লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনে জামায়াতের ১০দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে এনসিপি নেতা মাহবুব আলমের নাম ঘোষনা করা হয়েছে। এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে জামায়াতের নেতাকর্মীরা। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে দীর্ঘদিন থেকে কাজ করে আসছেন উপজেলা জামায়াতের আমির নাজমুল হাসান পাটোয়ারী। অন্যদিকে ইসলামি আন্দোলনের প্রার্থী জাকির হোসেনও দীর্ঘদিন থেকে মাঠ গোছাচ্ছেন। আর বিএনপির প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন জাতীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব শাহাদাত হোসেন সেলিম। সবার তুলনায় এনসিপির মাহবুব নতুন প্রার্থী হিসেবে এখনও জনসমর্থন তৈরি করতে পারেনি। অর্জন করতে পারেন নি গ্রহন যোগ্যতা। মাহবুব নির্বাচন করলে হারাতে হতে পারে আসন টি। তাই লক্ষ্মীপুর-১ আসন পুনঃবিবেচনার দাবি তৃণমূল নেতৃত্বকর্মীদের।
তারা অভিযোগ করে বলেন, মাহবুব একসময় ছাত্রদল করতো। সেই ছবি গুলো এখনও স্যোসাল মিডিয়ায় ঘুরপাক খাচ্ছে। তার বাবা আজিজুর রহমান ইছাপুর ইউনিয়ন বিএনপির নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক। এছাড়া তার ভাই তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম জামায়াতের বিরুদ্ধে নানান মন্তব্য করে বিতর্কিত। এ পর্যায়ে এসে মাহবুবকে জামায়াত জোটের মনোনয়ন দেওয়ায় আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। আমরা কোন ভাবেই বিষয়টি মেনে নিতে পারছি না। তিনি তো তার ঘরের ভোটও পাবেন না।
তারা আরো বলেন, রামগঞ্জ আসন আমাদের হাতে গড়া। আমরা আমাদের দলীয় নেতার জন্য ভোটারদের ধারে ধারে দাঁড়ি পাল্লার জন্য মাঠ গুছিয়ে নিয়েছি। হঠাৎ আমাদের গোছালো মাঠে কেউ এসে নির্বাচন করবে সেটা আমরা মেনে নিতে পারছিনা। আমরা আমাদের প্রার্থী নাজমুল হাসান পাটওয়ারীর জন্য রাত দিন পরিশ্রম করে যাচ্ছি। কিন্তু আমাদের পরিশ্রমের ফল আরেক নেতার ঘরে যাবে তা কষ্টকর।
তরুণ ভোটার ওয়াছি উদ্দীন বলেন, জোট করলেই কি আগের দাগ কেঁটে যায়? মাহবুব আলম তো নিজের বাবার ভোটই পাবে না। মাহবুব একজন ছাত্র, তার কোটি টাকার সম্পদের হিসাব আগে দিতে হবে।
মাহবুব তো এজেন্ট দেওয়ার লোকই পাবে না। সে জোট করছে ঠিক আছে, কিন্তু আগের কথাবার্তা, চালচলন তো আর মানুষ ভুলে যায়নি। সে ১০০% জামানত হারাবে। আমার তো মনে হচ্ছে বিএনপি নেতা শাহাদাত হোসেন সেলিমের সাথে সমঝোতা করেই আসছে যাতে বিএনপি জিতে যায়। লক্ষ্মীপুর-১ আসনে জামায়াতের অবস্থা ভালো দেখে বিএনপি ভয়ে ছিলো। মাহবুব কে দেওয়ার পর বিএনপির নেতাকর্মীরা হাতে তালি দিচ্ছে।
জামায়াত কর্মী মাওলানা আব্দুস সাত্তার বলেন, জামায়াত প্রার্থী নাজমুল হাসানের প্রতিটি গ্রামে গ্রামে প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে পদচারণা আছে। তাকে সবাই চিনে অথচ মাহবুব আলমকে কেউ চিনে না। আমাদের নেতা কর্মীরা তার নির্বাচন করবে না। আমরা চাই এই আসনে নাজমুল হাসানকেই মনোনয়ন দেওয়া হোক।
উপজেলা যুব বিভাগ সভাপতি মাওলানা আবু সালেহ বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী স্বাধীনতার পর থেকে এখানে কাজ করে আসছে। আমাদের প্রতিটি ইউনিয়ন, ওয়ার্ড, পাড়া মহল্লায় কমিটি রয়েছে। কিন্তু এনসিপির ৫০০ জন সমর্থকও নেই। তাই আশা করব মাহবুব আলম জামায়াত প্রার্থী নাজমুল হাসানকে সমর্থন করে যাবেন।
রামগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ এমরান হোসেন বলেন, আমাদের লোকজন দীর্ঘদিন থেকে মাঠ গুছিয়েছে, আমাদের কেন্দ্র কমিটি আছে, আমাদের এজেন্ট আছে, মাঠ পর্যায়ের ও তৃণমূল পর্যায়ের লোকজনের ক্ষোভ আছে। কিন্তু দেশের বৃহত্তর স্বার্থে ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে এনসিপির নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হয়েছে। তাই তাদের গুরুত্বও কম নয়। আমরা একটি সুসংগঠিত সংগঠন, জোটের সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই।
এ বিষয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব আলম বলেন, জামায়াতের সাথে এনসিপির যে জোট হয়েছে সেখানে আমরা ৩০টি আসনে নির্বাচন করবো। তার মধ্যে লক্ষ্মীপুর-১ অন্যতম। এখানে জামায়াত আমাদের সর্বাত্মক করবেন বলে আমরা প্রত্যাশা করি। আমরা আশা করি জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অন্যকোন প্রার্থী থাকবেন না। লক্ষ্মীপুর-১ আসনে আমরা জয়লাভ করে জোটকে উপহার দেবো।
লক্ষ্মীপুর -১ রামগঞ্জ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নাজমুল হাসান পাটওয়ারী বলেন, আমরা দীর্ঘ সময় ধরে আমাদের দলীয় কার্ক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের মাঠ গোছালো, আমরা দলের সিদ্ধান্তে মাঠে ময়দানে তৃণমূলে কাজ করেছি। কিন্তু আমাদের ঘাঁটি দখল করে কেউ নির্বাচন করবে সেটা আমার তৃণমূলকে মানিয়ে নেয়া যাবে না।
এসআর