আসন্ন গণভোটকে ঘিরে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোট দেওয়ার কথা মানুষের মুখে মুখে শোনা গেলেও ভোটের প্রার্থী, প্রতীক কিংবা ব্যালট পেপার কেমন হবে—এসব বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা নেই অনেকেরই।
বাঘা উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের ফতেপুর বাউসা গ্রামের কৃষক জাকিরুল ইসলাম বলেন, “মানুষের মুখে শুনছি হ্যাঁ আর না ভোট আছে, কিন্তু কার জন্য ভোট দেব বা ব্যালটে কীভাবে ভোট দিতে হবে কিছুই জানি না। আমি পড়ালেখা জানি না, তাই এসব বুঝতেও পারি না। সিল দিতে হবে নাকি টিক দিতে হবে সেটাও জানি না। হয়তো ভোটকেন্দ্রে গেলে বুঝতে পারব।”
জাকিরুলের স্ত্রী রাশেদা বেগমও জানান, গণভোট সম্পর্কে তিনি তেমন কিছু জানেন না। তিনি বলেন, “আমি মূর্খ মানুষ, এত কিছু বুঝব কীভাবে?”
একই গ্রামের লুৎফা বেগমকে গণভোট সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, “গণভোট মানে ধানের শীষ বা দাঁড়িপাল্লা।” পরে বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হলে তিনি বলেন, “ওহ, এখন বুঝতে পারছি।”
পাশের এলাকার ভোটার মুক্তা খাতুন বলেন, “মানুষের মুখে শুনেছি, ফেসবুকেও একটু আধটু দেখেছি। কিন্তু আসলে এই ভোটটা কী, ব্যালট পেপার কেমন, প্রতীক কী—এসব কেউ পরিষ্কার করে বুঝায়নি। একটু বুঝিয়ে বললে ভালো হতো।”
এ বিষয়ে বাউসা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান বলেন, “সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী আমাদের যে কর্মসূচিগুলো দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো আমরা যথাযথভাবে পালন করেছি।”
বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাম্মী আক্তার জানান, উপজেলার সব ইউনিয়ন, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদের মাধ্যমে মাইকিং করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া পিভিসি ব্যানার জনবহুল স্থানে টাঙানো হয়েছে এবং লিফলেটও বিতরণ করা হয়েছে।
তবে মাঠপর্যায়ের ভোটারদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রচারণা থাকলেও গণভোটের প্রক্রিয়া, প্রতীক ও ব্যালট সম্পর্কে আরও সহজ ও কার্যকরভাবে বোঝানোর প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
ইখা