উগান্ডার বিরোধী দলীয় প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ববি ওয়াইনকে তার বাড়ি থেকে সামরিক হেলিকপ্টারে করে ‘জোরপূর্বক অজ্ঞাত স্থানে’ নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তার দল ন্যাশনাল ইউনিটি প্ল্যাটফর্ম শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে এ দাবি জানায়। এর এক দিন আগে থমথমে পরিবেশে দেশটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ববি ওয়াইনকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে উগান্ডা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
দীর্ঘদিনের প্রেসিডেন্ট ইয়োওয়েরি মুসেভেনির বিরুদ্ধে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন দেশটির শীর্ষ বিরোধী নেতা ওয়াইন। জাতিসংঘ জানিয়েছে, নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালে প্রার্থীদের ‘ব্যাপক দমন-পীড়ন ও ভয়ভীতি প্রদর্শন’ করেছে দেশটির সরকার।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় ভোরে উগান্ডার রাজধানী কামপালা থেকে কাতার ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদক জানান, ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় ওয়াইনের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। আল জাজিরার সঙ্গে যোগাযোগ করা ন্যাশনাল ইউনিটি প্ল্যাটফর্মের এক কর্মকর্তা শুধু এটুকু নিশ্চিত করতে পেরেছেন যে, ‘সামরিক বাহিনী ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার সদস্য গোছের লোকজন ওয়াইনের বাড়ির দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করেছিল।’
বৃহস্পতিবারের (১৫ জানুয়ারি) ভোটের পরপরই ওয়াইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ করেন, দেশজুড়ে ‘ব্যালট বাক্সে জাল ভোট ভরার’ ঘটনা ঘটেছে। তিনি উগান্ডার জনগণকে ‘সময়োপযোগী ভূমিকা নিতে এবং অপরাধী শাসনব্যবস্থা প্রত্যাখ্যান করতে’ আহ্বান জানান।
৮১ বছর বয়সী প্রেসিডেন্ট মুসেভেনি প্রায় চার দশক ধরে উগান্ডার ক্ষমতা আঁকড়ে রয়েছেন। চলতি সপ্তাহের নির্বাচনের আগে বলেছিলেন, এবার ৮০ শতাংশ ভোট পাওয়ার আশা করছেন তিনি।
শুক্রবার ভোট গণনা চলাকালে মুসেভেনি স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন। নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, প্রায় ৮১ শতাংশ ভোট গণনা শেষে তিনি ৭৩.৭ শতাংশ ভোট পেয়েছেন, আর ওয়াইনের প্রাপ্ত ভোট ২২.৭ শতাংশ।
এবি