এইমাত্র
  • ‎রায়পুরে বালুচাপা মরদেহ উদ্ধার, এলাকায় চাঞ্চল্য
  • বরিশালে স্কুল ছাত্রকে হত্যার পর লাশ ফেলে দেওয়া হয় খালে
  • অভিযোগ পেলে দলীয় ছাড় নয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হবে: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
  • ৫২’র ভাষা শহিদদের প্রতি বিজিবি মহাপরিচালকের শ্রদ্ধা
  • কাতার ও বাহরাইন থেকে কয়েকশ সেনা সরিয়ে নিলো যুক্তরাষ্ট্র
  • ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্ক আরোপ অবৈধ: মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট
  • ৫২-তে ভাষা পেলেও নাগরিক অধিকার আজও অধরা : শফিকুর রহমান
  • আজিমপুর কবরস্থানে ভাষা শহীদদের কবর জিয়ারত করে দোয়া জামায়াতের
  • প্রথমবারের মতো শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানালেন জামায়াত আমির
  • টাঙ্গাইলে একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে প্রতিমন্ত্রী টুকুর শ্রদ্ধা
  • আজ শনিবার, ৮ ফাল্গুন, ১৪৩২ | ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
    দেশজুড়ে

    ভাষা মতিনের জন্মভূমির অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নেই শহীদ মিনার

    মো. রোকনুজ্জামান রকু, চৌহালী (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি প্রকাশ: ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:২৮ পিএম
    মো. রোকনুজ্জামান রকু, চৌহালী (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি প্রকাশ: ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:২৮ পিএম

    ভাষা মতিনের জন্মভূমির অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নেই শহীদ মিনার

    মো. রোকনুজ্জামান রকু, চৌহালী (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি প্রকাশ: ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:২৮ পিএম

    রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের অবিস্মরণীয় ও অসাধারণ ব্যক্তিত্বের অধিকারী সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার ছেলে আব্দুল মতিন। তাকে ‘ভাষা মতিন’ বলেই ডাকেন স্থানীয়রা। অথচ তার জন্মভূমির অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নেই শহীদ মিনার। এতে শহীদদের শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি তাদের সম্পর্কে জানতে পারছে না এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হাজারও শিক্ষার্থী।

    তবে কিছু কিছু স্কুলে কলাগাছ কিংবা বাঁশ দিয়ে দিয়ে তৈরি শহীদ মিনারে শহীদদের শ্রদ্ধা জানায় শিক্ষার্থীরা। অনেক বিদ্যালয়ে তাও সম্ভব হয় না।

    চৌহালী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, চৌহালী উপজেলায় পাঁচটি কলেজ, ২০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ১৭টি মাদরাসা ও উপজেলায় ১২৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২২টি এবতেদায়ী মাদরাসা, ১৩০টি আনন্দ স্কুল, ৩৬টি ইসলামিক ফাউন্ডেশন স্কুল, ২০টি কেজি স্কুল ও কৃষি মাঠ স্কুল রয়েছে। এছাড়া বেশ কয়েকটি নতুন প্রাইমারি স্কুল প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।

    এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বেশিরভাগই নেই শহীদ মিনার। ভাষা মতিনের জন্মভূমি চৌহালী উপজেলার প্রতিষ্ঠিত কলেজ ও বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ছাত্র-ছাত্রীরা জানতে পারছে না ভাষা আন্দোলনের সঠিক ইতিহাস।

    খাষকাউলিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রোকসানা খাতুন জানায়, আমরা টেলিভিশনে প্রতি বছরই দেখি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রভাতফেরি ও শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া করা হয়। আমাদের বিদ্যালয়গুলোতে শহীদ মিনার না থাকায় আমরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে পারছি না।

    কোদালিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আলাউদ্দিন, জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র রহিম সেখ, কোরবান আলী ও হযরত শেখ জানায়, একুশে ফেব্রুয়ারি, ২৬ মার্চ, ১৬ ডিসেম্বর শিক্ষকরা ভোরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে বলেন। এরপর পতাকা উত্তোলন করে শিক্ষার্থীরা যার যার মতো করে বাড়ি ফিরে যায়। তবে শহীদ মিনার না থাকায় শহীদদের যথাযথভাবে শ্রদ্ধা জানাতে পারে না তারা।

    খাষপুকুরিয়া ইউনিয়নের পুকুরিয়া কোদালিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলেয়া খাতুন বলেন, ‘আমাদের বিদ্যালয়ে কোনো শহীদ মিনার নেই। তাই মাতৃভাষা দিবসে আমরা স্কুলের পাশের একটি মসজিদের শহীদ মিনারে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মিলে ফুল দিয়ে শহীদদের শ্রদ্ধা জানাই।’

    চৌহালী উপজেলার ভারপ্রাপ্ত  মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এম এ সালাম  বলেন, যমুনার ভাঙন কবলিত উপজেলা চৌহালী। এই উপজেলার অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই শহীদ মিনার ছিল। কিন্তু যমুনার ভাঙনে সে প্রতিষ্ঠানগুলো নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

    তিনি আরও বলেন, ‘সরকার ছাড়াও স্কুল-কলেজের ম্যানেজিং কমিটির উদ্যোগে শহীদ মিনার তৈরি করা উচিত। তাহলে তরুণ প্রজন্মের শিক্ষার্থী সেই শহীদ মিনারে ফুল দিতে এসে ভাষা আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসগুলো জানতে পারবে। তবে আমরা সব বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে চিঠির মাধ্যমে শহীদ মিনার তৈরি ও মাতৃভাষা দিবস পালনের জন্য বলা হয়েছে। যদি কোনো বিদ্যালয় মাতৃভাষা দিবস পালন না করে তবে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

    এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল মোন্নাফ খান বলেন, ‘শহীদ মিনার তৈরি করতে কোনো সরকারি বরাদ্দ নেই। যারা তৈরি করেছে তারা নিজ উদ্যোগে করেছে।’

    এ বিষয়ে চৌহালী উপজেলা প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক দিবসগুলোর আয়োজন বিদ্যালয়গুলোতে কেন হয় না তা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে সরেজমিন তদন্ত করতে বলা হয়েছে। এছাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গুলোতে বাজেট না পাওয়ার ও ভাঙন কবলিত এলাকার কারণে তারা শহীদ মিনার তৈরি করতে পারছে না। তবে এ বিষয়গুলো উল্লেখ করে লিখিত আকারে মন্ত্রণালয়ে আমরা চিঠি পাঠিয়েছি। আশা করছি দ্রুত সময়ে শহীদ মিনার তৈরি হবে।

    ইখা

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    সর্বশেষ প্রকাশিত

    Loading…