত ও তাদের মিত্রদের মোট আসন সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৭।ইতিমধ্যে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। এখন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ ও নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য তালিকা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। নতুন মন্ত্রিসভার শপথের আয়োজন করবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।এফএস

    জাতীয়

    সব দেখুন
    মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশীদের নিয়োগ বাতিল
    মন্ত্রিপরিষদ সচিব ডা. শেখ আব্দুর রশীদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সবিচ মোহাম্মদ মামুন শিবলী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, মন্ত্রিপরিষদ সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগকৃত ড. শেখ আব্দুর রশীদের নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ এতদ্বারা বাতিল করা হলো।জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর ডা. শেখ আব্দুর রশীদকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব পদে দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। প্রজ্ঞাপনে তখন বলা হয়, ২০১৮ সালের সরকারি চাকরি আইনের ৪৯ ধারা অনুযায়ী শেখ আব্দুর রশিদকে অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্মসম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে ১৪ অক্টোবর অথবা যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী দুই বছরের মেয়াদে মন্ত্রিপরিষদ সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হলো। ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ছয় দিনের মাথায় ২০২৪ সালের ১৩ অগাস্ট বিসিএস-৮২ ব্যাচের কর্মকর্তা সাবেক অতিরিক্ত সচিব শেখ আব্দুর রশীদকে পল্লী কর্মসহায়ক ফাইন্ডেশন-পিকেএসএফের চেয়ারম্যান করা হয়।তার চার দিনের মাথায় ঐ বছরের ১৭ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে কর্মজীবন শেষ করা ‘বঞ্চিত’ এ কর্মকর্তাকে সচিব পদমর্যাদায় ফিরিয়ে এনে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব করা হয়। এরপর ১৪ অক্টোবর মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এনআই
    দেশ ছেড়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী
    দেশ ছেড়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার আইসিটি ও টেলিযোগাযোগ বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। আজ শনিবার তিনি জার্মানির উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন।হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সূত্র জানায়, ফয়েজ আহমদ এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে (ইকে-৫৮৩) জার্মানি গেছেন। বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের একজন সহযোগী বলেন, ‘ফয়েজ আহমদ ৯ ও ১০ ফেব্রুয়ারি ছুটিতে ছিলেন।মন্ত্রণালয়ের আইসিটি ও টেলিযোগাযোগ দুই বিভাগই তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানিয়েছে। স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে আজ তিনি চলে গেছেন।’ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব ২০২৫ সালের ৫ মার্চ প্রতিমন্ত্রী মর্যাদায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী নিযুক্ত করা হয়। বুয়েট স্নাতক ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব এর আগে ২০২৪ সালের নভেম্বরে আইসিটি পলিসি অ্যাডভাইজার হিসেবে নিয়োগ পান।এফএস
    বঙ্গভবন নয়, এবার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় হবে মন্ত্রিসভার শপথ
    নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও নতুন মন্ত্রিসভার শপথ নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। কবে শপথ হবে এবং নতুন মন্ত্রিসভায় কারা থাকছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানা জল্পনা। শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। আগে এ আয়োজন বঙ্গভবনে হলেও এবার প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে মন্ত্রিসভার শপথ।শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে সরকার গঠন করতে যাওয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর একাধিক সূত্র সময়ের কন্ঠস্বরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও নতুন মন্ত্রিসভার শপথের সময় ইতিমধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে এমপিদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে। শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন।একই দিন বিকেলে নতুন মন্ত্রিপরিষদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায়। এ শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পেয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে প্রায় দুই দশক পর আবারও সরকার গঠনের পথে দলটি।উল্লেখ্য, ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোটগ্রহণ হয়। এর মধ্যে বিএনপি ২০৯টি আসনে জয়ী হয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন। আর ১১ দলীয় জোটে থাকা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পেয়েছে ছয়টি আসন।১১ দলীয় জোটের হয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস পেয়েছে দুটি আসন। এছাড়া একটি করে আসনে জয়লাভ করেছে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন, খেলাফত মজলিস ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পেয়েছেন সাতটি আসন।এফএস
    ১৭ ফেব্রুয়ারি সকালে এমপি, বিকেলে মন্ত্রিসভার শপথ
    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও নতুন মন্ত্রিসভার শপথের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে এমপিদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে। শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। একই দিন বিকেলে নতুন মন্ত্রিপরিষদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায়। এ শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় এবং সরকার গঠন করতে যাওয়া বিএনপির একাধিক সূত্রে সময়ের কন্ঠস্বরকে এ তথ্য নিশ্চিত হয়েছে।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পেয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে প্রায় দুই দশক পর আবারও সরকার গঠনের পথে দলটি।নির্বাচনের ঘোষিত ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয় পেয়েছে। ফল ঘোষণা স্থগিত থাকা দুটি আসনেও দলটির প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। এ ছাড়া বিএনপির শরিকরা পেয়েছে তিনটি আসন। সব মিলিয়ে বিএনপি ও তার মিত্রদের আসন সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১২।অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন এবং তাদের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের শরিকরা পেয়েছে ৯টি আসন। ফলে জামায়াত ও তাদের মিত্রদের মোট আসন সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৭।ইতিমধ্যে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। এখন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ ও নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য তালিকা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। নতুন মন্ত্রিসভার শপথের আয়োজন করবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।এফএস
    মন্ত্রিপরিষদ সচিব হলেন এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া
    প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব (চুক্তিভিত্তিক) এম সিরাজ উদ্দিন মিয়াকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন নিয়োগ-১ শাখা থেকে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।সিনিয়র সহকারী সচিব জেতী প্রু’র সই করা ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব (চুক্তিভিত্তিক) এম সিরাজ উদ্দিন মিয়াকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে (চুক্তিভিত্তিক) অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হলো। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ রয়েছে।এর আগে শনিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পৃথক একটি প্রজ্ঞাপনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করা হয়। সিনিয়র সহকারী সচিব মামুন শিবলীর সই করা ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গত ৮ অক্টোবর, ২০২৪ তারিখের প্রজ্ঞাপনমূলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগকৃত ড. শেখ আব্দুর রশীদের নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ এতদ্বারা বাতিল করা হলো।জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও ওই প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।এবি 
    বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানালো জাতিসংঘ
    ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের জন্য বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন জানিয়েছে জাতিসংঘ।শ‌নিবার (১৪ ফেব্রুয়া‌রি) জাতিসংঘ এক বার্তায় এই অভিনন্দন জানিয়েছে।বার্তায় উ‌ল্লেখ করা হয়, মহাসচিব সব রাজনৈতিক স্টেকহোল্ডারকে গতিশীলতা গড়ে তুলতে উৎসাহিত করেন, যাতে জাতীয় ঐক্য জোরদার করা যায়, গণতান্ত্রিক রীতিনীতি এবং আইনের শাসন, সংখ্যালঘুদের রক্ষা করার পাশাপা‌শি সব নাগ‌রিক যেন তাদের মানবাধিকার পূর্ণ উপভোগ নিশ্চিত করতে পারে। বাংলাদেশ যেহেতু তার উত্তরণে (এ‌লডি‌সি থেকে) অগ্রসর হচ্ছে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই সংস্কারের চেষ্টা করছে।এমআর-২
    জাতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষ কী, কীভাবে পরিচালিত হবে?
    দেশে বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হয়েছে। আজ (১৪ ফেব্রুয়ারি) আনুষ্ঠানিকভাবে গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে নির্বাচনের ফলাফল। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে শুরু হওয়ার কথা সংসদ অধিবেশন।এবারের সংসদ অবশ্য কিছুটা আলাদা হবে। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত এক কক্ষবিশিষ্ট সংসদ দেখা গেলেও এবারই প্রথম দুই কক্ষবিশিষ্ট সংসদ দেখা যাবে- নিম্নকক্ষ এবং উচ্চকক্ষ। নির্বাচনে যারা জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের নিয়ে হবে সংসদের নিম্নকক্ষ। নির্বাচিত ৩০০ জনের সঙ্গে সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য যুক্ত হবেন ৫০ জন।উচ্চকক্ষ গঠিত হবে প্রথম সংসদ অধিবেশন হওয়ার ২১০ দিনের মধ্যে। প্রথম ১৮০ দিন নিম্নকক্ষের সদস্যরা সংবিধান সংস্কারের কাজ সম্পন্ন করবেন। পরের ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সংসদ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যানুপাতে উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে, যার মেয়াদ থাকবে নিম্নকক্ষের শেষ কার্যদিবস পর্যন্ত। উচ্চকক্ষ গঠনের পদ্ধতি সংশোধিত সংবিধান ও প্রণীত আইনের ওপর নির্ভর করবে। সদস্যরা সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতে পারেন, আবার পরোক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থাও থাকতে পারে। বিশেষজ্ঞ, নারী বা সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে মনোনয়ন ব্যবস্থাও রাখা হতে পারে। উচ্চকক্ষে মোট সদস্য হবেন ১০০ জন। সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন দল যে পরিমাণ ভোট পাবে, সেই আনুপাতিক হারে (পিআর পদ্ধতি) সদস্য মনোনীত হবে। অর্থাৎ কোনো দল যদি ৪০ শতাংশ ভোট পায়, তাহলে তারা ৪০টি আসন পাবে। আবার কেউ ১ শতাংশ ভোট পেলে তাদের ১ জন প্রতিনিধি থাকবে উচ্চকক্ষে। আরও পড়ুন: যেভাবে পরিচালিত হয় জাতীয় সংসদ এবার আসা যাক সংসদের কাজ নিয়ে। বাংলাদেশের সংসদ মূলত আইন প্রণয়নের সর্বোচ্চ সভা। এখান থেকে রাষ্ট্রের বিভিন্ন আইন পাশ হয়ে থাকে। এখানে  একজন স্পীকার ও এক বা একাধিক ডেপুটি স্পীকার থাকেন, যারা সংসদের অধিবেশন পরিচালনা করেন। সংসদের একটি অধিবেশন শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে পরবর্তী অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। সংসদে মূলত আইন প্রণয়ন প্রস্তাব বিল আকারে হয়। এটি প্রথমে সংসদে প্রস্তাব করা হয়। পরে পরে বিবেচনা ও অনুমোদনের জন্য ভোট হয়। এছাড়া কোনো প্রকার কর আরোপ বা অর্থ ব্যয় করতে হলে সংসদের অনুমোদন লাগে। তবে সাংবিধানিকভাবে সংসদ পাস করা সব আইনের ওপর রাষ্ট্রপতির অনুমোদন প্রয়োজন। একটি বৈধ অধিবেশন চালানোর জন্য কোরাম (কথোপকথনে সভায় উপস্থিতি) প্রয়োজন, সাধারণত সদস্যদের একটি নির্দিষ্ট ন্যূনতম সংখ্যা উপস্থিত থাকতে হয়। উচ্চকক্ষ এবং নিম্নকক্ষ সংসদের ক্ষেত্রে সংবিধান সংস্কার বা সংশোধনের জন্য নিম্নকক্ষের দুই-তৃতীয়াংশের ভোট এবং উচ্চকক্ষের মেজরিটির ভোট লাগবে।এমআর-২
    দেশ গড়তে ঐক্যের ডাক দিলেন তারেক রহমান
    ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজয়ের পর সংবাদ সম্মেলন থেকে দেশ গড়তে ঐক্যের ডাক দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ৩টার পরে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বলরুমে এই নির্বাচন–পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান তারেক রহমান।তারেক রহমান বলেন, এবার দেশ গড়ার পালা। দেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন দুর্বলতা। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তিনি বলেন, আমরা শান্তভাবে বিজয় উদযাপন করেছি। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি যেন সৃষ্টি না হয়, সেজন্য আমি দল এবং জোটের নেতাকর্মীদের আনন্দ মিছিল করতে নিষেধ করেছি। আমরা দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে বিজয়ের শোকরিয়া আদায় করেছি।সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানান তারেক রহমান।বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন বিএনপি চেয়ারম্যান।এমআর-২

    রাজনীতি

    সব দেখুন
    তারেক রহমানকে ফুল ও মিষ্টি পাঠিয়েছেন মমতা
    বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও মিষ্টি পাঠিয়েছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–বিএনপির চেয়ারম্যানের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে ফুল ও মিষ্টি গ্রহণ করেন বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুমন।এর আগে, শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান–কে ‘ভাই’ সম্বোধন করে অভিনন্দন জানান। তিনি লেখেন, ‘বাংলাদেশের এই বিপুল জয়ের জন্য অভিনন্দন জানাই আমার তারেক ভাইকে, তার দলকে ও অন্যান্য দলকে। সবাই ভালো থাকুন, সুখী থাকুন।’একই পোস্টে তিনি আরও আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে সবসময় বাংলাদেশের সুসম্পর্ক বজায় থাকবে, এটাই আমরা কামনা করি।’এনআই
    তারেক রহমানকে ফুল ও মিষ্টি পাঠিয়েছেন মমতা
    বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও মিষ্টি পাঠিয়েছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–বিএনপির চেয়ারম্যানের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে ফুল ও মিষ্টি গ্রহণ করেন বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুমন।এর আগে, শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান–কে ‘ভাই’ সম্বোধন করে অভিনন্দন জানান। তিনি লেখেন, ‘বাংলাদেশের এই বিপুল জয়ের জন্য অভিনন্দন জানাই আমার তারেক ভাইকে, তার দলকে ও অন্যান্য দলকে। সবাই ভালো থাকুন, সুখী থাকুন।’একই পোস্টে তিনি আরও আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে সবসময় বাংলাদেশের সুসম্পর্ক বজায় থাকবে, এটাই আমরা কামনা করি।’এনআই
    রুহুল কবীর রিজভীর শারীরিক অবস্থার উন্নতি
    হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভীর শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার শরীরে জ্বর নেই এবং শ্বাসকষ্টও অনেকটাই কমে গেছে।তিনি রাজধানীর পান্থপথে অবস্থিত স্কয়ার হাসপাতাল–এ ভর্তি রয়েছেন।শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিএনপির এই নেতার ব্যক্তিগত সহকারী আরিফুর রহমান তুষার জানান, তিনি এখন অনেকটাই সুস্থতাবোধ করছেন।চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা চলছে।এদিন সকালে তাকে দেখতে যান বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাড. আব্দুস সালাম আজাদ, ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক। এর আগে গত ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানও অ্যাড. রিজভীকে দেখতে গিয়েছিলেন।এনআই
    ফলাফল বাতিল ও পুনর্নির্বাচন চান বিএনপি সমর্থিত ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী
    সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-০৪ (দেবিদ্বার) আসনে ব্যাপক ভোট কারচুপি, কেন্দ্র দখল ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তুলেছেন গণঅধিকার পরিষদ মনোনীত প্রার্থী মো. জসিম উদ্দিন। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কুমিল্লা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে পুনরায় ভোটগ্রহণের দাবি জানান।বিএনপি সমর্থিত এই প্রার্থী অভিযোগ করে বলেন, ‘বিএনপি সমর্থিত গণঅধিকার পরিষদের ‘ট্রাক’ প্রতীকে তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তবে নির্বাচনের আগে ও ভোটের দিন নানা অনিয়ম, ভয়ভীতি ও কারচুপির মাধ্যমে ফলাফল প্রভাবিত করা হয়েছে।’জসিম উদ্দিন দাবি করেন, ‘তার প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ’র সমর্থকরা ভোটের আগের দিন সুবিল ও মোহনপুর ইউনিয়নে অবৈধ অর্থ বিতরণের সময় স্থানীয় জনতার হাতে আটক হন। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।’তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর অনুসারীরা বিভিন্ন ইউনিয়নে জামায়াতের ক্যাডারদের সঙ্গে নিয়ে অস্ত্রের মহড়া দেয়। গুনাইঘর দক্ষিণ ইউনিয়নের পদ্মকোট গ্রামে অস্ত্রসহ সোহেল রানা ও আলমগীরসহ আটজন আটক হওয়ার ঘটনাও তিনি উল্লেখ করেন। এসব ঘটনার পরও তিনি নির্বাচন চালিয়ে যান বলে জানান।’ভোটের দিন তার এজেন্টদের বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয় বলে অভিযোগ করেন জসিম উদ্দিন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে প্রভাবিত করে প্রতি কেন্দ্রে বিপুল সংখ্যক ব্যালটে আগেই সিল মেরে রাখা হয় এবং ভোট শেষ হওয়ার এক ঘণ্টা আগে সেগুলো ব্যালট বাক্সে ঢোকানো হয়।তিনি বলেন, এসব অনিয়মের প্রতিবাদে তিনি ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী হওয়া সত্ত্বেও তার নিজ কেন্দ্রে তাকে পরাজিত দেখানো হয়েছে বলে দাবি করেন। এমনকি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নিজ কেন্দ্র গোপালনগরে তার কোনও ভোটই দেখানো হয়নি বলেও তিনি অভিযোগ করেন, যা ‘হাস্যকর ও অবিশ্বাস্য’ বলে মন্তব্য করেন।সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, অনেক কেন্দ্রে তার সমর্থকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মারধর করা হয়েছে। নগদ অর্থ বিতরণের মাধ্যমে ভোটারদের প্রভাবিত করা হয়েছে অভিযোগ তোলেন তিনি। অস্ত্রসহ সন্ত্রাসী আটক, অবৈধ অর্থ বিতরণের ভিডিও ভাইরাল, এজেন্ট বহিষ্কার ও ব্যালট কারচুপিসহ নানা অভিযোগ নির্বাচনের দিন প্রশাসনকে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে দাবি করেন জসিম উদ্দিন।সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি দেশবাসী ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই প্রহসনের নির্বাচন, সূক্ষ্ম ভোট ডাকাতির নির্বাচন ও সন্ত্রাস-কালোটাকায় প্রভাবিত নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় ভয়ভীতিহীন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে।সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাইদুর রহমান লিটন, কুমিল্লা উত্তর জেলা যুব অধিকার পরিষদের ১নং সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রাসেল হোসেন বেগ, দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সদস্য আবু তাহের মজুমদার, মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, দেবিদ্বার উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জুয়েল মোল্লাসহ অন্যরা।প্রসঙ্গত, কুমিল্লা-৪ আসনে এনসিপির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ জয়ী হয়েছেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় নির্বাচনি ঐক্যে শাপলা কলি প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৬৬ হাজার ৫৮৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি-সমর্থিত গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী জসিম উদ্দিন। তিনি ট্রাক প্রতীকে ৪৯ হাজার ৮৮৫ ভোট পেয়েছেন।এফএস
    নিজ হাতে নির্বাচনি পোস্টার-ব্যানার সরালেন জামায়াত আমির
    ভোটের নিজ নির্বাচনি এলাকা ঢাকা-১৫ (মিরপুর-কাফরুল) আসনের বিভিন্ন এলাকা থেকে পোস্টার, ব্যানার সরানোর উদ্যোগ নিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় জামায়াত আমির নিজ হাতে নির্বাচনি ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুন অপসারণ করেন।একটি নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত ও আধুনিক এলাকা গড়ে তুলতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানান জামায়াত আমির ডা. শফিকুর। এ সময় জামায়াত আমিরের সঙ্গে দলটির নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসাইনসহ অন্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।এমআর-২
    ভবিষ্যতের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: মির্জা ফখরুল
    বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানই হচ্ছেন ভবিষ্যতের প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, তিনি (তারেক রহমান) আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবেন।শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে নির্বাচন-পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় মঞ্চে তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন।বিএনপি মহাসচিব উল্লেখ করেন, বিগত নির্বাচন প্রমাণ করেছে যে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন দল যেমন ঐক্যবদ্ধ, তেমনি দেশের ১৮ কোটি মানুষও আজ ঐক্যবদ্ধ। নির্বাচনে উদারপন্থী গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন ফখরুল।সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, নজরুল ইসলাম খান, ড. আব্দুল মঈন খান, সালাহউদ্দিন আহমেদ, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ও ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।এবি 
    ডা. শফিকুর রহমান ও নাহিদ ইসলামের বাসায় যাবেন তারেক রহমান
    ইতিবাচক রাজনীতির অংশ হিসেবে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসায় যাবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় জামায়াতের আমীরের বাসায় এবং রাতে নাহিদ ইসলামের বাসায় যাবেন তিনি। আজ শনিবার সন্ধ্যায় গুলশান অফিস সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করে। বিএনপির পক্ষ থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।এফএস
    ‌‘হতাশ বা দুঃখ করবেন না, আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন’
    নিজের সমর্থকদের হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী।শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে কোরআনের আয়াত সম্বলিত এক পোস্টে এ কথা বলেন।পোস্টে নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী লিখেন, হতাশ বা দুঃখ করবেন না। নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন। পাটওয়ারীর পোস্টটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। মন্তব্যের ঘরে হাজারও মন্তব্য করেন অনেকে।শহিদুল ইসলাম নামে একজন লিখেন, সাবাস বস। হেরে গিয়ে আমরা জিতে গেছি। দিন দিন আপনার ওপর ভালোবাসা বেড়ে যাচ্ছে।আকিমুল ইসলাম আতিক বলেন, যদি তুমি হেরে যাও। তবে তুমি শেষ। যদি তুমি রুখে দাঁড়াও তুমিই বাংলাদেশ।প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে এনসিপি মনোনীত ১১ দলীয় জোটের হয়ে ভোটযুদ্ধে লড়েন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। একই আসনে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস থাকায় নানা কারণেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠেন তিনি। তবে নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে জয়ী হয়েছেন বিএনপির এই হেভিওয়েট নেতা।এমআর-২

    দেশজুড়ে

    সব দেখুন
    ঢাকা -৭ আসনে বিএনপির হামিদুর বিজয়ী
    ঢাকা-৭ আসনে ১ লাখ ৪ হাজার ৬৬৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী হামিদুর রহমান। তার নিকটতম প্রার্থী জামায়াতের প্রার্থী মো. এনায়েত উল্লা পেয়েছেন ৯৮ হাজার ৪৮৩ ভোট। অর্থাৎ বিএনপির প্রার্থী হামিদুর রহমান ৬ হাজার ১৮৩ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন।শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি)  সকাল পৌনে ছয়টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় নিজ কার্যালয়ে ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার (রিটার্নিং কর্মকর্তা) শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী এ ফল ঘোষণা করেন।ঢাকা-৭ আসনে পোস্টাল ভোটসহ ১৬৫টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ হয়। মোট ভোটার ছিলেন ৪ লাখ ৭৯ হাজার ৩৭৮ জন। এর মধ্যে ভোট দিয়েছেন ২ লাখ ৩০ হাজার ৮৬১ জন। ভোট বাতিল হয়েছে ৪ হাজার ৬৮৬টি। সেই হিসাবে বৈধ ভোট ছিল ২ লাখ ২৬ হাজার ১৭৫টি।এ আসনে অন্য প্রার্থীদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ ইসহাক সরকার ফুটবল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১১ হাজার ৫১৭ ভোট। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আবদুর রহমান হাতপাখা প্রতীকে ৫ হাজার ৮১ ভোট এবং বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের প্রার্থী মো. হাবিবুল্লাহ বটগাছ প্রতীকে ২ হাজার ৭৮৩ ভোট পেয়েছেন।পিএম
    ঢাকা-১৩: ৬৫ কেন্দ্রের ফলাফলে ২,৩৫১ ভোটে পিছিয়ে মামুনুল, এগিয়ে ববি হাজ্জাজ
    ঢাকা-১৩ আসনে এখন পর্যন্ত পাওয়া খবরে ভোটের লড়াইয়ে এগিয়ে আছেন ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ববি হাজ্জাজ। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রিক্সা প্রতীকের মামুনুল হক পিছিয়ে আছেন ২,৩৫১ ভোটে।সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এ আসনের ৬৫ টি কেন্দ্রে ববি হাজ্জাজ পেয়েছেন ৩৮ হাজার ৮৯১ ভোট। মামুনুল হক পেয়েছেন ৩৬ হাজার ৫৪০ভোট।এসআর
    ঢাকা-১৩ : ৫৮ কেন্দ্রের ফলাফলে ৩৩১ ভোটে পিছিয়ে মামুনুল
    ঢাকা-১৩ আসনে এখন পর্যন্ত পাওয়া খবরে ভোটের লড়াইয়ে এগিয়ে আছেন ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ববি হাজ্জাজ। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রিক্সা প্রতীকের মামুনুল হক পিছিয়ে আছেন ৩৩১ ভোটে।সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এ আসনের ৫৮টি কেন্দ্রে ববি হাজ্জাজ পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৭৬৪ ভোট। মামুনুল হক পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৪৩৩ ভোট।ইখা
    ঢাকা-১৩ : ৪৯ কেন্দ্রের ফলাফলে ১৭০ ভোটে পিছিয়ে মামুনুল, এগিয়ে ববি হাজ্জাজ
    ঢাকা-১৩ আসনে এখন পর্যন্ত পাওয়া খবরে ভোটের লড়াইয়ে এগিয়ে আছেন ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ববি হাজ্জাজ। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রিক্সা প্রতীকের মামুনুল হক পিছিয়ে আছেন ১৭০ ভোটে।সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এ আসনের ৪৯টি কেন্দ্রে ববি হাজ্জাজ পেয়েছেন ২৮ হাজার ৪৫৬ ভোট। মামুনুল হক পেয়েছেন ২৮ হাজার ২৮৬ ভোট।ইখা
    ঢাকা-১৩ : ৩৭ কেন্দ্রে ৬৭৪ ভোটে মামুনুলের চেয়ে এগিয়ে ববি হাজ্জাজ
    ঢাকা-১৩ আসনে এখন পর্যন্ত পাওয়া খবরে ভোটের লড়াইয়ে এগিয়ে আছেন ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ববি হাজ্জাজ। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রিক্সা প্রতীকের মামুনুল হক পিছিয়ে আছেন ৬৭৪ ভোটে।সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এ আসনে ৩৭টি কেন্দ্রে ববি হাজ্জাজ পেয়েছেন ২১ হাজার ৯৯২ ভোট। মামুনুল হক পেয়েছেন ২১ হাজার ৩১৮ ভোট।ইখা
    জীবননগরে খালের কচুরিপানার মধ্য থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার
    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় খালের কচুরিপানার মধ্য থেকে ভাসমান অবস্থায় শিমুল নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে জীবননগর উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের কালা গ্রামের একটি খালে স্থানীয়রা কচুরিপানার মধ্যে লাশটি দেখতে পান। পরে তারা বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন।নিহত ব্যক্তি মনোহরপুর ইউনিয়নের ধোপাখালি গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে শিমুল (৪০)।পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৭ থেকে ৮ দিন আগে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। এরপর থেকে স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান শেখ জানান, সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।এসআর
    চুড়ামনকাটির যুবদল নেতা হাফিজ ও সেচ্ছাসেবকদল নেতা রসুল বহিষ্কার
    যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি চুড়ামনকাটি ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র সহ সভাপতি হাফিজুর রহমান ও স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক গোলাম রসুলকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলের নীতি আদর্শ ও গঠনতন্ত্র পরিপন্থী কর্মকান্ডে লিপ্ত থাকায় শুক্রবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে সাংগঠনিকভাবে তাদের বিরুদ্ধে  শাস্তিমূলক এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। যশোর সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বারংবার নিষেধ ও সতর্ক করা সত্ত্বেও চুড়ামনকাটি ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র সহ সভাপতি হাফিজুর রহমান দলের নীতি, আদর্শ ও গঠনতন্ত্র পরিপন্থী কাজে লিপ্ত ছিলেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সংগঠনের নির্দেশ অনুযায়ী তাকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সদর উপজেলা যুবদল ইতিমধ্যে এই বহিষ্কার আদেশ কার্যকর করেছে। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, যুবদলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের এখন থেকে হাফিজের সাথে কোনো প্রকার সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হলো। এদিকে,  যশোর সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক শফিকুল ইসলাম ও সদস্য সচিব রাজু আহম্মেদ অনুমোদনকৃত আরেকটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকান্ডের সাথে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ঠ অভিযোগে চুড়ামনকাটি ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক গোলাম রসূলকে সংগঠনের সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো।এসআর
    যশোরে জামায়াতের কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ ৫ এমপির
    যশোরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর বিভিন্ন স্থানে বিজয়ী প্রার্থী ও সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জামায়াতের নির্বাচিত ৫ এমপি। তাদের অভিযোগ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থীরা বিপুল ভোটে জয়লাভ করার পর হামলা ও মারপিটের ঘটনা ঘটছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের একাংশ প্রতিশোধমূলক এই হামলায় জড়িয়ে পড়েছে।শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন যশোর-৪ আসনের নব নির্বাচিত এমপি ও জেলা আমীর গোলাম রসুল। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ভোটার ও কর্মীদের ওপর হামলা, দোকানপাটে ভাঙচুর এবং বিভিন্ন গ্রামে হুমকি-ধামকি দেওয়া হচ্ছে। যশোর-২ আসনের ঝিকরগাছা উপজেলার বাইসা গ্রামে রেজাউল হোসেন নামে এক জামায়াত কর্মীকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। এছাড়া বেলতা গ্রামে জামায়াতের নির্বাচনী কাজ চলাকালে হামলার ঘটনা ঘটেছে। লক্ষ্মণপুর ইউনিয়নে বিএনপি নেতা আহসান হাবীব খোকন ও আরমানের নেতৃত্বে দফায় দফায় হামলা এবং একজন প্রিজাইডিং অফিসারকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। বাইসা বাজারের ব্যবসায়ীদের দোকান খুলতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। চৌগাছা উপজেলার জগদীশপুর ইউনিয়নের আড়কান্দী গ্রামে মসজিদের ইমাম, মোয়াজ্জিন ও কমিটিতে থাকা জামায়াত সমর্থকদের বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। ফুলসারা ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামে আবেদ আলীর বাড়িতে রামদা ও লোহার রড নিয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে। একই ইউনিয়নের দূর্গাবরকাটি গ্রামে সাবেক মেম্বার তোফাজ্জেল হোসেনের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর এবং তাঁর মেয়েকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, সদর উপজেলার সুজলপুরের জামতলার মোড়ে বৃহস্পতিবার রাতে ককটেল বিস্ফোরণ এবং শুক্রবার সকালে সুমন নামে এক কর্মীর বাড়িতে গিয়ে বিএনপি কর্মীদের খোঁজাখুঁজি ও হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে। সহিংসতার ভয়ে জামায়াতের শত শত নেতাকর্মী বর্তমানে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।সংবাদ সম্মেলনে বিজয়ী প্রার্থীরা বলেন, নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা ও প্রতিশোধমূলক হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এক দল হারবে, কেউ জিতবে এটাই স্বাভাবিক। প্রতিপক্ষের ওপর এই আচরণ সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক। তারা ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে এলাকায় শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে যশোর-১ আসনের নবনির্বাচিত এমপি মাওলানা আজিজুর রহমান, যশোর-২ অসনের নবনির্বাচিত এমপি ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ, যশোর-৫ আসনের নবনির্বাচিত এমপি গাজী এনামুল হক, যশোর-৬ আসনের নবনির্বাচিত এমপি মুক্তার আলী,যশোর সদর আসনের পরাজিত প্রার্থী আব্দুল কাদেরসহ জেলা জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।এসআর
    মেহেরপুরে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ
    মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার বিশ্বনাথপুর গ্রামে দাড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে মারধরের ঘটনা ঘটেছে।শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে নয়টায় উপজেলার বিশ্বনাথপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মজনু রহমানের ছেলে জুলফিকার আলী ভুট্টোর নেতৃত্বে কয়েকজন মিলে দাড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ার অভিযোগে মাদার আলীর ছেলে আকুব্বার ও ইউনুচ আলীর ছেলে বাবলুকে বেধড়ক মারধর করে।মারধরের একপর্যায়ে বাবলুর মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং তিনি রক্তাক্ত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মুজিবনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।আহত বাবলু জানান, তাদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তবে এবারের নির্বাচনে দাড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার মিথ্যা অভিযোগে স্বেচ্ছাসেবক দলের মুজিবনগর উপজেলা শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে তাদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।এ বিষয়ে জুলফিকার আলী ভুট্টো বলেন, পূর্বের একটি তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে আকুব্বার নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা কাটাকাটির সময় বাবলু নিজে থেকে মাঝখানে জড়িয়ে পড়লে এ ঘটনা ঘটে।মুজিবনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহিদুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় থানায় লিখিত কোন অভিযোগ হয়নি। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।এসআর
    পরাজিত প্রার্থীকে মিষ্টি মুখ করালেন আমির হামজা
    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে পরাজিত বিএনপি প্রার্থী প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকারের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন বিজয়ী জামায়াত প্রার্থী ও আলোচিত ইসলামী বক্তা মুফতি আমির হামজা।শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির কার্যালয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে আমির হামজা এ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় মুফতি আমির হামজা জাকির হোসেন সরকারকে মিষ্টিমুখ করান।শুভেচ্ছা বিনিময়কালে মুফতি আমির হামজা বলেন, একই সঙ্গে আগামী দিনে কুষ্টিয়ার উন্নয়নে জাকির হোসেন সরকারের সহযোগিতা চান।পাশাপাশি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সব ভেদাভেদ ভুলে একযোগে কাজ করে কুষ্টিয়া-৩ আসনের এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে চাই।এ সময় জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সূজা উদ্দিন জোয়ার্দার, শহর জামায়াতের আমির এনামুল হকসহ বিএনপি ও জামায়াতের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে জামায়াত প্রার্থী মুফতি আমির হামজা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৮০ হাজার ৬৯০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রকৌশলী জাকির হোসেন ধানের শীষ প্রতীককে পেয়েছেন ১ লাখ ২৬ হাজার ৯৩৯।এফএস
    কুমিল্লা-২ আসনে জামানত হারিয়েছেন তিন প্রার্থী
    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-২ হোমনা-তিতাস আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী ছয় প্রার্থীর মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্যসহ তিন প্রার্থীই জামানত হারিয়েছেন।বেসরকারি ফলাফল তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা সীমাবদ্ধ ছিল ৩ প্রার্থীর মধ্যে, বাকি প্রার্থীরা ন্যূনতম ভোটের সীমা অতিক্রম করতে ব্যর্থ হয়েছেন।নির্বাচন কার্যালয় সূত্র জানায়, আসনে মোট ১১০ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। হোমনা উপজেলার ৫৭ কেন্দ্রে মোট প্রদত্ত ভোট ১ লাখ ৬ হাজার ৯১০। এরমধ্যে বৈধ ভোট পড়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৫৩৫ এবং বাতিল ভোট ২ হাজার ৩৭৫।তিতাস উপজেলার ৫৩ কেন্দ্রে মোট প্রদত্ত ভোট ৯৪ হাজার ৩৪১। বৈধ ভোট ৯২ হাজার ৪১। বাতিল ভোট ২ হাজার ৩০০। দুই উপজেলা মিলিয়ে মোট প্রদত্ত বৈধ ভোটের সংখ্যা দাঁড়ায় ১ লাখ ৯৬ হাজার ৫৭৬।গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) ১৭ এবং ৪১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নির্বাচনি বিধি মোতাবেক প্রদত্ত ভোটের কমপক্ষে এক-অষ্টমাংশ বা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পেতে হবে, ভোট না পেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়ে তার জমা করা টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হবে।দুই উপজেলার ফলাফলে বিএনপি প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীক অধ্যক্ষ মো.সেলিম ভূইয়া ৭৭ হাজার ৩৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী তালা প্রতীক আবদুল মতিন পেয়েছেন ৬৩ হাজার ৪৫ ভোট। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীক মো. নাজিম উদ্দিন মোল্লা পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৩৮৪ ভোট।হোমনা উপজেলার ফলাফল ঘোষণা করেন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম এবং তিতাস উপজেলার ফলাফল ঘোষণা করেন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া মমিন।জামানত হারানো প্রার্থীরা হলেন- জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য আমির হোসেন ভূইয়া (লাঙ্গল) পেয়েছেন ৫৫৯ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম (হাতপাখা) পেয়েছেন ৬৮৬৮ ভোট ও ইসলামি ফ্রন্ট বাংলাদেশ মো.আব্দুস সালাম (চেয়ার) পেয়েছেন ৭৬০ ভোট।এ দিকে বিজয়ী প্রার্থী ও নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এবং তৃতীয় স্থান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী ছাড়া বাকি ৩ প্রার্থী নির্ধারিত ভোটের সীমা অর্জন করতে না পারায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।এনআই
    টেকনাফে টানা জালে ধরা পড়ল ১৩০ মণ মাছ, বিক্রি ১০ লাখে
    কক্সবাজারের টেকনাফে টানা জালে একসঙ্গেই ধরা পড়েছে প্রায় ১৩০ মণ সামুদ্রিক মাছ। পোয়া, ফাইস্যা, মলা, ছুরি, বাটা, রূপচাঁদা ও ইলিশসহ নানা প্রজাতির ছোট-বড় মাছ বিক্রি হয়েছে প্রায় ১০ লাখ টাকায়। বিরল এই মাছ ধরা পড়ার খবর পেয়ে শনিবার দুপুরে সৈকতে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে।শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের গোদারবিল এলাকার জেলে রফিক আলম মুন্নার জালে মাছগুলো ধরা পড়ে। জানা গেছে, সকাল ৮টার দিকে সৈকত থেকে ৩০ জন জেলে টানা জাল নিয়ে নৌকায় করে সাগরে নামেন। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর দুপুর ১টার দিকে জাল টানতে গিয়ে দেখা যায় ঝাঁকে ঝাঁকে মাছ ধরা পড়ছে। জালের ভার সামলাতে পরে অতিরিক্ত শ্রমিকও ডাকা হয়। মাছগুলো সৈকতের বালিয়াড়িতে তোলা হলে এক আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।জালের মালিক রফিক আলম মুন্না বলেন, “এত পরিমাণ মাছ একসঙ্গে খুব একটা ধরা পড়ে না। জাল টানতেই দেখি ছোট-বড় বিভিন্ন প্রজাতির মাছে জাল ভরে গেছে। মহান আল্লাহর কাছে আমি কৃতজ্ঞ।” পরে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে দরদাম করে মাছগুলো ১০ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়।স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী নুর মোহাম্মদ জানান, ছোট মাছের দাম কেজিপ্রতি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা ধরা হয়েছে। পোয়া ও ছুরি মাছের সিংহভাগই তিনি কিনেছেন। এসব মাছ বরফ দিয়ে ড্রামে সংরক্ষণ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “আড়াই কেজি কাঁচা ছুরি শুকালে এক কেজির একটু বেশি শুঁটকি পাওয়া যায়। প্রতি কেজি শুঁটকি ৯০০ থেকে এক হাজার টাকায় বিক্রি করা সম্ভব হবে।” বাকি মাছের একটি অংশ কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও ঢাকার পাইকারি বাজারে পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি।টেকনাফ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা উমূল ফারা বেগম তাজকিরা বলেন, “মহেশখালীয়া পাড়া এলাকার সমুদ্র উপকূলে মাছগুলো ধরা পড়েছে। জালে পোয়া, ছোট ও বড় ফাইস্যা, মলা, ছুরি, রূপচাঁদা ও ইলিশ ছিল। মূলত শীত মৌসুমে এসব ছোট মাছের প্রজনন বেশি হয়। প্রজনন ও ডিম ছাড়ার সময় সরকার নির্ধারিত ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকায় সাগরে মাছের উৎপাদন বেড়েছে। জেলেরা নিয়ম মেনে মাছ ধরায় এমন সাফল্য আসছে।”স্থানীয়দের মতে, একদিনে ১৩০ মণ মাছ ধরা পড়া শুধু জেলেদের জন্য আর্থিক স্বস্তিই নয়, পুরো উপকূলীয় বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে শুঁটকি শিল্প ও পাইকারি বাজারে এর সরবরাহ বাড়বে। অনুকূল আবহাওয়া ও নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার সুফল মিলছে বলে মনে করছেন সাধারণ জেলেরা।এনআই
    ফলাফল বাতিল ও পুনর্নির্বাচন চান বিএনপি সমর্থিত ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী
    সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-০৪ (দেবিদ্বার) আসনে ব্যাপক ভোট কারচুপি, কেন্দ্র দখল ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তুলেছেন গণঅধিকার পরিষদ মনোনীত প্রার্থী মো. জসিম উদ্দিন। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কুমিল্লা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে পুনরায় ভোটগ্রহণের দাবি জানান।বিএনপি সমর্থিত এই প্রার্থী অভিযোগ করে বলেন, ‘বিএনপি সমর্থিত গণঅধিকার পরিষদের ‘ট্রাক’ প্রতীকে তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তবে নির্বাচনের আগে ও ভোটের দিন নানা অনিয়ম, ভয়ভীতি ও কারচুপির মাধ্যমে ফলাফল প্রভাবিত করা হয়েছে।’জসিম উদ্দিন দাবি করেন, ‘তার প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ’র সমর্থকরা ভোটের আগের দিন সুবিল ও মোহনপুর ইউনিয়নে অবৈধ অর্থ বিতরণের সময় স্থানীয় জনতার হাতে আটক হন। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।’তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর অনুসারীরা বিভিন্ন ইউনিয়নে জামায়াতের ক্যাডারদের সঙ্গে নিয়ে অস্ত্রের মহড়া দেয়। গুনাইঘর দক্ষিণ ইউনিয়নের পদ্মকোট গ্রামে অস্ত্রসহ সোহেল রানা ও আলমগীরসহ আটজন আটক হওয়ার ঘটনাও তিনি উল্লেখ করেন। এসব ঘটনার পরও তিনি নির্বাচন চালিয়ে যান বলে জানান।’ভোটের দিন তার এজেন্টদের বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয় বলে অভিযোগ করেন জসিম উদ্দিন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে প্রভাবিত করে প্রতি কেন্দ্রে বিপুল সংখ্যক ব্যালটে আগেই সিল মেরে রাখা হয় এবং ভোট শেষ হওয়ার এক ঘণ্টা আগে সেগুলো ব্যালট বাক্সে ঢোকানো হয়।তিনি বলেন, এসব অনিয়মের প্রতিবাদে তিনি ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী হওয়া সত্ত্বেও তার নিজ কেন্দ্রে তাকে পরাজিত দেখানো হয়েছে বলে দাবি করেন। এমনকি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নিজ কেন্দ্র গোপালনগরে তার কোনও ভোটই দেখানো হয়নি বলেও তিনি অভিযোগ করেন, যা ‘হাস্যকর ও অবিশ্বাস্য’ বলে মন্তব্য করেন।সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, অনেক কেন্দ্রে তার সমর্থকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মারধর করা হয়েছে। নগদ অর্থ বিতরণের মাধ্যমে ভোটারদের প্রভাবিত করা হয়েছে অভিযোগ তোলেন তিনি। অস্ত্রসহ সন্ত্রাসী আটক, অবৈধ অর্থ বিতরণের ভিডিও ভাইরাল, এজেন্ট বহিষ্কার ও ব্যালট কারচুপিসহ নানা অভিযোগ নির্বাচনের দিন প্রশাসনকে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে দাবি করেন জসিম উদ্দিন।সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি দেশবাসী ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই প্রহসনের নির্বাচন, সূক্ষ্ম ভোট ডাকাতির নির্বাচন ও সন্ত্রাস-কালোটাকায় প্রভাবিত নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় ভয়ভীতিহীন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে।সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাইদুর রহমান লিটন, কুমিল্লা উত্তর জেলা যুব অধিকার পরিষদের ১নং সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রাসেল হোসেন বেগ, দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সদস্য আবু তাহের মজুমদার, মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, দেবিদ্বার উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জুয়েল মোল্লাসহ অন্যরা।প্রসঙ্গত, কুমিল্লা-৪ আসনে এনসিপির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ জয়ী হয়েছেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় নির্বাচনি ঐক্যে শাপলা কলি প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৬৬ হাজার ৫৮৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি-সমর্থিত গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী জসিম উদ্দিন। তিনি ট্রাক প্রতীকে ৪৯ হাজার ৮৮৫ ভোট পেয়েছেন।এফএস
    ইউপি সদস্য থেকে এমপি, নুরুল আমিনের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক পথচলা
    সমাজসেবার লক্ষ্যে মিরসরাই উপজেলার ওচমানপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য হিসেবে শুরু করেছিলেন রাজনৈতিক পথচলা। এরপর ইউপি চেয়ারম্যান থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান—ধাপে ধাপে নেতৃত্বের সিঁড়ি বেয়ে এবার জাতীয় সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হলেন নুরুল আমিন চেয়ারম্যান।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সোমাইয়া আক্তার বেসরকারিভাবে তাঁকে নির্বাচিত ঘোষণা করেন।ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, ধানের শীষ প্রতীকে নুরুল আমিন চেয়ারম্যান পেয়েছেন ১ লাখ ২৮ হাজার ৭৯৯ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ ছাইফুর রহমান পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৫৩৮ ভোট।রাজনৈতিক জীবন ও পরিচিতি: নুরুল আমিন ১৯৬৮ সালের ১ জানুয়ারি ওচমানপুর ইউনিয়নের পাতাকোট গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মাওলানা আবুল খায়ের এবং মাতা নুরুন্নাহার। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি চার ছেলে ও তিন মেয়ের জনক।সমাজসেবার সংকল্প নিয়ে ১৯৯৮ সালে প্রথম ইউপি সদস্য (মেম্বার) পদে নির্বাচন করে জয়লাভ করেন তিনি। পরবর্তীতে ২০০৩ সালে ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং এলাকায় ‘নুরুল আমিন চেয়ারম্যান’ হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। এরপর ২০১৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির সমর্থনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হন। তবে তৎকালীন সরকারের আমলে রাজনৈতিক মামলার কারণে মাত্র ৫-৬ মাস দায়িত্ব পালনের পরই তাঁকে পদ থেকে অপসারণ করা হয়। ২০১৮ সালের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেলেও সেবার তিনি জয়ী হতে পারেননি। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের পর এবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে নতুন এক অধ্যায় শুরু করলেন তিনি।বিজয়ী হওয়ার পর প্রতিক্রিয়া: বিজয়ী হওয়ার পর অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে নুরুল আমিন বলেন, “মিরসরাইয়ের মানুষ ভালোবেসে আমাকে ইউপি সদস্যের পদ থেকে আজকের এই পর্যায়ে এনেছে। সাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করতে পারাটাই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। রাজনৈতিক জীবনে অনেক ঘাত-প্রতিঘাত এসেছে, তবু কখনও মানুষের প্রতি ভালোবাসা হারাইনি।” তিনি আরও বলেন, “দল আমাকে যে সম্মান দিয়েছে, তার মর্যাদা রক্ষায় আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। নিজেকে দেশ ও মানুষের সেবায় উৎসর্গ করতে চাই।”রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মিরসরাইয়ে নুরুল আমিনের এই বিজয় স্থানীয় রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে।এনআই
    ৩০ বছর পর বিএনপির দলীয় এমপি পেল নবীনগরবাসী
    ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। এই বিজয়ের মাধ্যমে নবীনগরবাসী দীর্ঘ ৩০ বছর পর আবারও বিএনপির দলীয় সংসদ সদস্য পেলেন, যা নবীনগরের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর আগে সর্বশেষ ১৯৯৬ সালে সিদ্দিকুর রহমান বিএনপির প্রার্থী হিসেবে এই আসনে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন।বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১টায় নবীনগর উপজেলা অডিটোরিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান। এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে তিনি কেন্দ্রভিত্তিক গণনার চূড়ান্ত ফলাফল তুলে ধরেন।নবীনগর উপজেলার মোট ১৫৪টি ভোটকেন্দ্রের ফলাফল অনুযায়ী, তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই শেষে বিজয়ী হন অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান। চূড়ান্ত ফলাফলে তিনি পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৭৬১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী নাজমুল হোসেন তাপস পেয়েছেন ৮৩ হাজার ৯৯৫ ভোট। অন্যদিকে, ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ‘রিকশা’ প্রতীকে পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৭৪৯ ভোট।অল্প ভোটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হওয়ায় নবীনগর আসনের এই নির্বাচন ছিল অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ ও আলোচিত। ফলাফল ঘোষণার পর উপজেলা জুড়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ তিন দশক পর নবীনগরে বিএনপির দলীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া এলাকায় একটি নতুন রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে।এনআই
    সিরাজদিখানে দুটি সড়কের নামফলক উদ্বোধন করলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
    মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে দুটি সড়কের নামফলক উদ্বোধন করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র ও কৃষি উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার মধ্যপাড়া ইউনিয়নের কাকালদি পাওয়ার হাউস সংলগ্ন এলাকায় ‘মাস্টার আব্দুর রহমান কাল’ সড়কের নামফলক উন্মোচন করেন তিনি। এরপর তিনি ইছাপুরা ইউনিয়নে ‘বাবু নলিনীকান্ত ব্যানার্জী’ সড়কের নামফলক উদ্বোধন করেন।উদ্বোধন শেষে বিকেলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ইছাপুরা ইউনিয়নের কুসুমপুর গ্রামে তাঁর বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেন। পরে তিনি মধ্যপাড়া ইউনিয়নে শহীদ মো. মস্তফাজামান সমুদ্র কাল ও মাস্টার আব্দুর রহমান কালের কবর পৃথকভাবে জিয়ারত করেন।এ সময় উপস্থিত ছিলেন— জেলা প্রশাসক সৈয়দা নূরনাহার আশরাফী, জেলা পুলিশ সুপার মো. মিনহাজুল আলম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুম্পা ঘোষ, সিরাজদিখান সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার পারভেজ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আবু সাঈদ শুভ্র, সিরাজদিখান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল হান্নান, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হাবিবুর রহমান এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কুদ্দুস ধীরন।এনআই
    শরীয়তপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ৫টি ঘর ভস্মীভূত, নিঃস্ব দুই পরিবার
    শরীয়তপুরের দক্ষিণ তারাবুনিয়া ইউনিয়নের এরশাদ বেপারীর কান্দি গ্রামে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দুই গৃহস্থের পাঁচটি ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসলেও ততক্ষণে ওই পরিবারগুলোর সবকিছু পুড়ে শেষ হয়ে যায়।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিবেশী জব্বার ঢালীর রান্নাঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে এবং মুহূর্তের মধ্যে তা আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে ক্ষতিগ্রস্তরা হলেন— মান্নান ভূঁইয়া (৬৫), নজু ভূঁইয়া (৪০), জব্বার ঢালী ও মাসুদ ঢালী। অগ্নিকাণ্ডে তাদের প্রত্যেকের একটি করে বসতঘর ও একটি রান্নাঘর সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে।ক্ষতিগ্রস্ত নজু ভূঁইয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “জব্বার ঢালী আমার প্রতিবেশী। তাঁর রান্নাঘর আর আমার থাকার ঘর লাগোয়া ছিল। সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়। দেনা পরিশোধের জন্য ব্যাংক থেকে তোলা ২ লাখ নগদ টাকা এবং স্ত্রীর কানের দুলসহ ঘরের কোনো আসবাবপত্রই বের করতে পারিনি।” তিনি আরও জানান, এলাকাটি অত্যন্ত দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চল হওয়ায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সময়মতো পৌঁছাতে পারেননি, যার ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেড়ে গেছে।প্রতিবেশী সুফিয়া (২০) জানান, তাঁরা চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। কিছুদূর যাওয়ার পর আগুনের সংবাদ পেয়ে ফিরে এসে দেখেন তিনটি ঘর জ্বলছে। পরে গ্রামবাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসলেও চোখের নিমিষেই পাঁচটি ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়।এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। খবর পেয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও বিএনপির নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।এনআই
    মুন্সিগঞ্জের ৩ আসনেই ধানের শীষের জয়, জামানত হারিয়েছেন ১২ প্রার্থী
    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুন্সিগঞ্জ জেলার তিনটি সংসদীয় আসনেই বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তবে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নেওয়া অধিকাংশ প্রার্থী প্রয়োজনীয় ভোট না পাওয়ায় জামানত হারিয়েছেন। নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী মোট প্রদত্ত বৈধ ভোটের এক-অষ্টমাংশের কম ভোট পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। মুন্সিগঞ্জের তিনটি আসনে মোট ১৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, যার মধ্যে ১২ জনই তাদের জামানত হারিয়েছেন।মুন্সিগঞ্জ-১ (সিরাজদিখান–শ্রীনগর) এই আসনে ৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৪ জন জামানত হারিয়েছেন। তাদের মধ্যে 'কাস্তে' প্রতীকের আব্দুর রহমান পেয়েছেন ৪৪৩ ভোট, 'আপেল' প্রতীকের রোকেয়া আক্তার ৩২০ ভোট, 'হাতপাখা' প্রতীকের মো. আতিকুর রহমান খান ৯ হাজার ৩৯ ভোট এবং 'ফুটবল' প্রতীকের মো. মমিন আলী পেয়েছেন ৩০ হাজার ৬৭৮ ভোট। এই আসনে 'দাঁড়িপাল্লা' প্রতীকের এ কে এম ফখরুদ্দিন রাজী ১ লাখ ১ হাজার ৫৬৮ ভোট পেয়ে জামানত রক্ষা করেছেন। অন্যদিকে, ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫৬২ ভোট পেয়ে বিপুল ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী শেখ মো. আব্দুল্লাহ।মুন্সিগঞ্জ-২ (টঙ্গিবাড়ী–লৌহজং) এই আসনে ৫ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩ জন জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন— 'চেয়ার' প্রতীকের আশিক মাহমুদ (৬৫১ ভোট), 'লাঙ্গল' প্রতীকের নোমান হোসেন (২ হাজার ৮৫৭ ভোট) এবং 'হাতপাখা' প্রতীকের কে এম বিল্লাল (১৩ হাজার ৩৮৭ ভোট)। 'শাপলা কলি' প্রতীকের মাজেদুল ইসলাম একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে জামানত রক্ষা করতে পেরেছেন। এ আসনে ১ লাখ ২১ হাজার ১৫৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আব্দুস সালাম আজাদ।মুন্সিগঞ্জ-৩ (মুন্সিগঞ্জ সদর–গজারিয়া) এই আসনে ৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ৫ জন জামানত হারিয়েছেন। জামানত হারানো প্রার্থীরা হলেন— 'আনারস' প্রতীকের আনিছ মোল্লা (২৯৪ ভোট), 'লাঙ্গল' প্রতীকের এ এফ এম আরিফুজ্জামান দিদার (৮০৪ ভোট), 'কাস্তে' প্রতীকের শেখ মো. কামাল হোসেন (৩০৪ ভোট), 'কোদাল' প্রতীকের শেখ মো. শিমুল (১৭৪ ভোট) এবং 'হাতপাখা' প্রতীকের সুমন দেওয়ান (৬ হাজার ৩৯২ ভোট)। তবে 'ফুটবল' প্রতীকের মো. মহিউদ্দিন ৮৮ হাজার ৯৩৬ ভোট এবং 'রিকশা' প্রতীকের নুর হোসাইন নুরানী ৫৪ হাজার ৪৫৬ ভোট পেয়ে জামানত রক্ষা করেছেন। এ আসনে ১ লাখ ২৪ হাজার ৬৯১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন ধানের শীষ প্রতীকের মো. কামরুজ্জামান রতন।এনআই
    ভৈরবে বিজয়ী শরীফুল আলমের জন্য দোয়া মাহফিল ও মিষ্টি বিতরণ
    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-৬ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী শরীফুল আলম বিপুল ভোটে বিজয়ী হওয়ায় আনন্দ মিছিল ও শোভাযাত্রা না করে ভৈরবের শ্রীনগরে দোয়া মাহফিল ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে।শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় শ্রীনগর সিএনজি স্ট্যান্ড সংলগ্ন বিএনপি কার্যালয়ে বাঘাবাড়ি এলাকার বিএনপি নেতা সেলিম মেম্বারের উদ্যোগে এ দোয়া মাহফিল ও ৮০ কেজি মিষ্টি বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।এসময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত ও দেশবাসীর সুখ ও সমৃদ্ধি কামনায় দোয়া করা হয়।দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রীনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোশারফ হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন, বিএনপি নেতা ইসমাঈল মিয়া, ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শিপন আহমেদ ও যুবদল নেতা বুলবুল আহমেদ।এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন— শ্রীনগর ইউনিয়ন ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জামাল মেম্বার, সাধারণ সম্পাদক হাকিম মিয়া, ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি নবী হোসেন, যুবদল নেতা আলমগীর হোসেন, যুবদল নেতা বাদশা মিয়াসহ বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।এনআই
    কাশিমপুরে এক গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা
    গাজীপুরের কাশিমপুরে রওশন মার্কেট এলাকায় এক গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল আনুমানিক ৬ ঘটিকায় দিকে এই ঘটনা ঘটে।এসময় পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মহানগরীর কাশিমপুরের রওশন মার্কেট এলাকার বাসিন্দা বাবুল মিয়া তার তৃতীয় স্ত্রী আজিরন নেছা (২৮)-কে নিয়ে নিজ বাড়িতে বসবাস করতেন। জানা যায়, শনিবার ভোর আনুমানিক ৬টার দিকে বাবুল মিয়া স্ত্রীকে বাসায় রেখে পাশের একটি চায়ের দোকানে যান। প্রায় ৩০ মিনিট পর সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তিনি বাসায় ফিরে এসে দেখতে পান, তার স্ত্রীকে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথার বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে হত্যা করে ফেলে রেখেছে।পরে ঘটনার খবর পেয়ে কাশিমপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে।তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।এবিষয়ে কাশিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ খালিদ মোল্লা বলেন, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।এসআর
    ভালোবাসা দিবসে বরিশালে ফুলের রমরমা ব্যবসা
    পহেলা ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবস ঘিরে বরিশালে ফুলের দোকানগুলোতে ফুলপ্রেমীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। প্রিয়জনকে একটি লাল গোলাপ উপহার দিতে সকাল থেকেই তরুণ-তরুণীসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ ভিড় করছেন দোকানগুলোতে।শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই বরিশাল নগরীর বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়কের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়া বিনোদন কেন্দ্রগুলোর প্রবেশমুখে লাল গোলাপ, গাঁদা, জারবেরা, রজনীগন্ধাসহ বিভিন্ন ধরনের তোড়া সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। বিশেষ করে লাল গোলাপ ও হলুদ-কমলা রঙের ফুলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। তরুণ-তরুণীদের পাশাপাশি পরিবার নিয়ে অনেককেই ফুল কিনতে দেখা গেছে।বিক্রেতারা জানান, বসন্ত ও ভালোবাসা দিবস একই দিনে হওয়ায় এবার বিক্রি বেড়েছে। তবে পাইকারি বাজারে দাম বেশি থাকায় খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। মান ও আকারভেদে দেশি গোলাপ প্রতি পিস ৪০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন ডিজাইনের ফুলের তোড়া ১০০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।ক্রেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ অভিযোগ করছেন যে গত বছরের তুলনায় ফুলের দাম এবার প্রায় দ্বিগুণ। আবার অনেক ক্রেতার মতে, বিশেষ দিন হিসেবে দাম কিছুটা বেশি হলেও তা সহনীয়। দোকানে ফুল কিনতে আসা এক তরুণী বলেন, "দিনটি সবার জীবনে সুন্দর আগামী বয়ে আনুক। সবাই তাদের ভালোবাসার মানুষকে খুঁজে পাক।"ব্যবসায়ীরা জানান, সকালের তুলনায় বিকেলের পর ভিড় আরও বাড়বে বলে তারা আশা করছেন। সব মিলিয়ে ভালোবাসা দিবস ও পহেলা ফাল্গুনকে কেন্দ্র করে বরিশালের ফুলের দোকান ও বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।এনআই
    বরগুনা-২ আসনে ৯ প্রার্থীর মধ্যে জামানত হারিয়েছেন ৭ জন
    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-২ আসনে মোট ৯ জন প্রার্থী অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীসহ ৭ জন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন।রিটার্নিং কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে প্রত্যেক প্রার্থীকে ৫০ হাজার টাকা করে জামানত জমা দিতে হয়। কোনো প্রার্থী প্রদত্ত মোট ভোটের আট ভাগের এক ভাগ (১২.৫%) ভোট না পেলে সেই জামানত রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হয়। বরগুনা-২ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩২ হাজার ৭৪০ জন। এর মধ্যে ভোট প্রদান করেছেন ১ লাখ ৯৮ হাজার ১২১ জন। প্রদত্ত মোট ভোটের আট ভাগের এক ভাগ দাঁড়ায় প্রায় ২৪ হাজার ৭৬৫ ভোট। এই সংখ্যক ভোট না পাওয়ায় ৭ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।বরগুনা জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা তাছলিমা আক্তারের স্বাক্ষরিত তথ্য অনুযায়ী, বরগুনা-২ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন নুরুল ইসলাম মনি। তিনি পেয়েছেন ৯০ হাজার ৬৪৩ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. সুলতান পেয়েছেন ৮৫ হাজার ২৪৭ ভোট।প্রদত্ত মোট ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পেয়ে যেসব প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে তারা হলেন,বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী মো. সাব্বির আহম্মেদ (ডাব প্রতীক) পেয়েছেন ২১৯ ভোট,বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. কামরুজ্জামান লিটন (কাঁঠাল প্রতীক) পেয়েছেন ১১৫ ভোট, জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবদুল লতিফ ফরাজী (লাঙ্গল প্রতীক) পেয়েছেন ১ হাজার ২৪৮ ভোট, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম) এর প্রার্থী সৈয়দ মো. নাজেস আফরোজ (সিংহ প্রতীক) পেয়েছেন ২৯৪ ভোট, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির প্রার্থী মো. সোলায়মান (আম প্রতীক) পেয়েছেন ৯৫ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান (হাতপাখা প্রতীক) পেয়েছেন ১৬ হাজার ৪৬৩ ভোট,এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. রাশেদ উদ জামান (জাহাজ প্রতীক) পেয়েছেন ২৯৮ ভোট।এনআই
    বিশ্ব ভালোবাসা দিবসেও ফাঁকা কুয়াকাটা সৈকত, বিপাকে পর্যটন ব্যবসায়ীরা
    ফাগুনের আমেজ আর বিশ্ব ভালোবাসা দিবসকে ঘিরে প্রতিবছরই পর্যটকের ভিড়ে মুখর থাকে পটুয়াখালীর অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত। তবে চলতি বছরে দেখা গেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। পর্যটকের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ সৈকতজুড়ে নেমে এসেছে অস্বাভাবিক নীরবতা।শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে দেখা যায়, যেখানে অন্যান্য বছর এদিন উপচে পড়া ভিড় থাকলেও এবার সেখানে বিরাজ করছে নির্জনতা। দোকানপাট খোলা থাকলেও ক্রেতা নেই বললেই চলে। হোটেল-মোটেলগুলোতেও নেই কাঙ্ক্ষিত বুকিং।জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে টানা প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে এলাকায় বিরাজ করছে স্থবিরতা। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে পর্যটন শিল্পে। পর্যটক না থাকায় হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা পড়েছেন চরম আর্থিক সংকটে। অনেক হোটেলে কক্ষ খালি পড়ে রয়েছে, নেই আগের মতো অগ্রিম সংরক্ষণের চাপ।স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ভালোবাসা দিবস ও বসন্ত উপলক্ষে প্রতিবছরই আগাম বুকিং থাকে। কিন্তু এবার সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। ফলে কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন অনেক উদ্যোক্তা।তবে হাতে গোনা যে ক’জন পর্যটক সৈকতে এসেছেন, তারা সমুদ্রের নোনা জলে গা ভাসিয়ে আনন্দ উপভোগ করছেন। কেউ ঘুরে দেখছেন আশপাশের দর্শনীয় স্থান, আবার কেউ খালি পায়ে সৈকতের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে হেঁটে উপভোগ করছেন প্রকৃতির স্বাভাবিক সৌন্দর্য।যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ট্যুরিস্ট পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।‎এসআর
    এবার মন্ত্রীত্ব চান ইসলামী আন্দোলনের একমাত্র বিজয়ী এমপি অলিউল্লাহ
    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারা দেশে ২৫৩ আসনে প্রার্থী দিয়েছিলো চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দেশের ২৫৩ আসনে প্রার্থী থাকলেও জনগনের ভোটে বরগুনা-১ ( বরগুনা সদর-আমতলী-তালতলী) আসন থেকে দলটির একমাত্র প্রার্থী মাহমুদুল হোসাইন অলি উল্লাহ নির্বাচিত হয়েছেন।বৃহস্পতিবার (১২ ফ্রেব্রুয়ারি) নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পরপরই তিনি বরগুনার সেতু ও যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের ঘোষণা দেন। এবার মন্ত্রীত্ব চাইছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একমাত্র এমপি অলি উল্লাহর সমর্থকেরা।শনিবার সকালে (১৪ ফ্রেব্রুয়ারি) দুপুরে বরগুনায় কেওড়াবুনিয়া পীর এমপি অলি দরবারে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় অলিউল্লাহর সমর্থকেরা বলেন, 'ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কোনো জোটে না গিয়ে সারাদেশের ২৫৩ আসনে একক প্রার্থী দেয়। যারা সবাই উল্লেখযোগ্য ভোট পায়। আমরা (ইসলামী আন্দোলন) যদি জোটে যেতাম তাহলে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারতো না। আমাদের জন্যই বিএনপি সরকার গঠন করেছে। তাই আমরা বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে দাবি জানাই তিনি যেনো আমাদের দলের একমাত্র এমপিকে যেকোনো মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রীত্ব দেন।'ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সদর উপজেলার নেতা ইদ্রিসুর রহমান বলেন, 'জামায়াতের সাথে যদি আমাদের সমঝোতা থাকতো তাহলে বিএনপি এতগুলো আসন পেতো না। আমার জোট থেকে বের হওয়ার কারনেই বিএনপি সরকার গঠন করতে পারবে।আমাদের কারণেই বিএনপি সারাদেশে ভূমিধস বিজয় পেয়েছে। তাই এখন আমাদের দাবি ইসলামী আন্দোলনের একমাত্র নির্বাচিত প্রার্থী মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ কে মন্ত্রীত্ব দেয়া হয়।'ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একমাত্র নির্বাচিত বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ বলেন, 'যারা আমাকে ভোট দিয়েছেন বা দেয়নি সবাই এখন আমার জনগন। সব দলের জনগনই আমার। এখন জনগনের কল্যাণে যা যা করনীয় তাই আমি করবো।'তিনি আরও বলেন, 'বিএনপি যদিও আমাদের (ইসলামী আন্দোলন) প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করে। কিন্তু এবছর নির্বাচনে আমাদের দ্বারা তাদের যে উপকারটা হয়েছে তা মূল্যায়ন করা উচিত। কারণ আপনারা দেখেছেন সারাদেশে সামান্য ভোটের ব্যাবধানে জামায়াতের প্রার্থীরা হেরে গেছে। সেসব আসনে আমাদের প্রার্থীরা উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়েছে। আমরা যদি সমঝোতায় থাকতাম তাহলে জামায়াত সরকার গঠন করতো। আমি আশা করি বিএনপি এ মূল্যায়ন করা উচিত। যদি তারা সে মূল্যায়ন করে তাহলে ভবিষ্যতে বরগুনার জন্য ভালো হবে। জনগনের জন্য ভালো হবে। তারা যদি অব মূল্যায়ন করে তাহলে আমার মতে ক্ষয়ক্ষতি তাদের (বিএনপি) দিকেই যাবে।'প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-১ (সদর-আমতলী-তালতলী) আসন থেকে মোট ৪ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এদের মধ্যে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মাহমুদুল হোসাইন অলি উল্লাহ মোট ১ লাখ ৪০ হাজার ২৯১ ভোট পয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও জেলা বিএনপির আহবায়ক নজরুল ইসলাম মোল্লা ১ লাখ ৩৬ হাজার ১৪৫ ভোট পান। এতে মোট ৪ হাজার ১৪৬ ভোট বেশি পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী অলিউল্লাহ।‎এসআর
    বরিশাল মানেই ধানের শীষ: ছয় আসনেই জয়জয়কার
    যুগ যুগ ধরে রাজনৈতিক মহলে পরিচিতি হয়ে উঠেছে ‘বরিশাল মানেই বিএনপির ঘাঁটি’। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেই দুর্গের পতন ঘটাতে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মরিয়া হয়ে মাঠে নামলেও শেষ পর্যন্ত তারা ব্যর্থ হলেন। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বরিশালের ৬টি আসনেই জনগন বিএনপিকে ভোট দিয়ে নিরঙ্কুশ জয় করেছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থীদের। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে ভোট গনণা শেষে বেসরকারী ভাবে ভোটের ফলাফল ঘোষনা করেন বেসরকারিভাবে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেন রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমন। ফলাফলে দেখা যায় দুইটি আসনে থাকা জামায়েত ও ইসলামী আন্দোলনের হেভিওয়েট প্রার্থীদের হারিয়ে ধানের শীষের জোয়ারে ভেসেছেন প্রতিদ্বদ্বীরা। বরিশাল জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনেই বিএনপি মনোনীত প্রার্থী যারা বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন তারা হলেন। বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া)আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৯৯ হাজার ৪১৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্ব›দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী কামরুল ইসলাম পেয়েছেন ৪৫ হাজার ১৪০ ভোট। ৫৪ হাজার ২৭৮ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন দুই বারের সাবেক সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন। এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ২৩ হাজার ৬৯৮ জনের মধ্যে কাস্ট হয়েছে ২ লাখ ৩শ ৫১ ভোট। ভোট কেন্দ্রের সংখা ১২৯টি।বরিশাল-২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর)বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু। নির্ধারিত ১৪০টি কেন্দ্রে তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ৪১ হাজার ২৮০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী›দ্বী জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল মান্নান দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৭১ হাজার ৯৮৯ ভোট। সে হিসাবে ৬৯ হাজার ২৯১ ভোটের বিশাল ব্যবধানে প্রথম বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু। এ আসনে মোট ভোটার ছিল ৩ লাখ ৮০ হাজার ৭০৬ জন। এর মধ্যে ভোট দিয়েছেন ২ লাখ ২৬ হাজার ৮৭৯ জন।বরিশাল-৩ (মুলাদী-বাবুগঞ্জ)এই আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। তিনি নির্ধারিত ১২৬ কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৭৮ হাজার ১৩১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী›দ্বী জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার ফুয়াদ ঈগল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৫৭ হাজার ১৪৯ ভোট। সে হিসাবে ২০ হাজার ৯৮২ হাজার ভোটে প্রথমবার বিজয়ী হয়েছেন অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। এ আসনে মোট ভোটার ছিল ৩ লাখ ২৭ হাজার ৪২০ জন। এর মধ্যে ভোট দিয়েছেন ১ লাখ ৭৪ হাজার ৩৭০ জন।বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ)এই আসেন বিজয়ী হয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান। তিনি নির্ধারিত ১৪৯টি কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী›দ্বী জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল জব্বার পেয়েছেন ৭২ হাজার ৭৯২ ভোট। হিসাব অনুযায়ী ৫৪ হাজার ৪০০ ভোটের বিশাল ব্যবধানে প্রথম বারের মতো বিজয়ী হয়েছেন সাবেক ছাত্র নেতা রাজিব আহসান। নদীবেষ্টীত এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১৭ হাজার ৫১৭ জন। এদের মধ্যে ২ লাখ ৪২ হাজার ১৪৮ জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।বরিশাল-৫ (সদর ও সিটি করপোরেশন)আসনে বিজয়ী হয়েছেন এই আসনের তিন বারের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মজিবর রহমান সরোয়ার। তিনি নির্ধারিত ১৭৬টি কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৬ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী›দ্বী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম হাতপাখা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৯৩ হাজার ২১৬ ভোট। সে হিসাবে ৩৯ হাজার ৭৯০ ভোটের ব্যবধানে চতুর্থবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন মজিবর রহমান সরোয়ার। তার এই আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৫৩৪ জন। তাদের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ২ লাখ ৫৬ হাজার ৪১৫ জন।বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনটিতে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হোসেন খান। তিনি নির্ধারিত ১১৩টি কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৮১ হাজার ৮৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বদ্বী জামায়াতে ইসলামীর মো. মাহামুদুন্নবী তালুকদার দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ৫৪ হাজার ৫৩৩ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করীম এই আসনে ভোট পেয়েছেন ২৮ হাজার ৮২৩ ভোট। সে হিসাবে বরিশাল-৬ আসনে দ্বিতীয় বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন আবুল হোসেন খান। তার এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১৫ হাজার ৫৯৭ জন। এর মধ্যে ১ লাখ ৭০ হাজার জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন বরিশাল জেলার ৬টি আসনে প্রতিদ্বদ্বতা করেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্রসহ মোট ৩৬ জন প্রার্থী। তবে নির্বাচন চলাকালীন বাবুগঞ্জ, মুলাদী ও উজিরপুরের কয়েকটি কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে সেনাবাহিনী কয়েকজনকে আটক করেছে বলে প্রিজাইডিং অফিসাররা জানিয়েছেন। বর্তমানে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং উৎসবমুখর পরিবেশে ফলাফল ঘোষণা চলছে।এসআর
    জামালপুরের পাঁচটি আসনে জামানত হারালেন ২৪ প্রার্থী
    জামালপুরের পাঁচটি সংসদীয় আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় পার্টির ও গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থীসহ ২৪ জন জামানত হারিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের বিধান অনুযায়ী, ‘কোনো সংসদীয় আসনে সংগৃহীত বৈধ ভোটের আট ভাগের এক ভাগ বা কমপক্ষে সাড়ে ১২ শতাংশ ভোট অর্জন করতে না পারলে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। সে অনুযায়ী প্রাপ্ত ফলাফলে এসব প্রার্থী নির্ধারিত সীমার নিচে ভোট পাওয়ায় তাদের জামানত হারিয়েছেন।’জামালপুর-১ আসনে মোট বৈধ ভোট পড়েছে ২ লাখ ৭৬ হাজার ৭৫৪টি।এখানে জামানত হারিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আব্দুর রউফ তালুকদার। তিনি ৪ হাজার ১২১ ভোট পেয়েছেন। গণ অধিকার পরিষদের রফিকুল ইসলামের ২২৬ ভোট ও জাতীয় পার্টির ফজলুল হক ৯৩১ ভোট পেয়েছেন। জামালপুর-২ আসনে মোট বৈধ ভোট ১ লাখ ৬০ হাজার ১৮১।জামানত হারিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সুলতান মাহমুদ। তিনি ভোট পান ১ হাজার ৭১৩, ও স্বতন্ত্র প্রার্থী অর্ণব ওয়ারেস খান ১৭৪ ভোট পেয়েছেন। জামালপুর-৩ আসনে বৈধ ভোটের সংখ্যা ৩ লাখ ১৬ হাজার ১৪৬। এখানে জামানত হারিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ দৌলতুজ্জামান আনছারী।তিনি ভোট পান ২ হাজার ৫৪৬টি, গণ অধিকার পরিষদের লিটন মিয়া ৪১২টি, জাতীয় পার্টির মীর সামসুল আলম ৮৪৪টি, গণসংহতি আন্দোলনের ফিদেল নঈম ৬৪৩, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সাদিকুর রহমান ১২ হাজার ৫২ ভোট, শিবলুল বারী রাজু ১০ হাজার ৫২৩ ভোট এবং ফারজানা ফরিদ ২৮৪টি ভোট‌ পেয়েছেন। জামালপুর-৪ এ আসনে মোট বৈধ ভোট ১ লাখ ৯৫ হাজার ৭৩১। এ আসনে ১ হাজার ৩০২ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আলী আকবর। এ ছাড়া গণঅধিকার পরিষদের মো. ইকবাল হোসেন পান ৩৮৩টি, নাগরিক ঐক্যের মো. কবির হাসান ৩৭৯টি ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মো. মাহবুব জামান জুয়েল ১ হাজার ৩১৪ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।  জামালপুর-৫ আসনে সবচেয়ে বেশি ৩ লাখ ২৩ হাজার ৫৬টি বৈধ ভোট পড়েছে।এখানে জামানত হারিয়েছেন বাংলাদেশ কংগ্রেসের আবু সাঈদ মোহাম্মদ সা. আদাত-উল করীম। তিনি ভোট পান ২২৫টি, গণঅধিকার পরিষদের জাকির হোসেন ৫৩৯টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের মো. আমিন উদ্দিন ৫৮০টি, জাতীয় পার্টির মো.বাবর আলী খান ৩ হাজার ৭৩৯টি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির শেখ মো. আক্কাস আলী ৫৪৭ টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সৈয়দ ইউনুস আলী ৪ হাজার ২৮২ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ ইব্রাহীম আহমদ ৩৫৪টি এবং হোছনেয়ারা বেগম ২৪৫ ভোট পেয়েছেন। প্রাপ্ত ভোটের হার প্রয়োজনীয় সীমার নিচে থাকায় তাদের জামানত হারিয়েছেন।জামালপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ আনোয়ারুল হক বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে প্রত্যেক প্রার্থীকে ৫০ হাজার টাকা করে জামানত জমা দিতে হয়। কোনো প্রার্থী মোট ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পেলে সেই জামানত রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হয়।এসআর
    চাঁদাবাজমুক্ত ভালুকা ঘোষণায় কঠোর বার্তা নবনির্বাচিত এমপির
    ময়মনসিংহ-১১ ভালুকা আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু আজ থেকে “চাঁদাবাজমুক্ত ভালুকা” ঘোষণা করেছেন। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ভালুকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ আয়োজিত এক জনসভায় তিনি এ ঘোষণা দেন।বিকেল গড়াতেই মাঠে জড়ো হন বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। বক্তব্যের শুরুতেই নবনির্বাচিত এমপি বলেন, ভালুকাকে ঘিরে দীর্ঘদিনের চাঁদাবাজি, মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিস্তার সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করছে। এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তিনি কঠোর অবস্থানের কথা জানান।তিনি প্রশাসনের প্রতি স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে বলেন, মাদক ও অনলাইন জুয়ার ভয়াবহ ছোবল থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করতে হলে অবৈধ সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে হবে। যারা চাঁদাবাজি বা জুয়ার আসর বসিয়ে অর্থ উপার্জন করছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।নিজ দলের নেতাকর্মীদের প্রতিও কঠোর বার্তা দেন তিনি। বলেন, দলের কোনো নেতা বা কর্মী যদি চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ কিংবা জুয়ার সঙ্গে জড়িত থাকেন, তাহলে আজ থেকেই নিজেকে সংশোধন করুন। অন্যথায় দলীয় পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হবে না, আইনের আওতায় আনা হবে।বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি আবেগঘন আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রিয় ভালুকাবাসী, আসুন আমরা কাঁধে কাঁধ রেখে আগামী দিনে ভালুকাকে একটি আধুনিক শিল্পনগরী হিসেবে গড়ে তুলি। দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ আমাকে সহযোগিতা করুন।জনসভায় উপস্থিত অনেকেই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের এ ঘোষণাকে স্বাগত জানান। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ঘোষণার বাস্তব প্রতিফলন ঘটলে ভালুকায় শৃঙ্খলা ও সুশাসনের নতুন পরিবেশ তৈরি হবে।এসআর
    নির্বাচন শেষে কর্মস্থলে ফেরা, নেত্রকোণায় বাড়তি ভাড়ার অভিযোগ
    নির্বাচনের আমেজ শেষ হতেই কর্মব্যস্ত জীবনে ফিরতে শুরু করেছেন হাজারো মানুষ। উত্তরের জেলা নেত্রকোণা থেকে বাস, ট্রাক ও সিএনজিযোগে রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় ফিরছেন যাত্রীরা। তবে এই সুযোগে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে পরিবহন চালকদের বিরুদ্ধে।শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের পর থেকেই নেত্রকোণা শহরের পারলা বাসস্ট্যান্ড ও আশপাশের সড়কে দেখা গেছে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে ফিরছেন শ্রমিক ও কর্মজীবীরা।যাত্রীদের অভিযোগ, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় জনপ্রতি ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। শুধু বাস নয়, ট্রাক ও সিএনজিতেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রশাসনের তদারকি না থাকায় চালকরা এই সুযোগ নিচ্ছেন বলেও দাবি করেন তারা।একাধিক যাত্রী জানান, হঠাৎ করে ভাড়া বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। অপরদিকে কয়েকজন পরিবহন চালক বলেন, যাত্রীচাপ বেশি থাকা এবং ফেরার পথে গাড়ি ফাঁকা যাওয়ার আশঙ্কায় বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এসআর
    নান্দাইলে ৩৫ বছর পর বাবার আসনে ছেলের অভিষেক
    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইয়াসের খান চৌধুরী। দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর পর ইয়াসের খান চৌধুরী বাবা আনোয়ারুল হোসেন খান চৌধুরীর আসন ফিরে পেলেন। ১৯৯১ সালে বাবা এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে এমপি হয়েছিলেন।ধানের শীষ প্রতীকে ইয়াসের খান চৌধুরী পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৪৭৩ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত সমর্থিত বিডিপির চেয়ারম্যান এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চান পেয়েছেন ৭০ হাজার ১৫২ ভোট। জানা যায়, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উপদেষ্টা, ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি, স্বাধীনতার সর্বাধিনায়ক এম এ জি ওসমানীর একান্ত সচিব ছিলেন সাবেক এমপি আনোয়রুল । এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ও সিন্ডিকেটের নির্বাচিত সদস্যও ছিলেন তিনি।তাঁর ছেলে ইয়াসের খান চৌধুরী একজন তথ্যপ্রযুক্তি বিজ্ঞানী। দীর্ঘদিন ধরে  বিবিসি টেলিভিশন নেটওয়ার্ক লন্ডনের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের দায়িত্ব পালন করেছেন। একপর্যায়ে দেশে ফিরে এলাকার রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তাঁর বাবা ছাড়াও চাচা খুররম খান চৌধুরী ছিলেন চারবারের সংসদ সদস্য। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী অনেকের মধ্যে নিজেকে দলের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলেন ইয়াসের খান। মনোনয়ন পেয়েই ছয়জন প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে ভোটের মাঠে ভোটারদের মধ্যে প্রচারণা শুরু করেন তিনি।নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, বাবার স্বপ্ন ছিল আমি যেন উন্নত ও আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশের জন্য কিছু করতে পারি। কাছ থেকে বাবার মানবিকতার রাজনীতি দেখেছি। দেখেছি সাধারণ  মানুষের জন্য তিনি কিভাবে নিজেকে বিলিয়ে দিতেন। বাবার রেখে যাওয়া এই কর্মকাণ্ডকে এখন আমি বাস্তবায়ন করতে চাই।পিএম
    জামালপুরের ৫টি আসনেই ধানের শীষের বড় জয়
    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামালপুর জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনেই বড় ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন বিএনপি মনোনীত ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রার্থীরা। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত বেসরকারি ফলাফলে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ): এ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের এম রশিদুজ্জামান (মিল্লাত) ১,৭২,০১১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মো. নাজমুল হক পেয়েছেন ৯৩,৬৬১ ভোট। ৭৮,৪৫০ ভোটের ব্যবধানে এ আসনে জয় পান রশিদুজ্জামান। (নোট: গাণিতিক হিসাব অনুযায়ী ব্যবধানটি সমন্বয় করা হয়েছে)।জামালপুর-২ (ইসলামপুর): এ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের সুলতান মাহমুদ (বাবু) পেয়েছেন ৯৫,৩৭৮ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ছামিউল হক পেয়েছেন ৬১,৬৫৫ ভোট। ৩৩,৭২৩ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন সুলতান মাহমুদ।জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ): এ আসনে ১৫৪টি কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীকের মো. মোস্তাফিজুর রহমান (বাবুল) ২,০৬,২১৪ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী পেয়েছেন ৭৯,৬০৭ ভোট। ১,২৬,৬০৭ ভোটের বিশাল ব্যবধানে বিজয় নিশ্চিত করেন তিনি।জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী): এ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের মো. ফরিদুল কবীর তালুকদার (শামীম) ১,৪৬,৫৪৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী পেয়েছেন ৪৪,১৬১ ভোট। এখানে জয়ের ব্যবধান ১,০২,৩৮৫ ভোট।জামালপুর-৫ (সদর): এ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের শাহ্ মো. ওয়ারেছ আলী (মামুন) পেয়েছেন ১,৯৮,২৯২ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মুহাম্মদ আবদুস সাত্তার পেয়েছেন ১,১১,৬৯৫ ভোট। ৮৬,৫৯৭ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন ওয়ারেছ আলী।এনআই
    কুড়িগ্রাম-৩ আসনে জামানত হারালেন ৩ প্রার্থী
    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৭ কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর) আসনে ৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩ জনই তাদের জামানত হারিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের আইন অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী যদি প্রদত্ত মোট বৈধ ভোটের ন্যূনতম ১২.৫ শতাংশ বা এক-অষ্টমাংশ ভোট না পান, তবে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। এই আসনে জামানত রক্ষার ন্যূনতম সীমায় ভোট না পাওয়ায় ৩ প্রার্থীর জামানতের টাকা বাজেয়াপ্ত হতে যাচ্ছে।বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ স্বাক্ষরিত চূড়ান্ত ফলাফল বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পাওয়া গেছে।জামানত বাজেয়াপ্ত প্রার্থীরা হলেন, আব্দুস সোবহান (জাতীয় পার্টি, লাঙ্গল) ২ হাজার ১১২ ভোট, অ্যাডভোকেট এসএম নুরে এরশাদ সিদ্দিকী (গণঅধিকার পরিষদ, ট্রাক) ৫৯৯ ভোট এবং অ্যাডভোকেট ড. মো. সাফিউর রহমান (স্বতন্ত্র, হাঁস) ২৩৯ ভোট পান।তারা ৩ জনই ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় ও গণভোট নির্বাচনে প্রদত্ত বৈধ ভোটের আট ভাগের একভাগ ভোট পাননি।ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২৭ কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর) আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৪৭০ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৮৩ হাজার ৬৪ জন এবং নারী ১ লাখ ৮৫ হাজার ৪০৬ জন। পোস্টাল ভোট গণনাকেন্দ্রসহ মোট ১৪১ ভোটকেন্দ্রে ৬৯৭টি বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।এরমধ্যে ভোট দিয়েছেন ২ লাখ ২৭ হাজার ৯৩৫ জন। বাতিলকৃত ভোটের সংখ্যা ৪ হাজার ১২৫টি। মোট বৈধ ভোটের সংখ্যা ২ লাখ ২৩ হাজার ৮১০ টি। প্রদত্ত ভোটের হার ৬১.৮৬ শতাংশ।নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী, জামানত ফিরে পেতে প্রার্থীদের প্রয়োজন ছিল প্রায় ২৭ হাজার ৯৭৬ ভোট। তারা ওই পরিমাণ ভোট পাননি। তবে নির্বাচনে এ আসনে ১১ দলীয় জোটের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৩০ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী তাসভীর-উল ইসলাম ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৭৯ হাজার ৩৫২ ভোট। বেসরকারিভাবে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহী ২৮ হাজার ৫৭৮ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন।##এনআই
    কুড়িগ্রামের ৪ আসনে জামানত হারালেন ১৮ প্রার্থী
    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রামের চারটি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী ২৮ প্রার্থীর মধ্যে জাতীয় পার্টি (জাপা) ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ৬ প্রার্থীসহ ১৮ জন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। জেলা রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক ঘোষিত বেসরকারি ফলাফলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।নির্বাচন কমিশনের জারি করা পরিপত্র অনুযায়ী, কোনো প্রার্থীকে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট পেতে হবে। অন্যথায় জামানত বাবদ জমা দেওয়া টাকা বাজেয়াপ্ত হবে। মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় প্রার্থীকে ৫০ হাজার টাকা জামানত জমা দিতে হয়েছে।জামানত হারালেন যারা:কুড়িগ্রাম-১ আসনে মোট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন ৬ জন। এই আসনে মোট প্রদত্ত ভোট ৩ লাখ ৬৩ হাজার ৩৯৫। এর মধ্যে কাঙ্ক্ষিত ভোট না পাওয়ায় জামানত হারিয়েছেন তিন জন প্রার্থী। তারা হলেন– ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হারিসুল বারী হাতপাখা প্রতীকে, তার প্রাপ্ত ভোট ৩৮ হাজার ৮০৭; গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী বিন ইয়ামিন, মোল্লা ট্রাক প্রতীকে তার প্রাপ্ত ভোট ২৩১,আরেক প্রার্থী জাকের পার্টির আব্দুল হাই। গোলাপ ফুল প্রতীকে এই প্রার্থী পেয়েছেন ২ হাজার ৯০৭ ভোট। এই আসনে জামায়াত প্রার্থী মো. আনোয়ারুল ইসলাম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৪১ হাজার ৯০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।কুড়িগ্রাম-২ আসনে জামানত হারিয়েছেন জাপা ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীসহ ৭ জন। ৬ লক্ষাধিক ভোটারের এই আসনে ভোট পড়েছে ৪ লাখ ৩ হাজার ৬৩১। এ  আসনে জামানত হারিয়েছেন জাতীয় পাটির (জাপা) প্রার্থী ও সাবেক এমপি পনির উদ্দিন আহমেদ (লাঙ্গল প্রতীকে প্রাপ্ত ভোট ১৩ হাজার ৮৪৬), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী নূর বখত (হাতপাখা প্রতীকে প্রাপ্ত ভোট ২৪ হাজার ৮২৯), নাগরিক ঐক্যের প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুস সালাম (কেটলি প্রতীকে প্রাপ্ত ভোট ১ হাজার ১০০), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী নূর মোহাম্মদ (কাস্তে প্রতীকে প্রাপ্ত ভোট ৬৫৭), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির প্রার্থী আতিকুর রহমান (কাঁঠাল প্রতীকে প্রাপ্ত ভোট ৪২১), আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির প্রার্থী নজরুল ইসলাম খান (ঈগল প্রতীকে প্রাপ্ত ভোট ৯০৪) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সাফিউর রহমান (হাঁস প্রতীকে প্রাপ্ত ভোট ৩১৪)। এই আসনে এনসিপির প্রার্থী ড. আতিকুর রহমান মোজাহিদ শাপলা কলি প্রতীকে ১ লাখ ৮০ হাজার ৫২৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।কুড়িগ্রাম-৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন ৬ জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে জামানত হারিয়েছেন জাপা প্রার্থীসহ ৩ জন। ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৪৭০ ভোটারের এই আসনে ভোট পড়েছে ২ লাখ ২৭ হাজার ৯৩৫। কঙ্ক্ষিত ভোট না পাওয়ায় এই আসনে জামানত হারিয়েছেন জাতীয় পাটি জাপার প্রার্থী আব্দুস সোবহান (লাঙ্গল প্রতীকে প্রাপ্ত ভোট ২ হাজার ১১২), গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী সরকার মো. নুরে এরশাদ সিদ্দিকী (ট্রাক প্রতীকে প্রাপ্ত ভোট ৫৯৯) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সাফিউর রহমান (হাঁস প্রতীকে প্রাপ্ত ভোট ২৩৯)। সাফিউর রহমান একই সঙ্গে কুড়িগ্রাম-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জামানত হারিয়েছেন।এই আসনে জামায়াত প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৩০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।কুড়িগ্রাম-৪ আসনে ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৫ জনই জামানত হারিয়েছেন। এই আসনেও জাতীয় পাটির (জাপা) ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীরা জামানত হারিয়েছেন। জাতীয় পাটির প্রার্থী কেএম ফজলুল মণ্ডল লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ১৮০ ভোট। আর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হাফিজুর রহমান হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ৬ হাজার ২৩১ ভোট।৩ লাখ ৬২ হাজার ৭৫৩ ভোটারের এই আসনে মোট ভোট পড়েছে ২ লাখ ২৬ হাজার ১৪০। জামানত রক্ষার জন্য প্রার্থীদের ন্যূনতম ২৮ হাজার ২৬৭ ভোট প্রয়োজন। এই আসনে জামানত হারানো অপর প্রার্থীরা হলেন–স্বতন্ত্র প্রার্থী রুকুনুজ্জামান, বালতি প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ২০ হাজার ৯০২ ভোট,বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) প্রার্থী রাজু আহমেদ কাঁচি প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩২০ ভোট। বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) প্রার্থী শেখ মোহামমদ আব্দুল খালেক মই প্রতীকে পেয়েছেন ২০১ ভোট।এই আসনে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী মো. মোস্তাফিজুর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৮ হাজার ২১০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।এফএস
    কুড়িগ্রামে ফলাফল নিয়ে বিতর্ক, পুনর্গণনার দাবি বিএনপি প্রার্থীর
    কুড়িগ্রাম-২ আসনের বিএনপির পরাজিত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সদস্যসচিব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ ওই আসনের ঘোষিত বেসরকারি ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে ভোট পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছেন। তাকে পরিকল্পিতভাবে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে পরাজিত করা হয়েছে বলেও তার অভিযোগ।শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে কুড়িগ্রাম শহরের হাসপাতাল মোড় সংলগ্ন নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি তোলেন। এই আসনে ১১ দলীয় জোটের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী ড. আতিকুর রহমান মোজাহিদ বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির এই প্রার্থী দাবি করেন, ‘কুড়িগ্রামের এই আসনের মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে ধানের শীষের প্রতীকের পক্ষে রায় দিয়েছেন। সেই রায়কে ষড়যন্ত্র করে প্রশাসনের সহযোগিতায় পরিবর্তন করা হয়েছে। আমাকে পরিকল্পিতভাবে ভোটি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে পরাজিত করা হয়েছে। প্রত্যেকটি সেন্টারের রেজাল্ট শিটের অনেকগুলোতে পুলিং এজেন্টের স্বাক্ষর নেই। কয়েকটি সেন্টারে স্থানীয় ভোটররা তাদের রায়ের প্রতিফলন দেখতে না পেরে সন্দেহ প্রকাশ করে সেন্টারগুলো আটকে দিয়েছিল। কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসন লোকজনকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ব্যালট বাক্স নিয়ে চলে আসে। জনগণের প্রতিরোধে তারা সেন্টারে গিয়ে ফল ঘোষণার প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে তা করেনি।’বিএনপির এই নেতা আরও দাবি করেন, ‘আসনের ফুলবাড়ী উপজেলা এবং সদরের পাঁচগাছী ইউনিয়নের সেন্টারে ব্যালটের বান্ডিল সংখ্যায় অসংগতি পাওয়া গেছে। আমরা মনে করছি, জনগণের রায়ের যে ফলাফল তাতে অনিয়ম হয়েছে। এজন্য আমি জেলা রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। ফলাফল স্থগিতের দাবি জানিয়েছি। আসনের প্রত্যেকটি সেন্টারের ভোট পুনরায় গণনার জন্য আমি আবেদন করছি। আমার বিশ্বাস প্রত্যেকটি সেন্টারের ভোট যদি পুনরায় গণনা করা হয়, তাহলে ধানের শীষে মানুষ যে ভোট দিয়েছেন তার প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।বিএনপি নেতা কায়কোবাদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি আপনাদের মাধ্যমে প্রশাসনে যারা আছেন তাদের উদ্দেশ্যে বলবো, ভোট যদি পুনরায় গণনা করা হয় তাহলে জনগণের দীর্ঘদিনের যে আশা, ধানের শীষের পক্ষে জনগণের যে রায় তার প্রকৃত সত্য বের হয়ে আসবে।’সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, যুগ্ম আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান হাসিবসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বিভিন্ন কেন্দ্রের ফলাফল শিটে পুলিং এজেন্টদের স্বাক্ষর না থাকার প্রমাণ হিসেবে বেশ কিছু ফলাফল শিট দেখান।এফএস
    পঞ্চগড়ের দুইটি আসনে জামানত হারিয়েছেন ১১ জন প্রার্থী
    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়ের দুইটি আসনে মোট বৈধ ভোটের আট ভাগের এক ভাগের কম ভোট পাওয়ায় ১১ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা কাজী মো. সায়েমুজ্জামান স্বাক্ষরিত প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফলের ভিত্তিতে এ হিসাব করা হয়েছে।পঞ্চগড়-১ আসনে মোট বৈধ ভোট পড়েছে ৩ লাখ ৫০ হাজার ২৫টি। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী এই আসনে জামানত রক্ষার জন্য একজন প্রার্থীকে ন্যূনতম ৪৩ হাজার ৭৫৪ ভোট পেতে হতো। এ আসনে বিএনপি প্রার্থী মুহাম্মদ নওশাদ জমির ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৭৬ হাজার ১৬৯ ভোট এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির মো. সারজিস আলম শাপলা কলি প্রতীকে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৪৯ ভোট পেয়ে জামানত রক্ষা করেন। অন্যদিকে জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়া প্রার্থীরা হলেন বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-বাংলাদেশ জাসদের নাজমুল হক প্রধান মোটরগাড়ি প্রতীকে ৩ হাজার ৯ ভোট, বাংলাদেশ সুপ্রীম পার্টির মো. আব্দুল ওয়াদুদ (বাদশা) একতারা প্রতীকে ১ হাজার ১৮ ভোট, বাংলাদেশ লেবার পার্টির মো. ফেরদাউস আলম আনারস প্রতীকে ৬৮৩ ভোট, গণঅধিকার পরিষদের মো. মাহাফুজার রহমান ট্রাক প্রতীকে ৮৩৬ ভোট এবং বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের মো. সিরাজুল ইসলাম টেলিভিশন প্রতীকে ২৬১ ভোট পান।অপরদিকে পঞ্চগড়-২ আসনে মোট বৈধ ভোট পড়েছে ৩ লাখ ১৫ হাজার ১৪৯টি। এই আসনে জামানত রক্ষার জন্য একজন প্রার্থীকে ন্যূনতম ৩৯ হাজার ৩৯৪ ভোট পেতে হতো। বিএনপি প্রার্থী ফরহাদ হোসেন আজাদ ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৬৫০ ভোট এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. সফিউল আলম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ২৮ হাজার ৮৬২ ভোট পেয়ে জামানত রক্ষা করেন। বাকি ছয়জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তারা হলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহমুদ হোসেন সুমন ঘোড়া প্রতীকে ১ হাজার ৮৫৪ ভোট, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মো. আশরাফুল আলম কাস্তে প্রতীকে ৯৩৫ ভোট, বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-বাংলাদেশ জাসদের মো. এমরান আল আমিন মোটরগাড়ি প্রতীকে ৯৫৩ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. কামরুল হাসান প্রধান হাতপাখা প্রতীকে ৪ হাজার ৩৯১ ভোট, বাংলাদেশ সুপ্রীম পার্টির মো. দেলোয়ার হোসেন একতারা প্রতীকে ১ হাজার ৩৫২ ভোট এবং জাতীয় পার্টির মো. লুৎফর রহমান রিপন লাঙ্গল প্রতীকে ২ হাজার ১৫২ ভোট পান।এফএস
    পঞ্চগড়ে তালাবদ্ধ আ.লীগ কার্যালয় খুলে দিলেন বিএনপি নেতা দাউদ
    ভোটে জয়ের পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের একটি দলীয় কার্যালয়ের তালা খুলে দিয়েছেন পঞ্চগড় সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু দাউদ প্রধান।শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়নে অবস্থিত আওয়ামী লীগের কার্যালয়টি খুলে দেওয়া হয়। এ সময় তিনি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় পক্ষে বিপক্ষে নানা আলোচনা শুরু হয়। ভিডিওতে চাকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বুলেটকে বলতে শোনা যায়, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু দাউদ প্রধান কার্যালয়টি তালামুক্ত করেছেন, যা স্থানীয় আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীদের জন্য ইতিবাচক বার্তা।একই ভিডিওতে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, তাদের নামে মিথ্যা মামলা হয়েছে এবং সেখান থেকে রক্ষার জন্য তিনি আবু দাউদ প্রধানের সহযোগিতা চান। সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আনিসুজ্জমান স্বপন বলেন, দেশের পতাকা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে কোনো অপচেষ্টা হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিহত করতে হবে। দলমত নির্বিশেষে সবাই এলাকায় শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে চান বলেও মন্তব্য করেন তিনি।এ বিষয়ে আবু দাউদ প্রধান বলেন, আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে তালা দেওয়া ছিল বিষয়টি তিনি আগে জানতেন না। জানতে পেরে এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে তিনি উদ্যোগ নিয়ে কার্যালয়টি খুলে দেন। তার ভাষ্য, প্রতিটি দলেই কিছু উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি থাকতে পারে, তবে দলীয় ব্যবস্থায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কোনোভাবেই এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না।অন্যদিকে মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন বলেন, কার্যালয়টি আগে জামায়াতের লোকজন তালাবদ্ধ করে রেখেছিল। শুক্রবার স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে আবু দাউদ প্রধানের উপস্থিতিতে অফিসটি খোলা হয়েছে এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে। আপাতত মুক্তিযোদ্ধারা কার্যালয়টি ব্যবহার করবেন, এখানে আওয়ামী লীগের কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রম হবে না বলেও জানান তিনি।পরে আবারও আবু দাউদ প্রধান বলেন, এটি তার দলের কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নয়। এলাকায় উত্তেজনা এড়াতে এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতেই তিনি এ পদক্ষেপ নিয়েছেন।এসআর
    সিরাজগঞ্জে গভীর রাতে ফিলিং স্টেশনে দুর্বৃত্তদের হামলা ও ভাঙচুর
    সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার দিয়ারবৈদ্যনাথে ‘অ্যালবার্ট এনার্জি সিএনজি ফিলিং স্টেশনে’ গভীর রাতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। হামলার পর থেকে পাম্পটিতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন প্রায় ৫ হাজার যানবাহনের চালক।সরেজমিনে জানা যায়, ঘটনার সময় একদল মুখোশধারী যুবক দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পাম্পে প্রবেশ করে। তারা ফিলিং স্টেশনের তিনটি ডিসপেন্সার মেশিন, জেনারেটর রুম, মেশিন রুম ও আরএমএস রুম ভাঙচুর করে। এছাড়া কাউন্টার থেকে নগদ টাকা লুট করে তারা দ্রুত পালিয়ে যায়।প্রতিষ্ঠানের অপারেটর ইনচার্জ শামীম হোসেন জানান, ক্ষতিগ্রস্ত যন্ত্রাংশগুলো অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং দেশে এসব সহজলভ্য নয়। এগুলো মেরামত বা পরিবর্তন করা বেশ সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। ফলে দ্রুত পাম্পটি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।সিরাজগঞ্জ জেলা অটোরিকশা ও সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম লিটন বলেন, “ভাঙচুরের কারণে গত দুই দিন ধরে ফিলিং স্টেশনটি বন্ধ রয়েছে। এতে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, বাস, ট্রাক ও মাইক্রোবাসসহ প্রায় ৫ হাজার যানবাহন গ্যাসের অভাবে চলাচল বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। আমরা দ্রুত পাম্পটি মেরামত করে গ্যাস সরবরাহের দাবি জানাই।”এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে তিনি অবগত আছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।এনআই
    পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্বাচন-পরবর্তী সংঘর্ষ: গুলিবিদ্ধসহ আহত ৩
    পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বিএনপির ধানের শীষ ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে গত দুই দিন ধরে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় উভয় পক্ষের বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দলীয় কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুরসহ গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটেছে। এতে তিন কর্মী আহত হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে শুক্রবার মধ্যরাত পর্যন্ত ঈশ্বরদীর সাঁড়া ইউনিয়নের আড়মবাড়িয়া বাজারে এসব ঘটনা ঘটে।আহতরা হলেন— আড়মবাড়িয়ার শেখেরচকের গোপালপুর গ্রামের মোঃ তারুর ছেলে সাইদুর রহমান, একই এলাকার হাতেম মালিথার ছেলে মনোয়ারুল ইসলাম হিটলার ও তার ভাই আব্দুল্লাহ আল মামুন। এর মধ্যে গুলিবিদ্ধ সাইদুর রহমান ও মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত মনোয়ারুল ইসলাম হিটলার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তারা সবাই পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত জাকারিয়া পিন্টুর সমর্থক।অন্যদিকে, হামলাকারীরা ওই আসনের ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পরাজিত প্রার্থী ও পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের সমর্থক হিসেবে পরিচিত। তারা সাঁড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাসিবুর রহমান হাক্কে মন্ডলের ছেলে যুবদল নেতা হেকমত উল্লাহ কনকের অনুসারী বলে জানা গেছে।শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সরেজমিনে ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, যুবদল নেতা হোসেন বিপু ওরফে ল্যাংড়া বিপু ৫ আগস্টের পর থেকে ওই এলাকার বালুমহাল দখল ও মাদক ব্যবসার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন। নির্বাচনে বিপু বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী জাকারিয়া পিন্টুর পক্ষে ‘মোটরসাইকেল’ প্রতীকে কাজ করেছেন। অপরপক্ষে, হাসিবুর রহমান হাক্কে মন্ডল ও তার ছেলে হেকমত উল্লাহ কনক ধানের শীষের প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবের পক্ষে নির্বাচন করেছেন। মূলত আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ল্যাংড়া বিপু ও কনকের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ ও পাল্টাপাল্টি মামলার জের ধরেই এই সংঘর্ষ।সূত্রমতে, নির্বাচনের দিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে ল্যাংড়া বিপু দলবল নিয়ে হাক্কে মন্ডলের বাড়িতে হামলা চালিয়ে অন্তত ২০-২৫ রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে। এতে স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এই ঘটনার পরদিন ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টার দিকে ল্যাংড়া বিপু আড়মবাড়িয়া বাজার সংলগ্ন নিজ কার্যালয়ে বসে থাকার সময় কনকের নেতৃত্বে একদল লোক সেখানে হামলা চালায়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে মারপিট ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ সময় বাজারের ব্যবসায়ীরা আতঙ্কিত হয়ে দোকানপাট বন্ধ করে দেন।এ ব্যাপারে জাকারিয়া পিন্টুর সমর্থক সোহান হোসেন ল্যাংড়া বিপু বলেন, “হাক্কে মন্ডলের ছেলে কনক দলবল নিয়ে আমার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দখলের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে। আমার পক্ষের তিনজনকে কুপিয়ে ও গুলি করে আহত করা হয়েছে। এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।”তবে যুবদল নেতা হেকমত উল্লাহ কনক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “ল্যাংড়া বিপু এলাকায় মাদক ব্যবসা ও বালুমহালের আধিপত্য ধরে রাখতে আমাদের বাড়িতে এসে গুলিবর্ষণ করেছে। আমরা তাদের ওপর হামলা করিনি, বরং তারা আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে। এ বিষয়েও থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।”ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মমিনুজ্জামান জানান, ঘটনার পর থেকে আড়মবাড়িয়া বাজার এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও বিজিবি সদস্যরাও টহল দিচ্ছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।এনআই
    উল্লাপাড়ায় বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়িঘর দোকানপাটে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ
    উল্লাপাড়ার উধুনিয়া ও গজাইল বাজারে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার অভিযোগ, একাধিক দোকানে হামলা ও লুটপাটের দাবি। বৃহস্পতিবার রাত ও শুক্রবার ভোররাত থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার উধুনিয়া ইউনিয়নের গজাইল বাজার ও উধুনিয়া বাজারে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার ঘটনায় দোকান ভাঙচুর, লুটপাট ও বাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক কর্মী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে।উধুনিয়া ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফ অভিযোগ করেন, শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারী) ভোররাতে একদল দুর্বৃত্ত গজাইল বাজারে তার দোকানে হামলা চালায়। এতে দোকানের মালামাল ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। তিনি দাবি করেন, হামলাকারীরা দোকানে থাকা প্রায় ১ হাজার বস্তা চাল, নগদ প্রায় ৩ লাখ টাকা, দুটি মোটরসাইকেল ভাংচুর, একটি মনিটর এবং হিসাবের খাতা নিয়ে যায়। এতে প্রায় ৭০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি জানান।তিনি আরও অভিযোগ করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থীর পরাজয়ের পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতাকর্মীদের নেতৃত্বে একটি মিছিল থেকে হামলার ঘটনা ঘটে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তদের মধ্যে ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল কাদের, রেজাউল করিম, ইউনিয়ন আমীর আব্দুল আলিম সরদার, আশরাফ আলী প্রামাণিক, জামায়াতের রুকন আলামিন মণ্ডল ও মজিদ খন্দকারসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।এদিকে একই এলাকার বিএনপি কর্মী ও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর ভোটকেন্দ্রের এজেন্ট আমিনা খাতুন অভিযোগ করেন, নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করার পর তাকে মারধর ও হুমকি দেওয়া হয়। পরে তাকে না পেয়ে তার বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।অন্যদিকে উধুনিয়া বাজারের মোল্লা স্টোরে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। দোকানটির মালিক আব্দুল বলেন, স্থানীয় যুবলীগ নেতা এরশাদ এবং ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ও বর্তমানে জামায়াতের কর্মী আব্দুল কুদ্দুসের নেতৃত্বে দোকানের সিসি ক্যামেরা ভেঙে মালামাল লুটপাট করা হয়। তিনি দাবি করেন, সদ্য জামায়াতে যোগদান করা যুবলীগ নেতা আব্দুল কুদ্দুস ও এরশাদ আলী এই হামলার নেতৃত্ব দিয়েছেন।এছাড়াও উধুনিয়া বাজারে বিএনপির নেতাকর্মীদের আরও তিনটি দোকান ভাঙচুর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।এ ঘটনায় শুক্রবার রাত ৯ টার দিকে উল্লাপাড়া মডেল থানায় যুবদলের নেতা আব্দুর লতিফ, অন্যদিকে বিএনপি নেতা আব্দুল আলিম মামলা করছে। এ বিষয়ে উধুনিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর আব্দুল আলিম সরদার বলেন প্রথমে বিএনপির লোকজন তাদের অফিস বাড়িঘর ভাংচুর করেছে। তাদের এই অপকর্ম থেকে বাঁচতে নাটক সাজিয়ে। তারা এই ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত না বলে তিনি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে উল্লাপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাকিউল আযম বলেন,খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পেয়েছি প্রযোজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এবি 
    উল্লাপাড়া আসনের ফলাফল স্থগিত ও পুনঃগণনার দাবি
    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ এ সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনের ভোট গণনায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে ফলাফল স্থগিত এবং ভোট পুনঃগণনার আবেদন জানিয়েছেন এম আকবর আলী। তিনি জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার এবং বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন।আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট আসনের ভোটগ্রহণ ও ফলাফল ঘোষণার পর প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণে বিভিন্ন কেন্দ্রের ভোট গণনায় অসংগতি ও অনিয়মের বিষয় প্রতীয়মান হয়েছে।অভিযোগে বলা হয়েছে, বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে ভোট গণনার ফলাফল ও ফরম-১৬ এর তথ্যের মধ্যে অসামঞ্জস্য রয়েছে। এছাড়া বাতিল ভোটের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেশি বা পরিবর্তিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। অনেক কেন্দ্রে পোলিং এজেন্টদের সামনে ফলাফল সম্পূর্ণভাবে লিপিবদ্ধ না করেই ফরম-১৬ এ স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে।এছাড়া কয়েকটি কেন্দ্রে এজেন্টদের উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও যথাযথভাবে ফলাফল উপস্থাপন করা হয়নি বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। কেন্দ্রভিত্তিক ভোটের হিসাব এবং মোট প্রাপ্ত ফলাফলের মধ্যে গরমিল রয়েছে বলেও দাবি করেন প্রার্থী।আবেদনে এম আকবর আলী বলেন, ভোটারদের প্রদত্ত ভোটের সঠিক প্রতিফলন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোর ভোট পুনঃগণনা করা জরুরি। পাশাপাশি পুনঃগণনা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বেসরকারি ফলাফল স্থগিত রেখে সরকারি ফলাফল ঘোষণা না করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।  এই আসনে বিএনপি প্রার্থী এম আকবর আলী পেয়েছিলেন ১ লাখ ৬০ হাজার ৪৫৮ ভোট। অপরদিকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা রফিকুল ইসলাম খাঁন পেয়েছিলেন ১ লাখ ৫৯ হাজার ৬৯৩ ভোট। এতে এম আকবর আলী ৭৬৫ ভোটে এগিয়ে ছিলেন। পোস্টাল ভোটের ফলাফল যোগ হলে চিত্র পাল্টে যায়। পোস্টাল ভোট যোগ করে জামায়াত প্রার্থী মাওলানা রফিকুল ইসলাম খাঁন মোট পেয়েছেন ১ লাখ ৬১ হাজার ৫৭২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী এম আকবর আলী পেয়েছেন ১ লাখ ৬১ হাজার ২৭৮ ভোট। এতে মাওলানা রফিকুল ইসলাম খাঁন ৫৯৪ ভোটের ব্যবধানে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বলে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম ঘোষণা করেন।এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন সিরাজগঞ্জ ৪ উল্লাপাড়া আসনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে, এটা রিটার্নীং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে স্থগিত হওয়ার সম্ভবনা নেই, তিনি বিএনপি প্রার্থী এম আকবর আলীর আবেদনটি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে পাঠানো হয়েছে তিনি সিন্ধান্ত নিবেন।এসআর
    সাবেক এমপি-মন্ত্রীসহ নওগাঁয় জামানত হারাচ্ছেন ২০ জন প্রার্থী
    সদ্য অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নওগাঁ জেলার ৬টি সংসদীয় আসনে বিভিন্ন দলীয় ২৭জন এবং স্বতন্ত্র ৫ জনসহ ৩২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। তাদের মধ্যে ২০ জন প্রার্থীই জামানত খোয়াতে যাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার (১২ফেব্রুয়ারি) ভোট গ্রহণ শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ঘোষিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিধি অনুযায়ী, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা কোনো প্রার্থী তার নির্বাচনি এলাকার প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়। এবার, সংসদ সদস্য নির্বাচনে একজন প্রার্থীকে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অনুকূলে ৫০ হাজার টাকা জমা দিতে হয়েছে। এরপর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আট শতাংশ ভোট না পেলে ওই ২০ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত করা হবে।ফলাফল ঘোষণা পর জানা যায়, নওগাঁ-১ আসনের তিন জন, নওগাঁ-২ আসনে এক জন, নওগাঁ-৩ আসনে ছয় জন, নওগাঁ-৪ আসনে চার জন, নওগাঁ-৫ আসনে তিন জন এবং নওগাঁ-৬ আসনে তিন জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হতে যাচ্ছে।আসনভিত্তিক জামানত বাজেয়াপ্ত হতে যাওয়া প্রার্থীরা:নওগাঁ-১ (পোরশা, সাপাহার ও নিয়ামতপুর) আসনে দলীয় ও স্বতন্ত্রসহ ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছেন। অনুষ্ঠিত ভোটে এদের মধ্যে তিনজন প্রার্থীই জামানত রক্ষা করার মতো ভোট পাননি। বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ডা. ছালেক চৌধুরী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে (মোটরসাইকেল) প্রতীকে পেয়েছেন ১৮ হাজার ৮৮টি ভোট। আর জাতীয় পার্টির আকবর আলী (লাঙ্গল) প্রতীকে পেয়েছেন ৪ হাজার ২৪৩ভোট এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পার্টির মো: আব্দুল হক শাহ্ (হাতপাখা) প্রতীকে পেয়েছেন ৯ হাজার ৫৮ ভোট। এই আসনে ১৬৬ টি কেন্দ্রের মোট ভোটার ছিল ৪ লাখ ৭৪ হাজার ৬৫ জন। এর মধ্যে প্রদত্ত মোট ভোট সংখ্যা ৩লাখ ৬৭ হাজার ৫১১টি। কাজেই এই তিন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত করা হবে।এদিকে বিএনপির প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান (ধানের শীষ) প্রতীকে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৮৬৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে জামায়াতের প্রার্থী অধ্যক্ষ মাহবুবুল আলম (দাঁড়িপাল্লা) প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৫৩ হাজার ৮১৬ ভোট।নওগাঁ-২ (পত্নীতলা ও ধামুইরহাট) আসনে বিভিন্ন দলের ৩জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছেন। এদের মধ্যে একজন প্রার্থী জামানত রক্ষা করার মতো ভোট পাননি। এই আসনে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির মতিবুল ইসলাম ঈগল প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ৫৮০ ভোট। এই আসনে ১২৪ টি কেন্দ্রের মোট ভোটার ছিল ৩ লাখ ৭২ হাজার ৪৩৬ জন।  এর মধ্যে প্রদত্ত মোট ভোট সংখ্যা ২ লাখ ৮৬ হাজার ৭০ টি। ৮শতাংশ ভোট না পাওয়ায় তার জামানত বাজেয়াপ্ত হবে তারও।অপরদিকে বিএনপির তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য সামসুজ্জোহা খানকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী এনামুল হক। তিনি (দাঁড়িপাল্লা) প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৪১ হাজার ৫২৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে সামসুজ্জোহা খান (ধানের শীষ) প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫৩৩ ভোট।নওগাঁ-৩ (বদলগাছী ও মহাদেবপুর) এই আসনে বিভিন্ন দলীয় ও স্বতন্ত্রসহ ৮জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছেন। অনুষ্ঠিত ভোটে এদের মধ্যে ছয়জন প্রার্থীই জামানত রক্ষা করার মতো ভোট পাননি। এই আসনে সাবেক ডেপুটি স্পিকার আকতার হামিদ সিদ্দিকীর ছেলে পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকি জনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে (কলস) প্রতীকে পেয়েছেন ১৭ হাজার ১২৯টি ভোট। আর বাংলাদেশ ন্যাশনালিষ্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) এর আব্দুল্লাহ আল-মামুন সৈকত (টেলিভিশন) প্রতীকে পেয়েছেন মাত্র ১৯৫ ভোট, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) এর কালিপদ সরকার (মই) প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ২৩৩ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী নাসির বিন আছগর (হাতপাখা) প্রতীকে পেয়েছেন ৩ হাজার ৬৪৩ ভোট, জাতীয় পার্টির মাসুদ রানা (লাঙ্গল) প্রতীকে পেয়েছেন ৪ হাজার ৮৬৯ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সাদ্দাম হোসেন (জাহাজ) প্রতীকে পেয়েছেন মাত্র ৮২৩ ভোট। এই আসনে ১৪২টি কেন্দ্রের মোট ভোটার ছিল ৪ লাখ ৪০ হাজার ৭৮৫ জন। এর মধ্যে প্রদত্ত মোট ভোট সংখ্যা ৩লাখ ২১ হাজার ৯৬৭টি। কাজেই এরা সকলেই জামানত হারাতে বসেছেন।এদিকে বিএনপির প্রার্থী ফজলে হুদা বাবুল (ধানের শীষ) প্রতীকে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৮৮৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে জামায়াতের মাওলানা মাহফুজুর রহমান (দাঁড়িপাল্লা) প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ১৯ হাজার ৪২১ ভোট।নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনে বিভিন্ন দলীয় ও স্বতন্ত্রসহ ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছেন। এদের মধ্যে চারজন প্রার্থীই জামানত রক্ষা করার মতো ভোট পাননি। এখানে বাংলাদেশ কমিউনিষ্ট পার্টির  ডা: এস এম ফজলুর রহমান (কাস্তে) প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ৩১৩ ভোট, জাতীয় পার্টির আলতাফ হোসেন (লাঙ্গল) প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ৩২৭ ভোট, ইললামী আন্দোলন বাংলদেশ পার্টির সোহরাব হোসাইন (হাতপাখা) প্রতীকে পেয়েছেন ৬০৯ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মোসা: আরফানা বেগম (কলস) প্রতীকে পেয়েছেন ৭১২ ভোট। এই আসনে ১১৭টি কেন্দ্রের মোট ভোটার ছিল ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৬০ জন। এর মধ্যে প্রদত্ত মোট ভোট সংখ্যা ২লাখ ৪১ হাজার ৮৪৮টি। এরা সকলেই জামানত খোয়াতে বসেছেন।অপরদিকে জামায়াতের জেলা আমির আব্দুর রাকিবকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী ইকরামুল বারি টিপু। তিনি (ধানের শীষ) প্রতীকে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৯২৪ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে জামায়াতের প্রার্থী আব্দুর রাকিব (দাঁড়িপাল্লা) প্রতীকে পেয়েছেন ৯৭ হাজার ৫৮৫ ভোট।নওগাঁ-৫ (সদর) আসনে বিভিন্ন দলের ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতার করেছেন। এদের মধ্যে তিনজন প্রার্থীই জামানত রক্ষা করার মতো ভোট পাননি। অনুষ্ঠিত প্রাপ্ত ভোটে জাতীয় পার্টির মো: আনোয়ার হোসেন (লাঙ্গল) প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ১৭৬ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পার্টির মো: আব্দুর রহমান (হাতপাখা) প্রতীকে পেয়েছেন ৪ হাজার ১০১ ভোট এবং বাংলাদেশ কমিউনিষ্ট পার্টির শফিকুল ইসলাম (কাস্তে) প্রতীকে পেয়েছেন ৭৪১ ভোট। এই আসনে ১১৮টি কেন্দ্রের মোট ভোটার ছিল ৩ লাখ ৬৩ হাজার ৩০ জন। এর মধ্যে প্রদত্ত মোট ভোট সংখ্যা ২লাখ ৪৬ হাজার ৬৯৭টি। এরা সকলেই জামানত হারাতে বসেছেন।অপরদিকে জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম ধলু (ধানের শীষ) প্রতীকে ১ লাখ ২৯ হাজার ৩৮৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম (দাঁড়িপাল্লা) প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৪ হাজার ৭৪৭ ভোট।  নওগাঁ-৬ (আত্রাই ও রানীনগর) আসনে বিভিন্ন দলীয় ও স্বতন্ত্রসহ ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছেন। এদের মধ্যে তিনজন প্রার্থীই জামানত রক্ষা করার মতো ভোট পাননি। অনুষ্ঠিত প্রাপ্ত ভোটে আসনটিতে বিএনপির সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে (মোটরসাইকেল) প্রতীকে পেয়েছেন ১৯ হাজার ৬৩৮ ভোট। অপরদিকে বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির (বিআরপি) আতিকুর রহমান রতন মোল্লা (হাতি) প্রতীকে পেয়েছেন ৫৫৫ ভোট এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পার্টির মো: রফিকুল ইসলাম (হাতপাখা) প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ৮৩৩ ভোট। এই আসনে ১১৫টি কেন্দ্রের মোট ভোটার ছিল ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৪১৬ জন। এর মধ্যে প্রদত্ত মোট ভোট সংখ্যা ২লাখ ৩২ হাজার ৯২৩টি। নিয়ম অনুযায়ী ৮শতাংশ ভোট না পাওয়ায় তারা সকলেই জামানত হারাচ্ছেন।এদিকে বিএনপির প্রার্থী শেখ মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম (ধানের শীষ) প্রতীকে ১ লাখ ৮ হাজার ৮৬৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী খবিরুল ইসলাম (দাঁড়িপাল্লা) প্রতীকে পেয়েছেন ৯৭ হাজার ৬২৯ ভোট।জানতে চাইলে নওগাঁ জেলা নির্বাচন অফিসার আব্দুল মোত্তালিব মুঠোফোনে বলেন, এবার নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি প্রার্থীকে ৫০ হাজার টাকা করে জামানত দিতে হয়েছে। অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কেউ যদি তার নির্বাচনী এলাকার প্রদত্ত ভোটের ৮শতাংশ ভোট না পান, তাহলে তাঁর জমাকৃত জামানত বাজেয়াপ্ত হয়ে যাবে।উল্লেখ্য, জেলার এই ৬টি আসনে ভোটার ছিল ২৩ লাখ ২৯ হাজার ৫৯২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১১ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ জন এবং নারী ভোটার ১১ লাখ ৬৯ হাজার ৮০৭ জন। এদের মধ্যে তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ছিল মোট ২১ জন। জেলার ৭৮২ টি কেন্দ্রে মোট ৭৫ দশমিক ২৭ শতাংশ ভোটার ভোট প্রদান করেছেন।এসআর
    হবিগঞ্জের ৪ টি আসনেই বিএনপি প্রার্থীর জয় 
    হবিগঞ্জের ৪টি আসনেই নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপির) প্রার্থীরা। এ জেলায় জামায়াত ও তার ১১-দলীয় ঐক্যের সঙ্গী কোন দল কোন আসনে বিজয়ী হননি।বৃহস্পতিবার দিনভর ভোটগ্রহণ শেষে ভোটগণনা করে রাতে এ ফলাফল ঘোষণা করেন হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন।হবিগঞ্জ ১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে বেসরকারিভাবে বিএনপির প্রার্থী ড, রেজা কিবরিয়া ১ লাখ ১১ হাজার ৯৯৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের মাওলানা সিরাজুল ইসলাম (রিকশা) পেয়েছেন ৫৬হাজার ২১শ ৩২ভোট।হবিগঞ্জ -২ (বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ) আসনে বিএনপির ডা: আবু মনসুর সাখাওয়াত হাসান ধানের শীষ মার্কা ১ লাখ ২৬ হাজার ৫৮৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম ১১দলীয় জোটের দেয়াল ঘড়ি মার্কা আব্দুল বাছিত আজাদ পেয়েছেন ৬৫ হাজার ৭৬২ ভোট।হবিগঞ্জ ৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী জি কে গউছ ১ লাখ ৪২ হাজার ৩৪৮ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী কাজী মহসিন আহমেদ পেয়েছেন ৪৫হাজার ৫৬৮ ভোট পেয়েছেন।হবিগঞ্জ ৪ (মাধবপুর চুনারুঘাট) আসনে বিএনপির সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সল১ লাখ ৮৮ হাজার ৭২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামি ঐক্য ফ্রন্টের গিয়াস উদ্দিন তাহেরী পেয়েছেন, ৮৪ হাজার ৩২৩ ভোট।এসআর
    সুনামগঞ্জের ৫ টি আসনে সবকয়টিতেই জয় পেয়েছে বিএনপি
    সুনামগঞ্জের ৫টি আসনের মধ্যে নিকটতম ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের পরাজিত করে সবকয়টিতেই জয় পেয়েছে বিএনপি। কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত ফলাফলে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।সুনামগঞ্জ ১ আসনে(তাহিরপুর,জামালগঞ্জ, মধ্যনগর ও ধর্মপাশা) বিএনপির কামরুজ্জামান কামরুল বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম ছিলেন জামায়াতে ইসলামি মনোনীত দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী তোফায়েল আহমদ খান।সুনামগঞ্জ ২ আসনে(দিরাই -শাল্লা) বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী নাছির উদ্দিন চৌধুরী। নিকটতম ছিলেন জামায়াতে ইসলামি মনোনীত দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী মোহাম্মদ শিশির মনির।সুনামগঞ্জ ৩ আসনে(শান্তিগঞ্জ ও জগন্নাথপুর) বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ। নিকটতম রয়েছেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী স্বতন্ত্র আনোয়ার হোসেন।সুনামগঞ্জ ৪(সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর) আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী নূরুল ইসলাম নূরুল। নিকটতম রয়েছেন জামায়াতে ইসলামি মনোনীত দাঁড়িপাল্লার প্রতিকের নিয়ে মো. সামছ উদ্দিন।সুনামগঞ্জ ৫ আসনে(ছাতক দোয়ারা বাজার) বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন। নিকটতম রয়েছেন জামায়াতে ইসলামি মনোনীত দাঁড়িপালার প্রতিক নিয়ে আবু তাহির মোহাম্মদ আব্দুস সালাম। এবি 
    দিদি-মাসি বলে ভোট চায়, ভোটের পর পাওয়া যায় না
    “যখন নির্বাচন আসে তখন প্রার্থীরা আমাদের কাছে এসে দিদি-মাসি বলে ভোট চায়। তারা বলে, তোমাদের মজুরি বৃদ্ধি করে দেব, উন্নত বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হবে, সন্তানদের পড়ালেখার জন্য স্কুল করে দেব। ভোটের পরে আর তাদের পাওয়া যায় না। তারা আমাদের ভোট ব্যাংক হিসেবে ব্যবহার করে শুধু।” এভাবেই আপেক্ষ করছিলেন বাহুবলের রশিদপুর চা বাগানের শ্রমিক রীতা রাণী গোয়ালা। হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার দেউন্দি চা বাগানের সাবেক শ্রমিক সরদার আমোদ মালের কণ্ঠেও হতাশা। নির্বাচন ও ভোট তাদের কাছে প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি ছাড়া কিছুই নয়।আমোদ মাল বলেন, “নির্বাচনে আসলে প্রার্থীরা আসেন, দেন নানা প্রতিশ্রুতি কিন্তু পরে আর তাদের দেখা পাওয়া যায় না। তারা নিজেদের দেওয়া প্রতিশ্রুতিও বাস্তাবায়ন করেন না। আমাদের ভোটে নির্বাচিতদের জীবনে পরিবর্তন আসে। তাদেরকে ভোট দিয়ে আমাদের শিকলবন্দি জীবনে আসে না পরিবর্তন। সন্তানদের অনেক কষ্ট করে স্কুলে যেতে হয়। চা শ্রমিকের সন্তান হওয়ায় চাকরি পাওয়া কঠিন, এসব দেখার যেন কেউ নেই।”ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “যারা আমাদের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবেন, তাদের ভোট দেব।”দেউন্দি চা বাগানের শ্রমিক পঞ্চায়েত নেতা কার্তিক বাকতির কথায় উঠে এল তারা আর ঠকতে চান না। এবার তারা এমন প্রার্থীকে ভোট দিতে চান, যিনি তাদের জন্য কাজ করবেন। কার্তিক বাকতির ভাষ্য, ভোট এলে তাদের কাছে ধর্না ধরেন প্রার্থীরা। দাদা-দিদি, মেসো-মাসি ডেকে মন জয় করার চেষ্টা করেন। ভোটে নির্বাচিত হলে তাদের আর খোঁজ নিতে আসেন না। এজন্য এবার তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বুঝে-শুনে ভোট দেবেন। চা শ্রমিকরা জানান, বাগানে একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ১৭০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৭৮ টাকা ৫০ পয়সা। এ মজুরিতে সংসার চলছে না তাদের। ৫৪ বছরেও নিজেদের জীবনমান উন্নত হয়নি বলে অভিযোগ তাদের। তারা জানান, নানা সময়ে দেশের প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হয়েছে, পরিবর্তন আসেনি শুধু চা-শ্রমিকদের কষ্টের জীবনে।হবিগঞ্জ জেলায় ছোট ও বড় মিলিয়ে চা বাগানের সংখ্যা প্রায় ৪১টি। এসব বাগানের বাসিন্দা প্রায় দেড় লাখ। তাদের মধ্যে স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে প্রায় ৩২ থেকে ৩৫ হাজার শ্রমিক চা পাতা উত্তোলনে জড়িত। বাগানে কাজ না পেয়ে বাকিদের জীবিকার জন্য বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে অর্থ উপার্জন করতে হচ্ছে। নির্বাচনের সময় তারাও এলাকায় ফেরেন। জেলার নবীগঞ্জ-বাহুবল উপজেলা নিয়ে গঠিত হবিগঞ্জ-১ আসন। এখানে ভোটার আছেন ৪ লাখ ৬৬ হাজার ৯২১ জন। চুনারুঘাট-মাধবপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত হবিগঞ্জ-৪ আসনে ভোটার ৫ লাখ ৫২ হাজার ৭১১জন। এই দুই আসনে চা শ্রমিকদের ভোট প্রায় লক্ষাধিক। চা বাগানের শ্রমিকদের ভোট প্রার্থীদের জয়ের ব্যাপারে ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন, “উচুঁ নিচু টিলায় থাকা গাছ থেকে চায়ের সবুজ পাতা সংগ্রহ করেন শ্রমিকরা। এ পাতা ফ্যাক্টরিতে প্রক্রিয়াজাত হয়ে রপ্তানি হয়। দেশি-বিদেশি অর্থ পান বাগান মালিকরা। চা শ্রমিকদের নেই উন্নত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের ব্যবস্থা। পদে পদে তারা বাধার মুখে পড়েন। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তারা এগোতে পারছেন না। তাদের জীবনমানের পরিবর্তনে উদ্যোগ নেয় না তেমন কেউ। ভোটের সময় আসলে চা শ্রমিকদের ভোট আদায় করতে প্রার্থীরা নানা ধরনের স্বপ্ন দেখান, দেন প্রতিশ্রুতি। পরে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেন না কেউ। এনিয়ে চা বাগানের বাসিন্দাদের মনে অনেক কষ্ট। এবার তারা ভোট দিতে হিসাব নিকাশ করছেন।”তিনি বলেন, “দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাথে মিশে আছে চা শিল্প। এই শিল্পকে নিখুঁত হাতের ছোঁয়ায় যুগের পর যুগ টিকিয়ে রেখেছেন চা শ্রমিকেরা। শুধু ভোট নয়, চা-শিল্পের সমৃদ্ধির জন্যও তাদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করা জরুরি।”বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আক্তার বলেন, “যদি বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পায়, তাহলে চা শ্রমিকদের জীবনমান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়ন করা হবে।”হবিগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মুখলিছুর রহমান বলেন, “জামায়াত ক্ষমতায় গেলে চা শ্রমিকদের কল্যাণে কাজ করবে।” হবিগঞ্জ-১ আসনে প্রার্থীরা হলেন- বিএনপির রেজা কিবরিয়া (ধানের শীষ), স্বতন্ত্র শেখ সুজাত মিয়া (ঘোড়া), ১১ দলীয় জোটের খেলাফত মজলিসের মাওলানা সিরাজুল ইসলাম (রিকশা), জাসদের কাজী তোফায়েল আহমেদ (মোটরগাড়ি), ইসলামিক ফ্রন্টের মোহাম্মদ বদরুর রেজা (চেয়ার)। হবিগঞ্জ-৪ আসনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন- বিএনপির সৈয়দ মো. ফয়সল (ধানের শীষ), ১১ দলীয় জোট মনোনীত খেলাফত মজলিসের আহমদ আবদুল কাদের (দেওয়াল ঘড়ি), ইসলামিক ফ্রন্টের মো. গিয়াস উদ্দিন (মোমবাতি), বাসদের মো. মুজিবুর রহমান (মই), ইনসানিয়াত বিপ্লবের মু. রেজাউল মোস্তফা (আপেল), সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের মো. রাশেদুল ইসলাম খোকন (ছড়ি), মুসলিম লীগের শাহ মো. আল আমিন (হারিকেন), স্বতন্ত্র মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী (ঘোড়া) ও এস এ সাজন (ফুটবল)। এসআর
    তাহিরপুরে ধানের শীষের প্রচারে বালিজুড়ী ইউনিয়নের ১১ ইউপি সদস্য
    সুনামগঞ্জ-১ (তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, মধ্যনগর ও ধর্মপাশা) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী কামরুজ্জামান কামরুলের পক্ষে নির্বাচনী প্রচার চালিয়েছেন তাহিরপুর উপজেলার বালিজুড়ী ইউনিয়নের ১১ জন ইউপি সদস্য।সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দিনভর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ধানের শীষ প্রতীকের লিফলেট বিতরণ এবং ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেন তারা। প্রচার কাজে অংশ নেন ইউপি সদস্য বাবুল মিয়া, ইকবাল হোসেন, যোতিশ পাল, ইসমাইল হোসেন, মো. আলী নেওয়াজ, আজিজ মিয়া, কামাল হোসেন, খলিলুর রহমান, রোহেনা বেগম, মাহমুদা বেগম ও পারুল বেগম।সকালে আনোয়ারপুর বাজারে লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হয়। পরে বালিজুড়ী বাজারসহ ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও বাজার এলাকায় প্রচার কর্মসূচি চালানো হয়। পাশাপাশি ইউনিয়নের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রও পরিদর্শন করেন তারা।এ সময় ইউপি সদস্যরা ভোটারদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বিপুল ভোটে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীকে বিজয়ী করার মাধ্যমে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করার কথাও বলেন তারা।আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রচারণা কর্মসূচি শেষ করেন ইউপি সদস্যরা।ইখা
    এবার নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন গণঅধিকার পরিষদের নুর
    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যখন প্রার্থী, কর্মী ও সমর্থকদের শেষ মুহূর্তের প্রচার তুঙ্গে, ঠিক সেই সময় নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা-জুড়ী) আসনে গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) মনোনীত ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী মো. আব্দুন নুর। তিনি দলটির কেন্দ্রীয় কর্মসূচি ও নিরাপত্তা বিষয়ক সহ-সম্পাদক।শুক্রবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে বড়লেখার একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী নাসির উদ্দিন আহমদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।এর আগে ওইদিন রাত পর্যন্ত তিনি দলের জেলা নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ চালান এবং ট্রাক প্রতীকের লিফলেট বিতরণ করেন।সংবাদ সম্মেলনে মৌলভীবাজার-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী নাসির উদ্দিন আহমদ মিঠুসহ উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।সংবাদ সম্মেলনে আব্দুন নুর বলেন, গণঅধিকার পরিষদের একজন তরুণ প্রার্থী হিসেবে তিনি দিন-রাত নির্বাচনি মাঠে কাজ করেছেন। এই সময়ে তিনি উপলব্ধি করেছেন, এলাকার মানুষ পরিবর্তনের আহ্বানে সাড়া দিচ্ছেন। এজন্য তিনি ভোটার ও সাধারণ মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা প্রকাশ করেন।তিনি আরও বলেন, বড়লেখা ও জুড়ীর ভোটারদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।আব্দুন নুর জানান, দলের সভাপতি ভিপি নুরুল হক নুরের বিএনপির সঙ্গে সমঝোতার সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে তিনি মৌলভীবাজার-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী আলহাজ্ব নাসির উদ্দিন আহমদ মিঠুকে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।এ সময় তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেন। আব্দুন নুর বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে কেন্দ্র দখলের ঘটনায় জড়িত একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে তিনি মামলা করেছিলেন। ওই ব্যক্তি ও তার সহযোগীরা তাকে নিয়মিত হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এমনকি তার নিজ এলাকার ভোটকেন্দ্র দখলের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন আব্দুন নুর।তিনি বলেন, নিজের জীবনের ঝুঁকি সম্পর্কে তিনি সচেতন। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে সে দায়ভার সংশ্লিষ্টদের নিতে হবে। তবে জীবনের পরোয়া না করেই মানুষের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তিনি অতীতেও ছিলেন, এখনও আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন বলে জানান তিনি। এফএস

    অনলাইন ভোট

    প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনের দিন গণভোট আয়োজন করা হবে। আপনি কি এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?

    আন্তর্জাতিক

    সব দেখুন
    সাইবেরিয়ায় তেলের বড় খনির সন্ধান পেয়েছে রাশিয়া
    নিজেদের বৃহত্তম প্রদেশ সাইবেরিয়ার ইয়ামাল উপদ্বীপে জ্বালানি তেলের বড় একটি খনির সন্ধান পেয়েছে রাশিয়া। নতুন এ খনিটি গত ৩০ বছরের মধ্যে সাইবেরিয়ায় প্রাপ্ত খনিগুলোর মধ্যে বৃহত্তম।রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ব তেল উত্তোলন কোম্পানি গ্যাজপ্রম নেফ্ট গতকাল শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে এ তথ্য।ইয়ামাল উপদ্বীপটি উত্তর মেরুর আর্কটিক অঞ্চলের কাছাকাছি। উপদ্বীপের বড় অংশই পুরু বরফে ঢাকা থাকে প্রায় সারা বছর। সেই বরফে ঢাকা এলাকাতেই সন্ধান পাওয়া গেছে খনিটির। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, খনিটিতে কমপক্ষে ৫ কোটি ৫০ লাখ টন তেলের মজুত আছে।ইয়ামাল উপদ্বীপটি সাইবেরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত। সাইবেরিয়ার এই অঞ্চলটি তেল এবং গ্যাসে বেশ সমৃদ্ধ। শুক্রবারের বিবৃতিতে গ্যাজপ্রম নেফ্ট জানিয়েছে প্রায় তিন বছর ধরে টু-ডি এবং থ্রি-ডি সিসমিক, জিওলজিক্যাল এবং হাইড্রোনেমিক পদ্ধতিতে অনুসন্ধান চালানোর পর সন্ধান মিলেছে এই খনির।গ্যাজপ্রম নেফ্টের নির্বাহী বোর্ডের চেয়ারম্যান আলেক্সান্দার দিউকভ রুশ সংবাদমাধ্যম রাশিয়া টুডে-কে বলেন, “ইয়ামাল উপদ্বীপে যে খনিটির সন্ধান আমরা পেয়েছি, গত ৩০ বছরের মধ্যে এত বড় খনির সন্ধান এ অঞ্চলে পাওয়া যায়নি। আমাদের ধারণা, সাইবেরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে এমন আরও তেল ও গ্যাসের খনি রয়েছে, যেগুলোর সন্ধান আমরা পাইনি। তাই দক্ষিণ সাইবেরিয়ায় আমাদের অনুসন্ধান অব্যাহত থাকবে।উল্লেখ্য, ১ কোটি ৭০ লাখ বর্গকিলোমিটার আয়তনের দেশ রাশিয়ায় স্থলভাগে এবং সাগরে বেশ কয়েকটি তেলের খনি রয়েছে। যেসব তেলের খনিতে ৩ কোটি থেকে ৩০ কোটি টন তেলের মজুত রয়েছে, সেগুলোকে বড় খনি হিসেবে স্বীকৃতি দেয় রাশিয়া।সূত্র : আরটিএবি 
    তারেক রহমানের শপথে শেহবাজ শরিফকে আমন্ত্রণের পরিকল্পনা
    বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফকে আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে। শপথ অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ছাড়াও সার্কভুক্ত দেশগুলোর সরকারপ্রধানদের আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনা রয়েছে। শনিবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) শীর্ষ এক নেতা বিবিসি বাংলাকে এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এই শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে অতিথিদের বিষয়ে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।তবে শপথের সুনির্দিষ্ট তারিখ এবং অতিথি তালিকা এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি। এদিকে, একই দিনে বিএনপির একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিবেশী দুই দেশের গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক তৎপরতার মাঝে তারেক রহমানের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনা করছে বিএনপি।এতে বলা হয়েছে, ঢাকায় তারেক রহমানের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে আঞ্চলিক রাষ্ট্রপ্রধানদের আমন্ত্রণের প্রস্তুতি চলছে এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মূল আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকায় থাকবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।বাংলাদেশে ১২ ফেব্রুয়ারির (বৃহস্পতিবার) নির্বাচনে বিএনপির জয়ের পরপরই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তারেক রহমানকে টেলিফোনে অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে বিএনপি প্রধানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি।পোস্টে মোদি বলেন, ‌‌‘‘তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলে আমি আনন্দিত। আমি তাকে বাংলাদেশের নির্বাচনে অসাধারণ জয়ের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছি।’’এছাড়া একই দিনে (শুক্রবার) পো‌স্টে দেওয়া পোস্টে তা‌রেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ।পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আমাদের ঐতিহাসিক, ভ্রাতৃত্বপূর্ণ বহুমুখী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী ও দক্ষিণ এশিয়া, তার বাইরে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়নের আমাদের যৌথ লক্ষ্যগুলোকে এগিয়ে নিতে নতুন বাংলাদেশের নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার জন্য উন্মুখ।সূত্র: বিবিসি বাংলা, ইন্ডিয়া টুডেএবি 
    দেড় লাখ আফগানিকে ফেরত পাঠালো পাকিস্তান ও ইরান
    পাকিস্তান ও ইরান থেকে চলতি বছরে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার আফগান নাগরিক দেশে ফিরেছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, এত বিপুল ও দ্রুত প্রত্যাবর্তন আফগানিস্তানকে আরও গভীর সংকটে ঠেলে দিচ্ছে।শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) জিও নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।ইউএনএইচসিআরের আফগানিস্তান প্রতিনিধি আরাফাত জামাল জেনেভায় জানান, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার আফগান ইরান ও পাকিস্তান থেকে ফিরে এসেছেন। কাবুল থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি বলেন, তীব্র শীত, তুষারপাত ও হিমাঙ্কের নিচে তাপমাত্রার মধ্যে এত মানুষের ফিরে আসা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।ইউএনএইচসিআর জানায়, ২০২৫ সালে ইতোমধ্যে ২৯ লাখ মানুষ দেশে ফিরেছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত মোট প্রত্যাবর্তনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৪ লাখে।সংস্থাটির মুখপাত্র বাবর বালুচ বলেন, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রত্যাবর্তনের হার ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। গত বছর এ সময়ে সংখ্যা ছিল এক লাখের কিছু কম।দশকের পর দশক আফগান শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার পর সম্প্রতি পাকিস্তান ও ইরান সীমান্তে কড়াকড়ি বাড়িয়ে ব্যাপক বহিষ্কার কার্যক্রম জোরদার করেছে। ফলে লাখ লাখ মানুষ এমন এক দেশে ফিরছেন, যেখানে দারিদ্র্য, মানবাধিকার সংকটে নাজুক অর্থনীতি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব বিদ্যমান।জামাল বলেন, ইউএনএইচসিআরের জরিপ অনুযায়ী অনেক পরিবারের সদস্যদের নাগরিক নথিপত্র নেই এবং ৯০ শতাংশের বেশি পরিবার দৈনিক ৫ ডলারেরও কম আয়ে জীবনযাপন করছে। তিনি আরও জানান, অনেকে টেকসই জীবিকা গড়তে না পেরে আবার দেশ ছাড়ার কথাও ভাবছেন।বর্তমানে ইউএনএইচসিআর পুনর্বাসন ও পুনঃএকীভূতকরণ কার্যক্রমে জোর দিচ্ছে। তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, এ বছর বাস্তুচ্যুত ও প্রত্যাবর্তনকারীদের সহায়তায় ২১ কোটি ৬০ লাখ ডলার প্রয়োজন হলেও এখন পর্যন্ত তহবিলের মাত্র ৮ শতাংশ সংগ্রহ হয়েছে।জামাল বলেন, দীর্ঘ নির্বাসনের পর নিজ দেশে ফিরে আসা আফগানদের জন্য টেকসই সমাধান খুঁজে বের করার এখনই গুরুত্বপূর্ণ সময়।এমআর-২
    ইরানে শাসক পরিবর্তনই সেরা সমাধান, ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি
    ইরানে সম্ভাব্য শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটতে পারে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে শিগগিরই ‌‘‘অসাধারণ ক্ষমতা’’ দেখা যাবে। এদিকে, ইরানে ওপর চাপ তৈরি করার লক্ষ্যে ওই অঞ্চলে দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরী পাঠিয়েছে পেন্টাগন।ওয়াশিংটন ও তেহরানের দীর্ঘদিনের পারমাণবিক বিতর্ক নিয়ে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টার মাঝেই ট্রাম্পের কঠোর সামরিক পদক্ষেপের এই হুঁশিয়ারি এসেছে।এই বিষয়ে অবগত একটি সূত্র জানায়, মঙ্গলবার জেনেভায় ইরানের সঙ্গে এক বৈঠকে বসবেন মার্কিন কূটনীতিক স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। ওই বৈঠকে ওমানের প্রতিনিধি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। একই দিনে ইউক্রেনে যুদ্ধের অবসানের লক্ষ্যে রাশিয়া ও ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন মার্কিন প্রতিনিধিরা।ইরানে শাসন পরিবর্তন চান কি না, সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, মনে হচ্ছে, এটাই সবচেয়ে ভালো বিষয়; যা ঘটতে পারে। তবে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটলে দেশটি কারা নিয়ন্ত্রণ করবে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, ‘‘লোকজন আছে।’’নর্থ ক্যারোলিনায় সামরিক এক অনুষ্ঠানের পর ট্রাম্প বলেন, ৪৭ বছর ধরে তারা শুধু কথা বলছে। এসময় আমরা অনেক জীবন হারিয়েছি; পা, হাত, মুখও হারিয়েছে মানুষ। আমরা দীর্ঘদিন ধরে এগোচ্ছি।ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সহায়তা বন্ধ এবং ইরানি জনগণের প্রতি সরকারের দমন-পীড়নের মতো বিভিন্ন ইস্যুকে পারমাণবিক আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করতে চায় ওয়াশিংটন। ইরান নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে পারমাণবিক কর্মসূচিতে লাগাম টানার বিষয়ে আলোচনার জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছে। তবে তেহরান ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে আলোচনায় যুক্ত করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।  ট্রাম্প বলেন, যদি কোনও চুক্তি না হয়, তাহলে তিনি ইরানের ওপর হামলা চালাতে পারেন। তেহরানও পাল্টা হামলার হুমকি দেওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনার ওপর একযোগে হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, পারমাণবিক স্থাপনাতে এখন যা বাকি আছে তা কেবল ‘‘ধুলোবালু’’। তিনি বলেন, যদি হামলা চালানো হয়, তাহলে এটি মিশনের সবচেয়ে ছোট অংশ হবে। কিন্তু ইরানের হাতে যা বাকি আছে, তার সবটুকুই ধ্বংস করা হবে।যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলেছেন, সামরিক বাহিনী সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াটি জটিল। তবে বিমানবাহী রণতরী জেরাল্ড আর. ফোর্ড মধ্যপ্রাচ্যে আব্রাহাম লিনকন ক্যারিয়ারের সঙ্গে যুক্ত হবে। এর সঙ্গে থাকবে বিভিন্ন ধরনের গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার, যুদ্ধবিমান ও নজরদারি বিমান। জেরাল্ড আর. ফোর্ড সম্প্রতি ওই অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পেন্টাগন।এমআর-২
    ফের ইরানে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
    ইরানে কয়েক সপ্তাহব্যাপী হামলা চালানোর সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দুজন মার্কিন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন।প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলার নির্দেশ দিলেই এ অভিযান শুরু হবে। পরিস্থিতি সেই পর্যায়ে গেলে এটি দুই দেশের মধ্যে আগে দেখা যে কোনো সংঘাতের চেয়ে অনেক বেশি গুরুতর রূপ নিতে পারে।পরিকল্পনার গোপনীয়তার কারণে ওই কর্মকর্তারা নিজেদের নাম প্রকাশ করেননি। তবে এই খবর বাইরে আসা দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ঝুঁকি আরও বাড়িয়েছে।পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে গত সপ্তাহে ওমানের মাসকাটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক হয়েছে। তবে এর আগে থেকেই ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তি জোরদার করেছে, যা নতুন সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কা বাড়িয়েছে।শুক্রবার মার্কিন কর্মকর্তারা বলেন, পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যে আরও একটি বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এছাড়া হাজার হাজার অতিরিক্ত সেনা, যুদ্ধবিমান, গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার এবং আক্রমণ ও প্রতিরক্ষা সক্ষম অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করা হচ্ছে।শুক্রবার নর্থ ক্যারোলিনার একটি ঘাঁটিতে মার্কিন সেনাদের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, কখনো কখনো ভয় দেখাতে হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে এটাই একমাত্র কার্যকর উপায়। সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি বিষয়ে জানতে চাইলে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেন, ইরানকে ঘিরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সব বিকল্পই খোলা রেখেছেন। তিনি আরও বলেন, তিনি যে কোনো ইস্যুতে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি শোনেন, তবে দেশের স্বার্থ ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে ভালো যেটি সেটি বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।যদিও পেন্টাগন এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। গত বছর যুক্তরাষ্ট্র এ অঞ্চলে দুটি বিমানবাহী রণতরী পাঠিয়েছিল এবং ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। তবে গত জুন মাসের ‘মিডনাইট হ্যামার’ অভিযান ছিল একক মার্কিন হামলা, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড্ডয়ন করা স্টেলথ বোমারু বিমান ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় আঘাত হানে। জবাবে ইরান কাতারে একটি মার্কিন ঘাঁটিতে সীমিত পাল্টা হামলা চালায়। মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, এবার যে পরিকল্পনা করা হচ্ছে, তা আগের চেয়ে অনেক বেশি জটিল। একজন কর্মকর্তার মতে, দীর্ঘমেয়াদি অভিযানে মার্কিন সামরিক বাহিনী শুধু পারমাণবিক অবকাঠামো নয়, ইরানের রাষ্ট্রীয় ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত স্থাপনায়ও হামলা চালাতে পারে।তবে এ নিয়ে সুনির্দিষ্ট করে কোনো তথ্য দিতে অস্বীকার করেছেন ওই মার্কিন কর্মকর্তা।এমআর-২
    নেপালে রাজতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে বিশাল সমাবেশ
    নেপাল যখন জাতীয় নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, ঠিক সে সময় দেশটির সাবেক রাজা জ্ঞানেন্দ্রর পক্ষে রাজতন্ত্রপন্থিদের বিরাট সমাবেশ দেখা গেছে। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দেশটির রাজধানী কাঠমান্ডুতে হাজারো সমর্থক ৩ মাস পর দেশে ফেরা জ্ঞানেন্দ্রকে স্বাগত জানাতে ছুটে যান।২০০৮ সালে সাবেক মাওবাদী বিদ্রোহীদের প্রভাবাধীন একটি বিশেষ আইনসভা নেপালের রাজতন্ত্র বিলুপ্ত করে দেশটিকে ধর্মনিরপেক্ষ প্রজাতন্ত্রে রূপ দেয়। এরপর থেকে ৭৮ বছর বয়সী জ্ঞানেন্দ্র সাধারণ নাগরিক হিসেবে কাঠমান্ডুতেই নিজের ব্যক্তিগত বাসভবনে বসবাস করছেন। এ সময়ের মধ্যে গত ১৮ বছরে নেপালে ১৪ বার সরকার পরিবর্তন হয়েছে, যার ফলে রাজনৈতিক অস্থিরতা বিনিয়োগকারীদের আস্থা নড়বড়ে করেছে ও সামগ্রিক প্রবৃদ্ধিকে শ্লথ করেছে।শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীতে সমবেত রাজতন্ত্রপন্থিরা ‘রাজা ফিরে আসুন, দেশকে বাঁচান’ স্লোগান দিতে দিতে জাতীয় পতাকা নাড়েন ও ফুলের তোড়া দিয়ে তাকে শুভেচ্ছা জানান। বিমানবন্দর থেকে বাসায় ফেরার সময় জ্ঞানেন্দ্রর গাড়ি ঘিরে তার সমর্থকদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো।৫৫ বছর বয়সী সমর্থক সনাতন প্রসাদ জানান, আমাদের রাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে। কারণ একমাত্র রাজা-ই পুরো নেপালি জনগণের অভিভাবক হতে পারেন, যেমনটি হতে বহু দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনৈতিক নেতা ব্যর্থ হয়েছেন। প্রজাতন্ত্রে আমাদের কোনো লাভ হয়নি।প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর অপেক্ষাকৃত তরুণ প্রজন্মসহ বহু নেপালি বর্তমান সরকারের প্রতি ক্রমবর্ধমান হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, শাসকগোষ্ঠী উন্নয়ন কিংবা কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।গত সেপ্টেম্বর জেন-জি তরুণদের নেতৃত্বে দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভে ৭৭ জন নিহত হন। বিক্ষোভের চাপে প্রধানমন্ত্রী কে.পি. শর্মা ওলি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।এরই মধ্যে আগামী ৫ মার্চ নতুন সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। রাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পক্ষে থাকা একটি রাজতন্ত্রপন্থি দলসহ মোট ৬৫টি দল ২৭৫ আসনের এই সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজনীতিতে আধিপত্যকারী পুরোনো দলগুলোর চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন দুই জনপ্রিয় নেতা- একজন র‍্যাপার থেকে কাঠমান্ডুর মেয়র বালেন্দ্র শাহ হওয়া ব্যক্তিত্ব ও আরেকজন সাবেক টিভি উপস্থাপক রবি লামিছানে, যিনি পরে রাজনীতিতে যোগ দিয়েছেন।নির্বাচন কমিশনের হিসাবে, নেপালের ৩ কোটি মানুষের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ ভোটার এবার ভোট দিতে পারবেন। সাম্প্রতিক বিক্ষোভের পর প্রায় ১০ লাখ নতুন ভোটার, যাদের বেশিরভাগই তরুণ।এমআর-২
    ভেনেজুয়েলা সফরে যাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলা সফরের ঘোষণা দিয়েছেন। সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী ফার্স্টলেডি সিলিয়া ফ্লোরেসকে অপহরণ করে নিয়ে আসার এক মাসেরও বেশি সময় পর এ ঘোষণা দিলেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘আমি ভেনেজুয়েলা সফরে যাচ্ছি। ভেনেজুয়েলার বর্তমান প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুব ভালো। তার নেতৃত্বেই তেল উত্তোলন ও বিপণনের ক্ষেত্রে দেশটির সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র। ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সম্পর্ককে আমি দশে দশ দেবো।’ডেলসি রদ্রিগেজের নেতৃত্বাধীন সরকারকে যুক্তরাষ্ট্র স্বীকৃতি দেবে কি না— এমন এক প্রশ্নের উত্তরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘হ্যাঁ অবশ্যই, আমরা ইতোমধ্যে তা করেছি। আমরা নিয়মিত তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি এবং এই মুহূর্তে তারা খুব ভালোভাবে নিজেদের দায়িত্ব পালন করছে।’ভেনেজুয়েলা তেল সম্পদে খুবই সমৃদ্ধ। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য বিষয়ক কর্তৃপক্ষ সংস্থা ইউএস অ্যানার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইআইএ)-এর তথ্য অনুসারে, ভেনেজুয়েলার খনিগুলোতে মজুত আছে কমপক্ষে ৩০ হাজার ৩০০ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল। বিশ্বের খনিগুলোতে মোট যত তেল মজুত আছে, তার এক পঞ্চমাংশই আছে ভেনেজুয়েলায়। দেশটিতে কয়েকটি স্বর্ণের খনি আছে এবং সেগুলোতে স্বর্ণের মজুতের পরিমাণও অনেক।তবে বামপন্থি প্রেসিডেন্ট মাদুরোর সঙ্গে রক্ষণশীল রাজনীতিবিদ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সম্পর্ক খুব খারাপ। ২০১৬ সালে যখন প্রথম মেয়াদে ক্ষমতায় এসে ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ট্রাম্পের উত্তরসূরি জো বাইডেনের সময়েও এই নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল।’গত ৪ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারকাসে সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে সরকারি বাসভবন থেকে অপহরণ করে যুক্তরাষ্ট্রের নিউিইয়র্ক সিটিতে নিয়ে আসে মার্কিন সেনাবাহিনী। তাদের উভয়ের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে এবং মার্কিন আদালতে সেই অভিযোগের বিচারের প্রস্তুতি চলছে। বর্তমানে মাদুরো এবং সিলিয়া নিউইয়র্ক সিটির ফেডারেল কারাগারি বন্দি আছেন।মাদুরো এবং তার স্ত্রীকে অপহরণের পর ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদের তদারক এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্র করবে। তিনি আরও বলেন, ভেনেজুয়েলার তেল উত্তোলন ও বিক্রয় ব্যবস্থাপনার জন্য মার্কিন কোম্পানিগুলোকে দায়িত্ব দেওয়া হবে। সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, অনির্দিষ্টকালের জন্য ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদ নিয়ন্ত্রণ করবে যুক্তরাষ্ট্র।প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে সস্ত্রীক অপহরণের কয়েক ঘণ্টা পর ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন মাদুরো সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ। এমআর-২
    নীল নদে নৌকাডুবি, ২১ মরদেহ উদ্ধার
    সুদানের উত্তরে নীল নদে নৌকাডুবির ঘটনায় কমপক্ষে ২১ জনের প্রাণহানি হয়েছে। স্থানীয় রাজ্য সরকার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে এএফপি।রিভার নাইল স্টেট সরকার বৃহস্পতিবার জানায়, দুর্ঘটনাস্থল থেকে ২১টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।প্রত্যক্ষদর্শীরা এএফপিকে জানায়, বুধবার সন্ধ্যায় খার্তুমের উত্তরে নদী পারাপারের সময় নৌকাটিতে ৩০ জন আরোহী ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।এবি 
    ইরানে নতুন সরকারবিরোধী বিক্ষোভের ডাক নির্বাসিত রেজা পাহলভির
    ইরানের শেষ শাহ শাসনের নির্বাসিত ক্রাউন প্রিন্স রেজা পাহলভি দেশটিতে নতুন করে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন। এছাড়া ইউরোপেরর বিভিন্ন দেশেও ইরানিদের বিক্ষোভ প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রেজা পাহলভি জার্মানির মিউনিখের নিরাপত্তা সম্মেলনে যোগ দিতে গেছেন। সেখান থেকে তিনি ইরানিদের বলেছেন, কাল শনিবার যেন তারা সবাই আবার আন্দোলনে নামেন।যুক্তরাষ্ট্রে বাস করা রেজ ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর আর কখনো ইরানে ফেরেননি।গত মাসে ইরানে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। যা সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করে দমন করে দেশটির সরকার।যেহেতু নিরাপত্তাবাহিনীর গুলি ছোড়ার শঙ্কা আছে, তাই তিনি সাধারণ মানুষকে নিজেদের বাড়ি ও ছাদ থেকে স্লোগান দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।মাইক্রো ব্লগিং সাইট এক্সে তিনি লিখেছেন, “এই চেতনাকে ধারণ করে, আমি আপনাদের আহ্বান জানাচ্ছি—আগামী ১৪ ও ১৫ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টায় আপনারা আপনাদের ঘর এবং বাড়ির ছাদ থেকে আওয়াজ তুলুন। আপনাদের দাবিগুলো উচ্চকণ্ঠে জানিয়ে দিন। আপনাদের ঐক্যের শক্তি প্রদর্শন করুন। এক অদম্য সংকল্প নিয়ে আমরা এই দখলদার শাসকের বিরুদ্ধে জয়ী হবই।”সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েলএবি 
    ন্যাটো ৩.০: নেতৃত্ব গ্রহণ করতে চায় ইউরোপ, কোণঠাসা যুক্তরাষ্ট্র
    বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক জোট ন্যাটো। সংগঠনটির পুনর্বিন্যাস এবং সামরিক শক্তি বৃদ্ধিতে ন্যাটো-৩.০ দরকার যার মাধ্যমে প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়িয়ে ধাপে ধাপে ন্যাটোর নেতৃত্ব গ্রহণ করতে চায় ইউরোপীয় দেশগুলো।বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত ন্যাটোর প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের বৈঠকে এসব বিষয়ে একমত হয়েছে ইউরোপীয় মন্ত্রীরা।বৈঠক শেষে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ন্যাটো-কে টিকে থাকার জন্য এটি আরও ইউরোপীয় হতে হবে।’প্রয়োজন যাতে বহিঃশত্রুর আক্রমণ প্রতিহত ও পরাজিত করা যায় তাই ইউরোপকে মূল শক্তি হিসেবে আবির্ভাব হতে হবে। সভায় ইউরোপীয় দেশগুলো জানিয়েছে, তারা এরই মধ্যে প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়াতে শুরু করেছে।এ সভায় মার্কিন প্রতিনিধি এলড্রিজ কলবিও উপস্থিত ছিলেন এবং সম্মিলিত আহ্বানে সহমত জানিয়েছি যুক্তরাষ্ট্র। তবে এ দৃষ্টিভঙ্গিতে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন দেয়ার পিছনে কারণগুলো এখনও অস্পষ্ট।যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ উপ-সচিব এলড্রিজ কলবি বলেন, ‘ইউরোপীয় মিত্রদেরকে ইউরোপের প্রথাগত প্রতিরক্ষা মূলত নিজেকেই নেওয়ার জন্য ন্যাটো-৩.০ দরকার।’নাটো সাধারণ সম্পাদক মার্ক রুটে বলেন, ‘আজ আমরা মানসিকতার একটি বাস্তব পরিবর্তন দেখেছি। নাটোর মধ্যে ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী হচ্ছে।’মোট জিডিপির ৩ দশমিক ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করায় ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া, লাতভিয়া, লিথুয়ানিয়া এবং পোল্যান্ডের প্রশংসা করেছেন মার্ক রুটে।জার্মান প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বোরিস পিস্টোরিয়াস বলেন, এখন সময় এসেছে ইউরোপীয়দের ধাপে ধাপে আরও দায়িত্ব নেবার। এটি স্বাভাবিক এবং প্রাকৃতিক।’ফরাসি মন্ত্রী ক্যাথরিন ভট্রিন বলেন, ‘ইউরোপীয়রা ন্যাটোর ইউরোপীয় স্তম্ভকে শক্তিশালী করতে দায়িত্ব নিচ্ছে।’এতদিন ইউরোপীয় কনভেনশনাল ডিটারেন্স (প্রচলিত প্রতিরোধ ক্ষমতা) এর মূল দায়িত্ব পালন করে আসছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে ইউরোপীয় দেশগুলো ধাপে ধাপে সংগঠনটির নেতৃত্ব গ্রহণ করছে এবং এর প্রেক্ষিতে কিছু পুনর্বিন্যাস এরই মধ্যে করা হয়েছে।বৈঠকের সিদ্ধান্ত মোতাবেক, ন্যাটোর তিনটি যৌথ ফোর্স কমান্ড ইউরোপীয়দের হাতে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। তবে সুপ্রিম এলাইড কমান্ডার হিসবে একজন মার্কিনিকে রাখা হবে।সূত্র: ইউরো নিউজএবি 

    বিনোদন

    সব দেখুন
    ভোট দিয়ে বাড়ি ফিরেই মারা গেলেন অভিনেতা তিনু করিম
    ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা তিনু করিম আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। অভিনেতা আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি)  বরিশালে নিজ গ্রামের বাড়িতে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার স্ত্রী হুমায়রা নওশিন। অভিনেতার ১১ বছর বয়সী এক কন্যাসন্তান রয়েছে।পরিবারের সদস্যরা জানান, কয়েক দিন আগেই স্ত্রী-সন্তানসহ বরিশালের গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলেন তিনু করিম। সবকিছু স্বাভাবিকই ছিল। হঠাৎ দুপুরের দিকে শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করলে তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, হার্ট অ্যাটাকেই তার মৃত্যু হয়েছে। এর আগে দীর্ঘ অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করে নতুন করে জীবনে ফিরেছিলেন এই অভিনেতা। গত বছরের নভেম্বর মাসে বরিশালে অবস্থানকালে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় এনে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। টানা ৪০ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। আইসিইউ ও লাইফ সাপোর্টে কাটাতে হয়েছে অনেকটা সময়। চিকিৎসকেরা যখন আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন, তখনই আশ্চর্যজনকভাবে সাড়া দেন তিনু করিম। পরে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে জানুয়ারির শুরুতে বাসায় ফেরেন। কিন্তু সুস্থতার সেই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হলো না। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আবারও হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চলে গেলেন তিনি।অভিনয় শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু বলেন,  তিনু করিম পুরোপুরি সুস্থ হয়ে বরিশাল গেল। তার গলায় দীর্ঘদিন নল দেয়ার কারণে কথা বলতে একটু সমস্যা হতো। এছাড়া সে সুস্থ ছিল। আজকে সকালে সে ভোট দিয়ে এসেছে। এর পর সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তার স্ত্রী জানালো সে ভোট দিয়ে এসে অসুস্থ অনুভব করে, এরপর তাকে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।   দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনু করিম। ২০০১ সালে ‘সাক্ষর’ নাটকের মাধ্যমে টেলিভিশন নাটকে অভিষেক ঘটে তার। এরপর একে একে অভিনয় করেছেন অসংখ্য জনপ্রিয় নাটক ও বিজ্ঞাপনে। ২০১০ সালে ‘অপেক্ষা’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায়ও কাজ করেন। ‘রাত জাগা ফুল’, ‘আলতা বানু’সহ নানা নাটকে তার অভিনয় দর্শকের প্রশংসা কুড়িয়েছে। একটি মুঠোফোন অপারেটরের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে তিনি ব্যাপক পরিচিতি পান। তার অকাল প্রয়াণে সহকর্মী ও ভক্তদের মাঝে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে তাঁর স্মৃতিচারণ করে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। এইচএ
    বান্দার কঠিন সময়গুলোতে শুধু আমাদের রব থাকবেন: সালমা
    ব্যক্তিগত জীবনে বেশ কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী মৌসুমী আক্তার সালমা। ৭ বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি টেনে বিচ্ছেদের পথে হেঁটেছেন তার দ্বিতীয় স্বামী আইনজীবী সানাউল্লাহ নূরে। বিচ্ছেদের এই ধকল সামলাতে গিয়ে তীব্র একাকিত্বে ভুগছেন ‘ক্লোজআপ ওয়ান’ খ্যাত এই তারকা। আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক আবেগঘন স্ট্যাটাসে তিনি জানালেন নিজের বর্তমান মানসিক অবস্থার কথা।বিচ্ছেদের যন্ত্রণার মাঝেও সৃষ্টিকর্তার ওপর অগাধ বিশ্বাস রেখেছেন সালমা। ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, “মাঝে মাঝে আল্লাহ তায়ালা আমাদের একা করে দেন, পুরোপুরি একা। ঠিক সেই মুহূর্তে আমরা বুঝি এই দুনিয়ায় আমরা যাদের বাঁচাতে চেয়েছি, যাদের আপন ভেবেছি, নিজের থেকেও যাদের ওপর বেশি ভরসা করেছি, তারা কেউই পুরোপুরি আমাদের নয়। কেউ না।”জীবনের এই দুঃসময়ে তিনি নবী-রাসুলদের পরীক্ষার উদাহরণ টেনেছেন। নিজেকে সান্ত্বনা দিয়ে সালমা লিখেছেন, “ইউনুস আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য গভীর সমুদ্রে মাছের পেটে যেমন কেউ ছিল না, বিবি হাজেরার জন্য জনশূন্য মরুভূমিতে যখন কেউ ছিল না, নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া শিশু মুসা আলাইহি ওয়া সাল্লামের পাশেও কেউ ছিল না। সর্বদা মনে রাখবেন, বান্দার কঠিন সময়গুলোতে শুধু আমাদের রব ছিলেন, তিনি আছেন এবং শেষ পর্যন্ত শুধু তিনিই থাকবেন।”প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের শেষদিনে পারিবারিকভাবে আইনজীবী সানাউল্লাহ নূরের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন সালমা। পরের বছর জানুয়ারিতে ধুমধাম করে স্বামীকে গণমাধ্যমের সামনে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু সাত বছরের মাথায় এসে সেই সংসারও টিকল না। এর আগে ২০১১ সালে দিনাজপুর-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শিবলী সাদিকের সঙ্গে ঘর বেঁধেছিলেন সালমা। তাদের সংসারে স্নেহা নামে এক কন্যাসন্তান রয়েছে। ২০১৬ সালে বনিবনা না হওয়ায় সেই সংসারেরও ইতি ঘটেছিল।এইচএ
    সৌদি বিমানবন্দরে পূর্ণিমাকে দেখে তরুণের কাণ্ড
    ওমরাহ পালন করতে কিছুদিন আগে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন পূর্ণিমা। সেখানের একটি অভিজ্ঞতা শেয়ার করলেন অভিনেত্রী। গতকাল একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন তিনি।ভিডিওটিতে দেখা যায়, সৌদিতে অবস্থানকালে বিমানবন্দরে এক যুবকের মুখোমুখি হন পূর্ণিমা।সেখানে কথা বলার এক পর্যায়ে ওই যুবক পূর্ণিমাকে উদ্দেশ্য করে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘চেহারা দেখে তো একদম পূর্ণিমা আপুর মতো লাগছে।’  সরাসরি নিজের প্রশংসা শুনে স্বভাবসুলভ হাস্যোজ্জ্বল ভঙ্গিতে প্রতিক্রিয়া জানান এই অভিনেত্রী। মজার ছলে পূর্ণিমা বলেন, ‘আমাকেও সবাই বলে, আমার চেহারা নাকি দেখতে পূর্ণিমার মতো লাগে।’তাদের এই কথোপকথনের ভিডিওটি সামাজিক  মাধ্যমে আসার পর থেকেই অনুরাগী ও সাধারণ নেটিজেনরা বেশ উপভোগ করছেন।মন্তব্যের ঘরে কেউ কেউ বলছেন, চিরযৌবনা এই নায়িকার চেহারার উজ্জ্বলতা যেন সময়ের সঙ্গে আরও বাড়ছে। ইবাদতের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন পূর্ণিমা। সেখান থেকে মাঝে মাঝেই বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও শেয়ার করে ভক্তদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ঢাকাই সিনেমার অন্যতম এই শীর্ষ নায়িকা দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য কালজয়ী সিনেমা উপহার দিয়েছেন।বর্তমানে সিনেমার কাজ কমিয়ে দিলেও বিশেষ বিশেষ কাজ ও অনুষ্ঠানের উপস্থাপনায় তাকে প্রায়ই দেখা যায়।এইচএ
    ৫২ বছরে রানওয়েতে রাজকীয় গ্ল্যামার দেখালেন কারিশমা কাপুর
    ৯০ দশকের পর্দা কাঁপানো গ্ল্যামার কুইন কারিশমা কাপুর। সময় বদলেছে, ফ্যাশনের সংজ্ঞা বদলেছে,তবু তার স্টাইল সেন্স চিরসবুজ। ক্লাসিক শাড়ির আভিজাত্য হোক বা এলিগ্যান্ট কুর্তা সেটের সৌন্দর্য, প্রতিটি লুকে তিনি রয়ে যান মার্জিত ও আত্মবিশ্বাসী।৫২-এ পা রেখেও ফ্যাশনের ক্ষেত্রে তার কোনও আপস নেই। বরং বয়স যেন তাকে দিয়েছে আরও পরিপক্কতা। তার উপস্থিতিতেই তিনি আলাদা করে নজর কাড়েন। দীর্ঘদিন ধরে দর্শকদের মুগ্ধ করে চলেছেন তার মোহময় ব্যক্তিত্ব,ভঙ্গি এবং অনবদ্য স্টাইল দিয়ে।সম্প্রতি দুবাইয়ের শো-স্টাপার হিসেবে হাজির হয়ে কারিশমা যেন অন্য যুগে নিয়ে গেলেন দর্শকদের। ঝলমলে নয়, বরং নিয়ন্ত্রিত রাজকীয়তায় মোড়া একটি উপস্থিতি-যেখানে আভিজাত্যই ছিল মূল আকর্ষণ। রানওয়েতে পা রাখতেই মনে হলো যেন ব্রিজারটনের রাজপ্রাসাদ থেকে বেরিয়ে এসেছেন।পীচ রঙের ফিটেড, মেঝে ছোঁয়া গাউন হাঁটু পর্যন্ত শরীরকে জড়িয়ে ধরে। কাঠামোবদ্ধ অথচ কোমল কাপড়, ভারী পৃষ্ঠকাজ-সব মিলিয়ে গাউনে ছিল নিখুঁত ভারসাম্য।অফ-শোল্ডার বডিসটি সাজানো ছিল থ্রিডি ফুলের অ্যাপ্লিক দিয়ে। গলার রেখা থেকে হাতা পর্যন্ত স্তরভিত্তিক পাপড়ি, স্ফটিক এবং পুঁতির সূক্ষ্ম কাজ গাউনের সৌন্দর্যকে দ্বিগুণ করেছে। কাঁধ থেকে ঝরে পড়া স্ফটিকের সুতা আলো স্পর্শ করলে যেন ঝলসে উঠছিল।গাউনের গায়ে জুড়ে ছোট ছোট পাথর ও সিকুইনের সূক্ষ্ম অলঙ্করণ নাটকীয়তা বাড়িয়েছে।লুকের চূড়ান্ত নাটকীয়তা আসে বিশাল ট্রেনে। প্লিটেড ফ্যাব্রিক প্যানেলে গড়া এই অংশ তরঙ্গের মতো বক্ররেখা তৈরি করে পিছনে ও পাশে স্তরে স্তরে ছড়িয়ে পড়েছিল। প্রতিটি ভাঁজে সূক্ষ্ম অলঙ্করণ চলার সঙ্গে সঙ্গে আলো ধরে এক নতুনমাত্রা তৈরি করছিল।চুল ছিল মসৃণ, নিচু পনিটেলে বাঁধা, যা নেকলাইন ও গাউনের পেছনের সৌন্দর্য আরও উজ্জ্বল করেছে। মেকআপে ক্লাসিক ছোঁয়া-মসৃণ বেস, নরম কনট্যুর, পীচি ব্লাশে উজ্জ্বল ত্বক। চোখে নিউট্রাল শ্যাডো, শার্প লাইনার, ঠোঁটে ছিল গোলাপি-বাদামি আভা।গহনায় খুব সাধারণ নেকলেস বা ভারী কানের দুল না পরে শুধু একটি আংটি বেছে নিয়েছিলেন।তার এই লুক একসঙ্গে রাজকীয় এবং রোমান্টিক। ঝলক নয় বরং মাধুর্য দিয়ে সবার নজর কেড়েছেন। দুবাইয়ের সেই সন্ধ্যায়, পীচ রঙা গাউনে তিনি শুধু রানওয়ে হাঁটেননি সময়কেও যেন থামিয়ে দিয়েছিলেন।এইচএ

    অর্থ-বাণিজ্য

    সব দেখুন
    রমজানে ব্যাংক লেনদেনে নতুন সময়সূচি নির্ধারণ
    আসন্ন পবিত্র রমজানে ব্যাংকের অফিস ও লেনদেনের সময়সূচিতে পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভাইজরি ডেটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যানালিটিকস ডিপার্টমেন্ট (এসডিএডি)।এতে বলা হয়, নতুন সময় অনুযায়ী, রমজান মাসে লেনদেন হবে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত। আর অফিস চলবে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ফলে দেশের সব তপশিলি ব্যাংক পবিত্র রমজান মাসে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। এর মধ্যে দুপুর সোয়া দেড়টা পর্যন্ত জোহরের নামাজের বিরতি থাকবে। তবে, এ বিরতির সময় অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের মাধ্যমে ব্যাংকের লেনদেন অব্যাহত রাখা যাবে।সাধারণত সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ব্যাংকে লেনদেন হয় এবং ব্যাংকের অফিশিয়াল কার্যাবলি সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলমান থাকে।রমজান মাস শেষ হওয়ার পরে অফিস সময়সূচি আগের অবস্থায় ফিরে আসবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।এইচএ
    ভোট উৎসবে যমুনা সেতুতে একদিনে পৌনে ৩ কোটি টাকার টোল আদায়
    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছে মানুষ, যার ফলে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে সৃষ্টি হয়েছে যানবাহনের অভূতপূর্ব চাপ।  গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা সেতু দিয়ে রেকর্ড সংখ্যক ৩৬ হাজার ৯২৩টি যানবাহন পারাপার হয়েছে, যা থেকে মোট ২ কোটি ৮৭ লাখ ৭ হাজার ৬৫০ টাকা টোল আদায় করেছে সেতু কর্তৃপক্ষ। দুই ঈদ উৎসবের সময়কাল বাদ দিলে সাধারণ সময়ে এটি যমুনা সেতুর ইতিহাসে স্মরণকালের সর্বোচ্চ যানবাহন পারাপার ও টোল আদায়ের নতুন রেকর্ড। আজ বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকালে যমুনা সেতু সাইট অফিসের টোল ম্যানেজার প্রবীর কুমার ঘোষ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।যমুনা সেতু সাইট অফিসের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, গত সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা থেকে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা পর্যন্ত এই বিপুল পরিমাণ যানবাহন সেতু অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে টাঙ্গাইলের যমুনা সেতু পূর্ব প্রান্ত দিয়ে উত্তরবঙ্গগামী লেনে ২৩ হাজার ৯৮৯টি যানবাহন পারাপার হয়েছে, যা থেকে আয় হয়েছে ১ কোটি ৭১ লাখ ৭৩ হাজার ৯০০ টাকা। অন্যদিকে, সিরাজগঞ্জের পশ্চিম প্রান্ত দিয়ে ঢাকাগামী লেনে পারাপার হওয়া ১২ হাজার ৯৩৪টি যানবাহন থেকে সেতু কর্তৃপক্ষের তহবিলে ১ কোটি ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৭৫০ টাকা টোল জমা হয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে মানুষের বাড়ি ফেরার প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় যান চলাচলের হার কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।যানবাহনের এই অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মহাসড়কে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্রশাসন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, যমুনা সেতু ও এর সংযোগ সড়কগুলোতে যান চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া পুরো এলাকাটি সিসিটিভির মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে যাতে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত জটলা বা বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয়। ঘরমুখো মানুষের এই স্রোত আজ বুধবার সারাদিনও অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।নির্বাচনের দিন যানবাহন চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ থাকায় অধিকাংশ মানুষ আজ বিকেলের মধ্যেই গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। যমুনা সেতু পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের টোল প্লাজাগুলোতে দ্রুত সেবা প্রদানের জন্য অতিরিক্ত বুথ সক্রিয় রাখা হয়েছে। মহাসড়কের পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক থাকলেও যানবাহনের সংখ্যার কারণে ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে। সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তারা এবং জেলা পুলিশ প্রশাসন একযোগে কাজ করে যাচ্ছে যাতে ভোটাররা সঠিক সময়ে তাঁদের নির্বাচনী এলাকায় পৌঁছাতে পারেন।এইচএ
    রমজানে ব্যাংক লেনদেনে নতুন সময়সূচি নির্ধারণ
    এবারের পবিত্র রমজানে ব্যাংকের অফিস ও লেনদেনের সময়সূচিতে পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভাইজরি ডেটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যানালিটিকস ডিপার্টমেন্ট (এসডিএডি)।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নতুন সময় অনুযায়ী, রমজান মাসে লেনদেন হবে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত। আর অফিস চলবে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।এতে আরও বলা হয়, ফলে দেশের সব তপশিলি ব্যাংক পবিত্র রমজান মাসে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। এর মধ্যে জোহরের নামাজের বিরতি থাকবে। তবে, এ বিরতির সময় অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের মাধ্যমে ব্যাংকের লেনদেন অব্যাহত রাখা যাবে।সাধারণত সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ব্যাংকে লেনদেন হয় এবং ব্যাংকের অফিশিয়াল কার্যাবলি সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলমান থাকে।রমজান মাস শেষ হওয়ার পরে অফিস সময়সূচি আগের অবস্থায় ফিরে আসবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।এমআর-২
    এবার বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক কমাল যুক্তরাষ্ট্র
    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রেসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি) চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ।সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।নতুন চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর শুল্ক কমিয়ে ১৯ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। আর যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত তুলা ও কৃত্রিম তন্তু দিয়ে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে রেসিপ্রোকাল শূন্য শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। আর যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত তুলা ও কৃত্রিম তন্তু দিয়ে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে রেসিপ্রোকাল শূন্য শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।চুক্তি স্বাক্ষরের সময় বাংলাদেশের পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ সহকারী লুৎফে সিদ্দিকী, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান।এর আগে বাণিজ্য উপদেষ্টা শুল্কহ্রাসের আশা ব্যক্ত করে বলেছিলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছিলাম যে আরও কত কমানো যায়। আশা করছি ৯ তারিখে যে চুক্তি হবে, তাতে তা (শুল্কহার) কমবে। তবে কতটুকু কমবে, তা এই মুহূর্তে আমি বলতে চাচ্ছি না বা পারছি না। আমরা আলোচনার ভিত্তিতে তা দেখব।এফএস
    ভোটের আগে দেশের রিজার্ভ বেড়ে ৩৪ বিলিয়ন ডলার
    আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের আগে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় বা রিজার্ভ ৩৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।সোমবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এসব তথ্য জানিয়েছেন। প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বাড়ায় রিজার্ভ বাড়ছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, ৯ ফেব্রুয়ারি দিন শেষে দেশের গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ০৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম–৬ অনুযায়ী রিজার্ভ হয়েছে ২৯ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার।তথ্য বলছে, চলতি বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে প্রবাসীরা দেশে ৩১৭ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন, যা ডলার সংকট কমাতে সাহায্য করেছে। একই সঙ্গে, ব্যাংকগুলো থেকে অতিরিক্ত ডলার কেনার ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ বেড়েছে। চলতি ফেব্রুয়ারিতেও প্রবাসী আয়ের উল্লম্ফন অব্যাহত রয়েছে। ফেব্রুয়ারির প্রথম ৮ দিনে এক বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।  এদিকে প্রবাসী আয়ের উল্লম্ফনের ফলে ব্যাংকগুলোতে ডলারের উদ্বৃত্ত সৃষ্টি হওয়ায় ডলারের মূল্য কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বৈদেশিক মুদ্রার যোগান-চাহিদার ভারসাম্য ঠিক রাখতে এবং মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা আনতে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছ থেকে ডলার কিনছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সোমবার ১৯ ব্যাংক থেকে ২০ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মাল্টিপল প্রাইস অকশন (এমপিএ) পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত এ ক্রয়ে ডলারের এক্সচেঞ্জ রেট ও কাট-অফ রেট উভয়ই ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা।সবমিলিয়ে চলতি অর্থবছরে (২০২৫-২৬) এখন পর্যন্ত বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ৪৭৩ কোটি মার্কিন ডলার ( ৪.৭৩ বিলিয়ন ডলার) কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।সর্বশেষ ২০২২ সালে দেশের ডলার বাজার অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। তখন প্রতি ডলারের দাম ৮৫ টাকা থেকে বেড়ে ১২২ টাকায় পৌঁছায়। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক নানা পদক্ষেপ নিলেও ডলার বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। একপর্যায়ে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি শুরু করতে হয়। এরপরও বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসেনি।বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, তিন অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রায় ৩৪ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করে। এর মধ্যে ২০২১-২২ অর্থবছরে সাত দশমিক ছয় বিলিয়ন ডলার, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১২ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করা হয়। অথচ এ সময়ে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে কেনা হয়েছে মাত্র এক বিলিয়ন ডলারের মতো।তবে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অর্থপাচার বন্ধে বর্তমান সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেয়। এতে রপ্তানি ও প্রবাসী আয়– উভয়ই বেড়েছে। ফলে ডলারের সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। সরবরাহ বাড়লেও সে অনুযায়ী চাহিদা না থাকায় স্বাভাবিকভাবে ডলারের দাম কমে যাওয়ার কথা। তবে, ডলার বাজার স্থিতিশীল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিজ উদ্যোগে বাজার থেকে ডলার কিনছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, বর্তমানে বাজারে ডলারের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি রয়েছে। ডলারের দাম যেন অস্বাভাবিকভাবে কমে না যায়, সেজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার কিনে বাজারে ভারসাম্য বজায় রাখছে। ডলারের দর কমে গেলে প্রবাসী আয় ও রপ্তানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ডলার কেনার ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বেড়েছে বলে জানান তিনি।এমআর-২
    নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রেখে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা
    সরাসরি-বেসরকা‌রি ঋণ প্রবৃ‌দ্ধি বাড়িয়ে ও নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রেখে চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের (জানুয়ারি–জুন)  মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে কঠোর (সংকোচনশীল) মুদ্রানীতির অবস্থান বজায় রেখে নীতি সুদহার ১০ শতাংশেই অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।আজ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে তৃতীয় ও শেষ মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জনের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে মুদ্রানীতি প্রণয়ন ও প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় মুদ্রানীতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ ঋণ, মুদ্রা সরবরাহ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ, বৈদেশিক সম্পদ কতটুকু বাড়বে বা কমবে এর একটি পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বছরে দুইবার ('জানুয়ারি-জুন' ও 'জুলাই-ডিসেম্বর' সময়ের জন্য) মুদ্রানীতি নীতি ঘোষণা করে।কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, চলতি অর্থবছর গড় মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য ঠিক করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। যদিও এখন মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশে রয়েছে।বাংলাদেশ ব্যাংক সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২২ অক্টোবর প্রধান নীতি সুদহার রেপো ৫০ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করে। মূলত ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে সরকারি সিকিউরিটিজ বন্ধক রেখে রেপোর বিপরীতে স্বল্পমেয়াদি ঋণ নেয়।অন্যদিকে, নতুন মুদ্রানীতিতে আন্তঃব্যাংক ধার নেওয়ার ক্ষেত্রে নীতি সুদহার স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ অপরিবর্তিত থাকছে। এছাড়া স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) ৮ শতাংশ থেকে নামিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে। ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে টাকা রাখার ক্ষেত্রে এ সুদহার প্রযোজ্য হয়। গভর্নর জানান, আমরা চাই ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকে টাকা না রেখে বিনিয়োগে যাক। তাই এসডিএফ কমানো হয়েছে; আগামীতে আরও কমানো হবে। বেসরকারি খাতে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা আগের মুদ্রানীতিতে বেশি থাকলেও তা পূরণ হয়নি। কিন্তু নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিনিয়োগ বাড়তে পারে এমন প্রত্যাশায় নতুন ছয় মাসের মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি সামান্য বাড়া‌নো হ‌য়েছে। ডিসেম্বর পর্যন্ত বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ৬ দশমিক ১ শতাংশ। আগামী জুন পর্যন্ত বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৮ দশ‌মিক ৫ শতাংশ নেওয়ার লক্ষ‌্য ঠিক করা হয়েছে।একইভাবে সরকারি খাতেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ঋণ কিছুটা কম হয়েছে। নতুন মুদ্রানীতিতে এই খাতে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ২১ দশ‌মিক ৬ শতাংশ ধরা হয়েছে। গত অর্থবছরে সরকারি ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ২০ দশমিক ৫ শতাংশ ধরা হলেও ডিসেম্বর পর্যন্ত নিয়েছিল ২৮ দশমিক ৯ শতাংশ।এইচএ
    বিকাশ-নগদ-রকেটে টাকা পাঠানোর বাধা শেষ হলো আজ
    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে টাকার অপব্যবহার ঠেকাতে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবা চার দিনের জন্য সীমিত করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টার পর থেকে সেই বিধিনিষেধ তুলে নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।এর আগে গত রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এসব সেবা সীমিত করার ঘোষণা দেয়। এতে বিকাশ, রকেট ও নগদ-এর মতো এমএফএস প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকরা একবারে এক হাজার টাকার বেশি অর্থ পাঠাতে পারেননি। ফলে অনেক গ্রাহক টাকা পাঠাতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়েন।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত এই সীমা কার্যকর ছিল। একই সময়ে ব্যাংকের অ্যাপ ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি (পিটুপি) অর্থ স্থানান্তরও বন্ধ রাখা হয়।সোমবার দিনগত রাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত মোট ৯৬ ঘণ্টা এমএফএস ও পিপিআই (প্রিপেইড ইনস্ট্রুমেন্ট) লেনদেনে বিশেষ সীমা বহাল ছিল। এ সময়ে ব্যক্তি পর্যায়ে পিয়ার-টু-পিয়ার (পি-টু-পি) লেনদেনে একবারে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা পাঠানো এবং দিনে সর্বোচ্চ ১০টি লেনদেন করার সুযোগ ছিল।এবি 
    রমজানে ব্যাংক লেনদেনে নতুন সময়সূচি নির্ধারণ
    আসন্ন পবিত্র রমজানে ব্যাংকের অফিস ও লেনদেনের সময়সূচিতে পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভাইজরি ডেটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যানালিটিকস ডিপার্টমেন্ট (এসডিএডি)।এতে বলা হয়, নতুন সময় অনুযায়ী, রমজান মাসে লেনদেন হবে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত। আর অফিস চলবে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ফলে দেশের সব তপশিলি ব্যাংক পবিত্র রমজান মাসে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। এর মধ্যে দুপুর সোয়া দেড়টা পর্যন্ত জোহরের নামাজের বিরতি থাকবে। তবে, এ বিরতির সময় অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের মাধ্যমে ব্যাংকের লেনদেন অব্যাহত রাখা যাবে।সাধারণত সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ব্যাংকে লেনদেন হয় এবং ব্যাংকের অফিশিয়াল কার্যাবলি সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলমান থাকে।রমজান মাস শেষ হওয়ার পরে অফিস সময়সূচি আগের অবস্থায় ফিরে আসবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।এইচএ
    ভোট উৎসবে যমুনা সেতুতে একদিনে পৌনে ৩ কোটি টাকার টোল আদায়
    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছে মানুষ, যার ফলে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে সৃষ্টি হয়েছে যানবাহনের অভূতপূর্ব চাপ।  গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা সেতু দিয়ে রেকর্ড সংখ্যক ৩৬ হাজার ৯২৩টি যানবাহন পারাপার হয়েছে, যা থেকে মোট ২ কোটি ৮৭ লাখ ৭ হাজার ৬৫০ টাকা টোল আদায় করেছে সেতু কর্তৃপক্ষ। দুই ঈদ উৎসবের সময়কাল বাদ দিলে সাধারণ সময়ে এটি যমুনা সেতুর ইতিহাসে স্মরণকালের সর্বোচ্চ যানবাহন পারাপার ও টোল আদায়ের নতুন রেকর্ড। আজ বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকালে যমুনা সেতু সাইট অফিসের টোল ম্যানেজার প্রবীর কুমার ঘোষ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।যমুনা সেতু সাইট অফিসের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, গত সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা থেকে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা পর্যন্ত এই বিপুল পরিমাণ যানবাহন সেতু অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে টাঙ্গাইলের যমুনা সেতু পূর্ব প্রান্ত দিয়ে উত্তরবঙ্গগামী লেনে ২৩ হাজার ৯৮৯টি যানবাহন পারাপার হয়েছে, যা থেকে আয় হয়েছে ১ কোটি ৭১ লাখ ৭৩ হাজার ৯০০ টাকা। অন্যদিকে, সিরাজগঞ্জের পশ্চিম প্রান্ত দিয়ে ঢাকাগামী লেনে পারাপার হওয়া ১২ হাজার ৯৩৪টি যানবাহন থেকে সেতু কর্তৃপক্ষের তহবিলে ১ কোটি ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৭৫০ টাকা টোল জমা হয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে মানুষের বাড়ি ফেরার প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় যান চলাচলের হার কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।যানবাহনের এই অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মহাসড়কে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্রশাসন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, যমুনা সেতু ও এর সংযোগ সড়কগুলোতে যান চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া পুরো এলাকাটি সিসিটিভির মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে যাতে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত জটলা বা বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয়। ঘরমুখো মানুষের এই স্রোত আজ বুধবার সারাদিনও অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।নির্বাচনের দিন যানবাহন চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ থাকায় অধিকাংশ মানুষ আজ বিকেলের মধ্যেই গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। যমুনা সেতু পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের টোল প্লাজাগুলোতে দ্রুত সেবা প্রদানের জন্য অতিরিক্ত বুথ সক্রিয় রাখা হয়েছে। মহাসড়কের পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক থাকলেও যানবাহনের সংখ্যার কারণে ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে। সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তারা এবং জেলা পুলিশ প্রশাসন একযোগে কাজ করে যাচ্ছে যাতে ভোটাররা সঠিক সময়ে তাঁদের নির্বাচনী এলাকায় পৌঁছাতে পারেন।এইচএ
    রমজানে ব্যাংক লেনদেনে নতুন সময়সূচি নির্ধারণ
    এবারের পবিত্র রমজানে ব্যাংকের অফিস ও লেনদেনের সময়সূচিতে পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভাইজরি ডেটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যানালিটিকস ডিপার্টমেন্ট (এসডিএডি)।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নতুন সময় অনুযায়ী, রমজান মাসে লেনদেন হবে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত। আর অফিস চলবে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।এতে আরও বলা হয়, ফলে দেশের সব তপশিলি ব্যাংক পবিত্র রমজান মাসে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। এর মধ্যে জোহরের নামাজের বিরতি থাকবে। তবে, এ বিরতির সময় অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের মাধ্যমে ব্যাংকের লেনদেন অব্যাহত রাখা যাবে।সাধারণত সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ব্যাংকে লেনদেন হয় এবং ব্যাংকের অফিশিয়াল কার্যাবলি সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলমান থাকে।রমজান মাস শেষ হওয়ার পরে অফিস সময়সূচি আগের অবস্থায় ফিরে আসবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।এমআর-২
    এবার বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক কমাল যুক্তরাষ্ট্র
    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রেসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি) চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ।সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।নতুন চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর শুল্ক কমিয়ে ১৯ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। আর যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত তুলা ও কৃত্রিম তন্তু দিয়ে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে রেসিপ্রোকাল শূন্য শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। আর যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত তুলা ও কৃত্রিম তন্তু দিয়ে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে রেসিপ্রোকাল শূন্য শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।চুক্তি স্বাক্ষরের সময় বাংলাদেশের পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ সহকারী লুৎফে সিদ্দিকী, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান।এর আগে বাণিজ্য উপদেষ্টা শুল্কহ্রাসের আশা ব্যক্ত করে বলেছিলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছিলাম যে আরও কত কমানো যায়। আশা করছি ৯ তারিখে যে চুক্তি হবে, তাতে তা (শুল্কহার) কমবে। তবে কতটুকু কমবে, তা এই মুহূর্তে আমি বলতে চাচ্ছি না বা পারছি না। আমরা আলোচনার ভিত্তিতে তা দেখব।এফএস
    ভোটের আগে দেশের রিজার্ভ বেড়ে ৩৪ বিলিয়ন ডলার
    আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের আগে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় বা রিজার্ভ ৩৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।সোমবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এসব তথ্য জানিয়েছেন। প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বাড়ায় রিজার্ভ বাড়ছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, ৯ ফেব্রুয়ারি দিন শেষে দেশের গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ০৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম–৬ অনুযায়ী রিজার্ভ হয়েছে ২৯ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার।তথ্য বলছে, চলতি বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে প্রবাসীরা দেশে ৩১৭ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন, যা ডলার সংকট কমাতে সাহায্য করেছে। একই সঙ্গে, ব্যাংকগুলো থেকে অতিরিক্ত ডলার কেনার ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ বেড়েছে। চলতি ফেব্রুয়ারিতেও প্রবাসী আয়ের উল্লম্ফন অব্যাহত রয়েছে। ফেব্রুয়ারির প্রথম ৮ দিনে এক বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।  এদিকে প্রবাসী আয়ের উল্লম্ফনের ফলে ব্যাংকগুলোতে ডলারের উদ্বৃত্ত সৃষ্টি হওয়ায় ডলারের মূল্য কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বৈদেশিক মুদ্রার যোগান-চাহিদার ভারসাম্য ঠিক রাখতে এবং মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা আনতে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছ থেকে ডলার কিনছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সোমবার ১৯ ব্যাংক থেকে ২০ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মাল্টিপল প্রাইস অকশন (এমপিএ) পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত এ ক্রয়ে ডলারের এক্সচেঞ্জ রেট ও কাট-অফ রেট উভয়ই ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা।সবমিলিয়ে চলতি অর্থবছরে (২০২৫-২৬) এখন পর্যন্ত বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ৪৭৩ কোটি মার্কিন ডলার ( ৪.৭৩ বিলিয়ন ডলার) কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।সর্বশেষ ২০২২ সালে দেশের ডলার বাজার অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। তখন প্রতি ডলারের দাম ৮৫ টাকা থেকে বেড়ে ১২২ টাকায় পৌঁছায়। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক নানা পদক্ষেপ নিলেও ডলার বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। একপর্যায়ে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি শুরু করতে হয়। এরপরও বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসেনি।বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, তিন অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রায় ৩৪ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করে। এর মধ্যে ২০২১-২২ অর্থবছরে সাত দশমিক ছয় বিলিয়ন ডলার, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১২ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করা হয়। অথচ এ সময়ে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে কেনা হয়েছে মাত্র এক বিলিয়ন ডলারের মতো।তবে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অর্থপাচার বন্ধে বর্তমান সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেয়। এতে রপ্তানি ও প্রবাসী আয়– উভয়ই বেড়েছে। ফলে ডলারের সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। সরবরাহ বাড়লেও সে অনুযায়ী চাহিদা না থাকায় স্বাভাবিকভাবে ডলারের দাম কমে যাওয়ার কথা। তবে, ডলার বাজার স্থিতিশীল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিজ উদ্যোগে বাজার থেকে ডলার কিনছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, বর্তমানে বাজারে ডলারের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি রয়েছে। ডলারের দাম যেন অস্বাভাবিকভাবে কমে না যায়, সেজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার কিনে বাজারে ভারসাম্য বজায় রাখছে। ডলারের দর কমে গেলে প্রবাসী আয় ও রপ্তানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ডলার কেনার ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বেড়েছে বলে জানান তিনি।এমআর-২

    শিক্ষাঙ্গন

    সব দেখুন
    ছুটি শেষে যেদিন খুলবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
    দেশে অনুষ্ঠিত হলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ উপলক্ষে ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। আজ ১৩ ও আগামীকাল ১৪ ফেব্রুয়ারি যথাক্রমে শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। এর পরদিন ১৫ ফেব্রুয়ারি শ্রী শ্রী শিবরাত্রি ব্রত (স্কুল–কলেজের ছুটির তালিকা অনুযায়ী) উপলক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।সে হিসেবে টানা ৫ দিনের ছুটির পর আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) খুলতে যাচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ছুটির তালিকা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বছরের প্রথম বড় ছুটি এটি। আর তালিকায় থাকা পঞ্চম ছুটি এটি। সবকিছু ঠিক থাকলে টানা ৫ দিন ছুটির পর আগামী সোমবার খুলতে যাচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো।একই সঙ্গে আগামী রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) টানা ৪ দিনের ছুটির পর খুলতে যাচ্ছে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস, প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা।এইচএ
    রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে নির্বাচনের ফল প্রভাবিত করা হয়েছে: সাদিক কায়েম
    রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম। তিনি বলেন, স্পষ্টতই মিডিয়া, এজেন্সি ও অন্যান্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সম্মিলিতভাবে এ কাজ সম্পন্ন করেছে।বৃহস্পতিবার রাত তিনটার দিকে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে তিনি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে এ মন্তব্য করেন।পোস্টে সাদিক কায়েম বলেন, ভোটগ্রহণ সমাপ্তির পর সন্ধ্যা থেকেই সারাদেশের বিভিন্ন আসনে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীদের আচরণ হঠাৎ বদলে যায়। একইসাথে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং এর মাধ্যমে অনেক আসনে জনগণের রায় বদলানোর অপচেষ্টা করা হয়।এরই অংশ হিসেবে ঢাকা-৮, ১৩, ১৭সহ দেশের বিভিন্ন আসনের ফলাফল আটকে রেখে জনরায় বদলানোর অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে, যার প্রমাণ স্পষ্ট। একইসাথে ঢাকা- ৪ ও ১৬ আসনের ফলাফল ঘোষণা হওয়ার পরও স্থগিত করা হয়েছিল।সকল আসনের ফলাফল এখনও ঘোষণা করা না হলেও প্রথম সারির জাতীয় গণমাধ্যম একটি নির্দিষ্ট দলকে ২০০+ আসনে বিজয়ী হয়েছে বলে প্রচার করে।তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনকে বলব, প্রতিটি আসনের সঠিক রেজাল্ট জাতির সামনে প্রকাশ করুন। জুলাই বিপ্লব পরবর্তী আরেকটি সাজানো নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে একটা দলের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করা জুলাইয়ের শহীদদের স্পিরিটের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক।এমআর-২
    নারী ভোটে বাজিমাত করবে জামায়াত: সাদিক কায়েম
    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নারী ভোটে বাজিমাত করবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে এক পোস্টে এ মন্তব্য করেন তিনি।পোস্টে তিনি লিখেন, নারী ভোটে বাজিমাত করবে জামায়াত। দাঁড়িপাল্লার পক্ষে গ্রামে-গঞ্জে নারীদের গণজোয়ার।এর আগে, সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। ভোট দিতে ফজরের নামাজ শেষ করেই কেন্দ্রে আসতে শুরু করেন ভোটাররা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার উপস্থিতি বাড়তে থাকে। নারী, পুরুষ, তরুণ, প্রবীণ— সব বয়সি ভোটারদের উপস্থিতিতে অনেক কেন্দ্রেই তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ আবার প্রতিবেশীদের সঙ্গে এসেছেন।২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সবশেষ তিনটি জাতীয় নির্বাচন বিতর্কের জন্ম দেয়। তাই সবার চোখ এবারের নির্বাচনে।এমআর-২
    পদত্যাগ করলেন ঢাবি ভিসি
    হঠাৎ করেই সংবাদ সম্মেলনের ডাক দিয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান। আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জনসংযোগ দফতরের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বিকাল ৩টায় ঘোষিত এই সংবাদ সম্মেলনকে ‘বিশেষ’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে জনসংযোগের তরফে পাঠানো ওই বিজ্ঞপ্তিতে।জানা গেছে, উপাচার্য কার্যালয় সংলগ্ন অধ্যাপক আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে এটি অনুষ্ঠিত হবে। রেজিস্ট্রার অফিস সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, এটি পূর্ব সিদ্ধান্ত নয়, হঠাৎ করেই জরুরি ভিত্তিতে সাংবাদিকদের ডাকা হয়েছে; যেখানে উপাচার্য নিজেই কথা বলবেন।এদিকে সংবাদ সম্মেলন শুরুর আগে বিশ্ববিদ্যালয় মহলে উপাচার্যের পদত্যাগের গুঞ্জন উঠেছে। এর আগেও উপাচার্যের বিদেশ সফরকে ঘিরে এই গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। স্বভাবতই চলমান উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে ক্যাম্পাস তথা শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট মহলে কৌতূহল বাড়ছে।যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, পদত্যাগের গুঞ্জন নিছকই ‘গুজব’। তবে নির্বাচনের দুদিন আগে ঘোষিত এই সংবাদ সম্মেলনে ড. নিয়াজ তার উপাচার্য থাকা কিংবা না থাকার বিষয়টি পরবর্তী সরকারের ওপর ছেড়ে দেবেন। সে হিসেবে ‘সরকার যদি তাকে চান তবে থাকবেন; না চাইলে থাকবেন না’- এমন বক্তব্যও আসতে পারে জুলাই পরবর্তী এই উপাচার্যের পক্ষ থেকে। তবে ঠিক উদ্দেশ্যে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন; সেটি তিনি নিজেই জানেন।এইচএ

    তথ্য-প্রযুক্তি

    সব দেখুন
    নিজের ফোনেই পাবেন ভোটের ফলাফল
    বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ বা স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে ভোটের ফলাফল দ্রুত এবং সঠিকভাবে জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য ইলেকশন কমিশন (ইসি) সম্প্রতি স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি নামের একটি অ্যাপ চালু করেছে। এই অ্যাপটি ব্যবহার করে ভোটাররা রিয়েল টাইমে ফলাফল দেখতে পারবেন এবং নির্বাচনি তথ্য সহজে জানতে পারবেন।জেনে নিন কীভাবে ঘরে বসেই এই অ্যাপের মাধ্যমে ভোটের ফলাফল জানতে পারবেন-অ্যাপ ডাউনলোড ও ইনস্টলেশন: অ্যাপটি অ্যান্ড্রয়েড এবং আইওএস প্ল্যাটফর্মে উভয়েই পাওয়া যাবে। গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপল অ্যাপ স্টোর থেকে ‘Smart Election Management BD’ লিখে সার্চ করে ডাউনলোড করা যাবে। ডাউনলোডের পর ফোনে ইনস্টল করে অ্যাপটি ওপেন করতে হবে।অ্যাকাউন্ট বা লগইন প্রক্রিয়া: সাধারণত ভোটের ফলাফল দেখার জন্য লগইন করতে হয় না। তবে ব্যক্তিগত ভোটার তথ্য বা ইভিএম সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য পেতে অ্যাপটি আপনাকে ভোটার আইডি বা জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর দিয়ে লগইন করতে বলবে। লগইন করলে ভোটের নথি, ভোটার স্ট্যাটাস এবং নির্বাচনী কেন্দ্র সম্পর্কিত তথ্য পাওয়া যাবে।ভোটের ফলাফল দেখার ধাপক. নির্বাচন ও কেন্দ্র নির্বাচন: অ্যাপের হোম স্ক্রিনে ‘ইলেকশন রেজাল্টস’ বা ‘ভোটিং রেজাল্টস’ অপশনটি থাকবে। এখানে নির্বাচনের ধরন নির্বাচন করতে হবে (জাতীয় সংসদ, উপজেলা, পৌরসভা, বা ইউনিয়ন নির্বাচন)। এরপর জেলা ও উপজেলা/ওয়ার্ড নির্বাচন করতে হবে।খ. কেস্টিং এবং ফলাফল: নির্বাচনি কেন্দ্র অনুযায়ী ভোটের লাইভ আপডেট দেখার সুযোগ থাকবে। প্রতিটি কেন্দ্রে ভোট গণনার পর ফলাফল সরাসরি অ্যাপে আপলোড হবে। ভোটের ভোটের সংখ্যা, প্রার্থী বা দল অনুযায়ী ভাগফল এবং ভোটের শতাংশ দেখা যাবে।গ. গ্রাফ এবং চার্টের মাধ্যমে উপস্থাপনা: অ্যাপটি ফলাফলকে গ্রাফ বা চার্টে দেখায়, যাতে কোন প্রার্থী বা দলের অবস্থান সহজে বোঝা যায়। লাইভ আপডেটের ফলে ভোটের ধাপ ধাপে অগ্রগতি দেখা যাবে।এইচএ
    ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের নিবন্ধন বাতিল করবেন যেভাবে
    নিজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সিমকার্ড পরিবর্তন করতে হলে কিংবা অন্য কাউকে ব্যবহার করতে দিতে হলে অথবা বিক্রির আগে অবশ্যই মোবাইল ডি-রেজিস্ট্রেশন করতে হবে বলে নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি)।মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) বিটিআরসির স্পেকট্রাম বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ‘ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনআইআর)’ সিস্টেমটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হয়েছে। এর আওতায় নেটওয়ার্কে সচল সব মোবাইল ফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হয়েছে।ফলে এখন থেকে নিজের নামে নিবন্ধিত মোবাইল ফোনের সিমকার্ড পরিবর্তন, অন্য কাউকে ব্যবহার করতে দেওয়া কিংবা বিক্রির আগে অবশ্যই ডি-রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। অর্থাৎ জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) সঙ্গে যুক্ত হ্যান্ডসেটের নিবন্ধন বাতিল বা অবমুক্ত করতে হবে।এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সিম কেনার সময় ব্যবহৃত এনআইডি বা পাসপোর্ট নম্বরের শেষ চারটি সংখ্যা প্রয়োজন হবে। নিবন্ধিত ফোন বিক্রি বা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া এখন থেকে অনুসরণ করতে হবে। নিবন্ধিত মুঠোফোন ‘ডি-রেজিস্ট্রেশন’ করার উপায়সিটিজেন পোর্টাল (neir.btrc.gov.bd)এনইআইআর পোর্টালে লগ ইন করে ড্যাশবোর্ডে যেতে হবে। তালিকা থেকে ডিভাইস নির্বাচন করতে হবে। ‘ডি-রেজিস্টার’ এ ক্লিক করুন এবং প্রয়োজনীয় বিবরণ দিয়ে ডি-রেজিস্টার প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে হবে।ইউএসএসডি চ্যানেল (*১৬১৬১#)মোবাইলের কল অপশনে যেয়ে ডায়াল করুন *১৬১৬১#। এরপর ডি রেজিষ্ট্রেশন অপশনে ক্লিক করে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করুন।তবে ডি-রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে গ্রাহক তার ফোনে যে সিমটি ব্যবহার করছেন তা অবশ্যই নিজের এনআইডি দিয়ে নিবন্ধিত হতে হবে। ক্লোন বা ডুপ্লিকেট আইএমইআই নম্বর যুক্ত হ্যান্ডসেট ডি-রেজিস্ট্রেশন করার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত তথ্য হিসেবে পরবর্তী ব্যবহারকারীর সিম নম্বর দিতে হবে।ডি-রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানতে বিটিআরসি’র ওয়েবসাইট neir.btrc.gov.bd ভিজিট করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিটিআরসি’র কল সেন্টার (১০০) অথবা সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটরের নিকটস্থ কাস্টমার কেয়ার সেন্টার থেকেও সহায়তা নেওয়া যাবে।এমআর-২
    আইফোন বিক্রিতে নতুন রেকর্ড অ্যাপলের
    আইফোন বিক্রিতে নতুন ইতিহাস গড়েছে অ্যাপল। সর্বশেষ প্রান্তিকে আইফোন থেকে আয় হয়েছে ৮৫ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি। এটাই আইফোনের ইতিহাসে এক প্রান্তিকে সর্বোচ্চ আয়।২০২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের আয় প্রতিবেদন প্রকাশ করে এ তথ্য জানায় অ্যাপল। সব মিলিয়ে এ সময়ে কোম্পানির মোট আয় দাঁড়িয়েছে ১৪৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ১৬ শতাংশ বেশি।অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী টিম কুক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বলেন, আইফোনের চাহিদা ছিল “অবিশ্বাস্যরকম বেশি”। তার ভাষায়, “এটাই আমাদের সবচেয়ে শক্তিশালী আইফোন লাইনআপ।” তিনি আরও বলেন, জনপ্রিয়তার দিক থেকেও এটি আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে।তবে সাফল্যের পেছনে বড় বাধাও ছিল। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নতুন সিরি সংস্করণ চালু হতে দেরি হয়েছে। তারপরও বিক্রি কমেনি।আইফোন ১৭ সিরিজ এতে বড় ভূমিকা রেখেছে। বেস মডেলেই দেওয়া হয়েছে আগে শুধু ‘প্রো’ সংস্করণে থাকা কিছু ফিচার। যেমন- অলওয়েজ-অন ডিসপ্লে। এ ছাড়া রয়েছে বেশি রিফ্রেশ রেটের স্ক্রিন।‘আইফোন এয়ার’ মডেলের বিক্রি প্রত্যাশার চেয়ে কম হয়েছে- এমন গুঞ্জনও ছিল। তবে সেটির প্রভাব মোট বিক্রিতে তেমন পড়েনি বলে ইঙ্গিত মিলেছে।তবে বাড়তি চাহিদার কারণে সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। টিম কুক জানান, আইফোন ১৭–এর উচ্চ চাহিদার কারণে সরবরাহ কিছুটা সীমিত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে চিপ তৈরিতে ব্যবহৃত উন্নত প্রযুক্তির সরবরাহে চাপ রয়েছে।অন্যদিকে অ্যাপলের সেবাভিত্তিক আয়ও বেড়েছে। অ্যাপল মিউজিক, আইক্লাউড, অ্যাপল টিভি প্লাসসহ বিভিন্ন সাবস্ক্রিপশন সেবা থেকে আয় বেড়েছে ১৪ শতাংশ। তবে ম্যাক কম্পিউটার ও ওয়্যারেবল পণ্যের আয় কিছুটা কমেছে।এখন অ্যাপলের বড় লক্ষ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। আগামী মাসগুলোতে সিরিতে আনা হবে নতুন এআই সুবিধা। এ কাজে গুগলের সঙ্গে অংশীদারিত্ব করছে অ্যাপল। গুগলের জেমিনি এআই মডেলের বিশেষ সংস্করণ ব্যবহার করা হবে সিরির উন্নত সংস্করণে।এ ছাড়া একটি এআই স্টার্টআপও কিনছে অ্যাপল। প্রতিষ্ঠানটির নাম কিউ.এআই। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারে এ অধিগ্রহণ হতে যাচ্ছে।এই স্টার্টআপের প্রযুক্তি ভবিষ্যতের ডিভাইসে ব্যবহার হতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের পেটেন্টে এমন প্রযুক্তির ইঙ্গিত আছে যা হেডফোন বা চশমায় ব্যবহার করা যাবে। মুখের ত্বকের সূক্ষ্ম নড়াচড়ার মাধ্যমে নির্দেশ দেওয়া সম্ভব হবে—এমন ধারণাও আছে।শুধু তা-ই নয়, ভবিষ্যতে সিরিকে পুরোপুরি এআই চ্যাটবটে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। আইফোন ও ম্যাক ডিভাইসের ভেতরেই থাকবে এই স্মার্ট সহকারী। শোনা যাচ্ছে, সিরির জন্য আলাদা এআইভিত্তিক ওয়েব সার্চ টুলও তৈরি করছে অ্যাপল।এইচএ
    কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহারে ফ্রি প্রশিক্ষণ দিচ্ছে যুক্তরাজ্য
    কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারে দক্ষ করতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। চালু করা হয়েছে একাধিক অনলাইন প্রশিক্ষণ কোর্স। এর মধ্যে অনেক কোর্সে বিনামূল্যে অংশ নেওয়া যাচ্ছে। প্রযুক্তি খাতের বড় প্রতিষ্ঠানগুলো কোর্স তৈরিতে যুক্ত রয়েছে। অ্যামাজন, গুগল ও মাইক্রোসফট এ উদ্যোগে সহায়তা করেছে। মোট ১৪টি কোর্স শেষ করলে পাওয়া যাবে ভার্চুয়াল ব্যাজ।কোর্সগুলোতে শেখানো হবে এআই টুল ব্যবহারের মৌলিক কৌশল। যেমন- চ্যাটবটকে কীভাবে কার্যকরভাবে প্রশ্ন করতে হয়? প্রশাসনিক কাজের সহকারী হিসেবে এআই ব্যবহার, দ্রুত নোট লেখা, ইমেইল খসড়া তৈরি ও তথ্য গোছানো।সরকারের লক্ষ্য বড় হচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে এক কোটি কর্মীকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা। এ উদ্যোগকে ১৯৭১ সালে ওপেন ইউনিভার্সিটি চালুর পর সবচেয়ে বড় দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি বলা হচ্ছে।যুক্তরাজ্যের প্রযুক্তিমন্ত্রী লিজ কেন্ডাল বলেছেন, তাদের লক্ষ্য মানুষ যেন কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহারে আত্মবিশ্বাসী হয়। পরিবর্তন থামানো যাবে না। তবে পরিবর্তনের ফল কী হবে, তা নীতিনির্ধারণেই ঠিক হয়। ঝুঁকি থেকে মানুষকে সুরক্ষা দিয়ে এআইয়ের সুফল সবার কাছে পৌঁছে দিতে চায় সরকার।তবে সমালোচনাও আছে। ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক পলিসি রিসার্চ (আইপিপিআর) বলছে, শুধু চ্যাটবট ব্যবহার শেখালেই হবে না। কর্মীদের দরকার বিশ্লেষণী চিন্তা। সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ও নেতৃত্বগুণ। থাকতে হবে এআই নিরাপদভাবে ব্যবহারের আত্মবিশ্বাস।সংস্থাটির গবেষক রোয়া পাওয়েল বলেন, এআই যুগের দক্ষতা ছোট টেকনিক্যাল কোর্সে সীমাবদ্ধ নয়। মানুষকে বিস্তৃত দক্ষতায় প্রস্তুত করতে হবে।ব্রিটিশ কম্পিউটার সোসাইটি (বিসিএস)–ও উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে তারা বলছে, দায়িত্ব শুধু কর্মীদের নয়। প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ পর্যায়েও প্রযুক্তি বোঝার সক্ষমতা বাড়াতে হবে। বোর্ড পর্যায়ের সিদ্ধান্ত নির্ধারকদেরও এআই সম্পর্কে জ্ঞান থাকা জরুরি।কোর্সগুলোর সময়সীমা ভিন্ন। কিছু কোর্স ২০ মিনিটের। কিছু আবার কয়েক ঘণ্টার। যুক্তরাজ্যের যে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক এতে অংশ নিতে পারবেন।এ উদ্যোগে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে বেশ কয়েকটি বড় সংস্থা। এর মধ্যে আছে এনএইচএস, ব্রিটিশ চেম্বার্স অব কমার্স এবং লোকাল গভর্নমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন। তারা তাদের কর্মী ও সদস্যদের অংশ নিতে উৎসাহ দেবে।এইচএ
    হ্যাকার থেকে রক্ষা পেতে স্ক্যাম অ্যান্ড্রয়েডের ৪টি নতুন স্মার্ট ফিচার
    ব্যবহারকারীদের আরও নিরাপদ ও সংযুক্ত রাখতে অ্যান্ড্রয়েডে যুক্ত হলো একগুচ্ছ নতুন ফিচার। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তায় তৈরি এসব সুবিধা প্রতিদিনের যোগাযোগকে করবে আরও সহজ, নিরাপদ ও স্মার্ট। সন্দেহজনক মেসেজ শনাক্ত করা থেকে শুরু করে বন্ধু–পরিবারের লাইভ লোকেশন দেখা কিংবা গাড়ি পার্ক করা অবস্থায় গেম খেলা সবই এখন আরও সহজ অ্যান্ড্রয়েডে। জেনে জেনে নেয়া যাক অ্যান্ড্রয়েডের নতুন ৪টি ফিচার সম্পর্কে। সন্দেহজনক মেসেজে সঙ্গে সঙ্গে সতর্কবার্তা: প্রতারণা থেকে ব্যবহারকারীদের রক্ষা করতে গুগল মেসেজেসে যুক্ত হয়েছে এআই-চালিত স্ক্যাম ডিটেকশন। এই ফিচার সন্দেহজনক কথোপকথনের ধরণ শনাক্ত করে আগেই সতর্ক করে দেবে। অনেক সময় নিরীহ মেসেজ থেকেই ধীরে ধীরে প্রতারণা শুরু হয় এই ফিচার সেই ঝুঁকি চিহ্নিত করে রিয়েল-টাইম সতর্কবার্তা দেবে। প্রয়োজনে এক ক্লিকেই মেসেজ ব্লক ও রিপোর্ট করা যাবে। ভালো খবর হলো, এই প্রক্রিয়া পুরোপুরি ডিভাইসের মধ্যেই সম্পন্ন হয় আপনার ব্যক্তিগত কথোপকথন থাকবে সম্পূর্ণ নিরাপদ।লাইভ লোকেশন শেয়ার করে থাকুন নিশ্চিন্ত: এবার ফাইন্ড মাই ডিভাইস অ্যাপেই বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে লাইভ লোকেশন শেয়ার করা যাবে। কারও সঙ্গে দেখা করার সময় বা প্রিয়জন নিরাপদে বাসায় পৌঁছেছেন কি না সেটা  নিশ্চিত করতে এই ফিচার বেশ কাজে আসবে। ম্যাপে সরাসরি দেখা যাবে আপনার পরিচিতদের অবস্থান। কাকে, কত সময়ের জন্য লোকেশন দেখাবেন সবকিছুই থাকবে আপনার নিয়ন্ত্রণে, সঙ্গে থাকবে নিয়মিত রিমাইন্ডার।গাড়ি পার্ক করা অবস্থায় গেমিংয়ের মজা: অ্যান্ড্রয়েড অটোতে যুক্ত হয়েছে নতুন গেমিং সুবিধা। গাড়ি পার্ক করা থাকলে এখন গাড়ির স্ক্রিনেই খেলা যাবে জনপ্রিয় গেমগুলো। অপেক্ষার সময়টুকু আর বিরক্তিকর নয় গেম খেলেই কাটানো যাবে সময়।কেনাকাটায় স্মার্ট সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে ক্রোম: অ্যান্ড্রয়েডে ক্রোম ব্রাউজারে যুক্ত হয়েছে নতুন শপিং ইনসাইট। এখন পণ্যের দামের ইতিহাস, মূল্য কমার নোটিফিকেশন কিংবা বিভিন্ন ওয়েবসাইটের দাম তুলনা করা যাবে সহজেই। ঠিক সময়ে কেনাকাটা করতে চাইলে ক্রোমের অ্যাড্রেস বারে থাকা “প্রাইস ইস লো” নোটিফিকেশনই হয়ে উঠবে আপনার গাইড।সব মিলিয়ে, অ্যান্ড্রয়েডের এই নতুন ফিচারগুলো শুধু প্রযুক্তিগত আপডেট নয় বরং ব্যবহারকারীদের দৈনন্দিন জীবনকে আরও নিরাপদ, সংযুক্ত ও স্বস্তিদায়ক করে তুলতেই এই উদ্যোগ। প্রযুক্তির সঙ্গে নিরাপত্তা ও সুবিধার ভারসাম্য রাখতেই অ্যান্ড্রয়েডের এই নতুন পদক্ষেপ।এইচএ
    হোয়াটসঅ্যাপ-ফেসবুক -ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারে গুনতে হবে টাকা
    সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় এক আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে টেক জায়ান্ট মেটা। জনপ্রিয় তিন প্ল্যাটফর্ম— হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকের জন্য বিশেষ প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন চালুর পরিকল্পনা করছে মার্ক জাকারবার্গের এই সংস্থা। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই নতুন সেবাটি বর্তমান ‘মেটা ভেরিফাইড’ বা ব্লু টিক সাবস্ক্রিপশন থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হবে। মূলত যারা সাধারণ ব্যবহারকারীদের তুলনায় একটু বেশি আধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করতে চান, তাদের কথা মাথায় রেখেই এই বিশেষ পেইড প্ল্যান নিয়ে আসছে মেটা।দীর্ঘ সময় ধরে এই তিনটি অ্যাপই বিশ্বজুড়ে বিনামূল্যে ব্যবহার করা গেলেও এখন আয়ের নতুন উৎস খুঁজছে সংস্থাটি। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিতে বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পর সেই ব্যয় সামলাতে এই প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিবেদনগুলো বলছে, এই প্রিমিয়াম সেবার মূল আকর্ষণ হবে মেটার উন্নত ‘মানুস এআই এজেন্ট’। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা স্মার্ট রিপ্লাই, দ্রুত কন্টেন্ট তৈরির সুবিধা এবং স্বয়ংক্রিয় নানা কাজ সহজেই সেরে নিতে পারবেন। এছাড়া ইনস্টাগ্রামের জন্য ‘ভাইবস’ নামক একটি নতুন এআই টুল যুক্ত হতে পারে, যার মাধ্যমে আকর্ষণীয় ছোট এআই ভিডিও তৈরি করা সম্ভব হবে। ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীদের দীর্ঘদিনের কিছু ব্যক্তিগত চাহিদাও এই প্রিমিয়াম মডেলে জায়গা পেতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। যেমন—কে আপনাকে ফলো করছে না তা দেখার বিশেষ সুবিধা কিংবা অন্য পক্ষকে না জানিয়েই গোপনে তাদের ‘স্টোরি’ দেখার অপশন। হোয়াটসঅ্যাপের ক্ষেত্রেও প্রিমিয়াম গ্রাহকদের জন্য বাড়তি কাস্টমাইজেশন এবং এআই-চালিত চ্যাট ফিচার যুক্ত হতে পারে। তবে মেটা কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, এই নতুন সুবিধাগুলো নেওয়া পুরোপুরি ব্যবহারকারীর ইচ্ছার ওপর নির্ভর করবে। যারা অর্থ খরচ করতে চান না, তারা আগের মতোই বর্তমানের ফ্রি ভার্সনটি ব্যবহার চালিয়ে যেতে পারবেন।নতুন এই পদক্ষেপের ফলে গোপনীয়তা নিয়ে ব্যবহারকারীদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে হোয়াটসঅ্যাপে বিজ্ঞাপনের আনাগোনা বাড়ার পর অনেকেই আশঙ্কা করছেন যে তাদের ব্যক্তিগত তথ্য ভবিষ্যতে এআই প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহার করা হবে কি না। যদিও মেটার দাবি, ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত সুরক্ষার নীতিতে কোনো পরিবর্তন আনা হবে না। মূলত উন্নত এআই অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতেই এই প্রিমিয়াম মডেলের আবির্ভাব ঘটছে। এখন দেখার বিষয়, সোশ্যাল মিডিয়ার এই নতুন ব্যবসায়িক মডেলে সাধারণ ব্যবহারকারীরা কতটা সাড়া দেন এবং মেটার এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয়।এইচএ

    আইন-আদালত

    সব দেখুন
    কাইয়ুমের বিরুদ্ধে নাহিদের আবেদনের শুনানি নির্বাচনের পর: আপিল বিভাগ
    দ্বৈত নাগরিকত্ব এবং তথ্য গোপনের অভিযোগ এনে ঢাকা-১১ আসনের বিএনপি প্রার্থী ড. এমএ কাইয়ুমের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে একই আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের আপিলের শুনানি নির্বাচনের পর। আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।  ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে বিএনপির দুই প্রার্থীর বৈধতা নিয়ে আপিল বিভাগে করা লিভ টু আপিল শুনানি হবে নির্বাচনের পর। আজ মঙ্গলবার আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য থাকলেও নট টুডে আদেশ দেওয়া হয়।বিএনপির দুই প্রার্থী হলেন— ঢাকা-১১ আসনের এম এ কাইয়ুম ও বগুড়া-১ আসনের কাজী রফিকুল ইসলাম। এছাড়া কুমিল্লা-৩ আসনের কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের বিরুদ্ধে করা লিভ টু আপিল খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। এর আগে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রিটটি করেন একই আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। রিটে কাইয়ুমের প্রার্থিতা স্থগিত চাওয়া হয়। রিট খারিজ হওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় নাহিদ ইসলামের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মূসা জানান, আপিল বিভাগে যাবেন নাহিদ ইসলাম। এদিকে এমএ কাইয়ুমের বিরুদ্ধে রিপাবলিক অব ভানুয়াতুর নাগরিকত্ব গ্রহণ ও সেখানে সম্পত্তি থাকার অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার বলে দাবি করেন তিনি। গত ১৯ জানুয়ারি এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে গুঞ্জন ছড়ানো হয়েছে যে আমি ভানুয়াতু নামের একটি দেশের নাগরিক এবং সেখানে আমার বাড়ি বা বিনিয়োগ রয়েছে। এসব তথ্য মিথ্যাচারে পরিপূর্ণ। ভানুয়াতুতে আমি কখনো পা ফেলিনি এবং অন্য কোনো দেশের দ্বৈত নাগরিক হওয়ার কোনো আকাঙ্ক্ষাও আমার কখনো ছিল না।  বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।এইচএ

    প্রবাস

    সব দেখুন
    দূর মরিশাস থেকেও নাড়ির টান: সাত মাদ্রাসার এতিমদের দায়িত্বে প্রবাসী আকাশ
    হাজার মাইল দূরের মরিশাসের ব্যস্ত কর্মজীবনও তাকে শেকড় থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারেনি। বিদেশের মাটিতে কঠোর পরিশ্রমের ফাঁকে ফাঁকে তার মন পড়ে থাকে দেশের সুবিধাবঞ্চিত এতিম শিশুদের কথা ভেবে। সেই নাড়ির টান থেকেই ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা ও গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার সাতটি মাদ্রাসার এতিমদের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন প্রবাসী যুবক আকাশ মিয়া।নিজের উপার্জনের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ তিনি নিয়মিত ব্যয় করছেন এসব এতিমখানার জন্য। প্রতিমাসে চাল ও প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী দেওয়ার পাশাপাশি তীব্র শীত থেকে শিশুদের রক্ষায় এবার পাঠিয়েছেন বিশেষ উপহার—নতুন কম্বল।সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে দুই উপজেলার সাতটি মাদ্রাসার এতিমখানায় প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীর হাতে নতুন কম্বল পৌঁছে দেওয়া হয়। কনকনে শীতের সকালে উষ্ণ কম্বল পেয়ে শিশুদের মুখে ফুটে ওঠে স্বস্তি আর আনন্দের হাসি।আকাশ মিয়া ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার সদর ইউনিয়নের জাটিগ্রাম এলাকার জাকির মিয়ার ছেলে। তিনি বর্তমানে মরিশাসের ঈশান কামিনী কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালক হিসেবে কর্মরত। প্রবাসে থেকেও দীর্ঘদিন ধরে তিনি মাদ্রাসাগুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও অন্যান্য সহায়তা দিয়ে আসছেন।আলফাডাঙ্গা উপজেলা সদরের তাহফিজুল কুরআন ক্যাডেট মাদ্রাসার মুহতামিম হাফেজ ইমামুদ্দিন ও জাটিগ্রাম শাহ আরজানিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম হাফেজ মারুফ বিল্লাহ বলেন, “আকাশ মিয়া নিয়মিত আমাদের মাদ্রাসায় চালসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা পাঠান। ফলে এতিম শিশুদের খাদ্যসংকটের চিন্তা করতে হয় না। এবার শীতের সময় কম্বল পাঠিয়ে তিনি বাচ্চাদের প্রতি তার মমতার প্রমাণ দিয়েছেন।”কাশিয়ানীর পোনা মারকাযুল উলুম মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক আব্দুল করিম ও খায়েরহাট ছায়াদাতিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা নুরুজ্জামানও একই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “এতিম শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে আকাশ মিয়া যেভাবে পাশে দাঁড়াচ্ছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। সমাজের সামর্থ্যবানরা এভাবে এগিয়ে এলে এতিমদের জীবন অনেক সহজ হয়ে যায়।”নিজের এই মানবিক উদ্যোগ সম্পর্কে মুঠোফোনে আকাশ মিয়া বলেন, “আমি প্রবাসে থাকলেও আমার এলাকার এতিম শিশুদের কথা সব সময় মনে পড়ে। আল্লাহ আমাকে যতটুকু সামর্থ্য দিয়েছেন, তা দিয়ে তাদের পাশে থাকতে চাই। তাদের মুখে হাসি দেখলেই আমার সব কষ্ট ভুলে যাই। এটা কোনো দান নয়, এটা আমার সামাজিক দায়বদ্ধতা।”স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, আকাশ মিয়ার মতো প্রবাসী ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা যদি এভাবে এগিয়ে আসেন, তাহলে দেশের এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের ভবিষ্যৎ আরও নিরাপদ ও সুন্দর হয়ে উঠতে পারে।ইখা

    লাইফস্টাইল

    সব দেখুন
    ঘাড় ব্যথা থেকে প্রতিকারের উপায়
    অনেকেরই ঘাড় ব্যথা একটি নিত্যনৈমিত্তিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান যুগে দীর্ঘ সময় কম্পিউটারে কাজ করা, স্মার্টফোন ব্যবহারের আধিক্য এবং ভুল ভঙ্গিতে ঘুমানোর কারণে এই সমস্যাটি সাধারণ মনে হলেও এটি কখনো কখনো গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। এক সপ্তাহের বেশি ঘাড়ে ব্যথা থাকলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।ঘাড় ব্যথা তীব্র হলে তা আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ব্যাপক ব্যাঘাত ঘটায়, তাই সময়মতো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং এর কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি।চিকিৎসকদের মতে, ঘাড় ব্যথার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে দীর্ঘক্ষণ একই ভঙ্গিতে বসে থাকা বা মাথা নিচু করে কাজ করা, যা ঘাড়ের পেশিতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। এ ছাড়া দুর্ঘটনাজনিত আঘাত, খেলাধুলার সময় চোট বা মেরুদণ্ডের জটিল সমস্যা যেমন স্পন্ডাইলোসিস এই ব্যথার জন্য দায়ী হতে পারে। ঘাড়ের পেশিতে অতিরিক্ত টানের ফলে সৃষ্ট মাসল স্প্যাজম যেমন কষ্টদায়ক হতে পারে, তেমনি সংক্রমণ, টিউমার বা আর্থ্রাইটিসের মতো রোগও এই ব্যথার উৎস হতে পারে।ঘাড় ব্যথার লক্ষণ হিসেবে মূলত ঘাড়ে তীব্র বা হালকা ব্যথা, জ্বালাপোড়া অনুভব করা, ব্যথা হাতে বা বাহুতে ছড়িয়ে পড়া এবং ঘনঘন মাথাব্যথা দেখা দিতে পারে।ঘাড় ব্যথার চিকিৎসা সাধারণত এর কারণ ও তীব্রতার ওপর নির্ভর করে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যথানাশক বা পেশি শিথিলকারী ওষুধ সেবনের পাশাপাশি ফিজিওথেরাপি ব্যায়াম ঘাড়ের পেশি শক্তিশালী করতে অত্যন্ত কার্যকর।এ ছাড়া ব্যথা কমাতে হিট বা আইস থেরাপি এবং মেরুদণ্ডের চাপ কমাতে ট্রাকশন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। বিশেষ ক্ষেত্রে স্টেরয়েড ইনজেকশন বা সবশেষে সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে।তবে প্রতিরোধের কিছু অভ্যাস গড়ে তুললে এই সমস্যা থেকে দূরে থাকা সম্ভব। দীর্ঘ সময় একভাবে বসে না থেকে মাঝে মাঝে বিরতি নেওয়া, কম্পিউটারে কাজ করার সময় সঠিক ভঙ্গি বজায় রাখা এবং নিয়মিত ঘাড়ের ব্যায়াম করা জরুরি। পাশাপাশি শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং ভারী বস্তু তোলার সময় সতর্কতা অবলম্বন করলে মেরুদণ্ড ও ঘাড়ের ওপর বাড়তি চাপ এড়ানো যায়।নিজেই করুন প্রতিকার: প্রতিদিনকার রুটিনে কিছু পরিবর্তন এনে সাধারণ ঘাড় ব্যথার প্রতিকার করা যায়। বসে থাকার সময় আপনার মেরুদণ্ড যেন সরলরেখায় থাকে এবং কান সরাসরি আপনার কাঁধের ওপরে থাকে। দীর্ঘ সময় একটানা বসে কাজ না করে এক ঘণ্টা পরপর ১০ মিনিট বিরতি নিন। যদি দীর্ঘ দূরত্বে ভ্রমণ করেন বা দীর্ঘ সময় ধরে কম্পিউটারে কাজ করেন, তবে উঠে পড়ুন, ঘুরে দেখুন এবং ঘাড় ও কাঁধ সামনে–পেছনে প্রসারিত করুন। কাজের টেবিল–চেয়ার ও কম্পিউটার এমনভাবে সামঞ্জস্য করুন, যাতে মনিটর চোখের স্তরের সমান থাকে।  এইচএ 

    Loading…