ভারতের পর্যটন ভিসা বন্ধ থাকায় রাজবাড়ী থেকে এ বছরেও ভারতের মেদিনীপুরে যাচ্ছে না ঐতিহ্যবাহী ওরশ স্পেশাল ট্রেন। ফলে শত বছরের বেশি পুরোনো এই বিশেষ ট্রেনযাত্রায় দ্বিতীয়বারের মতো ভাটা পড়েছে।
আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি রাতে ভারতের মেদিনীপুরে ১২৫তম বার্ষিক ওরশ শরীফ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারত সরকার পর্যটন ভিসা বন্ধ রেখেছে। ফলে রাজবাড়ী আঞ্জুমান-ই-কাদেরীয়ার উদ্যোগে এবারও বাংলাদেশের মুরিদ ও ভক্তদের জন্য মেদিনীপুরগামী ওরশ স্পেশাল ট্রেন চালু করা সম্ভব হয়নি।
১৯০২ সালে চালু হওয়া এই ট্রেনটি ২০২১ ও ২০২২ সালে করোনা মহামারির কারণে বন্ধ ছিল। সর্বশেষ পর্যটন ভিসা বন্ধ থাকায় ২০২৫ ও চলতি ২০২৬ সালেও ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, সর্বশেষ ২০২৪ সালে রাজবাড়ী থেকে স্পেশাল ট্রেনটি মেদিনীপুরে গিয়েছিল। সে সময় ২৪ কোচের ট্রেনে মোট ২ হাজার ২৫৭ জন বাংলাদেশি ওরশ যাত্রী অংশ নেন। ট্রেনটি ১৪ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজবাড়ী থেকে ছেড়ে দর্শনা সীমান্ত হয়ে ভারতের গেদে পৌঁছে ১৬ ফেব্রুয়ারি মেদিনীপুরে পৌঁছায়। পরে ১৮ ফেব্রুয়ারি রাতে ফেরত যাত্রা শুরু করে ১৯ ফেব্রুয়ারি রাজবাড়ীতে ফিরে আসে।
রাজবাড়ী আঞ্জুমান-ই-কাদেরীয়ার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাসিম শফি জানান, পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুরে ‘মওলাপাক’ নামে পরিচিত হযরত সৈয়দ শাহ মোর্শেদ আলী আল কাদেরী আল হাসানী আল হুসাইনী আল বাগদাদী আল মেদিনীপুরীর (আ.) ১২৫তম বার্ষিক পবিত্র ওরশ আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি রাতে জোড়া মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত সরকার যৌথভাবে ১৯০২ সাল থেকে এই স্পেশাল ট্রেন চলাচলের ব্যবস্থা করে আসছে। দেশ ভাগের পরও ঐতিহ্য রক্ষায় দুই দেশের রেল কর্তৃপক্ষ এটি চালু রেখেছিল।
তবে ভিসা জটিলতায় এবারও ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকলেও রাজবাড়ী শহরের বড় মসজিদ (খানকা শরীফ) প্রাঙ্গণে একই উপলক্ষে ১২৫তম বার্ষিক ওরশ শরীফ অনুষ্ঠিত হবে। এতে বিপুলসংখ্যক ভক্তের সমাগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইখা