এইমাত্র
  • দেশের সব নির্বাচন অফিসে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ
  • স্বামীকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে হত্যার অভিযোগ, স্ত্রী ও প্রেমিক আটক
  • রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্দে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা চান এরদোয়ান
  • ওসমান হাদির ওপর হামলাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা মনে করছে না বিএনপি
  • ছুটির দিনেও খোলা থাকবে রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়
  • ওসমান হাদির ওপর হামলার পর পানছড়ি সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার
  • ১২ ঘণ্টায়ও নিয়ন্ত্রণে আসেনি জাবালে নূর টাওয়ারের আগুন
  • চট্টগ্রাম-১৫ আসনে বিএনপি’র প্রার্থীকে জরিমানার পর শোকজ
  • আফগানিস্তানকে ৩ উইকেটে হারাল বাংলাদেশ
  • ডেঙ্গুতে একদিনে আক্রান্ত ৫৭২
  • আজ রবিবার, ২৯ অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ | ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৫
    দেশের সব নির্বাচন অফিসে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ
    দেশের সব নির্বাচন অফিসে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) মহাপুলিশ পরিদর্শকসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে এ সংক্রান্ত আলাদা আলাদা চিঠি পাঠানো হয়। ইসির উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, ‌‘গত ১১ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়সূচি জারি করা হয়েছে। সময়সূচি জারির পর দুর্বৃত্তরা জেলা নির্বাচন অফিস, লক্ষ্মীপুর এবং উপজেলা নির্বাচন অফিস, মঠবাড়িয়া, পিরোজপুরে অগ্নিসংযোগ করেছে। এ প্রেক্ষাপটে সারা দেশে মাঠ পর্যায়ের আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস, সিনিয়র জেলা/জেলা নির্বাচন অফিস এবং উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিসসমূহে নির্বাচন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি, নির্বাচনী মালামাল, যন্ত্রপাতি সংরক্ষিত রয়েছে বিধায় উক্ত অফিসসমূহে সংরক্ষিত গুরুত্বপূর্ণ নথি ও নির্বাচনী মালামালের সুরক্ষাসহ অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক মর্মে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত প্রদান করেছে।’এতে আরও বলা হয়, আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস, সিনিয়র জেলা/জেলা নির্বাচন অফিস, উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিসসমূহের নিরাপত্তা বিধানে প্রয়োজনীয় সংখ্যক পুলিশ ফোর্স মোতায়েনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশিত হয়ে অনুরোধ করা হলো।এনআই
    যেকোনো মূল্যে নির্বাচনের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করতে হবে: তারেক রহমান
    দেশে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র চললেও যেকোনো মূল্যে নির্বাচনের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে বাধা ও ষড়যন্ত্র থেমে নেই, বরং পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। এ অবস্থায় রাজনৈতিক ঐক্যের বিকল্প নেই।শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে বিএনপির ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক কর্মসূচিতে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন তারেক রহমান।তারেক রহমান বলেন, তিনি আগেই আশঙ্কা করেছিলেন যে নির্বাচন সহজ হবে না। গত কয়েকদিনের ঘটনা, গতকালের ঘটনা, চট্টগ্রামে আমাদের প্রার্থীর ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনা সবকিছু মিলে কিন্তু প্রমাণিত হচ্ছে- যা আমি বলেছিলাম, ধীরে ধীরে তাই সত্য হচ্ছে। কাজেই আমরা যদি নিজেদের মধ্যে মতপার্থক্য কমিয়ে না আনি, ঐক্যবদ্ধ না হই তাহলে এই দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে।বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, দেশের মানুষ বিএনপির কাছে ন্যায়ভিত্তিক ও ভিন্নধর্মী রাজনীতি প্রত্যাশা করে। তবে একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়া একদিনের কাজ নয়। সবাই সম্মিলিতভাবে চেষ্টা করলে কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।তারেক রহমান আরও বলেন, ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে না পারলে দেশকে ধ্বংসের কিনারা থেকে ফেরানো যাবে না। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই ষড়যন্ত্র আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। তবে ভয় বা আতঙ্কে না থেকে জনগণকে সাহস দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। একই সঙ্গে গণতন্ত্রকামী মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার আহ্বান জানান।তিনি বলেন, যত বেশি ঐক্য তৈরি হবে এবং যত দৃঢ়ভাবে নির্বাচনের দাবি তোলা হবে, ষড়যন্ত্রকারীরা ততটাই পিছু হটতে বাধ্য হবে।ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশে কর্মসংস্থান বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর অংশ হিসেবে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। এসব স্বাস্থ্যকর্মীকে প্রশিক্ষণ দিয়ে ঘরে ঘরে পাঠানো হবে, যাতে তারা সাধারণ রোগ সম্পর্কে প্রাথমিক পরামর্শ দিতে পারেন। পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে মায়েদের স্বাবলম্বী করার উদ্যোগের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।আরডি 

    জাতীয়

    সব দেখুন
    সুদানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৬ শান্তিরক্ষী নিহত
    সুদানের আবেইতে সন্ত্রাসীদের কর্তৃক ইউএন ঘাঁটি আক্রমণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ছয়জন শান্তিরক্ষী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সেনাবাহিনীর আরও আটজন আহত হয়েছেন।শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ খবর জানায় আন্তঃবাহিনী সংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে বলা হয়েছে, ওই এলাকায় পরিস্থিতি এখনো অস্থিতিশীল রয়েছে। পাশাপাশি সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সংঘর্ষ চলমান রয়েছে। পোস্টে আরও বলা হয়, আহত শান্তিরক্ষীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও উদ্ধার কার্যক্রম গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রাপ্তি সাপেক্ষে যথাসময়ে জানানো হবে।এনআই
    আমার নিরাপত্তা নিয়ে পরিবার গভীর উদ্বিগ্ন: প্রেস সচিব
    নিজের নিরাপত্তা নিয়ে পরিবারের গভীর উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, ‘স্ত্রী, সন্তান এবং ভাই-বোন আমার নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বিগ্ন। নির্বাচনের আগে তারা আমাকে আরো সতর্ক হতে বলেছেন, তারা ভীত। কিন্তু সত্যি বলতে আমি নই।’শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে শফিকুল আলম এসব কথা জানান।ফেসবুক পোস্টে শফিকুল আলম বলেন, ‘আজ আমার এ দায়িত্বের ১৬ মাস পূর্ণ হলো। লেখার মতো মানসিক অবস্থায় ছিলাম না। কিন্তু গতকালের নৃশংস গুলিবর্ষণের পর থেকে ওসমান হাদি আমার ভাবনায়, আমার দোয়ায়।’পোস্টে তিনি বলেন, ‘আমি বাংলাদেশের নানা প্রান্তে ঘুরি। যেখানে যাই, সেখানে লাখ লাখ হাদিকে দেখি। হাসিনা আর আসাদুজ্জামান খান কামাল—বাংলার কসাইরা আর কতজনকে মারতে পারবে? এ দেশের রাজনীতির হাল ধরেছে এক নতুন প্রজন্ম। তারা এক স্বৈরাচারকে উৎখাত করেছে, কিন্তু তাদের মিশন এখনো শেষ হয়নি।’তিনি আরও বলেন, ‘এ প্রজন্মের কোটি কোটি হাদি যতক্ষণ তাদের অবস্থান ছাড়তে অস্বীকার করবে, ততক্ষণ ভয় পাওয়ার কোনো কারণ দেখি না। আশা হারানোরও কোনো কারণ দেখি না। আনাসের মতো যিনি শহীদ হওয়ার আগে মায়ের কাছে হৃদয়বিদারক একটি চিঠি লিখেছিলেন—এ তরুণরা তাদের পরিবারের কাছে অঙ্গীকার করেছে, দেশটা ঠিক না করা পর্যন্ত থামবে না তারা।’শফিকুল আলম বলেন, ‘আমি নিশ্চিত, আগামী দশকগুলোতে বাংলাদেশ পথ হারাবে না। সামনে ধাক্কা থাকবে। শক্তিশালী বিদেশি ও দেশীয় শক্তি সাময়িকভাবে ইঞ্জিন বিকল করার চেষ্টা করবে। কিন্তু এ তরুণরা ভয় পায় না। তারা গন্তব্যে পৌঁছাবেই।’তিনি বলেন, ‘জুলাই ও আগস্টে আমরা হারিয়েছি আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিম, আনাস, আহনাফ, ফাইয়াজ, দীপ্ত দে, নাইমা ও রিয়া গোপকে। বিদেশি চাপিয়ে দেওয়া এক স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সংগ্রামে আমরা হারিয়েছি আবরার ফাইয়াজকেও। তবু চারদিকে ছড়িয়ে আছে লাখ লাখ হাদি ও নাবিলা। তারা ভয় পায় না। আমিও না।’এনআই
    দেশের সব নির্বাচন অফিসে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ
    দেশের সব নির্বাচন অফিসে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) মহাপুলিশ পরিদর্শকসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে এ সংক্রান্ত আলাদা আলাদা চিঠি পাঠানো হয়। ইসির উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, ‌‘গত ১১ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়সূচি জারি করা হয়েছে। সময়সূচি জারির পর দুর্বৃত্তরা জেলা নির্বাচন অফিস, লক্ষ্মীপুর এবং উপজেলা নির্বাচন অফিস, মঠবাড়িয়া, পিরোজপুরে অগ্নিসংযোগ করেছে। এ প্রেক্ষাপটে সারা দেশে মাঠ পর্যায়ের আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস, সিনিয়র জেলা/জেলা নির্বাচন অফিস এবং উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিসসমূহে নির্বাচন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি, নির্বাচনী মালামাল, যন্ত্রপাতি সংরক্ষিত রয়েছে বিধায় উক্ত অফিসসমূহে সংরক্ষিত গুরুত্বপূর্ণ নথি ও নির্বাচনী মালামালের সুরক্ষাসহ অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক মর্মে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত প্রদান করেছে।’এতে আরও বলা হয়, আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস, সিনিয়র জেলা/জেলা নির্বাচন অফিস, উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিসসমূহের নিরাপত্তা বিধানে প্রয়োজনীয় সংখ্যক পুলিশ ফোর্স মোতায়েনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশিত হয়ে অনুরোধ করা হলো।এনআই
    ছুটির দিনেও খোলা থাকবে রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়
    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটির দিনেও খোলা থাকবে রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়।শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) ইসি সচিবালয়ের উপসচিব (নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখা) মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সময়সূচি অনুসারে কার্যক্রম গ্রহণের লক্ষ্যে রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের অফিস, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার অফিস, সিনিয়র জেলা/জেলা নির্বাচন অফিসারের অফিস ও উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিসারের অফিস সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটির দিনে সকাল ৯ টা হতে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত খোলা রেখে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।পরিপত্রে আরও বলা হয়, মনোনয়নপত্র দাখিল ও বাছাই এবং বাছাই বা গ্রহণের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে দায়েরকৃত আপিল নিষ্পত্তি, প্রার্থিতা প্রত্যাহার, প্রতীক বরাদ্দ ও এ–সংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এবং নির্বাচনসংশ্লিষ্ট অন্যান্য কার্যক্রম গ্রহণের সুবিধার্থে সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটির দিনে উল্লিখিত অফিসসমূহ খোলা রাখা এবং প্রয়োজনে অফিস সময়ের পরও অফিস খোলা রাখার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।তবে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, মনোনয়নপত্র দাখিলের জন্য নির্ধারিত শেষ দিন এবং প্রার্থীতা প্রত্যাহারের জন্য নির্ধারিত শেষ দিন বিকাল ৫ টার পর কোন মনোনয়নপত্র দাখিল বা গ্রহণ করা যাবে না অথবা কোন প্রার্থী প্রার্থীতা প্রত্যাহার করতে পারবেন না।আরডি
    ডেঙ্গুতে একদিনে আক্রান্ত ৫৭২
    দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় কারও মৃত্যু হয়নি। তবে এ সময় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ৫৭২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।প্রতিবেদনে জানা যায়, চলতি বছর দেশে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৯০ জন। এর মধ্যে ৬২ দশমিক চার শতাংশ পুরুষ ও ৩৭ দশমিক ছয় শতাংশ নারী। এছাড়া চলতি বছর দেশে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ৪০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।এতে আরও জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ৪১৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর এ পর্যন্ত ৯৮ হাজার ২৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুবরণ করেছেন ৫৭৫ জন। এর আগে ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট ১ হাজার ৭। আরডি
    হাদির ওপর হামলা নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে না: ইসি মাছউদ
    ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় কোনো প্রভাব ফেলবে না বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আব্দুর রহমানেল মাছউদ।আজ শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বেসরকারি একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা জানান। আব্দুর রহমানেল মাছউদের মতে, বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনায় যদি নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়, তাহলে অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানো কঠিন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও জোরদার করতে হবে।এর আগে, শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগর বক্সকালভার্ট এলাকায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে আহত করে দুর্বৃত্তরা। পরে গুরুতর আহত ওসমান হাদিকে উদ্ধার করে বিকেল পৌনে ৩টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়া হয়।ঢামেকের জরুরি বিভাগে তার চিকিৎসা শেষে রাত ৯টার দিকে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন।এদিকে শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) হাদির চিকিৎসায় বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের সমন্বয়ে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। হাদির অবস্থা এখনও শঙ্কামুক্ত নয় বলে জানিয়েছে তারা।   আরডি
    সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ, জমাদান ও জামানতসহ বিভিন্ন বিষয়ে ইসির পরিপত্র
    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমাদান, জামানত জমা, প্রস্তাবকারী-সমর্থনকারীর যোগ্যতা, রাজনৈতিক দলের প্রার্থী মনোনয়ন, মনোনয়নপত্র বাছাই, প্রার্থিতা প্রত্যাহার এবং বৈধ প্রার্থীর তালিকা প্রকাশসহ বিভিন্ন বিষয়ে একটি পরিপত্র জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।ইসি সচিবালয়ের উপসচিব (নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখা) মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এ পরিপত্র আজ শনিবার জারি করা হয় বলে ইসি সূত্র জানিয়েছে।মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও দাখিলপরিপত্রে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সম্ভাব্য প্রার্থীরা রিটার্নিং অফিসার বা সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে সরাসরি দাখিলের জন্য মনোনয়ন ফরম (ফরম-১) সংগ্রহ করবেন। ইতোমধ্যে এসব ফরম ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এই ফরম বিতরণের জন্য আলাদা রেজিস্টার সংরক্ষণ করতে হবে।সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ১২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যোগ্য ব্যক্তিরা যথাযথভাবে পূরণ করা মনোনয়নপত্রের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার বা সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে জমা দিবেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যে কোনো দিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র দাখিল বা জমা দেওয়া যাবে।মনোনয়নপত্র জমাদানইসির নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিন। ওই দিন বা তার আগের যেকোনো দিনে প্রার্থী, প্রস্তাবকারী বা সমর্থনকারী মনোনয়নপত্র দাখিল করলে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুচ্ছেদ ১২ এর (৩) অনুযায়ী রিটার্নিং অফিসার বা সহকারী রিটার্নিং অফিসার তা গ্রহণ করবেন।অফিসারগণ মনোনয়নপত্র জমা নেওয়ার সময় নির্ধারিত স্থানে ক্রমিক নম্বর দিবেন। রিটার্নিং অফিসার মনোনয়নপত্র জমা নেওয়ার সময় ‘রিঅ-’ এবং সহকারী রিটার্নিং অফিসার ‘সরিঅ-’ লিখে নম্বর দিবেন। এক প্রার্থী একাধিক মনোনয়নপত্র জমা দিলে প্রথমটিতে পূর্ণ নম্বর এবং অন্যগুলোর ক্ষেত্রে বন্ধনীতে (ক), (খ) বা (১), (২) ব্যবহার করা যাবে।প্রাপ্তি রসিদ ও বাছাইয়ের নোটিশমনোনয়নপত্র জমা নেওয়ার সময় প্রতিটি মনোনয়নপত্রের তথ্য রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে মনোনয়নপত্রের তৃতীয় অংশে দাখিলকারীর নাম, জমাদানের তারিখ ও সময় উল্লেখ করতে হবে।এছাড়া, নির্বাচনি এলাকার নাম ও নম্বর, প্রার্থীর নাম, মনোনয়নপত্র জমার তারিখ ও সময় এবং বাছাইয়ের নির্ধারিত তারিখ, সময় ও স্থান উল্লেখ করে মনোনয়নপত্রের পঞ্চম অংশে যুক্ত থাকা প্রাপ্তি স্বীকার রসিদ তাৎক্ষণিকভাবে প্রার্থী বা প্রস্তাবকারী বা সমর্থনকারীকে দিতে হবে।সহকারী রিটার্নিং অফিসার থেকে মনোনয়নপত্র প্রেরণপরিপত্রে বলা হয়, মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের ক্ষমতা রিটার্নিং অফিসারের ওপর ন্যস্ত। তাই সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে দাখিলকৃত সব মনোনয়নপত্র ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ বিকাল ৫টার পরপরই নিরাপত্তার সঙ্গে রিটার্নিং অফিসারের কাছে পাঠাতে হবে।প্রস্তাবকারী ও সমর্থনকারীর যোগ্যতাগণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকার যে কোনো ভোটার সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে বর্ণিত যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিকে প্রস্তাব বা সমর্থন করতে পারবেন। তবে প্রস্তাবকারী বা সমর্থনকারী হিসেবে কেউ একাধিক মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর করতে পারবেন না।প্রতিটি মনোনয়নপত্রে প্রার্থীর সম্মতি, অযোগ্যতা না থাকার ঘোষণা এবং তিনটির বেশি নির্বাচনি এলাকায় মনোনয়ন জমা না দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করতে হবে।রাজনৈতিক দলের প্রার্থী মনোনয়নরাজনৈতিক দলের প্রার্থীকে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দলের নিজস্ব প্যাডে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক বা সমপর্যায়ের পদাধিকারীর স্বাক্ষরিত প্রত্যয়নপত্র জমা দিতে হবে।একটি নির্বাচনি এলাকায় যদি কোনো রাজনৈতিক দল একাধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়, তবে ২০ জানুয়ারি ২০২৬ বিকেল ৫টার মধ্যে চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম লিখিতভাবে রিটার্নিং অফিসারকে জানাতে হবে।চূড়ান্তভাবে মনোনীত প্রার্থী দলীয় প্রতীক পাবেন, যদি না তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। প্রতীক বরাদ্দ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য পরে আলাদা পরিপত্রে জানানো হবে।জামানতমনোনয়নপত্র দাখিলের সময় প্রার্থীকে ৫০ হাজার টাকা জামানত জমা দিতে হবে। এ অর্থ নগদ, ব্যাংক ড্রাফট, পে-অর্ডার বা ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের অনুকূলে জমা দেওয়া যাবে।একই নির্বাচনি এলাকায় একাধিক মনোনয়নপত্র দিলে একটি জামানতই যথেষ্ট হবে। অন্য মনোনয়নপত্রের সঙ্গে চালানের সত্যায়িত অনুলিপি দিতে হবে। জামানতের বাইরে কোনো অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ বা প্রদান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।জামানতের অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংক, যেকোনো ব্যাংক বা সরকারি ট্রেজারি বা সাব ট্রেজারিতে ১০৯০৩০২১০১৪৪৩-৮১১৩৫০১ কোড নম্বরে জমা দিতে হবে। নগদে প্রাপ্ত জামানতের অর্থ রিটার্নিং বা সহকারী রিটার্নিং অফিসার সরকারি খাতে জমা দিবেন।আরডি
    যাত্রাবাড়ীতে রাস্তা পারাপারের সময় বাসের ধাক্কায় বৃদ্ধার মৃত্যু
    রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কাজলায় রাস্তা পারাপারের সময় বাসের ধাক্কায় আনোয়ারা বেগম (৬৫) নামের এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে।শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে দায়িত্বরত চিকিৎসক দুপুর ২টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন।হাসপাতালে তাকে নিয়ে আসা (পথচারী) স্বপন আহমেদ জানান, দুপুর দেড়টার দিকে যাত্রাবাড়ীর কাজলা ধনিয়া কলেজ এলাকায় রাস্তা পারাপারের সময় দ্রুতগামী বাসের ধাক্কায় আনোয়ারা বেগম গুরুতর আহত হন। পরে এ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে এলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।তিনি আরও জানান, নিহত আনোয়ারার গ্রামে বাড়ি নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার আলী  এলাকার মৃত নাজিম উদ্দিনের মেয়ে। বর্তমানে রসুলপুর, ধনিয়াতে একটি ভাড়া বাসায় থাকেন।ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।এসআর

    রাজনীতি

    সব দেখুন
    রুহুল কবির রিজভীর দুঃখ প্রকাশ
    রাজধানীর নয়াপল্টনে একটি সভায় দেওয়া বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। শনিবার রাতে সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আরটিভির লোগো ব্যবহার করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয় এবং এ ছাড়া শরিফ ওসমান হাদিকে আক্রমণকারী একজন সন্দেহভাজন ব্যক্তির সঙ্গে ডাকসুর ভিপির চা খাওয়ার দৃশ্যটিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এ দুটি বিষয় ছিল ভিত্তিহীন এবং এআই জেনারেটেড।’তিনি বলেন, ‘ফ্যাক্ট চেক না করে উল্লিখিত বিষয় দুটি নিয়ে আজ দুপুরে নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে একটি সভায় বক্তব্য রাখি। এ অনিচ্ছাকৃত ভুল বক্তব্যের জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত।’এনআই
    রুহুল কবির রিজভীর দুঃখ প্রকাশ
    রাজধানীর নয়াপল্টনে একটি সভায় দেওয়া বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। শনিবার রাতে সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আরটিভির লোগো ব্যবহার করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয় এবং এ ছাড়া শরিফ ওসমান হাদিকে আক্রমণকারী একজন সন্দেহভাজন ব্যক্তির সঙ্গে ডাকসুর ভিপির চা খাওয়ার দৃশ্যটিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এ দুটি বিষয় ছিল ভিত্তিহীন এবং এআই জেনারেটেড।’তিনি বলেন, ‘ফ্যাক্ট চেক না করে উল্লিখিত বিষয় দুটি নিয়ে আজ দুপুরে নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে একটি সভায় বক্তব্য রাখি। এ অনিচ্ছাকৃত ভুল বক্তব্যের জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত।’এনআই
    ওসমান হাদির ওপর হামলাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা মনে করছে না বিএনপি
    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ওসমান হাদির ওপর হামলাকে আলাদা বা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। নির্বাচন ঘোষণার পরপরই এ ধরনের হামলা উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন সালাহউদ্দিন আহমদ। বৈঠকে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমদ।সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘১০ তারিখ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিনই একজন সম্ভাব্য জাতীয় সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার ধরন দেখে এটি পেশাদার শ্যুটারের কাজ বলেই মনে হচ্ছে।’দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা এবং তার নিরাপত্তা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রাজনৈতিক নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। এ বিষয়ে সরকারকে বারবার আহ্বান জানানো হয়েছে।তিনি জানান, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আজকের বৈঠকে তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিয়ে আলাদা করে আলোচনা হয়নি। তবে বিষয়টি দলের কাছে সর্বোচ্চ গুরুত্ব বহন করে। তারেক রহমানের নিরাপত্তার বিষয়টি উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, কোনো আশঙ্কাকেই উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, রাজনৈতিক দল এবং জনগণের সম্মিলিত ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। জাতীয় ঐক্যের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য অটুট রাখতে বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রাজনৈতিক মতভেদ ও বিতর্ক থাকলেও এমন কিছু করা হবে না, যাতে ঐক্যে ফাটল ধরে। আমাদের চেতনা জুলাই ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের চেতনা। এই জায়গায় কোনো আপস নেই।তিনি আরও বলেন, সহিংসতা ও হামলার মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণকে বাধাগ্রস্ত করা যাবে না। এ ধরনের কর্মকাণ্ড দিয়ে গণতন্ত্রের পথ রোধ করা সম্ভব হবে না।আরডি
    যেকোনো মূল্যে নির্বাচনের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করতে হবে: তারেক রহমান
    দেশে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র চললেও যেকোনো মূল্যে নির্বাচনের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে বাধা ও ষড়যন্ত্র থেমে নেই, বরং পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। এ অবস্থায় রাজনৈতিক ঐক্যের বিকল্প নেই।শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে বিএনপির ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক কর্মসূচিতে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন তারেক রহমান।তারেক রহমান বলেন, তিনি আগেই আশঙ্কা করেছিলেন যে নির্বাচন সহজ হবে না। গত কয়েকদিনের ঘটনা, গতকালের ঘটনা, চট্টগ্রামে আমাদের প্রার্থীর ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনা সবকিছু মিলে কিন্তু প্রমাণিত হচ্ছে- যা আমি বলেছিলাম, ধীরে ধীরে তাই সত্য হচ্ছে। কাজেই আমরা যদি নিজেদের মধ্যে মতপার্থক্য কমিয়ে না আনি, ঐক্যবদ্ধ না হই তাহলে এই দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে।বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, দেশের মানুষ বিএনপির কাছে ন্যায়ভিত্তিক ও ভিন্নধর্মী রাজনীতি প্রত্যাশা করে। তবে একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়া একদিনের কাজ নয়। সবাই সম্মিলিতভাবে চেষ্টা করলে কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।তারেক রহমান আরও বলেন, ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে না পারলে দেশকে ধ্বংসের কিনারা থেকে ফেরানো যাবে না। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই ষড়যন্ত্র আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। তবে ভয় বা আতঙ্কে না থেকে জনগণকে সাহস দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। একই সঙ্গে গণতন্ত্রকামী মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার আহ্বান জানান।তিনি বলেন, যত বেশি ঐক্য তৈরি হবে এবং যত দৃঢ়ভাবে নির্বাচনের দাবি তোলা হবে, ষড়যন্ত্রকারীরা ততটাই পিছু হটতে বাধ্য হবে।ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশে কর্মসংস্থান বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর অংশ হিসেবে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। এসব স্বাস্থ্যকর্মীকে প্রশিক্ষণ দিয়ে ঘরে ঘরে পাঠানো হবে, যাতে তারা সাধারণ রোগ সম্পর্কে প্রাথমিক পরামর্শ দিতে পারেন। পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে মায়েদের স্বাবলম্বী করার উদ্যোগের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।আরডি 
    ওসমান হাদির অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক: মেডিকেল বোর্ড
    ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ড তার সর্বশেষ স্বাস্থ্যগত অবস্থা সম্পর্কে একটি বিবৃতি দিয়েছে। যা আজ শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বিকেলে গণমাধ্যমের কাছে পাঠানো হয়।এতে বলা হয় গতকাল শুক্রবার দুপুরে ঢাকার বিজয়নগর এলাকায় হাদিকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। এরপর তাৎক্ষণিকভাবে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে তার মাথায় অস্ত্রোপাচার কর হয়। পরে পরিবারের সিদ্ধান্তে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেয়া হয়। এখন হাসপাতালটির ক্রিটিকাল কেয়ার ইউনিটে চিকিৎসাধীন তিনি।হাদির চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ড বলছে:১. রোগীর মস্তিষ্ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যেহেতু সার্জিক্যাল হস্তক্ষেপ সম্পন্ন হয়েছে, তাই বর্তমানে তাকে কনজারভেটিভ ম্যানেজমেন্টে রাখা হয়েছে। ব্রেন প্রোটেকশন প্রটোকল অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় সকল সাপোর্ট চালু থাকবে। শারীরিক অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল হলে পুনরায় ব্রেনের সিটি স্ক্যান করা হতে পারে।২. ফুসফুসে ইনজুরি বিদ্যমান রয়েছে। চেস্ট ড্রেইন টিউব দিয়ে অল্প পরিমাণ রক্ত নির্গত হওয়ায় তা আপাতত চালু রাখা হয়েছে। ফুসফুসে সংক্রমণ ও এআরডিএস প্রতিরোধের বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে ভেন্টিলেটর সাপোর্ট অব্যাহত রাখা হবে।৩. কিডনির কার্যক্ষমতা বর্তমানে ফিরে এসেছে। এটি বজায় রাখার জন্য পূর্বনির্ধারিত ফ্লুইড ব্যালেন্স যথাযথভাবে চালিয়ে যাওয়া হবে।৪. পূর্বে শরীরে রক্ত জমাট বাঁধা ও রক্তক্ষরণের মধ্যকার অসামঞ্জস্যতা দেখা দিলেও বর্তমানে তা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এ অবস্থা সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রক্ত ও রক্তজাত উপাদান সঞ্চালন অব্যাহত থাকবে।৫. ব্রেন স্টেম ইনজুরির কারণে রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দনের ওঠানামা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে যে সাপোর্ট দেয়া হচ্ছে তা চলমান থাকবে। হৃদস্পন্দন বিপজ্জনকভাবে কমে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে টেম্পোরারি পেসমেকার স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট টিম সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।৬. বর্তমানে রোগীর সার্বিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।এদিকে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার, রেডিওলজি, আইসিইউ, অ্যানেস্থেশিয়া, নিউরোসার্জারি ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের চিকিৎসক ও সাপোর্টিভ স্টাফদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ জানিয়েছে মেডিকেল বোর্ড। পাশপাশি হাদির দ্রুত সুস্থতা কামনা করে সবার কাছে দোয়া চেয়েছে মেডিকেল বোর্ড।অপ্রয়োজনে কেউ হাসপাতালে এসে ভিড় না করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে কোনও ধরনের অনুমান বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করে মেডিকেল বোর্ডের প্রতি আস্থা রাখার জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।আরডি
    হাদির কিডনির কার্যক্ষমতা ফেরত এসেছে : চিকিৎসক
    চিকিৎসাধীন শরীফ ওসমান হাদির কিডনির কার্যক্ষমতা ফেরত এসেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) এভারকেয়ার হাসপাতালের আইসিইউ অ্যান্ড এইচডিইউ বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ও কো-অর্ডিনেটর ডা. মো. জাফর ইকবাল এক বিবৃতির মাধ্যমে এ তথ্য জানান।ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান হাদি বর্তমানে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতালটির বিভিন্ন বিভাগের বিশেষজ্ঞ ১৫ জন চিকিৎসকের সমন্বয়ে একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে।ডা. মো. জাফর ইকবাল দেওয়া বিবৃতিতে ১১টি পর্যবেক্ষণ ও সিদ্ধান্ত তুলে ধরে মেডিক্যাল টিম। বিবৃতির তিন নম্বর পর্যবেক্ষণে হাদির কিডনির কার্যক্ষমতা ফেরত এসেছে বলে জানানো হয়।বলা হয়, কিডনির কার্যক্ষমতা ফেরত এসেছে, সেটাকে ধরে রাখার জন্য ফ্লুইড ব্যালেন্স যেভাবে ঠিক রাখা হচ্ছে, সেভাবেই কন্টিনিউ করতে হবে।এনআই
    হাদি আমার নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, প্রতিযোগী: মির্জা আব্বাস
    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, ওসমান হাদি আমার নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, প্রতিযোগী। সে রাজপথের সাহসী সৈনিক। পাশাপাশি এ হামলাকে 'গণতন্ত্রের ওপর আঘাত' বলে অভিহিত করে এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন এই নেতা। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে ওসমান হাদী গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় প্রতিবাদ এবং হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশে এ মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, সে আমার সন্তান সমতুল্য। হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার সংবাদ পেয়ে আমি মানসিকভাবে আহত হয়েছি। এ আঘাত গণতন্ত্রের ওপর আঘাত। যারা এই আঘাত করেছে, তাদের কালো হাত ভেঙে দিতে হবে।একটি দল উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা করেছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, দুপুর ২টায় হাদী গুলিবিদ্ধ হলেন, তার আধাঘন্টা পরই একটি দল উত্তেজনা সৃষ্টির জন্য ফেসবুকে পোষ্ট দেওয়া শুরু করে। আমি হাসপাতালে গিয়ে দেখতে পেলাম সবই পরিকল্পিত।দীর্ঘ দিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থাকায় তিনি শান্ত ছিলেন উল্লেখ করে মির্জা আব্বাস বলেন, হাসপাতালে যারা এগুলো করেছে, তারা হাদির সমর্থক নয়। তারা অন্য একটি দলের। আমরা শান্ত না থাকলে হাদির চিকিৎসা ব্যাহত হতো। তারা চেয়েছিল, হাদীর চিকিৎসা যাতে ব্যাহত হয় এবং সে মারা যাক।তিনি বলেন, একটি দলের ষড়যন্ত্র আমরা ৭১, ৮৬-সহ অনেক দেখেছি। এদের মূল শক্তিই ষড়যন্ত্র। এরা স্থির রাষ্ট্র সহ্য করতে পারে না। তাই রাষ্ট্রকে সবসময়ই অস্থিতিশীল রাখতে চায়।বিএনপির এই নেতা বলেন, সাতাত্তর সাল থেকে নির্বাচন করে আসছি। কারও সাথে মারামারি হয়নি। একসাথে প্রার্থীরা কোলাকুলি করেছি, খেয়েছি। মারামারি করে আওয়ামী লীগ। আর নির্বাচনসহ রাষ্ট্রকে অস্থির করে সেই বিতর্কিত রাজনৈতিক দল। আমরা চাই, হাদির ওপর হামলাকারী গ্রেপ্তার হোক এবং বিশেষ দলের মুখোশ উন্মোচিত হোক।ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।আরডি 
    ‘ফকির, মিসকিনদের ছেলে-মেয়েরা বড় রাজনৈতিক দলের নেতা’
    রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতার জন্য মেরুদণ্ডহীন হয়েছে। ফকির, মিসকিন, বস্তির ছেলেমেয়েরা আজকে বড় বড় রাজনৈতিক দলের নেতা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর শাহবাগে ইনকিলাব মঞ্চের বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।এবি পার্টির এই নেতা বলেছেন, আমাদের দেশের বুদ্ধিজীবী, গোলাম মিডিয়া ও রাজনৈতিক দলগুলো দেশের সবচেয়ে ক্ষতিকর এলিমেন্টগুলোকে জাতি-তরুণদের সামনে বন্ধু বেশে গত ৫৪টা বছর পেশ করেছে। সেটা করার মধ্য দিয়ে যেটা হয়েছে, আমার স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ, আত্মমর্যাদা বারবার ভুলুণ্ঠিত হয়েছে।তিনি আরও বলেন, ‘যারা শত্রু চেনে না, যারা আজাদির লড়াই বোঝে না, যারা হাজার বছরের ইতিহাসের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বোঝে না— ওই সকল ক্লাউন গোলামরা আজকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলের নেতা। তারা প্রত্যেক পাড়া-মহল্লায় এলাকাবাসীর কাছে ভোট চেয়ে বেড়াচ্ছে। তারা আগামী সংসদটাকে কীভাবে আজাদির সাথে বেঈমানি করে, গণঅভ্যুত্থানের সাথে বেঈমানি করে বাংলাদেশকে আবার নতুন করে দিল্লির কাছে বেচে দেবে সেই নাটক মঞ্চস্থ চলছে’বাংলাদেশ ৫ আগস্টের অতীতে ফিরে যাবে না উল্লেখ করে ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ ফিরে আসতে পারবে না। বাংলাদেশে দিল্লির দাসত্ব কায়েম হবে না। বাংলাদেশের সাংবাদিক-সুশীলরা এ দেশের আজাদির লড়াইকে দিল্লির কাছে বেচে দিতে পারবে না।তিনি বলেন, ‘যারা ইনকিলাব মঞ্চের নাম শোনেন নাই, তারা আগামী দিনের বাংলাদেশে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাবেন। এটাই হচ্ছে আগামী দিনের রাজনীতির মূল কথা। এটাই হচ্ছে আজাদির বাংলাদেশ। এটাই হচ্ছে বাংলাদেশ দুই (বাংলাদেশ ২.০)। সেই বাংলাদেশ দুইয়ের লড়াইয়ে একটা-দুইটা বুলেট না, লক্ষ বুলেট দিয়েও এই আজাদির লড়াই বন্ধ করা যাবে না।’আরডি

    দেশজুড়ে

    সব দেখুন
    যাত্রাবাড়ীতে রাস্তা পারাপারের সময় বাসের ধাক্কায় বৃদ্ধার মৃত্যু
    রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কাজলায় রাস্তা পারাপারের সময় বাসের ধাক্কায় আনোয়ারা বেগম (৬৫) নামের এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে।শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে দায়িত্বরত চিকিৎসক দুপুর ২টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন।হাসপাতালে তাকে নিয়ে আসা (পথচারী) স্বপন আহমেদ জানান, দুপুর দেড়টার দিকে যাত্রাবাড়ীর কাজলা ধনিয়া কলেজ এলাকায় রাস্তা পারাপারের সময় দ্রুতগামী বাসের ধাক্কায় আনোয়ারা বেগম গুরুতর আহত হন। পরে এ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে এলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।তিনি আরও জানান, নিহত আনোয়ারার গ্রামে বাড়ি নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার আলী  এলাকার মৃত নাজিম উদ্দিনের মেয়ে। বর্তমানে রসুলপুর, ধনিয়াতে একটি ভাড়া বাসায় থাকেন।ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।এসআর
    রাজধানীতে ১২ তলা ভবনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ১৪ ইউনিট
    রাজধানীর বাবুবাজারে একটি ১২ তলা ভবনে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিসের ১৪টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণের জন্য কাজ করছে।শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) ভোর ৫টা ৩৭ মিনিটের দিকে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। জমেলা টাওয়ার নামে ওই ভবনে আগুন লাগে।ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুমের ইনচার্জ শাহজাহান কালবেলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ভোরে জমেলা টাওয়ার নামে ১২ তলা ভবনের নিচতলায় আগুনের সূত্রপাত ঘটে। কেরানীগঞ্জ, সদরঘাট ও সিদ্দিকবাজার ফায়ার স্টেশনের মোট ১৪টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।এসআর
    রাজধানীতে চলন্ত বাসে আগুন
    রাজধানীর বাড্ডার গুদারাঘাট এলাকায় একটি চলন্ত বাসে আগুন লেগেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট।শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) রাত পৌনে ৮টার দিকে আগুন লাগে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার রোজিনা আক্তার। রোজিনা আক্তার বলেন, আমাদের কাছে খবর আসে বাড্ডার গুদারাঘাট এলাকায় একটি চলন্ত বাসে আগুন লেগেছে। খবর পেয়ে বারিধারা ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও বাসে যাত্রী ছিল কি না জানাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিসের এ কর্মকর্তা।এফএস
    রাজধানীতে সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়ির ধাক্কায় ২ শিক্ষার্থী নিহত
    রাজধানীর ডেমরার কোনাপাড়া এলাকায় উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ময়লার গাড়ির ধাক্কায় মোটরসাইকেলের আরোহী ২ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) ভোর ৫টার দিকে ওই দুই শিক্ষার্থীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। নিহতরা হলেন- আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (এআইইউবি) ছাত্র ইরাম রেদওয়ান (২৫) ও ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ইউআইইউ) ছাত্র অপু আহমেদ (২৫)।নিহতদের সহপাঠী তাওসিফ বলেন, দুই বন্ধু একটি বিয়ের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান শেষে মোটরসাইকেলে বাসায় ফিরছিলেন। কোনাপাড়া এলাকায় উত্তর সিটি কর্পোরেশনের একটি ময়লার গাড়ি তাদের ধাক্কা দিলে গুরুতর আহত হন তারা। পরে খবর পেয়ে আমরা গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রথমে অপুকে মৃত ঘোষণা করেন এবং তার কিছুক্ষণ পরেই ইরাম রেদওয়ানকেও মৃত ঘোষণা করে। তিনি আরও বলেন, তাদের দুজনের বাসা শানারপাড় চিটাগাং রোড এলাকায়। এই ঘটনায় সিটি কর্পোরেশনের ঘাতক গাড়িটি (নম্বর ঢাকা মেট্রো শ-১৪০৫৭৪) পুলিশ জব্দ করেছে। ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে ওই দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।তিনি আরও বলেন, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি ডেমরা থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে।এমআর-২
    রাজধানীতে ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা
    রাজধানীর পুরান ঢাকায় দুর্বৃত্তের গুলিতে আব্দুর রহমান (৫৫) নামে এক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। তিনি শ্যামবাজার কাঁচাবাজার মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি ছিলেন। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সূত্রাপুরের শ্যামবাজার এলাকার মাওলা বক্স চক্ষু হাসপাতালের সামনে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পথচারীরা আব্দুর রহমানকে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে চিকিৎসক বেলা দেড়টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।বিষয়টি নিশ্চিত করে সূত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান বলেন, আজ দুপুরের দিকে শ্যামবাজার মাওলা বক্স চক্ষু হাসপাতালের সামনে আব্দুর রহমান নামে এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে মিটফোর্ড হাসপাতালে গিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।তিনি আরও বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পেরেছি নয়ন নামে এক যুবক তাকে গুলি করে পালিয়ে গেছে। তবে এখন পর্যন্ত বিস্তারিত কিছু জানতে পারিনি। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মিটফোর্ড হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।আরডি
    ভারতে সাজা শেষে দেশে ফিরল মা-ছেলে
    ভারতে অবৈধভাবে বসবাস করার অভিযোগে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে মা-ছেলেকে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে ভারতীয় পুলিশ।শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে বেনাপোল ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্ট দিয়ে ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে তাদেরকে পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। এসময় বিজিবি, বিএসএফ, দুই দেশের পুলিশ ও মানবাধিকার সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ফেরত আসা মা-ছেলে হলেন খুলনার তেরখাদা উপজেলার গাজীপুর গ্রামের শহর আলী মোল্লার মেয়ে রুমা বেগম (৩৯) এবং তার শিশু সন্তান মো. মিসাইল খলিল শেখ (৩)।ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম সাখাওয়াত হোসেন জানান, অবৈধভাবে ভারতে বসবাসের দায়ে তিন বছর আগে ভারতীয় পুলিশ মা ও ছেলেকে আটক করে। সাজাভোগের পর শনিবার পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ বিশেষ ট্রাভেল পারমিটে মাধ্যমে বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে বেনাপোল পোর্ট থানায় তাদেরকে হস্তান্তর করা হয়েছে। সেখান থেকে মানবাধিকার সংস্থা জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার-এর কাছে হস্তান্তর করেছে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্যফেরত আসা রুমা বেগম জানান, ২০২৩ সালের ১০ জানুয়ারি দালালের মাধ্যমে রাতের অন্ধকারে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করি। পরে ভারতে অবস্থানকালে মুম্বাই পুলিশের হাতে আটক হই। সাজাভোগ করার পর মুম্বাইয়ের একটি সেইফ হোম তাদের ছাড়িয়ে নিজেদের হেফাজতে নেয়। সেখানে থাকাকালীন তিনি হস্তশিল্পের কাজ করতেন বলেও জানান। এনআই
    যশোরে নিজ বাড়ির সামনে ছুরিকাঘাতে যুবক খুন
    যশোর সদর উপজেলার পাগলাদাহে যুবক শাহিদুর রহমান শহিদকে (৪০) ছুরিকাঘাতে খুন করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বিকেলে নিজ সামনে এ খুনের ঘটনা ঘটে। নিহত শহিদ পাগলাদাহ গ্রামের বছির উদ্দিনের ছেলে। জানা গেছে, বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে শহিদ নিজের বাড়ির সামনে রহমানের দোকান মোড়ে ছিলেন। এসময় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে পাগলাদাহ গ্রামের পিয়াস, আলিফ, ইরান ও রিয়াজ হামলা চালিয়ে শহিদকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে আনলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শাকিরুল ইসলাম জানান, শহিদকে হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয়। তার মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। হাসপাতালে দায়িত্বরত যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই হামিদুর রহমান জানান, পূর্ব শত্রুতায় কথা কাটাকাটির জের ধরে  শহিদকে ছুরিকাঘাতে খুন করা হয়েছে।  খুনিদের আটকে অভিযান শুরু করেছে। এনআই
    হাদীর হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে চুয়াডাঙ্গায় বিএনপির বিক্ষোভ ও সমাবেশ
    ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার প্রতিবাদে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বিকেলে জেলা বিএনপির উদ্যোগে এই প্রতিবাদ কর্মসূচী পালিত হয়।চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হওয়া মিছিলে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের শত শত নেতাকর্মী এতে অংশ নেন। প্রতিবাদী স্লোগানে মুখরিত মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।মিছিল শেষে অনুষ্ঠিত সমাবেশে নেতাকর্মীরা শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানান। বক্তারা বলেন, শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন 'জুলাই যোদ্ধা' এবং ন্যায় ও নীতির পক্ষের একজন সম্মুখ সারির কর্মী। তাঁকে লক্ষ্য করে হামলা করা মানে জনগণের অভ্যুত্থান ও গণতান্ত্রিক অধিকারের ওপর হামলা।এসময় বক্তারা অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। তারা অভিযোগ করেন, একটি মহল এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জল ঘোলা করার চেষ্টা করছে। নেতাকর্মীরা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন, "আমরা স্পষ্ট বলতে চাই, যারা দোষী, তাদের দ্রুত গ্রেফতার করা হোক এবং সঠিক বিচার নিশ্চিত করা হোক।" একইসাথে, তারা শরিফ ওসমান হাদির আশু আরোগ্য কামনা করে দোয়াও প্রার্থনা করেন। প্রতিবাদ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিএনপি নেতা শফিকুল ইসলাম পিটু, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোমিন মালিতা, জাসাস নেতা সেলিম সহ জেলা বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা।এনআই
    যশোর শিক্ষা বোর্ডের কালো তালিকায় ৭২ পরীক্ষক 
    চলতি বছরে এইচএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে ভুল করার অপরাধে ৭২ প্রধান পরীক্ষক, পরীক্ষককে কালো তালিকাভুক্ত করেছে যশোর শিক্ষা বোর্ড। তাদেরকে আগামী ১ বছর উত্তরপত্র মূল্যায়নের দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা হবে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. আব্দুল মতিন।শিক্ষা বোর্ড বোর্ড সূত্র জানায়, গত ১৬ অক্টোবর বোর্ড থেকে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। ফলাফলে এইচএসসি পরীক্ষায় পাস করে ৫৬ হাজার ৫০৯ পরীক্ষার্থী। ফলাফল প্রকাশের পরের দিন থেকে ৭দিন সময় নির্ধারণ করে দেয়া হয় উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষার আবেদনের জন্য। কাঙ্খিত ফলাফল পাওয়া থেকে বঞ্চিত হওয়া পরীক্ষার্থী ৫ থেকে ৬টি বিষয়ে আবেদন করে। আবেদনের সংখ্যা দাড়ায় ৮৫ হাজার ১৫৮।এর মধ্য থেকে ৭২ পরীক্ষার্থীর ফলাফল পরিবর্তন করে ১৬ নভেম্বর ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এ ফলাফল প্রকাশের মাধ্যমে ৭২ প্রধান পরীক্ষক,পরীক্ষক অভিযুক্ত হয়। বোর্ডের নীতিমালা অনুযায়ী এসব পরীক্ষককে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এদেরকে আগামী ১ বছর উত্তরপত্র মূল্যায়ন থেকে বিরত রাখা হবে।এ ব্যাপারে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. আব্দুল মতিন জানান- উত্তরপত্র মূল্যায়নে ভুল করা প্রধান পরীক্ষক,পরীক্ষকদের কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এদেরকে আগামী এক বছর উত্তরপত্র মূল্যায়ন করতে দেয়া হবে না। তার পরের বছর তাদের বিষয় বিবেচনা করা হবে। বোর্ডে পরীক্ষা সংক্রান্ত কাজের স্বার্থে নাম প্রকাশ করা যাবে না। এটা আমাদের বিষয়।যশোর শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (উচ্চ মাধ্যমিক) নিয়ামত এলাহী জানান, উত্তরপত্র মূল্যায়নে ভুল করা ৭২ প্রধান পরীক্ষক, পরীক্ষক অটো রিপোটেড হয়ে যাবে। তারা উত্তর মূল্যায়ন সংক্রান্ত কোন মেসেজ পাবে না। সেই সাথে তারা কোন কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না।এসআর
    হাদীর গুলিবিদ্ধের ঘটনায় বেনাপোল সীমান্তে বিজিবির কড়া নজরদারি
    রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় ঢাকা–৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদীকে গুলিবিদ্ধ করার ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।এ ঘটনায় জড়িত পলাতক আসামিরা যেন বাংলাদেশ থেকে ভারতে পালিয়ে যেতে না পারে, সে লক্ষ্যেই বেনাপোল সীমান্তে ব্যাপক নজরদারি ও তল্লাশি কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়ন সূত্র জানায়, ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ মেইন পিলার ১৮/১ এস থেকে ৪৭/৩ এস পর্যন্ত প্রায় ৭০ হাজার.২৭৪ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে কড়া তল্লাশি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বাড়ানো হয়েছে টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি এবং সীমান্ত অতিরিক্ত বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। যে সকল সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নেই সেই সকল সীমান্ত সিলগালা করা হয়েছে ।৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল্লাহ সিদ্দিকী জানান, ওসমান হাদীর ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত আসামিরা যাতে কোনোভাবেই সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে পালাতে না পারে, সেজন্য বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সীমান্তের প্রতিটি পয়েন্টে তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।বেনাপোল আইসিপি, আমড়াখালি, সাদীপুর, রঘুনাথপুর, ঘিবা, শিকারপুর, শালকোনা, কাশিপুর, মাসিলা, আন্দুলিয়া এবং পাঁচপিসতলা এলাকাসহ সীমান্তসংলগ্ন বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সকাল থেকেই এসব এলাকায় যানবাহন ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে। অধিনায়ক যশোর ব্যাটালিয়ন এর নির্দেশনায় সহকারী পরিচালক সোহেল আল মুজাহিদ জানান, সরাসরি তত্ত্বাবধানে কার্যক্রম চলমান রয়েছে সীমান্তে যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ বা অপরাধমূলক তৎপরতা রোধে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে বিজিবি ও সীমান্তে অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সেক্ষেত্রে সকল স্থানে সিলগালা করে দেয়া হয়েছে সাথে অতিরিক্ত বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই নজরদারি ও তল্লাশি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।এসআর
    চট্টগ্রাম-১৫ আসনে বিএনপি’র প্রার্থীকে জরিমানার পর শোকজ
    নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে জরিমানার পর এবার চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া–লোহাগাড়া) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিনকে শোকজ করা হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সশরীরে উপস্থিত হয়ে অথবা প্রতিনিধির মাধ্যমে শোকজের লিখিত জবাব দিতে তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসানের কার্যালয়ে হাজির হয়ে কেন তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে না—তা ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে নাজমুল মোস্তফা আমিনকে। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় শোকজের বিষয়টি সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান সময়ের কণ্ঠস্বরকে নিশ্চিত করেছেন।এর আগে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে লোহাগাড়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ জরিমানা করেন।জানা গেছে, গত ৪ ডিসেম্বর ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার পর শনিবার দুপুরে নাজমুল মোস্তফা আমিন বিশাল গাড়িবহর নিয়ে নিজ নির্বাচনী এলাকায় প্রবেশ করেন। এ সময় একাধিক গাড়ি নিয়ে শোভাযাত্রা ও জনসমাগম সৃষ্টি করা হয়, যা সরাসরি নির্বাচন আচরণবিধির লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হয়।খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে। প্রাথমিক শুনানি শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। পরবর্তীতে বিষয়টির পুনরাবৃত্তি ও আচরণবিধির গুরুত্ব বিবেচনায় এনে প্রার্থীকে শোকজ করার সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন প্রশাসন।ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্র জানায়, আচরণবিধি অনুযায়ী নির্বাচনী প্রচারণায় কোনো ধরনের শোভাযাত্রা, বড় গাড়িবহর কিংবা জনদৃষ্টি আকর্ষণকারী প্রদর্শনী সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এসব বিধান অমান্য করায় শুধু জরিমানাই নয়, প্রয়োজনে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।এ বিষয়ে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে কার্যকর করা হচ্ছে। আইন সবার জন্য সমান—কেউই এর বাইরে নন। আচরণবিধি ভঙ্গের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’আরডি
    চট্টগ্রাম-১৫: প্রচারণা শুরুর আগেই আচরণবিধি লঙ্ঘন বিএনপি প্রার্থীর
    নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া–লোহাগাড়া) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।   সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ জরিমানা করেন।   জানা গেছে, গত ৪ ডিসেম্বর ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির মনোনয়ন পান নাজমুল মোস্তফা আমিন। মনোনয়ন পাওয়ার পর আজ শনিবার তিনি বিশাল গাড়ির বহর নিয়ে নিজ নির্বাচনী এলাকায় প্রবেশ করেন। এ সময় একাধিক গাড়ি নিয়ে শোভাযাত্রা ও জনসমাগম সৃষ্টি করে নির্বাচনী এলাকায় প্রবেশ করায় নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে।   খবর পেয়ে লোহাগাড়া উপজেলা প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে। প্রাথমিক শুনানি শেষে আচরণবিধি লঙ্ঘনের সত্যতা পাওয়ায় প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিনকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।   ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্র জানায়, নির্বাচনী প্রচারণার ক্ষেত্রে প্রার্থীদের জন্য নির্ধারিত আচরণবিধি অনুযায়ী কোনো ধরনের শোভাযাত্রা, বড় গাড়িবহর কিংবা জনদৃষ্টি আকর্ষণকারী প্রদর্শনী নিষিদ্ধ। তা সত্ত্বেও এসব নিয়ম অমান্য করায় এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।   এ বিষয়ে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইউএনও সাইফুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে আচরণবিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কোনো প্রার্থী বা তার সমর্থক যদি আচরণবিধি লঙ্ঘন করেন, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   নাজমুল মোস্তফা আমিন বিএনপির চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা কমিটির সদস্য। তবে এ বিষয়ে তার বা দলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।এসআর
    এক সপ্তাহে চার খুনের মামলায় জামিন পেলেন শীর্ষ সন্ত্রাসী ছোট সাজ্জাদ-তামান্না
    চট্টগ্রামের অপরাধ জগতের শীর্ষ তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ এবং তাঁর স্ত্রী শারমিন আক্তার তামান্না, এক সপ্তাহের ব্যবধানে দুই দিনে চারটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পেলেও সেই তথ্য প্রায় আড়াই মাস গোপন রাখা হয়। পুলিশের একটি অংশ, প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট শাখা এবং সংবাদমাধ্যমের চোখ এড়িয়ে জামিন কার্যকর করতে পরিকল্পিতভাবে ধীরগতির কৌশল নেওয়া হয়েছিল, এমন অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র থেকে।এই দম্পতির বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও অপরাধ সংগঠন পরিচালনার গুরুতর অভিযোগ থাকলেও জামিন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে যে অস্বাভাবিকতা দেখা গেছে, তা নিয়ে এখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, রাষ্ট্রপক্ষের ভূমিকা এবং বিচারিক তদারকি প্রশ্নের মুখে পড়েছে।পুলিশ ও কারা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ অন্তত ১০টি হত্যা মামলাসহ মোট ১৯টি মামলার আসামি। এর মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রামের আলোচিত জোড়া খুন, প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা সন্ত্রাসী সরোয়ার বাবলা হত্যাকাণ্ড এবং বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত নৃশংস অপরাধ। দীর্ঘদিন ধরে তিনি চট্টগ্রামের অপরাধ জগতের একটি সক্রিয় ও প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।অপরদিকে তাঁর স্ত্রী শারমিন আক্তার তামান্নার বিরুদ্ধেও রয়েছে একাধিক হত্যা মামলাসহ অন্তত ৮টি মামলা। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের দাবি, তামান্না শুধু সাজ্জাদের সহযোগী নন, বরং অপরাধ কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখতেন এবং প্রয়োজনে হুমকি-ধামকিতেও সরাসরি জড়িত ছিলেন।হাইকোর্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর চান্দগাঁও থানার দোকান কর্মচারী শহিদুল ইসলাম হত্যা মামলায় সাজ্জাদ ও তামান্নাকে জামিন দেন হাইকোর্ট। একই দিনে, একই বেঞ্চ ১৮ আগস্ট পাঁচলাইশ থানায় সংঘটিত ওয়াসিম আকরাম হত্যা মামলায় এই দম্পতিসহ তিনজনকে জামিন দেন।এর মাত্র এক সপ্তাহ পর, ২২ সেপ্টেম্বর একই বেঞ্চ ২৮ আগস্ট পাঁচলাইশ থানার দোকান কর্মচারী মো. ফারুক হত্যা মামলায় সাজ্জাদ ও তামান্নাকে জামিন দেন। একই দিনে পাঁচলাইশ থানার আফতাব উদ্দিন তাহসীন হত্যা মামলাতেও তারা জামিন পান।চারটি মামলাতেই রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জামিন দেন বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি ইউসুফ আবদুল্লাহ সুমনের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ।যদিও ১৫ ও ২২ সেপ্টেম্বর জামিন আদেশ দেওয়া হয়, তবে হাইকোর্টের সহকারী রেজিস্ট্রার মো. ইউসুফ আলী ওই আদেশে স্বাক্ষর করেন যথাক্রমে ১৮ সেপ্টেম্বর ও ৫ অক্টোবর। এরপরও জামিননামা চট্টগ্রামের সংশ্লিষ্ট আদালতে পৌঁছাতে লেগে যায় প্রায় আড়াই মাস। শেষ পর্যন্ত ৮ ডিসেম্বর সেই কাগজপত্র চট্টগ্রামে আসে।আইনসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য, সাধারণত হাইকোর্ট থেকে জামিন হলে সর্বোচ্চ এক সপ্তাহের মধ্যেই জামিননামা সংশ্লিষ্ট আদালত ও কারাগারে পৌঁছে যায়। কিন্তু এই মামলাগুলোর ক্ষেত্রে তা হয়নি। বরং পরিকল্পিতভাবে সময় নেওয়া হয়েছে, যাতে পরিস্থিতি কিছুটা ‘ঠান্ডা’ হলে জামিন কার্যকর করা যায়।একাধিক সূত্র জানিয়েছে, জামিন আবেদনে চারটি মামলাতেই কৌশলগতভাবে এক নম্বরে রাখা হয় তামান্নার নাম। সাজ্জাদের নাম ছিল দুই বা তিন নম্বরে। আইনজীবী মহলের একাংশের মতে, উদ্দেশ্য ছিল নারী আসামি হিসেবে আদালতের সহানুভূতি অর্জন এবং একই সঙ্গে সাজ্জাদের ভয়ংকর সন্ত্রাসী পরিচয় আংশিকভাবে আড়ালে রাখা।সাধারণত শীর্ষ বা ভয়ংকর সন্ত্রাসীদের জামিন হলে রাষ্ট্রপক্ষ চেম্বার জজ আদালতে গিয়ে জামিন স্থগিত চায়। কিন্তু এই চারটি মামলায় তেমন কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যায়নি, যা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার কিছুদিন পরই চট্টগ্রামের অপরাধ জগতে বড় ঘটনা ঘটে। গত ৫ নভেম্বর নির্বাচনী প্রচারের সময় বাজারে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় সাজ্জাদের প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসী সরোয়ার বাবলাকে। এই হত্যাকাণ্ডের পর অভিযোগ ওঠে, কারাগারে বসেই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নিজের অপরাধ সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণ করছিলেন সাজ্জাদ।এই অভিযোগ সামনে আসার পর প্রশাসনের তৎপরতা বাড়ে। ১৪ নভেম্বর সাজ্জাদকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে এবং ১৮ নভেম্বর তামান্নাকে ফেনী জেলা কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। এর আগে ঢাকার বসুন্ধরা সিটি এলাকা থেকে গ্রেপ্তারের পর সাজ্জাদ চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন।তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাবলাকে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় তামান্না প্রকাশ্যে ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি দিয়েছিলেন। এর কিছুদিন পরই বাবলাকে গুলি করে হত্যা করা হয়, যা এই দম্পতির বিরুদ্ধে অভিযোগকে আরও জোরালো করে।চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার শাহ সৈয়দ শরীফ সময়ের কন্ঠস্বর-কে জানান, সাজ্জাদের বিরুদ্ধে বর্তমানে ১৬টি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে তিনটি মামলায় হাইকোর্টের জামিননামা এসেছে। তামান্নার চারটি মামলাতেই জামিননামা এসেছে। তবে সাজ্জাদ রাজশাহী এবং তামান্না ফেনী কারাগারে থাকায় সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র সেখানে পাঠানো হয়েছে।সাজ্জাদের আইনজীবী আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, চারটি মামলাতেই তার মক্কেল ও তার স্ত্রী জামিন পেয়েছেন এবং জামিননামা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে হাইকোর্ট থেকে জামিননামা দেরিতে চট্টগ্রামে পৌঁছানোর বিষয়ে তিনি কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।এসআর
    প্রশিক্ষণ ও অবকাঠামোতে দক্ষ মেরিন অফিসার গড়ছে সরকার: নৌপরিবহন সচিব
    বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি, চট্টগ্রামের ৫৯তম ব্যাচ ক্যাডেটদের শিক্ষা সমাপনী কুচকাওয়াজ (গ্র্যাজুয়েশন প্যারেড) অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) একাডেমি প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নুরুন্নাহার চৌধুরী, এনডিসি।দুই বছরের কঠোর একাডেমিক ও রেজিমেন্টাল প্রশিক্ষণ শেষে এ বছর মোট ১৬০ জন ক্যাডেট অফিসার প্রি-সি (Pre-Sea) সনদ অর্জন করেন। এর মধ্যে ১১ জন নারী ক্যাডেটসহ নটিক্যাল শাখায় ৮২ জন এবং মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং শাখায় ৭৮ জন রয়েছেন।বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ শেষে বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী ক্যাডেটদের মাঝে পদক বিতরণ করেন প্রধান অতিথি। সকল ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ কৃতিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে ৫৯তম ব্যাচের ক্যাডেট নং ৫৭৮৯ মিফতাহুল ইসলাম রাজ্য মহামান্য রাষ্ট্রপতির স্বর্ণপদক অর্জন করেন।অনুষ্ঠানে বক্তব্যে নৌপরিবহন সচিব ড. নুরুন্নাহার চৌধুরী বলেন, বৈশ্বিক মানসম্পন্ন মেরিন অফিসার ও মেরিন ইঞ্জিনিয়ার তৈরিতে প্রশিক্ষণের গুণগত মান বৃদ্ধি, দক্ষ প্রশিক্ষক নিয়োগ, আধুনিক প্রশিক্ষণ সরঞ্জাম সংযোজন এবং সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণে সরকার কাজ করছে। পাশাপাশি দেশি ও আন্তর্জাতিক সমুদ্রগামী জাহাজে ক্যাডেটদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সক্রিয় রয়েছে।তিনি আরও জানান, ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ মেরিন একাডেমিকে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে উন্নীত করতে সরকারি অর্থায়নে ১১৫ কোটি টাকার অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।একাডেমি সূত্রে জানা যায়, ছয় দশকের বেশি সময় ধরে দেশের মেরিটাইম খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি, চট্টগ্রাম। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত এখান থেকে ৫ হাজার ৮৬০ জন নটিক্যাল ও মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং ক্যাডেট প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। তারা বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন শিপিং কোম্পানি ও মেরিটাইম প্রতিষ্ঠানে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে দেশের জন্য বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছেন।নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে একাডেমির অবদান তুলে ধরে জানানো হয়, ২০১২ সাল থেকে এখানে নারী ক্যাডেটদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু রয়েছে। বর্তমানে প্রশিক্ষিত নারী ক্যাডেটরা বিশ্বের বিভিন্ন সমুদ্রগামী জাহাজে পেশাদারিত্ব ও সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তা, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ এবং ক্যাডেটদের অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।এসআর
    মিয়ানমারে দুই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর গোলাগুলি, টেকনাফ সীমান্তে আতঙ্ক!
    কক্সবাজার টেকনাফ উপজেলার সীমান্ত সংলগ্ন মিয়ানমারের দুই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে গোলাগুলির বিকট শব্দে স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।তথ্য নিয়ে যায়, শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) ভোর রাত থেকে টেকনাফ উপজেলার অন্তর্গত হোয়াইক্যং নাফনদীর সীমান্তের ওপারে দু'পক্ষের সংঘটিত ঘটনার বেশ কয়েক ঘণ্টা গোলাগুলির বিকট শব্দে ভেসে আসে এপার সীমান্তে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে আরামের ঘুম হারাম হয়ে যায়।স্থানীয়রা সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানিয়েছেন, শনিবার ভোর রাত থেকে বেশ কয়েক ঘণ্টা হোয়াইক্যং ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকা সংলগ্ন মিয়ানমার রাখাইন রাজ্যের দুই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। মর্টারশেলসহ ভারি অস্ত্র নিক্ষেপের বিস্ফোরিত শব্দে কেঁপে উঠেছিল। এমনকি ওপারের ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখতে পেয়ে এপার থেকে অনেকেই ছবি ধারণ করে রেখেছে বলেও জানান তারা।এবিষয়ে হোয়াইক্যং ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সিরাজুল মোস্তফা লালু গণমাধ্যম কর্মীদের জানিয়েছেন, শনিবার ভোর থেকে সকাল লাগাতার চার ঘণ্টা যাবত অত্র ওয়ার্ড অন্তর্গত সীমান্ত এলাকায় গোলাগুলির বিকট শব্দ ভেসে আসে।ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় সীমান্তবর্তী বসত বাড়ি গুলো কেঁপে উঠৈছিল। সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজমান ছিল।এবিষয়ে জানতে চাইলে টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে শুেছি শনিবার ভোরে হোয়াইক্যং সীমান্ত সংলগ্ন মিয়ানমারে দু'পক্ষের সংঘটিত ঘটনার গোলাগুলির বিকট শব্দ গুলো ভেসে এসেছে।তবে দেশের সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সীমান্ত এলাকায় দায়িত্বরত সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সদস্যরা সদা প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।এসআর
    পাকুন্দিয়ায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল দুই যুবকের
    কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় মো. ইসমাইল হোসেন (২৫) ও টুটুল মিয়া (৩২) নামে দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছেন। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বিকালে পাকুন্দিয়া উপজেলার আদিত্যপাশা এলাকা ও সন্ধ্যায় উপজেলার চন্ডিপাশা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে এ দুর্ঘটনাগুলো ঘটে।নিহত ইসমাইল হোসেন হোসেনপুর উপজেলার আসুতিয়া ইউনিয়নের গকুলনগর গ্রামের দুলাল মিয়ার ছেলে ও নিহত টুটুল মিয়া উপজেলার চন্ডিপাশা গ্রামের বকুল মিয়ার ছেলে।জানা যায়, শনিবার বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার আদিত্যপাশা এলাকায় নিজ অটোরিকশার একটি চাকা খুলে মেরামতের সময় হঠাৎ গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চালক মো. ইসমাইল হোসেন এর ওপর পড়ে যায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।অন্যদিকে, সন্ধ্যার দিকে উপজেলার চন্ডিপাশা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে একটি মাইক্রোবাসের চাপায় বাইসাইকেল আরোহী টুটুল মিয়া গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পাকুন্দিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোবারক হোসেন দুই যুবকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।এনআই
    মির্জাপুরে হিমেলের দুচোখ অন্ধের ঘটনায় দুই আ.লীগ নেতা গ্রেপ্তার
    টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে দুই আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার সময় উপজেলার ভাওড়া ইউনিয়নের কামারপাড়া ও চামুটিয়া পৃথক এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, ভাওড়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সাবেক ইউপি সদস্য ফরহাদ হোসেন (৫৩), ভাওড়া ইউনিয়ন আ.লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য লতিফুর রহমান (৪৩)। তাঁরা দুজনই ভাওড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা।পুলিশ জানায়, ৪ আগস্ট ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক সংলগ্ন গোড়াই হাইওয়ে থানার সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে পুলিশের ছররা গুলিতে গোড়াই ইউনিয়নের লালবাড়ি গ্রামের হিমেলের দুই চোখ অন্ধ হয়ে যায়। এ ঘটনার পর হিমেলের মা নাছিমা বেগম টাঙ্গাইল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মির্জাপুর আমলি আদালতে পুলিশ, সাংবাদিক, আওয়ামী লীগ নেতাসহ ১০০ জনের নাম উল্লেখ এবং ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করেন। ওই মামলার অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে তাদের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক হাফিজুর রহমান।মির্জাপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের রোববার টাঙ্গাইল আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হবে।এনআই
    হাদীর ওপর গুলিবর্ষণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না: শেখ মো. আব্দুল্লাহ
    মুন্সিগঞ্জ–১ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী শেখ মো. আব্দুল্লাহ বলেছেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি দিন দিন বেড়েই চলেছে। একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তফসিল ঘোষণার পর থেকেই নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।তারই ধারাবাহিকতায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদীর ওপর হত্যার উদ্দেশ্যে নৃশংসভাবে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটিয়েছে, যা বাংলাদেশের জনগণ কখনোই মেনে নেবে না।তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত আসামিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যেখানেই থাকুক না কেন, দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে। এটি কোনো ছোট ঘটনা নয়, দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের ওপরই এই হামলা চালানো হয়েছে।তাই পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সব সরকারি সংস্থাকে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে।শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের আয়োজনে উপজেলা মোড়ে বিএনপির পার্টি অফিস থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি সিরাজদিখান থানার সামনে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শেখ মো. আব্দুল্লাহ।তিনি আরও বলেন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে দ্রুত চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা জরুরি। তা না হলে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব হবে না। একটি মহল পরিকল্পিতভাবে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে, হাদীর ওপর গুলিবর্ষণ সেই চেষ্টারই অংশ। এ ধরনের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ জনগণ কোনোভাবেই মেনে নেবে না।বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত ছিলেন সিরাজদিখান উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল ও মোতাহার হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান হাওলাদার, মুন্সিগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক এম. সিদ্দিক মোল্লা, কেয়াইন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নাছিম খান, ইছাপুরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নাজমুল হোসেন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ইয়াসিন সুমন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আজিজুল ইসলাম, সদস্য সচিব শেখ মো. রাসেল,উপজেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মো. আশিক শেখসহ উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।এসআর
    দৌলতদিয়ায় ৭ নম্বর ফেরিঘাট বন্ধ, ভোগান্তিতে চালক ও যাত্রীরা
    রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাট সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)। এদিকে ৭ নম্বর ফে‌রিঘাট‌টি বন্ধ থাকলেও সচল রয়েছে ৩ ও ৪ নম্বর ফে‌রিঘাট।শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা থেকে ৭নং ফেরিঘাটটি বন্ধ করে দেয় কতৃপক্ষ। এতে দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটে যানবাহন ও যাত্রীরা এসে পড়তে হচ্ছে ভোগান্তিতে।সাত নাম্বার ফেরিঘাটে আসা মায়া নামে একজন নারী যাত্রী বলেন, দুই তিনটা ব্যাগ নিয়ে ৭ নং ফেরিঘাটে এসেছি। এখন শুনতেছি ফেরিঘাট টি বন্ধ রয়েছে। এই ব্যাগগুলো নিয়ে অন্য ঘাটে যাও আমার জন্য কষ্টকর এবং ভোগান্তি হতে হলো।কুদ্দুস নামে একজন গাড়ির চালক বলেন, ৭ নম্বর ফেরিঘাটে এসেছি। এসে এখানে দেখেছি ফেরিঘাটটি বন্ধ। এখন গাড়িটি নিয়ে ঘুরে অন্য ঘাটে যেতে হচ্ছে। সেখানে গিয়ে কতক্ষণ পর ফেরি পাব তা জানা নেই অযথা ভোগান্তি।বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ৭নং ফেরিঘাটের পন্টুন ইনচার্জ (সারিং) হুমায়ন কবির বলেন, আজ সকাল ৯টা থেকে ৭নং ফেরিঘাটে ড্রেজিং হচ্ছে, সে কারণে ঘাটটি বন্ধ রয়েছে। কখন এ ঘাটটি সচল হবে সেটা আমি বলতে পারছি না।বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক মো. সালাহউদ্দিন জানান, ড্রেজিংয়ের কারণে সকাল ৯টা থেকে ৭নং ফেরিঘাট বন্ধ রয়েছে। ড্রেজিং কার্যক্রম চলমান আছে। ড্রেজিং কার্যক্রম শেষ হলে আবার ফেরিঘাটটি সচল হবে।বর্তমানে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ছোট-বড় মিলে মোট ১২টি ফেরি দিয়ে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে।এসআর
    গাজীপুরে মায়ের উপর নির্যাতন, ছেলেকে মাটিতে পুঁতে দিল ক্ষুব্ধ জনতা
    গাজীপুরের শ্রীপুরে মাদকাসক্ত ছেলের লাগাতার নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে এক অসহায় মা প্রতিবেশীদের কাছে বিচার চান। পরে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ওই যুবককে আটক করে মারধর করে এবং শাস্তিস্বরূপ কোমর পর্যন্ত মাটিতে পুঁতে রাখে।শনিবার (১৩ ডিসেম্বর ) সকালে শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের টেপিরবাড়ী গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত যুবকের নাম খলিল (৩২)। তিনি ওই গ্রামের নুরু উদ্দিনের সন্তান ।এ বিষয়ে খোদেজা বেগমে (৬৫) বলেন, আমার ছেলে দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। নেশার টাকার জন্য প্রায়ই আমাকে মারধর করে। আজ সকালে টাকা দিতে না পারায় আবারও মারধর করে। আমি নিরুপায় হয়ে প্রতিবেশীদের কাছে বিচার চাই। আমি একজন মা, ছেলের শাস্তি চাই না আমি চাই সে সুস্থ হোক, মাদক ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসুক।স্থানীয়রা জানান , দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত খলিল নেশার টাকার জন্য নিয়মিতভাবে তার মা খোদেজা বেগমকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিলেন। শনিবার সকালে টাকা না পেয়ে তিনি মাকে মারধর করলে অসহায় মা প্রতিবেশীদের কাছে বিচার প্রার্থনা করেন।এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল জানান, মাদকাসক্তদের বিরুদ্ধে শুধু শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি। একই সঙ্গে মাদকের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের আরও কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা দাবি করেন তারা।এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.নাছির আহমেদ বলেন, ঘটনাটি আমাদের নজরে এসেছে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই। মাদকাসক্ত যুবক ও এলাকাবাসী উভয় পক্ষের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে মাদকবিরোধী অভিযান ও মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের বিষয়েও আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি।এসআর
    মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাচন অফিসে পেট্রল ঢেলে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা
    পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাচন অফিসে পেট্রল ঢেলে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করেন দুর্বৃত্তরা। খবর পেয়ে মঠবাড়িয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) ভোর রাত ৪টার দিকে উপজেলা নির্বাচন অফিসের দোতালায় জানালার কাচ ভেঙে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে দুর্বৃত্তরা। পাশের একটি ভবন থেকে লাঠির সাথে গামছায় পেট্রোল লাগিয়ে আগুন ভিতরে দেয়। গামছা পুড়ে ছাই মেঝেতে পড়ে থাকে।এ সময় অফিসের লোকজনের টের পেয়ে ছু‌টে আস‌লে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাচন অফিসের নৈশপ্রহরী মোস্তফা হাওলাদার জানান, আমি রাত ২ টার দিকে ঘুমিয়ে পড়ি। আগুনের বিষয়টি শুরুতে টের পাইনি। টের পেলে ৯৯৯ কল দিতাম। পরে বিষয়টি নজরে আসলে কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করি।মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাচন অফিসার বাসুদেব সরকার জানান, তফসিল ঘোষণার পর থেকে আমাদের কোন ছুটি নেই আমি গতকাল রাত ১১টার সময় অফিসের কাজ শেষ করে বাসায় যাই। সকালে অফিসে আসলে এমন পরিস্থিতি দেখি তবে অফিস এবং অফিসের কোন নথিপত্রের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তি‌নি আরও ব‌লেন  ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচাল করার জন্য একটি মহল এইরকম ঘটনা ঘটাতে পারে। আমি বিষয়টি উর্ধতন কর্মকর্তাদের, নির্বাহী অফিসার এবং থানার অফিসার ইনচার্জকে অবহিত করেছি নিরাপত্তা দেয়ার জন্য।মঠবাড়িয়া থানার অ‌ফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) শেখ হেলাল উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দুর্বৃত্তরা ভবনের পিছনের থাই গ্লাসের জানলা খুলে ফেলেছে কৌশলে। তারপর আগুন দেয়ার চেষ্টা করে। তবে বিষয়টি টের পাওয়ার কারণে বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি। এ ব্যাপারে লি‌খিত অভিযোগ পে‌লে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এসআর
    এনজিও কর্মীর ধরে নিয়ে যাওয়া সেই হাঁস ফিরে পেতে চান গৃহবধূ
    কিস্তির টাকার জন্য এনজিও কর্মীর নিয়ে যাওয়া চীনাহাঁস ফিরে পেতে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন ঋণগ্রহীতা ওই গৃহবধূ। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বণিকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন গৃহবধূ হাফিজা খানম।গত ৯ ডিসেম্বর একটি এনজিওর মাঠকর্মী ফিরোজ খান কিস্তির টাকা না পেয়ে উপজেলার ফুল্লশ্রী গ্রামের মুরাদ হোসেনের স্ত্রী ঋণগ্রহীতা হাফিজা খানমের বাড়ির উঠান থেকে একটি চীনাহাঁস ধরে নিয়ে যান। এ ঘটনা ১০ ডিসেম্বর দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশ হলে নড়েচড়ে বসে উপজেলা প্রশাসন ও টিএমএসএস এনজিওর কর্মকর্তারা।ওই দিন (১০ ডিসেম্বর) সকালে ওই মাঠকর্মী ফিরোজ খানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা একাধিক মোটরসাইকেলযোগে ফুল্লশ্রী গ্রামে এসে হাফিজার বিপক্ষে ঋণখেলাপি সদস্যদের বক্তব্য রেকর্ড করেন। এ সময় তারা ঋণগ্রহীতা গৃহবধূ হাফিজা খানমের হাঁস ফেরত না দিয়ে উল্টো তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দিয়ে চলে যান।হাঁস ফেরত পাওয়ার জন্য বৃহস্পতিবার দুপুরে ঋণগ্রহীতা গৃহবধূ হাফিজা খানম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বণিক, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তপন বিশ্বাস, সমবায় কর্মকর্তা মো. আফজাল হোসেন ও আাগৈলঝাড়া উপজেলা এনজিও সমন্বয় পরিষদের সভাপতি কাজল দাশগুপ্তের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।উপজেলা এনজিও সমন্বয় পরিষদের সভাপতি কাজল দাশগুপ্ত সাংবাদিকদের বলেন, আগৈলঝাড়া উপজেলায় কাজ করার ক্ষেত্রে এনজিওটি প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করেছে কিনা জানি না। সঠিক তদন্ত করে প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের দায় পাওয়া গেলে তাদের জবাবদিহিতার আওতায় এনে ভুক্তভোগী নারীর ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা উচিত। যেহেতু ওই এনজিওটি আমাদের সমন্বয় পরিষদের সদস্য নয়, সেক্ষেত্রে এ বিষয়ে আমাদের সমন্বয় পরিষদের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান বা এখতিয়ার নেই। তবে উপজেলা প্রশাসন যদি এক্ষেত্রে প্রয়োজন মনে করে আমরা সহযোগিতা করব।এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বণিক বলেন, আমি ঘটনাটি জানার পরে সমাজসেবা কর্মকর্তার কাজে জানতে চেয়েছি- এই এনজিও কিভাবে আগৈলঝাড়ায় কাজ করে। বিস্তারিত জেনে আমাকে জানাতে বলেছি। প্রয়োজনে ওই গৃহবধূর হাঁস ফেরত পাওয়ার জন্য আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।উল্লেখ্য, উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের ফুল্লশ্রী গ্রামের মো. মুরাদ হোসেনের স্ত্রী হাফিজা খানম একটি এনজিওর সদস্য। ওই এনজিও থেকে ৬০ হাজার টাকা লোন উত্তোলন করেন হাফিজা খানম। এনজিওর মাঠকর্মী ফিরোজ খান ৯ ডিসেম্বর শেষ কিস্তির ১২৫০ টাকা নিতে আসেন। হাফিজা কিস্তি দিতে অপারগতা জানিয়ে পাশের বাড়ি চলে যান। এ সময় এনজিও কর্মী ফিরোজ খান হাফিজার বাড়ির উঠান থেকে ধাওয়া করে একটি চীনাহাঁস ধরে নিয়ে যান।এনআই
    ভোলায় এনসিপির আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে ক্ষোভ, পূনর্গঠনের আল্টিমেটাম
    ভোলা জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি স্থগিত করে তৃণমূলকে প্রাধান্য দিয়ে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কমিটি পুনর্গঠনের দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে করেছে সংগঠনটির কয়েকজন নেতাকর্মী। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) দুপুরে ভোলা জেলা পরিষদের মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনটির যুগ্ম সদস্য সচিব ইয়াসির আরাফাত।তিনি অভিযোগ করে বলেন, নবনির্বাচিত আহ্বায়ক কমিটির অধিকাংশ সদস্য অতীতে দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা না করে ঢাকায় বসে ‘রাজনীতি করা ব্যক্তিদের’ মূল পদে রাখা হয়েছে। এতে যোগ্য ও পরিশ্রমী স্থানীয় নেতাদের কোনো মূল্যায়ন করা হয়নি। তার দাবি, কেন্দ্রীয় নীতিমালা উপেক্ষা করে ব্যক্তিগত সুপারিশের ভিত্তিতেই এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।তিনি আরও বলেন, এনসিপিকে ‘অন্য রাজনৈতিক দলের বি-টিমে পরিণত করার লক্ষ্যে’ সেইসব দলের লোকদের কমিটিতে স্থান দেয়া হয়েছে। একই ব্যক্তিকে একাধিক পদে রাখাসহ যুবশক্তি ও মূল দলে একসঙ্গে পদায়ন করা হয়েছে যা নীতিমালা পরিপন্থী। এছাড়া ঢাকায় বসে রাজনীতি করা ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদ দিয়ে ভোলার স্থানীয়দের বঞ্চিত করা হয়েছে।এসময় তিনি ৭২ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়ে নবগঠিত  কমিটি স্থগিত করে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নতুন করে কমিটি পুনর্গঠন না করা হলে পর্যায়ক্রমে দলের গঠিত কমিটি থেকে সকলে পদত্যাগ করবে বলেও জানান।সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব তাজিম রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আতিকুল্লাহ আতিক, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ রাকিব, কোষাধ্যক্ষ হাফেজ ড. মোহাম্মদ জহুরুল ইসলাম, নির্বাহী সদস্য মো. সবুজ মিয়া, রুহুল আমিন, আলাউদ্দিন, নাসরিন জাহান হাবিবা, মোহাম্মদ নুরনবী, মোহাম্মদ লিমন, মো. সুজন, মোহাম্মদ ইব্রাহিমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।এসএম
    বরিশালে আসামি ধরতে গিয়ে দুই পুলিশ সদস্য আহত
    গ্রেপ্তারী পরোয়ানা তামিল করতে গিয়ে আসামিদের হামলায় বরিশাল মহানগর পুলিশের বন্দর থানার দুই সদস্য আহত হয়েছেন। এ সময় তাদের চাঁদাবাজ অভিহিত করে আটকে রাখার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইসমাইল হোসেন।ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার (১০ ডিসেম্বর) রাতে সদর উপজেলার চাঁদপুরা ইউনিয়নের সোনালী পোল এলাকায়। এ ঘটনায় আহতরা হলেন-থানার এএসআই দেলোয়ার হোসেন ও কনস্টেবল আব্দুস সালাম। তাদের বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত এএসআই দেলোয়ার হোসেন জানান, একটি মামলার সাক্ষী ছিলো উক্ত এলাকার বাসিন্দা প্রতাপ ঘোষ। আদালতে গিয়ে সাক্ষ্য না দেয়ার কারনে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হওয়ায় আদালতে হাজির করতে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা তামিল করার উদ্দেশ্যে প্রতাপ ঘোষের বাড়িতে যান তারা।তখন প্রতাপ ঘোষ, তার স্ত্রী এবং দুই ছেলে মিলন ঘোষ ও বাসুদেব ঘোষ তাদের সাথে তর্কে লিপ্ত হয়। একপর্যায়ে তাদের উপর হামলা করে আটকে রাখার চেষ্টা করে অভিযুক্তরা। তখন আরো পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌছলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘মারধর করাসহ চাঁদাবাজ আখ্যা দিয়ে পুলিশ সদস্যদের আটকে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে দুইজনকে উদ্ধার করে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করেছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতির পাশাপাশি হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’এসএম
    যাবজ্জীবন কারাদন্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার
    মাদক মামলায় যাবজ্জীবন কারাদন্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে বরিশাল র‍্যাব-৮ এর সদস্যরা। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) দুপুরে বরিশাল র‍্যাব-৮ এর  সদর দপ্তর থেকে প্রেরিত ই-মেইল বার্তায় তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন র‍্যাব-৮ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক অমিত হাসান।গ্রেপ্তারকৃত মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মিরাজ শিকদার বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার বাশাইল গ্রামের মৃত মোসলেম শিকদারের ছেলে।সূত্রমতে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১০ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে বরিশাল র‍্যাব-৮ এর সদস্যরা র‍্যাব-২ সিপিসি-১ এর সহায়তায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ঢাকার মোহাম্মদপুর থানার পুলপাড় জাফরাবাদ এলাকা থেকে মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মিরাজ শিকদারকে গ্রেপ্তার করেছেন।এসআর
    নেত্রকোনায় চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ
    নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসকের অবহেলায় জুয়েল মিয়া (৩২) নামের এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। পরবর্তীতে দায়িত্ব হস্তান্তর না করেই হাসপাতাল থেকে চিকিৎসক উধাও হয়ে পড়েন। এই ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।জুয়েল মিয়া উপজেলার তেলিগাতী ইউনিয়নের মাটিকাটা গ্রামের ইসলাম উদ্দিনের ছেলে।শ্বাসকষ্ট, গলাব্যাথা, জ্বর নিয়ে আটপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হওয়া রোগী জুয়েল মিয়া (৩২) নামের এক রোগী গত মঙ্গলবার (৯ডিসেম্বর) আটপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। গত বুধবার রাতে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা: আজিমুল সাদাত সুমনকে ডেকেও পায়নি রোগীর স্বজনসহ নার্সরা। এক পর্যায়ে আজ বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) ভোরে রোগী জুয়েল মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। পরে এই খবরে সকাল পর্যন্ত দায়িত্বে থাকলেও কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা: আজিমুল সাদাত সুমন দায়িত্বভার না দিয়েই উধাও হয়ে পড়েন। এ ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মৃত জুয়েল মিয়া উপজেলার তেলিগাতি ইউনিয়নের মাটিকাটা গ্রামের ইসলাম উদ্দিনের ছেলে।জুয়েলের স্ত্রী লাকী আক্তার বলেন, ভর্তির পর হাসপাতালের নিয়মিত রাউন্ডের চিকিৎসক রোগীকে মাত্র একবার দেখেন। এরপর অবস্থার অবনতি হলে রাতে ডিউটিরত চিকিৎসক ডা: আজিমুল সাদাত সুমনকে নার্সকে সাথে নিয়ে ডাকলেও তিনি আসেননি। কর্তব্যরত নার্স অমৃতা হাজং স্বীকার করে বলেন, সবাই মিলে এতো ডেকেও স্যারকে আমরা আনতে পারিনি। যা খুবই দুঃখজনক। মারা যাওয়ার পরেও অন্তত একবার দেখে যেতে পারতেন।আটপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. উত্তম কুমার পাল জানান, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। হাসপাতালে মাত্র চিকিৎসক তিনজন। তার ডিউটি সকালে শেষ হওয়ার কথা। তিনি রাতের রোগীদের সেবায় থাকা অবস্থায় উচিৎ ছিলো রোগীর পাশে থাকা। তিনি সকালে দায়িত্ব হস্তান্তর করে না যাওয়াটা খুবই দু:খের। আমরা বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিচ্ছি। এফএস
    জামালপুরে কুড়িয়ে পাওয়া শিশুকে দত্তক নিতে ৪৫ আবেদন
    জামালপুরের ইসলামপুরে কুড়িয়ে পাওয়া ফুটফুটে এক নবজাতক শিশু ঘুমিয়ে আছে মোশারফগন্জ এলাকায় শাহজালালের বাড়ির বিছানায়। কিছুক্ষণ পর পর তাকে দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসছে মানুষ। তবে সমাজসেবার অফিসের কর্তৃপক্ষ সবাইকে সে সুযোগ দিচ্ছে না।পরিচয়বিহীন এই মেয়ে শিশুকে বুকে জড়িয়ে নিতে অর্থাৎ দত্তকের জন্য বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা পর্যন্ত অন্তত ৪৫টি আবেদন জমা পড়েছে সমাজসেবা অফিসের কর্তৃপক্ষের কাছে। আবেদন করার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন আরও কয়েকজন। জটিলতা এড়াতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জেলা শিশু কল্যাণ বোর্ডের সভাপতি বরাবর আবেদন করতে বলা হয়েছে আগ্রহীদের।গত ৮ডিসেম্বর জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার দেওয়ানগঞ্জ জামালপুর সড়কের পাশে ধান ক্ষেত থেকে উদ্ধার করা হয় শিশুটিকে। জন্মের পরপরই কে বা কারা তাকে ফেলে যায় সেখানে। উপজেলা প্রশাসনের হাত ঘুরে পরে তার স্থান হয়েছে মোশারফগঞ্জ এলাকা শাহজালালের বাড়িতে। এরইমধ্যে ফেসবুকে ফুটফুটে শিশুটির ছবি ছড়িয়ে পড়লে চাঞ্চল্য দেখা দেয়। তারপর থেকে শিশুটি এক নজর দেখতে শাহজালালের বাড়িতে আসছেন অনেকে।প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী জানান, সোমবার ভোরে ইসলামপুর উপজেলার ইসলামপুর পৌরসভা মোশারফগন্জ বাজার এলাকায় সড়কের পাশ থেকে নবজাতকের কান্নার শব্দ আসছিল। স্থানীয় বাসিন্দা শাহজালাল প্রতিদিনের মতো রাস্তা হাটতে গিয়ে ওই নবজাতককে দেখতে পান। এরপর শাহজালাল ও তার মা আমেনা বেগম শিশুটিকে উদ্ধার করে ৯৯৯ এ কল দেন। পরে পুলিশ এসে শিশুটিকে নিয়ে যান ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। খবর পেয়ে সেখানে যান সমাজসেবা কার্যালয়ের শিশু সুরক্ষা সমাজকর্মী আনোয়ার। পরে শিশুটিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, অনেকে আসছে শিশুটিকে দত্তক নিতে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ধনাঢ্য ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমার কোন সন্তান নেই । ফেসবুকে মেয়ে শিশুটি দেখে স্ত্রী হাসপাতালে পাঠিয়েছে। আমার খুব মায়া হয়েছে। ওকে কেউ না নিলে আমরা শিশুটি দত্তক নিতে চাই।’হাসপাতালের নবজাতক বিভাগের প্রধান ডা. এ,এস এম আবু তাহের জানান, শিশুটি সম্পূর্ণ সুস্থ আছে। সোমবারেই তাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে ।উপজেলার সমাজসেবা কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, ‘শিশুটির দায়িত্ব নিতে এখন পর্যন্ত ৪৫ জন আবেদন করেছেন। আবেদনগুলো নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা শিশুকল্যাণ বোর্ডের সভায় আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হলে শিশুটি মোশারফগঞ্জ শাহজালালের বাড়িতে থাকবে।’উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হুসাইন বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধার করি। তার সুস্থতা ও নিরাপত্তা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ববোধ ও সহমর্মিতা এই শিশুটির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে বলে আমরা আশা করি।’এসএম
    সরিষাবাড়ীতে র‍্যাবের স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা
    জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে লিপি বেগম (৩৫) নামে র‍্যাব সদস্যের এক স্ত্রী'কে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে পৌরসভার শিমলা বাজার (গনময়দান শ্রম কল্যাণ) সংলগ্ন এক বাসায় এঘটনা ঘটে। পরে সংবাদ পেয়ে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করে সরিষাবাড়ী থানার (ওসি) মো. বাচ্চু মিয়া।পুলিশ সুত্রে জানা যায়, লিপি বেগম উপজেলার কামরাবাদ ইউনিয়নে শুয়াকৈর গ্রামের কুয়েত প্রবাসী মন্জুরুল হকের মেয়ে এবং একই গ্রামের মহির উদ্দিনের স্ত্রী। তার স্বামী মহির উদ্দিন পুলিশের এএসআই এবং বর্তমানে (র‍্যাব-২ মুহাম্মদপুরে) কর্মরত আছেন। নিহত লিপি বেগম তিন ছেলে-মেয়ে নিয়ে গনময়দান এলাকায় 'টিনসেট' বাসায় ১বছর যাবত ভাড়া থাকতেন। বুধবার আনুমানিক রাত ১-৪টার মধ্যে বারান্দার গ্রিল কেটে দুর্বৃত্তরা ঘরে প্রবেশ করে। পরে তার গলায় উর্না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। সকালে সংবাদ পেয়ে সরিষাবাড়ী পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা মর্গে প্রেরণ করে। এ বিষয়ে (ওসি) বাচ্চু মিয়া আরো জানান, ‘ধারনা করা হচ্ছে চুরি করার উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা ঘরে প্রবেশ করে ছিলো এবং চোরকে চিনে ফেলায় তাকে হত্যা করেছেন। তদন্ত চলমান রয়েছে ও মামলার প্রক্রিয়া চলছে।এসআর
    গৌরীপুরে হিল্লা বিয়ের নামে গৃহবধু প্রতারণার শিকার!
    ময়মনসিংহের গৌরীপুরে হিল্লা বিয়ের নামে প্রতারণার শিকার হয়েছেন এক নারী। পরকীয়া প্রেমিকাকে ঘরে তুলতে তার স্বামী এমন ঘটনা সাজিয়েছেন বলে ভুক্তভোগীর অভিযোগ। তারপরও সংসার টিকিয়ে রাখতে মৌখিক তালাকের শুদ্ধতা জন্য স্বামীর ভগ্নিপতির সঙ্গে হিল্লা বিয়েতেও রাজি হন এ নারী। পাওনা টাকা ফেরতের নামে কাজির বিরুদ্ধে তালাকনামায় স্বাক্ষর নেওয়াসহ এসব ঘটনায় বুধবার (১০ ডিসেম্বর) থানায় অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী ওই নারী।এ প্রসঙ্গে গৌরীপুর থানার সাব ইন্সপেক্টর মাসুদুর রহমান জানান, ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে গৌরীপুর থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত চলছে।অভিযোগ প্রসঙ্গে ভুক্তভোগীর স্বামী আব্দুল কাদির জানান ভিন্ন বক্তব্য। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘স্ত্রীকে বৈধভাবেই গত ১৫ নভেম্বর তালাক দেই। তবে বড় ছেলে জয়নাল আবেদিনকে শনিবার স্কুল থেকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয়। সে (ভুক্তভোগী নারী) যেহেতু চলে গেছে! তার দিন সে দেখেছে। আমিও শনিবার নতুন বিয়ে করেছি। ছেলেকে অপহরণের ঘটনায় মামলা করবো।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার সন্তানকে জিম্মি করে তার মায়ের নিকট থেকে স্বাক্ষর নিয়েছি, এ অভিযোগও সত্য না।’ভুক্তভোগী নারী জানান, ২০১৫ সনে উপজেলার বোকাইনগর ইউনিয়নের দত্তবাড়ি গ্রামের আবুল হাকিমের ছেলে আব্দুল কাদিরের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে জয়নাল আবেদিন (৮) ও ওয়াসকুরনি (১৮মাসের) নামের দুই ছেলে রয়েছে। প্রায় এক বছর যাবত অন্য এক মহিলার সঙ্গে তার স্বামীর পরিকিয়া প্রেম চলছিলো। এ নিয়ে পারিবারিকভাবে সালিশ হয়ে এ থেকে সরে আসার প্রতিশ্রুতিও দেয় সে। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রায় ৪মাস পূর্বে তাকে মৌখিকভাবে তালাক দেয় তার স্বামী। রাগান্বিত ও ক্ষুব্দ হয়ে এ তালাক দেওয়ায় তা সঠিক না হওয়ায় স্বামীর গৃহে বসবাস করেন। আরও নির্যাতন-নিপীড়ন করায় এক পর্যায়ে পিত্রালয়ে চলে আসেন। তবে তার বড় ভাই ও স্বজনদের নিকট থেকে আনা ধারকর্জের ১৩লাখ টাকা তার স্বামীর নিকট থেকে যায়।তিনি আরও জানান, এরপরে স্বামীর ভগ্নিপতি রঞ্জু মিয়া ও তার স্ত্রী আমাকে বুঝায় যে, ‘মৌখিক তালাকটা শুদ্ধ করতে হলে একটি রেজিস্ট্রি তালাকনামা করতে হবে এবং তোমার হিল্লা বিয়ে বসতে হবে।’ তার স্বামীও একই কথা বলে, ‘তুমি একটা স্বাক্ষর দিয়ে, দুলাভাইকে হিল্লা বিয়ে করো। তারপরে তোমাকে আবার ঘরে তুলে আনবো।’ওই নারী বলেন, ‘এরপরে আমার সন্তানকে ভিডিও কলে রেখে জানায়, স্বাক্ষর দাও, না হলে ছেলের অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যাবে। এতেও রাজি না হওয়ায় স্বামীর নিকট পাওনা টাকা নেয়ার জন্য কল দেই গৌরীপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাজি (বিবাহনিবন্ধনকারী) মো. হুজাইাকে। ওই কাজির কথা মোতাবেক কাজি অফিসে আসলে আমার স্বামী আমাকে জানায়, সে ৮লাখ টাকা পাবে। এরমধ্যে নগদে ৩লাখ ৯০হাজার টাকা দেন। স্বাক্ষর দিয়ে নিতে হবে বলে কাজি জানায়। কাজির কথায় আমি দুইবার দু’টি স্বাক্ষর দেই। পরে জানতে পারি টাকা দেওয়ার কথা বলে কাজি তালাকনামায় স্বাক্ষর নিয়েছে।’অচিন্তপুর ইউনিয়নের খালিজুড়ী গ্রামের রঞ্জু মিয়া বলেন, ‘আমার শ্যালক আব্দুল কাদির গিয়ে বলেছে রাগে যেহেতু তার স্ত্রীকে ৩বার তালাক বলেছে ফেলছে, সে জন্য তার বউকে বুঝাতে সে যেনো আমাকে (রঞ্জু) হিল্লা বিয়ে করে এবং একটি স্বাক্ষর (তালাকনামায়) দেয়। কাজি হুজাইফাও তখন বলেছে আপনি হিল্লা বিয়ে করে তাকে নষ্ট (শারীরিক সম্পর্ক) করলে সহি-শুদ্ধ হবে। তারপরে আমি আবার তাকে রেজিস্ট্রি করে কাদিরের নিকট বিয়ে পরিয়ে দিবো। তালাকের নামে ওর (বুক্তভোগী নারী) সঙ্গে প্রতারণা করেছে কাজি হুজাইফা ও শ্যালক আব্দুল কাদির।’ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন আব্দুল কাদিরের বড় ভাই মতিউর রহমান। তিনি জানান, তার ছোট ভাইকে কয়েকবার বুঝিয়েছেন। কিন্তু সে ওই মহিলাকে বিয়ে করতেই এই মেয়ের সঙ্গে ছলচাতুরী করেছে। তিনি বলেন, ‘কোলে দু’টি সন্তান রেখে তাকে যাতে বাড়ি থেকে বের করে দিতে না পারে, সে জন্য আমরা চেষ্টা করেছি। মিথ্যা কথা বলে স্বাক্ষর নেওয়া উচিত হয়নি।’ ‘স্বাক্ষর দিয়ে এসে সব পাওনা টাকা নিয়ে যাও’-ভুক্তভোগী নারীকে এ ফোন দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন গৌরীপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাজি মো. হুজাইফা। তিনি জানান, প্রথমবার যখন তালাকনামায় স্বাক্ষর নেয়া হয়েছিলো। তখন সেটা সঠিক হয়নি। এরপর কাদির বলছিলো, স্বাক্ষর দিয়ে ওর পাওনা টাকা নিয়ে যাক। ‘সে জন্য আমি তাকে কল দিয়েছিলাম’- বলে কাজি জানান।তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনাস্থল ও ছেলে-মেয়ের বাড়ি আমার নির্ধারিত এলাকায় নয়। তবে উভয়পক্ষ মিলে অফিসে আসলে তখন সেটা করা যায়। আমার উপরে মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে। তালাকনামা যখন হয়েছিলো তখন উভয়পক্ষের লোকজন ছিলো। শুধু তাকে ফোন করে আসতে বলাটা আমার ঠিক হয়নি।’এ বিষয়ে গৌরীপুর থানার সাব ইন্সপেক্টর মাসুদুর রহমান জানান, ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে গৌরীপুর থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ইখা
    ১৫ বছরে ২৮ লাখ কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে: মামুনুল হক
    বিগত ১৫ বছরে দুর্নীতিবাজ শেখ হাসিনার সরকার এবং তাদের ঘনিষ্ঠদের মাধ্যমে প্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক। তিনি বলেন, এই অর্থ দিয়ে কয়েক বছরের জাতীয় বাজেট দেওয়া সম্ভব।বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুরে ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ফুলবাড়ীয়া উপজেলা শাখা আয়োজিত গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।মামুনুল হক বলেন, লুটের অর্থ বিদেশে পাচার করে ‘বেগম পাড়া’সহ বিভিন্ন স্থানে বাড়ি তৈরি করা হয়েছে। অন্যদিকে দেশের সাধারণ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে দিনযাপন করছে। তিনি বলেন, মানুষের বেতন বাড়ে ১০ থেকে ১৫ টাকা, অথচ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ে ২০ থেকে ৩০ টাকা; ফলে আয় বাড়লেও মানুষের মুখে হাসি ফোটে না।তিনি আরও বলেন, ‘যে দেশে একজন মানুষ তার অসুস্থ স্ত্রীর চিকিৎসা করাতে পারে না, সন্তানকে দুধ খাওয়াতে পারে না, চোখের অশ্রুতে বুক ভাসে—আমরা সে রকম বাংলাদেশ চাই না।’ বৈষম্যহীন ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ার আহ্বান জানান তিনি।সমাবেশে তিনি অভিযোগ করেন, ফ্যাসিবাদ পতনের পর নতুন করে পুনরায় দমন–পীড়নের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলে আবার রাজপথে আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।তিনি বলেন, মাথাপিছু আয় ও গড় আয় বাড়লেও তার সুফল ভোগ করছে কোটিপতি ও বড় শিল্পপতিরা। কৃষক, শ্রমিক ও মেহনতি মানুষ প্রকৃত অর্থে এর সুফল পাচ্ছেন না। কৃষক–শ্রমিকবান্ধব সরকার গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—আপনাদের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, বৈষম্যহীন ইনসাফের সমাজ গড়তে আমাদের একবার সুযোগ দিয়ে দেখুন। আমরা প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করব।’সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন শায়েখ কুররা হাফেজ আব্দুল লতিফ। এতে আরও বক্তব্য দেন খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির সাইদ নুর পীর সাহেব, ফুলবাড়ীয়া আসনে দলটির সম্ভাব্য সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মুফতি আব্দুল কাদির, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, কেন্দ্রীয় বাইতুল মাল সম্পাদক মাওলানা ফজলুর রহমানসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।ইসলামী সমমনা দলের পক্ষে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামী ফুলবাড়ীয়ার প্রতিনিধি অধ্যক্ষ মু. কামরুল হাসান মিলন এবং ইসলামী আন্দোলনের মুফতি নুরে আলম সিদ্দীকি।এফএস
    টানা দুই দিন মৃদু শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে তেঁতুলিয়া
    উত্তরের সীমান্ত জেলা পঞ্চগড়ে দ্বিতীয় দিনের মতো মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বইছে। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিস। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার নেমেছিল ৮ দশমিক ৯ ডিগ্রিতে।আবহাওয়া অফিস জানায়, তেঁতুলিয়া ও আশপাশের এলাকায় টানা দু’দিন ধরে শৈত্যপ্রবাহ অনুভূত হচ্ছে। সপ্তাহজুড়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে থাকলেও দিনের তাপমাত্রা ছিল ২৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি। যা আগের দিন দুই ডিগ্রি বেশি ছিল।ভোরে সূর্যের দেখা মিললেও রাতে তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় শীতের তীব্রতা বেড়ে যায় বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা।বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশা না থাকলেও হালকা কুয়াশা আর উত্তরের হিমেল বাতাসে কনকনে শীত অনুভূত হচ্ছে। ভোরের রোদ উঠলে শীত কিছুটা কমলেও বিকেলের পর থেকেই আবার ঠান্ডা বাড়তে থাকে।তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় জানান, “তেঁতুলিয়া ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় দ্বিতীয় দিনের মতো মৃদু শৈত্যপ্রবাহ চলছে। শুক্রবার সকাল ৯টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৯ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃহস্পতিবার নেমেছিল ৮ থেকে ৯ ডিগ্রি পর্যন্ত।”এসএম
    দিনাজপুরে ইটভাটায় অভিযান, ১৭ লাখ টাকা জরিমানা
    দিনাজপুরে তিন দিনে ১১টি ইটভাটায় অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় ইটভাটার ছয়টি চিমনি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে পাটি ভাটা মালিককে ১৭ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন পরিবেশ অধিদপ্তর (সদর দপ্তর)–এর মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট শাখার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাজ্জাদ জাহিদ রাতুল।বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) দুপুরে ফুলবাড়ী উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের রাজারামপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মেসার্স নবী ব্রিকস ও একই এলাকার মেসার্স এনএইচ ব্রিকস নামের দুটি ইটভাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তিন লাখ টাকা করে জরিমানা আদায় করা হয়। সেই সঙ্গে উপজেলার রাঙ্গামাটি এলাকার অবৈধভাবে পরিচালিত মেসার্স ইব্রাহিম ব্রিকস ও একই এলাকার মেসার্স শিল্পী ব্রিকস নামের দুটি ইটভাটার চিমনি সম্পূর্ণভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।গত বুধবারের অভিযানে পার্বতীপুর উপজেলার মেলারডাঙ্গা এলাকায় অবৈধভাবে পরিচালিত মেসার্স শাফী ব্রিকস ও মরনাই এলাকার মেসার্স বারী ব্রিকস নামের দুটি ইটভাটায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে তিন লাখ করে মোট ছয় লাখ টাকা জরিমানা তাৎক্ষণিক আদায় করা হয়। সেই সঙ্গে কাঁচা ইট বিনষ্ট করা হয় এবং হয়রতপুরের মেসার্স যমুনা ব্রিকস ও সৈয়দপুরের মেসার্স আরটি ব্রিকস—এই দুটি ইটভাটার চিমনি সম্পূর্ণভাবে ভেঙে দেওয়া হয়।মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) পার্বতীপুর উপজেলার ঢেরেরহাট ও দক্ষিণ পলাশবাড়ীতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।অভিযানকালে মেসার্স ভাই ভাই ব্রিকসকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া মেসার্স এআরবি ব্রিকস ও মেসার্স সততা ব্রিকস—এই দুটি ইটভাটার চিমনি সম্পূর্ণভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। অভিযানগুলো ‘ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রণ আইন’ মোতাবেক পরিচালনা করা হয়।অভিযানগুলো পরিচালনা করেন দিনাজপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক বদরুন্নাহার সীমা এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের রিসার্চ অফিসার রুনায়েত আমিন রেজা। অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করেন সেনা সদস্য, থানা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসকর্মী ও আবাসিক বিদ্যুৎ সরবরাহ বিভাগের সদস্যরা।দিনাজপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক বদরুন্নাহার সীমা বলেন, “দিনাজপুরে ৩১টি ইটভাটার বিরুদ্ধে জাল রিট ও ভুয়া আদেশ দেখিয়ে ভাটা পরিচালনার অভিযোগে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। সেই ৩১টি ইটভাটাসহ অবৈধভাবে ভাটা পরিচালনাকারীদের কার্যক্রম বন্ধের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা ইটভাটাগুলো অবৈধভাবে চালিয়ে আসছে। এরই প্রেক্ষিতে অবৈধ ইটভাটায় অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পরিবেশ সুরক্ষায় দিনাজপুর জেলায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”এনআই
    রংপুর বিভাগীয় ইজতেমায় ২ মুসল্লির মৃত্যু
    রংপুর বিভাগীয় ইজতেমার প্রথম দিন বার্ধক্য ও ঠান্ডাজনিত কারণে এখন পর্যন্ত দুই মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া আরও অন্তত ৯ জন অসুস্থ হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইজতেমার মাঠের ৬ নম্বর হালকার জিম্মাদার আবুল হোসেন।মারা যাওয়া মুসল্লিরা হলেন— রংপুর জেলার পীরগঞ্জ থানার সাঈদুর রহমান এবং টাঙ্গাইল জেলার তারা মিয়া। তারা মিয়া ৪০ দিনের চিল্লায় রংপুর এসে ইজতেমায় অংশ নিয়েছিলেন। ইজতেমা ময়দানেই বাদ জোহর মরহুমদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।তারা মিয়া ৪০ দিনের চিল্লায় রংপুর এসে ইজতেমায় অংশ নিয়েছিলেন বলে জানান মাঠের ৬ নম্বর হালকার জিম্মাদার আবুল হোসেন।রংপুর মেট্রোপলিটন পশুরাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইদুল ইসলাম বলেন, ইজতেমার মাঠে শ্বাসকষ্টজনিত কারণে দুজন মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে। তাদের দুজনের মৃত্যুই স্বাভাবিক। এখন পর্যন্ত মাঠে আরও ৯ জন অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাদের বিভিন্নভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।এনআই
    ফুলবাড়ীতে মাদক সেবনের সময় দুইজন আটক
    দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মাদক সেবনের সময় হাতেনাতে আটক দুই ব্যক্তিকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) দুপুরে পৌর শহরের স্বজনপুকুর (বুন্দিপাড়া) এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। ফুলবাড়ী থানা পুলিশের সহযোগিতায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সামিউল ইসলাম।সাজাপ্রাপ্তরা হলেন—স্বজনপুকুর গ্রামের মশিউর রহমানের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান (২৩) এবং একই গ্রামের মৃত আফজাল আলীর ছেলে মোহন আলী (৩৫)।উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সামিউল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক সেবনের সময় তাদের হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে তাদের তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয় এবং ১০০ টাকা করে জরিমানা আদায় করা হয়।তিনি আরও বলেন, মাদকবিরোধী এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।এনআই
    তারাগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা দম্পতি হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন
    রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় সাবেক প্রধান শিক্ষক ও মুক্তিযোদ্ধা যোগেশ চন্দ্র রায় ও তার স্ত্রীকে হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন মুক্তিযোদ্ধারা।বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সকাল ১১ টায় তারাগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কমাণ্ড তারাগঞ্জ উপজেলা শাখা'র আয়োজনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।তারাগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমাণ্ডের আহ্বায়ক ডা. আলী হোসেন বলেন, ‘আমরা দেশের জন্য জীবন বাজি রেখেছি, দেশ স্বাধীন করেছি। মুক্তিযোদ্ধা যোগেশ চন্দ্র রায় ছিলেন একজন নিতান্তই ভালো মানুষ। কখনও তিনি কারও সঙ্গে উচ্চস্বরে কথা বলতেন না। মুক্তিযোদ্ধা যোগেশ ও তার স্ত্রীকে তার নিজ বাড়িতেই হত্যা করা হয়েছে।  খুবই দুঃখজনক বিষয় হলো আমরা দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি। আজ আমাদের নিজের জীবনের কোন নিরাপত্তা নেই। মুক্তিযোদ্ধারা নিরাপদে ঘুমাতে না পারলে তাহলে এ দেশ স্বাধীন করে আমাদের কি হলো? আমরা দেশ স্বাধীন করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাবো? মুক্তিযোদ্ধাদের নিরাপত্তা দিন। আমরা দেশ স্বাধীন করেছি আমরা স্বাধীন দেশে স্বাধীনভাবে বাঁচতে চাই।’রংপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে মুক্তিযোদ্ধারা এসে এ মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন। তারাও এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে যারা জড়িত তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, ‘দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা না হলে আমরা কঠোর আন্দোলন করবো।’ অপরাধীদের ফাঁসির দাবি জানান মুক্তিযোদ্ধারা।তারা পুলিশ প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা দম্পতির হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও আপনারা কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেননি। যা নিতান্তই দুঃখজনক বিষয়। আমরা চাই আপনারা (পুলিশ) আর সময় অতিবাহিত করবেননা। দ্রুত অপরাধীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করুন।’উল্লেখ্য, গত শনিবার (৬ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের রহিমাপুর খিয়ারপাড়া গ্রামে মুক্তিযোদ্ধা যোগেশ ও তার স্ত্রীকে নৃশংস হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। পরের দিন সকালে তাদের মরদেহ দেখতে পান দীপক নামের তাদের বাড়ির কাজের ছেলে। ময়নাতদন্তের পরে বীর মুক্তিযোদ্ধা যোগেশ চন্দ্র রায়কে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সৎকার করা হয়।ইখা
    স্বামীকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে হত্যার অভিযোগ, স্ত্রী ও প্রেমিক আটক
    পাবনার চাটমোহর উপজেলার কাটেঙ্গা গ্রামে ক্যান্সার আক্রান্ত স্বামীকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে।  ঘটনার ১০ দিন পর জানাজানি হলে  অভিযুক্ত স্ত্রী শারমিন খাতুন ও তার প্রেমিককে আটক করেছে পুলিশ।শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) বিকেলে জানতে পেরে পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে জানায়৷ পরে তাদের আটক করা হয়। এর আগে গত ৩০ নভেম্বর চাটমোহর উপজেলার ছাইকোলা ইউনিয়নের বরদানগর দক্ষিণপাড়া গ্রামে  স্বামী শের আলী (৩৫) মারা যান।মৃত স্বামী শের আলী (৩৫) বরদানগর দক্ষিণপাড়া গ্রামের ভোলা প্রামানিকের ছেলে। আর অভিযুক্ত শের আলীর স্ত্রী শারমিন খাতুন (২৬) কাটেঙ্গা গ্রামের শাহ আলমের মেয়ে এবং তার প্রেমিক অনিক (২২) একইগ্রামের মহাজন সরকারের ছেলে। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ নভেম্বর কাটেঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা শের আলীর মৃত্যু হয়। তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাধীন ছিলেন। স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে বিষয়টি শুরুতে মেনে নিলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তাঁর মৃত্যুকে ঘিরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়।জানা যায়, শের আলীর চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও ইউটিউবারদের মাধ্যমে চিকিৎসা সহায়তার অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, সেই অর্থের একটি বড় অংশ শারমিন মাঝেমধ্যেই তার প্রেমিক অনিক (২২) কে দিতেন।মৃত শের আলীর ফুপাতো ভাই এনামুল হোমেনের দাবি, শারমিন ও অনিকের মধ্যে ফেসবুক মেসেঞ্জারে হওয়া কথোপকথন ঘেঁটে টাকা লেনদেনের একাধিক তথ্য পাওয়া যায়। ওই চ্যাটিং থেকেই প্রথম নিশ্চিত হওয়া যায় যে, চিকিৎসার জন্য উত্তোলিত অর্থ নিয়মিতভাবে অন্যত্র চলে যাচ্ছিল।ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে পরিবারের সদস্যরা কৌশল অবলম্বন করেন। শারমিনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকেই অনিককে টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে আসতে বলে মেসেজ পাঠানো হয়। অনিক সেই মেসেজের জবাব দিয়ে টাকা নিতে যান।শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তিনি এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকেই সতর্ক থাকা স্থানীয়রা তাঁকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে অসংলগ্ন বক্তব্য ও পরস্পরবিরোধী তথ্য দিলে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়।পরে আটক অনিক ও শারমিন স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেন, প্রায় চার মাস ধরে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। অনিক দাবি করেন, তিনি প্রথমে শারমিনের ননদ নদীর সাথে সম্পর্কের সূত্রে ওই বাড়িতে যাতায়াত করেন। একপর্যায়ে অনিক ও শারমিন পরকিয়ায় জড়িয়ে পড়েন। তাঁদের মধ্যে একাধিকবার সাক্ষাৎ ও শারীরিক সম্পর্কের কথাও স্বীকার করেন তারা।আটক শারমিন এলাকাবাসীর সামনে স্বীকার করে জানান, গত ৩০ নভেম্বর একসঙ্গে দশটি ঘুমের ওষুধ তার স্বামী শের আলীকে খাইয়েছিলেন। পরে শের আলীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে এবং অস্বাভাবিক আচরণ শুরু হয়। কিছু সময়ের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়। সবাই তার মৃত্যু ক্যান্সারে হয়েছে মনে করে দাফন সম্পন্ন করেন।শের আলীর মা শিরীনা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার অসুস্থ ছেলেকে ওর বউ ঘুমের ওষুধ খাইয়েছে। সে সহ্য করতে না পেরে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে এসে দেখি আমার ছেলে আর বেঁচে নেই। আমি এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’খবর পেয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে আটক না করে অভিযোগ না থাকার কথা বলে স্থানীয়ভাবে সালিশের সুযোগ দিয়ে ফিরে যায় বলে অভিযোগ ওঠে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। পরে রাত সাড়ে আটটার দিকে গ্রাম্য নেতাদের উপস্থিতিতে সালিশ বসানোর প্রস্তুতির সময় সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে পুনরায় ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। এরপর শারমিন ও অনিককে আটক করে থানায় নেওয়া হয়।চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সরোয়ার হোসেন বলেন, ‘মৃত ব্যক্তির পরিবারে পক্ষ থেকে কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি বা মামলা করেনি। যেহেতু ঘটনাস্থল থেকে দুইজনকে আটক করা হয়েছে, সেই ঘটনার প্রেক্ষিতে পুলিশ আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদের পাবনা আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।’আরডি
    ওসমান হাদির উপর হামলার প্রতিবাদে পুঠিয়ায় বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল
    ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির উপর গুলিবর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে রাজশাহীর পুঠিয়ায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বিকেলে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডলের নেতৃত্বে তার নির্বাচনী দলীয় কার্যালয় থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর অংশগ্রহনে মিছিলটি উপজেলা সদরের ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ মিলিত হয়।সেখানে বক্তব্যে রাখেন, রাজশাহী- ৫ 'পুঠিয়া-দূর্গাপুর' আসনের বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডল।তিনি বলেন, ওসমান হাদীর ওপর নির্মমভাবে গুলি চালানো হয়েছে। আমাদের সকলের প্রিয় জুলাই যোদ্ধা ওসমান হাদী এখন জীবন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। ওসমান হাদীর ওপর যারা এই বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি। তিনি আরও বলেন, যারা দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাচ্ছে তাদেরকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।এ সময় অন্যান্য বক্তারা বলেন, ‘দেশে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হওয়ার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এই নির্বাচনের বিরুদ্ধে যারা চক্রান্ত করছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও প্রশাসন অবিলম্বে এই চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রকারীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসবে বলে আমরা মনে করি। সরকার ব্যর্থ হলে বিএনপির সকল স্তরের নেতাকর্মীরা সেই সন্ত্রাসীকে অবিলম্বে প্রতিহত করবে।এ সময় সকল নেতাকর্মীকে সজাগ ও সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে বক্তারা আরও বলেন, এই ফ্যাসিষ্ট ও গুপ্তবাহিনী যেকোনো সময় বাংলাদেশের যে কোন স্থানে যেকোনো ঘটনা ঘটাতে পারে। এজন্য আমাদের দলের সকল নেতাকর্মীকে সজাগ থাকতে হবে। সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে যাতে কেউ কোনো রকম অপকর্ম করে পালিয়ে যেতে না পারে। এতে উপজেলা ও পৌর বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, সেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল, মহিলা দল, শ্রমিক দলসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।এনআই
    বড়াইগ্রামে সুদ ও চেক প্রতারণার অভিযোগে আইনজীবীর বিরুদ্ধে মানববন্ধন
    নাটোরের বড়াইগ্রামে সুদ ও চেক প্রতারণার অভিযোগে আইনজীবীর বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে ভুক্তভোগী ও সর্বস্তরের জনগণ।শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলার বনপাড়া পৌরসভার সামনে সুদের ফাঁদ ও চেক প্রতারণার মাধ্যমে সহজ-সরল মানুষকে ফাঁসিয়ে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দেওয়ার অভিযোগে আ: রশিদ নামের এক আইনজীবীর শাস্তির দাবিতে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।মানববন্ধনে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, নাটোর উকিলবারের সদস্য ও উপজেলার হারোয়া গ্রামের অ্যাডভোকেট আব্দুর রশিদ দীর্ঘদিন ধরে চড়া সুদের ফাঁদ ও চেক সংক্রান্ত প্রতারণার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে আসছেন। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, বিভিন্ন এলাকার ভুক্তভোগী তাইজুল, আব্দুল মোতালেব, অপু, মোঃ সেলিম এবং মোঃ মফিজ উদ্দিন। বক্তারা আরো বলেন, অভিযুক্ত আইনজীবীর কর্মকাণ্ডের কারণে বহু নিরীহ মানুষ আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। দ্রুত এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির চাই।এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত আইনজীবী আব্দুর রশিদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।নাটোর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট টগর মুঠোফোনে জানান, আ: রশিদের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। অভিযুক্ত আইনজীবীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ইতোমধ্যেই তাকে শোকজ করা হয়েছে।এনআই
    বাঘায় নিজ বাড়ির আঙিনায় গাঁজার চাষ, মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার
    রাজশাহীর বাঘা থানায় নবনিযুক্ত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সেরাজুল হক নিজ বাড়ির আঙিনায় গোপনে গাঁজার চাষের অভিযোগে এক মাদক সেবনকারী ও ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে বাঘা থানা পুলিশ।শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) রাত ৯টার দিকে উপজেলার ছাতারী এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিশাল আকৃতির গাঁজার গাছসহ হাফিজুর রহমান (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ওই গ্রামের মৃত রহিম উদ্দিনের ছেলে।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, ছাতারী গ্রামের হাফিজুর রহমান নিজ বাড়ির আঙিনায় দীর্ঘদিন ধরে গাঁজার চাষ করে আসছিলেন। তিনি নিজে মাদক সেবনের পাশাপাশি গোপনে বিক্রিও করতেন। তথ্যের সত্যতা যাচাই শেষে অভিযান পরিচালনা করে গাঁজার গাছটি উপড়ে ফেলে জব্দ করা হয়।উল্লেখ্য, গত ৭ ডিসেম্বর বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ হিসেবে যোগদান করেন সেরাজুল হক। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এলাকার সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে তথ্য প্রদান ও সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন। তার এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বাঘার সুশীল সমাজ। নতুন ওসির কঠোর অবস্থানের কারণে এলাকায় চোরাকারবারীরা গা ঢাকা দিতে শুরু করেছে বলে স্থানীয়দের মন্তব্য।বিশ্বস্ত গুপ্তচরের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে অভিযুক্ত হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী গাঁজার গাছটি তার হেফাজত থেকে জব্দ করা হয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে গাছটি পরিচর্যা করে মাদক সেবন ও বিক্রয়ের কাজে ব্যবহার করছিলেন।তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং শনিবার দুপুরে অভিযুক্তকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।এনআই
    রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বড় অগ্রগতি: সফল বিদ্যুৎ সংযোগ
    নির্মানাধীন প্রকল্প রুপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার সফল অপারেশন। এতে আন্তর্জাতিক নীতিমালা ও আন্তর্জাতিক আনবিক শক্তি সংস্থা আইএইএ এর নিবিড় তত্ত্বাবধানে নিরপত্তার শর্ত পূরণ করে  নির্মাণাধীন এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছেছে। শুধু তাই নয় পারমানবিক জ্বালানি লোডিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ ধাপেও অগ্রসর করেছে প্রকল্পটি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। প্রথম ইউনিটের জ্বালানি লোডিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ ধাপে  চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে। এর ধারাবাহিকতায় প্রকল্পের পূর্ণ বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা সফলভাবে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল) অপারেশন টিমের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান। প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা জাতীয় গ্রিড থেকে রূপপুর সাইটে বিদ্যুৎ নেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। যা কমিশনিংয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। প্রতিদিন জাতীয় গ্রিড থেকে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ এনে সাইটের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সিস্টেমের স্থিতিশীল অপারেশন প্রমাণ করছে যে ভবিষ্যতে রূপপুর কেন্দ্র নিজস্ব উৎপাদিত বিদ্যুৎ ও একই নেটওয়ার্ক ব্যবস্থার মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করবে। অর্থাৎ যে নেটওয়ার্ক আজ গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ নিচ্ছে, ভবিষ্যতে সেই নেটওয়ার্ক দিয়েই দেশকে পারমাণবিক বিদ্যুৎ দেবে কেন্দ্রটি। এই দ্বৈত সক্ষমতা পুরো প্রকল্পকে আরও শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য করে তুলেছে।রূপপুর প্রকল্পের উপ-পরিচালক ড. মোঃ খালেকুজ্জামান জানিয়েছেন, রূপপুর নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্টের কমিশনিং কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পাওয়ার ইভেকশান (বিদ্যুৎ সরবরাহ বা নিষ্কাশন ব্যবস্থা) সংশ্লিষ্ট তিনটি ফ্যাসিলিটি -00UAB: ৪০০ কেভি জিআইএস বিল্ডিং, 00UAB: ২৩০ কেভি জিআইএস বিল্ডিং এবং 00UAG: অটোট্রান্সফরমার স্ট্রাকচার টেম্পোরারি অপারেশনের জন্য নেওয়া হয়েছে। টেম্পোরারি অপারেশনে অন্তর্ভুক্ত করার পূর্বে ফ্যাসিলিটিগুলোর সকল সিস্টেমের ইনডিভিজুয়াল টেস্টিং আই পরিদর্শন যথাযথ কমিশনিং প্রক্রিয়া অনুযায়ী সম্পন্ন করা হয়।তিনি আরো জানান, টেম্পোরারি অপারেশন চালানোর আগে টেস্ট প্রোগ্রাম অনুযায়ী যেসব কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে তাহলে- ৪০০ কেভি ও ২৩০ কেভি জিআইএস-এর সকল ইন্ডিভিজুয়াল টেস্টিং, ইন্টারলক, প্রোটেকশন ও কন্ট্রোল সিস্টেম টেস্টিং, দুটি অটোট্রান্সফরমারের ইন্সটলেশন রেজিটেন্স, রেশিও টেস্ট, উইন্ডিং রেজিটেন্স,  ওএলটিসি ফাংশোনালিটি, রিলে প্রটেকশন, ইন্টারলক জিইএস কন্ট্রোল সিস্টেম পরীক্ষা, পাওয়ার সাপ্লাই, ভেন্টিলেশন, ইন্টারমেন্টসান অ্যান্ড কন্ট্রোল, ফায়ার ডিটেনশন জিইএস, ওয়াটার-ফায়ার এক্সিগিউসিং সিস্টেম-এর কার্যকারিতা পরীক্ষাসহ অবশিষ্ট কাজ শনাক্তকরণ করে পাঞ্চ লিস্ট  প্রস্তুতকরণ এবং এলিমিনেশন ডেডলাইন নির্ধারণ হবে। সমস্ত পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক হওয়ায় ফ্যাসিলিটিগুলো টেম্পোরারি অপারেশনের জন্য গ্রহণযোগ্য ঘোষণা করা হয় বলে জানান তিনি।অপারেশনাল ব্যবস্থাপনায় ৫টি শিফটে ২০ জন জনবল নিয়োজিত রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি শিফটে রিয়েল-টাইম সিস্টেম মনিটরিং, ওয়ার্কডাউন, সুইচিং অপারেশন, গ্যাস প্রেসার ও ট্রান্সফরমার প্যারামিটার যাচাই, অ্যালার্ম স্ট্যাটাস পর্যবেক্ষণ এবং জাতীয় গ্রিডের এনএলডিসি-এর নির্দেশনা অনুযায়ী পাওয়ার সরবরাহ ও অনুমোদন নিশ্চিত করা হচ্ছে।ড. খালেকুজ্জামান আরো জানান, টেম্পোরারি অপারেশন চলাকালে সব সিস্টেম ও সরঞ্জাম স্থিতিশীলভাবে চলছে এবং কোনো উল্লেখযোগ্য অপারেশনাল সমস্যা দেখা যায়নি। সকল প্রোটেকশন, কন্ট্রোল ও সুইচিং সিস্টেম প্রত্যাশিত মান বজায় রেখেছে। শিফট লগ, ইভেন্ট রেকর্ড ও দৈনিক রিপোর্ট যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে।এনপিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান জানান, এ বছর রূপপুর প্রকল্পে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ)  প্রি-ওসার্ট মিশন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিদর্শন সম্পন্ন হয়েছে। এসব মূল্যায়নে কেন্দ্রের নিরাপত্তা, প্রস্তুতি ও অপারেশনাল সক্ষমতা আন্তর্জাতিক মানে উত্তীর্ণ হয়েছে।সব মূল্যায়নে ইতিবাচক সাফল্যের ফলে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র জ্বালানি লোডিংয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ধাপে অগ্রসর হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন হওয়ার পর কেন্দ্রটি এনপিসিবিএল অপারেশন টিমের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে রাশিয়ার পারমাণবিক অপারেটিং সংস্থা কনসার্ন রোজেনার্গোঅ্যাটম প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে।ড. জায়েদুল হাসান বলেন, রূপপুর প্রকল্পের বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার সফল অপারেশন, একের পর এক ইতিবাচক আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পরিদর্শন এবং জ্বালানি লোডিংয়ের প্রস্তুতি সব মিলিয়ে কেন্দ্রটি এখন বাংলাদেশের শক্তি নিরাপত্তার এক নতুন আশার প্রতীক। অপারেটরদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে জাতীয় গ্রিডে রূপপুরের বিদ্যুৎ সরবরাহকে আরও নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও স্থিতিশীল করে তুলবে বলে বলতে পারি।এসআর
    সিলেটে মধ্যরাতে ৫ মিনিটের ব্যবধানে দুইবার ভূমিকম্প
    সিলেটে মধ্যরাতে মাত্র পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে দুইবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ২টা ২০ মিনিট ৩১ সেকেন্ডে প্রথমবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এরপর ২টা ২৫ মিনিট ১৪ সেকেন্ডে দ্বিতীয়বার ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে সিলেট।ভারতের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজির তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ভূকম্পনটির মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৫ এবং গভীরতা ছিল ২০ কিলোমিটার। পরেরটির মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৩। এর গভীরতা ছিল ৩০ কিলোমিটার।এদিকে রাত ৩টা ৩৮ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডে বঙ্গোপসাগরে ভূমিকম্প আঘাত হানে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৩। এর গভীরতা ছিল ১৫ কিলোমিটার।এছাড়া রাত ২টা ৫৪ মিনিট ৩ সেকেন্ডে মিয়ানমারে ৩ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানার খবর জানায় ভারতের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমারের উত্তর মান্দালয় থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে।এরআগে, রাজধানীতে গত ৪ ডিসেম্বর ভোর ৬টা ১৫ মিনিটে এ ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ভূমিকম্পের মাত্র ছিল ৪ দশমিক ১। এই ভূমিকম্পের গভীরতা ভূপৃষ্ঠ থেকে ৩০ কিলোমিটার এবং এর উৎপত্তি টঙ্গী থেকে ৩৩ কিলোমিটার উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে এবং নরসিংদীর ৩ কিলোমিটার উত্তরে।এরআগে, সোমবার (১ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ১২টা ৫৭ মিনিটে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে ভূমিকম্প অনুভূত হয়। কক্সবাজার শহর, উখিয়া, চকরিয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা ভূমিকম্প অনুভব করেন। ওই দিনের ভূমিকম্পের আঘাতে কোনো ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, কম্পনের স্থায়িত্ব ছিল কয়েক সেকেন্ড। ভূমিকম্পের মাত্র ছিল ৪ দশমিক ৯ মাত্রার এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমার।এরআগে, শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়। নরসিংদীর মাধবদীতে উৎপত্তি হওয়া এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৭। এতে উৎপত্তিস্থল নরসিংদীতে বাবা-ছেলেসহ পাঁচজন, ঢাকায় চার ও নারায়ণগঞ্জে এক শিশুসহ তিন জেলায় মোট ১০ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত হন কয়েক শত মানুষ।এবি 
    রাস্তা নিয়ে গ্রামবাসীর দুপক্ষের সংঘর্ষে আহত ৩০
    সিলেটের বিশ্বনাথে রাস্তা নিয়ে গ্রামবাসীর দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের প্রায় ৩০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় ককটেল বিস্ফোরণ, বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগও পাওয়া গেছে।খবর পেয়ে থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।সোমবার সকালে দশঘর ইউনিয়নের বল্লব গ্রামের রাস্তা নিয়ে লন্ডন প্রবাসী সাইদ আলী (৭০) ও গ্রামবাসীর মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে গ্রামবাসীর পক্ষে আহত হয়েছেন অন্তত ২৩ জন।আহতরা হলেন- ছনফর আলী (৩৫), আলালা (৩০), কামাল (২৭), নজির (৪৫), আব্দুল হান্নান (৬৫), ফারুক (৪০), হুসিয়ার (৫৫), হুমায়ুন (২২), মাজহারুল (২০), জুবেক (২০), শরিফ (১৮), দিলাল (৩৭), রাহি (২০), রবিউল (৩০), সাহেব আলী (২৫), জুনুর (২৫), মুহিনুর (২৭), ফারুক (১৮), কবির (৩৫), সোয়া আলম (৩৫), মাজহারুল (১৮), নোমান (১৮) ও আছকর (৩৫)।তবে লন্ডন প্রবাসী সাইদ আলী তার পক্ষের আহতদের নাম প্রকাশে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন।গ্রামবাসীর পক্ষে আহত দিলাল মিয়াসহ কয়েকজন জানান, প্রায় ৩০-৩৫ বছরের পুরাতন জনবহুল একটি রাস্তার কিছু অংশ সম্প্রতি প্রবাসীদের উদ্যোগে আরসিসি ঢালাই করা হয়। আর এই ঢালাই করা রাস্তা ভাড়াটিয়া লোক নিয়ে ভাঙার কাজ শুরু করেন লন্ডন প্রবাসী সাইদ আলী। এ সময় গ্রামবাসী বাধা দিলে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষের সময় প্রতিপক্ষের লোকজন কয়েকটি ককটেলও বিস্ফোরণ ঘটান।এদিকে স্থানীয় নুর আলী মেম্বার জানান, সকালে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে লন্ডন প্রবাসী সাইদ আলী ভাড়াটিয়া লোকজন দিয়ে রাস্তা ভাঙার কাজ শুরু করলে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।জানতে চাইলে লন্ডন প্রবাসী সাইদ আলী বলেন, তার ভূমির উপর দিয়ে রাস্তা নেওয়া হয়েছে; কিন্তু তাকে না জানিয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন রাস্তা পাকা করেছেন। তাই তিনি ওই পাকা অংশ ভাঙতে গেলে গ্রামের লোকজন হামলা চালিয়ে তার কয়েকজন লোককে আহত করেছে। এছাড়াও তার বাড়িতে হামলা করে ঘর ভাঙচুর, একটি হালচাষের ট্রাকটর ও একটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। লুটপাট করে নেওয়া হয়েছে গরু-ছাগলও।ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বিশ্বনাথ থানার ওসি এনামুল হক চৌধুরী বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।এনআই
    হবিগঞ্জে ট্রাক চাপায় স্কুলশিক্ষক নিহত
    হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলায় ট্রাক চাপায় রূপজিত কর রাজু (৩৬) নামে স্কুল শিক্ষক মারা গেছেন। রবিবার (৭ ডিসেম্বর) সকালে ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের নতুনবাজার এলাকার বেন্দারপুল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত রাজু উপজেলার মিরপুর সানশাইন মডেল হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক এবং বানিয়াগাঁও গ্রামের নিপেশ করের ছেলে। এ ঘটনায় সানশাইন মডেল হাই স্কুলের সকল পরীক্ষা স্থগিত করে শোক পালনে একদিনের বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।স্থানীয় সূত্র জানায়, রবিবার সকালে চাকরিজীবী স্ত্রীকে কুলাউড়ার উদ্দেশ্যে মিরপুর বাজার থেকে বাসে তুলে দেওয়ার পর রাজু কর বাড়ি ফিরে আসেন। এরপর এলাকার আরও দুইজনকে সঙ্গে নিয়ে মিরপুর–শ্রীমঙ্গল আঞ্চলিক মহাসড়ক ধরে নতুনবাজার এলাকায় হাঁটতে যান। সকাল ৭টার দিকে বেন্দারপুল এলাকায় পৌঁছালে শ্রীমঙ্গলগামী একটি সবজি বোঝাই ট্রাক তাদের চাপা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।দুর্ঘটনায় রূপজিত কর রাজু ও ফুরঞ্জন দেব গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠালে চিকিৎসক রূপজিতকে মৃত ঘোষণা করেন। ফুরঞ্জন দেবকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।ইখা
    যারা এতদিন নির্বাচনের জন্য পাগল ছিলেন, তাদের এখন ভিন্ন সুর: জামায়াত আমির
    যারা এতদিন নির্বাচন নির্বাচন করে পাগল হয়ে গিয়েছিলেন, তারা এখন ভিন্ন সুরে কথা বলছেন। কারণ তারা বুঝতে পারছেন, জনগণ তাদের লালকার্ড দেখাবে। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) সিলেটে সমমনা ইসলামি ৮ দলের বিভাগীয় সমাবেশে যোগ দিয়ে এসব কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোটসহ পাঁচ দফা দাবিতে সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে অনুষ্ঠিত হয় সমাবেশটি। জামায়াত আমির বলেন, দেশবাসী আশা করেছিল- অতীত অপকর্মের পরিণতি থেকে শিক্ষা নিয়ে রাজনীতিবিদরা নতুন করে রাজনীতি শুরু করবেন। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি, একদল সেই পুরাতন ধারায় পড়ে আছে। তারা কোনো সংস্কারে রাজি না, সনদ বাস্তবায়নেও রাজি না। এখন আবার কোথাও কোথাও আমরা ভিন্ন সুর শুনতে পাচ্ছি। যারা এতদিন নির্বাচন নির্বাচন করে জনগণকে বেহুঁশ করে তুলেছিল, এখন তারা ভিন্ন সুরে কথা বলতে শুরু করেছে। এ লক্ষণ ভালো নয়। তারা বুঝতে পেরেছে বাংলাদেশের জনগণ তাদেরকে আগামী নির্বাচনে লাল কার্ড দেখানোর জন্য প্রস্তুত হয়ে গিয়েছে। এ সময়, কেউ নির্বাচনকে ভন্ডুল করার চেষ্টা করলে, তাদের সব ষড়যন্ত্র দেশের সংগ্রামী জনগণ ভন্ডুল করে দেবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। তিনি আরও বলেন, আমাদের যুবসমাজ যেই আকাঙ্ক্ষা নিয়ে রক্ত দিয়েছে, তার সাথে ৮ দল সম্পূর্ণ একমত। এই আকাঙ্ক্ষার বিপক্ষে যারা দাঁড়াবেন, জনগণ আগামী নির্বাচনে তাদেরকে আর ক্ষমা করবে না। কেউ কেউ আমাদেরকে অন্যদের রক্তচক্ষুর ভয় দেখান— অমুক শক্তি, তমুক শক্তি, অমুক দেশ, তমুক দেশ। তাদের উদ্দেশে বলেন, ইসলামি এবং দেশপ্রেমিক নেতাকর্মী হাসিমুখে যেখানে ফাঁসি বরণ করতে পারে, তাদেরকে কোনো কিছুর ভয় দেখাবেন না। আমরা ভয় করি শুধু আল্লাহ তায়ালাকে। বাকি যাদের কথা বলেন, তাদেরকে আমরা কোনো পাত্তাই দেই না। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিশ্বের সব শান্তিকামী সভ্য দেশকে আমরা সম্মান জানাই। কিন্তু কেউ যেন আমাদের ওপরে কোনো দাদাগিরি করতে না আসে। আমরা আর কারো দাদাগিরি দেখতেও চাই না, বরদাস্ত করতেও রাজি নই। বাংলাদেশ চলবে আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ মোতাবেক, এই দেশের জনগণের পছন্দে। এ সময়, যারা প্রশাসনিক ক্যু'র মাধ্যমে ক্ষমতায় যেতে চান তাদের উদ্দেশে বলেন, সেই সূর্য দেশে উঠবে না। সমাবেশে ইসলামী আন্দোলনের আমির সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, যারা নির্বাচন পেছানোর ষড়যন্ত্র করছে, তাদের বয়কট করবে জনগণ। অপরদিকে, খেলাফত মজলিশের মহাসচিব মামুনুল হক বলেন, গণভোটে যারা 'না'-এর পক্ষে ক্যাম্পেইন করবে, তাদের জনতা প্রত্যাখ্যান করবে। আরডি 
    হবিগঞ্জে বেপরোয়া ট্রাক চাপায় নারী নিহত
    হবিগঞ্জ জেলার শহরের পোদ্দারবাড়ি বাইপাস এলাকায় রাস্তা পারাপার হওয়ার সময় ট্রাক চাপায় সুজিনা আক্তার (২০) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। তিনি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার পইল নাজিরপুর গ্রামের মো. মানিক মিয়ার মেয়ে।শুক্রবার (০৫ ডিসেম্বর) রাতে শহরের পোদ্দারবাড়ি বাইপাস এলাকায় রাস্তা পার হওয়ার সময় ঢাকা মেট্রো-ট-২০১৭২৮নংট্রাক তাকে চাপা দেয়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ট্রাকটি হবিগঞ্জ শহরের দিকে আসার সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।স্থানীয়রা জানান, পোদ্দারবাড়ি বাইপাস এলাকা জনবহুল। সড়কের পাশে বাজার ও একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকায় প্রতিদিন মানুষের চলাচল বেশি। তবুও দীর্ঘদিন ধরে এখানে স্পিড ব্রেকার না থাকায় যানবাহনগুলো বেপরোয়া গতিতে চলাচল করে। এ কারণে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে স্থানীয়রা বিভিন্ন সময় দাবি জানিয়ে আসছেন।দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে। ট্রাকটি আটক করা হলেও চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পুলিশ ঘাতক চালককে শনাক্তে চেষ্টা চালাচ্ছে। হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দেলোয়ার হোসেন দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।এসআর

    অনলাইন ভোট

    প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনের দিন গণভোট আয়োজন করা হবে। আপনি কি এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?

    আন্তর্জাতিক

    সব দেখুন
    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্দে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা চান এরদোয়ান
    রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের পর তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান বলেছেন, ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করতে চান তিনি। একই সঙ্গে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা খুব বেশি দূরে নয় বলেও আশাবাদ প্রকাশ করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট।ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স শনিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার তুর্কমেনিস্তানে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন এরদোয়ান।তুরস্কের প্রেসিডেন্টের দপ্তরের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে চলমান ‘ব্যাপক শান্তি উদ্যোগ’ পর্যালোচনা করেছেন দুই নেতা। এ সময় ইউক্রেন শান্তি প্রচেষ্টায় তুরস্কের সমর্থন অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এরদোয়ান।তুর্কমেনিস্তান সফর শেষে ফেরার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এরদোয়ান বলেন, ‘পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের পর আমরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গেও ইউক্রেন-রাশিয়া শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করতে চাই। শান্তি খুব দূরে নয়—আমরা তা দেখতে পাচ্ছি।’বৈঠকে এরদোয়ান রাশিয়ার প্রেসিডেন্টকে প্রস্তাব দেন, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি স্থাপনা ও বন্দরকে কেন্দ্র করে সীমিত আকারের যুদ্ধবিরতি সব পক্ষের জন্যই উপকারী হতে পারে।শনিবার প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের আরেক বিবৃতিতে এরদোয়ান বলেন, কৃষ্ণসাগরকে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করা উচিত নয়। তাঁর মতে, এতে রাশিয়া ও ইউক্রেন—উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি কৃষ্ণসাগরে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।এর মধ্যেই ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা ও একটি জাহাজ মালিক জানিয়েছেন, শুক্রবার ইউক্রেনের দুটি বন্দরে রাশিয়ার হামলায় খাদ্যপণ্য বহনকারী একটি জাহাজসহ তুরস্কের মালিকানাধীন তিনটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েক দিন আগে মস্কো ইউক্রেনকে সমুদ্রপথে বিচ্ছিন্ন করার হুমকিও দিয়েছিল।আরডি
    রাশিয়ার বিরুদ্ধে জার্মানির বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় সাইবার হামলার অভিযোগ
    জার্মানির বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় সাইবার হামলার পেছনে রাশিয়ার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলেছে দেশটির সরকার। বার্লিনের দাবি, শুধু অবকাঠামোয় হামলাই নয়—নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টাও করেছে মস্কো। এ অভিযোগে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে জার্মানি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের জন্য ‘পরিণতি ভোগ করতে হবে’ বলে কঠোর বার্তা দিয়েছে দেশটি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানান, ২০২৪ সালের আগস্টে সংঘটিত আলোচিত সাইবার হামলায় রাশিয়ার সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছে তারা। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জার্মানির সাংবিধানিক নির্বাচনকে প্রভাবিত করা এবং দেশটির ভেতরে অস্থিরতা তৈরি করাও ছিল ওই তৎপরতার অংশ।তবে জার্মান সরকারের এসব অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছে রাশিয়া। মস্কোর পক্ষ থেকে এসব অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ বলা হয়েছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রাশিয়ার সম্ভাব্য সাইবার তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, ‘স্টর্ম ১৫১৬’ নামে একটি অপতথ্য ছড়ানোর নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে জার্মানির সর্বশেষ ফেডারেল নির্বাচন ও দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালানো হয়। এই প্রচারণার লক্ষ্য ছিলেন গ্রিন পার্টির শীর্ষ নেতা রবার্ট হাবেক এবং বর্তমান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্ৎস।সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ব্যালট জালিয়াতির অভিযোগ তুলে তৈরি করা কিছু ভুয়া ভিডিও শনাক্ত করে। এসব ভিডিওকে রাশিয়ার পরিকল্পিত বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
    ভারতে বাস খাদে পড়ে ৯ জনের প্রাণহানি
    ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের অলুরি জেলায় একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে কমপক্ষে ৯ জন নিহত হয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও অনেকে। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে তুলাসিপাকালু গ্রামের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি তাদের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।প্রতিবেদনে বলা হয়, জেলা কালেক্টর জানান, বাসটিতে মোট ৩৫ জন যাত্রী, দুইজন চালক এবং একজন সহকারী ছিলেন।তিনি বলেন, ‘নয়জন মারা গেছেন। সাতজনকে ঘটনাস্থল থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে সিএইচসি চিন্তুরে নেওয়া হয়েছে। উদ্ধার অভিযান চলছে। আহতদের অবস্থা স্থিতিশীল হলে ভদ্রাচলমে স্থানান্তর করা হবে।’জানা যায়, পাহাড়ি অরণ্যঘেরা গিরিপথে একটি তীক্ষ্ণ বাঁক নিতে গিয়ে বাসটি সড়ক থেকে ছিটকে পড়ে খাড়া ঢাল বেয়ে নিচে গড়িয়ে যায়। খবর পেয়ে স্থানীয় পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যাত্রীদের উদ্ধার কাজে সহায়তা শুরু করে।ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এ দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। সেইসঙ্গে তিনি নিহতদের পরিবারকে ২ লাখ রুপি এবং আহতদের ৫০ হাজার রুপি করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু এ দুর্ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করে আহতদের চিকিৎসা–সুবিধা নিশ্চিত করতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন।তিনি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ তদারকির নির্দেশ দেন এবং সংশ্লিষ্ট সব বিভাগকে সমন্বয়ের মাধ্যমে আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করতে বলেছেন।  সূত্র: এনডিটিভিএমআর-২
    স্কুলে হিজাব পরা নিষিদ্ধ করল অস্ট্রিয়া
    ১৪ বছরের কম বয়সী মেয়েদের জন্য স্কুলে হিজাবসহ মাথা ঢাকার ধর্মীয় পোশাক নিষিদ্ধ করে নতুন আইন পাস করেছে অস্ট্রিয়া।বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) দেশটির সংসদ মুসলিম মেয়েদের হিজাব নিষিদ্ধ করার ওই আইন অনুমোদন দিয়েছে।এক প্রতিবেদনে এএফপি জানায়, স্কুলে মেয়ে শিক্ষার্থীদের হিজাব নিষিদ্ধ করার একটি আইন অস্ট্রিয়ার সংসদে পাস হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই নিষেধাজ্ঞা বৈষম্যমূলক এবং সমাজে বিভাজন আরও গভীর করতে পারে।দেশটিতে কঠোর অভিবাসনবিরোধী মনোভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় চাপের মুখে রয়েছে ক্ষমতাসীন রক্ষণশীল সরকার। চলতি বছরে স্কুলে মেয়ে শিক্ষার্থীদের হিজাবের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব করেছিল দেশটির সরকার।হিজাব নিষিদ্ধের পেছনে যুক্তি হিসেবে ‌‘মেয়েদের নিপীড়ন থেকে রক্ষা করতেই’ এই পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি করেছে অস্ট্রিয়ার সরকার। যদিও দেশটির বিরোধী রাজনৈতিক দল গ্রিন পার্টি ওই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে ভোট দিয়ে বলেছে, এটি সংবিধানবিরোধী।এর আগে, ২০১৯ সালে দেশটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হিজাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। সেই সময় দেশটির সাংবিধানিক আদালত সরকারের এই পদক্ষেপকে ‘অসাংবিধানিক ও বৈষম্যমূলক’ অভিহিত করে তা বাতিল করে দেয়। তবে এবার অস্ট্রিয়ার সরকার জোর দিয়ে বলছে, হিজাব নিষিদ্ধের নতুন আইনটি সাংবিধানিক।নতুন আইনটি পাস হওয়ায় দেশটির সব স্কুলে ১৪ বছরের কম বয়সি মেয়ে শিক্ষার্থীরা ‘ইসলামী ঐতিহ্য অনুযায়ী মাথা ঢেকে রাখার’ হিজাব পরতে পারবে না। দেশটির সরকার বলেছে, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে প্রাথমিকভাবে শিক্ষক, অভিভাবক এবং শিশুদের কাছে হিজাবের বিষয়ে নতুন নিয়ম ব্যাখ্যা করা হবে। ওই সময় আইন লঙ্ঘনের জন্য কাউকে জরিমানা করা হবে না।তবে বার বার অমান্য করা হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর অভিভাবককে ১৫০ থেকে ৮০০ ইউরো (১৭৫-৯৩০ ডলার) পর্যন্ত জরিমানা করা হবে। দেশটির সরকার বলেছে, নতুন আইন দেশের বিভিন্ন স্কুলের প্রায় ১২ হাজার মেয়ে শিক্ষার্থীকে মেনে চলতে হবে। দেশটির ২০১৯ সালের এক গবেষণায় বলা হয়েছিল, ছয় বছর আগে ১৪ বছরের কম বয়সী প্রায় ৩ হাজার মেয়ে শিক্ষার্থী হিজাব পরত।সূত্র: বিবিসিএমআর-২
    কম্বোডিয়ার সঙ্গে যুদ্ধের মধ্যেই পার্লামেন্ট ভেঙে দিল থাইল্যান্ড
    প্রতিবেশী দেশ কম্বোডিয়ার সঙ্গে সীমান্ত নিয়ে যুদ্ধের মধ্যেই নির্বাচনের প্রস্তুতির জন্য পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়েছে থাই্যান্ডে। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) এক রাজকীয় ডিক্রি জারির মাধ্যমে পার্লামেন্ট বিলোপের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।থাইল্যান্ডের সংবিধানে পার্লামেন্ট বিলোপের ৪৫ থেকৈ ৬০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা আছে।প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুলের পরামর্শেই এ পদক্ষেপ নিয়েছেন রাজা মাহা ভাজিরালঙকর্ন। ডিক্রিতে থাই প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিন মাস আগে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে কম্বোডিয়ার সঙ্গে সীমান্ত সংঘাতসহ এমন সব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখী তাকে এবং তার নেতৃত্বাধীন সরকারকে হতে হচ্ছে, যেগুলো আসলে নির্বাচিত সরকারের মোকাবিলা করা উচিত। এ কারণেই রাজাকে পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।প্রসঙ্গত, গত মাসে থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যায় অন্তত ১৭৬ জন নিহত হয়েছেন। এই নিয়ে দেশে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন আনুতনি চার্নভিরাকুল। এমনকি পার্লামেন্ট তার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপনের ব্যাপারেও আলাপ-আলোচনা চলছিল।রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, অনাস্থা ভোটের আলোচনা ধামাচাপা দিতেই রাজাকে পার্লামেন্ট বিলোপের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।তবে এমন এক সময়ে এই ডিক্রি জারি করা হয়েছে, যখন সীমান্তে কম্বোডিয়ার সেনাবাহিনীর সঙ্গে ব্যাপক সংঘাত চলছে থাই সেনাবাহিনীর। গত প্রায় চার দিন ধরে চলমান এ সংঘাতে ইতোমধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন উভয় দেশের অন্তত ২০ জন এবং নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে বাড়িঘর ছেড়ে ছুটতে বাধ্য হয়েছেন লাখ লাখ মানুষ।রাজকীয় ডিক্রিতে এ ব্যাপারেও বলেছেন আনুতিন। তিনি বলেছেন, “অতি সম্প্রতি দেশে জরুরি অবস্থা দেখা দিয়েছে এবং এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি প্রশাসন দ্রুত এবং তাৎক্ষণিকভাবে সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ নিয়েছে…কিন্তু আপনি যখন একটি অনির্বাচিত অন্তর্বর্তী সরকার সরকার পরিচালনা করবেন, তখন সবার আগে প্রয়োজন জাতীয় স্থিতিশীলতা।”“জাতীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি যখন সংকটময় হয়ে ওঠে—সে সময় নিরবিচ্ছিন্ন, কার্যকর এবং স্থিতিশীলতার সঙ্গে জনপ্রশাসন পরিচালনা করা একটি অনির্বাচিত সরকারের পক্ষে অসম্ভব”, ডিক্রিতে বলেছেন আনুতিন।সূত্র : বিবিসিএমআর-২
    যুক্তরাজ্যে ব্রিস্টল জাদুঘর থেকে ৬ শতাধিক শিল্পকর্ম চুরি
    যুক্তরাজ্যের ব্রিস্টল জাদুঘর থেকে ৬ শতাধিক শিল্পকর্ম চুরি হয়েছে। চুরি হওয়া এসব শিল্পকর্মগুলো যুক্তরাজ্যের রাজপরিবার, ব্রিটিশ সাম্রাজ্য এবং কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত।বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) ব্রিস্টল পুলিশের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বিভিন্ন ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম। চুরি হওয়া শিল্পকর্মগুলোর ‘ব্যাপক সাংস্কৃতিক মূল্য’ রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার চার সন্দেহভাজনের ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে।চুরি অবশ্য ঘটেছে বেশ আগে, গত ২৫ সেপ্টেম্বর। এ ঘটনা প্রকাশ্যে আনতে কেন আড়াই মাস সময় লাগল, তা এখনও পরিষ্কার নয়। জাদুঘর কর্তৃপক্ষ কিংবা পুলিশ— কেউই এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেনি।ব্রিস্টল নগর কাউন্সিলের সংস্কৃতি এবং সৃষ্টিশীল শিল্প বিভাগের প্রধান ফিলিপ ওয়াকার জানায়, চুরি হওয়া শিল্পকর্মের মধ্যে আছে মেডেল, ব্যাজ এবং পিন, নেকলেস, চুড়ি, আংটি, নকশা খোদাই কারা হাতির দাঁত, রুপা ও ব্রোঞ্জের মূর্তি ও গৃহসজ্জার সামগ্রী এবং ভূাতাত্ত্বিক বিভিন্ন নমুনা।এএফপিকে ফিলিপ ওয়াকার জানান, “চুরি যাওয়া শিল্পকর্মগুলো ব্রিটেনের এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের। ২০০ বছরের ব্রিটিশ সাম্রাজ্য, এই সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠায় যারা অবদান রেখেছে এবং এর দ্বারা যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে— সেসবের সঙ্গে সম্পর্কিত অমূল্য সব রেকর্ড ছিল এই শিল্পকর্মগুলো।”এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তার এবং ব্রিস্টল পুলিশের জ্যেষ্ট কনস্টেবল ড্যান বার্গান এএফপিকে বলেন, “এটা আমাদের শহরের জন্য অনেক বড় ক্ষতি। যেসব শিল্পকর্ম চুরি হয়েছে, সেসবের  মধ্যে অনেকগুলো দানের জিনিস ছিল, অর্থাৎ ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সময় বিভিন্ন দেশের অভিজাতরা এসব শিল্পকর্ম দান করেছিলেন। এমন অনেক শিল্পকর্ম চুরি হয়েছে, যেগুলো আমাদের ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতীক।”“আমরা এখন পর্যন্ত এই চুরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চার জন সন্দেহভাজন সম্পর্কে তথ্য পেয়েছি। চার সন্দেহভাজনের ছবিও প্রকাশ করেছে পুলিশ। আমরা আশা করছি যে সন্দেহভাজনদের আটক করতে জনগণ আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করবেন”, এএফপিকে বলেন ড্যান বার্গান।সূত্র : এএফপিএমআর-২
    জাপানে ৬.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা
    জাপানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ৬ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এর পরপরই সুনামি সতর্কতা জারি করেছে দেশটি। খবর আল জাজিরার।জেএমএ জানায়, শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৪৪ মিনিটে আওমোরি প্রিফেকচারের উপকূলে ২০ কিলোমিটার (১২.৪ মাইল) গভীরতায় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।ওই অঞ্চলে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ও বড় ভূমিকম্প আঘাত হানার মাত্র কয়েকদিন পরই এই ভূ-কম্পন আঘাত হানল।সোমবারের ভূমিকম্পের পর, সরকার উত্তরে হোক্কাইডো থেকে টোকিওর পূর্বে চিবা পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক করে দিয়েছে। সেইসঙ্গে  এক সপ্তাহের মধ্যে আবারও শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার সম্ভাবনা বৃদ্ধির জন্য সতর্ক থাকতে বলেছে।জাপান প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থিত হওয়ায় নিয়মিতভাবেই ভূমিকম্পের সম্মুখীন হয়। ২০১১ সালে ৯ দশমিক ১ মাত্রার তোহোকু ভূমিকম্প ও সুনামি দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত। এতে ২২ হাজারের বেশি মানুষ মারা যান বা নিখোঁজ হন এবং ফুকুশিমা দাইইচি পারমাণবিক কেন্দ্রে চুল্লি গলে ভয়াবহ তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে।এমআর-২
    ন্যাটোভুক্ত দেশে হামালা চালাতে পারে রাশিয়া: ন্যাটো মহাসচিব
    পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুতে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, রাশিয়া আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ন্যাটোভুক্ত কোনো একটি দেশে হামলা চালাতে পারে।বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) জার্মানিতে একটি আয়োজনে বক্তব্য দিতে গিয়ে মার্ক রুতে বলেন, “আমাদের (ন্যাটো) বিরুদ্ধে রাশিয়া এরই মধ্যে গোপন অভিযান বাড়িয়ে দিয়েছে। আমাদের দাদা-দাদি কিংবা প্রপিতামহ যেই মাত্রার যুদ্ধ মোকাবিলা করেছেন, তেমনটার জন্য আমাদেরও প্রস্তুত থাকতে হবে।” ন্যাটোর প্রধানের পক্ষ থেকে এমন এক সময় এই সতর্কবার্তা দেওয়া হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার যুদ্ধের অবসান ঘটানোর চেষ্টা করছেন।এদিকে, চলতি মাসের শুরুর দিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছিলেন, ইউরোপের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর কোনো পরিকল্পনা তাঁর দেশের নেই। তবে যদি ইউরোপ যুদ্ধ শুরু করতেই চায়, তাহলে রাশিয়া এখনই প্রস্তুত রয়েছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে এই যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, তবে পুতিন ২০২২ সালে যখন রাশিয়ার প্রায় দুই লাখ সেনা সীমান্ত পেরিয়ে ইউক্রেনের ভেতরে ঢুকে পড়েন, তার আগেও একই সুরে কথা বলেছিলেন। তাই পুতিনের এমন কথা ইউরোপীয় নেতাদের আশ্বস্ত করতে পারছে না।পুতিনের অভিযোগ, ইউক্রেনে শান্তি প্রতিষ্ঠায় মার্কিন প্রচেষ্টা বাস্তবায়নে ইউরোপের দেশগুলো বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি সম্প্রতি ইউক্রেনের ইউরোপীয় মিত্ররা শান্তি পরিকল্পনার খসড়া প্রস্তাবগুলো পরিবর্তনের চেষ্টায় যে ভূমিকা নিয়েছে, সেটার প্রতি ইঙ্গিত করে এই অভিযোগ তুলেছেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মধ্যস্থতা করলেও শান্তি পরিকল্পনার খসড়া প্রস্তাবগুলো আখেরে রাশিয়ার পক্ষে যাবে। তাই ইউরোপের নেতারাও খসড়া বদলানোর পক্ষে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির পাশে দাঁড়িয়েছেন।এনআই
    গোপন সফরে ইসরাইলে তাইওয়ানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী
    তাইওয়ানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া উ সম্প্রতি গোপনে ইসরাইল সফর করেছেন। বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্র ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে। বেইজিংয়ের চাপের কারণে তাইওয়ানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক কিছুটা গোপনীয়ই থাকে। প্রকাশ্যে তৎপরতা খুব একটা দেখা যায় না কারণ বেইজিং তাইওয়ানকে তাদের একটি প্রদেশ হিসেবে মনে করে, কোনো স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না।অন্যান্য বেশিরভাগ দেশের মতো, ইসরাইল কেবল আনুষ্ঠানিকভাবে বেইজিংকেই স্বীকৃতি দেয়, তাইপেইকে নয়। তবে তাইওয়ানের শীর্ষ কূটনীতিকরা প্রায়ই বিদেশ ভ্রমণ করলেও ইসরাইলের মতো দেশে তাদের ভ্রমণের ঘটনা বেশ বিরল।তাইওয়ান ইসরাইলকে একটি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক অংশীদার হিসেবে দেখে এবং ২০২৩ সালের অক্টোবরে দক্ষিণ ইসরাইলে  হামাসের আক্রমণ এবং পরবর্তীকালে গাজায় যুদ্ধের পর থেকেই দেশটিকে দৃঢ় সমর্থন করে যাচ্ছে এবং তারপর থেকে তাদের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পেয়েছে।বিষয়টির সংবেদনশীলতার কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কিছু সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে যে, সাম্প্রতিক সময়ে ফ্রাঁসোয়া উ ইসরাইলে  গিয়েছিলেন। দুটি সূত্র জানিয়েছে যে, তার এই সফর চলতি মাসেই হয়েছে।তবে এই সফরে কাদের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়েছে বা কী আলোচনা হয়েছে তার বিশদ বিবরণ দেওয়া হয়নি। এমনকি তিনি তাইওয়ানের নতুন বহু-স্তরযুক্ত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা টি-ডোম সম্পর্কেও কথা বলেছেন কি না সে বিষয়টিও নিশ্চিত নয়। তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে গত অক্টোবরে এই বিষয়টি উন্মোচন করেন যা আংশিকভাবে ইসরাইলের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আদলে তৈরি হবে।এদিকে ফ্রাঁসোয়া উ ইসরাইল সফর করেছেন কি না সে বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে তাইওয়ানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তাইওয়ান এবং ইসরাইল স্বাধীনতা এবং গণতন্ত্রের মূল্যবোধ ভাগাভাগি করে এবং বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং সংস্কৃতির মতো ক্ষেত্রে বাস্তবসম্মতভাবে পারস্পরিক বিনিময় এবং সহযোগিতা প্রচার অব্যাহত রাখবে। ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এই মন্তব্যের অনুরোধের কোনো জবাব দেয়নি।এনআই
    আগে ফিলিস্তিনিদের নিশ্চিহ্ন করা উচিত: ট্রাম্প মিত্র র‍্যান্ডি
    ফিলিস্তিনি জনগণকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র র‍্যান্ডি ফাইন। এই রিপাবলিকান নেতা দম্ভ করে আরও বলেছেন, এ জন্য তাকে ইসলামবিদ্বেষী বলা হলেও তিনি পরোয়া করেন না। ফাইন এর আগেও অনেকবার ইসলামবিদ্বেষী ও ফিলিস্তিনবিরোধী মন্তব্য করেছেন।মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) কংগ্রেসে এক শুনানিতে ফাইন বলেন, বসতি স্থাপনকারীদের ওপর বর্ণবৈষম্যমূলক নিষেধাজ্ঞা আরোপের কারণে অধিকৃত পশ্চিম তীরের কয়েকটি এলাকায় ইসরায়েলিরা যেতে পারেন না। তবে বাস্তবতা হলো, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীই নিরাপত্তার কারণে অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের ফিলিস্তিনি শহরগুলোতে প্রবেশ না করতে সতর্কতামূলক সাইন টানিয়ে রাখে।শুনানিতে ফাইন যুক্তরাষ্ট্রের জায়নবাদী সংগঠনের প্রেসিডেন্ট মর্টন ক্লেইনকে প্রশ্ন করে, ‘যখন আপনাকে এমন মানুষদের মুখোমুখি হতে হয়, যারা প্রতিনিয়ত ইসরায়েল রাষ্ট্রের ধ্বংস কামনা করে, ইহুদিরা এখানে প্রবেশ করতে পারবে না, আমরা ইহুদিমুক্ত হতে চাই—এমন সাইন দেখতে কারই–বা ভালো লাগতে পারে, এমন অবস্থায় আপনি কীভাবে শান্তি আনবেন?’ এরপর ক্লেইনকে পরামর্শের সুরে ফাইন আরও বলেন, ‘এ পরিস্থিতিতে আপনি কীভাবে একটি দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে আসবেন? নাকি আমাদের অন্য কোনো পথ বেছে নিতে হবে?’ জবাবে ক্লেইন বলেন, ইসলামের একটি সংস্কারের ভেতর দিয়ে যাওয়া এবং ইসরায়েলকে একটি ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে মেনে নেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু এ নিয়ে কেউ কথা বলতে চায় না, কারণ ইসলামবিদ্বেষী হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার ভয় পায়। এ পর্যায়ে ক্লেইনকে থামিয়ে ফাইন বলে ওঠেন, ‘আমি এসবে ভয় পাই না।’ফ্লোরিডার একটি আসন থেকে কংগ্রেস সদস্য ফাইন আরও বলেন, ‘যারা আপনার ধ্বংস কামনা করে, তাদের সঙ্গে কীভাবে শান্তিতে আসা যায়—আমি জানি না। আমার মনে হয়, আপনি আগে তাদের নিশ্চিহ্ন করুন।’ যদিও ফিলিস্তিনিদের এই ভূখণ্ডটির নিয়ন্ত্রণ ইসরায়েলি সেনাদের হাতে, তবুও ইসরায়েলি বাহিনীর সুরক্ষায় থেকে সশস্ত্র ইহুদি অবৈধ বসতি স্থাপনকারীরাই বরং ফিলিস্তিনি গ্রামগুলো দখল ও লুটপাট করে। চলতি বছরে অন্তত দুজন মার্কিন নাগরিক বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় নিহত হয়েছেন।এনআই

    বিনোদন

    সব দেখুন
    কন্যা সন্তানের বাবা হয়ে আলহামদুলিল্লাহ বললেন অপূর্ব
    বাবা হলেন ছোটপর্দার তারকা অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব। তার স্ত্রী শাম্মা দেওয়ান কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছেন। আজ শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া এক পোস্টে অভিনেতা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পোস্টে অপূর্ব লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। আনন্দ আর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে জানাচ্ছি, আমাদের কন্যাসন্তানের আগমন ঘটেছে। এই দুনিয়ায় তোমাকে স্বাগতম, প্রিয় আনায়া।’ ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী শাম্মা দেওয়ানকে বিয়ে করেন অপূর্ব। বিয়ের চার বছর পর কন্যার জন্ম দেন শাম্মা।এর আগে, ২০১১ সালের ২১ ডিসেম্বর অদিতিকে বিয়ে করেন অপূর্ব। ২০২০ সালে দুজনের বিচ্ছেদ ঘটেছে। অপূর্ব ও অদিতির সংসারে আয়াশ নামের এক পুত্রসন্তান রয়েছে।অভিনেত্রী প্রভাকে বিয়ে করেন অপূর্ব। সেই বিয়ে বেশি দিন টেকেনি।এইচএ
    আমির-কারিনাকে নিয়ে আবার শুটিং ফ্লোরে ‘থ্রি ইডিয়টস’
    রাজকুমার হিরানি পরিচালিত বলিউড ব্লকবাস্টার ‘থ্রি ইডিয়টস’। ২০০৯ সালে মুক্তি পায় এটি। মাঝে ১৫ বছর পেরিয়ে গেলেও র‌্যাঞ্চো, রাজু আর ফারহানদের ‘বন্ধুত্ব’ আজও মুগ্ধ করে চলেছে।‘থ্রি ইডিয়টস’ শুধু একটা সিনেমা ছিল না—বরং একটি প্রজন্মের কাছে হয়ে উঠেছিল বিশ্বাস, স্বপ্ন আর বন্ধুত্বের নতুন সংজ্ঞা। জনপ্রিয় পরিচালক রাজকুমার হিরানির সহজ-সরল কিন্তু গভীর গল্প বলার ধরণ, আমির খান– আর মাধবন- শর্মন জোসি ত্রয়ীর প্রাণবন্ত অভিনয় এবং হাস্যরস ছবিটিকে এমন জায়গায় পৌঁছে দেয়, যা আজও ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে একটি আলাদা অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত। সেই ছবির গান, সংলাপ, চরিত্র -সবই দর্শকের মনে রয়ে গেছে স্থায়ী ছাপ হিসেবে।থ্রি ইডিয়টস মুক্তির পর সময়ের স্রোতে ১৫ বছর কেটে গেছে। কিন্তু দর্শকদের মধ্যে সিনেমাটির স্মৃতি এখনও চিরসবুজ। তাই ছবিটির সিক্যুয়েল ‘থ্রি ইডিয়টস ২’ আসছে শুনেই আনন্দিত সিনেমাপ্রেমীরা। একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, সিক্যুয়েলের চিত্রনাট্য ইতোমধ্যেই চূড়ান্ত হয়েছে এবং আগামী বছর থেকেই শুরু হবে শুটিং। জানা গেছে, প্রথম ছবির প্রধান অভিনেতা আমির খান, করিনা কাপুরসহ মূল টিম—আবারও ফিরছেন এই সিক্যুয়ালে। নির্মাতাদের বিশ্বাস প্রথম ছবির যে ‘ম্যাজিক’ দর্শককে আবেগে ভাসিয়েছিল, সেটি আবারও ফিরতে চলেছে।সিক্যুয়েলের গল্প প্রথম ছবির পর থেকেই শুরু হবে না, বরং সময় এগোবে অনেকটা—পুরো ১৫ বছর। প্রথম ছবির ক্লাইম্যাক্সে যে তিন বন্ধু আলাদা পথে হাঁটতে শুরু করেছিল, এইবার তারা আবার এক হবে নতুন অভিযানে। তাদের জীবনে এই দীর্ঘ সময়ে কী বদল এসেছে? রাঞ্চোর দর্শন, ফারহানের স্বপ্ন আর রাজুর সংগ্রাম—এসবই নতুনভাবে গল্পে ফিরে আসতে পারে সম্পূর্ণ প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের প্রেক্ষাপটে। ঠিক এই কারণেই অনেকেই মনে করছেন, সিক্যুয়েলটি হবে আরও ‘রিয়েল’ম আরও আবেগঘন।নির্মাতা দল জানিয়েছে, নতুন গল্পে আছে হাসি, আছে কান্না, আছে নিজেদের কাছে ফিরে আসার আনন্দ—ঠিক যেমনটা ছিল প্রথম ছবিতে। শুধু তাই নয়, বর্তমান সময়ের শিক্ষাব্যবস্থা, প্রতিযোগিতা আর জীবনের দৌড়ঝাঁপ—এসবকেও ছবির গল্পে নতুন করে দেখা যেতে পারে। ফলে, ছবিটি শুধু স্মৃতির নস্টালজিয়া নিয়েই ফিরছে না, বরং নতুন প্রজন্মের জন্যও তৈরি করছে আরেকটি বার্তা-নির্ভর বিনোদন।বলিউডে ২০০৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘থ্রি ইডিয়টস’ শুধু একটা সিনেমা ছিল না—বরং একটি প্রজন্মের কাছে হয়ে উঠেছিল বিশ্বাস, স্বপ্ন আর বন্ধুত্বের নতুন সংজ্ঞা। জনপ্রিয় পরিচালক রাজকুমার হিরানির সহজ-সরল কিন্তু গভীর গল্প বলার ধরণ, আমির খান– আর মাধবন- শর্মন জোসি ত্রয়ীর প্রাণবন্ত অভিনয় এবং হাস্যরস ছবিটিকে এমন জায়গায় পৌঁছে দেয়, যা আজও ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে একটি আলাদা অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত। সেই ছবির গান, সংলাপ, চরিত্র -সবই দর্শকের মনে রয়ে গেছে স্থায়ী ছাপ হিসেবে।থ্রি ইডিয়টস মুক্তির পর সময়ের স্রোতে ১৫ বছর কেটে গেছে। কিন্তু দর্শকদের মধ্যে সিনেমাটির স্মৃতি এখনও চিরসবুজ। তাই ছবিটির সিক্যুয়েল ‘থ্রি ইডিয়টস ২’ আসছে শুনেই আনন্দিত সিনেমাপ্রেমীরা। একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, সিক্যুয়েলের চিত্রনাট্য ইতোমধ্যেই চূড়ান্ত হয়েছে এবং আগামী বছর থেকেই শুরু হবে শুটিং।জানা গেছে, প্রথম ছবির প্রধান অভিনেতা আমির খান, করিনা কাপুরসহ মূল টিম—আবারও ফিরছেন এই সিক্যুয়ালে। নির্মাতাদের বিশ্বাস প্রথম ছবির যে ‘ম্যাজিক’ দর্শককে আবেগে ভাসিয়েছিল, সেটি আবারও ফিরতে চলেছে।সিক্যুয়েলের গল্প প্রথম ছবির পর থেকেই শুরু হবে না, বরং সময় এগোবে অনেকটা—পুরো ১৫ বছর। প্রথম ছবির ক্লাইম্যাক্সে যে তিন বন্ধু আলাদা পথে হাঁটতে শুরু করেছিল, এইবার তারা আবার এক হবে নতুন অভিযানে। তাদের জীবনে এই দীর্ঘ সময়ে কী বদল এসেছে? রাঞ্চোর দর্শন, ফারহানের স্বপ্ন আর রাজুর সংগ্রাম—এসবই নতুনভাবে গল্পে ফিরে আসতে পারে সম্পূর্ণ প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের প্রেক্ষাপটে। ঠিক এই কারণেই অনেকেই মনে করছেন, সিক্যুয়েলটি হবে আরও ‘রিয়েল’ম আরও আবেগঘন।নির্মাতা দল জানিয়েছে, নতুন গল্পে আছে হাসি, আছে কান্না, আছে নিজেদের কাছে ফিরে আসার আনন্দ—ঠিক যেমনটা ছিল প্রথম ছবিতে। শুধু তাই নয়, বর্তমান সময়ের শিক্ষাব্যবস্থা, প্রতিযোগিতা আর জীবনের দৌড়ঝাঁপ—এসবকেও ছবির গল্পে নতুন করে দেখা যেতে পারে। ফলে, ছবিটি শুধু স্মৃতির নস্টালজিয়া নিয়েই ফিরছে না, বরং নতুন প্রজন্মের জন্যও তৈরি করছে আরেকটি বার্তা-নির্ভর বিনোদন।এইচএ
    প্রায় ৩০ হাজার বিয়ের প্রস্তাব পেয়েছিলেন হৃতিক
    ২০০০ সাল। মুক্তি পেল বলিউড সিনেমা ‘কহো না পেয়ার হ্যায়’। আর এই এক ছবিতেই রাতারাতি পাল্টে গেল হৃতিক রোশনের জীবন। প্রথম ছবিতেই তার আকাশছোঁয়া সাফল্য এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল, মাত্র এক মাসের মধ্যে তার কাছে প্রায় ৩০ হাজার বিয়ের প্রস্তাব এসেছিল! সম্প্রতি ভারতীয় একটি জনপ্রিয় টক শো-তে অংশ নিয়ে ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের সেই উন্মাদনার কথাই শোনালেন বলিউডের এই ‘গ্রিক গড’।হৃতিক জানান, সিনেমাটি সুপারহিট হওয়ার পর তার বাড়ির সামনে প্রতিনিয়ত ভক্তদের ভিড় লেগেই থাকত। বিশেষ করে তরুণী ও তাদের অভিভাবকরা হৃতিকের সঙ্গে দেখা করার জন্য অধীর অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকতেন। প্রতিদিন সকালে জানালার পর্দা সরালেই হৃতিক দেখতেন বাড়ির প্রধান ফটকে দীর্ঘ লাইন।পেছনের দরজা দিয়ে পালানোর গল্প ভক্তদের এই বিশাল ভিড় সামলানো তখন হৃতিকের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল। অভিনেতা জানান, সেই সময় ভক্তদের চোখ এড়িয়ে নিজের প্রেমিকা সুজান খানের সঙ্গে দেখা করতে মাঝেমধ্যে বাড়ির পেছনের দরজা ব্যবহার করতেন তিনি। সামনের গেটে যখন হাজারো তরুণী তার একঝলক পাওয়ার আশায় দাঁড়িয়ে, তখন পেছনের দরজা দিয়ে চুপিচুপি প্রেমিকার কাছে ছুটতেন হৃতিক।সাফল্য ও ব্যক্তিগত জীবন পর্দায় সুপুরুষ চেহারা, নাচ এবং অভিনয়ের জাদুতে হৃতিক তখন ভারতীয় তরুণ প্রজন্মের কাছে সেনসেশন। তবে ৩০ হাজার বিয়ের প্রস্তাব বা আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা কোনো কিছুই তাকে তার ভালোবাসা থেকে টলাতে পারেনি। ভক্তদের হৃদয় ভেঙে ২০০০ সালেই অভিনেতা সঞ্জয় খানের কন্যা ও তার বাল্যবন্ধু সুজান খানকে বিয়ে করেন তিনি। ক্যারিয়ারের শুরুতেই বিয়ের সিদ্ধান্ত নিলেও তার জনপ্রিয়তায় তখন বিন্দুমাত্র নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি।‎এসআর
    কাজের সংকটের কারণে শিল্পীরা বিদেশ চলে যাচ্ছে: মিশা সওদাগর
    মন্দা বাজার, কাজের সংকট আর অনিশ্চয়তার কারণে আগের মতো জমজমাট নেই এফডিসি। বদলেছে শিল্পীদের জীবনধারাও। ফলে দেশের শোবিজ অঙ্গনের অনেক তারকা সাম্প্রতিক সময়ে পাড়ি জমাচ্ছেন বিদেশে। কেউ স্থায়ীভাবে সেখানেই বসবাস শুরু করেছেন, কেউ আবার দেশে এসে সীমিত পরিসরে কাজ করছেন।  কিন্তু কেন এভাবে দেশ ছাড়ছেন তারকারা— সম্প্রতি এক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এ বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন চলচ্চিত্রশিল্পী সমিতির সভাপতি ও জনপ্রিয় অভিনেতা মিশা সওদাগর।তিনি স্পষ্ট করে জানান, কাজের সংকটই তারকাদের বিদেশে যাওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ।মিশা বলেন, ‌‌‘কাজ না থাকলে শিল্পীদের কী করার আছে? একসময় দিনে চার-পাঁচটা সিনেমার কাজ করেছি। সকাল ৭টা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত শুটিং চলত। এখন সেই এফডিসি প্রায় বন্ধ।যে শিল্পীরা দেশ ছেড়েছেন, তাদের কি কারো মন চাইছিল? অমিত হাসান, মৌসুমী, ইমন, আলেকজান্ডার বোসহ অনেকেই চলে গেছেন। মাহিয়া মাহিও এখন যুক্তরাষ্ট্রে। কাজ থাকলে তারা কেউই যেত না।’নিজের কথাও উল্লেখ করেন এ অভিনেতা। তিনি বলেন,তার পরিবার স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছে। তিনিও বছরের বড় একটা সময় থাকেন সেখানে।শিল্পীদের জীবনযাত্রার চাপ নিয়ে মিশার ব্যাখ্যা, ‘শিল্পীদের কাজ থাকুক বা না থাকুক, অনেক কিছুই মেইনটেইন করতে হয়। চেহারা, পোশাক, গাড়ি, মোবাইল, ঘরের পরিবেশ— সব কিছুতেই একটা মান ধরে রাখতে হয়। আমরা কাজ করি পরিবারের জন্য, বেঁচে থাকার তাগিদে। কিন্তু কাজই যদি না থাকে, ইনকাম যদি বন্ধ হয়ে যায়, তখন একজন শিল্পী কী করবে।’তিনি আরো বলেন, ‘বিদেশে গেলে অন্তত স্থায়ীভাবে কাজ পাওয়া যায়, পরিবার নিয়ে টিকে থাকা যায়। তাই অনেকেই বাধ্য হয়ে দেশ ছাড়ছেন। এটা তাদের দোষ নয়, পরিস্থিতির চাপ।’মিশা সওদাগরের মতে, স্থানীয় চলচ্চিত্রশিল্পে কাজের পরিমাণ বাড়লেই তারকারা আবার দেশে ফিরে আসবেন।এইচএ

    অর্থ-বাণিজ্য

    সব দেখুন
    আমদানির পরও কমেনি পেঁয়াজের দাম, স্বস্তি মৌসুমি সবজিতে
    শীতের আগমনে বাজারে সবজির আনাগোণা বৃদ্ধি পেলেও কমেনি দাম। বাজারে বেগুন, পেঁপেসহ কয়েকটি সবজির দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কিছুটা কমলেও মৌসুমি সবজি বিক্রি হচ্ছে আগের বাড়তি দামেই। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সবজির দামে এখনও লাগেনি শীতের ছোঁয়া; ফলে স্বস্তি মিলছে না ক্রেতাদের।বাজারে আমদানির পর পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমলেও এখনো সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তিদায়ক পর্যায়ে আসেনি। যদিও বাজারে মুড়িকাটা পেঁয়াজও বিক্রি হচ্ছে। তবে এখনো প্রতি কেজি পেঁয়াজ কিনতে গুনতে হচ্ছে ১০০ টাকার বেশি।বাজারে এখন নতুন আলুর দাম কমতির দিকে। প্রতি তিন কেজি আলুর প্যাকেজ হাঁকডাক দিয়ে বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। অর্থাৎ, কেজি পড়ছে ৩৩ টাকা। আর প্রতি কেজি নতুন আলু খুচরায় ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে।বাজারে দেখা গেছে, গত মৌসুমে উৎপাদিত প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ এখন ১৪০-১৫০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। আর বাজারে নতুন আসা মুড়িকাটা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা কেজি দরে, কোথাও কোথাও অবশ্য ১৩০ টাকাতেও বিক্রি করতে দেখা গেছে। অন্যদিকে, আমদানি করা পেঁয়াজ মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়।বিক্রেতা আবু হোসেন বলেন, দেশি পেঁয়াজের দাম বেশি থাকার কারণে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম কম হলেও তা দেশি পেঁয়াজের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চড়া দামে বিক্রি করছেন আমদানিকারকরা।তিন-চারদিন আগে পেঁয়াজ আমদানির খবরে দেশের পাইকারি বাজারে পণ্যটির দাম কেজিপ্রতি ২০-৩০ টাকা কমেছিল। কিন্তু শেষ দুদিনের মধ্যেই দাম আবার বেড়ে যায়।গত নভেম্বরের শুরুতে হঠাৎ অস্থির হয়ে ওঠে পেঁয়াজের বাজার। তখন ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি হওয়া পেঁয়াজের দাম ১১০-১২০ টাকায় স্থিতিশীল হয়। সবশেষ ১০-১২ দিন আগে ফের পেঁয়াজের বাজার অস্থির হয়ে ওঠে, দাম ওঠে ১৫০-১৬০ টাকায়। এরপরই আমদানির অনুমতি দেয় সরকার।পেঁয়াজের চড়া দামের মধ্যেও ভোক্তার স্বস্তি কিছুটা ফিরছে সবজিতে। কারণ, পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় নানান ধরনের সবজির দাম কমতে শুরু করেছে। এরমধ্যে গত দুই সপ্তাহের মধ্যে আলুর দাম নেমে এসেছে ৪০ টাকার নিচে।খুচরা বাজারে মানভেদে প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ৬০-৮০ টাকায়। গত সপ্তাহে ছিল ৮০ থেকে ১০০ টাকা। গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ১০ টাকা কমে বরবটি, বেগুন ও করলা বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। একইভাবে কেজিতে ঢ্যাঁড়স ও পটল বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকায়।অন্যদিকে, ফুলকপি ও বাঁধাকপির দাম আরও কমেছে। মাঝারি আকারের এ দুটি সবজির প্রতিটি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকায়।এছাড়া বেশ কয়েক মাস নিম্নমুখী ডিম ও মুরগির বাজার। ফার্মের ডিম প্রতি ডজন বিক্রি হচ্ছে ১১৫-১২০ টাকায়। পাড়া-মহল্লার দোকানে বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ১৩০ টাকা দামে।বাজারে এখন ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৫০-১৬০ টাকার মধ্যে। আর সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২৫০-২৭০ টাকায়। পোল্ট্রি মুরগির বিক্রেতারা বলছেন, শীতে সবজির প্রচুর সরবরাহ থাকলে মুরগি ও ডিমের চাহিদা কিছুটা কমে যায়। এ কারণেই দাম কমেছে।গত রোববার প্রতি লিটার বোতলজাত ও খোলা সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে যথাক্রমে ৬ ও ৭ টাকা। এছাড়া প্রতি লিটার পাম তেলের দাম ১৬ টাকা ও পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানো হয় ৩৩ টাকা। এতে বোতলজাত এক লিটার সয়াবিন তেলের দাম বেড়ে হয় ১৯৫ টাকা। যা আগে ছিল ১৮৯ টাকা।৫ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ৯২২ টাকা থেকে বেড়ে ৯৫৫ টাকা হয়েছে। এছাড়া এক লিটার খোলা সয়াবিনের দাম এখন ১৭৬ টাকা এবং প্রতি লিটার পাম তেল বিক্রি হচ্ছে ১৬৬ টাকায়। তবে বাজারে অন্য মুদি পণ্যগুলোর দাম অনেকটাই অপরিবর্তিত দেখা গেছে।এসএম
    ফের ৩২ বিলিয়ন ডলার ছাড়ালো রিজার্ভের পরিমাণ
    বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩২ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। তবে আইএমএফের নির্ধারিত বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করলে রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২৭ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলারে। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।গত বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩১ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলার। আর বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভ ছিল ২৭ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার।এর আগে গত ৬ নভেম্বর রিজার্ভ ৩২ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করেছিল। ওই সময়ে রিজার্ভ ছিল ৩২ দশমিক ৭১ বিলিয়ন ডলার আর বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে তা ছিল ২৮ বিলিয়ন ডলার।তবে এর তিনদিন পর ৯ নভেম্বর এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নে (আকু) সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের জন্য ১৬১ কোটি ডলার পরিশোধ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। আকুর দায় পরিশোধের পর দেশের গ্রস রিজার্ভ ৩১ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলারে অবস্থান করে। এরপর থেকে ৩০ ও ৩১ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে ছিল রিজার্ভ।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের জুলাইয়ে মে-জুন মেয়াদের আমদানি ব্যয়ের বিপরীতে বাংলাদেশ আকুকে ১ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছিল—যা ছিল সর্বশেষ বড় অঙ্কের বিল। এরপর ২০২৩ সালের পুরো সময়জুড়ে দ্বিমাসিক আকু বিল কমে ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের নিচে ছিল।২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর থেকে আকু বিল আবার বাড়তে শুরু করে। চলতি বছরের মে-জুনে বিলের পরিমাণ পৌঁছে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারে, যা গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর জাতিসংঘের এশিয়া অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন (ইউএনইএসক্যাপ) আকু প্রতিষ্ঠা করে। ইরানের তেহরানভিত্তিক এ সংস্থার মাধ্যমে ভারত, বাংলাদেশ, ভুটান, ইরান, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা—মোট ৯টি দেশের আঞ্চলিক লেনদেন নিষ্পত্তি করা হয়।অন্যদিকে, দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ের প্রবাহকে সহায়তা দিতে ব্যাংকগুলো থেকে অতিরিক্ত ডলার কিনছে বাংলাদেশ ব্যাংক।গতকাল বৃহস্পতিবার ১৬টি ব্যাংক থেকে মোট প্রায় ১৫ কোটি মার্কিন ডলার (১৪৯ মিলিয়ন ডলার) কেনা হয়েছে। এসময় প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২.২৫ টাকা থেকে ১২২.২৯ টাকা পর্যন্ত। কাট-অফ রেট ১২২.২৯ টাকা, যা মাল্টিপল প্রাইস নিলাম পদ্ধতির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে।চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ পর্যন্ত নিলাম পদ্ধতির মাধ্যমে মোট ২৬৬ কোটি ৩০ লাখ (২.৬৬ বিলিয়ন ডলার) ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংক গত ১৩ জুলাই থেকে নিলামের মাধ্যমে ডলার কেনা শুরু করে। ওই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এখন পর্যন্ত এই বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহ করা হয়েছে।এসএম
    দেশের বাজারে বেড়েছে স্বর্ণের দাম, ভরি কত?
    দেশের বাজারে বাড়ানো হয়েছে স্বর্ণের দাম। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ (শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর) থেকে স্বর্ণ বিক্রি হবে নতুন দামে। তবে আগের দামেই বিক্রি হবে রুপা।সবশেষ গত ১১ ডিসেম্বর রাতে দেয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে ১ হাজার ৫০ টাকা বাড়িয়েছে সংগঠনটি।নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ১২ হাজার ১৪৫ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২ হাজার ৪৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৭৩ হাজার ৫৭২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৪ হাজার ৪২৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।এদিকে, বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস আরও জানায়, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে।এর আগে, সবশেষ গত ২ ডিসেম্বর দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সেদিন ভরিতে ১ হাজার ৫০ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১১ হাজার ৯৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি।এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১ হাজার ৪৯৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৭২ হাজার ৭০৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৩ হাজার ৬৮৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। যা কার্যকর হয়েছিল ৩ ডিসেম্বর থেকে।এ নিয়ে চলতি বছর মোট ৮৪ বার দেশের বাজারে সমন্বয় করা হলো স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম বাড়ানো হয়েছে ৫৭ বার, আর কমেছে মাত্র ২৭ বার। আর ২০২৪ সালে দেশের বাজারে মোট ৬২ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৩৫ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৭ বার।স্বর্ণের দাম বাড়ানো হলেও দেশের বাজারে অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। দেশে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ২৪৬ টাকায়।এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৪৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৪৭৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৬০১ টাকায়।চলতি বছর এখন পর্যন্ত ৯ বার সমন্বয় করা হয়েছে রুপার দাম। এর মধ্যে বেড়েছে ৬ বার, আর কমেছে মাত্র ৩ বার। আর গত বছর সমন্বয় করা হয়েছিল ৩ বার।এইচএ
    দামে খুশি গদখালীর ফুল চাষিরা, ৫ কোটি টাকা ব্যবসার আশা
    বিজয় দিবসকে সামনে রেখে যশোরের গদখালীর ফুল চাষিরা মৌসুমের প্রথম বাজারে ভালো দাম পাচ্ছেন। চাহিদা বাড়ায় তারা আসন্ন ইংরেজি নববর্ষের বাজার নিয়েও আশাবাদী। এভাবে দাম থাকলে চলতি বছর লাভবান হওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন তারা। চাষি নেতারা বলছেন, বিজয় দিবসকে কেন্দ্র করে এ অঞ্চলের ফুল চাষিরা প্রায় ৫ কোটি টাকার ফুল বিক্রি করতে পারবেন।গত কয়েক মাসের পরিশ্রমে গদখালীর মাঠগুলোতে ফুটেছে গোলাপ, জারবেরা, গাঁদা, গ্ল্যাডিওলাস, রজনীগন্ধা, জিপসি, রডস্টিক, কেলেনডোলা, চন্দ্রমল্লিকা সহ বিভিন্ন প্রকারের ফুল। মৌসুমের প্রথম বাজারে চাষিরা ফুলের ভালো দাম পেয়েছেন।সরজমিনে দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) গোলাপ প্রতি পিস ৫-৭ টাকা, গ্ল্যাডিওলাস কালার ভেদে ৬-১৪ টাকা, জারবেরা ৮-১২ টাকা, রজনীগন্ধা ৫-৭ টাকা, একশ’ পিস চন্দ্রমল্লিকা ২০০-৩০০ টাকায় এবং এক হাজার হলুদ গাঁদা ৪০০ ও বাসন্তি কালারের গাঁদা ৬০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।চাষিদের মতে, গত কয়েক মাস ধরে ফুলের বাজার ভালো যাচ্ছে এবং আগামী দিনগুলোতে দাম আরও বাড়ার আশা রয়েছে। বিশেষ করে আসন্ন ইংরেজি নববর্ষের বাজার নিয়েও আশাবাদী। আজিজুর রহমান নামের এক ফুল চাষি বলেন, ‘বাজারের অবস্থা গত বছরের তুলনায় খুবই ভালো। সব ধরনের ফুলের দাম সন্তোষজনক। পহেলা জানুয়ারি পর্যন্ত এই দাম অব্যাহত থাকলে আগের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবো।’চাষি জালাল উদ্দিন জানান, ‘এবার জারবেরা, গাঁদা, গ্লাডিওলাস ও চন্দ্রমল্লিকা চাষ করেছি। গত এক মাস ধরে ফুলের দাম ভালো আছে। সামনের দিনগুলোতে দাম আরও বাড়বে। যদি এই উর্ধ্বগতি অব্যাহত থাকে, উৎপাদন খরচ উঠে যাবে এবং লাভও হবে।’আরেক চাষি আব্দুল মঈন বলেন, ‘৪০০ গোলাপ ফুল নিয়ে এসেছি। দাম ৫ টাকা প্রতি পিস বলা হয়েছে, কিন্তু আমি আরও একটু বেশি আশা করছি। সামনে বিজয় দিবস এবং আসন্ন শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) থেকে দাম বাড়বে। আশা করছি, এই দাম বাড়ার ধারা পহেলা জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে। চলতি বছর আমরা ফুল বিক্রি করে লাভবান হতে পারব।’গালিব হোসেন নামে আরেক চাষি বলেন, ‘চলতি বছর গরম থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত দাম স্থিতিশীল রয়েছে। গোলাপের দাম ৫ টাকার নিচে নামেনি। অন্যান্য ফুলের দামও সমানভাবে আছে। প্রতিদিন ফুলের দাম বাড়ছে। তবে মাঠে ফুলের ধরন কমে গেছে। আগে ১ বিঘা গোলাপ বাগান থেকে ২৫০০-২৬০০ ফুল পাওয়া যেত, এখন সেটা কমে ৫০০-৬০০ এ দাঁড়িয়েছে। চাহিদার তুলনায় যোগান কম হওয়ায় আমরা দাম একটু বেশি পাচ্ছি। সার ও কীটনাশকের দাম যদি নাগালের মধ্যে থাকতো, তবে একটু স্বস্তি পেতাম।’ফুলের বাজার মূল্য নিয়ে ব্যবসায়ীরাও সন্তুষ্ট। সোহরাব নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমরা চাষিদের কাছ থেকে ফুল কিনে বিভিন্ন জেলায় বিক্রেতাদের কাছে পাঠাই। চলতি বছর শুরু থেকেই ফুলের দাম একটু বেশি। আমরা ক্রয়মূল্য থেকে সামান্য লাভ রেখে বিক্রি করি। এছাড়া ভোক্তা পর্যায়ে দাম অতিরিক্ত না হয়, সেদিকেও নজর রাখি। এই মাত্রায় যে লাভ হচ্ছে তাতে আমি সন্তুষ্ট।’রিপন হোসেন নামে অপর এক ব্যবসায়ী জানান, ‘ফুলের দাম মানের ওপর নির্ভর করে। বাজারে পর্যাপ্ত ফুল রয়েছে এবং চাহিদাও ভালো। ফলে বাজার এখন ভালো যাচ্ছে। চাষিরা ভালো দাম পাচ্ছেন, এতে আমাদেরও খুশি। চাষি ভালো থাকলে ব্যবসায়ীরাও ভালো থাকবেন।’এদিকে, গদখালী ফুল চাষি ও ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় চলতি বছর ফুলের দাম সন্তোষজনক। চাহিদা ও বাজার দর চাষিদের জন্য অনুকূলে রয়েছে। আমাদের প্রায় পাঁচ হাজার ফুল চাষি আছেন। তারা প্রত্যেকে যদি বিজয় দিবসকে সামনে রেখে অন্তত দশ হাজার টাকার ফুল বিক্রি করেন, তাহলে পাঁচ কোটি টাকার ফুল বিক্রি করা যাবে। তবে আমি আশাবাদী, বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান কেন্দ্র করে এর চেয়েও বেশি টাকার ফুল বিক্রি করবে এ অঞ্চলের চাষিরা।”কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, যশোরে প্রায় দেড় হাজার হেক্টর জমিতে চাষিরা ১৩ ধরনের ফুল চাষ করেন।এইচএ
    ‘দুর্নীতিবাজদের শাস্তি দিয়ে তাদের প্রতি ঘৃণার সাংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে’
    অতীতের দুর্নীতিবাজদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করে সমাজে তাদের প্রতি ঘৃণার সাংস্কৃতিক পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।মঙ্গলবার (০৯ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস উপলক্ষে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে দুদকের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত হয়ে এ আহ্বান জানান তিনি।সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ভবিষ্যতে যেন দুর্নীতি আর মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে এ জন্য প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। সেইসঙ্গে অতীতের দুর্নীতিবাজদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা এবং সমাজে তাদের প্রতি ঘৃণার সাংস্কৃতিক পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।তিনি বলেন, হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারকারীদের শুধু কারাগারে রাখলেই শাস্তি পূর্ণ হয় না। তাদের বিরুদ্ধে সমাজে ঘৃণার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। সামাজিক প্রতিরোধই দুর্নীতিকে ঠেকানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।অর্থ উপদেষ্টা আরও বলেন, ভবিষ্যতে দুর্নীতি বন্ধ করতে হলে কেবল আইনি ব্যবস্থাই নয়, সমগ্র সমাজকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সচেতন ও সক্রিয় হতে হবে। দুর্নীতিবাজদের সামাজিকভাবে বয়কট না করলে তাদের দৌরাত্ম্য কমবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।এমআর-২
    দেশের বাজারে কমেছে স্বর্ণের দাম
    দেশের বাজারে সবশেষ সমন্বয়ের মাধ্যমে কমানো হয়েছে স্বর্ণের দাম। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সবশেষ সমন্বয়কৃত দামেই দেশের বাজারে মূল্যবান এই ধাতু বিক্রি হচ্ছে।সবশেষ গত ২ ডিসেম্বর রাতে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে ১ হাজার ৫০ টাকা কমিয়েছে সংগঠনটি।সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ১১ হাজার ৯৫ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১ হাজার ৪৯৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৭২ হাজার ৭০৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৪৩ হাজার ৬৮৯ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে। এদিকে, বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস আরও জানায়, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে।এদিকে, বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস আরও জানায়, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে।এর আগে, সবশেষ গত ১ ডিসেম্বর দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সেদিন ভরিতে ১ হাজার ৫৭৫ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১২ হাজার ১৪৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি।এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২ হাজার ৪৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৭৩ হাজার ৫৭২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৪ হাজার ৪২৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। যা কার্যকর হয়েছিল ২ ডিসেম্বর থেকে।এ নিয়ে চলতি বছর মোট ৮৩ বার দেশের বাজারে সমন্বয় করা হলো স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম বাড়ানো হয়েছে ৫৬ বার, আর কমেছে মাত্র ২৭ বার। আর ২০২৪ সালে দেশের বাজারে মোট ৬২ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৩৫ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৭ বার।স্বর্ণের দাম বাড়ানো হলেও দেশের বাজারে অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। দেশে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ২৪৬ টাকায়।এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৪৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৪৭৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৬০১ টাকায়।চলতি বছর এখন পর্যন্ত ৯ বার সমন্বয় করা হয়েছে রুপার দাম। এর মধ্যে বেড়েছে ৬ বার, আর কমেছে মাত্র ৩ বার। আর গত বছর সমন্বয় করা হয়েছিল ৩ বার।এইচএ
    ডিসেম্বরের ১০ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১২৯ কোটি ডলার
    ডিসেম্বরের প্রথম ১০ দিনেই প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্সে নতুন গতি দেখা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে দেশে এসেছে ১২৯ কোটি মার্কিন ডলার, অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ১২ কোটি ৯০ লাখ ডলার।গতকাল বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন ‘গত বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ১০৯ কোটি ১০ লাখ ডলার। অর্থাৎ বছর ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে।’তিনি আরো বলেন, ‘শুধু ১০ ডিসেম্বর একদিনেই দেশে এসেছে ১২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স প্রবাহ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৩২ কোটি ৯০ লাখ ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮.৪০ শতাংশ বেশি।’এর আগে চলতি অর্থবছরের মধ্যে নভেম্বরেই রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল সর্বোচ্চ—মোট ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার।অক্টোবর ও সেপ্টেম্বরে এসেছে যথাক্রমে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার ডলার এবং ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার। আর আগস্ট ও জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এসেছে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার ও ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার।বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরজুড়ে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩০.৩২ বিলিয়ন (৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ) ডলার, যা দেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহের রেকর্ড।এইচএ
    আমদানির পরও কমেনি পেঁয়াজের দাম, স্বস্তি মৌসুমি সবজিতে
    শীতের আগমনে বাজারে সবজির আনাগোণা বৃদ্ধি পেলেও কমেনি দাম। বাজারে বেগুন, পেঁপেসহ কয়েকটি সবজির দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কিছুটা কমলেও মৌসুমি সবজি বিক্রি হচ্ছে আগের বাড়তি দামেই। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সবজির দামে এখনও লাগেনি শীতের ছোঁয়া; ফলে স্বস্তি মিলছে না ক্রেতাদের।বাজারে আমদানির পর পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমলেও এখনো সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তিদায়ক পর্যায়ে আসেনি। যদিও বাজারে মুড়িকাটা পেঁয়াজও বিক্রি হচ্ছে। তবে এখনো প্রতি কেজি পেঁয়াজ কিনতে গুনতে হচ্ছে ১০০ টাকার বেশি।বাজারে এখন নতুন আলুর দাম কমতির দিকে। প্রতি তিন কেজি আলুর প্যাকেজ হাঁকডাক দিয়ে বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। অর্থাৎ, কেজি পড়ছে ৩৩ টাকা। আর প্রতি কেজি নতুন আলু খুচরায় ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে।বাজারে দেখা গেছে, গত মৌসুমে উৎপাদিত প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ এখন ১৪০-১৫০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। আর বাজারে নতুন আসা মুড়িকাটা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা কেজি দরে, কোথাও কোথাও অবশ্য ১৩০ টাকাতেও বিক্রি করতে দেখা গেছে। অন্যদিকে, আমদানি করা পেঁয়াজ মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়।বিক্রেতা আবু হোসেন বলেন, দেশি পেঁয়াজের দাম বেশি থাকার কারণে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম কম হলেও তা দেশি পেঁয়াজের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চড়া দামে বিক্রি করছেন আমদানিকারকরা।তিন-চারদিন আগে পেঁয়াজ আমদানির খবরে দেশের পাইকারি বাজারে পণ্যটির দাম কেজিপ্রতি ২০-৩০ টাকা কমেছিল। কিন্তু শেষ দুদিনের মধ্যেই দাম আবার বেড়ে যায়।গত নভেম্বরের শুরুতে হঠাৎ অস্থির হয়ে ওঠে পেঁয়াজের বাজার। তখন ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি হওয়া পেঁয়াজের দাম ১১০-১২০ টাকায় স্থিতিশীল হয়। সবশেষ ১০-১২ দিন আগে ফের পেঁয়াজের বাজার অস্থির হয়ে ওঠে, দাম ওঠে ১৫০-১৬০ টাকায়। এরপরই আমদানির অনুমতি দেয় সরকার।পেঁয়াজের চড়া দামের মধ্যেও ভোক্তার স্বস্তি কিছুটা ফিরছে সবজিতে। কারণ, পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় নানান ধরনের সবজির দাম কমতে শুরু করেছে। এরমধ্যে গত দুই সপ্তাহের মধ্যে আলুর দাম নেমে এসেছে ৪০ টাকার নিচে।খুচরা বাজারে মানভেদে প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ৬০-৮০ টাকায়। গত সপ্তাহে ছিল ৮০ থেকে ১০০ টাকা। গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ১০ টাকা কমে বরবটি, বেগুন ও করলা বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। একইভাবে কেজিতে ঢ্যাঁড়স ও পটল বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকায়।অন্যদিকে, ফুলকপি ও বাঁধাকপির দাম আরও কমেছে। মাঝারি আকারের এ দুটি সবজির প্রতিটি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকায়।এছাড়া বেশ কয়েক মাস নিম্নমুখী ডিম ও মুরগির বাজার। ফার্মের ডিম প্রতি ডজন বিক্রি হচ্ছে ১১৫-১২০ টাকায়। পাড়া-মহল্লার দোকানে বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ১৩০ টাকা দামে।বাজারে এখন ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৫০-১৬০ টাকার মধ্যে। আর সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২৫০-২৭০ টাকায়। পোল্ট্রি মুরগির বিক্রেতারা বলছেন, শীতে সবজির প্রচুর সরবরাহ থাকলে মুরগি ও ডিমের চাহিদা কিছুটা কমে যায়। এ কারণেই দাম কমেছে।গত রোববার প্রতি লিটার বোতলজাত ও খোলা সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে যথাক্রমে ৬ ও ৭ টাকা। এছাড়া প্রতি লিটার পাম তেলের দাম ১৬ টাকা ও পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানো হয় ৩৩ টাকা। এতে বোতলজাত এক লিটার সয়াবিন তেলের দাম বেড়ে হয় ১৯৫ টাকা। যা আগে ছিল ১৮৯ টাকা।৫ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ৯২২ টাকা থেকে বেড়ে ৯৫৫ টাকা হয়েছে। এছাড়া এক লিটার খোলা সয়াবিনের দাম এখন ১৭৬ টাকা এবং প্রতি লিটার পাম তেল বিক্রি হচ্ছে ১৬৬ টাকায়। তবে বাজারে অন্য মুদি পণ্যগুলোর দাম অনেকটাই অপরিবর্তিত দেখা গেছে।এসএম
    ফের ৩২ বিলিয়ন ডলার ছাড়ালো রিজার্ভের পরিমাণ
    বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩২ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। তবে আইএমএফের নির্ধারিত বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করলে রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২৭ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলারে। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।গত বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩১ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলার। আর বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভ ছিল ২৭ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার।এর আগে গত ৬ নভেম্বর রিজার্ভ ৩২ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করেছিল। ওই সময়ে রিজার্ভ ছিল ৩২ দশমিক ৭১ বিলিয়ন ডলার আর বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে তা ছিল ২৮ বিলিয়ন ডলার।তবে এর তিনদিন পর ৯ নভেম্বর এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নে (আকু) সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের জন্য ১৬১ কোটি ডলার পরিশোধ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। আকুর দায় পরিশোধের পর দেশের গ্রস রিজার্ভ ৩১ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলারে অবস্থান করে। এরপর থেকে ৩০ ও ৩১ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে ছিল রিজার্ভ।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের জুলাইয়ে মে-জুন মেয়াদের আমদানি ব্যয়ের বিপরীতে বাংলাদেশ আকুকে ১ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছিল—যা ছিল সর্বশেষ বড় অঙ্কের বিল। এরপর ২০২৩ সালের পুরো সময়জুড়ে দ্বিমাসিক আকু বিল কমে ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের নিচে ছিল।২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর থেকে আকু বিল আবার বাড়তে শুরু করে। চলতি বছরের মে-জুনে বিলের পরিমাণ পৌঁছে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারে, যা গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর জাতিসংঘের এশিয়া অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন (ইউএনইএসক্যাপ) আকু প্রতিষ্ঠা করে। ইরানের তেহরানভিত্তিক এ সংস্থার মাধ্যমে ভারত, বাংলাদেশ, ভুটান, ইরান, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা—মোট ৯টি দেশের আঞ্চলিক লেনদেন নিষ্পত্তি করা হয়।অন্যদিকে, দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ের প্রবাহকে সহায়তা দিতে ব্যাংকগুলো থেকে অতিরিক্ত ডলার কিনছে বাংলাদেশ ব্যাংক।গতকাল বৃহস্পতিবার ১৬টি ব্যাংক থেকে মোট প্রায় ১৫ কোটি মার্কিন ডলার (১৪৯ মিলিয়ন ডলার) কেনা হয়েছে। এসময় প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২.২৫ টাকা থেকে ১২২.২৯ টাকা পর্যন্ত। কাট-অফ রেট ১২২.২৯ টাকা, যা মাল্টিপল প্রাইস নিলাম পদ্ধতির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে।চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ পর্যন্ত নিলাম পদ্ধতির মাধ্যমে মোট ২৬৬ কোটি ৩০ লাখ (২.৬৬ বিলিয়ন ডলার) ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংক গত ১৩ জুলাই থেকে নিলামের মাধ্যমে ডলার কেনা শুরু করে। ওই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এখন পর্যন্ত এই বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহ করা হয়েছে।এসএম
    দেশের বাজারে বেড়েছে স্বর্ণের দাম, ভরি কত?
    দেশের বাজারে বাড়ানো হয়েছে স্বর্ণের দাম। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ (শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর) থেকে স্বর্ণ বিক্রি হবে নতুন দামে। তবে আগের দামেই বিক্রি হবে রুপা।সবশেষ গত ১১ ডিসেম্বর রাতে দেয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে ১ হাজার ৫০ টাকা বাড়িয়েছে সংগঠনটি।নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ১২ হাজার ১৪৫ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২ হাজার ৪৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৭৩ হাজার ৫৭২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৪ হাজার ৪২৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।এদিকে, বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস আরও জানায়, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে।এর আগে, সবশেষ গত ২ ডিসেম্বর দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সেদিন ভরিতে ১ হাজার ৫০ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১১ হাজার ৯৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি।এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১ হাজার ৪৯৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৭২ হাজার ৭০৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৩ হাজার ৬৮৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। যা কার্যকর হয়েছিল ৩ ডিসেম্বর থেকে।এ নিয়ে চলতি বছর মোট ৮৪ বার দেশের বাজারে সমন্বয় করা হলো স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম বাড়ানো হয়েছে ৫৭ বার, আর কমেছে মাত্র ২৭ বার। আর ২০২৪ সালে দেশের বাজারে মোট ৬২ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৩৫ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৭ বার।স্বর্ণের দাম বাড়ানো হলেও দেশের বাজারে অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। দেশে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ২৪৬ টাকায়।এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৪৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৪৭৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৬০১ টাকায়।চলতি বছর এখন পর্যন্ত ৯ বার সমন্বয় করা হয়েছে রুপার দাম। এর মধ্যে বেড়েছে ৬ বার, আর কমেছে মাত্র ৩ বার। আর গত বছর সমন্বয় করা হয়েছিল ৩ বার।এইচএ
    দামে খুশি গদখালীর ফুল চাষিরা, ৫ কোটি টাকা ব্যবসার আশা
    বিজয় দিবসকে সামনে রেখে যশোরের গদখালীর ফুল চাষিরা মৌসুমের প্রথম বাজারে ভালো দাম পাচ্ছেন। চাহিদা বাড়ায় তারা আসন্ন ইংরেজি নববর্ষের বাজার নিয়েও আশাবাদী। এভাবে দাম থাকলে চলতি বছর লাভবান হওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন তারা। চাষি নেতারা বলছেন, বিজয় দিবসকে কেন্দ্র করে এ অঞ্চলের ফুল চাষিরা প্রায় ৫ কোটি টাকার ফুল বিক্রি করতে পারবেন।গত কয়েক মাসের পরিশ্রমে গদখালীর মাঠগুলোতে ফুটেছে গোলাপ, জারবেরা, গাঁদা, গ্ল্যাডিওলাস, রজনীগন্ধা, জিপসি, রডস্টিক, কেলেনডোলা, চন্দ্রমল্লিকা সহ বিভিন্ন প্রকারের ফুল। মৌসুমের প্রথম বাজারে চাষিরা ফুলের ভালো দাম পেয়েছেন।সরজমিনে দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) গোলাপ প্রতি পিস ৫-৭ টাকা, গ্ল্যাডিওলাস কালার ভেদে ৬-১৪ টাকা, জারবেরা ৮-১২ টাকা, রজনীগন্ধা ৫-৭ টাকা, একশ’ পিস চন্দ্রমল্লিকা ২০০-৩০০ টাকায় এবং এক হাজার হলুদ গাঁদা ৪০০ ও বাসন্তি কালারের গাঁদা ৬০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।চাষিদের মতে, গত কয়েক মাস ধরে ফুলের বাজার ভালো যাচ্ছে এবং আগামী দিনগুলোতে দাম আরও বাড়ার আশা রয়েছে। বিশেষ করে আসন্ন ইংরেজি নববর্ষের বাজার নিয়েও আশাবাদী। আজিজুর রহমান নামের এক ফুল চাষি বলেন, ‘বাজারের অবস্থা গত বছরের তুলনায় খুবই ভালো। সব ধরনের ফুলের দাম সন্তোষজনক। পহেলা জানুয়ারি পর্যন্ত এই দাম অব্যাহত থাকলে আগের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবো।’চাষি জালাল উদ্দিন জানান, ‘এবার জারবেরা, গাঁদা, গ্লাডিওলাস ও চন্দ্রমল্লিকা চাষ করেছি। গত এক মাস ধরে ফুলের দাম ভালো আছে। সামনের দিনগুলোতে দাম আরও বাড়বে। যদি এই উর্ধ্বগতি অব্যাহত থাকে, উৎপাদন খরচ উঠে যাবে এবং লাভও হবে।’আরেক চাষি আব্দুল মঈন বলেন, ‘৪০০ গোলাপ ফুল নিয়ে এসেছি। দাম ৫ টাকা প্রতি পিস বলা হয়েছে, কিন্তু আমি আরও একটু বেশি আশা করছি। সামনে বিজয় দিবস এবং আসন্ন শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) থেকে দাম বাড়বে। আশা করছি, এই দাম বাড়ার ধারা পহেলা জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে। চলতি বছর আমরা ফুল বিক্রি করে লাভবান হতে পারব।’গালিব হোসেন নামে আরেক চাষি বলেন, ‘চলতি বছর গরম থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত দাম স্থিতিশীল রয়েছে। গোলাপের দাম ৫ টাকার নিচে নামেনি। অন্যান্য ফুলের দামও সমানভাবে আছে। প্রতিদিন ফুলের দাম বাড়ছে। তবে মাঠে ফুলের ধরন কমে গেছে। আগে ১ বিঘা গোলাপ বাগান থেকে ২৫০০-২৬০০ ফুল পাওয়া যেত, এখন সেটা কমে ৫০০-৬০০ এ দাঁড়িয়েছে। চাহিদার তুলনায় যোগান কম হওয়ায় আমরা দাম একটু বেশি পাচ্ছি। সার ও কীটনাশকের দাম যদি নাগালের মধ্যে থাকতো, তবে একটু স্বস্তি পেতাম।’ফুলের বাজার মূল্য নিয়ে ব্যবসায়ীরাও সন্তুষ্ট। সোহরাব নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমরা চাষিদের কাছ থেকে ফুল কিনে বিভিন্ন জেলায় বিক্রেতাদের কাছে পাঠাই। চলতি বছর শুরু থেকেই ফুলের দাম একটু বেশি। আমরা ক্রয়মূল্য থেকে সামান্য লাভ রেখে বিক্রি করি। এছাড়া ভোক্তা পর্যায়ে দাম অতিরিক্ত না হয়, সেদিকেও নজর রাখি। এই মাত্রায় যে লাভ হচ্ছে তাতে আমি সন্তুষ্ট।’রিপন হোসেন নামে অপর এক ব্যবসায়ী জানান, ‘ফুলের দাম মানের ওপর নির্ভর করে। বাজারে পর্যাপ্ত ফুল রয়েছে এবং চাহিদাও ভালো। ফলে বাজার এখন ভালো যাচ্ছে। চাষিরা ভালো দাম পাচ্ছেন, এতে আমাদেরও খুশি। চাষি ভালো থাকলে ব্যবসায়ীরাও ভালো থাকবেন।’এদিকে, গদখালী ফুল চাষি ও ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় চলতি বছর ফুলের দাম সন্তোষজনক। চাহিদা ও বাজার দর চাষিদের জন্য অনুকূলে রয়েছে। আমাদের প্রায় পাঁচ হাজার ফুল চাষি আছেন। তারা প্রত্যেকে যদি বিজয় দিবসকে সামনে রেখে অন্তত দশ হাজার টাকার ফুল বিক্রি করেন, তাহলে পাঁচ কোটি টাকার ফুল বিক্রি করা যাবে। তবে আমি আশাবাদী, বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান কেন্দ্র করে এর চেয়েও বেশি টাকার ফুল বিক্রি করবে এ অঞ্চলের চাষিরা।”কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, যশোরে প্রায় দেড় হাজার হেক্টর জমিতে চাষিরা ১৩ ধরনের ফুল চাষ করেন।এইচএ
    ‘দুর্নীতিবাজদের শাস্তি দিয়ে তাদের প্রতি ঘৃণার সাংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে’
    অতীতের দুর্নীতিবাজদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করে সমাজে তাদের প্রতি ঘৃণার সাংস্কৃতিক পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।মঙ্গলবার (০৯ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস উপলক্ষে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে দুদকের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত হয়ে এ আহ্বান জানান তিনি।সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ভবিষ্যতে যেন দুর্নীতি আর মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে এ জন্য প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। সেইসঙ্গে অতীতের দুর্নীতিবাজদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা এবং সমাজে তাদের প্রতি ঘৃণার সাংস্কৃতিক পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।তিনি বলেন, হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারকারীদের শুধু কারাগারে রাখলেই শাস্তি পূর্ণ হয় না। তাদের বিরুদ্ধে সমাজে ঘৃণার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। সামাজিক প্রতিরোধই দুর্নীতিকে ঠেকানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।অর্থ উপদেষ্টা আরও বলেন, ভবিষ্যতে দুর্নীতি বন্ধ করতে হলে কেবল আইনি ব্যবস্থাই নয়, সমগ্র সমাজকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সচেতন ও সক্রিয় হতে হবে। দুর্নীতিবাজদের সামাজিকভাবে বয়কট না করলে তাদের দৌরাত্ম্য কমবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।এমআর-২

    শিক্ষাঙ্গন

    সব দেখুন
    প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড নিয়ে যা বললেন উপদেষ্টা
    প্রাথমিক শিক্ষকদের আন্দোলন এবং ১১তম গ্রেড নিয়ে উপদেষ্টা বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেছেন, বেতন কমিশন বিষয়টি নির্ধারণ করবে। তিনি জানান, ‘আমরা আমাদের অবস্থানগুলো ইতিমধ্যেই পৌঁছে দিয়েছি। সিদ্ধান্তে জড়িত সকলের সঙ্গে আলাপচারিতা হয়েছে, আশা করা যায় এটি বাস্তবায়িত হবে।’শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সকালে ময়মনসিংহের জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) কার্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, ইন্সট্রাক্টর ও নেপের সহকারী বিশেষজ্ঞদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সনদ বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে উপদেষ্টা এই মন্তব্য করেন।তিনি বলেন, ‘পরীক্ষা রেখে আন্দোলন করা যুক্তিযুক্ত ছিল না। আমরা তাদের দাবিকে অযৌক্তিক বলছি না। শিক্ষকরা পরে বিষয়টি বুঝে আন্দোলন প্রত্যাহার করেছেন। আন্দোলনের কারণে শিক্ষার্থীরা মন খারাপ করলেও তা পুনরায় পরীক্ষা দিয়ে ঠিক করা সম্ভব।’নতুন বই বিতরণের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের জন্য প্রায় সব বই জেলা পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। ১ জানুয়ারি থেকে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। ইতিমধ্যেই সব বই আমাদের হাতে এসেছে।’প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন প্রসঙ্গে উপদেষ্টা জানান, ‘শিক্ষক হওয়ার আগে একটি কোর্স চালু করা হয়েছে, যা জানুয়ারি থেকে শুরু হবে। যারা শিক্ষায় আগ্রহী এবং শিক্ষক হতে চান, তারা ডিপ্লোমা ইন প্রাইমারি এডুকেশন (ডিপিএড) করবেন। এতে তারা পেশাগত দক্ষতা অর্জন করবে এবং শিক্ষকতার মান উন্নত হবে।’আরডি
    ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ: জবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিল
    ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা।শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ক্যাম্পাসের মূল ফটক থেকে এই বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি তাঁতিবাজার মোড় প্রদক্ষিণ করে বিশ্বজিৎ চত্বরে এসে সমবেত হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে শিক্ষার্থীরা ওসমান হাদির ওপর হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের দাবি করেন।এসময় শিক্ষার্থীরা ‘জ্বালো রে জ্বালো, আগুন জালো’, ‘হাদির ওপর হামলা কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘সন্ত্রাসীদের আস্তানা, ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও’, ‘আমার ভাই হাসপাতালে, ইন্টেরিম কি করে’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকে।পদার্থবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী মাসুদ রানা বলেন, ‘ওসমান হাদির ওপর এই হামলা শুধু জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা হাদির ওপর হামলা নয় বরং এই হামলা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর হামলা। পাঁচ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে গুপ্ত হামলা শুরু হয়েছে। আমরা ইন্টেরিম সরকারকে দ্রুত এই হত্যার বিচার নিশ্চিতের দাবি জানাই।’গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ইভান তাহসিব বলেন, ‘এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়, একটা গণঅভ্যুত্থানের পরে দিবালোকে একজন রাজনৈতিক কর্মীকে গুলি করা হয়েছে। ইন্টেরিম সরকার যে সংস্কারের কথা বলেছিলেন তা বাস্তবায়ন না হওয়ার ফলেই এই ঘটনা ঘটেছে। মানুষের জানমালের নিরাপত্তা আজ হুমকির মুখে। আমরা অবিলম্বে এই সন্ত্রাসী হামলাকারীদের বিচারের দাবি জানাই।’পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের শিক্ষার্থী ফাতেমা আক্তার অওরিন বলেন, ‘চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের পর আমরা চেয়েছিলাম স্বাধীনভাবে বাঁচতে। এত রক্তের বিনিময়ে পাওয়া এই স্বাধীনতা অর্জনের পরে আমরা যখন দিনেদুপুরে একজন মানুষের ওপর এমন নৃশংস হামলা দেখি; তখন সত্যিই সেটি উদ্বেগের। আমরা ওসমান হাদির ওপর হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের দাবি করছি।’ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী ফেরদৌস শেখ বলেন, ‘আর কত রক্ত দিলে বাংলাদেশ বাংলার মানুষের হবে। বারবার আমরা রক্ত দিয়েছি বাংলাদেশকে আজাদ করার জন্য। কিন্তু বারবার আমরা দেখছি একদল স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী আমাদের সেই আকাঙ্ক্ষাকে বিনষ্ট করেছে।’ভূমি ব্যবস্থাপনা ও আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, ‘ওসমান হাদির ওপর এই অতর্কিত হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। স্বৈরাচার হাসিনার বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর ওসমান হাদির ওপর হামলাকারীদের দ্রুত বিচার দাবি করছি।’প্রসঙ্গত, আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর রাজধানীর বিজয়নগরে বক্স কালভার্ট রোডে ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।এসএম
    শেষ হলো এমবিবিএস ও বিডিএস ভর্তি পরীক্ষা
    অনুষ্ঠিত হলো ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস ও বিডিএস ভর্তি পরীক্ষা। পরীক্ষায় অংশ নেন ১ লাখ ২২ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী। সরকারি বেসরকারি মিলিয়ে মোট আসন ১৩ হাজার ৫১টি৷ প্রতি আসনের বিপরীতে লড়ছেন ৯ জন করে শিক্ষার্থী।আজ শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) সকালে সোয়া ১ ঘণ্টা সারা দেশে একযোগে ১৭টি কেন্দ্রের ৪৯টি ভেন্যুতে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে সকাল ৮ থেকে কেন্দ্রে আসতে শুরু করে পরীক্ষার্থীরা। নির্দেশ অনুযায়ী কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হয় সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যেই৷ এরপর ১০টায় শুরু হয় পরীক্ষা, চলে ১১টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত। এবার নতুন যোগ হওয়া মানবিক গুণাবলি বিষয়ের কারণে শিক্ষার্থীরা ১৫ মিনিট বেশি পেয়েছেন। পরীক্ষা শুরুর পর কেন্দ্রের বাইরে অপেক্ষা করেন অভিভাবকরা। উৎকণ্ঠিত অভিবাবকদের কাউকে কাউকে দেখা যায় সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করতে। তাদের প্রত্যাশা, সন্তানরা চিকিৎসক হয়ে ঘুনে ধরা স্বাস্থ্য ব্যবস্থার হাল ধরবেন। সেই সঙ্গে সরকারি মেডিকেলে আসন বৃদ্ধিরও দাবি জানান তারা।পরীক্ষা শেষে উচ্ছ্বসিত দেখা যায় ভর্তিচ্ছুদের। তারা জানান, সুযোগ পেলে মানুষের সেবা করবেন। এছাড়া প্রথমবার অভিন্ন প্রশ্নে এমবিবিএস ও বিডিএস পরীক্ষা নিয়েও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে। তবে, সন্তুষ্ট প্রশ্নের মান নিয়ে।এইচএ
    ওসমান হাদী গুলিবিদ্ধ, সাদিক কায়েমের হুঁশিয়ারি
    আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ ঘটনায় কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম।শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এ হুঁশিয়ারি দেন তিনি।সাদিক কায়েম লিখেন, ‘ওসমান হাদীকে গুলি করা হলো। চাঁদাবাজ ও গ্যাংস্টারদের কবল থেকে ঢাকা সিটিকে মুক্ত করতে অচিরেই আমাদের অভ্যুত্থান শুরু হবে। রাজধানীর ছাত্র-জনতাকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।’এর আগে, জুমার নামাজের পর রাজধানীর পল্টনের বিজয়নগর এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন শরিফ ওসমান হাদী। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়েছে।পুলিশের রমনা বিভাগের ডিসি মাসুদ আলম সাংবাদিকদের জানান, আমি শুনেছি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তবে কোথায় তা আমরা জানি না।ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. ফারুক বলেন, দুপুর আড়াইটার পর পরইই তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তার বাম কানের নিচে গুলিবিদ্ধ হয়েছে। অবস্থা আশঙ্কাজনক।এমআর-২

    তথ্য-প্রযুক্তি

    সব দেখুন
    ফেসবুক অ্যাপে বড় পরিবর্তন
    মেটা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফেসবুক এবার তার মূল উদ্দেশ্যগুলোতে ফিরে আসছে বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ, ছবি শেয়ার এবং মার্কেটপ্লেস। বেশ কিছু বছর মেটাভার্সে মনোনিবেশ করার পর, এবার খরচ কমানো এবং ব্যবহারকারীর আগ্রহ ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে তারা নতুন করে ফেসবুকের অভিজ্ঞতা পরিবর্তন করছে।বিশ্বজুড়ে ব্যবহারকারীর সংখ্যা অগণিত হলেও, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রসহ কিছু বাজারে তরুণ ব্যবহারকারীর প্রবৃদ্ধি থেমে গিয়েছিল। তাই জেন–জেড প্রজন্মকে ধরে রাখার জন্য ফেসবুক নতুন ফিচার নিয়ে এসেছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো মার্কেটপ্লেসের গুরুত্ব বৃদ্ধি। মার্কেটপ্লেস এখন তরুণদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়, কিন্তু আগে এটি অ্যাপের ‘More’ মেনুর ভিতরে ছিল। নতুন আপডেটে মার্কেটপ্লেসকে নিচের নেভিগেশন বারে তুলে আনা হয়েছে, যেখানে থাকবে রিলস ও বন্ধু সংক্রান্ত অপশন।ফেসবুকে বন্ধুত্ব-কেন্দ্রিক অভিজ্ঞতা আরও জোরদার করতে প্রোফাইল ট্যাব আগের অবস্থানে রাখা হয়েছে এবং ব্যবহারকারীরা তাদের পছন্দ মতো সেটিংস কাস্টমাইজ করতে পারবে। ছবি দেখার ধরনও বদলানো হয়েছে—ডাবল ট্যাপ করে ইনস্টাগ্রামের মতো লাইক করা যাবে এবং ছবিগুলো একটি গ্রিডে সাজানো হবে, ক্লিক করলে ফুল স্ক্রিনে দেখা যাবে। সার্চ পেজেও ইন্টারেকটিভ গ্রিড ডিজাইন যোগ করা হচ্ছে, যাতে ছবি ও ভিডিও আরও গভীরভাবে দেখা যাবে। স্টোরি ও পোস্ট তৈরি করাও সহজ হচ্ছে, মিউজিক যোগ করা এবং বন্ধু ট্যাগ করার সুবিধা সামনে আনা হয়েছে।কমেন্ট সেকশনেও নতুন ফিচার এসেছে, যেমন সহজ রিপ্লাই, বেশি দৃশ্যমান ব্যাজ, পিনিং টুল এবং মডারেশন টুল উন্নত করা হয়েছে। বিরক্তিকর মন্তব্য অ্যানোনিমাস রিপোর্ট করার সুবিধাও দেয়া হয়েছে। ব্যবহারকারীরা ফিডে কোন পোস্ট পছন্দ না হলে তার কারণ জানাতে পারবে, যা ফিডকে আরও ব্যক্তিগতকৃত করবে।সবশেষে, ফেসবুকে প্রোফাইলে আগ্রহ, শখ, ভ্রমণ তথ্যসহ নানা তথ্য যোগ করা যাবে, যা মিল থাকা বন্ধুদের সঙ্গে সংযোগ বাড়াবে। তবে এই তথ্য ফিডে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে যাবে না; ব্যবহারকারী চাইলে বন্ধ করতে পারবে।পরিবর্তনগুলো আগামী কয়েক সপ্তাহে সারা বিশ্বে চালু হবে, যদিও নেভিগেশন, সার্চ ও কমেন্ট সংক্রান্ত কিছু পরিবর্তন শুধুমাত্র মোবাইল সংস্করণে দেখা যাবে। ফেসবুকের এই নতুন দিকনির্দেশনা মূলত ব্যবহারকারীর বন্ধুত্ব এবং যোগাযোগকে সহজ ও আরও আকর্ষণীয় করে তোলার লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে।এইচএ
    আনঅফিসিয়াল মোবাইল ফোন নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত
    আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হচ্ছে ন্যাশনাল ইক্যুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) সিস্টেম। এ অবস্থায় মজুত ও পাইপলাইনে থাকা আনঅফিসিয়াল বিক্রি নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত হয়েছে।নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অননঅফিসিয়াল ফোন বিক্রির জন্য বিক্রেতারা মার্চ মাস পর্যন্ত সময় পাবেন। অর্থাৎ মার্চ পর্যন্ত আনঅফিসিয়াল ফোন কিনলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তা নিবন্ধিত হবে। এসব ফোন বন্ধ হবে না। মার্চ মাসের পর থেকে আর আনঅফিসিয়াল ফোন বিক্রির আরও কোনো সুযোগ থাকবে না।বুধবার (১০ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে হ্যান্ডসেট উৎপাদক, বিটিআরসি ও মোবাইল ব্যবসায়ীদের মধ্যে হওয়া বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশের সভাপতি মো. আসলাম।এ বিষয়ে আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) সরকার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করবেন বলেও জানান তিনি। এদিকে, সন্ধ্যা ৬টার দিকে এনইআইআর সিস্টেম সংস্কারের দাবিতে কারওয়ান বাজারে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন ব্যবসায়ীরা।মোবাইল ফোন বিক্রেতাদের আন্দোলন বিষয়ে তিনি বলেন, সবার সঙ্গে আলোচনা করে আন্দোলন প্রত্যহারের বিষয়ে ঘোষণা দেয়া হবে।আরডি
    চ্যাটজিপিটি থেকে কপি-পেস্ট করে পড়াচ্ছেন শিক্ষকেরা
    শিক্ষা ক্ষেত্রে গত কয়েক বছর ধরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়তে থাকায় এক নতুন চ্যালেঞ্জের সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাজ্যের স্ট্যাফোর্ডশায়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন যে তাদের জন্য এআই ব্যবহার করে কোর্স ও লেকচার তৈরি করা হচ্ছে।শিক্ষার্থীদের দাবি, এআই দিয়ে তৈরি এসব কোর্সে সন্দেহজনক ফাইলের নাম ও অপ্রত্যাশিত ভয়েসওভার উচ্চারণ শোনা যাচ্ছে, যা পড়াশোনার মান কমিয়ে দিচ্ছে। তাদের মতে, কোর্সের বেশিরভাগ অংশ এআই-নির্ভর হওয়ায় তারা শিক্ষকের জ্ঞান ও পড়ানোর অভিজ্ঞতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জেমস ও ওয়েনসহ ৪১ জন শিক্ষার্থী ২০২৪ সালে স্ট্যাফোর্ডশায়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে কোডিং মডিউলের ওপর কোর্সে ভর্তি হন। এই কোর্সের উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ বা সফটওয়্যার প্রকৌশলী হওয়ার কৌশল শেখানো। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, পুরো এক টার্ম ধরে কোর্সটিতে এআই দিয়ে তৈরি স্লাইড ও মাঝে মাঝে একটি এআই ভয়েসওভার ব্যবহার করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা এটিকে তাদের জীবনের দুই বছর নষ্ট করার শামিল বলে অভিযোগ করেছেন এবং এর মাধ্যমে সবচেয়ে সস্তা উপায়ে কোর্স তৈরি করা হয়েছে বলে মনে করছেন। শিক্ষার্থীদের প্রধান ক্ষোভের কারণ হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিমুখী নীতি। শিক্ষার্থীদের যদি তাদের বাড়ির কাজ বা ক্লাসে এআই ব্যবহার করতে দেখা যায়, তবে তাদের নীতি লঙ্ঘনে অভিযুক্ত করা হয় এবং একাডেমিক অসদাচরণ হিসেবে গণ্য করা হয়। অথচ তাদেরই এআই দিয়ে পড়ানো হচ্ছে। এক অধ্যাপকের সঙ্গে বিতর্কের সময় শিক্ষার্থী জেমস এই অসঙ্গতির কথা তুলে ধরেন।বারবার বিশ্ববিদ্যালয়কে এআই-নির্ভর লেকচার সম্পর্কে জানানো হলেও কর্তৃপক্ষ এখনো কোর্স শেখানোর জন্য এআই দিয়ে তৈরি সামগ্রী ব্যবহার করছে এবং একটি বিবৃতির মাধ্যমে এআই ব্যবহারের ন্যায্যতা দেওয়ার চেষ্টা করছে।যুক্তরাজ্যের শিক্ষা বিভাগ এআই ব্যবহারকে শিক্ষার উন্নয়নে স্বাগত জানালেও, শিক্ষকদের জন্য উপকারী প্রমাণিত হলেও শিক্ষার্থীদের জন্য এটি হতাশাজনক হিসেবে প্রমাণিত হচ্ছে। একটি জরিপে দেখা গেছে, তিন হাজার ২৮৭ জন শিক্ষকের মধ্যে প্রায় এক-চতুর্থাংশ তাদের শিক্ষাদানে এআই টুল ব্যবহার করছেন।অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষার্থীরা অনলাইনে এআই ব্যবহারকারী অধ্যাপকদের সম্পর্কে নেতিবাচক রিভিউ পোস্ট করে অভিযোগ করছেন যে শিক্ষকেরা চ্যাটজিপিটি থেকে কপি-পেস্ট করে এনে পড়াচ্ছেন।স্ট্যাফোর্ডশায়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ঘটনা শিক্ষা ক্ষেত্রে এআইয়ের ব্যবহার ও নৈতিকতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ানএইচএ
    জাপানের বাজারে এলো মানব ওয়াশিং মেশিন
    জাপানের বাজারে এসেছে ‘মানব ওয়াশিং মেশিন’। ব্যবহারকারী একটি পডে শুয়ে ঢাকনা বন্ধ করলেই কাপড়ের মতো পরিষ্কার হয়ে যাবে।‘হিউম্যান ওয়াশার অব দ্য ফিউচার’ নামের এই যন্ত্রের একটি মডেল গত অক্টোবরে ওসাকায় এক প্রদর্শনীতে প্রদর্শন করা হয়। সে সময় যন্ত্রটি দেখার জন্য দীর্ঘ লাইন পড়ে গিয়েছিল। জাপানি প্রতিষ্ঠান ‘সায়েন্স’ যন্ত্রটি তৈরি করেছে। এটি ১৯৭০ সালে ওসাকায় আয়োজিত এক্সপোতে প্রদর্শিত একটি পুরোনো পণ্যের আধুনিক সংস্করণ। গত শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) নির্মাতা কোম্পানি সায়েন্স-এর মুখপাত্র সাচিকো মায়েকুরা বলেন, ‘আমাদের কোম্পানির প্রেসিডেন্ট তখন ১০ বছরের শিশু ছিলেন। সেই প্রদর্শনী থেকেই তিনি অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই মেশিন শুধু শরীর নয়, মনও পরিষ্কার করে দেবে।’ একই সাথে ব্যবহারকারীর হৃদস্পন্দন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক লক্ষণও পর্যবেক্ষণ করবে।ওসাকার একটি হোটেল প্রথম ক্রেতা হিসেবে একটি মানব ওয়াশিং মেশিন কিনেছে এবং অতিথিদের জন্য সেবা চালু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।মূখপাত্র মায়েকুরা বলেন, ‘মেশিনটির মূল আকর্ষণ হলো- এটি খুবই বিরল একটি যন্ত্র। আমরা প্রায় ৫০টি মেশিন বানানোর পরিকল্পনা করছি।’ যন্ত্রটির বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ কোটি ইয়েন (৩ লাখ ৮৫ হাজার মার্কিন ডলার)।এইচএ
    ১৬ ডিসেম্বর থেকে অনিবন্ধিত মুঠোফোন বন্ধে কঠোর সরকার
    সরকার ১৬ ডিসেম্বর থেকে মোবাইল হ্যান্ডসেট নিবন্ধন প্রক্রিয়া (এনইআইআর) চালু করতে যাচ্ছে। যা টেলিযোগাযোগ খাতে নিরাপত্তা জোরদার ও অনিবন্ধিত মোবাইল ফোন ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করবে। এই নতুন উদ্যোগের ফলে দেশের মোবাইল নেটওয়ার্কে নিবন্ধনবিহীন, চুরি হওয়া কিংবা অনুমোদনবিহীন আমদানি করা মোবাইল ফোন ব্যবহারের সুযোগ বন্ধ হয়ে যাবে।নতুন ব্যবস্থার আগাম ঘোষণা পাওয়ার পর অনিবন্ধিত মোবাইল ডিভাইসের দাম বাড়ার আশঙ্কায় বাজারে ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে। তবে সাধারণ মানুষ বিশেষত ছাত্র-যুবকরা অভিযোগ করছেন, সরকারি শুল্ক ও ভ্যাটের কারণে অফিসিয়াল ফোনের দাম অনেক বেড়ে যাওয়ায় তারা পছন্দের ফোন কেনার সুযোগ পাচ্ছেন না। একটি ২০ হাজার টাকার ফোনে ৫৭ শতাংশ ভ্যাট যুক্ত হয়ে এর দাম ৫০ হাজার টাকারও বেশি হয়ে যাচ্ছে।অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা অনিবন্ধিত ফোন আমদানিতে ৫৭ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি তুলেছেন। মোবাইল বিজনেস কমিউনিটির সভাপতি মো. আসলাম বলেন, সরকার যদি আলোচনায় না আসে, তাহলে ব্যবসায়ীরা রাজপথে নামার পথে বাধ্য হবে।ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যব জানান, দেশে ৭৩ শতাংশ ডিজিটাল প্রতারণায় অবৈধ স্মার্টফোন ব্যবহৃত হচ্ছে, যা বন্ধ করতে সরকার এই কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, মোবাইল ফোন চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত একটি বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থে এই উদ্যোগের বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে।নির্বাচনের আগে অবৈধ ডিভাইসকেন্দ্রিক অপরাধ দমন, সুলভ দামে মোবাইল সরবরাহ, অভ্যন্তরীণ বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি এই লক্ষ্য নিয়েই ১৬ ডিসেম্বর থেকে এনইআইআর কার্যকর করার সিদ্ধান্ত সরকার নেয়।আইসিটি বিভাগ জানিয়েছে, এনইআইআর চালুর আগের দিন পর্যন্ত নেটওয়ার্কে থাকা সব মোবাইল ফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হবে। পরবর্তীতে বিদেশ থেকে ফোন আনার ক্ষেত্রে অনলাইনে নিবন্ধনের সুযোগ থাকবে। এইচএ
    সারাদেশে মোবাইল ফোনের দোকান বন্ধ, বিটিআরসি ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি
    সিন্ডিকেট প্রথা বিলোপ ও মোবাইল ফোন আমদানির সুযোগ উন্মুক্ত করাসহ নানা দাবিতে সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য আজ থেকে মোবাইল ফোনের দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন মোবাইল ব্যবসায়ীরা। দাবি না মানলে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কার্যালয় ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা।আজ রবিবার (৭ ডিসেম্বর) সকাল থেকে এ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। ঢাকায় মোবাইল ফোনের বেশিরভাগ দোকান বন্ধ রাখতে দেখা গেছে। আগামী ১৬ ডিসেম্বর চালু হতে যাওয়া ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্ট্রার (এনইআইআর) সংস্কার, সিন্ডিকেট প্রথা বিলোপ ও মোবাইল ফোন আমদানির সুযোগ উন্মুক্ত করাসহ কয়েকটি দাবি আদায়ে এ কর্মসূচি করছেন তারা।এদিকে, দাবি আদায়ে মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কার্যালয় ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।শনিবার (৬ ডিসেম্বর) রাতে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেয় মোবাইল ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি (এমবিসিবি)।বাংলাদেশ মোবাইল বিজনেস কমিউনিটির সাধারণ সম্পাদক আবু সায়ীদ পিয়াস জানান, দাবি আদায়ে রোববার সকাল থেকেই সারাদেশে মোবাইল ফোনের দোকান বন্ধ রেখেছেন। ব্যবসায়ীরা এখন বিটিআরসি কার্যালয়ের সামনে জড়ো হচ্ছেন। সেখানে অবস্থান কর্মসূচি করা হবে।মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এনইআইআর বাস্তবায়ন হলে লাখো ব্যবসায়ী ও তাদের পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। নতুন এ নিয়মের ফলে শুধুমাত্র একটি বিশেষ গোষ্ঠী লাভবান হবে এবং বাড়তি করের চাপে গ্রাহক পর্যায়েও মোবাইলের দাম বেড়ে যাবে।ব্যবসায়ীদের যত অভিযোগ ও দাবিমোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা জানান, দেশের মোবাইল ফোন ব্যবসার মার্কেট শেয়ার যাদের ৭০ শতাংশের বেশি, তাদের সঙ্গে বসে আলোচনা করে এনইআইআর চালু করতে হবে। কোনোভাবেই তারা এনইআইআরের বিরুদ্ধে না। তবে এ প্রক্রিয়ার কিছু সংস্কার, ন্যায্য করনীতি প্রণয়ন, একচেটিয়া সিন্ডিকেট বিলোপ এবং মুক্ত বাণিজ্যের স্বার্থে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে তাদের কিছু দাবি ও প্রস্তাবনা রয়েছে। এ বিষয়ে তাদের ব্যাখ্যা সরকারকে জানাতে চান। কিন্তু কর্তৃপক্ষ তাদের বিশাল সংখ্যক ব্যবসায়ীর কথা না শুনেই একতরফা এনইআইআর চালু করতে যাচ্ছে।ব্যবসায়ী নেতাদের অভিযোগ, কোনো পূর্ব-পরামর্শ ছাড়াই হঠাৎ এনইআইআর বাস্তবায়নের ঘোষণা বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি করেছে। ফলে দেশের প্রায় ২৫ হাজার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং এর সঙ্গে জড়িত ২০ লাখেরও বেশি মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে। তারা বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে ব্যাংক থেকে শত শত কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন। বর্তমানে তাদের স্টকে কোটি কোটি টাকার হ্যান্ডসেট রয়েছে। আগামী ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে এ বিপুল পরিমাণ অবিক্রিত হ্যান্ডসেট বিক্রি করা অসম্ভব। দাবি না মেনে গুটিকয়েক ব্যবসায়ীকে একচেটিয়া ব্যবসার সুযোগ করে দিলে তারা পথে বসবেন।এমবিসিবির নেতারা জানান, এনইআইআরের বর্তমান কাঠামো যদি অপরিবর্তিতভাবে বাস্তবায়িত হয়, তাহলে শুল্ক ৫৭ শতাংশ হোক কিংবা শূন্য শতাংশ, কোনো অবস্থাতেই বৈধ উপায়ে মোবাইল ফোন আমদানি সম্ভব হবে না। কারণ বিটিআরসির আমদানি নীতিমালায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, কোনো বিদেশি ব্র্যান্ড যদি স্থানীয়ভাবে তাদের পণ্য সংযোজন করে, তাহলে সেই ব্র্যান্ডের কোনো মডেল অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান আমদানি করতে পারবে না।তাদের অভিযোগ, এ নীতিমালা কার্যত মনোপলি ব্যবসার সুযোগ তৈরি করছে। এর ফলে বাজারে বিদ্যমান প্রতিযোগিতা বিলুপ্ত হবে এবং প্রায় ১৮ কোটি মানুষের মোবাইল ফোন বাজারের নিয়ন্ত্রণ গুটিকয়েক প্রতিষ্ঠানের হাতে চলে যাবে। একই সঙ্গে স্মার্টফোনের দাম আকস্মিকভাবে বেড়ে যাবে এবং সাধারণ ভোক্তারা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এইচএ  

    আইন-আদালত

    সব দেখুন
    হাদিকে গুলি করা সন্ত্রাসীরা শনাক্ত, যেকোনো সময় গ্রেপ্তার: ডিএমপি কমিশনার
    ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী শরিফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করা সন্ত্রাসীদের শনাক্ত করেছে পুলিশ। যেকোনো সময় তাদের গ্রেপ্তার করা হতে পারে। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) রাত ১২টার দিকে দেশের একটি অন্যতম টিভি চ্যানেলকে এ তথ্য জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।তিনি জানান, ওসমান হাদিকে গুলি করা সন্ত্রাসীদের শনাক্ত করা হয়েছে। যেকোনো সময় তাদের গ্রেপ্তার করা হবে। এ বিষয়ে কাজ চলছে।এফএস

    প্রবাস

    সব দেখুন
    গ্রিসে পানি ভেবে পেট্রোল পান করে ২ বাংলাদেশির মৃত্যু, অসুস্থ ৪০
    গ্রিসে অবৈধভাবে নৌপথে অনুপ্রবেশের চেষ্টায় ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন প্রায় ৪০ জন বাংলাদেশি। তীব্র শীত ও ক্ষুধার পাশাপাশি মানবপাচারকারীদের নৌকায় পানি ভেবে পেট্রোল পান করায় তারা মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের মধ্যে দুই বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে।নিহতরা হলেন– সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার আব্দুস মিয়ার পুত্র শাকিব আহমেদ শুভ, একই জেলার জিতু উল্লাহর পুত্র সায়েম আহমেদ।গ্রিসের বাংলাদেশ দূতাবাস জানায়, গত ২৬ নভেম্বর ছোট নৌকায় লিবিয়া থেকে গ্রিস অভিমুখে যাত্রা শুরু করেন। মাঝ সমুদ্রে তাদের প্লাস্টিকের তৈরি নৌকাটি ছিদ্র হয়ে পানি প্রবেশ করে। পথে তাদের কাছে কোনো খাবার ছিল না। তারা প্রচণ্ড ক্ষুধার্ত ও তৃষ্ণার্ত ছিলেন। প্রায় দু’দিন খাবার না পেয়ে তারা প্রচণ্ড ক্ষুধার্ত অবস্থায় পানি ভেবে বোতলে থাকা পেট্রোল পান করেন। এতে অনেকেই অচেতন হয়ে পড়েন। পরে গ্রিসের কোস্টগার্ড ও স্থানীয় পুলিশ তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।এদিকে, এথেন্সের এক্সার্খিয়া এলাকার একটি হাসপাতাল এ ঘটনায় বাংলাদেশ দূতাবাসকে অবহিত করলে দূতাবাস তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশিদের খোঁজখবর নেয়। দূতাবাসের প্রথম সচিব রাবেয়া বেগম হাসপাতালে গিয়ে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলেন ও চিকিৎসার খোঁজ নেন।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, পেট্রোল পান করার কারণে তাদের অনেকের পাকস্থলী ও শ্বাসযন্ত্রে গুরুতর জটিলতা দেখা দিয়েছে। শারীরিক দুর্বলতা, পানিশূন্যতা ও হাইপোথার্মিয়ার কারণে চিকিৎসা আরও জটিল হয়ে উঠেছে। পেট্রোল পান করার কারণেই দুই জনের মৃত্যুসহ বাকি চার জনের অবস্থা গুরুতর ছিল। এছাড়াও একজনের কিডনিতে পেট্রোলের প্রভাব পড়েছে, যার কারণে তার কিডনি ডায়ালাইসিস চলমান রয়েছে। বাকিদের অবস্থা শঙ্কামুক্ত থাকায় দু’দিন পর তাদের হাসপাতাল থেকে রিলিজ করে দেওয়া হবে। এছাড়াও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তাদের মালাকাসা ক্যাম্পে পাঠানো হবে বলে জানানো হয়।আটকরা জানান, দালাল চক্রের মাধ্যমে নৌকায় গ্রিসে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করার সময় পর্যাপ্ত খাবার বা পানি দেওয়া হয়নি। অমানবিক অবস্থায় ভ্রমণ করতে গিয়ে তারা জীবনের ঝুঁকিতে পড়েন।এথেন্সের বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব রাবেয়া বেগম বলেন, মানবপাচারকারীদের হাত থেকে দূরে থাকতে এবং কোনোভাবেই অবৈধভাবে সমুদ্রপথে গ্রিসে যাওয়ার চেষ্টা না করতে সর্বসাধারণকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে। একইসঙ্গে হাসপাতালে থাকা বাংলাদেশিদের প্রয়োজনীয় সব সহযোগিতা করা হচ্ছে।তিনি আরও বলেন, অবৈধ পথে অনুপ্রবেশ জীবনের জন্য ভয়াবহ ঝুঁকি। গ্রিসে বৈধভাবে আসার পথ ছাড়া অন্য কোনো উপায় গ্রহণ করা উচিত নয়।নিহত দুই যুবকের মরদেহ দেশে পাঠাতে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে দূতাবাস।এ ঘটনায় গ্রিসে অবস্থানরত প্রবাসীদের মধ্যেও ব্যাপক উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। মানবিক সহায়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দূতাবাস, গ্রিক পুলিশ ও হাসপাতাল প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করছে।এমআর-২

    লাইফস্টাইল

    সব দেখুন
    ঔষধি গুণে ভরপুর প্রকৃতির অলৌকিক ভেষজ উদ্ভিদ 'ফুরফুরি গাছ'
    গ্রাম-বাংলার অতি পরিচিত একটি গুল্ম হল ফুরফুরি গাছ। এর বৈজ্ঞানিক নাম Scoparia dulcis। ক্ষেতের আইল বা পরিত্যাক্ত জায়গায় গাছটি প্রায়শই চোখে পড়ে। এর হালকা মিষ্টি স্বাদ এবং পাতা ঘষলে এক প্রকার সুগন্ধ বের হওয়ার কারণে এটি অনেকের কাছেই পরিচিত। এই সাদামাটা গাছটি আদতে আমাদের ঐতিহ্যবাহী ভেষজ চিকিৎসায় এক অমূল্য রত্ন।​প্রচলিত নাম ও পরিচিতি: ​ফুরফুরি গাছকে অঞ্চলভেদে বিভিন্ন নামে ডাকা হয়। যেমন, মিষ্টি ঝাড়ু (Sweet Broomweed), চিনি গাছ (চিনির মতো মিষ্টি স্বাদের জন্য), বন মরিচ,বন তুলসি। এই গাছটি বহুবর্ষজীবী এবং প্রায় এক ফুট পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। এর পাতাগুলো ছোট, ডিম্বাকার এবং ফুলগুলো ক্ষুদ্রাকৃতির, সাধারণত সাদা রঙের।​ফুরফুরি গাছের বৈজ্ঞানিক ভেষজ গুণাগুণ: ​আধুনিক গবেষণা এবং লোক-চিকিৎসা উভয়ই ফুরফুরি গাছের অসাধারণ ভেষজ গুরুত্ব তুলে ধরেছে। এর মূল, কাণ্ড, পাতা সবকিছুই ঔষধি গুণে ভরপুর।ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে: ​ফুরফুরি গাছের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এটি রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। এতে থাকা ফ্লাভোনয়েডস (Flavonoids) এবং ট্রাইটারপেনয়েডস (Triterpenoids) নামক যৌগগুলি ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়াতে এবং গ্লুকোজের শোষণ কমাতে সহায়ক হতে পারে। ঐতিহ্যগতভাবে, ডায়াবেটিস রোগীরা এর পাতার রস বা ক্বাথ সেবন করে থাকেন।​উচ্চ রক্তচাপ কমাতে: ​এই ভেষজটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, ফুরফুরি গাছের নির্যাস রক্তনালীকে শিথিল করে এবং মূত্রবর্ধক হিসেবে কাজ করে, যা উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন কমাতে সহায়তা করে।​জ্বর ও প্রদাহ উপশমে: ​ফুরফুরি গাছের ক্বাথ বা পাতার রস জ্বর কমাতে বা জ্বরনাশক (Antipyretic) হিসেবে খুবই উপকারী। একইসঙ্গে, এতে থাকা যৌগসমূহ শরীরের অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক প্রদাহ (Inflammation) কমাতে সাহায্য করে। এটি বাতের ব্যথা বা ফোলা কমাতে লোক-চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শক্তি: ​ফুরফুরি গাছ হলো প্রাকৃতিক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট-এর ভান্ডার। এই অ্যান্টি-অক্সিডেন্টগুলি শরীরের ক্ষতিকারক ফ্রি র‍্যাডিকেলস (Free Radicals) এর বিরুদ্ধে লড়াই করে, যা কোষের ক্ষয় রোধ করে এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগ যেমন হৃদরোগ ও ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে পারে।​যকৃতের সুরক্ষায়: ​ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসায়, এই গাছটিকে যকৃত (Liver)-এর সুরক্ষার জন্য ব্যবহার করা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, ফুরফুরি গাছের নির্যাস যকৃতের কোষকে টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থের হাত থেকে রক্ষা করতে সক্ষম।​ব্যবহারের প্রথাগত পদ্ধতি। ফুরফুরি গাছ সাধারণত নিম্নলিখিত উপায়ে ব্যবহার করা হয়।ব্যবহারের ক্ষেত্র প্রস্তুত প্রণালী ও উপকারিতা** ডায়াবেটিস পাতার টাটকা রস বা শুকনো পাতার ক্বাথ রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। ** জ্বর/সর্দি-কাশিতে এই গাছের পাতা ও কাণ্ডের সাথে আদা মিশিয়ে ক্বাথ তৈরি করে নিতে হবে। ফলে জ্বর কমায়, শ্বাসযন্ত্রের আরাম দেয়।** পেটের সমস্যা মূল ও পাতার পেস্ট অল্প পরিমাণে সেবন করতে হবে। হজম উন্নত করে, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।** পাতার পেস্ট বা রস ত্বকের ক্ষতস্থানে সরাসরি প্রয়োগ করতে হবে।ফলে দ্রুত আরোগ্য এবং সংক্রমণ রোধ হবে।সতর্কতা: ​ফুরফুরি গাছ একটি প্রাকৃতিক ভেষজ হলেও, এর ব্যবহারে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। যেকোনো ভেষজ চিকিৎসার ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থায় বা গুরুতর অসুস্থতায় চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যিক। ডায়াবেটিসের ওষুধ গ্রহণকারী ব্যক্তিরা এই গাছ সেবন করলে রক্তে শর্করার মাত্রা অতিরিক্ত কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে।​উল্লেখ্য, ফুরফুরি গাছ কেবল একটি আগাছা নয়, এটি আমাদের প্রকৃতির এক নীরব চিকিৎসক। এর বহুমুখী ভেষজ গুণাগুণ এটিকে আধুনিক ফার্মাসিউটিক্যাল গবেষণার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে স্থান দিয়েছে। প্রয়োজন শুধু এই অমূল্য সম্পদকে সংরক্ষণ করা এবং সঠিক বৈজ্ঞানিক উপায়ে এর গুণাগুণকে কাজে লাগানো।এইচএ

    Loading…