এইমাত্র
  • ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলবে পাকিস্তান
  • এবার বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক কমাল যুক্তরাষ্ট্র
  • নির্বাচনী প্রচারণার সময় হকারকে টাকা দিলেন শাহরিয়ার কবির
  • ক্ষমতায় গেলে পে স্কেল বাস্তবায়ন করা হবে : তারেক রহমান
  • লেবাননে ভবন ধসে ১৪ জন নিহত
  • মরার আগেই ‘মৃত্যুর ঘোষণাপত্র’ এপস্টেইনের
  • আগামী সপ্তাহেই পদত্যাগ করতে পারেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
  • ১০ বছরের মধ্যে চাঁদে শহর গড়তে চান মাস্ক
  • ২০৮ আসনে বিএনপি ও জামায়াত জোট জিততে পারে ৪৬টিতে: ইএএসডি'র জরিপ
  • জিয়াউর রহমান না থাকলে জামায়াতে ইসলামীর জন্ম হতো না : রিজভী
  • আজ মঙ্গলবার, ২৬ মাঘ, ১৪৩২ | ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
    ক্ষমতায় গেলে পে স্কেল বাস্তবায়ন করা হবে : তারেক রহমান
    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় গেলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য যথাসময়ে পে স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার দিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে এই প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন তিনি।তারেক রহমান বলেন, পতিত পরাজিত ও বিতাড়িত ফ্যাসিবাদ অপশক্তি দেশের সব সাংবিধানিক এবং বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোকে অকার্যকর করে দিয়েছিল। প্রশাসনকে চূড়ান্ত রকমের দলীয়করণ করে ফেলেছিল।প্রশাসন পরিচালনায় বিএনপির নীতি হবে—প্রতিটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান চলবে সাংবিধানিক নিয়মে। শাসন প্রশাসনকে দলীয়করণ নয়। প্রশাসনে নিয়োগ কিংবা পদোন্নতি হবে মেধা এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে।তিনি আরো বলেন, ‘জনপ্রশাসন সঠিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হতে না পারলে আমাদের কোনো উদ্যোগেরই সুফল মিলবে না।আমরা ইতিমধ্যেই জনগণের সামনে উপস্থাপিত। আমাদের দলীয় ইশতেহারে বলেছি, জনগণের রায়ে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে সরকারি কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের জন্য যথাসময়ে জাতীয় পে স্কেল ঘোষণা এবং বাস্তবায়ন করা হবে।’তারেক রহমান বলেন, ‘প্রতিটি সেক্টর ও প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষকে লক্ষ্য করে একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য আমরা আমাদের পরিকল্পনা সাজিয়েছি। দেশের প্রতিটি পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু করার কথা জানান বিএনপি চেয়ারম্যান।যেখানে প্রথম পর্যায়ে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা ও নিম্ন আয়ের সুরক্ষা দিতে ফ্যামিলি কার্ডে প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা কিংবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে।’বিএনপি চেয়ারম্যান জানান, তার দল সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের ছয় মাস থেকে সর্বোচ্চ এক বছর কিংবা কর্মসংস্থান না হওয়া পর্যন্ত বিশেষ আর্থিক ভাতা প্রদান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।বেকার সমস্যা সমাধানে তারেক রহমান বলেছেন, বেকার সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে ব্যাংক-বীমা-পুঁজিবাজারসহ দেশের অর্থনৈতিক খাতের সার্বিক সংস্কার ও অঞ্চলভিত্তিক ও অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা এবং শিল্প ও বাণিজ্যে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশে-বিদেশে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।নাগরিকের দুয়ারে স্বাস্থসেবা পৌঁছে দিতে এক লাখ ‘হেলথ কেয়ার’ নিয়োগ দেওয়ার কথাও বলেন তিনি। যার মধ্যে ৮০ শতাংশই থাকবেন নারী।তারেক রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় বছরে ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার করা হয়, এটি ঠেকানো গেলে কৃষক কার্ডসহ অন্যান্য খাতে অর্থায়ন অসম্ভব না।এফএস
    জিয়াউর রহমান না থাকলে জামায়াতে ইসলামীর জন্ম হতো না : রিজভী
    শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান না থাকলে জামায়াতে ইসলামীর জন্ম হতো না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কুড়িগ্রামের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।রিজভী বলেন, ‌‘দেশের মাটিতে জামায়াতে ইসলামী রাজনীতি করতে পারতো না। বেগম খালেদা জিয়া না থাকলে আপনারা মন্ত্রিত্বের স্বাদ পেতেন না। অথচ আপনাদের ন্যূনতম কৃতজ্ঞতাবোধ নেই।’তিনি আরও বলেন, ‘জামায়াতের আমির যখন যা সুবিধা মনে করছেন, তখন সেই পথ দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য দিনরাত কাজ করছেন। কিন্তু তার এই অবস্থানের মধ্য দিয়ে তার আসল চরিত্র ধরা পড়েছে।’জামায়াতের আমিরের সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারের বরাত দিয়ে রিজভী বলেন, ‘জামায়াতের আমির বলেছেন—মেয়েরা এমপি হতে পারবে, কিন্তু রাষ্ট্রের প্রধান হতে পারবে না। অথচ আপনারা এই বেগম খালেদা জিয়ার অধীনেই মন্ত্রী হয়েছিলেন।’তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘তারা ক্ষমতায় থাকলে নারী অধিকার থাকবে না। মেয়েরা অফিস-আদালত কিংবা রাজনৈতিক দল—কোথাও ভালো কোনো পদ পাবে না।’এসময় কুড়িগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু এবং হাসিবুর রহমান হাসিবসহ জেলা বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এফএস

    জাতীয়

    সব দেখুন
    ২০৮ আসনে বিএনপি ও জামায়াত জোট জিততে পারে ৪৬টিতে: ইএএসডি'র জরিপ
    ভোটের বাকি আর মাত্র দুই দিন। এমন সময় এমিনেন্স অ্যাসোসিয়েটস ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট (EASD) প্রকাশ করলো ভোটের সম্ভাব্য ফল নিয়ে তাদের জরিপ। যেখানে উঠে আসা তথ্যে জামায়াতে ইসলামীর চেয়ে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে বিএনপি।দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের ৪১,৫০০ জন মানুষের মতামতের ভিত্তিতে এই জরিপটি তৈরি করা হয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ ভোটার বিএনপিকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় দেখতে চান এবং দলটির শীর্ষ নেতা তারেক রহমানকে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পছন্দ করেন। জরিপ বিশ্লেষণে দেখা যায়, তরুণ প্রজন্ম ও নারী ভোটারদের মধ্যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা প্রবল এবং সাবেক আওয়ামী লীগ সমর্থকদের একটি বড় অংশ এখন বিএনপি-কে সমর্থন দিচ্ছে। রাজনৈতিক দলের জনপ্রিয়তা: জরিপের সামগ্রিক ফলাফল অনুযায়ী, বাংলাদেশের অধিকাংশ ভোটারের প্রথম পছন্দ বিএনপি। সর্বোচ্চ ৬৬.৩% ভোটার বিএনপি-কে ভোট দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এর বিপরীতে জামায়াতে ইসলামী ১১.৯%, এনসিপি ১.৭%, জাতীয় পার্টি ০.৪% এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ২.৬% সমর্থন পেয়েছেন।আসন প্রাপ্তির পূর্বাভাস: জরিপ অনুযায়ী, নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে প্রায় ২০৮টি আসনে জয়লাভ করতে পারে। এছাড়া জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট ৪৬টি, জাতীয় পার্টি ৩টি, অন্যান্য দল ৪টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১৭টি আসনে জয়ী হতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছে। ২২টি আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হওয়ার সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে জরিপে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পছন্দ: পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সর্বোচ্চ ৬৮ শতাংশ উত্তরদাতা তারেক রহমানকে সমর্থন করেছেন। আর শফিকুর রহমানের পক্ষে ১৪ শতাংশ এবং নাহিদ ইসলামের পক্ষে ২ শতাংশ উত্তরদাতা মত দিয়েছেন।নারী ও তরুণ ভোটারদের ঝোঁক: নারী ভোটারদের মধ্যে বিএনপির জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। যেখানে ৭১.১% নারী ভোটার দলটিকে সমর্থন দিচ্ছেন। জরিপে ১৮-৩০ বছর বয়সী তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ ছিল ৩৭.২%।আওয়ামী লীগ ভোটারদের অবস্থান: পূর্বে আওয়ামী লীগকে সমর্থন দেওয়া ভোটারদের একটি বড় অংশ এখন পরিবর্তনের পক্ষে। এদের মধ্যে ৮০% আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি-কে এবং ১৫% জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।সরকার গঠন নিয়ে প্রত্যাশা: জরিপে অংশগ্রহণকারী ৬৬.৪% মানুষ বিশ্বাস করেন যে আসন্ন নির্বাচনের পর বিএনপি জোট সরকার গঠন করতে সক্ষম হবে।এফএস
    ভোটের দিন যেসব প্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে
    অসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন এবং গণভোট অনুঠিত হবে আগামী (১২ ফেব্রুয়ারি) বৃহস্পতিবার। এদিন নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে এবং সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে সারা দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। তবে বিশেষ কিছু সেবা, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ছুটির আওতার বাইরে থাকবে।জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এসব তথ্য জানানো হয়।যেসব সেবা, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ছুটির আওতার বাইরে থাকবে-জরুরিসেবা : হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি এবং জরুরি টেলিযোগাযোগ সেবা সচল থাকবে।ভোটের দিনে খোলা থাকবে যেসব প্রতিষ্ঠান-ডিআরই‘র বিবৃতি / ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিতে নিষেধাজ্ঞা স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপসংবাদমাধ্যম : সংবাদপত্র, অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর অফিস এবং গণমাধ্যমকর্মীরা এই ছুটির আওতামুক্ত।আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী : পুলিশ, আনসার, র‍্যাব এবং সেনাবাহিনী (নির্বাচনি ডিউটির কারণে নিয়োজিত)।নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী সরাসরি নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত-যেমন রিটার্নিং অফিসার, প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার-তাদের জন্য সাধারণ ছুটি প্রযোজ্য হবে না। তারা ভোটগ্রহণ ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরিচালনায় দায়িত্ব পালন করবেন।শিক্ষক : প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্যান্য শিক্ষকদের নিয়মিত ক্লাস বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব স্থগিত থাকবে। তবে তারা সম্পূর্ণ সময় ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করবেন।ব্যাংকার : সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের যে কর্মকর্তা-কর্মচারী ভোটকেন্দ্র বা রিটার্নিং অফিসারের সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন, তাদের জন্য ব্যাংক বন্ধের সাধারণ ছুটি প্রযোজ্য হবে না। তারা নির্বাচনের দিন তাদের দায়িত্বে থাকবেন।নির্বাচন পরিচালনার স্বার্থে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় এবং এর আওতাধীন মাঠ পর্যায়ের সব অফিস পূর্ণ দিবস খোলা থাকবে। রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়গুলো ভোটের দিন সবচেয়ে ব্যস্ত সময় পার করবে।এমআর-২
    এবারের জাতীয় নির্বাচন অভূতপূর্ব পরিবর্তন আনবে: প্রধান উপদেষ্টা
    এবারের জাতীয় নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, এ নির্বাচন আগামীর রাজনৈতিক কাঠামোতে একটি অভূতপূর্ব পরিবর্তন নিয়ে আসবে।সোমবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে করা এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। প্রেস সচিব জানান, শেষ মুহূর্তে সচিবদের সঙ্গে বৈঠকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জিতলে এবার দেশের ভবিষ্যৎ বদলে যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা।শফিকুল আলম বলেন, ‘এ সরকারের তেমন ব্যর্থতা নেই, এ সরকারের সবচেয়ে বড় সফলতা শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা।’নির্বাচন ইস্যুতে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত নির্বাচনকে ঘিরে কোনো উত্তেজনা তৈরি হয়নি। রাজনৈতিক দলগুলো দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখছে।’ এছাড়া অনেক বিদেশি পর্যবেক্ষক এসেছে বলেও জানান তিনি।আওয়ামী লীগের নির্বাচন বানচালের কোনো এখতিয়ার নেই বলেও মন্তব্য করেছেন প্রেস সচিব।এমআর-২
    ‘ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিক-পর্যবেক্ষকদের মোবাইল নিতে বাধা নেই’
    আসন্ন এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের মোবাইল ফোন নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা নেই বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।সোমবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবন চত্বরে সাংবাদিকদের জন্য করা বুথ পরিদর্শনকালে এ তথ্য জানান তিনি।এর আগে, গতকাল রোববার নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি নির্দেশনা সব রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়। ওই নির্দেশনায় বলা হয়, সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং অফিসার, পুলিশ ইনচার্জ এবং ‘নির্বাচন সুরক্ষা ২০২৬’ অ্যাপ ব্যবহারকারী দুজন আনসার সদস্য ছাড়া অন্য কেউ মোবাইল ফোন নিয়ে ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে প্রবেশ করতে পারবেন না।চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ভোটের দিন আইনশৃঙ্খলা ও সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে এ নির্দেশনা কার্যকর করতে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।এমআর-২
    ৬ দিন বন্ধ থাকবে চীনা দূতাবাসের ভিসা অফিস
    আগামী ১৬ থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ঢাকার চীনা দূতাবাসের ভিসা অফিস সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। আজ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার চীনা দূতাবাস এক বার্তায় এ তথ্য জানায়।বার্তায় জানানো হয়, ছুটির সময়সূিচিঅনুসারে ভিসা অফিস ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে।এইচএ
    নির্বাচনি এলাকায় ৪ দিন বহিরাগত অবস্থানে নিষেধাজ্ঞা
    আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট প্রভাবমুক্ত, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে নির্বাচনি এলাকায় অবস্থানের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসি জানায়, আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৪টা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় কোনো বহিরাগত অবস্থান করতে পারবে না।  সোমবার (০৯ ফেব্রয়ারি) নির্বাচন কমিশনের নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়-১ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক নোটিশে এ নির্দেশনা জারি করা হয়। নির্দেশনায় বলা হয়, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্বাচনি কার্যক্রমে সম্পৃক্ত ব্যক্তি, কমিশনের অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দা বা ভোটার ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি ভোটগ্রহণ শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার ২৪ ঘণ্টা পর পর্যন্ত ওই নির্বাচনি এলাকায় অবস্থান করতে পারবেন না।এই বিধিনিষেধ আগামীকাল মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি সাড়ে বিকাল ৪টা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।এতে আরও বলা হয়, নির্বাচন কমিশনের গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়েছে।এমআর-২
    নির্বাচনি অপরাধের দ্রুত বিচারে ৫ দিনের জন্য ৬৫৭ বিচারক নিয়োগ
    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটের আগে, ভোটের দিন এবং ভোটগ্রহণ পরবর্তী সময়ে নির্বাচনকেন্দ্রিক অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ১০ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি— ৫ দিনের জন্য ৬৫৭ জন বিচারককে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে সরকার।  আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ এই মনোনয়ন প্রদান করে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের তালিকা নির্বাচন কমিশন সচিবের কাছে পাঠিয়েছে।মনোনয়ন সংক্রান্ত ওই চিঠিতে বলা হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে জাতীয় সংসদের ৩০০টি নির্বাচনি এলাকায় ভোট গ্রহণের আগের দুই দিন, ভোটের দিন এবং ভোট গ্রহণের পরের দুই দিনসহ মোট পাঁচ দিনের জন্য এই জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা দায়িত্ব পালন করবেন। অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তারা নির্বাচনি অপরাধের বিচারিক দায়িত্বে থাকবেন।চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের ৬৫৭ জন বিচারককে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে মনোনয়ন দিয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অধীনে ন্যস্ত করা হয়েছে।মনোনীত জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা ১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী নির্বাচনি অপরাধ আমলে নেওয়া এবং সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে বিচার সম্পন্ন করবেন।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, তারা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের আওতায় সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন।এর আগে, নির্বাচনকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও নির্বাহী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গত ৩ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে এক হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নিজ নিজ দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করবেন।এইচএ 
    মোবাইল নিয়ে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আশ্বাস
    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে মোবাইল নিয়ে সাংবাদিকদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আশ্বাস দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।সোমবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এই আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।এর আগে রোববার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন নেওয়ায় বিধি-নিষেধ আরোপের কথা জানায় নির্বাচন কমিশন।এদিন ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহীদুল ইসলামের সই করা এ সংক্রান্ত একটি চিঠি সারাদেশের রিটার্নিং অফিসারদের পাঠানো হয়।চিঠিতে বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং অফিসার, পুলিশ ইনচার্জ, আনসার, সাধারণ আনসার বা ভিডিপির ‘নির্বাচন সুরক্ষা-২০২৬’ অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারকারী দুজন আনসার সদস্য ফোন রাখতে পারবেন। এ ছাড়া অন্যরা কেউ মোবাইল নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না।এমআর-২

    সর্বশেষ প্রকাশিত

    রাজনীতি

    সব দেখুন
    ক্ষমতায় গেলে পে স্কেল বাস্তবায়ন করা হবে : তারেক রহমান
    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় গেলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য যথাসময়ে পে স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার দিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে এই প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন তিনি।তারেক রহমান বলেন, পতিত পরাজিত ও বিতাড়িত ফ্যাসিবাদ অপশক্তি দেশের সব সাংবিধানিক এবং বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোকে অকার্যকর করে দিয়েছিল। প্রশাসনকে চূড়ান্ত রকমের দলীয়করণ করে ফেলেছিল।প্রশাসন পরিচালনায় বিএনপির নীতি হবে—প্রতিটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান চলবে সাংবিধানিক নিয়মে। শাসন প্রশাসনকে দলীয়করণ নয়। প্রশাসনে নিয়োগ কিংবা পদোন্নতি হবে মেধা এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে।তিনি আরো বলেন, ‘জনপ্রশাসন সঠিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হতে না পারলে আমাদের কোনো উদ্যোগেরই সুফল মিলবে না।আমরা ইতিমধ্যেই জনগণের সামনে উপস্থাপিত। আমাদের দলীয় ইশতেহারে বলেছি, জনগণের রায়ে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে সরকারি কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের জন্য যথাসময়ে জাতীয় পে স্কেল ঘোষণা এবং বাস্তবায়ন করা হবে।’তারেক রহমান বলেন, ‘প্রতিটি সেক্টর ও প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষকে লক্ষ্য করে একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য আমরা আমাদের পরিকল্পনা সাজিয়েছি। দেশের প্রতিটি পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু করার কথা জানান বিএনপি চেয়ারম্যান।যেখানে প্রথম পর্যায়ে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা ও নিম্ন আয়ের সুরক্ষা দিতে ফ্যামিলি কার্ডে প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা কিংবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে।’বিএনপি চেয়ারম্যান জানান, তার দল সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের ছয় মাস থেকে সর্বোচ্চ এক বছর কিংবা কর্মসংস্থান না হওয়া পর্যন্ত বিশেষ আর্থিক ভাতা প্রদান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।বেকার সমস্যা সমাধানে তারেক রহমান বলেছেন, বেকার সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে ব্যাংক-বীমা-পুঁজিবাজারসহ দেশের অর্থনৈতিক খাতের সার্বিক সংস্কার ও অঞ্চলভিত্তিক ও অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা এবং শিল্প ও বাণিজ্যে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশে-বিদেশে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।নাগরিকের দুয়ারে স্বাস্থসেবা পৌঁছে দিতে এক লাখ ‘হেলথ কেয়ার’ নিয়োগ দেওয়ার কথাও বলেন তিনি। যার মধ্যে ৮০ শতাংশই থাকবেন নারী।তারেক রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় বছরে ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার করা হয়, এটি ঠেকানো গেলে কৃষক কার্ডসহ অন্যান্য খাতে অর্থায়ন অসম্ভব না।এফএস
    ক্ষমতায় গেলে পে স্কেল বাস্তবায়ন করা হবে : তারেক রহমান
    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় গেলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য যথাসময়ে পে স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার দিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে এই প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন তিনি।তারেক রহমান বলেন, পতিত পরাজিত ও বিতাড়িত ফ্যাসিবাদ অপশক্তি দেশের সব সাংবিধানিক এবং বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোকে অকার্যকর করে দিয়েছিল। প্রশাসনকে চূড়ান্ত রকমের দলীয়করণ করে ফেলেছিল।প্রশাসন পরিচালনায় বিএনপির নীতি হবে—প্রতিটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান চলবে সাংবিধানিক নিয়মে। শাসন প্রশাসনকে দলীয়করণ নয়। প্রশাসনে নিয়োগ কিংবা পদোন্নতি হবে মেধা এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে।তিনি আরো বলেন, ‘জনপ্রশাসন সঠিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হতে না পারলে আমাদের কোনো উদ্যোগেরই সুফল মিলবে না।আমরা ইতিমধ্যেই জনগণের সামনে উপস্থাপিত। আমাদের দলীয় ইশতেহারে বলেছি, জনগণের রায়ে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে সরকারি কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের জন্য যথাসময়ে জাতীয় পে স্কেল ঘোষণা এবং বাস্তবায়ন করা হবে।’তারেক রহমান বলেন, ‘প্রতিটি সেক্টর ও প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষকে লক্ষ্য করে একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য আমরা আমাদের পরিকল্পনা সাজিয়েছি। দেশের প্রতিটি পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু করার কথা জানান বিএনপি চেয়ারম্যান।যেখানে প্রথম পর্যায়ে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা ও নিম্ন আয়ের সুরক্ষা দিতে ফ্যামিলি কার্ডে প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা কিংবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে।’বিএনপি চেয়ারম্যান জানান, তার দল সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের ছয় মাস থেকে সর্বোচ্চ এক বছর কিংবা কর্মসংস্থান না হওয়া পর্যন্ত বিশেষ আর্থিক ভাতা প্রদান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।বেকার সমস্যা সমাধানে তারেক রহমান বলেছেন, বেকার সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে ব্যাংক-বীমা-পুঁজিবাজারসহ দেশের অর্থনৈতিক খাতের সার্বিক সংস্কার ও অঞ্চলভিত্তিক ও অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা এবং শিল্প ও বাণিজ্যে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশে-বিদেশে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।নাগরিকের দুয়ারে স্বাস্থসেবা পৌঁছে দিতে এক লাখ ‘হেলথ কেয়ার’ নিয়োগ দেওয়ার কথাও বলেন তিনি। যার মধ্যে ৮০ শতাংশই থাকবেন নারী।তারেক রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় বছরে ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার করা হয়, এটি ঠেকানো গেলে কৃষক কার্ডসহ অন্যান্য খাতে অর্থায়ন অসম্ভব না।এফএস
    জিয়াউর রহমান না থাকলে জামায়াতে ইসলামীর জন্ম হতো না : রিজভী
    শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান না থাকলে জামায়াতে ইসলামীর জন্ম হতো না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কুড়িগ্রামের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।রিজভী বলেন, ‌‘দেশের মাটিতে জামায়াতে ইসলামী রাজনীতি করতে পারতো না। বেগম খালেদা জিয়া না থাকলে আপনারা মন্ত্রিত্বের স্বাদ পেতেন না। অথচ আপনাদের ন্যূনতম কৃতজ্ঞতাবোধ নেই।’তিনি আরও বলেন, ‘জামায়াতের আমির যখন যা সুবিধা মনে করছেন, তখন সেই পথ দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য দিনরাত কাজ করছেন। কিন্তু তার এই অবস্থানের মধ্য দিয়ে তার আসল চরিত্র ধরা পড়েছে।’জামায়াতের আমিরের সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারের বরাত দিয়ে রিজভী বলেন, ‘জামায়াতের আমির বলেছেন—মেয়েরা এমপি হতে পারবে, কিন্তু রাষ্ট্রের প্রধান হতে পারবে না। অথচ আপনারা এই বেগম খালেদা জিয়ার অধীনেই মন্ত্রী হয়েছিলেন।’তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘তারা ক্ষমতায় থাকলে নারী অধিকার থাকবে না। মেয়েরা অফিস-আদালত কিংবা রাজনৈতিক দল—কোথাও ভালো কোনো পদ পাবে না।’এসময় কুড়িগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু এবং হাসিবুর রহমান হাসিবসহ জেলা বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এফএস
    বিএনপি গণতন্ত্র ও ভোটের রাজনীতিতে বিশ্বাসী: মোশাররফ হোসেন
    কুমিল্লার দাউদকান্দিতে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী জনসভায় বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য, সাবেক মন্ত্রী এবং কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি–মেঘনা) আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, বিএনপি সবসময়ই গণতন্ত্র ও ভোটের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে।সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৩টায় দাউদকান্দি উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের আয়োজনে গৌরীপুর মুন্সি ফজলুল রহমান সরকারি ডিগ্রি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, “বিএনপি কখনোই বন্দুকের নল কিংবা অবৈধ ক্ষমতার মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনায় বিশ্বাস করে না। জনগণের ভোটেই ক্ষমতার বৈধতা আসে—এটাই বিএনপির রাজনীতির মূল দর্শন।”তিনি আরও বলেন, বিএনপি জনগণের দল। এ দলের রাজনীতি জনগণকে সঙ্গে নিয়েই পরিচালিত হয়। অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠাই বিএনপির প্রধান লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।দাউদকান্দি উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ভিপি জাহাঙ্গীর আলমের সঞ্চালনায় এবং আহ্বায়ক এম. এ. লতিফ ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ জনসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. খন্দকার মারুফ হোসেন।এছাড়াও বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসেম সরকার, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক নূর মোহাম্মদ সেলিম সরকার, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জসিম উদ্দিন আহমেদ, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া এবং পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সওগাত চৌধুরী পিটারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।এফএস
    ‘সরকার গঠন করলে ফজর পড়েই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ শুরু করব’
    আল্লাহর ইচ্ছায় ও জনগণের ভালোবাসায় সরকার গঠন করলে প্রথম দিন ফজরের নামাজ পড়ে আমাদের পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন শুরু করব বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন তিনি। ভাষণটি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারের মাধ্যমে সম্প্রচার করা হয়।জামায়াত আমির বলেন, এই বাংলাদেশ মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সবার। কেউ ভয়ের সংস্কৃতির মধ্যে বাস করবে না। যদি কেউ ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে আঘাত করার চেষ্টা করে, আমরা অতীতের মতো ভবিষ্যতেও তা প্রতিরোধ করব। রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব কোনো উপভোগের বিষয় নয়। সর্বাবস্থায় আমরা স্মরণে রাখব—‘আমরা প্রত্যেকে দায়িত্বশীল’।তিনি বলেন, আমরা এমন এক দেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যেখানে কোনো মা বা বোনকে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হবে না। অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে আমাদের সঙ্গী হোন। একটি উন্নত ও আধুনিক দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে আমাদের নির্বাচিত করুন।ভাষণে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান জুলাইয়ের শহীদদের রূহের মাগফেরাত কামনা করেন, একই সঙ্গে, মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদেরও গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।তিনি বলেন, জুলাই হয়েছিল কারণ আমাদের দেশ এক হয়েছিল। জুলাইতে রাস্তায় নেমেছিল আমার তরুণ বন্ধুরা। রাস্তায় নেমেছিল আমাদের প্রিয় মা-বোন-মেয়েরা। রাস্তায় নেমেছিল শ্রমিক, রিকশাশ্রমিক ভাইয়েরা এবং সব মেহনতি জনতা। ফ্যাসিবাদ বিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও তখন এক হয়েছিল। শিক্ষক, প্রকৌশলী, ডাক্তারসহ সব শ্রেণির পেশাজীবী মানুষও রাস্তায় নেমে এসেছিল। দেশপ্রেমিক সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরাও সে সময়ে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেন। আমরা জুলাই আর চাই না; আমরা চাই এমন বাংলাদেশ, যেখানে আর কোনো দিন জনগণকে রাস্তায় নামতে না হয়। আমাদের বুঝতে হবে, জুলাই কেন হয়েছিল। জুলাই হয়েছিল একটা বৈষম্যহীন বাংলাদেশের জন্য।আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন জাতিকে একটি নতুন স্বপ্নের দিকে নিয়ে যাওয়ার এক মহাসুযোগ হিসেবে এসেছে উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যেসব সমস্যা আমরা বিগত দিনে সমাধান করতে পারিনি, যে লুটেরা গোষ্ঠীকে আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি, সেসব সমস্যার সমাধান এবং লুটেরা গোষ্ঠীকে নিয়ন্ত্রণের সুযোগ হচ্ছে আগামী নির্বাচন। তাই জনগণকে ঠিক করতে হবে আমরা আমাদের নিজেদের জন্য, আমাদের তরুণদের জন্য, আমাদের নারীদের জন্য, বয়স্ক মানুষের জন্য, প্রান্তিক মানুষের জন্য, শ্রমিকের জন্য ও উদ্যোক্তাদের জন্য কোন বাংলাদেশ চাই।দলীয় নির্বাচনী ইশতেহারের বিষয় উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, আমাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ তৈরির জন্য ৫টি বিষয়ে ‘হ্যাঁ’ এবং ৫টি বিষয়ে ‘না’ বলতে হবে। সততা, ঐক্য, ইনসাফ, দক্ষতা ও কর্মসংস্থানকে আমরা ‘হ্যাঁ’ বলতে বলেছি। কারণ এসব মৌলিক শর্ত ছাড়া বৈষম্যহীন, উন্নত ও নৈতিক মানসম্পন্ন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। পাশাপাশি দুর্নীতি, ফ্যাসিবাদ, আধিপত্যবাদ, বেকারত্ব ও চাঁদাবাজিকে স্পষ্ট করে ‘না’ বলতে হবে।এমআর-২
    ‘আমরা গ্যাসের খনি আবিষ্কার করে ঘরে ঘরে পৌঁছে দেব’
    বাংলাদেশে প্রচুর গ্যাস আছে। আমরা ইনশাআল্লাহ গ্যাসের খনি আবিষ্কার করব এবং সেই গ্যাস উত্তোলনের মাধ্যমে প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে দেব। আগের যে সরকার ছিল তারা বিদেশ থেকে গ্যাস নিয়ে আসত। কিন্তু দেশের ভেতরে নতুন গ্যাস খনি তারা বের করেনি বলে জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।সোমবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর শহীদ ফারুক রোডে ঢাকা-৫ আসনের নির্বাচনী প্রচারণা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, বিগত এক যুগের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের মানুষ তাদের ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। গত এক যুগের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের মানুষ বঞ্চিত ছিল তাদের মানবিকতা থেকে। আজ বাংলাদেশের মানুষ প্রাণ খুলে কথা বলতে পারছে, তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করতে পারছে। আজ বাংলাদেশের মানুষ তাদের রাজনৈতিক অধিকার তথা ভোটের অধিকার প্রয়োগ করতে চলেছে।তিনি বলেন, বিগত ১৬ বছর ধরে যারা বাংলাদেশের জনগণের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, তাদের সহযোগীরা কিন্তু ভেতরে ভেতরে ষড়যন্ত্র করছে। পত্রিকার পাতায় আপনারা দেখেছেন, তাদের লোকজন নকল সিল বানাতে গিয়ে ধরা পড়েছে।ঢাকা-৫ আসনের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তারেক রহমা বলেন, আপনাদের সতর্ক থাকতে হবে, সজাগ থাকতে হবে। এই রকম করার দুঃসাহস কেউ যেন না দেখাতে পারে। ভোটকেন্দ্রে আপনারা ফজরের নামাজ আদায় করেই দাঁড়িয়ে যাবেন, যাতে কেউ ষড়যন্ত্র করে কিছু করতে না পারে। শুধু ভোট দিলেই চলবে না; ভোট দিয়ে চলে আসবেন না, বরং ভোটের ফল বুঝে নিয়ে আসবেন। হিসাব বরাবর বুঝে নিয়ে আসবেন। পারবেন তো?দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে হবে মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, আমরা দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে পারব। আমরা দেখেছি ১৬ বছরে কীভাবে দুর্নীতি করে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার পাচার করে দেওয়া হয়েছে। বিএনপি দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা রাখে। ২০০১ সালে বেগম খালেদা জিয়া যখন দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন, তখন বাংলাদেশের কপালে দুর্নীতির কালো তিলক ছিল। ২০০৬ সালে যখন তিনি ক্ষমতা হস্তান্তর করলেন, এই পাঁচ বছর কঠোর পরিশ্রম এবং সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে খালেদা জিয়া বাংলাদেশকে দুর্নীতিমুক্ত করেছিলেন।এমআর-২
    ভোটের দিন সবার মোবাইল প্রস্তুত রাখার আহ্বান নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর
    আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের দিন সবার মোবাইল প্রস্তুত রাখতে বলেছেন ঢাকা-৮ আসনে 'ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ জোট' মনোনীত প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, আগামী ১২ তারিখ আপনারা সবাই সকাল সকাল ভোট কেন্দ্রে যাবেন। আপনাদের একেকটি মোবাইল একেকটি টিভি স্টেশনের ভূমিকা পালন করবে।সোমবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর পাদদেশে নির্বাচনী গণমিছিল শুরুর আগে তিনি এ কথা বলেন।নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে রুদ্ধ করার জন্য অনেক প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে। আমাদের মা বোনদের পেটে লাথি মারা হয়েছে, কাউকে দা দিয়ে কোপ দেওয়া হয়েছে। কারো মাথায় পাথর নিক্ষেপ করা হয়েছে, কারো বোরকা ধরে টান দেওয়া হয়েছে, কাউকে খুন করা হয়েছে। আজকেও আমাদের নির্বাচনী একটি ক্যাম্পে চাপাতি ছুরি দিয়ে চারজন ভাইকে আহত করে তারা পালিয়ে গেছে।তিনি বলেন, আগামী ১২ তারিখ এগারো দলীয় জোটের নেতৃত্বে জামায়াতের কোনো সরকার হবে না। এনসিপির সরকার হবে না। বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের সরকার গঠন হবে বাংলাদেশে। একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ হবে। যেখানে আপনার সন্তান নিরাপদ থাকবে। আপনার সন্তান ভালো শিক্ষা ব্যবস্থা পাবে। আপনার আব্বু-আম্মু ভালো একটি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পাবে। আপনারা জানেন আমরা ১১ দলীয় জোট গঠন করেছি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য। আধিপত্যবাদ থেকে মুক্ত হয়ে ভারতের চোখে চোখ রাখার জন্য। আমরা বলতে চাই বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের জীবন যাবে, তবুও এক সেকেন্ডের জন্য ভারতের বিজেপির কাছে আমরা মাথা নত করব না। এখানে ইসলামকে রক্ষার জন্য, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য আজাদির এই লড়াই চলছে, চলবে। আমরা যতদিন জীবিত আছি ইনসাফের রাজত্ব কায়েম করবোই করবো।এমআর-২
    ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের নির্বাচন: তারেক রহমান
    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের নির্বাচন বলে আখ্যায়িত করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, এই নির্বাচনে ভোট দেওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষ তার রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত করবে। এই নির্বাচন সেই নির্বাচন, যেই নির্বাচনের জন্য বিগত ১৬ বছর ধরে বাংলাদেশের মানুষ অপেক্ষা করেছে। এই নির্বাচন মানুষের রাজনৈতিক অধিকার, ভোটের অধিকারের নির্বাচন। আজ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডি কলাবাগান মাঠে ঢাকা-১০ আসনের নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।জনসভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা-১০ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শেখ রবিউল আলম রবি। তারেক রহমান বলেন, বিগত ১৬ বছর নির্বাচনের নামে আমরা তামাশা দেখেছি। আপনারা কেউ সেই নির্বাচনগুলোতে ভোট দিতে পেরেছেন? বাংলাদেশে কেউ ভোট দিতে সক্ষম হয়নি। আজ সেই নির্বাচনের সময় এসেছে, যে নির্বাচনে বাংলাদেশের মানুষ ভোট দিতে পারবে।তিনি বলেন, এই নির্বাচনে ভোট দেওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষ তার রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত করবে। কিন্তু শুধু রাজনৈতিক অধিকার না, এই নির্বাচন হতে হবে দেশ গঠনের নির্বাচন। এই নির্বাচন হতে হবে বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের নির্বাচন।বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, যদি আমরা অন্যের বিরুদ্ধে শুধু বলে যাই তাতে কি জনগণ বা দেশের কোনো লাভ হবে? জনগণের লাভ হবে না। জনগণ বা দেশের কিভাবে লাভ হবে? যখন জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কোনো পরিকল্পনা থাকবে, কর্মসূচি থাকবে, একটি রাজনৈতিক দলের এবং সে যখন সেই কর্মসূচি এবং পরিকল্পনা জনগণের সামনে তুলে ধরবে এবং জনগণ সেটি বিবেচনা করে তাকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেবে, তারপরে যখন জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে। তখনই জনগণের লাভ হবে। তাইতো নাকি?তিনি বলেন, এই মুহূর্তে বাংলাদেশে যেসব রাজনৈতিক দল আছে তার মধ্যে আপনারা চিন্তা করে দেখুন, বাংলাদেশের মধ্যে একমাত্র এই মুহূর্তে বিএনপি বাংলাদেশের একমাত্র দল, তারাই কিন্তু বাংলাদেশের নারীদের কীভাবে সফল করে গড়ে তুলতে চায়, কীভাবে তাদেরকে শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে চায়। সেই কর্মসূচি এবং পরিকল্পনা আছে শুধুমাত্র বিএনপির কাছেই। বিএনপি একমাত্র রাজনৈতিক দল যাদের পরিকল্পনা আছে এই দেশের তরুণদেরকে এই দেশের যুবকদেরকে যারা বিশেষ করে বেকার আছে বা কর্মসংস্থানের অভাব আছে তাদেরকে কীভাবে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মানুষে পরিণত করে তাদেরকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিতে পারবে।বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ উল্লেখ করে তার রহমান বলেন, আমাদের কোটি কোটি মানুষ কৃষি পেশার সঙ্গে জড়িত নারী পুরুষ সবাই। এখানে আপনারা যারা আজ উপস্থিত আছেন। আপনাদের অনেকের পরিবার পরিজন আত্মীয়-স্বজন গ্রামে বসবাস করে এবং তাদের মধ্যে অনেকেই কৃষির সঙ্গে জড়িত। তাই নয় কি? আপনারা হয়তো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অনেকভাবে কৃষির সঙ্গে জড়িত। আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছি এই মুহূর্তে বিএনপির একমাত্র পরিকল্পনা আছে কীভাবে কৃষকদেরকে কৃষি কার্ড দেওয়ার মাধ্যমে তাদের পাশে দাঁড়াবে। ঠিক যেভাবে আমরা বাংলাদেশের সব মায়েদের পাশে ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে দাঁড়াবো।আমরা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করব জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, গ্রামের সব জায়গায় মানুষকে তারা চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেবে। এর মাধ্যমে এক লাখ মানুষের যখন কর্মসংস্থান হবে। ঠিক একইভাবে এরা মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্য সেবাও পৌঁছে দেবে। বিএনপির পরিকল্পনা আছে এই দেশের ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব যারা বিভিন্ন মসজিদ মাদ্রাসার ইমাম, ফকির সাহেব যারা বিভিন্ন ধর্মীয় গুরু যারা আছেন, তারা মানবতার জীবনযাপন করেন। এই মানুষগুলোর ব্যাপারেও আমরা চিন্তাভাবনা করেছি যে তাদেরকে আমরা সরকারের পক্ষ থেকে একটি সম্মানের ব্যবস্থা করব যাতে করে তারা একটি সম্মানজনক জীবন যাপন করতে পারে। তিনি বলেন, বিগত ১৬ বছরে বহু মেগা প্রজেক্ট হয়েছে এবং মেগা প্রজেক্ট মানেই মেগা দুর্নীতি হয়েছে। কিন্তু মানুষের ভাগ্যে পরিবর্তন হয়নি। আমাদের গ্রামগঞ্জসহ সব জায়গায় হাসপাতালগুলোতে গেলে ওষুধ পাওয়া যায় না। ডাক্তার পাওয়া যায় না। স্কুল কলেজগুলো ভেঙে পড়েছে। রাস্তাঘাট ভেঙে নষ্ট হয়ে গেছে। এরকম আরো অনেক সমস্যা আছে। আসুন আমাদেরকে এখন এই পরিবর্তন করতে হবে। পৃথিবীর বহু দেশ ছিল। যেই দেশগুলোর অবস্থা বাংলাদেশ থেকে খারাপ ছিল। কিন্তু তারা পরিশ্রম করেছে। পরিশ্রম করার মাধ্যমে তারা তাদের দেশের অবস্থা মানুষের ভাগ্যের অবস্থান পরিবর্তন করেছে। তারা যদি পারে আমরা কেন পারবো না। ইনশাল্লাহ বাংলাদেশও পারবে, বাংলাদেশের মানুষও পারবে, দেশকে পুনর্গঠন করতে।নির্বাচন সম্পর্কে আমাদেরকে সজাগ থাকতে হবে মন্তব্য করে বিএনপির প্রধান বলেন, নির্বাচন নিয়ে কিন্তু একটি মহল ষড়যন্ত্র শুরু করেছে, পত্রিকার পাতায় আমি সেই খবর দেখেছি। বিভিন্নভাবে তাদের লোকজন বিভিন্ন মানুষটিকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে মা বোনদেরকে নিয়ে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, যে প্রতিশ্রুতিটা বায়বীয় প্রতিশ্রুতি। আমরা বিএনপি জনগণের সামনে সেই প্রতিশ্রুতি করতে চাই যে প্রতিশ্রুতি মানুষের পক্ষে বাস্তবায়ন করা সম্ভব। আমরা এমন কোনো প্রতিশ্রুতি করতে চাই না, যা মানুষের স্বার্থের বাইরে। তিনি বলেন, আমরা দেখেছি একটি মহল তাদের নেতাকর্মীরা ধরা পড়েছে নকল ব্যালটের সিল বানাতে গিয়ে। কাজেই আজকে ঢাকাসহ সব গণতন্ত্রী মানুষকে আজকে সতর্ক থাকতে হবে। সজাগ থাকতে হবে।ঢাকা-১০ আসনের জনগণের সঙ্গে কিন্তু আমার আত্মীয়তার সম্পর্ক আছে মন্তব্য করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, এই আসনে আমাদের ধানের শীষের প্রার্থী করেছি রবিকে। রবি তার বক্তব্যে একটু আগে এলাকার অনেক সমস্যার বিষয়ে তুলে ধরেছে। একটু আগে আপনাদের সবার সামনে বলেছে কীভাবে রবি নির্বাচিত হলে এই এলাকার সমস্যার সমাধান করবে, মানুষের সমস্যার সমাধান করবে। ইনশাল্লাহ, রবির সঙ্গে আজকে আমিও আপনাদেরকে বলে যাচ্ছি, ইনশাল্লাহ এই ঢাকা থেকে ধানশীষ নির্বাচিত হলে এবং বিএনপি সরকার গঠন করলে রবি এলাকার মানুষের সামনে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য আমিও কাজ করব।এইচএ

    দেশজুড়ে

    সব দেখুন
    স্থানীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষকেরা অবহেলার শিকার, ইসির উদাসীনতায় হতাশ ইওএস
    বিদেশি পর্যবেক্ষকদের জন্য পাঁচ তারকা হোটেল, গাড়ি ও আনুষঙ্গিক সব সুবিধা নিশ্চিত করা হলেও, নিজ দেশের ৫৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবী পর্যবেক্ষকের ন্যূনতম থাকা–খাওয়ার ব্যয় দিতেও অনাগ্রহ দেখাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির এমন উদাসীনতায় হতাশা প্রকাশ করে অভিযোগ তুলেছে ইলেকশন অবজার্ভার সোসাইটি (ইওএস)।শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬: দেশব্যাপী সার্বিক অবস্থা ও স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের অবস্থান’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান সংগঠনটির নেতারা।সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন ইওএস সভাপতি মো. ইকবাল হোসেন হীরা। তিনি বলেন, “নির্বাচনে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের থাকা–খাওয়ার জন্য কমিশন পাঁচ তারকা হোটেলের ব্যবস্থা করলেও স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের বিষয়ে কমিশনের কোনো আগ্রহ নেই। বিষয়টি অত্যন্ত হতাশাজনক।”তিনি জানান, এবারের নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী অধিকাংশ স্থানীয় পর্যবেক্ষক প্রথমবারের মতো মাঠে কাজ করবেন এবং তারা সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবী ভিত্তিতে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার করেছেন।ইওএস সভাপতি বলেন, “আমরা কোনো রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে থাকা–খাওয়া কিংবা আর্থিক সহায়তা নিচ্ছি না। অতীতে দলীয় অর্থায়নে পর্যবেক্ষণ করে অনেকেই পক্ষপাতদুষ্ট প্রতিবেদন দিয়েছেন, আমরা সেই পথ এড়াতে চাই।”তিনি আরও বলেন, ইসির কাছে নির্বাচনকালীন মাত্র তিন দিনের থাকা–খাওয়ার খরচ চাওয়াটাও তাদের জন্য লজ্জার, তবে নিরপেক্ষতা রক্ষার স্বার্থে রাজনৈতিক দলের সহায়তা নেওয়া সম্ভব নয়।ইওএস সভাপতি অভিযোগ করে বলেন, সংগঠনের পক্ষে বিপুলসংখ্যক পর্যবেক্ষকের ন্যূনতম ব্যয় বহন করা সম্ভব নয় জানালেও কমিশন থেকে বলা হয়েছে,“আপনাদের পর্যবেক্ষক হিসেবে থাকার প্রয়োজন নেই।”সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশব্যাপী প্রায় ৪২ হাজার ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৬ হাজার ৯৯৫টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা জেলাতেই ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা ১০৩টি। এসব তথ্য মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষকদের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানানো হয়।ইওএস জানায়, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলো বিপুল ব্যয় করলেও ৫৫ হাজার পর্যবেক্ষকের মাত্র তিন দিনের খাবার ও যাতায়াত খরচের বিষয়ে বারবার আহ্বান জানানো সত্ত্বেও কমিশন কোনো সাড়া দেয়নি।সংগঠনটি আরও জানায়, দাবির পক্ষে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হলেও কমিশনের পক্ষ থেকে আলোচনার জন্য কোনো প্রতিনিধি পাঠানো হয়নি, এমনকি স্মারকলিপিও গ্রহণ করা হয়নি।তবে এই পরিস্থিতিতে পর্যবেক্ষক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও, দেশব্যাপী সাধারণ মানুষের নির্বাচনী প্রত্যাশা ও জাতীয় স্থিতিশীলতার স্বার্থে আপাতত সে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়নি বলে জানানো হয়।নির্বাচনী পরিচয়পত্র ইস্যু নিয়েও পর্যবেক্ষকদের ভোগান্তির কথা তুলে ধরে ইওএস জানায়, কখনো অনলাইন, কখনো অফলাইন পদ্ধতিতে সিদ্ধান্ত বদলের কারণে অনেক জেলা এখনো পরিচয়পত্র পেতে বিলম্ব ও জটিলতার মুখে পড়ছে।সংবাদ সম্মেলনে ইওএস গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলে, ৫৫ হাজার পর্যবেক্ষকের থাকা–খাওয়ার অর্থায়ন কীভাবে হবে এবং এর দায় কমিশনের কি না—সে প্রশ্নটি গণমাধ্যমে জোরালোভাবে তুলে ধরা জরুরি।সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ইওএসের প্রধান সমন্বয়কারী শহীদুল ইসলাম আপ্পি, সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন আমীন, সিনিয়র সহ-সভাপতি ফেরদৌস আহমেদ, সহ-সভাপতি বশির আহমেদসহ কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা।ইখা
    নির্বাচন কমিশন দায়িত্বশীল আচরণ করছে না: মির্জা আব্বাস
    নির্বাচন কমিশন (ইনি) দায়িত্বশীল আচরণ করছে না বলে অভিযোগ করেছেন ঢাকা-৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাস। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর শান্তিনগর এলাকায় গণসংযোগকালে সাংবাদিকদের তিনি এ অভিযোগ করেন।মির্জা আব্বাস বলেন, নির্বাচন কমিশন দায়িত্বশীল আচরণ করছে না। এরইমধ্যে অনেকগুলো অভিযোগ করেছি। কিন্তু একটারও রেস্পন্স পাইনি। এটা খুব দুর্ভাগ্যজনক।ঢাকা-৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী বলেন, একটা বিশেষ দলের কথাবার্তা শুনে মনে হচ্ছে তারা নির্বাচন জিতে বসে আছে। এত বছর নির্বাচন করেছি, কিন্তু আমরা প্রেডিকশন করতে পারিনি যে আমরা জিতে গেছি, অথচ তারা পারে কীভাবে! জনগণ ঠিক করবে তারা কাকে ভোট দেবে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন তো হচ্ছে, সঙ্গে পক্ষপাতিত্ব হচ্ছে। এই পক্ষপাতিত্ব খুব খারাপ। একটা ভুয়া ফলাফল নিয়ে তারা সংসদে যাবে? এটা তো হতে পারে না। তিনি আরও বলেন, ভোটারদের অনুরোধ জানাবো তারা যেনো সব চক্রান্তের জাল ছিঁড়ে ইলেকশনের দিন যথাযথভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে।ইখা
    নতুন ঘোষণা দিয়ে শাহবাগ ছাড়ল ইনকিলাব মঞ্চ
    নতুন ঘোষণা দিয়ে শাহবাগ ছেড়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীরা। বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে শাহবাগ ছাড়েন তারা।এ সময় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব জাবেরের নির্দেশনা অনুযায়ী, কর্মীদের ঘরে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান সংগঠনটির এক নেতা। তিনি বলেন, ‘ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) নতুন কর্মসূচি ঘোষণা দেওয়া হবে। সেই ঘোষণা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’এসময় ডাকসুর দুই নেতা এবি জুবাইর ও মুসাদ্দেক আলী উপস্থিত ছিলেন।এর আগে ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়, ‘লীগ অ্যাক্টিভ হয়েছে। তারা সাধারণ জনতার সঙ্গে মিশে পরিস্থিতি অন্য দিকে প্রবাহের চেষ্টা করছে। সবাইকে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার অনুরোধ জানাল ইনকিলাব মঞ্চ শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচার এবং নির্বাচন বানচালের চেষ্টা চলছে। আপনাদের সবাইকে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো।’এনআই
    ‘লীগ এক্টিভ হয়েছে, সবাই নিরাপদ স্থানে চলে যান’
    চলমান বিক্ষোভের মধ্যেই নতুন বার্তা দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টা ১৩ মিনিটে ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পেজ থেকে এ-সংক্রান্ত পোস্ট দেওয়া হয়েছে।পোস্টে বলা হয়, ‘লীগ অ্যাক্টিভ হয়েছে। তারা সাধারণ জনতার সঙ্গে মিশে পরিস্থিতি অন্য দিকে প্রবাহের চেষ্টা করছে।শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচার এবং নির্বাচন বানচালের চেষ্টা চলছে। আপনাদের সবাইকে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো।’এদিকে, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহিদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে আন্দোলনরত নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। এসময় যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়।শুক্রবার বিকেল ৫টা থেকে শাহবাগে অবস্থান নেন ছাত্র-জনতা।এ সময় ‘ব্লকেড, ব্লকেড, শাহবাগ ব্লকেড’; ‘হাদি তোমায় দেখা যায়, ইনকিলাবের পতাকায়’; ‘কে বলেরে হাদি নাই, হাদি সারা বাংলায়’; ‘এক হাদি লোকান্তরে, লক্ষ হাদি ঘরে ঘরে’; ‘তুমি কে আমি কে, হাদি হাদি’; ‘তুমি কে আমি কে, জাবির জাবির’; ‘বাংলাদেশের জনগণ, নেমে আসুন, নেমে পড়ুন’সহ নানা স্লোগান দিতে দেখা যায়।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে রাজু ভাস্কর্য থেকে একটি মিছিল নিয়ে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেন। মিছিলটি শাহবাগে পৌঁছানোর পর তারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন।এনআই
    রাজধানীতে একই বাসা থেকে ৪ জনের লাশ উদ্ধার
    রাজধানীর মিরপুর-১১ নম্বর এলাকার ওয়াপদা বিহারী ক্যাম্প থেকে ২ শিশু সন্তান ও তাদের বাবা-মায়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, শিশু সন্তানদের হত্যার পর বাবা-মা আত্মহত্যা করেছেন।‎বৃহস্পতিবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে ওয়াপদা বিহারী ক্যাম্পের বি-ব্লক থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।‎নিহতরা হলেন- মোহাম্মদ মাসুম (৩৫), তার স্ত্রী ফাতেমা আক্তার সুমি (৩০), তাদের ৪ বছর বয়সী ছেলে মিনহাজ ও ২ বছর বয়সী ছেলে আসাদ।‎পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আজ সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে কোনো এক সময় তাদের মৃত্যু হয়েছে।‎স্থানীয়রা জানান, নিহত দম্পতি বিহারি ক্যাম্পের একটি টিনশেড বাসায় ভাড়া থাকতেন। স্বামী রিকশা চালাতেন এবং স্ত্রী বাসা-বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। এ পরিবার বিভিন্ন সমিতি থেকে ঋণ নিয়েছিল। প্রতিদিন কেউ না কেউ ঋণের কিস্তির জন্য বাসায় আসতো। হয়তো কোনো উপায় না পেয়ে পরিবারের শিশুদের নিয়ে স্বামী-স্ত্রী আত্মহত্যা করেছে।‎পল্লবী থানার ডিউটি অফিসার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) শাহীন আলম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহগুলো শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। এরপর আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো ম্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।এমআর-২
    ঝিনাইদহে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১
    ঝিনাইদহের মহেশপুরে নির্বাচনী মিছিল শেষে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় আসাদ (৩৫) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ৪ জন আহত হয়েছেন। নিহত আসাদ কুল্লাহ গ্রামের আনায়ারুল ইসলামের ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রবিবার বিকেলে মহেশপুরে নির্বাচনী সমাবেশ ও মিছিল শেষে নিহত আসাদসহ কয়েকজন পাওয়ার টিলারে করে নিজগ্রাম কুল্লাহে উদ্দেশে রওনা দেন। সন্ধ্যার দিকে উপজেলার ভৈরবা এলাকায় পৌচ্ছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি আলম সাধুর সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে আসাদসহ ৫ গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে মহেশপুর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সেখানে আসাদের অবস্থার অবনতি হলে রাত ১১টার দিকে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার ভোরে তার মৃত্যু হয়। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন মহেশপুর থানার ওসি মেহেদী হাসান।এনআই
    ‘চুয়াডাঙ্গাকে চাঁদাবাজ-সন্ত্রাস মুক্ত আধুনিক নগরী হিসাবে গড়ে তোলা হবে’
    চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য প্রার্থী শরীফুজ্জামান শরীফ বলেছেন, বিএনপি জয়ী হলে চুয়াডাঙ্গাকে মাদক, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাস মুক্ত আধুনিক নগরী হিসাবে গড়ে তোলা হবে। চুয়াডাঙ্গার মানুষ বিগত দিনের পরিক্ষীত বিএনপিকেই ভোট দিতে চায়। এর কারণ বিএনপির হাত ধরেই এদেশের কাঙ্খিত উন্নয়ন হয়েছে। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৫টায় স্থানীয় টাউন ফুটবল মাঠে জেলা বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট ওয়াহেদুজ্জামান বুলার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শরীফুজ্জামান শরীফ এ কথাগুলো বলেন।তিনি বলেন, আমি অথবা আমার কোন সহযোগী বা সহকর্মীর কাছ থেকে যদি কোন মানুষ কোন ধরনের কষ্ট পেয়ে থাকেন তাহলে আমি করজোড়ে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। চুয়াডাঙ্গায় আমরা একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করতে চাই। তিনি আরও বলেন, দেশ নায়ক তারেক রহমান আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে সরকার গঠন করতে পারলে কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ হবে এবং তারা কৃষি কার্ড পাবেন, প্রতিটি পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পাবে, দেশের নাগরিকদের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য কার্ড দেয়া হবে।জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সফিকুল ইসলাম পিটুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপি নেতা লে.কর্নেল (অবঃ) কামরুজ্জামান আজাদ,  খন্দকার আব্দুল জব্বার সোনা, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি, সাহেদুজ্জামান টরিক সিআইপি, জেলা জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক ও বাড়াদী ইউপি চেয়ারম্যান তবারক হোসেন।এমআর-২
    মোংলায় বিএনপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে জামায়াত প্রার্থীর সংবাদ সম্মেলন
    বাগেরহাট-৩ (রামপাল-মোংলা) আসনের বিএনপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচন উপলক্ষে একই সময় সভা ডাকা, আচরণবিধি লঙ্ঘন, উস্কানিমূলক বক্তব্য ও তার অনুসারীদের দ্বারা সহিংসতার সম্ভাবনার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে জামায়াতের প্রার্থী। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মোংলা প্রেস ক্লাব অডিটরিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন জামায়াতে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী এ্যাড. মাও: আব্দুল ওয়াদুদ।এ সময় তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে মোংলার হেলিপ্যাড মাঠে আমাদের শেষ নির্বাচনী জনসভার নির্ধারন করা ছিল। আর ধানের শীষ প্রতীকের রামপালে জনসভা করার কথা। কিন্ত সেই রামপালের সভা বন্ধ করে একই সময় আমাদের জনসভার মাত্র ২০০ গজ দুরে বিএনপি জনসভা আয়োজন করেছে। এতে দুই প্রার্থীর নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের সম্ভাবনা বলে আশংঙ্কা করছি। এছাড়াও বিএনপি প্রার্থীর লাগামহীন, উস্কানিমূলক ও মানহানিকর বক্তব্য, তাঁর অনুসারীদের সহিংস কর্মকাণ্ড নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।মোংলা-রামপালের বিভিন্ন এলাকায় জামায়াতের নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, কর্মসূচিতে বাধা প্রদানে চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবী করছেন তিনি।এছাড়া প্রতিপক্ষ প্রার্থীর লোকদের সন্ত্রাসী ও সহিংস কর্মকাণ্ড বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের অঙ্গীকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ও পেশাদার ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান জামায়াতের এ প্রার্থী।এসময় তিনি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিতে সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা কামনা করেন এবং গণমাধ্যমের মাধ্যমে জনগণের কাছে সত্য ও বাস্তব তথ্য তুলে ধরার আহ্বান জানান।সভায় উপজেলা জামায়াতে আমীর মাওলানা আবু হানিফ মল্লিক, নায়েবে আমীর ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোঃ কোহিনুর সরদার, পৌর জামায়াতের আমীর এম, এ বারি, সেক্রেটারি এ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন, পৌর নায়েবে আমীর মাওলানা মনিরুজ্জামান, শুরা ও কর্ম পরিষদ সদস্য মোঃ আনিসুর রহমান, উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সেক্রেটারি জহির উদ্দিন বাবর, পৌর যুব জামায়াতের সভাপতি মোস্তাইন মোল্লাসহ উপজেলা ও পৌর জামায়াতের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী এবং সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।এসআর
    জীবননগরে পাট বোঝাই ট্রাকে আগুন, ব্যবসায়ীর সাড়ে ১৩ লাখ টাকার ক্ষতি
    জীবননগর উপজেলার উথলী বাজারে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে পাট বোঝাই ট্রাকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে ব্যবসায়ীর প্রায় সাড়ে ১৩ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে।সোমবার (৯ জানুয়ারি) দুপুর ১২ টার দিকে উথলী বাজারের কলিমউদ্দিনের গোডাউনের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ট্রাক চালকের বুদ্ধিমত্তা ও স্থানীয়দের প্রচেষ্টায় বড় দূর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাই আশপাশের ব্যবসায়ীরা।স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, সোমবার দুপুর ১২ টার দিকে শ্রমিকরা গোডাউন থেকে ট্রাকে পাট উঠাচ্ছিলো। এসময় অসাবধানতা বসত পাটের একটি আটি বৈদ্যুতিক সাইড লাইনের তারে লেগে মেইন তারে স্পর্শ করে। এতে মূহুর্তের মধ্যে ট্রাকের উপরে থাকা পাটে আগুন ধরে যায়। আগুন চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের ব্যবসায়ীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।সেই অবস্থায় চালক ট্রাকটি চালিয়ে ফাঁকা স্থানে নিয় আসে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সেনেরহুদা গ্রামের যুব সমাজের উদ্যোগে ১ ঘন্টা প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে আশপাশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ও ট্রাকে বড় ধরনের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা ছিলো।ফায়ারসার্ভিসের কর্মিদের আসার পূর্বেই এলাকাবাসীর প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।গোডাউনের মালিক কলিম উদ্দিন বলেন, ট্রাকে পাট লোড করার সময় দূর্ঘটনাবসত অগ্নি কান্ডের ঘটনা ঘটে।সবার প্রচেষ্টায় দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও পাটগুলো পুড়ে শেষ হয়ে গেছে। এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ব্যবসায়ীর সাড়ে ১৩ লক্ষ টাকা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান।অগ্নিকাণ্ডের খবর শুনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন উথলী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জহুরুল হক ঝন্টু, ইউপি সদস্য আরমান আলীসহ স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।উথলী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জহুরুল হক ঝন্টু বলেন, আগুনে ব্যবসায়ীর প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এসআর
    নড়াইল-২ আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা
    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনের আর মাত্র দুই দিন বাকি। নড়াইল-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এ জেড এম ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী আতাউর রহমান বাচ্চু ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মনিরুল ইসলামের মধ্যে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তিন প্রার্থীই নিজ নিজ কৌশলে প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তারা। সভা-সমাবেশে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি চলছে একে অপরের সমালোচনা। যদিও মাঠে আরও কয়েকজন প্রার্থী রয়েছেন, তাদের প্রচারণা তেমন চোখে পড়ছে না বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।স্থানীয় ভোটারদের ধারণা,“নড়াইল-২ আসনটি দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসাবে পরিচিত। প্রতিটি নির্বাচনে এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা এ আসনে বেশি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তবে এবার রাজনৈতিক সমীকরণ ভিন্ন রূপ নিচ্ছে এবং ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এ আসনে বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন, জাতীয় পাটি ও স্বতন্ত্রসহ মোট ৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই-বাচাই শেষে ৯ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হলেও খেলাফত মজলিসের মনোনীত প্রার্থী মাওলানা আব্দুল হান্নান সরদার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করায় বর্তমানে ৮জন প্রার্থী নির্বাচনের মাঠে রয়েছেন।”বর্তমানে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এ জেড এম ফরিদুজ্জামান ফরহাদ (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী আতাউর রহমান বাচ্চু (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলনের মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা তাজুল ইসলাম (হাতপাখা), জাতীয় পাটির প্রার্থী খন্দকার ফায়েকুজ্জামান ফিরোজ (লাঙ্গল), গণ অধিকার পরিষদের (জিওপি) মনোনীত প্রার্থী লায়ন নূর ইসলাম (ট্রাক), বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট মো. শোয়েব আলী (ছড়ি), স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক সদ্য বহিষ্কৃত মো. মনিরুল ইসলাম (কলস), মোছা. ফরিদা ইয়াসমিন (জাহাজ) প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।নড়াইল-২ আসনের নির্বাচনী ইতিহাস ১৯৮৬ সালে নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টির প্রার্থী। ১৯৯১ সালে নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী, ১৯৯৬ সালে বিজয়ের হাসি হাসে বিএনপি। ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন শেখ হাসিনা। তবে আসনটি ছেড়ে দিলে উপনির্বাচনে জয় পায় বিএনপি। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী, ২০১৪ সালে নির্বাচিত হন জোটসঙ্গী ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী হাফিজুর রহমান। এরপরের দুইটি নির্বাচনেও জয় ধরে রাখে দলটি। আর সর্বশেষ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মাশরাফি বিন মোর্ত্তজা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।লোহাগড়া উপজেলা ও নড়াইল সদর উপজেলার (আংশিক) দুটি পৌরসভা এবং ২০টি ইউনিয়ন নিয়ে নড়াইল-২ আসন গঠিত। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮৬ হাজার ১৬৪ জন। পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯০ হাজার ১২৮ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৯৬ হাজার ৩২, তৃতীয় লিঙ্গ ভোটার ৪ জন। এর মধ্যে লোহাগড়া উপজেলার ২ লাখ ২০ হাজার ৬১৬ জন এবং নড়াইল সদর উপজেলার (আংশিক) এলাকায় ১ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৮ জন। লোহাগড়া উপজেলার পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯ হাজার ১৯১ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ১১ হাজার ৪২৩, তৃতীয় লিঙ্গ ভোটার ২ জন। নড়াইল সদর উপজেলার (আংশিক) পুরুষ ভোটার ৮০ হাজার ৯৩৭ জন, নারী ভোটার ৮৪ হাজার ৬০৯, তৃতীয় লিঙ্গ ভোটার ২ জন।ভোটারদের মতে, “ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা ও কলস প্রতীকের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হবে। সাধারণ ভোটার, আওয়ামী লীগে সমর্থক, হিন্দু সম্প্রদায় ও তরুণ ভোটারদের ভোট যে প্রার্থীর দিকে যাবে, তার জয় অনেকটাই সহজ হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তবে শেষ সময়ে ভোটারদের মধ্যে চলছে ভোটের হিসাব-নিকাশ। সাধারণ মানুষ চাইছেন এমন একজন জনপ্রতিনিধি, যিনি জনগণের পাশে থাকবেন এবং এলাকার উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নড়াইল-২ আসনে এবারের নির্বাচন বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হতে যাচ্ছে। এখন অপেক্ষা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে কার পক্ষে ব্যালট ভারী হয়।”এসআর
    গুম করা হয়েছিল হত্যার উদ্দেশ্যে, নতুন জীবন মানুষের সেবায়: সালাহউদ্দিন আহমদ
    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, “আমার বেঁচে থাকার কথা ছিল না, আমাকে গুম করা হয়েছিল হত্যার উদ্দেশ্যে। আপনারা দোয়া করেছেন, রাব্বুল আলামিন আপনাদের মোনাজাত শুনেছেন এবং আমাকে বাঁচিয়ে রেখে নতুন জীবন দিয়েছেন। আমার এই নতুন জীবন, আমার এই বর্ধিত হায়াত এদেশের মানুষের সেবা করার জন্য। আমার জন্ম হয়েছে এদেশের উন্নয়নের জন্য, স্বাধীনতা রক্ষার জন্য।”সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কক্সবাজারের চকরিয়া পৌর এলাকার বাস টার্মিনাল চত্বরে আয়োজিত শেষ নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।কক্সবাজার-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, “আমাদের সন্তানেরা রক্ত দিয়ে শহীদ হয়েছেন একটি বৈষম্যমুক্ত রাষ্ট্রের জন্য, গণতান্ত্রিক সংস্কারের জন্য। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমরা এমন একটি বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চাই, যেখানে ভোটাধিকারের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য আর কোনো মানুষকে জীবন দিতে হবে না।”ধানের শীষে ভোট চেয়ে তিনি বলেন, “বিএনপির ইতিহাস এদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ইতিহাস, বারেবারে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের ইতিহাস। আগামী ১২ তারিখ আপনারা সবাই নির্ভয়ে ধানের শীষে ভোট দেবেন; ফলাফল না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্র ত্যাগ করবেন না। ইনশাআল্লাহ জনগণের বিজয় হবে, কারণ বিএনপির সরকার মানেই জনগণের সরকার।”শেষ জনসভায় চকরিয়া ও পেকুয়ার প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে আগত বিএনপির নেতাকর্মী ও ধানের শীষের সমর্থকদের অংশগ্রহণে জনসমুদ্রের সৃষ্টি হয়। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এতে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটেছে।চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হকের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবেক সংসদ সদস্য ও সালাহউদ্দিন আহমদের সহধর্মিণী হাসিনা আহমদ, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না ও বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।এনআই
    নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মেঘনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত, চারজনকে জরিমানা
    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও অবৈধ যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় ফিটনেসবিহীন ও অবৈধ মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে।সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার ভাওরখোলা এলাকার কদমতলা বাসস্ট্যান্ডে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অমৃতা শারলীন রাজ্জাক এ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে মেঘনা থানা পুলিশ সহযোগিতা করে।অভিযান সূত্রে জানা যায়, সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮-এর ৬৬ ধারার আওতায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও বৈধ লাইসেন্স না থাকায় চারজন মোটরসাইকেল চালককে দণ্ডিত করা হয়। মামলার শুনানি শেষে প্রত্যেককে ১ হাজার টাকা করে মোট ৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অমৃতা শারলীন রাজ্জাক বলেন, “সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা এবং আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।”এনআই
    রায়পুরে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষের পর উত্তেজনা প্রশমনে যৌথ সংবাদ সম্মেলন
    লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার ৬ নম্বর কেরোয়া ইউনিয়নে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘর্ষের ঘটনার পর উত্তেজনা প্রশমনে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেছে দুই দল।সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টায় রায়পুর পৌর শহরের ‘ফুডল্যান্ড চাইনিজ রেস্টুরেন্ট’-এ এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত রবিবার কেরোয়া ইউনিয়নের মালিবাড়ি এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর রায়পুর থানার ওসি শাহীন মিয়ার উপস্থিতিতে উভয় পক্ষ আলোচনায় বসে এবং শান্তিপূর্ণ সমঝোতায় পৌঁছায়। সমঝোতার অংশ হিসেবে ভবিষ্যতে এ ধরনের সংঘর্ষ ও সহিংস কর্মকাণ্ড এড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ ঘটনায় কোনো পক্ষই মামলা করেনি বলেও সংবাদ সম্মেলনে নিশ্চিত করা হয়েছে।সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি দুলাল মোল্লা ও ইউনিয়ন জামায়াতের আমির হাফেজ দেলোয়ার হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন মৃধা, ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মুহাম্মদ ইউনুস, ইউনিয়ন বিএনপির সেক্রেটারি আলমগীর হোসেন আলোসহ উভয় দলের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।বক্তারা বলেন, “রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা সবার দায়িত্ব। জনগণের স্বার্থে সহিংসতা পরিহার করে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করছি।” তাঁরা আরও বলেন, ভবিষ্যতে যেকোনো রাজনৈতিক বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে এবং এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।স্থানীয় সূত্র জানায়, সংঘর্ষের ঘটনায় কিছু সময়ের জন্য এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করলেও পুলিশ ও স্থানীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।এনআই
    লক্ষ্মীপুরে গণমিছিলে এসে বিএনপি-জামায়াতের দুই কর্মীর মৃত্যু
    লক্ষ্মীপুরে বিএনপি-জামায়াত ইসলামীর ডাকা পৃথক নির্বাচনী গণমিছিলে এসে আব্দুস সহিদ (৪৮) ও ওবায়দুল হক (৫০) নামে দুজন মারা গেছেন। এর মধ্যে আবদুস সহিদ জামায়াতে কর্মী ও ওবায়দুল হক বিএনপির কর্মী বলে জানিয়েছেন সংগঠন দুটির নেতাকর্মীরা। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) অরুপ পাল তাদের দুইজনের মৃত্যুর বিষয় নিশ্চিত করেছেন।হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাদের মৃত্যু হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।জামায়াত কর্মী আবদুস সহিদ লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর বাঞ্চানগর এলাকার বাসিন্দা ও অপর বিএনপি কর্মী ওবায়দুল হক একই এলাকার আব্দুল মুনাফের ছেলে।প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, বিকেলে জেলা শহরে লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী রেজাউল করিমের গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়। জামায়াতের নেতাকর্মীর সাথে আবদুস সহিদ মিছিলে আসার পথে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে হাসপাতালে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া সন্ধ্যায় একই আসনের বিএনপির প্রার্থী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির গণমিছিল হয়। এতে বিএনপি কর্মী ওবায়দুল হক অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে ওবায়দুল হককে হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মহসিন কবির মুরাদ গণমাধ্যমকে বলেন, সহিদ মিছিলে আসার পরে অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করছি।লক্ষ্মীপুর পৌর বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম লিটন গণমাধ্যমকে বলেন, ওবায়দুল আমাদের দলের কর্মী। সে নেতাকর্মীদের সঙ্গে মিছিলে অংশগ্রহণ করেছিল। একপর্যায়ে অসুস্থ হয়ে সে মারা যায়। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করছি।লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আরএমও অরুপ পাল বলেন, আলাদা দুই ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। আসার পথেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। তারা হৃদযন্ত্রের ক্রীড়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন।সদর থানার ওসি মো. ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, দুইজনের মৃত্যুর বিষয়টি শুনেছি; এটি মর্মান্তিক বিষয়। বিষয়টি খোঁজ দেখছি  ।এনআই
    ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা, ৪ বাংলাদেশি আটক
    ফেনীর পরশুরাম সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টাকালে ৪ বাংলাদেশি যুবককে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে বিজিবির ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে।আটককৃতরা হলেন- হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচরের মোকলেছের ছেলে মো. নোমান (৩৫), একই জেলার সদর উপজেলার পউল গ্রামের মো. জোবেদ আলীর ছেলে মো. ইবাদুর রহমান সুজন (২০), খেনু মিয়ার ছেলে মো. ইমন মিয়া (১৯) ও আব্দুল মতিনের ছেলে মো. পারভেজ (৩০)। তারা পর্তুগাল অ্যাম্বাসিতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করছিল।সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানা যায়, রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে জেলার পরশুরাম উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের পূর্ব জাঙ্গালিয়া এলাকা থেকে স্থানীয় জনসাধারণের সহায়তায় বিজিবি ও পুলিশের অভিযানে অবৈধ প্রবেশের চেষ্টাকালে চার বাংলাদেশিকে আটক করা হয়েছে।প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আটককৃতরা পর্তুগাল অ্যাম্বাসিতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করছিল। পরবর্তীতে পাসপোর্ট ও ভিসা ব্যতীত অবৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টার অপরাধে বিধি মোতাবেক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের পরশুরাম মডেল থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।বিজিবির ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, বিজিবি সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ, অস্ত্র উদ্ধার, মাদক, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং নিয়মিত জনসচেতনামূলক সভার মাধ্যমে স্থানীয় জনসাধারণকে সচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এছাড়া নির্বাচন চলাকালীন দুষ্কৃতিকারীরা যেন দেশের শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে অস্থিতিশীল করতে না পারে সেই লক্ষ্যে বিজিবি সর্বদা কাজ করে যাচ্ছে।এনআই
    তারেক রহমানকে বিতাড়িত করার ষড়যন্ত্র হচ্ছে: আব্দুস সালাম পিন্টু
    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক উপমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু বলেছেন, “দলের নেতা তারেক রহমানকে বিতাড়িত করার জন্য আজকেও ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আমাদের দেশ নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে।”সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ভূঞাপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা ও পৌর বিএনপি আয়োজিত নির্বাচনী শেষ জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।আব্দুস সালাম পিন্টু বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচিত হওয়ার পর শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন করেছেন, রাস্তাঘাট গড়ে তুলেছেন, যমুনা সেতু তৈরি করেছেন। তিনি ছিলেন একমাত্র নেত্রী যিনি বলেছিলেন— বিদেশে আমার কোনো প্রভু নাই, বাংলাদেশের মানুষ কারো দাসত্ব স্বীকার করে দেশ চালাবে না। অবশেষে চক্রান্ত করে তাঁকে জেলে রাখা হয়েছে।”তিনি আরও বলেন, “বেগম জিয়াকে সপরিবারে বিদেশে গিয়ে থাকতে বলা হয়েছিল, কিন্তু তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন— বিদেশে তাঁর কোনো সম্পদ নাই, তিনি দেশের জনগণের সাথে এই দেশেই থাকতে চান।”আব্দুস সালাম পিন্টু সতর্ক করে বলেন, “এখনো একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে। তারা জানে বিএনপি ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াবে। সেই কারণেই বাংলাদেশের বিরুদ্ধে চক্রান্ত চলছে। নির্বাচন বন্ধ করার পায়তারা করা হয়েছিল। এই ষড়যন্ত্র রুখে দিতে হবে। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশটাকে গড়ে তুলতে হবে।”টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর) আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সবার কাছে আগামী ১২ তারিখ ধানের শীষ প্রতীকে ভোট ও দোয়া প্রার্থনা করে তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফার সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আব্দুস সালাম পিন্টুর সহধর্মিণী বিলকিস সালাম, কন্যা ডা. সাফাওয়াত বিনতে সালাম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলু, পৌর বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার গিয়াস উদ্দিনসহ উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়ন বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।এনআই
    গোয়ালন্দে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় যুবক নিহত
    রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় শিথিল বিশ্বাস সেতু (২৫) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। তিনি গোয়ালন্দ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নিলু শেখের পাড়া এলাকার ‘সেতু জুয়েলার্স’-এর মালিক কমল বিশ্বাসের ছেলে।সোমবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে গোয়ালন্দ বাজারের প্রধান সড়কে সাবেক পৌর মেয়র নজরুল মণ্ডলের বাড়ির সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সেতু দ্রুতগতিতে মোটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় একটি অটোরিকশার সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে তিনি সড়কের ওপর ছিটকে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান এবং তাঁর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।নিহতের শ্বশুর রঞ্জিত কুমার পোদ্দার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “সেতু প্রায় এক বছর আগে আমার মেয়েকে বিয়ে করেছিল। আজ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সে আমাদের ছেড়ে চলে গেল।”এনআই
    ভোটারদের মন জয় করতে স্বতন্ত্র প্রার্থী চুন্নুর বিশাল মিছিল
    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে নির্বাচনী প্রচারণার শেষ দিনে ভোটারদের মন জয় করতে কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনের বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম খান চুন্নুর ‘মোরগ’ প্রতীকের বিশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় জেলা শহরের পুরাতন স্টেডিয়াম থেকে মিছিলটি বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একইস্থানে এসে শেষ হয়। এর আগে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে দলে দলে তার অনুসারী ও নেতা-কর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে পুরাতন স্টেডিয়ামে জড়ো হয়।মিছিলে ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড, মাথার ওপরে উড়তে থাকা ‘মোরগ’ প্রতীক-সব মিলিয়ে জেলা শহর তৈরি হয় নির্বাচনী উচ্ছ্বাস। বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা খণ্ড খণ্ড মিছিলকে ঘিরে পুরো পুরাতন স্টেডিয়াম সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।মিছিলে বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম খান চুন্নু সমর্থকদের উদ্দেশ্যে হাত নেড়ে অভিবাদন জানান। নেতাকর্মীদের স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো শহর। এসময় বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম খান চুন্নু নির্বাচিত হলে আগামীতে এলাকার উন্নয়নে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরে মোরগ মার্কায় ভোট চান।  এফএস
    টঙ্গীতে গ্যাস বেলুন বিস্ফোরণে শিশুসহ আহত অর্ধশতাধিক
    টঙ্গীতে গ্যাস বেলুন বিস্ফোরণে শিশুসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকালে টঙ্গীর হোন্ডারোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।গুরুতর আহত ১২ জনকে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো করা হয়েছে। আহতরা হলেন- আব্দুল আজিজ (৩০), রমজান (১৫), হৃদয় (১৯), মারুফ (২১), আকাশ (২১), হাসমত আলী (৫৪), মারুফ (১৭), সিয়াম (১৬), রাব্বি (১৪), রুবেল (৩৪), মোস্তাকিম (১৪) ইমরানসহ (২০) অর্ধশতাধিক।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গাজীপুর-২ আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী এম. মঞ্জুরুল করিম রনির পূর্ব নির্ধারিত নির্বাচনি গণমিছিলে যোগ দেওয়ার জন্য টঙ্গীবাজার বাটাগেট এলাকায় নেতাকর্মীরা জড়ো হন। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে হোন্ডারোডের মাথায় বিএনপি অফিসের সামনে রাখা গ্যাস বেলুনে হঠাৎ করে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীর হাত, মুখসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায়। দগ্ধদের উদ্ধার করে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত ও দগ্ধ ১২ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে। টঙ্গী সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. নাফিয়া শারমিন জানান, গ্যাস বেলুন বিস্ফোরণে আহতদের মধ্যে অনেকের ১৮ থেকে ২০ ভাগ দ্বগ্ধ থাকায় তাদের ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি মেহেদি হাসান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এনআই
    মাদারীপুরে ধানের শীষে ভোট চাইলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার শহিদুল ইসলাম
    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাদারীপুর-২ আসনে চমকপ্রদ রাজনৈতিক সমীকরণ দেখা দিয়েছে। একই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার শহিদুল ইসলাম বিএনপির প্রার্থী জাহান্দার আলী জাহানের পক্ষে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়েছেন।সোমবার(৯ফেব্রুয়ারি) বিকেলে শহরের শকুনি লেকপাড়ের মুক্ত মঞ্চে ধানের শীষ প্রতীকের মিছিল শেষে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দেন। এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ব্যারিস্টার শহিদুল ইসলাম বলেন, বৃহত্তর স্বার্থে তিনি ব্যক্তিগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে এসে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী জাহান্দার আলী জাহানের পক্ষে মাঠে কাজ করবেন।তিনি আরও বলেন, এই নির্বাচন শুধু ব্যক্তি বা দলের নয়, বরং গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটাধিকার রক্ষার লড়াই। তাই সবাইকে ধানের শীষ প্রতীকে ঐক্যবদ্ধভাবে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির প্রার্থী জাহাঙ্গার আলী জাহান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট জাফর আলী মিয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট জামিনুর হোসেন মিঠু ও মিজানুর রহমান মুরাদ, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক ফারুক বেপারী, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শাহাদাত হোসেন হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ, জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান জাকির, সদস্য সচিব কামরুল হাসানসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।এফএস
    ভোলায় কাফনের কাপড় পরে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে মিছিল
    ভোলার দৌলতখানে কাপনের কাপড় পরে জামায়াতে ইসলামীর মিছিলে অংশ গ্রহণ করেন একদল জামায়াত কর্মী।সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ভোলা-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা ফজলুল করিমের মিছিলে কাফনের কাপড় পরে অভিনব প্রতিবাদ করেন তারা। ভোলা-২ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মুফতি ফজলুল করিমের নেতৃত্বে কাফনের কাপড় পরিহিত অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগানে নির্বাচনী পরিবেশ, ভোটাধিকার এবং রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে তাদের অবস্থান তুলে ধরেন এবং দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে নানা ধরনের স্লোগান দেন।দৌলতখান পৌর শহরের উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর দলীয় কার্যালয় থেকে মিছিলটি বের হয়ে  গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে গণমিছিলটি বাজারের উত্তর মাথায় শহীদ মিনারের প্রান্তে গিয়ে শেষ হয়এসময় কাফনের কাপড় পরা নেতাকর্মীরা বলেন, কাফনের কাপড় পরিধান করে মিছিল করার মাধ্যমে আমরা এই বার্তা দিচ্ছি, ভোটকেন্দ্র দখল করতে আসলে সমুচিত জবাব দেয়া হবে। ন্যায় ইনসাফের বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমরা জীবন দিতেও প্রস্তুত। কারও রক্তচক্ষুকে আমরা পরোয়া করি না। এ বার্তাই ছিল আমাদের কাফনের কাপড় পরিধান করে মিছিল করার মূল উদ্দেশ্য। মিছিল শেষে বক্তব্যে মাওলানা ফজলুল করিম বলেন, কেউ ভোট কেন্দ্র দখলের পাঁয়তারা করলে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সমর্থকেরা জীবন দিয়ে হলেও তা প্রতিরোধ করবে। কোনো অন্যায় বরদাশত করা হবে না। দাঁড়িপাল্লা প্রতীক বিজয়ী হলে অবৈধভাবে চর দখল, ঘাট দখল, চাঁদাবাজি ও দখলদারি মুক্ত করা হবে এবং ইনসাফ ভিত্তিক একটি সমাজ প্রতিষ্ঠা করা হবে।এফএস
    পাথরঘাটায় সাবেক সংসদ সদস্যের ওপর দুর্বৃত্তদের হামলা
    বরগুনা-২ আসনে দুইবার নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম সরোয়ার হিরুর ওপর দুর্বৃত্তদের হামলার ঘটনা ঘটেছে।সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকালে বরগুনার পাথরঘাটা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে তার নিজ বাসভবনের সামনে এই হামলার ঘটনা ঘটে। পাথরঘাটা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাহাঙ্গীর হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে খাবার শেষ করে গোলাম সরোয়ার হিরু ব্যক্তিগত কাজে বাজারের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন। বাসার সামনে পৌঁছামাত্র ওৎ পেতে থাকা ৩-৪ জন দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্র ও লোহার পাইপ নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করলে তার শরীরের বিভিন্ন অংশ রক্তাক্ত ও জখম হয়। ঠিক সেই মুহূর্তে ঘটনাস্থল দিয়ে জামায়াতে ইসলামীর একটি মিছিল যাচ্ছিল। মিছিলের নেতাকর্মীরা দ্রুত এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে বাসায় পৌঁছে দেন। ঘটনার খবর পেয়ে নৌবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনী দ্রুত সেখানে পৌঁছালে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।হামলার শিকার গোলাম সরোয়ার হিরু বলেন, আমি বাজারে যাওয়ার জন্য বের হতেই কয়েকজন দুর্বৃত্ত লোহার পাইপ দিয়ে আমাকে মারধর শুরু করে। এতে আমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়েছে।পাথরঘাটা থানার উপ-পরিদর্শক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশসহ যৌথ বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।উল্লেখ্য, গোলাম সরোয়ার হিরু ১৯৯৬ সালে ফেব্রুয়ারি ও জুন মাসে নির্বাচনে  ইসলামী ঐক্যজোট ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হিসেবে বরগুনা-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত ছিলেন। ২০১৩ সালের উপ-নির্বাচনে তিনি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। সর্বশেষ ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশা করে তিনি রাজনৈতিক মহলে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন। বর্ণাঢ্য তবে দল পরিবর্তনের কারণে প্রায়শই তিনি রাজনৈতিক আলোচনায় থাকেন।এমআর-২
    স্বঘোষিত ‌‘জান্নাতি দল’ জাল ভোট দেওয়ার পরিকল্পনা করছে: নয়ন
    ভোলা-৪ আসনের বিএনপির মনোনিত প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন বলেছেন, 'একটি রাজনৈতিক দল পরাজয়ের অবাস পেয়ে নির্বাচনকে বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্রের আওতায় এনে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করার পরিকল্পনা করছেন। এই ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে বাঁচার জন্য গোটা বাংলাদেশের মানুষ আজ দিশেহারা ও হতাশায় নিমজ্জিত। দলটি নিজেদেরকে সৎ দাবী করা অর্থাৎ স্বঘোষিত জান্নাতি দল ১২ ফেব্রুয়ারি জাল ভোট দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। এই যদি হয় তাদের সম্পর্কে বাংলাদেশের মানুষের ধারনা, তাহলে তারা কেমন সৎ লোক, আপনারাই সেই সিদ্ধান্ত নিবেন।'সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) চরফ্যাশন সরকারি ট্যাফনাল ব্যারেট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।নুরুল ইসলাম নয়ন বলেন, 'আমরা এমন একটি দলকে প্রতিদ্বন্ধী হিসেবে পেয়েছি যে, স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব অবদান ছিলো না বরং তারা বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলো। একাত্তরে একদিকে ছিলো তাদের দাসত্বের শৃঙ্খল, আরেক দিকে ছিলো স্বাধীনতার জন্য মুক্তির সংগ্রাম। এরা দাসত্বের শৃঙ্খলকে সেদিন আলিংগন করেছিলো। শুধু তাই নয়, ওরা আমাদের কম বয়সী মা-বোনদেরকে পাক বাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছিলো। মা-বোনদের সম্মান, ইজ্জত ওরা সেদিন নিলামে তুলেছিলো। আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদেরকে পাক বাহিনীর কাছে হত্যা করার জন্য তুলে দিয়েছিলো। ওরা বলে 'সৎ লোকের শাসন চাই, আল্লাহ আইন চাই।' আপনারা যদি আল্লাহ আইন চান তাহলে কৃঞ্ষ নন্দিকে কেন মনোনয়ন দিয়েছিলেন? ওরা বলছে, রোজ আর পূজা সমান।'তিনি আরও বলেন, 'গত ষোল বছরে ওরা একই চেহারায় আবির্ভুত হয়েছিলো। ফ্যাসিবাদের সাথে একাকার হয়ে রাজনীতি করেছে। একদিকে ছিলো ফ্যাসিবাদকে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত করার অপচেষ্টা। অপরদিকে গণতন্ত্রকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করার আকাঙ্খা। যার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ওরা কিন্তু গণতন্ত্রে আকাঙ্খাকে ধারণ করেনি। ওরা ফ্যাসিবাদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলো।'এমআর-২
    তারেক রহমানের জাতীয় সরকারে মন্ত্রী পেতে চাইলে ট্রাক প্রতীকে ভোট দিন: নুর
    পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপি জোট মনোনীত ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেছেন, “তারেক রহমানের নেতৃত্বে জাতীয় সরকারে মন্ত্রী পেতে চাইলে ১২ তারিখ সারাদিন ট্রাক প্রতীকে ভোট দিতে হবে।”সোমবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে গলাচিপা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় খেলার মাঠে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে প্রচারণার শেষ জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় ট্রাক প্রতীকের সমর্থনে আয়োজিত এ জনসভায় মানুষের ঢল নামে।নুরুল হক নুর বলেন, “গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলার অধিকাংশ মানুষ আজ ট্রাক প্রতীকের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। আমাদের বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না। ১২ তারিখ নির্বাচন শেষে আপনারা শান্তিপূর্ণভাবে বিজয় মিছিল করবেন।”তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনসহ তার অনুসারীদের উদ্দেশে বলেন, “যদি তারা ১১ তারিখের মধ্যে ট্রাক প্রতীকের পক্ষে কাজ শুরু করেন, তবে বিএনপি থেকে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের জন্য আগামীর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আমি অনুরোধ জানাবো।জনসভায় উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব গোলাম মোস্তফার সভাপতিত্বে, বিএনপি, গণঅধিকার পরিষদ এবং তাদের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।এমআর-২
    ভোলায় প্রচারণার শেষ মূহুর্তে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন প্রার্থীরা, দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি 
    প্রচারণার শেষ দিনে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ভোটের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন ভোলার চারটি সংসদীয় আসনের প্রার্থীরা। শহর থেকে গ্রাম, হাট থেকে মাঠ–কোথাও থেমে নেই শেষ মূহুর্তের প্রচার তৎপরতা। ভোটাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে অবহেলিত ভোলার উন্নয়নে কাজ করবেন বলে দিচ্ছেন নানা রকম প্রতিশ্রুতি। তবে ভোটাররা বলছেন, দীর্ঘদিন পর তারা সুষ্ঠু পরিবেশে ভোট দিতে চায়। মারামারি হানাহানি আর চায়না। পরিবেশ সুষ্ঠু থাকলে তারা ভোট কেন্দ্রে গিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিবেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না থাকলে এবারও তারা ভোট কেন্দ্রে যাবেন না বলেও মন্তব্য করেন।তারা বলছেন, বিগত দিনগুলোতেও প্রার্থীরা বিভিন্ন রকম উন্নয়ন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু স্বাধীনতার বহু বছর পার হলেও ভোলাবাসীর ভাগ্যবদল হয়নি। তাই এবার তারা বুজে শুনে দক্ষ প্রার্থীকে ভোট দিবেন।এদিকে জেলার ৪ টি সংসদীয় আসনে পুরুষদের সভা সমাবেশের পাশাপাশি নারী ভোটারদেরও চলছে সভা–সমাবেশ ও উঠান বৈঠক। এসব সভা-সমাবেশে উপস্থিত হয়ে নারী ভোটারদের থেকে ভোট চাইছেন প্রার্থীর স্ত্রীসহ স্বজনরা। জেলার প্রতিটি উপজেলায় নারী ভোটারদেরও সরব উপস্থিতি দেখা গেছে।  জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্যমতে, জেলার সাত উপজেলার চারটি আসনে নারী, পুরুষ ও তৃতীয় লিঙ্গের মোট ১৬ লাখ ৭২ হাজার ৯৫৮ জন ভোটার রয়েছে। এর মধ্যে ভোলা সদর উপজেলায় ৪ লাখ ২ হাজার ৮৬৬, দৌলতখান ১ লাখ ৬৪ হাজার ৩৭২, বোরহানউদ্দিন ২ লাখ ২৬ হাজার ৯১১,  লালমেহন ২ লাখ ৭২ হাজার ৭২২, তজুমদ্দিন ১ লাখ ৭ হাজার ৮৪৭,  চরফ্যাশন ৪ লাখ ৩০ হাজার ৪৫৭, মনপুরা ৬৭ হাজার ৭৮২ জন ভোটার রয়েছে। ভোলা–১ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থের পক্ষে তার মা, স্ত্রী ও সন্তানদের নির্বাচনী প্রচারণা ও উঠান বৈঠকে দেখা গেছে। পার্থ ও তার স্ত্রী এবং মা আলাদা আলাদা সমাবেশ ও উঠান বৈঠকে অংশ গ্রহণ করে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে দিচ্ছেন নানা রকম প্রতিশ্রুতি। ভোলা-বরিশাল সেতু, নদী ভাঙন রোধ, ভোলার ঘরে ঘরে গ্যাস সংযোগ, মেডিকেল কলেজ স্থাপনসহ রাস্তাঘাট উন্নয়ন করবেন বলেও দিচ্ছেন প্রতিশ্রুতি। একই আসনে জামায়াতে ইসলামী 'দাঁড়িপাল্লা' প্রতীকের প্রার্থী অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম ও ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের 'হাতপাখা' প্রতীকের মো. ওবায়েদ বিন মোস্তফা গণসংযোগ, সভা–সমাবেশে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ভোলার গ্যাসকে ব্যবহার করে ভোলায় শিল্পায়নসহ ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। শেষ মূহুর্তে তারাও নেতাকর্মীদের নিয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন এবং ভোটারদের আস্তা অর্জনের চেষ্টা করছেন।ভোলা–২ (দৌলতখান-বোরহানউদ্দিন) আসনে বিএনপির 'ধানের শীষ' প্রতীকের প্রার্থী হাফিজ ইব্রাহিম ও তার স্ত্রী মারফুজা সুলতানা সভা-সমাবেশে ব্যস্ত সময় পার করছেন। নদী ভাঙন রোধ, বেকারত্ব দুর করার পাশাপাশি বোরহানউদ্দিন–দৌলতখান বাসীর জীবনমান উন্নয়ন করবেন বলে দিচ্ছেন প্রতিশ্রুতি।একই আসনে 'দাঁড়িপাল্লা' প্রতীকের প্রার্থী ফজলুল করিমও দিচ্ছেন প্রতিশ্রুতি। তিনি বোরহানউদ্দিন–দৌলতখানবাসীর জীবনমান উন্নয়নে ১১ দফা ইশতেহার ঘোষনা দিয়েছেন। ইশতেহারে ইনসাফ, উন্নয়ন ও মানবিক মর্যাদার ভোলা–২ গড়বেন বলে ঘোষনা দেন। তার পক্ষেও শেষ সময়ে চলছে জোড়ালো প্রচারণা। ভোলা–৩ (তজুমদ্দিন-লালমোহন) আসনে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মেজর অব হাফিজ উদ্দিন বীর বিক্রম নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে শেষ সময়ে নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। সভা-সমাবেশে তার স্ত্রী'রও সরব উপস্থিতি দেখা গেছে। লালমোহন–তজুমদ্দিন বাসীর উন্নয়নে কাজ করবেন বলে তিনিও দিচ্ছেন নানা রকম প্রতিশ্রুতি। এছাড়াও ভোলা–৪ আসনে (চরফ্যাশন–মনপুরা) বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নরুল ইসলাম নয়ন ব্যস্ত সময় পার করছেন। মনপুরা চরফ্যাশন বাসীর ভাগ্য বদলে দেওয়ার দিচ্ছেন প্রতিশ্রুতি। পর্যটন খাতকে উন্নত করে আধুনিক শহর গড়ে তুলবেন বলেও ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। একই আসনে 'দাঁড়িপাল্লা' প্রতীকের প্রার্থী মোস্তফা কামাল ও ইসলামি আন্দোলনের 'হাতপাখা' প্রতীকের প্রার্থী আবুল মোকাররম মো. কামাল উদ্দিনও ভোটারদের একই প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তাদের সভা-সমাবেশ গুলোতেও দেখা গেছে নারী ভোটারদের সরব উপস্থিতি। জেলার চারটি আসনেই সকল রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা অবহেলিত ভোলাবাসীর জীবনমান উন্নয়নে কাজ করবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন ভোটারদের।  তবে ভোটাররা বলছেন, বিগত দিনগুলোতেও এমন প্রতিশ্রুতি দিতে দেখেছেন তারা। কিন্তু বাস্তবে নির্বাচিত হওয়ার পর ভোলার বাসীর জীবনমান উন্নয়নে সেরকম ভুমিকা রাখেননি সেসব প্রার্থীরা। এবার তারা ভেবেচিন্তে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিবেন।এদিকে ভোট গ্রহণকে কেন্দ্র করে জেলায় ৭ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। নৌ-বাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড, র‍্যাব, পুলিশ সহ আনসার সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা নিরাপত্তায় থাকবেন।ভোলা সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সভাপতি মোবাশ্বির উল্লাহ চৌধুরী বলেন, ভোলায় এমন প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে হবে। যিনি হবে জনগণের। অবহেলিত ভোলার উন্নয়নে কাজ করবেন। বিশেষ করে ভোলাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রানের দাবী ভোলা–বরিশাল সেতু, মেডিকেল কলেজ স্থাপনসহ ভোলাবাসীর জীবনমান উন্নয়ন করবেন। এসআর
    জিআই তারের নেট তৈরি করে ঘুরে দাঁড়ালেন ভালুকার মামুন
    অভাব, হতাশা আর ব্যর্থতার গ্লানি পেছনে ফেলে জিআই তারের নেট তৈরি করে সফলতার মুখ দেখেছেন ভালুকা উপজেলার তরুণ উদ্যোক্তা মামুন। মাত্র বিশ থেকে ত্রিশ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে শুরু করা এই উদ্যোগ আজ তাকে এনে দিয়েছে স্বাবলম্বী জীবনের স্বাদ।মামুন ভালুকা উপজেলার ধীতপুর ইউনিয়নের মীর বাড়ি এলাকার মৃত মীর গোলাম রব্বানীর ছেলে। এইচএসসি পাস করে বিএ-তে ভর্তি হলেও আর পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। পরে পুকুরে মাছ চাষ ও লেয়ার মুরগি পালন করে আর্থিকভাবে লোকসানের মুখে পড়েন। টানা তিন থেকে চার বছর কোনো ব্যবসায় হাত দেওয়ার মতো অবস্থায় ছিলেন না তিনি। হতাশা আর অনিশ্চয়তায় দিন কাটছিল তার।এক পর্যায়ে ইউটিউবে ভিডিও দেখে জানতে পারেন, স্বল্প খরচে জিআই তারের নেট তৈরির মেশিন কিনে কাজ শুরু করা যায়। সেই ভাবনাই বদলে দেয় তার জীবন। নিজের সাহস আর উদ্যোগকে পুঁজি করে তিনি ছুটে যান চাঁপাইনবাবগঞ্জে। সেখানে গিয়ে জিআই তারের নেট তৈরির একটি মেশিন কিনে কয়েক দিন থেকে হাতে-কলমে কাজ শেখেন। পরে নিজ ঘরের বারান্দায় মেশিন বসিয়ে শুরু করেন নেট তৈরির কাজ।মামুন জানান, শুরুতে আশপাশের মানুষ কৌতূহল নিয়ে তার মেশিন দেখতে আসত। গ্রামের মানুষ আগে ভাবতেই পারেনি যে জিআই তার দিয়ে ক্ষেত-খামারের টেকসই বেড়া করা সম্ভব। প্রথমে নিজের বাগানে জিআই তারের নেট দিয়ে বেড়া দেন তিনি। কিন্তু শুরুতে দীর্ঘ ছয় থেকে সাত মাস কোনো অর্ডার পাননি।হাল না ছেড়ে তিনি লিফলেট ছাপিয়ে গফরগাঁও, ত্রিশাল, ভালুকা ও ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় দোকানের দেয়ালে লাগান। পাশাপাশি অনলাইনেও প্রচারণা চালান। এরই ফলস্বরূপ ধীরে ধীরে আসতে থাকে অর্ডার। কেউ ফোন করে, কেউ আবার সরাসরি এসে নেট তৈরি কাজ দেখে যান।বর্তমানে সব খরচ বাদ দিয়ে মাসে গড়ে বিশ থেকে পঁচিশ হাজার টাকা আয় করছেন মামুন। অর্ডার বেশি হলে আয়ও বাড়ে। তার কারখানায় নেট বুননের কাজে যুক্ত হয়েছে আশপাশের দরিদ্র পরিবারের স্কুলপড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীরা। তারা অবসর সময়ে হাত দিয়ে নেট বুননের কাজ করে নিজেদের খাওয়া ও পড়াশোনার খরচ চালাচ্ছে।নেট বুননের কাজে যুক্ত কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, কাজটি তুলনামূলক সহজ। স্কুল বন্ধ থাকলে বা অবসর সময়ে তারা কাজ করে। এতে করে খাতা-কলম কেনা ও পড়াশোনার খরচের টাকা জোগাড় হয়।তবে করোনাভাইরাসের সময় কাজ কিছুটা কমে গিয়েছিল। বর্তমানে তারের দাম বেড়ে যাওয়ায় নেটের অর্ডারও আগের তুলনায় কম আসছে বলে জানান মামুন। তারপরও দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে জিআই তারের নেটের অর্ডার গ্রহণ করা হচ্ছে। কুরিয়ার পরিবহনের মাধ্যমে ক্রেতাদের কাছে নেট পৌঁছে দেওয়া হয়।নেট কিনতে আসা মো. ফয়সাল বলেন, বাড়ির আঙিনায় স্থায়ী বেড়ার জন্য জিআই তারের নেট খুবই ভালো। আমরা অনেক দূর থেকে নেটের অর্ডার দিয়েছি। ভালো মানের জিআই তারের বেড়া ১০ থেকে ১৫ বছরেও নষ্ট হয় না।মামুন বলেন, সরকারিভাবে যদি অর্থনৈতিক সহায়তা ও সুদৃষ্টি পাওয়া যায়, তাহলে প্রতিষ্ঠানের কাজের পরিধি আরও বড় করা সম্ভব। এতে অনেক বেকার ও দরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।এসআর
    নেত্রকোনায় নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ১১০টি
    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে নেত্রকোনায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ১১০টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে বডি ওয়ার্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে ১১০টি অনলাইন এবং ২৬৬টি অফলাইন বডি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে।রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নেত্রকোনা পুলিশ লাইনস মাঠে নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গৃহীত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা সংক্রান্ত ব্রিফিং প্যারেড শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।পুলিশ সুপার বলেন, ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই দেশের মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছে। সেই প্রত্যাশা পূরণে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে জনগণকে আহ্বান জানাই-আপনারা নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে এসে সারিবদ্ধভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরে যাবেন।তিনি আরও বলেন, ভোটকেন্দ্রে আসা-যাওয়ার পথে কিংবা কেন্দ্রের ভেতরে কেউ কোনো ধরনের অপকর্মের চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নেত্রকোনার ৫টি সংসদীয় আসনে মোট ৬৭৬টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ১১০টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে বডি ওয়ার্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে ১১০টি অনলাইন এবং ২৬৬টি অফলাইন বডি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে জেলায় মোট ১ হাজার ৮৯০ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। এ ছাড়াও আনসার, বিজিবি, র‍্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য মাঠে থাকবেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা।এ সময় উপস্থিত ছিলেন শেরপুর ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান জুয়েল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) রেজওয়ান আহমেদ, মিডিয়া মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) হাফিজুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) স্বজল কুমার সরকারসহ জেলা পুলিশের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।এসআর
    সরিষাবাড়ীতে মিষ্টি আলুর ফলন কম, মৌসুম শেষে দামও পড়ে গেছে
    আবহাওয়া অনুকূলে থাকলেও শীতের তীব্রতায় গত বছরের তুলনায় এবার জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় মিষ্টি আলুর ফলন কিছুটা কম হয়েছে। ফলন কম হওয়ায় কৃষকদের প্রত্যাশা ছিল ভালো দাম পাবেন। কিন্তু মৌসুমের শেষ ভাগে বাজারদরও নেমে গেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। এতে খরচ তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন অনেক চাষি।সরিষাবাড়ী উপজেলা মিষ্টি আলুর জন্য পরিচিত একটি এলাকা। যদিও দেশে মিষ্টি আলু তুলনামূলকভাবে অবহেলিত ফসল, তবু প্রতিবছরই এখানে ব্যাপক আবাদ হয়ে থাকে। উপজেলার কামরাবাদ ইউনিয়নের বড়বাড়ীয়া, কৈজুরী, ধারাবর্ষা, জাফরাবাদ, কান্দারপাড়া, সৈয়দপুরসহ বিভিন্ন গ্রামে এবং ভাটারা ইউনিয়নের ভাটারা, মোহনগঞ্জ, কাশারীপাড়া, পাখাডুবী, ফুলবাড়িয়া, চর হরিপুরসহ কলারছড়া এলাকায় এবারও মিষ্টি আলুর চাষ হয়েছে।সম্প্রতি কামরাবাদ ও ভাটারা ইউনিয়নের মাঠ ঘুরে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে সবুজ পাতায় ঢাকা মিষ্টি আলুর ক্ষেত। পুরুষেরা কোদাল দিয়ে মাটি খুঁড়ে আলু তুলছেন, আর নারী ও শিশুরা আলু কুড়িয়ে এক জায়গায় স্তুপ করছেন। কেউ কেউ মাঠেই আলু মেপে বস্তাবন্দি করছেন। আবার আলুর লতা গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে ঘোড়ার গাড়িতে করে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন কৃষকেরা।তরুণ কৃষক কবীর হোসেন বলেন, ‘অগ্রহায়ণ মাসের প্রথম সপ্তাহে চারা রোপণ শুরু হয়। ফাল্গুনের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে আলু পরিপক্ব হয়ে ওঠে। তবে এবার ঠান্ডা বেশি থাকায় ফলন কিছুটা কম হয়েছে।’ধারাবর্ষা গ্রামের চাষি ইয়াজ উদ্দিন, করম আলী, মোস্তফা ও আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘এক বিঘা জমিতে প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়। ভালো ফলন হলে বিঘাপ্রতি ৮০-৯০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা যায়। কিন্তু এবার ফলনও কম, দামও কম। গত বছর প্রতি মণ আলু ২ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেছি। এবার মৌসুম শেষে ৬০০-৭০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।’স্থানীয় পাইকার মতিউর রহমান জানান, মিষ্টি আলুর চাহিদা ঢাকায় বেশি। তাই এখান থেকে কিনে ঢাকায় সরবরাহ করা হয়। তিনি বলেন, ‘মৌসুমের শুরুতে প্রতি মণ ১২০০-১৫০০ টাকায় কেনা হয়েছে। ঢাকায় ১৬০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। তবে শেষ দিকে দাম অনেক কমে গেছে।’উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ অনুপ সিংহ বলেন, ‘আবহাওয়া মোটামুটি অনুকূলে থাকায় উৎপাদন ভালো হয়েছে। এ বছর মিষ্টি আলুর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৬০ হেক্টর, তবে আবাদ হয়েছে আরও বেশি। বাজারদর কমার কারণ বলা কঠিন। আমরা কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি। আলু তোলা শেষ করেই কৃষকেরা এখন বোরো চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।’ইখা
    নরসুন্দা নদী খননের সময় মিলল মানুষের মাথার খুলি
    ময়মনসিংহের নান্দাইলে নরসুন্দা নদী পুনঃখননের সময় মাটির ভেতর থেকে মানুষের মাথার খুলি ও কয়েকটি হাড় উদ্ধার হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার আচারগাঁও ইউনিয়নের ঝাউগড়া গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীর একটি অংশে।গত বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তত্ত্বাবধানে নদী পুনঃখননের কাজ চলছিল। এ সময় এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি কাটার সময় মানুষের শরীরের কিছু হাড় এবং মাথার খুলি বেরিয়ে আসে।খবরটি মুহূর্তেই এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে। স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি নিয়ে নানা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।ঝাউগড়া গ্রামের আব্দুল জলিল নামের এক বৃদ্ধ বলেন, “দুর্বৃত্তরা হয়তো কাউকে হত্যা করে নদীর পাড়ে লাশ পুঁতে রেখেছিল। আবার মুক্তিযুদ্ধের সময়ও এখানে হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। তবে এতদিন আগের হাড়গোড় পচে যাওয়ার কথা। মাথার খুলির দাঁত এখনো আটকে আছে, দাঁতগুলো ছোট।”স্থানীয়রা জানান, হাড়গুলো শিশুদের হাতে পড়ে ছড়িয়ে পড়লেও মাথার খুলিটি সংরক্ষণ করে রেখেছেন আব্দুল জলিলের ছেলে দ্বীন ইসলাম।দ্বীন ইসলাম বলেন, “আমাদের বাড়ির সামনের নদীর মাটি কাটার সময় এগুলো পাওয়া যায়। হাড়গুলো কেউ কেউ নিয়ে ফেলে দিলেও মাথার খুলিটি আমি রেখে দিয়েছি। কত দিনের পুরোনো তা বোঝা যাচ্ছে না।”এ বিষয়ে নান্দাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল-আমীন বলেন, “বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে কেউ দাবি করলে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে।”ইখা
    সবুজের অরণ্যে হারিয়ে যাওয়ার ঠিকানা কাদিগড় জাতীয় উদ্যান
    সবুজের ভেতর হারিয়ে যেতে কার না ইচ্ছা করে! শহরের কোলাহল, ধুলো আর ব্যস্ততার বাইরে প্রকৃতির কাছে একটু প্রশান্ত নিঃশ্বাস নিতে চাইলে ময়মনসিংহের ভালুকায় আছে এক নিভৃত আশ্রয়—কাদিগড় জাতীয় উদ্যান। প্রকৃতি আর মানুষের হাতে গড়া বনের অপূর্ব সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই অরণ্য যেন সবুজের এক জীবন্ত পাঠশালা।ময়মনসিংহ বন বিভাগের অধীন ভালুকা রেঞ্জের কাদিগড় বিট আজ প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে এক অনন্য আকর্ষণ। চোখজুড়ানো গজারি আর সেগুনের বাগান, ঘন সবুজের আবরণ আর পাখির অবিরাম কিচিরমিচির মুহূর্তেই মনকে টেনে নেয় প্রকৃতির গভীরে। উঁচু গাছের ফাঁক দিয়ে সূর্যের আলো নেমে আসে মাটির বুকে, বাতাসে পাতার মর্মর আর দূরের পাখির ডাক মিলেমিশে তৈরি করে এক মোহময় পরিবেশ।বহু বছর আগে পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা মিনজিরি, অর্জুন ও সেগুনের বাগানগুলো সময়ের প্রবাহে আজ প্রায় প্রাকৃতিক বনের রূপ নিয়েছে। প্রকৃতির একান্ত সান্নিধ্যে এসে এই সবুজের সমারোহ আর পাখির কলতান প্রকৃতিপ্রেমী মানুষকে করে তোলে বিমোহিত। কাদিগড় উদ্যানে নিয়মিত দেখা মেলে হনুমান ও বানরের দল। ভাগ্য ভালো থাকলে গাছের ডালে ডালে তাদের লাফালাফিও চোখে পড়ে। প্রাণীকূলের মধ্যে রয়েছে শিয়াল, শজারু, মেছো বিড়াল, বনবিড়াল, বাগডাশ ও বেজি। বনের ভেতরে বিচরণ করে নানা প্রজাতির সাপ, ব্যাঙ, তক্ষক ও গুইসাপ। রঙিন প্রজাপতির উড়াউড়ি আর নানা জাতের পাখির কিচিরমিচির এই বনকে করে তোলে আরও প্রাণবন্ত।অবস্থানগত দিক থেকে কাদিগড় জাতীয় উদ্যান ময়মনসিংহ শহর থেকে প্রায় ৫৬ কিলোমিটার দক্ষিণে। ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান থেকে এটি প্রায় ৪৫ কিলোমিটার উত্তরে এবং ভালুকা সদর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। যোগাযোগ ব্যবস্থাও তুলনামূলক সহজ। ঢাকা থেকে ময়মনসিংহগামী বাসে সিডস্টোর বাজারে নেমে সেখান থেকে সিএনজি যোগে প্রায় ১০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিলেই পৌঁছে যাওয়া যায় কাদিগড়ে। ভাড়া পড়তে পারে প্রায় ১৫০ টাকা। তবে বর্ষাকালে কাঁচা রাস্তার কারণে চলাচলে কিছুটা ভোগান্তি হয়।শুষ্ক মৌসুমে কাদিগড় বিট হয়ে ওঠে বনভোজনপ্রেমীদের মিলনকেন্দ্র। পরিবার, বন্ধু কিংবা বিভিন্ন সংগঠনের মানুষ এখানে এসে প্রকৃতির কোলে সময় কাটান। সবুজ যে প্রাণের স্পন্দন, বেঁচে থাকার অনিবার্য অংশ—সে উপলব্ধি যেন আরও গভীর হয় কাদিগড়ের বনে এসে।লোকমুখে প্রচলিত আছে, একসময় এই জঙ্গলের কাঠ সরকারি টেন্ডারের মাধ্যমে কাদির মিয়া নামে এক ব্যবসায়ী কিনতেন। তাঁর একক আধিপত্যের কারণে অন্য কেউ টেন্ডারে অংশ নিতে পারতেন না। সেই দাপুটে প্রভাব থেকেই এলাকাটি পরিচিত হয় ‘কাদির মিয়ার জঙ্গল’ নামে, যা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়ে আজ কাদিগড় জাতীয় উদ্যান হিসেবে পরিচিত।প্রায় ৯৫০ একর আয়তনের এই উদ্যানে পর্যটকদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে একটি ওয়াচ টাওয়ার, দুটি ইকো কটেজ, দুটি গোলঘর, পিকনিক স্পট এবং পুকুরপাড়। পরিকল্পিত সংরক্ষণ ও পর্যটন ব্যবস্থাপনা আরও জোরদার করা গেলে কাদিগড় জাতীয় উদ্যান ভবিষ্যতে হয়ে উঠতে পারে ময়মনসিংহ অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইকো-ট্যুরিজম গন্তব্য।সবুজের মাঝে নিজেকে হারিয়ে দিতে চাইলে, প্রকৃতির কাছে একটু শান্তি খুঁজতে চাইলে কাদিগড় জাতীয় উদ্যান হতে পারে সেই নিখুঁত ঠিকানা—যেখানে প্রকৃতি কথা বলে নীরবে।ইখা
    জিয়াউর রহমান না থাকলে জামায়াতে ইসলামীর জন্ম হতো না : রিজভী
    শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান না থাকলে জামায়াতে ইসলামীর জন্ম হতো না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কুড়িগ্রামের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।রিজভী বলেন, ‌‘দেশের মাটিতে জামায়াতে ইসলামী রাজনীতি করতে পারতো না। বেগম খালেদা জিয়া না থাকলে আপনারা মন্ত্রিত্বের স্বাদ পেতেন না। অথচ আপনাদের ন্যূনতম কৃতজ্ঞতাবোধ নেই।’তিনি আরও বলেন, ‘জামায়াতের আমির যখন যা সুবিধা মনে করছেন, তখন সেই পথ দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য দিনরাত কাজ করছেন। কিন্তু তার এই অবস্থানের মধ্য দিয়ে তার আসল চরিত্র ধরা পড়েছে।’জামায়াতের আমিরের সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারের বরাত দিয়ে রিজভী বলেন, ‘জামায়াতের আমির বলেছেন—মেয়েরা এমপি হতে পারবে, কিন্তু রাষ্ট্রের প্রধান হতে পারবে না। অথচ আপনারা এই বেগম খালেদা জিয়ার অধীনেই মন্ত্রী হয়েছিলেন।’তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘তারা ক্ষমতায় থাকলে নারী অধিকার থাকবে না। মেয়েরা অফিস-আদালত কিংবা রাজনৈতিক দল—কোথাও ভালো কোনো পদ পাবে না।’এসময় কুড়িগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু এবং হাসিবুর রহমান হাসিবসহ জেলা বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এফএস
    ১৫ হাজারের বেশি নারীর উপস্থিতিতে দেবীগঞ্জে জামায়াতের নির্বাচনী গণমিছিল
    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে প্রায় ১৫ হাজারের বেশি নারী কর্মীর অংশগ্রহণে নির্বাচনী মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টা ৩০মিনিটে দেবীগঞ্জ পৌরসভার নৃপেন্দ্র নারায়ন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে মিছিলটি শুরু হয়। মিছিল চলাকালীন প্রায় এক কিলোমিটার সড়ক জুড়ে নারীদের উপস্থিতি দেখা গেছে।মিছিলটি পৌরসভার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পায়রা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় নারী কর্মীরা দলীয় শ্লোগানে মুখরিত করে তোলেন আশপাশের এলাকা। বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড থেকে আগত বিপুলসংখ্যক নারী কর্মীর উপস্থিতিতে মিছিলটি বড় ধরনের জনসমাগমে পরিণত হয়।মিছিল শেষে পায়রা চত্বরে অবস্থিত এরশাদ মঞ্চে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তারা বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূল পর্যায়ে দলকে আরও সুসংগঠিত করতে নারী কর্মীদের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। তারা সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন এবং দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।মিছিলে অংশ নেওয়া ত্রিশোর্ধ্ব রাবেয়া বেগম বলেন, অনেকেই শিশু সন্তানকে কোলে নিয়েই কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন। বাচ্চাদের দুষ্টুমি, আবদার কিংবা সামান্য অসুস্থতাও তাদের প্রচারণায় অংশ নিতে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। সংসারের কাজ শেষ করেই তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে মিছিলে অংশ নেন। নূরজাহান নামে আরেক কর্মী বলেন, এ ধরনের কর্মসূচি নারীদের রাজনৈতিক সচেতনতা বাড়াচ্ছে এবং রাজনীতিতে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখছে।আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন পঞ্চগড় জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আবুল বাশার বসুনিয়া, দেবীগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. বেলাল হোসেন, দেবীগঞ্জ পৌর জামায়াতের পরিচালক আমির হোসেন, সোনাহার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মশিউর রহমান, দেবীগঞ্জ উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ফরিদ হাসান এবং দেবীগঞ্জ উপজেলা রিকশা ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মশিউর রহমান। সভা শেষে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি সমাপ্ত হয়।উল্লেখ্য, পঞ্চগড়-২ আসনটি দেবীগঞ্জ ও বোদা উপজেলা নিয়ে গঠিত। এই আসন থেকে এবার জামায়াত মনোনীত প্রার্থী সফিউল আলমের (সফিউল্লাহ সুফি) মূল প্রতিযোগিতা হবে বিএনপি প্রার্থী ফরহাদ হোসেন আজাদের সাথে।পিএম
    ভোটারদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে পঞ্চগড়ে বিএনপি নেতাকে জরিমানা
    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটারদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে পঞ্চগড় জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ মজিদকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে তাকে সাত দিনের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) পঞ্চগড়-১ আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির বিচারক মো. মিনহাজুর রহমান এ আদেশ দেন।আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ ফেব্রুয়ারি শাপলা কলি প্রতীকের নির্বাচনী এজেন্ট মো. নাসির উদ্দীন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে বলা হয়, ওই দিন তেঁতুলিয়া উপজেলার ভজনপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ডাঙ্গাপাড়া এলাকায় একটি উঠান বৈঠকে বক্তব্য দেওয়ার সময় এম এ মজিদ ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, ধানের শীষের বাইরে ভোট দিলে ‘খুঁজে খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে’।অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, এ বক্তব্যে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং এলাকায় হামলা ও সহিংসতার আশঙ্কা তৈরি হয়, যা অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশের পরিপন্থী।রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দাখিল করা অভিযোগের পর বক্তব্যের ভিডিও ফুটেজ, লিখিত জবাব এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি অভিযোগটি আমলে নেয়। এতে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা ২০২৫ এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ লঙ্ঘনের প্রাথমিক উপাদান পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়।শুনানি শেষে আদালত আদেশে বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮-এর ২২ নম্বর অধ্যায়ের বিধান অনুযায়ী সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতিতে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ৭৭ (৩)(খ) ধারায় এম এ মজিদকে দোষী সাব্যস্ত করে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। জরিমানা অনাদায়ে তাঁকে সাত দিনের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।আদালত আরও নির্দেশ দেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জরিমানার অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে রশিদ আদালতে দাখিল করতে হবে। অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এ বিষয়ে আইনজীবী শাকিল আরাফাত শুভ বলেন, নির্বাচনের সময় ভোটারদের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। আদালতের এ সিদ্ধান্ত সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।ইখা
    লালমনিরহাটে স্বতন্ত্র প্রার্থীর গাড়িবহরে হামলা, প্রার্থীসহ আহত ৩
    লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শিহাব আহম্মেদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রার্থীসহ আহত ৪জন হয়েছেন বলে জানা  গেছে।রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে হাতীবান্ধা উপজেলার জোড়াপুকুর এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে বুড়িমারী–পাটগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছেন সাহাব আহমেদের সমর্থকরা।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাতে নির্বাচনী প্রচারণা শেষে ফেরার পথে জোড়াপুকুর এলাকায় পৌঁছালে একদল দুষ্কৃতকারী শিহাব আহম্মেদের গাড়িবহর লক্ষ্য করে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে প্রার্থীর ব্যক্তিগত গাড়িটি ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। হামলায় স্বতন্ত্র প্রার্থী শিহাব আহম্মেদসহ তার সঙ্গে থাকা বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রার্থীর শত শত সমর্থক নিয়ে রাস্তায় নেমে আসেন। তারা লালমনিরহাট–বুড়িমারী মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং যান চলাচল বন্ধ করে দেন। এর ফলে মহাসড়কের দুই পাশে কয়েকশ পণ্যবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাস আটকা পড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।  খবর পেয়ে হাতীবান্ধা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়। বর্তমানে এলাকায় টানটান উত্তেজনা বিরাজ করায় অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।আহত অবস্থায় স্বতন্ত্র প্রার্থী শিহাব আহম্মেদ বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রচারণা শেষ করে পাটগ্রাম থেকে বড়খাতা বাড়বর উদ্দেশ্যে ফিরছিলাম। কিন্তু জোড়াপুকুর নামক এলাকায় পৌঁছানো মাত্রই আমাদের ওপর পরিকল্পিত ও কাপুরুষোচিত হামলা চালানো হয়েছে। আমার গাড়ি ভেঙে চুরমার করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আমাদের জানমালের কোনো নিরাপত্তা নেই। মাঠের পরিস্থিতি যদি এমন অস্থিতিশীল হয়, তবে সাধারণ ভোটাররা কেন্দ্রে যাওয়ার সাহস হারাবে। এমতাবস্থায় আদৌ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব কি না, তা নিয়ে আমি গভীর শঙ্কা প্রকাশ করছি।শিহাব আহমেদকে দেখতে তাৎক্ষণিক জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম রাজু বলেন,এটা ন্যাক্কারজনক ও জঘন্য কাজ। আমরা প্রশাসনকে আহবান করবো অতিদ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহন করতে।বিএনপির আহ্বায়ক মোশাররফ হোসেন তাকে দেখতে এসে বলেন,নির্বাচনকে বানচাল করার জন্য একটি পক্ষ এইকাজ করতে পারে।হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রমজান আলী জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই আমরা প্রার্থীর কাছে গিয়েছি এবং তার নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেছি। উত্তেজিত সমর্থকদের বুঝিয়ে সড়ক অবরোধ তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। বর্তমানে পরিবেশ আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।এসআর
    পঞ্চগড়-১ আসনে শেষ মুহূর্তে বদলে গেছে ভোটের সমীকরণ
    নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে পঞ্চগড়-১ আসনের নির্বাচনী হিসাব-নিকাশে শেষ মুহূর্তে পরিবর্তন এসেছে। শুরুতে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস থাকলেও এখন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির ও জামায়াত জোট সমর্থিত এনসিপির প্রার্থী সারজিস আলমের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ জাসদের কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজমুল হক প্রধানও মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। তিন প্রার্থীই নিজ নিজ কৌশলে প্রচার ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।এই আসনের আটোয়ারী উপজেলা দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। প্রতিটি নির্বাচনে এখানে আওয়ামী লীগ বেশি ভোট পেয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। উপজেলাটিতে হিন্দু ভোটারের সংখ্যাও তুলনামূলক বেশি। ফলে সাধারণ ভোটার, আওয়ামী লীগ সমর্থক, হিন্দু সম্প্রদায় ও তরুণ ভোটারদের সমর্থন পেতে চেয়ারম্যান-মেম্বারদের মাধ্যমে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন প্রার্থীরা। একই সঙ্গে সদর ও তেঁতুলিয়া উপজেলাতেও সমান তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, এসব ভোটের বড় অংশ যে প্রার্থীর দিকে যাবে, তার জয় অনেকটাই সহজ হবে।প্রথমদিকে বিএনপি প্রার্থী নওশাদ জমিরকে এগিয়ে রাখা হলেও জেলা জামায়াতের আমির ইকবাল হোসাইনসহ নেতাকর্মীদের সক্রিয় প্রচারে সারজিস আলমের পক্ষে সংগঠিত মাঠ তৈরি হয়েছে। এতে ভোটের সমীকরণে পরিবর্তন আসে এবং বিএনপি প্রার্থীর সামনে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়। তবে একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সমর্থক ও হিন্দু ভোটের একটি বড় অংশ নওশাদ জমিরের দিকেই যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।বর্তমানে বিভিন্ন এলাকায় নওশাদ জমির ও সারজিস আলমের প্রচার সমানতালে চলছে। সভা-সমাবেশে উন্নয়ন প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি চলছে পাল্টাপাল্টি সমালোচনাও। নওশাদ জমিরের পক্ষে তার বাবা, পঞ্চগড়-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার মুহাম্মদ জমির উদ্দিন সরকার সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) চিনিকল মাঠে জনসভা করবেন বলে জানা গেছে।এই আসনে আরও কয়েকজন প্রার্থী থাকলেও মাঠে তাদের তেমন প্রচার চোখে পড়ছে না। তারা হলেন- গণঅধিকার পরিষদের মাহাফুজার রহমান, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির আব্দুল ওয়াদুদ বাদশা, বাংলাদেশ লেবার পার্টির ফেরদাউস আলম এবং বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের সিরাজুল ইসলাম।প্রার্থীদের কর্মব্যস্ততা থাকলেও শহর ও গ্রামে আগের মতো নির্বাচনী উৎসব দেখা যাচ্ছে না। সাধারণ ভোটারদের মধ্যে উচ্ছ্বাসও কম। অনেকে কাজের পাশাপাশি প্রার্থীদের যোগ্যতা নিয়ে ভাবছেন। একই সঙ্গে গণভোট বিষয়ে স্পষ্ট ধারণার অভাব রয়েছে বলে জানিয়েছেন বেশির ভাগ ভোটার।পঞ্চগড় সদর উপজেলার ফুটকিবাড়ি এলাকার ভোটার নিজাম ব্যাপাড়ি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সমর্থিত ও হিন্দু ভোটের বড় অংশ বিএনপির দিকে যেতে পারে।’ গরিনাবাড়ি মাটিগাড়া গ্রামের রইসুল শেখ জানান, তাদের এলাকায় ধানের শীষ ও শাপলা কলি প্রতীকের উভয় পক্ষেরই সমর্থন রয়েছে।আটোয়ারীর হিন্দু সম্প্রদায়ের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমাদের অধিকাংশ ভোটার ভোট দিতে যাবেন এবং নিজেদের বিবেচনায় ভোট দেবেন।’আটোয়ারীর সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান তৌহিদুল ইসলাম জানান, প্রার্থীরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন, তবে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তেঁতুলিয়ার সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও পাথর শ্রমিক নেতা মুক্তারুল হক মুকু জানান, তাদের উপজেলায় বিএনপির অবস্থান শক্ত।ইখা
    ঈশ্বরদীতে হাজার হাজার নেতাকর্মী নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর গণমিছিল ও পথসভা
    পাবনার ঈশ্বরদীতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ও ১১ দলীয় ঐক্য সমর্থিত ৭১, পাবনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডলের সমর্থনে বিশাল গণমিছিল ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে পৌর শহরের আলহাজ্ব টেক্সটাইল মিলস স্কুল মাঠ থেকে গণমিছিলটি শুরু হয়।গণমিছিলটি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় আলহাজ্ব স্কুল মাঠে এসে শেষ হয়। আয়োজিত এই কর্মসূচিতে দলীয় নেতাকর্মীসহ হাজার হাজার সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. নুরুজ্জামান প্রামাণিকের সভাপতিত্বে গণমিছিল ও পথসভা শুরু হওয়ার আগে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পাবনা-৪ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল।বক্তব্যে তিনি বলেন, “আজকের এই গণমিছিলটি ঈশ্বরদীর ইতিহাসে স্মরণকালের সর্বোচ্চ উপস্থিতির গণমিছিল। এ মিছিলে জনগণের এমন উপস্থিতি বারবার প্রমাণ করছে দাঁড়িপাল্লার স্থান তাদের হৃদয়ে। সবাই একসুরে স্লোগান দিচ্ছে— ‘সব দল দেখা শেষ, দাঁড়িপাল্লার বাংলাদেশ’। দাঁড়িপাল্লা বিজয়ী হলে সমৃদ্ধিশালী দেশ গড়া হবে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি মানবিক ও সামাজিক দেশ গড়তে ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। আগামী ১২ তারিখ বিপুল ভোটে দাঁড়িপাল্লা জয়লাভ করবে, ইনশাআল্লাহ।”এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাবনা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ও আসন পরিচালক মাওলানা জহুরুল ইসলাম, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি এস এম সোহেল, তালিমুল কুরআন একাডেমি জেলা কমিটির সেক্রেটারি গোলাম রব্বানী খান জুবায়ের, ঈশ্বরদী উপজেলা ওলামা সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা রফিউদ্দিন খানসহ আরও অনেকে।আয়োজিত গণমিছিল ও পথসভাটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি সাইদুল ইসলাম।এনআই
    নওগাঁর ৭৮২টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে অর্ধেক কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ
    দ্বারপ্রান্তে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে বিরাজ করছে ব্যস্ততা ও উত্তেজনা। কে হবেন আগামী সংসদ সদস্য এ নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ ও আলোচনা। তবে বিজয়ী যেই হোন না কেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা সাধারণ ভোটারদের।নির্বাচনকে সামনে রেখে পরিবেশ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নওগাঁ জেলার ৭৮২টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩৬৪টিকে গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে জেলা পুলিশ। এসব কেন্দ্রে নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যদিও এখনো অনেক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন হয়নি। এমনকি কিছু প্রতিষ্ঠানের প্রধানরাও জানেন না আদৌ ক্যামেরা বসানো হবে কিনা।জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, নওগাঁ জেলার ৬টি সংসদীয় আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মোট ৩২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ২৩ লাখ ২৯ হাজার ৫৯২ জন। এর মধ্যে হিজড়া ভোটার রয়েছেন ২১ জন।জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ৩৬৪টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ ও সাধারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও অন্যান্য সংস্থার মতে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা ৪০০ ছাড়িয়ে গেছে। এ নিয়ে প্রার্থীদের মাঝেও দুশ্চিন্তা বাড়ছে।সোমবার মহাদেবপুর, মান্দা, বদলগাছী ও নওগাঁ সদর উপজেলার বেশ কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়। মহাদেবপুর উপজেলার নাটশাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দক্ষিণ পাশে বাউন্ডারি প্রাচীর না থাকায় এটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে সেখানে এখনো সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়নি।মান্দা উপজেলার খুদিয়াডাঙ্গা ও চকরাজাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোনো নিরাপত্তা প্রাচীর নেই। যদিও দুই দিন আগে সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। গোটগাড়ী শহীদ মামুন সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজে টিনের প্রাচীর রয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব সিসিটিভি ক্যামেরাও চালু আছে।বদলগাছী উপজেলার ঢেকরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চারদিকে বাউন্ডারি প্রাচীর থাকলেও স্থানীয় রাজনৈতিক উত্তেজনার আশঙ্কায় কেন্দ্রটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে সম্প্রতি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।নওগাঁ সদর উপজেলার বরুনকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাউন্ডারি প্রাচীর তুলনামূলক নিচু এবং এখনো সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন হয়নি। পশ্চিম নওগাঁ উচ্চ বিদ্যালয়ের উত্তর ও পূর্ব পাশে প্রাচীর না থাকলেও প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। বিদ্যালয়টিতে নিজস্ব সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে।নাটশাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আলো মাহাতা বলেন, কেন কেন্দ্রটি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে তা জানা নেই। অতীতে এখানে শান্তিপূর্ণভাবেই ভোটগ্রহণ হয়েছে। তবে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।মহাদেবপুর উপজেলার পিরগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা আতোয়ার রহমান বলেন, শুধু সিসিটিভি ক্যামেরা বসালেই দায়িত্ব শেষ হয় না। ভোটারদের নিরাপদে ভোট দেওয়া ও ঘরে ফেরার নিশ্চয়তা দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা আরও বাড়াতে হবে।গোটগাড়ী শহীদ মামুন সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ জহুরুল ইসলাম জানান, তাদের প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে এবং সবগুলো সচল রয়েছে। তবে নির্বাচন উপলক্ষে নতুন করে কোনো ক্যামেরা বসানো হয়নি।বরুনকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নাসিমা আকতার বলেন, মিটিংয়ে বলা হয়েছিল ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কিছুই দেখা যাচ্ছে না।নওগাঁ সদর উপজেলার পশ্চিম নওগাঁ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাসেম আলী বলেন, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা এসে পরিদর্শন করেছেন। কেন্দ্রটি ঝুঁকিপূর্ণ কিনা জানি না। আমাদের নিজস্ব কিছু সিসিটিভি ক্যামেরা আছে।প্রার্থীরাও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মো. আব্দুর রাকিব বলেন, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড প্রত্যাশা করেছিলাম। কিন্তু বাস্তবে তা দেখা যাচ্ছে না। প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা ও নিরপেক্ষ প্রশাসনিক ভূমিকা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।নওগাঁ-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী ডা. ইকরামুল বারী টিপু বলেন, ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে পারলে অনিয়ম ঠেকানো সম্ভব। তবে কিছু কেন্দ্রে ঝুঁকির আশঙ্কা রয়েছে, যা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের জামায়াত প্রার্থী আবু সাদাত মো. সায়েম বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে হবে।নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, ৩৬৪টি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ২৫৫টি অফলাইন ও ১০৯টি অনলাইন বডি-অন ক্যামেরা ব্যবহৃত হবে, যা কন্ট্রোল রুম থেকে পর্যবেক্ষণ করা যাবে। নির্বাচনে দুই হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে।জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, নওগাঁর সব ৭৮২টি ভোটকেন্দ্রেই পর্যায়ক্রমে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা সার্বক্ষণিক মাঠে থাকবেন। প্রার্থীদের অভিযোগ যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।পিএম
    ঈশ্বরদীতে মধ্যরাতে গুলিবর্ষণ, রাইফেলের ২৪ রাউন্ড গুলি উদ্ধার
    পাবনার ঈশ্বরদীতে মধ্যরাতে গুলিবর্ষণের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে একটি আধুনিক রাইফেলের ২৪ রাউন্ড তাজা গুলি এবং একটি পিস্তলের খালি ম্যাগজিন উদ্ধার করা হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণের মাত্র তিন দিন আগে এমন ঘটনায় স্থানীয়দের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী এলাকায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে পানি সরবরাহের জন্য নির্মাণাধীন ওয়াসা প্রকল্পে কর্মরত শ্রমিকদের আবাসিক কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। সেখান থেকেই গুলি ও ম্যাগজিন উদ্ধার করে যৌথ বাহিনী।এ ঘটনায় ওয়াসা প্রকল্পের সাব-ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প ব্যবস্থাপক গোলাম কিবরিয়া শাকিলের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন পাকশী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. মনিরুল ইসলাম।পুলিশ জানায়, গোলাম কিবরিয়া শাকিল পাবনার চরতারাপুর ইউনিয়নের বাঙ্গিডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের আওতায় নির্মাণাধীন ওয়াসা প্রকল্পে একটি সাব-ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।প্রকল্পের শ্রমিক ও প্রত্যক্ষদর্শী মামুন হোসেন বলেন, শাকিলের কাছে প্রায়ই বাইরের লোকজন আসতেন। ঘটনার রাতে তিনি অজ্ঞাত দুই ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে নিজের কক্ষে যান। কিছুক্ষণ পর কক্ষের ভেতর থেকে গুলির শব্দ শোনা যায়। এরপর শাকিলসহ ওই দুই ব্যক্তি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে কক্ষ থেকে বেরিয়ে দ্রুত চলে যান। পরে পুলিশ এসে কক্ষ তল্লাশি করে ২৪ রাউন্ড রাইফেলের গুলি ও একটি পিস্তলের ম্যাগজিন উদ্ধার করে।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মধ্যরাতে গুলির শব্দে পুরো পাকশী আবাসিক এলাকা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। তাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার, রূপপুর প্রকল্প ও ঈশ্বরদী ইপিজেডকেন্দ্রিক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, জমি দখল ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে এলাকায় আগেও অস্ত্রের মহড়া ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। নির্বাচনের আগে এমন ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে ভীতি তৈরি হয়েছে।তবে পাকশী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদের ঘটনা সরাসরি নির্বাচনসংক্রান্ত নয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দীর্ঘদিনের অস্ত্রধারী অপরাধী। ইয়াবা সেবনের সময় অসাবধানতাবশত রাইফেল থেকে গুলির বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে। ঘটনাস্থল থেকে ইয়াবা সেবনের আলামতও উদ্ধার করা হয়েছে।তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। জড়িতদের গ্রেপ্তার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।এ বিষয়ে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুল ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।ইখা
    ঈশ্বরদীতে এনসিপির প্রচার কাজে বাধার অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে
    পাবনার ঈশ্বরদীতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) গণভোটে ‘হ্যাঁ’ পক্ষের প্রচার ও লিফলেট বিতরণ কার্যক্রমে বাধা ও হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে। এ সময় লিফলেট বিতরণকারীদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া, হুমকি দেওয়া এবং হামলার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের আওতাপাড়া বাজারে পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী–আটঘরিয়া) আসনের এম্বাসেডর ড. এম এ মজিদের নেতৃত্বে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে গণসংযোগ চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় সাহাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক লিটন মাস্টার স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে সেখানে গিয়ে প্রচার কাজে বাধা দেন এবং এনসিপির কর্মীদের বিভিন্নভাবে হেনস্তা করেন।এ ঘটনায় সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে এনসিপির পক্ষ থেকে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।অভিযোগে বলা হয়, ড. এম এ মজিদসহ জুলাই যোদ্ধারা লিফলেট বিতরণ ও ‘হ্যাঁ’ ভোটের গুরুত্ব তুলে ধরার সময় লিটন মাস্টারসহ ১০–১৫ জনের একটি দল সেখানে গিয়ে বাধা দেয়। তারা লিফলেট কেড়ে নেয়, হুমকি দেয় এবং একপর্যায়ে কয়েকজনের মোবাইল ফোনও ছিনিয়ে নেয়। এ সময় গালিগালাজের ঘটনাও ঘটে।এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে পাবনা জেলা এনসিপির যুগ্ম সম্পাদক নূর উদ্দিন শফি কাজল বলেন, “নির্বাচনের আগে বিএনপির এমন আচরণ নিন্দনীয়। এ বিষয়ে আমরা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।”ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আরিফুর রহমান বলেন, “তারা সকালে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগটি রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”ইখা
    জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইছেন গণঅধিকার পরিষদের সাবেক নেতা
    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-৩ (চাটমোহর–ভাঙ্গুড়া–ফরিদপুর) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ১১ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী অধ্যাপক মাওলানা মুহাম্মাদ আলী আছগারের পক্ষে ভোট চেয়ে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করছেন গণঅধিকার পরিষদের ভাঙ্গুড়া উপজেলা শাখার সাবেক সভাপতি জাহিদুর রহমান খান দুলাল।বেশ কিছুদিন ধরে নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন স্থানে পথচারী ও সাধারণ মানুষের কাছে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করতে দেখা গেছে তাকে।জানা গেছে, গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর তিনি ভাঙ্গুড়া উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আলী আছগারের পক্ষে ভোট চাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে জাহিদুর রহমান খান দুলাল বলেন, “বাংলাদেশে পরিবর্তনের রাজনীতির আশায় আমরা গণঅধিকার পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছি। কিন্তু নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি হওয়ার পর বুঝতে পারি, আমাদের সেই আশা পুরোপুরি ভুল ছিল।”তিনি আরও বলেন, “পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যেই গণঅধিকার পরিষদ থেকে পদত্যাগ করেছি এবং এখন জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে কাজ করছি।”ইখা
    এবার নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন গণঅধিকার পরিষদের নুর
    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যখন প্রার্থী, কর্মী ও সমর্থকদের শেষ মুহূর্তের প্রচার তুঙ্গে, ঠিক সেই সময় নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা-জুড়ী) আসনে গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) মনোনীত ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী মো. আব্দুন নুর। তিনি দলটির কেন্দ্রীয় কর্মসূচি ও নিরাপত্তা বিষয়ক সহ-সম্পাদক।শুক্রবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে বড়লেখার একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী নাসির উদ্দিন আহমদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।এর আগে ওইদিন রাত পর্যন্ত তিনি দলের জেলা নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ চালান এবং ট্রাক প্রতীকের লিফলেট বিতরণ করেন।সংবাদ সম্মেলনে মৌলভীবাজার-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী নাসির উদ্দিন আহমদ মিঠুসহ উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।সংবাদ সম্মেলনে আব্দুন নুর বলেন, গণঅধিকার পরিষদের একজন তরুণ প্রার্থী হিসেবে তিনি দিন-রাত নির্বাচনি মাঠে কাজ করেছেন। এই সময়ে তিনি উপলব্ধি করেছেন, এলাকার মানুষ পরিবর্তনের আহ্বানে সাড়া দিচ্ছেন। এজন্য তিনি ভোটার ও সাধারণ মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা প্রকাশ করেন।তিনি আরও বলেন, বড়লেখা ও জুড়ীর ভোটারদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।আব্দুন নুর জানান, দলের সভাপতি ভিপি নুরুল হক নুরের বিএনপির সঙ্গে সমঝোতার সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে তিনি মৌলভীবাজার-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী আলহাজ্ব নাসির উদ্দিন আহমদ মিঠুকে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।এ সময় তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেন। আব্দুন নুর বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে কেন্দ্র দখলের ঘটনায় জড়িত একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে তিনি মামলা করেছিলেন। ওই ব্যক্তি ও তার সহযোগীরা তাকে নিয়মিত হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এমনকি তার নিজ এলাকার ভোটকেন্দ্র দখলের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন আব্দুন নুর।তিনি বলেন, নিজের জীবনের ঝুঁকি সম্পর্কে তিনি সচেতন। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে সে দায়ভার সংশ্লিষ্টদের নিতে হবে। তবে জীবনের পরোয়া না করেই মানুষের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তিনি অতীতেও ছিলেন, এখনও আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন বলে জানান তিনি। এফএস
    সুনামগঞ্জে ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ
    সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।  ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।বৃহস্পতিবার (০৫ ফেব্রুয়ারি)উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া।​বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, জেলা নির্বাচন অফিসার শেখ ওয়ালিদ ফয়েজ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল মতিন খান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং জেলা ও উপজেলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ।​প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া,নির্বাচনে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের জন্য কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনা, একই সাথে একটি উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনের জিরো টলারেন্স নীতির কথা স্মরণ করিয়ে দেন।​এই কর্মশালায় ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের নির্বাচনী আইন, বিধিনিষেধ এবং ভোটগ্রহণের টেকনিক্যাল বিষয় গুলো সম্পর্কে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। বিশেষ করে গণভোট ও সংসদ নির্বাচনের সমন্বিত ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতে সুনামগঞ্জ জেলার প্রতিটি উপজেলাতেই পর্যায়ক্রমে এই ধরণের সক্ষমতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ আয়োজন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক ডাঃ ইলিয়াস মিয়া।পিএম
    বিএনপির প্রার্থী রেজার ‘গলার কাঁটা’ বিদ্রোহী সুজাত
    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ জেলার সবচেয়ে আলোচিত আসন হয়ে উঠেছে হবিগঞ্জ–১ (বাহুবল–নবীগঞ্জ)। এই আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী, সদ্য দলে যোগ দেওয়া ড. রেজা কিবরিয়ার মুখোমুখি হয়েছেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সুজাত মিয়া। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হলেও মাঠে তার অবস্থান এখনো শক্ত।প্রবাসী অধ্যুষিত এই আসনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পাঁচজন প্রার্থী। বিএনপির প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়া ছাড়াও আলোচনায় রয়েছেন ১১–দলীয় জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের মাওলানা সিরাজুল ইসলাম।এ ছাড়া ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের প্রার্থী মোহাম্মদ বদরুর রেজা এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) প্রার্থী কাজী তোফায়েল আহমেদও নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন।তবে এই আসনে বিএনপি মনোনীত হেভিওয়েট প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়ার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়া। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় জেলার চারটি আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে হবিগঞ্জ–১ আসন ঘিরে।নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে প্রচার-প্রচারণায় সরগরম হয়ে উঠেছে ভোটের মাঠ। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন প্রার্থীরা। তবে বিএনপির দলীয় ও বিদ্রোহী দুই প্রার্থী থাকায় স্থানীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে বিভক্তি স্পষ্ট।পদ হারানোর আশঙ্কায় অনেক নেতা প্রকাশ্যে রেজা কিবরিয়ার সঙ্গে থাকলেও মাঠে অনেক কর্মীকে শেখ সুজাত মিয়ার সঙ্গেও দেখা যাচ্ছে। এ কারণে আসনটিতে রেজা ও সুজাতের মধ্যে জমজমাট লড়াইয়ের আভাস মিলছে।স্থানীয় ভোটারদের অনেকেই মনে করছেন, ধানের শীষের প্রার্থীর বিপরীতে অন্য কোনো দলের হেভিওয়েট প্রার্থী না থাকলেও নিজ দলের বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ সুজাতই এখন ড. রেজা কিবরিয়ার জন্য সবচেয়ে বড় ‘গলার কাঁটা’।প্রথমদিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে শেখ সুজাত মিয়া নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবেন—এমন গুঞ্জন শোনা গেলেও শেষ মুহূর্তে জামায়াতের শক্ত প্রার্থী শাহজাহান আলী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোয় তিনি আর প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি।অনেকের ধারণা, জামায়াতের কিছু ভোটও শেখ সুজাত মিয়ার ঝুলিতে যেতে পারে। সে কারণেই এই আসনে তাঁর অবস্থান বেশ শক্ত বলে মনে করছেন ভোটাররা।জানা গেছে, ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন শেখ সুজাত মিয়া। এরপর ২০১১ সালে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য দেওয়ান ফরিদ গাজীর মৃত্যুর পর অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনেও তিনি বিএনপির প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন। এবার তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন।মনোনয়নপত্র দাখিলের পর তাঁকে নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের গুঞ্জন থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি নির্বাচনী মাঠে থেকে যান। কেন্দ্রীয় বিএনপির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে এবার সংসদে যেতে চান শেখ সুজাত মিয়া।অন্যদিকে, সদ্য বিএনপিতে যোগ দিয়েই দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন ড. রেজা কিবরিয়া। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি এই আসন থেকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের (গণফোরাম) প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেছিলেন। তাঁর পিতা সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হওয়ায় এলাকাতেও রয়েছে পারিবারিক জনপ্রিয়তা। এ কারণে দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখছেন ভোটাররা।হবিগঞ্জ–১ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৬৬ হাজার ৯২১ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ৩০ হাজার ৩৪০ জন, পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩৬ হাজার ৫৭৬ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৫ জন।ইখা
    হবিগঞ্জে ৮৪ বছর ধরে পড়ে আছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের যুদ্ধবিমানের ধ্বংসাবশেষ
    হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার নিতনী বিল এলাকার হাওরে প্রায় ৮৪ বছর ধরে পড়ে আছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের একটি বিধ্বস্ত যুদ্ধবিমানের ধ্বংসাবশেষ। বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ধানক্ষেতের একাংশে পড়ে আছে যুদ্ধবিমানটির কিছু অংশ।স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৪২ সালের দিকে আশ্বিন মাসের এক সকালে কালিয়ারভাঙ্গা ও শ্রীমতপুর গ্রামের আকাশে একটি যুদ্ধবিমান কয়েকবার চক্কর দেয়। একপর্যায়ে বিকট শব্দে বিমানটি নিতনী বিলের হাওরে ভূপাতিত হয়। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে অনেকে ছুটে গেলেও ঘন ধোঁয়ার কারণে প্রথমে কিছুই দেখতে পাননি। পরে ধোঁয়া সরে গেলেও প্রায় ছয় দিন ধরে বিমানে আগুন জ্বলতে থাকে।বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার কিছুদিন পর নৌকায় করে অনেকেই সেখানে গিয়ে বিভিন্ন জিনিসপত্র সংগ্রহ করেন। এ সময় বিমানের ভেতরে থাকা একটি মিসাইল হঠাৎ বিস্ফোরিত হলে শ্রীমতপুর গ্রামের সাজিদ মিয়া ও খালেক মিয়া ঘটনাস্থলেই নিহত হন। ওই ঘটনার পর দীর্ঘদিন আতঙ্কে কেউ বিমানের কাছে যাননি বলেও জানান স্থানীয়রা। স্থানীয়দের দাবি, মাটির ওপর বিমানের সামান্য অংশ দৃশ্যমান হলেও এর বৃহৎ অংশ এখনো মাটির নিচে চাপা পড়ে আছে। দীর্ঘদিন ধরে কোনো রকম সংরক্ষণ না থাকায় ধ্বংসাবশেষের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ হয়ে পড়েছে।এলাকার শতবর্ষী কৃষক মাতাব মিয়া ও ইউসুফ মিয়াসহ কয়েকজন জানান, দুর্ঘটনার পর এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। বিস্ফোরণে কয়েকজন নিহত হওয়ার পর বহু বছর মানুষ ওই জায়গার পাশ দিয়েও যেতে ভয় পেতেন। এখনো ওই জমির কাছে গেলে তাদের চোখের সামনে সেই ভয়াবহ স্মৃতি ভেসে ওঠে।শ্রীমতপুর গ্রামের জানাল উদ্দিন ও মো. আলী মিয়া বলেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শন। যথাযথ উদ্যোগ নিলে বিমানটি উদ্ধার করে সংরক্ষণ করা সম্ভব। এতে নতুন প্রজন্ম দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সম্পর্কে জানতে পারবে।নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করব। বিধি মোতাবেক স্মৃতি হিসেবে জাদুঘরে নেওয়ার ব্যবস্থা করা সম্ভব হলে উপজেলা প্রশাসন সে উদ্যোগ নেবে। পিএম
    গোলাপগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় যুবক নিহত
    সিলেটের গোলাপগঞ্জে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকের নিচে পিষ্ট হয়ে শানাজ আহমদ (২৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে গোলাপগঞ্জ সরকারি এমসি একাডেমির সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত শানাজ বিশ্বনাথ উপজেলার শ্রীপুর রামপাশা গ্রামের মখন মিয়ার ছেলে। তিনি সিলেট নগরীর একটি পোল্ট্রি ফার্মের গাড়িচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সিলেট থেকে সহকর্মীদের সঙ্গে এক বিয়ের দাওয়াত খেতে গোলাপগঞ্জ পৌর এলাকার ফুলবাড়ি পূর্বপাড়া গ্রামে এসেছিলেন শানাজ। দাওয়াত খেয়ে অন্য একজনের মোটরসাইকেল নিয়ে তিনি গোলাপগঞ্জ পৌর শহরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে সরকারি এমসি একাডেমির সামনে পৌঁছালে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডিভাইডারের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এ সময় তিনি মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে ডিভাইডারের অপর প্রান্তে গিয়ে পড়েন। ঠিক সেই মুহূর্তে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের (ঢাকা মেট্রো-ট-১৮২৮৬৯) চাকার নিচে তিনি পিষ্ট হন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।খবর পেয়ে গোলাপগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল শেষে মরদেহ থানায় নিয়ে যান।গোলাপগঞ্জ মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অনুপম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।এনআই

    অনলাইন ভোট

    প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনের দিন গণভোট আয়োজন করা হবে। আপনি কি এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?

    আন্তর্জাতিক

    সব দেখুন
    লেবাননে ভবন ধসে ১৪ জন নিহত
    লেবাননের ত্রিপোলি শহরে ‍পাশাপাশি দুটি আবাসিক ভবন ধসে গেছে। দুর্ঘটনার পর আটজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া উদ্ধার অভিযান শেষে ১৪ জনের নিহতের খবর দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। এছাড়া কয়েকজন নিখোঁজ থাকতে পারেন। তবে ঠিক কতজন ভবন দুটিতে ছিলেন তা জানাতে পারেনি কেউ।সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) লেবাননের জাতীয় বার্তা সংস্থা (এনএনএ) সিভিল ডিফেন্স প্রধানের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে।সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ইমাদ ক্রেইস জানান, উত্তরাঞ্চলীয় শহরটির বাব আল-তাব্বানেহ পাড়ায় ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধারকর্মীরা ১৪টি মরদেহ উদ্ধার করেছেন এবং আটজনকে জীবিত উদ্ধার করেছেন।এর আগে রোববার কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন যে, পাশাপাশি অবস্থিত দুটি ভবন ধসে পড়েছে।ত্রিপোলি পৌর কাউন্সিলের প্রধান আবদেল হামিদ কারামেহ জানান, কতজন নিখোঁজ আছেন সে সংখ্যা তিনি নিশ্চিত করতে পারছেন না। তবে লেবাননের সিভিল ডিফেন্স উদ্ধার পরিষেবার প্রধান এর আগে জানিয়েছিলেন, ওই দুটি ভবনে মোট ২২ জন বাসিন্দা বসবাস করতেন।রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে স্থানীয় কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, লেবাননের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর ত্রিপোলিতে গত কয়েক সপ্তাহে বেশ কিছু পুরনো আবাসিক ভবন ধসে পড়েছে। এসব ঘটনা মূলত জরাজীর্ণ অবকাঠামো এবং দীর্ঘ বছরের অবহেলার চিত্রই ফুটিয়ে তুলছে।সূত্র: আরব নিউজ।এবি 
    মরার আগেই ‘মৃত্যুর ঘোষণাপত্র’ এপস্টেইনের
    মরার একদিন আগেই ‘মৃত্যুর ঘোষণাপত্র’ তৈরি করা হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টেইনের। এমনটাই উঠে এসেছে এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথিপত্রে। মার্কিন বিচার বিভাগের প্রকাশিত নথিপত্র অনুযায়ী, ম্যানহাটানের তৎকালীন মার্কিন অ্যাটর্নি জিওফ্রে এস বারম্যানের নামে এই বিবৃতির খসড়া ২০১৯ সালের ৯ আগস্টে প্রস্তুত করা হয়। অথচ এপস্টেইনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় ১০ আগস্ট। এনডিটিভি। খসড়া বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, এপস্টেইনকে কারাকক্ষে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায় এবং পরে মৃত ঘোষণা করা হয়। এছাড়া উলে­খ করা হয়েছিল-এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের আদালতে ন্যায়বিচার প্রভাবিত হতে পারে, তবে অন্যান্য তদন্ত যেমন : ষড়যন্ত্রমূলক অভিযোগ চালিয়ে যাওয়ার কথাও বলা হয়েছিল। নথিতে একাধিক সংস্করণে নাম, ফোন নম্বরসহ অন্যান্য তথ্য ভিন্নভাবে গোপন করা হয়েছিল। প্রকাশিত নথি অনুসারে, এপস্টেইনকে তার কারাকক্ষে কমলা রঙের কোনো চাদর বা শার্ট দিয়ে ফাঁস দেওয়ার মাধ্যমে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত্যু ‘আত্মহত্যা’ হিসাবে ঘোষণা করা হলেও এ নিয়ে দীর্ঘদিন বিতর্ক ও বিশ্লেষণ চলছে। সিবিএসনিউজের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ৯ আগস্ট রাত ১০টা ৩৯ মিনিটে কারাগারের নজরদারি ক্যামেরায় একটি কমলা রঙের অবয়ব নড়াচড়া করতে দেখা গেছে, যা সম্ভবত একজন কয়েদি বা সংশোধনাগারের কর্মকর্তা হতে পারে। প্রকাশিত নথিতে এপস্টেইনকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধারের পরের ছবি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ১০ আগস্ট ভোর ৬টা ৪৯ মিনিটে চিকিৎসকরা তাকে স্ট্রেচারে বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন, তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর মৃত ঘোষণা করা হয়। কিছু ছবিতে তার নাম ভুলভাবে ‘জেফারি’ লেখা হয়েছিল। নিউইয়র্কের মেডিকেল পরীক্ষার ৮৯ পৃষ্ঠার ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে এপস্টেইনের থাইরয়েডের তরুণাস্থি ফেটে যাওয়ার বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। এই নথি ও ছবি প্রকাশের মাধ্যমে এপস্টেইনের মৃত্যু নিয়ে আরও রহস্য এবং বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।এবি 
    ১০ বছরের মধ্যে চাঁদে শহর গড়তে চান মাস্ক
    চাঁদে মানুষের স্থায়ী বসতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে শহর গড়ে তুলতে চায় স্পেসএক্স। বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের মালিকানাধীন এই সংস্থা জানিয়েছে, আগামী দশ বছরের মধ্যেই চাঁদের পৃষ্ঠে মানব বসতি তৈরির প্রস্তুতি সম্পন্ন হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে মঙ্গল গ্রহে মানুষ পাঠানোর স্বপ্ন দেখালেও আপাতত সেই পরিকল্পনাকে সাময়িকভাবে পিছিয়ে রেখে চাঁদকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে স্পেসএক্স।এক্স-এ করা এক পোস্টে মাস্ক বলেন, স্পেসএক্স এখন চাঁদে একটি স্বনির্ভর শহর তৈরির দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। এটি দশ বছরেরও কম সময়ে বাস্তবায়ন করা সম্ভব জানিয়ে তিনি যোগ করেন, গ্রহগুলোর অবস্থানের কারণে মঙ্গলে পৌঁছাতে উৎক্ষেপণের সুযোগ ২৬ মাস পরপর আসে। কিন্তু চাঁদের ক্ষেত্রে প্রায় প্রতি ১০ দিন পরেই উৎক্ষেপণ করা যায়। এই লজিস্টিক সুবিধাই কৌশলগত পরিবর্তনের অন্যতম কারণ বলে ব্যাখ্যা করেন তিনি।তবে মঙ্গল অভিযানের স্বপ্ন পুরোপুরি বাতিল করা হয়নি। মাস্ক স্পষ্ট করেছেন, দীর্ঘমেয়াদে মঙ্গল গ্রহে মানব বসতি গড়ে তোলা এখনও স্পেসএক্সের লক্ষ্য। তার মতে, আগামী পাঁচ থেকে সাত বছরের মধ্যে মঙ্গল অভিযানের প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু করা হতে পারে। যদিও অতীতে মঙ্গলযাত্রার সময়সীমা বারবার পরিবর্তন হওয়ায় সমালোচকদের একাংশ মাস্কের ঘোষণাকে সতর্ক দৃষ্টিতে দেখছেন।স্পেসএক্স বর্তমানে মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসার অন্যতম প্রধান ঠিকাদার। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের চন্দ্র অভিযানে জোর দেয়ার নীতির সঙ্গেও এই নতুন পরিকল্পনার মিল রয়েছে। নাসার আর্টেমিস কর্মসূচির আওতায় ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে আবার নভোচারীদের চাঁদের পৃষ্ঠে পাঠানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, যদিও প্রযুক্তিগত কারণে সময়সূচি কয়েকবার পিছিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্পেসএক্সের নির্মীয়মাণ চন্দ্রযানের ল্যান্ডার পুরোপুরি প্রস্তুত না হওয়ায় আরও বিলম্বের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না।চাঁদে পৌঁছনো ও সেখানে পরিকাঠামো তৈরি করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল প্রকল্প। বিভিন্ন প্রতিবেদনে অনুমান করা হয়েছে, সরকারি সংস্থাগুলোকে চাঁদের কক্ষপথে পৌঁছাতে ১০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি খরচ হতে পারে, আর বেসরকারি যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে প্রতিটি আসনের ব্যয় ১০০ মিলিয়ন থেকে ৭৫০ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে হতে পারে।১৯৬৯ সালে অ্যাপোলো ১১ মিশনে নীল আর্মস্ট্রং প্রথম চাঁদে পা রাখেন—সেই ঐতিহাসিক অভিযানের খরচ আজকের মূল্যে প্রায় ২৫০ বিলিয়ন ডলারের সমান ধরা হয়। এই বিপুল ব্যয়ের পরও মাস্কের দাবি, চাঁদের নিকটবর্তী অবস্থান ভবিষ্যতে দ্রুত ও তুলনামূলকভাবে কার্যকর মানব বসতি স্থাপনের পথ খুলে দিতে পারে।সূত্র: রয়টার্সএবি 
    দক্ষিণ কোরিয়ায় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত ২
    দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রশিক্ষণ উড়ানের সময় একটি সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় একজন সেনাসদ্য ও এক প্রশিক্ষকসহ ২ জন নিহত হয়েছেন।সোমবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় বেলা ১১টার কিছু পরে গ্যাপিয়ং জেলায় বিধ্বস্ত হয় সেটি।দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত উড়ানের কিছুক্ষণের মধ্যেই হেলিকপ্টারটি ভূমিতে আছড়ে পড়ে। এ সময় কপ্টারটিতে দু’জন চালক ছিলেন। বিধ্বস্ত হওয়ার পর তাদের দু’জনকেই গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।উভয়েই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিরক্ষা বাহিনীর বিবৃতিতে। দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে বলা হয়েছে, ইঞ্জিন বন্ধ না করে জরুরি অবতরণের প্রশিক্ষণ চলার সময় হেলিকপ্টারটিতে গোলযোগ দেখা দিয়েছিল এবং তার জেরেই সেটি আছড়ে পড়ে।দুর্ঘটনার পর অনির্দিষ্টকালের জন্য বহরের সব এএইচ-১এস কোবরার যাবতীয় অপারেশন স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনী।এমআর-২
    অস্ট্রেলিয়ায় ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের সফর ঘিরে ব্যাপক বিক্ষোভ
    অস্ট্রেলিয়ায় ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হার্জোগের সফর ঘিরে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছে। গত বছর দেশটির বন্ডি সমুদ্র সৈকতে ইহুদিদের একটি উৎসবে হামলার ঘটনায় এই সম্প্রদায়ের প্রতি সংহতি প্রকাশের লক্ষ্যে দেশটিতে চারদিনের সফর করছেন তিনি। কিন্তু গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যাকে কেন্দ্র করে অস্ট্রেলিয়ার সাধারণ মানুষ তার এই সফর ঘিরে প্রতিবাদ জানিয়েছে। খবর আল জাজিরার।অস্ট্রেলিয়ার অনেকেই তার এই সফরে ক্ষুব্ধ। কারণ হার্জোগ গাজায় বহু বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত। দীর্ঘদিন ধরেই গাজায় ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে ইসরায়েল।সোমবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ফিলিস্তিনপন্থি গোষ্ঠীগুলো দেশজুড়ে বিক্ষোভের আয়োজন করেছে। সিডনিতে হাজার হাজার মানুষ শহরের কেন্দ্রীয় একটি চত্বরে জড়ো হয়ে বক্তৃতা শুনছিল এবং ফিলিস্তিনের পক্ষে স্লোগান দিচ্ছিল।সিডনির ৩০ বছর বয়সী বিক্ষোভকারী জ্যাকসন এলিয়ট জানান, বন্ডি গণহত্যা ভয়াবহ ছিল, কিন্তু আমাদের অস্ট্রেলিয়ান নেতৃত্বের কাছ থেকে ফিলিস্তিনি জনগণ এবং গাজার জনগণের প্রতি কোনো স্বীকৃতি পাওয়া যায়নি। হার্জোগ দখলদারিত্ব সম্পর্কে সব প্রশ্ন এড়িয়ে গেছেন এবং বলেছেন যে এই সফর অস্ট্রেলিয়া এবং ইসরায়েলের মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে।তার এই সফর ঘিরে শহরজুড়ে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া একাধিক হেলিকপ্টার টহল দিতে দেখা গেছে এবং কর্মকর্তারা ঘোড়ায় চড়ে টহল দিচ্ছিলেন। তার এই সফরের সময় সিডনিজুড়ে প্রায় তিন হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করার কথা রয়েছে।এমআর-২
    ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে ৫৩ অভিবাসীর মৃত্যু
    লিবিয়ার উপকূলে একটি রাবারের নৌকা ডুবে কমপক্ষে ৫৩ অভিবাসী নিখোঁজ হয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের সকলের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।আইওএম জানায়, ৫৫ আরোহী বহনকারী নৌকাটি গত ৬ ফেব্রুয়ারি উত্তর-পশ্চিম লিবিয়ার উপকূলীয় শহর জুয়ারার উত্তরে ভূমধ্যসাগরে উল্টে যায়। দুর্ঘটনার পর মাত্র দুইজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।সংস্থাটি বলছে, উদ্ধার হওয়া দুইজনকে তীরে নামানোর পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে জরুরি চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হয়েছে।আইওএমের বরাতে জানা যায়, জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, নৌকাটিতে বিভিন্ন আফ্রিকান দেশের শরণার্থী ও অভিবাসীরা ছিলেন। নৌকাটি ৫ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক ১১টার দিকে উত্তর-পশ্চিম লিবিয়ার আল-জাওইয়া এলাকা থেকে যাত্রা শুরু করে এবং প্রায় ছয় ঘণ্টা পর সাগরে ডুবে যায়।আইওএমের ‘মিসিং মাইগ্র্যান্টস প্রজেক্টের’ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে এখন পর্যন্ত বিপজ্জনক সেন্ট্রাল মেডিটেরানিয়ান রুটে অন্তত ১ হাজার ৩০০ জন মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন। সর্বশেষ এই দুর্ঘটনার ফলে চলতি বছর এই পথে মৃত বা নিখোঁজ শরণার্থী ও অভিবাসীর সংখ্যা বেড়ে কমপক্ষে ৪৮৪ জনে দাঁড়িয়েছে।আইওএমের বিবৃতিতে বলা হয়, শুধু জানুয়ারি মাসেই চরম আবহাওয়ার মধ্যে সেন্ট্রাল মেডিটেরানিয়ানে একাধিক ‘অদৃশ্য’ নৌকাডুবির ঘটনায় অন্তত ৩৭৫ জন অভিবাসী মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন। প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে, কারণ অনেক মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্তই হয়নি।সংস্থাটি সতর্ক করে জানায়, এসব বারবার ঘটতে থাকা দুর্ঘটনা প্রমাণ করে যে ইউরোপে পৌঁছানোর আশায় এই বিপজ্জনক সমুদ্রপথ পাড়ি দিতে গিয়ে শরণার্থী ও অভিবাসীরা এখনও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছেন।এমআর-২
    ফের উত্তপ্ত মণিপুর, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ
    নতুন মুখ্যমন্ত্রী দায়িত্বগ্রহণের মাত্র ৪ দিনের মধ্যে ভারতের মণিপুরে ফের দাঙ্গা শুরু হয়েছে। রবিবার (০৮ ফেব্রুয়ারি) উখরুলের লিতান গ্রামে অন্তত ২৩টি বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিয়েছে দাঙ্গাকারীরা।ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে’র বরাতে জানা যায়, উখরুলের লিতান গ্রামে নাগা জনগোষ্ঠীর এক যুবকের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে রোববার। এ অভিযোগের জেরে রোববার সন্ধ্যা থেকেই সংঘর্ষ বাঁধে নাগা ও কুকি জনগোষ্ঠীর মধ্যে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সে সসময় টিয়ার শেল ছুড়ে দাঙ্গাকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা।ভারতের বৃহত্তম বার্তাসংস্থা পিটিআই জানায়, সংঘাতের সময়ে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলির আওয়াজ পাওয়া গেছে।উত্তেজনা প্রশমনে সন্ধ্যা সাতটায় লিতান ও তার সংলগ্ন এলাকাগুলোতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। এক বিবৃতিতে নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা বলবৎ থাকবে বলেও উল্লেখ করা হয়।কিন্তু রোববার মধ্যরাতে পরিস্থিতি ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নাগা সম্প্রদায়ের অন্তত ২৩টি বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ ওঠে কুকি সম্প্রদায়ের বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে।মণিপুর রাজ্য পুলিশ প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, সংঘাত কবলিত লিতান গ্রাম ও তার আশপাশের এলাকার পরিস্থিতি এখনও থমথমে। সম্ভাব্য উত্তেজনা নিয়ন্ত্রনে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। আপাতত ক্ষয়ক্ষতির হিসেব কষা চলছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।রবিবার সন্ধ্যা থেকে নাগা এবং কুকি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। জানা যাচ্ছে, নাগা জনগোষ্ঠীর এক যুবকের উপর হামলার অভিযোগ ওঠে রবিবার। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ, কুকি জনগোষ্ঠীর সশস্ত্র বিদ্রোহীরাই এই হামলা চালিয়েছে। ওই উত্তেজনা ক্রমে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের আকার নেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে রবিবারই উখরুল জেলার লিটন গ্রামে নিরাপত্তাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটান নিরাপত্তাবাহিনীর জওয়ানেরা। পিটিআই জানাচ্ছে, ওই উত্তেজনার মাঝে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি চলার শব্দ পাওয়া গিয়েছে।উল্লেখ্য, ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুর জাতিগত বৈচিত্রে ভরপুর। বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের লোকজন পরস্পরের প্রতি সদ্ভাব বজায় রেখে বসবাস করলেও ২০২৩ সালে তাতে বড় ধরনের ছন্দপতন ঘটে। ওই বছর মে মাসে দাঙ্গা শুরু হয় রাজ্যের দুই বড় নৃগোষ্ঠী হিন্দু ধর্মাবলম্বী মেইতেই এবং খৃস্টান ধর্মাবলম্বী কুকিদের মধ্যে।প্রায় দুই বছর ধরে চলা সেই দাঙ্গায় উভয় সম্প্রদায়ের আড়াই শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন আহত হয়েছেন আরও বহুসংখ্যক। সংঘাত নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার দায় নিয়ে ২০২৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি পদত্যাগ করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বীরেন সিং। তিনি পদত্যাগ করার পর মণিপুরে রাষ্ট্রপতির শাসন জারি করা হয়।প্রায় এক বছর রাষ্ট্রপতিশাসন চলার পর গত ৪ ফেব্রুয়ারি মণিপুরের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বিজেপির মণিপুর রাজ্য শাখার জ্যেষ্ঠ নেতা ইউমনাম খেমচাঁদ সিং। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র চার দিনের মাথায় দাঙ্গা শুরু হলো উখরুলে। এবার দাঙ্গা বেঁধেছে কুকি ও নাগা জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে।এমআর-২
    চাঁদে শহর গড়ার রূপরেখা দিলেন ইলন মাস্ক
    স্পেস-এক্স প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক মঙ্গল গ্রহ জয়ের স্বপ্নকে আপাতত কিছুটা সরিয়ে রেখে চাঁদে মানুষের স্থায়ী শহর গড়ার লক্ষ্যকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। সোমবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে মাস্ক জানান, এখন থেকে তার কোম্পানির প্রধান লক্ষ্য হবে আগামী ১০ বছরের মধ্যে চাঁদে একটি ‘স্ব-বর্ধিষ্ণু শহর’ গড়ে তোলা। এর আগে তিনি মঙ্গল গ্রহে একই ধরণের বসতি স্থাপনের জন্য ২০ বছরের সময়সীমা নির্ধারণ করেছিলেন, যা এখন দ্বিতীয় সারির লক্ষ্যে পরিণত হয়েছে।মাস্কের এই নাটকীয় পরিবর্তনের পেছনে মূলত কৌশলগত ও গাণিতিক কারণ কাজ করছে। তিনি ব্যাখ্যা করেছেন যে পৃথিবীর কক্ষপথ ও মঙ্গলের অবস্থানের কারণে প্রতি ২৬ মাস অন্তর মাত্র একবার সেখানে যাওয়ার সুযোগ পাওয়া যায় এবং যেতে সময় লাগে প্রায় ছয় মাস। বিপরীতে, প্রতি ১০ দিন অন্তর চাঁদে মহাকাশযান পাঠানো সম্ভব এবং সেখানে পৌঁছাতে সময় লাগে মাত্র দুই দিন। তিনি মনে করেন, মানব সভ্যতাকে সুরক্ষিত রাখতে এবং পৃথিবীর বাইরে বিকল্প বাসস্থান গড়ে তোলার ক্ষেত্রে চাঁদে বসতি স্থাপন অনেক দ্রুত ও কার্যকর একটি পদক্ষেপ হবে। তবে তিনি পরিষ্কার করেছেন যে মঙ্গল জয়ের স্বপ্ন তিনি একেবারে ত্যাগ করেননি; আগামী ৫ থেকে ৭ বছরের মধ্যে সেখানেও কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।ইলন মাস্কের এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এল যখন তিনি মার্কিন রাজনীতির প্রভাবশালী ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছেন এবং নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনেও তার বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। এর আগে নাসা-র চন্দ্রাভিযান কর্মসূচি ‘আর্টেমিস’-কে একটি ‘বিক্ষোভ’ বা সময়ের অপচয় বলে সমালোচনা করলেও, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এবং মার্কিন সরকারের বিশাল অংকের চুক্তির কারণে তিনি তার অবস্থান পরিবর্তন করেছেন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। বিশেষ করে নাসার চন্দ্রযান তৈরির জন্য স্পেস-এক্সের প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি রয়েছে।বর্তমানে স্পেস-এক্সের বিশাল রকেট সিস্টেম ‘স্টারশিপ’ উন্নয়নের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, যা কয়েকবার পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের সময় বিস্ফোরিত হয়েছে। অন্যদিকে, জেফ বেজোসের ব্লু অরিজিন-ও নাসার চন্দ্রাভিযান প্রকল্পে স্পেস-এক্সের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে কাজ করছে। চীনের সঙ্গে মহাকাশ দৌড়ে জয়ী হতে নাসা ২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠাতে চায় এবং সেই লক্ষ্যে আগামী মার্চ মাসেই তারা আর্টেমিস-২ মিশন পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। মাস্কের এই নতুন অগ্রাধিকার মহাকাশ গবেষণার এই প্রতিযোগিতাকে আরও ত্বরান্বিত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।এমআর-২
    অস্ত্র সমর্পণের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান হামাসের
    ফিলিস্তিন তথা গাজা উপত্যকায় শান্তি ফেরাতে নিরস্ত্রীকরণ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাস। গতকাল রোববার দোহায় আলজাজিরা ফোরামের দ্বিতীয় দিনে দেওয়া এক বক্তব্যে হামাসের শীর্ষ নেতা খালেদ মিশাল হামাসের অস্ত্র সমর্পণের আলোচনাকে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র প্রতিরোধকে নিষ্ক্রিয় করার শতাব্দীপ্রাচীন প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর যুক্তি, ইসরায়েলের দখলকৃত গাজার জনগণের কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়া তাদের সহজে নির্মূল করার মতো শিকারে পরিণত করবে।বক্তব্যে খালেদ মিশাল বলেন, ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি দখলদারিত্ব অব্যাহত থাকা অবস্থায় হামাসকে নিরস্ত্র করার বিষয়ে আলোচনা আমাদের জনগণকে এমন এক শিকারে পরিণত করবে। যদি আমরা এটি নিয়ে কথা বলতে চাই, তবে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন, যা গাজা পুনর্গঠন এবং সেখানে ত্রাণ সহায়তা প্রদান করতে হবে। শুধু তাতেই গাজা এবং জায়নবাদী সত্তার মধ্যে যুদ্ধ যেন ফের শুরু না হয়, তা নিশ্চিত করবে। অস্ত্র সমর্পণের প্রস্তাব বিষয়ে মিশাল বলেন, এটি একটি যৌক্তিক দৃষ্টিভঙ্গি। হামাস মধ্যস্থতাকারী কাতার, তুরস্ক এবং মিসরের মাধ্যমে আমেরিকানদের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনা করেছে। এ বিষয়ে হামাসের দৃষ্টিভঙ্গি একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে বা সমঝোতা হয়েছে। তবে এটি এমন কিছু, যার জন্য প্রচুর প্রচেষ্টার প্রয়োজন। এর আগে গত জানুয়ারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ করতে চেষ্টা করেছিলেন। যদি তা করতে ব্যর্থ হন, তাহলে হামাসকে তিনি পরিণতি ভোগ করারও হুমকি দিয়েছিলেন। তবে হামাস বলছে, যতক্ষণ ইসরায়েল গাজা দখল করে রাখবে, ততক্ষণ তারা অস্ত্র ত্যাগ করবে না। এদিকে একই ফোরামে ইসরায়েলের কড়া সমালোচনা করেছেন বিভিন্ন দেশের নেতারা। জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং কর্মকর্তারা গত শনিবার সতর্ক করেছেন, এই সংঘাত আন্তর্জাতিক নিয়মের পতনকে ত্বরান্বিত এবং আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য পুনর্গঠন করছে। তবে এটিও লক্ষ্য করা গেছে যে, এটি ফিলিস্তিনি সংকটকে বৈশ্বিক কূটনীতির কেন্দ্রে ফিরিয়ে এনেছে।এদিকে ইসরায়েল কয়েক ডজন ফিলিস্তিনি নাগরিকের মরদেহ এবং দেহাংশ গাজায় ফেরত পাঠিয়েছে। তবে এই মৃতদেহগুলো কাদের বা কীভাবে তাদের মৃত্যু হয়েছে, সে সম্পর্কে কোনো তথ্যই দেওয়া হয়নি। গত বুধবার সাধারণ সাদা ব্যাগে মোড়ানো এই দেহাবশেষগুলো গাজার আল-শিফা হাসপাতালে এসে পৌঁছায়। বর্তমানে ফরেনসিক দলগুলো মরদেহগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। তাদের উদ্দেশ্য হলো মৃত ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত করা এবং দীর্ঘকাল ধরে শোকাতুর ও অপেক্ষারত পরিবারগুলোকে একটি পরিষ্কার উত্তর দেওয়া।আল-শিফা হাসপাতালের ফরেনসিক কর্মকর্তা ওমর সুলেমান বলেন, আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি ১২০টি মরদেহের ব্যাগ হস্তান্তর করেছে। যার মধ্যে ৫৪টি মৃতদেহ এবং ৬৬টি আলাদা ব্যাগে মাথার খুলির নমুনা ছিল।গাজা পুনর্গঠনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের গঠিত তথাকথিত শান্তি পর্ষদের প্রথম বৈঠক আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি হতে পারে। এক মার্কিন কর্মকর্তা এবং বোর্ডের সদস্য চারটি দেশের কূটনীতিকরা এ তথ্য জানিয়েছেন বলে খবর প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস। খবরে বলা হয়, গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়ন এগিয়ে নিতে এবং গাজা পুনর্গঠনের জন্য অর্থ সংগ্রহের কার্যক্রম শুরু করতে এই বৈঠককে কাজে লাগাতে চায় হোয়াইট হাউস। এবি 
    চলতি বছরেই যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাবেন চীনা প্রেসিডেন্ট
    চলতি বছরের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাবেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং। বিশ্বের শীর্ষ দুই অর্থনীতির মধ্যে চলমান বাণিজ্য যুদ্ধ ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই নতুন এই তথ্য জানান খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এই ঘোষণা দেন। সাক্ষাৎকারের কিছু অংশ গতকাল রোববার প্রচারিত হয়। ট্রাম্প বলেন, ‘হ্যাঁ, তিনি (শি জিন পিং) বছরের শেষ নাগাদ হোয়াইট হাউসে আসছেন। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দুটি দেশের হিসেবে আমাদের সম্পর্ক বর্তমানে অত্যন্ত চমৎকার।’২০২৬ সালের এপ্রিলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে। সেই সফরের কয়েক মাস পরেই সি চিন পিং ফিরতি সফরে যুক্তরাষ্ট্রে যাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।গত বুধবার দুই নেতার মধ্যে এক দীর্ঘ ফোনালাপ হয়। সেখানে বাণিজ্য সংঘাত ছাড়াও তাইওয়ান ইস্যু, ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ ও ইরান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ফোনালাপ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের মধ্যে চমৎকার আলোচনা হয়েছে। আমরা দুজনেই বুঝি, এই সুসম্পর্ক বজায় রাখা কতটা জরুরি।’এদিকে চীনা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভি জানায়, আলাপে শি জিন পিং তাইওয়ানের কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে ট্রাম্পকে ‘সতর্ক’ থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে দ্বিপাক্ষীয় বাণিজ্য সমস্যাগুলো বন্ধুত্বপূর্ণ উপায়ে সমাধানের আশাবাদ ব্যক্ত করে শি বলেছেন, ‘ধাপে ধাপে পারস্পরিক আস্থা তৈরির মাধ্যমে দুই দেশ একত্রে চলার সঠিক পথ খুঁজে পাবে।’দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই চীনা পণ্যের ওপর ব্যাপক শুল্ক আরোপ করে আসছেন ট্রাম্প। বিশেষ করে ইস্পাত ও অটোমোবাইল খাতে তার কঠোর শুল্ক নীতি বেইজিংয়ের সঙ্গে ওয়াশিংটনের উত্তেজনা বাড়িয়েছে।অন্যদিকে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে বেইজিং আপাতত এই নিরস্ত্রীকরণ আলোচনায় যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।তথ্যসূত্র: সিএনএএবি 

    বিনোদন

    সব দেখুন
    সৌদি বিমানবন্দরে পূর্ণিমাকে দেখে তরুণের কাণ্ড
    ওমরাহ পালন করতে কিছুদিন আগে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন পূর্ণিমা। সেখানের একটি অভিজ্ঞতা শেয়ার করলেন অভিনেত্রী। গতকাল একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন তিনি।ভিডিওটিতে দেখা যায়, সৌদিতে অবস্থানকালে বিমানবন্দরে এক যুবকের মুখোমুখি হন পূর্ণিমা।সেখানে কথা বলার এক পর্যায়ে ওই যুবক পূর্ণিমাকে উদ্দেশ্য করে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘চেহারা দেখে তো একদম পূর্ণিমা আপুর মতো লাগছে।’  সরাসরি নিজের প্রশংসা শুনে স্বভাবসুলভ হাস্যোজ্জ্বল ভঙ্গিতে প্রতিক্রিয়া জানান এই অভিনেত্রী। মজার ছলে পূর্ণিমা বলেন, ‘আমাকেও সবাই বলে, আমার চেহারা নাকি দেখতে পূর্ণিমার মতো লাগে।’তাদের এই কথোপকথনের ভিডিওটি সামাজিক  মাধ্যমে আসার পর থেকেই অনুরাগী ও সাধারণ নেটিজেনরা বেশ উপভোগ করছেন।মন্তব্যের ঘরে কেউ কেউ বলছেন, চিরযৌবনা এই নায়িকার চেহারার উজ্জ্বলতা যেন সময়ের সঙ্গে আরও বাড়ছে। ইবাদতের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন পূর্ণিমা। সেখান থেকে মাঝে মাঝেই বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও শেয়ার করে ভক্তদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ঢাকাই সিনেমার অন্যতম এই শীর্ষ নায়িকা দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য কালজয়ী সিনেমা উপহার দিয়েছেন।বর্তমানে সিনেমার কাজ কমিয়ে দিলেও বিশেষ বিশেষ কাজ ও অনুষ্ঠানের উপস্থাপনায় তাকে প্রায়ই দেখা যায়।এইচএ
    জহির রায়হানকে একুশে পদক উৎসর্গ করলেন ববিতা
    গত ৫ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার একুশে পদকপ্রাপ্তদের তালিকা। চলতি বছর এ তালিকায় সর্বমোট ৯ জন ও একটি প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে। এরমধ্যে শোবিজেরই রয়েছে ৪ উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম। অভিনয়ের জন্য এ বছর একুশে পদক পাচ্ছেন ববিতা। তিনি তার পদকটি উৎসর্গ করেছেন প্রয়াত নির্মাতা জহির রায়হানকে। সংবাদ মাধ্যমকে ববিতা বলেন, ‘অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা আমার ভক্ত-দর্শকের প্রতি। তারা সব সময়ই আমার কাজে অনুপ্রেরণা দিয়েছেন, ভালো-মন্দের খোঁজ নিয়েছেন। তাদের অনুপ্রেরণাতেই আমি আজকের ববিতা। কৃতজ্ঞতা সংবাদমাধ্যমের প্রতি। আমার অভিনয়জীবনের শুরু থেকে সংবাদমাধ্যম সব সময় আমার পাশে ছিল।’তিনি আরও বলেন, ‘শ্রদ্ধেয় শহীদ জহির রায়হানের হাত ধরেই আমার অভিনয়ে আসা, চলচ্চিত্রে আসা, তাই আমার একুশে পদকটি তাকেই শ্রদ্ধার সঙ্গে উৎসর্গ করছি।’ ১৯৭৫ সালে ‘বাদী থেকে বেগম’ সিনেমাতে অভিনয়ের জন্য প্রথম শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান ববিতা। এরপর ১৯৭৬ সালে ‘নয়নমণি’ সিনেমার জন্য এবং ১৯৭৭ সালে ‘বসুন্ধরা’ সিনেমার জন্য তিনি একই সম্মাননা লাভ করেন।এরপর ‘রামের সুমতি’,‘ হাছন রাজা’, ‘পোকামাকড়ের ঘরবসতি’ (শ্রেষ্ঠ প্রযোজক হিসেবে), ‘কে আপন কে পর’ সিনেমার জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান তিনি। চলচ্চিত্রে অবদানের জন্য ২০১৬ সালে তিনি আজীবন সম্মাননায় ভূষিত হন। এছাড়া সংগীতে বিশেষ অবদানের জন্য প্রয়াত সংগীতশিল্পী আইয়ুব বাচ্চুও পাচ্ছেন একুশে পদক সম্মাননা। নৃত্যে বিশেষ অবদানের জন্য অর্থি আহমেদ পাচ্ছেন এবারের একুশে পদক। সংগীত দুনিয়ার জনপ্রিয় ব্যান্ডদল ওয়ারফেইজেরও নাম আছে চলতি বছরের একুশে পদকপ্রাপ্তদের তালিকায়। এইচএ
    শাকিব-বুবলীর ঘরে আসছে নতুন অতিথি
    ফের বাবা-মা হতে যাচ্ছেন ঢাকাই সিনেমার আলোচিত অভিনেতা শাকিব খান ও চিত্রনায়িকা শবনম ইয়াসমিন বুবলী। প্রথম সন্তানের জন্মের ৫ বছর পর ফের মাতৃত্বের পথে হাঁটছেন তিনি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তিনি ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনো প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি এই নায়িকা।গত বছরের শেষের দিকে ছেলেকে নিয়ে শাকিব খানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ ছুটি কাটান বুবলী। তখন তাদের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে কথা ওঠে। অনেকেই বলতে শুরু করেন শাকিব-বুবলী ফের এক হতে যাচ্ছেন। এরই মধ্যে সম্প্রতি বুবলীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার গুঞ্জন ওঠে। এটা গুঞ্জন হিসেবে চলতে শুরু করার মাঝেই জানা গেল ঘটনার সত্যতা। শাকিব ও বুবলীর ঘরে শেহজাদ খান বীর নামে এক সন্তান রয়েছে। শাকিব খানের পরামর্শেই সন্তান জন্ম দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের এই অভিনেত্রী।বুবলী ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা তাই ‘ঢাকাইয়া দেবদাস’ সিনেমার শুটিং করতে চাইছেন না বুবলী। প্রথম দফায় আদর আজাদের বিপরীতে ৪ দিন শুটিংয়ে অংশও নিয়েছিলেন। দ্বিতীয় লটের শুটিংয়ের জন্য শিডিউল দিচ্ছিলেন না। সন্তান জন্মের পর শারীরিকভাবে ফিট হয়ে বাকি অংশের শুটিংয়ে অংশ নেবেন বলে প্রযোজক-পরিচালককে জানিয়েছেন বুবলী।সিনেমাটির প্রযোজক জাহাঙ্গীর সিকদার একটি সংবাদমাধ্যমে বলেন, সিনেমার প্রথম লটে ৪ দিনের শুটিং হয়েছে। দ্বিতীয় লটে রোজার মধ্যে শুটিং থাকলেও বুবলীকে ছাড়া বাকি কাজ শেষ করতে হবে। সন্তান জন্ম দিতে এই মাসেই তিনি আমেরিকায় যাচ্ছেন। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী জুনে শিডিউল দিলেও আমরা ধারণা করছি, তখন তিনি পুরোপুরি ফিট নাও হতে পারেন। তাই সেপ্টেম্বরের দিকে শুটিংয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।জানা গেছে, এখন বুবলী শুটিং করছেন না ঝুঁকির কারণে। তবে আগামীকাল রাজধানীর একটি শপিং কমপ্লেক্সে হাজির হবেন বুবলী। একটি আউটলেট-এর ওপেনিং সেরেমনি হবে বুবলীর হাত ধরে। সেখানেই বুবলী জানাতে পারেন মা হতে যাওয়ার বিষয়টি।এদিকে আরেকটি সূত্র বলছে, বুবলী সন্তান জন্ম দিতে এ মাসেই উড়াল দেবেন যুক্তরাষ্ট্রে। শেহজাদ খান বীরেরও জন্ম হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রে। ২০২০ সালের ২১ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রে পুত্রসন্তানের জন্ম দেন বুবলী। এ খবর ফেসবুকে ছবি শেয়ার করে বুবলী নিজেই সামনে আনেন। তবে তার আগে নানা নাটকীতায় অংশ নেন তিনি। মা হওয়ার খবর কেন্দ্র করে সাংবাদিকদেরও হুমকি দিয়েছিলেন অভিনেত্রী। তবে শেষ পর্যন্ত মা হওয়ার গুঞ্জনই সত্যি হয়েছিল। এবারও দেখানো পথেই হাটছেন বুবলী। বর্তমানে এই অভিনেত্রীর ‘পিনিক’ সিনেমাটি মুক্তির অপেক্ষায়। সর্বশেষ তাকে ‘জংলি’ সিনেমায় দেখা গেছে।এইচএ
    কেন বিয়ে করতে পারছেন না অভিনেত্রী সাফা?
    সহকর্মীরা অনেকেই সংসারী হয়েছেন, কিন্তু সাফা কবির কবে বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন? এই প্রশ্ন বারবার ধেয়ে আসে তার দিকে। তবে অভিনেত্রী সাফ জানিয়ে দিলেন, বিয়ে নিয়ে তার কোনো তাড়াহুড়ো নেই। বয়স বাড়ছে বা লোকে কী বলবে এসব ভেবে তিনি জীবনসঙ্গী বাছতে নারাজ।সাফা জানান, পরিবার থেকে তার ওপর কোনো চাপ নেই। বাবা-মা তাকে সবসময় পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছেন। তার কথায়, “হুটহাট বিয়ে করে কিছুদিন পর ভেঙে যাওয়ার চেয়ে আস্থার সঙ্গে বিয়ে করাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”কেমন পাত্র চান সাফা? উত্তরে অভিনেত্রী জানান, চেহারা বা বাহ্যিক সৌন্দর্য তার কাছে মুখ্য নয়। তিনি এমন একজন ‘ভালো মানুষ’ খুঁজছেন যিনি সৎ, স্বচ্ছ এবং যত্নশীল হবেন। যার সঙ্গে জীবনটা আরামে কাটানো যাবে, তেমন মানুষের খোঁজ পেলেই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি।এসআর

    অর্থ-বাণিজ্য

    সব দেখুন
    ভোটের আগে দেশের রিজার্ভ বেড়ে ৩৪ বিলিয়ন ডলার
    আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের আগে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় বা রিজার্ভ ৩৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।সোমবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এসব তথ্য জানিয়েছেন। প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বাড়ায় রিজার্ভ বাড়ছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, ৯ ফেব্রুয়ারি দিন শেষে দেশের গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ০৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম–৬ অনুযায়ী রিজার্ভ হয়েছে ২৯ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার।তথ্য বলছে, চলতি বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে প্রবাসীরা দেশে ৩১৭ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন, যা ডলার সংকট কমাতে সাহায্য করেছে। একই সঙ্গে, ব্যাংকগুলো থেকে অতিরিক্ত ডলার কেনার ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ বেড়েছে। চলতি ফেব্রুয়ারিতেও প্রবাসী আয়ের উল্লম্ফন অব্যাহত রয়েছে। ফেব্রুয়ারির প্রথম ৮ দিনে এক বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।  এদিকে প্রবাসী আয়ের উল্লম্ফনের ফলে ব্যাংকগুলোতে ডলারের উদ্বৃত্ত সৃষ্টি হওয়ায় ডলারের মূল্য কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বৈদেশিক মুদ্রার যোগান-চাহিদার ভারসাম্য ঠিক রাখতে এবং মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা আনতে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছ থেকে ডলার কিনছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সোমবার ১৯ ব্যাংক থেকে ২০ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মাল্টিপল প্রাইস অকশন (এমপিএ) পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত এ ক্রয়ে ডলারের এক্সচেঞ্জ রেট ও কাট-অফ রেট উভয়ই ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা।সবমিলিয়ে চলতি অর্থবছরে (২০২৫-২৬) এখন পর্যন্ত বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ৪৭৩ কোটি মার্কিন ডলার ( ৪.৭৩ বিলিয়ন ডলার) কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।সর্বশেষ ২০২২ সালে দেশের ডলার বাজার অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। তখন প্রতি ডলারের দাম ৮৫ টাকা থেকে বেড়ে ১২২ টাকায় পৌঁছায়। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক নানা পদক্ষেপ নিলেও ডলার বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। একপর্যায়ে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি শুরু করতে হয়। এরপরও বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসেনি।বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, তিন অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রায় ৩৪ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করে। এর মধ্যে ২০২১-২২ অর্থবছরে সাত দশমিক ছয় বিলিয়ন ডলার, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১২ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করা হয়। অথচ এ সময়ে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে কেনা হয়েছে মাত্র এক বিলিয়ন ডলারের মতো।তবে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অর্থপাচার বন্ধে বর্তমান সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেয়। এতে রপ্তানি ও প্রবাসী আয়– উভয়ই বেড়েছে। ফলে ডলারের সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। সরবরাহ বাড়লেও সে অনুযায়ী চাহিদা না থাকায় স্বাভাবিকভাবে ডলারের দাম কমে যাওয়ার কথা। তবে, ডলার বাজার স্থিতিশীল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিজ উদ্যোগে বাজার থেকে ডলার কিনছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, বর্তমানে বাজারে ডলারের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি রয়েছে। ডলারের দাম যেন অস্বাভাবিকভাবে কমে না যায়, সেজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার কিনে বাজারে ভারসাম্য বজায় রাখছে। ডলারের দর কমে গেলে প্রবাসী আয় ও রপ্তানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ডলার কেনার ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বেড়েছে বলে জানান তিনি।এমআর-২
    নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রেখে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা
    সরাসরি-বেসরকা‌রি ঋণ প্রবৃ‌দ্ধি বাড়িয়ে ও নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রেখে চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের (জানুয়ারি–জুন)  মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে কঠোর (সংকোচনশীল) মুদ্রানীতির অবস্থান বজায় রেখে নীতি সুদহার ১০ শতাংশেই অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।আজ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে তৃতীয় ও শেষ মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জনের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে মুদ্রানীতি প্রণয়ন ও প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় মুদ্রানীতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ ঋণ, মুদ্রা সরবরাহ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ, বৈদেশিক সম্পদ কতটুকু বাড়বে বা কমবে এর একটি পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বছরে দুইবার ('জানুয়ারি-জুন' ও 'জুলাই-ডিসেম্বর' সময়ের জন্য) মুদ্রানীতি নীতি ঘোষণা করে।কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, চলতি অর্থবছর গড় মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য ঠিক করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। যদিও এখন মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশে রয়েছে।বাংলাদেশ ব্যাংক সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২২ অক্টোবর প্রধান নীতি সুদহার রেপো ৫০ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করে। মূলত ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে সরকারি সিকিউরিটিজ বন্ধক রেখে রেপোর বিপরীতে স্বল্পমেয়াদি ঋণ নেয়।অন্যদিকে, নতুন মুদ্রানীতিতে আন্তঃব্যাংক ধার নেওয়ার ক্ষেত্রে নীতি সুদহার স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ অপরিবর্তিত থাকছে। এছাড়া স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) ৮ শতাংশ থেকে নামিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে। ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে টাকা রাখার ক্ষেত্রে এ সুদহার প্রযোজ্য হয়। গভর্নর জানান, আমরা চাই ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকে টাকা না রেখে বিনিয়োগে যাক। তাই এসডিএফ কমানো হয়েছে; আগামীতে আরও কমানো হবে। বেসরকারি খাতে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা আগের মুদ্রানীতিতে বেশি থাকলেও তা পূরণ হয়নি। কিন্তু নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিনিয়োগ বাড়তে পারে এমন প্রত্যাশায় নতুন ছয় মাসের মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি সামান্য বাড়া‌নো হ‌য়েছে। ডিসেম্বর পর্যন্ত বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ৬ দশমিক ১ শতাংশ। আগামী জুন পর্যন্ত বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৮ দশ‌মিক ৫ শতাংশ নেওয়ার লক্ষ‌্য ঠিক করা হয়েছে।একইভাবে সরকারি খাতেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ঋণ কিছুটা কম হয়েছে। নতুন মুদ্রানীতিতে এই খাতে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ২১ দশ‌মিক ৬ শতাংশ ধরা হয়েছে। গত অর্থবছরে সরকারি ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ২০ দশমিক ৫ শতাংশ ধরা হলেও ডিসেম্বর পর্যন্ত নিয়েছিল ২৮ দশমিক ৯ শতাংশ।এইচএ
    আজ রাত ১২টা থেকে ইন্টারনেট ব্যাংকিং বন্ধ থাকবে ৪ দিন
    আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা (এমএফএস) ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন বন্ধ থাকবে ৪ দিন। বিকাশ, রকেট ও নগদসহ সব এমএফএস প্ল্যাটফর্মে একবারে সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা (শুধু পিটুপি) পাঠানো যাবে।এছাড়া, দিনে সর্বোচ্চ ১০বার লেনদেন করা যাবে, যার মোট সীমা হবে ১০ হাজার টাকা।গতকাল রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে। নির্দেশনা অনুযায়ী, সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত এ সীমা কার্যকর থাকবে। একই সময়ে ব্যাংকের অ্যাপ ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি অর্থ স্থানান্তর বন্ধ থাকবে।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট থেকে জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সোমবার দিনগত রাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত মোট ৯৬ ঘণ্টা এমএফএস ও পিপিআই (প্রিপেইড ইনস্ট্রুমেন্ট) লেনদেনে বিশেষ সীমা কার্যকর থাকবে।বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, এ সময়ে ব্যক্তি পর্যায়ে পিয়ার-টু-পিয়ার (পি-টু-পি) লেনদেনে একবারে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা পাঠানো যাবে এবং দৈনিক লেনদেনের সংখ্যা সর্বোচ্চ ১০টিতে সীমাবদ্ধ থাকবে। তবে মার্চেন্ট পেমেন্ট ও ইউটিলিটি বিল পরিশোধে বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী লেনদেন চলবে। এছাড়া এমএফএসের মাধ্যমে অন্যান্য সব ধরনের লেনদেন সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে।নির্বাচন উপলক্ষে এমএফএস সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে প্রতিটি মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ ‘কুইক রেসপন্স সেল’ গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এছাড়া নির্ধারিত সময়ে সব ধরনের লেনদেনের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি (ক্লোজ মনিটরিং) চালানো হবে। সন্দেহজনক বা অস্বাভাবিক লেনদেনের ক্ষেত্রে দ্রুত সংশ্লিষ্ট থানায় রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। এ সময় পি-টু-পি ইন্টারনেট (আইবিএফটির মাধ্যমে লেনদেন) ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে লেনদেনও সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চাহিদা অনুযায়ী এমএফএস ও ব্যাংকগুলো প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করবে। নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হলে স্বাভাবিক লেনদেন কার্যক্রম পুনরায় চালু হবে বলে জানানো হয়।এইচএ
    আবারও স্বর্ণের দাম ভরিতে বাড়লো ২ হাজার ২১৬ টাকা
    দাম কমানোর এক দফা পরই দেশের বাজারে ফের স্বর্ণের দাম বাড়নোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি।আজ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। আজ সকাল ১০টা থেকেই নতুন এ দাম কার্যকর হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৯ হাজার ১৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৩ হাজার ৫৬৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।এর আগে, সবশেষ ৭ ফেব্রুয়ারি বিকেলে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সে সময় ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি।এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ২৮ বার সমন্বয় করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম ১৮ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে ১০ দফা।স্বর্ণের দাম বাড়ানো হলেও দেশের বাজারে অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৩৫৭ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৬ হাজার ৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ১৯০ টাকা ও সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ৯০৭ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।এইচএ
    চট্টগ্রাম বন্দরের লাগাতার ধর্মঘট স্থগিত ঘোষণা
    চট্টগ্রাম বন্দরের লাগাতার ধর্মঘট স্থগিত করেছে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় এক বিজ্ঞপ্তিতে ধর্মঘট স্থগিতের ঘোষণা দেয়া হয়।বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের দুই সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর ও ইব্রাহীম খোকনের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও পবিত্র রমজানে পণ্য খালাসের স্বার্থে ধর্মঘট কর্মসূচি সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। তবে বন্দর কর্মচারীদের গ্রেপ্তার, হয়রানিমূলক বদলি, সাময়িক বরখাস্তসহ পাঁচটি সমস্যা সমাধান না হলে ১৬ ফেব্রুয়ারি আবার কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।প্রসঙ্গত, গত ৩১ জানুয়ারি থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার ভার বিদেশি অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেয়ার প্রক্রিয়া বাতিলসহ চার দফা দাবিতে টানা ছয়দিন কর্মবিরতি পালন করেন শ্রমিক-কর্মচারিরা। এরপর শুক্র ও শনিবার স্থগিত ছিল কর্মসূচি। এরমধ্যে ১৫ কর্মচারির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার পর আবারও কর্মসূচিতে ফিরে আন্দোলনকারীরা। দুদিনের বিরতির পর গতকাল রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে আবারও লাগাতার ধর্মঘটের ডাক দেয় বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। এদিন বন্ধ ছিল বহির্নোঙরের কার্যক্রমও। এতে পুরো বন্দর অচল হয়ে পড়ে।এবি 
    নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই নির্বাচনের আগে সরকারি দপ্তরে নতুন গাড়ি কেনার অনুমোদন
    নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সরকারি দপ্তরে নতুন গাড়ি কেনার অনুমোদন দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। ৯ জেলার এসিল্যান্ডের গাড়ির জন্য ১১ কোটি ১৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।আর্থিক সংকটে গত ৪ বছর ধরে সরকারি দপ্তরে নতুন গাড়ি কেনা বন্ধ রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর বিধিনিষেধের ফাঁকফোকরে আমলারা বায়নার পসরা সাজালেও প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে তেমন সাড়া মেলেনি। এরমধ্যেই নির্বাচনের মাসখানেক আগে সরকারি দপ্তরে গাড়ি কেনার মূল্যসীমা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়।এদিকে সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে ভোটের মাঠ চষে বেড়াতে কর্মকর্তাদের জন্য নতুন গাড়ি কেনার কথা জানায় ভূমি মন্ত্রণালয়। অবশেষে ভোটের কয়েকদিন আগে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই নতুন গাড়ি কেনার অনুমোদন দিলো অর্থ মন্ত্রণালয়।আপাতত ৯ জেলার সহকারী কমিশনারদের (এসিল্যান্ড) দেয়া হচ্ছে কেবিন পিকআপ। প্রতিটি গাড়ির দাম ধরা হয়েছে ৮৬ লাখ টাকা। যেখানে অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে এসে গুণতে হবে বাড়তি ১১ কোটি ১৮ লাখ টাকা।এবি 
    এবার বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক কমাল যুক্তরাষ্ট্র
    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রেসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি) চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ।সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।নতুন চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর শুল্ক কমিয়ে ১৯ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। আর যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত তুলা ও কৃত্রিম তন্তু দিয়ে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে রেসিপ্রোকাল শূন্য শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। আর যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত তুলা ও কৃত্রিম তন্তু দিয়ে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে রেসিপ্রোকাল শূন্য শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।চুক্তি স্বাক্ষরের সময় বাংলাদেশের পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ সহকারী লুৎফে সিদ্দিকী, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান।এর আগে বাণিজ্য উপদেষ্টা শুল্কহ্রাসের আশা ব্যক্ত করে বলেছিলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছিলাম যে আরও কত কমানো যায়। আশা করছি ৯ তারিখে যে চুক্তি হবে, তাতে তা (শুল্কহার) কমবে। তবে কতটুকু কমবে, তা এই মুহূর্তে আমি বলতে চাচ্ছি না বা পারছি না। আমরা আলোচনার ভিত্তিতে তা দেখব।এফএস
    ভোটের আগে দেশের রিজার্ভ বেড়ে ৩৪ বিলিয়ন ডলার
    আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের আগে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় বা রিজার্ভ ৩৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।সোমবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এসব তথ্য জানিয়েছেন। প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বাড়ায় রিজার্ভ বাড়ছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, ৯ ফেব্রুয়ারি দিন শেষে দেশের গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ০৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম–৬ অনুযায়ী রিজার্ভ হয়েছে ২৯ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার।তথ্য বলছে, চলতি বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে প্রবাসীরা দেশে ৩১৭ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন, যা ডলার সংকট কমাতে সাহায্য করেছে। একই সঙ্গে, ব্যাংকগুলো থেকে অতিরিক্ত ডলার কেনার ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ বেড়েছে। চলতি ফেব্রুয়ারিতেও প্রবাসী আয়ের উল্লম্ফন অব্যাহত রয়েছে। ফেব্রুয়ারির প্রথম ৮ দিনে এক বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।  এদিকে প্রবাসী আয়ের উল্লম্ফনের ফলে ব্যাংকগুলোতে ডলারের উদ্বৃত্ত সৃষ্টি হওয়ায় ডলারের মূল্য কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বৈদেশিক মুদ্রার যোগান-চাহিদার ভারসাম্য ঠিক রাখতে এবং মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা আনতে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছ থেকে ডলার কিনছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সোমবার ১৯ ব্যাংক থেকে ২০ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মাল্টিপল প্রাইস অকশন (এমপিএ) পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত এ ক্রয়ে ডলারের এক্সচেঞ্জ রেট ও কাট-অফ রেট উভয়ই ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা।সবমিলিয়ে চলতি অর্থবছরে (২০২৫-২৬) এখন পর্যন্ত বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ৪৭৩ কোটি মার্কিন ডলার ( ৪.৭৩ বিলিয়ন ডলার) কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।সর্বশেষ ২০২২ সালে দেশের ডলার বাজার অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। তখন প্রতি ডলারের দাম ৮৫ টাকা থেকে বেড়ে ১২২ টাকায় পৌঁছায়। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক নানা পদক্ষেপ নিলেও ডলার বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। একপর্যায়ে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি শুরু করতে হয়। এরপরও বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসেনি।বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, তিন অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রায় ৩৪ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করে। এর মধ্যে ২০২১-২২ অর্থবছরে সাত দশমিক ছয় বিলিয়ন ডলার, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১২ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করা হয়। অথচ এ সময়ে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে কেনা হয়েছে মাত্র এক বিলিয়ন ডলারের মতো।তবে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অর্থপাচার বন্ধে বর্তমান সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেয়। এতে রপ্তানি ও প্রবাসী আয়– উভয়ই বেড়েছে। ফলে ডলারের সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। সরবরাহ বাড়লেও সে অনুযায়ী চাহিদা না থাকায় স্বাভাবিকভাবে ডলারের দাম কমে যাওয়ার কথা। তবে, ডলার বাজার স্থিতিশীল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিজ উদ্যোগে বাজার থেকে ডলার কিনছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, বর্তমানে বাজারে ডলারের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি রয়েছে। ডলারের দাম যেন অস্বাভাবিকভাবে কমে না যায়, সেজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার কিনে বাজারে ভারসাম্য বজায় রাখছে। ডলারের দর কমে গেলে প্রবাসী আয় ও রপ্তানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ডলার কেনার ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বেড়েছে বলে জানান তিনি।এমআর-২
    নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রেখে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা
    সরাসরি-বেসরকা‌রি ঋণ প্রবৃ‌দ্ধি বাড়িয়ে ও নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রেখে চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের (জানুয়ারি–জুন)  মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে কঠোর (সংকোচনশীল) মুদ্রানীতির অবস্থান বজায় রেখে নীতি সুদহার ১০ শতাংশেই অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।আজ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে তৃতীয় ও শেষ মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জনের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে মুদ্রানীতি প্রণয়ন ও প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় মুদ্রানীতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ ঋণ, মুদ্রা সরবরাহ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ, বৈদেশিক সম্পদ কতটুকু বাড়বে বা কমবে এর একটি পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বছরে দুইবার ('জানুয়ারি-জুন' ও 'জুলাই-ডিসেম্বর' সময়ের জন্য) মুদ্রানীতি নীতি ঘোষণা করে।কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, চলতি অর্থবছর গড় মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য ঠিক করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। যদিও এখন মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশে রয়েছে।বাংলাদেশ ব্যাংক সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২২ অক্টোবর প্রধান নীতি সুদহার রেপো ৫০ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করে। মূলত ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে সরকারি সিকিউরিটিজ বন্ধক রেখে রেপোর বিপরীতে স্বল্পমেয়াদি ঋণ নেয়।অন্যদিকে, নতুন মুদ্রানীতিতে আন্তঃব্যাংক ধার নেওয়ার ক্ষেত্রে নীতি সুদহার স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ অপরিবর্তিত থাকছে। এছাড়া স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) ৮ শতাংশ থেকে নামিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে। ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে টাকা রাখার ক্ষেত্রে এ সুদহার প্রযোজ্য হয়। গভর্নর জানান, আমরা চাই ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকে টাকা না রেখে বিনিয়োগে যাক। তাই এসডিএফ কমানো হয়েছে; আগামীতে আরও কমানো হবে। বেসরকারি খাতে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা আগের মুদ্রানীতিতে বেশি থাকলেও তা পূরণ হয়নি। কিন্তু নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিনিয়োগ বাড়তে পারে এমন প্রত্যাশায় নতুন ছয় মাসের মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি সামান্য বাড়া‌নো হ‌য়েছে। ডিসেম্বর পর্যন্ত বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ৬ দশমিক ১ শতাংশ। আগামী জুন পর্যন্ত বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৮ দশ‌মিক ৫ শতাংশ নেওয়ার লক্ষ‌্য ঠিক করা হয়েছে।একইভাবে সরকারি খাতেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ঋণ কিছুটা কম হয়েছে। নতুন মুদ্রানীতিতে এই খাতে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ২১ দশ‌মিক ৬ শতাংশ ধরা হয়েছে। গত অর্থবছরে সরকারি ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ২০ দশমিক ৫ শতাংশ ধরা হলেও ডিসেম্বর পর্যন্ত নিয়েছিল ২৮ দশমিক ৯ শতাংশ।এইচএ
    আজ রাত ১২টা থেকে ইন্টারনেট ব্যাংকিং বন্ধ থাকবে ৪ দিন
    আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা (এমএফএস) ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন বন্ধ থাকবে ৪ দিন। বিকাশ, রকেট ও নগদসহ সব এমএফএস প্ল্যাটফর্মে একবারে সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা (শুধু পিটুপি) পাঠানো যাবে।এছাড়া, দিনে সর্বোচ্চ ১০বার লেনদেন করা যাবে, যার মোট সীমা হবে ১০ হাজার টাকা।গতকাল রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে। নির্দেশনা অনুযায়ী, সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত এ সীমা কার্যকর থাকবে। একই সময়ে ব্যাংকের অ্যাপ ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি অর্থ স্থানান্তর বন্ধ থাকবে।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট থেকে জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সোমবার দিনগত রাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত মোট ৯৬ ঘণ্টা এমএফএস ও পিপিআই (প্রিপেইড ইনস্ট্রুমেন্ট) লেনদেনে বিশেষ সীমা কার্যকর থাকবে।বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, এ সময়ে ব্যক্তি পর্যায়ে পিয়ার-টু-পিয়ার (পি-টু-পি) লেনদেনে একবারে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা পাঠানো যাবে এবং দৈনিক লেনদেনের সংখ্যা সর্বোচ্চ ১০টিতে সীমাবদ্ধ থাকবে। তবে মার্চেন্ট পেমেন্ট ও ইউটিলিটি বিল পরিশোধে বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী লেনদেন চলবে। এছাড়া এমএফএসের মাধ্যমে অন্যান্য সব ধরনের লেনদেন সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে।নির্বাচন উপলক্ষে এমএফএস সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে প্রতিটি মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ ‘কুইক রেসপন্স সেল’ গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এছাড়া নির্ধারিত সময়ে সব ধরনের লেনদেনের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি (ক্লোজ মনিটরিং) চালানো হবে। সন্দেহজনক বা অস্বাভাবিক লেনদেনের ক্ষেত্রে দ্রুত সংশ্লিষ্ট থানায় রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। এ সময় পি-টু-পি ইন্টারনেট (আইবিএফটির মাধ্যমে লেনদেন) ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে লেনদেনও সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চাহিদা অনুযায়ী এমএফএস ও ব্যাংকগুলো প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করবে। নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হলে স্বাভাবিক লেনদেন কার্যক্রম পুনরায় চালু হবে বলে জানানো হয়।এইচএ
    আবারও স্বর্ণের দাম ভরিতে বাড়লো ২ হাজার ২১৬ টাকা
    দাম কমানোর এক দফা পরই দেশের বাজারে ফের স্বর্ণের দাম বাড়নোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি।আজ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। আজ সকাল ১০টা থেকেই নতুন এ দাম কার্যকর হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৯ হাজার ১৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৩ হাজার ৫৬৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।এর আগে, সবশেষ ৭ ফেব্রুয়ারি বিকেলে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সে সময় ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি।এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ২৮ বার সমন্বয় করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম ১৮ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে ১০ দফা।স্বর্ণের দাম বাড়ানো হলেও দেশের বাজারে অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৩৫৭ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৬ হাজার ৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ১৯০ টাকা ও সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ৯০৭ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।এইচএ
    চট্টগ্রাম বন্দরের লাগাতার ধর্মঘট স্থগিত ঘোষণা
    চট্টগ্রাম বন্দরের লাগাতার ধর্মঘট স্থগিত করেছে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় এক বিজ্ঞপ্তিতে ধর্মঘট স্থগিতের ঘোষণা দেয়া হয়।বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের দুই সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর ও ইব্রাহীম খোকনের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও পবিত্র রমজানে পণ্য খালাসের স্বার্থে ধর্মঘট কর্মসূচি সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। তবে বন্দর কর্মচারীদের গ্রেপ্তার, হয়রানিমূলক বদলি, সাময়িক বরখাস্তসহ পাঁচটি সমস্যা সমাধান না হলে ১৬ ফেব্রুয়ারি আবার কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।প্রসঙ্গত, গত ৩১ জানুয়ারি থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার ভার বিদেশি অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেয়ার প্রক্রিয়া বাতিলসহ চার দফা দাবিতে টানা ছয়দিন কর্মবিরতি পালন করেন শ্রমিক-কর্মচারিরা। এরপর শুক্র ও শনিবার স্থগিত ছিল কর্মসূচি। এরমধ্যে ১৫ কর্মচারির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার পর আবারও কর্মসূচিতে ফিরে আন্দোলনকারীরা। দুদিনের বিরতির পর গতকাল রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে আবারও লাগাতার ধর্মঘটের ডাক দেয় বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। এদিন বন্ধ ছিল বহির্নোঙরের কার্যক্রমও। এতে পুরো বন্দর অচল হয়ে পড়ে।এবি 

    শিক্ষাঙ্গন

    সব দেখুন
    ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষিদ্ধ হাসিনার নির্বাচনের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে: হামিম
    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের আশপাশে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ সিদ্ধান্ত হাসিনার নির্বাচনের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ছাত্রদল নেতা শেখ তানভীর বারী হামিম। তিনি ইসির এমন সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেন।সোমবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এমন মন্তব্য করেন তিনি।পোস্টে হামিম লিখেন, ‘ভোটকেন্দ্র সীমানার ৪০০ গজের মধ‍্যে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ সিদ্ধান্তটি সেই মিউজিয়ামে থাকা হাসিনার নির্বাচনের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।’তিনি বলেন, ‘ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোনের অনুমতি দিলে যারা নকল সিল বানিয়েছে ইতোমধ্যে ধরা পড়েছে, সেই দলটির এ ধরনের কাজ সম্পাদন সহজে হবে না। যারা বিভিন্ন অনিয়ম করতে চায়, ওঁৎ পেতে আছে, তাদের কাজ কঠিন হবে বলেই কি এ ধরনের নিয়ম জারি? এ নির্বাচন নিয়ে বিন্দুমাত্র টালবাহানা, কোন প্রকার প্রতারণা বা কালিমা লেপন আমরা ঐক্যবদ্ধ বংলাদেশীরা কিন্তু মেনে নেব না।’ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) একটি বিজ্ঞপ্তি ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটাররা।এমআর-২
    ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করা নব্য ফ্যাসিজম: সাদিক কায়েম
    ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কঠোর সমালোচনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম।সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে সাদিক কায়েম বলেন, ‘ভোটকেন্দ্রে বিএনসিসি প্রত্যাহারের পর এবার মোবাইল নিষিদ্ধের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়িত হলো। কার ইশারায়, কার প্রভাবে নির্বাচন কমিশন এই সিদ্ধান্ত নিলো?’পোস্টে সাদিক কায়েম লিখেন, ‘ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধের অর্থ হলো সবাইকে নিজের মোবাইল ঘরে রেখে যেতে হবে। এমনকি কোনো মোজো সাংবাদিক বা সিটিজেন জার্নালিজমও অ্যালাউড না। অর্থাৎ, ভোটকেন্দ্র এলাকায় যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে তার কোনো তথ্য, ফুটেজ স্বয়ং ভুক্তভোগীর কাছেও থাকবে না। নির্বাচন কমিশনের ওপর ভর করে এই নব্য ফ্যাসিজম জাতির ওপর কারা চাপিয়ে দিলো?’ডাকসু ভিপি বলেন, ‘কারা দেশের তরুণদের ভয় পায়? কারা নাগরিকদের তথ্য পাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখতে চায়? দেশের সর্বস্তরের তরুণ যুবকদের প্রতি আহ্বান-আসুন, আওয়াজ তুলুন। আপনাদের হাতেই জুলাই হয়েছে, আপনাদের হাতেই নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের দায়িত্ব।’তিনি আরও লিখেন, ‘দেশের নাগরিকের তথ্য পাওয়ার অধিকার কেড়ে নেওয়ার জন্য কিংবা কোনো গোষ্ঠীর পারপাস সার্ভ করার জন্য ইলেকশন কমিশন গঠিত হয়নাই, ইলেকশন কমিশন গঠিত হয়েছে একটি ফ্রি, ফেয়ার এবং নিরাপদ নির্বাচনি পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, অনতিবিলম্বে নির্বাচন কমিশনকে এই সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে।’ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নতুন আইন জারি করেছে ইলেকশন কমিশন (ইসি)। প্রিসাইডিং অফিসারসহ তিন ধরনের ব্যক্তি ছাড়া কেউ ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিয়ে যেতে পারবে না। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) এই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে নির্দেশনা পাঠিয়েছেন ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম।নির্দেশনায় বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ভোটকেন্দ্রের ৪০০ (চারশত) গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং অফিসার; ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ ইনচার্জ এবং ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত অঙ্গীভূত আনসার/সাধারণ আনসার/ভিডিপির ‘নির্বাচন সুরক্ষা ২০২৬’ অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারকারী দুইজন আনসার সদস্য ব্যতীত কেউ মোবাইল নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না।অধিকাংশ সাংবাদিক ফটো ও রেকর্ডিং কাজে ফোন ব্যবহার করে থাকেন ভোটগ্রহণের দিন। ফলে এসব সাংবাদিকেরা বিপাকে পড়বেন। ফোন ব্যবহারে এমন নির্দেশনা প্রথম জারি করল ইসি।এমআর-২
    ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির চূড়ান্ত অধ্যাদেশের গেজেট প্রকাশ
    রাজধানীর সরকারি সাত কলেজের সমন্বয়ে গঠিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির চূড়ান্ত অধ্যাদেশের গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।আজ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ কর্তৃক মন্ত্রণলয়ের ওয়েবসাইটে এ গেজেট প্রকাশ করা হয়।এর আগে, গত ২২ জানুয়ারি উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই অধ্যাদেশের চূড়ান্ত খসড়ার অনুমোদন দেয়া হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা খালিদ মাহমুদের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।এতে বলা হয়, প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ, ২০২৬’ অনুমোদিত হয়েছে। ঢাকার সাতটি সরকারি কলেজকে একই একাডেমিক কাঠামোর আওতায় এনে উচ্চশিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন এবং দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক জট নিরসনই এই অধ্যাদেশের মূল লক্ষ্য।বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সরকারি বাংলা কলেজ ও সরকারি তিতুমীর কলেজ সংযুক্ত কলেজ হিসেবে পরিচালিত হবে। কলেজগুলোর নিজস্ব পরিচয়, অবকাঠামো এবং স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির ওপর তাদের অধিকার অক্ষুণ্ণ থাকবে।বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অধ্যাদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আচার্য, উপাচার্য, সিনেট, সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিলসহ পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক কাঠামো রাখা হয়েছে। আচার্য হিসেবে রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালন করবেন এবং সিনেট মনোনীত প্যানেল থেকে উপাচার্য নিয়োগ দেবেন। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) শিক্ষা, পরীক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিদর্শন, মূল্যায়ন ও নির্দেশনার ক্ষমতা পাবে।বিশ্ববিদ্যালয়ে কলা, বিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা, আইন ও চারুকলাসহ বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের পৃথক পৃথক স্কুল থাকবে। প্রতিটি স্কুলের নেতৃত্বে থাকবেন একজন ‘হেড অব স্কুল’। সংযুক্ত কলেজগুলোতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের পাঠদান, পরীক্ষা ও মূল্যায়ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিন্ন সময়সূচি ও মূল্যায়ন কাঠামো অনুযায়ী পরিচালিত হবে।শিক্ষার্থীরা ভর্তির বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল এবং কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীরা মূল ক্যাম্পাস বা সংযুক্ত কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবে। পাশাপাশি কলেজগুলোতে কেন্দ্রীয়ভাবে এমফিল ও পিএইচডি প্রোগ্রাম পরিচালনা করা হবে এবং শিক্ষক উন্নয়ন ও উচ্চতর প্রশিক্ষণের সুযোগ থাকবে।বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অধ্যাদেশে আবাসিক হল সুবিধা, ছাত্র সংসদ নির্বাচন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রম চালুর বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য স্বয়ংসম্পূর্ণ স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের কথাও বলা হয়েছে। নিজস্ব ক্যাম্পাস নির্মিত না হওয়া পর্যন্ত সাময়িকভাবে কার্যক্রম পরিচালনার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।এইচএ 
    ৪৬তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ
    ৪৬তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করেছে সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি)। এতে এক হাজার ৪৫৭ জনকে ক্যাডার পদে নিয়োগের জন্য সাময়িকভাবে সুপারিশ করা হয়েছে।রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় পিএসসির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাসুমা আফরীনের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।পিএসসির জনসংযোগ কর্মকর্তা এস এম মতিউর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।   এমআর-২

    তথ্য-প্রযুক্তি

    সব দেখুন
    ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের নিবন্ধন বাতিল করবেন যেভাবে
    নিজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সিমকার্ড পরিবর্তন করতে হলে কিংবা অন্য কাউকে ব্যবহার করতে দিতে হলে অথবা বিক্রির আগে অবশ্যই মোবাইল ডি-রেজিস্ট্রেশন করতে হবে বলে নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি)।মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) বিটিআরসির স্পেকট্রাম বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ‘ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনআইআর)’ সিস্টেমটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হয়েছে। এর আওতায় নেটওয়ার্কে সচল সব মোবাইল ফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হয়েছে।ফলে এখন থেকে নিজের নামে নিবন্ধিত মোবাইল ফোনের সিমকার্ড পরিবর্তন, অন্য কাউকে ব্যবহার করতে দেওয়া কিংবা বিক্রির আগে অবশ্যই ডি-রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। অর্থাৎ জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) সঙ্গে যুক্ত হ্যান্ডসেটের নিবন্ধন বাতিল বা অবমুক্ত করতে হবে।এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সিম কেনার সময় ব্যবহৃত এনআইডি বা পাসপোর্ট নম্বরের শেষ চারটি সংখ্যা প্রয়োজন হবে। নিবন্ধিত ফোন বিক্রি বা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া এখন থেকে অনুসরণ করতে হবে। নিবন্ধিত মুঠোফোন ‘ডি-রেজিস্ট্রেশন’ করার উপায়সিটিজেন পোর্টাল (neir.btrc.gov.bd)এনইআইআর পোর্টালে লগ ইন করে ড্যাশবোর্ডে যেতে হবে। তালিকা থেকে ডিভাইস নির্বাচন করতে হবে। ‘ডি-রেজিস্টার’ এ ক্লিক করুন এবং প্রয়োজনীয় বিবরণ দিয়ে ডি-রেজিস্টার প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে হবে।ইউএসএসডি চ্যানেল (*১৬১৬১#)মোবাইলের কল অপশনে যেয়ে ডায়াল করুন *১৬১৬১#। এরপর ডি রেজিষ্ট্রেশন অপশনে ক্লিক করে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করুন।তবে ডি-রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে গ্রাহক তার ফোনে যে সিমটি ব্যবহার করছেন তা অবশ্যই নিজের এনআইডি দিয়ে নিবন্ধিত হতে হবে। ক্লোন বা ডুপ্লিকেট আইএমইআই নম্বর যুক্ত হ্যান্ডসেট ডি-রেজিস্ট্রেশন করার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত তথ্য হিসেবে পরবর্তী ব্যবহারকারীর সিম নম্বর দিতে হবে।ডি-রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানতে বিটিআরসি’র ওয়েবসাইট neir.btrc.gov.bd ভিজিট করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিটিআরসি’র কল সেন্টার (১০০) অথবা সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটরের নিকটস্থ কাস্টমার কেয়ার সেন্টার থেকেও সহায়তা নেওয়া যাবে।এমআর-২
    আইফোন বিক্রিতে নতুন রেকর্ড অ্যাপলের
    আইফোন বিক্রিতে নতুন ইতিহাস গড়েছে অ্যাপল। সর্বশেষ প্রান্তিকে আইফোন থেকে আয় হয়েছে ৮৫ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি। এটাই আইফোনের ইতিহাসে এক প্রান্তিকে সর্বোচ্চ আয়।২০২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের আয় প্রতিবেদন প্রকাশ করে এ তথ্য জানায় অ্যাপল। সব মিলিয়ে এ সময়ে কোম্পানির মোট আয় দাঁড়িয়েছে ১৪৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ১৬ শতাংশ বেশি।অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী টিম কুক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বলেন, আইফোনের চাহিদা ছিল “অবিশ্বাস্যরকম বেশি”। তার ভাষায়, “এটাই আমাদের সবচেয়ে শক্তিশালী আইফোন লাইনআপ।” তিনি আরও বলেন, জনপ্রিয়তার দিক থেকেও এটি আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে।তবে সাফল্যের পেছনে বড় বাধাও ছিল। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নতুন সিরি সংস্করণ চালু হতে দেরি হয়েছে। তারপরও বিক্রি কমেনি।আইফোন ১৭ সিরিজ এতে বড় ভূমিকা রেখেছে। বেস মডেলেই দেওয়া হয়েছে আগে শুধু ‘প্রো’ সংস্করণে থাকা কিছু ফিচার। যেমন- অলওয়েজ-অন ডিসপ্লে। এ ছাড়া রয়েছে বেশি রিফ্রেশ রেটের স্ক্রিন।‘আইফোন এয়ার’ মডেলের বিক্রি প্রত্যাশার চেয়ে কম হয়েছে- এমন গুঞ্জনও ছিল। তবে সেটির প্রভাব মোট বিক্রিতে তেমন পড়েনি বলে ইঙ্গিত মিলেছে।তবে বাড়তি চাহিদার কারণে সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। টিম কুক জানান, আইফোন ১৭–এর উচ্চ চাহিদার কারণে সরবরাহ কিছুটা সীমিত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে চিপ তৈরিতে ব্যবহৃত উন্নত প্রযুক্তির সরবরাহে চাপ রয়েছে।অন্যদিকে অ্যাপলের সেবাভিত্তিক আয়ও বেড়েছে। অ্যাপল মিউজিক, আইক্লাউড, অ্যাপল টিভি প্লাসসহ বিভিন্ন সাবস্ক্রিপশন সেবা থেকে আয় বেড়েছে ১৪ শতাংশ। তবে ম্যাক কম্পিউটার ও ওয়্যারেবল পণ্যের আয় কিছুটা কমেছে।এখন অ্যাপলের বড় লক্ষ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। আগামী মাসগুলোতে সিরিতে আনা হবে নতুন এআই সুবিধা। এ কাজে গুগলের সঙ্গে অংশীদারিত্ব করছে অ্যাপল। গুগলের জেমিনি এআই মডেলের বিশেষ সংস্করণ ব্যবহার করা হবে সিরির উন্নত সংস্করণে।এ ছাড়া একটি এআই স্টার্টআপও কিনছে অ্যাপল। প্রতিষ্ঠানটির নাম কিউ.এআই। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারে এ অধিগ্রহণ হতে যাচ্ছে।এই স্টার্টআপের প্রযুক্তি ভবিষ্যতের ডিভাইসে ব্যবহার হতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের পেটেন্টে এমন প্রযুক্তির ইঙ্গিত আছে যা হেডফোন বা চশমায় ব্যবহার করা যাবে। মুখের ত্বকের সূক্ষ্ম নড়াচড়ার মাধ্যমে নির্দেশ দেওয়া সম্ভব হবে—এমন ধারণাও আছে।শুধু তা-ই নয়, ভবিষ্যতে সিরিকে পুরোপুরি এআই চ্যাটবটে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। আইফোন ও ম্যাক ডিভাইসের ভেতরেই থাকবে এই স্মার্ট সহকারী। শোনা যাচ্ছে, সিরির জন্য আলাদা এআইভিত্তিক ওয়েব সার্চ টুলও তৈরি করছে অ্যাপল।এইচএ
    কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহারে ফ্রি প্রশিক্ষণ দিচ্ছে যুক্তরাজ্য
    কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারে দক্ষ করতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। চালু করা হয়েছে একাধিক অনলাইন প্রশিক্ষণ কোর্স। এর মধ্যে অনেক কোর্সে বিনামূল্যে অংশ নেওয়া যাচ্ছে। প্রযুক্তি খাতের বড় প্রতিষ্ঠানগুলো কোর্স তৈরিতে যুক্ত রয়েছে। অ্যামাজন, গুগল ও মাইক্রোসফট এ উদ্যোগে সহায়তা করেছে। মোট ১৪টি কোর্স শেষ করলে পাওয়া যাবে ভার্চুয়াল ব্যাজ।কোর্সগুলোতে শেখানো হবে এআই টুল ব্যবহারের মৌলিক কৌশল। যেমন- চ্যাটবটকে কীভাবে কার্যকরভাবে প্রশ্ন করতে হয়? প্রশাসনিক কাজের সহকারী হিসেবে এআই ব্যবহার, দ্রুত নোট লেখা, ইমেইল খসড়া তৈরি ও তথ্য গোছানো।সরকারের লক্ষ্য বড় হচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে এক কোটি কর্মীকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা। এ উদ্যোগকে ১৯৭১ সালে ওপেন ইউনিভার্সিটি চালুর পর সবচেয়ে বড় দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি বলা হচ্ছে।যুক্তরাজ্যের প্রযুক্তিমন্ত্রী লিজ কেন্ডাল বলেছেন, তাদের লক্ষ্য মানুষ যেন কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহারে আত্মবিশ্বাসী হয়। পরিবর্তন থামানো যাবে না। তবে পরিবর্তনের ফল কী হবে, তা নীতিনির্ধারণেই ঠিক হয়। ঝুঁকি থেকে মানুষকে সুরক্ষা দিয়ে এআইয়ের সুফল সবার কাছে পৌঁছে দিতে চায় সরকার।তবে সমালোচনাও আছে। ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক পলিসি রিসার্চ (আইপিপিআর) বলছে, শুধু চ্যাটবট ব্যবহার শেখালেই হবে না। কর্মীদের দরকার বিশ্লেষণী চিন্তা। সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ও নেতৃত্বগুণ। থাকতে হবে এআই নিরাপদভাবে ব্যবহারের আত্মবিশ্বাস।সংস্থাটির গবেষক রোয়া পাওয়েল বলেন, এআই যুগের দক্ষতা ছোট টেকনিক্যাল কোর্সে সীমাবদ্ধ নয়। মানুষকে বিস্তৃত দক্ষতায় প্রস্তুত করতে হবে।ব্রিটিশ কম্পিউটার সোসাইটি (বিসিএস)–ও উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে তারা বলছে, দায়িত্ব শুধু কর্মীদের নয়। প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ পর্যায়েও প্রযুক্তি বোঝার সক্ষমতা বাড়াতে হবে। বোর্ড পর্যায়ের সিদ্ধান্ত নির্ধারকদেরও এআই সম্পর্কে জ্ঞান থাকা জরুরি।কোর্সগুলোর সময়সীমা ভিন্ন। কিছু কোর্স ২০ মিনিটের। কিছু আবার কয়েক ঘণ্টার। যুক্তরাজ্যের যে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক এতে অংশ নিতে পারবেন।এ উদ্যোগে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে বেশ কয়েকটি বড় সংস্থা। এর মধ্যে আছে এনএইচএস, ব্রিটিশ চেম্বার্স অব কমার্স এবং লোকাল গভর্নমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন। তারা তাদের কর্মী ও সদস্যদের অংশ নিতে উৎসাহ দেবে।এইচএ
    হ্যাকার থেকে রক্ষা পেতে স্ক্যাম অ্যান্ড্রয়েডের ৪টি নতুন স্মার্ট ফিচার
    ব্যবহারকারীদের আরও নিরাপদ ও সংযুক্ত রাখতে অ্যান্ড্রয়েডে যুক্ত হলো একগুচ্ছ নতুন ফিচার। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তায় তৈরি এসব সুবিধা প্রতিদিনের যোগাযোগকে করবে আরও সহজ, নিরাপদ ও স্মার্ট। সন্দেহজনক মেসেজ শনাক্ত করা থেকে শুরু করে বন্ধু–পরিবারের লাইভ লোকেশন দেখা কিংবা গাড়ি পার্ক করা অবস্থায় গেম খেলা সবই এখন আরও সহজ অ্যান্ড্রয়েডে। জেনে জেনে নেয়া যাক অ্যান্ড্রয়েডের নতুন ৪টি ফিচার সম্পর্কে। সন্দেহজনক মেসেজে সঙ্গে সঙ্গে সতর্কবার্তা: প্রতারণা থেকে ব্যবহারকারীদের রক্ষা করতে গুগল মেসেজেসে যুক্ত হয়েছে এআই-চালিত স্ক্যাম ডিটেকশন। এই ফিচার সন্দেহজনক কথোপকথনের ধরণ শনাক্ত করে আগেই সতর্ক করে দেবে। অনেক সময় নিরীহ মেসেজ থেকেই ধীরে ধীরে প্রতারণা শুরু হয় এই ফিচার সেই ঝুঁকি চিহ্নিত করে রিয়েল-টাইম সতর্কবার্তা দেবে। প্রয়োজনে এক ক্লিকেই মেসেজ ব্লক ও রিপোর্ট করা যাবে। ভালো খবর হলো, এই প্রক্রিয়া পুরোপুরি ডিভাইসের মধ্যেই সম্পন্ন হয় আপনার ব্যক্তিগত কথোপকথন থাকবে সম্পূর্ণ নিরাপদ।লাইভ লোকেশন শেয়ার করে থাকুন নিশ্চিন্ত: এবার ফাইন্ড মাই ডিভাইস অ্যাপেই বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে লাইভ লোকেশন শেয়ার করা যাবে। কারও সঙ্গে দেখা করার সময় বা প্রিয়জন নিরাপদে বাসায় পৌঁছেছেন কি না সেটা  নিশ্চিত করতে এই ফিচার বেশ কাজে আসবে। ম্যাপে সরাসরি দেখা যাবে আপনার পরিচিতদের অবস্থান। কাকে, কত সময়ের জন্য লোকেশন দেখাবেন সবকিছুই থাকবে আপনার নিয়ন্ত্রণে, সঙ্গে থাকবে নিয়মিত রিমাইন্ডার।গাড়ি পার্ক করা অবস্থায় গেমিংয়ের মজা: অ্যান্ড্রয়েড অটোতে যুক্ত হয়েছে নতুন গেমিং সুবিধা। গাড়ি পার্ক করা থাকলে এখন গাড়ির স্ক্রিনেই খেলা যাবে জনপ্রিয় গেমগুলো। অপেক্ষার সময়টুকু আর বিরক্তিকর নয় গেম খেলেই কাটানো যাবে সময়।কেনাকাটায় স্মার্ট সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে ক্রোম: অ্যান্ড্রয়েডে ক্রোম ব্রাউজারে যুক্ত হয়েছে নতুন শপিং ইনসাইট। এখন পণ্যের দামের ইতিহাস, মূল্য কমার নোটিফিকেশন কিংবা বিভিন্ন ওয়েবসাইটের দাম তুলনা করা যাবে সহজেই। ঠিক সময়ে কেনাকাটা করতে চাইলে ক্রোমের অ্যাড্রেস বারে থাকা “প্রাইস ইস লো” নোটিফিকেশনই হয়ে উঠবে আপনার গাইড।সব মিলিয়ে, অ্যান্ড্রয়েডের এই নতুন ফিচারগুলো শুধু প্রযুক্তিগত আপডেট নয় বরং ব্যবহারকারীদের দৈনন্দিন জীবনকে আরও নিরাপদ, সংযুক্ত ও স্বস্তিদায়ক করে তুলতেই এই উদ্যোগ। প্রযুক্তির সঙ্গে নিরাপত্তা ও সুবিধার ভারসাম্য রাখতেই অ্যান্ড্রয়েডের এই নতুন পদক্ষেপ।এইচএ
    হোয়াটসঅ্যাপ-ফেসবুক -ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারে গুনতে হবে টাকা
    সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় এক আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে টেক জায়ান্ট মেটা। জনপ্রিয় তিন প্ল্যাটফর্ম— হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকের জন্য বিশেষ প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন চালুর পরিকল্পনা করছে মার্ক জাকারবার্গের এই সংস্থা। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই নতুন সেবাটি বর্তমান ‘মেটা ভেরিফাইড’ বা ব্লু টিক সাবস্ক্রিপশন থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হবে। মূলত যারা সাধারণ ব্যবহারকারীদের তুলনায় একটু বেশি আধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করতে চান, তাদের কথা মাথায় রেখেই এই বিশেষ পেইড প্ল্যান নিয়ে আসছে মেটা।দীর্ঘ সময় ধরে এই তিনটি অ্যাপই বিশ্বজুড়ে বিনামূল্যে ব্যবহার করা গেলেও এখন আয়ের নতুন উৎস খুঁজছে সংস্থাটি। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিতে বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পর সেই ব্যয় সামলাতে এই প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিবেদনগুলো বলছে, এই প্রিমিয়াম সেবার মূল আকর্ষণ হবে মেটার উন্নত ‘মানুস এআই এজেন্ট’। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা স্মার্ট রিপ্লাই, দ্রুত কন্টেন্ট তৈরির সুবিধা এবং স্বয়ংক্রিয় নানা কাজ সহজেই সেরে নিতে পারবেন। এছাড়া ইনস্টাগ্রামের জন্য ‘ভাইবস’ নামক একটি নতুন এআই টুল যুক্ত হতে পারে, যার মাধ্যমে আকর্ষণীয় ছোট এআই ভিডিও তৈরি করা সম্ভব হবে। ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীদের দীর্ঘদিনের কিছু ব্যক্তিগত চাহিদাও এই প্রিমিয়াম মডেলে জায়গা পেতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। যেমন—কে আপনাকে ফলো করছে না তা দেখার বিশেষ সুবিধা কিংবা অন্য পক্ষকে না জানিয়েই গোপনে তাদের ‘স্টোরি’ দেখার অপশন। হোয়াটসঅ্যাপের ক্ষেত্রেও প্রিমিয়াম গ্রাহকদের জন্য বাড়তি কাস্টমাইজেশন এবং এআই-চালিত চ্যাট ফিচার যুক্ত হতে পারে। তবে মেটা কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, এই নতুন সুবিধাগুলো নেওয়া পুরোপুরি ব্যবহারকারীর ইচ্ছার ওপর নির্ভর করবে। যারা অর্থ খরচ করতে চান না, তারা আগের মতোই বর্তমানের ফ্রি ভার্সনটি ব্যবহার চালিয়ে যেতে পারবেন।নতুন এই পদক্ষেপের ফলে গোপনীয়তা নিয়ে ব্যবহারকারীদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে হোয়াটসঅ্যাপে বিজ্ঞাপনের আনাগোনা বাড়ার পর অনেকেই আশঙ্কা করছেন যে তাদের ব্যক্তিগত তথ্য ভবিষ্যতে এআই প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহার করা হবে কি না। যদিও মেটার দাবি, ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত সুরক্ষার নীতিতে কোনো পরিবর্তন আনা হবে না। মূলত উন্নত এআই অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতেই এই প্রিমিয়াম মডেলের আবির্ভাব ঘটছে। এখন দেখার বিষয়, সোশ্যাল মিডিয়ার এই নতুন ব্যবসায়িক মডেলে সাধারণ ব্যবহারকারীরা কতটা সাড়া দেন এবং মেটার এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয়।এইচএ
    শিশুদের মানসিক ক্ষতির অভিযোগে ফেসবুক, টিকটক ও ইউটিউবের বিরুদ্ধে মামলা
    যুক্তরাষ্ট্রে নজিরবিহীন মামলার মুখে পড়েছে বিশ্বের ৩ জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্লাটফর্ম ফেসবুক, গুগল ও টিকটক। কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতি আসক্তি তৈরি এবং এর ফলে মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করার অভিযোগে আদালতের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে জনপ্রিয় এই ৩ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে।  এএফপির প্রতিবেদন মতে, স্থানীয় সময় সোমবার (২৬ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলসে ফেসবুক, টিকটক ও ইউটিউবের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা, অ্যালফাবেট ও বাইটড্যান্সের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) থেকে আদালত এই মামলার জুরি নির্বাচন শুরু করবে। এই মামলাকে মার্কিন বিচার ব্যবস্থার ইতিহাসের একটি ‘মাইলফলক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন বিশ্লেষকরা।এই মামলার রায় ৩ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিরুদ্ধে গেলে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে এ ধরনের আরও হাজারো মামলার ঢেউ উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে। আদালতে মেটার সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গকে সাক্ষ্য দিতে ডাকা হতে পারে বলে জানা গেছে। কম বয়সি শিশু, তরুণ ও তরুণীরা ওই তিন প্রতিষ্ঠানের সেবা ও পণ্য ব্যবহার করে অবসাদ, খাবারে অনাসক্তি, মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি, এমনকি, আত্মহত্যাও করেছেন—এমন দাবি করেছেন বাদী পক্ষের হাজারো মানুষ। বাদী-পক্ষের আইনজীবীরা ১৯৯০ ও ২০০০ এর দশকে তামাক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা আইনি কৌশল বেছে নিচ্ছেন। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে বিশ্বখ্যাত সিগারেট উৎপাদন ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ‘ত্রুটিপূর্ণ’ পণ্য বিক্রির অভিযোগ আনা হয়েছিল। বিচারক নিয়োগের পর আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে বিচারপতি ক্যারোলিন কুল-এর আদালতে মামলার কার্যক্রম শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।  এই মামলা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন ১৯ বছর বয়সি এক মার্কিন নারী। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার খাতিরে শুধু নামের আদ্যাক্ষর ‘কে জি এম’ ব্যবহার করে তার পরিচয় দেয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তির কারণে তিনি ‘মানসিক ক্ষতির’ শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ। যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের মামলা ও আদালতের অভিযোগ গ্রহণের নজির নেই। সোশাল মিডিয়া ভিক্টিমস ল সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা ম্যাথু বার্গম্যান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এবারই প্রথম কোনো সমাজমাধ্যম প্রতিষ্ঠানকে শিশুদের ক্ষতি করার অভিযোগে বিচারকদের সামনে দাঁড়াতে হচ্ছে।’ বার্গম্যানের আইনজীবীরা এ ধরনের প্রায় এক হাজার মামলার দায়িত্বে আছেন। আইনজীবীদের এই প্রতিষ্ঠানটি অনলাইনে তরুণ-তরুণীদের ক্ষতি করার জন্য সমাজমাধ্যম প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহির আওতায় আনার অঙ্গীকার করেছে। বার্গম্যান বলেন, ‘কে জি এম ও তার পরিবার যে একটি আদালতকক্ষে বিশ্বের সবচেয়ে বড়, ক্ষমতাবান ও বিত্তবান প্রতিষ্ঠানগুলোর মুখোমুখি দাঁড়াতে পেরেছেন, এটাই একটি উল্লেখযোগ্য ও গুরুত্বপূর্ণ বিজয়।’  তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এটা বুঝতে পারছি যে এ ধরনের মামলাগুলো জেতা অনেক কঠিন এবং আগের, একই ধরনের ঘটনার নজির ও তথ্য-প্রমাণ টেনে বিজয়ী হওয়ার দায়ভার আমাদের ওপর বর্তেছে। আমাদেরকে প্রমাণ করতে হবে, এসব প্রতিষ্ঠান এমনভাবে তাদের প্ল্যাটফর্ম ডিজাইন করেছে যা কেজিএম-এর (মানসিক) ক্ষতি নিশ্চিত করে। এই দায়িত্ব আমরা খুশি মনেই কাঁধে নিয়েছি।’ এই বিচারের রায় ভবিষ্যতে একই ধরনের সব মামলার রায়কে সরাসরি প্রভাবিত করবে বলে মত দেন বার্গম্যান। গত সপ্তাহে অপর সমাজমাধ্যম স্ন্যাপচ্যাট আদালতের বাইরে চুক্তি করে এই মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছে। ওই চুক্তির বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্লাটফর্মগুলোর দাবি, মার্কিন যোগাযোগ নৈতিকতা আইনের ২৩০ ধারা তাদেরকে সুরক্ষা দিচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহারকারীরা কী পোস্ট করছেন, তা নিয়ে কোনো ধরনের দায়বদ্ধতা থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোকে রেহাই দেয় এই ধারা। তবে মামলায় বিবাদীদের যুক্তি—সমাজমাধ্যম প্রতিষ্ঠান এমনভাবে তাদের প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে, যা মানুষের মনোযোগ ধরে রাখে। পাশাপাশি সেখানে এমন সব কনটেন্টের প্রচারণা করা হয়, যা ব্যবহারকারীদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটায়।  বার্গম্যান আরও বলেন, ‘আমরা সমাজমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম থেকে ক্ষতিকারক কন্টেন্ট সরিয়ে নিতে না পারার জন্য মূল প্রতিষ্ঠানগুলোকে দায়ী করছি না।’ তার ভাষায়, ‘তাদের দোষ, তারা এমনভাবে প্ল্যাটফর্মগুলো বানিয়েছে যা শিশুদের আসক্ত করে তোলে। তাদের এলগরিদম এমন যে শিশুরা কনটেন্ট থেকে চোখ সরাতে পারে না।’ ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নর্দার্ন ক্যালিফোর্নিয়া ও অন্যান্য অঙ্গরাজ্যের ফেডারেল আদালতেও একই ধরনের অভিযোগে অসংখ্য মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলার বিষয়ে উল্লেখিত তিন প্রতিষ্ঠান গণমাধ্যমের কাছে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।  এইচএ

    আইন-আদালত

    সব দেখুন
    এবার নাহিদের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে রিট
    দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে ১১ দলীয় জোট মনোনীত ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী ও এনসিপির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলামের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে রিট দায়ের করা হয়েছে।সোমবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় পার্টির প্রার্থী শামীম আহমেদ এ রিট দায়ের করেন। রিটে সিইসি, সচিব, রিটার্নিং অফিসার ও নাহিদ ইসলামকে বিবাদী করা হয়েছে।আবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ২০ এপ্রিল নাহিদ ইসলাম ডমিনিকার নাগরিকত্ব নেন।বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের বেঞ্চে এ আবেদনের ওপর শুনানি হতে পারে।ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২১, ২২, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪১ ও ৪২ এবং ২৩ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত ঢাকা-১১ আসন। এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৭৮ জন।এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২২ হাজার ৮৭৭ জন। নারী ভোটার ২ লাখ ১৬ হাজার ১৯৮ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ৩ জন ভোটার রয়েছেন।প্রার্থী রয়েছেন- বিএনপির এম এ কাইয়ুম, এনসিপির মো. নাহিদ ইসলাম, স্বতন্ত্র কহিনূর আক্তার বীথি, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের কাজী মো. শহীদুল্লাহ, গণফোরামের মো. আবদুল কাদের, গণঅধিকার পরিষদের মো. আরিফুর রহমান, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির মো. জাকির হোসেন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. মিজানুর রহমান , জাতীয় পার্টির শামীম আহমেদ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শেখ মো. ফজলে বারী মাসউদ।এমআর-২

    প্রবাস

    সব দেখুন
    দূর মরিশাস থেকেও নাড়ির টান: সাত মাদ্রাসার এতিমদের দায়িত্বে প্রবাসী আকাশ
    হাজার মাইল দূরের মরিশাসের ব্যস্ত কর্মজীবনও তাকে শেকড় থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারেনি। বিদেশের মাটিতে কঠোর পরিশ্রমের ফাঁকে ফাঁকে তার মন পড়ে থাকে দেশের সুবিধাবঞ্চিত এতিম শিশুদের কথা ভেবে। সেই নাড়ির টান থেকেই ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা ও গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার সাতটি মাদ্রাসার এতিমদের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন প্রবাসী যুবক আকাশ মিয়া।নিজের উপার্জনের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ তিনি নিয়মিত ব্যয় করছেন এসব এতিমখানার জন্য। প্রতিমাসে চাল ও প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী দেওয়ার পাশাপাশি তীব্র শীত থেকে শিশুদের রক্ষায় এবার পাঠিয়েছেন বিশেষ উপহার—নতুন কম্বল।সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে দুই উপজেলার সাতটি মাদ্রাসার এতিমখানায় প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীর হাতে নতুন কম্বল পৌঁছে দেওয়া হয়। কনকনে শীতের সকালে উষ্ণ কম্বল পেয়ে শিশুদের মুখে ফুটে ওঠে স্বস্তি আর আনন্দের হাসি।আকাশ মিয়া ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার সদর ইউনিয়নের জাটিগ্রাম এলাকার জাকির মিয়ার ছেলে। তিনি বর্তমানে মরিশাসের ঈশান কামিনী কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালক হিসেবে কর্মরত। প্রবাসে থেকেও দীর্ঘদিন ধরে তিনি মাদ্রাসাগুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও অন্যান্য সহায়তা দিয়ে আসছেন।আলফাডাঙ্গা উপজেলা সদরের তাহফিজুল কুরআন ক্যাডেট মাদ্রাসার মুহতামিম হাফেজ ইমামুদ্দিন ও জাটিগ্রাম শাহ আরজানিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম হাফেজ মারুফ বিল্লাহ বলেন, “আকাশ মিয়া নিয়মিত আমাদের মাদ্রাসায় চালসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা পাঠান। ফলে এতিম শিশুদের খাদ্যসংকটের চিন্তা করতে হয় না। এবার শীতের সময় কম্বল পাঠিয়ে তিনি বাচ্চাদের প্রতি তার মমতার প্রমাণ দিয়েছেন।”কাশিয়ানীর পোনা মারকাযুল উলুম মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক আব্দুল করিম ও খায়েরহাট ছায়াদাতিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা নুরুজ্জামানও একই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “এতিম শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে আকাশ মিয়া যেভাবে পাশে দাঁড়াচ্ছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। সমাজের সামর্থ্যবানরা এভাবে এগিয়ে এলে এতিমদের জীবন অনেক সহজ হয়ে যায়।”নিজের এই মানবিক উদ্যোগ সম্পর্কে মুঠোফোনে আকাশ মিয়া বলেন, “আমি প্রবাসে থাকলেও আমার এলাকার এতিম শিশুদের কথা সব সময় মনে পড়ে। আল্লাহ আমাকে যতটুকু সামর্থ্য দিয়েছেন, তা দিয়ে তাদের পাশে থাকতে চাই। তাদের মুখে হাসি দেখলেই আমার সব কষ্ট ভুলে যাই। এটা কোনো দান নয়, এটা আমার সামাজিক দায়বদ্ধতা।”স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, আকাশ মিয়ার মতো প্রবাসী ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা যদি এভাবে এগিয়ে আসেন, তাহলে দেশের এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের ভবিষ্যৎ আরও নিরাপদ ও সুন্দর হয়ে উঠতে পারে।ইখা

    লাইফস্টাইল

    সব দেখুন
    ঘাড় ব্যথা থেকে প্রতিকারের উপায়
    অনেকেরই ঘাড় ব্যথা একটি নিত্যনৈমিত্তিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান যুগে দীর্ঘ সময় কম্পিউটারে কাজ করা, স্মার্টফোন ব্যবহারের আধিক্য এবং ভুল ভঙ্গিতে ঘুমানোর কারণে এই সমস্যাটি সাধারণ মনে হলেও এটি কখনো কখনো গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। এক সপ্তাহের বেশি ঘাড়ে ব্যথা থাকলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।ঘাড় ব্যথা তীব্র হলে তা আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ব্যাপক ব্যাঘাত ঘটায়, তাই সময়মতো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং এর কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি।চিকিৎসকদের মতে, ঘাড় ব্যথার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে দীর্ঘক্ষণ একই ভঙ্গিতে বসে থাকা বা মাথা নিচু করে কাজ করা, যা ঘাড়ের পেশিতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। এ ছাড়া দুর্ঘটনাজনিত আঘাত, খেলাধুলার সময় চোট বা মেরুদণ্ডের জটিল সমস্যা যেমন স্পন্ডাইলোসিস এই ব্যথার জন্য দায়ী হতে পারে। ঘাড়ের পেশিতে অতিরিক্ত টানের ফলে সৃষ্ট মাসল স্প্যাজম যেমন কষ্টদায়ক হতে পারে, তেমনি সংক্রমণ, টিউমার বা আর্থ্রাইটিসের মতো রোগও এই ব্যথার উৎস হতে পারে।ঘাড় ব্যথার লক্ষণ হিসেবে মূলত ঘাড়ে তীব্র বা হালকা ব্যথা, জ্বালাপোড়া অনুভব করা, ব্যথা হাতে বা বাহুতে ছড়িয়ে পড়া এবং ঘনঘন মাথাব্যথা দেখা দিতে পারে।ঘাড় ব্যথার চিকিৎসা সাধারণত এর কারণ ও তীব্রতার ওপর নির্ভর করে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যথানাশক বা পেশি শিথিলকারী ওষুধ সেবনের পাশাপাশি ফিজিওথেরাপি ব্যায়াম ঘাড়ের পেশি শক্তিশালী করতে অত্যন্ত কার্যকর।এ ছাড়া ব্যথা কমাতে হিট বা আইস থেরাপি এবং মেরুদণ্ডের চাপ কমাতে ট্রাকশন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। বিশেষ ক্ষেত্রে স্টেরয়েড ইনজেকশন বা সবশেষে সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে।তবে প্রতিরোধের কিছু অভ্যাস গড়ে তুললে এই সমস্যা থেকে দূরে থাকা সম্ভব। দীর্ঘ সময় একভাবে বসে না থেকে মাঝে মাঝে বিরতি নেওয়া, কম্পিউটারে কাজ করার সময় সঠিক ভঙ্গি বজায় রাখা এবং নিয়মিত ঘাড়ের ব্যায়াম করা জরুরি। পাশাপাশি শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং ভারী বস্তু তোলার সময় সতর্কতা অবলম্বন করলে মেরুদণ্ড ও ঘাড়ের ওপর বাড়তি চাপ এড়ানো যায়।নিজেই করুন প্রতিকার: প্রতিদিনকার রুটিনে কিছু পরিবর্তন এনে সাধারণ ঘাড় ব্যথার প্রতিকার করা যায়। বসে থাকার সময় আপনার মেরুদণ্ড যেন সরলরেখায় থাকে এবং কান সরাসরি আপনার কাঁধের ওপরে থাকে। দীর্ঘ সময় একটানা বসে কাজ না করে এক ঘণ্টা পরপর ১০ মিনিট বিরতি নিন। যদি দীর্ঘ দূরত্বে ভ্রমণ করেন বা দীর্ঘ সময় ধরে কম্পিউটারে কাজ করেন, তবে উঠে পড়ুন, ঘুরে দেখুন এবং ঘাড় ও কাঁধ সামনে–পেছনে প্রসারিত করুন। কাজের টেবিল–চেয়ার ও কম্পিউটার এমনভাবে সামঞ্জস্য করুন, যাতে মনিটর চোখের স্তরের সমান থাকে।  এইচএ 

    Loading…