বিএনপি ক্ষমতায় এলে যত দ্রুত সম্ভব তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) নীলফামারীর পৌর মাঠে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, “এই এলাকার মানুষের প্রাণের দাবি তিস্তা মহাপরিকল্পনা। ১২ তারিখ বিএনপি ক্ষমতায় গেলে অন্যতম প্রধান কাজ হবে যত দ্রুত সম্ভব এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা, যাতে তিস্তা অববাহিকা আবার সবুজ ও শস্য-শ্যামলা হয়ে ওঠে।”
তিনি বলেন, “১২ তারিখ দেশের মানুষ ভোট দেবে। শুধু ভোট দিলেই চলবে না, দেশ গঠন করতে হবে। এটি করতেই হবে—কারণ আমাদের যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। আমাদের প্রথম ও শেষ ঠিকানা বাংলাদেশ।”
তারেক রহমান বলেন, নীলফামারী এলাকায় বিদ্যমান ইপিজেড আরও সম্প্রসারণ করা হবে, যাতে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি তরুণদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এতে স্থানীয় যুবসমাজ দক্ষ শ্রমিকে পরিণত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
নারীদের স্বাবলম্বী করার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে প্রতিটি নারীর কাছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে সরকারিভাবে সহায়তা পাবে মা-বোনেরা।
কৃষকদের জন্য পৃথক পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, এই অঞ্চল কৃষিনির্ভর। কৃষক ভালো থাকলে দেশ ভালো থাকবে। কৃষকদের সহায়তায় ‘কৃষি কার্ড’ চালু করা হবে।
তারেক রহমান বলেন, “এসব কার্ডের মাধ্যমে কৃষকেরা সহজে ঋণ নিতে পারবেন, সার ও কীটনাশক পাবেন। ধানের শীষের প্রার্থী বিজয়ী হলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হবে।”
তিনি আরও জানান, রেজিস্টার্ড এনজিও থেকে নেওয়া কৃষিঋণ সরকার পরিশোধ করবে।
ধর্মগুরুদের প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, মসজিদ-মাদরাসার ইমাম, খতিবসহ বিভিন্ন ধর্মের অনেক ধর্মগুরু মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বিএনপি সরকার গঠন করলে তাদের জন্য সম্মানী ভাতার ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি নীলফামারীতে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের দাবি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন। পাশাপাশি কিশোরগঞ্জ-সৈয়দপুর এলাকাকে শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলে রেল কারখানাসহ নতুন শিল্প স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান।
জনসভায় ভোটকেন্দ্রে যেতে মানুষকে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ তুলে তারেক রহমান বলেন, যারা ভোট দিতে বাধা দেবে বা ভয় দেখাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইখা