‘ভাগ্য আসন’ হিসেবে পরিচিত কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আবারও আলোচনায়। অতীতে এই আসনে যে দলের প্রার্থী জয়ী হয়েছেন, সেই দলই সরকার গঠন করেছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
বেসরকারি ফলাফলে দেখা গেছে, বিএনপির প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী পেয়েছেন ১ লাখ ২৩ হাজার ৫৮২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা জামায়াতের আমির নুর আহমদ আনোয়ারী পেয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৩৩ ভোট। দুজনের ব্যবধান ১ হাজার ৫৪৯ ভোট।
চারবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী আগে জাতীয় সংসদের হুইপ ছিলেন। এবার পঞ্চমবারের মতো জয়ী হয়ে তিনি বলেন, ভেদাভেদ ভুলে এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে চান।
ফলাফল নিয়ে আপত্তি:
নুর আহমদ আনোয়ারী দীর্ঘ ২২ বছর টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি হ্নীলার একটি ঐতিহ্যবাহী মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
শুক্রবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি দাবি করেন, তাকে ৯২৯ ভোটে পরাজিত দেখানো হয়েছে এবং ফলাফলে অসংগতি রয়েছে। বিস্তারিত পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
চার আসনেই বিএনপির জয়:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজারের চারটি আসনেই বিএনপি প্রার্থীরা বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন। শুক্রবার ভোরে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান ফলাফল ঘোষণা করেন।
কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া):
এই আসনে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ পেয়েছেন ২ লাখ ২০ হাজার ৫৬৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের আবদুল্লাহ আল ফারুক পেয়েছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ৭২৬ ভোট। ব্যবধান ৯৫ হাজার ৮৪০।
জয়ের পর সালাহউদ্দিন আহমদ ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, জীবনে বহু সংগ্রাম করেছেন, তবে পরাজয়ের মুখ দেখেননি। এলাকার দীর্ঘদিনের জনপ্রিয়তা তার পক্ষে কাজ করেছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।
কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া):
এ আসনে বিএনপির আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ পেয়েছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ৬৬০ ভোট। জামায়াতের হামিদুর রহমান আযাদ পেয়েছেন ৮৯ হাজার ৮১৭ ভোট।
মহেশখালী ও কুতুবদিয়া দুই সাগরদ্বীপ নিয়ে গঠিত এ আসনে স্থানীয় দ্বন্দ্ব থাকলেও নির্বাচনের আগে দলীয় সমন্বয় জয়ের পথ সহজ করে দেয় বলে বিএনপি নেতারা জানান। মহেশখালীতে ধানের শীষ পেয়েছে ৯৫ হাজার ২৫৯ ভোট, দাঁড়িপাল্লা ৫৪ হাজার ৫৬৯। কুতুবদিয়ায় দাঁড়িপাল্লা ৩৫ হাজার ২৪৮ এবং ধানের শীষ ২৯ হাজার ৪০১ ভোট পেয়েছে।
কক্সবাজার-৩ (সদর, রামু ও ঈদগাঁও) এই আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা লুৎফুর রহমান কাজল পেয়েছেন ১ লাখ ৮১ হাজার ৪৬০ ভোট। জামায়াতের শহিদুল আলম বাহাদুর পেয়েছেন ১ লাখ ৫২ হাজার ৯৯৪ ভোট। ব্যবধান ২৮ হাজার ৪৬৬।
জয়ের পর কাজল বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী টানা এক বছর মাঠে কাজ করেছেন। ভবিষ্যতে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কক্সবাজারের উন্নয়নে কাজ করতে চান।
সব মিলিয়ে কক্সবাজারের চার আসনেই বিএনপির জয় নিশ্চিত হয়েছে বেসরকারি ফলাফলে। তবে কক্সবাজার-৪ আসনের ১ হাজার ৫৪৯ ভোটের ব্যবধানই ছিল সবচেয়ে আলোচিত। জেলা জামায়াতের আমিরের এই অল্প ব্যবধানের পরাজয় নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা।
এবি