৪০ বছর আগে ১৯৭৬ সালে আফ্রিকা নেশন্স কাপ (আফকন) জিতেছিল মরক্কো। এরপর আরো একবার এ ট্রফি জয়ের স্বপ্ন বুঁনছিল দলটি। আশরাফ হাকিমির নেতৃত্বে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভালো সময় কাটাচ্ছে তারা। তবে শেষ মুহূর্তে গোল হজম করে সেই স্বপ্ন আর পূরণ হয়নি তাদের।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাবাতে অনুষ্ঠিত ফাইনালে মরক্কোকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা ঘরে তুলেছে সেনেগাল।
এ ম্যাচে শেষ মুহূর্তের গোল ছাড়াও নাটকীয়তার কমতি ছিল না। নির্ধারিত ৯০ মিনিট গোলশূন্য থাকলেও অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই দর্শনীয় এক গোল করেন পাপ গেয়ি। সেই গোলেই মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের শিরোপা নিশ্চিত হয় সেনেগালের।
এর আগে রেফারির সিদ্ধান্ত ঘিরে উত্তেজনা, কোচের নির্দেশে খেলোয়াড়দের ড্রেসিংরুমে চলে যাওয়া, আবার মাঠে ফেরা সব মিলিয়ে এক নাটকীয় রাতের সাক্ষী হলো রাবাতের সবুজ গালিচা।
এদিন ম্যাচের শুরু থেকেই একের পর এক গোলের সুযোগ তৈরি করে মরক্কোর রক্ষণভাগে কাঁপন ধরিয়েছে সেনেগাল। ম্যাচের ৫ম মিনিটেই কর্ণার থেকে উড়ে আসা বল জালে জড়ানোর চেষ্টা করেন পাপ গেয়ি। তবে সেই যাত্রায় মরক্কোর রক্ষাকর্তা বনে যান গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনো।
ম্যাচের ৩৭তম মিনিটে ইলিমান একা গোলরক্ষকের সামনে গিয়েও গোল করতে ব্যর্থ হন। প্রথমার্ধে মরক্কোও কয়েকটি সুযোগ পেলেও গোলের দেখা পায়নি। গোলশূন্য সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধ।
বিরতির পর আক্রমণের ধার বাড়ায় স্বাগতিকরা। তবে একের পর এক শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। শেষদিকে বিতর্ক চরমে ওঠে। যোগ করা সময়ের শেষ দিকে কর্নার থেকে রিয়াল মাদ্রিদের ফরোয়ার্ড ব্রাহিম দিয়াস ফাউলের শিকার হলে ভিএআর দেখে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে সেনেগাল কোচ পাপ ঝাও খেলোয়াড়দের ড্রেসিংরুমে ডেকে নেন। কিছু সময় পর তারা মাঠে ফেরেন। পেনাল্টি নিতে এসে ভয়াবহভাবে ব্যর্থ হন দিয়াস। দুর্বল পানেনকা শট সহজেই ধরে নেন সেনেগালের গোলরক্ষক। এরপরই নির্ধারিত সময় শেষ হয়।
অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই ইদ্রিসা গেয়ির থ্রু বল ধরে দুর্দান্ত কোনাকুনি শটে জয়সূচক গোলটি করেন পাপ গেয়ি। পরে মরক্কো সমতায় ফেরার একাধিক সুযোগ পেলেও ভাগ্য সহায় হয়নি।
ম্যাচজুড়ে ঘটে যাওয়া বিতর্ক, বিশৃঙ্খলা আর অশোভন পরিস্থিতি আফ্রিকান ফুটবলের সৌন্দর্যকে আঘাত করেছে বলেই মত অনেকের। ধারাভাষ্যকারদের কণ্ঠেও শোনা গেছে হতাশা। ফুটবলের চেয়ে ঘটনাই যেন বেশি আলোচনায় চলে এসেছে।
উল্লেখ্য, এ নিয়ে দ্বিতীয়বার আফ্রিকান নেশন্স কাপ জিতল সেনেগাল। এর আগে, ২০২১ সালে প্রথমবার মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিল দেশটি। অন্যদিকে, মরক্কোর শিরোপা অপেক্ষা দীর্ঘ হলো আরও। ১৯৭৬ সালের পর আর এই ট্রফির স্বাদ পায়নি তারা।
আরডি