সবাইকে ভোট দেওয়ার এবং জয়-পরাজয় মেনে নেওয়ার আহ্বান সিইসির
আগামীকাল জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ভোটের ফল যাই হোক, তা মেনে নিতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার বা সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন।বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এই আহ্বান জানান।সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে সিইসি বলেন, ‘আগামীকাল ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের। আরো স্মরণ করছি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের, যাদের রক্তের বিনিময়ে আমরা আজ গণতান্ত্রিক উত্তরণের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছি। আমি তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি। আমি একই সঙ্গে আহত জুলাই যোদ্ধাদের আশু আরোগ্য ও স্বাভাবিক জীবনের জন্য দোয়া করছি।’তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচনে ভোটদান কেবল নাগরিক অধিকারই নয়, বরং ‘দায়িত্ব’। আমি আশা করি আপনারা সকলে সচেতনভাবে এই দায়িত্ব পালন করবেন। রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও ভোটারদের প্রতি আহ্বান—শান্তি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ রক্ষার্থে সকলে দায়িত্বশীল ও যত্নবান হবেন।’‘ভিন্নমত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় একটি স্বাভাবিক বিষয়। এই বিষয়টি স্মরণে রেখে আপনারা উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটকেন্দ্রে আসবেন, পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবেন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক পরিণতি হিসেবে জয়-পরাজয়কে মেনে নেবেন।’ভোটার, প্রার্থী, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, সাংবাদিক, পর্যবেক্ষক, সেবা প্রদানকারী সংস্থা ও ব্যক্তিসহ সংশ্লিষ্ট সবার উদ্দেশে নাসির উদ্দিন বলেন, ‘ব্যক্তিগত কষ্ট-ক্লেশ তুচ্ছ করে জাতীয় নির্বাচনের এই মহতী ব্যবস্থাকে সহযোগিতা করে সার্থক করে তুলুন।’নির্বাচনে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা মোকাবিলায় সহযোগিতা চেয়ে সিইসি বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে চাই। যে কোনো অনভিপ্রেত ঘটনা মোকাবিলায় নির্বাচনী কর্মকর্তা, মাঠ পর্যায়ে কর্মরত বিচারিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সহায়তা করুন। আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা একটি সুষ্ঠু, সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচনের সাক্ষী হতে পারব—এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করে এবং পুনরায় আপনাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ কামনা করে শেষ করছি। মহান আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।’আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে শুরু হয়ে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দেশের ২৯৯টি আসনে একটানা ভোটগ্রহণ চলবে। প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে স্থগিত হওয়া শেরপুর-৩ আসনের ভোট পরে হবে।এমআর-২
টাকা উদ্ধারের নামে ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে: আসিফ মাহমুদ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে টাকা উদ্ধারের নামে ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। আজ বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর বাংলামোটর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন তিনি।আসিফ মাহমুদ বলেন, টাকা উদ্ধারের নামে ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। তাদের কাছ থেকে টাকা ছিনতাই করা হচ্ছে। এ সময় টাকা দিয়ে ভোট কেনার দিন শেষ উল্লেখ করে ভোটারদের টাকা দেয়া প্রার্থীদের বর্জনের আহ্বান জানান তিনি।এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির এই চেয়ারম্যান বলেন, নির্বাচন নিয়ে নানা নাশকতার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। হান্নান মাসুদের বাড়িতে স্লোগান দিয়ে হামলা ও লুটপাট চালিয়েছে বিএনপির লোকজন। প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি, যা শঙ্কা বাড়িয়ে দিচ্ছে। এছাড়াও পঞ্চগড়ে সার্জিস আলমের গাড়িবহরে হামলা করা হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা-১৫ আসেনে জামায়াত আমিরের আসনে ১৩টি নির্বাচনি বুথে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়েছে। সারাদেশে পোস্টার-ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে।আসিফ মাহমুদ বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জায়গায় অস্ত্র মজুদ করা হচ্ছে। যেসব জায়গায় অস্ত্র মজুদ করা হয়েছে, সেসব স্থানে বুধবার রাতের মধ্যেই যৌথবাহিনীকে অভিযান চালানোর আহ্বান জানান তিনি।মিডিয়া বিএনপির দ্বারা দখল হয়ে গেছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, সাংবাদিকরা বাধ্য হচ্ছে। মিডিয়া একপাক্ষিক ও অদায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে। আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) এ ধরনের তথ্য-সন্ত্রাস মেনে নেয়া হবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।এবি
জাতীয়
সব দেখুন
জামায়াত নেতার টাকা বহন ইস্যুতে ‘আমাকে মিসকোট করা হয়েছে’: ইসি সচিব
‘৫০ লক্ষ নয়, পাঁচ কোটে টাকা বহন করলেও কোনো অসুবিধা নেই’- এমন বক্তব্য দেননি বলে দাবি করেছেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নির্বাচন ভবনে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে একথা জানিয়েছেন তিনি।কত টাকা নেওয়া যাবে, কত টাকা নিতে পারবেন বা নেওয়া যাবে না এ বিষয়ে বলার এখতিয়ার তার নেই বলেও দাবি করেন আখতার আহমেদ।তিনি দাবি করেন, ‘এটা বলার এখতিয়ার, অধিকার বা ক্ষমতা আমার নেই এবং আমি এটা বলিনি।’‘কোনো একটা অর্থের বিষয়ে আমার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল। আমি বলেছি, যারা এটা ইন্টারসেপ্ট করেছে তারা এ ব্যাপারে অর্থের সোর্স, অ্যামাউন্ট এবং পারপাস অব দি ফান্ড এটার ব্যাপারে তারা সিদ্ধান্ত নেবেন,’ বলেও জানান তিনি।এক্ষেত্রে আইনি ব্যাখার বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিব বলেন, ‘যারা এটা ইন্টারসেপ্ট করেছেন তারা দেবেন আইনি ব্যাখ্যা, আমার কাছে তো না।’বুধবার দুপুরে সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির বেলাল উদ্দিন প্রধানের কাছ থেকে ৭৪ লাখ টাকা জব্দ করে পুলিশ।এই ঘটনার পর, নির্বাচনি আইনে টাকা বহনের বিষয়ে কী বলা আছে এ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের বরাত দিয়ে কয়েকটি গণমাধ্যমে একটি বক্তব্য প্রচার করা হয়। যেখানে দাবি করা হয়, টাকার উৎস এবং ব্যবহারের খাত যদি বৈধ হয়, তবে ৫০ লক্ষ নয়, এমনকি পাঁচ কোটি টাকা বহন করলেও কোনো আইনি বাধা নেই।এনআই
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজব নিয়ে ইসির সতর্কবার্তা
আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। এদিন ভোটকেন্দ্রে যেতে ভোটারদের নিরুৎসাহিত করতে একটি মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন উপায়ে গুজব ও অপপ্রচার ছড়াচ্ছে। এসব গুজবে কান না দিয়ে ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।সতর্কবার্তায় বলা হয়, এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে, ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বাংলাদেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে (শেরপুর-৩ ব্যতীত) গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ভোটাররা যাতে নিরাপদে ভোটপ্রদান করতে পারেন, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে।কোনো ধরনের গুজব ও অপপ্রচারে কান না দিয়ে নির্ভয়ে ভোটপ্রদান করতে ভোটারদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে ইসি।উল্লেখ্য, আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ শুরু হবে; যা চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। পরদিন শুক্রবারের (১৩ ফেব্রুয়ারি) মধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে ইসি নির্বাচনের ফল ঘোষণা করার কথা রয়েছে।এমআর-২
সবাইকে ভোট দেওয়ার এবং জয়-পরাজয় মেনে নেওয়ার আহ্বান সিইসির
আগামীকাল জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ভোটের ফল যাই হোক, তা মেনে নিতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার বা সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন।বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এই আহ্বান জানান।সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে সিইসি বলেন, ‘আগামীকাল ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের। আরো স্মরণ করছি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের, যাদের রক্তের বিনিময়ে আমরা আজ গণতান্ত্রিক উত্তরণের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছি। আমি তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি। আমি একই সঙ্গে আহত জুলাই যোদ্ধাদের আশু আরোগ্য ও স্বাভাবিক জীবনের জন্য দোয়া করছি।’তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচনে ভোটদান কেবল নাগরিক অধিকারই নয়, বরং ‘দায়িত্ব’। আমি আশা করি আপনারা সকলে সচেতনভাবে এই দায়িত্ব পালন করবেন। রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও ভোটারদের প্রতি আহ্বান—শান্তি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ রক্ষার্থে সকলে দায়িত্বশীল ও যত্নবান হবেন।’‘ভিন্নমত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় একটি স্বাভাবিক বিষয়। এই বিষয়টি স্মরণে রেখে আপনারা উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটকেন্দ্রে আসবেন, পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবেন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক পরিণতি হিসেবে জয়-পরাজয়কে মেনে নেবেন।’ভোটার, প্রার্থী, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, সাংবাদিক, পর্যবেক্ষক, সেবা প্রদানকারী সংস্থা ও ব্যক্তিসহ সংশ্লিষ্ট সবার উদ্দেশে নাসির উদ্দিন বলেন, ‘ব্যক্তিগত কষ্ট-ক্লেশ তুচ্ছ করে জাতীয় নির্বাচনের এই মহতী ব্যবস্থাকে সহযোগিতা করে সার্থক করে তুলুন।’নির্বাচনে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা মোকাবিলায় সহযোগিতা চেয়ে সিইসি বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে চাই। যে কোনো অনভিপ্রেত ঘটনা মোকাবিলায় নির্বাচনী কর্মকর্তা, মাঠ পর্যায়ে কর্মরত বিচারিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সহায়তা করুন। আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা একটি সুষ্ঠু, সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচনের সাক্ষী হতে পারব—এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করে এবং পুনরায় আপনাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ কামনা করে শেষ করছি। মহান আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।’আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে শুরু হয়ে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দেশের ২৯৯টি আসনে একটানা ভোটগ্রহণ চলবে। প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে স্থগিত হওয়া শেরপুর-৩ আসনের ভোট পরে হবে।এমআর-২
সশস্ত্র বাহিনীর ১৪১ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সশস্ত্র বাহিনী থেকে বরখাস্ত, চাকরিচ্যুত, বাধ্যতামূলক অবসর, অকালীন অবসর ও স্বেচ্ছায় অবসরে যাওয়া ১৪১ জন কর্মকর্তাকে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দিয়েছে সরকার। পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে ৪ জনকে সামরিক বাহিনীতে ফেরত নিতে বলা হয়েছে। আর বাকি কর্মকর্তাদের নিয়মিত চাকরির মেয়াদ শেষে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধাসহ অবসর দেওয়া হয়েছে।প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে গত ৫ ফেব্রুয়ারি জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়ে। প্রজ্ঞাপনটিতে প্রতিরক্ষাসচিব মো. আশরাফ উদ্দিনের স্বাক্ষর রয়েছে।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পদোন্নতি, জ্যেষ্ঠতা ও আর্থিক সুবিধা পেছনের তারিখ থেকে (ভূতাপেক্ষভাবে) কার্যকর হবে।তালিকা অনুযায়ী পদোন্নতি পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সেনাবাহিনীর ১১০ জন, নৌবাহিনীর ১৯ জন এবং বিমানবাহিনীর ১২ জন কর্মকর্তা রয়েছেন। সরকারি ঘোষণায় তাঁরা অবসরকালীন সুবিধা, প্লটসহ সংশ্লিষ্ট আর্থিক সুবিধা পাবেন।এর মধ্যে বিএমএ ৭৫তম লং কোর্সের চার কর্মকর্তা— লেফটেন্যান্ট শাফায়েত আহমেদ, লেফটেন্যান্ট এ এইচ এম ইকরামউজ্জামান, লেফটেন্যান্ট তৌকির মাহমুদ তুষার এবং লেফটেন্যান্ট আবদুল্লাহ ওমর নাসিফকে জ্যেষ্ঠতা ও আর্থিক সুবিধাসহ অবিলম্বে চাকরিতে পুনর্বহালের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।মূলত, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরই বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বরখাস্ত, চাকরিচ্যুত, বাধ্যতামূলক অবসর, অকালীন অবসর ও স্বেচ্ছা অবসরে যাওয়া কর্মকর্তারা চাকরি ফিরে পাওয়ার আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকার একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে।প্রধান উপদেষ্টার প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি বিষয়ক বিশেষ সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজের নেতৃত্বে এই কমিটি গঠিত হয়। কমিটি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পাওয়া আবেদন পর্যালোচনা করে সরকারের কাছে সুপারিশ পেশ করে। কমিটি ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত পদ্ধতিগত বৈষম্য ও পেশাগত ক্ষতির অভিযোগে অবসরপ্রাপ্ত, অপসারিত বা বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের করা আবেদন পর্যালোচনা করে সুপারিশ পেশ করে।কমিটির সুপারিশে উল্লেখ করা হয়, বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, বৈষম্য ও অন্যায়ের শিকার হওয়া কর্মকর্তাদের মান-মর্যাদা ও প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা পুনর্বহালের লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।কমিটির সুপারিশ অনুসারে তালিকা ধরে পদোন্নতির প্রজ্ঞাপন দিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আবেদন করা আরও ২০১ জন কর্মকর্তার নথি না পাওয়ায় তাঁদের ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি।পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে সেনাবাহিনীর দুজন লেফটেন্যান্ট জেনারেল, ৭ জন মেজর জেনারেল, ২০ জন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আছেন। এ ছাড়া নৌবাহিনীর দুজন কমোডর এবং বিমানবাহিনীর একজন এয়ার ভাইস মার্শাল ও চারজন এয়ার কমোডর এই তালিকায় রয়েছেন।প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী পদোন্নতিপ্রাপ্ত উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মকর্তার মধ্যে আছেন—লেফটেন্যান্ট জেনারেল আমিনুল করিম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল সিনা ইবনে জামালি, মেজর জেনারেল মুহাম্মাদ ইশতিয়াক, মেজর জেনারেল সৈয়দ ফাতেমী আহমেদ রুমি, মেজর জেনারেল কামরুজ্জামান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহিল আমান আযমী, কমোডর এম নাসির, কমোডর সৈয়দ মকছুমুল হাকিম, এয়ার ভাইস মার্শাল দেলোয়ার হোসেন, এয়ার কমোডর সৈয়দ ইমতিয়াজ হোসেন, এয়ার কমোডর কাজী মাজহারুল করিম, এয়ার কমোডর খালিদ হোসেন ও এয়ার কমোডর শাহারুল হুদা।এমআর-২
জাল ভোট দিলে যেসব শাস্তি হতে পারে
ভোটাধিকার গণতন্ত্রের অন্যতম মৌলিক ভিত্তি। কিন্তু এই অধিকার জালিয়াতির মাধ্যমে অপব্যবহার করা হলে প্রশ্নবিদ্ধ হয় পুরো নির্বাচনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা। বাংলাদেশে নির্বাচন ব্যবস্থার সুরক্ষায় জাল ভোটকে গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। আইন অনুসারে, এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।জাল ভোট কীজাল ভোট বলতে এমন ভোটকে বোঝায়, যা প্রকৃত ভোটার নিজের স্বাধীন ইচ্ছায় দেননি। যেমন—অন্য কেউ ভোটারের পরিচয় ব্যবহার করে ভোট দেওয়া, ভোটার উপস্থিত না থাকলেও তার নামে ভোট পড়ে যাওয়া, ভয়ভীতি বা জোর প্রয়োগ করে নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দিতে বাধ্য করা, অথবা একজন ব্যক্তি একাধিকবার ভোট দেওয়া। অর্থাৎ যেখানে ভোটারের স্বাধীন সিদ্ধান্ত অনুপস্থিত, সেখানেই জাল ভোট হিসেবে বিবেচিত হবে।স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে জাল ভোটের অভিযোগ উঠেছে। এতে নির্বাচন নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে অনাস্থা তৈরি হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।ইসির জিরো টলারেন্স নীতিত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ঘিরেও জাল ভোটের আশঙ্কার কথা জানিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। তবে নির্বাচন কমিশন (ইসি) বলেছে, জাল ভোট প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে। কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাৎক্ষণিক মামলা, গ্রেফতার এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।আইনে যেসব শাস্তির বিধানগণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২–এর ৭৩ থেকে ৮৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ভোটকেন্দ্রে বেআইনি আচরণ ও নির্বাচনি অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। এছাড়া ভোটকেন্দ্রে অনধিকার প্রবেশের অপরাধে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা হতে পারে। দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ও বিচারিক হাকিম অভিযোগের ধরন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারেন।যেসব কাজ জাল ভোট হিসেবে গণ্যগণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী নিচের কাজগুলো জাল ভোট বা নির্বাচনি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত—১. গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ এর ৭৪ অনুচ্ছেদে বলা আছে যদি কোনো ব্যক্তি কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে নির্বাচনে সুবিধা প্রদান বা বাধাগ্রস্ত করিবার উদ্দেশ্যে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তির সাহায্য গ্রহণ বা প্ররোচিত করেন বা সাহায্য গ্রহণ বা প্ররোচিত করার চেষ্টা করেন।২. ভোট দেয়ার যোগ্য নন বা অযোগ্য জানা সত্ত্বেও কোনো নির্বাচনে ভোট প্রদান করেন বা ভোট প্রদানের জন্য ব্যালট পেপার চান।৩. একই ভোটকেন্দ্রে একাধিকবার ভোট প্রদান করেন বা ভোট প্রদানের জন্য ব্যালট পেপার চান।৪. একই নির্বাচনে একাধিক ভোট কেন্দ্রে ভোট প্রদান করেন বা ভোট প্রদানের জন্য ব্যালট পেপার চান।৫. ভোট চলাকালে কোনো ভোটকেন্দ্র থেকে ব্যালট পেপার সরিয়ে ফেলেন।৬. জ্ঞাতসারে এসব কাজ করার জন্য কোনো ব্যক্তিকে প্ররোচিত করেন বা তার সাহায্য চান।আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সারা দেশে একযোগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাচন কমিশন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।এমআর-২
গুলশানে ভোট দেবেন প্রধান উপদেষ্টা
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আগামীকাল সকাল ১০টায় রাজধানীর গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে তার ভোট দেবেন।বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানানো হয়।নির্বাচনকে ঘিরে ইতোমধ্যে রাজধানীসহ সারাদেশে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও মাঠে রয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার ভোট প্রদানকে কেন্দ্র করে গুলশান এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রসহ আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।এমআর-২
সচেতনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান ড. ইউনূসের
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটে নিজ নিজ ভোটাধিকার সচেতনভাবে প্রয়োগ করতে দেশের সব শ্রেণি ও পেশার ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।১২ ফেব্রুয়ারি ‘গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন’ উপলক্ষ্যে বুধবার দেওয়া এক বাণীতে এ আহ্বান জানান তিনি।প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এ যুগান্তকারী গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য ও তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে। এটি শুধু একটি নির্বাচন বা সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নয়; বরং দেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা, গণতান্ত্রিক ধারা ও জনগণের সার্বভৌম ইচ্ছার প্রতিফলনের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ।’তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত একটি জাতি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা ও আত্মমর্যাদার ঘোষণা দিয়েছে, এই নির্বাচন সেই আকাঙ্ক্ষার চূড়ান্ত ও প্রাতিষ্ঠানিক বহিঃপ্রকাশ। প্রধান উপদেষ্টা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, গণভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণ ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রকাঠামো ও শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে তাদের সুস্পষ্ট মতামত ব্যক্ত করবেন এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সেই মতামত বাস্তবায়নের জন্য যোগ্য, দায়বদ্ধ ও জনআকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করবেন। এভাবে জনগণ সরাসরি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণে অংশীদার হবেন।তিনি বলেন, ‘এ নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে আমাদের বিশেষভাবে স্মরণ রাখতে হবে যে, দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণ নাগরিক এবারই প্রথম তাদের সাংবিধানিক ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। একই সঙ্গে পূর্ণবয়স্ক অনেক নাগরিকও দীর্ঘদিন ধরে প্রকৃত অর্থে ভোট প্রদানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিলেন। তাই এ গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন যেন প্রতিটি ভোটারের কাছে একটি আনন্দময়, শঙ্কামুক্ত, বিশ্বাসযোগ্য ও উৎসবমুখর গণতান্ত্রিক অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়, তা নিশ্চিত করা আমাদের সকলের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব। এ লক্ষ্য অর্জনে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সম্পূর্ণ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি। দেশের প্রতিটি নাগরিক যেন কোনো ধরনের ভয়ভীতি, চাপ বা প্রভাব ছাড়াই স্বাধীনভাবে তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন, সশস্ত্র বাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সকল বাহিনীকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে নিজ নিজ কর্তব্য পালন করতে হবে। একই সঙ্গে আমি রাজনৈতিক দলসমূহ, প্রার্থী ও সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে সংযম, সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক আচরণ বজায় রাখার আহ্বান জানাই।’তিনি আরও বলেন, ‘গণতন্ত্রের এ ঐতিহাসিক অভিযাত্রায় আপনাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ একটি শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের পথে আমাদের সম্মিলিতভাবে এগিয়ে যেতে সহায়তা করবে।’ এমআর-২
নির্বাচনে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান জাতিসংঘের
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশে নারীদের নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অর্থপূর্ণ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ঢাকায় জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীর কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানানো হয়।বিবৃতিতে বলা হয়, নির্বাচনে নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অর্থবহ অংশগ্রহণ সবার মৌলিক অধিকার। এর মাঝে নারী, বিশেষ করে প্রতিবন্ধী নারী, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নারী, ভিন্ন লিঙ্গ পরিচয়ের মানুষের অধিকারও অন্তর্ভুক্ত। নির্বাচনের সময় সাইবার বুলিং, ডিপফেক, পরিকল্পিত হয়রানি, ছবি বিকৃত করে তার অপব্যবহার, এআই দিয়ে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ কনটেন্ট প্রকাশ করে নারী ভোটার ও প্রার্থীদের হেনস্তা করা নিয়ে রাজনৈতিক নেতাকর্মী, সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী–অর্থাৎ বিভিন্ন নারী সংগঠন ও নাগরিক সমাজ যেভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, জাতিসংঘ সে বিষয়ে সচেতন বলে উল্লেখ করা হয়েছে ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।জাতিসংঘ জানায়, নির্বাচননে সহিংসতার ঘটনা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠতে পারে। জাতিসংঘ তার সব অংশীদারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যাতে নারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের বৈষম্য বা সহিংসতামূলক ঘটনা না ঘটে এবং ভোটের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে সবাই যেন দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখে।এমআর-২
সর্বশেষ প্রকাশিত
রাজনীতি
সব দেখুন
লাইলাতুল গুজব চলছে: জামায়াত আমির
গুজবকে পাত্তা না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান।বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি এ অনুরোধ জানান।ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, ‘প্রিয় দেশবাসী, লাইলাতুল গুজব চলছে। সবাই সাবধান, এই সমস্ত গুজবকে পাত্তাই দেবেন না।ইনশা আল্লাহ সত্যের বিজয় অবশ্যম্ভাবী।’এনআই
লাইলাতুল গুজব চলছে: জামায়াত আমির
গুজবকে পাত্তা না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান।বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি এ অনুরোধ জানান।ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, ‘প্রিয় দেশবাসী, লাইলাতুল গুজব চলছে। সবাই সাবধান, এই সমস্ত গুজবকে পাত্তাই দেবেন না।ইনশা আল্লাহ সত্যের বিজয় অবশ্যম্ভাবী।’এনআই
জামায়াতের ২ পোলিং এজেন্টের কারাদণ্ড, পোলিং অফিসার বহিষ্কার
পল্লবীতে মিরপুর শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে জামায়াতের দুজন এজেন্টকে দুবছরের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারা ফারজানা হক এই আদেশ দেন। এদিকে, দুজনকে ভোটকেন্দ্রে অনুপ্রবেশে সহায়তা করার অভিযোগে পোলিং অফিসার মোছা. সুমনা ইসলামকে (সহকারী শিক্ষিকা) কেন্দ্র থেকে বহিষ্কার করা হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত দুজন হলেন- মেহেদি হাসান খাদেম (৩২) ও রাইহান হোসেন (২৩)। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বহিষ্কার হওয়া সুমনা ইসলাম স্থানীয় ৬ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সাধারণ সম্পাদকের স্ত্রী। তিনি ওই দুজনকে ভোটকেন্দ্রে অনুপ্রবেশের সহায়তা করেন। ঘটনাটি নজরে আসার পর তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে উপস্থিত হন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারা ফারজানা হক। তিনি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ৭৩-এর ২(বি) ধারা অনুযায়ী দোষীদের বিচার করেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সূত্রে জানা যায়, অবৈধ প্রভাব বিস্তারের দায়ে সংশ্লিষ্টদের দুবছর সশ্রম কারাদণ্ড দেন ফারজানা হক। সেইসঙ্গে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়া হয়। অনিয়মের দায়ে অভিযুক্ত পোলিং অফিসার সুমনা ইসলামকে তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে বহিষ্কার করা হয়। কেন্দ্রের সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, কেন্দ্রের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দ্রুত এই পদক্ষেপ নেয়া হয়।এফএস
নাহিদ ইসলাম ও ‘নতুন জোট’: ভোটে জটিল সমীকরণ
ছাত্র-আন্দোলন থেকে উঠে আসা ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)-র নেতা নাহিদ ইসলাম চলতি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট করে লড়ছেন। এই সিদ্ধান্ত দেশের রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর ২৭ বছর বয়সী নাহিদ নিজেকে ‘নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত’-এর মুখ হিসেবে তুলে ধরেন। অন্তর্বর্তী সরকারে উপদেষ্টা হিসেবে সংক্ষিপ্ত সময় দায়িত্ব পালনের পর তিনি তারুণ্য নির্ভর নতুন দল এনসিপি গঠন করেন। দলটি এবার ৩০০ আসনের মধ্যে ৩০টিতে প্রার্থী দিয়েছে, যেখানে জোটসঙ্গী জামায়াত লড়ছে ২২২ আসনে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এসব উঠে এসেছে।নাহিদ ইসলাম সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে বলেন, ‘এটি আদর্শিক নয়, নির্বাচনি জোট। সংস্কার, দুর্নীতি দমন ও সুশাসনের মতো কিছু অভিন্ন ইস্যুতে আমরা একমত।’ তার দাবি, সংগঠনগত দুর্বলতা কাটাতেই অভিজ্ঞ দলের সঙ্গে সমঝোতা জরুরি ছিল।তবে সমালোচকদের মতে, এই জোটে বেশি লাভবান হচ্ছে জামায়াত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধ্যাপক সামিনা লুৎফা বলেন, ‘আন্দোলনের মুখগুলোকে পাশে বসিয়ে জামায়াত জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব নিজেদের করে নিতে চাইছে।’ বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন, এনসিপির জাতীয় ভোটভিত্তি ২-৫ শতাংশের মধ্যে; ফলে জামায়াতের সাংগঠনিক শক্তির ওপর নির্ভরশীলতা দলটির স্বতন্ত্র পরিচয়কে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।নারী ও সংখ্যালঘু অধিকার নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এনসিপি ৩০ প্রার্থীর মধ্যে দুজন নারীকে মনোনয়ন দিয়েছে, জামায়াত দেয়নি কাউকে। নাহিদ বলেন, 'নারী ও সংখ্যালঘু বিষয়ে আমাদের মৌলিক অবস্থান বিসর্জন দেয়া যাবে না।’জরিপগুলোতে বিএনপি ও জামায়াত-নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত মিলেছে। এমন প্রেক্ষাপটে ছোট দল হিসেবেও এনসিপি ফলাফল ও পরবর্তী সংস্কার-রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচন নাহিদ ইসলামের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা রাজনৈতিক বাস্তবতায় টিকে থাকবে কি না, তার বড় ধরনের পরীক্ষা হয়ে উঠছে।এফএস
মানবিক বাংলাদেশ গড়তে আলেম-ওলামাদের সহযোগিতা চাইলেন তারেক রহমান
বিএনপিকে সমর্থন দেয়ায় দেশের শীর্ষ আলেম-ওলামাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে একটি মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে তাদের অব্যাহত সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে তারেক রহমান বলেন, দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আলেম-ওলামাদের সুস্পষ্ট অবস্থান জাতিকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে সক্ষম হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি সবসময় ন্যায়, নৈতিকতা ও জনকল্যাণভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালনার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। আলেম সমাজের সমর্থন সেই আদর্শিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।বিবৃতিতে তারেক রহমান বলেন, ভবিষ্যতেও ইসলামী মূল্যবোধের আলোকে দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল নাগরিকের জন্য একটি নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় দেশের সম্মানিত পীর, মাশায়েখ, আলেম, ওলামা, ইমাম ও খতিবদের অব্যাহত সহযোগিতা চাই। তিনি মনে করেন, ধর্মীয় নেতৃত্বের ইতিবাচক ভূমিকা সমাজে সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও ন্যায়ভিত্তিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।তিনি আরও বলেন, জাতির এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে আলেম-ওলামাদের এই অবস্থান সাধারণ মানুষের মাঝে আস্থা ও সচেতনতা বৃদ্ধি করবে। বিবৃতির মাধ্যমে তারেক রহমান আবারও জোর দিয়ে বলেন, একটি মানবিক, গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ অপরিহার্য। এ ক্ষেত্রে আলেম-ওলামাদের ভূমিকা ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।এবি
ঢাকা-১৭ আসনে তারেক রহমানকে সমর্থন দিয়ে সরে দাঁড়ালেন আরও ৪ প্রার্থী
আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সমর্থন জানিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন চারজন প্রার্থী। এর আগে মোরগ প্রতীকের প্রার্থী এনায়েত উল্লাহও তারেক রহমানকে সমর্থন দিয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন।বুধবার ( ১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার পর বিএনপির গুলশান কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থীরা সশরীর এবং টেলিফোনের মাধ্যমে এই সমর্থনের কথা জানান।এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনএফ প্রার্থী এস এম আবুল কালাম আজাদ সংবাদ সম্মেলনে সশরীর উপস্থিত হয়ে তারেক রহমানের প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেন।তিনি বলেন, ‘দেশপ্রেমিক জাতীয়তাবাদী শক্তিকে এই মুহূর্তে নির্বাচনে জয়লাভ করাতেই হবে। সাম্প্রদায়িক শক্তি দেশে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছে। আমি উপলব্ধি করেছি, আমার প্রার্থিতা জাতীয়তাবাদী শক্তির ভোটকেই বিভক্ত করবে। সেই আশঙ্কা থেকেই আমি তারেক রহমানকে সমর্থন দিচ্ছি।’সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে ডাব প্রতীকের প্রার্থী শামীম আহমেদ বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ—এই স্লোগান সামনে রেখে আমি বিএনপি প্রার্থীকে সমর্থন করছি। আমার যাঁরা সমর্থক আছেন, তাঁরা ধানের শীষে ভোট দিলেই আমাকে ভোট দেওয়া হবে বলে গণ্য হবে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ধানের শীষের বিকল্প নেই।’এদিকে ঢাকার বাইরে থাকায় আনারস প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ রাশেদুল হক এবং আপেল প্রতীকের প্রার্থী মনজুর হুমায়ুন টেলিফোনে তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। তাঁরা দুজনেই ভোটারদের আগামী নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে তারেক রহমানকে বিজয়ী করার অনুরোধ জানান।সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা–১৭ আসনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক আবদুস সালাম সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন বস্তিতে টাকা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা চলছে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের জনসমর্থন না থাকায় তাঁরা অবৈধ পথ অবলম্বন করছেন বলে অভিযোগ করা হয়। এ সময় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।এবি
টাকা উদ্ধারের নামে ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে: আসিফ মাহমুদ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে টাকা উদ্ধারের নামে ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। আজ বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর বাংলামোটর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন তিনি।আসিফ মাহমুদ বলেন, টাকা উদ্ধারের নামে ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। তাদের কাছ থেকে টাকা ছিনতাই করা হচ্ছে। এ সময় টাকা দিয়ে ভোট কেনার দিন শেষ উল্লেখ করে ভোটারদের টাকা দেয়া প্রার্থীদের বর্জনের আহ্বান জানান তিনি।এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির এই চেয়ারম্যান বলেন, নির্বাচন নিয়ে নানা নাশকতার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। হান্নান মাসুদের বাড়িতে স্লোগান দিয়ে হামলা ও লুটপাট চালিয়েছে বিএনপির লোকজন। প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি, যা শঙ্কা বাড়িয়ে দিচ্ছে। এছাড়াও পঞ্চগড়ে সার্জিস আলমের গাড়িবহরে হামলা করা হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা-১৫ আসেনে জামায়াত আমিরের আসনে ১৩টি নির্বাচনি বুথে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়েছে। সারাদেশে পোস্টার-ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে।আসিফ মাহমুদ বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জায়গায় অস্ত্র মজুদ করা হচ্ছে। যেসব জায়গায় অস্ত্র মজুদ করা হয়েছে, সেসব স্থানে বুধবার রাতের মধ্যেই যৌথবাহিনীকে অভিযান চালানোর আহ্বান জানান তিনি।মিডিয়া বিএনপির দ্বারা দখল হয়ে গেছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, সাংবাদিকরা বাধ্য হচ্ছে। মিডিয়া একপাক্ষিক ও অদায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে। আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) এ ধরনের তথ্য-সন্ত্রাস মেনে নেয়া হবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।এবি
‘টকশোতে নীতিকথা বলা লোকেরা ভোটারদের টাকা দিচ্ছেন’
টকশোতে যাদের কথায় আমরা আপ্লুত হই ও যারা নীতিকথা বলেন; তেমন মানুষেরা ভোটারদের টাকা দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান।তিনি বলেন, কমিশন বলেছে তারা আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে। আমরা বলেছি যারাই অন্যায়, অনৈতিক এবং বেআইনি কাজ করবে তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে।মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন ও নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে নজরুল ইসলাম খান ছাড়াও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও নির্বাচন পরিচালননা কমিটির অন্যতম সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।বৈঠক শেষে নজরুল ইসলাম খান বলেন, আইন অনুযায়ী যার যার জায়গা থেকে সঠিকভাবে মনিটরিং করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। নির্বাচনের আগে ভোটারদের টাকা দেওয়াসহ নানান ঘটনা ঘটছে। এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছে। কমিশন বিষয়গুলো দেখবে বলে জানিয়েছে।তিনি বলেন, বিএনপি চায় অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। এজন্য আমাদের প্রার্থী ও এজেন্টদের যে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ আছে সেখানে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনোভাবেই নির্বাচন বাধাগ্রস্ত না হয়। বহুল কাঙ্ক্ষিত এ নির্বাচন যাতে শান্তিপূর্ণ হয় সেজন্য নির্বাচন কমিশন যেন আইনানুগ ভূমিকা পালন করে সেজন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।বিএনপির এ জ্যেষ্ঠ নেতা আরও বলেন, মিডিয়ায় দেখি লাখ লাখ নারীর বিশেষ কাপড় তৈরি হচ্ছে। ব্যালট পেপার ছাপানো হচ্ছে, সিলসহ ধরাও পড়ছে। নির্বাচন কমিশন এসব দেখার পরও তেমন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এসব ঘটনা নির্বাচনের দিন দেখার বিষয় নয়, আগেই কেন নির্বাচন কমিশনের নজরে আসছে না। গোয়েন্দাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সব বাহিনীই এখন নির্বাচন কমিশনের অধীন। তাহলে কেন আগে থেকেই জানা যায় না। কিছু কিছু লোক নিজেদের ক্ষমতাবান মনে করেন। এটা সাধারণ মানুষ ভালোভাবে নিচ্ছে না। নির্বাচন কমিশনকে জানানোর পরও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী যার যার যে ভূমিকা তা কঠোরভাবে পালন করা উচিত। বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর এসেছে মাঠ পর্যায়ে অমুক ডিসি অমুক দলের লোক। কোন দলের ডিসি কতজন এমন হিসাব দেওয়া হচ্ছে। এটা হয়তো গুজবও হতে পারে, কেননা এমন গুজব ছড়িয়ে দিয়ে কর্মীদের বলা হতে পারে যার যেটা ইচ্ছে করো, আমাদের লোক আছে কিছু করবে না। এটাকে আমরা গুজব হিসেবেই দেখতে চাই। তবে নির্বাচন কমিশনকে খেয়াল রাখতে হবে যাতে কোনো কর্মকর্তার কর্মকাণ্ড কোনো বিশেষ দলের পক্ষপাতমূলক না হয়। এমন কিছু নজরে এলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে।নজরুল ইসলাম খান বলেন, এখনো নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। নির্বাচনের একদিন বাকি, আশা করছি কোনো সমস্যা হবে না। কেননা যে দল নির্বাচন চায় না তারা তো নির্বাচনে নেই। যেসব দল নির্বাচনে আছি, আমরা সবাই মিলে তো একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। আশা করছি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাাধ্যমে আমাদের দল বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবে।এমআর-২
চলতি সপ্তাহে সর্বাধিক পঠিত
যাত্রাবাড়ীতে ককটেল বিস্ফোরণে ডেইরি ফার্ম কর্মচারী আহত
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর মিনি কক্সবাজার এলাকায় পরিত্যক্ত ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় মোহাম্মদ আজিম (২৭) নামে এক ডেইরি ফার্মের কর্মচারী গুরুতর আহত হয়েছেন।শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার দিকে কাজের অংশ হিসেবে মাঠ থেকে ঘাস কাটার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। আহত আজিম বাগেরহাট জেলার মো. আনোয়ার হোসেনের ছেলে। তিনি বর্তমানে যাত্রাবাড়ীর কোনাবাড়ী এলাকায় বসবাস করতেন এবং ‘জোসনা ডেইরি ফার্মে’ কর্মরত ছিলেন বলে জানিয়েছেন তার স্বজনরা।জোসনা ডেইরি ফার্মের মালিক সাদেক জানান, বিস্ফোরণের খবর পেয়ে দ্রুত আহত আজিমকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক বলেন, যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় এক যুবককে ঢামেকে আনা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে আহত ব্যক্তির কাছ থেকে জানা গেছে, ঘাস কাটার সময় কাঁচির আঘাতে পরিত্যক্ত ককটেলটি বিস্ফোরিত হয়। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করা হয়েছে।এবি
স্থানীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষকেরা অবহেলার শিকার, ইসির উদাসীনতায় হতাশ ইওএস
বিদেশি পর্যবেক্ষকদের জন্য পাঁচ তারকা হোটেল, গাড়ি ও আনুষঙ্গিক সব সুবিধা নিশ্চিত করা হলেও, নিজ দেশের ৫৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবী পর্যবেক্ষকের ন্যূনতম থাকা–খাওয়ার ব্যয় দিতেও অনাগ্রহ দেখাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির এমন উদাসীনতায় হতাশা প্রকাশ করে অভিযোগ তুলেছে ইলেকশন অবজার্ভার সোসাইটি (ইওএস)।শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬: দেশব্যাপী সার্বিক অবস্থা ও স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের অবস্থান’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান সংগঠনটির নেতারা।সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন ইওএস সভাপতি মো. ইকবাল হোসেন হীরা। তিনি বলেন, “নির্বাচনে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের থাকা–খাওয়ার জন্য কমিশন পাঁচ তারকা হোটেলের ব্যবস্থা করলেও স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের বিষয়ে কমিশনের কোনো আগ্রহ নেই। বিষয়টি অত্যন্ত হতাশাজনক।”তিনি জানান, এবারের নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী অধিকাংশ স্থানীয় পর্যবেক্ষক প্রথমবারের মতো মাঠে কাজ করবেন এবং তারা সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবী ভিত্তিতে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার করেছেন।ইওএস সভাপতি বলেন, “আমরা কোনো রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে থাকা–খাওয়া কিংবা আর্থিক সহায়তা নিচ্ছি না। অতীতে দলীয় অর্থায়নে পর্যবেক্ষণ করে অনেকেই পক্ষপাতদুষ্ট প্রতিবেদন দিয়েছেন, আমরা সেই পথ এড়াতে চাই।”তিনি আরও বলেন, ইসির কাছে নির্বাচনকালীন মাত্র তিন দিনের থাকা–খাওয়ার খরচ চাওয়াটাও তাদের জন্য লজ্জার, তবে নিরপেক্ষতা রক্ষার স্বার্থে রাজনৈতিক দলের সহায়তা নেওয়া সম্ভব নয়।ইওএস সভাপতি অভিযোগ করে বলেন, সংগঠনের পক্ষে বিপুলসংখ্যক পর্যবেক্ষকের ন্যূনতম ব্যয় বহন করা সম্ভব নয় জানালেও কমিশন থেকে বলা হয়েছে,“আপনাদের পর্যবেক্ষক হিসেবে থাকার প্রয়োজন নেই।”সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশব্যাপী প্রায় ৪২ হাজার ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৬ হাজার ৯৯৫টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা জেলাতেই ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা ১০৩টি। এসব তথ্য মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষকদের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানানো হয়।ইওএস জানায়, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলো বিপুল ব্যয় করলেও ৫৫ হাজার পর্যবেক্ষকের মাত্র তিন দিনের খাবার ও যাতায়াত খরচের বিষয়ে বারবার আহ্বান জানানো সত্ত্বেও কমিশন কোনো সাড়া দেয়নি।সংগঠনটি আরও জানায়, দাবির পক্ষে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হলেও কমিশনের পক্ষ থেকে আলোচনার জন্য কোনো প্রতিনিধি পাঠানো হয়নি, এমনকি স্মারকলিপিও গ্রহণ করা হয়নি।তবে এই পরিস্থিতিতে পর্যবেক্ষক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও, দেশব্যাপী সাধারণ মানুষের নির্বাচনী প্রত্যাশা ও জাতীয় স্থিতিশীলতার স্বার্থে আপাতত সে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়নি বলে জানানো হয়।নির্বাচনী পরিচয়পত্র ইস্যু নিয়েও পর্যবেক্ষকদের ভোগান্তির কথা তুলে ধরে ইওএস জানায়, কখনো অনলাইন, কখনো অফলাইন পদ্ধতিতে সিদ্ধান্ত বদলের কারণে অনেক জেলা এখনো পরিচয়পত্র পেতে বিলম্ব ও জটিলতার মুখে পড়ছে।সংবাদ সম্মেলনে ইওএস গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলে, ৫৫ হাজার পর্যবেক্ষকের থাকা–খাওয়ার অর্থায়ন কীভাবে হবে এবং এর দায় কমিশনের কি না—সে প্রশ্নটি গণমাধ্যমে জোরালোভাবে তুলে ধরা জরুরি।সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ইওএসের প্রধান সমন্বয়কারী শহীদুল ইসলাম আপ্পি, সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন আমীন, সিনিয়র সহ-সভাপতি ফেরদৌস আহমেদ, সহ-সভাপতি বশির আহমেদসহ কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা।ইখা
নির্বাচন কমিশন দায়িত্বশীল আচরণ করছে না: মির্জা আব্বাস
নির্বাচন কমিশন (ইনি) দায়িত্বশীল আচরণ করছে না বলে অভিযোগ করেছেন ঢাকা-৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাস। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর শান্তিনগর এলাকায় গণসংযোগকালে সাংবাদিকদের তিনি এ অভিযোগ করেন।মির্জা আব্বাস বলেন, নির্বাচন কমিশন দায়িত্বশীল আচরণ করছে না। এরইমধ্যে অনেকগুলো অভিযোগ করেছি। কিন্তু একটারও রেস্পন্স পাইনি। এটা খুব দুর্ভাগ্যজনক।ঢাকা-৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী বলেন, একটা বিশেষ দলের কথাবার্তা শুনে মনে হচ্ছে তারা নির্বাচন জিতে বসে আছে। এত বছর নির্বাচন করেছি, কিন্তু আমরা প্রেডিকশন করতে পারিনি যে আমরা জিতে গেছি, অথচ তারা পারে কীভাবে! জনগণ ঠিক করবে তারা কাকে ভোট দেবে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন তো হচ্ছে, সঙ্গে পক্ষপাতিত্ব হচ্ছে। এই পক্ষপাতিত্ব খুব খারাপ। একটা ভুয়া ফলাফল নিয়ে তারা সংসদে যাবে? এটা তো হতে পারে না। তিনি আরও বলেন, ভোটারদের অনুরোধ জানাবো তারা যেনো সব চক্রান্তের জাল ছিঁড়ে ইলেকশনের দিন যথাযথভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে।ইখা
নতুন ঘোষণা দিয়ে শাহবাগ ছাড়ল ইনকিলাব মঞ্চ
নতুন ঘোষণা দিয়ে শাহবাগ ছেড়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীরা। বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে শাহবাগ ছাড়েন তারা।এ সময় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব জাবেরের নির্দেশনা অনুযায়ী, কর্মীদের ঘরে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান সংগঠনটির এক নেতা। তিনি বলেন, ‘ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) নতুন কর্মসূচি ঘোষণা দেওয়া হবে। সেই ঘোষণা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’এসময় ডাকসুর দুই নেতা এবি জুবাইর ও মুসাদ্দেক আলী উপস্থিত ছিলেন।এর আগে ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়, ‘লীগ অ্যাক্টিভ হয়েছে। তারা সাধারণ জনতার সঙ্গে মিশে পরিস্থিতি অন্য দিকে প্রবাহের চেষ্টা করছে। সবাইকে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার অনুরোধ জানাল ইনকিলাব মঞ্চ শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচার এবং নির্বাচন বানচালের চেষ্টা চলছে। আপনাদের সবাইকে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো।’এনআই
‘লীগ এক্টিভ হয়েছে, সবাই নিরাপদ স্থানে চলে যান’
চলমান বিক্ষোভের মধ্যেই নতুন বার্তা দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টা ১৩ মিনিটে ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পেজ থেকে এ-সংক্রান্ত পোস্ট দেওয়া হয়েছে।পোস্টে বলা হয়, ‘লীগ অ্যাক্টিভ হয়েছে। তারা সাধারণ জনতার সঙ্গে মিশে পরিস্থিতি অন্য দিকে প্রবাহের চেষ্টা করছে।শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচার এবং নির্বাচন বানচালের চেষ্টা চলছে। আপনাদের সবাইকে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো।’এদিকে, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহিদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে আন্দোলনরত নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। এসময় যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়।শুক্রবার বিকেল ৫টা থেকে শাহবাগে অবস্থান নেন ছাত্র-জনতা।এ সময় ‘ব্লকেড, ব্লকেড, শাহবাগ ব্লকেড’; ‘হাদি তোমায় দেখা যায়, ইনকিলাবের পতাকায়’; ‘কে বলেরে হাদি নাই, হাদি সারা বাংলায়’; ‘এক হাদি লোকান্তরে, লক্ষ হাদি ঘরে ঘরে’; ‘তুমি কে আমি কে, হাদি হাদি’; ‘তুমি কে আমি কে, জাবির জাবির’; ‘বাংলাদেশের জনগণ, নেমে আসুন, নেমে পড়ুন’সহ নানা স্লোগান দিতে দেখা যায়।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে রাজু ভাস্কর্য থেকে একটি মিছিল নিয়ে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেন। মিছিলটি শাহবাগে পৌঁছানোর পর তারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন।এনআই
কুষ্টিয়ায় ভোটকেন্দ্রের সামনে ১০টি বোমা সাদৃশ্য বস্তু উদ্ধার
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে একটি ভোটকেন্দ্রের সামনে থেকে ১০টি বোমা সাদৃশ্য বস্তু উদ্ধার করেছে পুলিশ।বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার সদকী ইউনিয়নের বানিয়াকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ২০ গজ দূরে (পশ্চিম) অবস্থিত ঘাস খেত থেকে এসব উদ্ধার করা হয়।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বানিয়াকান্দি বাজার ঘেঁষে বানিয়াকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অবস্থিত। বাজার ঘেঁষে স্থানীয় মতিন মাস্টারের নেপিয়ার ঘাস খেত। সেখানে দুপুর ১২টার দিকে স্থানীয় রাজমিস্ত্রি ফরিদ খান প্রস্রাব করতে যান। সেসময় তিনি মুখ বাঁধা দুটি ব্যাগ দেখতে পান। খবর পেয়ে সেখানে উৎসুক জনতা ভিড় করে। তারা প্রশাসনকে খবর দিলে ঘটনাস্থলে ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ ও সেনাবাহিনী কর্মকর্তা ও সদস্যরা ছুটে আসে। তারা দুটি ব্যাগ থেকে লাল টেপ পেঁচানো ১০টি বোমা সাদৃশ্য বস্তু উদ্ধার করে। এ ব্যাপারে কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, ‘খবর পেয়ে বানিয়াকান্দি ভোট কেন্দ্রের সামনে থেকে দুটি ব্যাগ থেকে ১০টি বোমা সাদৃশ্য বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য থানায় আনা হয়েছে বস্তুগুলো। এ সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়া চলমান।’এসআর
মোংলায় কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছানো হচ্ছে নির্বাচনি সরঞ্জাম
রাত পোহালেই অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। নির্বাচনী প্রচারণা শেষ হওয়ার পর ভোটের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। এ উপলক্ষে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে নির্বাচনী সরঞ্জামাদি। এর মধ্যে রয়েছে স্বচ্ছ ব্যালট বক্স, অমোচনীয় কালি, দলীয় ভোটের জন্য সাদা ব্যালট পেপার ও গণ ভোটের জন্য গোলাপি ব্যালট পেপারসহ ভোটার তালিকা। কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা প্রিসাইডিং অফিসার ও নির্বাচনী কর্মকর্তারা সরঞ্জামাদি বুঝে নিচ্ছেন।এবারের নির্বার্চনে ভোটাররা দুটি ব্যালট পেপারে ভোট দেবেন। একটি সাদা ব্যালট, এটি হবে সংসদ সদস্য নির্বাচনের ব্যালট। আর গোলাপি ব্যালটটি হবে গণভোটের।উপজেলা থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ভোটের সরঞ্জাম কেন্দ্রগুলোতে পাঠানো হচ্ছে। সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার উপকরণ বুঝে নেয়ার পর পুলিশ ও আনসার সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে কেন্দ্রে রওনা দিচ্ছেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, আনসার, নৌবাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড নিয়োজিত রয়েছে।বাগেরহাট-৩ আসন (রামপাল-মোংলা) এর মোংলায় ৫২ টি ভোট কেন্দ্রে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সরঞ্জাম ও ব্যালট পেপার পাঠানো হচ্ছে। আজ বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) উপজেলা সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে এসব সরঞ্জাম বুঝে নিচ্ছেন গ্রহণের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। রাতের মধ্যেই ভোটকেন্দ্রগুলোতে পৌঁছে যাবে ভোটের প্রয়োজনীয় এ সব সরঞ্জাম।উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার শারমিন আক্তার সুমী বলেন, মোংলায় ৫২টি ভোট কেন্দ্রে ভোটের প্রয়োজনীয় সব সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে। ভোট কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রিজাইডিং অফিসাররা কেন্দ্রে পৌঁছে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করবেন। ৫২টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ৪০টি কেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।এসআর
টানা ৩ দিন বন্ধ বেনাপোল কাস্টমস, বন্দর ও আমদানি-রপ্তানি বন্ধ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে বিশেষ নিরাপত্তার জন্য বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত টানা তিনদিন বেনাপোল কাস্টস, বন্দর এবং বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এর ফলে তিন দিন এ পথে কোন আমদানি-রপ্তানি হবে না। বন্দর থেকে কোন পণ্য লোড-আনলোডও হবে না। তবে শুধুমাত্র ভোটের দিন বৃহস্পতিবার ইমিগ্রেশন বন্ধ থাকায় পাসপোর্টযাত্রী চলাচল বন্ধ থাকবে। বাকী বন্ধের দিনগুলো এ পথে উভয় দেশের পাসপোর্টধারীযাত্রীদের যাতায়াত স্বাভাবিক থাকবে বলে জানা গেছে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে আবার এ পথে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য চলবে বলে জানান বন্দর সংশ্লিষ্টরা।বেনাপোল কাস্টমস সিএন্ডএফ এজেন্ট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক সাজেদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সরকারি ছুটি ঘোষনা ও ১৩ ফেব্রুয়ারি সাপ্তাহিক ছুটিতে বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি কাস্টমস হাউজ ও বন্দর ও বন্ধ থাকবে। শনিবার সকাল থেকে পুনরায় এ পথে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চলবে।বেনাপোল স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) কাজী রতন বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বিশেষ নিরাপত্তার জন্য বৃহস্পতিবার একদিন বন্ধ থাকবে ইমিগ্রেশন। আর বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত টানা তিনদিন আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। সেই সাথে কাস্টমস ও বন্দরের কোন কার্যক্রম চলবে না। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে পুনরায় আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হবে।বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) ও উপ-সচিব মো. শামীম হোসেন বলেন, এ বন্দরে দেশের কয়েকশ আমদানিকারকের কোটি কোটি টাকার পণ্য রয়েছে। নির্বাচনের ছুটিতে টানা তিনদিন বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এসময় যাতে কেউ সেখানে প্রবেশ করে পণ্যের ক্ষতি কিংবা কোনো রকম নাশকতামূলক ঘটনা না ঘটাতে পারে এজন্য নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। সেই সাথে আনসার ব্যাটালিয়ন ও বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থাকে সতর্ক রাখা হয়েছে।বেনাপোল চেকপোস্ট পুলিশ ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম শাখাওয়াত হোসেন জানান, নির্বাচন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বেনাপোল-পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন দিয়ে যাত্রী চলাচল করতে পারবেন না। তবে শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৬টার পর থেকে পুনরায় দু‘দেশের মধ্যে যাত্রী চলাচল স্বাভাবিক চলবে।এসআর
এবার ভোটকেন্দ্রের সিসি ক্যামেরা চুরি!
কুষ্টিয়া-২ আসনে মিরপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নওপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র থেকে দুটি সিসি ক্যামেরা চুরির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে চুরির ঘটনা দেখতে পেয়ে মিরপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোজাম্মেল হক সময়ের কণ্ঠস্বর কে জানান, সোমবার দিবাগত রাত ১১ থেকে ভোর ৫ ঘটিকার মধ্যে মিরপুর পৌর সভার ৮ নং ওয়ার্ডে অবস্থিত ১৯ নং নওপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের লক্ষে স্থাপিত ৪ টি সি সি ক্যামেরার মধ্যে ২ টি সি সি ক্যামেরা হারিয়ে গেছে।আমরা ধারণা করি কে বা কাহারা ক্যামেরা দুটি খুলে নিয়ে গেছে।এ ব্যাপারে মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘সকালে স্কুল কর্তৃপক্ষ চুরির বিষয়টি জানতে পেয়ে আমাকে জানায়। আগামীকাল (বুধবার) সকালে একই স্থানে আবারও নতুন করে ক্যামেরা প্রতিস্থাপন করা হবে।’মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, চুরির ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোজাম্মেল হক থানায় জিডি করেছেন। বিষয় নিয়ে কাজ করছে পুলিশ। উপজেলা জুড়ে নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা হয়েছে।উল্লেখ্য মিরপুর উপজেলায় ১১৪টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই আসনে দুই উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৭৮ হাজার ১ জন।এফএস
যশোরের ৮২৪ ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা ও পুলিশের শরীরে থাকছে বডি ক্যামেরা
ত্রয়োদশ জাতীয় সঙমদ নির্বাচনে যশোরের ৬ আসনে ৮২৪ ভোট কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের বডি ক্যামেরা রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে অতি গুরুত্বপূর্ণ ৭১টি কেন্দ্রসহ মোট ৩০২টি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন প্রশাসন। পুলিশ সুপার কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে ১২৮টি কেন্দ্রের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ৯৩টি। এ আসনটিতে জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে চিহিৃত করেছে পুলিশ। এছাড়া যশোর-১ (শার্শা) আসনে ১০২টি কেন্দ্রের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ৫১টি কেন্দ্র।যশোর-২ (ঝিকরগাছা ও চৌগাছা) আসনে ১৭৫টি কেন্দ্রের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ৪৫টি। এর মধ্যে চৌগাছায় ৮১টির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ২৩টি এবং ঝিকরগাছায় ৯৪টির মধ্যে ২২টি ভোট কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ।যশোর-৩ (সদর) আসনে ১৯০টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ৫০টি। যশোর-৪ (বাঘারপাড়া ও অভয়নগর) আসনে ১৪৮টি কেন্দ্রের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ৪২টি। যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে ৮১টি কেন্দ্রের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ২১টি। ভোটের দিন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করবে ১৪ হাজার ৬২ পুলিশ, আনসার সেনাবাহিনী ও এয়ারফোর্সের সদস্য। এর সাথে থাকবে র্যাবের পেট্রোল টিম, বিজিবির প্লাটুন। সেই সাথে থাকবে ২০০ স্ট্রাইকিং ফোর্স ও মোবাইল টিম।যশোর নির্বাচন অফিস সূত্র জানিয়েছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৮২৪ কেন্দ্রের ৪ হাজার ৬৭৯ কক্ষে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ৮২৪ প্রিজাইডিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন। এতে ৪ হাজার ৬৭৯ সহপ্রিজাইডিং অফিসার, ৯ হাজার ৩৫৮ পোলিং অফিসার। এর মধ্যে যশোর-১ (শার্শা) আসনে ১০২ কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকবেন ১০২ প্রিজাইডিং অফিসার, ৫৭৭ কক্ষে ৫৭৭ সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও ১ হাজার ১৫৪ পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন।যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনে ১৭৫ কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকবেন ১৭৫ প্রিজাইডিং অফিসার, ৯০৫ কক্ষে ৯০৫ সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও ১ হাজার ৮১০ পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন।যশোর-৩ (সদর) আসনে ১৯০ কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকবেন ১৯০ প্রিজাইডিং অফিসার, ১ হাজার ১৮৩ কক্ষে ১ হাজার ১৮৩ সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও ২ হাজার ৩৬৬ পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন। যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনে ১৪৮ কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকবেন ১৪৮ প্রিজাইডিং অফিসার, ৮৬৯ কক্ষে ৮৬৯ সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও ১ হাজার ৭৩৮ পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন।যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে ১২৮ কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকবেন ১২৮ প্রিজাইডিং অফিসার, ৭২০ কক্ষে ৭২০ সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও ১ হাজার ৪৪০ পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন। যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে ৮১ কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকবেন ৮১ প্রিজাইডিং অফিসার, ৪২৫ কক্ষে ৪২৫ সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও ৮৫০ পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন।যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে সকল প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। প্রত্যেক ভোট কেন্দ্রে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে তিনজন করে পুলিশ সদস্য উপস্থিত থাকবেন। দুই শতাধিক স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ ভোট কেন্দ্রগুলোতে তিনজন করে অস্ত্রধারী পুলিশ সদস্য থাকবে। প্রত্যেকটি ভোটকেন্দ্রে ১৩জন করে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা থাকবেন। ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্ব পালন করবেন। ৭১ জন পুলিশ সদস্যের শরীরে স্থাপন করা থাকবে ক্যামেরা। সুরক্ষা অ্যাপসের মাধ্যমে ওই ক্যামেরায় ধারণকরা ফুটেজ সকল সদস্য দেখতে পারবে। কোথায় কোন গোলযোগ হলে রিজার্ভ ফোস সেখানে দ্রুততার সাথে পৌঁছাবে। ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট কাজ করবে।যশোর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার আশেক হাসান বলেন, ভোটকেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এই প্রথম শতভাগ ভোটকেন্দ্র নজরদারির আওতায় এসেছে। অতি গুরুত্বপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ভোটকেন্দ্রে স্বশস্ত্র পুলিশ, আনসার, নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটসহ স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সেনাবাহিনী, র্যাব ও বিজিবি দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি বডি ক্যামেরা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাঠে থাকবে।তিনি আরও বলেন, যশোর ৬টি আসনে ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তা ও ভোটের কাজে নিয়োজিত থাকবে ১৫ হাজারের বেশি কর্মকর্তা কর্মচারী। ১১ ডিসেম্বর থেকে ১১ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করে যাচ্ছেন, আজ থেকে আরও ৪০ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ঢাকা থেকে এসেছে। তারাও মঙ্গলবার থেকে কার্যক্রম শুরু করবে। ৬টি আসনের বিপরীতে ২ জন করে ১২ জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করবে। এনআই
কঠোর নজরদারিতে ভোটের মাঠ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ১২৬টি ভোটকেন্দ্রেই সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। একই সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে স্থাপন করা হয়েছে আধুনিক ‘সেন্ট্রাল মনিটরিং সেল’, যেখান থেকে প্রতিটি কেন্দ্রের ভেতর ও বাইরের কার্যক্রম সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হবে।চট্টগ্রাম-১৪ ও ১৫ আসনের অন্তর্ভুক্ত সাতকানিয়া উপজেলায় মোট ১২৬টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে প্রতিটি কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় সংখ্যক সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও প্রযুক্তিগত সংযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে। ভোটের দিন এই ক্যামেরাগুলোর মাধ্যমে কেন্দ্রগুলোতে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হবে।উপজেলা প্রশাসন জানায়, কোনো কেন্দ্রে অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা বা দুর্বৃত্তায়নের চেষ্টা হলে মনিটরিং সেল থেকে তা তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে। ফলে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন কর্মকর্তারা।সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, “জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজন করতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপন এবং কেন্দ্রীয়ভাবে তা মনিটর করার মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।”নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সাতকানিয়া উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৬৪ হাজার ১৬৭ জন। প্রতিটি কেন্দ্রে ১৩ থেকে ১৮ জন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা ‘বডিওর্ন ক্যামেরা’ ব্যবহার করবেন, যাতে দায়িত্ব পালনের প্রতিটি ধাপ নথিবদ্ধ থাকে।সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ডিজিটাল এই নজরদারি ব্যবস্থার ফলে পেশিশক্তির ব্যবহার, ভোট জালিয়াতি ও কেন্দ্র দখলের মতো অনিয়মের সুযোগ কমে আসবে। এতে ভোটারদের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধি পাবে এবং উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্ভব হবে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে এসে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে।এনআই
লক্ষ্মীপুরে এ্যানির নির্বাচনী গাড়ি থেকে ১৫ লাখ টাকা উদ্ধার, সহকারী আটক
লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের বিএনপি প্রার্থী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির নির্বাচনী গাড়ি থেকে ১৫ লাখ টাকা উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী। এ সময় তার ব্যক্তিগত সহকারী বদরুল আলম শ্যামলকে আটক করা হয়েছে।বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং নির্বাচনী অনুসন্ধান ও তদন্ত কমিটির সদস্য তাহরিনা আক্তার নওরিন।প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যায় জেলা সদরের ঝুমুর গোলচত্বর এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই টাকা উদ্ধার করা হয়। আটক বদরুল আলম শ্যামল প্রার্থী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির খালাতো ভাই এবং তার ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। যে গাড়িটি থেকে টাকা উদ্ধার করা হয়েছে, সেটি এ্যানির নির্বাচনী কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল।নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির সদস্য তাহরিনা আক্তার নওরিন জানান, গাড়ি ও টাকাসহ একজনকে আটক করেছে সেনাবাহিনী। আটক ব্যক্তিকে আধা ঘণ্টার মধ্যে কারণ দর্শানোর (শো-কজ) নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।এনআই
ভোটকেন্দ্রের সিসি ক্যামেরা চুরি, পুনরায় স্থাপন ও তিন যুবক আটক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম-১৩ আসনের একটি কেন্দ্রে লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরা খুলে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতের কোনো এক সময়ে আনোয়ারা উপজেলার বৈরাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। তবে বুধবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেখানে তাৎক্ষণিকভাবে পুনরায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেছেন।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ক্যামেরা না দেখে বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে। পরে খোঁজ নিয়ে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, রাতের কোনো এক সময় পরিকল্পিতভাবে ক্যামেরাগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ—নির্বাচনকে ঘিরে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই সিসি ক্যামেরা সরানোর এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।ঘটনার পর আনোয়ারা থানার পুলিশ সন্দেহভাজন স্থানীয় তিন যুবককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে বলে জানিয়েছেন বৈরাগ ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, “ভোটকেন্দ্রে বসানো দুটি সিসিটিভি ক্যামেরা চুরির ঘটনায় সন্দেহজনক তিন যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বর্তমানে একই স্থানে পুনরায় আরও দুটি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে।”এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার বলেন, “দুপুরেই সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। আটককৃতদের নথিপত্র (ডকুমেন্টস) রাখা হয়েছে। তবে চুরি হওয়া সিসিটিভিগুলো এখনও উদ্ধার করা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, টান দিয়ে সেগুলো খুলে ফেলা হয়েছে।”উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম–১৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী সরওয়ার জামাল নিজামের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা মাহমুদুল হাসান। এ ছাড়া আসনটিতে ভোটের মাঠে রয়েছেন জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মোহাম্মদ এমরান, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের এস এম শাহজাহান, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মু. রেজাউল মোস্তফা, খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ ইমরান ও জাতীয় পার্টির আবদুর রব চৌধুরী।এনআই
টাকাসহ ব্যক্তিগত সহকারী আটকের বিষয়ে যা বললেন এ্যানি
লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের বিএনপি প্রার্থী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির নির্বাচনী গাড়ি থেকে ১৫ লাখ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন তিনি।বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে বিএনপি মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেজে এক ভিডিও বার্তায় তিনি এই প্রতিক্রিয়া জানান।এর আগে, ওই রাতে জেলা সদরের ঝুমুর গোলচত্বর এলাকায় এ্যানির নির্বাচনী গাড়ি থেকে ১৫ লাখ টাকা উদ্ধার করে সেনাবাহিনী এবং তার ব্যক্তিগত সহকারী বদরুল আলম শ্যামলকে আটক করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির সদস্য তাহমিনা আক্তার নওরীন।ভিডিও বার্তায় শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, “আমি লক্ষ্মীপুরে নির্বাচনী কাজে ব্যস্ত রয়েছি। এর মধ্যে শুনতে পেলাম, আমার নির্বাচনী কাজে ব্যবহৃত গাড়িটি তল্লাশি করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে বিষয়টি হলো—আমার নির্বাচনী এজেন্ট ওই গাড়ি নিয়ে বিভিন্ন কেন্দ্রে যাচ্ছিলেন। সেখানে আমার ব্যাগে থাকা ১৫ লাখ টাকা কেন্দ্রভিত্তিক খরচের জন্য রাখা হয়েছিল। কর্তৃপক্ষ সেটি চেক করেছেন এবং আদালত থেকে ইতিমধ্যে তা রিলিজও করা হয়েছে। এটি সত্য যে, এই টাকা কেন্দ্র ফি বাবদ ব্যবহারের জন্য নেওয়া হচ্ছিল।”তিনি আরও বলেন, “সুতরাং কোনো ধরনের বিভ্রান্ত হওয়ার কিছু নেই। যারা এটি নিয়ে নিউজ করছেন, আমি মনে করি তারা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যমূলকভাবে আমার ইমেজ ক্ষুণ্ন করার জন্য এসব করছেন। আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই।”প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিকে ইতিমধ্যে কারণ দর্শানোর (শো-কজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং উদ্ধারকৃত টাকার উৎস ও ব্যবহার নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।এবি / এনআই
চকরিয়ায় বাসের চাপায় ইজিবাইকচালক নিহত
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী এলাকায় বাসের চাপায় এক ইজিবাইকচালক নিহত হয়েছেন। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের খুটাখালীর ‘গ্রামীণ ব্যাংক রাস্তার মাথা’ এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত মো. তারেক (২১) ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের আউলিয়াবাদ গ্রামের আবুল কালামের ছেলে।প্রত্যক্ষদর্শী ও হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তারেক ইজিবাইক নিয়ে গ্রামীণ সড়ক থেকে মহাসড়ক পার হচ্ছিলেন। এ সময় চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারগামী দ্রুতগতির ‘পূরবী পরিবহন’-এর একটি বাস ইজিবাইকটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় এবং ইজিবাইকটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।মালুমঘাট হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও ইজিবাইক পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে বাসের চালক ও সহকারী পালিয়ে যাওয়ায় তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি। তাদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে।এনআই
ভোটের আগের দিন দোয়া-মোনাজাতে জাপা প্রার্থী রায়হান জামিল
নির্বাচনী প্রচারণা শেষে ভোটের আগের দিন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও জিয়ারত করেছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী মুফতি রায়হান জামিল।মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে তিনি টুঙ্গিপাড়ায় পৌঁছে বঙ্গবন্ধুর কবর জিয়ারত করেন। এ সময় তিনি দেশ ও জাতির শান্তি, অগ্রগতি এবং ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন) আসনের উন্নয়ন কামনায় দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।এরপর তিনি গওহরডাঙ্গা খাদেমুল ইসলাম মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা আল্লামা শামছুল হক ফরিদপুরী (রহ.)-এর কবর জিয়ারত করেন। জিয়ারতকালে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়। এ সময় ফরিদপুরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে রায়হান জামিল বলেন, “বৃহত্তর ফরিদপুর জেলার কৃতি সন্তান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং আল্লামা শামছুল হক ফরিদপুরী (রহ.)—এই দুই মহান ব্যক্তিত্বের অবদান বাংলাদেশের মানুষ কখনও ভুলবে না। একজন জাতিকে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখিয়ে তা বাস্তবে রূপ দিয়েছেন, অন্যজন দ্বীনি শিক্ষা ও নৈতিকতার আলো ছড়িয়ে সমাজকে আলোকিত করেছেন।”তিনি মহান আল্লাহর কাছে তাঁদের জান্নাত নসিব এবং সকল ভুলত্রুটি ক্ষমার জন্য প্রার্থনা করেন।এনআই
মানিকগঞ্জ-১: শিবালয়ের ৬১ কেন্দ্রের ২৭টিই ঝুঁকিপূর্ণ, কড়া নিরাপত্তায় প্রশাসন
আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন ঘিরে সারাদেশে চিহ্নিত করা হয়েছে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র। মানিকগঞ্জ জেলাও এর আওতামুক্ত নয়।মানিকগঞ্জ-১ আসনটি শিবালয়, ঘিওর ও দৌলতপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত। এর মধ্যে শুধু শিবালয় উপজেলার ৬১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৪টিকে ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ এবং ১৩টিকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।শিবালয় থানা পুলিশ সূত্রমতে, অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে বিএনপি প্রার্থী এস এ জিন্নাহ কবিরের গ্রামের বাড়ির কেন্দ্র পূর্ব মানিকনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আবু বকর সিদ্দিকীর নিজ গ্রামের কেন্দ্র বরংগাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।এছাড়া অধিক ঝুঁকিপূর্ণ তালিকার অন্য কেন্দ্রগুলো হলো— নয়াবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়, উথলী বালিকা বিদ্যালয় (১ ও ২ নম্বর কেন্দ্র), শিবালয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বোয়ালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রিশাদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নবগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কেন্দ্রীয় আদর্শ প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিজারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রূপসা ওয়াহেদ আলী উচ্চ বিদ্যালয় (১ ও ২ নম্বর কেন্দ্র), রূপসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং রাওয়ান ইবনে রমজান স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র। এসব কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।অন্যদিকে, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে— আলোকদিয়া আশ্রয় কেন্দ্র ও মধ্যনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আলোকদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (ত্রিসুণ্ডি), টেংগরহাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জমদুয়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দাশকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দশচিড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মহাদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (১ ও ২ নম্বর কেন্দ্র), বনগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাড়াগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ঢাকাইজোড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।এ বিষয়ে শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন জানান, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।তিনি আরও জানান, সকল কেন্দ্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে এবং যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে। নির্বাচন উপলক্ষে সেনাবাহিনী, র্যাব, বিজিবি ও আনসার সদস্যদের পাশাপাশি উপজেলায় ১৮৪ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।এনআই
বালিয়াকান্দিতে বিপুল পরিমাণ লাঠি ও ইট-পাটকেল জব্দ
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নারুয়া বাজার এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ লাঠি ও ইট-পাটকেল জব্দ করা হয়েছে।মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) দুপুর দেড়টায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এহসানুল হক শিপনের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে মোট ৫৪টি লাঠি ও ৫ ব্যাগ ইট-পাটকেল জব্দ করা হয়েছে। অভিযানে বালিয়াকান্দি আর্মি ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর রুবাইয়াতসহ সেনা সদস্যরা সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন।মোবাইল কোর্ট সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনে অবৈধ প্রভাব বিস্তার, নাশকতা ও আতঙ্ক সৃষ্টির লক্ষ্যে লাঠি ও ইট-পাটকেল মজুদ করার অভিযোগে নারুয়া বিলধামু গ্রামের আজগর আলী মণ্ডলের পুত্র হেলাল উদ্দিনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ১৭১ (চ) ধারায় তাকে ১০ (দশ) দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০০ (পাঁচশত) টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।জানা যায়, অভিযুক্ত হেলালের ভাই বিল্লাল বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী হারুন অর রশিদের কর্মী এবং লাঠি মজুদকৃত ঘরের যৌথ মালিক। তবে অভিযানের সময় সে ঘটনাস্থলে ছিল না। সেখান থেকে উক্ত প্রার্থীর ছবি ও কিছু নির্বাচনী প্রচার সামগ্রীও উদ্ধার করা হয়।উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।এনআই
সিরাজদিখানে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ৪ জন টেটাবিদ্ধসহ আহত ৫
মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ৪ জন টেটাবিদ্ধসহ অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন।বুধবার (১১ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের পূর্ব চান্দেরচর গ্রামের গাজী মার্কেটে এই সংঘর্ষ ঘটে।সংঘর্ষে টেটাবিদ্ধ হয়েছেন ইমরান হোসেন (২৮), লিটন (৪৮), সোহাগ (৩৫) ও রিয়াজুল (২০)। আহতদের মধ্যে রিয়াজুল ও ইমরানের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের প্রথমে ঢাকার মিডফোর্ড হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) স্থানান্তর করা হয়েছে।স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পূর্ব চান্দেরচর গ্রামের কালাইচান মাতবর ও জহিরুদ্দিন গ্রুপের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। বুধবার দুপুরে জহির গ্রুপের সদস্য সোহাগ গাজী মার্কেটে পাইপ ফিল্টারের কাজ করতে গেলে কালাইচান মাতবর গ্রুপের লোকজন তার ওপর হামলা চালায়। খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে জহিরুদ্দিনের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে। উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও টেটাযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে।খবর পেয়ে সিরাজদিখান থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। অভিযুক্ত কালাইচান মাতবর ও জহির উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তুচ্ছ ঘটনায় এই মারামারির সূত্রপাত। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যেন পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই লিখিত অভিযোগ দেয়নি।এসআর
কঠোর নিরাপত্তায় কিশোরগঞ্জে কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছাচ্ছে ব্যালট ও নির্বাচনি সরঞ্জাম
আগামীকাল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। এ উপলক্ষে সারা দেশের মতো কিশোরগঞ্জেরও কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ব্যালট বাক্স, ব্যালট পেপারসহ প্রয়োজনীয় নির্বাচনি সরঞ্জাম সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রে পাঠানো শুরু হয়েছে। আজ বুধবার (১১ ফ্রেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিভিন্ন উপজেলা সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে জেলার ৬টি নির্বাচনী এলাকার ৯১৩টি কেন্দ্রে ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্স, সীলসহ বিভিন্ন সামগ্রী পাঠানো শুরু হয়।রাত পোহালেই ভোট। এ উপলক্ষে বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতিতে কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে নির্বাচনী সরঞ্জামাদি। এর মধ্যে রয়েছে স্বচ্ছ ব্যালট বক্স, অমোচনীয় কালি, দলীয় ভোটের জন্য সাদা ব্যালট পেপার ও গণ ভোটের জন্য গোলাপি ব্যালট পেপারসহ ভোটার তালিকা। সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসারদের কাছে নির্বাচনী সামগ্রী হস্তান্তর করেন উপজেলা সহকারী রিটার্নিং অফিসার। পরে সেনাবাহিনীর প্রহরায় কেন্দ্রে কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয় ভোটের সামগ্রী। নির্বাচন কর্মকর্তারা জানান, সন্ধ্যার আগেই সব কেন্দ্রে নির্বাচনী সামগ্রী পাঠানো শেষ হবে। সরজমিনে সংসদীয় আসনগুলো ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তারা নির্বাচনী সরঞ্জাম বুঝে নিতে নির্দিষ্ট ভ্যেন্যুতে আসা শুরু করেন। ব্যালট বাক্স, ব্যালট পেপার থেকে শুরু করে কেন্দ্রভিত্তিক ভোটারতালিকাসহ নির্বাচনী সরঞ্জাম বুঝিয়ে দিচ্ছেন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা। গাড়িতে করে এসব সরঞ্জামাদি কেন্দ্রে নিয়ে যাচ্ছেন আনসার ভিডিপির সদস্য ও পুলিশ। সন্ধ্যার মধ্যেই সবকটি কেন্দ্র প্রস্তুত করা হবে বলে জানিয়েছেন তারা।সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা কামরুল হাসান মারুফ জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার ৬টি নির্বাচনী এলাকায় ভোট কেন্দ্র ৯১৩টি। আর ভোটার সংখ্যা ২৭ লাখ ২৭ হাজার। আনন্দ ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে প্রশাসন বদ্ধপরিকর। ইতোমধ্যে নির্বাচনী মাঠে ম্যাজিস্ট্রেটরা দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি আরও বলেন, প্রতিটি এলাকায় ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি পুলিশ, সেনাবাহিনী, র্যাব ও বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একটি সুষ্ঠু, সুন্দর, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দিতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। কোন ধরনের শংকা নেই। ভোটাররা দল বেধে ভোট কেন্দ্রে যাবে এবং ভোট প্রদান করবে বলে আশা করেন তিনি।এইচএ
গরীব ভোটারদের টাকা দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ সরোয়ারের
প্রতিপক্ষ প্রার্থীর পক্ষ থেকে ভোটরদের ভয় দেখানো এবং ঝুকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে প্রশাসনের বাড়তি নজর দেয়ার দাবী করে আজ সন্ধ্যায় বরিশাল প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন বরিশাল-৫ (সদর) আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার। এসময় সরোয়ার বলেন, সদর আসনের মধ্যে শায়েস্তাবাদ এবং চরমোনাই এলাকার কেন্দ্রগুলো ঝুকিপূর্ণ। তাছাড়া গরীব ভোটারদের টাকা দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন। তিনি মনে করেন গুপ্ত সংগঠন থাকতে পারে যারা নির্বাচন বাঞ্চাল করার চেষ্টা করছে।এসময় তিনি হুসিয়ার করেন, প্রশাসনের কেউ যদি নিরপেক্ষতা হারিয়ে পক্ষপাতিত্ব করেন, এর ফল ভালো হবেনা। তাহলে আমরা রাজপথ থেকে উঠে এসেছি এবং এনিয়ে ফের রাজপথেই নামবো।এফএস
রাত পোহালেই ভোট, বরগুনা-১ আসনে সরঞ্জাম বিতরণ শুরু
রাত পোহালেই ত্রয়োদ্বশ জাতীয় সংসদ ও গণ ভোট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।বরগুনা-১ আসনে ১৯০ কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার সকাল ৭.৩০ মিনিট থেকে বিরতিহীনভাবে ৪.৩০ টা পর্যন্ত ভোট গ্রহন চলবে। অবাধ, সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে এ নির্বাচন সম্পন্ন করতে প্রশাসন সকল ব্যবস্থা সম্পন্ন করেছেন। বুধবার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা নির্বাচনী সামগ্রী কেন্দ্রে নিয়ে গেছেন।জানাগেছে, ত্রয়োদ্বশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বৃহস্পতিবার সকাল ৭.৩০ মিটিন থেকে শুরু হয়ে রিবতিহীনভাবে ৪.৩০ টা পর্যন্ত চলবে। বরগুনা-১ আসনে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসন সকল ব্যবস্থা নিয়েছেন। ভ্রাম্যমাণ আদালনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিজিবি, নৌ-বাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও আনসার সদস্যদের পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।বুধবার দুপুরে আমতলী উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে প্রিজাইডিং অফিসাররা নির্বাচনী সামগ্রী নিয়ে গেছেন। খোজ নিয়ে জানাগেছে, নির্বাচনী এলাকা প্রশাসন কর্ডন করে রেখেছেন। কোন অপ্রতিকর ঘটনার সুয়োগ নেই।আমতলী থানার ওসি মোহাম্মদ জাহাঙ্গির হোসেন বলেন, আইন শৃঙ্খলা ব্যবস্থা ভালো আছে। সুষ্ঠু নির্বাচন করতে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার সহকারী রিটানিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে সকল ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কোন অনিয়ম সহ্য করা হবে না। যেখানেই অনিয়ম সেখানেই প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ।এসআর
বরিশাল-১ আসননে ভোট কেন্দ্র থাকছে সিসিটিভি, কেন্দ্রে যাচ্ছে নির্বাচনী সরঞ্জাম
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ঢেলে সাজানো হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বরিশাল-১ আসনের গৌরনদী উপজেলার ৬৯ ভোট কেন্দ্রের মধ্যে অধিকাংশ কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যে কারনে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা প্রতিটি ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন।আজ বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর থেকে বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে নির্বাচনী সামগ্রী পাঠানোর কাজ শুরু হয়েছে।এরপূর্বে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সার্বিক প্রস্তুতি যাচাইয়ে ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন গৌরনদী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মেহেদী হাসান। পরিদর্শনকালে তিনি কেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ভোটগ্রহণের পরিবেশ ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত প্রস্তুতি পর্যালোচনা করেছেন।গৌরনদী উপজেলার সহকারি রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইব্রাহীম জানিয়েছেন, গৌরনদী উপজেলার ৬৯টি ভোট কেন্দ্রের ৩৬৯টি কক্ষে ভোটগ্রহন অনুষ্ঠিত হবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা ইতোমধ্যে প্রতিটি ভোটকেন্দ্র ও ভোটকক্ষকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে এসেছি। ভোটের আগে কিংবা পরে যেকোন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহনে আমরা বদ্ধপরিকর।উল্লেখ্য, বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনে মোট ১২৯টি কেন্দ্রের ৭১০টি কক্ষে ভোটগ্রহন অনুষ্ঠিত হবে। এরমধ্যে গৌরনদীতে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৬৯টি, ভোটকক্ষ ৩৬৯টি এবং আগৈলঝাড়ায় ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৬০টি, ভোটকক্ষের সংখ্যা ৩৪১টি। গৌরনদী উপজেলার মোট ভোটার ১ লাখ ৮৬ হাজার ৬৯৪ জন, পুরুষ ভোটার ৯৪ হাজার ৩১৭ জন, নারী ভোটার ৯২ হাজার ৩৭৭ জন।আগৈলঝাড়া উপজেলার মোট ভোটার ১ লাখ ৪১ হাজার ৫০৫ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ৭১ হাজার ৪৬ জন এবং নারী ভোটার ৭০ হাজার ৪৫৯ জন। দুই উপজেলার মোট ভোটার ৩ লাখ ২৮ হাজার ১৯৯ জন।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-১ আসনে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। এইচএ
জামায়াত নেতার বাড়ির সামনে অস্ত্র রেখে ফাঁসানোর অভিযোগ
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কুতুবা ইউনিয়নের জামায়াতে ইসলামীর আমির নুরুল করিমের বাড়ির সামনে বস্তাভর্তি অস্ত্র রেখে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বোরহানউদ্দিন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করা হয়।সংবাদ সম্মেলনে ভোলা-২ আসনে জামায়াত প্রার্থীর নির্বাচনী প্রধান এজেন্ট এ এইচ এম ওয়ালী উল্লাহ লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, সোমবার রাত ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে কুতুবা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা নুরুল করিমের বাসায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দুই দফায় অভিযান পরিচালনা করেন। সে সময় পুরো বাসা তল্লাশি করলেও তারা কোনো ধরনের অবৈধ বা সন্দেহজনক কিছু খুঁজে পাননি। কিন্তু রহস্যজনকভাবে মঙ্গলবার সকালে তার বৃদ্ধা মা ঘুম থেকে উঠে বাসার সামনে বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র ফেলে রাখা অবস্থায় দেখতে পান। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে খবর দিলে তারা এসে সেগুলো উদ্ধার করে নিয়ে যায়।তিনি আরও বলেন, “আমরা মনে করি, এটি একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার অপচেষ্টা মাত্র।”ওয়ালী উল্লাহ আরও অভিযোগ করেন, গত সোমবার বিএনপির প্রার্থী হাফিজ ইব্রাহিমের নির্বাচনী জনসভায় মাওলানা নুরুল করিমের বড় ভাই মাওলানা রেজাউল করিমকে বক্তব্য দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তিনি অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে বিপদে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। জামায়াত নেতাদের দাবি, এই ‘অস্ত্র নাটক’ ওই হুমকিরই একটি অংশ।সংবাদ সম্মেলনে এই ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানানো হয়।এ সময় ভোলা-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. ফজলুল করিম, বোরহানউদ্দিন উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মাকসুদ রহমান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি হেলাল উদ্দিন রুবেলসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।এনআই
বাউফলে বিএনপি-জামায়াতের পৃথক সংঘর্ষ, আহত ৪
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে পৃথক দুটি সংঘর্ষে উভয় পক্ষের চার কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছেন। এ সময় বিএনপির একটি নির্বাচনী ক্যাম্পে হামলার অভিযোগ উঠেছে। অপরদিকে, একটি দোকান থেকে দুটি দেশীয় অস্ত্র (রামদা) উদ্ধারের ঘটনায় সোহেল (২৫) নামে একজনকে আটক করেছে যৌথ বাহিনী।সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নে এবং মধ্যরাতে কেশবপুর ইউনিয়নে এসব ঘটনা ঘটে।আহতরা হলেন—কালাইয়া ইউনিয়নের রায়হান (১৭) ও ফারুক হাওলাদার (৪৫) এবং কেশবপুর ইউনিয়নের নাইম (২৯) ও সাঈদ (৩১)। এদের মধ্যে রায়হান ও ফারুকের অবস্থার অবনতি হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কালাইয়া ইউনিয়নের কালাইয়া গ্রামে জামায়াতের একটি প্রচার মিছিল চলাকালে এক বিএনপি সমর্থক 'ধানের শীষ' প্রতীকের স্লোগান দেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রথমে বাকবিতণ্ডা এবং পরে উভয় দলের নেতা-কর্মীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় রায়হান নামের এক ছাত্রদল কর্মীকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। খবর পেয়ে যৌথ বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে স্থানীয় একটি দোকান থেকে দুটি রামদা উদ্ধার করা হয় এবং দোকানমালিক সোহেলকে আটক করে যৌথ বাহিনী।এই ঘটনার জেরে একই এলাকায় রাত সাড়ে ১১টার দিকে ফারুক হাওলাদার নামের এক জামায়াত সমর্থককে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। জামায়াত নেতাদের অভিযোগ, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক গাজী গিয়াসের নেতৃত্বে তার ওপর এই হামলা চালানো হয়েছে।অভিযোগ অস্বীকার করে গাজী গিয়াস বলেন, “জামায়াত সমর্থকরা মিছিল সহকারে এসে হঠাৎ আমাদের একটি নির্বাচনী ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে ছাত্রদল নেতা রায়হানকে কুপিয়ে জখম করে। ফারুক হাওলাদারের ওপর হামলার ঘটনার সাথে আমি জড়িত নই, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।”আটক দোকানি সোহেল দাবি করেন, তার কাছে কোনো অস্ত্র পায়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সংঘর্ষের সময় কেউ তার নজর এড়িয়ে দোকানে রামদা রেখে যেতে পারে।এদিকে, মধ্যরাতে উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে সাঈদ ও নাইম নামের দুই জামায়াত সমর্থককে মারধর করার খবর পাওয়া গেছে। জামায়াত সমর্থক শাহীন বলেন, “আমরা নির্বাচনী ক্যাম্পের কাছেও যাইনি। দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা আমাদের কর্মীদের ওপর বিএনপির লোকজন হামলা চালিয়েছে।”এ বিষয়ে বাউফল থানার ওসি (তদন্ত) বলেন, “ঘটনাগুলো আমাদের নজরে এসেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”এনআই
শেরপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারসহ নিহত ২
শেরপুরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দায়িত্ব পালনে আসার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় এক সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও এক নারী নিহত হয়েছেন।বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে শেরপুর-জামালপুর আঞ্চলিক সড়কের চরপক্ষীমারী ইউনিয়নের শিমুলতলী এলাকায় মালবাহী পিকআপের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় আহত হন আরও পাঁচজন, যাদের মধ্যে এক শিশুও রয়েছে।নিহত ব্যক্তিরা হলেন শেরপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের এনভায়রনমেন্ট টেকনোলজি বিভাগের জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর রুকনুজ্জামান (৩১) ও ঝিনাইগাতী উপজেলার মাটিয়াকুড়া গ্রামের মোছা. মাহফুজা বেগম (১৯)। নিহত রুকনুজ্জামান শেরপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন। তার বাড়ি জামালপুরের সরিষাবাড়ি উপজেলায়।আহত ব্যক্তিরা হলেন শ্রীবর্দী এলাকার শাহিন (৩০), শেরপুরের রায়হান (৩০), নিহত মাহফুজার শিশুপুত্র আব্দুর রহমান, শেরপুরের গাজীর খামার এলাকার মোহাম্মদ (২৮) ও জামালপুরের সরিষাবাড়ির সুরাইয়া (২২)।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শেরপুরগামী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে শেরপুর থেকে আসা একটি মালবাহী পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই সিএনজির সব আরোহী গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক রুকনুজ্জামান ও মাহফুজা বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনায় ব্যবহৃত পিকআপ ও সিএনজি আটক করে রেখেছে স্থানীয় জনতা।শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা নিহতের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহতদের ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।শেরপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও শেরপুর-১ আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহবুবা হক বলেন, 'মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি। তিনি কোন কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করছিলেন, সে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ওই কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের জন্য অন্য এক কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হবে। আমাদের কাছে পর্যাপ্ত সংখ্যক কর্মকর্তা রয়েছেন।'এফএস
নেত্রকোনায় একাধিকবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন ভোটকেন্দ্রগুলো!
নেত্রকোনায় ভোটকেন্দ্রগুলোতে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুতের কথা থাকলেও সন্ধ্যার পর সদর উপজেলার ভোট কেন্দ্র গুলোতে একাধিকবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে । এর মধ্যে গত দুই দিনে কয়েকটি কেন্দ্রে আগুন দেওয়ার ঘটনা ও আগুন দেওয়ার চেষ্টা ঘিরে আতঙ্কে রয়েছেন প্রিজাইডিং এর দায়িত্বরত কর্মকর্তারা।নির্বাচনকে সামনে রেখে নেত্রকোনার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা জোরদারের কথা জানিয়েছিল প্রশাসন। তবে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের আশ্বাস থাকলেও, সন্ধ্যার পর একাধিকবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা ঘটেছে কয়েকটি কেন্দ্রে। এতে দায়িত্ব পালন নিয়ে উদ্বেগে পড়েছেন প্রিজাইডিং অফিসার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।সদর উপজেলার সহকারী রিটানিং কর্মকর্তা আসমা বিনতে রফিক জানান, কেন্দ্রগুলোতে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুতের ব্যবস্থা থাকার কথা। তারপরও কেন একাধিকবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হচ্ছে-এ বিষয়টি জানতে বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে কথা বলতে হবে।তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে রয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।নিরাপত্তা ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও প্রশাসন বলছে, ভোটগ্রহণ নির্বিঘ্ন রাখতে তারা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে কতটা শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করা যায়।এফএস
নেত্রকোণায় ৬৭৬ কেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম পাঠানো শুরু, নিরাপত্তায় ১৮৯০ পুলিশ
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে নেত্রকোণার ৫টি সংসদীয় আসনের ৬৭৬টি ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম পাঠানো শুরু হয়েছে। কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে এসব সরঞ্জাম কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্স, সিল, স্ট্যাম্পসহ প্রয়োজনীয় সব নির্বাচনী সরঞ্জাম সকাল থেকেই জেলার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয় ও নির্ধারিত বিতরণ কেন্দ্র থেকে ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহনে করে পাঠানো হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব কেন্দ্রে সরঞ্জাম পৌঁছে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।প্রতিটি কেন্দ্রে সরঞ্জাম পৌঁছানো ও ভোটগ্রহণ নির্বিঘ্ন রাখতে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশ, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। জেলা প্রশাসনের দাবি, ভোটের দিন যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে সেজন্য আগাম সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।নিরাপত্তার জন্য জেলার ৬৭৬টি ভোটকেন্দ্রে ১ হাজার ৭৭ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া কেন্দ্রের বাইরে আরও ৮১৩ জন পুলিশ মোতায়েন থাকবে। সব মিলিয়ে জেলায় মোট ১ হাজার ৮৯০ জন পুলিশ সদস্য মাঠে থাকবেন।এদিকে, ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ১১০টি কেন্দ্রে অনলাইন বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি ২৬৬টি কেন্দ্রে অফলাইন ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। মোট ৩৭৬টি বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরার মাধ্যমে ভোটগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।সরঞ্জাম বিতরণের কাজ শেষ হলেই ভোটগ্রহণের অপেক্ষা-এমনটাই জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। জেলা প্রশাসনের প্রত্যাশা, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে।এইচএ
ত্রিশালে বিএনপি প্রার্থীকে জাতীয় পার্টির সমর্থন
ত্রিশাল উপজেলার সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-০৭ (ত্রিশাল) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ডা. মাহবুবুর রহমান লিটনকে আনুষ্ঠানিক সমর্থন জানিয়েছে জাতীয় পার্টি। মঙ্গলবার(১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ত্রিশাল উপজেলা ও পৌর জাতীয় পার্টিসহ এর সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের এক জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।ত্রিশাল উপজেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক গোলাম সারোয়ার তপনের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব মফিদুল ইসলাম মহিদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সভায় জাতীয় পার্টির স্থানীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।সভায় বক্তারা বলেন, ত্রিশালের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে ডা. মাহবুবুর রহমান লিটনের নেতৃত্বের বিকল্প নেই। সেই লক্ষ্যেই জাতীয় পার্টি ও এর সকল সহযোগী সংগঠন ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আঃ বারেক, সাবেক সভাপতি মো. আব্দুর রউফ, উপজেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম-আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন কামাল, শরীফ উদ্দিন শরিফ ও সেলিম সারোয়ার সরকার; ত্রিশাল পৌর জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক ফজলুল হক এবং সদস্য সচিব গোলাম মোস্তফাসহ আরও অনেকে।সভার শেষ পর্যায়ে নেতৃবৃন্দ তৃণমূলের সকল নেতা-কর্মীকে ধানের শীষের পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেন। ত্রিশালের রাজনৈতিক অঙ্গনে জাতীয় পার্টির এই সমর্থন ডা. লিটনের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।উপজেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক গোলাম সারোয়ার তপন জানান, ত্রিশাল আসন থেকে জাতীয় পার্টির মনোনীত কেন্দ্রীয় প্রার্থী স্থানীয় সংগঠনের সাথে কোনো যোগাযোগ রাখছেন না। তাই তারা নির্বাচন থেকে কার্যত সরে এসে উন্নয়নের স্বার্থে বিএনপির প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।এনআই
ভালুকায় শেষ মুহূর্তে উত্তাপ, বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর হাড্ডাহাড্ডি লড়াই
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার শেষ পর্যায়ে এসে ময়মনসিংহ–১১ (ভালুকা) আসনে জমে উঠেছে নির্বাচনী উত্তাপ। কথার লড়াই পেরিয়ে ভোটের লড়াইয়ে এখন সরাসরি মুখোমুখি বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী। পাঁচজন প্রার্থী মাঠে থাকলেও বাস্তব চিত্রে এ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়াচ্ছে মূলত বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর দ্বিমুখী প্রতিযোগিতায়।এই আসনে বিএনপির প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহমেদ (বাচ্চু) ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ মোর্শেদ আলম, যার প্রতীক হরিণ। এ ছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী ডা. জাহিদুল ইসলাম (শাপলাকলি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. মোস্তফা কামাল (হাতপাখা) এবং গণ অধিকার পরিষদের আনোয়ারুল ইসলাম বিদ্যুৎ (ট্রাক) প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।প্রচার-প্রচারণার শেষ সময়ে এসে ভোটের সমীকরণ নতুন করে হিসাব করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। শুরুতে বিএনপি ও স্বতন্ত্র—দুই পক্ষই নিজেদের এগিয়ে থাকার দাবি করলেও সময় যত গড়াচ্ছে, ততই আগাম উল্লাসে ভাটা পড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, দু’পক্ষই রয়েছে তীব্র স্নায়ুচাপে। শেষ মুহূর্তে কারও পক্ষেই অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস দেখানোর সুযোগ নেই।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংকের একটি অংশ এবার ভোট দিতে পারে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভালুকায় দলটির নেতা-কর্মীরা অনেকটা নিষ্ক্রিয় থাকলেও ওই ভোট কোন দিকে যাবে, তা নিয়েই চলছে বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে নীরব প্রতিযোগিতা। পর্যবেক্ষকদের মতে, আওয়ামী লীগের ভোট যিনি বেশি টানতে পারবেন, জয়ের দৌড়ে তিনি অনেকটাই এগিয়ে থাকবেন।নির্বাচন ঘিরে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে যৌথ বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। ভালুকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ফিরোজ হোসেন জানান, নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।তিনি বলেন, ভালুকা উপজেলায় ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে। মোট ভোটকেন্দ্র ১০৭টি। এর মধ্যে পুরুষ ও মহিলা আলাদা কেন্দ্র রয়েছে ১৪টি এবং সাধারণ কেন্দ্র ৯৩টি। মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫৯ জন। সব ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে আটটি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় সেখানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রচারণার শুরু থেকেই সাতজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন।ধানের শীষের প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু বলেন, বিগত তিনটি নির্বাচনে অংশ নিলেও ফ্যাসিবাদী শক্তি জোর করে ভোট ডাকাতির মাধ্যমে তাঁর জয় ছিনিয়ে নিয়েছে। এবার জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে চায় বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ মোর্শেদ আলম বলেন, জনগণের দাবির প্রেক্ষিতেই তিনি প্রার্থী হয়েছেন এবং ভোটারদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন। তিনি দাবি করেন, বিজয় সুনিশ্চিত।সব মিলিয়ে শেষ মুহূর্তে এসে ভালুকা আসনের নির্বাচন রূপ নিয়েছে এক অনিশ্চিত ও হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে। ভোটের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে এখন পুরো এলাকার রাজনৈতিক অঙ্গন।ইখা
তারাগঞ্জে দুটি ভোটকেন্দ্র থেকে চারটি সিসি ক্যামেরা চুরি
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় দুটি ভোট কেন্দ্র থেকে দুটি করে মোট চারটি সিসি ক্যামেরা চুরি হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে এ চুরির ঘটনা ঘটে।তারাগঞ্জ ও বদরগঞ্জ উপজেলা নিয়ে রংপুর-২ নির্বাচনী এলাকা গঠিত। এ আসনটিতে মোট ১৩৭ টি ভোট কেন্দ্র রয়েছে। ভোট কেন্দ্র দুটি হলো উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের কুর্শা দর্জিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সয়ার ইউনিয়নের সয়ার ডারারপার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।ভোটকেন্দ্র দুটির সিসি ক্যামেরা চুরির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোনাব্বর হোসেন। তিনি বলেন, চুরি যাওয়া কেন্দ্র দুটিতে ক্যামেরা পুনঃস্থাপন করা হয়েছে। এফএস
৫০ লাখ টাকাসহ ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির আটক
ঢাকা থেকে আকাশপথে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে আসার পর নগদ প্রায় ৫০ লাখ টাকাসহ ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিনকে আটক করেছে পুলিশ।আজ বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে তাকে আটক করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নীলফামারীর পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম।ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, নাম জানতে চাইলে আটক ব্যক্তি নিজের নাম বেলাল উদ্দিন বলে জানান। তিনি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার হাজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা। বাবার নাম দবিরুল বলেও উল্লেখ করেন। তিনি কোনো সাবেক এমপির ছেলে নন বলে জানান।পেশা সম্পর্কে জানতে চাইলে বেলাল উদ্দিন বলেন, তিনি একটি কলেজের শিক্ষক। পাশাপাশি তিনি গার্মেন্টস ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলেও দাবি করেন।তার লাগেজে থাকা অর্থের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেখানে ৫০ লাখ টাকার বেশি নগদ অর্থ রয়েছে। নির্দিষ্ট পরিমাণ জানতে চাইলে তিনি জানান, প্রায় ৫০ লাখ টাকা আছে। টাকার উৎস সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি দাবি করেন, এটি তার ব্যবসার টাকা।নীলফামারীর পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আটককৃত ব্যক্তি ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির। আমরা তাকে আটক করেছি। এখনো টাকার সঠিক পরিমাণ গণনা করা হয়নি। জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা যাবে।’এইচএ
রংপুর-২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ) আসনে ১৩৭ কেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ১৫টি কেন্দ্র
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনে। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে মোট ১৩৭টি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এ আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ৩,৮০,৯২১ জন।নির্বাচন কমিশন ও জেলা-উপজেলা প্রশাসনের সূত্রে জানা গেছে, বদরগঞ্জ উপজেলার ১০টি এবং তারাগঞ্জ উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও সরকারি ভবনে কেন্দ্রগুলো স্থাপন করা হয়েছে।নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা বিশৃঙ্খলা এড়াতে প্রশাসন কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে ঝুঁকিপূর্ণ ১৫টি কেন্দ্রকে বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে তারাগঞ্জে ৭টি এবং বদরগঞ্জে ৮টি কেন্দ্র রয়েছে।ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি সদস্য মোতায়েন করা হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনে র্যাব ও বিজিবির টহল জোরদার থাকবে। প্রতিটি কেন্দ্রেই থাকবে সিসিটিভি ক্যামেরা, মোবাইল টিম, স্ট্রাইকিং ফোর্স এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত, যাতে নির্বাচনের দিন পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোটাররা যেন নির্ভয়ে, শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, সে লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এছাড়া পূর্ববর্তী নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।এসআর
বিএনপি-জামায়াতের সরাসরি লড়াই, ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যালঘু ভোট
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। ভোটের শেষ সময়ে পঞ্চগড়–২ (বোদা–দেবীগঞ্জ) আসনে জমে উঠেছে প্রতিদ্বন্দ্বিতা। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকায় এ আসনে মূল লড়াই গড়িয়েছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মধ্যে। বিশ্লেষকদের মতে, জয়-পরাজয়ের ব্যবধান গড়ে দিতে পারে সংখ্যালঘু ভোটারদের সমর্থন।এই আসনে আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন তিনজন—বিএনপির প্রার্থী কেন্দ্রীয় নেতা ফরহাদ হোসেন আজাদ (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সাবেক বোদা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সফিউল আলম ওরফে সফিউল্লাহ সুফি (দাঁড়িপাল্লা) এবং বাংলাদেশ জাসদের প্রার্থী অধ্যাপক এমরান আল আমিন।২০০৮ সাল থেকে টানা আওয়ামী লীগের দখলে থাকা এই আসন পুনরুদ্ধারে বিএনপি জোর প্রচারণা চালাচ্ছে। নির্বাচনের আগে দেবীগঞ্জ ও বোদায় জনসভা করেছে দলটি। এতে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি দলীয় ইশতেহারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরার পাশাপাশি বলেন, ফরহাদ হোসেন আজাদ নির্বাচিত হলে তাঁকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয় বিবেচনা করা হবে। প্রচারের শেষ দিনেও বিএনপির নেতা-কর্মীদের ব্যাপক তৎপরতা দেখা গেছে।অন্যদিকে শুরু থেকেই সাংগঠনিক শক্তি কাজে লাগিয়ে মাঠে সক্রিয় জামায়াত। প্রচারের শেষ দিনে বোদা ও দেবীগঞ্জে নারী কর্মীদের বড় মিছিল করে দলটি। স্থানীয় সূত্রের দাবি, দেবীগঞ্জে নারী সমাবেশে উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি ছিল। বিকেলে জনসভা ও সন্ধ্যায় মিছিলও আয়োজন করে জামায়াত। সফিউল্লাহ সুফি ঘোষণা দিয়েছেন, নির্বাচিত হলে তিনি সরকারি সুযোগ-সুবিধা সাধারণ মানুষের কল্যাণে ব্যয় করবেন।এ আসনে জাতীয় পার্টি প্রার্থী দিলেও তাঁর প্রচারণা তেমন চোখে পড়েনি। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদেরও এলাকায় তৎপর দেখা যাচ্ছে না। তবে দলটির দীর্ঘদিনের ভোটব্যাংক কার দিকে যাবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।ইতিহাস বলছে, ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী হিসেবে মোজাহার হোসেন এ আসনে নির্বাচিত হন। পরে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে তিনি বিএনপির মনোনয়নে সংসদ সদস্য হন। ২০০৮ সালে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নূরুল ইসলাম সুজন এ আসনে জয়ী হন এবং পরবর্তী তিনটি নির্বাচনেও (২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪) তিনি আসনটি ধরে রাখেন।বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিও এ আসনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মোজাহার হোসেনের সময় থেকে দলটিতে বিভক্তি রয়েছে। বর্তমানে মোজাহারের ছেলে মাহমুদ হোসেন সুমন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। স্থানীয়দের মতে, মোজাহারের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা এখনো রয়েছে; ফলে কিছু ভোট সুমনের দিকে যেতে পারে।তবে সোনাহার ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক রহিমুল ইসলাম বুলবুল নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোয় তাঁর সমর্থকদের ভোট কোন দিকে যাবে, তা নিয়েও আলোচনা রয়েছে।জাসদের প্রার্থী অধ্যাপক এমরান আল আমিন ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি কাজে লাগিয়ে প্রচারণা চালালেও সাংগঠনিক দুর্বলতা তাঁর জন্য চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন অনেকে।পঞ্চগড়–২ আসনে প্রায় ১ লাখ ৩৬ হাজার সনাতন ধর্মাবলম্বী ভোটার রয়েছেন। বিশেষ করে বোদার পাঁচপীর ও দেবীগঞ্জের সুন্দরদীঘি ইউনিয়নে এদের সংখ্যা বেশি। অতীতের নির্বাচনে এই ভোটারদের বড় ভূমিকা ছিল। স্থানীয় বিশ্লেষকদের মতে, এবারও জয়-পরাজয়ের সমীকরণ অনেকাংশে নির্ভর করবে এই ভোটের ওপর।নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ১৪ হাজার ৩৫৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৭ হাজার ৩৬৭, নারী ভোটার ২ লাখ ৫ হাজার ৮৯৫ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৩ জন। সর্বশেষ হালনাগাদে এ আসনে ভোটার বেড়েছে ১৩ হাজার ২৬৭ জন। তরুণ ভোটার রয়েছেন আনুমানিক ২৫ থেকে ৩০ হাজার।সব মিলিয়ে পঞ্চগড়–২ আসনে এবার ভোটের লড়াই জমেছে। বিএনপি ও জামায়াত কেউই ছাড় দিতে রাজি নয়। শেষ পর্যন্ত কার পক্ষে যাবে নির্ণায়ক ভোট—সেই অপেক্ষায় এখন বোদা ও দেবীগঞ্জের ভোটাররা।ইখা
পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে বিএনপিতে যোগ দিলেন জাপা নেতা
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় জাতীয় পার্টির (জাপা) দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটিতে বড় ধরনের ফাটল ধরিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগ দিয়েছেন দলটির শীর্ষ নেতা ও গাইবান্ধা জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান সরকার আতা।মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টায় উপজেলার ডাকবাংলা বাজারের পাশে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন।স্থানীয় রাজনীতির সমীকরণে এ ঘটনাকে ‘বড় চমক’ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় বিশ্লেষকরা।আতাউর রহমান সরকারের সঙ্গে সাঘাটা উপজেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব মমিতুল হক নয়নসহ দলটির প্রায় পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী এদিন বিএনপিতে যোগদান করেন।তিনি একাধারে গাইবান্ধা জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এবং সাঘাটা উপজেলা জাপার বর্তমান সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন।তার মতো একজন ‘হেভিওয়েট’ নেতার দলবদলকে সাঘাটায় জাতীয় পার্টির জন্য বড় বিপর্যয় বলে মনে করা হচ্ছে।সাঘাটা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও ছয় নম্বর ঘুড়িদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সেলিম আহমেদ তুলিপের সভাপতিত্বে যোগদান সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।এফএস
বগুড়া-৫: ভোটের লড়াই গড়ালো আদালতে, উত্তপ্ত নির্বাচনী ময়দান
রাত পোহালেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা শেষ হলেও বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনে প্রার্থীদের লড়াই এবার মাঠ ছাড়িয়ে উচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। হলফনামায় তথ্য গোপন ও ঋণখেলাপির অভিযোগ নিয়ে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র বাকযুদ্ধ ও পাল্টাপাল্টি আইনি লড়াই।নির্বাচনী এলাকা সূত্রে জানা যায়, এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী গোলাম মো. সিরাজের হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগ তুলে গত ৯ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মো. দবিবুর রহমান। অভিযোগ করা হয়েছে, বিএনপি প্রার্থীর স্ত্রী ৫১২ কোটি টাকার ঋণখেলাপী এবং তার ছেলে ৪২ কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রেখেছেন, যা হলফনামায় উল্লেখ করা হয়নি।এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ১০ ফেব্রুয়ারি এক ভিডিও বার্তায় গোলাম মো. সিরাজ দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে ওঠা সকল অভিযোগ ভিত্তিহীন। তিনি বলেন, “আমার স্ত্রী ও পুত্র পৃথক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন এবং তারা আমার ওপর নির্ভরশীল নন। ফলে তাদের কোনো আর্থিক দায় আমার ওপর বর্তায় না। এছাড়া তারা কেউই খেলাপী নন।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের সময় জামায়াত প্রার্থী কোনো আপত্তি না তুলে এখন ভোটের ঠিক আগে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন।অন্যদিকে, জামায়াত প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্ট ও শেরপুর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. আব্দুল্লাহ আল মোস্তাফিধ নাসিম ১১ ফেব্রুয়ারি পাল্টা ভিডিও বার্তায় বলেন, “গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতেই আমাদের প্রার্থী উচ্চ আদালতে গেছেন। আমরা কোনো অপপ্রচার চালাচ্ছি না, বরং আইনি পন্থায় লড়ছি। আদালতের রায় আমরা মাথা পেতে নেব।” তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি প্রার্থী জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে সরাতে ব্যক্তিগত আক্রমণ করছেন।এদিকে প্রধান দুই প্রার্থীর এমন পাল্টাপাল্টি অবস্থানে সাধারণ ভোটারদের মাঝে উৎকণ্ঠা বাড়ছে। এই আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মীর মাহমুদুর রহমান বলেন, “দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে যে ধরণের উত্তেজনা বিরাজ করছে, তাতে ভোটের দিন সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে সবার সংযত হওয়া প্রয়োজন।”নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রার্থিতা নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া চললেও এখন পর্যন্ত ব্যালট পেপারসহ ভোটের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে শেষ মুহূর্তে আদালতের নির্দেশনার দিকেই তাকিয়ে আছে সংশ্লিষ্ট সকলে।এসআর
মুদি দোকানের সামনে বস্তাবন্দি ককটেল-পেট্রোল বোমা উদ্ধার
নওগাঁর বদলগাছীতে এক ব্যবসায়ীর মুদি দোকানের সামনে থেকে ৬টি ককটেল এবং পেট্রোল বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।আজ বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারী) সকালে উপজেলার ঝাড়ঘগিয়া গ্রামে সম্পদের মুদি দোকানের সামনে থেকে এগুলো উদ্ধার করা হয়। পরে দুপুর ১২টায় বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ককটেলগুলো নিষ্ক্রিয় করেন।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বদলগাছী-আক্কেলপুর আঞ্চলিক সড়কের ঝাড়ঘগিয়া এলাকায় সড়কের পাশে মুদি দোকানের সামনে একটি সাদা বস্তা পড়ে থাকতে দেখে টহলরত র্যাব সদস্যরা। পরে র্যাব, সেনাবাহিনী এবং পুলিশ সেই বস্তা থেকে ৬টি ককটেল এবং ৪টি কাঁচের বোতল থেকে পেট্রোল বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করে। খবর পেয়ে দুপুর ১২টার দিকে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সদস্যরা ককটেলগুলো নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে বিশেষ কৌশলে নিষ্ক্রিয় করেন।বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান বলেন, অভিযান চালিয়ে ৫টি পেট্রোল বোমা উদ্ধার করা হয়েছে। এগুলো সক্রিয় অবস্থায় ছিল। দ্রুত নিষ্ক্রিয় করায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।তিনি আরও বলেন, এসব পেট্রোল বোমা কি কারনে সেখানে রাখা হয়েছিলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। এইচএ
ধামইরহাটে ভটভটি উল্টে চালকের মৃত্যু
নওগাঁর ধামইরহাটে শ্যালো ইঞ্জিনচালিত ভটভটি উল্টে জিহাদ হোসেন (১৮) নামে একজন চালকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে বিকাল ৫টায় ধামইরহাট উপজেলার আগ্রাদ্বিগুন কাশিপুর পাথরঘাটা নামক এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ভটভটি চালক উপজেলার বলরামপুর এলাকার জুয়েল হোসেনের ছেলে।স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, নিহত জিহাদ হোসেন আগ্রাদ্বিগুন বাজার এলাকা থেকে ভটভটি নিয়ে নিজ বাড়িতে ফিরছিল। পথে কাশিপুর পাথরঘাটা এলাকায় পৌছলে সে ভটভটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে ফেলেন। সেখানে ভটভটির চাপায় সে গুরুত্বর ভাবে আহত হয়। আহত অবস্থায় সেখান থেকে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পত্নীতলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।ধামইরহাট থানার ওসি মোখলেছুর রহমান জানান, এ বিষয়ে থানায় একটি ইউডি মামলা হয়েছে। পরিবারের কোন অভিযোগ না থাকায় মরদেহ স্বজনের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।এফএস
জামায়াতের হামলায় বিএনপি নেতার চোখ নষ্ট হওয়ার খবরে মায়ের মৃত্যু
বগুড়ার নন্দীগ্রামে ভোটের টাকা বিতরণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় থালতা-মাঝগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানা ওরফে মজিদ গুরুতর আহত হয়েছেন। হামলায় তার একটি চোখ মারাত্মকভাবে জখম হয়। আর ছেলের ওপর হামলার খবর শুনে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন তার মা মাজেদা বেগম। সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে নন্দীগ্রাম উপজেলার থালতা-মাঝগ্রাম ইউনিয়নের পারশন গ্রামে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে রাতেই মজিদের আহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে তার মা মাজেদা বেগম অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিবারের সদস্যরা জানান, ছেলের একটি চোখ নষ্ট হয়ে গেছে—এমন খবর শোনার পরপরই তিনি হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ভোট কেনার অভিযোগে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের স্থানীয় ৪ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি বেলাল হোসেন ও জামায়াতের কর্মী ফারুক হোসেনকে আটক করেন ধানের শীষের নেতাকর্মীরা। তাদের কাছ থেকে কিছু টাকা উদ্ধার করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।আটক দুজনকে থালতা-মাঝগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানার পারশন গ্রামের বাড়িতে রাখা হয় এবং পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে রাত ১২টার দিকে অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেলে করে লাঠিসোঁটা হাতে জামায়াতের কর্মী-সমর্থকেরা মাসুদ রানার বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় বাড়িতে ভাঙচুর করা হয় এবং আশপাশের আরও কয়েকটি বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে।একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। হামলার মধ্যে আটক থাকা বেলাল হোসেন ও ফারুক হোসেনকে উদ্ধার করে নিয়ে যান জামায়াতের কর্মী-সমর্থকেরা।এ ঘটনায় মঙ্গলবার বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন বিএনপি নেতা মাসুদ রানার ছেলে কলেজছাত্র সিয়াম আকন্দ। তিনি বলেন, ‘মধ্যরাতে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা আমাদের বাড়িসহ কয়েকটি বাড়িতে হামলা চালায়। আমার বাবা-মাসহ পরিবারের সদস্যদের বেধড়ক মারধর করা হয়। একপর্যায়ে আমার বাবার চোখে আঘাত করে গুরুতর জখম করা হয়।’সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ‘এই হামলার খবর শুনে আমার দাদী মাজেদা বেগম ভয় ও আতঙ্কে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।’সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা এবং বগুড়া-৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন।মোশারফ হোসেন অভিযোগ করেন, জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেলে করে হামলা চালায়। তারা বসতবাড়ি ভাঙচুর করে এবং আটক কর্মীদের ছিনিয়ে নিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় মাসুদ রানাকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।তিনি বলেন, ‘ছেলের চোখ হারানোর খবর শুনে মা মাজেদা বেগম আর সহ্য করতে পারেননি। এই নির্মম হামলার দায় জামায়াতকে নিতে হবে।’ওই ঘটনার বিষয়ে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছেন বগুড়া-৪ আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ। মঙ্গলবার বগুড়া প্রেসক্লাবে তিনি বিএনপির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সোমবার রাতে ভাটগ্রাম ইউনিয়নের ভুস্কুর গ্রামে জুলাই যোদ্ধা আব্দুল্লাহ হেল গালিব প্রচারণা শেষে ফেরার পথে বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলার শিকার হন এবং হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।তিনি আরও বলেন, একই দিন থালতা-মাঝগ্রাম ইউনিয়নের পারশন গ্রামে দাঁড়িপাল্লার কর্মী ফারুক হোসেনকে মারধর করে বিএনপি নেতাকর্মীরা আটকে রাখেন। পরে এলাকাবাসী উদ্ধার করতে গেলে আবার হামলা চালানো হয়। এসব ঘটনায় তিনি সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেন।প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জামায়াত টাকা দিয়ে ভোট কেনে না। এসব অভিযোগ গুজব। তিনি সুন্দর ও মানবকল্যাণমূলক রাজনীতি চর্চার আহ্বান জানান।এফএস
পুঠিয়ায় র্যাবের অভিযানে ৪০টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার
রাজশাহীর পুঠিয়ায় অভিযান চালিয়ে ৪০টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে র্যাব-৫। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে র্যাব-৫-এর সিপিএসসি কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুল হকের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব জানায়, মঙ্গলবার ভোরে র্যাব-৫-এর একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর পোল্লাপুকুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সেখান থেকে বিভিন্ন ধরনের ৪০টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।উদ্ধারকৃত অস্ত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে চারটি রামদা, পাঁচটি হাসুয়া, পাঁচটি ছুরি, আঠারোটি কুঠারসদৃশ টাঙ্গি এবং দুটি হাতলযুক্ত হ্যামার। উদ্ধারের পর এসব আলামত পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।র্যাব প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট বাধাগ্রস্ত করা কিংবা এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে এসব অস্ত্র মজুত করে রাখা হয়েছিল।র্যাব-৫-এর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য তাদের গোয়েন্দা তৎপরতা এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে র্যাবের এমন বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।এনআই
তাহিরপুরে ধানের শীষের প্রচারে বালিজুড়ী ইউনিয়নের ১১ ইউপি সদস্য
সুনামগঞ্জ-১ (তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, মধ্যনগর ও ধর্মপাশা) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী কামরুজ্জামান কামরুলের পক্ষে নির্বাচনী প্রচার চালিয়েছেন তাহিরপুর উপজেলার বালিজুড়ী ইউনিয়নের ১১ জন ইউপি সদস্য।সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দিনভর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ধানের শীষ প্রতীকের লিফলেট বিতরণ এবং ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেন তারা। প্রচার কাজে অংশ নেন ইউপি সদস্য বাবুল মিয়া, ইকবাল হোসেন, যোতিশ পাল, ইসমাইল হোসেন, মো. আলী নেওয়াজ, আজিজ মিয়া, কামাল হোসেন, খলিলুর রহমান, রোহেনা বেগম, মাহমুদা বেগম ও পারুল বেগম।সকালে আনোয়ারপুর বাজারে লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হয়। পরে বালিজুড়ী বাজারসহ ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও বাজার এলাকায় প্রচার কর্মসূচি চালানো হয়। পাশাপাশি ইউনিয়নের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রও পরিদর্শন করেন তারা।এ সময় ইউপি সদস্যরা ভোটারদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বিপুল ভোটে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীকে বিজয়ী করার মাধ্যমে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করার কথাও বলেন তারা।আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রচারণা কর্মসূচি শেষ করেন ইউপি সদস্যরা।ইখা
এবার নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন গণঅধিকার পরিষদের নুর
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যখন প্রার্থী, কর্মী ও সমর্থকদের শেষ মুহূর্তের প্রচার তুঙ্গে, ঠিক সেই সময় নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা-জুড়ী) আসনে গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) মনোনীত ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী মো. আব্দুন নুর। তিনি দলটির কেন্দ্রীয় কর্মসূচি ও নিরাপত্তা বিষয়ক সহ-সম্পাদক।শুক্রবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে বড়লেখার একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী নাসির উদ্দিন আহমদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।এর আগে ওইদিন রাত পর্যন্ত তিনি দলের জেলা নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ চালান এবং ট্রাক প্রতীকের লিফলেট বিতরণ করেন।সংবাদ সম্মেলনে মৌলভীবাজার-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী নাসির উদ্দিন আহমদ মিঠুসহ উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।সংবাদ সম্মেলনে আব্দুন নুর বলেন, গণঅধিকার পরিষদের একজন তরুণ প্রার্থী হিসেবে তিনি দিন-রাত নির্বাচনি মাঠে কাজ করেছেন। এই সময়ে তিনি উপলব্ধি করেছেন, এলাকার মানুষ পরিবর্তনের আহ্বানে সাড়া দিচ্ছেন। এজন্য তিনি ভোটার ও সাধারণ মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা প্রকাশ করেন।তিনি আরও বলেন, বড়লেখা ও জুড়ীর ভোটারদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।আব্দুন নুর জানান, দলের সভাপতি ভিপি নুরুল হক নুরের বিএনপির সঙ্গে সমঝোতার সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে তিনি মৌলভীবাজার-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী আলহাজ্ব নাসির উদ্দিন আহমদ মিঠুকে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।এ সময় তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেন। আব্দুন নুর বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে কেন্দ্র দখলের ঘটনায় জড়িত একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে তিনি মামলা করেছিলেন। ওই ব্যক্তি ও তার সহযোগীরা তাকে নিয়মিত হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এমনকি তার নিজ এলাকার ভোটকেন্দ্র দখলের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন আব্দুন নুর।তিনি বলেন, নিজের জীবনের ঝুঁকি সম্পর্কে তিনি সচেতন। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে সে দায়ভার সংশ্লিষ্টদের নিতে হবে। তবে জীবনের পরোয়া না করেই মানুষের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তিনি অতীতেও ছিলেন, এখনও আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন বলে জানান তিনি। এফএস
সুনামগঞ্জে ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ
সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।বৃহস্পতিবার (০৫ ফেব্রুয়ারি)উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া।বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, জেলা নির্বাচন অফিসার শেখ ওয়ালিদ ফয়েজ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল মতিন খান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং জেলা ও উপজেলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ।প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া,নির্বাচনে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের জন্য কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনা, একই সাথে একটি উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনের জিরো টলারেন্স নীতির কথা স্মরণ করিয়ে দেন।এই কর্মশালায় ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের নির্বাচনী আইন, বিধিনিষেধ এবং ভোটগ্রহণের টেকনিক্যাল বিষয় গুলো সম্পর্কে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। বিশেষ করে গণভোট ও সংসদ নির্বাচনের সমন্বিত ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতে সুনামগঞ্জ জেলার প্রতিটি উপজেলাতেই পর্যায়ক্রমে এই ধরণের সক্ষমতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ আয়োজন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক ডাঃ ইলিয়াস মিয়া।পিএম
বিএনপির প্রার্থী রেজার ‘গলার কাঁটা’ বিদ্রোহী সুজাত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ জেলার সবচেয়ে আলোচিত আসন হয়ে উঠেছে হবিগঞ্জ–১ (বাহুবল–নবীগঞ্জ)। এই আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী, সদ্য দলে যোগ দেওয়া ড. রেজা কিবরিয়ার মুখোমুখি হয়েছেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সুজাত মিয়া। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হলেও মাঠে তার অবস্থান এখনো শক্ত।প্রবাসী অধ্যুষিত এই আসনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পাঁচজন প্রার্থী। বিএনপির প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়া ছাড়াও আলোচনায় রয়েছেন ১১–দলীয় জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের মাওলানা সিরাজুল ইসলাম।এ ছাড়া ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের প্রার্থী মোহাম্মদ বদরুর রেজা এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) প্রার্থী কাজী তোফায়েল আহমেদও নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন।তবে এই আসনে বিএনপি মনোনীত হেভিওয়েট প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়ার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়া। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় জেলার চারটি আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে হবিগঞ্জ–১ আসন ঘিরে।নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে প্রচার-প্রচারণায় সরগরম হয়ে উঠেছে ভোটের মাঠ। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন প্রার্থীরা। তবে বিএনপির দলীয় ও বিদ্রোহী দুই প্রার্থী থাকায় স্থানীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে বিভক্তি স্পষ্ট।পদ হারানোর আশঙ্কায় অনেক নেতা প্রকাশ্যে রেজা কিবরিয়ার সঙ্গে থাকলেও মাঠে অনেক কর্মীকে শেখ সুজাত মিয়ার সঙ্গেও দেখা যাচ্ছে। এ কারণে আসনটিতে রেজা ও সুজাতের মধ্যে জমজমাট লড়াইয়ের আভাস মিলছে।স্থানীয় ভোটারদের অনেকেই মনে করছেন, ধানের শীষের প্রার্থীর বিপরীতে অন্য কোনো দলের হেভিওয়েট প্রার্থী না থাকলেও নিজ দলের বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ সুজাতই এখন ড. রেজা কিবরিয়ার জন্য সবচেয়ে বড় ‘গলার কাঁটা’।প্রথমদিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে শেখ সুজাত মিয়া নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবেন—এমন গুঞ্জন শোনা গেলেও শেষ মুহূর্তে জামায়াতের শক্ত প্রার্থী শাহজাহান আলী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোয় তিনি আর প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি।অনেকের ধারণা, জামায়াতের কিছু ভোটও শেখ সুজাত মিয়ার ঝুলিতে যেতে পারে। সে কারণেই এই আসনে তাঁর অবস্থান বেশ শক্ত বলে মনে করছেন ভোটাররা।জানা গেছে, ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন শেখ সুজাত মিয়া। এরপর ২০১১ সালে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য দেওয়ান ফরিদ গাজীর মৃত্যুর পর অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনেও তিনি বিএনপির প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন। এবার তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন।মনোনয়নপত্র দাখিলের পর তাঁকে নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের গুঞ্জন থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি নির্বাচনী মাঠে থেকে যান। কেন্দ্রীয় বিএনপির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে এবার সংসদে যেতে চান শেখ সুজাত মিয়া।অন্যদিকে, সদ্য বিএনপিতে যোগ দিয়েই দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন ড. রেজা কিবরিয়া। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি এই আসন থেকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের (গণফোরাম) প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেছিলেন। তাঁর পিতা সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হওয়ায় এলাকাতেও রয়েছে পারিবারিক জনপ্রিয়তা। এ কারণে দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখছেন ভোটাররা।হবিগঞ্জ–১ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৬৬ হাজার ৯২১ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ৩০ হাজার ৩৪০ জন, পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩৬ হাজার ৫৭৬ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৫ জন।ইখা
হবিগঞ্জে ৮৪ বছর ধরে পড়ে আছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের যুদ্ধবিমানের ধ্বংসাবশেষ
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার নিতনী বিল এলাকার হাওরে প্রায় ৮৪ বছর ধরে পড়ে আছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের একটি বিধ্বস্ত যুদ্ধবিমানের ধ্বংসাবশেষ। বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ধানক্ষেতের একাংশে পড়ে আছে যুদ্ধবিমানটির কিছু অংশ।স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৪২ সালের দিকে আশ্বিন মাসের এক সকালে কালিয়ারভাঙ্গা ও শ্রীমতপুর গ্রামের আকাশে একটি যুদ্ধবিমান কয়েকবার চক্কর দেয়। একপর্যায়ে বিকট শব্দে বিমানটি নিতনী বিলের হাওরে ভূপাতিত হয়। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে অনেকে ছুটে গেলেও ঘন ধোঁয়ার কারণে প্রথমে কিছুই দেখতে পাননি। পরে ধোঁয়া সরে গেলেও প্রায় ছয় দিন ধরে বিমানে আগুন জ্বলতে থাকে।বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার কিছুদিন পর নৌকায় করে অনেকেই সেখানে গিয়ে বিভিন্ন জিনিসপত্র সংগ্রহ করেন। এ সময় বিমানের ভেতরে থাকা একটি মিসাইল হঠাৎ বিস্ফোরিত হলে শ্রীমতপুর গ্রামের সাজিদ মিয়া ও খালেক মিয়া ঘটনাস্থলেই নিহত হন। ওই ঘটনার পর দীর্ঘদিন আতঙ্কে কেউ বিমানের কাছে যাননি বলেও জানান স্থানীয়রা। স্থানীয়দের দাবি, মাটির ওপর বিমানের সামান্য অংশ দৃশ্যমান হলেও এর বৃহৎ অংশ এখনো মাটির নিচে চাপা পড়ে আছে। দীর্ঘদিন ধরে কোনো রকম সংরক্ষণ না থাকায় ধ্বংসাবশেষের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ হয়ে পড়েছে।এলাকার শতবর্ষী কৃষক মাতাব মিয়া ও ইউসুফ মিয়াসহ কয়েকজন জানান, দুর্ঘটনার পর এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। বিস্ফোরণে কয়েকজন নিহত হওয়ার পর বহু বছর মানুষ ওই জায়গার পাশ দিয়েও যেতে ভয় পেতেন। এখনো ওই জমির কাছে গেলে তাদের চোখের সামনে সেই ভয়াবহ স্মৃতি ভেসে ওঠে।শ্রীমতপুর গ্রামের জানাল উদ্দিন ও মো. আলী মিয়া বলেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শন। যথাযথ উদ্যোগ নিলে বিমানটি উদ্ধার করে সংরক্ষণ করা সম্ভব। এতে নতুন প্রজন্ম দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সম্পর্কে জানতে পারবে।নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করব। বিধি মোতাবেক স্মৃতি হিসেবে জাদুঘরে নেওয়ার ব্যবস্থা করা সম্ভব হলে উপজেলা প্রশাসন সে উদ্যোগ নেবে। পিএম
অনলাইন ভোট
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনের দিন গণভোট আয়োজন করা হবে। আপনি কি এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?
আন্তর্জাতিক
সব দেখুন
থাইল্যান্ডের স্কুলে প্রবেশ করা বন্দুকধারী আটক, সব জিম্মি মুক্ত
থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলের হাত ইয়াই জেলায় একটি স্কুলে গুলি চালানো বন্দুকধারীকে বুধবার আটক করা হয়েছে এবং জিম্মি হওয়া সবাইকে মুক্ত করা হয়েছে বলে এক পুলিশ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন।প্রাদেশিক প্রশাসন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানায়, ১৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তি বুধবার সকালেই সংখলা প্রদেশের হাত ইয়াইয়ে অবস্থিত পাতংপ্রাথানকিরিওয়াত স্কুলে অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করেন।ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট উইচিয়ান সোবেন রয়টার্সকে বলেন, ‘অপরাধীকে আটক করা হয়েছে।’আরেক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, এ ঘটনায় অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন।থাইল্যান্ডে অস্ত্রধারণ ও বন্দুক সহিংসতা অস্বাভাবিক নয়। ২০২২ সালে দেশটির পূর্বাঞ্চলে এক সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা একটি নার্সারিতে বন্দুক ও ছুরি হামলায় ২২ শিশুসহ ৩৬ জনকে হত্যা করেছিলেন।এবি
ইসলামি বিপ্লবের ৪৭তম বার্ষিকী: ইরানজুড়ে জনতার উচ্ছ্বাস
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের ৪৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে ইরানের শহর, নগর ও গ্রামজুড়ে সর্বস্তরের মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় দেশব্যাপী এই উদযাপন।এ সময় অংশগ্রহণকারীরা ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের জাতীয় পতাকা বহন করে সরকারকে সমর্থন জানান এবং বিদেশি ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ঐক্যের বার্তা দেন। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ‘দশ দিনের ভোর’ উদযাপনের শেষ দিন। এই দশ দিনের আন্দোলনের মধ্য দিয়েই ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লব সফল হয় এবং ইরানের তৎকালীন শাহ শাসনের পতন ঘটে।ইরানের সংবাদ সংস্থা ইরনার প্রতিবেদনে বলা হয়, এ বছর বাহমান মাসের ২২ তারিখে তেহরানের আজাদি স্কয়ারে আয়োজিত কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।এই আয়োজন সারা দেশে ব্যাপক পরিসরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে দেশজুড়ে। আয়োজকদের তথ্যমতে, ইরানের ১ হাজার ৪০০-এর বেশি জেলা, শহর ও কাউন্টিতে এবং ৪০ হাজারেরও বেশি গ্রামে একযোগে সমাবেশ ও মিছিল হচ্ছে। এ বছর মিছিলের রুটগুলো শহিদদের ছবি দিয়ে সাজানো হয়েছে, বিশেষ করে গেল বছর ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের ১২ দিনের যুদ্ধ এবং সাম্প্রতিক দাঙ্গায় শহিদদের স্মরণ করা হয়েছে।তেহরানে অনুষ্ঠিত সব মিছিলের গন্তব্য নির্ধারণ করা হয়েছে আজাদি স্কয়ার। রাজধানী তেহরানে এ উপলক্ষে মোট ১৩টি নির্ধারিত রুট ঘোষণা করা হয়েছে, যেগুলো ধরে আজাদি স্কয়ারে সমবেত হচ্ছেন অংশগ্রহণকারীরা।এবি
কাতারে মোবাইল মিসাইল লাঞ্চার মোতায়েন করল যুক্তরাষ্ট্র
ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা-উদ্বেগের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশ কাতারে মোবাইল মিসাইল লাঞ্চার মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদরদপ্তর পেন্টাগনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।সাধারণ সেমি-স্ট্যাটিক লাঞ্চারের তুলনায় মোবাইল মিসাইল লাঞ্চার থেকে অনেক দ্রুত ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া সম্ভব। পেন্টাগনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রয়োজনের মুহূর্তে তাৎক্ষণিকভাবে মোবাইল লাঞ্চারগুলো থেকে দূরপাল্লার প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া যাবে। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট বিশ্বের সেরা ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মধ্যে অন্যতম।মধ্যপ্রাচ্যের ৮টি দেশে সেনাঘাঁটি আছে যুক্তরাষ্ট্রের। দেশগুলো হলো ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান এবং তুরস্ক। এসবের মধ্যে কাতারের আল-উদেইদ ঘাঁটিটি সবচেয়ে বড়। ২০২৫ সালের জুন মাসে সংঘাতের সময় ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রে ঘাঁটিটির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। মোবাইল মিসাইল লাঞ্চার মোতায়েনের জন্য সেই আল-উদেইদ ঘাঁটিই বেছে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে প্রায় দু’যুগ ধরে তেহরানের সঙ্গে উত্তজনা চলছে ওয়াশিংটনের। ২০১৬ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর এ উত্তেজনা বাড়তে থাকে।২০২৪ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর দু’দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। তার ধারাবাকিতাতেই ২০২৫ সালের জুন মাসে ইরান-ইসরায়েলের সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র। তারপর থেকে যুদ্ধবিরতি চললেও দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার পর্যায়ে নেই এখনও।এর মধ্যে গত ডিসেম্বরে ইরানে ব্যাপকমাত্রায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর ফের যুক্তিরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার পারদ চড়তে থাকে। গত জানুয়ারির মাঝামাঝি আরব সাগরের মধ্যপ্রাচ্য অংশে নিজেদের বিশাল আকৃতির বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনসহ বেশ কয়েকটি রণতরী মোতায়েন করে যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে আরব সাগর, লোহিত সাগর, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের ৫টি বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ এবং শত শত রণতরী টহল দিয়ে বেড়াচ্ছে।এদিকে একই সময়ে পরমাণু প্রকল্প নিয়ে ওমানে ইরানের প্রতিনিধি সঙ্গে বৈঠকও চলছে যুক্তরাষ্ট্রের। গত জুন মাসেও এ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানি প্রতিনিধি দলের বৈঠকের মধ্যেই ইরানে হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েল এবং পরে তাতে যোগ দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রও।সেবার ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী প্রস্তুত না থাকলেও এবার চিত্র ভিন্ন। আরব সাগরে ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের আগমনের পরদিনই হরমুজ প্রণালী এলাকায় সামরিক মহড়ার ঘোষণা দেয় ইরান। ওই এলাকার আকাশসীমায় উড়োজাহাজ চলাচলেও নিষেধাজ্ঞা দেয়।গত ৯ ফেব্রুয়ারি ইরানের সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইরান রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ভূখণ্ডে হামলা করে— তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করবে ইরান।আইআরজিসি এই বিবৃতি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আল উদেইদের ঘাঁটিতে মোবাইল মিসাইল লাঞ্চার মোতায়েনের করেছে যুক্তরাষ্ট্র।সূত্র : রয়টার্সএবি
চীনের প্রভাব কমাতে বাংলাদেশকে সামরিক সরঞ্জাম দিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র
দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন যুক্তরাষ্ট্র। এমন পরিস্থিতিতে দেশটির প্রভাব কমাতে বাংলাদেশের পরবর্তী সরকারকে নিজেদের ও মিত্র দেশের সামরিক সরঞ্জাম দিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। যেগুলো চীনা সামরিক সরঞ্জামের বিকল্প হবে।মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত।২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জেন-জিদের গণঅভ্যুত্থানের মুখে ভারতে পালিয়ে যান। এরপর বাংলাদেশে ভারতের প্রভাব কমে যায়। এর প্রেক্ষিতে চীন বাংলাদেশে তাদের উপস্থিতি ও প্রভাব গভীর ও জোরালো করে।সম্প্রতি চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, ভারত সীমান্তের কাছে বাংলাদেশ ড্রোন ফ্যাক্টরি করবে। এছাড়া পাকিস্তানের কাছ থেকে জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান কেনার আলোচনাও করছে বাংলাদেশ। মাল্টি-রোলের এ যুদ্ধবিমান চীনের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি করেছে পাকিস্তান।এ ব্যাপারে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বলেছেন, “দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন। চীনের সাথে নির্দিষ্ট কিছু চুক্তির ঝুঁকিগুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”বিস্তারিত কোনো কিছু না জানিয়ে তিনি বলেছেন, "বাংলাদেশ যেন প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের ক্ষেত্রে চীনের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে পারে, সেজন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলো বিভিন্ন উন্নত সামরিক সরঞ্জাম দেওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছে।”চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, “চীন ও বাংলাদেশ কৌশলগত অংশীদার হিসেবে রাজনীতি, অর্থনীতি এবং নিরাপত্তাক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করেছে। এতে উভয় দেশ লাভবান হয়েছে।”বাংলাদেশের এ সম্পর্ক তৃতীয় কোনো দেশকে উদ্দেশ্য করে নয় এবং তৃতীয় কোনো দেশ এতে হস্তক্ষেপ করবে— এমনটাও চীন মেনে নেবে না বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য ‘বাংলাদেশ ও ভালো সম্পর্ক থাকুক এমনটা চায়।’বাণিজ্য কূটনীতিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাধান্যরাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনশেন বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগের ব্যাপারে ভাবছেন। কিন্তু তারা চান আগামী সরকার যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করে যেখানে বোঝা যাবে তারা ‘বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত’।তিনি বলেন, “বাণিজ্য কূটনীতিকে আমরা সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছি। আমরা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অর্জিত সাফল্যকে আরও এগিয়ে নিতে নতুন সরকারের সাথে কাজ করার অপেক্ষায় আছি, বিশেষ করে বাণিজ্যিক, অর্থনৈতিক এবং নিরাপত্তা সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে আমরা আগ্রহী।"মার্কিন জ্বালানি উৎপাদন কোম্পানি শেভরন বাংলাদেশে কয়েক দশক ধরেই আছে। কিন্তু ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের এ দেশে যুক্তরাষ্ট্রের অন্য কোনো কোম্পানিকে দেখা যায় না। বিশেষ করে বাংলাদেশে উচ্চ ট্যাক্স ও লাভ করা অর্থ পাঠাতে না পারার কারণে বিদেশি কোম্পানিগুলো বিনিয়োগ করছে না।রয়টার্স বলেছে, বাংলাদেশে মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানি স্টারবাকস অথবা ম্যাকডোনাল্ডসের কোনো আউটলেট নেই। অর্থাৎ তারা বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত আসেনি।সূত্র: রয়টার্সএবি
এবার যুদ্ধ শুরু হলে কোনো যুদ্ধবিরতি হবে না, হুঁশিয়ারি ইরানের
যুক্তরাষ্ট্র যদি এবার ইরানের বিরুদ্ধে কোনো যুদ্ধ শুরু করে তাহলে কোনো যুদ্ধবিরতি হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি)মোহসিন রেজাই নামে এ কর্মকর্তা বলেছেন, “আলোচনার পথ বেঁছে নিলে ভালো হবে। কিন্তু যদি যুদ্ধ শুরু হয়। তাহলে আর কোনো যুদ্ধবিরতি হবে না।”গত সপ্তাহে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকোফের মধ্যে ওমানের রাজধানী মাস্কাটে পরোক্ষ আলোচনা হয়। সেখানে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে তারা কথা বলেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল নিয়েও আলোচনা করতে চায়। তবে ইরান এতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।হয় সমঝোতা, না হয় ‘খুব কঠিন কিছু’, ইরানকে সতর্কবার্তা ট্রাম্পেরমার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন ওমানে হওয়া এ বৈঠক যদি ব্যর্থ হয়, অর্থাৎ কোনো সমঝোতায় যদি যেতে না পারেন দু’দেশের প্রতিনিধিরা— তাহলে ইরানের জন্য ‘খুব কঠিন কিছু’ অপেক্ষা করছে।গতকাল মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওসকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সেই সাক্ষাৎতকারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বৈঠকের ব্যাপারে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছেন, “হয় আমরা সমঝোতায় পৌঁছাবো, চুক্তি হবে অথবা আমাদের খুব কঠিন কিছু করতে হবে। আমাদের একটি বড় নৌবহর বর্তমানে সেখানে (মধ্যপ্রাচ্যে) অবস্থান করছে এবং সম্ভবত আরও একটি বড় নৌবহর আমরা পাঠাব।”সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল, এক্সিওসএবি
রমজান শুরুর তারিখ ঘোষণা করল ওমান
জ্যোতির্বিদ্যার হিসাব-নিকাশের ওপর ভিত্তি করে প্রায় এক সপ্তাহ আগেই পবিত্র রমজান মাস শুরুর তারিখ ঘোষণা করেছে ওমান। দেশটি বলেছে, আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি হবে রমজানের প্রথমদিন।আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি ওমানে শাবান মাসের ২৯তম দিন হবে। কিন্তু সেদিন আকাশে দেখা যাবে না রমজানের অর্ধচন্দ্র।ওমানের চাঁদ দেখার প্রধান কমিটি আজ বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বলেছে, ১৮ ফেব্রুয়ারি শাবান মাস ৩০দিন পূর্ণ করবে।জ্যোতির্বিদ্যার হিসাব-নিকাশে দেখা গেছে আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার ওমানের সব অঞ্চলেই চাঁদ সূযাস্তের আগেই অস্ত যাবে। ফলে ওইদিন চাঁদ দেখা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।চাঁদ দেখা কমিটি জানিয়েছে, ধর্মীয় ও বৈজ্ঞানিক মাণদণ্ড ব্যবহার করে নতুন চন্দ্র মাস শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।সূত্র: গালফ নিউজএবি
শ্রীলঙ্কায় গণঅভ্যুত্থানে এমপিকে পিটিয়ে হত্যায় ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড
শ্রীলঙ্কায় ২০২২ সালে গণঅভ্যুত্থানের সময় এক আইনপ্রণেতাকে উন্মত্ত জনতার পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় অন্তত ১২ জনকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দিয়েছেন আদালত। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দেশটির একটি আদালত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওই সাজা ঘোষণা করেছেন।তদন্তকারী কর্মকর্তারা আদালতকে বলেন, গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানী কলম্বোর কাছের নিত্তাম্বুয়া শহরে ৫৭ বছর বয়সী আইনপ্রণেতা অমরকীর্তি আথুকোরালার গাড়ি আটকে দেয় বিক্ষোভরত জনতা। এ সময় বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালান তিনি। পরে জনতার হাতে গণপিটুনির শিকার হন তিনি।জনরোষের মুখে পাশের একটি ভবনে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন আথুকোরালা। প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ তাকে ঘিরে ফেলেন। সেখানে উন্মত্ত জনতার মধ্যে কয়েকজন শেষ পর্যন্ত তাকে পিটিয়ে হত্যা করেন। ওই সময় তার দেহরক্ষীকেও পিটিয়ে হত্যা করা হয়।খাদ্য, জ্বালানি ও ওষুধের তীব্র সংকট এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় আমদানির অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় ২০২২ সালের মে মাসে শ্রীলঙ্কাজুড়ে যে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে, ওই হত্যাকাণ্ড তারই মাঝে ঘটে।বুধবার সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে গামপাহা হাইকোর্টের তিন বিচারকের বেঞ্চ আথুকোরালার মামলায় ১২ জনকে দোষী সাব্যস্ত এবং অপর ২৩ সন্দেহভাজনকে খালাস দেন।তবে অভিযুক্তরা এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করতে পারেন। ১৯৭৬ সালের পর থেকে শ্রীলঙ্কায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়নি। তবে ফৌজদারি অপরাধের মামলায় দেশটির বিভিন্ন আদালত প্রায়ই ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দিয়ে আসছে।২০২২ সালের বিক্ষোভের সময় তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসের সমর্থকরা কলম্বোয় শান্তিপূর্ণ সমাবেশ সহিংসভাবে দমনের চেষ্টা করে। এই ঘটনার জেরে দেশটির সরকারি দলের অন্তত ৭৫ আইনপ্রণেতার বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়।পরে প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসা ও তার ভাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে পদত্যাগ করেন।২০২২ সালের এপ্রিলে দেশটির সরকার ৪৬ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ার পর ওই বিক্ষোভ শুরু হয়। তবে রাজাপাকসের উত্তরসূরি রনিল বিক্রমাসিংহে ২০২৩ সালের শুরুর দিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ গ্রহণ করেন।২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিক্রমাসিংহে বামপন্থী অনুরা কুমারা দিসানায়েকের কাছে পরাজিত হন। দিসানায়েকে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে ব্যয় কমানোর নীতি বজায় রেখে দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করে তুলেছেন।এমআর-২
ইরান কূটনীতি এবং যুদ্ধ উভয়ের জন্যই প্রস্তুত: আরাঘচি
ইরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি কূটনৈতিক মীমাংসার জন্য সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং একই সাথে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কার জন্যও প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।আরাঘচি যুক্তি দেন, কূটনৈতিক সমাধান ছাড়া কোনো সমাধান হবে না। বলেন, প্রযুক্তি এবং অগ্রগতি বোমা হামলা এবং সামরিক হুমকির মাধ্যমে ধ্বংস করা যাবে না, যা ওয়াশিংটনের প্রতি তেহরানের অবিশ্বাসকে বাড়িয়ে দিয়েছে।ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের এখনও যুক্তরাষ্ট্রের উপর পূর্ণ আস্থা নেই।’ যোগ করেছেন, ইরান গ্যারান্টি দিতে প্রস্তুত যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র বানাবে না। যদি উভয় পক্ষের মধ্যে সদিচ্ছা থাকে এই ধরনের আশ্বাসকে সম্ভব এবং অর্জনযোগ্য বলেও দাবি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর। একই সময়ে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বা তার আঞ্চলিক জোটের বিষয়ে আলোচনার কথা নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, এই বিষয়গুলো পারমাণবিক ফাইলের সাথে সম্পর্কিত নয়। ‘আমরা শুধুমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আমাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করি।’ তিনি অন্যান্য দাবিগুলোকে একেবারে টেবিলের বাইরে বলে জানান। কূটনীতি ভেস্তে গেলে ইরান যে কোনো মার্কিন পদক্ষেপ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত- আরাঘচি স্পষ্ট করে দিয়েছেন। ‘আমরা একটি কূটনৈতিক সমাধানের জন্য প্রস্তুত রয়েছি একইসঙ্গে আমরা যে কোনো নতুন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিজেদের রক্ষা করার জন্য প্রস্তুত।’ আরাঘচি বলেন, গত বছরের ইসরাইল-মার্কিন বোমা হামলার পর থেকে ইরানের সামরিক প্রস্তুতি পরিমাণ ও গুণগত উভয় দিক দিয়ে উন্নত হয়েছে।এ সময় আরাঘচি ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর তীব্র সমালোচনা করে তাকে যুদ্ধবাজ হিসাবে বর্ণনা করেন। যিনি বারবার ইরানের সাথে একটি বিস্তৃত যুদ্ধে ওয়াশিংটনকে টেনে আনার চেষ্টা করেছেন। উত্তেজনা সত্ত্বেও, আরাঘচি বলেছেন, মার্কিন প্রতিনিধিদের সাথে তার সাম্প্রতিক আলোচনা যুদ্ধ এড়ানোর আগ্রহের পরামর্শ দিয়েছে। ‘যদি তারা সিরিয়াস হয়, আমরাও সিরিয়াস। এখন গ্যারান্টি দেয়ার দায়িত্ব ওয়াশিংটনের উপর বর্তায়, যে আলোচনা আবার সামরিক পদক্ষেপ একসাথে হবে না। তিনি বলেন। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যুদ্ধ এবং কূটনীতির বিষয়ে আমাদের পাঠ শিখেছি। এখন আমরা উভয়ের জন্য প্রস্তুত।’এমআর-২
এবার ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে রায় দিল মার্কিন আদালত
যুক্তরাষ্ট্রের এক অভিবাসন বিচারক তুরস্কের শিক্ষার্থী রুমেসা ওজতুর্কের বিরুদ্ধে নির্বাসন মামলা বাতিল করে দিয়েছেন। এতে প্রায় এক বছর আগে গ্রেপ্তারের পর তাকে দেশছাড়া করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নেয়া উদ্যোগের অবসান ঘটল। সোমবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন এ তথ্য জানায়।আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়, রুমেসা ওজতুর্ক যুক্তরাষ্ট্রের টাফটস ইউনিভার্সিটির শিশু বিকাশ বিষয়ে পিএইচডি শিক্ষার্থী। ২০২৫ সালের মার্চ মাসে ম্যাসাচুসেটসের সোমারভিলে সাদাপোশাকে থাকা ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট কর্মকর্তারা তাকে আটক করেন। একটি ছাত্র পত্রিকায় প্রো-প্যালেস্টাইন মতামতধর্মী লেখায় সহ-লেখক ছিলেন তিনি। এর জের ধরেই গ্রেপ্তার করা হয় তাকে।তার আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিচারক রায়ে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ তাকে দেশছাড়া করার মতো কোনো আইনগত ভিত্তি দেখাতে পারেনি। এ বিষয়ে ওজতুর্ক বলেন, ‘আজ আমি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছি। বিচারব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও আমার মামলাটি হয়তো তাদের জন্য আশার আলো হবে, যারা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের দ্বারা অন্যায়ের শিকার হয়েছেন।’তার সঙ্গে হওয়া ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি। ওজতুর্ক বলেন, ‘তবে এই রায় প্রমাণ করে শেষ পর্যন্ত কিছুটা হলেও ন্যায়বিচার পাওয়া সম্ভব।’ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি ছিল, ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্ট অনুযায়ী ওজতুর্ক যুক্তরাষ্ট্রে থাকার যোগ্য নন। তাদের অভিযোগ, তার কর্মকাণ্ড যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির জন্য ক্ষতিকর এবং ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসকে সমর্থনের শামিল।তবে ওজতুর্কের আইনজীবীরা এসব অভিযোগকে প্রতিশোধমূলক বলে আখ্যা দেন এবং বলেন, এটি পুরোপুরি তার মতপ্রকাশের অধিকারের সঙ্গে জড়িত। তারা যুক্তি দেন যে এটি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম ও পঞ্চম সংশোধনী লঙ্ঘন করেছে।গ্রেপ্তারের পর ওজতুর্ককে একাধিক অঙ্গরাজ্যে স্থানান্তর করা হয়—ম্যাসাচুসেটস থেকে ভারমন্ট, পরে লুইজিয়ানায় এ বিষয়ে আগে থেকে তার আইনজীবীদের জানানো হয়নি বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়। ছয় সপ্তাহ পর ভারমন্টের এক ফেডারেল বিচারক তাকে জামিনে মুক্তির নির্দেশ দেন।এর আগে গত ডিসেম্বরে সরকার বেআইনিভাবে ওজতুর্কের শিক্ষার্থী ভিসার রেকর্ড বাতিল করেছে বলে রায় দেন এক ফেডারেল বিচারক। ওই রায়ের ফলে তিনি আবারও তার একাডেমিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পান। তবে, মার্কিন প্রশাসন সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে, কিন্তু ওজতুর্কের ভিসা রেকর্ড এখনো বহাল রয়েছে।তার আইনজীবীদের একজন মাহসা খানবাবাই। তিনি বলেন, ‘ট্রাম্প প্রশাসন আমাদের অভিবাসন ব্যবস্থাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে রুমেসা ওজতুর্কের মতো আমাদের সমাজের মূল্যবান সদস্য ও গবেষকদের টার্গেট করেছে। এই মামলা দেখিয়েছে কীভাবে ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে কথা বলাকে দমন করতে অভিবাসন আইন ব্যবহার করা হয়।’এবি
কানাডায় বন্দুকধারীর হামলা, নিহত ১০
কানাডার পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার একটি হাইস্কুল ও নিকটবর্তী একটি আবাসনে বন্দুক হামলায় ১০ জন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ২০ মিনিটে ঘটেছে এ হামলা।কানাডার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রয়েল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (আরসিএমপি)-এর বরাতে জানা গেছে, ওই হাইস্কুলটির নাম টাম্বলার রিজ সেকেন্ডারি স্কুল। হামলার পর ঘটনাস্থল থেকে ৬ জনকে নিহত এবং আরও প্রায় ৩০ জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করেছে আরসিএমপি।হামলাকারীকেও ঘটনাস্থল থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। হামলাকারী নিজেই নিজেকে ‘শেষ করে দিয়েছেন’ বলে ধারণা করছে আরসিএমপি।আহতদের উদ্ধারের পর হাসাপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে আরও চার জনের মৃত্যু হয়। এছাড়া গুরুতর আহত হওয়ার কারণে আহতদের মধ্যে ২ জনের জীবন সংকটাপন্ন। বাকি ২৫ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।স্কুলটির নিকটবর্তী একটি বাড়ি থেকে ২ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে আরসিএমপি। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, এই নিহতরা স্কুলে হামলার সঙ্গে সম্পর্কিত। আরও নিহত বা আহত আছে কি না, তা জনতে স্কুলটির আশপাশের ঘরবাড়ি ও আবাসনগুলোতে তল্লাশি করা হয়েছে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে আরসিএমপি।এবি
বিনোদন
সব দেখুন
সৌদি বিমানবন্দরে পূর্ণিমাকে দেখে তরুণের কাণ্ড
ওমরাহ পালন করতে কিছুদিন আগে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন পূর্ণিমা। সেখানের একটি অভিজ্ঞতা শেয়ার করলেন অভিনেত্রী। গতকাল একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন তিনি।ভিডিওটিতে দেখা যায়, সৌদিতে অবস্থানকালে বিমানবন্দরে এক যুবকের মুখোমুখি হন পূর্ণিমা।সেখানে কথা বলার এক পর্যায়ে ওই যুবক পূর্ণিমাকে উদ্দেশ্য করে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘চেহারা দেখে তো একদম পূর্ণিমা আপুর মতো লাগছে।’ সরাসরি নিজের প্রশংসা শুনে স্বভাবসুলভ হাস্যোজ্জ্বল ভঙ্গিতে প্রতিক্রিয়া জানান এই অভিনেত্রী। মজার ছলে পূর্ণিমা বলেন, ‘আমাকেও সবাই বলে, আমার চেহারা নাকি দেখতে পূর্ণিমার মতো লাগে।’তাদের এই কথোপকথনের ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে আসার পর থেকেই অনুরাগী ও সাধারণ নেটিজেনরা বেশ উপভোগ করছেন।মন্তব্যের ঘরে কেউ কেউ বলছেন, চিরযৌবনা এই নায়িকার চেহারার উজ্জ্বলতা যেন সময়ের সঙ্গে আরও বাড়ছে। ইবাদতের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন পূর্ণিমা। সেখান থেকে মাঝে মাঝেই বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও শেয়ার করে ভক্তদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ঢাকাই সিনেমার অন্যতম এই শীর্ষ নায়িকা দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য কালজয়ী সিনেমা উপহার দিয়েছেন।বর্তমানে সিনেমার কাজ কমিয়ে দিলেও বিশেষ বিশেষ কাজ ও অনুষ্ঠানের উপস্থাপনায় তাকে প্রায়ই দেখা যায়।এইচএ
জহির রায়হানকে একুশে পদক উৎসর্গ করলেন ববিতা
গত ৫ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার একুশে পদকপ্রাপ্তদের তালিকা। চলতি বছর এ তালিকায় সর্বমোট ৯ জন ও একটি প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে। এরমধ্যে শোবিজেরই রয়েছে ৪ উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম। অভিনয়ের জন্য এ বছর একুশে পদক পাচ্ছেন ববিতা। তিনি তার পদকটি উৎসর্গ করেছেন প্রয়াত নির্মাতা জহির রায়হানকে। সংবাদ মাধ্যমকে ববিতা বলেন, ‘অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা আমার ভক্ত-দর্শকের প্রতি। তারা সব সময়ই আমার কাজে অনুপ্রেরণা দিয়েছেন, ভালো-মন্দের খোঁজ নিয়েছেন। তাদের অনুপ্রেরণাতেই আমি আজকের ববিতা। কৃতজ্ঞতা সংবাদমাধ্যমের প্রতি। আমার অভিনয়জীবনের শুরু থেকে সংবাদমাধ্যম সব সময় আমার পাশে ছিল।’তিনি আরও বলেন, ‘শ্রদ্ধেয় শহীদ জহির রায়হানের হাত ধরেই আমার অভিনয়ে আসা, চলচ্চিত্রে আসা, তাই আমার একুশে পদকটি তাকেই শ্রদ্ধার সঙ্গে উৎসর্গ করছি।’ ১৯৭৫ সালে ‘বাদী থেকে বেগম’ সিনেমাতে অভিনয়ের জন্য প্রথম শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান ববিতা। এরপর ১৯৭৬ সালে ‘নয়নমণি’ সিনেমার জন্য এবং ১৯৭৭ সালে ‘বসুন্ধরা’ সিনেমার জন্য তিনি একই সম্মাননা লাভ করেন।এরপর ‘রামের সুমতি’,‘ হাছন রাজা’, ‘পোকামাকড়ের ঘরবসতি’ (শ্রেষ্ঠ প্রযোজক হিসেবে), ‘কে আপন কে পর’ সিনেমার জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান তিনি। চলচ্চিত্রে অবদানের জন্য ২০১৬ সালে তিনি আজীবন সম্মাননায় ভূষিত হন। এছাড়া সংগীতে বিশেষ অবদানের জন্য প্রয়াত সংগীতশিল্পী আইয়ুব বাচ্চুও পাচ্ছেন একুশে পদক সম্মাননা। নৃত্যে বিশেষ অবদানের জন্য অর্থি আহমেদ পাচ্ছেন এবারের একুশে পদক। সংগীত দুনিয়ার জনপ্রিয় ব্যান্ডদল ওয়ারফেইজেরও নাম আছে চলতি বছরের একুশে পদকপ্রাপ্তদের তালিকায়। এইচএ
শাকিব-বুবলীর ঘরে আসছে নতুন অতিথি
ফের বাবা-মা হতে যাচ্ছেন ঢাকাই সিনেমার আলোচিত অভিনেতা শাকিব খান ও চিত্রনায়িকা শবনম ইয়াসমিন বুবলী। প্রথম সন্তানের জন্মের ৫ বছর পর ফের মাতৃত্বের পথে হাঁটছেন তিনি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তিনি ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনো প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি এই নায়িকা।গত বছরের শেষের দিকে ছেলেকে নিয়ে শাকিব খানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ ছুটি কাটান বুবলী। তখন তাদের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে কথা ওঠে। অনেকেই বলতে শুরু করেন শাকিব-বুবলী ফের এক হতে যাচ্ছেন। এরই মধ্যে সম্প্রতি বুবলীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার গুঞ্জন ওঠে। এটা গুঞ্জন হিসেবে চলতে শুরু করার মাঝেই জানা গেল ঘটনার সত্যতা। শাকিব ও বুবলীর ঘরে শেহজাদ খান বীর নামে এক সন্তান রয়েছে। শাকিব খানের পরামর্শেই সন্তান জন্ম দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের এই অভিনেত্রী।বুবলী ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা তাই ‘ঢাকাইয়া দেবদাস’ সিনেমার শুটিং করতে চাইছেন না বুবলী। প্রথম দফায় আদর আজাদের বিপরীতে ৪ দিন শুটিংয়ে অংশও নিয়েছিলেন। দ্বিতীয় লটের শুটিংয়ের জন্য শিডিউল দিচ্ছিলেন না। সন্তান জন্মের পর শারীরিকভাবে ফিট হয়ে বাকি অংশের শুটিংয়ে অংশ নেবেন বলে প্রযোজক-পরিচালককে জানিয়েছেন বুবলী।সিনেমাটির প্রযোজক জাহাঙ্গীর সিকদার একটি সংবাদমাধ্যমে বলেন, সিনেমার প্রথম লটে ৪ দিনের শুটিং হয়েছে। দ্বিতীয় লটে রোজার মধ্যে শুটিং থাকলেও বুবলীকে ছাড়া বাকি কাজ শেষ করতে হবে। সন্তান জন্ম দিতে এই মাসেই তিনি আমেরিকায় যাচ্ছেন। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী জুনে শিডিউল দিলেও আমরা ধারণা করছি, তখন তিনি পুরোপুরি ফিট নাও হতে পারেন। তাই সেপ্টেম্বরের দিকে শুটিংয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।জানা গেছে, এখন বুবলী শুটিং করছেন না ঝুঁকির কারণে। তবে আগামীকাল রাজধানীর একটি শপিং কমপ্লেক্সে হাজির হবেন বুবলী। একটি আউটলেট-এর ওপেনিং সেরেমনি হবে বুবলীর হাত ধরে। সেখানেই বুবলী জানাতে পারেন মা হতে যাওয়ার বিষয়টি।এদিকে আরেকটি সূত্র বলছে, বুবলী সন্তান জন্ম দিতে এ মাসেই উড়াল দেবেন যুক্তরাষ্ট্রে। শেহজাদ খান বীরেরও জন্ম হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রে। ২০২০ সালের ২১ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রে পুত্রসন্তানের জন্ম দেন বুবলী। এ খবর ফেসবুকে ছবি শেয়ার করে বুবলী নিজেই সামনে আনেন। তবে তার আগে নানা নাটকীতায় অংশ নেন তিনি। মা হওয়ার খবর কেন্দ্র করে সাংবাদিকদেরও হুমকি দিয়েছিলেন অভিনেত্রী। তবে শেষ পর্যন্ত মা হওয়ার গুঞ্জনই সত্যি হয়েছিল। এবারও দেখানো পথেই হাটছেন বুবলী। বর্তমানে এই অভিনেত্রীর ‘পিনিক’ সিনেমাটি মুক্তির অপেক্ষায়। সর্বশেষ তাকে ‘জংলি’ সিনেমায় দেখা গেছে।এইচএ
কেন বিয়ে করতে পারছেন না অভিনেত্রী সাফা?
সহকর্মীরা অনেকেই সংসারী হয়েছেন, কিন্তু সাফা কবির কবে বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন? এই প্রশ্ন বারবার ধেয়ে আসে তার দিকে। তবে অভিনেত্রী সাফ জানিয়ে দিলেন, বিয়ে নিয়ে তার কোনো তাড়াহুড়ো নেই। বয়স বাড়ছে বা লোকে কী বলবে এসব ভেবে তিনি জীবনসঙ্গী বাছতে নারাজ।সাফা জানান, পরিবার থেকে তার ওপর কোনো চাপ নেই। বাবা-মা তাকে সবসময় পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছেন। তার কথায়, “হুটহাট বিয়ে করে কিছুদিন পর ভেঙে যাওয়ার চেয়ে আস্থার সঙ্গে বিয়ে করাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”কেমন পাত্র চান সাফা? উত্তরে অভিনেত্রী জানান, চেহারা বা বাহ্যিক সৌন্দর্য তার কাছে মুখ্য নয়। তিনি এমন একজন ‘ভালো মানুষ’ খুঁজছেন যিনি সৎ, স্বচ্ছ এবং যত্নশীল হবেন। যার সঙ্গে জীবনটা আরামে কাটানো যাবে, তেমন মানুষের খোঁজ পেলেই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি।এসআর
অর্থ-বাণিজ্য
সব দেখুন
ভোট উৎসবে যমুনা সেতুতে একদিনে পৌনে ৩ কোটি টাকার টোল আদায়
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছে মানুষ, যার ফলে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে সৃষ্টি হয়েছে যানবাহনের অভূতপূর্ব চাপ। গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা সেতু দিয়ে রেকর্ড সংখ্যক ৩৬ হাজার ৯২৩টি যানবাহন পারাপার হয়েছে, যা থেকে মোট ২ কোটি ৮৭ লাখ ৭ হাজার ৬৫০ টাকা টোল আদায় করেছে সেতু কর্তৃপক্ষ। দুই ঈদ উৎসবের সময়কাল বাদ দিলে সাধারণ সময়ে এটি যমুনা সেতুর ইতিহাসে স্মরণকালের সর্বোচ্চ যানবাহন পারাপার ও টোল আদায়ের নতুন রেকর্ড। আজ বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকালে যমুনা সেতু সাইট অফিসের টোল ম্যানেজার প্রবীর কুমার ঘোষ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।যমুনা সেতু সাইট অফিসের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, গত সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা থেকে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা পর্যন্ত এই বিপুল পরিমাণ যানবাহন সেতু অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে টাঙ্গাইলের যমুনা সেতু পূর্ব প্রান্ত দিয়ে উত্তরবঙ্গগামী লেনে ২৩ হাজার ৯৮৯টি যানবাহন পারাপার হয়েছে, যা থেকে আয় হয়েছে ১ কোটি ৭১ লাখ ৭৩ হাজার ৯০০ টাকা। অন্যদিকে, সিরাজগঞ্জের পশ্চিম প্রান্ত দিয়ে ঢাকাগামী লেনে পারাপার হওয়া ১২ হাজার ৯৩৪টি যানবাহন থেকে সেতু কর্তৃপক্ষের তহবিলে ১ কোটি ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৭৫০ টাকা টোল জমা হয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে মানুষের বাড়ি ফেরার প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় যান চলাচলের হার কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।যানবাহনের এই অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মহাসড়কে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্রশাসন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, যমুনা সেতু ও এর সংযোগ সড়কগুলোতে যান চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া পুরো এলাকাটি সিসিটিভির মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে যাতে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত জটলা বা বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয়। ঘরমুখো মানুষের এই স্রোত আজ বুধবার সারাদিনও অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।নির্বাচনের দিন যানবাহন চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ থাকায় অধিকাংশ মানুষ আজ বিকেলের মধ্যেই গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। যমুনা সেতু পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের টোল প্লাজাগুলোতে দ্রুত সেবা প্রদানের জন্য অতিরিক্ত বুথ সক্রিয় রাখা হয়েছে। মহাসড়কের পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক থাকলেও যানবাহনের সংখ্যার কারণে ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে। সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তারা এবং জেলা পুলিশ প্রশাসন একযোগে কাজ করে যাচ্ছে যাতে ভোটাররা সঠিক সময়ে তাঁদের নির্বাচনী এলাকায় পৌঁছাতে পারেন।এইচএ
রমজানে ব্যাংক লেনদেনে নতুন সময়সূচি নির্ধারণ
এবারের পবিত্র রমজানে ব্যাংকের অফিস ও লেনদেনের সময়সূচিতে পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভাইজরি ডেটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যানালিটিকস ডিপার্টমেন্ট (এসডিএডি)।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নতুন সময় অনুযায়ী, রমজান মাসে লেনদেন হবে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত। আর অফিস চলবে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।এতে আরও বলা হয়, ফলে দেশের সব তপশিলি ব্যাংক পবিত্র রমজান মাসে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। এর মধ্যে জোহরের নামাজের বিরতি থাকবে। তবে, এ বিরতির সময় অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের মাধ্যমে ব্যাংকের লেনদেন অব্যাহত রাখা যাবে।সাধারণত সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ব্যাংকে লেনদেন হয় এবং ব্যাংকের অফিশিয়াল কার্যাবলি সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলমান থাকে।রমজান মাস শেষ হওয়ার পরে অফিস সময়সূচি আগের অবস্থায় ফিরে আসবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।এমআর-২
এবার বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক কমাল যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রেসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি) চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ।সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।নতুন চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর শুল্ক কমিয়ে ১৯ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। আর যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত তুলা ও কৃত্রিম তন্তু দিয়ে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে রেসিপ্রোকাল শূন্য শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। আর যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত তুলা ও কৃত্রিম তন্তু দিয়ে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে রেসিপ্রোকাল শূন্য শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।চুক্তি স্বাক্ষরের সময় বাংলাদেশের পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ সহকারী লুৎফে সিদ্দিকী, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান।এর আগে বাণিজ্য উপদেষ্টা শুল্কহ্রাসের আশা ব্যক্ত করে বলেছিলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছিলাম যে আরও কত কমানো যায়। আশা করছি ৯ তারিখে যে চুক্তি হবে, তাতে তা (শুল্কহার) কমবে। তবে কতটুকু কমবে, তা এই মুহূর্তে আমি বলতে চাচ্ছি না বা পারছি না। আমরা আলোচনার ভিত্তিতে তা দেখব।এফএস
ভোটের আগে দেশের রিজার্ভ বেড়ে ৩৪ বিলিয়ন ডলার
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের আগে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় বা রিজার্ভ ৩৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।সোমবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এসব তথ্য জানিয়েছেন। প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বাড়ায় রিজার্ভ বাড়ছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, ৯ ফেব্রুয়ারি দিন শেষে দেশের গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ০৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম–৬ অনুযায়ী রিজার্ভ হয়েছে ২৯ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার।তথ্য বলছে, চলতি বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে প্রবাসীরা দেশে ৩১৭ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন, যা ডলার সংকট কমাতে সাহায্য করেছে। একই সঙ্গে, ব্যাংকগুলো থেকে অতিরিক্ত ডলার কেনার ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ বেড়েছে। চলতি ফেব্রুয়ারিতেও প্রবাসী আয়ের উল্লম্ফন অব্যাহত রয়েছে। ফেব্রুয়ারির প্রথম ৮ দিনে এক বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এদিকে প্রবাসী আয়ের উল্লম্ফনের ফলে ব্যাংকগুলোতে ডলারের উদ্বৃত্ত সৃষ্টি হওয়ায় ডলারের মূল্য কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বৈদেশিক মুদ্রার যোগান-চাহিদার ভারসাম্য ঠিক রাখতে এবং মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা আনতে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছ থেকে ডলার কিনছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সোমবার ১৯ ব্যাংক থেকে ২০ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মাল্টিপল প্রাইস অকশন (এমপিএ) পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত এ ক্রয়ে ডলারের এক্সচেঞ্জ রেট ও কাট-অফ রেট উভয়ই ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা।সবমিলিয়ে চলতি অর্থবছরে (২০২৫-২৬) এখন পর্যন্ত বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ৪৭৩ কোটি মার্কিন ডলার ( ৪.৭৩ বিলিয়ন ডলার) কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।সর্বশেষ ২০২২ সালে দেশের ডলার বাজার অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। তখন প্রতি ডলারের দাম ৮৫ টাকা থেকে বেড়ে ১২২ টাকায় পৌঁছায়। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক নানা পদক্ষেপ নিলেও ডলার বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। একপর্যায়ে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি শুরু করতে হয়। এরপরও বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসেনি।বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, তিন অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রায় ৩৪ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করে। এর মধ্যে ২০২১-২২ অর্থবছরে সাত দশমিক ছয় বিলিয়ন ডলার, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১২ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করা হয়। অথচ এ সময়ে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে কেনা হয়েছে মাত্র এক বিলিয়ন ডলারের মতো।তবে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অর্থপাচার বন্ধে বর্তমান সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেয়। এতে রপ্তানি ও প্রবাসী আয়– উভয়ই বেড়েছে। ফলে ডলারের সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। সরবরাহ বাড়লেও সে অনুযায়ী চাহিদা না থাকায় স্বাভাবিকভাবে ডলারের দাম কমে যাওয়ার কথা। তবে, ডলার বাজার স্থিতিশীল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিজ উদ্যোগে বাজার থেকে ডলার কিনছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, বর্তমানে বাজারে ডলারের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি রয়েছে। ডলারের দাম যেন অস্বাভাবিকভাবে কমে না যায়, সেজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার কিনে বাজারে ভারসাম্য বজায় রাখছে। ডলারের দর কমে গেলে প্রবাসী আয় ও রপ্তানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ডলার কেনার ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বেড়েছে বলে জানান তিনি।এমআর-২
নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রেখে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা
সরাসরি-বেসরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধি বাড়িয়ে ও নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রেখে চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের (জানুয়ারি–জুন) মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে কঠোর (সংকোচনশীল) মুদ্রানীতির অবস্থান বজায় রেখে নীতি সুদহার ১০ শতাংশেই অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।আজ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে তৃতীয় ও শেষ মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জনের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে মুদ্রানীতি প্রণয়ন ও প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় মুদ্রানীতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ ঋণ, মুদ্রা সরবরাহ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ, বৈদেশিক সম্পদ কতটুকু বাড়বে বা কমবে এর একটি পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বছরে দুইবার ('জানুয়ারি-জুন' ও 'জুলাই-ডিসেম্বর' সময়ের জন্য) মুদ্রানীতি নীতি ঘোষণা করে।কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, চলতি অর্থবছর গড় মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য ঠিক করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। যদিও এখন মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশে রয়েছে।বাংলাদেশ ব্যাংক সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২২ অক্টোবর প্রধান নীতি সুদহার রেপো ৫০ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করে। মূলত ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে সরকারি সিকিউরিটিজ বন্ধক রেখে রেপোর বিপরীতে স্বল্পমেয়াদি ঋণ নেয়।অন্যদিকে, নতুন মুদ্রানীতিতে আন্তঃব্যাংক ধার নেওয়ার ক্ষেত্রে নীতি সুদহার স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ অপরিবর্তিত থাকছে। এছাড়া স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) ৮ শতাংশ থেকে নামিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে। ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে টাকা রাখার ক্ষেত্রে এ সুদহার প্রযোজ্য হয়। গভর্নর জানান, আমরা চাই ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকে টাকা না রেখে বিনিয়োগে যাক। তাই এসডিএফ কমানো হয়েছে; আগামীতে আরও কমানো হবে। বেসরকারি খাতে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা আগের মুদ্রানীতিতে বেশি থাকলেও তা পূরণ হয়নি। কিন্তু নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিনিয়োগ বাড়তে পারে এমন প্রত্যাশায় নতুন ছয় মাসের মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি সামান্য বাড়ানো হয়েছে। ডিসেম্বর পর্যন্ত বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ৬ দশমিক ১ শতাংশ। আগামী জুন পর্যন্ত বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ নেওয়ার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে।একইভাবে সরকারি খাতেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ঋণ কিছুটা কম হয়েছে। নতুন মুদ্রানীতিতে এই খাতে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ২১ দশমিক ৬ শতাংশ ধরা হয়েছে। গত অর্থবছরে সরকারি ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ২০ দশমিক ৫ শতাংশ ধরা হলেও ডিসেম্বর পর্যন্ত নিয়েছিল ২৮ দশমিক ৯ শতাংশ।এইচএ
আজ রাত ১২টা থেকে ইন্টারনেট ব্যাংকিং বন্ধ থাকবে ৪ দিন
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা (এমএফএস) ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন বন্ধ থাকবে ৪ দিন। বিকাশ, রকেট ও নগদসহ সব এমএফএস প্ল্যাটফর্মে একবারে সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা (শুধু পিটুপি) পাঠানো যাবে।এছাড়া, দিনে সর্বোচ্চ ১০বার লেনদেন করা যাবে, যার মোট সীমা হবে ১০ হাজার টাকা।গতকাল রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে। নির্দেশনা অনুযায়ী, সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত এ সীমা কার্যকর থাকবে। একই সময়ে ব্যাংকের অ্যাপ ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি অর্থ স্থানান্তর বন্ধ থাকবে।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট থেকে জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সোমবার দিনগত রাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত মোট ৯৬ ঘণ্টা এমএফএস ও পিপিআই (প্রিপেইড ইনস্ট্রুমেন্ট) লেনদেনে বিশেষ সীমা কার্যকর থাকবে।বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, এ সময়ে ব্যক্তি পর্যায়ে পিয়ার-টু-পিয়ার (পি-টু-পি) লেনদেনে একবারে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা পাঠানো যাবে এবং দৈনিক লেনদেনের সংখ্যা সর্বোচ্চ ১০টিতে সীমাবদ্ধ থাকবে। তবে মার্চেন্ট পেমেন্ট ও ইউটিলিটি বিল পরিশোধে বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী লেনদেন চলবে। এছাড়া এমএফএসের মাধ্যমে অন্যান্য সব ধরনের লেনদেন সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে।নির্বাচন উপলক্ষে এমএফএস সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে প্রতিটি মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ ‘কুইক রেসপন্স সেল’ গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এছাড়া নির্ধারিত সময়ে সব ধরনের লেনদেনের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি (ক্লোজ মনিটরিং) চালানো হবে। সন্দেহজনক বা অস্বাভাবিক লেনদেনের ক্ষেত্রে দ্রুত সংশ্লিষ্ট থানায় রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। এ সময় পি-টু-পি ইন্টারনেট (আইবিএফটির মাধ্যমে লেনদেন) ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে লেনদেনও সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চাহিদা অনুযায়ী এমএফএস ও ব্যাংকগুলো প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করবে। নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হলে স্বাভাবিক লেনদেন কার্যক্রম পুনরায় চালু হবে বলে জানানো হয়।এইচএ
রমজানে ব্যাংক লেনদেনে নতুন সময়সূচি নির্ধারণ
আসন্ন পবিত্র রমজানে ব্যাংকের অফিস ও লেনদেনের সময়সূচিতে পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভাইজরি ডেটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যানালিটিকস ডিপার্টমেন্ট (এসডিএডি)।এতে বলা হয়, নতুন সময় অনুযায়ী, রমজান মাসে লেনদেন হবে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত। আর অফিস চলবে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ফলে দেশের সব তপশিলি ব্যাংক পবিত্র রমজান মাসে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। এর মধ্যে দুপুর সোয়া দেড়টা পর্যন্ত জোহরের নামাজের বিরতি থাকবে। তবে, এ বিরতির সময় অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের মাধ্যমে ব্যাংকের লেনদেন অব্যাহত রাখা যাবে।সাধারণত সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ব্যাংকে লেনদেন হয় এবং ব্যাংকের অফিশিয়াল কার্যাবলি সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলমান থাকে।রমজান মাস শেষ হওয়ার পরে অফিস সময়সূচি আগের অবস্থায় ফিরে আসবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।এইচএ
ভোট উৎসবে যমুনা সেতুতে একদিনে পৌনে ৩ কোটি টাকার টোল আদায়
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছে মানুষ, যার ফলে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে সৃষ্টি হয়েছে যানবাহনের অভূতপূর্ব চাপ। গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা সেতু দিয়ে রেকর্ড সংখ্যক ৩৬ হাজার ৯২৩টি যানবাহন পারাপার হয়েছে, যা থেকে মোট ২ কোটি ৮৭ লাখ ৭ হাজার ৬৫০ টাকা টোল আদায় করেছে সেতু কর্তৃপক্ষ। দুই ঈদ উৎসবের সময়কাল বাদ দিলে সাধারণ সময়ে এটি যমুনা সেতুর ইতিহাসে স্মরণকালের সর্বোচ্চ যানবাহন পারাপার ও টোল আদায়ের নতুন রেকর্ড। আজ বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকালে যমুনা সেতু সাইট অফিসের টোল ম্যানেজার প্রবীর কুমার ঘোষ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।যমুনা সেতু সাইট অফিসের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, গত সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা থেকে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা পর্যন্ত এই বিপুল পরিমাণ যানবাহন সেতু অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে টাঙ্গাইলের যমুনা সেতু পূর্ব প্রান্ত দিয়ে উত্তরবঙ্গগামী লেনে ২৩ হাজার ৯৮৯টি যানবাহন পারাপার হয়েছে, যা থেকে আয় হয়েছে ১ কোটি ৭১ লাখ ৭৩ হাজার ৯০০ টাকা। অন্যদিকে, সিরাজগঞ্জের পশ্চিম প্রান্ত দিয়ে ঢাকাগামী লেনে পারাপার হওয়া ১২ হাজার ৯৩৪টি যানবাহন থেকে সেতু কর্তৃপক্ষের তহবিলে ১ কোটি ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৭৫০ টাকা টোল জমা হয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে মানুষের বাড়ি ফেরার প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় যান চলাচলের হার কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।যানবাহনের এই অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মহাসড়কে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্রশাসন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, যমুনা সেতু ও এর সংযোগ সড়কগুলোতে যান চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া পুরো এলাকাটি সিসিটিভির মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে যাতে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত জটলা বা বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয়। ঘরমুখো মানুষের এই স্রোত আজ বুধবার সারাদিনও অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।নির্বাচনের দিন যানবাহন চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ থাকায় অধিকাংশ মানুষ আজ বিকেলের মধ্যেই গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। যমুনা সেতু পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের টোল প্লাজাগুলোতে দ্রুত সেবা প্রদানের জন্য অতিরিক্ত বুথ সক্রিয় রাখা হয়েছে। মহাসড়কের পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক থাকলেও যানবাহনের সংখ্যার কারণে ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে। সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তারা এবং জেলা পুলিশ প্রশাসন একযোগে কাজ করে যাচ্ছে যাতে ভোটাররা সঠিক সময়ে তাঁদের নির্বাচনী এলাকায় পৌঁছাতে পারেন।এইচএ
রমজানে ব্যাংক লেনদেনে নতুন সময়সূচি নির্ধারণ
এবারের পবিত্র রমজানে ব্যাংকের অফিস ও লেনদেনের সময়সূচিতে পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভাইজরি ডেটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যানালিটিকস ডিপার্টমেন্ট (এসডিএডি)।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নতুন সময় অনুযায়ী, রমজান মাসে লেনদেন হবে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত। আর অফিস চলবে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।এতে আরও বলা হয়, ফলে দেশের সব তপশিলি ব্যাংক পবিত্র রমজান মাসে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। এর মধ্যে জোহরের নামাজের বিরতি থাকবে। তবে, এ বিরতির সময় অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের মাধ্যমে ব্যাংকের লেনদেন অব্যাহত রাখা যাবে।সাধারণত সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ব্যাংকে লেনদেন হয় এবং ব্যাংকের অফিশিয়াল কার্যাবলি সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলমান থাকে।রমজান মাস শেষ হওয়ার পরে অফিস সময়সূচি আগের অবস্থায় ফিরে আসবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।এমআর-২
এবার বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক কমাল যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রেসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি) চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ।সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।নতুন চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর শুল্ক কমিয়ে ১৯ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। আর যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত তুলা ও কৃত্রিম তন্তু দিয়ে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে রেসিপ্রোকাল শূন্য শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। আর যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত তুলা ও কৃত্রিম তন্তু দিয়ে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে রেসিপ্রোকাল শূন্য শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।চুক্তি স্বাক্ষরের সময় বাংলাদেশের পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ সহকারী লুৎফে সিদ্দিকী, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান।এর আগে বাণিজ্য উপদেষ্টা শুল্কহ্রাসের আশা ব্যক্ত করে বলেছিলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছিলাম যে আরও কত কমানো যায়। আশা করছি ৯ তারিখে যে চুক্তি হবে, তাতে তা (শুল্কহার) কমবে। তবে কতটুকু কমবে, তা এই মুহূর্তে আমি বলতে চাচ্ছি না বা পারছি না। আমরা আলোচনার ভিত্তিতে তা দেখব।এফএস
ভোটের আগে দেশের রিজার্ভ বেড়ে ৩৪ বিলিয়ন ডলার
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের আগে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় বা রিজার্ভ ৩৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।সোমবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এসব তথ্য জানিয়েছেন। প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বাড়ায় রিজার্ভ বাড়ছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, ৯ ফেব্রুয়ারি দিন শেষে দেশের গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ০৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম–৬ অনুযায়ী রিজার্ভ হয়েছে ২৯ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার।তথ্য বলছে, চলতি বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে প্রবাসীরা দেশে ৩১৭ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন, যা ডলার সংকট কমাতে সাহায্য করেছে। একই সঙ্গে, ব্যাংকগুলো থেকে অতিরিক্ত ডলার কেনার ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ বেড়েছে। চলতি ফেব্রুয়ারিতেও প্রবাসী আয়ের উল্লম্ফন অব্যাহত রয়েছে। ফেব্রুয়ারির প্রথম ৮ দিনে এক বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এদিকে প্রবাসী আয়ের উল্লম্ফনের ফলে ব্যাংকগুলোতে ডলারের উদ্বৃত্ত সৃষ্টি হওয়ায় ডলারের মূল্য কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বৈদেশিক মুদ্রার যোগান-চাহিদার ভারসাম্য ঠিক রাখতে এবং মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা আনতে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছ থেকে ডলার কিনছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সোমবার ১৯ ব্যাংক থেকে ২০ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মাল্টিপল প্রাইস অকশন (এমপিএ) পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত এ ক্রয়ে ডলারের এক্সচেঞ্জ রেট ও কাট-অফ রেট উভয়ই ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা।সবমিলিয়ে চলতি অর্থবছরে (২০২৫-২৬) এখন পর্যন্ত বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ৪৭৩ কোটি মার্কিন ডলার ( ৪.৭৩ বিলিয়ন ডলার) কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।সর্বশেষ ২০২২ সালে দেশের ডলার বাজার অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। তখন প্রতি ডলারের দাম ৮৫ টাকা থেকে বেড়ে ১২২ টাকায় পৌঁছায়। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক নানা পদক্ষেপ নিলেও ডলার বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। একপর্যায়ে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি শুরু করতে হয়। এরপরও বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসেনি।বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, তিন অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রায় ৩৪ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করে। এর মধ্যে ২০২১-২২ অর্থবছরে সাত দশমিক ছয় বিলিয়ন ডলার, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১২ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করা হয়। অথচ এ সময়ে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে কেনা হয়েছে মাত্র এক বিলিয়ন ডলারের মতো।তবে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অর্থপাচার বন্ধে বর্তমান সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেয়। এতে রপ্তানি ও প্রবাসী আয়– উভয়ই বেড়েছে। ফলে ডলারের সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। সরবরাহ বাড়লেও সে অনুযায়ী চাহিদা না থাকায় স্বাভাবিকভাবে ডলারের দাম কমে যাওয়ার কথা। তবে, ডলার বাজার স্থিতিশীল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিজ উদ্যোগে বাজার থেকে ডলার কিনছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, বর্তমানে বাজারে ডলারের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি রয়েছে। ডলারের দাম যেন অস্বাভাবিকভাবে কমে না যায়, সেজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার কিনে বাজারে ভারসাম্য বজায় রাখছে। ডলারের দর কমে গেলে প্রবাসী আয় ও রপ্তানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ডলার কেনার ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বেড়েছে বলে জানান তিনি।এমআর-২
নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রেখে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা
সরাসরি-বেসরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধি বাড়িয়ে ও নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রেখে চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের (জানুয়ারি–জুন) মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে কঠোর (সংকোচনশীল) মুদ্রানীতির অবস্থান বজায় রেখে নীতি সুদহার ১০ শতাংশেই অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।আজ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে তৃতীয় ও শেষ মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জনের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে মুদ্রানীতি প্রণয়ন ও প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় মুদ্রানীতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ ঋণ, মুদ্রা সরবরাহ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ, বৈদেশিক সম্পদ কতটুকু বাড়বে বা কমবে এর একটি পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বছরে দুইবার ('জানুয়ারি-জুন' ও 'জুলাই-ডিসেম্বর' সময়ের জন্য) মুদ্রানীতি নীতি ঘোষণা করে।কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, চলতি অর্থবছর গড় মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য ঠিক করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। যদিও এখন মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশে রয়েছে।বাংলাদেশ ব্যাংক সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২২ অক্টোবর প্রধান নীতি সুদহার রেপো ৫০ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করে। মূলত ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে সরকারি সিকিউরিটিজ বন্ধক রেখে রেপোর বিপরীতে স্বল্পমেয়াদি ঋণ নেয়।অন্যদিকে, নতুন মুদ্রানীতিতে আন্তঃব্যাংক ধার নেওয়ার ক্ষেত্রে নীতি সুদহার স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ অপরিবর্তিত থাকছে। এছাড়া স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) ৮ শতাংশ থেকে নামিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে। ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে টাকা রাখার ক্ষেত্রে এ সুদহার প্রযোজ্য হয়। গভর্নর জানান, আমরা চাই ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকে টাকা না রেখে বিনিয়োগে যাক। তাই এসডিএফ কমানো হয়েছে; আগামীতে আরও কমানো হবে। বেসরকারি খাতে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা আগের মুদ্রানীতিতে বেশি থাকলেও তা পূরণ হয়নি। কিন্তু নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিনিয়োগ বাড়তে পারে এমন প্রত্যাশায় নতুন ছয় মাসের মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি সামান্য বাড়ানো হয়েছে। ডিসেম্বর পর্যন্ত বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ৬ দশমিক ১ শতাংশ। আগামী জুন পর্যন্ত বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ নেওয়ার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে।একইভাবে সরকারি খাতেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ঋণ কিছুটা কম হয়েছে। নতুন মুদ্রানীতিতে এই খাতে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ২১ দশমিক ৬ শতাংশ ধরা হয়েছে। গত অর্থবছরে সরকারি ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ২০ দশমিক ৫ শতাংশ ধরা হলেও ডিসেম্বর পর্যন্ত নিয়েছিল ২৮ দশমিক ৯ শতাংশ।এইচএ
শিক্ষাঙ্গন
সব দেখুন
পদত্যাগ করলেন ঢাবি ভিসি
হঠাৎ করেই সংবাদ সম্মেলনের ডাক দিয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান। আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জনসংযোগ দফতরের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বিকাল ৩টায় ঘোষিত এই সংবাদ সম্মেলনকে ‘বিশেষ’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে জনসংযোগের তরফে পাঠানো ওই বিজ্ঞপ্তিতে।জানা গেছে, উপাচার্য কার্যালয় সংলগ্ন অধ্যাপক আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে এটি অনুষ্ঠিত হবে। রেজিস্ট্রার অফিস সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, এটি পূর্ব সিদ্ধান্ত নয়, হঠাৎ করেই জরুরি ভিত্তিতে সাংবাদিকদের ডাকা হয়েছে; যেখানে উপাচার্য নিজেই কথা বলবেন।এদিকে সংবাদ সম্মেলন শুরুর আগে বিশ্ববিদ্যালয় মহলে উপাচার্যের পদত্যাগের গুঞ্জন উঠেছে। এর আগেও উপাচার্যের বিদেশ সফরকে ঘিরে এই গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। স্বভাবতই চলমান উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে ক্যাম্পাস তথা শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট মহলে কৌতূহল বাড়ছে।যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, পদত্যাগের গুঞ্জন নিছকই ‘গুজব’। তবে নির্বাচনের দুদিন আগে ঘোষিত এই সংবাদ সম্মেলনে ড. নিয়াজ তার উপাচার্য থাকা কিংবা না থাকার বিষয়টি পরবর্তী সরকারের ওপর ছেড়ে দেবেন। সে হিসেবে ‘সরকার যদি তাকে চান তবে থাকবেন; না চাইলে থাকবেন না’- এমন বক্তব্যও আসতে পারে জুলাই পরবর্তী এই উপাচার্যের পক্ষ থেকে। তবে ঠিক উদ্দেশ্যে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন; সেটি তিনি নিজেই জানেন।এইচএ
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’: বাকৃবিতে বিভক্ত মত, তর্ক-বিতর্কে মুখর ক্যাম্পাস
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই দেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে গণভোট। ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি ভোটাররা ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের মাধ্যমে প্রস্তাবিত রাষ্ট্র সংস্কার–সংক্রান্ত চারটি প্রশ্নে মত দেবেন। এই গণভোটকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) ক্যাম্পাসেও চলছে আলোচনা, বিতর্ক ও মতবিনিময়। শিক্ষার্থীদের একাংশ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটকে সময়ের দাবি বলছেন, অন্যদিকে কেউ কেউ পুরো প্রক্রিয়াটিকেই প্রশ্নবিদ্ধ ও অগণতান্ত্রিক বলে মনে করছেন।নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, চব্বিশের গণ-আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে এই গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে ৪৭টি সাংবিধানিক সংশোধনের মাধ্যমে এবং বাকি ৩৭টি সাধারণ আইন বা নির্বাহী আদেশে বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। গণভোটে চারটি প্রশ্নের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিত করা, স্বাধীন ও শক্তিশালী বিচারব্যবস্থা নিশ্চিত করা, সংসদের উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠা এবং বিরোধী দল থেকে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক কমিটির নেতৃত্ব নির্বাচনের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে জনগণের মতামত নেওয়া হবে।বাকৃবির একাংশ শিক্ষার্থীর মতে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জনগণের মালিকানা ও ক্ষমতার ভারসাম্য পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ। কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থী মো. বেলাল হোসেন বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে জনগণ নির্যাতন ও ভয়ভীতির মধ্যে দিন কাটিয়েছে। ২০২৪ সালের গণ-আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সেই দুঃসময় ভাঙলেও প্রকৃত মুক্তি তখনই আসবে, যখন জনগণের অধিকার সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত হবে। তার মতে, ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে সরকারি ক্ষমতা সীমিত হবে, বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে এবং মৌলিক অধিকার আরও সুরক্ষিত হবে।একই অনুষদের শিক্ষার্থী মো. রেজাউল করিম মনে করেন, ‘হ্যাঁ’ ভোট মানে পারিবারিক রাজনীতি ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক ক্ষমতার অবসানের পথে এগিয়ে যাওয়া। তার ভাষ্য, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার সম্ভাবনা তৈরি হবে। তিনি বলেন, ক্ষমতার উৎস জনগণ—এই ধারণাকে শক্তিশালী করতেই তিনি ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবেন।তবে শিক্ষার্থীদের সবাই যে গণভোটের পক্ষে, তা নয়। এগ্রোমেটিওরোলজি বিভাগের শিক্ষার্থী মাহবুবা নাবিলা পুরো প্রক্রিয়াটিকে অগণতান্ত্রিক বলে মনে করছেন। তার অভিযোগ, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো ভিন্নমত দিয়েছিল, সেগুলো উপেক্ষা করেই জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, চারটি প্রশ্নকে একটি প্যাকেজে বেঁধে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যা নাগরিকের মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে সীমিত করে। কারও একটি প্রশ্নে আপত্তি থাকলেও তা আলাদা করে জানানোর সুযোগ নেই—এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থী বলে মনে করেন তিনি।অন্যদিকে কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থী রেদোয়ান আহমেদ গণভোটকে ‘বৈপ্লবিক উদ্যোগ’ হিসেবে দেখছেন। তার মতে, ‘হ্যাঁ’ ভোটের জয় মানে ক্ষমতার একচেটিয়া দখল ভেঙে সাধারণ মানুষের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া। এতে রাষ্ট্র আরও দায়বদ্ধ হবে, বিচারব্যবস্থায় জবাবদিহি বাড়বে এবং সহিংস রাজনীতির অবসান ঘটবে—এমন প্রত্যাশা তার।একই অনুষদের শিক্ষার্থী মো. সালমান বলেন, চব্বিশের গণ-আন্দোলন হয়েছিল স্বৈরাচার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে। সেই অর্জন টেকসই করতে হলে স্বৈরাচারের পুনরাবৃত্তি ঠেকানোর সাংবিধানিক নিশ্চয়তা প্রয়োজন। তার মতে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে কেউ দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না এবং নাগরিকের মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত হবে।সব মিলিয়ে গণভোটকে ঘিরে বাকৃবি ক্যাম্পাসে স্পষ্টভাবে দুই ধরনের মত দেখা যাচ্ছে। কেউ একে রাষ্ট্র সংস্কারের ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ প্রক্রিয়াগত সীমাবদ্ধতার কারণে এটিকে অগণতান্ত্রিক বলেও আখ্যা দিচ্ছেন। সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটের ফলাফল শেষ পর্যন্ত কোন পথে দেশকে এগিয়ে নেবে—সেই অপেক্ষাতেই এখন শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ।ইখা
ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষিদ্ধ হাসিনার নির্বাচনের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে: হামিম
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের আশপাশে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ সিদ্ধান্ত হাসিনার নির্বাচনের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ছাত্রদল নেতা শেখ তানভীর বারী হামিম। তিনি ইসির এমন সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেন।সোমবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এমন মন্তব্য করেন তিনি।পোস্টে হামিম লিখেন, ‘ভোটকেন্দ্র সীমানার ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ সিদ্ধান্তটি সেই মিউজিয়ামে থাকা হাসিনার নির্বাচনের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।’তিনি বলেন, ‘ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোনের অনুমতি দিলে যারা নকল সিল বানিয়েছে ইতোমধ্যে ধরা পড়েছে, সেই দলটির এ ধরনের কাজ সম্পাদন সহজে হবে না। যারা বিভিন্ন অনিয়ম করতে চায়, ওঁৎ পেতে আছে, তাদের কাজ কঠিন হবে বলেই কি এ ধরনের নিয়ম জারি? এ নির্বাচন নিয়ে বিন্দুমাত্র টালবাহানা, কোন প্রকার প্রতারণা বা কালিমা লেপন আমরা ঐক্যবদ্ধ বংলাদেশীরা কিন্তু মেনে নেব না।’ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) একটি বিজ্ঞপ্তি ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটাররা।এমআর-২
ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করা নব্য ফ্যাসিজম: সাদিক কায়েম
ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কঠোর সমালোচনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম।সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে সাদিক কায়েম বলেন, ‘ভোটকেন্দ্রে বিএনসিসি প্রত্যাহারের পর এবার মোবাইল নিষিদ্ধের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়িত হলো। কার ইশারায়, কার প্রভাবে নির্বাচন কমিশন এই সিদ্ধান্ত নিলো?’পোস্টে সাদিক কায়েম লিখেন, ‘ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধের অর্থ হলো সবাইকে নিজের মোবাইল ঘরে রেখে যেতে হবে। এমনকি কোনো মোজো সাংবাদিক বা সিটিজেন জার্নালিজমও অ্যালাউড না। অর্থাৎ, ভোটকেন্দ্র এলাকায় যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে তার কোনো তথ্য, ফুটেজ স্বয়ং ভুক্তভোগীর কাছেও থাকবে না। নির্বাচন কমিশনের ওপর ভর করে এই নব্য ফ্যাসিজম জাতির ওপর কারা চাপিয়ে দিলো?’ডাকসু ভিপি বলেন, ‘কারা দেশের তরুণদের ভয় পায়? কারা নাগরিকদের তথ্য পাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখতে চায়? দেশের সর্বস্তরের তরুণ যুবকদের প্রতি আহ্বান-আসুন, আওয়াজ তুলুন। আপনাদের হাতেই জুলাই হয়েছে, আপনাদের হাতেই নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের দায়িত্ব।’তিনি আরও লিখেন, ‘দেশের নাগরিকের তথ্য পাওয়ার অধিকার কেড়ে নেওয়ার জন্য কিংবা কোনো গোষ্ঠীর পারপাস সার্ভ করার জন্য ইলেকশন কমিশন গঠিত হয়নাই, ইলেকশন কমিশন গঠিত হয়েছে একটি ফ্রি, ফেয়ার এবং নিরাপদ নির্বাচনি পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, অনতিবিলম্বে নির্বাচন কমিশনকে এই সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে।’ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নতুন আইন জারি করেছে ইলেকশন কমিশন (ইসি)। প্রিসাইডিং অফিসারসহ তিন ধরনের ব্যক্তি ছাড়া কেউ ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিয়ে যেতে পারবে না। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) এই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে নির্দেশনা পাঠিয়েছেন ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম।নির্দেশনায় বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ভোটকেন্দ্রের ৪০০ (চারশত) গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং অফিসার; ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ ইনচার্জ এবং ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত অঙ্গীভূত আনসার/সাধারণ আনসার/ভিডিপির ‘নির্বাচন সুরক্ষা ২০২৬’ অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারকারী দুইজন আনসার সদস্য ব্যতীত কেউ মোবাইল নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না।অধিকাংশ সাংবাদিক ফটো ও রেকর্ডিং কাজে ফোন ব্যবহার করে থাকেন ভোটগ্রহণের দিন। ফলে এসব সাংবাদিকেরা বিপাকে পড়বেন। ফোন ব্যবহারে এমন নির্দেশনা প্রথম জারি করল ইসি।এমআর-২
তথ্য-প্রযুক্তি
সব দেখুন
ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের নিবন্ধন বাতিল করবেন যেভাবে
নিজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সিমকার্ড পরিবর্তন করতে হলে কিংবা অন্য কাউকে ব্যবহার করতে দিতে হলে অথবা বিক্রির আগে অবশ্যই মোবাইল ডি-রেজিস্ট্রেশন করতে হবে বলে নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি)।মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) বিটিআরসির স্পেকট্রাম বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ‘ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনআইআর)’ সিস্টেমটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হয়েছে। এর আওতায় নেটওয়ার্কে সচল সব মোবাইল ফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হয়েছে।ফলে এখন থেকে নিজের নামে নিবন্ধিত মোবাইল ফোনের সিমকার্ড পরিবর্তন, অন্য কাউকে ব্যবহার করতে দেওয়া কিংবা বিক্রির আগে অবশ্যই ডি-রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। অর্থাৎ জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) সঙ্গে যুক্ত হ্যান্ডসেটের নিবন্ধন বাতিল বা অবমুক্ত করতে হবে।এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সিম কেনার সময় ব্যবহৃত এনআইডি বা পাসপোর্ট নম্বরের শেষ চারটি সংখ্যা প্রয়োজন হবে। নিবন্ধিত ফোন বিক্রি বা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া এখন থেকে অনুসরণ করতে হবে। নিবন্ধিত মুঠোফোন ‘ডি-রেজিস্ট্রেশন’ করার উপায়সিটিজেন পোর্টাল (neir.btrc.gov.bd)এনইআইআর পোর্টালে লগ ইন করে ড্যাশবোর্ডে যেতে হবে। তালিকা থেকে ডিভাইস নির্বাচন করতে হবে। ‘ডি-রেজিস্টার’ এ ক্লিক করুন এবং প্রয়োজনীয় বিবরণ দিয়ে ডি-রেজিস্টার প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে হবে।ইউএসএসডি চ্যানেল (*১৬১৬১#)মোবাইলের কল অপশনে যেয়ে ডায়াল করুন *১৬১৬১#। এরপর ডি রেজিষ্ট্রেশন অপশনে ক্লিক করে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করুন।তবে ডি-রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে গ্রাহক তার ফোনে যে সিমটি ব্যবহার করছেন তা অবশ্যই নিজের এনআইডি দিয়ে নিবন্ধিত হতে হবে। ক্লোন বা ডুপ্লিকেট আইএমইআই নম্বর যুক্ত হ্যান্ডসেট ডি-রেজিস্ট্রেশন করার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত তথ্য হিসেবে পরবর্তী ব্যবহারকারীর সিম নম্বর দিতে হবে।ডি-রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানতে বিটিআরসি’র ওয়েবসাইট neir.btrc.gov.bd ভিজিট করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিটিআরসি’র কল সেন্টার (১০০) অথবা সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটরের নিকটস্থ কাস্টমার কেয়ার সেন্টার থেকেও সহায়তা নেওয়া যাবে।এমআর-২
আইফোন বিক্রিতে নতুন রেকর্ড অ্যাপলের
আইফোন বিক্রিতে নতুন ইতিহাস গড়েছে অ্যাপল। সর্বশেষ প্রান্তিকে আইফোন থেকে আয় হয়েছে ৮৫ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি। এটাই আইফোনের ইতিহাসে এক প্রান্তিকে সর্বোচ্চ আয়।২০২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের আয় প্রতিবেদন প্রকাশ করে এ তথ্য জানায় অ্যাপল। সব মিলিয়ে এ সময়ে কোম্পানির মোট আয় দাঁড়িয়েছে ১৪৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ১৬ শতাংশ বেশি।অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী টিম কুক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বলেন, আইফোনের চাহিদা ছিল “অবিশ্বাস্যরকম বেশি”। তার ভাষায়, “এটাই আমাদের সবচেয়ে শক্তিশালী আইফোন লাইনআপ।” তিনি আরও বলেন, জনপ্রিয়তার দিক থেকেও এটি আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে।তবে সাফল্যের পেছনে বড় বাধাও ছিল। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নতুন সিরি সংস্করণ চালু হতে দেরি হয়েছে। তারপরও বিক্রি কমেনি।আইফোন ১৭ সিরিজ এতে বড় ভূমিকা রেখেছে। বেস মডেলেই দেওয়া হয়েছে আগে শুধু ‘প্রো’ সংস্করণে থাকা কিছু ফিচার। যেমন- অলওয়েজ-অন ডিসপ্লে। এ ছাড়া রয়েছে বেশি রিফ্রেশ রেটের স্ক্রিন।‘আইফোন এয়ার’ মডেলের বিক্রি প্রত্যাশার চেয়ে কম হয়েছে- এমন গুঞ্জনও ছিল। তবে সেটির প্রভাব মোট বিক্রিতে তেমন পড়েনি বলে ইঙ্গিত মিলেছে।তবে বাড়তি চাহিদার কারণে সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। টিম কুক জানান, আইফোন ১৭–এর উচ্চ চাহিদার কারণে সরবরাহ কিছুটা সীমিত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে চিপ তৈরিতে ব্যবহৃত উন্নত প্রযুক্তির সরবরাহে চাপ রয়েছে।অন্যদিকে অ্যাপলের সেবাভিত্তিক আয়ও বেড়েছে। অ্যাপল মিউজিক, আইক্লাউড, অ্যাপল টিভি প্লাসসহ বিভিন্ন সাবস্ক্রিপশন সেবা থেকে আয় বেড়েছে ১৪ শতাংশ। তবে ম্যাক কম্পিউটার ও ওয়্যারেবল পণ্যের আয় কিছুটা কমেছে।এখন অ্যাপলের বড় লক্ষ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। আগামী মাসগুলোতে সিরিতে আনা হবে নতুন এআই সুবিধা। এ কাজে গুগলের সঙ্গে অংশীদারিত্ব করছে অ্যাপল। গুগলের জেমিনি এআই মডেলের বিশেষ সংস্করণ ব্যবহার করা হবে সিরির উন্নত সংস্করণে।এ ছাড়া একটি এআই স্টার্টআপও কিনছে অ্যাপল। প্রতিষ্ঠানটির নাম কিউ.এআই। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারে এ অধিগ্রহণ হতে যাচ্ছে।এই স্টার্টআপের প্রযুক্তি ভবিষ্যতের ডিভাইসে ব্যবহার হতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের পেটেন্টে এমন প্রযুক্তির ইঙ্গিত আছে যা হেডফোন বা চশমায় ব্যবহার করা যাবে। মুখের ত্বকের সূক্ষ্ম নড়াচড়ার মাধ্যমে নির্দেশ দেওয়া সম্ভব হবে—এমন ধারণাও আছে।শুধু তা-ই নয়, ভবিষ্যতে সিরিকে পুরোপুরি এআই চ্যাটবটে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। আইফোন ও ম্যাক ডিভাইসের ভেতরেই থাকবে এই স্মার্ট সহকারী। শোনা যাচ্ছে, সিরির জন্য আলাদা এআইভিত্তিক ওয়েব সার্চ টুলও তৈরি করছে অ্যাপল।এইচএ
কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহারে ফ্রি প্রশিক্ষণ দিচ্ছে যুক্তরাজ্য
কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারে দক্ষ করতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। চালু করা হয়েছে একাধিক অনলাইন প্রশিক্ষণ কোর্স। এর মধ্যে অনেক কোর্সে বিনামূল্যে অংশ নেওয়া যাচ্ছে। প্রযুক্তি খাতের বড় প্রতিষ্ঠানগুলো কোর্স তৈরিতে যুক্ত রয়েছে। অ্যামাজন, গুগল ও মাইক্রোসফট এ উদ্যোগে সহায়তা করেছে। মোট ১৪টি কোর্স শেষ করলে পাওয়া যাবে ভার্চুয়াল ব্যাজ।কোর্সগুলোতে শেখানো হবে এআই টুল ব্যবহারের মৌলিক কৌশল। যেমন- চ্যাটবটকে কীভাবে কার্যকরভাবে প্রশ্ন করতে হয়? প্রশাসনিক কাজের সহকারী হিসেবে এআই ব্যবহার, দ্রুত নোট লেখা, ইমেইল খসড়া তৈরি ও তথ্য গোছানো।সরকারের লক্ষ্য বড় হচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে এক কোটি কর্মীকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা। এ উদ্যোগকে ১৯৭১ সালে ওপেন ইউনিভার্সিটি চালুর পর সবচেয়ে বড় দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি বলা হচ্ছে।যুক্তরাজ্যের প্রযুক্তিমন্ত্রী লিজ কেন্ডাল বলেছেন, তাদের লক্ষ্য মানুষ যেন কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহারে আত্মবিশ্বাসী হয়। পরিবর্তন থামানো যাবে না। তবে পরিবর্তনের ফল কী হবে, তা নীতিনির্ধারণেই ঠিক হয়। ঝুঁকি থেকে মানুষকে সুরক্ষা দিয়ে এআইয়ের সুফল সবার কাছে পৌঁছে দিতে চায় সরকার।তবে সমালোচনাও আছে। ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক পলিসি রিসার্চ (আইপিপিআর) বলছে, শুধু চ্যাটবট ব্যবহার শেখালেই হবে না। কর্মীদের দরকার বিশ্লেষণী চিন্তা। সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ও নেতৃত্বগুণ। থাকতে হবে এআই নিরাপদভাবে ব্যবহারের আত্মবিশ্বাস।সংস্থাটির গবেষক রোয়া পাওয়েল বলেন, এআই যুগের দক্ষতা ছোট টেকনিক্যাল কোর্সে সীমাবদ্ধ নয়। মানুষকে বিস্তৃত দক্ষতায় প্রস্তুত করতে হবে।ব্রিটিশ কম্পিউটার সোসাইটি (বিসিএস)–ও উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে তারা বলছে, দায়িত্ব শুধু কর্মীদের নয়। প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ পর্যায়েও প্রযুক্তি বোঝার সক্ষমতা বাড়াতে হবে। বোর্ড পর্যায়ের সিদ্ধান্ত নির্ধারকদেরও এআই সম্পর্কে জ্ঞান থাকা জরুরি।কোর্সগুলোর সময়সীমা ভিন্ন। কিছু কোর্স ২০ মিনিটের। কিছু আবার কয়েক ঘণ্টার। যুক্তরাজ্যের যে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক এতে অংশ নিতে পারবেন।এ উদ্যোগে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে বেশ কয়েকটি বড় সংস্থা। এর মধ্যে আছে এনএইচএস, ব্রিটিশ চেম্বার্স অব কমার্স এবং লোকাল গভর্নমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন। তারা তাদের কর্মী ও সদস্যদের অংশ নিতে উৎসাহ দেবে।এইচএ
হ্যাকার থেকে রক্ষা পেতে স্ক্যাম অ্যান্ড্রয়েডের ৪টি নতুন স্মার্ট ফিচার
ব্যবহারকারীদের আরও নিরাপদ ও সংযুক্ত রাখতে অ্যান্ড্রয়েডে যুক্ত হলো একগুচ্ছ নতুন ফিচার। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তায় তৈরি এসব সুবিধা প্রতিদিনের যোগাযোগকে করবে আরও সহজ, নিরাপদ ও স্মার্ট। সন্দেহজনক মেসেজ শনাক্ত করা থেকে শুরু করে বন্ধু–পরিবারের লাইভ লোকেশন দেখা কিংবা গাড়ি পার্ক করা অবস্থায় গেম খেলা সবই এখন আরও সহজ অ্যান্ড্রয়েডে। জেনে জেনে নেয়া যাক অ্যান্ড্রয়েডের নতুন ৪টি ফিচার সম্পর্কে। সন্দেহজনক মেসেজে সঙ্গে সঙ্গে সতর্কবার্তা: প্রতারণা থেকে ব্যবহারকারীদের রক্ষা করতে গুগল মেসেজেসে যুক্ত হয়েছে এআই-চালিত স্ক্যাম ডিটেকশন। এই ফিচার সন্দেহজনক কথোপকথনের ধরণ শনাক্ত করে আগেই সতর্ক করে দেবে। অনেক সময় নিরীহ মেসেজ থেকেই ধীরে ধীরে প্রতারণা শুরু হয় এই ফিচার সেই ঝুঁকি চিহ্নিত করে রিয়েল-টাইম সতর্কবার্তা দেবে। প্রয়োজনে এক ক্লিকেই মেসেজ ব্লক ও রিপোর্ট করা যাবে। ভালো খবর হলো, এই প্রক্রিয়া পুরোপুরি ডিভাইসের মধ্যেই সম্পন্ন হয় আপনার ব্যক্তিগত কথোপকথন থাকবে সম্পূর্ণ নিরাপদ।লাইভ লোকেশন শেয়ার করে থাকুন নিশ্চিন্ত: এবার ফাইন্ড মাই ডিভাইস অ্যাপেই বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে লাইভ লোকেশন শেয়ার করা যাবে। কারও সঙ্গে দেখা করার সময় বা প্রিয়জন নিরাপদে বাসায় পৌঁছেছেন কি না সেটা নিশ্চিত করতে এই ফিচার বেশ কাজে আসবে। ম্যাপে সরাসরি দেখা যাবে আপনার পরিচিতদের অবস্থান। কাকে, কত সময়ের জন্য লোকেশন দেখাবেন সবকিছুই থাকবে আপনার নিয়ন্ত্রণে, সঙ্গে থাকবে নিয়মিত রিমাইন্ডার।গাড়ি পার্ক করা অবস্থায় গেমিংয়ের মজা: অ্যান্ড্রয়েড অটোতে যুক্ত হয়েছে নতুন গেমিং সুবিধা। গাড়ি পার্ক করা থাকলে এখন গাড়ির স্ক্রিনেই খেলা যাবে জনপ্রিয় গেমগুলো। অপেক্ষার সময়টুকু আর বিরক্তিকর নয় গেম খেলেই কাটানো যাবে সময়।কেনাকাটায় স্মার্ট সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে ক্রোম: অ্যান্ড্রয়েডে ক্রোম ব্রাউজারে যুক্ত হয়েছে নতুন শপিং ইনসাইট। এখন পণ্যের দামের ইতিহাস, মূল্য কমার নোটিফিকেশন কিংবা বিভিন্ন ওয়েবসাইটের দাম তুলনা করা যাবে সহজেই। ঠিক সময়ে কেনাকাটা করতে চাইলে ক্রোমের অ্যাড্রেস বারে থাকা “প্রাইস ইস লো” নোটিফিকেশনই হয়ে উঠবে আপনার গাইড।সব মিলিয়ে, অ্যান্ড্রয়েডের এই নতুন ফিচারগুলো শুধু প্রযুক্তিগত আপডেট নয় বরং ব্যবহারকারীদের দৈনন্দিন জীবনকে আরও নিরাপদ, সংযুক্ত ও স্বস্তিদায়ক করে তুলতেই এই উদ্যোগ। প্রযুক্তির সঙ্গে নিরাপত্তা ও সুবিধার ভারসাম্য রাখতেই অ্যান্ড্রয়েডের এই নতুন পদক্ষেপ।এইচএ
হোয়াটসঅ্যাপ-ফেসবুক -ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারে গুনতে হবে টাকা
সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় এক আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে টেক জায়ান্ট মেটা। জনপ্রিয় তিন প্ল্যাটফর্ম— হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকের জন্য বিশেষ প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন চালুর পরিকল্পনা করছে মার্ক জাকারবার্গের এই সংস্থা। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই নতুন সেবাটি বর্তমান ‘মেটা ভেরিফাইড’ বা ব্লু টিক সাবস্ক্রিপশন থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হবে। মূলত যারা সাধারণ ব্যবহারকারীদের তুলনায় একটু বেশি আধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করতে চান, তাদের কথা মাথায় রেখেই এই বিশেষ পেইড প্ল্যান নিয়ে আসছে মেটা।দীর্ঘ সময় ধরে এই তিনটি অ্যাপই বিশ্বজুড়ে বিনামূল্যে ব্যবহার করা গেলেও এখন আয়ের নতুন উৎস খুঁজছে সংস্থাটি। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিতে বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পর সেই ব্যয় সামলাতে এই প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিবেদনগুলো বলছে, এই প্রিমিয়াম সেবার মূল আকর্ষণ হবে মেটার উন্নত ‘মানুস এআই এজেন্ট’। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা স্মার্ট রিপ্লাই, দ্রুত কন্টেন্ট তৈরির সুবিধা এবং স্বয়ংক্রিয় নানা কাজ সহজেই সেরে নিতে পারবেন। এছাড়া ইনস্টাগ্রামের জন্য ‘ভাইবস’ নামক একটি নতুন এআই টুল যুক্ত হতে পারে, যার মাধ্যমে আকর্ষণীয় ছোট এআই ভিডিও তৈরি করা সম্ভব হবে। ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীদের দীর্ঘদিনের কিছু ব্যক্তিগত চাহিদাও এই প্রিমিয়াম মডেলে জায়গা পেতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। যেমন—কে আপনাকে ফলো করছে না তা দেখার বিশেষ সুবিধা কিংবা অন্য পক্ষকে না জানিয়েই গোপনে তাদের ‘স্টোরি’ দেখার অপশন। হোয়াটসঅ্যাপের ক্ষেত্রেও প্রিমিয়াম গ্রাহকদের জন্য বাড়তি কাস্টমাইজেশন এবং এআই-চালিত চ্যাট ফিচার যুক্ত হতে পারে। তবে মেটা কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, এই নতুন সুবিধাগুলো নেওয়া পুরোপুরি ব্যবহারকারীর ইচ্ছার ওপর নির্ভর করবে। যারা অর্থ খরচ করতে চান না, তারা আগের মতোই বর্তমানের ফ্রি ভার্সনটি ব্যবহার চালিয়ে যেতে পারবেন।নতুন এই পদক্ষেপের ফলে গোপনীয়তা নিয়ে ব্যবহারকারীদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে হোয়াটসঅ্যাপে বিজ্ঞাপনের আনাগোনা বাড়ার পর অনেকেই আশঙ্কা করছেন যে তাদের ব্যক্তিগত তথ্য ভবিষ্যতে এআই প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহার করা হবে কি না। যদিও মেটার দাবি, ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত সুরক্ষার নীতিতে কোনো পরিবর্তন আনা হবে না। মূলত উন্নত এআই অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতেই এই প্রিমিয়াম মডেলের আবির্ভাব ঘটছে। এখন দেখার বিষয়, সোশ্যাল মিডিয়ার এই নতুন ব্যবসায়িক মডেলে সাধারণ ব্যবহারকারীরা কতটা সাড়া দেন এবং মেটার এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয়।এইচএ
শিশুদের মানসিক ক্ষতির অভিযোগে ফেসবুক, টিকটক ও ইউটিউবের বিরুদ্ধে মামলা
যুক্তরাষ্ট্রে নজিরবিহীন মামলার মুখে পড়েছে বিশ্বের ৩ জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্লাটফর্ম ফেসবুক, গুগল ও টিকটক। কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতি আসক্তি তৈরি এবং এর ফলে মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করার অভিযোগে আদালতের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে জনপ্রিয় এই ৩ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে। এএফপির প্রতিবেদন মতে, স্থানীয় সময় সোমবার (২৬ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলসে ফেসবুক, টিকটক ও ইউটিউবের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা, অ্যালফাবেট ও বাইটড্যান্সের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) থেকে আদালত এই মামলার জুরি নির্বাচন শুরু করবে। এই মামলাকে মার্কিন বিচার ব্যবস্থার ইতিহাসের একটি ‘মাইলফলক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন বিশ্লেষকরা।এই মামলার রায় ৩ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিরুদ্ধে গেলে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে এ ধরনের আরও হাজারো মামলার ঢেউ উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে। আদালতে মেটার সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গকে সাক্ষ্য দিতে ডাকা হতে পারে বলে জানা গেছে। কম বয়সি শিশু, তরুণ ও তরুণীরা ওই তিন প্রতিষ্ঠানের সেবা ও পণ্য ব্যবহার করে অবসাদ, খাবারে অনাসক্তি, মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি, এমনকি, আত্মহত্যাও করেছেন—এমন দাবি করেছেন বাদী পক্ষের হাজারো মানুষ। বাদী-পক্ষের আইনজীবীরা ১৯৯০ ও ২০০০ এর দশকে তামাক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা আইনি কৌশল বেছে নিচ্ছেন। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে বিশ্বখ্যাত সিগারেট উৎপাদন ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ‘ত্রুটিপূর্ণ’ পণ্য বিক্রির অভিযোগ আনা হয়েছিল। বিচারক নিয়োগের পর আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে বিচারপতি ক্যারোলিন কুল-এর আদালতে মামলার কার্যক্রম শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই মামলা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন ১৯ বছর বয়সি এক মার্কিন নারী। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার খাতিরে শুধু নামের আদ্যাক্ষর ‘কে জি এম’ ব্যবহার করে তার পরিচয় দেয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তির কারণে তিনি ‘মানসিক ক্ষতির’ শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ। যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের মামলা ও আদালতের অভিযোগ গ্রহণের নজির নেই। সোশাল মিডিয়া ভিক্টিমস ল সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা ম্যাথু বার্গম্যান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এবারই প্রথম কোনো সমাজমাধ্যম প্রতিষ্ঠানকে শিশুদের ক্ষতি করার অভিযোগে বিচারকদের সামনে দাঁড়াতে হচ্ছে।’ বার্গম্যানের আইনজীবীরা এ ধরনের প্রায় এক হাজার মামলার দায়িত্বে আছেন। আইনজীবীদের এই প্রতিষ্ঠানটি অনলাইনে তরুণ-তরুণীদের ক্ষতি করার জন্য সমাজমাধ্যম প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহির আওতায় আনার অঙ্গীকার করেছে। বার্গম্যান বলেন, ‘কে জি এম ও তার পরিবার যে একটি আদালতকক্ষে বিশ্বের সবচেয়ে বড়, ক্ষমতাবান ও বিত্তবান প্রতিষ্ঠানগুলোর মুখোমুখি দাঁড়াতে পেরেছেন, এটাই একটি উল্লেখযোগ্য ও গুরুত্বপূর্ণ বিজয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এটা বুঝতে পারছি যে এ ধরনের মামলাগুলো জেতা অনেক কঠিন এবং আগের, একই ধরনের ঘটনার নজির ও তথ্য-প্রমাণ টেনে বিজয়ী হওয়ার দায়ভার আমাদের ওপর বর্তেছে। আমাদেরকে প্রমাণ করতে হবে, এসব প্রতিষ্ঠান এমনভাবে তাদের প্ল্যাটফর্ম ডিজাইন করেছে যা কেজিএম-এর (মানসিক) ক্ষতি নিশ্চিত করে। এই দায়িত্ব আমরা খুশি মনেই কাঁধে নিয়েছি।’ এই বিচারের রায় ভবিষ্যতে একই ধরনের সব মামলার রায়কে সরাসরি প্রভাবিত করবে বলে মত দেন বার্গম্যান। গত সপ্তাহে অপর সমাজমাধ্যম স্ন্যাপচ্যাট আদালতের বাইরে চুক্তি করে এই মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছে। ওই চুক্তির বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্লাটফর্মগুলোর দাবি, মার্কিন যোগাযোগ নৈতিকতা আইনের ২৩০ ধারা তাদেরকে সুরক্ষা দিচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহারকারীরা কী পোস্ট করছেন, তা নিয়ে কোনো ধরনের দায়বদ্ধতা থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোকে রেহাই দেয় এই ধারা। তবে মামলায় বিবাদীদের যুক্তি—সমাজমাধ্যম প্রতিষ্ঠান এমনভাবে তাদের প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে, যা মানুষের মনোযোগ ধরে রাখে। পাশাপাশি সেখানে এমন সব কনটেন্টের প্রচারণা করা হয়, যা ব্যবহারকারীদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটায়। বার্গম্যান আরও বলেন, ‘আমরা সমাজমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম থেকে ক্ষতিকারক কন্টেন্ট সরিয়ে নিতে না পারার জন্য মূল প্রতিষ্ঠানগুলোকে দায়ী করছি না।’ তার ভাষায়, ‘তাদের দোষ, তারা এমনভাবে প্ল্যাটফর্মগুলো বানিয়েছে যা শিশুদের আসক্ত করে তোলে। তাদের এলগরিদম এমন যে শিশুরা কনটেন্ট থেকে চোখ সরাতে পারে না।’ ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নর্দার্ন ক্যালিফোর্নিয়া ও অন্যান্য অঙ্গরাজ্যের ফেডারেল আদালতেও একই ধরনের অভিযোগে অসংখ্য মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলার বিষয়ে উল্লেখিত তিন প্রতিষ্ঠান গণমাধ্যমের কাছে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। এইচএ
আইন-আদালত
সব দেখুন
কাইয়ুমের বিরুদ্ধে নাহিদের আবেদনের শুনানি নির্বাচনের পর: আপিল বিভাগ
দ্বৈত নাগরিকত্ব এবং তথ্য গোপনের অভিযোগ এনে ঢাকা-১১ আসনের বিএনপি প্রার্থী ড. এমএ কাইয়ুমের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে একই আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের আপিলের শুনানি নির্বাচনের পর। আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন। ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে বিএনপির দুই প্রার্থীর বৈধতা নিয়ে আপিল বিভাগে করা লিভ টু আপিল শুনানি হবে নির্বাচনের পর। আজ মঙ্গলবার আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য থাকলেও নট টুডে আদেশ দেওয়া হয়।বিএনপির দুই প্রার্থী হলেন— ঢাকা-১১ আসনের এম এ কাইয়ুম ও বগুড়া-১ আসনের কাজী রফিকুল ইসলাম। এছাড়া কুমিল্লা-৩ আসনের কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের বিরুদ্ধে করা লিভ টু আপিল খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। এর আগে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রিটটি করেন একই আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। রিটে কাইয়ুমের প্রার্থিতা স্থগিত চাওয়া হয়। রিট খারিজ হওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় নাহিদ ইসলামের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মূসা জানান, আপিল বিভাগে যাবেন নাহিদ ইসলাম। এদিকে এমএ কাইয়ুমের বিরুদ্ধে রিপাবলিক অব ভানুয়াতুর নাগরিকত্ব গ্রহণ ও সেখানে সম্পত্তি থাকার অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার বলে দাবি করেন তিনি। গত ১৯ জানুয়ারি এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে গুঞ্জন ছড়ানো হয়েছে যে আমি ভানুয়াতু নামের একটি দেশের নাগরিক এবং সেখানে আমার বাড়ি বা বিনিয়োগ রয়েছে। এসব তথ্য মিথ্যাচারে পরিপূর্ণ। ভানুয়াতুতে আমি কখনো পা ফেলিনি এবং অন্য কোনো দেশের দ্বৈত নাগরিক হওয়ার কোনো আকাঙ্ক্ষাও আমার কখনো ছিল না। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।এইচএ
প্রবাস
সব দেখুন
দূর মরিশাস থেকেও নাড়ির টান: সাত মাদ্রাসার এতিমদের দায়িত্বে প্রবাসী আকাশ
হাজার মাইল দূরের মরিশাসের ব্যস্ত কর্মজীবনও তাকে শেকড় থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারেনি। বিদেশের মাটিতে কঠোর পরিশ্রমের ফাঁকে ফাঁকে তার মন পড়ে থাকে দেশের সুবিধাবঞ্চিত এতিম শিশুদের কথা ভেবে। সেই নাড়ির টান থেকেই ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা ও গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার সাতটি মাদ্রাসার এতিমদের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন প্রবাসী যুবক আকাশ মিয়া।নিজের উপার্জনের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ তিনি নিয়মিত ব্যয় করছেন এসব এতিমখানার জন্য। প্রতিমাসে চাল ও প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী দেওয়ার পাশাপাশি তীব্র শীত থেকে শিশুদের রক্ষায় এবার পাঠিয়েছেন বিশেষ উপহার—নতুন কম্বল।সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে দুই উপজেলার সাতটি মাদ্রাসার এতিমখানায় প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীর হাতে নতুন কম্বল পৌঁছে দেওয়া হয়। কনকনে শীতের সকালে উষ্ণ কম্বল পেয়ে শিশুদের মুখে ফুটে ওঠে স্বস্তি আর আনন্দের হাসি।আকাশ মিয়া ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার সদর ইউনিয়নের জাটিগ্রাম এলাকার জাকির মিয়ার ছেলে। তিনি বর্তমানে মরিশাসের ঈশান কামিনী কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালক হিসেবে কর্মরত। প্রবাসে থেকেও দীর্ঘদিন ধরে তিনি মাদ্রাসাগুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও অন্যান্য সহায়তা দিয়ে আসছেন।আলফাডাঙ্গা উপজেলা সদরের তাহফিজুল কুরআন ক্যাডেট মাদ্রাসার মুহতামিম হাফেজ ইমামুদ্দিন ও জাটিগ্রাম শাহ আরজানিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম হাফেজ মারুফ বিল্লাহ বলেন, “আকাশ মিয়া নিয়মিত আমাদের মাদ্রাসায় চালসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা পাঠান। ফলে এতিম শিশুদের খাদ্যসংকটের চিন্তা করতে হয় না। এবার শীতের সময় কম্বল পাঠিয়ে তিনি বাচ্চাদের প্রতি তার মমতার প্রমাণ দিয়েছেন।”কাশিয়ানীর পোনা মারকাযুল উলুম মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক আব্দুল করিম ও খায়েরহাট ছায়াদাতিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা নুরুজ্জামানও একই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “এতিম শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে আকাশ মিয়া যেভাবে পাশে দাঁড়াচ্ছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। সমাজের সামর্থ্যবানরা এভাবে এগিয়ে এলে এতিমদের জীবন অনেক সহজ হয়ে যায়।”নিজের এই মানবিক উদ্যোগ সম্পর্কে মুঠোফোনে আকাশ মিয়া বলেন, “আমি প্রবাসে থাকলেও আমার এলাকার এতিম শিশুদের কথা সব সময় মনে পড়ে। আল্লাহ আমাকে যতটুকু সামর্থ্য দিয়েছেন, তা দিয়ে তাদের পাশে থাকতে চাই। তাদের মুখে হাসি দেখলেই আমার সব কষ্ট ভুলে যাই। এটা কোনো দান নয়, এটা আমার সামাজিক দায়বদ্ধতা।”স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, আকাশ মিয়ার মতো প্রবাসী ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা যদি এভাবে এগিয়ে আসেন, তাহলে দেশের এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের ভবিষ্যৎ আরও নিরাপদ ও সুন্দর হয়ে উঠতে পারে।ইখা
লাইফস্টাইল
সব দেখুন
ঘাড় ব্যথা থেকে প্রতিকারের উপায়
অনেকেরই ঘাড় ব্যথা একটি নিত্যনৈমিত্তিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান যুগে দীর্ঘ সময় কম্পিউটারে কাজ করা, স্মার্টফোন ব্যবহারের আধিক্য এবং ভুল ভঙ্গিতে ঘুমানোর কারণে এই সমস্যাটি সাধারণ মনে হলেও এটি কখনো কখনো গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। এক সপ্তাহের বেশি ঘাড়ে ব্যথা থাকলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।ঘাড় ব্যথা তীব্র হলে তা আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ব্যাপক ব্যাঘাত ঘটায়, তাই সময়মতো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং এর কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি।চিকিৎসকদের মতে, ঘাড় ব্যথার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে দীর্ঘক্ষণ একই ভঙ্গিতে বসে থাকা বা মাথা নিচু করে কাজ করা, যা ঘাড়ের পেশিতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। এ ছাড়া দুর্ঘটনাজনিত আঘাত, খেলাধুলার সময় চোট বা মেরুদণ্ডের জটিল সমস্যা যেমন স্পন্ডাইলোসিস এই ব্যথার জন্য দায়ী হতে পারে। ঘাড়ের পেশিতে অতিরিক্ত টানের ফলে সৃষ্ট মাসল স্প্যাজম যেমন কষ্টদায়ক হতে পারে, তেমনি সংক্রমণ, টিউমার বা আর্থ্রাইটিসের মতো রোগও এই ব্যথার উৎস হতে পারে।ঘাড় ব্যথার লক্ষণ হিসেবে মূলত ঘাড়ে তীব্র বা হালকা ব্যথা, জ্বালাপোড়া অনুভব করা, ব্যথা হাতে বা বাহুতে ছড়িয়ে পড়া এবং ঘনঘন মাথাব্যথা দেখা দিতে পারে।ঘাড় ব্যথার চিকিৎসা সাধারণত এর কারণ ও তীব্রতার ওপর নির্ভর করে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যথানাশক বা পেশি শিথিলকারী ওষুধ সেবনের পাশাপাশি ফিজিওথেরাপি ব্যায়াম ঘাড়ের পেশি শক্তিশালী করতে অত্যন্ত কার্যকর।এ ছাড়া ব্যথা কমাতে হিট বা আইস থেরাপি এবং মেরুদণ্ডের চাপ কমাতে ট্রাকশন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। বিশেষ ক্ষেত্রে স্টেরয়েড ইনজেকশন বা সবশেষে সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে।তবে প্রতিরোধের কিছু অভ্যাস গড়ে তুললে এই সমস্যা থেকে দূরে থাকা সম্ভব। দীর্ঘ সময় একভাবে বসে না থেকে মাঝে মাঝে বিরতি নেওয়া, কম্পিউটারে কাজ করার সময় সঠিক ভঙ্গি বজায় রাখা এবং নিয়মিত ঘাড়ের ব্যায়াম করা জরুরি। পাশাপাশি শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং ভারী বস্তু তোলার সময় সতর্কতা অবলম্বন করলে মেরুদণ্ড ও ঘাড়ের ওপর বাড়তি চাপ এড়ানো যায়।নিজেই করুন প্রতিকার: প্রতিদিনকার রুটিনে কিছু পরিবর্তন এনে সাধারণ ঘাড় ব্যথার প্রতিকার করা যায়। বসে থাকার সময় আপনার মেরুদণ্ড যেন সরলরেখায় থাকে এবং কান সরাসরি আপনার কাঁধের ওপরে থাকে। দীর্ঘ সময় একটানা বসে কাজ না করে এক ঘণ্টা পরপর ১০ মিনিট বিরতি নিন। যদি দীর্ঘ দূরত্বে ভ্রমণ করেন বা দীর্ঘ সময় ধরে কম্পিউটারে কাজ করেন, তবে উঠে পড়ুন, ঘুরে দেখুন এবং ঘাড় ও কাঁধ সামনে–পেছনে প্রসারিত করুন। কাজের টেবিল–চেয়ার ও কম্পিউটার এমনভাবে সামঞ্জস্য করুন, যাতে মনিটর চোখের স্তরের সমান থাকে। এইচএ
