এই মাত্র
  • রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রির রেকর্ড
  • সারাহ ইসলামকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেওয়ার দাবি সংসদে
  • আইএমএফের ঋণের প্রথম কিস্তি পেল বাংলাদেশ
  • সেপ্টেম্বরে ভারত সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
  • সার-বীজের দাম বাড়ানো হবে না: কৃষিমন্ত্রী
  • বিএনপি’র আন্দোলন ও সরকার পতন সবই ভুয়া: ওবায়দুল কাদের
  • আওয়ামী লীগ কথা দিয়ে কথা রাখে: প্রধানমন্ত্রী
  • দেশের প্রথম পাতাল রেলের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
  • এবার সরকা‌রিভা‌বে হ‌জে যেতে লাগবে ৬ লাখ ৮৩ হাজার
  • বড় ব্যবধানে জিতলেন সেই সাত্তার
  • আজ শুক্রবার, ২০ মাঘ, ১৪২৯ | ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

    স্পট লাইট

    সব দেখুন

    সারাহ ইসলামকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেওয়ার দাবি সংসদে

    সময়ের কন্ঠস্বর ডেস্ক: মরণোত্তর কিডনি ও কর্নিয়া দান করে অনন্য নজির স্থাপন করায় সারাহ ইসলাম ঐশ্বর্যকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান জানানোর দাবি উঠেছে জাতীয় সংসদে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ও দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ এ দাবি তুলেন। গত ১৮ জানুয়ারি রাতে দেশে প্রথমবারের মতো মৃত ব্যক্তির দান করা কিডনি প্রতিস্থাপনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কিডনি দান করে গেছেন ২০ বছর বয়সী কিশোরী সারাহ। এর মধ্য দিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। তিনি কর্নিয়াও দান করে গেছেন। তার পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। আমরা মনে করি, সারাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান জানানো উচিত। সারাহকে সম্মান জানালে অনেকে মরদেহ দিতে এগিয়ে আসবেন বলে জানান আওয়ামী লীগের এই সংসদ সদস্য। তিনি এ সময় মানব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইন সংশোধন করে কঠোর নজরদারির মাধ্যমে স্বেচ্ছায় অঙ্গ দানের সুযোগ তৈরি করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ইসলাম বা বিদ্যমান আইনে অঙ্গ দানে কোনো বাধা নেই। তবে এখন শুধু নিকটাত্মীয়রা এটি দিতে পারেন। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান হানিফ। বর্তমান সরকারের শাসনামলে বিভিন্ন উন্নয়ন হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন হয়েছে; কিন্তু রাস্তায় দুর্ঘটনা ব্যাপক। এর কারণ চালক। তাদের অনেকেই নিয়মনীতি, ট্রাফিক আইন সম্পর্কে জানেন না। লেখাপড়া জানেন না। এজন্য লাইসেন্স দেওয়ার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।

    রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রির রেকর্ড

    সময়ের কন্ঠস্বর ডেস্ক: চলতি ২০২২-২৩ অর্থ বছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) রিজার্ভ থেকে রেকর্ড পরিমাণ ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মেজবাউল হক। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মেজবাউ উল হক বলেন, ‘সাত মাসে ৯২০ কোটি ডলার বিক্রি করা হয়েছে। দেশের ইতিহাসে পুরো অর্থ বছরেও রিজার্ভ থেকে এত পরিমাণ ডলার বিক্রি হয়নি। এর আগে ২০২১-২২ অর্থ বছরের পুরো সময়ে রিজার্ভ থেকে ৭৬২ কোটি ডলার বিক্রি করা হয়েছিল। মেজবাউ উল হক বলেন, ‘দেশে প্রায় এক বছর ধরে ডলারের তীব্র সংকট চলছে। ডলারের এ সংকট কাটাতে উচ্চাভিলাষী পণ্য আমদানি নিরুৎসাহিত করার পাশাপাশি বিভিন্ন পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। এরপরও সংকট কাটছে না। এ জন্য জরুরি আমদানি দায় মেটাতেই বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চায়ন থেকে ডলার সহায়তা দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবুও আটকে থাকছে পণ্য। ডলার সংকটে ব্যাংক এলসি খুলছে না, শিল্পের কাঁচামাল আমদানি করা যাচ্ছে না-  ব্যবসায়ীদের এমন অভিযোগের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, ‘শিল্পের কাঁচামাল আমদানিও হচ্ছে প্রয়োজন মতো। গত নভেম্বর থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার করে রপ্তানি হচ্ছে। আমাদের রেমিট্যান্স ও রপ্তানি মিলে ৪৪ বিলিয়ন আয় হয়েছে আর এলসিতে আমদানির দায় পরিশোধ হয়েছে ৩৯ বিলিয়ন ডলার। আমাদের রপ্তানিতে মিসম্যাচ আছে, যেটা ১৮০ দিনের আয় আসে তখন সমন্বয় হয়।

    জাতীয়

    সব দেখুন

    ষড়যন্ত্র করে ক্ষমতায় আসার সুযোগ নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    দেওয়ান আবুল বাশার, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, নির্বাচন ছাড়া এদেশে ক্ষমতার পরিবর্তন হবে না। আমাদের সংবিধান অনুযায়ী সেটাই হয়ে আসছে। ষড়যন্ত্র করে ক্ষমতায় আসার কোন সুযোগ নেই। বৃহস্পতিবার (২ ফেব্রুয়ারী) বিকেল সাড়ে ৪ টায় মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয়ে ‘হ্যালো পুলিশ মানিকগঞ্জ’ নামের একটি সার্ভিস সেন্টার উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, আমাকে যদি পার্সোনাল প্রশ্ন করেন আমি নিশ্চয়ই বলবো তাদের ইলেকশনে আসা উচিৎ এবং আসা উচিত। তারা যদি বর্জন করে এটা তাদের নিজস্ব ব্যাপার সেখানে আমার কিছু মন্তব্য করার প্রয়োজন মনে করি না। একজন রাজনীতিবিদ হিসাবে বলতে পারি তারা নিশ্চয়ই নির্বাচনে আসবেন। নির্বাচন ছাড়া এই দেশের ক্ষমতা পরিবর্তন হবে না। এসময় তিনি আরও বলেন, বিএনপির কোন কর্মসূচিতে আমরা বাঁধা দিয়েছি। তারা বিশাল বিশাল সভা করেছে, প্রত্যেক জেলায় তারা সভা করেছে, প্রত্যেকটা ডিভিশনে তারা সভা করেছে, এখন আবার পদযাত্রা শুরু করেছে। মানুষের রাস্তাঘাট বন্ধ করে পদযাত্রা শুরু করেছেন। আমরা বলেছি করুন শুধু জনগনের ভোগান্তি যেন না হয় সে দিকটা খেয়াল রাখবেন। এসময় মন্ত্রী হ্যালো পুলিশ মানিকগঞ্জ সার্ভিস সেন্টার থেকে সুফলভোগীদের সাথে কথা বলে জানান, বাংলাদেশ পুলিশ ভাল কাজ করছে সেটা দেশের মানুষ এক বাক্যে স্বীকার করে। ইতিমধ্যে প্রায় শতাধিক বিভিন্ন পর্যায়ের সুবিধাবঞ্চিত ও অহেতুক হয়রানীর শিকার হওয়া নারী-পুরুষ পুলিশ সুপারের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ‘হ্যালো পুলিশ মানিকগঞ্জের’ সুফল পেয়েছেন। এসময় মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য নাঈমুর রহমান দুর্জয়, মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মমতাজ বেগম, ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক আব্দুল লতিফ, পুলিশ সুপার গোলাম আজাদ খান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মহীউদ্দীন, কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের সভাপতি সালাম চৌধুরীসহ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে মন্ত্রী মানিকগঞ্জ বিজয় মেলা মঞ্চে মুক্তিযোদ্ধাদের এক সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের স্মৃতিচারণ করে বলেন, মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার ধুলশরা-সূতালড়িতে আমি যুদ্ধ করেছি। সেই যুদ্ধে ৮১জন হতাহত হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল বলেই আজ বাংলাদেশ পেয়েছি।

    সেপ্টেম্বরে ভারত সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

    সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা: চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে ভারত সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে আগামী ৯ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর দুই দিনের সফরে ভারতে যাচ্ছেন তিনি।  আজ বৃহস্পতিবার (০২ ফেব্রুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত সাপ্তাহিক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়।  পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাবলিক ডিপ্লোমেসি অনুবিভাগের মহাপরিচালক ও মুখপাত্র সেহেলী সাবরীন জানান, ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় জি-২০ এর শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রধান প্রধান অর্থনীতির দেশগুলোর কৌশলগত বহুপক্ষীয় জোট জি-২০। এই জোটের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর ভারত বিভিন্ন সভায় বাংলাদেশকে অতিথি রাষ্ট্র হিসেবে আমন্ত্রণ জানিয়ে আসছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকা সফরে আসছেন ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিনয় মোহন কোয়াত্রা। প্রধানমন্ত্রীর নয়াদিল্লি সফর নিয়ে তখন আলাপ করবেন তিনি। পাশাপাশি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিবের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন বিনয়। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গেও তার সৌজন্য সাক্ষাতের কথা রয়েছে। এদিকে আগামী মার্চে জি-২০’র পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে যোগ দেবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন।

    সার-বীজের দাম বাড়ানো হবে না: কৃষিমন্ত্রী

    সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা: কৃষি উৎপাদনের ধারা অব্যাহত রাখতে সার, বীজসহ কৃষি উপকরণের দাম বাড়ানো হবে না বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক।  তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের পলিসি হলো যেকোন মূল্যে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি ও খাদ্য নিরাপত্তা টেকসই করা। বৃহস্পতিবার (০২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার অদূরে সাভারের ব্র্যাক সিডিএম মিলনায়তনে সার্কভুক্ত দেশসমূহে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) অর্জনে খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী একথা বলেন। বাংলাদেশ এগ্রিকালচারাল এক্সটেনশন নেটওয়ার্ক (বায়েন) ও ভারতের পার্টিসিপেটরি রুরাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ সোসাইটি (প্রাডিস) যৌথভাবে তিন দিনব্যাপী এ সম্মেলনের আয়োজন করে। কৃষিমন্ত্রী বলেন, আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। রেকর্ড পরিমাণ খাদ্য মজুত আছে। দেশে দুর্ভিক্ষ হবে না।  ফসলের গবেষণা ও সম্প্রসারণের মধ্যে বিরাট গ্যাপ রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, গবেষক বা বিজ্ঞানীর উদ্ভাবিত জাত যেটি গবেষণা পর্যায়ে বিঘাতে ৮ মণ উৎপাদন হয়, সেটি সম্প্রসারণের পর কৃষক পর্যায়ে দেখা যায় উৎপাদন হয় বিঘাতে ৩ থেকে ৪ মণ। এই বিশাল গ্যাপ কমিয়ে আনতে হবে। মন্ত্রী বলেন, আমাদের বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত ফসলের মধ্যে লবণসহিষ্ণু জাতও রয়েছে। কিন্তু এগুলো মাঠে কৃষকের কাছে যেতে সময় নিচ্ছে বেশি। এই দেরির কারণ খুঁজে বের করতে হবে। অনুষ্ঠানে প্রাডিসের সিনিয়র এডভাইজর ভিভি সাডামাতে, খাদ্য ও কৃষি সংস্থার বিশেষ প্রতিনিধি দানিয়েল গুস্তাফসন, বাংলাদেশ প্রতিনিধি রবার্ট সিম্পসন, বায়েনের সভাপতি হামিদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক সেকান্দর আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন ভূঁইয়া প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। 

    আওয়ামী লীগ কথা দিয়ে কথা রাখে: প্রধানমন্ত্রী

    সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা: জনগণের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে ক্ষমতায় আসেননি বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, গত ১৪ বছরে বাংলাদেশের আমূল পরিবর্তন হয়েছে। দেশ দুরন্ত গতিতে এগিয়ে চলছে। আমাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল ঢাকার যানজট মুক্ত করার লক্ষ্যে মেট্রোরেল চালু করা। আমরা সেটা করেছি। আওয়ামী লীগ কথা দিয়ে কথা রাখে। বৃহস্পতিবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পাতাল মেট্রোরেল প্রকল্পের উদ্বোধন শেষে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় আরেকটি মাইলফলক অর্জিত হলো। এর আগে মেট্রোরেল উপহার দিয়েছি। মানুষ সেটি ওপর দিয়ে যাবে। এবার মাটির নিচ দিয়ে যাবে পাতাল রেল। বাংলাদেশে এ ধরনের আয়োজন প্রথম। আজকের অনুষ্ঠানে যারা এসেছেন সবাইকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক, স্বাধীন রাষ্ট্র পেয়েছি। আমাদের স্বাধীন রাষ্ট্র দিয়েছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। স্বাধীনতার পর জাতির পিতা সময় পেয়েছিলেন মাত্র সাড়ে তিন বছর। একটা জাতির জন্য এই সময় কিছুই না। তিনি উন্নত, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চেয়েছিলেন। সাড়ে তিন বছরে আর কতটুকু করা যায়। এসময় প্রধানমন্ত্রী তার টানা তিন মেয়াদের ক্ষমতায় থাকার সময় দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতিতে নেওয়া পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। শেখ হাসিনা বলেন, গত ১৪ বছরে এই বাংলাদেশের আমূল পরিবর্তন হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছি। এবার বাংলাদেশকে স্মার্ট বাংলাদেশ করা হবে। নারায়ণগঞ্জ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জেলা। এখানে অনেকগুলো প্রকল্প কাজ চলমান। পূর্বাচল স্মার্ট সিটি হবে। নারায়ণগঞ্জকে স্মার্ট সিটি হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। তিনি বলেন, ‘গত ২৮ ডিসেম্বর মেট্রোরেল উদ্বোধন করেছি। এই কাজ যখন শুরু করতে যাই তখন জঙ্গির উত্থান হলো। হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলায় বিদেশি নাগরিকদের হত্যা করা হয়। ৭ জন জাপানি নাগরিককে হত্যা করা হয়। যারা মেট্রোরেলের কাজে যুক্ত ছিলেন। আমি তাদের স্মরণ করি। এই ঘটনার পরও জাপান সরকার তাদের সহযোগিতার হাত গুটিয়ে নেননি। তাদেরকে আমি ধন্যবাদ জানাই।’ করোনার সময় বিনামূল্যে টিকা দেওয়ার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনার সময় বিনামূল্যে ভ্যাকসিন দিয়েছি। কোনো ধনী দেশ বিনামূল্যে ভ্যাকসিন দিতে পারেনি। গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত আছে বলেই উন্নয়নের মহাসড়কে যাত্রা করেছে বাংলাদেশ। আমাদের কেউ থামাতে পারবে না। দুর্নীতির প্রসঙ্গে সরকার প্রধান বলেন, দুর্নীতির প্রশ্নই ওঠে না। যতই আন্দোলন করুক কেউ কিছু করতে পারবে না যতদিন জনগণ আমাদের সাথে আছে।

    দেশের প্রথম পাতাল রেলের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

    সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা: জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পাতাল মেট্রোরেলের ডিপো ও লাইন নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার (২ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার পর রূপগঞ্জের পূর্বাচল সেক্টর ৪ এ প্রধানমন্ত্রী এ প্রকল্পের উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন করেছেন। এরপর সুধী সমাবেশে ভাষণ দেবেন তিনি। এই পাতালরেল নির্মাণে ব্যয় হবে ৫২ হাজার কোটি টাকা। এরমধ্যে জাপানি ঋণ ৩৯ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা। আর বাকি অর্থ সরকারি তহবিল থেকে মেটানো হবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। প্রকল্পের বিবরণ অনুযায়ী এমআরটি লাইন-১-এর দুটি অংশ থাকবে- একটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত (বিমানবন্দর রুট) ১৯.৮৭২ কিলোমিটার অংশ। এটি হবে ভূগর্ভস্থ এবং এতে ১২টি স্টেশন থাকবে। অপর অংশটি নতুন বাজার থেকে প্রায় ১১.৩৭ কিলোমিটার এলিভেটেড লাইনসহ পূর্বাচল পর্যন্ত (পূর্বাচল রুট)। এতে সাতটি স্টেশন থাকবে। অন্যদিকে বিমানবন্দর রুটের অংশ হিসেবে নতুন বাজার এবং নদ্দা স্টেশন হবে ভূগর্ভস্থ।  বাংলাদেশ সরকার ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন (জাইকা) এমআরটি লাইন-১-এর নির্মাণ কাজের জন্য ৫২,৫৬১.৪৩ কোটি টাকার ব্যয়ভার বহন করবে। এর মধ্যে জাইকা প্রকল্প সহায়তা (পিএ) হিসাবে দেবে ৩৯,৪৫০.৩২ কোটি টাকা এবং বাংলাদেশ সরকার দেবে ১৩ হাজার ১১১ কোটি ১১ লাখ টাকা। জাপানি ফার্মের নেতৃত্বাধীন কনসোর্টিয়াম বিমানবন্দর-কমলাপুর-পূর্বাচল মেট্রোলাইন নির্মাণ কাজ তদারকি করবে। প্রকল্পের বিবরণ অনুযায়ী আরও জানা যায়, এমআরটি লাইন-১-এ ১২টি ভূগর্ভস্থ স্টেশনে বিরতিসহ বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর ভ্রমণ করতে লাগবে ২৪ মিনিট ৩০ সেকেন্ড। যাত্রীরা নতুন বাজার ইন্টারচেঞ্জের মাধ্যমে ১৬টি স্টেশনে বিরতিসহ মাত্র ৪০ মিনিটের মধ্যে কমলাপুর থেকে পূর্বাচলে যেতে পারবেন। এমআরটি লাইন-১ চালু হলে, এ রুটে প্রতিদিন আট লাখ যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন।

    শিল্পমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানী রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

    সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা: শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূনের সাথে বাংলাদেশে নবনিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত ইওয়ামা কিমিনোরি সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। বুধবার (০১ ফেব্রুয়ারি): রাজধানীর মতিঝিলে শিল্পমন্ত্রীর অফিস কক্ষে এ সাক্ষাতকার অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে শিল্পমন্ত্রী জাপানের সাথে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও শিল্পায়নে জাপান গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তিনি অভিন্ন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগামী জাপান সফরে জাপানী ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন এবং পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সাথে বাংলাদেশের শিল্প মন্ত্রণালয়ের জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ সংক্রান্ত সহযোগিতা স্মারক সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করা হয়। জাপানী রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বাংলাদেশের সাথে আমাদের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের সম্পর্ক। ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অতীতে যেভাবে পাশে থেকেছি ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত দেশে রূপান্তরের ক্ষেত্রেও সেভাবে পাশে থাকবো। তিনি বলেন, দি হংকং ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন ফর দি সেফ এন্ড এনভায়রনমেন্টালি সাউন্ড রিসাইক্লিং অব শিপস, ২০০৯’র (দি হংকং কনভেনশন) শর্তগুলো প্রতিপালনের জন্য বাংলাদেশকে জাপান সম্ভাব্য সবরকম সাহায্য করবে। তিনি চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ ফ্যাসিলিটিজ অর্থাৎ ট্রিটমেন্ট, স্টোরেজ এন্ড ডিসপোজাল ফ্যাসিলিটি (টিএসডিএফ) স্থাপনের বাংলাদেশের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এ বিষয়ে ‘আমরা শিগগিরই সম্ভাব্যতা যাচাই করে তা বাস্তবায়নের কার্যক্রম গ্রহণ করবো। বৈঠকে শিল্পমন্ত্রী শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল কর্পোরেশেনের সাথে জাপানী শিল্প প্রতিষ্ঠান মিতসুবিশির সাথে সমঝোতা স্মারক’র আলোকে বাংলাদেশে মোটর গাড়ি নির্মাণের উদ্যোগ নেয়ার আহবান জানান।  জবাবে রাষ্ট্রদূত জানান, এবিষয়ে কাজ চলছে। এছাড়া ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জে ‘ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা’র আদলে আরেকটি ইউরিয়া সার কারখানা স্থাপনের বিষয়েও আলোচনা করা হয়। জাপানী রাষ্ট্রদূত এ বিষয়ে জাপান সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন। শিল্প সচিব জাকিয়া সুলতানা, বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল কর্পোরেশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মো. শহীদুল হক ভূঁঞা, শিল্প মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. আব্দুল ওয়াহেদ, উপসচিব শরীফ মো. মাসুদ এবং ঢাকাস্থ জাপানী দূতাবাসের অর্থনৈতিক বিভাগের প্রথম সচিব হারুতা হিরোকী এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

    উপনির্বাচনে ভোট পড়েছে ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ: সিইসি

    সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা: বিএনপির ছেড়ে দেওয়া ৬ আসনে উপনির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল। তিনি বলেছেন, দু’একটি স্থানে কিছু অনিয়ম হলেও ছয় আসনের ভোট সুষ্ঠুই হয়েছে। গড়ে ভোট পড়েছে ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ। বুধবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ছয় আসনের নির্বাচন নিয়ে কথা বলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। বিএনপির সংসদ সদস্যদের পদত্যাগে শূন্যঘোষিত ছয়টি আসনের উপনির্বাচন বুধবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টায় শুরু হয়ে চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। বিরতিহীনভাবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ হয়। এখন চলছে গণনা। সিইসি বলেন, উপনির্বাচন সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খল হয়েছে। কোথাও কোথাও ছোট কিছু অনিয়ম হলেও ব্যাপক আকারে কিছু হয়নি। উপস্থিতির হার তুলনামূলক কম ছিল। আনুমানিক ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ ভোট হতে পারে। তবে নিশ্চিত করে এখনো কিছু বলা যাবে না। আরেকটু অপেক্ষা করতে হবে। তিনি বলেন, আমরা স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে সব তথ্য নিয়েছি। টিভি চ্যানেলগুলোর উপর সর্বাত্মক দৃষ্টি রেখেছিলাম। অনিয়ম বা কারচুপির উল্লেখযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অনলাইন নিউজগুলো আমরা বিশেষভাবে পাঠ করে দেখেছি। বিরূপ কোনো সংবাদ পরিবেশিত হতে দেখিনি। এছাড়া কমিশনের নিজস্ব নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র রয়েছে। আমরা সেখান থেকেও আপডেট নিয়েছি। তাদের আপডেট অনুযায়ী ২ থেকে ৪টি জায়গায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়েছে। একটি তাজা ককটেল পাওয়া গেছে, আর দুই-একটি ককটেল বিস্ফরিত হয়েছে। এগুলো অবশ্যই ভোট কেন্দ্রের বাইরে হয়েছে। সিইসি আরও বলেন, ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু হয়েছে। অনেক স্থানে মেশিনের মাধ্যমে ভোট গণনা শুরু হয়েছে। কিছু স্থানে আধাঘন্টা পর ভোট সমাপ্ত হলে গণনা করা হবে। আমরা আশা করছি ২-৪ ঘন্টা পর রিটানিং কর্মকর্তার দপ্তর থেকে ভোটের ফলাফল ঘোষণা করা হবে। 

    অমর একুশে বইমেলা উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

    সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা: শুরু হলো ভাষার মাসের সবচেয়ে বড় কর্মযজ্ঞ অমর একুশে বইমেলা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে মেলা উদ্বোধন করেছেন। বাংলা একাডেমির আয়োজনে একাডেমির প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে ঐতিহ্যবাহী এই বইমেলা চলবে। অমর একুশে বইমেলা-২০২৩ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বেলা ৩টায় শুরু হয়। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ কন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানা। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মোহাম্মদ নুরুল হুদা অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন। এবারের বইমেলার প্রতিপাদ্য ‘পড়ো বই গড়ো দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’। প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পর বইমেলা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। মেলার ৩৯তম আসরের উদ্বোধনের আগে প্রধানমন্ত্রী সাতটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন। এর আগে তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার ২০২২ প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রী যে বইগুলোর মোড়ক উন্মোচন করেন, সেগুলো হলো ১. শেখ হাসিনা সম্পাদিত বঙ্গবন্ধুর রচনাবলি ২. আমার জীবননীতি আমার রাজনীতি ৩. বাংলা একাডেমি পত্রিকার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মশতবার্ষিকী সংখ্যা ৪. বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী: পাঠ বিশ্লেষণ ৫. কারাগারের রোজনামচার: পাঠ বিশ্লেষণ ৬. আমার দেখা নয়াচীন: পাঠ বিশ্লেষণ ৭. হাসান আজিজুল হকের একটি বই। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী। ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলা ভাষা মধুর ভাষা। রবীন্দ্রনাথের লেখা পড়া যাবে না, বলা হলো। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাদ দিয়ে কিভাবে বাংলা সাহিত্য হবে। সেখানেও  আমাদের সংগ্রাম করতে হয়েছে। এমনকি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতায়ও একটা মুসলমানি ভাব দেওয়ার চেষ্টা করা হলো সেটিও হলো।’ অনুবাদ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বছরে একটা দুটা বই অনুবাদ হবে তা নয়। বাংলা ভাষায় যত বই বের হয়, সব অনুবাদ করতে হবে। এক্ষেত্রে মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মূল ভূমিকা নিতে পারে।’

    সর্বশেষ প্রকাশিত

    রাজনীতি

    সব দেখুন

    বিএনপি’র আন্দোলন ও সরকার পতন সবই ভুয়া: ওবায়দুল কাদের

    সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা: আগামী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হতে দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, আপনারা ভয় পাবেন না। লাল কার্ড দেখবেন না? ১০ ডিসেম্বর সরকার পতন, তারেক রহমানের আগমন সবই ভুয়া। বিএনপি’র আন্দোলন ও সরকার পতন সবই ভুয়া।  বৃহস্পতিবার (২ ফেব্রুয়ারি) নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে দেশের প্রথম পাতালরেলের নির্মাণ কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, 'ডান আর বাম এক কাতারে একাকার। শুরু করেছে বিক্ষোভ দিয়ে, এখন হচ্ছে নীরব পদযাত্রা। পথ হারিয়ে বিএনপি এখন পদযাত্রায় নেমেছে।' সেতুমন্ত্রী আরও বলেন, 'তাদের আন্দোলন গেছে বঙ্গোপসাগরে ডুবে। ওটা এখন আর সাড়া দেবে না। এখন নির্বাচন। বিরোধী দলকে বলব, আসুন- নীরব যাত্রা, পদযাত্রা, আন্দোলনের মরণযাত্রা এগুলোর মধ্যে না গিয়ে ইলেকশনের (নির্বাচনের) যাত্রাটা শুরু করেন। আমরা আছি।' নির্বাচনে হেরে গেলে আওয়ামী লীগ বিদায় নেবে এমন মন্তব্য করে সেতুমন্ত্রী বলেন, 'হেরে গেলে নেত্রী বলেছেন বিদায়। জোর করে ক্ষমতায় শেখ হাসিনা থাকবেন না।’ মেট্রোরেল প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, 'মেট্রোরেলের আকর্ষণ দুর্দমনীয়। মেট্রোরেল এখন উত্তরা থার্ড ফেজ থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত এসেছে। সারা বাংলাদেশে আজ মেতে উঠেছে।'

    আ.লীগ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার শক্তি বিএনপির নেই: শেখ পরশ

    সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা: আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার শক্তি বিএনপি-জামায়াতের নেই বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ।  আজ বুধবার (০১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ  আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দেশব্যাপী বিএনপি-জামাতের নৈরাজ্য ও তান্ডবের প্রতিবাদে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী যুবলীগ আয়োজিত শান্তি সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। শেখ ফজলে শামস্ পরশ বলেন, বিএনপি-জামায়াতের যে কোন ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করার জন্য রাজপথে যুবসমাজ ঐক্যবদ্ধ। তারা রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার অত্যন্ত প্রহরীর মতো রাজপথে থেকে সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করার ক্ষমতা রাখে।  মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাইন উদ্দিন রানার সভাপতিত্বে সমাবেশে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

    কারা পালিয়েছিল, দেশের মানুষ সব জানে: মির্জা ফখরুল

    সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা: আওয়ামী লীগ পালায় না—প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘কাল রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আওয়ামী লীগ নাকি পালায় না। এখানে দাদা (গয়েশ্বর চন্দ্র) আছেন, ভালো বলতে পারবেন। এক এগারোতে কারা কারা পালিয়েছিল সবাই জানে। কিন্তু পালায়নি একজন তিনি হলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া। তিনি পরিষ্কার বলেছিলেন ‘বিদেশে আমার কোনও জায়গা নেই, এই দেশ আমার এই মাটি আমার। আমার জন্ম এখানে মরলেও এখানে মরবো।’ এই দেশের মানুষ সব জানে। কে কখন কোথায় পালায়, কেমন করে পালায় সবাই জানে।’ সোমবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুরে যাত্রাবাড়ী আইডিয়াল স্কুলের সামনে থেকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আয়োজিত পদযাত্রা কর্মসূচি উদ্বোধনের সময় বিএনপির মহাসচিব এসব কথা বলেন। সরকারের প্রতি ইঙ্গিত দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, কোন দিকে পালাবে তুমি? কোনো দিকে পালাবার পথ নেই; উত্তরে সুউচ্চ পর্বতমালা, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর। কোন দিকে পালাবে তুমি? তাই বলছি- এখনো সময় আছে আমাদের ১০ দফা দাবি মেনে নিয়ে পদত্যাগ করুন। সংসদ বাতিল করুন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে আসুন। নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করে নির্বাচন দিন। এ সময় মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের এ পদযাত্রা সভ্যতার জয়যাত্রা, আমাদের এ পদযাত্রা মানুষের অধিকার আদায় করবার জয়যাত্রা। এই পদযাত্রা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্ত করবার জয়যাত্রা। তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার জয়যাত্রা। আওয়ামী লীগ এখন প্রলাপ বলছে, প্রতিদিন তারা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ ১০ টাকা সের চাল খাওয়াবে- সে কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, এখন চালের দাম কত? কত করে খাচ্ছেন আপনারা, ডালের দাম কত, লবণের দাম কত। আটার দাম কত দ্বিগুণ বেড়ে গেছে। ফখরুল বলেন, শুধু পুরান ঢাকায়ই নয়, সারাদেশেই গ্যাস নেই। গ্যাস তারা খেয়ে ফেলেছে। বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে। প্রত্যেকটি দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধি করেছে। জনগণের পকেট থেকে টাকা লুট করে সেই টাকা বিদেশ পাচার করছে আওয়ামী লীগ।

    ক্ষমতা হারালে ফখরুলের বাসায় উঠতে চান ওবায়দুল কাদের

    সময়ের কণ্ঠস্বর, রাজশাহী: ক্ষমতা হারালে দেশ ছেড়ে না পালিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের বাসায় উঠতে চান বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। রোববার (২৯ জানুয়ারী) দুপুরে রাজশাহী জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় এমন মন্তব্য করেন তিনি। ক্ষমতা হারালে আওয়ামী লীগের নেতারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাবে বলে বিএনপি অনেক নেতা বক্তব্য দিচ্ছেন। গতকাল ঢাকায় আয়োজিত পদযাত্রা কর্মসূচিতেও এমন বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল। বিএনপি নেতাদের বক্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, 'বিএনপির মরণযাত্রা হচ্ছে এখন। তারা এখন সরকারকে পালাতে বলে; পালানোর পথ নাকি খুঁজে পাবেন না। ফখরুল সাহেব, পালিয়ে তো আছেন আপনারা। তারেক রহমান আর রাজনীতি করবে না; মুচলেকা দিয়ে পালিয়েছে লন্ডনে। ৭ বছরের দণ্ডিত পলাতক আসামি আপনাদের নেতা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান পালিয়ে যায়, আমরা পালাতে জানি না।' 'আমরা এই দেশে জন্মেছি, এই দেশে মরবো। পালাবো না। কোথায় পালাবো! পালাবো না, প্রয়োজনে ফখরুল সাহেবের বাসায় গিয়ে উঠবো। জায়গা দেবেন? না হলে ঠাকুরগাঁওয়ের বাড়ি আছে না! ওই বাড়িতে গিয়ে উঠবো,' বিএনপি মহাসচিবের উদ্দেশে বলেন কাদের। খেলা হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, 'বিএনপির এখনো শিক্ষা হয়নি। শিক্ষা হবে যখন আগামী নির্বাচনে আবারও পরাজয়ের মুখ দেখবে।'

    আ.লীগ নেতারা মুখে এক, কাজে আরেক: মির্জা ফখরুল

    সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা: বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগ বরাবর দুই চরিত্রের। তারা মুখে বলে এক, কাজে আরেক। রোববার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ১২ দলীয় জোটের লিয়াজোঁ কমিটির সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন। বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আওয়ামী লীগ এদেশে সবচেয়ে বড় ক্ষতি করেছে, দেশের মানুষের যে চরিত্র, বহুদলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, বহুমাত্রিক যে সমাজ ব্যবস্থা, সেটাকে তারা ধ্বংস করে দিয়েছে।’ ফখরুল বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছি, আজকে একটি ওয়েবিনারে বিশিষ্টজনরাও বলেছে দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে যে নির্বাচন ব্যবস্থা এটা দেশের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা ছিলো। ২০১১ সালে আওয়ামী লীগ যেদিন সংসদে এই তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিল করেছিলো, সেইদিন বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলো-বাংলাদেশে চিরস্থায়ীভাবে নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা হয়েছে। দেশে একটা অস্থিতিশীলতা, অনিশ্চতার দ্বার উম্মুক্ত করা হলো। আজকে সেই কথা প্রমাণিত হয়েছে। আজকে আওয়ামী লীগ গোটা দেশ-জাতিকে অশান্তকর অবস্থার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এই দেশের মানুষ জানে যে কি হবে। দেশের মানুষ জানে না তার ভোট দিতে পারবে কিনা।’ তিনি আরও বলেন, ‘তারা অতীতে যে কাজগুলো করেছে, তাতে প্রমাণ হয়েছে এই সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। দুই, এখানে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয় না। এই জিনিসগুলো আমাদেরকে বলতে হচ্ছে। আমরা আরও খুশি হতাম- যদি এই জিনিসগুলো নিয়ে দেশের আরও বিশিষ্টজন, রাজনৈতিক দল, সংগঠনগুলো সত্যিকার অর্থে কথা বলতেন। তাদেরকে আহ্বান জানাবো কথা বলেন- তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে একটি নির্বাচনের দিকে নেওয়ার জন্য।’ আওয়ামী লীগ সব সময় বিএনপির প্রোগ্রামের তিন দিন আগে থেকে ধর্মঘট করে দেয় বলে দাবি করে মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘তিন দিন আগে থেকে পুলিশকে নামিয়ে দিয়ে রাস্তায় চেকপোস্ট বসিয়ে মোবাইল পর্যন্ত চেক করতে থাকে। ১০ ডিসেম্বর ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশের আগে তারা ১৫ দিন বিশেষ অভিযান চালিয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় রেট করে হাজার-হাজার ছেলে-মেয়ে ধরে নিয়ে গেছে। এটা হচ্ছে আওয়ামী লীগের কৌশল। যে কোনও মূল্যে হোক তারা বিরোধী দলকে কর্মসূচি করতে দিবে না। ভিন্নমত সহ্য করবে না। আর নিজেদেরটা করতেই থাকবে। সেক্ষেত্রে তারা রাষ্ট্রের সমস্ত যন্ত্রগুলোকে ব্যবহার করবে।’ সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘অন্যান্য দলগুলো বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলন করার কারণে তা অবশ্যই ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। মানুষের মধ্যে আস্থা পেয়েছে যে বিভিন্ন দলগুলো একসঙ্গে হয়ে মানুষের অধিকার আদায়ে লড়াই করছে। তারা এখানে সম্পৃক্ত হচ্ছে।’ বৈঠকে চলমান আন্দোলন নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘ভবিষ্যৎ কর্মসূচি কি হওয়া উচিত, আন্দোলনকে বেগবান করার জন্য, জনগণকে সম্পৃক্ত করার জন্য কি ধরণের কর্মসূচি নেওয়া যেতে পারে সেই বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলেছি। আমরা একমত হয়েছি যুগপৎ আন্দোলনকে জোরদার করে আমাদের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনা, গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করা। খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা।’ বৈঠকে ১২ দলীয় জোটের নেতাদের মধ্যে অংশ নেয়-জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি চেয়ারম্যান মে.জে. (অব:) সৈয়দ মুহম্মাদ ইবরাহিম, বাংলাদেশ জাতীয় দল চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, এনডিপি চেয়ারম্যান মো: আবু তাহের, জমিয়তে ওলামায় ইসলামের মহাসচিব গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম, জাগপা সিনিয়র সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান, ইসলামি ঐক্যজোটের মহাসচিব মাওলানা আব্দুল করিম, বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টির মহাসচিব আবুল কাশেম, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের যুগ্ম মহাসচিব মো. তফাজ্জল হোসেন। আর বিএনপি লিয়াঁজো কমিটির সদস্য স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, বেগম সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মাদ শাহজাহান ও আব্দুল আউয়াল মিন্টু অংশ নেয়।

    শুনেছি ক্ষমা পেয়েছি, তবে চিঠি আনতে যাইনি: ডা. মুরাদ

    সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা: জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদকের পদ থেকে অব্যাহতি পাওয়া সাবেক প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের শাস্তি প্রত্যাহার করে দল থেকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে।  বৃহস্পতিবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রতিনিধি সভায় ডা. মুরাদ নিজেই এ তথ্য জানান।   ক্ষমা চেয়ে আবেদন করেছেন কি না এমন প্রশ্নে ডা. মুরাদ জানান, আমি আবেদন করেছিলাম। আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছে বলে জানতে পেরেছি। কিন্তু এখনো চিঠি আনতে যাইনি।  তিনি আরও বলেন, গাজীপুরের মেয়র জাহাঙ্গীর আরও গুরুতর কথা বলেছিলেন, তাই তিনি চিঠিটা দ্রুত নিয়েছেন। ২০২১ সালের ৭ ডিসেম্বর ‘দলীয় ভাবমূর্তি বিনষ্ট, অগঠনতান্ত্রিক ও শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগে’ জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদকের পদ থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এর আগে একটি অডিও কেলেঙ্কারির ঘটনায় তুমুল আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তথ্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে তিনি পদত্যাগ করেন। প্রসঙ্গত, চিকিৎসাবিদ্যার ডিগ্রিধারী ডা. মুরাদ হাসান ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের টিকেটে জামালপুর-৪ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৮ সালে তিনি দ্বিতীয়বার সংসদ সদস্য হন।  ২০১৯ সালে শেখ হাসিনা টানা তৃতীয়বার সরকার গঠন করলে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান মুরাদ। ওই বছরই তাকে স্বাস্থ্য থেকে সরিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়।

    এবার ঢাকায় ৪ দিনব্যাপী নতুন কর্মসূচি ঘোষণা বিএনপির

    সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা: রাজধানী ঢাকায় নতুন কর্মসূচি নিয়েছে বিএনপি। এবার ঢাকার এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ‘পদযাত্রা’ করবে দলটি। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং ১০ দফা দাবি আদায়ে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি এ কর্মসূচি পালন করবে।  আজ বৃহস্পতিবার (২৬ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন।  কর্মসূচির মধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি আগামী ২৮ জানুয়ারি দুপুর ২টায় বাড্ডা সুবাস্তু টাওয়ারের সামনে থেকে মালিবাগ আবুল হোটেল পর্যন্ত পদযাত্রা করা হবে। আর ৩১ জানুয়ারি দুপুর ২টায় গাবতলী থেকে শুরু হয়ে মাজার রোড হয়ে মিরপুর ১০ নম্বর গোল চত্বরে গিয়ে পদযাত্রা শেষ হবে। অন্যদিকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি ৩০ জানুয়ারি দুপুর ২টায় যাত্রাবাড়ী থেকে শ্যামপুর পর্যন্ত পদযাত্রা করবে। আর ১ ফেব্রুয়ারি দুপুর ২টায় মুগদা থেকে শুরু হয়ে মালিবাগে গিয়ে শেষ হবে ‌পদযাত্রা। এই পদযাত্রা শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হবে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব জনগণকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা চালানো হচ্ছে। নিম্ন আদালত সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলছে। হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে নিম্ন আদালতে গেলে তাদের কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এতে প্রমাণ হয় নিম্ন আদালত সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলছে। নির্যাতন নিপীড়ন ভয়াবহ পর্যায়ে নিয়ে গেছে সরকার। বিএনপির আন্দোলন নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতারা যাই বলুক, তাদের কথার উত্তর দিতে রুচিতে আটকায়, তাদের ও সরকারের বক্তব্যের জবাব দেওয়া হবে রাজপথে। যারা দিনের ভোট রাতে করে যারা ১৫৪ জনকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা দেয়, তাদের মুখে বিএনপির নেতৃত্ব ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন নিয়ে কথা বলা মানায় না। তারা লজ্জা-শরমহীন। এক প্রশ্নের জবাবে মির্জাপুর বলেন, এই মুহূর্তে বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তর দক্ষিণ এ কর্মসূচি পালন করবে। তবে যুগপৎভাবে আমরা সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করব, আলোচনা করে তারা যদি থাকতে চায় কর্মসূচিতে তারাও থাকবে। দলের অন্যান্য অঙ্গ সহযোগী সংগঠনগুলোও কর্মসূচিতে মাঠে নামবে। ৪ ফেব্রুয়ারি বিভাগীয় সমাবেশ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

    চলতি সপ্তাহে সর্বাধিক পঠিত

    দেশজুড়ে

    রাজধানীর দারুসসালামে অজ্ঞাত কিশোরের মরদেহ উদ্ধার 

    রাজু আহমেদ, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট (ঢাকা): রাজধানীর মিরপুরের দারুসসালাম থানাথীন গৈদারটেক এলাকা থেকে আনুমানিক ১২ বছর বয়সী এক অজ্ঞাত কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৮ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে দারুসসালাম থানা ও গাবতলী পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌছে তার মরদেহ উদ্ধার করে। এঘটনায় রোববার (২৯ জানুয়ারি) সকাল ১০ টার দিকে দুই সন্দেহভাজনকে আটক করেছে দারুসসালাম থানা পুলিশ। দারুসসালাম থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে গৈদারটেকের হাড্ডিপট্টি বালুর মাঠ এলাকায় অজ্ঞাত পরিচয় এক কিশোরের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে দারুসসালাম থানা পুলিশকে খবর দেয় স্থানীয়রা। সংবাদ পেয়ে তাৎক্ষণিক দারুসসালাম থানা পুলিশ ও গাবতলী পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করে। এসময় উপস্থিত জনসাধারণের কেউই তার পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি। স্থানীয়দের অনেকেই জানিয়েছেন, নিহতের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে গাবতলি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস.আই মানিক সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, স্থানীয় জনসাধারণের সংবাদের ভিত্তিতে দারুসসালাম থানা পুলিশের সহযোগিতায় শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে গৈদারটেক এলাকা থেকে আনুমানিক ১২ বছর বয়েসী এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো পর্যন্ত নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। তবে এবিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে।   

    চালু হলো পল্লবী স্টেশন, ৭ মিনিটে পল্লবী টু আগারগাঁও

    সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা: চালু হয়েছে মেট্রোরেলের পল্লবী স্টেশন। বুধবার থেকে রাজধানীর এই স্টেশনে যাত্রী উঠা নামায় থামছে ট্রেন। সকাল সাড়ে ৮টায় শুরু হয়ে এ স্টেশনের কার্যক্রম চলবে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত। মঙ্গলবার সাপ্তাহিক বন্ধ ছাড়া সপ্তাহের বাকি ছয় দিনই মেট্রোরেলে চলাচল করছে। একইসঙ্গে মেট্রোরেলের চলাচলের সময়েরও পরিবর্তন হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে মিরপুরের যাত্রীদের নতুন একটি চলাচলের পথ উন্মুক্ত হলো। মেট্রোরেলের মাধ্যমে তারা এখন অনায়াসে উত্তরা ও আগারগাঁও যেতে পারবেন। প্রথমদিন রাজধানীর উত্তরা থেকে ট্রেনটি মিরপুরের পল্লবী স্টেশনে যখন পৌঁছে, তখন সকাল ৮ টা ৩৫ মিনিট। যাত্রী ওঠার পর ট্রেনটি আগারগাঁওয়ের উদ্দেশ্য রওনা হয় ৮টা ৩৭ মিনিটে। পল্লবী থেকে আগারগাঁও আসতে যাত্রীদের সময় লেগেছে মাত্র ৭ মিনিট। ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড-ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ এন ছিদ্দিক জানান, তিনটি স্টেশনে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ট্রেন চলাচল করবে। তবে টিকিট কাটার সুবিধার্থে যাত্রীদের জন্য গেট খোলা হবে সকাল ৮টা থেকে। ট্রেনগুলো আগের মতোই ১০ মিনিট পরপর চলাচল করবে। ডিএমটিসিএলের মহাব্যবস্থাপক ইফতেখার হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, প্রথম দিনের শুরুতে পল্লবী স্টেশনে যাত্রী সংখ্যা কিছুটা কম। দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীর সংখ্যা বাড়বে। গত ২৮ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তরা থেকে আগারগাঁও মেট্রোরেল চালু হয়। এতদিন এ দুটি স্টেশনে যাত্রীরা চলাচল করতে পারতেন। আজ বুধবার থেকে পল্লবী স্টেশনে ট্রেন থামতে শুরু করেছে। ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার দীর্ঘ দিয়াবাড়ী-আগারগাঁও রুটে স্টেশনের সংখ্যা ৯টি। আজ পল্লবীসহ সচল হচ্ছে তিনটি। উত্তরা সেন্টার, উত্তরা সাউথ, মিরপুর-১১, মিরপুর-১০, কাজীপাড়া ও শেওড়াপাড়া স্টেশনে আগামী ২৬ মার্চ থেকে ট্রেন থামবে। পল্লবী থেকে আগারগাঁওয়ের ভাড়া ৩০ টাকা। দিয়াবাড়ীর ভাড়াও ৩০ টাকা।

    রাজধানীতে শিক্ষার্থীকে চাপা দেওয়া বাসের চালক-হেলপার গ্রেপ্তার

    সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা: রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে নর্দার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী নাদিয়া আক্তারকে চাপা দেওয়া বাসটির চালক ও তার সহকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ সোমবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের গুলশান বিভাগের উপ কমিশনার (ডিসি) আ. আহাদ। গ্রেপ্তার দু'জন হলেন- বাসের চালক মো. লিটন (৩৮) ও হেলপার মো. আবুল খায়ের (২২)। লিটন ভোলার ইলিশা গ্রামের মো. কালু মিয়ার ছেলে। আবুল খায়েরের গ্রামের বাড়িও ভোলায়, বাবার নাম হাসেম গরামি। ডিসি আ. আহাদ জানান, ভিক্টর পরিবহনের বাসের চাপায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী নাদিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় আজ সকালে বাসের চালক ও হেলপারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভিক্টর পরিবহনের বাসটি জব্দ করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এক বন্ধুর সঙ্গে মোটরসাইকেলে প্রগতি সরণি এলাকায় গিয়েছিলেন নাদিয়া। তাদের মোটরসাইকেলটিকে ভিক্টর ক্লাসিক পরিবহনের একটি বাস চাপা দেয়। এতে নাদিয়া মোটরসাইকেল থেকে রাস্তায় পড়ে বাসের সামনের চাকায় পিষ্ট হন। নাদিয়া আক্তার নর্দান ইউনিভার্সিটির ফার্মেসি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁর বাবার নাম জাহাঙ্গীর মৃধা। বাড়ি পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালি সদর ইউনিয়নের পূর্বনেতা গ্রামে। তাঁরা নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় থাকেন। রাজধানীর আশকোনা এলাকায় থেকে পড়াশোনা করছিলেন নাদিয়া। দুর্ঘটনায় নাদিয়ার বন্ধু মোটরসাইকেলের চালকের আসনে থাকা মেহেদী হাসান আহত হয়েছেন। তিনি ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য একটি বিভাগের ছাত্র।

    ডেমরায় সিএনজিচালক হত্যার মূল আসামিসহ গ্রেফতার ৩

    মাসুম পারভেজ, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট (ঢাকা): রাজধানীর ডেমরায় সিএনজিচালক আলী হোসেন হত্যার অন্যতম আসামি নুর হোসেন ওরফে বাঘাসহ (৪৩) এজাহারভুক্ত ৩ আসামিকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১০।  গ্রেফতার বাকি ২ জন হলেন- লিংচাঁন ওরফে নীলচাঁন মিয়া (৩৫) ও আব্দুর মান্নান (৩৫)।  শনিবার (২১ জানুয়ারি) ভোরে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর শনির আখড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে বাঘাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যমতে নারায়ণগঞ্জের রুপগঞ্জ থানার তারাবো এলাকায় অভিযান চালিয়ে বাকি দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়। শনিবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে র‌্যাব-১০'র সদর দপ্তর (কেরানীগঞ্জ) অধিনায়ক (সিও) অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন এ বিষয় নিশ্চিত করেন।  তিনি জানান, গত ১৯ জানুয়ারি রাতে সিএনজিচালক আলী হোসেন (৬০) যাত্রী পরিবহনের জন্য মুন্সীগঞ্জের মোক্তারপুর ব্রিজ এলাকায় অবস্থান করছিল। রাত ১টার দিকে অজ্ঞাতপরিচয় ৪ জন ছিনতাইকারী পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী যাত্রীবেশে ঢাকার মাতুয়াইল সাদ্দাম মার্কেটের সামনে যাওয়ার জন্য কৌশলে ৩৫০ টাকায় সিএনজিটি ভাড়া করে। সিএনজিচালক আলী হোসেন তাদের নিয়ে মাতুয়াইল যাওয়ার পথে রাত ২টার দিকে সাইনবোর্ড মদিনা চত্বর এলাকায় পৌঁছালে ছিনতাইকারীরা আলী হোনেসকে এলোপাথাড়ি মারধর শুরু করেন। এ সময় চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে ছিনতাইকারীরা  আলী হোসেনকে হত্যা করে পালিয়ে যাওয়ার সময় আল আমিন নামে একজন স্থানীয়দের হাতে আটক হয়। আর অন্য ছিনতাইকারীরা সিএনজি নিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার ভিত্তিতে র‌্যাব ছায়া তদন্ত শুরু করে। এর ধারাবাহিকতায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে ২টি সুইজ গিয়ার চাকু ও ১২টি টাই ক্যাবল উদ্ধার করা হয়। র‌্যাব-১০'র অধিনায়ক বলেন, চক্রটি সিএনজি ও অটোরিকশা ছিনতাইকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা বেশ কিছু দিন ধরে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জসহ আশপাশের এলাকায় অটোরিকশা ও সিএনজি ছিনতাই করে আসছিল। চলতি মাসে তারা কেরাণীগঞ্জ এলাকা থেকে একাধিক সিএনজি ছিনতাই করেছে। গ্রেফতারদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান তিনি।  

    ইনস্টাগ্রামে নারীর অশ্লীল ছবি ও ভিডিও, চিকিৎসক গ্রেপ্তার

    নিজস্ব প্রতিবেদক, সময়ের কণ্ঠস্বর: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অশ্লীল ছবি ও ভিডিও পাঠিয়ে নারীকে হয়রানির অভিযোগে এক চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপির সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম বিভাগ। গ্রেপ্তার আসামির নাম ডাঃ জোবায়ের আহমেদ (৩৮)। তিনি কুমিল্লা জেলার বরুড়া থানার বোয়ালীয়া গ্রামের মো. নুরুল আমিনের ছেলে। বৃহস্পতিবার (১৯ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এসময় তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। মামলা সূত্রে জানা যায়, গত বছর রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এক নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেন ডাঃ জোবায়ের আহমেদ। পরে তার কাছ থেকে বিভিন্ন কৌশলে অশ্লীল ছবি ও ভিডিও নিয়ে নিজ মোবাইল ফোনে ধারণ করে রাখেন। একপর্যায়ে জোবায়ের বিবাহিত এবং তার সন্তান আছে জেনে গেলে ওই নারী তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নিজের কাছে ধারণ করে রাখা অশ্লীল ছবি ও ভিডিও ইনস্টাগ্রাম আইডির মাধ্যমে ওই নারীকে পাঠিয়ে বিভিন্নভাবে হয়রানি করছিলেন ডাঃ জোবায়ের আহমেদ। এ ঘটনায় জোবায়েরকে আসামি করে সম্প্রতি রাজধানীর ভাটারা থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেন তিনি। পরে ডিএমপির সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম বিভাগের ই-ফ্রড টিম প্রযুক্তি ব্যবহার করে ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে বৃহস্পতিবার রাতে আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া সাইবার টিমের সহকারী কমিশনার সুরঞ্জনা সাহা শুক্রবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, 'গ্রেফতারের পর আসামিকে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বিভিন্ন ডিভাইসে থাকা ভুক্তভোগীর গোপন ছবি ও ভিডিও উদ্ধার করা সম্ভব হবে।' তিনি আরও বলেন, 'এর আগেও নারীদের উত্যক্ত করার অভিযোগে ডাঃ জোবায়েরের বিরুদ্ধে সিলেটে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা হয়েছিল।'

    ভোমরা স্থলবন্দরে দফায় দফায় হয়রানীর শিকার বৈধ পাসপোর্ট যাত্রীরা

    স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, সময়ের কণ্ঠস্বর: সাতক্ষীরার ভোমরা স্থল বন্দরে বৈধ পাসপোর্ট যাত্রীদের দফায় দফায় হয়রানির অভিযোগ উঠেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ(বিজিবি) সদস্যদের বিরুদ্ধে। ফলে ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে বৈধ পাসপোর্ট যাত্রীদের যাতায়াত হ্রাস পেয়েছে। গত ডিসেম্বরে ভোমরা স্থল বন্দর দিয়ে যেখানে হাজার হাজার দেশি-বিদেশি পাসপোর্টযাত্রীদের বাংলাদেশ-ভারত যাতায়াত করেছে সেখানে জানুয়ারীতে নেমে গেছে তলানীতে। বৈধ পাসপোর্ট যাত্রীদের অভিযোগ, ‘বৈধ পথে আসলেও পথে পথে বিভিন্ন জায়গায় বিজিবি তাদের তল্লাশি করছে। ভারত থেকে সঙ্গে আনা পণ্য আটক দেখিয়ে রেখে দেয়া হচ্ছে। এসব পণ্যের কোনো কাগজপত্র বা সিজার লিস্ট দেয়া হচ্ছে না। প্রতিবাদ করলে দেওয়া হচ্ছে মামলা দিয়ে চালান দেয়ার হুমকি।’  সরেজমিনে দেখা যায়, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের ব্রীজ পার হতে না হতেই ভারত থেকে আগত বৈধ পাসপোর্ট যাত্রীদের ব্যাগসহ যাবতীয় মালামাল তল্লাসী করছে বিজিবি। এরপর ইমিগ্রেশনে পাসপোর্ট চেকিং শেষে বের হলেই কোন কোন পাসপোর্ট যাত্রীদের ডেকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে আইসিপি ঘরে। সেখানে ব্যাগ থেকে পণ্য নামিয়ে ফের করা হচ্ছে তল্লাসী। এরপর সেখান থেকে ছেড়ে দেওয়ার পর পাসপোর্ট যাত্রীরা যাচ্ছেন কাস্টমসে। সেখানে মালামাল চেকিং শেষ করে বাইরে আসতে না আসতেই আবার পাসপোর্ট যাত্রীদের ডেকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বিজিবির আইসিপি ঘরে। ব্যাগ থেকে পণ্য ইচ্ছামতো মেঝেতে নামিয়ে পুণরায় তল্লাসী চালানো হচ্ছে। আর একটু বেশি মালামাল পেলেই ঠনকু অজুহাতে সেগুলো রেখে দেওয়া হচ্ছে। একজন পাসপোর্ট যাত্রীর কাছ থেকে কিকি পণ্য নেওয়া হলো তার কোন সিজার লিস্টও দেওয়া হচ্ছেনা। এরপর সেখান থেকে ছেড়ে দিলে ভোমরা স্থলবন্দরের শেষ সীমানার বাঁশকলে এবং আলীপুর বিজিবি চেকপোস্টে আবারো চেক করা হচ্ছে।  ভারতের উত্তর চব্বিশ পরগণার প্রফুল্ল নগর এলাকার বাসিন্দা পিন্টু বিশ্বাস(পাসপোর্ট নং আর০৬৯১০৪৩) বলেন, ‘আমি ভোমরা স্থল বন্দর দিয়ে দ্বিতীয় বার আসলাম। আত্মীয়দের দেওয়ার জন্য আমি সাথে করে একটি কম্বল, কিছু ইমিটেশন পণ্য নিয়ে এসেছিলাম। যেগুলোর আনুমানিক মূল্য ৭ হাজার টাকা। ইমিগ্রেশন, কাস্টমস কম্পিলিট করার পর রাস্তায় আসামাত্র বিজিবি ডেকে নিয়ে আমার সকল পণ্য রেখে দিয়েছে। আমি অনেক রিকোয়েস্ট করলাম তবুও আমার কিছুই ফেরত দেওয়া হয়নি। তারা বলেছেন, ‘এগুলো ট্যাক্স হয়। আপনি ট্যাক্স দেননি। আমাদের মালামাল যদি এভাবে রেখে দেয় তাহলে আমরা আসবো কি করে? আমাদের যেন এরূপ হয়রানী করা না হয় সে ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আমরা দাবী জানাচ্ছি।’  ভারতের কৃষ্ণনগর গোয়ালদাহ এলাকার সুজিত বিশ্বাস (পাসপোর্ট নং ভি১২৩৩২৪৮) বলেন, ‘আমি এই প্রথম বাংলাদেশে এসেছি। সাথে করে আমি ৫টি শাড়ী নিয়ে এসেছিলাম কিন্তু বিজিবি আমার সেই শাড়ী ৫ টা নিয়ে নিয়েছে। আমি অনেক রিকোয়েস্ট করেছি। বলেছি স্যার আমিতো ব্যবসা করিনা। এগুলো আত্মীয়-স্বজনদের জন্য এনেছি। তবুও তারা মানেনি। কাস্টমস সহ সকল জায়গা কম্পিলিট করার পরও যদি বিজিবি আমাদের জিনিস এভাবে নিয়ে নেয় তবে এখানে কাসটমস থাকার দরকার কি? আমরা যে পরিমাণ হয়রানির শিকার হচ্ছি তাতে ভোমরা বর্ডার দিয়ে আর আমরা আসবোনা এবং কেউ যাতে না আসে সেজন্য নিষেধ করবো।’  খুলনা এলাকার পাসপোর্টযাত্রী ইয়াছিন বলেন, কাস্টমস শুল্ক গোয়েন্দারা ব্যাগ তল্লাশি করে ছেড়ে দিয়েছে। তারপর গেট পার হলে রাস্তার উপর থেকে বিজিবি ডেকে নিয়ে ওই একই ব্যাগ খুলে তল্লাশি করেছে। তারপর শুনছি সামনে আরো কয়েক জায়গায় বিজিবি তল্লাসী করবে। এটা কি কোনো সভ্য সমাজের কাজ হতে পারে?  ভোমরা স্থলবন্দরের একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, পাসপোর্টযাত্রীর কাছ থেকে বিজিবি যেসব পণ্য রেখে দিচ্ছে তার কোনো কাগজপত্র দিচ্ছে না। এই পণ্যগুলো কোথায় কীভাবে যাচ্ছে বা কাস্টমসে সঠিকভাবে জমা হচ্ছে কি-না তার কোনো সঠিক প্রমাণাদি থাকছে না। ওইসব পণ্যের মালিক থাকার পরও মালিকবিহীন দেখিয়ে তারা সিজ করছে। এর আগে বিজিবি পাসপোর্টযাত্রীদের কাছ থেকে যেসব পণ্য আটক করতো তাদের নাম ও পাসপোর্ট নম্বর উল্লেখ করে কাস্টমসে জমা দিত এবং যাত্রীদের এক কপি কাগজও দিয়ে দিত। ওই কাগজ নিয়ে যাত্রী কাস্টমস থেকে সরকারি শুল্ক পরিশোধ করে পণ্য চালান ছাড় দিতে পারতেন। কিন্তু সিজার লিস্ট না দেওয়ার ফলে যাত্রীরা ওই পণ্য সরকারি শুল্ক দিয়ে ছাড়িয়ে নিতেও পারছেন না। আটক সব পণ্য কাস্টমস গোডাউনে জমা করা হয় কি না তা নিয়েওতো প্রশ্ন আছে। ভোমরা বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার হিসেবে ওহিদুল ইসলাম আসার পর থেকে সরকারি ভ্রমণ কর দিয়ে বৈধপথে ভারত থেকে ব্যবহারের কিছু জিনিসপত্র আনার পরও বিজিবির হাতে প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন পাসপোর্ট যাত্রীরা। কাস্টমসের একটি সূত্র জানায়, বন্ডেড এলাকার মধ্যে বৈধ পাসপোর্টযাত্রীদের কোনো পণ্য দেখার নিয়ম না থাকলেও তারা এটা দেখছে আমাদের করার কিছু নেই। এনিয়ে বার বার বৈঠক হওয়া স্বত্তেও বিজিবি তা মানছে না।  ভোমরা ইমিগ্রেশনের ওসি মাজরিয়া হোসাইন বলেন, ‘গত ডিসেম্বরের চেয়ে জানুয়ারী মাসে পাসপোর্ট যাত্রীদের যাতায়াত কমে গেছে। তবে কি কারণে কমে গেছে সেটি বলতে পারবোনা।’  ভোমরা বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার অহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশের কাস্টমস আইনে ইন্ডিয়ান নাগরিকের জন্য ১০ টাকারও লাগেজ সুবিধা নেই। এছাড়া ইন্ডিয়ান নাগরিকের কাছ থেকে যে পণ্য আমরা সিজ করি তার কোন সিজার লিস্ট আমরা দেইনা। আমরা সরকারের নিয়ম অনুযায়ী কাজ করি। বিজিবি আইন, পুলিশ আইন, মাদক দ্রব্য আইন শেখার পর এই ভোমরায় এসে আমাকে কাস্টমস আইন শেখা লেগেছে। এজন্য আমি সকল বিষয় জানি।’  বৈধ পথে আসা পাসপোর্ট যাত্রীদের হয়রানী করা অমানবিক উল্লেখ করে ভোমরা সিএন্ডএফ এজেন্টস এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ খান বলেন, ‘যাদের সন্দেহ হয় তাদের বিজিবি চেক করুক। ১০০ জনের মধ্যেতো আর ১০০ জনইতো আর খারাপ না। ইচ্ছামতো সকলকে চেক করা বন্ধ হওয়া উচিৎ। আমরা বিভিন্ন মিটিং এই বিষয়ে কথা বলেছি কিন্তু কোন সুরাহা হয়নি।’  এ ব্যাপারে জানার জন্য সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটলিয়ান অধিনায়কের মোবাইল নম্বরে একাধিক বার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি। 

    চোর সন্দেহে স্কুলছাত্রকে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন, গ্রেপ্তার ২

    জাহিদ হোসাইন, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: চোর সন্দেহে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে নবম শ্রেণির স্কুলছাত্র সুরাইমান বিল্লাল (১৫) কে হাত-পা বেঁধে নির্যাতনের মামলায় ঘের মালিক ও কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করেছে সাতক্ষীরার তালা থানা পুলিশ। শনিবার (২৮ জানুয়ারি) রাতে বাড়ি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন, তালার আড়ংপাড়া গ্রামের সাদেক গাজীর ছেলে ও ঘের মালিক জাকির গাজী (৪৫) ও ঘেরের কর্মচারী সোহেল ফকির (২০)। তালা থানার ওসি চৌধুরী রেজাউল করিম আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, টাকা চুরির অপবাদে স্কুল ছাত্রকে নির্যাতনের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় দু'জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদেরকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এছাড়া এখনো এক আসামি পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার (২৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় আড়ংপাড়া গ্রামে (কুলিন্দার বিলে) জাকির গাজীর ঘের থেকে এক হাজার টাকা চুরির অভিযোগ এনে তেরছি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্র ও লাউতাড়া গ্রামের মান্নান গাজীর ছেলে সুরাইমান বিল্লালকে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করার অভিযোগ ওঠে ঘের মালিক জাকির গাজী, ঘেরের কর্মচারী সোহেল ফকির ও জয়দেবের বিরুদ্ধে।  ওই ঘটনায় স্কুলছাত্রের দাদা হোসেন গাজী বাদী হয়ে তালা থানায় মামলা করেন।

    বিস্ফোরক দ্রব্য মামলায় সাতক্ষীরা পৌর মেয়র চিশতী কারাগারে 

    জাহিদ হোসাইন, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: নাশকতা চেষ্টার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় সাতক্ষীরার পৌর বিএনপির সদস্য সচিব ও পৌর মেয়র তাজকিন আহমেদ চিশতীর জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।  মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১২টায় সাতক্ষীরা চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোঃ হুমায়ুন কবির তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।   মামলা সূত্রে জানা গেছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন, খালেদা জিয়াসহ আলেম ওলামাদের মুক্তিসহ ১০ দফা দাবিতে সাতক্ষীরা শহরে বিক্ষোভ করে জামায়াত। সে সময় নাশকতা সৃষ্টির অভিযোগে ১৬ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এঘটনায় সদর থানার এসআই দেলোয়ার হোসেন বাদী হয়ে তাজকিন আহমেদ চিশতী ও জেলা বিএনপির আহবায়ক আব্দুর রউফসহ অজ্ঞাত ২ শতাধিক ব্যক্তিকে আসামী করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং জি আর ৯৬২/২২। সাতক্ষীরা জজ কোর্টের পিপি আব্দুল লতিফ বলেন, বিশেষ ক্ষমতা আইনে ১৫(৩)/২৫-ডি এর ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইন তৎসহ ১৯০৮ সালের বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের ৩/৪/৬ ধারার মামলায় চিশতীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।  তাজকিন আহমেদ চিশতী এর পক্ষের আইনজীবী ও সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির আহবায়ক এড. সৈয়দ ইফতেখার আলী জানান, ঘটনার দিন জামায়াতের মিছিল হয়েছিলো। ২৪ ডিসেম্বরের ঘটনায় তাকে আসামী করা হয়েছে। অথচ তাজকিন আহমেদ চিশতী তার মায়ের অসুস্থ্যতা জনিত কারনে গত ২২ ডিসেম্বর ভারতে গমন করেন এবং ফিরে আসেন ২৬ ডিসেম্বর। তারপরও তাকে ওই মামলায় আসামী করা হয়েছে। পাসপোর্টের ফটোকপিসহ ভারতে যাওয়ার এবং অবস্থানের সকল প্রমান আদালতে উপস্থাপন করা হলেও তার জামিন নামঞ্জুর করেন আদালত।   

    নাশকতার অভিযোগে সাংবাদিক রঘুনাথ খাঁসহ গ্রেপ্তার তিন

    জাহিদ হোসাইন, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: দীপ্ত টিভি ও উত্তরাধীকার ৭১ এর জেলা প্রতিনিধি ও মানবাধিকার কর্মী রঘুনাথ খাঁকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (২৩ জানুয়ারী) সন্ধ্যা ছয়টার দিকে দেবহাটা উপজেলার খলিশাখালী সাতমরা এলাকা থেকে তাঁকেসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে নাশকতার অভিযোগে মামলা করেছেন দেবহাটা থানার উপপরিদর্শক লাল চাঁদ। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১৯ জনকে আসামি করা হয়েছে।   গ্রেপ্তার অন্য দুজন হলেন উপজেলার ঢেবুখালী গ্রামের রেজাউল করিম ও চালতেতলা এলাকার লুৎফর রহমান। দেবহাটা থানার ওসি শেখ ওবায়দুল্লাহ এসব বিষয়ের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। রঘুনাথ খাঁ কালীগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুরে গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা। তবে তিনি শহরের দক্ষিণ কাটিয়া এলাকায় ভাড়া বাড়িতে থাকেন। তবে তিনি শহরের লস্কারপাড়ার ভাড়া বাড়িতে থাকেন।  রঘুনাথ খাঁর স্ত্রী সুপ্রিয়া রানী খাঁ বলেন, রঘুনাথ খাঁ সোমবার সকাল ছয়টার দিকে বাড়ি থেকে সংবাদ সংগ্রহের জন্য বের হন। বেলা সোয়া ১১টার দিকে সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর বড়বাজারের তিন রাস্তার মোড় এলাকা দুজন লোক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে তাঁকে একটি মোটরসাইকেলে করে তুলে নিয়ে যান।  

    সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও প্রতিবন্ধী নারী আয়েশা খুঁজে পায়নি আপন ঠিকানা 

    মতিন রহমান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট (মাগুরা): গেল বছরের ১২ই আগষ্ট মাগুরার মহম্মদপুর বাজারে ঘোরাফেরার সময় বাক প্রতিবন্ধী আয়েশা (৩০) নামে এক নারীকে দেখতে পায় জনৈক টুকু শেখ নামের এক ব্যাবসায়ী।  বাক প্রতিবন্ধী ওই নারীকে দেখে তিনি খবর দেন মহম্মদপুর থানা পুলিশকে। মহম্মদপুর থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। বাক প্রতিবন্ধী তার নাম আয়েশা ছাড়া আর কিছুই লিখতে বা বলতে পারেন না। পরবর্তীতে ১৪ই আগস্ট তাকে মাগুরা বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালত সরকারের সেফহোম টেপাখোলা ফরিদপুরে প্রেরণ করে পরবর্তী গ্রহণের ব্যবস্থা গ্রহণের আদেশ প্রদান করেন। বর্তমানে বাক প্রতিবন্ধী আয়েশা ফরিদপুর সেফ হোমে অবস্থান করছেন। মহম্মদপুর থানা অফিসার ইনচার্জ অসিত কুমার রায় বলেন, আমরা বাক প্রতিবন্ধী নারীকে তার পরিবারের নিকট ফিরিয়ে দিতে কাজ করে যাচ্ছি। এ বিষয়ে থানা পুলিশের পক্ষ থেকে সকলের সহায়তা কামনা করছি।

    কক্সবাজারে আরসা সদস্যসহ ২ রোহিঙ্গা গ্রেফতার

    স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, কক্সবাজার: কক্সবাজারের রামু থেকে দুই রোহিঙ্গাকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১৫। র‍্যাবের দাবি, এদের একজন মিয়ানমারের বিছিন্নতাবাদী সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) সদস্য। গ্রেফতাররা হলেন, টেকনাফের ২২ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ‘সি’ ব্লকের দিল মোহাম্মদের ছেলে মো. শফিক ওরফে হাফেজ শফিক (৩০) ও একই ক্যাম্পের ‘ডি’ ব্লকের রশিদ আহমেদের ছেলে ইসলাম (২৬)। বৃহস্পতিবার (২ ফেব্রুয়ারি) ভোরে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের রামুর র‌্যাব-১৫-এর কার্যালয়ের সামনে তল্লাশি চৌকি বসিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। র‌্যাব-১৫-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (আইন ও গণমাধ্যম) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আবু সালাম চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, অভিযানে গ্রেফতার হাফেজ শফিক টেকনাফ থানায় দায়ের হওয়া অস্ত্র মামলার আসামি। ইসলাম মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আরসার সদস্য। তার বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা রয়েছে। এদের দুজনকে টেকনাফ থানায় সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানান এই র‌্যাব কর্মকর্তা।

    মারা গেছেন অসুস্থ রাসেল, চিকিৎসাধীন বোন টুম্পা!

    স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, কক্সবাজার: কক্সবাজারের চকরিয়ার ডুলহাজারাস্থ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্কে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাধীন ছিল সিংহ সহোদর রাসেল ও টুম্পা। পাঁচ সদস্যের চিকিৎসক দল অসুস্থ ভাই-বোনের চিকিৎসা করছিল। তবুও বাঁচানো গেলোনা ১৬ বছর বয়সী ভাই রাসেলকে। মঙ্গলবার (৩১ জানুয়ারী) সন্ধ্যায় রাসেল মারা গেলে থানায় জিডি দায়েরের পর রাতে ময়নাতদন্ত করে পুঁতে ফেলা হয় পার্কে। ১৫ বছর বয়সী টুম্পা এখনো গুরুতর অসুস্থ। বুধবার সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সাফারী পার্কের তত্বাবধায়ক মাজহারুল ইসলাম। তিনি বলেন, গ্যাস্ট্রলোজিক্যাল সমস্যাসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয় সিংহ রাসেল ও টুম্পা। চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন ও সার্জারি বিশেষজ্ঞ ড. বিবেক চন্দ্র সূত্র ধরের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের মেডিকেল দল তাদের নিয়মিত চিকিৎসা চালিয়ে আসছিল। তবুও রাসেলকে বাঁচানো যায়নি। টুম্পাও শংকামুক্ত নয়। সিংহ রাসেল ২০০৭ সালের ১৫ অক্টোবর এবং সিংহী টুম্পা ২০০৮ সালের ২০ নভেম্বর সাফারি পার্কে জন্মগ্রহণ করে। রাসেলের মৃত্যুর পর পার্কে বর্তমানে ১ টি সিংহ ও ৩ টি সিংহী রয়েছে।

    জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ছোট ভাইকে হত্যা, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

    স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, কক্সবাজার: কক্সবাজারের টেকনাফে জমি বিরোধের জেরে ‘ছোট ভাইকে কুপিয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামি’ বড় ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। গ্রেপ্তার মোহাম্মদ ইউনুছ (৬০) টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীরদ্বীপ উত্তর-পশ্চিম পাড়ার মৃত মকবুল আহম্মদের ছেলে। বুধবার (০১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় র‍্যাব-১৫ কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এতথ্য জানান ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর মো. সাদিকুল হক। মামলার নথির বরাতে মেজর সাদিকুল সাংবাদিকদের বলেন, টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপ উত্তর-পশ্চিম পাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ ইউনুছের সঙ্গে তার ছোট ভাই মোহাম্মদ হোসেনের মধ্যে জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এনিয়ে গত ২৮ জানুয়ারি বিকাল সাড়ে ৫ টায় মোহাম্মদ হোসেনকে বাড়ী থেকে ডেকে বের করেন বড় ভাই মোহাম্মদ ইউনুছসহ তার সঙ্গীয় লোকজন। পরে দুই ভাই জমি বিরোধ নিয়ে কথা কাটাকাটি শুরু করে। এক পর্যায়ে ইউনুছ ও তার সন্তানরাসহ সঙ্গীয় লোকজন ধারালো দা’সহ দেশিয় অস্ত্র-সশস্ত্র নিয়ে মোহাম্মদ হোসেনের উপর হামলা চালায়। এতে ধারালো অস্ত্রের এলোপাতাড়ী আঘাতে মোহাম্মদ হোসেন গুরুতর জখম পূর্বক ফেলে রেখে হামলাকারিরা পালিয়ে যায়। র‍্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, পরে স্বজনরা মোহাম্মদ হোসেনকে উদ্ধার করে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। এসময় তার অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। পরে সেখানে আনা হলে জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এঘটনায় গত ৩০ জানুয়ারি নিহতের স্ত্রী আম্বিয়া খাতুন বাদী হয়ে মোহাম্মদ ইউনুছকে প্রধান আসামি করে টেকনাফ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন বলে জানান সাদিকুল হক। তিনি বলেন, বুধবার দুপুরে কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের মুহুরী পাড়ায় মামলার মোহাম্মদ ইউনুছসহ কয়েকজন আসামি অবস্থান করছে খবরে র‍্যাবের একটি দল অভিযান চালায়। এতে ওই এলাকায় সন্দেহজনক একটি বসতঘর ঘিরে ফেললে ৩/৪ জন লোক দৌঁড়ে পালানোর চেষ্টা চালায়। এসময় ধাওয়া দিয়ে একজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। মামলার অন্য আসামিদেরও গ্রেপ্তারে র‍্যাবের অভিযান চলছে বলে জানান মেজর মো. সাদিকুল হক।

    চট্টগ্রামে ট্রাকের চাপায় নিহত এক যুবক

    চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় মো. রনি (২২) নামে ট্রাক চালকের এক সহকারীর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিঠাছরা গাংচিল ফিলিং স্টেশন এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। সিভেন রিং সিমেন্টের সিনিয়র ম্যানেজার রেজাউল হক আল কাদেরী পারভেজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহত রনির বাড়ি চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা এলাকায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বুধবার সকাল ৯টার দিকে সেভেন রিং কোম্পানির একটি ট্রাক থেকে সিমেন্ট আনলোড চলছিলো। এসময় পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ওই ট্রাকের সহকারী রনিকে অপর একটি ট্রাক চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পাশ্ববর্তী একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ হাইওয়ে থানার ওসি মো. আলমগীর জানান, দুর্ঘটনার বিষয়টি তারা জানেন না। তবে খোঁজ নেয়ার চেষ্টা করছেন।  

    চাঁদপুরে জমি নিয়ে বিরোধে বৃদ্ধের মৃত্যু

    মাহফুজুর রহমান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট: চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় জমির সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে দুপক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। নিহত শুক্কুর আলী (৬৫) উপজেলার ১১নং পশ্চিম ফতেপুর ইউনিয়নের উত্তর ফৈলাকান্দি গ্রামের মৃত নছর আলী খানের ছেলে । এ ঘটনায় নিহত শুকুর আলীর ছেলে মহিউদ্দিনও আহত হয়েছেন।  মঙ্গলবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল ৭টায় উপজেলার ফতেপুর পশ্চিম ইউনিয়নের ফৈলাকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে মতলব উত্তর থানা পুলিশ। আটককৃতরা হলেন - ফৈলাকান্দি গ্রামের মনোয়ার খান এবং মনোহর আলী খানের দুই ছেলে আল আমিন ও আহাম্মদ খান।  মতলব উত্তর থানার ওসি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন জানান, জমির সীমানা নির্ধারণকে কেন্দ্র করে উপজেলার ফতেপুর পশ্চিম ইউনিয়নের ফৈলাকান্দি গ্রামের নিহত শুকুর আলীর সঙ্গে মনোয়ার খান, আল আমিন, আহাম্মদ গংয়ের বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে শুক্কুর আলীসহ দুজন আহত হন। পরে তাদের হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শুকুর আলীকে মৃত ঘোষণা করেন।  স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে শুকুর আলীর সঙ্গে মনোয়ার খান, আলামিন, আহাম্মদ গংয়ের জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এদিন সকালে তাদের জমির একটি সীমানা তুলে ফেলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় শুকুর আলী ও আলামিন আহত হন। পরে তাদের হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শুকুর আলীকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া আল আমিন বর্তমানে পুলিশের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।  মতলব উত্তর থানার ওসি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় মনোয়ার খান, আল আমিন ও আহাম্মদকে আটক করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ময়নাতদন্তের পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

    টাঙ্গাইলে বাস খাদে, আহত ১০

    টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে প্রান্তিক পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে ১০ জন যাত্রী আহত হয়েছে।  বৃহস্পতিবার দুপুরে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের কালিহাতী পৌরসভার সিলিমপুর চাটিপাড়া নামকস্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন,সখিপুর উপজেলার সাফিয়াচালা গ্রামের সুলতানা (৪৫), দেলোয়ার হোসেন (৫৫),ঘাটাইল উপজেলার নাটশালা গ্রামের খলিলুর রহমান (৬৫) ও সুমাইয়া খান (৫০),রসুলপুর গ্রামের হাফছা বেগম (২৩), করিমপুর গ্রামের রাজিব (২৪),ধনবাড়ি উপজেলার রঞ্জিত সরকার (৪৫),ময়মনসিংহ জেলার গৌরিপুর উপজেলার ভালুকাপুর গ্রামের মোসলেম উদ্দিন (৫৫), নান্দাইল উপজেলার পাছবাড়িয়া গ্রামের রেজাউল করিম (৪৪), ফুলবাড়িয়া গ্রামের জাহাঙ্গীর (৩৩)।  কালিহাতী  উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে সুমাইয়া খান, হাফছা বেগম ও রাজিবকে উন্নত চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। ৪ জন কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি চলে গেছে। পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের কালিহাতী পৌরসভার সিলিমপুর চাটিপাড়া নামকস্থানে এসে প্রান্তিক পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়।এতে প্রায় ১০/১২ জন যাত্রী আহত হয়।খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন,পুলিশ ও  কালিহাতী ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার করে তাদেরকে হাসপালে ভর্তি করা হয় ।

    সোনারগাঁয়ে নিয়মিত সাব রেজিষ্ট্রারের দাবিতে দলিল লেখকদের কর্মবিরতি

    সুমন মিয়া,নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ সাব রেজিষ্ট্রি অফিসে কর্ম বিরতি ও বিক্ষোভ করেছে ওই অফিসে কর্মকরত দলিল লেখকরা।  বৃহস্পতিবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে তারা এ কর্মবিরতি পালন করেছেন। এতে করে ভোগান্তিতে পড়েছেন দলিল লেখক, দাতা ও গ্রহিতারা।  দলিল লেখকদের অভিযোগ, দলিল নিবন্ধন করতে গিয়ে তারা সাব-রেজিষ্টার আলী আজগর (অতিরক্তি দায়িত্ব) দ্বারা ভোগান্তিতে পড়ছেন। তিনি দলিল নিবন্ধনে তার নিজের মতো ইচ্ছে মাফিক নিয়ম জুড়ে দিয়েছেন। সাব রেজিষ্টার সকল প্রকার দলিলে খাজনা, নামজারি, ডিসিআর ছাড়া দলিল নিবন্ধন করেন না। এছাড়াও তিনি সময় ক্ষেপন করে দলিল নিবন্ধন করার কারণে জমা দেওয়া সকল দলিল নিবন্ধন করতে পারেন না। জানা যায়, ১৭১.০২ বর্গ কিলোমিটারের আয়তনের সোনারগাঁয়ে ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা। প্রতিদিন গড়ে এ সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে ২শ থেকে ২৫০টি দলিল নিবন্ধন হয়ে থাকে। এ থেকে প্রতিদিন সরকারের রাজস্ব আদায় হয়। সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে নিয়মিত সাব রেজিষ্টার নিয়োগ না পাওয়ার কারণে গত দেড় মাসে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব বঞ্চিত হয়েছে সরকার। সোনারগাঁ সাব রেজিষ্টার আনম বজলুর রশিদ মন্ডল ২০২২ সালের ১৫ ডিসেম্বর বদলি হওয়ার পর থেকে এ সাব রেজিষ্ট্রি অফিসে কোন সাব রেজিষ্ট্রারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। ফলে জমি কেনা বেচা বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে ২২ ডিসেম্বর আড়াইহাজার সাব রেজিষ্ট্রার মো. আলী আজগরকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। ফলে কয়েকদিনের দলিল জমে থাকার কারণে দলিল নিবন্ধন সংখ্যা দীর্ঘ হয়। বর্তমানেরও দলিল নিবন্ধনে অনেক জট তৈরি হয়ে আছে। ফলে ওই সাব রেজিষ্ট্রি অফিসের দলিল লেখকরা তাদের দলিল নিবন্ধন করতে না পেরে হতাশ হয়ে পড়েছেন। শুধু দলিল লেখকই নয়, সঙ্গে দাতা ও গ্রহিতাদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। সোনারগাঁ সাব রেজিষ্ট্রি সূত্র জানায়, ২০০৪ সালের রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ মোতাবেক আরএস রেকর্ড মূলে মালিক হলে দলিল নিবন্ধনে কোন খাজনা, নামজারি ও ডিসিআর লাগবে না। দলিল মূলে মালিক হলে শুধুমাত্র ডিসিআর ও নামজারি জমা ভাগ লাগবে। আমমোক্তার, বিনিময়, বন্টন, দানের ঘোষণা, হেবা ঘোষণা, বিলওয়াজ হেবা, অছিয়ত, ভুল সংশোধন, ঘোষণা পত্র, না দাবি ক্ষেত্রে খাজনা, নামজারি ও ডিসিআর লাগবে দলিল নিবন্ধনে এমন কোন অধ্যাদেশ জারি হয়নি। সাব রেজিষ্ট্রার মো. আলী আজগর অতিরিক্ত দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি নিজের মনগড়া আইন তৈরি করে দলিল লেখক, দাতা ও গ্রহিতাকে চাপিয়ে দিয়েছেন। সাব রেজিষ্ট্রারের নিয়ম মতো কোন দলিল না হলেই তিনি দলিল নিবন্ধনে তালবাহানা শুরু করেন। এতে করে ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছে দলিল লিখক, দাতা ও গ্রহিতারা। দলিল লেককদের দাবি, ওমেদার হাফিজুর রহমান হাফেজ সাব রেজিষ্টার আলী আজগরের নাম ভাঙ্গিয়ে প্রতি দলিলে সিরিয়াল আগে পাওয়ার জন্য দলিল লেখকদের কাছ থেকে অতিরক্তি ৫-১০ হাজার টাকা আদায় করে থাকে। এতে আরো ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠে দলিল লেখকরা।  বৃহস্পতিবার সকালে দলিল লেখক সমিতির সভাপতি খলিলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক শহীদ সরকার ও সিনিয়র কয়েকজন দলিল লেখক একত্রিত হয়ে সাব রেজিষ্টার আলী আজগরের সঙ্গে দেখা করে জমা হওয়া সকল দলিল নিবন্ধনের অনুরোধ করেন। এতে সাব রেজিষ্টার দ্বি মত প্রকাশ করলে দলিল লেখকরা তাকে দলিল না করে চলে যেতে বলেন। এ খবর সকল দলিল লেখকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় হট্টগোল। এক পর্যায়ে সাব রেজিষ্ট্রারের অপসারণ দাবি করে স্লোগান দিতে থাকে। পরে সাব রেজিষ্ট্রার দলিল নিবন্ধন না করেই চলে যান। ফলে দলিল নিবন্ধন করতে আসা দলিল গ্রহিতা ও দাতারা বিপাকে পড়েন। কাঁচপুর উত্তরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সেলিম মিয়া বলেন, আমার মা কিডনী রোগী। তিন শতাংশ জমি বিক্রি করে মায়ের ডায়েলাইসিস করাবো। দু’দিন ঘুরে দলিল নিবন্ধন না হওয়ার কারনে ভোগান্তিতে পড়েছি। ফলে ডায়ালাইসিসের জন্য টাকার ধার করে হাসপাতালে যেতে হয়েছে। পিরোজপুর ইউনিয়নের ভাটিবন্দর গ্রামের শাহাজালাল মিয়া বলেন, আমি একজন প্রবাসী। আজ রাত ১১ টায় আমার ফ্লাইট। জমি বিক্রি করে দেনা পরিশোধ করতে চেয়েছিলাম। জমি নিবন্ধন না হওয়ার কারনে ঝামেলা এড়ানো সম্ভব হয়নি। আমার ঝামেলা থেকেই গেলো। এ সমস্যার সমাধান পেলাম না। সোনারগাঁ দলিল লেখক সমিতির সভাপতি মো. খলিলুর রহমান বলেন, এ সাব রেজিষ্ট্রি অফিসে প্রতিদিন গড়ে ২শ থেকে ২৫০টি দলিল নিবন্ধন হয়ে থাকে। সাব রেজিষ্ট্রার ইচ্ছে করে সময় ক্ষেপনের মাধ্যমে দলিলের সকল প্রকার কাগজপত্র দেখে নিবন্ধন করার কারনে দলিলের জট তৈরি হয়ে আছে। আমরা দেখা করে জমা দেওয়া সকল দলিল নিবন্ধনের অনুরোধ করেছি। তিনি সকল দলিল নিবন্ধন করে দ্বিমত করেন। তাই তাকে চলে যেতে বলা হয়েছে। সোনারগাঁ উপজেলা সাব রেজিষ্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আলী আজগর বলেন, এ সাব রেজিষ্ট্রি অনেক দলিল নিবন্ধন হয়ে থাকে। আমি দুদিন এ অফিসে সময় দিয়ে থাকি। ৬ দিনের দলিল এখানে দুদিনে নিবন্ধন করা সম্ভব হয় না। ফলে নেতৃত্ব দানকারীদের ডেকে আলাপ করেছি। তাদের দাবি সকল দলিল নিবন্ধন করতে হবে। এ নিয়ে আমাদের মধ্যে দ্বিমত থাকায় আমি চলে এসেছি। তবে দলিল লেখকদের বিক্ষোভের বিষয়ে তিনি জানেন না।

    মির্জাপুরে ফুটপাত দখল মুক্ত করতে অভিযান

    মো. সানোয়ার হোসেন, মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের মির্জাপুর পৌর শহরের ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অভিযান চালিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন।  বৃহস্পতিবার (০২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। জানা গেছে, পৌরসদরের ফুটপাতে দোকান বসিয়ে জনদুর্ভোগ সৃষ্টির দায়ে সংশ্লিষ্ট আইনে ৭জনকে ১৪ হাজার ৭শ' টাকা জরিমানা করা হয়। অবৈধ অটো রিকসার ১২জন মালিককে ৫হাজার ৬শ' টাকা জরিমানা করেন। এছাড়াও কয়েকজন ব্যবসায়ীকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে সময় দেয়া হয়। এব্যাপারে সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ফুটপাত দখল মুক্ত ও যানজট নিরসন করতে অভিযান চালিয়ে তাদের জরিমানা করা হয়। পর্যায়ক্রমে সম্পন্নভাবে ফুটপাত দখল মুক্ত করা হবে। এজন্য তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।  

    মাদারীপুর ২৫০ শয্যার হাসপাতালের আংশিক উদ্বোধন

    মেহেদী হাসান সোহাগ, স্টাফ করেসপন্ডেট (মাদারীপুর): মাদারীপুরের দীর্ঘ দিনের লালিত স্বপ্ন ২৫০শয্যা জেলা হাসপাতাল উদ্বোধনের মাধ্যমে বাস্তবে রুপ নিয়েছে।  বৃহস্পতিবার (০২ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে মাদারীপুর জেলা হাসপাতালের নতুন ভবনের হল রুমে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও মাদারীপুর ২ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা শাজাহান খান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নতুন ভবন উদ্বোধন করেন।  এসময় প্রধান অতিথি শাজাহান খান বলেন, আমাদের আগেই ১০০শয্যার হাসপাতাল ছিল। এখন আমরা মোট ২৫০শয্যার হাসপাতাল উদ্বোধন করলাম কিন্তু লোকবলের কারনে আমারা ৫০শয্যার কার্যক্রম করতে পারবো মোট ১৫০শয্যার কার্যক্রম এইখানে পরিচালিত হবে। আগামীতে লোকবল নিয়োগের মাধ্যমে পরিপূর্ণ ভাবে ২৫০শয্যার কার্যক্রম চালু করা যাবে এতে মাদারীপুর আধুনিক সেবা পাবে। মাদারীপুর সিভিল সার্জন মুনীর আহমেদ খানের সভাপতিত্বে এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন, মাদারীপুর পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম, মাদারীপুর সদর উপজেলার চেয়ারম্যান ওবাইদুর রহমান খান, মাদারীপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আলম চৌধুরী, সাবেক পৌর চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা খলিলুর রহমান খান, মাদারীপুর সাবেক জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শাজাহান হাওলাদার প্রমুখ।

    ফরিদপুরে পদ্মা নদী থেকে বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার 

    হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় পদ্মা নদী থেকে মো. জসীমউদ্দিন (৫৫) নামে এক বৃদ্ধের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ।  বুধবার (০১ ফেব্রুয়ারী) দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে উপজেলার আকোটেরচর ইউনিয়নের বুড়ির চর এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। মৃত ওই ব্যক্তি চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবন নগর এলাকার বাসিন্দা আবুল কাশেমের ছেলে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুর সিএন্ডবি ঘাট নৌ পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইদ্রিস আলী বলেন, আকোটেরচরের বুড়ির চরে মরদেহটি পদ্মা নদীতে ভাসমান অবস্থায় দেখে বুধবার রাত ১১টার দিকে এক ট্রলার চালক সদরপুর থানায় খবর দেন। পরে সদরপুর থানা পুলিশ নৌ পুলিশকে বিষয়টি জানায়। পরে রাত সাড়ে তিনটার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। ওসি মো. ইদ্রিস আলী আরও বলেন, মরদেহের শরীরে কোন পোশাক ছিল না। পরে বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ফরিদপুরের মাধ্যমে হাতের ছাপ নিয়ে মৃতের পরিচয় সনাক্ত করা হয়েছে।  তিনি বলেন, মরদেহটি ময়না তদন্তের জন্য ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

    চিকিৎসকদের সততা ও নিষ্ঠার সাথে রোগীদের সেবা দেওয়ার আহ্বান আমুর

    মো.নজরুল ইসলাম, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট (ঝালকাঠি): চিকিৎসকদের সততা ও নিষ্ঠার সাথে রোগীদের সেবা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, শেখ হাসিনা মানুষের দোড়গোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রতিটি হাসপাতালেই এখন বিশেষজ্ঞ কিচিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাই চিকিৎসকদের সততা ও নিষ্ঠার সাথে রোগীদের সেবা দিতে হবে।  বৃহস্পতিবার (০২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের পরিচালনা পরিষদের সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একটি কক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়। চিকিৎসা সেবার মান্নোয়নে সরকার নানা ধরণের পরিকল্পনা করে যাচ্ছে জানিয়ে আওয়ামী লীগের বর্ষিয়ান নেতা আমির হোসেন আমু বলেন, সদর হাসপাতালের নতুন ভবন বরাদ্ধ দেয়ায় দ্রুতো এর উন্নয়ন কাজ চলছে। সদর হাসপাতালকে ১০০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যা রূপান্ত করা হয়েছে। সুতরাং মানুষ যেন চিকিৎসা নিতে এসে ফিরে না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ঝালকাঠির সিভিল সার্জন ও সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এইচ এম জহিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার আফরুজুল হক টুটুল, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সরদার মো. শাহ আলম, সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খান সাইফুল্লাহ পনির, পৌর মেয়র মো. লিয়াকত আলী তালুকদার ও সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান খান আরিফুর রহমান।  অনুষ্ঠানে হাসপাতালের চিকিৎসক-নার্স ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

    ভোলায় নদীর তীর থেকে বিচ্ছিন্ন একটি হাত উদ্ধার

    এস আই মুকুল, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট (ভোলা): ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দুলারহাট থানা এলাকায় তেতুলিয়া নদীর তীর থেকে মানুষের শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন একটি হাত উদ্ধার করেছে পুলিশ।   বুধবার (০১ ফেব্রুয়ারি) ডিএনএ পরীক্ষার জন্য উদ্ধারকৃত হাতটি ভোলা সদর হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুলারহাট থানার ওসি আনোয়ারুল হক জানান, স্থানীয়দের সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাতে মানুষের একটি কাটা হাত উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত কাটা হাত নারী কিংবা পুরুষের তা এখনও শনাক্ত করা যায়নি। আজ ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। উদ্ধারকৃত হাত নিয়ে জনমনে কৌতুহলের সৃষ্টি হয়েছে।

    শেখ কামাল আন্ত:স্কুল ও মাদ্রাসা অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতা

    সৈয়দ বশির আহম্মেদ, পিরোজপুর প্রতিনিধি: পিরোজপুরে শেখ কামাল আন্ত:স্কুল ও মাদ্রাসা অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।  বুধবার (০১ ফেব্রুয়ারি) সকালে পিরোজপুর জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের আয়োজনে জেলা স্টেডিয়াম মাঠে এ প্রতিযোগীতার উদ্বোভন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাঈদুর রহমান, অতিরিক্তি জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুনিরা পারভীন, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা নকীব সহ বিভিন্ন উপজেলার নির্বাহী অফিসার বৃন্দ।  শ্রেণী ভিত্তিক দুটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নিবে শিক্ষার্থীরা। ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীরা ‘ক’ গ্রুপ এবং নবম ও দশম শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীরা ‘খ’ গ্রুপের হয়ে অংশ নিবে এই প্রতিযোগিতায়। ‘ক’ গ্রুপের ছাত্র-ছাত্রীরা ১০০ ও ২০০ মিটার দৌড়, হাই জাম্প ও লং জাম্পে অংশ নিবে। ‘খ’ গ্রুপের ছাত্র-ছাত্রীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে ১০০, ২০০, ৪০০, ৮০০ ও ১৫০০ মিটার দৌড়, হাই জাম্প, লং জাম্প, ট্রিপল জাম্প, বর্শা নিক্ষেপ, শট পুট, ডিসকাস থ্রো এবং ৪ গুনিতক ১০০ মিটার রিলেতে।  

    ঝালকাঠিতে আ'লীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষে ১০ নেতাকর্মী আহত

    মো.নজরুল ইসলাম, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট (ঝালকাঠি): ঝালকাঠির নথুল্লাহবাদ ইউনিয়নের হরিপাশা ইউনিট আওয়ামীলীগের নতুন কমিটি গঠন নিয়ে দুই গ্রুপে ব্যাপক সংঘর্ষে ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ জানুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৫টায় হরিপাশা ইউনিট কমিটির সম্মেলন অনুষ্ঠানে এঘটনায় সম্মেলন স্থল লন্ডভন্ড হয়ে হয়ে গেছে বলে জানাগেছে। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে আ’লীগের কয়েকজন নেতা জানায়, দলীয় হাইকমান্ড কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি গঠনের নির্দেশ দিলেও ইউনিয়নের কয়েকজন নেতা তাদের নিজেস্ব লোকদের দিয়ে কমিটি ঘোষণার চেষ্টা করায় স্থানীয় দু’গ্রুপ নেতাকর্মীদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় আ’লীগ নেতা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, পূর্ব নির্ধারিত সময়সূচী অনুযায়ী মঙ্গলবার বিকালে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক, ইউপি চেয়ারম্যান ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে হরিপাশা ইউনিট কমিটি গঠনের কার্যক্রম শুরু হয়। বক্তব্যের পর নতুন কমিটি ঘোষণা করার পূর্ব মূহূর্তে দু’গ্রুপ নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় আলমগীর হোসেন (৫৪) ও সুমন তালুকদার (৪০)সহ প্রায় ১০/১২জন নেতাকর্মী আহত হয়। এরমধ্যে গুরুত্বর আহত আলমগীর হোসেন ও সুমন তালুকদারকে চিকিৎসার জন্য ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে প্রেরন করা হয়। পরে উপস্থিত সিনিয়র নেতৃবৃন্দ হস্থক্ষেপ করেও পরিস্থিতি শান্ত করে না পারলে ঝালকাঠি থানা পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। হামলায় আহত আলমগীর হোসেন জানায়, তাকে চেয়ার দিয়ে বাড়ি দিয়ে স্থানীয় কাদের তালুকদারের পুত্র মনির তালুকদার মাথায় জখম করেছে। অপর আহাত সুমন তালুকদার জানায়, হরিপাশা এলাকার মোবারেক হোসেনের পুত্র জামাল তার উপর হামলা চালিয়ে মাথায় রক্তাক্ত জখম করেছ।

    ঝালকাঠিতে নিজের পাতা ফাঁদে কৃষকসহ ২ জনের অস্বাভাবিক মৃত্যু

    মো.নজরুল ইসলাম, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট (ঝালকাঠি): ঝালকাঠিতে এক কৃষকের নিজের পাতা ফাঁদে নিজেই মৃত্যু হয়েছে, অপরদিকে শহরতলি থেকে পৃথক ঘটনায় পঞ্চাশর্ধ এক ব্যাক্তি রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। স্ত্রীর দাবি স্বাবাভিক মৃত্যু কিন্তু সন্তানদের অভিযোগ শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। সোমবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে পুলিশ খবর পেয়ে শহরের কলেজমোড় এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে বেল্লাল হোসেন (৫৫) ও রমজানকাঠি গ্রাম থেকে সুলতান মোল্লা (৪০) নামের দুইজনের মৃতদেহ উদ্ধার করে। ঝালকাঠি থানা পুলিশ জানায়, সকালে বেল্লাল হোসেনের দ্বিতীয় স্ত্রীর ছেলে আল আমিন ৯৯৯-এ ফোন করে জানান, তার বাবাকে (প্রথম স্ত্রী) তার সৎ মা মাকসুদা বেগম শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলেছে। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। তবে নিহতের দিত্বীয় স্ত্রী মাকসুদা বেগম দাবি করেন, তার স্বামীর স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। ঝালকাঠি থানার সেকেন্ড অফিসার গৌতম কুমার ঘোষ জানায়, বেল্লাল হোসেনের মৃত্যু নিয়ে পরিবারের পাল্টা-পাল্টি অভিযোগ রয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য তার লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় ঝালকাঠি থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করছে পুলিশ। অন্যদিকে ঝালকাঠি সদর উপজেলার রমজানকাঠি গ্রামে চোরের হাত থেকে ক্ষেতের খিরাই রক্ষার জন্য নিজের তৈরি করা বৈদ্যুতিক ফাঁদে সুলতান মোল্লা (৪০) এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। মৃত সুলতান মোল্লা রমজানকাঠি গ্রামের মুজাহার মোল্লার ছেলে। এব্যাপারে ঝালকাঠি থানার ওসি নাসির উদ্দিন সরকার বলেন, 'সুলতান মোল্লার লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।  

    ত্রিশালে ট্রাকের ধাক্কায় নিহত ২   

    মামুনুর রশিদ, ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের ত্রিশালে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বৈলর বড়পুকুর পাড় নামক স্থানে আজ বৃহস্পতিবার (০২ ফেব্রুয়ারি) সকালে দাঁড়ানো বালিভর্তি একটি ট্রাকের সাথে অপর একটি ট্রাকের সংঘর্ষে উপজেলার ধানীখোলা ইউনিয়নের চরকুমারিয়া গ্রামের জিন্নাত আলীর ছেলে পথচারী মিলন মিয়া (২৪)ও ট্রাকের হেলপার (৪২) অজ্ঞাতনামা ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন।  নিহত মিলন মিয়ার স্বজনরা জানান, সে একটি ইটভাটায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।   ত্রিশাল থানা পুলিশ নিহত দুই ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। নিহত ট্রাকের হেলপারের এখনো কোনো পরিচয় পাওয়া যায়নি।  

    কাঁঠাল গাছে মেছো বাঘের বাচ্চা!

    মিজানুর রহমান, শেরপুর প্রতিনিধি: শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার লোকালয় থেকে একটি মেছো বাঘের বাচ্চা উদ্ধার করা হয়েছে। রবিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের বন্দভাটপাড়া গ্রামের বখতিয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তির বাড়ির পাশের কাঁঠাল গাছ থেকে মেছোবাঘটি উদ্ধার করেন পুলিশ ও স্থানীয়রা । এদিকে মেছোবাঘ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে সেটিকে দেখার জন্য ভিড় জমায় উৎসুক জনতা৷ স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইগাতী উপজেলার সদর ইউনিয়নের বন্দভাটপাড়া গ্রামের বখতিয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তির বাড়ির পাশের কাঁঠাল গাছে বাঘের মতো এক বন্যপ্রাণী দেখতে পেয়ে থানা-পুলিশকে খবর দেন৷ পরে পুলিশ গিয়ে স্থানীয়দের চেষ্টায় মেছো বাঘের বাচ্চাটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। মেছো বাঘের বাচ্চাটির উচ্চতা প্রায় দেড় ফুট, লম্বায় আড়াই ফুট। সারা গায়ে ডোরাকাটা দাগ রয়েছে। মুখমণ্ডল অনেকটা বিড়ালের মতো, গায়ের রং ধূসর৷ ঝিনাইগাতী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কাশেম বলেন, আমরা মেছো বাঘের বাচ্চাটি উদ্ধার করে বনবিভাগের কাছে হস্তান্তর করেছি। বনবিভাগের রাংটিয়া রেঞ্জের গজনী বিট কর্মকর্তা মো. মকরুল ইসলাম বলেন, এটি গারো পাহাড়ের জঙ্গলে অবমুক্ত করা হবে৷ এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারুক আল মাসুদ বলেন, বন-জঙ্গলে খাবার না পেয়ে হয়তো মেছো বাঘের বাচ্চাটি লোকালয়ে চলে এসেছে। এটি অবমুক্ত করার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

    ত্রিশালে মহিলা কলেজের নতুন ভবন উদ্বোধন 

    মামুনুর রশিদ, ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের ত্রিশালে অবস্থিত ত্রিশাল মহিলা ডিগ্রী কলেজের একটি  চারতলা বিশিষ্ট নান্দনিক শিক্ষা ভবন উদ্বোধন করা হয়েছে।  রোববার সকালে ভবনটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব হাফেজ মাওলানা রুহুল আমিন মাদানী এমপি। ভবন উদ্বোধন পূর্ব এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন  জাতীয় সংসদ সদস্য হাফেজ মাওলানা রুহুল আমিন মাদানী।  উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা আক্তারুজ্জামানের সভাপতিত্বে অধ্যাপক আবুল বাশারের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ সেলিমুল হক তরফদার। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন  উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক যুগ্ন আহবায়ক শোভা মিয়া আকন্দ, আশরাফুল ইসলাম মন্ডল, হারুন-অর-রশিদ, শফিকুল ইসলাম, খবিরুজ্জামান সহ আরো অনেকে।

    ত্রিশালে একতা ব্রিকস ভাটায় অবাধে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ  

    মামুনুর রশিদ, ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি: ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল উপজেলার কানিহারী ইউনিয়ন এলংজনি বাজার সংলগ্ন একটি ইটভাটায় প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দেদারছে অবাধে কাঠ পোড়ানো হচ্ছে।  ভাটার মালিক প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয়রা প্রতিবাদ করার ভাষা হারিয়ে ফেলেছে। তারা প্রশাসনের জরুরী দৃষ্টি কামনা করেছেন। এছাড়াও এই উপজেলায় অসংখ্য ইটভাটায় কয়লার পরিবর্তে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ।  জানা যায়, এলংজনি বাজার সংলগ্ন মেসাস একতা ব্রিকস’ নামের অবৈধ ইটভাটা এটি। এর নেই কোনো পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র। উক্ত  ইটভাটার বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় পার্শ্ববর্তী বাড়ির লোকজনের মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে। এছাড়াও ফসলি জমির পাশে ইটভাটা নির্মাণ করায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পার্শ্ববর্তী বাড়ির লোকজন জানান, ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় তাদের নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়। স্থানীয় বাজারের লোকজন জানান  বাজারের পাশেই গড়ে উঠা ইটভাটার কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে বাজারের ব্যবসায়ীরা।  ভাটার ভিতরে কাঠ ছোট বড় করার জন্য করাতকল ব্যবহার করে প্রতিদিন পুড়ছেন হাজার হাজার মণ কাঠ। ভাটার শ্রমিকরা বলেন মালিকপক্ষের নির্দেশে কয়লার পরিবর্তে কাঠ পোড়ানো হচ্ছে।   

    শেরপুরে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিসহ একজন আটক

    মিজানুর রহমান, শেরপুর প্রতিনিধি: শেরপুরে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিসহ এক নাশকতাকারীকে আটক করেছে র‍্যাব-১৪।  বৃহস্পতিবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে সদরের ভাতশালা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। জানা গেছে, আটককৃত মো. কামাল হোসেন (৩২) গনই মমিনাকান্দা এলাকার মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে।  র‌্যাব জানায়, গোপন খবরের ভিত্তিতে জেলা সদরের ভাতশালা এলাকার সাবিনা ইয়াসমিনের টিনের ঘরে অভিযান চালানো হয়। এসময় নাশকতাকারী কামাল হোসেনকে আটক করা হয় এবং তার কাছ থেকে একটি বিদেশী ওয়ান শুটারগান, এক রাউন্ড কার্তুজ, একটি কিলিং চেইন উদ্ধার করা হয়। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জামালপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার আশিকউজ্জামান জানান, কামাল মিয়ার বিরুদ্ধে শেরপুর সদর থানায় কয়েকটি মামলা রয়েছে। তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

    ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে বিদায় নিলেন স্কুলশিক্ষক

    মোঃ ইউনুস আলী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: বিদায় সব সময় বেদনার হলেও কখনো কখনো তা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকে। এমনই এক বিদায়ী সংবর্ধনা পেয়েছেন লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার তেঁতুলিয়া নীলকান্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মজিবর রহমান।  এই শিক্ষকের অবসরগ্রহণ উপলক্ষে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বর্ণিল এই আয়োজন করে। বিভিন্ন ফুলের মালা দিয়ে সাজানো ঘোড়ার গাড়িতে করে ওই শিক্ষককে বিদায় জানান সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা।  বৃহস্পতিবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টায় বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপজেলার চলবলা ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া নীলকান্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন কালীগঞ্জ উপজেলা (ভারপ্রাপ্ত) শিক্ষা অফিসার বীরেন্দ্রনাথ রায়। এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কালীগঞ্জ উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার আ ব মোকতাদের বিল্লাহ্,  উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার রনবীর কুমার রায়, উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার যোগেন্দ্রনাথ সেন, বারাজান এসসি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রদীপ কুমার সরকারসহ শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।  বৃহস্পতিবার প্রধান শিক্ষক মজিবর রহমানের চাকরি জীবনের শেষ দিন ছিল। ওই দিন এভাবেই তাকে সুসজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে করে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়। বিদায়ী ওই শিক্ষক ওই উপজেলার কাকিনা ইউনিয়নের গোপালরায়  গ্রামের বাসিন্দা। তিনি তেঁতুলিয়া নীলকান্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। শিক্ষক মজিবর রহমান তার শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমি বিদায় নিচ্ছি, কিন্তু আমার দোয়া রেখে গেলাম। তোমরা লেখাপড়া করে যখন অনেক বড় হবে, তখন আমাদের কথা মনে পড়বে। তোমরা নিজেদেরকে মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আফিয়া সুলতানা বলেন, মজিবর রহমান স্যার শুধু শিক্ষক ছিলেন না, তিনি পিতার মতো আমাদের স্নেহ করতেন। তার বিদায় আমাকে খুব মর্মাহত করছে। তিনি না থাকলেও তার দেওয়া শিক্ষা আমাদের মানবিক জীবন গড়তে সহায়ক হবে। তেঁতুলিয়া নীলকান্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আঁখিরুজ্জামান বলেন, বিদায়ী শিক্ষক মজিবর রহমান শুধু একজন প্রধান শিক্ষক নন, তিনি আমার ভাইয়ের মতো ছিলেন। যেকোনো বিষয়ে পরামর্শ নিতাম। বিদায় বড় কষ্টের, তবুও মানতে হবে। আমাকেও এভাবে একদিন বিদায় নিতে হবে। একজন শিক্ষকের বিদায়কে স্মরণীয় করে রাখতে তাকে সুসজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে করে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের স্মরণে রাখতেই এমন ব্যতিক্রমী ও বর্ণাঢ্য আয়োজন। কালীগঞ্জ উপজেলা (ভারপ্রাপ্ত) শিক্ষা অফিসার বীরেন্দ্রনাথ রায় বলেন, একজন শিক্ষক যখন তার চাকরিজীবন শেষে বাড়ি ফিরে যান তখন তিনি অনেক কষ্ট পান। সন্তানতুল্য শিক্ষার্থীদের রেখে চলে যাওয়া খুব কষ্টের। বিদায়ের কষ্ট কিছুটা কমানোর জন্যই কর্তৃপক্ষ ব্যতিক্রমী এমন আয়োজন করেছে। কালীগঞ্জে এই পথম এমন উৎসবের বিদায়। শুধু মজিবর রহমান নয়, প্রতিটি শিক্ষকের বিদায় এমন হওয়া উচিত।

    ফুলবাড়ীতে একাদশ শ্রেণির নবীন বরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত। 

    অনিল চন্দ্র রায়, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বালারহাট স্কুল এন্ড কলেজ ও নাওডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজে ২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিকৃত নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্বোধনী ক্লাস উপলক্ষে নবীন বরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।  বুধবার (০১ ফেব্রুয়ারি) প্রতিষ্ঠান দুটিতে দিনব্যাপি এসকল কর্মসূচি পালিত হয়। সকাল ১১ টায় উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বালারহাট আদর্শ স্কুল এন্ড কলেজে উদ্বোধনী ক্লাস নবীন বরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফুলবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার মিজানুর রহমান মিঠু, বিশেষ অতিথি ছিলেন নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম বন্ধন। কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি মিজানুর রহমান মিজানের সভাপতিত্বে এবং ইসলামের ইতিহাস বিষয়ের প্রভাষক আইয়ুব আলীর সঞ্চালনায় এসময় অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মনিরুজ্জামান সরকার, সাবেক অধ্যক্ষ আলহাজ্ব তোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী, সাবেক ছাত্রনেতা মানিক মিয়া বাবু বক্তব্য রাখেন। অন্যদিকে নাওডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজে সকাল সাড়ে ১১ উদ্বোধনী ক্লাস উপলক্ষে নবীন বরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাসেন আলী। কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি হারুন অর রশিদের সভাপতিত্বে ও রসায়ন বিষয়ের জেষ্ঠ প্রভাষক আতাউর রহমান তাজুলের সঞ্চালনায় এসময় অধ্যক্ষ আব্দুল হানিফ, সহকারী প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।  বক্তব্য শেষে স্থানীয় ও কলেজের শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

    কুড়িগ্রাম জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুকে গণসংবর্ধনা

    অনিল চন্দ্র রায়, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদ শিমুলবাড়ী চওড়াবাড়ী আয়োজিত কুড়িগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের সংগ্রামী সাধারণ সম্পাদক আমান উদ্দিন আহমেদ মঞ্জুকে গণসংবর্ধনা দেয়া হয়েছে। সোমবার (৩১ জানুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৫টায় ফুলবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃদ্ধ জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের আগমন উপলক্ষে একটি বিশাল মোটরসাইকেল সোডাউনের মাধ্যমে শেখ হাসিনা ধরলা সেতু থেকে শিমুলবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এসে শেষ হয়। এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।  উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় ও শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদের সভাপতি নজির হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমান উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু, প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আহাম্মদ আলী পোদ্দার রতন, বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, কুড়িগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক গোলাম ওয়াদুদ সুজন, ফুলবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আতাউর রহমান শেখ, সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার মিজানুর রহমান মিঠু, শিমুলবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এজাহার আলী, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক মিলন, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তৌকির হাসান তমালসহ আরো অনেকে।  এসময় উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমান উদ্দিন আহমেদ মঞ্জুকে গণসংবর্ধনা প্রদান করেন। পরে দেশ সেরা শিল্পীগোষ্ঠীর পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। 

    ইউপি মেম্বারকে পেটালেন আওয়ামীলীগ নেতা

    মো. আব্দুল আজিজ, দিনাজপুর প্রতিনিধি: দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার ১নং খট্রামাধবপাড়া ইউনিয়নে গভীর নলকূপ নিয়ে ঝামেলা হওয়াই ইউপি মেম্বারকে পেটালেন আওয়ামীলীগ নেতা। সোমবার (৩০ জানুয়ারী) বিকেল ৪টায় উপজেলার ১নং খট্রামাধবপাড়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। উক্ত ঘটনায় আহতের ভাই রহমত আলী বাদী হয়ে হাকিমপুর থানায় একটি অভিযোগ করেছেন।   লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, গ্রামের একটি নলকূপ নিয়ে দীর্ঘ দিন যাবৎ ১নং খট্রামাধবপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম এবং বিনুল মেম্বারের ঝামেলা হয়ে আসছিলো। এমতাবস্থায় কয়েকবার আলোচনা বসেও মিমাংসা না হওয়ার কারণে নলকূপের ঘরটিতে বিনুল মেম্বার তালা বন্ধ করে রাখেন। ফলে লিখিত অভিযোগে ১নং বিবাদী শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে কয়েকজন গভীর নলকূপের ঘরের দেওয়াল ভেঙ্গে অবৈধভাবে প্রবেশ করে ভাংচুর শুরু করে। পরে বিনুল মেম্বার বাঁধা দিতে গেলে ১নং আসামীর হুকুমে আসামীগণ বিনুল মেম্বারকে এলাপাতারী বুকে এবং পিঠে আঘাত করেন। এক পর্যায়ে বিনুল মেম্বার মাটিতে পড়ে যায়। পরে স্থানীয়রা সেখান থেকে উদ্ধার করে হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়। এখন তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।  অভিযোগের বিষয়ে ১নং খট্রামাধবপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার সাথে তার নলকূপ নিয়ে দীর্ঘ দিন যাবৎ ঝামেলা হচ্ছে। তবে তাকে আমি মারধর করিনি। আমার নামে যে অভিযোগ দিয়েছে তা মিথ্যা।   হাকিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু সায়েম মিয়া বলেন, নলকূপ নিয়ে একটি ঝামেলা হয়েছে। সেই বিষয়ে থানাতে বিনুল মেম্বারের ভাই বাদী হয়ে একটি অভিযোগ দিয়েছে। আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করবো। 

    চট্টগ্রামে প্রকৌশলীকে লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে ফুলবাড়ীতে মানববন্ধন 

    অনিল চন্দ্র রায়, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মো. গোলাম ইয়াজদানীকে তার কক্ষে ঢুকে শারিরীকভাবে লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে এবং হামলাকারীদের বিচারের দাবীতে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা এলজিইডি'র কর্মকর্তা কর্মচারীর অংশ গ্রহণে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বিকাল সাড়ে ৩ টায় উপজেলা পরিষদের প্রধান ফটকের সামনে ফুলবাড়ী- নাগেশ্বরী সড়কে ঘন্টা ব্যাপী এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন চলাকালে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ফুলবাড়ী উপজেলা প্রকৌশলী আসিফ ইকবাল রাজীব প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী গোলাম ইয়াজদানী'র উপর হামলাকারী সন্ত্রাসী ঠিকাদার শাহাবুদ্দিনসহ জড়িতদের আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত বিচারের দাবী জানান।

    সিরাজগঞ্জে ৬২০ জন মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের বৃত্তি ও সন্মাননা প্রদান

    উজ্জ্বল অধিকারী, বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে জেলার ১১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অষ্টম ও দশম শ্রেণীর ৬২০ জন মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীকে বৃত্তি ও সম্মাননা সনদ প্রদান করেছে মানবকল্যানমুখী প্রতিষ্ঠান খাজা মোজাম্মেল হক (রঃদ) ফাউন্ডেশন। বৃহস্পতিবার (০২ ফেব্রুয়ারি) সকালে সোহাগপুর নতুন পাড়া আলহাজ্ব সিদ্দিক উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ৬২০ জন মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীকে বৃত্তি ও সম্মাননা সনদ প্রদান করা হয়। উৎসবমুখর এ অনুষ্ঠানে জেলার শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক, আমন্ত্রিত অতিথি ও সমাজের বিভিন্নস্তরের পেশাজীবি মানুষের উপস্থিতিতে ফাউন্ডেশনের মাননীয় চেয়ারম্যান ও প্রধান অতিথি খাজা টিপু সুলতান মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীর মাঝে বৃত্তি ও সম্মাননা সনদ প্রদান করেন।  প্রধান অতিথি তাঁর মুল্যবান বক্তব্যে বলেন, খাজা মোজাম্মেল হক্‌ (রঃ) ফাউন্ডেশন বিগত ২০০১ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সুন্দর ভাবে আমাদের কার্যক্রম চালিয়ে আসছে কিন্তু আমি খুবই দুঃখিত বিগত তিনটি বছর আমরা বৃত্তি প্রদান করতে পারিনি করোনার প্রাদুর্ভাবের কারনে। বক্তৃতা আমি পছন্দ করি না বরং কাজ করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। আমাদের ফলাফল গুলো খুবই নিষ্ঠার সাথে বাছাই কর হয় এতে কোনই সন্দেহ নেই। তাই পুরো সিরাজগঞ্জ জেলার মেধা এখানে উপস্থিত আছে। তিনি আরো বলেন সুধু ভাল ফলাফল করলেই হবে না একজন ভালো মানুষ হতে হবে।  অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সহকারী পরিচালক জনাব মোঃ তোফাজ্জল হোসেন। জেলা শিক্ষা অফিসার, বেলকুচি থানার অফিসার ইন-চার্জ, মেয়র, বেলকুচি উপজেলাসহ জেলা এবং উপজেলার উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাগন উপস্থিত ছিলেন।  ফাউন্ডেশনের বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের প্রধান সমন্বয়কারী আরমান খানের উপস্থাপনায় মেধাভিত্তিক প্রতিযোগিতামুলক অনুষ্ঠান “মেধায় মাতি” পর্বটি উপস্থিত সকলেই অনুষ্ঠানে আনন্দে মাতিয়ে রাখে। সংগীত শিল্পী এস, ডি রুবেল ও চলচিত্র অভিনেতা ফেরদৌস এ পর্বে উপস্থিত হয়ে সংক্ষিপ্ত শৈল্পীকতা উপস্থাপনার মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের উৎসাহ প্রদান করেন। উল্লেখ্য, ২০০১ সাল থেকে খাজা মোজাম্মেল হক (রঃ) ফাউন্ডেশন বৃত্তিপ্রদান কার্যক্রমের পাশাপাশি আরো ২টি মানবকল্যানমুলক কার্যক্রম করে আসছে সারাদেশজুড়ে। অভিজ্ঞ ডাক্তারের সমন্বয়ে ঢাকার শ্যামলীবাগ, শ্যামলীতে ও শ্রীমঙ্গলের জান্নাতুল ফেরদৌস কমপ্লেক্সে বিনামুল্যে চিকিৎসাপত্র প্রদান কেন্দ্রের মাধ্যমে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা এবং শুধুমাত্র খাজা শাহ ইউনুছ আলী এনায়েতপুরী (রঃ) এর নেছবতভুক্ত অসচ্ছল কর্মক্ষম ভক্তবৃন্দের মাঝে ‘ছাদকা-ই-জারিয়া’ হিসেবে এককালীন মুলধন প্রদান করে আসছে।

    নওগাঁয় ভারতীয় সীমান্তে বিজিবির উপর মাদক কারবারিদের হামলা

    নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর ধামইরহাট সীমান্তে মাদক কারবারিদের তল্লাশীর সময় বিজিবি সদস্যদের উপর হামলা চালিয়েছে সঙ্ঘবদ্ধ মাদক কারবারিরা। এ সময় অস্ত্র ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে বিজিবি। ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু মাদক ও মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে বিজিবি সদস্যরা।  বুধবার (০১ ফেব্রুয়ারি) বিকালে উপজেলার উমার ইউনিয়নে চকচন্ডি সীমান্তের সুন্দরা ও চকমহেশ নামক স্থানে এই ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পত্নীতলায়-১৪ বিজিবি ব্যাটলিয়নের অধিনায়ক লে: কর্ণেল হামিদ উদ্দিন পিএসসি। বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, চকচন্ডি বিওপি ক্যাম্পের নায়েক মিজানের নেতৃত্বে একটি দল চকচন্ডি ক্যাম্পের এলাকায় বিকেলে সুন্দরা ও চকমহেশ টহল দিচ্ছিলেন। ভারতীয় সীমান্তে ঘেঁষা ধামইরহাট উপজেলার চকমহেশ গ্রামের উত্তরে মাঠে নজরুল ইসলামের সরিষা ক্ষেতের পাশ দিয়ে রাস্তা দিয়ে মোটরসাইকেল যোগে তিনজন আরোহী যাচ্ছিলেন। মোটরসাইকেল আরোহীদের গতি বিধি সন্দেহ হলে তাদের পথ রোধ করে দেহ তল্লাশী শুরু করে বিজিবি সদস্যরা।  এসময় ওই তিনজন বিজিবি সদস্যদের উপর চড়াও হয়। এক পর্যায়ে ওই তিনজন তাদের সহযোগিদের মোবাইল ফোন করলে ৫-৬টি মোটরসাইকেল নিয়ে আরও ১০-১২ জন দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে বিজিবি সদস্যদের মারতে শুরু করেন। এসময় মাদক কারবারিদের সাথে বিজিবি সদস্য লেন্স নায়েক হাফিজ ও সিপাহী মজিবরের সাথে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে বিজিবি সদস্যরা তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি করেন। সংবাদ পেয়ে চকচন্ডি ক্যাম্প হতে আরও বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসলে হামলাকারী মাদক কারবারিরা ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে হামলাকারীদের ফেলে যাওয়া একটি মোটরসাইকেল, ৪০পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও তিন বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করেন। পত্নীতলায়-১৪ বিজিবি ব্যাটলিয়নের অধিনায়ক লে: কর্ণেল হামিদ উদ্দিন পিএসসি বলেন, এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। হামলাকারি মাদক কারবারিদের আটকের অভিযান চলছে। হামলা ও অস্ত্র কেড়ে নেয়ার চেষ্টাসহ বিভিন্ন অভিযোগে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

    ফেসবুকে হা হা রিয়েক্ট দেয়ায়  রাজশাহী কলেজে সহপাঠীকে ছুরিকাঘাত

    অসীম কুমার সরকার, রাজশাহী প্রতিনিধি: ফেসবুকে হা হা রিয়েক্ট দেয়ায় রাজশাহী কলেজ ক্যাম্পাসে এক ছাত্রকে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করেছে তারই সহপাঠী।  আহত ওই ছাত্র রামেক হাসপালাতের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।  আহত ছাত্রের নাম তিহাস (২১)। তিনি রাজশাহী কলেজের মার্কেটিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। বুধবার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে রাজশাহী কলেজ মাঠে এ ঘটনা ঘটে।  পরে তার অন্য সহপাঠীরা আহত ছাত্রকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করে।    ছুরিকাঘাতকারীর নাম কিবরিয়া। সেও মার্কেটিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। হামলার সময় কিবরিয়ার সঙ্গে বহিরাগত আরেকজন ছিলো বলে জানান ভুক্তভোগী ।  আহত শিক্ষার্থীর সহপাঠী তারেক হোসেন সজিব জানান, তিহাস ক্লাস শেষ করে মাঠে অবস্থান করেছিলেন৷ এসময় আকষ্মিকভাবে কিছু যুবক তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওই দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। এভাবে ক্যাম্পাস চলাকালীন শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাত করায় আহতের সহপাঠীরাও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত।  এ বিষয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, দুই বন্ধুর মধ্যে ছোট্ট বিষয়কে কেন্দ্র করে ঘটনাটি ঘটেছে। আহত ছাত্রের চিকিৎসা চলছে। এ বিষয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান। এ নিয়ে রাজশাহী কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আব্দুল খালেক বলেন, ঘটনাটি ঘটেছে ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে। বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

    নওগাঁ আইনজীবী সমিতির সভাপতি পিটু, সম্পাদক রাজ্জাক

    নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আবারও সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন অ্যাডভোকেট খোদাদাদ খান পিটু ও সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন অ্যাডভোকেট আব্দুর রাজ্জাক।  মঙ্গলবার (৩১ জানুয়ারি) রাত ৯টায় নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট সুলতান মাহমুদ ভোট গণনা শেষে এ ফলাফল ঘোষণা করেন। এর আগে বেলা ১১টা থেকে জেলা বার অ্যাসোসিয়েশন ভবনে ভোট গ্রহণ শুরু হয়ে বিকেল ৩টা পর্যন্ত চলে। মোট ৪০৫ জন ভোটারের মধ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন ৩৯১ জন। নির্বাচনে মোট ১৫টি পদের মধ্যে সভাপতিসহ বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ সমর্থিত প্যানেল থেকে ১১ জন এবং সাধারণ সম্পাদকসহ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল থেকে চারজন নির্বাচিত হয়েছেন। এ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী পরিষদ থেকে নির্বাচিতরা হলেন-সহ সভাপতি ময়েন উদ্দিন প্রামাণিক ও মোফাজ্জল হক, সহ সাধারণ সম্পাদক (প্রশাসন) কাজী হাসানুজ্জামান হাসান, সহ-সাধারণ সম্পাদক (লাইব্রেরী) তানজিমুল হক লিঙ্কন, সহ-সাধারণ সম্পাদক (আপ্যায়ন, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি ) আশরাফুদ্দৌলা নয়ন এবং সদস্য পদে রফিকুল ইসলাম মন্ডল, এ.এস.এম আলতাফ হোসেন, আবু সাঈদ সুমন, শাকিল ইসলাম ও জসিম উদ্দিন প্রামাণিক। অপরদিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদ থেকে নির্বাচিতরা হলেন সদস্য পদে মনোয়ার হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম-২ ও গোলাম আজম।  

    সিরাজগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন: সভাপতি লিটন, সম্পাদক লিমন 

    সিরাজুল ইসলাম শিশির, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির ২০২৩-২৪ কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ পন্থী সভাপতি পদে কায়সার আহমেদ লিটন ও সাধারণ সম্পাদক পদে আনোয়ার পারভেজ লিমন নির্বাচিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন। ফলাফলে আওয়ামীলীগ মনোনীত পরিষদ থেকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ মোট ১১টি পদে জয় লাভ করেছে। অপরদিকে বাকি ছয়টি পদে জয় লাভ করেছে বিএনপিপন্থী আইনজীবী পরিষদ। অন্যান্য পদে নির্বাচিতরা হলেন, সহ-সভাপতি এ্যাড. আলীমুল হক (বিএনপি), মোঃ মশিউর রহমান চৌধুরী, সহ-সাধারণ সম্পাদক মোঃ কামরুল হুদা (বিএনপি), গ্রন্থাগার সম্পাদক মোঃ নাদিম ইবনে মোস্তফা (বিএনপি), সহ-গ্রন্থাগার সম্পাদক মোঃ ফজলুল হক হিরণ, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সম্পাদক মোঃ এনামুল হক, কোষাধ্যক্ষ মোঃ রকিবুর ইসলাম খান রাকিব, হিসাব নিরীক্ষক মোঃ গোলাপ হোসেন, সহ-হিসাব নিরীক্ষক মওলানা মুফতি মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম (বিএনপি), কার্যনির্বাহী সদস্য মীর রুহুল আমিন বাবু (বিএনপি), আলহাজ্ব মোঃ আমানউল্লাহ মণ্ডল (বিএনপি), হেদায়েতুল ইসলাম, সুশীল কুমার সাহা (রানা আহমেদ), একে এম হাসান ফারুক (রুমী) ও রেজাউল বারী রন্টু নির্বাচিত হয়েছেন। বুধবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি গোলাম মোহাম্মদ এতথ্য নিশ্চিত করে বলেন, সিরাজগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে মোট ১৭টি পদে ৩৪জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে ৩৯০ জন ভোটারে মধ্যে ৩৪৮জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ভোট গণনা শেষে রাতেই নির্বাচিতদের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে।

    হবিগঞ্জে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে প্রাণ হারালেন মাহমুদ

    মঈনুল হাসান রতন, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: কুমিল্লা থেকে সন্তানদের জন্য কেনা নতুন কাপড় নিয়ে বাড়ি ফেরা হলো না হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার বাসিন্দা রাজমিস্ত্রি মাহমুদ মিয়ার (৪০)। ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন তিনি। ময়নাতদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ। জানা যায়, অভাব-অনটনের সংসারে জীবিকার তাগিদে বাড়িতে স্ত্রী ও শিশুসন্তান রেখে কুমিল্লায় রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন মাহমুদ। বাড়ি যাবেন বলে বাচ্চাদের জন্য নতুন কাপড় কেনেন তিনি। এরপর বুধবার (১ ফেব্রুয়ারি) কুমিল্লা থেকে পাহাড়িকা ট্রেনে চড়ে বাড়ির উদ্দেশে রওয়ানা হন। বেলা ২টার দিকে ট্রেনটি শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশনে থামলে মাহমুদ নামতে গিয়ে হোঁচট খেয়ে ট্রেনের নিচে পড়ে যান। ট্রেন ছাড়লে তার পা কাটকা  পড়ে। তাকে প্রথমে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালও পরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে তিনি মারা যান। শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বাদশা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অসাবধানতাবশত মাহমুদ মিয়া ট্রেনের নিচে পড়ে যান। সকালে ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

    হবিগঞ্জে ট্রাক্টরের চাপায় পথচারী নিহত, সড়ক অবরোধ

    মঈনুল হাসান রতনন, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে ট্রাক্টরের চাপায় হান্নান মিয়া (২৫) নামে এক পথচারী নিহত হয়েছেন।  বুধবার (১ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় হবিগঞ্জ-শায়েস্তাগঞ্জ সড়কের জগতপুর নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত হান্নান মিয়া হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের দক্ষিণচর গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে। এ ঘটনায় স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা হবিগঞ্জ-শায়েস্তাগঞ্জ সড়কে গাছ ফেলে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। খবর পেয়ে শায়েস্তাগঞ্জ ফায়ার অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স সার্ভিস ও শায়েস্তাগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জনতার সঙ্গে কথা বলে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করে। শায়েস্তাগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার মো. আরিফউজ্জামান আরিফ বলেন, খবর পেয়ে আমরা গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে নিয়ে এসেছি। শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক কামাল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘাতক ট্রাক্টরকে আটক করা হয়েছে। তবে এর চালক পালিয়ে গেছে। এখন সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক আছে।

    ২ একর জুড়ে বটগাছ, ক্ষমা চেয়ে করা হয় পূজা

    মঈনুল হাসান রতন, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: কেউ বলেন শতবর্ষী, আবার কেউ বলেন ৩০০ বছরের পুরনো। বয়স যতই হোক না কেন, সুরমা চা বাগানের প্রকাণ্ড বটগাছ দেখে মুগ্ধ হননি এমন লোকের সংখ্যা কম। হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার সুরমা চা বাগানের ১০ নম্বর সেকশনে পুরনো এ বটগাছ প্রায় পৌনে দুই একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত। সরেজমিনে দেখা যায়, উঁচু-নিচু টিলার বুক জুড়ে সারি সারি সবুজ চা গাছ। এর মধ্যে বাগানের নাচঘরের পাশে বিশালাকৃতির এ বটগাছের ডালপালাগুলো সৃষ্টি করেছে এক অন্যরকম সৌন্দর্য। এক থেকে দুইশ হাত লম্বা, প্রায় অর্ধশত ডালপালা ছাতার মত মেলে রয়েছে। গাছের অন্তত প্রকাণ্ড ২০টি ডাল যাতে মাটিতে শুয়ে না পড়ে এ জন্য প্রায় ৫ ফুট উঁচুতে গাছের গুঁড়ি দিয়ে ঠেস দিয়ে রাখা হয়েছে। এর পাশেই নির্মাণ করা হয়েছে দুর্গা মন্দির। স্থানীয়রা বলছে, প্রাচীন এই বটগাছ ভ্রমণ পিয়াসুদের আগ্রহের স্থানে পরিণত হয়েছে। যারা এখানে আসেন তারাই মুগ্ধ হন। নানা প্রজাতির পাখির অভয়ারণ্য এ বটগাছ। প্রায়শই পাখির কলকাকলিতে ভরে ওঠে। চা বাগানে ভ্রমণের পাশাপাশি প্রতিবছর দেশ বিদেশের বহু মানুষ এই বটগাছটি দেখতে আসেন। তারা গাছের ছবি ও ভিডিও করে নিয়ে যান। বাগানের পঞ্চায়েত কমিটি মন্দির ও বটগাছের দেখভাল করেন। তবে গাছটি কবে জন্মেছে এবিষয়ে বাগানে বসবাসরত তরুণ-বৃদ্ধ কেউই সঠিক তথ্য জানেন না। ধারণা করে একজন চা শ্রমিকের ছেলে রঞ্জন সবর (৩৫) বলেন, ‘বটগাছটির বয়স কমপক্ষে ৩০০ বছর হবে।’ চা বাগানের প্রবীণ চা শ্রমিক সংশোধন সবর (৭৫) ও প্রদীপ সাঁওতাল (৭০) নামে দুজনের সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। তারা জানান, তাদের পূর্ব পুরুষদের মুখে শুনেছেন ১২৫ বছর আগে অর্থাৎ ১৮৯৬ সালে ভারতের আসাম থেকে আসা মকর তন্তবায় নামে বৃক্ষপ্রেমী চা শ্রমিক রেজি প্রজাতির একটি বটগাছ রোপণ করেছিলেন। পরবর্তীতে ওই গাছটির পাশেই প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে উঠে আরেকটি বটগাছ। কালের পরিক্রমায় ওই বটগাছটি রোপণ করা বটগাছটিকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে এ বিশালাকার ধারণ করেছে। এবিষয়ে জানতে সুরমা চা বাগান প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিশ্বজিৎ মুন্ডার সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, এই গাছটিকে ঘিরে প্রথমে পঞ্চতত্ত্ব পূজা হতো। স্বাধীনতার আগে থেকেই মাঘের শেষে দিকে নারায়ণ পূজা ও ফাল্গুন মাসে শিবচতুর্দশী পূজা হয় গাছটির তলায়। এসব পূজায় জগদীশপুর, নয়াপাড়া বৈকন্টপুর, দেউন্দি, লস্করপুর, চাকলা, সাতছড়িসহ জেলার বিভিন্ন চা বাগানের সনাতন ধর্মাবলম্বী চা শ্রমিকেরা অংশ নেন। চা শ্রমিক নেতা রঞ্জন সবর আরও জানান, প্রায় দুই যুগ আগে নারায়ণ মন্দির তৈরির সময় বটগাছের কিছু ডাল কাটা পড়ে। এ জন্য পূজা অর্চনা করে বটগাছের কাছে ক্ষমা চাওয়া হয়। মন্দির ও বটগাছের নিরাপত্তা জন্য চারদিকে দেয়াল করা হয়েছে। দেয়ালের ভেতরে এই গাছের ডালপাতা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয় না। ঝরে যাওয়া পাতা মন্দিরের পাশে এক জায়গায় স্তূপ করে রাখা হয়। সেখানেই এগুলো পচে গিয়ে মাটির সঙ্গে মিশে যায়।  

    হবিগঞ্জে উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ: সাবেক প্রকৌশলীসহ ৩ জন কারাগারে

    মঈনুল হাসান রতন, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের লাখাইয়ে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় আটক হয়েছেন লাখাই উপজেলার সাবেক উপ-সহকারি প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক অফিস সহকারি হাবিবুর রহমান ও অফিস সহায়ক মো. গোলাম কিবরিয়া। রবিবার (২৯ জানুয়ারি) জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আহসানুল ইসলাম এর আদালতে তারা হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে বিচারক আবেদন খারিজ করে তাদের কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদক হবিগঞ্জ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের আইনজীবী হাবিবুর রহমান। তিনি জানান, রোববার তারা আদালতে হাজির হয়ে জামিন চেয়েছিলেন। বিচারক তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হবিগঞ্জ কার্যালয়ের উপ সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শোয়াব ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর লাখাই উপজেলায় উন্নয়ন কাজের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেছিলেন। এমামলায় ১২ জানুয়ারি হবিগঞ্জ সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোহাম্মদ জাহানকে কারাগারে পাঠান আদালত। দুদকের মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০১৬-১৭ ও ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে লাখাই উপজেলার তিনটি সড়ক উন্নয়ন কাজের জন্য ৪ লাখ ৭৭ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়। অভিযুক্তরা উন্নয়ন কাজ না করেই নামে মাত্র প্রকল্প কমিটি গঠন, নিজেরাই মাস্টার রোল তৈরি এবং নিজেরাই কমিটির সদস্যদের স্বাক্ষর দিয়ে টাকাগুলো আত্মসাৎ করেন। দুদক হবিগঞ্জ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোজাম্মিল হোসেন জানান, এমামলায় সাবেক প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহানকে আগেই কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। রবিবার আরও ৩ জন আদালতে হাজির হলে বিচারক তাদের কারাগারে প্রেরণ করেন। অপরজন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক মামুন এখনও পলাতক রয়েছেন।  

    পুকুরে মাছ ধরতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে পিতার মৃত্যু, ছেলে আহত

    জাহাঙ্গীর আলম ভুঁইয়া, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় পুকুরে মাছ ধরতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে আজমির আলী (৪২) নামের এক ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করেছেন। একই সাথে তার ছেলে আক্তার হোসেন (১৬) ও আহত হয়ে ছাতক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। নিহত আজমির আলী উপজেলার নোয়ারাই ইউনিয়নের জয়নগর মাঝপাড়া গ্রামের আশ্রব আলীর ছেলে। রোববার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার নোয়ারাই ইউনিয়নের জয়নগর মাঝপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।  স্থানীয় ইউপি সদস্য রাসেল মিয়া তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। স্থানীয়রা জানান, জয়নগর মাঝপাড়া গ্রামে নিজ পুকুরের উপর দিয়ে টানা বিদ্যুতের একটি লাইন ছিঁড়ে পানিতে পড়ে যায়। দুপুরে নিজের এ পুকুরে মাছ ধরতে যান আজমির আলী ও তার ছেলে আক্তার হোসেন। পুকুরের পানিতে নামার সাথে-সাথে পিতা-পুত্র বিদ্যুতায়িত হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান আজমির আলী। গ্রামের লোকজন কৌশলে পুকুরের পানি থেকে আক্তার হোসেনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ছাতক থানা পুলিশ।  জগন্নাথপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মিজানুর রহমান এঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে।     

    আঞ্চলিক

    আন্তর্জাতিক

    সব দেখুন

    সৌদিতে ৫শ' স্থানে ৪০ হাজার বানরের বসবাস, নিয়ন্ত্রণে সরকারের পরিকল্পনা

    আব্দুল্লাহ আল মামুন, সৌদিআরব প্রতিনিধি: সৌদিআরবে ৫শত স্থানজুড়ে ৪০ হাজার বানরের বিস্তীর্ণ বসবাসের চিত্র একটি সরকারি গণনায় উঠে এসেছে । বেবুনস (বানর) ন্যাশনাল সেন্টার ফর ওয়াইল্ডলাইফ ডেভেলপমেন্টের প্রধান ডঃ মুহাম্মদ কুরবান জানিয়েছে যে, সৌদিআরব জুড়ে ৪০ হাজার বানর তারা পর্যবেক্ষণ করেছেন। গণমাধ্যমের একটি সাক্ষাতকারের সময় তিনি বলেন বানর গুলোকে আবাসিক এলাকা থেকে দূরে রাখার জন্য শক্তিশালী উপায়সহ এদের মোকাবেলা করা হবে যা চলতি বছরে স্পষ্টভাবে এই কার্যক্রম শুরু করা হবে। কার্যক্রমের মধ্যে থাকবে বানরগুলোসহ তাদের বাসস্থান জীবাণুমুক্ত করা, বংশবৃদ্ধি রোধ করা, বানরগুলোর জন্য একটি নিদিষ্ট বাসস্থান বাগান স্থাপন করা। দর্শনার্থীদের অনেকেই বানরদের খাওয়ানোর জন্য যেখানে সেখানে বিভিন্ন খাবার ফেলে যাচ্ছে যা পরিবেশ দুষিত করছে, এসব জায়গায় বর্জ্য না ফেলা হয় তা নিশ্চিত করার জন্য কেন্দ্র কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।  

    মসজিদের পর পাকিস্তানে এ বার থানায় হামলা জঙ্গিদের

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পেশোয়ারের মসজিদে হামলার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আবার বড়সড় হামলা চালাল জঙ্গিরা। এ বার তাদের নিশানায় ছিল পঞ্জাব প্রদেশের মিয়াঁওয়ালি জেলার একটি থানা। পুলিশ সূত্রে খবর, মঙ্গলবার রাতে জঙ্গিদের ২০-২৫ জনের একটি দল মিয়াঁওয়ালি থানা ঘিরে ফেলে। তার পর থানায় ঢুকে পুলিশকর্মীদের লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। আচমকা হামলার মুখে পড়েও পরিস্থিতি সামাল দেয় পুলিশ। পাল্টা গুলি চালায় তারাও। দু’পক্ষের মধ্যে তুমুল গুলির লড়াই চলে। পাল্টা আক্রমণের মুখে পড়ে থানা ছেড়ে পালায় জঙ্গিরা। পঞ্জাব পুলিশের ইনস্পেক্টর জেনারেল (আইজি) উসমান আনওয়ার জানিয়েছেন, জঙ্গিরা অত্যাধুনিক অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়েছিল। রাতের অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে তারা থানার ভিতরে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করে। কিন্তু মোক্ষম জবাব দিয়েছেন থানার পুলিশ আধিকারিক এবং কর্মীরা। এই ঘটনায় বেশ কয়েক জন জঙ্গি আহত হয়েছে বলে দাবি আইজির। তবে থানায় হামলা চালানোর দায় কোনও জঙ্গিগোষ্ঠী নেয়নি বলেও জানিয়েছেন আইজি। সোমবার পেশোয়ারের একটি মসজিদে আত্মঘাতী হামলা চালায় তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান জঙ্গিগোষ্ঠী। প্রার্থনার সময় বোমারু জঙ্গি মসজিদে ঢুকে পড়ে। তার পরই বিস্ফোরণ ঘটায়। সেই বিস্ফোরণে ১০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহতের সংখ্যাও একশোর কাছাকাছি।

    পাকিস্তানে মসজিদে আত্মঘাতী হামলায় নিহত বেড়ে ১০০

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তানে পেশোয়ারে মসজিদে বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০০ জনে পৌঁছেছে। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে শোকের ছায়া নেমেছে। দাফনের সময় গভীর শোকে এলাকায় কান্নার রোল পড়ে যায়।  সোমবার (৩০ জানুয়ারি) পুলিশ সদর দপ্তর কম্পাউন্ডের একটি মসজিদে ৩০০ থেকে ৪০০ পুলিশ সদস্য যোহরের নামাজের জন্য জড়ো হয়েছিল। এসময় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে পুরো প্রাচীর এবং বেশিরভাগ ছাদ উড়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে মসজিদ কমপ্লেক্স ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উদ্ধারকারীরা একটি ম্যারাথন অপারেশন শেষ করেছে। এসময় মসজিদের ধ্বংসাবশেষ থেকে মৃতদেহের পাশাপাশি অনেক আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়েছে। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেখা গেছে। পেশোয়ারের ওই অঞ্চলটি আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী। এখানে প্রায়ই জঙ্গি হামলা হয়ে থাকে। নিরাপত্তা চৌকিকে লক্ষ্য করে তেহরিক ই তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) হামলা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২১ সালের আগস্টে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতায় বসার পর পাকিস্তান সীমান্তজুড়ে টিটিপির হামলা বেড়ে গেছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, হামলায় ১০-১২ কেজি বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছে। হামলাটি এমন সময়ে হয়েছে, যখন নিরাপত্তা লঙ্ঘনের বিষয়ে কর্মকর্তাদের মধ্যে আগে থেকেই শঙ্কা ছিল। কারণ সীমান্তে টিটিপির বেপরোয়া হামলা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমনকি টিটিপি এখন খোদ পাকিস্তান সরকারের হুমকি হয়ে উঠেছে। এমনকি সামরিক বাহিনীকে লক্ষ্য করেও আক্রমণ বাড়িয়েছে সশস্ত্র সংগঠনটি। মঙ্গলবার পার্লামেন্টে একটি টেলিভিশন ভাষণে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মোহাম্মদ আসিফ হামলার জন্য টিটিপিকে অভিযুক্ত করেছেন। এহামলায় প্রতিবেশী আফগান থেকে মদ দেওয়া হয়েছে বলে তার দাবি। তবে টিটিপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি আফগান তালেবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। হামলার শিকার কম্পাউন্ডটি পেশোয়ারের একটি কড়া নিরাপত্তা বেষ্টিত জেলায় অবস্থিত। সেখানে অন্যান্য সরকারি ভবনও রয়েছে। খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের প্রাদেশিক গভর্নর গুলাম আলি বলেছেন, এলাকাটি নিরাপত্তাজনিত ত্রুটি ছিল। সরকারি কর্মকর্তা আখতার আলি শাহ এপিকে বলেন, এটি একটি সুসংগঠিত গোষ্ঠীর কাজ।  

    সৌদিতে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে একই পরিবারের ৭ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু 

    আব্দুল্লাহ আল মামুন, সৌদিআরব প্রতিনিধি: সৌদিআরবের আল-জুফ অঞ্চলের আল-কুরায়য়াত গভর্নরেটের তাশিলাত এলাকায় একই পরিবারের চার ছেলে এবং দুই মেয়ে এবং পিতাসহ ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে সাত জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। আল-কুরায়াতে সিভিল ডিফেন্স ডিরেক্টরেটের অপারেশন রুমে মঙ্গলবার (৩১ জানুয়ারি) ভোর ৪টার দিকে আগুন লাগার খবর পায়। সিভিল ডিফেন্সের দল, দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায়, তারা দেখতে পায় যে তিনটি শিশুসহ পিতা ঘটনাস্থলেই মারা গেছে এবং অপর তিনটি শিশু, যারা গুরুতর দগ্ধ ও শ্বাসরোধ অবস্থায় আহত হয়ে পড়ে রয়েছে, পরবর্তীতে আহতদের দ্রুত আল-কুরায়য়াত জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাদের মৃত বলে ঘোষণা করেন। নিহতদের মায়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ধারণা করা হচ্ছে শিশুদের শোবার ঘরে গ্যাস হিটার থেকে উক্ত ভয়াবহ আগুনের সূত্রপাত হয়। দুর্ঘটনার সাথে সম্পর্কিত সমস্ত বিবরণ খুঁজে বের করতে এখনও তদন্ত চলছে।

    পাকিস্তানের মসজিদে আত্মঘাতী হামলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯০

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তানের পেশোয়ারে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। ইতোমধ্যেই ওই ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ৯০ জনের। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৫০ জন। এমনটাই জানা গিয়েছে হাসপাতাল সূত্রে।  সোমবার দুপুরে পেশোয়ারের ওই মসজিদে নামায চলাকালীন ঘটে আত্মঘাতী হামলা। সেই সময় প্রায় ৪০০ জন ছিলেন মসজিদে। তার ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আত্মঘাতী হামলায় এখনও পর্যন্ত যাঁদের মৃত্যু হয়েছে তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ২৭ জন পুলিশকর্মীও। সোমবার দুপুরে বিস্ফোরণের ফলে ভেঙে পড়ে মসজিদটির একাংশ। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এক আত্মঘাতী জঙ্গি ওই মসজিদে ঢুকে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল। ঘটনার জেরে আতঙ্ক ছড়ায় এলাকায়। ওই নাশকতার নিন্দা করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানও ওই বিস্ফোরণকে ‘জঙ্গিহানা’ বলে তকমা দেন। বিস্ফোরণের কিছু পরেই তার দায় স্বীকার করে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)। বিস্ফোরণে তাঁদের হাত রয়েছে বলে জানিয়ে দেন পাক তালিবান জঙ্গি গোষ্ঠী।

    বেনিনে বাস ও ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত ২২

    সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক: পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বেনিনের মধ্যাঞ্চলে বাস ও ট্রাকের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে ২২ জন নিহত হয়েছে। সরকার সোমবার (৩১ জানুয়ারি) এ কথা জানিয়েছে। খবর এএফপি’র। এক বিবৃতিতে সরকার জানায়, গত রোববার দাসা-জুমের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে কমপক্ষে ২২ জন নিহত ও আরো বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। আহতদের বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বাওবাব এক্সপ্রেস পরিবহন সংস্থা জানায়, বাসটি ৪০ জন যাত্রী নিয়ে প্যারাকাউ থেকে দক্ষিণের বাণিজ্যিক রাজধানী কোটোনোউ যাচ্ছিল। সংঘর্ষের পর বাসটিতে আগুন ধরে যাওয়ায় অনেক যাত্রী মারা যায়। এভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার পর বাওবাব এক্সপ্রেস তাদের সকল বাস পরিষেবা বাতিল করে। এদিকে এ দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। কর্তৃপক্ষ স্বজনদের জন্য একটি সহায়তা ইউনিট গঠন করেছেন।

    সৌদিতে ৪ দিনের ফ্রি ভিসা চালু

    আব্দুল্লাহ আল মামুন, সৌদিআরব প্রতিনিধি: সৌদি আরবে চার দিনের ফ্রি ভিসা চালু করা হয়েছে। এর ফলে ট্রানজিট যাত্রীরা ওমরাহ পালন করা, পবিত্র মদিনার মসজিদে নববী জিয়ারতসহ ৯৬ ঘণ্টার জন্য যেকোনো কাজে সৌদি আরবের যে কোন স্থানে অবস্থান করতে পারবে। এবং এই ভিসার মেয়াদ তিন মাস থাকবে। সোমবার (৩০ জানুয়ারি) সৌদির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে সৌদি প্রেস অ্যাজেন্সি (এসপিএ) এতথ্য জানায়। স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রক্রিয়াকরণের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ভিসা প্লার্টফমে চলে যাবে এবং সাথে সাথেই একটি ডিজিটাল ভিসা ইস্যু হবে এবং আবেদনকারীর ই-মেইলে ভিসা সংক্রান্ত সকল তথ্য চলে যাবে। এসকল প্রক্রিয়ার জন্য কোন প্রকার ফি দিতে হবে না। সৌদি আরব ভিশন ২০৩০ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পর্যটনকে বিকশিত করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ হাতে নিয়েছেন ।  চলতি বছরে পর্যটন খাত হতে দেশটি ৫০০ বিলিয়ন সৌদি রিয়াল বিনিয়োগ আশা করছে। ২০১৯ সালের হিসাব অনুযায়ী, সৌদি পর্যটন খাত থেকে বার্ষিক রাজস্ব পায় ২১১ বিলিয়ন সৌদি রিয়ালের অধিক ।

    পেরুতে সরকার বিরোধী বিক্ষোভে নিহত ৫৮

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ‘ওদের গুলি শেষ হয়ে যাবে, তা-ও আমরা আমাদের দাবি থেকে পিছু হঠব না।’ ছ’ফুটের মাটির ব্যারিকেড, তার উপর তৈরি হয়েছে অস্থায়ী পোডিয়াম। তাতে দাঁড়িয়েই সমবেত বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে কথাটা ছুড়ে দিলেন বক্তা। পেশায় তাঁরা প্রত্যেকেই ‘কামপাসিনো’ তথা কৃষিজীবী, কিন্তু এখন তাঁদের উদ্দেশ্য একটাই— যেমন করে হোক নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট দিনা বলুয়ার্তেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা। প্রায় আট সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে এখনও পর্যন্ত প্রাণ গিয়েছে ৫৮ জনের। তাঁদের মধ্যে এক জন পুলিশ অফিসারও রয়েছেন। বিক্ষোভের সূচনা হয় ২০২২ সালের ৭ ডিসেম্বর। প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট পেদ্রো কাস্তিয়োকে গ্রেফতার করা হয়। ক্ষমতায় আসেন ভাইস প্রেসিডেন্ট দিনা বলুয়ার্তে। কাস্তিয়োর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি পেরু কংগ্রেস ভেঙে দিতে চেয়েছিলেন। তাঁর গ্রেফতারির পরেই ক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠেন পেরুর মানুষ। বিশেষ করে খেপে উঠেছেন কৃষিজীবী, সাধারণ মধ্যবিত্ত খেটে খাওয়া মানুষ। যাঁরা কাস্তিয়োর অন্যতম সমর্থক। তাঁদের দাবি, কাস্তিয়ো সরে যাওয়ায় সরকারে তাঁদের হয়ে কথা বলার আর কেউ রইল না। বিক্ষোভ দমনে একাধিক কড়া পদক্ষেপ করেছে বলুয়ার্তে সরকার। এমনকি পর্যটনক্ষেত্র মাচু পিচ্চুও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, তাতে বিপাকে পড়েন বহু পর্যটক। বিভিন্ন জায়গায় জরুরি অবস্থাও জারি করা হয়েছে। এই অবস্থায় দ্রুত নির্বাচনই কমাতে পারে বিক্ষোভ, এমন ধারণা নতুন প্রেসিডেন্টের। যদিও, তা নিয়ে দ্বিমত রয়েছে কংগ্রেসের। এমনিতেই পেরুর আগামী নির্বাচন ছিল ২০২৬ সালে। তা এগিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে ২০২৪-এ। শনিবার ২০২৩ সালে নির্বাচন হোক এই মর্মে আবেদন করেছিলেন দিনা, কংগ্রেস তা বাতিল করেছে।

    পাকিস্তানের মসজিদে বিস্ফোরণে নিহত বেড়ে ৩২

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক- পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার পেশাওয়ার পুলিশ লাইন্স এলাকার এক মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছে। আজ সোমবার দ্য নিউজ ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, বিস্ফোরণে অন্তত ৩২ জন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন ১৪৭। আহতদের লেডি রিডিং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি বলছে, বিস্ফোরণে শব্দ ছিল বিকট। অনেক দূর থেকেও এই শব্দ শোনা গেছে।   নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আত্মঘাতী হামলাকারী নামাজের সারিতে ছিলেন, সেই সময় তিনি নিজেকে উড়িয়ে দেন। লেডি রিডিং হাসপাতালের মুখপাত্র মোহাম্মদ আসিম বলেন, আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হচ্ছে। তিনি ডনকে বলেছেন, অঞ্চলটি পুরোপুরি ঘিরে রাখা হয়েছে, কেবলমাত্র এ্যাম্বুলেন্সকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে। টেলিভিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেলা একটা ৪০ মিনিট নাগাদ মুসল্লিরা যখন জোহরের নামাজ আদায় করছিলেন তখন এই বিস্ফোরণ ঘটে। এই হামলার দায় এখন পর্যন্ত কোনও সন্ত্রাসী গোষ্ঠী স্বীকার করেনি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এদিকে এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। এছাড়া নিন্দা জানান পাকিস্তানের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

    বিনোদন

    সব দেখুন

    এমপি হলে স্যার ডাকতে হবে, তাই সাহেবরা ফল পাল্টে দিয়েছেন: হিরো আলম

    সময়ের কন্ঠস্বর ডেস্ক: বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের নির্বাচনে পরাজয়ের পর আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম বলেছেন,‘আমি অশিক্ষিত, আমি এমপি নির্বাচিত হলে আমাকে স্যার ডাকতে হবে। দেশের সম্মান যেতো; তাই ওইসব সাহেবরা আমার ফল পাল্টে দিয়েছেন। নির্বাচিত হলে ওই সাহেবদের দেখিয়ে দিতাম আমিও পারি।’  বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বগুড়া সদর উপজেলার এরুলিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে হিরো আলম বলেন,‘নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হলেও আমাকে অন্যায়ভাবে পরাজিত ঘোষণা করা হয়েছে। তাই আমি এ ফল বর্জন করছি। শিগগিরই আদালতের আশ্রয় নেবো।   ‘আজকে সারাদেশের মানুষ আমার দিকে তাকিয়ে ছিলেন। আমার মনে হয়েছে, আমি প্রধানমন্ত্রীর ভোট করছি। তখন গর্বে আমার বুক ভরে গেছে। সবার যে ভালোবাসা পেয়েছি তা ভুলবার নয়। এ নির্বাচনের ফলাফল থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামী ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেবেন কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে হিরো আলম বলেন, ‘এমন কারচুপির ভোট হলে ভবিষ্যতে মানুষ নির্বাচন করার ইচ্ছা হারিয়ে ফেলবেন। আলোচিত ইউটিউবার হিরো আলম বলেন, ‘নির্বাচনের পরিবেশ ভালো ছিল। তবে নন্দীগ্রামের ফল ঘোষণা করার সময় তার সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। ৪৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩৯টির ফলাফল ঘোষণা করা হয়। পরে বাকি ১০ কেন্দ্রের ফল আলাদা ঘোষণা না করে মোট ফলাফল ঘোষণা করেছে। কেন ওই ১০ কেন্দ্রের ফলাফল একসঙ্গে ঘোষণা করা হলো? এখানেই কারচুপি করা হয়েছে। সব বুথে এজেন্ট থাকলেও প্রিসাইডিং অফিসার তাদের ফলাফলের কপি দেননি। তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে অনেক কষ্টে নিজেকে গড়ে তুলেছি। আমি মাত্র ৪-৫ জন কর্মী, একটি পিকআপ, দুটি মাইক নিয়ে, দুটি আসনের মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়েছি। জনগণ আমাকে ভালোবেসে ভোট দিয়েছে। আওয়ামী লীগের ভোটার হলেও অনেক বলেছেন, তারা একতারা প্রতীকে ভোট দিয়েছেন। সবাই বলেছেন, আপনি পাস করেছেন। ভোটাররাও ভোট দিয়েছেন, তাহলে ওইসব ভোট কোথায় গেলো? আওয়ামী লীগের লোকজনও তানসেনকে (বিজয়ী) ভোট দেননি। অথচ তাকেই বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। তাই এ অন্যায়ের প্রতিকার পেতে আদালতে রিট করবো।’ হিরো আলম বিপুল পরিমাণ ভোট পাওয়ার জন্য ভোটার এবং বিশেষ করে সাংবাদিকদের ধন্যবাদ দিয়ে বলেন, আপনাদের ভালোবাসা এবং সহযোগিতা না পেলে আজ  এ পর্যায়ে আসতে পারতাম না। এদিকে, দিনভর ইভিএমে ভোটগ্রহণ শেষে রাত সাড়ে ৮টার দিকে রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম নিজ কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের প্রার্থী জেলা জাসদের সহ-সভাপতি একেএম রেজাউল করিম তানসেন বিজয়ী হয়েছেন। ১১২ কেন্দ্রে তিনি পেয়েছেন, ২০ হাজার ৪০৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আশরাফুল ইসলাম আলম  ওরফে হিরো আলম পেয়েছেন ১৯ হাজার ৫৭১ ভোট। নির্বাচনে মোট নয় জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তিন লাখ ২৮ হাজার ৪৬৯ জন ভোটারের মধ্যে ৭৮ হাজার ৫৭০ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। ভোট সংগ্রহের হার ২৩ দশমিক ৯২ শতাংশ।

    আপনার স্বাস্থ্য

    সব দেখুন

    বয়স বাড়লে কমতে পারে উচ্চতা, কোন পথে মিলবে সমাধান?

    স্বাস্থ্য ডেস্ক: বয়স বাড়লে ক্ষয় হয় হাড়ের। হাড়ের যে রোগগুলি সবচেয়ে বেশি মানুষকে আক্রমণ করে, তার মধ্যে অন্যতম অস্টিয়োপোরোসিস। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, প্রাথমিক ভাবে বিশেষ কোনও উপসর্গ না থাকলেও বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পিঠে তীব্র ব্যথা শুরু হয় এই রোগে। এমনকি, কমে যেতে পারে দেহের উচ্চতাও! মূলত চাকতির মতো যে হাড় বা ডিস্ক থাকে, তা জলশূন্য হয়ে পড়ার কারণেই মেরুদণ্ডের দৈর্ঘ্য কমে যায়। তবে মেরুদণ্ডের হাড়ের বহুস্তরীয় চিড় ধরলেও এমন হতে পারে। শুধু অস্টিয়োপোরোসিসই নয়, হাড়ের ক্ষয় থেকে দেখা দিতে পারে হরেক রকমের সমস্যা। বয়স চল্লিশ পেরিয়ে গেলে যা আরও বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের সমস্যা মোকাবিলা করার সবচেয়ে মোক্ষম হাতিয়ার সঠিক খাওয়াদাওয়া। ক্যালশিয়াম: এই মৌল হাড়ের সবচেয়ে বড় বন্ধু। এক জন পূর্ণবয়স্ক পুরুষের দৈনিক ১০০০ মিলিগ্রাম ক্যালশিয়াম প্রয়োজন। নারীদের ক্ষেত্রে এই মাত্রা ১২০০ মিলিগ্রাম। ক্যালশিয়ামের সবচেয়ে ভাল উৎস দুধ। কিন্তু যাঁরা দুধ ও দুগ্ধজাত পদার্থ খেতে পারেন না, তাঁদের গাঢ় সবুজ রঙের শাকসব্জি খাওয়া বাঞ্ছনীয়। পালং শাক, বাঁধাকপি ও শালগমে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম মেলে। ম্যাগনেশিয়াম ও জিঙ্ক: এই দু’টি মৌলও হাড়ের স্বাস্থ্য রক্ষায় অত্যন্ত জরুরি। কুমড়োর বীজ, বিভিন্ন ধরনের বাদাম ও পালং শাকে ম্যাগনেশিয়ামে পাওয়া যায়। মাংস, ডিম কিংবা ডাল থেকে পাওয়া যায় জিঙ্ক। ভিটামিন: হাড়ের যত্নে ভিটামিন ডি ও ভিটামিন কে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত রোদে কিছু ক্ষণ থাকলে ত্বকেই উৎপন্ন হয় ভিটামিন ডি। তা ছাড়াও বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছেও প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়। ভিটামিন কে মেলে সবুজ শাকসব্জিতে। হাড়ের স্বাস্থ্যরক্ষায় সমান গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিনও। অনেকে হাড়ের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে বিভিন্ন সাপ্লিমেন্ট খান। তবে এই ধরনের সাপ্লিমেন্ট খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

    নিপাহ ভাইরাসে ১ জনের মৃত্যু, খেজুরের রস পানে সতর্কতা

    প্রাণঘাতী নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হওয়ার আগে এই ব্যক্তি খেজুরের কাঁচা রস খেয়েছিলেন। খেজুরের রস থেকে এ সংক্রমণ হয়েছিল। বছরের প্রথম ১০ দিনের মধ্যে এই ভাইরাসের আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি। বুধবার (১১ জানয়ারি) জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) আয়োজিত ‘শীতের সংক্রামক রোগ এবং নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণ’ শীর্ষক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়। আইইডিসিআর জানায়, মৃত ব্যক্তি রাজশাহীর বাসিন্দা। ওই নারীর কাঁচা খেজুরের রস খাওয়ার ইতিহাস ছিল। এর আগে ২০২২ সালে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার তিনটি ঘটনা রিপোর্ট করা হয়েছিল। যার মধ্যে দুই জন মারা যান। আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরিন বলেন, এ দেশে বাদুড়ের লালা বা প্রস্রাবের মাধ্যমে নিপাহ ভাইরাস ছড়ায়। মানুষ যখন দূষিত কাঁচা খেজুরের রস পান করে তখন ভাইরাসে আক্রান্ত হয়। সেই ব্যক্তি থেকে তার পরিবারের সদস্য বা স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে এর সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে। ডা. তাহমিনা শিরিন বলেন, কাঁচা খেজুরের রস এবং অর্ধেক খাওয়া যেকোনো ফল ভক্ষণ করা উচিত নয়। আইইডিসিআর জানায়, নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত ৭১ শতাংশ মানুষ মারা যায়। তাই কাঁচা খেজুরের রস খাওয়া এড়িয়ে চলুন। সম্মেলনে বক্তারা আরো বলেন, নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণের লক্ষণ প্রকাশ পেতে রস খাওয়ার পর আট থেকে ৯ দিন সময় লাগে। মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণের ক্ষেত্রে লক্ষণগুলো ছয় থেকে ১১ দিন পরে দেখা যায়। আইইডিসিআর-এর গবেষকদের মতে, খেজুরের রস গরম করার পর পান করা নিরাপদ। গুড়ও নিরাপদ। প্রতিষ্ঠানটি খেজুরের রস সংগ্রহকারীদের কাজ শেষে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার পরামর্শও দিয়েছে।

    গবেষণা বলছে ওজন কমাতে ভুমিকা রাখে মাছ ও মাংস!

    স্বাস্থ্য ডেস্ক: ওজন তাড়াতাড়ি কমবে কি না, তা নির্ভর করে ওজন কমানোর ডায়েটে কী খাবার রাখছেন তার উপর। শরীরচর্চা তো রয়েছেই, সেই সঙ্গে খাওয়াদাওয়ায় নিয়ম মেনে না চললে ওজন কমানো সহজ তো নয়। বরং আরও কঠিন হয়ে পড়ে। পুষ্টিবিদদের মতে, ওজন কমাতে হলে প্রোটিন বেশি করে খেতে হবে। দ্রুত ওজন কমাতে শরীরের প্রোটিনের জোগান পর্যাপ্ত রাখা প্রয়োজন। কারণ, প্রোটিন দীর্ঘ ক্ষণ পেট ভর্তি রাখে। ফলে বার বার খাবার খাওয়ার প্রবণতা দূর হয়। প্রোটিনের আধিক্য আমিষ খাবারেই বেশি। তবে নিরামিষ যাঁরা খান, উদ্ভিদজাত খাবার থেকেও প্রোটিন পাওয়া যায়। সাম্প্রতিক একটি সমীক্ষা জানাচ্ছে, মাছ ওজন কমাতে খুব সাহায্য করে। তারকারাও তাঁদের ডায়েটে মাছ রাখেন। যে কোনও মাছ খেলেই পেট ভরতি থাকে অনেক ক্ষণ। পেশিশক্তি বাড়াতে মাছ খুবই উপকারী। খুব ভাল হয় যদি ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড-সমৃদ্ধ মাছ খেতে পারেন। ফ্যাটি অ্যাসিডে ভরপুর মাছ হার্টের যত্ন নেয়। একটি গবেষণা জানাচ্ছে, হৃদ্‌রোগীদের সুস্থ থাকতে মাছ খাওয়া খুব জরুরি। এই তালিকায় এক নম্বরে রয়েছে সামুদ্রিক মাছ। এ ছাড়া, ছোট মাছও খেতে পারেন। এমনকি, হজমের সমস্যা নিয়েও নাজেহাল হলে বেশি করে মাছ খেতে পারেন। উপকার পাবেন। যাঁরা মাছ খান না, গবেষণা বলেছে তাঁদের শারীরিক নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। মহিলাদের ক্ষেত্রে প্রভাব পড়তে পারে ঋতুস্রাবেও। অনিয়মিত ঋতুস্রাব মাছ না খাওয়ার একটা বড় কারণ হতে পারে। রোজ মাছ খেতে পারলে সবচেয়ে ভাল, তা না হলে সপ্তাহে অন্তত তিন দিন মাছ খেতেই হবে। ওজন কমাতে চাইছেন যাঁরা, তাঁদের মাছ খেতেই হবে। ওজন কমানোর সময়ে অনেকেই আবার ডায়েটে চিকেনও রাখেন। পুষ্টিবিদরা জানাচ্ছেন, ওজন কমাতে চিকেনও দারুণ উপকারী। মুরগির মাংসে থাকা নানা রকম স্বাস্থ্যগুণ দ্রুত ওজন ঝরিয়ে ফেলতে সাহায্য করে। রোজ মুরগির মাংস খেলে হাড় এবং পেশি শক্তিশালী হয়। তবে চিকেন কী ভাবে খাচ্ছেন সেটা জরুরি। ডোবা তেলে ভেজে কিংবা পকোড়া বানিয়ে খেয়ে কোনও লাভ নেই। শরীরের যত্ন নিতে চাইলে চিকেন দিয়ে বানাতে হবে স্টু, স্যুপ জাতীয় খাবার। অনেকে আবার গ্রিলড চিকেনও খান। সেদ্ধ চিকেন খেতে পারলে বাড়তি উপকার পাওয়া যায়। প্রশ্ন উঠতে পারেন চিকেন না কি মাছ, রোগা হওয়ার জন্য কোনটি বেশি উপকারী? পুষ্টিবিদরা জানাচ্ছেন, মাছ এবং মুরগির মাংস রোগা হতে দু’টোই জরুরি। কারও সঙ্গে কোনও প্রতিযোগিতা নেই। তবে মাছ কিংবা মাংস যাই খান, কী ভাবে খাচ্ছেন খেয়াল রাখুন। তেল-মশলা দিয়ে রান্না করে খেলে কোনও সুফল পাওয়া যাবে না।

    ডিম শরীরের বন্ধু, কিন্তু বেশি খেলে কি শত্রু হয়ে উঠতে পারে?

    স্বাস্থ্য ডেস্ক: সুস্বাদু এবং স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে পারে এই দু’টি গুণই যে খাবারগুলিতে রয়েছে সেই তালিকায় অন্যতম ডিম। সকালের খাবারে চটজলদি কিছু বানিয়ে নিতে কিংবা বাচ্চাকে টিফিনে স্বাস্থ্যকর কোনও খাবার দিতে ডিমের কথাই প্রথমে মনে পড়ে। ওজন কমানো থেকে শুরু করে রোগ প্রতিরোধ বাড়ানো, ডিমের স্বাস্থ্যগুণ নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। শরীরের প্রয়োজনীয় প্রোটিনের জোগান দেয় ডিম। প্রোটিন তো আছেই, সেই সঙ্গে ডিমে রয়েছে ভিটামিন ৬, ভিটামিন ১২, ফলিক অ্যাসিড, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, সোডিয়াম, থিয়ামিন, আয়রন, জিঙ্ক, ভিটামিন ডি-সহ নানা উপকারী উপাদান। ডিমের জনপ্রিয়তা যেমন আছে, তেমনই ডিমের বদনামও কম নেই। এই বদনাম অবশ্য কুসুমের জন্য। কারণ বেশি কুসুম খেলে আর্থরাইটিস, কোলেস্টেরল হওয়ার একটা আশঙ্কা থাকে। তবে চিকিৎসকদের মতে, ডিমের কুসুমে মাত্র ১০০-৩০০ মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল থাকে। সেটুকু শরীরে ভাল কোলেস্টেরল তৈরির কাজে লাগে। আর ডিমের সাদা অংশে কোনও কোলেস্টেরল থাকে না। ডিম খেলে শরীরের কোনও ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা নেই। তবে দিনে কতগুলি ডিম খাওয়া যায়, সে বিষয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নেওয়া জরুরি। পুষ্টিবিদদের মতে, সপ্তাহে ৩-৪টির বেশি ডিম খাওয়া ঠিক নয়। ডিমে রয়েছে ‘অ্যাভিডিন’ নামক গ্লাইকোপ্রোটিন, যা শরীরের ভিতরে বায়োটিন শোষণে বাধা দেয়। ওজন কমিয়ে যাঁরা রোগা হতে চাইছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় ডায়েট হল ‘বয়েলড এগ ডায়েট’। এই ডায়েট অনেক প্রকারের হয়। যার মধ্যে একটিতে সারা দিন ধরে শুধুই ডিম সিদ্ধ খেয়ে থাকার নিয়ম। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এক দিনে ৬টি ডিম। পুষ্টিবিদরা জানাচ্ছেন, যাঁরা প্রতি দিন খুব বেশি শরীরচর্চা বা কায়িক পরিশ্রম করেন না, তাঁদের কখনও একসঙ্গে এতগুলি করে ডিম খাওয়া ঠিক নয়। সুস্থ মানুষের পক্ষে দিনে একটি ও সপ্তাহে ৪টির বেশি ডিম খাওয়া ঠিক নয়। প্রোটিন ডায়েটে থাকা মানুষের জন্যও দিনে ১টি ও সপ্তাহে ৪টির বেশি ডিম পাতে না রাখলেই ভাল। সে ক্ষেত্রে প্রোটিনের জোগান বাড়াতে হবে মাছ-মাংস ও উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে।

    ওজন ঝরানো থেকে হৃদ্‌যন্ত্রের যত্ন, ১৫মিনিটের ব্যায়ামেই বাজিমাত!

    স্বাস্থ্য ডেস্ক: মেদ ঝরাতে কত নিয়মই না মেনে চলি আমরা! কখনও প্রিয় খাবারের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিই, কখনও আবার নেমে পড়ি কঠিন শরীরচর্চায়। তবে ব্যস্ত জীবনে কাজের মাঝে আলাদা করে সময় বার করে জিমে যাওয়ার সুযোগ হয় না অনেকেরই। রোজের ব্যস্ততার মাঝে মিনিট পনেরো সময় বার করলেই কমতে পারে আপনার ওজন! ভারী শরীরচর্চা করলেই যে ওজন কমে, এমনটা নয়। ধৈর্য রাখলে স্কিপিংয়েই হতে পারে মুশকিল আসান। নিয়ম মেনে প্রতিদিন স্কিপিং করলে অনেকটা ওজন ঝরানো সম্ভব! ১) শরীরের মাংসপেশি সচল ও নমনীয় করে তোলার ক্ষেত্রে লাফদড়ির জুড়ি নেই! ২) স্কিপিং একটি কার্ডিয়ো ব্যায়াম। আপনি যখন দড়ির উপর দিয়ে লাফাচ্ছেন, তখন আপনার শরীরে রক্তসঞ্চালনের হার বেড়ে যায়। এই ব্যায়ামের ফলে হৃদ‌্‌যন্ত্রও ভাল থাকে। ফুসফুসের স্বাস্থ্যের জন্যও এই ব্যয়াম বেশ উপকারী।

    বাবার ইচ্ছা পূরণে মাত্র ১ টাকায় রোগী দেখেন ডা: সুমাইয়া!

    অসীম কুমার সরকার, রাজশাহী প্রতিনিধি: মাত্র ১ টাকায় রোগী দেখেন ডা: সুমাইয়া। তাঁর পুরো নাম সুমাইয়া বিনতে মোজাম্মেল। বাবার ইচ্ছা পূরণে ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগ নিয়েছেন রাজশাহীর এই মেয়ে।  রাজশাহী মহানগরীর সাহেব বাজার এলাকার একটি ওষুধের দোকানে প্রাথমিকভাবে এই কার্যক্রম শুরু করেছেন তিনি। সেখানেই তিনি প্রতি শনিবার হতে বৃহস্পতিবার রোগী দেখেন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত। বর্তমানে নিত্যপণ্যের দ্রব্যমূল্যের যে উর্ধ্বগতি তাতে এই বাজারে একশত টাকা কিংবা এক হাজার টাকা দিয়েও যখন কিছুই জোটে না সেই সময়ে এক টাকায় মিলছে চিকিৎসা সেবা। রোগী দেখছেন এমবিবিএস পাস করা চিকিৎসক। বিষয়টি কল্পনীয় ও আশ্চর্যজনক হলেও এটি বর্তমানে বাস্তবে পরিণত করেছেন রাজশাহীর ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করা ডা. সুমাইয়া বিনতে মোজাম্মেল। ২০১৫ সালে রাজশাহীর নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন সুমাইয়া। বড় চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নে বিভোর হয়ে প্রস্তুতি নিতে থাকেন মেডিকেল ভর্তির। ভাগ্যের নির্মমতায় সরকারি মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ না পেলেও বুনতে থাকেন স্বপ্নের জাল। এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি হন রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজে। সম্প্রতি এমবিবিএস পাস করে ইন্টানী শেষ করেছেন তিনি। প্রাইভেট একটি ক্লিনিকে চাকরির পাশাপাশি বিসিএস প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আর এর পাশাপাশি করছেন জনসেবা। এ বিষয়ে ডা. সুমাইয়া বিনতে মোজাম্মেল বলেন, ‘মূলত আমার বাবার ইচ্ছে ছিল যে আমি যেন জনসেবামূলক কিছু একটা করি। ফ্রিতে মানুষের ট্রিটমেন্ট দেওয়া বা এরকম কিছু করাতে চেয়েছিলেন তিনি। তারই ধারাবাহিকতায় এই জনসেবামূলক কাজটি আমি শুরু করেছি। ইচ্ছে আছে, যতদিন আল্লাহর রহমতে বেঁচে থাকি ততদিন এই কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার। কার্যক্রম নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সবে মাত্র পাঁচ দিন হচ্ছে রোগী দেখা শুরু করেছি। লিফলেট বানানো হয়েছে, কিন্তু এখনও বিলি করাই হয় নি। বিষয়টি এখনো সেভাবে কেউ জানেই না। এক প্রকার এক্সাইটমেন্ট থেকে গত ৭ জানুয়ারি ফেসবুকে লিফলেটসহ একটা পোস্ট করেছিলাম। এতেই অনেকের নজর পড়েছে বলেও জানান এই চিকিৎসক। ডা. সুমাইয়া বলেন, ফেসবুকে পোস্ট করার পর থেকে অনেকেরই কল পেয়েছি, অনেকে মেসেজও করেছে। অনেকে সাধুবাদ জানাচ্ছে, এগিয়ে যাওয়ার জন্য বলছে। এমনকি একজন শিক্ষক ফোন করে আমার বিস্তারিত শুনে জানতে চাইলেন আমার লক্ষ্য কি। বিসিএস প্রস্তুতির কথা বলতেই জানালেন, ‘তোমার যদি ইংলিশে প্রিপারেশন নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে, তুমি নির্দ্বিধায় আমাকে বলতে পারো।’ এসব শুনেও ভালো লাগছে বলেও জানান এই চিকিৎসক। ভবিষৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিসিএসের প্রস্তুতি নিচ্ছি। আল্লাহ দিলে যদি চান্স হয় আর দূরে কোথাও পোস্টিং হয় তাহলে সপ্তাহে অন্তত একদিন করে হলেও এখানে রোগী দেখবো। আর পোস্টিং যদি আশেপাশে কোথাও হয় তাহলে অন্তত সন্ধ্যার পর রেগুলার রোগী দেখা যাবে। তবে এক্ষেত্রে ভবিষ্যতে কোনো প্রতিবন্ধকতা আসবে কি না সেটা নিয়ে এখনও ভাবা হয়নি। তবে কোনো প্রতিবন্ধকতা আসলে তখন ভেবে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে কি করা যায়।’ চিকিৎসা নিতে আসা নাজমুল হক নামে এক রোগী বলেন, ‘জনসেবার উদ্দেশ্যে এমন উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। কতজন এমবিবিএস পাস করে ব্যবসার মতো টাকা ইনকামে নেমে যায়, সে হিসেবে ওনার উদ্যোগটা খুবই ভাল। আমি নিজেও ফেসবুকে জানতে পেরে দেখা করলাম। কিছু সমস্যা ছিল আমার, উনি শুনে প্রেসক্রিপশন দিলেন। মাত্র এক টাকার ভিজিটেই ডাক্তারি পরামর্শ পেলাম। আশা করছি এলাকার হত দরিদ্ররা তার কাছে সেবা পেয়ে উপকৃত হবেন।’ রোগীর ভিজিট এক টাকা নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে এই নারী চিকিৎসক বলেন, দি ফাইভ ফাউন্ডেশন’ নামে আমার একটা ছোট্ট অর্গানাইজেশন আছে। করোনার সময় থেকেই সংগঠনটির কার্যক্রম শুরু করেছিলাম। আমরা মূলত সেখানে মানুষের পাঁচটি মৌলিক চাহিদা (খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা) নিয়ে কাজ করে থাকি। এছাড়াও শীতে শীতার্তদের শীতবস্ত্র প্রদান, কোরবানির ঈদে গরু কোরবানি করে গোশত বিলি করা, অসহায়দের অর্থ সহায়তা দিয়ে ছোটখাটো ব্যবসা বা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা, কিছু দু:স্থ পরিবারে নিয়মিত খাবার সহায়তা দেওয়া, একটি এতিম বাচ্চার ভরণপোষণ দেওয়ার মতো অনেক কাজই ওই সংগঠনের পক্ষ থেকে করা হয়। সেজন্য ওই সংগঠনের আয় হিসেবে এই এক টাকা নেওয়া হচ্ছে। ডা. সুমাইয়া পরিবার সম্পর্কে জানান, আমার পাঁচ বছর ও দুই বছর বয়সী দুটো বাচ্চা আছে। আমার হাজবেন্ডও পেশায় চিকিৎসক। আমার এই উদ্যোগে তিনিও খুশি, সব রকমের সাপোর্ট দিচ্ছেন। আমি আমার আব্বু-আম্মুর স্বপ্ন পূরণ করার চেষ্টা করছি। সুমাইয়ার বাবা রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান সরকারি ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক মীর মোজাম্মেল আলী। স্বপ্ন পূরণে মেয়ের এমন মহত উদ্যোগের বিষয়ে বাবা মীর মোজাম্মেল আলী বলেন, ‘ইচ্ছে ছিল আমার চার ছেলে-মেয়েই ডাক্তার হবে। তিন মেয়ে ডাক্তার হয়েছে, আরেকজন ইঞ্জিনিয়ার হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য ছিল, তারা মানুষের সেবা করবে। আমরা ডাক্তার হতে পারিনি, সেই একটা দুঃখ ছিল আমাদের সময়। যেহেতু আমরা হতে পারিনি, তাই ছেলে-মেয়েদের মধ্য দিয়েই স্বপ্নটা পূরণ করার চেষ্টা করছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘ডাক্তারদের বদনাম আছে, তারা কসাই, মানুষের টাকা খসায়। অন্তত সেটা ঘোঁচানোর জন্য এক টাকা ভিজিটের রোগী দেখার উদ্যোগটা ভাল। আমার মেয়েরা যেন জনসেবা অব্যাহত রাখতে পারে এবং সেবার মাধ্যমে রাজশাহীর লোক উপকৃত হতে পারে সেজন্য সকলের দোয়াও চান তিনি।

    প্রস্রাব পেয়েও পাচ্ছে না, প্রস্টেটিক হাইপারপ্লেশিয়া রোগ বাসা বাঁধেনি তো?

    স্বাস্থ্য ডেস্ক: প্রস্টেট গ্রন্থি আসলে একটি জননগ্রন্থি, যা শুধু পুরুষদের শরীরেই থাকে। ইউরিনারি ব্লাডার বা মূত্রথলির ঠিক নীচে ইউরেথ্রা বা মূত্রনালিকে ঘিরেই এই গ্রন্থির অবস্থান। এটি একটি সহায়ক গ্রন্থি। এরা ঘন অর্ধস্বচ্ছ প্রস্টেটিক ফ্লুইড তৈরি করে, যা স্পার্ম বা শুক্রাণু বহন করে। বীর্য বা সিমেনের ৩০ শতাংশই এই প্রস্টেটিক ফ্লুইড। বয়স পঞ্চাশ পেরোনোর পর পুরুষদের শরীরে হরমোনের ভারসাম্যের বিঘ্নিত হয়, ফলস্বরূপ অনেকের প্রস্টেট গ্রন্থি আকারে বড় হয়ে যায়। এর নাম বিনাইন প্রস্টেটিক হাইপারপ্লেশিয়া বা বিপিএইচ। কারও ক্ষেত্রে এতই বড় হয়ে যায় যে, প্রস্রাবথলি থেকে প্রস্রাব নির্গমনের পথের উপরে চাপ পড়ে নানা উপসর্গ দেখা দেয়। প্রস্রাব চেপে রাখার ক্ষমতা কমে যায়। শীতকালে এমনিতেই ঘন ঘন প্রস্রাব পায়। ঠান্ডায় শ্রোণীদেশের পেশিগুলি বেশি সঙ্কুচিত হয়, তাই বার বার প্রস্রাব আসা স্বাভাবিক। তার উপর শীতকালে ঘামও কম হয়, তাই শরীরে বর্জ্যপদার্থগুলি প্রস্রাবের মাধ্যমেই শরীর থেকে বেরিয়ে আসে। তাই শীতকালে বিপিএইচ-এর উপসর্গগুলি দেখা দিলেও বুঝতে পারা যায় না। কোন কোন উপসর্গ দেখা দিলেই সতর্ক হবেন? ১) প্রস্রাবের গতি কমে গিয়েছে ২) প্রস্রাব করার পরেও মূত্রথলি পুরো খালি না হয়ে প্রস্রাব জমে থাকছে ৩) রাতের বেলা প্রস্রাব করতে বার বার উঠতে হচ্ছে ৪) প্রস্রাবের সঙ্গে রক্তপাত হচ্ছে এই রোগে আক্রান্ত হলে মূত্রথলিতে পাথর জমার আশঙ্কা বেড়ে যায়। কিডনির উপরে চাপ পড়ে কিডনি ফুলে যেতে পারে। এমনকি, কিডনি ফেলিয়োরও হতে পারে। মূত্রথলিতে সংক্রমণ হওয়ারও আশঙ্কা বাড়ে। তাই উপসর্গগুলি দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

    ‘নাক ডাকা’ কমানোর সহজ উপায়

    নাক ডাকা শুনে ঘুম ভেঙেছে এরকম ঘটনা অধিকাংশ মানুষের জীবনেই ঘটেছে। ঘুমের মধ্যে নাক ডাকা হতে পারে নানা কারণে। এ নিয়ে চিন্তিত হবেন না, কারণ এটি কোন স্থায়ী সমস্যা নয়। চলুন জেনে নেই নাক ডাকার কারণ ও এ সমস্যা দূর করার জন্য কি করা যেতে পারে। নাক ডাকেন কেন: ১. শরীরে ওজন বেশি হলে ও পেশি দুর্বল হলে নাক ডাকা হতে পারে। ২. মানুষের যত বয়স বাড়ে কণ্ঠনালী তত সরু হতে থাকে। ফলে নাক ডাকা শুরু হয়। ৩. সাধারণত মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের শ্বাসনালী সরু হয়। আর এই জন্যেই পুরুষ মানুষের নাক ডাকার সমস্যা বেশি হয়ে থাকে। ৪. নাকে পলিপ থাকলে বা সাইনাসের সমস্যা থাকলে নাক ডাকা শুরু হতে পারে। ৫. নিয়মিত মদ্যপান, ধূমপান ও ঘুমের ওষুধ খেলে নাক ডাকা শুরু হয়। ৬. লম্বা টান টান হয়ে শুলেও নাক ডাকে অনেকে। গলার কাছে পেশিগুলো টেনে থাকে না। আলগা হয়ে যায়। ফলে, গলা থেকে নিশ্বাস বেরতে অসুবিধে হয়। আপার রেসপিরেটারি ট্র্যাকে এয়ার ভাইব্রেশনের ফলে নাক ডাকে মানুষ। জীবনযাপন পদ্ধতিতে কিছু বদল এনে এই অভ্যেসের পরিবর্তন সম্ভব। যাঁরা নাক ডাকেন বেশিরভাগই স্লিপ অ্যাপনিয়া কন্ডিশনে আক্রান্ত। কি কি উপায় অবলম্বন করে এটা কমাবেন ১. ঘুমনোর পজিশন চেঞ্জ করুন চিৎ হয়ে শোবেন না, তাহলে জিভের পেছন দিক টাগরায় লেগে বেশি নাক ডাকে। যে কোনও পাশে কাত হয়ে ঘুমোন। ২. খোলা নাসারন্ধ্র নাক বন্ধ থাকলে বেশি নাক ডাকে মানুষ। তাই ঘুমনোর আগে গরম জলে স্নান করুন। নাক ভালো করে ঝেড়ে পরিষ্কার করে শুতে যান। প্রয়োজনে নাসাল স্ট্রিপ নিন। বাড়িতে অব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিক ভুলেও খাবেন না- সতর্ক হোন ৩. অ্যালকোহল বন্ধ করুন গলার পেছনের দিকে মাংসের স্থিতিস্থাপকতা কমিয়ে দেয়। ঘুমনোর ঘণ্টা চার পাঁচ আগে একেবারই অ্যালকোহল খাবেন না। ৪. জলের ভারসাম্য বজায় রাখুন সারা দিনে শরীরে জল ঠিকমতো পৌঁছলে নাকও হাইড্রেটেড থাকে। ফলে নাক কম ডাকে মানুষ। ৫. মাথা একটু তুলে শোবেন একটি অতিরিক্ত বালিশ নিয়ে মাথা একটু তুলে শোবেন। এতে নাক ডাকার থেকে রেহাই মিলবে। ৬. ওজন কমান মোটাদের নাক ডাকার প্রবণতা বেশি থাকে। স্বাস্থ্যকর খাবার ও ব্যায়ামের মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন। ৭. ভাল ঘুমের অভ্যেস করুন যাঁদের ঘুম ভালো করে হয় না তারা বেশি নাক ডাকেন। তা ছাড়া কম ঘুম থেকে শরীরে আরও নানা রোগ বাসা বাঁধে। দিনে ৮ ঘণ্টা ঘুম তাই জরুরি।

    শিক্ষা

    সব দেখুন

    ইবির অর্থনীতি বিভাগের পুনর্মিলনী উৎসব শনিবার

    যায়িদ বিন ফিরোজ, ইবি প্রতিনিধি: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) অর্থনীতি বিভাগের পুনর্মিলনী উৎসব আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। দিনব্যাপী এ উৎসবে বিভিন্ন ব্যাচের সাবেক ও বর্তমান মিলিয়ে ৯ শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করবেন। বিভাগ সূত্রে জানা যায়, অর্থনীতি বিভাগের সাবেক ও বর্তমান’সহ ৩৩টি ব্যাচে শিক্ষার্থীদের জন্য প্রথম বারের মতো পুনর্মিলনী উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। প্রায় ১৪০০ জনের আয়োজন রাখা হয়েছে এ উৎসবে। যার মধ্যে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অতিথি’সহ ১২৩০ জন ইতোমধ্যে তাদের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছেন। এ উপলক্ষ্যে শুক্রবার বিকেল ৪টায় মীর মশাররফ হোসেন একাডেমিক ভবন প্রাঙ্গনে পিঠা উৎসব এবং সন্ধ্যার পর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। পুনর্মিলনী উৎসবের মূলপর্ব শুরু হবে আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় বিভাগের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং অতিথিদের অংশগ্রহণে আয়োজিত র‍্যালির মধ্য দিয়ে। র‍্যালি শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে অলোচনাসভা এবং সম্মাননা প্রদান করা হবে। এছাড়াও প্রয়াত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হবে। উক্ত অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আলমগীর হোসেন ভূঁইয়া’সহ বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত থাকবেন। পুনর্মিলনী উৎসবের সার্বিক বিষয়ে অর্থনীতি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. কাজী মোস্তফা আরিফ বলেন, বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে উৎসবটির আয়োজন সম্পন্ন করেছে। আমরা এই বিষয়ে অ্যালামনাইদের থেকেও যথেষ্ট পরিমাণ সাহায্য পেয়েছি। এবারই প্রথম অর্থনীতি বিভাগের আয়োজনে কোন পুনর্মিলনী উৎসব অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

    মধ্যরাতে চবির চারুকলায় অভিযান, ছাত্র হোস্টেল থেকে ছাত্রী আটক

    স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) চারুকলা ইনস্টিটিউটে মধ্যরাতে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। এসময় ইনস্টিটিউটের শিল্পী রশিদ চৌধুরী ছাত্র হোস্টেলের ১০৫ নম্বর একটি কক্ষ থেকে এক ছাত্রীকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া ১০৪ নম্বর কক্ষ থেকে স্বল্প পরিমাণ গাঁজাও উদ্ধার করা হয়। অভিযান চলাকালে বহিরাগত এক যুবক মোবাইলে ভিডিও করায় তার মোবাইলও জব্দ করে প্রক্টরিয়াল বডি। বুধবার (১ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে শিক্ষার্থীদের দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি আন্দোলনের ফলে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কায় পুলিশের সহায়তায় চারুকলায় অভিযান চালায় প্রক্টরিয়াল বডি। জানা গেছে, আটককৃত ওই ছাত্রী কোনোরূপ অনুমতি ছাড়াই ছাত্র হোস্টেলে অবস্থান করছিলেন। নিয়মানুযায়ী হোস্টেল ওয়ার্ডেনের অনুমতি ব্যতিত রাতে কিংবা দিনে কোনো সময়ই ছাত্রীরা ছাত্রদের হোস্টেলে প্রবেশ করতে পারবেন না।  তবে পুলিশ ও প্রক্টরিয়াল বডির ভয়েই ছাত্রীটি হোস্টলের কক্ষে প্রবেশ করেছেন বলে দাবি চারুকলাকে ক্যাম্পাসে স্থানান্তরের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের। চারুকলা ইনস্টিটিউটের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী সুমন বড়ুয়া বলেন, ‘আমাদের এক জুনিয়র মেয়েকে রিসিভ করে তার বাসায় নিয়ে যাওয়ার জন্য আমাদের বান্ধবী হোস্টেলের সামনে অবস্থান করছিলেন। এসময় হুট করেই পুলিশ ও প্রক্টরিয়াল বডি প্রবেশ করে সবাইকে যার যার রুমে চলে যেতে বলেন। এসময় আমাদের বান্ধবী ভয় পেয়ে সামনে যে রুমটি পেয়েছে সে রুমেই ঢুকে পড়েছে।’ আটক ছাত্রীকে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রবিউল হাসান ভূঁইয়া। তিনি বলেন, ‘অভিযান চলাকালে ছাত্রদের হোস্টেলের একটি কক্ষ থেকে এক ছাত্রীকে আটক করে পুলিশ। পরে তাকে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এসময় আমরা স্বল্প পরিমাণ গাঁজা ও বহিরাগত এক যুবকের মোবাইল ফোন জব্দ করেছি।’ প্রসঙ্গত, মূল ক্যাম্পাসে ফেরাসহ কয়েকটি দাবিতে ৮২ দিন আন্দোলনের পর ২৩ জানুয়ারি শ্রেণিকক্ষে ফিরে যান শিক্ষার্থীরা। তখন চার দফা দাবি জানিয়ে ৭ দিনের আল্টিমেটাম দেন তারা। দাবি আদায় না হওয়ায় মঙ্গলবার (৩১ জানুয়ারি) থেকে ফের আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা।

    ইবির নতুন প্রক্টর ড. শাহাদৎ

    যায়িদ বিন ফিরোজ, ইবি প্রতিনিধি: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) নতুন প্রক্টর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহাদৎ হোসেন আজাদ। আগামী এক বছরের জন্য উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম এই নিয়োগদান করেছেন। বুধবার (০১ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার এইচ. এম. আলী হাসান স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে এ তথ্য জানা গেছে। অফিস আদেশে বলা হয়, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর হোসেনের প্রক্টর পদে দায়িত্বের মেয়াদ ২২ ডিসেম্বর ২০২২ তারিখ শেষ হওয়ায়, ২৩ ডিসেম্বর ২০২২ তারিখ হতে ২৮ জানুয়ারি ২০২৩ তারিখ পর্যন্ত ২য় মেয়াদে অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর হোসেনকে প্রক্টর হিসেবে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম পুনঃনিয়োগদান করেন।  এখন তার স্থলে ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহাদৎ হোসেন আজাদ কে ২৯ জানুয়ারি ২০২৩ তারিখ থেকে পরবর্তী এক বছরের জন্য উপাচার্য প্রক্টর হিসেবে নিয়োগদান করেছেন। এ পদে দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি বিধি মোতাবেক সুযোগ-সুবিধা পাবেন। দায়িত্ব গ্রহণকালে নতুন প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদাৎ হোসেন আজাদ বলেন, ভিসি স্যার আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন আমি সেটা সুষ্ঠুভাবে এবং নিষ্ঠার সাথে পালন করার চেষ্টা করব।  

    নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক প্রথম বর্ষের ওরিয়েন্টেশন সম্পন্ন

    মামুনুর রশিদ, ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি: জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২১-২২ (ষোড়শ ব্যাচ)  শিক্ষাবর্ষের ১ম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে।  মঙ্গলবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের 'গাহি সাম্যের গান' মুক্তমঞ্চে কেন্দ্রীয়ভাবে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. সৌমিত্র শেখর।  ওরিয়েন্টেশন বক্তা হিসেব বক্তব্য দেন শহীদ বুদ্ধিজীবী কন্যা এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ডা. নুজহাত চৌধুরী। জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামের সূচনা হয়।  এরপর আমন্ত্রিত অতিথিরা মঞ্চে আসন গ্রহণ করেন। একে একে চারটি ধর্মগ্রন্থ থেকে কিছু অংশ পাঠ করা হয়। অতিথিদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। এরপর নবীণ শিক্ষার্থীদের হাতে ফুল তুলে দিয়ে তাদেরকে স্বাগত জানানোর মধ্য দিয়ে 'আলোচনা সভা ও পরিচিতি'র মূল কার্যক্রম শুরু হয়।  বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো. হুমায়ুন কবীর শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্ট দপ্তর প্রধান ও বিভাগীয় প্রধানদেরকে নবীণ শিক্ষার্থীদের  সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো. হুমায়ুন কবীরের সঞ্চালনায় ও ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. রিয়াদ হাসানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন চারুকলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো.নজরুল ইসলাম, কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মুশাররাত শবনম, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক প্রফেসর ড. তপন কুমার সরকার।  স্বাগত বক্তব্য দেন বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন ও প্রক্টর প্রফেসর ড. উজ্জ্বল কুমার প্রধান, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবু ও সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল হাসান রাকিব।

    অর্থ-বানিজ্য

    সব দেখুন

    রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রির রেকর্ড

    সময়ের কন্ঠস্বর ডেস্ক: চলতি ২০২২-২৩ অর্থ বছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) রিজার্ভ থেকে রেকর্ড পরিমাণ ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মেজবাউল হক। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মেজবাউ উল হক বলেন, ‘সাত মাসে ৯২০ কোটি ডলার বিক্রি করা হয়েছে। দেশের ইতিহাসে পুরো অর্থ বছরেও রিজার্ভ থেকে এত পরিমাণ ডলার বিক্রি হয়নি। এর আগে ২০২১-২২ অর্থ বছরের পুরো সময়ে রিজার্ভ থেকে ৭৬২ কোটি ডলার বিক্রি করা হয়েছিল। মেজবাউ উল হক বলেন, ‘দেশে প্রায় এক বছর ধরে ডলারের তীব্র সংকট চলছে। ডলারের এ সংকট কাটাতে উচ্চাভিলাষী পণ্য আমদানি নিরুৎসাহিত করার পাশাপাশি বিভিন্ন পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। এরপরও সংকট কাটছে না। এ জন্য জরুরি আমদানি দায় মেটাতেই বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চায়ন থেকে ডলার সহায়তা দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবুও আটকে থাকছে পণ্য। ডলার সংকটে ব্যাংক এলসি খুলছে না, শিল্পের কাঁচামাল আমদানি করা যাচ্ছে না-  ব্যবসায়ীদের এমন অভিযোগের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, ‘শিল্পের কাঁচামাল আমদানিও হচ্ছে প্রয়োজন মতো। গত নভেম্বর থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার করে রপ্তানি হচ্ছে। আমাদের রেমিট্যান্স ও রপ্তানি মিলে ৪৪ বিলিয়ন আয় হয়েছে আর এলসিতে আমদানির দায় পরিশোধ হয়েছে ৩৯ বিলিয়ন ডলার। আমাদের রপ্তানিতে মিসম্যাচ আছে, যেটা ১৮০ দিনের আয় আসে তখন সমন্বয় হয়।

    ব্যাংকার্স ক্লাবের পিকনিকে মিডিয়া পার্টনার সময়ের কণ্ঠস্বর

    আগামীকাল ৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের ব্যাংকার কমিউনিটির বৃহত্তম রেজিস্টার্ড ক্লাব ব্যাংকার্স ক্লাব অব বাংলাদেশ লিমিটেডের মিলন মেলা (বিসিবিএল বার্ষিক পিকনিক-২০২৩)। এই আয়োজনে মিডিয়া পার্টনার হয়েছে জনপ্রিয় অনলাইন সংবাদমাধ্যম সময়ের কণ্ঠস্বর ডটকম। দেশের আড়াই হাজার ব্যাংকার এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে রাজধানীর পূর্বাচলে অবস্থিত সী শেল পার্ক অ্যান্ড রিসোর্টে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এই পিকনিক।  সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে আনন্দময় সময় কাটাবেন অংশগ্রহণকারীরা। আয়োজনে থাকবে ছোট-বড়দের জন্য বিভিন্ন খেলাধুলার প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ। বিকেলে অনুষ্ঠিত হবে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।  এতে সংগীত পরিবেশন করবে ক্লাবের নিজস্ব মিউজিক্যাল ব্যান্ড ‘বিসিবিএল বিটস্’ এবং সময়ের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী জাকিয়া সুলতানা কর্ণিয়া ও তার দল।  আয়োজনের সমাপ্তি ঘটবে আকর্ষণীয় র‍্যাফেল ড্র-এর মাধ্যমে। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ১০ জানুয়ারি ২২ জন সদস্য নিয়ে যাত্রা শুরু করে বিসিবিএল। একই বছরের ১০ জুলাই জয়েন্ট স্টক কোম্পানির নিবন্ধন নেয় ক্লাবটি। বর্তমানে ক্লাবের সদস্যসংখ্যা ২ সহস্রাধিক ছাড়িয়েছে। বেসরকারি ব্যাংক ছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারাও এ ক্লাবের সদস্য।

    ডিজিটাল বাংলাদেশ মেলায় আগ্রহের কেন্দ্রে দোয়েল ল্যাপটপ

    নিজস্ব প্রতিবেদক, সময়ের কণ্ঠস্বর: 'স্মার্ট সিটি বিনির্মাণে সংযুক্তির মহাসড়কে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ' এই স্লোগানকে সামনে রেখে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টার শুরু হয়েছে ৩ দিনব্যাপী 'ডিজিটাল বাংলাদেশ মেলা ২০২৩'। উদ্ভাবনী প্রযুক্তি এবং দেশে উৎপাদিত ডিজিটাল পণ্য সমূহকে জনগণের কাছে সহজলভ্য করার লক্ষ্য নিয়ে শতাধিক দেশী বিদেশী উদ্যোক্তাদের মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে এ মেলা। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এ মেলায় শতভাগ বাংলাদেশে উৎপাদিত দোয়েল ল্যাপটপ নিয়ে মানুষের মাঝে আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে। দোয়েল ল্যাপটপ তাদের উৎপাদিত কোর-আই৩, কোর-আই৫, কোর-৭ এবং এএমডি-৯৪২৫ প্রসেসরসহ ১২ জেনারেশনের নতুন আপকামিং প্রোডাক্ট নিয়ে মেলায় অংশগ্রণ করেছে। এর মাঝে এএমডি-৯৪২৫ প্রসেসরের ল্যাপটপটি দামে সাশ্রয়ী এবং ষ্টুডেন্ট ব্যবহার উপযোগী হওয়ায় ক্রেতাদের মাঝে সাড়া ফেলতে সমর্থ হয়েছে। এছাড়াও টেশিস উৎপাদিত স্মার্ট প্রিপেইড এনার্জি মিটার এবং স্বল্প মুল্যের ডিজিটাল টেলিফোন সেট ক্রেতা চাহিদার শীর্ষে রয়েছে।

    আরও দুটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেল এনআরবিসি ব্যাংক

    নিজস্ব প্রতিবেদক, সময়ের কণ্ঠস্বর: এনআরবিসি ব্যাংক উদ্ভাবনী সেবা ও দ্রুত সময়ে সর্বোত্তম সেবার প্রসারে দুটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করেছে। ‘মোস্ট ইনোভেটিভ মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপ (এনআরবিসি প্ল্যানেট)’ ও ‘ফাস্টেস্ট গ্রোয়িং মাইক্রো-ফাইনান্স ব্যাংক’ শীর্ষক অ্যাওয়ার্ড দুটি দিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক ম্যাগাজিন দ্য গ্লোবাল ইকোনমিক্স। সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে জমকালো অনুষ্ঠানে এনআরবিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান এসএম পারভেজ তমালের হাতে পুরস্কার দুটি তুলে দেওয়া হয়। এসময় ব্যাংকের পরিচালক একেএম মোস্তাফিজুর রহমান ও মোহাম্মদ নাজিম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম আউলিয়া এবং আইসিটি বিভাগের প্রধান ও সিটিও দিদারুল হক মিয়া উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বাংলাদেশের গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পিছিয়ে পড়া মানুষদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে সহজ শর্ত ও স্বল্পসুদে ঋণ দিতে ২০২১ সালের মার্চে বিশেষ ক্ষুদ্রঋণ চালু করে এনআরবিসি ব্যাংক। খুব অল্প সময়ে সারা বাংলাদেশে এই সেবা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ ক্ষুদ্রঋণ পেয়েছেন। এই সেবার দ্রুত প্রসারের স্বীকৃতি স্বরূপ ‘ফাস্টেস্ট গ্রোয়িং মাইক্রো ফাইন্যান্স ব্যাংক-২০২২’ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া হাতের মুঠোয় সব ধরনের ব্যাংকিং সেবা সহজে দেওয়ার লক্ষ্যে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ২০১৯ সালে ‘এনআরবিসি প্ল্যানেট অ্যাপ’ চালু করে এনআরবিসি ব্যাংক। উদ্ভাবনী এই অ্যাপের মাধ্যমে বাংলাদেশে সর্বপ্রথম কিউআর কোড ব্যবহার করে কার্ড ও চেক ছাড়া টাকা উত্তোলনের সুবিধা চালু হয়। এছাড়া এই অ্যাপের মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খোলা, টাকা স্থানান্তর, মোবাইল ব্যাংকিং, গ্যাস-বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন সরকারি সেবার বিল প্রদান, মোবাইল রিচার্জ, ব্যাল্যান্স অনুসন্ধানসহ সব ধরনের ব্যাংকিং সেবা রাত-দিন সবসময় যে কোনো স্থানে বসে পাওয়া যায়। তথ্যপ্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে উদ্ভাবনী এ সেবা চালুর জন্য ‘মোস্ট ইনোভেটিভ মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপ (এনআরবিসি প্ল্যানেট)-২০২২’ দেওয়া হয়েছে। এনআরবিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান এসএম পারভেজ তমাল বলেন, প্রবাসীদের স্বপ্নের এই ব্যাংকের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে খুব সহজে সব মানুষের দুয়ারে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেওয়া। এজন্য তথ্যপ্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে একটি মোবাইলঅ্যাপের মাধ্যমে সব ধরনের ব্যাংকিং সেবা দিচ্ছি। আর প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের মানুষ যারা ব্যাংকিং থেকে বঞ্চিত, তাদের জন্য চালু করেছি ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্প। এতে বিনাজামানতে স্বল্পসুদে ঋণ নিয়ে ঘরে বসেই তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হচ্ছে। এসব ভালো কাজের আন্তর্জাতিক এই স্বীকৃতি আমাদের দায়িত্ববোধ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। গরিব মানুষের ভরসা ও আস্থার ব্যাংকে পরিণত হতে আরও কার্যকরী পদক্ষেপ নেবে এনআরবিসি ব্যাংক। সারাবিশ্বের বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ২০২২ সালের কার্যক্রম মূল্যায়ন করে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ‘বার্ষিক গ্লোবাল ইকোনমিক্স অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়া হয়। ২০১৩ সালের ২ এপ্রিল যাত্রা শুরু করে এনআরবিসি ব্যাংক। সাধারণ মানুষের ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করতে সর্বপ্রথম উপ-শাখা ধারনায় ব্যাংকিং শুরু করে ব্যাংকটি। এরই মধ্যে ১০৩টি শাখাসহ সারাদেশে এক হাজারেরও বেশি উপ-শাখা, বুথ ও বিভিন্ন সেবাকেন্দ্র রয়েছে। উদ্ভাবনী সেবার জন্য এর আগে দুইবার ছয় ক্যাটাগরিতে এশিয়ার সেরা ব্যাংক হিসেবে- সাউথ এশিয়ান বিজনেস এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড, বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক বেস্ট ডিলার ব্যাংক, আরটিভি কৃষি পদক, এসিএস চালানের মাধ্যমে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ রাজস্ব সংগ্রহকারী ব্যাংকের স্বীকৃতি পেয়েছে এনআরবিসি ব্যাংক।

    আবারও বাড়ল চিনির দাম

    সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা: বাজারে চিনির সংকটের মধ্যেই আবারও পণ্যটির দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ সুগার রিফাইনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআরএ)। খুচরা পর্যায়ে কেজিতে ৫ টাকা বেড়েছে খোলা ও প্যাকেটজাত চিনির দাম। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হবে নতুন দাম। বৃহস্পতিবার (২৬ জানুয়ারি) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় সংগঠনটি। বিএসআরএ’র বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে নতুন দামে বিক্রি হবে চিনি। খুচরা পর্যায়ে কেজিতে ৫ টাকা বেড়েছে খোলা ও প্যাকেটজাত চিনির দাম। প্রতি কেজি পরিশোধিত খোলা চিনি বিক্রি হবে ১০৭ টাকায়। আর পরিশোধিত প্যাকেটজাত চিনি বিক্রি হবে প্রতি কেজি ১১২ টাকায়। দেশের চিনির বাজার এখনও অস্থির। বাজারে প্যাকেটজাত চিনি নেই বললেই চলে। এমনকি ডিলার পর্যায়েও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত চিনি। আবার যাও পাওয়া যাচ্ছে, তাও সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে ভোক্তাদের। বিএসআরএর বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত চিনির ঊর্ধ্বমুখী দাম, ডলারের বাড়তি বিনিময় হার এবং স্থানীয় পরিশোধনকারী মিলগুলোর উৎপাদন ব্যয় বিবেচনা করে দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।  এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। এর আগে গত বছরের ১৭ নভেম্বর খোলাবাজারে কেজি প্রতি চিনির মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১০২ টাকা, আর প্যাকেটজাত চিনির মূল্য ১০৮ টাকা।  এই চিঠি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন এবং চিনি কম্পানিগুলোর চেয়ারম্যানকে পাঠানো হয়েছে।

    বেতনের বিপরীতে অগ্রিম অর্থ নিতে পারবেন চাকরিজীবীরা, সহযোগিতায় এসএম ফিনটেক

    নিজস্ব প্রতিবেদক, সময়ের কণ্ঠস্বর: জরুরী প্রয়োজনে বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চাকুরিজীবীদের বেতনের বিপরীতে অগ্রিম আর্থিক সেবা পেতে বাংলাদেশ ফাইন্যান্স; এসএম ফিনটেকের সঙ্গে চুক্তি করেছে।  আর্থিক সেবাটি সরবরাহ করবে বাংলাদেশ ফাইন্যান্স আর কারিগরী সহযোগিতায় থাকবে এসএম ফিনটেক লিমিটেড নামে প্রতিষ্ঠানটি। এই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে থাকবে ‘মাইনে’ নামে অ্যাপভিত্তিক প্লাটফর্ম।  সোমবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর দিলকুশায় বাংলাদেশ ফাইন্যান্সের প্রধান কার্যালয়ে দুই পক্ষের মধ্যে এই চুক্তি সম্পন্ন হয়। এর ফলে এসএম ফিনটেক; তার নিবন্ধিত সদস্যদের মধ্যে বেতনের বিপরীতে আর্থিক সেবা প্রদান করবে; যা সরবরাহ করবে বাংলাদেশ ফাইন্যান্স।  এই চুক্তির ফলে মাসের যে কোন সময়ে জরুরী প্রয়োজনে কারও টাকা লাগলে দাদন ব্যবসায়ী বা সুদে কারবারীর কাছ থেকে চড়া সুদে টাকা ধার নেয়ার দরকার হবে না; এমনকী সম্মান নষ্ট করে কোন আত্মীয়র কাছে টাকা ধারের প্রয়োজনও পড়বে না! তার পরিবর্তে মাসের ঠিক যে কয়দিন কাজ করেছেন তার পারিশ্রমিক অগ্রিম পেয়ে যাবেন তিনি।  বাংলাদেশ ফাইন্যান্সের পক্ষে সহযোগিতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ কায়সার হামিদ।  চুক্তির উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে গ্রাহকদের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে এই চুক্তি সহযোগিতা করবে; পাশাপাশি ব্যাপক সংখ্যক গ্রাহককে ব্যাংকিং এর আওতায় আনার মাধ্যমে সময় ও খরচ সাশ্রয় হবে।  আর 'এসএম ফিনটেক' এর পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফ সিকদার চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। তিনি বলেন, এই চুক্তির ফলে আর্থিক সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে গ্রাহকদের হয়রানি ও দীর্ঘসূত্রিতা লাঘব করতে চান তারা। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফাইন্যান্সের গ্রুপ সিএফও মোঃ সাজ্জাদুর রহমান ভুঁইয়া, হেড অব সাসটেইন্যাবল ফাইন্যান্স মোহাম্মদ কোহিনুর হোসেন, চিফ রিস্ক অফিসার সুমন কুমার কুন্ডু এবং এস এম ফিনটেক এর পক্ষে সিওও মোঃ সাফকাত ইসলাম, সিটিও মোঃ দ্বীন ইসলামসহ অন্যরা।

    ভেষজ পণ্য তৈরিতে সফল নন্দিতা শারমিন, গ্রাহকদের আস্থা অর্জন

    নিজস্ব প্রতিবেদক, সময়ের কণ্ঠস্বর: মানুষ মাত্রই সৌন্দর্যের পূজারী। জগতের সর্বত্রই সুন্দরের পরম লীলা চলছে। শুধু মানুষ নয় এমন কোন প্রাণি পাওয়াও দুষ্কর যার মধ্যে সৌন্দর্য চেতনা অনুপস্থিত। তাইতো প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ প্রসাধনীর প্রতি এক অন্যরকম টান অনুভব করে।  আর বর্তমান সময়ে সৌন্দর্যচর্চায় বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ভেষজ উপাদানও। সেগুলো হয়ে উঠছে লক্ষণীয় ট্রেন্ড, সৌন্দর্য ও ফ্যাশন দুনিয়ায় সবচেয়ে আধুনিক ক্রেজও। ফলস্বরূপ, কিছু উদ্যোক্তা এই প্রতিশ্রুতিশীল বাজারে বিনিয়োগে পা বাড়াচ্ছেন। তেমনই একজন নন্দিতা শারমিন। তিনি পেশায় হারবালিস্ট।  প্রাকৃতিক উপাদান থেকে তৈরি পণ্য নিয়ে তাঁর কাজ। নন্দিতার কোম্পানি প্রাকৃতিক উপাদান থেকে তৈরি কিছু ভেষজ পণ্য তৈরি করছে যা ভিটামিন, খনিজ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ এবং কৃত্রিম সুগন্ধি থেকেও মুক্ত। নন্দিতার দাদা নরসিংদীর লাল মোহন বাউল আয়ুর্বেদ চিকিৎসক হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছিলেন। নন্দিতা মূলত দাদার পথ ধরেই এগোচ্ছেন। তবে নন্দিতা 'শ একাডেমি' থেকে পুষ্টি বিষয়ে উচ্চতর ডিপ্লোমা এবং যুক্তরাজ্যের "দ্য স্কুল অফ ন্যাচারাল হেলথ সায়েন্সেস" থেকে হারবালিজমে ডিপ্লোমা অর্জনের পরে মাঠে নেমেছিলেন।  পরে তিনি স্নাতক এবং যুক্তরাজ্যের কার্ডিফ মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি থেকে ব্যবসায় প্রশাসনে মাস্টার্স (এমবিএ) সম্পন্ন করেন।  এদিকে দীর্ঘদিন ধরে শুষ্ক ত্বক এবং চুল পড়াসহ বিভিন্ন সমস্যার পরামর্শমূলক ভিডিও বার্তা দেওয়ায় নন্দিতা শারমিন ইতিমধ্যে নেটিজেনদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। জানা যায়, নন্দিতা বাংলাদেশের ভেষজ প্রসাধনী শিল্পের সবচেয়ে বিশ্বস্ত নাম 'আমলকি'-এর সিইও হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। এছাড়া তিনি লন্ডনে ভেষজবিদ হিসাবে পরামর্শদাতাও করছেন। ফলে তিনি সারাবছরই লন্ডন এবং ঢাকায় ব্যস্ত সময় পার করেন।  নন্দিতা জানান, প্রায় পাঁচ বছর আগে ২০১৭ সালে ২০ হাজার টাকা পুঁজিতে মাত্র চারজন শ্রমিক নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলেন তিনি। বর্তমানে ঢাকায় অবস্থিত তার কারখানায় ২০ জনেরও বেশি কর্মী রয়েছে। যা থেকে তার মাসে গড়ে প্রায় ৫ লাখ টাকা আয় হচ্ছে।  জানা যায়, বিএসটিআই অনুমোদিত নন্দিতার কোম্পানি বর্তমানে ৩০টির বেশি পণ্য তৈরি করছে। যার দাম ৮০ টাকা থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত। এসব পণ্য তৈরির কাঁচামাল আফ্রিকা, ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আনা হয়।  পণ্যের মান সম্পর্কে জানতে চাইলে নন্দিতা বলেন, 'আমরা যেসব পণ্য তৈরি করছি সেগুলো মানুষের শরীর, ত্বক ও চুলে ব্যবহার করা হচ্ছে। পণ্যের গুণগত মান বজায় রাখতে না পারলে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই পণ্যের মানের সঙ্গে আপস করার কোনো সুযোগ নেই।' তিনি বলেন, "আমাদের কোম্পানি যেহেতু উচ্চ মান নিশ্চিত করছে, তাই ‘আমলকি’ বাংলাদেশের ভেষজ প্রসাধনী শিল্পের অন্যতম বিশ্বস্ত নাম হয়ে উঠেছে। ১০০ শতাংশ প্রাকৃতিক এবং নিরাপদ পণ্যের বিশাল লাইন দিয়ে আমলকি গ্রাহকের সৌন্দর্যের প্রয়োজনীয়তার প্রতি সর্বোচ্চ যত্ন নিচ্ছে।" এ খাতে নারীর অংশগ্রহণ খুবই কম বলে মনে করেন এ ভেষজবিদ। তিনি বলেন, 'অনলাইন ব্যবসা করতে দিনে ৭-৮ ঘন্টা সময় ব্যয় করতে হয়, যার কারণে যে সমস্ত মহিলারা তাদের নিজস্ব পণ্য বিপণনে নিয়োজিত তারা এ কাজে খুব বেশি আগ্রহী নন।'  যদিও নন্দিতার সফল ব্যবসায়ী হওয়ার গল্পটি ততটা সহজ ছিল না। তিনি একজন ব্যাংকার হিসাবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। একপর্যায়ে তিনি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন। যা সম্ভব হয়েছে স্বামীর কাছ থেকে পাওয়া সমর্থনের কারণে।  নন্দিতা বলেন, 'ঢাকায় আমার ব্যবসা এবং লন্ডনে কনসালটেন্সির জন্য আমাকে বছরে কয়েকবার বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্য ভ্রমণ করতে হয়। ঢাকায় থাকার সময় আমার স্বামী আমার দুই সন্তানের দেখাশোনা করেন যাদের বয়স এখনও দশ বছরের নিচে। আমি যদি আমার স্বামীর কাছ থেকে এমন সমর্থন না পেতাম তবে আমার পক্ষে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হত না।'  সবশেষে ভেষজ পণ্য কেনার আগে গ্রাহকদের আরও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি সরকারকে এই সেক্টরে মনিটরিং বাড়ানোর অনুরোধ করেন এই ভেষজবিদ।

    কর্ণফুলী টানেলের খরচ বাড়ল ৩১৫ কোটি টাকা

    সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা: ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে আবারও বাড়ছে কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ প্রকল্পের খরচ। এবার এই প্রকল্পের খরচ বাড়ছে ৩১৫ কোটি টাকা। পাশাপাশি আরও এক বছর বাড়ানো হয়েছে প্রকল্পের মেয়াদও। দ্বিতীয়বারের মতো প্রকল্পটি সংশোধনে আজ মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। এ ছাড়া ঠিকাদারের বিল পরিশোধসহ বিভিন্ন আমদানি খাতে খরচ বাড়ছে প্রায় আড়াইশ কোটি টাকা। ফলে সব মিলিয়ে এখন এই প্রকল্পে খরচ হবে ১০ হাজার ৬৮৯ কোটি টাকা। একনেক সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে গত বছরের নভেম্বর মাসে প্রকল্পটি সংশোধনের প্রস্তাব দিয়ে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠায় সেতু কর্তৃপক্ষ। ২০১৫ সালে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বহুলেন সড়ক টানেল নির্মাণ প্রকল্পটি যখন অনুমোদন দেওয়া হয় তখন এর ব্যয় ছিল ৮ হাজার ৪৪৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। এর মেয়াদকাল ছিল নভেম্বর ২০১৫ থেকে জুন ২০২০। প্রথম সংশোধনে প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে ১০ হাজার ৩৭৪ কোটি ৪২ লাখ টাকা। মেয়াদ বাড়িয়ে ডিসেম্বর ২০২২ করা হয়। সর্বশেষ মঙ্গলবার প্রকল্পে দ্বিতীয় সংশোধনী আনা হয়। দ্বিতীয় সংশোধনীতে কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে ১০ হাজার ৬৮৯ কোটি ৭১ লাখ টাকা করা হয় এবং সময় বাড়িয়ে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়। প্রকল্পে সরকারি অর্থায়ন ৪ হাজার ৬১৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা এবং চায়না এক্সিম ব্যাংকের ঋণ ৬ হাজার ৭০ কোটি টাকা। কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বহু লেনবিশিষ্ট এই টানেল নির্মাণ হচ্ছে। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় শেষ দিকে প্রকল্পটি। শিগগির যান চলাচলের জন্য টানেল খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, কর্ণফুলী টানেলসহ একনেক সভায় সব মিলিয়ে ১১টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে অন্যতম হলো চট্টগ্রামের পটিয়ার শ্রীমাই নদে বাঁধ নির্মাণ, বরিশালে শেখ হাসিনা সেনানিবাসকে নদীভাঙন থেকে রক্ষায় প্রকল্প, মাতারবাড়ী কয়লা-বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প (সওজ অংশ), কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা সদর থেকে করিমগঞ্জ উপজেলার মরিচখালী পর্যন্ত উড়াল সড়ক নির্মাণ, বাংলাদেশের ২৪টি শহরে অন্তর্ভুক্তিমূলক স্যানিটেশন প্রকল্প ও ক্লাইমেট চেঞ্জ এডাপটেড আরবান ডেভেলপমেন্ট ফেজ-২ (খুলনা) প্রকল্প। এদিকে গত কয়েক মাসে ডলারের দাম ৮৬ টাকা থেকে বেড়ে ১০৬ টাকা হয়েছে। সে কারণে এই প্রকল্পের খরচ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়। এছাড়া আসবাব কেনা, শুল্ক-কর বৃদ্ধির কারণেও খরচ বাড়ছে বলে জানা যাচ্ছে।

    প্রবাস

    সব দেখুন

    কোকোর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ইতালিতে বিএনপির দোয়া মাহফিল

    ইসমাইল হোসেন স্বপন, ইতালি প্রতিনিধি: ইতালির মনফালকনের গরিঝিয়া শাখা বিএনপির উদ্যোগে শনিবার (২৮ জানুয়ারি) বাদ মাগরিব স্থানীয় একটি রেষ্টুরেন্টে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, আরাফাত রহমান কোকো এবং সদ্য প্রয়াত গরিঝিয়া বিএনপির সাবেক যুগ্ন আহবায়ক ও বর্তমান উপদেষ্টা হুমায়ূন কবিরসহ সকল প্রয়াত নেতা কর্মীদের মাগফেরাত কামনায় আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।  মনফালকনে গরিঝিয়া শাখা বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম মোস্তাক এর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক হামীম হোসাইনেয় পরিচালনায় উক্ত আলোচনা ও দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন মনফালকনে, গরিঝিয়া শাখা ইতালী বিএনপির প্রধান উপদেষ্টা ফরিদুল ইসলাম আনিস, সাবেক প্রধান আহ্বায়ক ও উপদেষ্টা নুরুল আমিন খন্দকার, উপদেষ্টা এইচ এম কবির, এমডি রবিউল্লাহ, ইব্রাহিম মিয়া, সুহাগ মোল্লা, এতে আরো উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সিনিয়র সহ সভাপতি মো: জিয়াউর রহমান খান সোহেল, সহ সভাপতি ইদ্রিস হাওলাদার, মিয়া মাসুম, ফরিদ আহমেদ, জাকারিয়া মঞ্জুর, রুস্তম মিয়া, আতাউর রহমান, সংগঠনের দাতা সদস্য জনাব মাজহারুল ইসলাম মাসুম, ১নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ লিটন, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক আল আমিন খন্দকার, সহ সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ ভুইয়া, সুমন আহমেদ, রাহাদ খান, সাংগঠনিক সম্পাদক তারেক রহমান, দেলোয়ার হোসাইন, কোষাধক্ষ্য শামীম আহমেদ, সহ কোষাধক্ষ্য জিল্লু মিয়া, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক রুবেল প্রধান, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সহ সম্পাদক মোল্লা আরিফ, নরসিংদী জেলা রায়পুরা ইউনিয়ন এর সাবেক ছাত্রদল সভাপতি মুনির সরকার এবং যুবদল নেতা রিয়াদুল আমিন রাজু ও শাহপরান খন্দকার এবং অন্যান্য নেতাকর্মী। অনুষ্ঠানে মনফালকনে গরিঝিয়া বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও কমিউনিটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।  আলোচনায় প্রয়াত হুমায়ূন কবিরের স্মৃতিচারণ করেন এবং উনার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন আলোচকরা। আলোচনা ও সমাপনী বক্তব্যে মনফালকনে, গরিঝিয়া শাখা বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম মোস্তাক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মত ন্যায় পরায়ণ নেতার বর্তমানে বড় সংকট বলে উল্লেখ করেন। এসময় জিয়াউর রহমান ও উনার সুদক্ষ সন্তান, দক্ষ ক্রীড়া সংগঠক আরাফাত রহমান কোকোসহ প্রয়াত নেতাদের জন্য দোয়া ও মাগফেরাত কামনা করেন। অনুষ্ঠানে দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন হাফেজ আব্দুল কাদের। দোয়া শেষে তবারক বিতরণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।

    সৌদিতে ভবনের ছাদ থেকে পড়ে রেমিট্যান্স যোদ্ধার মর্মান্তিক মৃত...

    আব্দুল্লাহ আল মামুন, সৌদিআরব প্রতিনিধি: সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীর একটি ৩ তলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে রাশেদ মামুন (২৯) নামের এক রেমিট্যান্স যোদ্ধার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে ।  নিহত রাশেদ মামুন কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের পূর্ব মেরংলোয়া গ্রামের আশরাফজামানের সন্তান ।  গতকাল মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) সৌদিআরব সময় দুপুর ১টার দিকে সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীতে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। জানা যায়, মামুন গতকাল মঙ্গলবার সৌদি আরবের পবিত্র মক্কায় নির্মাণাধীন ৩ তলা ভবনের কাজ শেষ করে সৌদি মালিককে বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন।এসময় ছাদ পরিমাপকালে অসাবধানতাবশত পা পিছলে ৩ তলা ভবনের ছাদ থেকে নিচে পড়ে যান। এতে তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন জায়গাতে গুরুতর জখম হয়। পরবর্তী তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে দ্রুত নিয়ে গেলে কর্তৃব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। নিহত মামুন দীর্ঘ ৮/৯ বছর যাবত জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি এক ছেলে এক মেয়ে, মা-বাবা, ভাই-বোন রেখে গেছেন। এদিকে মামুনের মৃত্যুর সংবাদে পরিবার ও এলাকাজুড়ে শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে। নিহত মামুনের মরদেহ স্থানীয় হাসপাতালের হিমঘরে সংরক্ষিত করে রাখা হয়েছে ।  

    হবিগঞ্জের তরুণী সৌদি আরবে নির্যাতনের শিকার, দেশে ফেরার আকুতি...

    মঈনুল হাসান রতন, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: সৌদি আরবে নির্যাতনের শিকার হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের বাসিন্দা এক তরুণী (২৭) দেশে ফেরার আকুতি জানিয়েছেন।  শনিবার (২১ জানুয়ারি) স্বজনদের সঙ্গে এক ভিডিও কলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে সেখানে তার ওপর বর্বরোচিত নির্যাতনের বর্ণনা দেন তিনি। এ সময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। ভিডিও কলে তরুণী সেখানে তার ওপর নির্যাতনের চিহ্ন দেখান। এসময় তাঁর হাত-পায়ে গরম পানি ঢেলে দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান। নির্যাতনের শিকার তরুণী উপজেলার উছমানপুর গ্রামের বাসিন্দা।  ওই তরুণীর বাবা বলেন, মেয়ে ভিডিও কলে তার ওপর নির্যাতন করা হচ্ছে জানালে গতকাল সোমবার দালাল দুলাল মিয়াসহ রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন। আদালত মামলাটি পিবিআইকে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি তার মেয়েকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তিনি বলেন, গত বছরের ২১ ডিসেম্বর দালাল দুলাল মিয়া ঢাকার মডেল এভিয়েশন সার্ভিসের মাধ্যমে তার মেয়েকে সৌদি আরবের দাম্মাম পাঠান। উচ্চ বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে সৌদি আরবে পাঠানো হলেও সেখানে যাওয়ার পর থেকে তার ওপর বর্বরোচিত নির্যাতন চালানো হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন মেয়ের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ বন্ধ ছিল। তাকে স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি। সর্বশেষ ২১ জানুয়ারি মেয়ের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা হয় তাদের। এসময় মেয়ে তার ওপর নির্যাতনের চিহ্ন দেখান। পরে এ ঘটনায় তিনি আদালতে মামলা করেন। এ ব্যাপারে স্থানীয় গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী বলেন, মেয়েটি খুবই গরিব ঘরের মেয়ে। পরিবারের অসচ্ছলতা ঘোচাতে দালাল ধরে বিদেশে যান। সেখানে তাঁর ওপর নির্যাতনের বিষয়টি দুঃখজনক। তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানান চেয়ারম্যান। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক (এসআই) মোজাহিদ আলম বলেন, মামলাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।  চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সিদ্ধান্ত ভৌমিক বলেন, ‘সৌদি আরবে নির্যাতনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি, দ্রুতই তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।’

    ঝালকাঠিতে শীতকালীন সবজি চাষে বাম্পার ফলন 

    মো.নজরুল ইসলাম, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট: ঝালকাঠিতে শীতকালীন শাক-সবজি চাষে এবার বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। ঝালকাঠির কৃষকদের মাঠ এখন শীতকালীন শবজিতে সাজানো এক সবুজ বিপ্লব। কৃষকরা সকাল সন্ধ্যা পরিচর্যা আর বিকিনিতে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন। শীত মৌসুমি এ সবজি আবাদে বাম্পার ফলনে কৃষকরা ব্যাপক লাভবান হবেন এমনটাই প্রত্যাশা করছেন। কৃষকের ক্ষেতগুলোতে লাউ-কুমড়া, শালগম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, লালশাক,ধনে পাতা,শিমসহ সব ধরনের শীতের মৌসুমি সবজির সমাহার এখন কৃষকের মাঠ জুড়ে। ঝালকাঠি জেলার কৃর্তিপাশা,শ্রীমন্তকাঠি,বাসন্ডা, পোষন্ডা,বাউকাঠি, কাফুরকাঠি, শাখাগাছি, ভীমরুলি, বিনয়কাঠি, বাউকাঠিসহ কমপক্ষে শতাধিক গ্রামের চিত্র এখন এমনটাই। কৃষকের ক্ষেতে মাঝে নালাকেটে একদিকে মাছ চাষ করছেন অন্যদিকে নালার উপড়ে মাচায় ঝুলে পড়েছে লাউ-কিংবা মিষ্টি কুমড়ো। নালার তীরের জমিগুলোতে সব ধরনের শীতের সবজিই উৎপাদন করেন জেলার অসংখ্য চাষিরা। নালার পানিই প্রতিদিন শবজি ক্ষেতে ব্যবহার করেন কৃষকরা। যে কারণে দুর থেকে তাদের পানি সংগ্রহ করতে হয় না। পাশা-পাশী নালার পানিতেই মাছও চাষ করছেন তারা। পুরুষের পাশাপাশি ক্ষেতে কাজ করছেন অসংখ্য নারীরাও। ফলে আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে শীতের এ মৌসুম জুড়ে আর্থিকভাবে ভাল থাকছেন কৃষক পরিবার গুলো। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থার আরও উন্নতি এবং সার ও কীটনাশকের দাম কমলে স্বচ্ছলতার মুখ দেখতে পারেন বলে কৃষকরা জানান। এবছর এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় শীতের এ শাক-সবজি আবাদে আরো অধিক বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকরা। বাজারেও ব্যাপক চাহিদা রয়েছে, দামও পাচ্ছেন ভালো। গ্রামের কয়েকজন কৃষকের সাথে কথা বললে তারা বলেন, “আমরা বহু বছর যাবৎ কৃষি কাজ করে আসছি। কৃষি কাজ করে ভালবাবেই জীবনযাপন করছি।” তবে আমরা প্রান্তীক চাষিরা পাইকারদের কাছেই ফসল বিক্রি করি। যে কারণে ফসলের ন্যায্য মূল্য পাই না। কিন্তু মধ্য সত্ত্ব ভোগীরা আমাদের নিকট থেকে কমদামে পণ্য কিনে ভোক্তার নিকট চড়া দামে বিক্রি করে তারাই আমাদের চেয়ে বেশি লাভবান হয়। উৎপাদনকারী কৃষকরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত বলে দাবি করেন সরকার আমাদের নিয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করলে প্রান্তীক পর্যায়ের কৃষকরা সুবিধা পাবেন। জেলা শহর থেকে প্রাত্যন্ত গ্রামের কৃষকরা জানান,“ আমরা ঝালকাঠির উত্তর পশ্চিম প্রান্তের অবহেলিত গ্রামে থেকে কৃষি কাজ করে আসছি। যোগাযোগ ব্যবস্থা আরো উন্নত হলে আমরা সঠিক মূল্য পেতাম।” ঝালকাঠি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মনিরুল ইসলাম জানায়, “বাজারে এখন শীতের সবজির দাম থাকায় লাভবান হচ্ছেন তারা। পতিত জমিতে চাষ বাড়ানোর জন্য কৃষি বিভাগ পরার্মশসহ নানা ভাবে কৃষকদের সহায়তা করে যাচ্ছি। এবছর ঝালকাঠি জেলায় ৮ হাজার ২শত ৬৫ হেক্টর জমিতে শীতের শাখ-সবজির আবাদ হয়েছে বলে জানান তিনি।

    শৈত্যপ্রবাহে বোরো ধানের বীজতলার যত্ন নেবেন যেভাবে

    ষড়ঋতুর হিসেবে পৌষ-মাঘ শীতের ঋতু। এখন দেশে বইছে পৌষের শীত। তবে, এ মাসের শুরুর দিকে শীতের তীব্রতা তেমন অনুভব না হলেও শেষদিকে এসে কাঁপছে গোটা দেশ, বইছে শৈত্যপ্রবাহ।  এ সময়ে অনেকে বোরো ধানের জন্য তৈরি করছেন বীজতলা। আর এ বীজতলার যত্ন কীভাবে নেবেন বা কোন প্রযুক্তি সুবিধাজনক হবে চাষিদের সেই পরামর্শ দিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রণালয়ের অধীন কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস)। এআইএস বলছে, শৈত্যপ্রবাহের কারণে বোরো ধানের চারা চারা হলুদাভ হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া শীতের প্রকোপে চারা পোড়া বা চারা ঝলসানো রোগের জন্য চারা মারা যেতে পারে। শৈত্যপ্রবাহ শুরু হলে কৃষক ভাইদের বোরো ধান চাষাবাদে বাড়তি কিছু যত্ন নেওয়া জরুরি। বোরো ধানের বীজতলা তৈরিতে করণীয় * শৈত্যপ্রবাহের সময় বীজতলা স্বচ্ছ পলিথিন দিয়ে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঢেকে দিতে হবে। তবে, দীর্ঘসময় ধরে শৈত্যপ্রবাহ চলতে থাকলে সেখানে দিনে এবং রাতে সবসময় পলিথিন দিয়ে চারা ঢেকে রাখতে হবে এবং বীজতলার উভয়পার্শ্বে পলিথিন আংশিক খোলা রাখতে হবে। * বীজতলায় ৩ থেকে ৫ সেন্টিমিটার পানি ধরে রাখতে হবে। এক্ষেত্রে নলকূপের পানি ব্যবহার করা ভালো। বীজতলায় পানি সকালে বের করে দিয়ে আবার নতুন পানি দিতে হবে। প্রতিদিন সকালে জমা করা শিশির ঝরিয়ে দিতে হবে। ধান-চাষ কৃষি-সংবাদ * চারা পোড়া বা কলসানো রোগ দমনের জন্য রোগের প্রাথমিক অবস্থায় প্রতি লিটার পানিতে ২ মিলিলিটার অ্যাজোস্কিস্ট্রোবিন বা পাইরাক্লোস্টবিন জাতীয় ছত্রাকনাশক মিশিয়ে বীজতলায় বিকেলে স্প্রে করতে হবে। * বীজতলায় চারা হলুদ হয়ে গেলে প্রতি শতক জমিতে ২৮০ গ্রাম হারে ইউরিয়া সার প্রয়োগ করতে হবে। ইউরিয়া প্রয়োগের পরও চারা সবুজ না হলে প্রতি শতক জমিতে ৪০০ গ্রাম হারে জিপসাম সার প্রয়োগ করতে হবে। * জমিতে রোপণের জন্য কমপক্ষে ৩৫ থেকে ৪৫ দিনের চারা ব্যবহার করতে হবে। এ বয়সের চারা রোপণ করলে শীতে ভারার মৃত্যুর হার কমে। * চারা রোপণকালে শৈত্যপ্রবাহ শুরু হলে কয়েকদিন দেরি করে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হলে চারা রোপণ করতে হবে। * রোপণের পর শৈত্যপ্রবাহ হলে জমিতে ৫ থেকে ৭ সেন্টিমিটার পানি ধরে রাখতে হবে। শীতের তীব্রতা ও বয়স বিবেচনা করে চারা রোপণ করলে চারা সতেজ থাকবে এবং অধিক ফলন পাওয়া যাবে।

    চাটমোহরে ৪ হাজার বিঘা জমিতে বোরো আবাদ অনিশ্চিত

    আব্দুল লতিফ রঞ্জু, পাবনা প্রতিনিধি: পাবনার চাটমোহরে নিচু এলাকায় বোরো চাষ শুরু হয়ে গেছে পুরোদমে। কিছু কৃষক ইতিমধ্যে বোরো চারা রোপণ করেছেন। তবে সেঁচ যন্ত্রের মালিক কর্তৃক সেঁচ চার্জ বাবদ চার ভাগের এক ভাগ ধান আদায়কে কেন্দ্র করে কিছু মাঠের কৃষক ও সেঁচযন্ত্রের মালিকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব থাকায় এবং এখনও তা নিরসন না হওয়ায় সেঁচযন্ত্র মালিকরা কৃষকের জমিতে পানি দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রায় পনের থেকে বিশটি গভীর নলকূপ মালিক এখনও পানি দেননি কৃষকের জমিতে। এ ব্যাপারে উপজেলার বোয়াইলমারী এলাকার কৃষকেরা গত ১৯ ডিসেম্বর চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, বিএডিসি কর্মকর্তা ও কৃষি কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন। বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়ায় প্রায় ৪ হাজার বিঘা জমিতে বোরো ধান লাগাতে পারছেন না কৃষক। বিলের নিচু এলাকায় ধান লাগানো ইতিমধ্যেই প্রায় এক মাস বিলম্বিত হয়ে গেছে। এর ফলে ধান কাটতেও দেরী হবে এবং আগাম বন্যা হলে ধান ডুবে যাওয়ারও আশংকা করছেন কৃষক।  সমস্যাটির সমাধানে ভূক্তভোগি শতাধিক কৃষক বুধবার (০৪ জানয়ারি) দুপুরে আবারও চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কমকর্তা মোছা. মমতাজ মহলের সাথে দেখা করেন। জানা গেছে, এ এলাকার প্রথা অনুযায়ী ইতিপূর্বে সেঁচযন্ত্রের মালিকরা চারভাগের এক ভাগ ধান নিয়ে আসছিলেন। কৃষককে সেঁচযন্ত্রের মালিকের অংশের ধানও কেটে দিতে হতো। এতে বছরের পর বছর কৃষকের লোকসান হচ্ছিল। কৃষককে লোকসানের কবল থেকে বাঁচাতে ২০২১ সালের উপজেলা সেচ কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয় সেচ চার্জ বাবদ কৃষককে সেঁচযন্ত্রের মালিকদের বিঘা প্রতি গভীর নলকূপের ক্ষেত্রে ১ হাজার ৯০০ ও অগভীর নলকূপের ক্ষেত্রে ১ হাজার ৯৫০ টাকা করে দিতে হবে।  কৃষকদের মাঝে সেসময় এ সংক্রান্ত লিফলেটও বিতরণ করা হয়। তবে মৌসুমের শুরুতে কৃষকরা নগদ টাকা না দিয়ে আবাদের শেষ দিকে এসে পাঁচ ভাগের এক ভাগ ধান দিতে চান সেঁচযন্ত্রের মালিকদের। ধান পাকার ঠিক আগ মুহুর্তে বিভিন্ন গ্রামে মাইকিং করে কৃষককে পাঁচ ভাগের এক ভাগ ধান সেচ যন্ত্র মালিকদের দিতে বলায় কৃষক খুশী হলেও ক্ষুব্ধ হন সেচ যন্ত্রের মালিকরা।  কিছু সেঁচ যন্ত্রের মালিক ২০২২ সালের ৪ মে উপজেলার ধুলাউড়ি গ্রামের পাশবর্তী জোড়দহ (ডাকাতের ভিটায়) সাবেক এমপি শামসুদ্দিন খবিরের উপস্থিতিতে সভা করেন। তখন তারা দাবী করেন উপজেলা সেচ কমিটি ইরি বোরো মৌসুমে কৃষকের জমিতে সেচ বাবদ গভীর নলকূপ (সকল ক্ষেত্রে) ১ হাজার ৯০০ টাকা প্রতি বিঘা ও অগভীর নলকূপ (সকল ক্ষেত্রে প্রযোজ্য) ১ হাজার ৯৫০ টাকা নির্ধারণ করলেও সেচ যন্ত্র মালিকদের এ সংক্রান্ত কোন নোটিশ প্রদান করেন নি। এমনকি মৌসুমের শুরুতেও উপজেলা সেচ কমিটি সেঁচযন্ত্রের মালিকদের এ সংক্রান্ত কোন নোটিশ করেননি। কোন কৃষকও জমিতে সেচ নেওয়ার জন্য টাকা পরিশোধ করেন নি সেসময়। ধান কাটার ঠিক আগ মুহুর্তে মাইকিং করে কৃষকদের পাঁচ ভাগের এক ভাগ ধান দিতে বলায় তারা প্রশ্ন তোলেন এটা কেমন নিয়ম। নিয়ম-অনিয়মের মধ্য দিয়ে গত মৌসুমে কোথাও চার ভাগের একভাগ আবার কোথাও পাঁচ  ভাগের একভাগ ধান নেন সেঁচযন্ত্রের মালিকরা। চলতি মৌসুমে এসে সমস্যাটি প্রকট হয়। উপজেলার বোয়াইলমারী এলাকার কৃষকদের অভিযোগ বোয়াইলমারী এলাকায় তিনটি গভীর নলকূপের মাধ্যমে প্রায় ৬০০ বিঘা জমিতে সেঁচ দেন সাবেক এমপি শামসুদ্দিন খবির। চলতি মৌসুমের শুরু থেকেই তিনি কৃষককে চারভাগের এক ভাগ ধানের বিনিময়ে আবাদ করার কথা বলে আসছেন। এতে কৃষক সম্মত না হওয়ায় তিনি তার অধীনস্ত গভীর নলকূপ এলাকায় কৃষকের জমিতে পানি দিচ্ছেন না। ফলে কৃষক বোরো চাষ করতে পারছেন না। বোয়াইলমারী গ্রামের কৃষক তরিকুল ইসলাম জানান, গত বছর পাঁচ ভাগের এক ভাগ ধানের বিনিময়ে আবাদ করেছি। এবার কেন চার ভাগের এক ভাগ ধান দেব। সেঁচ কমিটির সভায় টাকা দেওয়ার বিধান থাকলেও কৃষকের শঙ্কা টাকা পাওয়ার পর সেঁচযন্ত্রের মালিক ঠিকমত জমিতে পানি নাও দিতে পারেন। প্রয়োজনে গভীর নলকূপ মালিককে অগ্রীম টাকা দেবো কিন্তু গভীর নলকূপ পরিচালনা করব আমরা, কৃষকরা। সেকেন্দার আলী জানান, সেঁচ যন্ত্রের মালিক পাঁচ ভাগের একভাগ ধান নিলে তবেই আমরা আবাদ করব। চারভাগের একভাগ ধান দেব না। একই গ্রামের কৃষক আব্দুল হামিদ জানান, ব্যাপারটি সুরাহা না হওয়ায় ধান রোপণে একমাস দেরী হয়ে গেল। আরো দেরি হলে আগাম বন্যায় ধান ডুবে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। বিষয়টি দ্রুত নিরসন হওয়া প্রয়োজন। নইলে এ এলাকার প্রায় চার হাজার বিঘা জমি অনাবাদী থেকে যেতে পারে। এ ব্যাপারে গভীর নলকূপ মালিক শামসুদ্দিন খবির জানান, কৃষকের জমিতে পানি দিচ্ছিনা একথা ঠিক নয়। নলকূপের বৈদ্যুতিক সংযোগ নিয়েছি। পানিও দিচ্ছি। কিন্তু কোন কৃষক টাকা দিচ্ছে না। শতকরা ৯০ ভাগ কৃষক নির্ধারিত হারে টাকা দিয়ে বোরো চাষে অনিহা প্রকাশ করছেন। কিছু কৃষক পাঁচ ভাগের এক ভাগ ধান দিয়ে আবাদ করতে চান। আমি আইনের উর্ধে নই। আইনানুযায়ী টাকা দিয়ে কৃষক বোরো চাষ করুক। প্রয়োজনে দুই দফায় টাকা পরিশোধ করুক। দুই চারজন কৃষক অন্যদের বিভ্রান্ত করছে। প্রয়োজনে কৃষক কমিটি করে গভীর নলকূপ চালাক তাতেও আমার আপত্তি নেই। আশা করি খুব শীঘ্রই এর সমাধান হবে। চাটমোহর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ.এ মাসুম বিল্লাহ জানান, সেঁচ চার্জ অল্প কিছু বাড়ানো হয়েছে। আসলে টাকার বিনিময়ে সেঁচের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। এ ব্যাপাারে সমন্বয়ের জন্য বৃহস্পতিবার (৫ জানুয়ারী) কৃষক এবং গভীর-অগভীর নলকূপ মালিকদের সাথে কথা বলবো আমরা। এ ব্যাপারে উপজেলা সেচ কমিটির সভাপতি ও চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাঃ মমতাজ মহল জানান, বিষয়টি সমাধানের জন্য আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করছি। আশা করছি খুব শীঘ্রই সমাধান করতে পারবো।  

    রাশিফল

    সব দেখুন

    রাশিফল: ইসলাম কী বলে

    জ্যোতিষীর রাশিফলে বিশ্বাস করা শিরকের শামিল। সে মানুষের গায়েব জানে না। কারণ সে একজন মানুষ এবং আল্লাহর সৃষ্টি। একমাত্র আল্লাহ তায়ালাই মানুষের আগে ও পেছনের সবকিছু জানেন। জ্যোতিষীর রাশিফলে বিশ্বাস করা মানে আল্লাহ আলিমুল গায়েব নামের সাথে শিরক করা। অর্থাৎ আপনার বিশ্বাস অনুযায়ী আল্লাহ গায়েব জানেন এবং জ্যোতিষীও গায়েব জানে। তার মানে আল্লাহর সাথে জ্যোতিষীকে শিরক করলেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তাঁরই কাছে আছে অদৃশ্যের চাবি, তিনি ছাড়া আর কেউ তা জানে না। জলে-স্থলে যা কিছু আছে সবই তিনি জানেন। তাঁর অজ্ঞাতসারে গাছের একটি পাতাও পড়ে না। মৃত্তিকার অন্ধকার প্রদেশে এমন শস্যকণাও নেই যে সম্পর্কে তিনি অবগত নন। শুষ্ক ও আদ্র সবকিছুই একটি সুস্পষ্ট কিতাবে লিখিত আছে।’ (সূরা আনআম : ৫৯) আল্লাহই আলিমুল গায়িব সব প্রকার অদৃশ্য বস্তুর জ্ঞান তিনি রাখেন। মানুষের মনের অন্ধকার কুঠুরিতে কি আছে, আল্লাহর কাছে তা দিবালোকের মতোই সুস্পষ্ট। কারণ তিনি আল্লামুল গুয়ুব। আল্লাহ মহাজ্ঞানী ও মহাবিজ্ঞ। আয়াতুল কুরসিতে বলা হয়েছে- ‘কে আছে তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর কাছে সুপারিশ করবে? যা কিছু মানুষের সামনে আছে তা তিনি জানেন এবং যা কিছু তাদের অগোচরে আছে সে সম্পর্কেও তিনি অবগত।’ (সূরা বাকারা : ২৫৫) মানুষ, জিন, ফেরেশতা বা অন্য কোনো সৃষ্টিই হোক না কেন, সবার জ্ঞান অপূর্ণ ও সীমিত। বিশ্ব জাহানের ব্যবস্থাপনা এবং এর অন্তর্নিহিত কার্যকারণ ও ফলাফল বোঝার মতো জ্ঞান কারো নেই। বিশ্ব জাহানের সমগ্র সত্য ও রহস্য কারো দৃষ্টি সীমার মধ্যে নেই। বিশ্ব-জাহানের প্রভুু ও পরিচালক মহান আল্লাহই পুরোপুরি জ্ঞান রাখেন। সব ক্ষেত্রে জ্ঞানের মূল উৎস মহান আল্লাহর হিদায়াত ও পথনির্দেশনার ওপর আস্থা স্থাপন করা ছাড়া মানুষের জন্য দ্বিতীয় আর কোনো পথ নেই। আল্লাহ বলেন, ‘তাদেরকে বলো, আল্লাহ ছাড়া পৃথিবীতে ও আকাশে কেউ অদৃশ্যের জ্ঞান রাখে না এবং তারা জানে না কবে তাদেরকে উঠিয়ে নেয়া হবে।’ (সূরা আন নামল : ৬৫) উল্লিখিত আয়াতের পূর্ব থেকে আল্লাহর সৃষ্টিকর্ম, ব্যবস্থাপনা ও জীবিকা দানের দিকে দিয়ে এই মর্মে যুক্তি পেশ করা হয়েছে যে, আল্লাহই একমাত্র ইলাহ। এবার আল্লাহর সার্বভৌম কর্তৃত্বের অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থাৎ জ্ঞানের দিক দিয়ে জানানো হচ্ছে, এ ব্যাপারেও মহান আল্লাহ হচ্ছেন লা-শারিক। পৃথিবী ও আকাশে ফেরেশতা, জিন, নবী, আউলিয়া অথবা মানুষ ও অমানুষ যেকোনো সৃষ্টি হোক না কেন, সবারই জ্ঞান সীমাবদ্ধ। সব কিছুর জ্ঞান যদি কারো থাকে তাহলে তিনি হচ্ছেন একমাত্র আল্লাহ। এ বিশ্ব জাহানের কোনো জিনিস এবং কোনো কথা তাঁর কাছে গোপন নেই। তিনি অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ সব কিছু জানেন। এখানে গায়েব শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। গায়েব মানে প্রচ্ছন্ন লুকানো অদৃশ্য বা আবৃত। পারিভার্ষিক অর্থে গায়েব হচ্ছে এমন জিনিস যা অজানা এবং যাকে জানার উপায়-উপকরণগুলো দ্বারা আয়ত্ত করা যায় না। দুনিয়ার এমন বহু জিনিস আছে যা এককভাবে কোনো কোনো লোক জানে এবং কোনো কোনো লোক জানে না। আবার এমন অনেক জিনিস আছে যা সামগ্রিকভাবে সমগ্র মানব জাতি কখনো জানত না, আজকেও জানে না এবং ভবিষ্যতেও জানার সম্ভাবনা নেই। জিন, ফেরেশতা ও অন্যান্য সৃষ্টির ব্যাপারেও এই একই কথা। তিনি হচ্ছেন মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহ। তাঁর কাছে প্রচ্ছন্ন, অদৃশ্য বা ভাসাভাসা জ্ঞান বলতে কোনো কিছু নেই। সবই তাঁর কাছে সুস্পষ্টভাবে পরিদৃশ্যমান। জ্যোতিষী যতই যুক্তি বা শাস্ত্রের কথা বলুক তাদের এগুলো বিশ্বাস করলে আল্লাহর সাথে শিরক করা হবে। এ জন্য আল্লাহর রাসূল সা: জ্যোতিষী বা গণকের কাছে যেতে নিষেধ করেছেন। রাসূল সা: বলেছেন, ‘যে একজন ভবিষ্যৎদ্রষ্টা গণকের কাছে গেল এবং সে যা বলে তা বিশ্বাস করল, মুহাম্মদের কাছে যা নাজিল হয়েছিল সে তা অবিশ্বাস করল।’ ( সুনানে আবু দাউদ : ৩৮৯৫) হাফসা রা: কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা: বলেন, ‘যে গণকের কাছে যায় এবং কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করে তার ৪০ দিন ও রাত্রির নামাজ গ্রহণযোগ্য হবে না। (সহিহ মুসলিম : ৫৫৪০) জ্যোতিষী তো দূরের কথা আল্লাহ তাঁর রাসূলকে সা: দিয়ে কি বলিয়েছে লক্ষ করুন- ‘(হে মুহাম্মদ) তুমি বলো, আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন তা ব্যতীত আমার নিজের ভালো-মন্দের ওপরও আমার কোনো অধিকার নেই। আমি যদি অদৃশ্যের খবর বা গায়েব জানতাম তবে তো আমি প্রভুত কল্যাণই লাভ করতাম এবং কোনো অকল্যাণই আমাকে স্পর্শ করত না। আমি তো শুধু মুমিন সম্প্রদায়ের জন্য সর্তককারী ও সুসংবাদদাতা মাত্র।’ (সূরা আরাফ : ১৮৮) সুতরাং জ্যোতিষী বা গণকের কাছে যাওয়া, তার কথা শোনা ও বিশ্বাস করা শিরক ও কুফরির অন্তর্ভুক্ত। এদের কাছে কখনো যাবেন না। লেখক : ব্যাংকার

    রাশিফল কি সত্যি হয়?

    বৈদিক জ্যোতিষে ১২টি রাশি-মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ, কন্যা, তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীন-এর ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়। একইরকমভাবে ২৩টি নক্ষত্রেরও ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়ে থাকে।  প্রতিটি রাশির নিজস্ব স্বভাব এবং গুণ-ধর্ম থাকে, তাই প্রতিদিন গ্রহের স্থিতির অনুসারে তাদের সাথে যুক্ত জাতকের জীবনে ঘটিত স্থিতি ভিন্ন-ভিন্ন হয়। এই কারণের জন্যই প্রত্যেক রাশির রাশিফল আলাদা-আলাদা হয়। জেনে নিন আজকের রাশিফল। মেষ যদি মনে করেন আপনার বেশি খরচ হচ্ছে, তাহলে কিছুটা কম করুন। আয় বাড়াতে ব্যবসায়ে বিনিয়োগ করুন। ভবিষ্যতের নিরাপত্তার কথা ভাবুন। সঠিকভাবে পরিকল্পনা করার জন্য আর্থিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। বৃষ মানসিকভাবে চাপের পরিস্থিতিতে পড়তে পাড়েন। । ভয় না পেয়ে এখান থেকে শিখে নিন। প্রথমে সমস্যাগুলো সমাধানের দিকে মনোনিবেশ করুন। আপনাকে সাহায্য করার জন্য আপনার চারপাশে আপনার সহায়কদের রাখুন। মিথুন আর্থিক ক্ষেত্রে আজ ভালো দিন। শারীরিক সমস্যার সমাধান হবে আজ। কর্কট নিজের ক্যারিয়ারের প্রতি নজর দিতে হবে। ব্যক্তিগত জীবনে সমস্যা দেখা দিতে পারে। কাছের মানুষের সঙ্গে সময় কাটানো প্রয়োজন।  সিংহ ঘুরতে যাওয়ার জন্য আদর্শ সময়। কর্মক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিতে পারে। সমস্যা মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা করতে হবে। কন্যা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য আদর্শ দিন। পরিবারের বয়স্ক মানুষের সমস্যার দিকে নজর রাখতে হবে। তুলা একসঙ্গে একাধিক কাজ না করাই ভালো। নিজের মনকে একটি নির্দিষ্ট কাজে নিবদ্ধ করুন। ইতিমধ্যে যে কাজ চলছে তা শেষ করুন। এরপরে নতুন কিছু করুন। বৃশ্চিক আজ দিনটি উপভোগ করতে পারবেন। সমস্যায় পড়লে বন্ধুদের সাহায্য পাওয়া যাবে। ধনু অন্যের উপর ভরসা করা যাবে না। আরও উদ্যোগী হতে হবে। নিজের দক্ষতার প্রতি সুবিচার করতে হবে। কর আজ কাজে বাঁধা আসার সম্ভাবনা রয়েছে। শারীরিক সমস্যা হতে পারে। কাজে উদ্যমের অভাব দেখা যাবে। কুম্ভ নিজের লক্ষ্যে সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম। সফল না হলেও চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। পরিবারের তরফে আর্থিক সহায়তা পাওয়া যাবে। মীন আপনার অনুভূতি প্রকাশ করার জন্য আজ একটি দুর্দান্ত দিন। আপনি যাকে বিশ্বাস করেন তার সঙ্গে কথা বলুন। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করা ভালো বিষয়।

    আজকের রাশিফল: জেনে নিন কেমন কাটবে আপনার দিন

    আজকের রাশিফল-এর ওপর চোখ রেখে শুরু করুন আপনার দিন। রাশিফল হল জ্যোতিষ শাস্ত্রের একটি অন্যতম অঙ্গ। বহু মানুষ রাশিফলের দিকে নজর রেখেই পদক্ষেপ নেন জীবনে। কারণ, রাশিফলই আপনাকে জানিয়ে দিতে পারে গোটা দিনের এক সামগ্রিক ছবি।  পাশাপাশি, জীবনে চলার প্রতিটি পদক্ষেপে আপনার ভাগ্যের চাকা কোন দিকে ঘুরছে সে সম্পর্কেও আঁচ পেতে পারেন আপনি। এছাড়াও, সতর্ক হওয়া যায় আসন্ন বিপদ থেকেও। তাই, জেনে নিন কেমন যাবে আপনার দিনটি: মেষ রাশি: যাঁরা বাড়ি থেকে দূরে থাকেন তাঁরা আজকে তাঁদের সব কাজ শেষ করে সন্ধ্যেবেলায় কোনো পার্ক বা নির্জন জায়গায় সময় কাটাতে পছন্দ করবেন। আপনার মধ্যে আজ ভরপুর আত্মবিশ্বাস বজায় থাকবে। তাই, এই দিনটিকে কাজে লাগান। বিবাহিতদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে ভালো দিন। কোনো সৃজনশীল কাজের প্রতি আজ আপনি আকৃষ্ট হবেন। বাড়ির কাজগুলিকে উপেক্ষা করবেন না। বৃষ রাশি: কর্মক্ষেত্রে দিনটি ভালো কাটবে। পাশাপাশি, কর্মব্যস্ত দিন হওয়া সত্বেও আজ স্বাস্থ্য সুন্দর থাকবে। কোনো আত্মীয় অথবা বন্ধুর কাছ থেকে আজ কিছু অপ্রত্যাশিত উপহার পাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। বাড়ির সব কাজ শেষ করার পর এই রাশির গৃহিণীরা আজকে অবসর সময়ে টিভি বা মোবাইলে কোনো সিনেমা দেখতে পারেন। আপনার আর্থিক জীবন আজ অবশ্যই সমৃদ্ধ হবে। মিথুন রাশি: সন্তানদের সাথে আজ অবশ্যই কিছুটা সময় কাটান। এর ফলে মন ভালো থাকবে। আর্থিক দিক থেকে দিনটি খুব একটা ভালো না। পাশাপাশি, কোনো লেনদেন করার সময়ে অবশ্যই সতর্ক থাকুন। কোনো আত্মীয় বা বন্ধু অথবা কোনো প্রতিবেশী আজ আপনার বিবাহিত জীবনে অশান্তি বয়ে আনবেন। আপনি আজ নিজের জন্য কিছুটা অবসর সময় পাবেন। প্রেমের জীবনে সতর্ক থাকুন। কর্কট রাশি: অবসর সময়ের আনন্দ উপভোগ করার জন্য আজ আপনি একাকী নিজের পছন্দের কোনো কাজ করতে পারেন। ব্যস্ত কাজের সময়সূচি আজ আপনাকে খিটখিটে করে তুলতে পারে। পরিবারের সদস্যদের সাথে আজ দুর্দান্ত সময় কাটবে। আপনার কৌতুকপূর্ণ মনোভাব চারপাশের পরিবেশকে আলোকিত করবে। আজ এমন জায়গায় টাকা বিনিয়োগ করুন যাতে প্রয়োজনের সময়ে তা পাওয়া যায়। সিংহ রাশি: আজ আপনি বাড়িতে একটি পুরোনো জিনিস খুঁজে পেয়ে অত্যন্ত আনন্দিত হবেন। পাশাপাশি, সেই জিনিসটি পরিষ্কার করতে গিয়ে পুরো দিনটি ব্যর্থ করতে পারেন। মন এবং শরীরকে সুস্থ রাখতে ধ্যান এবং যোগ ব্যায়াম করুন। প্রেমের জন্য দিনটি নিঃসন্দেহে ভালো। আজ আপনি কোনো সামাজিক কাজে সময় ব্যয় করুন। এর ফলে, মানসিক শান্তি বজায় থাকবে। কোনো সিনেমা বা নাটক দেখে আজকে আপনার হঠাৎ পাহাড়ে যাওয়ার ইচ্ছে হতে পারে। অর্ধাঙ্গিনীর সাথে ভালো সময় কাটবে। কন্যা রাশি: পরিবারের সাথে সম্পন্ন হওয়া কোনো সামাজিক ক্রিয়াকলাপ আজ সবাইকে আনন্দ দেবে। আপনার মধ্যে থাকা সীমাহীন সৃজনশীলতা এবং উদ্যম একটি লাভজনক দিনের দিকে আপনাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। কোনো সিনেমা বা নাটক দেখে আজকে হঠাৎই আপনার পাহাড়ে যাওয়ার ইচ্ছে হতে পারে। আজ, আপনি এমন এক ব্যক্তির সম্মুখীন হতে পারেন যিনি আপনাকে আপনার অর্থনৈতিক দিকটি শক্তিশালী করার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করবেন। তুলা রাশি: কোনো ব্যক্তিগত এবং গোপনীয় তথ্য আজ কারোর কাছে প্রকাশ করবেন না। আর্থিকভাবে দিনটি ভালোই কাটবে। শুধু তাই নয়, আজ আপনি অর্থ উপার্জনের জন্য অসংখ্য সুযোগ পেয়ে যাবেন। আপনি আজ বিশ্রামের জন্য অনেকটা সময় পাবেন। কোনো সফরের ফলে আপনি লাভবান হতে পারেন। অর্ধাঙ্গিনীর স্বাস্থ্যজনিত কিছু সমস্যার কারণে আজ আপনি চাপে থাকতে পারেন। বৃশ্চিক রাশি: আজকে আপনি অনেকটা অবসর সময় পাবেন। সেই সময়টাতে পরিবারের সদস্যদের সাথে সুন্দর মূহুর্তগুলি কাটান। কোনো অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা এবং দুশ্চিন্তা আপনাকে আজ মানসিক চাপে রাখতে পারে। আজকে আপনি অফিস থেকে তাড়াতাড়ি বাড়ি যাওয়ার পরিকল্পনা করতে পারেন। পাশাপাশি, বাড়িতে পৌঁছে পরিবারের সদস্যদের সাথে কোনো সিনেমা বা পার্কে যাওয়ার পরিকল্পনা করতে পারেন। অযথা অর্থব্যয় করবেন না। ধনু রাশি: কেউ কেউ আজ রাতে আর্থিক দিক থেকে লাভবান হতে পারেন। জীবনে চলতে থাকা অশান্তির মাঝেও আজ আপনি নিজের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাবেন। পাশাপাশি, সেই সময়ে আপনি আপনার পছন্দমতো কোনো কাজ করতে সক্ষম হবেন। জীবনসঙ্গীর সাথে আজ দুর্দান্ত সময় কাটবে। নাতি-নাতনিদের আজ কিছুটা সময় দিন। মন থেকে সমস্ত নেতিবাচক অনুভূতি দূর করুন। আপনি আজ প্রেমের সম্মুখীন হতে পারেন। মকর রাশি: এই রাশিচক্রের ব্যবসায়ীদের আজ তাঁদের পরিবারের এমন সদস্যদের থেকে দূরে থাকা উচিত যাঁরা অর্থ সাহায্য নিয়ে তা আর ফেরত দেয় না। আপনার ভালোবাসার মানুষটির কাছ থেকে পাওয়া কোনো ফোন কল আপনার দিনটিকে সফল করে তুলবে। যাঁরা বাড়ি থেকে দূরে থাকেন তাঁরা আজকে তাঁদের সব কাজ শেষ করে সন্ধ্যেবেলায় কোনো পার্ক বা নির্জন জায়গায় সময় কাটাতে পছন্দ করবেন। আজকে আপনি আপনার স্ত্রীর কাছ থেকে বিশেষ মনোযোগ পাবেন। কুম্ভ রাশি: আপনার জ্ঞান এবং উত্তম রসবোধ আজ আপনার চারপাশের মানুষকে আকৃষ্ট করবে। মন এবং শরীর ভালো রাখতে আজ ধ্যান এবং যোগ ব্যায়াম করুন। আপনি আজ কোনো খেলাধূলায় অংশগ্রহণ করতে পারেন। আজ আপনি বাড়ির কোনো খারাপ হয়ে যাওয়া বৈদ্যুতিক যন্ত্রটি ঠিক করার জন্য আপনার অর্থ ব্যয় করতে পারেন। আপনার ভালোবাসার জীবনে আজ কোনো সমস্যা আসতে পারে। মীন রাশি: আজ আপনি প্রচুর আকর্ষণীয় আমন্ত্রণ পেতে পারেন। শুধু তাই নয়, একটি আকষ্মিক উপহারও আপনার জন্য আসতে পারে। ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের মাঝেই আজ খুশি খোঁজার চেষ্টা করুন। আজ দিনের শেষের দিকে আপনার কোনো পুরোনো বন্ধু আপনার বাড়িতে সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ করতে আসতে পারেন। স্ত্রীর সাথে কোনো বিষয় নিয়ে আজ মনোমালিন্য হতে পারে। আর্থিক দিক থেকে আজকের দিনটি ভালো।

    বিচিত্র

    সব দেখুন