এইমাত্র
  • ইসির আপিল শুনানি কক্ষে হট্টগোল
  • বিএনপি প্রার্থীর আবেদন নামঞ্জুর, হাসনাত আব্দুল্লাহর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা
  • ঝিনাইদহে আমির হামজাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা
  • প্রত্যাশিত শক্তিশালী গণতন্ত্রকে ফেরাবই: সালাহউদ্দিন আহমেদ
  • হঠাৎ ইরানকে ‘ধন্যবাদ’ দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট
  • দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো চূড়ান্ত
  • অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ: হাত মেলায়নি ভারত-বাংলাদেশ
  • কৌশলের নামে ‘গুপ্ত’ রূপ নেয়নি বিএনপির কর্মীরা: তারেক রহমান
  • বাংলাদেশ অবশ্যই ফিফা বিশ্বকাপে অংশ নিবে: ফিফা সভাপতি
  • বাংলাদেশের ভিসা পাননি আইসিসি প্রতিনিধি দলের ভারতীয় কর্মকর্তা
  • আজ শনিবার, ৪ মাঘ, ১৪৩২ | ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬
    দেশজুড়ে

    সিডিএ নিয়োগে প্রশ্নফাঁস ও অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ

    গাজী গোফরান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট (চট্টগ্রাম) প্রকাশ: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:১০ পিএম
    গাজী গোফরান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট (চট্টগ্রাম) প্রকাশ: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:১০ পিএম

    সিডিএ নিয়োগে প্রশ্নফাঁস ও অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ

    গাজী গোফরান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট (চট্টগ্রাম) প্রকাশ: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:১০ পিএম

    চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চলমান জনবল নিয়োগ কার্যক্রমকে ঘিরে প্রশ্নপত্র ফাঁস, প্রতারণা এবং সংঘবদ্ধ অর্থ বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন সিডিএ সচিব রবীন্দ্র চাকমার অফিসের পিয়ন নূর মোহাম্মদ বাদশা এবং তার ছেলে। অনলাইন যোগাযোগ মাধ্যম ইমু (IMO) ব্যবহার করে প্রশ্ন সরবরাহের আশ্বাস দিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করা হয়েছে বলে একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে।

    ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সিডিএ সচিব রবীন্দ্র চাকমা একজনকে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তরের কথা স্বীকার করলেও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে অভ্যন্তরীণ সূত্র, ভুক্তভোগীদের বয়ান এবং সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ সচিবের বক্তব্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

    সিডিএ সূত্র জানায়, জুনিয়র হিসাব রক্ষক, সাঁট লিপিকার কাম-কম্পিউটার অপারেটর, মার্কেট সুপারিনটেনডেন্ট, সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম-কম্পিউটার অপারেটর, ড্রাফটসম্যান, ড্রাইভার, অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, মেইনটেন্যান্স ইন্সপেক্টর, সহকারী ক্যাশিয়ার, ইমারত পরিদর্শক ও সার্ভেয়ারসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদের লিখিত পরীক্ষা আগামী ১৭ জানুয়ারি সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম নগরের গভর্নমেন্ট মুসলিম হাই স্কুল, কলেজিয়েট স্কুল এবং নাসিরাবাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি ইতোমধ্যে স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশ করা হয়েছে এবং বাছাইয়ে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের অনুকূলে ডাকযোগে প্রবেশপত্র পাঠানো হয়েছে।

    এই নিয়োগকে কেন্দ্র করেই প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে সক্রিয় হয় একটি সংঘবদ্ধ চক্র। অভিযোগ রয়েছে, সিডিএ সচিবের অফিসের পিয়ন নূর মোহাম্মদ বাদশা নিজে সরাসরি সামনে না এসে তার ছেলের মাধ্যমে বিভিন্ন চাকরিপ্রার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন। প্রশ্ন সরবরাহের নিশ্চয়তা দিয়ে নেওয়া হয় নগদ অর্থ। কয়েকজন প্রার্থী ইতোমধ্যে টাকা দিয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন।

    ঘটনার নাটকীয় মোড় নেয় সম্প্রতি নগরের মেহেদীবাগ এলাকায়। প্রশ্ন কেনাবেচার অর্থ সংগ্রহ করতে গিয়ে রায়হান নামে এক ব্যক্তি স্থানীয়দের সন্দেহের মুখে পড়েন। উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে স্থানীয়রা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে প্রশ্ন বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং সিডিএ সচিবের পিয়নের ছেলের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য দেয়। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে তাকে কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হয়।

    এই ঘটনার পর পরিস্থিতি সামাল দিতে সিডিএ সচিব রবীন্দ্র চাকমা সংবাদপত্রে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। বিজ্ঞপ্তিতে তিনি দাবি করেন, নিয়োগ কার্যক্রম সম্পূর্ণ বিধি মোতাবেক ও স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন করা হবে। পাশাপাশি প্রার্থীদের সব ধরনের অসাধু ও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, অবৈধ তদবির বা অনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার কোনো সুযোগ নেই।

    তবে সিডিএর ভেতরের চিত্র ভিন্ন বলেই দাবি করছেন একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সময়ের কন্ঠস্বর-কে তারা জানান, প্রশ্নফাঁস চক্রের মূল পরিকল্পনাকারী নূর মোহাম্মদ বাদশাই। সচিবের অফিসের পিয়ন হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় সে সহজেই গুরুত্বপূর্ণ নথি ও দাপ্তরিক কার্যক্রমের সংস্পর্শে আসে। এই অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে নিজে আড়ালে থেকে ছেলেকে সামনে রেখে অর্থ বাণিজ্য পরিচালনা করেছে বলে অভিযোগ।

    আরেকটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, নূর মোহাম্মদ বাদশা দীর্ঘদিন ধরে সচিব রবীন্দ্র চাকমার অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। সচিবের দপ্তরের বহু গোপনীয় ও সংবেদনশীল কাজ তার মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়ে থাকে। ফলে প্রশ্নফাঁসের মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠার পরও তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নেওয়ায় সংস্থার ভেতরে ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।

    এদিকে নিয়োগ প্রক্রিয়ার অতীত ইতিহাসও নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে। সিডিএর একাধিক সূত্র জানায়, সহকারী প্রকৌশলী, সহকারী স্থপতি, সহকারী প্রোগ্রামার, স্টাফ অফিসার, জনসংযোগ কর্মকর্তা ও জিআইএস অপারেটর পদে গত ৯ জানুয়ারি ঢাকায় অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষার ফলাফল মাত্র চার দিনের ব্যবধানে প্রকাশ করা হয়। এত অল্প সময়ের মধ্যে ফল প্রকাশ স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। একই সঙ্গে ইকোনমিক এনালিস্ট পদে ‘যোগ্য প্রার্থী পাওয়া যায়নি’ মর্মে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ নিয়েও সন্দেহ দেখা দিয়েছে।

    সূত্রগুলোর দাবি, প্রশ্ন বিক্রির মাধ্যমে আদায়কৃত অর্থ হজম করতে এবং আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে দ্রুত নিয়োগ কার্যক্রম শেষ করতেই তড়িঘড়ি করে ফল প্রকাশ ও প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।

    এই নিয়োগ ঘিরে আগে থেকেই আদালতে মামলা চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে। বোর্ড সভায় আদালতের বিষয়টি আমলে নিয়ে নিয়োগে হস্তক্ষেপ না করার সিদ্ধান্ত থাকলেও বাস্তবে তা উপেক্ষা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি এক শ্রমিক নেতার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সিডিএ চেয়ারম্যানকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেয়। তবে সেই নির্দেশ জারির এক মাস পেরিয়ে গেলেও তদন্ত শুরু না করে নিয়োগ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ায় প্রশাসনিক সদিচ্ছা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

    সিডিএর সদস্য (প্রশাসন) নুরুল্লাহ নূরী এর আগে বলেছিলেন, সব নিয়ম-কানুন মেনেই নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। কিন্তু বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। বরং সাম্প্রতিক সময়ে বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা নূর মোহাম্মদ বাদশাকে সদস্য (প্রশাসন) দপ্তরে পদায়নের খবর নতুন করে সন্দেহ ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

    এ বিষয়ে জানতে সিডিএ সচিবের পিয়ন নূর মোহাম্মদ বাদশার মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। একইভাবে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আফতাবের সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

    ক্রমবর্ধমান অভিযোগ, তদন্তে গড়িমসি, আদালত ও মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ উপেক্ষা এবং অভ্যন্তরীণ সূত্রের তথ্য মিলিয়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা এখন গুরুতর প্রশ্নের মুখে।

    এসআর

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    চলতি সপ্তাহে সর্বাধিক পঠিত

    সর্বশেষ প্রকাশিত

    Loading…