লক্ষ্মীপুরে জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা হয়েছে। এতে জামায়াতের মামলায় ১৭০ জন এবং বিএনপির মামলায় ২১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সকালে চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদ আলম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, জামায়াতের যুব বিভাগের নেতা হেজবুল্লাহ সোহেল এবং বিএনপির কর্মী কামাল হোসেন বাদী হয়ে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হামলার অভিযোগ এনে জামায়াতের যুব বিভাগের চরশাহী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি হেজবুল্লাহ সোহেল বাদী হয়ে ১৭০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে আরও ১৬০ জনকে। অপরদিকে একই ঘটনায় চরশাহী ইউনিয়ন বিএনপির কর্মী কামাল হোসেন ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত ২০০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে চরশাহী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বটগাছতলা এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার জন্য দুই পক্ষই একে অপরকে দায়ী করেছে।
লক্ষ্মীপুর–৩ আসনের জামায়াত নেতা মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, তাঁদের নারী কর্মীদের একটি কর্মসূচিতে বিএনপির নেতাকর্মীরা বাধা দেন। পরে বিষয়টি মীমাংসা হলেও ফের তাঁদের পুরুষ নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
অন্যদিকে লক্ষ্মীপুর–৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, জামায়াতের কিছু লোক ভোটারদের কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করছিলেন, সেখান থেকেই ঘটনার সূত্রপাত। তিনি বলেন, ‘উভয় পক্ষের মধ্যেই অপরাধপ্রবণতা দেখা গেছে। আমি শুধু বিএনপির আহত নেতাকর্মীদের নয়, হাসপাতালে জামায়াতের আহত নেতাকর্মীদের সঙ্গেও কথা বলেছি।’ তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও যথাযথ ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোরশেদ আলম বলেন, চরশাহীতে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় দুই পক্ষই মামলা করেছে। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।
ইখা