টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার পলিশা গ্রামের মাঝিপাড়া এলাকা, এখানে সন্ধ্যা নামলেই চারপাশে নেমে আসে নিস্তব্ধতা। নদীর ধারে জাল শুকায়, ঘরের ভেতর জমে ওঠে ক্লান্ত দিনের দীর্ঘশ্বাস। গ্রামের এই মাঝি পাড়ায় এক কোণায় জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে বেড়ে উঠছে ১৫ বছর বয়সী কিশোর কানাই।
কানাইয়ের বাবা গোবিন্দ পেশায় একজন জেলে। নদীতে জাল ফেলে যা আয় হয়, তা দিয়েই কোনো রকমে সংসার চলে। কিন্তু ছেলের চিকিৎসা এই এক লড়াই তাকে ধীরে ধীরে নিঃস্ব করে দিয়েছে। হাঁটতে না পারা ছেলেটিকে কোলে নিয়েই বছরের পর বছর চলতে হয় তাকে। চলাফেরার জন্য একটি হুইলচেয়ার ছিল কানাইয়ের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন, কিন্তু দারিদ্র্যের দেয়ালে সেই প্রয়োজন বারবার আটকে গেছে।
গোবিন্দ মাঝি বলেন, ওকে কোলে নিয়ে চলাফেরা করতে করতে শরীর আর শক্তিদুটোই ভেঙে গেছে। কিন্তু ছেলের কষ্টটাই সবচেয়ে বেশি পোড়ায়।”
দিনের পর দিন কেটে যায়। কানাইয়ের নীরব কান্না কিংবা বাবার অসহায় চোখ তেমন কারও নজরে পড়ে না।
হঠাৎ সেই নীরবতার ভেতরেই আশার আলো হয়ে আসে একটি খবর। কানাইয়ের দুর্দশার কথা জানতে পারেন ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহবুব হাসান। কোনো আনুষ্ঠানিকতা বা সময়ের অজুহাত না দেখিয়ে খবর পাওয়ার পরই তিনি (১৮ জানুয়ারি) রাতের বেলায় ছুটে যান সেই মাঝিপাড়া কানাইদের বাড়িতে।
আলো-আঁধারের সেই রাতে কানাইয়ের সামনে তুলে ধরা হয় একটি হুইলচেয়ার, সঙ্গে দেওয়া হয় আর্থিক সহায়তা। হুইলচেয়ারে বসার মুহূর্তে কানাইয়ের চোখে ভয়ের জায়গা নেয় স্বস্তি। যেন দীর্ঘদিন পর নিজের চলার অধিকার ফিরে পেল কানাই।
ছেলের মুখে হাসি দেখে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি বাবা গোবিন্দ। ভাঙা গলায় তিনি বলেন, “আজ মনে হচ্ছে, আমার ছেলেটা আর একা না। কেউ আমাদের খবর নিয়েছে।”
এই ঘটনা শুধু একটি হুইলচেয়ার দেওয়ার গল্প নয়। বরং দায়িত্বশীল প্রশাসন এবং মানবতার এক স্পষ্ট বার্তা।
এলাকাবাসীর মতে, এমন মানবিক উদ্যোগ প্রশাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনবে। কানাইয়ের জীবনে এই হুইলচেয়ার হয়তো সব কষ্ট দূর করবে না, কিন্তু চলার পথে এটি হয়ে থাকবে তার ভরসার সঙ্গী।
এসআর