কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ থেকে সেন্টমার্টিন পর্যন্ত ‘বাংলা চ্যানেল’ নামে পরিচিত সমুদ্রপথ সাঁতরে পাড়ি দিয়েছেন ৩৫ জন সাঁতারু। ১৬ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই চ্যানেল পাড়ি দিয়ে শনিবার সফলভাবে শেষ হয়েছে ১৯তম বাংলা চ্যানেল সাঁতার প্রতিযোগিতা।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টায় শাহপরীর দ্বীপের পশ্চিম পাড়া সমুদ্রসৈকত থেকে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন কক্সবাজার জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দীন। উদ্বোধনের পর সাঁতারুরা সাঁতার শুরু করে সেন্টমার্টিন দ্বীপের উত্তর সৈকতে পৌঁছে প্রতিযোগিতা শেষ করেন।
জানা গেছে, প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে প্রথমে ৩৭ জন সাঁতারু নিবন্ধন করলেও চূড়ান্তভাবে ৩৫ জন সাঁতারু অংশ নেন। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং ক্রীড়া পরিদপ্তরের পৃষ্ঠপোষকতায় ‘তারুণ্যের উৎসব’-এর অংশ হিসেবে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে ‘ষড়জ অ্যাডভেঞ্চার’।
দ্রুততম সময়ে বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিয়ে এবারও প্রথম হয়েছেন সাইফুল ইসলাম রাসেল। তিনি ৪ ঘণ্টা ১৫ মিনিটে শাহপরীর দ্বীপ থেকে সাঁতরে সেন্টমার্টিন পৌঁছান।
এর আগেও ২০২৩ সালে তিনি একই প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছিলেন। যুগ্মভাবে দ্বিতীয় হয়েছেন মো. ফয়সাল আহমদ ও তৌফিকুজ্জামান। তাঁরা সময় নেন ৪ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট। তৃতীয় হন হাফিজুর রহমান, তাঁর সময় লাগে ৫ ঘণ্টা ৫ মিনিট।
কক্সবাজার জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দীন সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণায়ের উদ্যোগে ১৯ তম বাংলা চ্যানেল সাঁতার প্রতিযোগীতা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বিগত ২০০৬ সাল থেকে এ প্রতিযোগীতা শুরু হয়েছিল। তারেই ধারাবাহিকতায় এবছরও প্রতিযোগীতায় ৩৫ জন সাঁতারু অংশ নিয়েছেন।
প্রতিযোগিতা শেষে সাইফুল ইসলাম রাসেল বলেন, তিনি এর আগে ছয়বার বাংলা চ্যানেল সাঁতরে পাড়ি দিয়েছেন। ২০২১ সালে একসঙ্গে ডাবল বাংলা চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার অভিজ্ঞতার কথাও জানান তিনি। প্রতিকূল সাগর পরিস্থিতির মধ্যেও আবার প্রথম হতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন এই সাঁতারু।
‘কিং অব বাংলা চ্যানেল’ হিসেবে পরিচিত এবং ২০বার বাংলা চ্যানেল পাড়ি দেওয়া সাঁতারু ও ষড়জ অ্যাডভেঞ্চারের প্রধান নির্বাহী লিপটন সরকার সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, ‘এবার দুইজন নারীসহ ৩৫ জন সাঁতারু অংশ নিয়েছেন। এই সাঁতার আন্তর্জাতিক রীতি মেনে পরিচালনা করা হচ্ছে। নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক সাঁতারুর জন্য বোট ও উদ্ধারকর্মী রয়েছে। বাংলা চ্যানেল সাঁতারকে আন্তর্জাতিক করতে পেরেছি।’
তিনি আরও জানান, এবারের আয়োজনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ঢাকা ব্যাংক পি.এল.সি। এছাড়া পাওয়ার্ড বাই পৃষ্ঠপোষক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন ডাইনামিক ডেন্টিস্ট্রি। ইভেন্ট পার্টনার হিসেবে ছিলেন ভিসাথিং, স্টুডিও ঢাকা এবং সরকার এগ্রো।
আরডি