জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় থামছেই না অবৈধ মাটি কাটার দৌরাত্ম্য। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে ভেকু ও ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে কৃষিজমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটা হচ্ছে। দিনের পর দিন এ কার্যক্রম চললেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চরআমখাওয়া ও বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নসহ উপজেলার প্রায় সব ইউনিয়নেই ফসলি জমিতে গভীর গর্ত করে অবৈধ নলকূপ ড্রেজার ও ভেকু মেশিন বসিয়ে রাত–দিন সমানতালে মাটি কাটা হচ্ছে। এসব মাটি ট্রাক ও ট্রাক্টরের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে একদিকে জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে পুরো এলাকা মারাত্মক পরিবেশগত ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
গ্রামবাসীরা অভিযোগ করে বলেন, এভাবে মাটি কাটার ফলে জমি চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। বর্ষা মৌসুমে এসব গর্তে পানি জমে জলাবদ্ধতা তৈরি হবে। পাশাপাশি বসতবাড়ি ও রাস্তাঘাট ধসে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। তবে প্রভাবশালী চক্রের ভয় ও চাপের কারণে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না বলে জানান তাঁরা।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান চললেও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় এসব অভিযান কার্যত কাগজে–কলমেই সীমাবদ্ধ। ফলে অবৈধ মাটি ব্যবসায়ীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
পরিবেশবিদদের মতে, কৃষিজমি থেকে এভাবে মাটি উত্তোলন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এতে শুধু কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হয় না, দীর্ঘমেয়াদে ভয়াবহ পরিবেশগত বিপর্যয় ও মানবিক সংকট সৃষ্টি হতে পারে।
এলাকাবাসীর জোর দাবি, দ্রুত অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এসব কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হোক।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কাউকে পাওয়া যায়নি।
ইখা