ইউরোপের দেশ পর্তুগালে পরিবারের সঙ্গে অবকাশ যাপনে গিয়েছিলেন তিন বছরের শিশু মেডেলিন ম্যাককেন। ওই ভ্রমণেই পর্তুগাল থেকে নিখোঁজ হয় মেডেলিন। নিখোঁজের প্রায় দুই দশক পর আবারও সামনে এসেছে মেডেলিনের নাম। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের নির্দেশে প্রকাশিত এপেস্টেইন মামলার সঙ্গে মেডেলিনের নাম আবারও প্রকাশ্যে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে এপস্টেইন ও তার সহযোগী গিজেলেইন ম্যাক্সওয়েল -এর অপরাধ সংক্রান্ত ৩৫ লাখ পৃষ্ঠার নথি প্রকাশিত হয়েছে। সেই নথির মধ্যে একটি পৃথক সাক্ষ্য বিবৃতিতে মেডেলিনের নাম উল্লেখ রয়েছে।
২০০৭ সালের ৩ মে পর্তুগালের আলগারভ অঞ্চলের প্রাইয়া দা লুজে অবস্থিত একটি রিসোর্ট থেকে নিখোঁজ হয় মেডেলিন ম্যাকক্যান। মেডেলিনের বাবা-মায়ের নাম কেট ও জেরি ম্যাকক্যান। ওই রাতে মেডেলিনকে ঘুমে রেখে রিসোর্টের নিকটস্থ একটি রেস্তোরাঁয় ডিনার করতে গিয়েছিলেন কেট ও জেরি। ডিনার শেষে রিসোর্টে ফিরলেও মেডেলিনকে আর ফিরে পাননি ওই দম্পতি।
নিখোঁজের পর সীমান্ত ও বিমানবন্দরে সতর্কতা জারি করা হয়, ব্যাপক অনুসন্ধান শুরু হয়। তবে মেডেলিনের সন্ধান মেলেনি। এটি আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত শিশু নিখোঁজের মামলায় পরিণত হয়।
২০০৯ সালের তারিখযুক্ত ওই বিবৃতিতে এক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি দাবি করেন, তিনি ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে একটি সড়কে এক নারী ও এক ছোট মেয়েকে দেখেছিলেন। শিশুটিকে তার কাছে মেডেলিনের মতো মনে হয়েছে। তার বর্ণনা অনুযায়ী, মেয়েটির ডান চোখে মেডেলিনের মত ‘কোলাবোমা’ নামের দাগ ছিল।
সাক্ষী আরও দাবি করেন, সঙ্গে থাকা নারীকে দেখতে গিজেলাইনের মনে হয়েছিল। তবে তিনি সে সময় বিষয়টি গুরুত্ব দেননি। পরে অনলাইন ওয়েবসাইটে এপেস্টেইনের যৌন অপরাধের কর্মকাণ্ড দেখার পর এ বিষয়ে পুলিশে রিপোর্ট করেন।
২০০৯ সালেই মেডেলিনের পরিবার কর্তৃক নিযুক্ত বেসরকারি তদন্তকারীরা একটি ই-ফিট (কম্পিউটারভিত্তিক স্কেচ) প্রকাশ করেন। ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফ সে সময় জানিয়েছিল, স্পেনের বার্সেলোনায় এক নারীকে দেখা গিয়েছিল যাকে ভিক্টোরিয়া বেকহ্যাম সদৃশ বলা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে অনলাইনে সেই স্কেচ আবার ছড়িয়ে পড়েছে এবং ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগসূত্র নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে প্রকাশিত এপেস্টেইনের অপরাধ নথিতে মেডেলিনের নাম উল্লেখ থাকলেও কর্তৃপক্ষ বলছে— এটি অত্যন্ত পুরোনো, যাচাইবিহীন সাক্ষ্য এবং মামলার অগ্রগতির জন্য তা নিশ্চিত কোনো প্রমাণ নয়।
এবি