এইমাত্র
  • আজ দে‌শের স‌র্বোচ্চ তাপমাত্রা চুয়াডাঙ্গায়
  • বাংলাদেশি পর্যটকদের ৩ দিন ভারত ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা
  • চার বিভাগে হিট অ্যালার্ট জারি আবহাওয়া অফিসের
  • খারকিভে চলছে ‘কঠিন লড়াই’: জেলেনস্কি
  • সবুজবাগে নির্মাণাধীন ভবনের মাচা ভেঙে নিহত ৩ শ্রমিক
  • আবারো চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছুঁই ছুঁই
  • চুয়াডাঙ্গায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাইসাইকেল আরোহী নিহত
  • সিরাজগঞ্জে কভার্ডভ্যানে মিলল ২১৬ কেজি গাঁজা, গ্রেপ্তার ২
  • টাঙ্গাইলের ১৬ সরকারি অফিসে ওড়ে না জাতীয় পতাকা
  • ১০ হাজারের বেশি বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাবে যুক্তরাজ্য
  • আজ শনিবার, ৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ | ১৮ মে, ২০২৪
    বাংলাদেশি পর্যটকদের ৩ দিন ভারত ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা
    ভারতে তিন দিনের জন্য ট্যুরিস্ট ভিসায় বাংলাদেশিদের ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।ভারতের পশ্চিমবঙ্গে লোকসভা নির্বাচনের কারণে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। আজ শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়।ভারতের পুলিশ ইমিগ্রেশনের বরাতে বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আযহারুল ইসলাম জানান, আজ শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে আগামী সোমবার ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত শুধু চিকিৎসা ভিসা ও ভারতীয় পাসপোর্টধারী যাত্রীরা ভারত ভ্রমণে যেতে পারবে। ২১ মে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে।পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা নির্বাচন অফিসারের সই করা এক চিঠিতে বলা হয়, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য সব আন্তর্জাতিক রুট সিলগালা করা প্রয়োজন। ফলে ১৭ মে সন্ধ্যা থেকে ২০ মে ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের আমদানি-রপ্তানি বন্ধসহ ট্যুরিস্ট ভিসায় যাতায়াত বন্ধ করা হয়েছে। শুধু মেডিকেল ভিসায় ভারত যাওয়া যাবে।বেনাপোল বন্দর পরিচালক রেজাউল করিম বলেন, লোকসভা নির্বাচনের কারণে তিন দিন ট্যুরিস্ট ভিসায় ভারত ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তবে ট্যুরিস্ট, স্টুডেন্ট ও বিজনেস ভিসায় যাত্রী যাতায়াত বন্ধ থাকলেও জরুরি মেডিকেল ভিসাধারীরা ভারতে যেতে পারবেন।এফএস
    চার বিভাগে হিট অ্যালার্ট জারি আবহাওয়া অফিসের
    সারা দেশে কয়েক দিন ধরে তীব্র গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা। একের পর এক বিভিন্ন অঞ্চলে জারি করা হচ্ছে হিট অ্যালার্ট। এবার চার বিভাগে হিট অ্যালার্ট জারি করেছে আবহাওয়া অফিস। শুক্রবার (১৭ মে) বিকেলে আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হকের স্বাক্ষর করা সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, ঢাকা বিভাগের পশ্চিমাঞ্চলসহ রংপুর, রাজশাহী এবং খুলনা বিভাগের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে তাপপ্রবাহ। এ পরিস্থিতি শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা অব্যাহত থাকতে পারে। জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। এর আগে গত বুধবার (১৫ মে) সন্ধ্যায় রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগে ৪৮ ঘণ্টার হিট অ্যালার্ট জারি করা হয়। এ ছাড়া গত এপ্রিলে বেশ কয়েকবার তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে হিট অ্যালার্ট জারি করা হয়েছিল। এদিকে অপর এক আবহাওয়া বার্তায় বলা হয়েছে, শনিবার (১৮ মে) সকাল পর্যন্ত সিলেট বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেইসঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া পুরো সপ্তাহজুড়ে দেশের অনেক জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। এতে কমতে পারে তাপমাত্রা।এমএইচ

    জাতীয়

    সব দেখুন
    দেশে সব ধরনের জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদ পুলিশের নিয়ন্ত্রণে: আইজিপি
     পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেছেন, জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ দমনে পুলিশ সাফল্যজনক ভূমিকা পালন করছে। এরই মধ্যে দেশে সব ধরনের জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।শুক্রবার (১৭ মে) দুপুরে সুনামগঞ্জ শহর পুলিশ ফাঁড়ির নবনির্মিত স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্ট উদ্বোধন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।পুলিশপ্রধান বলেন, প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের পর পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে তিনি আন্তরিকভাবে কাজ করছেন। পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের দেশ-বিদেশে ট্রেনিং দিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশের যুগোপযোগী করে গড়ে তুলেছেন।তিনি বলেন, পুলিশের সব মেধা-শ্রম মানুষের কল্যাণে ব্যয় হবে। আমরা দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে পেরে গর্বিত।এ সময় সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ এহসান শাহ, সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি খালেদ চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।এমএইচ 
    রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মূর্তিমান আতঙ্ক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আরসা: র‌্যাব
    র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার আরাফাত ইসলাম বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মূর্তিমান আতঙ্ক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আরসা। তারা অপহরণ, লুণ্ঠন, হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত। এর আগে নানা অভিযানে এ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর ১১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ছাড়া বিপুল বিস্ফোরক ও অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। র‌্যাবের অব্যাহত নজরদারি ও তৎপরতায় আরসা নেতৃত্বশূন্য হয়ে যায়।শুক্রবার (১৭ মে) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ানবাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।কমান্ডার আরাফাত ইসলাম বলেন, বর্তমানে পাশের দেশের অন্তর্ঘাতমূলক ঘটনায় আমাদের দেশে অস্ত্র ও বিস্ফোরক প্রবেশ করছে বলে তথ্য পাওয়া যায়। এমন তথ্যের ভিত্তিতেই বৃহস্পতিবার লাল পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর এ তৎপরতা নিষ্ক্রিয় করার জন্য স্থানীয় থানাসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আমাদের নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে। আমাদের গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত আছে, যখনই তথ্য পাচ্ছি অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।এমএইচ
    ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে মিলাদ পড়তে দেয়নি জিয়াউর রহমান: প্রধানমন্ত্রী
    জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর তাদের দুবোনকে দেশে আসতে দেো হয়নি। শুধুমাত্র দেশের মানুষের কথা ভেবে সব বাধা উপেক্ষা করে তিনি ফিরে এসেছেন বলে জানালেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় দুঃখ প্রকাশ করে আরও বলেন, ‘ওইদিন ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে আমাদের ঢুকতে দেয়নি জিয়াউর রহমান; মিলাদ পড়তেও দেয়নি।’আজ শুক্রবার (১৭ মে) সকালে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে গণভবনে শুভেচ্ছা জানাতে গেলে দলের নেতাদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী।  শেখ হাসিনা বলেন, ‘সব থেকে বড় কথা হলো আমি যখন যাই, তখন কামাল, জামাল, রাসেল -- সবাই এয়ারপোর্টে ছিল। আর আমি যখন ফিরে আসলাম তখন ওরা কেউ নেই। এয়ারপোর্টে হাজার হাজার মানুষ আমাকে নিতে এসেছিল। ৩২ নম্বরে আমরা মিলাদ করতে চাইলাম। কিন্তু জিয়াউর রহমান ঢুকতে দেয়নি।’তিনি বলেন, ‘উল্টো বলেছে, গাড়ি দিবে, বাড়ি দিবে। আমি বলেছি, আমি কিছুই নিবো না। খুনির কাছ থেকে আমি কিছু নিতে পারি না।’  প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি যখন দিল্লিতে ছিলাম, তখন জিয়াউর রহমান দেখা করতে চেয়েছিল, আমরা দেখা করিনি। লন্ডনে থাকার সময়ও জিয়াউর রহমান দেখা করতে চেয়েছিল, আমরা দেখা করিনি। আর যখন আমি আসলাম, তখন আমাকে ৩২ নম্বরে ঢুকতে দিলো না।’দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটানোর প্রত্যয় নিয়ে দেশে ফিরেছিলাম জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি যখন ফিরে আসলাম তখনও জানতাম না কই থাকবো, কই খাবো। কিন্তু আমার সাথে আওয়ামী লীগের হাজার হাজার মানুষ ছিল। তারাই আমার শক্তি ছিল। একটা প্রত্যয় নিয়ে এসেছিলাম, আমার আব্বা সারা জীবন কষ্ট করেছে। আওয়ামী লীগের অগণিত নেতাকর্মীরা জেল খেটেছে, কষ্ট করেছে। জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণ হয়নি। উল্টো মানুষের অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাবো -- মাথায় কেবল এ চিন্তাটাই ছিল।’শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজকে শেখ মুজিব নেই। কিন্তু এটুকু বলতে পারি তিনি যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছিলেন, তার কিছুটা হলেও আমরা পূরণ করতে পেরেছি। আমার সব শক্তি-সাহস আমি আমার মা-বাবার কাছ থেকে পেয়েছি। যতোদিন বেঁচে থাকবো ততোদিন এ দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাবো। এ মানুষগুলোই এখন আমার শক্তি।’এমএইচ
    বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে প্রচণ্ড চাপে আছে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী
     বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে সব দিক থেকেই প্রচণ্ড চাপে আছে বাংলাদেশ। এবারের বাজেটে জিডিপির হার কিছুটা কম হবে, তবে পরবর্তীতে তা ঠিক হয়ে যাবে। এ কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।আজ শুক্রবার (১৭ মে) সকালে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। অর্থনীতির বড়ো বড়ো সংজ্ঞা বুঝি না উল্লেখ করে শেখ হাসিনা জানান, তিনি শুধু বোঝেন দেশের মানুষের উন্নয়ন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, রফতানির ক্ষেত্র তৈরি করার পাশাপাশি নিজেদের বাজারও তৈরি করতে হবে। বেসরকারি খাত যত বেশি উন্নত হবে কর্মসংস্থান ততোবেশি বাড়বে। আরও কী কী পণ্য রফতানি করা যায় তা অর্থনীতিবিদদের খুঁজে বের করার আহ্বান জানান তিনি।শেখ হাসিনা বলেন, সামরিক সরকার ক্ষমতায় আসলে দুর্নীতিই তাদের নীতি হয়ে যায়। আওয়ামী লীগ দেশের মানুষের অর্থনৈতিক, সামাজিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন ও কল্যাণের জন্যই দেশে ফিরে এসে কাজ শুরু করেন বঙ্গবন্ধু। আর বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নেই কাজ করছে সরকার।সরকারপ্রধান বলেন ফসল উৎপাদন, রাস্তা-ঘাট, গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তি সকল ক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য কাজ করেছেন বঙ্গবন্ধু। বাংলাদেশের জন্য অসাধ্য সাধন করে গিয়েছেন জাতির পিতা। সরকার, বেসরকারি ও সমবায়খাতে আমূল পরিবর্তন এসেছে আওয়ামী লীগের আমলে।এমএইচ
    র‌্যাবের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়ে যা বলল যুক্তরাষ্ট্র
      র‌্যাবের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করছে, এটি সঠিক নয় বলে জানিয়েছে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট।বৃহস্পতিবার (১৭ মে) স্থানীয় স্টেট ডিপার্টমেন্টের নিয়মিত ব্রিফিংএ স্টেট ডিপার্টমেন্টের পক্ষে নিষেধাজ্ঞার পক্ষে শক্ত অবস্থান জানান দেন উপপ্রধান মুখপাত্র বেদান্ত প্যাটেল।ব্রিফিংয়ে অংশ নেওয়া এক সাংবাদিক জানতে চান- বাংলাদেশ সফররত যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লুর সঙ্গে একটি বৈঠক শেষে ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ উপদেষ্টা সাংবাদিকদের বলেছেন, র‌্যাবের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হোয়াইট হাউস এবং স্টেট ডিপার্টমেন্ট কাজ করছে। এ বিষয়ে জাস্টিস ডিপার্টমেন্টকে বলা হয়েছে এবং প্রসেসের মধ্যে আছে। এমন দাবি কী সত্য? ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং বিচারবহির্ভুত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের র‍‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন ( র‌্যাব)’র ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।জবাবে বেদান্ত প্যাটেল বলেন, এমন দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা। যুক্তরাষ্ট্র র‍‍্যাবের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করছে না। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এ দাবিগুলো মিথ্যা। নিষেধাজ্ঞা সমুহ আরোপ করা হয়েছে আচরণ পরিবর্তন এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে।প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার রাতে বাংলাদেশে সফররত সহকারী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লুর সঙ্গে বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান সাংবাদিকদের বলেন, জাস্টিস ডিপার্টমেন্টকে হোয়াইট হাউস থেকে র‌্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে বলা হয়েছে। আমরা র‌্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও বঙ্গবন্ধুর খুনি রশিদ চৌধুরীকে ফেরানোর কথা বলেছি। লু আমাদের জানিয়েছেন, এ বিষয় দুটি তাদের জাস্টিস ডিপার্টমেন্টে আছে। তাদের জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট স্বাধীন। তারা বলেছে এটি পুশ করছে, সাপোর্ট দিচ্ছে। লু বলেছেন- হোয়াইট হাউস থেকেও জাস্টিস ডিপার্টমেন্টকে বলা হয়েছে র‌্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে।এমএইচ
    শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ
    আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৪৪তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর ১৯৮১ সালের ১৭ই মে দীর্ঘ নির্বাসন জীবন শেষে তিনি বাংলার মাটিতে ফিরে আসেন। এদিন বিকাল সাড়ে ৪টায় ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে তিনি ভারতের রাজধানী দিল্লি থেকে কলকাতা হয়ে ঢাকার তৎকালীন কুর্মিটোলা বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট কালরাতে বিপথগামী একদল সেনা কর্মকর্তার নির্মম বুলেটের আঘাতে ইতিহাসের নৃশংসতম হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। এসময় বিদেশে থাকায় আল্লাহর অশেষ রহমতে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ভূলুণ্ঠিত করে বাঙালি জাতির অস্তিত্বকে বিপন্ন করতে নানামুখী ষড়যন্ত্র শুরু করে ঘাতক গোষ্ঠী। বাঙালি জাতির জীবনে জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসে ঘোর অমানিশার অন্ধকার। ঠিক তেমনি এক ক্রান্তিলগ্নে ১৯৮১ সালের ১৪, ১৫ ও ১৬ই ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তাকে সংগঠনের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। সামরিক শাসকের রক্তচক্ষু ও নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ১৯৮১ সালের ১৭ই মে প্রিয় স্বদেশ ভূমিতে প্রত্যাবর্তন করেন শেখ হাসিনা। দীর্ঘ ৬ বছর নির্বাসিত জীবন শেষে বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে ফিরে আসেন তিনি।সেদিন রাজধানী ঢাকা মিছিলের নগরীতে পরিণত হয়। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ঢাকা শহর মিছিল আর স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া আর প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টিও সেদিন লাখ লাখ মানুষের মিছিলকে গতিরোধ করতে পারেনি। কুর্মিটোলা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও শেরেবাংলা নগর পরিণত হয় জনসমুদ্রে। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে এক নজর দেখতে সেদিন সারা বাংলাদেশের মানুষের গন্তব্য ছিল রাজধানী ঢাকা। স্বাধীনতার অমর স্লোগান,  ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ ধ্বনিতে প্রকম্পিত হয় বাংলার আকাশ-বাতাস। জনতার কণ্ঠে বজ্রনিনাদে ঘোষিত হয়েছিল ‘হাসিনা তোমায় কথা দিলাম পিতৃ হত্যার বদলা নেব’; ‘ঝড়-বৃষ্টি আঁধার রাতে আমরা আছি তোমার সাথে’।‘শেখ হাসিনার আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম’। দেশে ফিরে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও স্বপ্ন বাস্তবায়নের দৃঢ় অঙ্গীকার, বঙ্গবন্ধু হত্যা ও জাতীয় চার নেতা হত্যার বিচার, স্বৈরতন্ত্রের চির অবসান ঘটিয়ে জনগণের হারানো গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা, সার্বভৌম সংসদীয় পদ্ধতির শাসন ও সরকার প্রতিষ্ঠার শপথ নিয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন শেখ হাসিনা। সেদিন বিকাল সাড়ে চারটায় আকাশে যখন শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমানটি দেখা যায় তখন সকল নিয়ন্ত্রণ আর অনুরোধ আবেদন অগ্রাহ্য করে হাজার হাজার মানুষ বিমান বন্দরের ভেতরে ঢুকে যায়। অনেকটা ঝুঁকি নিয়েই বিমানটি অবতরণ করে।জনতা একেবারেই বিমানের কাছে চলে যায়। বহু চেষ্টার পর জনতার  স্রোতকে কিছুটা সরিয়ে ট্রাকটি ককপিটের দরজার একেবারে সামনে নেয়া হয়। এই সময়ে শেখ হাসিনা ভেতর থেকে জনতার উদ্দেশ্যে হাত নাড়েন। বেলা ৪টা ৩২ মিনিটে শেখ হাসিনা বিমান থেকে সিঁড়ি দিয়ে ট্রাকে নেমে আসেন। কুর্মিটোলা থেকে শেখ হাসিনার শেরেবাংলা নগরে এসে পৌঁছতে সময় লাগে ৩ ঘণ্টা। এই সময় ঝড়-বৃষ্টিতে নগর জীবন প্রায় বিপন্ন। রাস্তাঘাটে স্বাভাবিক জীবন যখন ব্যাহত তখন সেখানে অপেক্ষা করে কয়েক লাখ মানুষ। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় তিনি গণসংবর্ধনা মঞ্চে উপস্থিত হন। ১৯৮১ সালের ১৭ই মে ঝড়-বাদল আর জনতার আনন্দাশ্রুতে অবগাহন করে শেরেবাংলা নগরে লাখ লাখ জনতার সংবর্ধনার জবাবে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘সব হারিয়ে আমি আপনাদের মাঝে এসেছি, বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে তার আদর্শ বাস্তবায়নের মধ্যদিয়ে জাতির পিতার হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণে আমি জীবন উৎসর্গ করতে চাই। তিনি আরও বলেছিলেন, আমার আর হারাবার কিছুই নেই। পিতা-মাতা, ভাই রাসেলসহ সকলকে হারিয়ে আমি আপনাদের কাছে এসেছি, আমি আপনাদের মাঝেই তাদেরকে ফিরে পেতে চাই। আপনাদের নিয়েই আমি বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে তা বাস্তবায়ন করে বাংলার দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে চাই। বাঙালি জাতির আর্থ-সামাজিক তথা সার্বিক মুক্তি ছিনিয়ে আনতে চাই। ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্যদিয়ে শেখ হাসিনার নিরবচ্ছিন্ন দীর্ঘ সংগ্রাম শুরু হয়। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে সামরিক জান্তা ও স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে চলে তার অকুতোভয় সংগ্রাম। জেল-জুলুম, অত্যাচার কোনো কিছুই তাকে তার পথ থেকে টলাতে পারেনি এক বিন্দু। শত প্রতিকূলতাতেও হতোদ্যম হননি কখনো। বাংলার মানুষের হারিয়ে যাওয়া অধিকার পুনরুদ্ধার করতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি বার বার স্বৈরাচারের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করেছেন। শেখ হাসিনার দীর্ঘ ৪৩ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের এই পথচলা কখনোই কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না, ছিল কণ্টকাপূর্ণ ও বিপদসংকুল। গণমানুষের মুক্তির লক্ষ্যে আন্দোলন সংগ্রাম করার অপরাধে তাকে বারবার ঘাতকদের হামলার শিকার ও কারা নির্যাতন ভোগ করতে হয়েছে। কিন্তু তিনি বাংলার মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং নীতি ও আদর্শের প্রশ্নে ছিলেন পিতার মতোই অবিচল, দৃঢ় ও সাহসী। জনগণের ভালোবাসায় অভিষিক্ত হয়ে টানা তৃতীয় বারসহ চতুর্থ বারের মতো রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেয়ে তিনি দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং সকল শ্রেণি ও পেশার মানুষের কল্যাণে যুগান্তকারী অবদান রেখে চলেছেন।এফএস
    বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থা একসময় বিশ্বে রোল মডেল হবে: ইসি হাবিব
    বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থা একসময় বিশ্বে রোল মডেল হবে বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আহসান হাবিব খান। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় যশোর জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত নির্বাচনী মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এমন মন্তব্য করেন তিনি।ইসি আহসান হাবিব খান বলেন, ‘বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থা একসময় বিশ্বে রোল মডেল হবে। প্রথম ধাপের উপজেলা নির্বাচনে সারা দেশে গড়ে ৩৬ শতাংশ ভোটার এসেছে। এটিকে কম বলব না। ধান কাটার মৌসুম, গরম ও ভোটারদের প্রার্থী দেখে পছন্দ হয়নি বলেই ভোটার উপস্থিতি কিছুটা কমেছে। তবে এ অবস্থা উন্নতির দিকে যাচ্ছে।’তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে কোনো প্রার্থী যদি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা কোনো ঝামেলা করার চেষ্টা করে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। প্রার্থীর বিরুদ্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগ করা হবে। একই সঙ্গে কিশোর গ্যাংয়ের পৃষ্ঠপোষকদেরও ছাড় দেওয়া হবে না।’এ নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদরা ভোটারদের কাছে যেতে পারছেন। আর এ যাওয়ার পরিবেশ তৈরি করতে পেরেছে নির্বাচন কমিশন। গত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ এবং উপজেলা পরিষদের প্রথম ধাপের নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দর হয়েছে। সামনের নির্বাচনগুলো আরও ভালো হবে।সাংবাদিকদের উদ্দেশে আহসান হাবিব খান বলেন, ‘এই কমিশন সাংবাদিকদের সুরক্ষায় আইন করেছে। নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করার সময় কেউ যদি সাংবাদিকদের আহত কিংবা ক্যামেরা ভাঙচুর করে তাহলে তার শাস্তি হবে। তবে, নির্বাচনের সময় কিছু মৌসুমি সাংবাদিক হাজির হয়। তারা কারও পক্ষে, আবার কারও বিপক্ষে প্রচার-অপপ্রচার করে। এ বিষয়টির প্রতিও আমাদের লক্ষ রাখতে হবে।’উপজেলা নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের (এমপি) ভূমিকা নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এমপিরা কেবল ভোট দিতে পারবেন। তারা কোনো প্রার্থীর পক্ষে প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারবেন না।এফএস
    শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আগামীকাল
    আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৪৪তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আগামীকাল। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর ১৯৮১ সালের ১৭ মে দীর্ঘ নির্বাসন জীবন শেষে তিনি বাংলার মাটিতে ফিরে আসেন। এদিন বিকেল সাড়ে ৪টায় ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে তিনি ভারতের রাজধানী দিল্লী থেকে কোলকাতা হয়ে তৎকালীন ঢাকা কুর্মিটোলা বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান।১৯৭৫ সালের ১৫আগস্ট কালরাতে বিপদগামী একদল সেনা কর্মকর্তার নির্মম বুলেটের আঘাতে ইতিহাসের নৃশংসতম হত্যাকান্ডের মাধ্যমে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে। এসময় বিদেশে থাকায় আল্লাহর অশেষ রহমতে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের পর স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ভূলুণ্ঠিত করে বাঙালি জাতির অস্তিত্বকে বিপন্ন করতে নানামুখী ষড়যন্ত্র শুরু করে ঘাতক গোষ্ঠী।বাঙালি জাতির জীবনে জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসে ঘোর অমানিশার অন্ধকার। ঠিক তেমনি এক ক্রান্তিলগ্নে ১৯৮১ সালের ১৪, ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তাঁকে সংগঠনের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। দেশমাতৃকার মুক্তির সংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়ার পবিত্র দায়িত্ব অর্পণ করা হয় জাতির পিতার জ্যেষ্ঠ কন্যার হাতে। বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বকে ভয় পায় ঘাতক গোষ্ঠী। খুনি সামরিক জান্তা জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করতে না দেওয়ার জন্য সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।সামরিক শাসকের রক্তচক্ষু ও নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ১৯৮১ সালের ১৭ মে প্রিয় স্বদেশ ভূমিতে প্রত্যাবর্তন করেন শেখ হাসিনা। দীর্ঘ ৬ বছর নির্বাসিত জীবন শেষে বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে ফিরে আসেন তিনি। সেদিন রাজধানী ঢাকা মিছিলের নগরীতে পরিণত হয়। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ঢাকা শহর মিছিল আর স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া আর প্রচন্ড ঝড়-বৃষ্টিও সেদিন লাখ লাখ মানুষের মিছিলকে গতিরোধ করতে পারেনি। কুর্মিটোলা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও শেরেবাংলা নগর পরিণত হয় জনসমুদ্রে।বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে এক নজর দেখতে সেদিন সারা বাংলাদেশের মানুষের গন্তব্য ছিল রাজধানী ঢাকা। স্বাধীনতার অমর স্লোগান, ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ ধ্বনিতে প্রকম্পিত হয় বাংলার আকাশ-বাতাস। জনতার কণ্ঠে বজ্রনিনাদে ঘোষিত হয়েছিল ‘হাসিনা তোমায় কথা দিলাম পিতৃ হত্যার বদলা নেব’; ‘ঝড়-বৃষ্টি আঁধার রাতে আমরা আছি তোমার সাথে’। ‘শেখ হাসিনার আগমন, শুভেচ্ছায় স্বাগতম’।দেশে ফিরে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও স্বপ্ন বাস্তবায়নের দৃঢ় অঙ্গীকার, বঙ্গবন্ধু হত্যা ও জাতীয় চার নেতা হত্যার বিচার, স্বৈরতন্ত্রের চির অবসান ঘটিয়ে জনগণের হারানো গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা, সার্বভৌম সংসদীয় পদ্ধতির শাসন ও সরকার প্রতিষ্ঠার শপথ নিয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন শেখ হাসিনা।সেদিন বিকেল সাড়ে চারটায় আকাশে যখন শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমানটি দেখা যায় তখন সকল নিয়ন্ত্রণ আর অনুরোধ আবেদন অগ্রাহ্য করে হাজার হাজার মানুষ বিমান বন্দরের ভেতরে ঢুকে যায়। অনেকটা ঝুঁকি নিয়েই বিমানটি অবতরণ করে। জনতা একেবারেই বিমানের কাছে চলে যায়। বহু চেষ্টার পর জনতার ¯্রােতকে কিছুটা সরিয়ে ট্রাকটি ককপিটের দরজার একেবারে সামনে নেয়া হয়। এই সময়ে শেখ হাসিনা ভেতর থেকে জনতার উদ্দেশ্যে হাত নাড়েন।বেলা ৪টা ৩২ মিনিটে শেখ হাসিনা বিমান থেকে সিঁড়ি দিয়ে ট্রাকে নেমে আসেন। কুর্মিটোলা থেকে শেখ হাসিনার শেরেবাংলা নগরে এসে পৌঁছতে সময় লাগে ৩ ঘন্টা। এই সময় ঝড় বৃষ্টিতে নগর জীবন প্রায় বিপন্ন। রাস্তাঘাট স্বাভাবিক জীবন যখন ব্যাহত তখন সেখানে অপেক্ষা করে কয়েক লাখ মানুষ। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় তিনি গণসংবর্ধনা মঞ্চে উপস্থিত হন।১৯৮১ সালের ১৭ মে ঝড়-বাদল আর জনতার আনন্দাশ্রুতে অবগাহন করে শেরে বাংলা নগরে লাখ লাখ জনতার সংবর্ধনার জবাবে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘সব হারিয়ে আমি আপনাদের মাঝে এসেছি, বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে তাঁর আদর্শ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে জাতির পিতার হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণে আমি জীবন উৎসর্গ করতে চাই।’তিনি আরও বলেছিলেন, ‘আমার আর হারাবার কিছুই নেই। পিতা-মাতা, ভাই রাসেলসহ সকলকে হারিয়ে আমি আপনাদের কাছে এসেছি, আমি আপনাদের মাঝেই তাদেরকে ফিরে পেতে চাই। আপনাদের নিয়েই আমি বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে তা বাস্তবায়ন করে বাংলার দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে চাই। বাঙালি জাতির আর্থ-সামাজিক তথা সার্বিক মুক্তি ছিনিয়ে আনতে চাই।’  মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনরুদ্ধার এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অভিযাত্রায় বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। ১৯৭৫’র ১৫ আগস্টের পর যখন প্রবঞ্চক বিশ্বাসঘাতক খুনি দেশদ্রোহীরা প্রিয় মাতৃভূমিকে ক্ষত-বিক্ষত করে তুলেছিল আমাদের জাতীয় জীবন যখন জাতিদ্রোহীদের অত্যাচারের প্রচন্ড দাবদাহে বিপর্যস্ত তখন শেখ হাসিনার ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ছিল শ্রাবণের বারিধারার মতো পাহাড় সমান বাঁধা জয়ের অনন্ত অনুপ্রেরণা। সে দিন বঙ্গবন্ধু কন্যার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে অশ্রু-বারিসিক্ত জন্ম ভূমিতে সঙ্কটজয়ের বীজ রোপিত হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ বিনির্মাণের দৃঢ় প্রত্যয়ে প্রদীপ্ত অগ্নি শপথের রৌদ্রালোকে উদ্ভাসিত হয়েছিল বাঙালি জাতি।ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার নিরবচ্ছিন্ন দীর্ঘ সংগ্রাম শুরু হয়। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে সামরিক জান্তা ও স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে চলে তাঁর অকুতোভয় সংগ্রাম। জেল-জুলম, অত্যাচার কোনো কিছুই তাঁকে তাঁর পথ থেকে টলাতে পারেনি এক বিন্দু। শত প্রতিকূলতাতেও হতোদ্যম হননি কখনো। বাংলার মানুষের হারিয়ে যাওয়া অধিকার পুনরুদ্ধার করতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি বার বার স্বৈরাচারের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করেছেন। আবির্ভূত হয়েছেন গণতন্ত্রের মানসকন্যা রূপে।আওয়ামী লীগ সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর দীর্ঘ ৪৩ বছরের রাজনৈতিক জীবনে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্বৈরশাসনের অবসান, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, বাঙালির ভাত ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বাংলার দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফুটেছে। খাদ্যে স্বয়ংস্পূর্ণতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধুর খুনি ও একাত্তরের নরঘাতক মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্য সম্পন্ন এবং রায় কার্যকর করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্ব, যোগ্যতা, নিষ্ঠা, মেধা-মনন, দক্ষতা, সৃজনশীলতা, উদার গণতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গী ও দূরদর্শী নেতৃত্বে এক সময় দারিদ্র্য-দুর্ভিক্ষে জর্জরিত যে বাংলাদেশ অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার সংগ্রাম করতো সেই বাংলাদেশ আজ বিশ্বজয়ের নবতর অভিযাত্রায় এগিয়ে চলছে। বিশ্বসভায় আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ তালাবিহীন ঝুঁড়ির অপবাদ ঘুচিয়ে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছে।রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, সততা, মেধা, দক্ষতা ও গুণাবলিতে সমসাময়িক বিশে^র অন্যতম সেরা রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। আপন কর্ম মহিমায় হয়ে উঠেছেন-নব পর্যায়ের বাংলাদেশের নতুন ইতিহাসের নির্মাতা; হিমাদ্রী শিখর সফলতার মূর্ত-স্মারক, উন্নয়নের কান্ডারি। উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশের রূপকার বাঙালির আশা-আকাক্সক্ষার বিশ্বস্ত ঠিকানা, বাঙালির বিশ্বজয়ের স্বপ্ন-সারথি। বিশ্ব রাজনীতির উজ্জ্বলতম প্রভা-আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পিছিয়ে পড়া দেশ-জাতি জনগোষ্ঠীর মুখপাত্র হিসেবে বিশ্বনন্দিত নেতা। বারবার মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসা ‘নীলকণ্ঠ পাখি’ মৃত্যুঞ্জয়ী মুক্তমানবী। তিমির হননের অভিযাত্রী মানবতার মা, আত্মশক্তি-সমৃদ্ধ সত্য-সাধক। প্রগতি-উন্নয়ন শান্তি ও সমৃদ্ধির সুনির্মল-মোহনা। এক কথায় বলতে গেলে সাগর সমান অর্জনে সমৃদ্ধ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার কর্মময় জীবন।শেখ হাসিনার দীর্ঘ ৪৩ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের এই পথচলা কখনোই কুসুমাস্তীর্ণ ছিলনা, ছিল কণ্ঠকাপূর্ণ ও বিপদসংকুল। গণমানুষের মুক্তির লক্ষে আন্দোলন সংগ্রাম করার অপরাধে তাঁকে বারবার ঘাতকদের হামলার শিকার ও কারা নির্যাতন ভোগ করতে হয়েছে। কিন্তু তিনি বাংলার মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং নীতি ও আদর্শের প্রশ্নে ছিলেন পিতার মতোই অবিচল, দৃঢ় ও সাহসী। জনগণের ভালবাসায় অভিষিক্ত হয়ে টানা তৃতীয় বারসহ চতুর্থ বারের মতো রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেয়ে তিনি দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং সকল শ্রেণী ও পেশার মানুষের কল্যাণে যুগান্তকারী অবদান রেখে চলেছেন।জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ন্যায় বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা যখনই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তখন এদেশের মাটি ও মানুষের কল্যাণে বাস্তবায়ন করেছেন বহুমাত্রিক উদ্যোগ। বাংলাদেশের মাটি ও মানুষের প্রতি অগাধ প্রেম এবং অক্ষয় ভালোবাসাই হলো তাঁর রাজনৈতিক শক্তি।

    সর্বশেষ প্রকাশিত

    রাজনীতি

    সব দেখুন
    ‘বিএনপি নেতা গিয়াসকে কারাগারে পাঠানো জুলুমের ধারাবাহিকতা’
    নাশকতার মামলায় নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দলের কেন্দ্রীয় মহাসিচব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (১৭ মে) বিএনপির সহ—দফতর সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. তাইফুল ইসলাম টিপুর পাঠানো বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মির্জা ফখরুল।  তিনি বলেন, ‘৭ জানুয়ারি ডামি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে অবৈধ আওয়ামী শাসকগোষ্ঠী এখন আরও তীব্র মাত্রায় হিংস্র হয়ে উঠেছে। রাষ্ট্রক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের নিষ্ঠুর দমনপীড়ন অব্যাহত রেখেছে তারা। এই আওয়ামী লীগ সরকার দেশে নব্য বাকশালী শাসন কায়েম করেছে।’   নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর ঘটনা আওয়ামী জুলুমেরই ধারাবাহিকতা বলে অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি আরও বলেন, ‘সারাদেশে প্রতিনিয়ত সরকারের মদদে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় বিরোধী নেতাকর্মীদের সাজা দেয়াসহ জামিন নামঞ্জুরের মাধ্যমে কারান্তরীণের ঘটনায় আমি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির জোর আহ্বানও জানাচ্ছি।’এমএইচ
    ‘বিএনপি নেতা গিয়াসকে কারাগারে পাঠানো জুলুমের ধারাবাহিকতা’
    নাশকতার মামলায় নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দলের কেন্দ্রীয় মহাসিচব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (১৭ মে) বিএনপির সহ—দফতর সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. তাইফুল ইসলাম টিপুর পাঠানো বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মির্জা ফখরুল।  তিনি বলেন, ‘৭ জানুয়ারি ডামি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে অবৈধ আওয়ামী শাসকগোষ্ঠী এখন আরও তীব্র মাত্রায় হিংস্র হয়ে উঠেছে। রাষ্ট্রক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের নিষ্ঠুর দমনপীড়ন অব্যাহত রেখেছে তারা। এই আওয়ামী লীগ সরকার দেশে নব্য বাকশালী শাসন কায়েম করেছে।’   নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর ঘটনা আওয়ামী জুলুমেরই ধারাবাহিকতা বলে অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি আরও বলেন, ‘সারাদেশে প্রতিনিয়ত সরকারের মদদে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় বিরোধী নেতাকর্মীদের সাজা দেয়াসহ জামিন নামঞ্জুরের মাধ্যমে কারান্তরীণের ঘটনায় আমি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির জোর আহ্বানও জানাচ্ছি।’এমএইচ
    ডোনাল্ড লুর পর ফখরুলের বক্তব্যের কোনো মূল্য নেই: কাদের
    মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু’র বক্তব্যের পর বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্যের কোনো মূল্য নেই বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।বৃহস্পতিবার (১৬ মে) রাজধানীর তেজগাঁওয়ের রহমতে আলম ইসলাম মিশন এতিমখানায় সুবিধাবঞ্চিতদের মাঝে খাবার বিতরণ অনুষ্ঠানে এমন মন্তব্য করেন তিনি।বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু’র বক্তব্য পরিষ্কার। কিন্তু ফখরুল কী করে জানলেন যুক্তরাষ্ট্র তার আগের অবস্থানে রয়েছে?আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, গত ৪৩ বছরের সবচেয়ে সাহসী নেতা ও সৎ রাজনীতিকের নাম শেখ হাসিনা। গত ১৫ বছরে উন্নয়ন অর্জন ও আধুনিকতায় দেশ বদলে গেছে। ১৫ বছর আগের বাংলাদেশ আর এখনকার বাংলাদেশের কোনো মিল নেই।ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন আসলে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের প্রত্যাবর্তন। স্বাধীনতার আদর্শের প্রত্যাবর্তন। মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধের প্রত্যাবর্তন। শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন মুক্তিযুদ্ধের রণধ্বনি জয় বাংলার প্রত্যাবর্তন। তিনি ফিরে এসেছিলেন বলেই গণতন্ত্র শৃঙ্খলামুক্ত হয়েছে। যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার হয়েছে। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন হয়েছে। মেট্রোরেল, পদ্মা সেতু হয়েছে। পাহাড় সমতল সর্বত্রই উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। যারা এসব অস্বীকার করে তারা দিনের আলোতে অন্ধকার দেখা। দেশের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন করেছেন শেখ হাসিনা।আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণবিষয়ক উপ-কমিটির সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম ও এতিমখানার কিছু শিক্ষার্থীসহ মহানগরের অন্য নেতারা।আরইউ
    আ.লীগের কারণে দেশের মানুষ পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত: ফখরুল
    আওয়ামী লীগের কারণে বাংলাদেশের মানুষ পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ বুধবার (১৫ মে) ফারাক্কা দিবস উপলক্ষে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে এ মন্তব্য করেন তিনি।মির্জা ফখরুল বলেন, ১৬ মে ‘ফারাক্কা দিবস’ আমাদের জাতীয় আন্দোলনের এক ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ দিন। আজ থেকে ৪৮ বছর আগে অবিসাংবাদিত মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ডাকে সারা দেশ থেকে লাখো জনতা ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবাহিত গঙ্গা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের সংগ্রামে ফারাক্কা অভিমুখে ঐতিহাসিক লংমার্চে অংশ নেয়। ভারতে গঙ্গা নদীর ফারাক্কা পয়েন্টে বাঁধ নির্মাণ করে অভিন্ন নদীর পানি একতরফা প্রত্যাহার শুরু করা হয়। যার ফলে বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল আজ প্রায় মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। ওই এলাকায় পানি সংকটসহ নানাবিধ প্রাকৃতিক ভারসাম্যহীনতা দেখা দিয়েছে।তিনি বলেন, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশগত মানকে বিবেচনা না করে এবং প্রাকৃতিক ও মানবিক বিপর্যয়ের সম্ভাবনাকে উপেক্ষা করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের মতামতকে অগ্রাহ্য করে ভারতকে কয়েক দিনের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে ফারাক্কা বাঁধ চালুর অনুমতি দেয়। কিন্তু সেই বাঁধ অব্যাহতভাবে আজ পর্যন্ত চালু আছে। এই বাঁধ এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। তৎকালীন আওয়ামী সরকারের কারণে এ দেশের জনগণ পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত।ফারাক্কা দিবসের তাৎপর্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব এরপর বলেন, আন্তর্জাতিক আইন-কানুন ও কনভেনশনের তোয়াক্কা না করে ৫৪টি অভিন্ন নদীতে একের পর এক বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে নদীর ধারাকে বাধাগ্রস্ত করে ভারত একতরফা নিজেদের অনুকূলে যেভাবে পানি প্রত্যাহার করছে, তাতে বাংলাদেশের অস্তিত্ব আজ সংকটের মুখে। বাংলাদেশ নিষ্ফলা উষর ভূমি হয়ে ওঠার আলামত ইতোমধ্যেই ফুটে উঠেছে। সুতরাং ১৯৭৬ সালের ১৬ মে মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে রাজশাহী থেকে ফারাক্কা অভিমুখে যে ঐতিহাসিক লং মার্চ এগিয়ে গিয়েছিল, তা যেকোনো অধিকার আদায়ে এ দেশের জনগণকে উদ্বুদ্ধ করে।বাণীতে ফারাক্কা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন সংগঠনের সকল কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেন বিএনপি মহাসচিব।এমএইচ
    করোনায় আক্রান্ত অর্থমন্ত্রী
    করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। বুধবার (১৫ মে) দুপুরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সমন্বয় ও সংস্কার সচিব মো. মাহমুদুল হোসাইন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এবং অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।সচিব বলেন, সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এবং অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে তিনি করোনা পজেটিভ, এ কারণে বৈঠকে সরাসরি উপস্থিত হননি।অর্থমন্ত্রী জুমে যুক্ত হয়ে বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।তিনি আরও জানান, করোনা আক্রান্ত হলেও অর্থমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়নি। তাকে দেখলে সুস্থ-স্বাভাবিকই লাগছে। মনে হয়েছে তিনি ভালোই আছেন।দেশের ১৮তম অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন দিনাজপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবুল হাসান মাহমুদ আলী। চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি বঙ্গভবনে তিনি শপথ নেন।এসএফ
    ডোনাল্ড লু’র সফর নিয়ে কাদের সাহেবরা অস্থিরতায় ভুগছেন: রিজভী
     বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু’র সফরকে কেন্দ্র করে ওবায়দুল কাদের সাহেবরা মানসিক অস্থিরতায় ভুগছেন। ভয়ে তারা প্রলাপ বকছেন।  আজ মঙ্গলবার (১৪ মে) বিকালে নয়াপল্টনে উপজেলা নির্বাচন বর্জনের আহবানে লিফলেট বিতরণ শেষে তিনি এ কথা বলেন। রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন- বিএনপির নেতারা মনে করেন লু এসে বিএনপিকে ক্ষমতায় বসিয়ে দিয়ে যাবেন সেই আশায় আছে; কিন্তু বিএনপির নেতারা কোথাও এ বিষয়ে কিছু বলেননি। ওবায়দুল কাদের সাহেবরা ভয় থেকে প্রলাপ বকছেন। তিনি কি জ্বরে ভুগছেন কিনা। মনে হয় তিনি বড় ধরনের অস্থিরতায় আছেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার গায়ের জোরে ক্ষমতা দখল করে আছে। সুষ্ঠু ভোটে তারা বিশ্বাস করে না। গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার ধ্বংস করে ক্ষমতায় আছে তারা। বিএনপি নেতারা কিছু না বললেও ওবায়দুল কাদের সাহেবরা খুব উত্তেজনার ভেতরে আছেন। তাদের উত্তেজনা কোনভাবেই প্রশমিত হচ্ছে না। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, সরকার অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের কথা বলেন, অথচ ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামসহ ২৫-২৬ হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে তারা গ্রেফতার করেছিল। সে নির্বাচনে অন্যকোন দল অংশ নেয়নি। জনগণও তাদের ভোট দিতে যায়নি। গোটা বাংলাদেশকে কারাগারে পরিণত করে এখন জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য নানা কথা বলছেন।বিএনপির এই নেতা বলেন, সবদিক থেকে বাংলাদেশ ধ্বংসের কিনারায় এসে পৌঁছেছে। বাংলাদেশে ব্যাংকের গভর্নর বলেছেন-আমার কর্মজীবনে অর্থনীতির এমন খারাপ অবস্থা দেখিনি। জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক ইলাহী বলেছেন- বর্তমান অর্থনীতি ধ্বংসের জন্য পশ্চিমারা ষড়যন্ত্র করছেন। তিনি বলেন, তাদের এ রকম বক্তব্যে বুঝা যায় দেশ ধ্বংসের দ্বারপ্রারন্তে। সুতরাং জনগণকে মিথ্যা বলে বিভ্রান্ত করা যাবে না। তাদের প্রত্যেকটি কাজ হচ্ছে অবৈধ। এতে জনগণের রায় নেই। এ সময় দ্বিতীয় দফা উপজেলা নির্বাচন বর্জনের আহবান জানান তিনি।   এমএইচ
    ডোনাল্ড লুর ওপর বিএনপির আন্দোলন নির্ভর করছে না: ফখরুল
    যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লুর সফরের ওপর বিএনপির আন্দোলন নির্ভর করছে না বলে জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার (১৪ মে) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে গণঅধিকার পরিষদ ও গণতান্ত্রিক বাম ঐক্যের সঙ্গে লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। ফখরুল বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ কারও ওপর নির্ভর করে গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে আনবে, এটা আমরা মনে করি না। জনগণ নিজের শক্তিতে পায়ের ওপর ভর করে আগেও আন্দোলন করেছে, জনগণের শক্তিেতেই আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।’ তিনি বলেন, ‘দেশের গণতন্ত্র ও নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টি করা হয়েছে। এই সরকার বিনা ম্যান্ডেটে গায়ের জোরে ক্ষমতা দখল করে আছে। তাদের বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলো দীর্ঘকাল ধরে সংগ্রাম ও লড়াই করে আসছে।’   ‘সরকার দমনীতির চরম পর্যায়ে গিয়ে ডামি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় বসেছে। আমরা জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে ৩৩ দফা তুলে ধরেছিলাম। পরে এক দফা আন্দোলন করেছিলাম। যা ছিলো নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন করা,’ যোগ করেন বিএনপির মহাসচিব। তিনি আরও বলেন, ‘যেকোনো পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে তরুণ এবং ছাত্রসমাজ। যারা গণঅধিকার পরিষদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তারা ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে এসেছেন। বিভিন্ন আন্দোলনে তাদের ভূমিকা অত্যন্ত জোরাল ছিলো। আগামী দিনের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তাদের ভূমিকা অক্ষুণ্ন রাখবেন বলে আমি আশাবাদী। জনগণকে সংঘবদ্ধ করার ক্ষেত্রেও তারা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবেন।’   এ সময় গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেন, ‘আন্দোলনের অতীবের বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা হয়েছে। স্বৈরশাসনের অবসান ঘটিয়ে আগামী নতুন রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তোলা না পর্যন্ত এই বিরোধী দলগুলোর যুগপৎ আন্দোলন চলবে।’এমএইচ
    স্যাংশন-ভিসানীতি আ. লীগ কেয়ার করে না: ওবায়দুল কাদের
    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আমরা দাওয়াত করে কাউকে আনি নাই, তাদের এজেন্ডা আছে; তারা সেসব নিয়ে ঢাকায় এসেছে। বিএনপির সঙ্গে তাদের কি আছে, তারাই ভালো জানে। ওপরে ওপরে বিএনপি তাদের পাত্তা দেয় না বললেও, তলে তলে বিএনপি কি করে তারাই ভালো জানে। আমরা মার্কিন স্যাংশন, ভিসানীতি কেয়ার করি না। আজ মঙ্গলবার (১৪ মে) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।ওবায়দুল কাদের বলেন, ডোনাল্ড লু একজন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তাকে নিয়ে বাংলাদেশে এতো মাতামাতি কেন?ভারতীয় পণ্য বর্জন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বিএনপির লোকেরা ভারতীয় পন্য বর্জন করবেন এটা কি সম্ভব। ভারতীয় মসলা ছাড়া কি আমাদের চলে? শাড়ি কাপড় তো আসবে। নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য আসবে। আমদানি রপ্তানি চলবে। বিএনপির কাছে এখন কোনো ইস্যু নাই। তাই একটা ইস্যু তৈরি করছে।তিনি বলেন, বিএনপি নির্বাচন বয়কট করেছে। তাদের এখন আন্দোলনের কথাটাই বলতে হবে। এখন আবার তাদের সমমনারা বলছে গরম কমে গেলে আন্দোলন। কয়দিন পর বলবে কোরবানির ঈদের পর আন্দোলন। ইদানিং কালে তারা ঢাকায় দুটি সমাবেশ করেছে দুটিই ফ্লপ হয়েছে। তাদের কর্মীরা হতাশ। তাই তাদের কর্মীরা এখন আন্দোলনে যুক্ত হচ্ছে না। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, দেশে ইলেকট্রিক গাড়ি আনার চেষ্টা চলছে। সিঙ্গেল ডেকার বাস আনা হবে ইলেকট্রিক। দেশের পরিবহন খাত ভালো হবে ইলেকট্রিক গাড়ি আনলে।

    দেশজুড়ে

    সব দেখুন
    রাজধানীতে স্ত্রীর গলা কেটে হত্যা করলো পাষণ্ড স্বামী

    রাজধানীর মিরপুরে পারিবারিক কলহের জের ধরে স্ত্রীর গলা কেটে হত্যা করেছে আরাধন (৪২) নামের এক পাষণ্ড  স্বামী। নিহত ওই নারীর নাম নিপা (৩৫)।

    বৃহস্পতিবার (১৬ মে) সন্ধ্যা অনুমানিক সাড়ে সাতটার দিকে ডিএমপির মিরপুর বিভাগের শাহ্ আলী থানাধীন উত্তর বিশিল এলাকার ১২ নম্বর সড়কের ৩৪ নম্বর বাড়িতে এঘটনা ঘটে।

    ঘটনাটি গোটা মিরপুরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

    এলাকাবাসী জানান,বেশ কয়েকদিন যাবৎ পারিবারিক কোনো বিষয় নিয়ে আরাধন ও নিপা দম্পত্তির মাঝে কলহ চলে আসছিলো।  এরই ধারাবাহিকতায় আজ বৃহস্পতিবারও তাদের মাঝে ঝগড়া-বিবাদ শুরু হয়। কথা কাটাকাটি চরম পর্যায়ে পৌছালে আরাধন ধারালো চাকু দিয়ে স্ত্রীর গলায় আঘাত করে। ধারালো ছুড়ির আঘাতে আহত নিপার গলার বড় অংশ কেটে গেলে লুটিয়ে পড়েন তিনি।

    এসময় আহত নিপার ডাকচিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে ঘাতক স্বামী আরাধন দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

    তাৎক্ষণিক স্থানীয়দের সহযোগিতায় শাহ্ আলী থানা পুলিশ আহত নিপাকে উদ্ধার করে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শাহ্ আলী থানার সাব ইন্সপেক্টর (এসআই) সাহিদুল ইসলাম সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান,স্থানীয় মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে উর্ধতন মহলের নির্দেশে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় আহত নিপাকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের জন্যে নিহতের লাশ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। তদন্ত চলছে।

    এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এছাড়া ঘাতক আরাধনকে গ্রেপ্তার করতে শাহ্ আলী থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যেই ঘাতককে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হবে পুলিশ।

    এফএস

    রাজধানীতে অপরিপক্ব লিচু, চড়া দামে বিক্রি

    রাজধানীর বাজার গুলোতে আগাম জাতের কিছু লিচু উঠতে শুরু করেছে। বেশি লাভের আশায় অপরিপক্ব লিচু বাজারে নিয়ে আসছেন ব্যবসায়ীরা। বাজারে নতুন লিচু, চড়া দামে বিক্রি। সাধ্যের বাইরে হওয়ায় কিনতে পারছেন না সাধারণ ক্রেতারা। কিছু ক্রেতা মৌসুমের প্রথম ফল হিসেবে কিনলেও ফিরে যাচ্ছেন অনেকেই।

    বৃহস্পতিবার, (১৬ মে) রাজধানীর গুলিস্তান,সদরঘাট বাদামতলী ফলের বাজারগুলোতে সরজমিনে ঘুরে দেখা যায় চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে বাজারে আসা অপরিপক্ক লিচু।এই লিচু বছরের প্রথম ফল বলে অনেকেই শখ করে কিনছেন।অনেকেই দাম শুনে কেটে পড়ছেন।

    বাজারে প্রকারভেদে লিচু দাম ভিন্ন ভিন্ন। যেটি বড় এবং একটু ভালো পেকেছে প্রতি ১০০ লিচু বিক্রি হচ্ছে  ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত।যেগুলো ছোট একদমই কাঁচা সেই লিচুগুলোর ৩০০ থেকে ৩৫০ এর মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

    সদরঘাট এর ব্যবসায়ী ফারুক বলেন,দীর্ঘদিনের খরা কারণে অনেক দেরিতে পাকতে শুরু করেছে লিচু। সময়মতো বৃষ্টি না হওয়ায় এ বছর লিচুর শাঁস ও স্বাদ কম। লিচু পাকতেও সময় লাগছে বেশি। তবুও লাভের আশায় অপরিপক্ব লিচু বিক্রি শুরু করেছেন ব্যবসায়ী ও বাগান মালিকরা।আর আমাদেরও  চড়া দাম দিয়ে কিনতে হচ্ছে।

    গুলিস্তানের বিক্রেতা আমেনা বলেন,বেচাকিনা মোটামুটি  ভালো অনেকে শখ করে কিনছেন আবার অনেকের দাম শুনেই পালাচ্ছেন।আমি প্রতি ১০০ পিস লিচু বিক্রি করছি ৩৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে।

    ক্রেতা সুমনের বলেন,‘আজ হঠাৎ করেই বাজারে লিচু দেখে চোখ আটকে গেল। কিন্তু দাম চড়া। ১০০ লিচুর দাম চাচ্ছে ৪৫০ টাকা। পরে দরদাম করে ৪০০ টাকায় কিনলাম।আরও বেশি নেওয়ার ইচ্ছে ছিল তবে টক ও তুলনামূলক আঁটির আকার বড়, রয়েছে পোকার আক্রমণও তাই বেশি কেনা হয়নি।

    ক্রেতারা বলেছেন অন্য বছরের তুলনায় লিচুর শাঁস কম এবং আকারে ছোট হলেও দাম অনেক বেশি।এ বিষয়ে  কৃষি বিভাগ বলছে, লিচুর গুণগতমান ঠিক রাখার জন্য আরও কয়েক সপ্তাহ পর লিচু সংগ্রহের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বাগান মালিকদের।

    এফএস

    রাজধানীতে ইঞ্জিনের অতিরিক্ত তাপে মাইক্রোবাসে আগুন

    রাজধানীর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামনে এক্সপ্রেসওয়েতে একটি মাইক্রোবাসে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভায়।

    বৃহস্পতিবার (১৬ মে) ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তর থেকে ডিউটি অফিসার রোজিনা ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।


    তিনি জানান, দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাইক্রোবাসের আগুন নেভায় ১২টা ৪০ মিনিটে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের সংবাদ পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে না গাড়ির ইঞ্জিনের অতিরিক্ত তাপের কারণে এ আগুনের ঘটনা ঘটে।

    এআই 

    অপরাধীদের স্বর্গরাজ্য যেন বাবুবাজার নৌ-ঘাট ঝুপড়িঘর

    রাজধানীতে যে কয়েকটি সেতু রয়েছে এরমধ্যে দ্বিতীয় বুড়িগঙ্গা সেতু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেতু। তবে বাবুবাজার সেতুর নিচে অবস্থিত নৌ-ঘাট ঘিরে রাতদিন চলে নানা অপকর্ম। সন্ধ্যা নামলেই আড়ালে সেখানে চলে মাদকসেবীদের আড্ডা। এছাড়া গভীররাতে বাবুবাজার সেতুতে ভাসমান যৌনকর্মীদের প্রকাশ্যেই চলে দেহ ব্যবসা। বেড়ে যায় হিজড়াদের চলাচল। রয়েছে চুরি ছিনতাইকারীদের উৎপাত। ফলে সেতু বা নৌপথে আগত দর্শনার্থী ও পথচারীদের সন্ধ্যার পর ভয়ে চলাচল করতে হয়। 


    স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতে বাবুবাজার সেতুর তলদেশ যেন অপরাধীদের স্বর্গরাজ্য। এদিকে পুলিশ বলছে, মাদকসেবীদের এখান থেকে উচ্ছেদ করতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই। 


    জানা যায়, বাবুবাজার সেতু বা নৌ-ঘাট দিয়ে প্রতিদিন লক্ষাধিক মানুষ যাতায়াত করে। এর মধ্যে ঢাকা জেলার দোহার-নবাবগঞ্জ-কেরানীগঞ্জসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার লোকজনও রয়েছেন। বাবুবাজার নৌ-ঘাট পাশ্ববর্তী স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আগত রোগীদের যেমন অসুবিধা হচ্ছে, তেমনি নষ্ট হচ্ছে হাসপাতালসহ আশপাশের পরিবেশ। বাবুবাজার সেতু ঘাটে সরেজমিন ঘুরে দেখা যায় প্রকাশ্যে দিন-দুপুরে মাদকসেবীদের মাদক সেবন করতে। বিশেষ করে সেতুর নিচে অনেকটা জায়গাজুড়ে ঝুপড়িঘরের মতো ভাসমান লোকজনের দখলে। মাদকসেবীদের ঝুপড়িঘরের কী নেই সেখানে। রয়েছে কাঁথা-বালিশ, তাস, মদের বোতল, ব্লেড। রাত যত গভীর হয়, ততোই জমে ওঠে এই ঝুপড়িঘরের অন্দর মহলের আসর। 


    অথচ এই পথ ধরে ঢাকার কেরানীগঞ্জ, বাদামতলি, নয়াবাজার, বংশাল, গুলিস্তানসহ অসংখ্য মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করে। বাবুবাজার সেতুর নিচের এ ব্যবস্থা দেখে অবাক না হয়ে উপায় নেই। ঘাটের মাঝিরা ও পথচারীরা বলছেন, রাত হলেই বাবুবাজার উপর এবং নিচে বাড়ে ছিনতাই। নিরীহ মানুষের সর্বস্ব লুটে নিয়ে এ ঝুপড়িঘরে লুকায় অপরাধীরা। তারা বলছেন, এখানে প্রায়ই এই গ্রুপ গুলোর মধ্যে ঝগড়া বাঁধে। মারামারিও হয়। কিন্তু কোনো ভাবেই বন্ধ হয়না মাদক বিক্রি। গাঁজা হিরু, কাল্লুসহ বেশ কয়েকজনের নামের এই গ্রুপগুলো মাদক বিক্রি করে থাকে। ঘাটে বসে থাকা শাহাদাত হোসেন নামের এক যাত্রী বলেন, প্রতিদিন রাতে নদীপথে বাসায় ফেরতে ঘাটে বিভিন্ন ভাবে ঢাকেন মাদক বিক্রেতারা। মাঝে মধ্যে বিব্রতকর পরিস্থিতিতেও পড়তে হয়। 


    ঢাকা সিটি কলেজে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থী লুবনা মারিয়াম বলেন, বাবুবাজার নৌ-ঘাট এলাকায় যথেষ্ট নিরাপত্তার অভাব রয়েছে। তা না হলে বাবুবাজার ঘাটের আনাচেকানাচে লোকজন মাদকসেবন করে কীভাবে? এসব পরিস্থিতি যখন চোখে পড়ে তখন সাধারণ লোকজনের মনে ভয় তো সৃষ্টি হয়ই। রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ এখানে আসে, তাদেরও এসব কারণে খারাপ পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে মানুষ চিকিৎসা নিতে আসে সুস্থ হতে সেখানে উল্টোটা পথ-ঘাটে। সন্ধ্যার দিকে ভয়ে ভয়ে নৌকা পাড় হতে এ ঘাটে ঢুকলে। 


    বাবুবাজার চাল ব্যবসায়ী আমির খান তমাল বলেন, বাবুবাজার সেতুর উপরে নিচে পুলিশের গাড়ি থাকলেও তারা ঘাটের নিচে যান না। এমনকি যারা মাদক বিক্রি করছে তাদের ধরেও না। কিন্তু যারা মাদকসেবনের জন্য কিনছেন তাদের ধরা হয়। আবার টাকার বিনিময়ে ছেড়েও দেয়া হয়। বেশ কয়েকবার ঘটা করে পুলিশ অভিযান করলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নয়ন ঘটেনি।


    এ বিষয়ে ডিএমপি কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজুর রহমান জানান, বাবুবাজার সেতু ঘাটে মাদকসেবীরা যেমন আছে, সাম্প্রতিক সময়ে ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটছে। যারা এসব অপকর্ম করে তারা তো পুলিশের সামনে করে না। লুকিয়ে, আড়ালে করে। সেখানে আমাদের পুলিশ সবসময় টহলে রয়েছে। এসব ঘটনা আগেও ছিল, এখনও আছে। কীভাবে এসব কাজ বন্ধ করা যায় সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি। 


    সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ তৌহিদুল হক বলেন, মাদক বিক্রেতাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনলেই হবে না। তাদের পুর্নবাসনও করতে হবে। যাতে তারা এই ব্যবসার দিকে আর না ঝুকে। যারা মাদক সেবন করে তাদের পারিবারিক মূল্যবোধ সেখাতে হবে। পরিবার থেকেই এই বিষয়ে জ্ঞান দিতে হবে। ছেলে মেয়েদের প্রতি আলাদা করে নজর রাখতে হবে।

    এআই

    চালক-শ্রমিকদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধিতে পুলিশের অভিযান

    রাজধানীর মিরপুরে যানবাহন চালক-শ্রমিকদের মাঝে সড়ক পরিবহন আইন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি ও ধারণা প্রদান করতে বিশেষ এক অভিযান পরিচালনা করেছে ট্রাফিক পুলিশ।

    বুধবার (১৫মে) সন্ধ্যা ৮ টার দিকে মিরপুর শের-ই বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সামনের সড়কে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    ডিএমপির ট্রাফিক পুলিশের (শহর ও যানবাহন) মিরপুর বিভাগের পল্লবী জোনের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) ফেরদৌস আহমেদের নেতৃত্বে এ অভিযানে অংশ নেন সার্জেন্ট মাহবুব ও সার্জেন্ট আব্দুল্লাহ।

    উর্ধ্বতন মহলের নির্দেশক্রমেই এ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে উল্লেখ করে এপ্রসঙ্গে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) ফেরদৌস আহমেদ সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন,অভিযানে সড়কে নিষিদ্ধ থ্রী হুইলার চলাচল রোধ,যানজট নিরসনে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং না করা, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও হেলমেট ছাড়া মোটর সাইকেল না চালানো, উল্টোপথে যানবাহন না চালানোসহ ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করার দায়ে ১৪ টি যানবাহন-চালকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়াও রেকিং বিলের মাধ্যমে নগদ ৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    এসময় তিনি আরে বলেন,উর্ধতন মহলের নির্দেশক্রমে স্থানীয় থানা পুলিশের সহযোগিতায় ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে মিরপুরের সড়কগুলোতে স্বাভাবিক যান চলাচল ও শৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছেন মিরপুরের মাঠ পর্যায়ের ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা। শুধুমাত্র মিরপুরই নয়;সমগ্র রাজধানীর সড়ক-মহাসড়কে যানযট নিরসন করে নির্বিঘ্নে ও সুষ্ঠুভাবে যান চলাচল নিশ্চিত করতে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

    এফএস

    বিদেশী প্রভুদের ইশারায় সরকার বিশ্বাসঘাতকতা করছে: নিতাই রায়

    বিদেশী প্রভুদের পদলেহন করে ক্ষমতাসীন সরকার এ দেশের মানুষের সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি আরো বলেন, এ সরকার ফ্যাসিষ্ট সরকার । সারাদেশের মানুষকে এ সরকারের সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের অহবান জানান তিনি।

    তিনি বলেন, রাষ্ট্রযন্ত্রকে দখল করে তারা একের পর এক অন্যায়-অত্যাচার চালাচ্ছে । দেশের রাষ্ট্র ব্যবস্থা, বিচার ব্যবস্থা, শিক্ষা, অর্থনিতিসহ সকল রাষ্ট্রযন্ত্র আজ ধ্বংস হয়ে গেছে। এ সরকার যদি ক্ষমতায় থাকে তবে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির সারভৌমত্ব, গনতন্ত্র শেষ করে ফেলেছে।

    দেশ আজ গভীর সমুদ্রের মাঝে ঢুবতে বসেছে । বিএনপি মানুষের দল । আমরা ভোটের জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি । গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করছি । আমরা মানুষের ভাতের জন্য, রুজি-রুটির জন্য লড়াই করছি । তাই আসুন সবাই এ সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াই । তাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হই । আসুন সবাই ভোট বর্জন করি । সরকারের অবৈধ ভোটের বিরুদ্ধে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করি, বিদ্রোহ করি। শুক্রবার(১৭ মে) সকালে ঝিনাইদহের শৈলকুপায় ভোট বর্জনের আহবান জানিয়ে লিফলেট বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

    কর্মসূচীতে বিএনপির কেন্দ্রীয় মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক এ্যাড. আসাদুজ্জামান, জেলা বিএনপির সভাপতি এ্যাড. এম এ মজিদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনাসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

    এমআর

    আবারো চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছুঁই ছুঁই

    চুয়াডাঙ্গার তাপমাত্রা পারদ আবারো বাড়তে শুরু ক‌রেছে। আজ শুক্রবার (১৭ মে) চুয়াডাঙ্গার তাপমাত্রা ৩৯ দশ‌মিক ৫ ডিগ্রী সেল‌সিয়াস রেকর্ড করা হ‌য়েছে। এসময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৪৮ শতাংশ। তাপমাত্রার সা‌থে ভ্যাপসা গরম বাড়ায় জনজীবনে অস্ব‌স্তি নেমে এসেছে। 


    চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অ‌ফিস সূত্রে জানাযায়, গত ৭ দিন চুয়াডাঙ্গার তাপমাত্রা ৩২ থে‌কে ৩৫ ডিগ্রীর ম‌ধ্যে উঠা নামা কর‌ছি‌ল। এরপর গত ১৪ মে মঙ্গলবার থে‌কে তাপমাত্রার পারদ আবারো বাড়তে শুরু ক‌রে। 


    চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণীর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের জৈষ্ঠ পর্যবেক্ষক রা‌কিবুল হাসান জানান, গত ১৪ মে মঙ্গলবার দুপুর ৩ টায় চুয়াডাঙ্গা তাপমাত্রা ‌ছি‌ল ৩৭ ডিগ্রী সেল‌সিয়াস। এসময় বাতাসের আদ্রতা ছি‌ল ৪৬ শতাংশ, ১৫ মে বুধবার দুপুর ৩ টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ‌ছি‌ল ৩৭ ডিগ্রী সেল‌সিয়াস। এসময় বাতাসের আদ্রতা ছি‌ল ৪৬ শতাংশ, ১৬ মে বৃহস্প‌তিবার দুপুর ৩ টায় স‌র্বোচ্চ তাপমাত্রা ‌ছি‌ল ৩৭ দশ‌মিক ৫ ডিগ্রী সেল‌সিয়াস। এসময় বাতাসের আদ্রতা ছি‌ল ৪৬ শতাংশ। সবশেষ শুক্রবার (১৭ মে) দুপুর ৩ টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়ে‌ছে ৩৯ দশ‌মিক ৫ ডিগ্রী সেল‌সিয়াস। এসময় ব‌াতাসের আদ্রতা ছিলো ৪৭ শতাংশ।


    তি‌নি আরও জানান, বাতাসে জলীয় বাষ্পের প‌রিমাণ বেশি থাকায় ভ্যাপসা গর‌মে জনজীব‌নে অস্বস্তি লাগ‌ছে।


    চলতি গ্রীষ্ম মৌসুমের শুরু থেকে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড হয়ে আসছে এই জেলায়। চল‌তি মৌসুমে গত ৩০ এপ্রিল মঙ্গলবার দুপুর ৩ টায় চুয়াডাঙ্গায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪৩ দশমিক ৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়।

    এসএফ

    চুয়াডাঙ্গায় তালাকের প্রতিশোধ নিতে শ্বশুরের দোকানে আগুন!

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে স্ত্রীর কাছ থেকে তালাকনামা পেয়ে ক্ষুব্ধ জামাতা গভীর রাতে আগুন লাগিয়ে দিল শ্বশুরের ফার্নিচারের দোকানে। এ ঘটনায় ওই এলাকার ছয়টি ফার্নিচারের দোকান পুড়ে ভস্মীভূত হয়।

    সিসি টিভির ফুটেজ দেখে শনাক্তের পর ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযুক্ত সোনা মিয়া (২৫)  ও শামীম হোসেন (২৯) নামে দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 

    গ্রেফতারকৃতরা হলো- জীবননগর উপজেলার একতারপুর গ্রামের রমজান আলীর ছেলে সোনা মিয়া ও জীবননগর পৌর শহরের বসতিপাড়ার খেজমত আলীর ছেলে শামীম হোসেন। 

    তারা প্রতিশোধ নিতেই পরিকল্পিতভাবে মঙ্গলবার দিনগত রাত ১ টার সময় জীবননগর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন কাঠপট্টিতে ফার্নিচারের দোকানে আগুন লাগিয়ে দেয়। 

    পু‌লি‌শের প্রাথ‌মিক তদ‌ন্তে আগুনে ছয় ব্যবসায়ীর ৬টি দোকানে কোটি টাকার ফার্নিচার ও কাঠ পুড়ে ক্ষতি হ‌য়ে‌ছে ব‌লে জানা‌নো হ‌য়ে‌ছে। 

    এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার (১৬ মে) দুপুরে জেলা পুলিশ প্রেসবিফিংয়ের মাধ্যমে ঘটনাটি সাংবাদিকদের সাম‌নে তু‌লে ধ‌রেন।

    পুলিশ ও কাঠব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জানা গেছে, ফার্ণিচার ব্যাবসা‌য়ি জীবননগর পৌর শহরের বসতি পাড়ার খোরশেদ আলমের মেয়ের খুশি খাতুনের সঙ্গে চার বছর আগে একই উপ‌জেলার একতারপুর গ্রামের সোনা মিয়ার বিয়ে হয়। পারিবারিক কলহের কারণে খুশি খাতুন দু'দিন আগে স্বামী সোনা মিয়াকে তালাক দিয়ে পিতার বাড়িতে চলে যান। এতে ক্ষুব্ধ হয় সোনা মিয়া প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করে। 

    প‌রিকল্পনা অনুযা‌য়ি মঙ্গলবার (১৪ মে) দিনগত রাত ১টার দিকে বন্ধু শামীম হোসেনকে সাথে নিয়ে জীবননগর উপজেলা শহরের কাঠপট্টিতে সাবেক শ্বশুর খোরশেদ আলমের ফার্নিচারের দোকানে পেট্রল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয় সোনা মিয়া। আগুন ছড়িয়ে যায় পুরো এলাকায়। দমকল বাহিনীর তিনটি ইউনিট (জীবননগর, দামুড়হুদা ও ঝিনাইদ‌হের ম‌হেশপুর) তিন ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় ছয় ব্যবসায়ীর ফার্নিচারের দোকান পুড়ে ভস্মীভূত হয়। এতে ফার্নিচার ও কাঠসহ এক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। ঘটনার পর ভিডিও ফুটেজ দেখে পুলিশ প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে। পরে কাঠব্যবসায়ী মো. শহিদ জীবননগর থানায় মামলা করেন। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় পুলিশ মূল আসামি সোনা মিয়া ও সহযোগী শামীমকে গ্রেফতার করে। 

    গ্রেফতা‌রের পর বেলা দেড়টার দিকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে প্রেসবিফিং করে সাংবাদিকদেরকে এসব তথ্য জানায় পুলিশ।

    প্রেসবিফিং পুলিশ সুপার আর এম ফয়জুর রহমান বলেন, অভিযুক্ত আসামি সোনা মিয়া ও শামীম হোসেন পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে, পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তারা জীবননগরের কাঠপট্টিতে গভীর রাতে আগুন দেয়।

    পিএম

    ভালোবাসার টানে ফিলিপাইনের তরুণী ঝিনাইদহে

    ভিন্ন ধর্ম ও ভিন্ন দেশ, তারপরও ভালোবাসার টানে বাংলাদেশি যুবক আকাশ মিয়ার ঘরে এসেছেন ফিলিপাইনের জনালিন নামে এক তরুণী। নিজের নাম ও ধর্ম পরিবর্তন করে সংসার পেতেছেন ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার স্বরুপপুর ইউনিয়নের গকুলনগর গ্রামের আকাশের সঙ্গে।


    আকাশ মিয়া বলেন, ছয় বছর আগে মালয়েশিয়ায় যায়। সেখানে একটি কোম্পানিতে কাজ করার সময় একটি প্রাইভেট ক্লিনিকের নার্স খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী জনালিন নামে এক ফিলিপাইন তরুণীর সঙ্গে পরিচয় হয়। সেই পরিচয় থেকে ভালোবাসায় পরিণত হয় আমাদের সম্পর্ক। পরে আমরা সেখানে বিয়ে করি। বিয়ের তিনবছর পর বিদেশি স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে শুক্রবার (১০ মে) বাংলাদেশে এসেছি।


    তিনি আরও বলেন, স্বরুপপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানসহ স্থানীয়দের পরামর্শে দেশের আইন ও সামাজিক দায়বদ্ধতা এড়াতে দুজন শনিবার (১১ মে) কাজি অফিসে বাংলাদেশের মুসলিম বিবাহ আইন অনুযায়ী তাকে ৭৫ হাজার টাকা কাবিনে বিয়ে করেছি।


    জনালিন জানান, খ্রিষ্টান ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নাম পরিবর্তন করে বর্তমানে ইশরাত জাহান নাম নিয়ে আকাশ মিয়ার সঙ্গে সংসার করছি।


    ভিনদেশীয় ফিলিপাইন নাগরিক পুত্রবধু পেয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন আকাশ মিয়ার পরিবারের সদস্যরা।


    অপরদিকে উৎসুক গ্রামবাসী বিদেশি নববধূকে দেখতে ভিড় করছেন তাদের বাড়িতে। বিষয়টি ঘিরে এলাকায় বেশ চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

    নড়াইলে ৬ মাসের সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার

    নড়াইলের জেলা ডিবি পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছে হায়দার আলী (৫২) নামে এনআই অ্যাক্টের মামলায় ৬ মাসের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামি।

    বৃহস্পতিবার (১৬ মে) সকালে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত হায়দার আলী নড়াইল সদর উপজেলার চাকই গ্রামের মৃত রমজান আলীর ছেলে।


    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পুলিশের এসআই সোহেল রানা ও এএসআই সুশান্ত রায় ফোর্স নিয়ে অভিযানে জেলার কালিয়া উপজেলার খড়রিয়া বাজার থেকে হায়দার আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়।


    নড়াইল গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ মো. সাব্বিরুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আসামিকে আজ সকালেই আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

    এআই 

    বিয়ের ১৭ দিনের মধ্যেই বিধবা হলেন ডলি

    স্বামীর অপেক্ষায় ছিলো নববধূ ডলি। শেষ কথা হয়েছে সকালে ফোনে। স্বামী আশা দিয়েছে ৩ ঘন্টা পর দেখা হবে তুমি ঘুমাও। কিন্তু না দেখা করে জীবনের শেষ ঘুমিয়ে পড়েছে স্বামী। তাদের বিয়ে হয়েছে মাত্র ১৭ দিন। এখনো হাতে মেহেদীর দাগ মুছে যায়নি। এরই মধ্যে একটি ঘাতক বাস শেষ করে দিলো এক নবদম্পতির সংসার। নোয়াখালীর চাঁটখিলের বাসিন্দা নাসির উদ্দিন পলাশ। কাজ করতেন ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে।

    চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়ার মেয়ে ডলি আক্তারের সঙ্গে বিয়ে হয় মাত্র ১৭ দিন আগে। বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে শ্বশুরবাড়িতে যাচ্ছিলেন নাসির। পথে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বাস উল্টে জীবনপ্রদীপ নিভে যায় তার। দুর্ঘটনায় স্বামী নাসিরের মৃত্যু সংবাদ শুনে ছুটে আসেন নববধূ ডলি। এ সময় ডলি হাউমাউ করে কাঁদতে থাকেন। বারবার স্বামীর লাশের দিকে তাকিয়ে মূর্ছা যান তিনি। এ সময় ডলি ও তার স্বজনদের কান্নার শব্দে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।

    নিহত নাসিরের স্ত্রী ডলি জানান, ১ মে আমাদের বিয়ে হয়। স্বামী ঢাকায় বাসা নিয়েছেন। সেখানে আমাকে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। সে উদ্দেশ্যেই তিনি সীতাকুণ্ড আসছিলেন। আমাকে নিয়ে তার আর ঢাকা যাওয়া হলো না। এসব বলতে গিয়েই হাউমাউ করে কেঁদে ফেলেন তিনি।

    শুক্রবার (১৭ মে) সকাল ৭টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের বসন্তপুর এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে টেকনাফগামী রিলাক্স পরিবহনের ডাবলডেকের একটি বাস উল্টে যায়। এতে ঘটনাস্থলে নিহত হয় পাঁচ যাত্রী। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস এবং পুলিশ সদস্যরা নিহত ও আহত যাত্রীদের উদ্ধার করে। পরে থানায় আনা হয় দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি।

    চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রবিউল হাসান বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ১৫ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চারজনকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’

    মিয়াবাজার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম লোকমান হোসাইন বলেন, ‘বাসটি সকালে মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বসন্তপুর এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। এ সময় পাঁচজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন যাত্রী আহত হয়। দুর্ঘটনার পর বাসের চালক ও হেলপার পলাতক রয়েছেন। বাসটি উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে।’

    তিনি বলেন, ‘যাত্রীদের সঙ্গে আমরা কথা বলে জানতে পেরেছি, ভোরে সড়ক ফাঁকা থাকার কারণে বেপরোয়া চালাচ্ছিলেন চালক। যাত্রীদের নিষেধের পরেও গতি কমাননি। চালক ও সহযোগীকে না পেলেও তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কাজ চলছে।’

    কুমিল্লা হাইওয়ে রেঞ্জের পুলিশ সুপার খায়রুল আলম বলেন, ‘চালকের চোখে ঘুম নাকি অতিরিক্ত গতির কারণে পাঁচজনের প্রাণ ঝরেছে সে বিষয়ে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে কারণ শনাক্ত করা হবে।

    এফএস

    মিয়ানমার থেকে আসা অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার, আটক ৫



     


     



    কক্সবাজারের-উখিয়া টেকনাফে যৌথভাবে পুলিশের একটি দল সন্ত্রাস বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ দেশী-বিদেশী অস্ত্র ও গুলির চালান উদ্ধারসহ ৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ।


    এ  অভিযানে কক্সবাজারের মহেশখালীর চিহ্নিত দুই ডাকাত রবিউল, বেল্লাল ও পেশাদার অস্ত্র ব্যবসায়ী এক নারীসহ ৫ জনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে।



    গোপন সংবাদের  ভিত্তিতে পুলিশের একটি দল টানা ৭২ ঘন্টা সাঁড়াশি অভিযানে চালিয়ে দেশি-বিদেশী অস্ত্র ও গোলাবারুদের এ চালানটি উদ্ধার করে ।



    উদ্ধার হওয়া অস্ত্র গুলির মধ্যে রয়েছে-বিদেশি জি-থ্রি রাইফেল ১টি, ওয়ান শুটার গান (এলজি) ২টি, ৭৭ রাউন্ড গুলি,গুলির খোসা ২৪টি, ১টি ম্যাগাজিন ও ১৫ রাউন্ড তাজা গুলি।



    আটকৃতরা হলেন - উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের মাদারবনিয়া এলাকার মোহাম্মদ ছৈয়দের পুত্র মোস্তাক আহমদ প্রকাশ ডাকাত মোস্তাক (৩৭), তার স্ত্রী লতিফা আক্তার (৩৪),  একই এলাকার মৃত নুরুন্নবীর পুত্র কাশেম প্রকাশ মনিয়া (৩৮), মহেশখালী উপজেলার বড় মহেশখালী মাঝের ডেইল এলাকার আনজু মিয়ার পুত্র রবিউল আলম (২৮) ও মহেশখালী নতুন বাজার এলাকার আবুল হাসেমের পুত্র মো.বেল্লাল হোসেন (৩৮)।



    বৃহস্পতিবার (১৬ মে) বিকাল চারটার দিকে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অভিযানের  বিষয়ে সংবাদ  সম্মেলনের মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন জেলা পুলিশ সুপার মো.মাহফুজুল ইসলাম। 



    পুলিশ সুপার জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা জানতে পারি কতিপয় দুর্ধর্ষ ডাকাত ও অস্ত্র ব্যবসায়ী পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমার থেকে বিদেশী আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নিয়ে এসে অপরাধী চক্রের কাছে হস্তান্তর করে মোটা অংকের মুনাফা অর্জন করার জন্য একত্রিত হয়েছে।  এই সংবাদের তথ্য অনুযায়ী উখিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেলের নেতৃত্বে উখিয়া ও টেকনাফ থানায় কর্মরত পুলিশের দুইটি টিম সমন্বয় করে আভিযানিক দল গঠন এবং আগ্নেয়াস্ত্র-গুলি উদ্ধার করার পাশাপাশি অপরাধীদের ধরতে সামর্থ হয়।



     ‘আসামীরা উখিয়া থানাধীন জালিয়াপালং ইউনিয়নের মাদারবুনিয়া এলাকার দুর্ধর্ষ ডাকাত মোস্তাকের বাড়িতে অভিযান চালিয়েমোস্তাকসহ অস্ত্র ব্যবসায়ী রবি আলম, কাশেম  ও মোস্তাকের স্ত্রী'কে ২টি ওয়ান শুটার গান (এলজি), ৭৭ রাউন্ড গুলি এবং ২৪টি গুলির খোসাসহ গ্রেফতার করা হয়’।



     


     


    এ বিষয়ে জানতে চাইলে টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ ওসমান গনি সময়ের কন্ঠস্বরকে বলেন, অবৈধ অস্ত্র-গুলি উদ্ধার ও আসামী গ্রেফতারে টানা ৭২ ঘন্টা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার উখিয়া সার্কেল’র নেতৃত্বে উখিয়া ও টেকনাফ মডেল থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। 



    তিনি বলেন, আটক অপরাধীদের বিরুদ্ধে উখিয়া ও টেকনাফ মডেল থানায় সংশ্লিষ্ট আইনে ২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং এ চক্রের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে পুলিশ সদস্যদের চলমান এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।


    এমএইচ


    কুমিল্লায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস উল্টে নিহত ৫

    কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের বসন্তপুর এলাকায় যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে পড়ে পাঁচজন নিহত এবং ১০ জনের বেশি যাত্রী আহত হয়েছেন।

    শুক্রবার (১৭ মে) সকাল পৌনে ৭টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বসন্তপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিক নিহতদের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চৌদ্দগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ বিপ্লব কুমার নাথ।

    চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ত্রিনাথ সাহা জানান, সকালে বাস দুর্ঘটনার খবর তিনি শুনেছেন। দুর্ঘটনার পরপরই হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। এ বিষয়ে হাইওয়ে থানা পুলিশ বিস্তারিত জানাতে পারবেন বলেও জানান ওসি।

    মিয়াবাজার হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লোকমান হোসেন বলেন, শুক্রবার ভোরে ঢাকা থেকে কক্সবাজারের দিকে যাচ্ছিল রিল্যাক্স পরিবহন নামে একটি যাত্রীবাহী বাস। বাসটি মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বসন্তপুর এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ৫ জনের মৃত্যু হয়। আহত হন প্রায় ১০ জন। আহতদের উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ উদ্ধার কাজে নিয়োজিত আছে।


    এমএইচ

    কুমিল্লায় পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু

    কুমিল্লার দেবিদ্বারে পুকুরের পানিতে ডুবে ইসরাফিল নামে তিন বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় উপজেলার ফতেহাবাদ ইউনিয়নের লক্ষিপুর গ্রামের মজি হাজীর বাড়ির মোহাম্মদ আলীর বাড়ির পেছনে পুকুরে ডুবে শিশুটির মৃত্যু হয়।

    নিহত ইসরাফিল মজি হাজীর বাড়ির মোহাম্মদ আলীর ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘরের পাশের পুকুরে জাকারিয়া, জিহান আর ইসরাফিল মিলে গোসল করতে যায়। পুকুর থেকে খেলাধুলা শেষ করে তিনজন প্রথমে উঠে এলেও পরে আবার একা ইসরাফিল পুকুরে নামে। কিন্তু সে আর উঠতে পারেনি। পানিতেই তার মৃত্যু হয়।

    এসময় ইসরাফিলের মা ঘরে রান্না করছিলেন। কিছুক্ষণ পরে তার মা পুকুরে চাল ধুতে গিয়ে ইসরাফিলের ভেসে উঠা লাশ দেখতে পায়। পরে তাকে উদ্ধার করে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    এদিকে নিহত ইসরাফিলের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।

    এফএস

    ৫ বছর পর চেয়ারম্যানের পদ অবৈধ ঘোষণা, বেতন-ভাতা ফেরতের নির্দেশ

    ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার চেয়ারম্যান মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেলের পদে থাকা অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ২০১৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে বেতন-ভাতা ও যানবাহন সুবিধা হিসেবে গ্রহণ করা ৩৩ লাখ ২৬ হাজার ৬১৯ টাকাসহ ওই সময়ে ভোগ করা সকল সুবিধাদি ৩ মাসের মধ্যে ফেরত দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রায়ে ওই সময়ের উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল হালিমের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেছেন আদালত।

    ৫ বছর আগে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে বৃহস্পতিবার (১৬ মে)  বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।অপর প্রার্থী এ এস এম শহিদুল্লাহ মজুমদারের প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট।

    এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আদালতের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী মাঈনুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, ২০১৯ সালে ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আব্দুল হালিম ও শহিদুল্লাহ মজুমদারের প্রার্থিতা বাতিল হয়। এর ফলে মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছাগলনাইয়ার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এর মধ্যে প্রার্থিতা ফেরত চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন বাতিল হওয়া দুই প্রার্থী। একইসঙ্গে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সোহেলকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত ঘোষণার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়।

    ২০১৯ সালেই হাইকোর্ট এসব বিষয়ে রুল জারি করেন। একইসঙ্গে ছাগলনাইয়ার উপজেলা চেয়ারম্যানের গেজেট স্থগিত করেন। পরে চেম্বার আদালত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেন। তবে আইনি জটিলতায় মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে শপথ নিতে পারেননি। শপথ না নিয়ে তিনি উপজেলা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। 

    তিনি বলেন, আদালত ৫ বছর আগে জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে সোহেলের উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন অবৈধ ঘোষণা করেন। একইসঙ্গে তিনি চেয়ারম্যান হিসেবে যে বেতন-ভাতা ও সুবিধা নিয়েছেন তা রায় পাওয়ার এক মাসের মধ্যে ফেরত দিতে বলেছেন। আমরা আদালতে জানিয়েছি তিনি এই সময়ে ৩৩ লাখ ২৬ হাজার ৬১৯ টাকা বেতন-ভাতা ও যানবাহন সুবিধা হিসেবে গ্রহণ করেছেন। এই সময়ের মধ্যে ফেরত না দিলে ফেনীর জেলা প্রশাসককে তার থেকে আদায় করতে বলেছেন।

    আদালতে আব্দুল হালিম ও শহিদুল্লাহ মজুমদারের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার এস এম কফিল উদ্দিন। সোহেল চৌধুরীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ এফ হাসান আরিফ ও মো. অজি উল্লাহ। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী মাঈনুল হাসান।

    এমআর

    কিশোরগঞ্জে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে দেবরের হাতে ভাবি খুন

    কিশোরগঞ্জে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে দেবরের হাতে ভাবি খুন হয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার (১৬ মে) রাতে সদরের মোল্লাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত অনুফা আক্তার (৪৮) স্থানীয় মো. খাইরুল ইসলামের স্ত্রী।

    পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, প্রায় ২০ বছর ধরে মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে বড় ভাই খাইরুল ইসলামের সঙ্গে তার ছোট ভাই জহিরুল ইসলাম ও দ্বীন ইসলামের বিরোধ চলে আসছে। 

    বৃহস্পতিবার (১৬ মে) সকাল থেকে খাইরুল ইসলামের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেয় অভিযুক্তরা। পরে সন্ধ্যায় বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর খাইরুল ইসলামের পরিবারের সদস্যরা বন্ধ থাকা রাস্তা খুলে বাড়ি থেকে বের হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে খাইরুল ইসলামের ছেলে রাকিব মিয়া ও অনুফা আক্তারের ওপর হামলা চালায়। 

    এ সময় তাদেরকে কুপিয়ে জখম করা হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় অনুফা আক্তারের অবস্থার অবনিত হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।

    নিহত অনুফা আক্তারের ছেলে রাকিব মিয়া বলেন, চাচা জহিরুল ইসলাম ও দ্বীন ইসলামের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে। এরই জেরে আমাদের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেয়। রাস্তা খুলে ফেলার কারণে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ২০-২৫ জনের মতো একটি দল আমাদের বাড়িতে হামলা করে বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করে। 

    কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার (ওসি) মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার ও একজনকে আটক করা হয়েছে। তারা হলেন জহিরুল ইসলাম, দ্বীন ইসলাম ও জহিরুল ইসলামের আত্মীয় পৌর শহরের ৩২ এলাকার আবুল কাশেম। অভিযোগ পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    এমআর

    টাঙ্গাইলের ১৬ সরকারি অফিসে ওড়ে না জাতীয় পতাকা

    সরকারি ভবনে ফ্লাগ স্ট্যান্ড থাকলেও টাঙানো হয় না জাতীয় পতাকা। অফিসের ভেতরে দৈনন্দিন সকল কাজকর্ম চলছে। দফতরের কর্তারা বিভিন্ন ফাইলপত্রে স্বাক্ষর করছেন- আলোচনা চলছে নানা বিষয়ে। অফিসের সব কাজ হয়, শুধু দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় না।

    এই চিত্র টাঙ্গাইল জেলার ১৬টি সরকারি অফিসের। গত এক মাসে একদল গণমাধ্যম কর্মীর পর্যবেক্ষণে বিষয়টি উঠে আসে। জেলার এসব অফিসে কর্মদিবসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় না। সুস্পষ্ট নির্দেশনার পরও জাতীয় পতাকা উত্তোলন না করায় জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সচেতন নাগরিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

    বাংলাদেশের পতাকা বিধিমালা ১৯৭২ (সংশোধিত ২০২৩) এর ৬ ধারার উপ-ধারা (১) অনুযায়ী সরকারি ভবনসমূহে সকল কর্মদিবসে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের নির্দেশনা রয়েছে। একই বিধিমালার ৭ ধারায় পতাকার সম্মান বজায় রাখতে ২৬টি উপ-ধারার মাধ্যমে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ওই বিধিমালার ৮ ধারায় ৫টি উপ-ধারার মাধ্যমে সাধারণ নির্দেশাবলি দেওয়া হয়েছে।

    সংশোধিত বিধিমালার ৬ এর উপ-ধারা (১) এ বলা হয়েছে- ‘গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন এবং অফিসসমূহ, যেমন- রাষ্ট্রপতির বাসভবন, সংসদ ভবন প্রভৃতি, সকল মন্ত্রণালয় এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সচিবালয় ভবনসমূহ, হাইকোর্টের অফিসসমূহ, জেলা ও দায়রা জজ আদালত সমূহ, বিভাগীয় কমিশনার, ডেপুটি কমিশনার/কালেক্টর, চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদের অফিসসমূহ, কেন্দ্রীয় এবং জেলা কারাগার সমূহ, পুলিশ স্টেশন, [শুল্ক পোস্টসমূহ, প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং এইরূপ অন্যান্য ভবন] এবং সরকার কর্তৃক সময় সময় নির্ধারিত ভবনসমূহে সকল কর্মদিবসে ‘বাংলাদেশের পতাকা’ উত্তোলন করা হইবে।’

    সরেজমিনে দীর্ঘ এক মাসের পর্যবেক্ষণে জানা গেছে, গত ১৫ এপ্রিল(সোমবার) থেকে ১৬ মে (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত জেলা সদরের ১৬টি সরকারি কার্যালয়ে নির্দিষ্ট স্থান ও পতাকা উত্তোলনের ফ্লাগ স্ট্যান্ড থাকলেও কর্মদিবসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হচ্ছে না। সরকারি অফিস ও ভবনগুলো হচ্ছে- টাঙ্গাইলের সড়ক ভবন (সওজ), গণপূর্ত বিভাগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (খামার বাড়ি), জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, শিশু একাডেমি, জেলা শিল্পকলা একাডেমি, জেলা সাব রেজিস্ট্রারের কার্যালয়, টাঙ্গাইল বিটিসিএল, আবহাওয়া অফিস, প্রাণী সম্পদ কার্যালয়, জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়।


    সকল কর্মদিবসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন না করার বিষয়ে টাঙ্গাইলের অধিকাংশ সরকারি অফিস প্রধানরা মনে করেন, শুধুমাত্র বিশেষ দিবসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা বাধ্যতামূলক। সব কর্মদিবসে জাতীয় পতাকা উত্তোলনে বাধ্যবাধকতা নেই। সব অফিসেই একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী বা নিরাপত্তা প্রহরীকে পতাকা উত্তোলনের দায়িত্ব দেওয়া থাকে। ‘পতাকা উত্তোলনের বিধিমালা’য় স্পষ্ট করে সব কর্মদিবসে পতাকা উত্তোলনের নির্দেশনা নেই। বিধিমালায় ‘...সরকার কর্তৃক সময় সময় নির্ধারিত ভবন সমূহে সকল কর্মদিবসে ‘বাংলাদেশের পতাকা’ উত্তোলন করা হইবে’ বলা হয়েছে। ওখানে ‘...সরকার কর্তৃক সময় সময়...’ বলা হয়েছে, নির্দেশনার বাইরে সকল কর্মদিবস বলা হয়নি- এটাকেই অনেকে কারণ হিসেবে তুলে ধরছেন।


    টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের উচ্চমান সহকারী (ইউডিএ) আবু বকর সিদ্দিক বিবার্তাকে জানান, বিষয়টি তার জানা নেই। এ বিষয়ে তিনি কোনো বক্তব্য দিতে পারবেন না। তারা সাধারণত বিশেষ দিবসগুলোতে যথানিয়মে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে থাকেন।


    টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বিবার্তাকে জানান, বিষয়টি অতীব জরুরি- জাতীয় পতাকা না উত্তোলনের কোনো সুযোগ নেই। তার অজান্তে এটা হয়েছে। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্টদের জাতীয় পতাকা প্রতিদিন উত্তোলনের নির্দেশ দেন।


    টাঙ্গাইল গণপূর্ত অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম তৌহিদুল ইসলামের অনুপস্থিতিতে উপ-সহকারী প্রকৌশলী বাবু কুমার বিশ্বাস বিষয়টি জানতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের ব্যবস্থা নেন।


    টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ (সড়ক ভবন) অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী সিনথিয়া আজমিরী খান বিবার্তাকে জানান, তিনি টাঙ্গাইলে নতুন যোগদান করেছেন। দেশের জাতীয় পতাকা প্রতিটি মানুষের গর্ব ও অহংকার। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ডেকে বিষয়টি জানতে চান এবং নিয়মিত জাতীয় পতাকা উত্তোলনের নির্দেশ দেন।


    জেলা পরিবেশ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. জমির উদ্দিন বিবার্তাকে জানান, তারা ভাড়া ভবনে অফিস পরিচালনা করছেন। তারপরও তারা বিশেষ দিবসে নিয়মিত যথানিয়মে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। প্রতি কর্মদিবসে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের বিষয়টি সম্পর্কে তিনি পুরোপুরি অবগত নন। বিধিমালা দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন। একই ভবনে অবস্থিত কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপ-মহাপরিচালক মহর আলী মোল্লা অনুপস্থিত থাকায় তার কার্যালয়ের কেউ কোনো বক্তব্য করতে রাজি হননি।


    টাঙ্গাইল জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আবদুল লতিফ মোল্লা বিবার্তাকে জানান, তিনি টাঙ্গাইলে নতুন যোগদান করেছেন। তাছাড়া ভাড়া ভবনে অফিস থাকায় তারা বিশেষ দিবস ছাড়া পতাকা উত্তোলন করতে পারেন না। বিশেষ দিবসে বিশেষ ব্যবস্থায় তারা জাতীয় পতাকা যথাযথ মর্যাদায় উত্তোলন করে থাকেন।


    তিনি জানান, পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের স্থায়ী ভবনের জন্য প্রাক্কলন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া আছে। নিজস্ব ভবন নির্মাণ হলে তারা নিয়মিত জাতীয় পতাকা উত্তোলন করবেন।


    টাঙ্গাইল জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ তানভীর হোসেন বিবার্তাকে জানান, বিষয়টি তার নজরে ছিল না। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের নির্দেশ দিলে একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী তড়িঘড়ি পতাকা উত্তোলন করেন।


    টাঙ্গাইল জেলা রেজিস্ট্রার মো. মাহফুজুর রহমান খান বিবার্তাকে জানান, তার পদোন্নতি হয়েছে- দ্রুতই তিনি হেড অফিসে যোগদান করবেন। জেলা সাব রেজিস্ট্রার কার্যালয়টি জরাজীর্ণ থাকায় তিনি কিছুটা উন্নয়ন করতে গিয়ে দেখতে পান পতাকা উত্তোলনের স্থান নেই। বাধ্য হয়ে কার্যালয়ের সামনে সড়ক ঘেঁষে স্ট্যান্ড স্থাপনের জায়গা তৈরি করেছেন। জনসমাগমের ভিড়ে সেখানে নিয়মিত জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা সম্ভব হয় না। তারপরও বিশেষ দিবসে বিশেষ ব্যবস্থায় জাতীয় পতাকা যথাযোগ্য মর্যাদায় উত্তোলন করা হয়।


    তিনি দাবি করেন, জমিদারি আমলের জরাজীর্ণ কার্যালয়টি ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণ করা হলে জনগণের সেবা পাওয়া সহজতর হওয়ার পাশাপাশি জাতীয় পতাকা উত্তোলনের জন্য পৃথক স্থান নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।


    টাঙ্গাইল শিশু একাডেমির জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা খন্দকার নিপুণ হোসাইন বিবার্তাকে জানান, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়মিত যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও নামানো হয়। সেজন্য তাদের ওখানে নিয়মিত উত্তোলন করা হয় না। তবে বিশেষ দিবসে নিয়মিত উত্তোলন করা হয়।


    পতাকা উত্তোলন বিষয়ে টাঙ্গাইলের আদালতের সরকারি কৌশলী (পিপি) এস আকবর খান বিবার্তাকে জানান, জাতীয় পতাকা ব্যবহারের একটি আইন আছে। সেখানে পতাকা অবমাননার শাস্তির বিধানও আছে। আইনটি সবার জানা দরকার এবং পতাকা আইন অনুযায়ী ব্যবহার হচ্ছে কিনা সেটি মনিটরিং করা দরকার। বিধি মোতাবেক পতাকা উত্তোলন না করা জাতীয় পতাকা অবমাননার শামিল। জাতীয় পতাকা অবমাননায় সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত শাস্তি এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।


    তিনি জানান, আসলে জাতীয় পতাকার সঙ্গে দেশপ্রেমের বিষয়টি জড়িত। তাই সকল সরকারি ভবনে যথাযথ মর্যাদায় জাতীয় পতাকার ঠিকমতো ব্যবহার করা উচিত। যারা বা যে অফিসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় না- তাদের দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।


    টাঙ্গাইল জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আবুল কালাম আজাদ বীরবিক্রম বিবার্তাকে জানান, দীর্ঘ নয় মাসব্যাপী রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে অর্জিত স্বাধীনতার মাধ্যমে জাতীয় পতাকা পেয়েছি। তাই আমাদের জাতীয় পতাকা ও স্বাধীনতা যুদ্ধ পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় এ পতাকা বাংলাদেশের মুক্তিকামী জনসাধারণকে একত্রিত করেছিল। এ পতাকাতলে দাঁড়িয়ে দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধারা দেশমাতাকে স্বাধীন করার জন্য শপথ নিয়েছিল। বীর শহিদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত পতাকার লাল বৃত্ত সকল দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধার পবিত্র রক্তের প্রতীক।


    তিনি জানান, সরকারি অফিস-আদালতে সকল কর্মদিবসে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের নিয়ম রয়েছে। যে-সব অফিস বা ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় না তিনি বা তারা জাতীয় বেইমান হিসেবে চিহ্নিত। তাদের কাছ থেকে জনসাধারণও সেবা পায় না। তিনি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের বিভিন্ন সভা-সমাবেশে জাতীয় পতাকা যথাযথ মর্যাদায় উত্তোলনের বিষয়ে একাধিকবার কথা বলেছেন।


    টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. কায়ছারুল ইসলাম বিবার্তাকে জানান, সরকারি ভবনে সকল কর্মদিবসে জাতীয় পতাকা যথাযোগ্য মর্যাদায় উত্তোলন এবং যথাসময়ে নামানোর নিয়ম রয়েছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও যথা সময়ে নামানো হয়। তিনি জেলা পর্যায়ের সকল অফিস বা ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের নির্দেশনা দিবেন এবং যথাযথভাবে তদারকি করবেন।

    এসএফ

    লোহার পাইপ দিয়ে পিটিয়ে রিকশাচালকের পা ভেঙে দিলেন পুলিশ সদস্য

    সাভারে লোহার পাইপ দিয়ে পিটিয়ে রিকশাচালকের পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঢাকা জেলা উত্তর ট্রাফিক বিভাগের এক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। এঘটনায় একটি আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে রিকশাচালকরা।

    শুক্রবার (১৭ মে) সকাল ১১টার দিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের গেন্ডা এলাকায় মো. ফজলু নামের ওই রিকশাচালককে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করা হয়। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাকে সাভার সুপার ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়।  

    এদিকে খবর ছড়িয়ে পড়লে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সাভার থানা রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ করে রিকশাচালকরাে

    আহত রিকশাচালক মো. ফজলু দিনাজপুর জেলার হাকিমপুর থানার বনসাপুর এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে। প্রায় ২২ বছর ধরে তিনি সাভারে থাকছেন।

    অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য হলেন -ঢাকা জেলা উত্তর ট্রাফিক বিভাগের র‌্যাকারচালক মো. সোহেল রানা। শুক্রবার র‌্যাকারচালক সোহেল ও মোস্তফা সাভারে দায়িত্বরত অবস্থায় ছিলেন।

    ভুক্তভোগী রিকশাচালক ফজলু বলেন, আমি অটোরিকশা চালাই। আজ আমি ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ঢাকামুখী লেন দিয়ে যাচ্ছিলাম। এসময় পাকিজার সামনে থেকে মোটরসাইকেলযোগে র‌্যাকারচালক সোহেলসহ দুইজন ধাওয়া করেন। গেন্ডা বাস স্ট্যান্ডের কাছে গেলে আমাকে ধরে ফেলে তারা। আমাকে রিকশা থামাতে বললে সাইড করে থামাতে চাই। পরে তিনি একটি লোহার রড দিয়ে প্রথমে বাম পায়ে আঘাত করেন। আমি হাত দিয়ে প্রতিহত করতে চাইলে তিনি ডান পায়ে সেই লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে পা ভেঙে দেন। এরপর আমি রাস্তায় পড়ে যাই, আর উঠে দাঁড়াতে পারি নাই। পেটানো দেখে স্থানীয়রা এসে ওই পুলিশকে ঘিরে ধরে। তখন তিনি সবার উদ্দেশ্য বলেন, আমি ভুল করেছি, এখন রিকশাচালককে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করতে দেন। পরে স্থানীয়রা চলে যায়। কিন্তু আমাকে অপর একটি রিকশায় তুলে দিয়ে সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলে তিনি চলে যান। থানা রোডের সাভার প্রেসক্লাবের সামনে ঘটনা শুনে অন্যান্য রিকশাচালকরা বিচারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। আমার কথা হলো আমার রিকশা নিয়ে যাবে, কিন্তু আমার পা ভেঙে দিল কেন?

    বিক্ষোভ থেকে রুবেল নামের এক রিকশাচালক বলেন, ভুক্তভোগী ফজলুকে নিয়ে সরকারি হাসপাতালে যাওয়ার সময় র‌্যাকারচালকদের সঙ্গে থাকা অটোরিকশা আটক করা দুই দালাল আবারও গতিরোধ করেন। পরে অন্যান্য রিকশাচালকরা বিষয়টি জানতে পেরে প্রেসক্লাবের সামনে থানারোড অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। খবর পেয়ে পুলিশ তাদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়।  

    তিনি আরও বলেন, ফজলুকে সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে কিন্তু ফেরত দেওয়া হয়েছে। পরে তাকে সুপার ক্লিনিকে পাঠানো হয়। আমরা লোকাল রাস্তায় রিকশা চালাই। আমরা গরিব মানুষ, ফজলুর ওপর বর্বরতা দেখে বিচারের দাবিতে সড়কে দাঁড়িয়েছি। র‌্যাকারের এই সোহেল ১ সপ্তাহ যেতে না যেতেই রিকশা ধরে দুই হাজার করে টাকা নেয়।  

    এঘটনায় অভিযুক্ত সোহেল রানার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে র‌্যাকারচালক মোস্তফা বাংলানিউজকে বলেন,  আমি ওই রিকশাচালককে মারিনি। তবে আমি আজ র‌্যাকারের দায়িত্বে রয়েছি। আমার নাম তো মোস্তফা, আহতের কাছে জানতে চাইলেই বলবে কে পা ভেঙে দিয়েছে। আমি তো ওর চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছি। আমি ডিউটিতে এসেই দেখি এসব ঘটনা। সোহেল ডিউটিতে এবং ঘটনাস্থলে ছিলেন। আমি বলেছি আগে চিকিৎসা করো পরে যা হওয়ার হবে। একথা বলে তাকে হাসপাতালে পাঠিয়েছি।

    এ ব্যপারে জানতে ঢাকা জেলা উত্তর ট্রাফিক পুলিশের অ্যাডমিন হোসেন শহীদ চৌধুরীর সঙ্গে মোবাইলফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে জানান।  

    এসএফ
    রাজধানীতে স্ত্রীর গলা কেটে হত্যা করলো পাষণ্ড স্বামী

    রাজধানীর মিরপুরে পারিবারিক কলহের জের ধরে স্ত্রীর গলা কেটে হত্যা করেছে আরাধন (৪২) নামের এক পাষণ্ড  স্বামী। নিহত ওই নারীর নাম নিপা (৩৫)।

    বৃহস্পতিবার (১৬ মে) সন্ধ্যা অনুমানিক সাড়ে সাতটার দিকে ডিএমপির মিরপুর বিভাগের শাহ্ আলী থানাধীন উত্তর বিশিল এলাকার ১২ নম্বর সড়কের ৩৪ নম্বর বাড়িতে এঘটনা ঘটে।

    ঘটনাটি গোটা মিরপুরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

    এলাকাবাসী জানান,বেশ কয়েকদিন যাবৎ পারিবারিক কোনো বিষয় নিয়ে আরাধন ও নিপা দম্পত্তির মাঝে কলহ চলে আসছিলো।  এরই ধারাবাহিকতায় আজ বৃহস্পতিবারও তাদের মাঝে ঝগড়া-বিবাদ শুরু হয়। কথা কাটাকাটি চরম পর্যায়ে পৌছালে আরাধন ধারালো চাকু দিয়ে স্ত্রীর গলায় আঘাত করে। ধারালো ছুড়ির আঘাতে আহত নিপার গলার বড় অংশ কেটে গেলে লুটিয়ে পড়েন তিনি।

    এসময় আহত নিপার ডাকচিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে ঘাতক স্বামী আরাধন দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

    তাৎক্ষণিক স্থানীয়দের সহযোগিতায় শাহ্ আলী থানা পুলিশ আহত নিপাকে উদ্ধার করে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শাহ্ আলী থানার সাব ইন্সপেক্টর (এসআই) সাহিদুল ইসলাম সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান,স্থানীয় মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে উর্ধতন মহলের নির্দেশে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় আহত নিপাকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের জন্যে নিহতের লাশ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। তদন্ত চলছে।

    এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এছাড়া ঘাতক আরাধনকে গ্রেপ্তার করতে শাহ্ আলী থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যেই ঘাতককে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হবে পুলিশ।

    এফএস

    রাজধানীতে অপরিপক্ব লিচু, চড়া দামে বিক্রি

    রাজধানীর বাজার গুলোতে আগাম জাতের কিছু লিচু উঠতে শুরু করেছে। বেশি লাভের আশায় অপরিপক্ব লিচু বাজারে নিয়ে আসছেন ব্যবসায়ীরা। বাজারে নতুন লিচু, চড়া দামে বিক্রি। সাধ্যের বাইরে হওয়ায় কিনতে পারছেন না সাধারণ ক্রেতারা। কিছু ক্রেতা মৌসুমের প্রথম ফল হিসেবে কিনলেও ফিরে যাচ্ছেন অনেকেই।

    বৃহস্পতিবার, (১৬ মে) রাজধানীর গুলিস্তান,সদরঘাট বাদামতলী ফলের বাজারগুলোতে সরজমিনে ঘুরে দেখা যায় চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে বাজারে আসা অপরিপক্ক লিচু।এই লিচু বছরের প্রথম ফল বলে অনেকেই শখ করে কিনছেন।অনেকেই দাম শুনে কেটে পড়ছেন।

    বাজারে প্রকারভেদে লিচু দাম ভিন্ন ভিন্ন। যেটি বড় এবং একটু ভালো পেকেছে প্রতি ১০০ লিচু বিক্রি হচ্ছে  ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত।যেগুলো ছোট একদমই কাঁচা সেই লিচুগুলোর ৩০০ থেকে ৩৫০ এর মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

    সদরঘাট এর ব্যবসায়ী ফারুক বলেন,দীর্ঘদিনের খরা কারণে অনেক দেরিতে পাকতে শুরু করেছে লিচু। সময়মতো বৃষ্টি না হওয়ায় এ বছর লিচুর শাঁস ও স্বাদ কম। লিচু পাকতেও সময় লাগছে বেশি। তবুও লাভের আশায় অপরিপক্ব লিচু বিক্রি শুরু করেছেন ব্যবসায়ী ও বাগান মালিকরা।আর আমাদেরও  চড়া দাম দিয়ে কিনতে হচ্ছে।

    গুলিস্তানের বিক্রেতা আমেনা বলেন,বেচাকিনা মোটামুটি  ভালো অনেকে শখ করে কিনছেন আবার অনেকের দাম শুনেই পালাচ্ছেন।আমি প্রতি ১০০ পিস লিচু বিক্রি করছি ৩৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে।

    ক্রেতা সুমনের বলেন,‘আজ হঠাৎ করেই বাজারে লিচু দেখে চোখ আটকে গেল। কিন্তু দাম চড়া। ১০০ লিচুর দাম চাচ্ছে ৪৫০ টাকা। পরে দরদাম করে ৪০০ টাকায় কিনলাম।আরও বেশি নেওয়ার ইচ্ছে ছিল তবে টক ও তুলনামূলক আঁটির আকার বড়, রয়েছে পোকার আক্রমণও তাই বেশি কেনা হয়নি।

    ক্রেতারা বলেছেন অন্য বছরের তুলনায় লিচুর শাঁস কম এবং আকারে ছোট হলেও দাম অনেক বেশি।এ বিষয়ে  কৃষি বিভাগ বলছে, লিচুর গুণগতমান ঠিক রাখার জন্য আরও কয়েক সপ্তাহ পর লিচু সংগ্রহের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বাগান মালিকদের।

    এফএস

    বরগুনায় অসুস্থ শিক্ষার্থীকে স্পর্শ করে অসুস্থ আরো ৩৩ সহপাঠী

    বরগুনার বেতাগী উপজেলার হোসনাবাদ আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় নামক একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অসুস্থ শিক্ষার্থী অন্য কোন সুস্থ সহপাঠীকে স্পর্শ করলেও হয়ে যাচ্ছে অসুস্থ। তবে কী কারণে অসুস্থ হচ্ছেন তা এখনো সবার কাছেই অজানা।

    বিদ্যালয়ে আসা শিক্ষার্থীরা একের পর এক অসুস্থ হতে শুরু করে। এ ঘটনায় অসুস্থ শিক্ষার্থীরা অনেকেই চিকিৎসা নিয়েছে হাসপাতালে, বাকিদের অভিভাবকদের মাধ্যমে নিজ নিজ বাড়িতে পাঠান বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গত দুই দিন যাবৎ ওই বিদ্যালয়ে ঘটছে এমন বিস্ময়কর কাণ্ড এতে অসুস্থ হয় ৩৩ জন।

    খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার ( ১৬ মে) ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষক ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, একে একে প্রায় ২৫ জন শিক্ষার্থী মুহূর্তেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। কেউ কান্না করছে, কেউ আবার চিৎকার দিয়ে দৌড়ে পালাচ্ছে, আবার কেউ কেউ জ্ঞান হারিয়ে শ্রেণিকক্ষের মেঝেতেই লুটিয়ে পড়েছিল। একজন অন্যজনকে স্পর্শ করলেই দ্বিগুণ মাত্রায় বাড়ছে অসুস্থতা। বাস্তবে দেখলে যে কেউ মনে করবে কোনো আধ্যাত্মিক শক্তির প্রভাবে হচ্ছে সবকিছু।

    শিক্ষার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ে- সপ্তম শ্রেণির হাবিবা, মরিয়ম, সুমাইয়া, অষ্টম শ্রেণির কুলসুম, চাঁদনী, নবম শ্রেণির শামিমা, জান্নাতি, আরিফা ও দশম শ্রেণির মীম, হাফিজা, নাবিলা।

    এদের মধ্যে কয়েকজন গতকাল বুধবার দুপুরের দিকে কিছুটা সুস্থ হয়েছে। তারা কিভাবে অসুস্থ হলো জানতে চাইলে বলে- আমরা হঠাৎ করে নিজেকেই নিজে চিনতে পারছিলাম না, মনে হচ্ছিল কেউ আমাদের তাড়া করছে। অন্যদিকে দম বন্ধ হয়ে আসছিল। আমরা অসুস্থ হয়ে পড়েছি এমন খবর পেয়ে আমাদের অভিভাবকরা বিদ্যালয়ে এলে দুই-একজন ব্যতীত অনেকেই আমরা তাদের চিনতে পারিনি। এছাড়া তাদের তেমন কিছু মনে নেই বলে জানান। 

    তবে অসুস্থ হওয়া শিক্ষার্থীরা সবাই সপ্তম থেকে দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছাত্রী। এরমধ্যে একজন ছাত্রও অসুস্থ হয়নি। ফলে বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা ঘটনাটিকে রহস্যময় বলেই আখ্যা দিচ্ছেন। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও এ ঘটনার কোনো সঠিক কারণ খুঁজে পাননি।

    বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নান্না মিয়া বলেন, ঘটনার সঙ্গে পরিকল্পিতভাবে কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়া আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে। 

    তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে বিদ্যালয়ের সব শ্রেণিকক্ষ এন্টিসেপটিক দিয়ে পরিষ্কার করা হয়েছে। তবে যতটুকু জানতে পেরেছি এমন ঘটনা ঘটতেই পারে। এ সময় শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে বুঝিয়ে শান্ত রাখাটাই উত্তম। 

    তবে এ ব্যাপারে চিকিৎসা বিজ্ঞান কী বলছে জানতে কথা হয় বরিশাল শেরেবাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়ের (মেডিসিন বিভাগের) ইনডোর মেডিকেল অফিসার ডা. রবীন্দ্রনাথ সরকারের সঙ্গে। তিনি বলেন, এমন অজ্ঞাত কারণে অসুস্থতার ঘটনা অনেক সময় ঘটে, তবে এটি কোনো ধরনের অলৌকিক বিষয় নয়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এ সমস্যার একটি সুন্দর ব্যাখ্যা আছে। এটির বাংলা অক্ষরিক নাম গণমনস্তাত্বিক অসুস্থতা বা (ম্যাস হিস্টিরিয়া)।

    তিনি বলেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই (কিশোর—কিশোরী) বয়সের মধ্যে এমন প্রভাব বেশি দেখা যায়, আবার এ সমস্যা অন্য যে কারও হতে পারে। এমন সময়ে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ওই সকল কিশোর—কিশোরীদের কাউন্সেলিং বা মনোবিকলন করা। তদের এটা বুঝাতে হবে তারা যা দেখছে বা ভাবছে, সেটি সম্পূর্ণ অবাস্তব একটি বিষয়

    উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারুক আহমেদ বলেন, আমি বিষয়টি জেনেছি। অসুস্থদের হাসপাতালে পাঠানোর জন্য নির্দেশনা দিয়েছি।


    আরইউ

    ঝালকাঠিতে নির্বাচনী উঠান বৈঠকে হামলার অভিযোগে মামলা, গ্রেপ্তার ৩

    ঝালকাঠি সদর উপজেলায় এক চেয়ারম্যান প্রার্থীর উঠান বৈঠকে প্রতিপক্ষ চেয়ারম্যান প্রার্থীর লোকজনের হামলার অভিযোগে মামলা হয়েছে। মামলায় ১৭ আওয়ামী লীগের নেতার নাম উল্লেখসহ ৮০-৯০ জনকে আসামি করা হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 


    গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- আলফি শাহরুন শুভ, ইশতিয়াক আহমেদ শোভন ও তুহিন হাওলাদার।


     বুধবার (১৫ মে) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঝালকাঠি সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম। 


    এর আগে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দোয়াত কলম প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সুলতান হোসেন খানের উঠান বৈঠকে প্রতিপক্ষ চেয়ারম্যান প্রার্থী বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান খান আরিফুর রহমান হামলা অভিযোগ করেন।  


    মামলা সূত্রে জানা যায়, পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি হিসেবে উঠান বৈঠকের আয়োজন করেন দোয়াত কলম প্রতীকের প্রার্থী সুলতান হোসেন খান। সেই বৈঠকে আনারস প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী খান আরিফুর রহমানের নেতৃত্বে অতর্কিতভাবে হামলা চালানো হয়। হামলায় সুলতান হোসেন খানসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন।

    ঝালকাঠিতে নির্বাচনী পথসভায় হামলা, চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ আহত ২০

    ঝালকাঠিতে সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের উঠান বৈঠকে প্রতিপক্ষের হামলায় দোয়াত কলম প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান হোসেন খান ও দুই গণমাধ্যমকর্মীসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন। 


    মঙ্গলবার (১৪ মে) সন্ধ্যায় শহরতলীর কীর্ত্তিপাশা মোড়ের এক নির্বাচনী প্রচারণা সভায় এ ঘটনা ঘটে।


    হামলায় আহতদের উদ্ধার করে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান হোসেন খানকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠান। বাকিদের সদর হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে। হামলায় গণমাধ্যমকর্মী ইত্তেফাকের জেলা প্রতিনিধি শফিউল ইসলাম সৈকত, ডিবিসি নিউজের অলোক সাহা ও আমাদের বার্তার প্রতিনিধি কামরুজ্জামান সুইট আহত হন।


    আহত অন্যরা হলেন- জেলা আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট এসএম রুহুল আমীন রেজভী, সুলতান হোসেন খানের সমর্থক কেএস জাহিদ, মনির খান, রুবেল হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক মিলু। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি হিসেবে কীর্ত্তিপাশা মোড়ে উঠান বৈঠকের আয়োজন করে দোয়াত কলম প্রতীকের প্রার্থী মো. সুলতান হোসেন খান।


    সভায় তিনি বক্তব্য শুরু করলে অতর্কি ভাবে এ হামলা চালায়। এতে মো. সুলতান হোসেন খানসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হন। গুরুতর অবস্থায় মো. সুলতান হোসেন খানসহ অন্যদের উদ্ধার করে প্রথমে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সুলতান হোসেন খানসহ কমপক্ষে ১০ জনকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।


    আহত মো. সুলতান হোসেন খানের সমর্থক আহত কেএস জাহিদ বলেন, আনারস প্রতীকের প্রার্থী খান আরিফুর রহমানের সমর্থক জেলা ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা দোয়াত কলম প্রতীকের প্রার্থী সুলতান হোসেন খানের সভায় হামলা করে গাড়ি ভাঙচুর করে। সুলতান হোসেনকে হত্যার উদ্দেশ্যে এ হামলা চালানো হয়।


    আনারস মার্কার প্রার্থী খান আরিফুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, কীর্তিপাশা মোড়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সভায় কে বা কারা হামলা করেছে তা আমি কিছুই জানি না। তবে কির্তীপাশা মোড়ে দোয়াত কলম মার্কার সমর্থকরা আমার আনারস মার্কার অফিস ভাঙচুর করেছে। 


    ঝালকাঠির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মুহিতুল ইসলাম বলেন, প্রার্থী সুলতান হোসেন খানের ওপর হামলার খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এআই 

    বরগুনায় হেরোইনসহ নারী আটক

    বরগুনার আমতলী থেকে জেসমিন নামে এক নারীকে হেরোইনসহ আটক করেছে ডিবি পুলিশ।

    আটকের বিষয়টি মঙ্গলবার (১৪ মে) সন্ধ্যায়  নিশ্চিত করেছেন বরগুনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি বশিরুল আলম।

    আমতলীর সদর ইউনিয়নের লোচা (দক্ষিণ আমতলী) এলাকায় তার স্বামীর বাড়ি থেকে তাকে আটক করে বলে জানিয়েছে ডিবি। জেসমিন লোচা এলাকার জনৈক রাসেলের স্ত্রী।

    বরগুনা ডিবি পুলিশ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আটক মাদক কারবারি জেসমিন ও তার স্বামী রাসেল দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবার করে আসছিলেন। এই দম্পতির বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক মাদক মামলা।

    গোপনে জেসমিন ও রাসেলের মাদক কারবারের কথা জানতে পেরে ডিবি ওসি বশিরুল আলম, এসআই জ্ঞান কুমার ও এসআই বশিরের নেতৃত্বে ডিবি পুলিশের একটি দল রাসেলের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে স্ত্রী জেসমিনকে আটক করে ও স্বামী রাসেল পালিয়ে যায়। এ সময় জেসমিনের দখলে থাকা ২৫ পিন হেরোইন (ওজন সাত গ্রাম) উদ্ধার করে ডিবি। পরে জেসমিনকে আটক করে বরগুনা ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যান।

    বরগুনা ডিবি পুলিশের ওসি বশিরুল আলম বলেন, গোপনে জানতে পেরে অভিযান চালিয়ে জেসমিনকে আটক করি। এ সময় জেসমিনের কাছ থেকে ২৫ পিচ হেরোইন উদ্ধার করা হয়। যার ওজন সাত গ্রাম। যার বাজার মূল্য আনুমানিক ৭০ হাজার টাকা।

    এফএস

    বরগুনায় অবৈধ পিস্তলসহ চেয়ারম্যান প্রার্থী আটক

    বরগুনার বেতাগী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দোয়াত কলম প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী নাহিদ মাহমুদ হোসেন লিটুকে অবৈধ পিস্তলসহ আটক করেছে পুলিশ। এ সময় সজীব নামের আরও একজনকে আটক করে পুলিশ ।

    সোমবার (১৩ মে) সন্ধ্যা ৮ টার দিকে বেতাগী পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের রাসেল স্কয়ার নামক এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। 


    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দোয়াত কলম প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী নাহিদ মাহমুদ হোসেন লিটু তার নির্বাচনী প্রচারণায় একটি গাড়িতে উপজেলার বিবিচিনি ইউনিয়নের দেশান্তরকাঠীর ডিসিরহাট বাজার নামক এলাকায় উঠান বৈঠকের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। এ সময় পৌরসভার রাসেল স্কয়ার এলাকায় তার গাড়িটি তল্লাশি করলে চালকের সিটের নিচ থেকে পুরাতন কাপড়ে মোড়ানো একটি অবৈধ পিস্তল উদ্ধার করা হয়। পরে এ ঘটনায় চেয়ারম্যান প্রার্থী নাহিদ মাহমুদ হোসেন লিটু ও গাড়ি চালক সজীবকে আটক করা হয়।

    ওসি মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, উদ্ধারকৃত পিস্তলের লাইসেন্স দেখতে চাইলে নাহিদ মাহমুদ হোসেন লিটু তা দেখাতে পারেননি। তবে তার কাছে একটি শর্টগানের লাইসেন্স ছিল। পরে গাড়িতে লাইসেন্স ছাড়া পিস্তলের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চালক সজীবসহ তাকে আটক করা হয়।


    আরইউ

    নেত্রকোনায় বিল থেকে শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার

    নেত্রকোণার পূর্বধলায় নিখোঁজ স্কুলছাত্র আকিব হাসান মাহিনের (১৭) লাশ রাজধলা বিল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।


    বৃহস্পতিবার (১৬ মে) দুপুরে রাজধলা বিল থেকে উদ্ধার করেছেন ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরী দল। 


    মাহিন উপজেলার রাজপাড়া গ্রামের ফারুক আহমেদ (কাশেম) এর পুত্র এবং পূর্বধলা জগৎমণি সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।


    পরিবারের লোকজন জানায়, গত বুধবার বিকেলে মাহিনকে বাড়ী থেকে ডেকে নিয়ে যায় একই বিদ্যালয়ে পড়ুয়া সহপাঠী সাইমন ও আবির হোসেন নামে দুই বন্ধু। পরে অপর দুই বন্ধু বাসায় ফিরলেও ফিরেনি আকিব হাসান। রাত ১০টা পর্যন্ত ভিকটিম আকিব হাসান মাহিন বাসায় না ফেরায় তাহার আত্মীয় স্বজন রাতভর বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেন। পরে বৃহস্পতিবার ভোরে অনুমান সাড়ে পাঁচ ঘটিকার সময় আত্মীয় স্বজন রাজধলা বিলের উত্তরপাড়ে ভিকটিমের পরিহিত জামা ও  ব্যবহৃত মোবাইল পড়ে আছে বলে খবর পায়।


    এতে স্থানীয় লোকজন এবং স্বজনরা ধারনা করেন ভিকটিমের মৃতদেহ উক্ত রাজধলা বিলে থাকতে পারে। পরে বিষয়টি পূর্বধলা থানা পুলিশকে অবহিত করলে তারা ঘটনা স্থলে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিকে দলকে খবর দেয়। ডুবুরী দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে রাজধলা বিলের উত্তর পাড়ের দিকে পানির নীচ থেকে আকিবের মরদেহ উদ্ধার করে। 


    পরিবারের লোকজনের দাবী আকিবকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে বিলের পানিতে ফেলে রাখা হয়েছে। আকিবের এমন মৃত্যু ও মরদেহ পানি থেকে উদ্ধারের খবরে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিলপাড়ে ছুটে আসে। 


    বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবুল চন্দ্র সরকার বলেন, আকিব হাসান মাহিন তার বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণিতে পড়ুয়া বিজ্ঞান বিভাগের একজন মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল। 


    খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: খবিরুল আহসান। এসময় তিনি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষন করেন এবং পরিবারের লোকজনের সাথে কথা বলেন। 


    পূর্বধলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: রাশেদুল ইসলাম জানান, স্কুল ছাত্র আকিব হাসান মাহিনের মরদেহ রাজধলা বিল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট করে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ নেত্রকোনা মর্গে পাঠানো হয়েছে। এটা হত্যাকাণ্ড না অন্যকিছু তা তদন্ত সাপেক্ষে বলা যাবে।

    নেত্রকোণায় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বিপিপিএর কার্যাবলী এবং ইজিপি বিষয়ক কর্মশালা

    সরকারি ক্রয় কার্যক্রম প্রক্রিয়াকরণ নিয়ে দরদাতা ও সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ পাবলিক প্রসিকিউমেন্ট অথরিটি সচেতনতা কর্মশালার আয়োজন করে।  

    বৃহস্পতিবার (১৬ মে) সকাল ১১ টায় নেত্রকোণা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ইলেকট্রনিক সিস্টেমে দরপত্র আহবানে সুবিধাসমুহ নিয়ে আলোচনা করা হয়। 

    এসময় উন্মুক্ত করে দেয়া ওয়েবসাইট সম্পর্কে এবং সিস্টেম নিয়ে আলোচনা করেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পাবলিক প্রসিকিউরমেন্ট পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মীর্জা আশফাকুর রহমান।  

    এডিসি (সার্বিক) রাফিক্কুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনলাইনে দরপত্র আহ্বান এবং ক্রয় সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট এবং ঠিকাদার ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিকদের ধারণা প্রদানের জন্য এই সচেতনতা কার্যক্রম নেয়া হয়।  

    এসময় কর্মশালার প্রধান অতিথি মীর্জা আশফাকুর রহমান জানান, অনলাইন সিস্টেমে দরপত্র আহবানে দেশের ১০৫ কোটি ৩০ লাখ কাগজ সাশ্রয় হচ্ছে। 

    আর এই ওয়েবসাইটের সাথে ১ লক্ষ ১৩ হাজার দরদাতা রয়েছেন। কাজেই এতে অর্থ সময় কাগজ সহ সব ধরনের সাশ্রয় হচ্ছে। বিশেষ করে স্বচ্ছতা ও  জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়েছে।  এখন আর কোন টেন্ডার ড্রপ করতে হলে জীবন নাশ সহ ভয়ভীতি কাজ করে না। পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেট থাকতে হয় না। আমরা একটা জায়গায় এসে পৌঁছেছি।  

    এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রোগ্রাম ডিরেক্টর ড. জিনাত সুলতানা,  এডিসি শামিমা ইয়াসমিনসহ সংশ্লিষ্টরা। 

    আরইউ


    বকশীগঞ্জে পুকুরে ডুবে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর মৃত্যু

    জামালপুরের বকশীগঞ্জে পুকুরে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে রিফাত (১৬) নামে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। রিফাত বকশীগঞ্জ থানায় কর্মরত এসআই লাভলুর ছোট ভাই।

    বুধবার (১৫ মে ) দুপুরে রিফাত তার বন্ধুদের সাথে উপজেলা পরিষদের পুকুরে গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে তাঁর মৃত্যু হয়। রিফাত পার্শ্ববর্তী শেরপুর জেলার দীঘারপাড় গ্রামের আব্দুল হালিম সরকারের ছেলে। রিফাত এবার এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে।

     বকশীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের টিম লিডার মো. তুহিনুল হক বলেন, দুপুর একটার দিকে রিফাতসহ কয়েকজন উপজেলা পরিষদের পুকুরে গোসল করতে নামে। এক পাড় থেকে অন‍্য পাড়ে সাঁতার কেটে যাওয়ার সময় মাঝ পুকুরে গিয়ে ডুবে যায় রিফাত। এ সময় স্থানীয়রাসহ পুকুরে থাকা লোকজন অনেক খোঁজাখুঁজি করে তাকে না পেয়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়।

    খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসে একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও জামালপুর থেকে ডুবরি দল না পৌঁছানোয় উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হয়। তবে স্থানীয়রা উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছিল,পুকুরে জাল টেনে মরদেহটি উদ্ধার করার চেষ্টা করা হয়। পরে জামালপুর থেকে ডুবরি দল এসে রিফাতের মরদেহ উদ্ধার করে।

    বকশীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল আহাদ খাঁন বলেন, দুপুরে উপজেলা পরিষদের পুকুরে গোসল করতে নামেন রিফাত । একপর্যায়ে তিনি পানিতে ডুবে যান। পরে ফায়ার সার্ভিস ও ডুবুরি দল উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

    এমআর

    একসঙ্গে ৪ সন্তানের জন্ম দিলেন খুশি বেগম

    জামালপুরের ইসলামপুরে একসঙ্গে চার সন্তানের জন্ম দিয়েছেন খুশি বেগম নামের এক নারী। 


    বুধবার (১৫ মে) ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে তিন পুত্র সন্তান ও এক কন্যা সন্তান জন্ম দেন তিনি। বর্তমানে চার সন্তানই সুস্থ্য রয়েছে। খুশি বেগম উপজেলার চিনাডুলি ইউনিয়নের গুঠাইল বাজার এলাকার দিনমজুর শফিকুল ইসলামের স্ত্রী। 


    উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এ এ এম আবু তাহের জানান, নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে তিন পুত্র সন্তান ও এক কন্যা সন্তানসহ চার সন্তান প্রসব করে তিনি। বাচ্চার ওজন কম হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।

    এআই 
    নেত্রকোণায় এক মঞ্চে জনতার মুখোমুখি তিন প্রার্থী

    নেত্রকোণায় দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা পরিষদের নির্বাচনের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান তিন প্রার্থীকে জনতার মুখোমুখি করেছে জেলা নাগরিক প্ল্যাটফর্ম ও যুব ফোরাম। 

    মঙ্গলবার (১৪ মে) বিকেলে জেলা শহরের বড় পুকুরপাড় উদীচী কার্যালয়ে এই প্রার্থী ও জনতার মুখোমুখি নিয়ে এক মত বিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। 

    স্থানীয় স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতির সহযোগিতায় আস্থা নামের প্রকল্পের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এই রকম ব্যতিক্রমী আয়োজন করা হয়েছে।  

    এতে জেলা শহরের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা অংশ নিয়েছেন। অংশ নিয়েছেন যুব সমাজ, তরুণ প্রজন্ম। এসকল নাগরিকগণ প্রার্থীদেরকে নানা ধরনের প্রশ্নের মুখোমুখি করে। প্রার্থীরা ভোটারদের মাঝে দেয়া প্রতিশ্রুতির মতো নিজস্ব ভঙ্গিতে উত্তর দিয়েছেন। পাশাপাশি প্রার্থীরা একধরনের প্রতিশ্রুতবদ্ধ হয়েছেন। 

    জেলার যুব সমাজ, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী, শিক্ষা সংস্কৃতিসহ সকল বিষয় ওঠে আসে। প্রত্যেকেই তারা স্ব স্ব অবস্থান থেকে জনগণের পক্ষে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।  

    আগামী ২১ মে অনুষ্ঠিতব্য সদর উপজেলায় তিনজন নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন। তারা হলেন, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান তুহিন আক্তার (হাঁস), নাঈম সুলতানা লিবন (ফুটবল) ও শিল্পী ভট্টাচার্য্য (কলস)।  মোট ১২৩ টি ভোট কেন্দ্রের মাধ্যমে ১২ টি ইউনিয়নের ৩ লাখ ১৪ হাজার ৩৫২ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। 

    আরইউ

    দিনাজপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে দুদকের অভিযান

    সরকারী ফি’র অতিরিক্ত টাকা আদায়সহ বিভিন্ন অভিযোগে দিনাজপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদকের) কর্মকর্তারা। এ সময় ২ জন দালালকে আটক করে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে।


    বৃহস্পতিবার (১৬ মে) দুপুরে শহরের মিশন রোডে অবস্থিত আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে অভিযানে নেতৃত্ব দেন দুদকের সহকারী পরিচালক ইসমাইল হোসেন।



    তিনি জানান, পাসপোর্ট অফিসে দালাল ও আনসার সদস্যদের বিরুদ্ধে সরকারী ফি’র অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ ছিল। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মোতাবেক দুপুরে দিনাজপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস ও তার আশপাশে কয়েকটি কম্পিউটারের দোকানে অভিযান করা হয়। 


    এ সময় আনসার সদস্য ও পাসপোর্ট অফিসের কর্মচারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। অভিযানকালে কিছু অনিয়ম পাওয়া যায়। পাশপাশি এমআর কম্পিউটার ও পাপ্পু কম্পিউটার থেকে ২ জন দালালকে আটক করা হয়। 


    পরে তাদের মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। অভিযানের বিষয়ে প্রধান কার্যালয়ে রেকর্ডপত্র পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।

    এআই

    নিজের অপকর্ম ঢাকতে সাংবাদিকের নামে চাঁদাবাজির মামলা

    পঞ্চগড়ে নিজের অনৈতিক কাজের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পর সাংবাদিকের উপর তার দায় চাপিয়ে আদালতে মামলা করেছেন এক নারী ইউপি সদস্য।

    ভুক্তভোগী সাংবাদিক হরিশ চন্দ্র রায় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলায় সমকাল ও অবজারভারের সাংবাদিক হিসেবে কর্মরত আছেন।

    সোমবার (১৩ মে) আদালতে মামলাটি দায়ের করেন দেবীগঞ্জ উপজেলার দেবীডুবা ইউনিয়নের নারী ইউপি সদস্য রাধিকা রানী রায়। আদালত সিআইডিকে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেন।

    এর আগে গত ৫ মে ফেসবুকে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। এতে একটি ঘরে বিছানায় নারী ইউপি সদস্য রাধিকা রানী রায় ও উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মদন মোহন রায়কে ঘনিষ্ঠ ভাবে দেখা যায়। এই নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

    এইদিকে মামলার নথিতে রাধিকা উল্লেখ করেন, গত বছর ১৪ ফেব্রুয়ারী লক্ষীরহাট এলাকার শাহনাজ নামে এক নারীর বাড়িতে ভালবাসা দিবস উপলক্ষ্যে এক অনুষ্ঠানে তিনি, মদন মোহন রায়সহ আরো বেশ কয়েকজন উপস্থিত হন। সেখানে অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিতি সকলে নিজেদের মধ্যে মশকরা করার সময় এই ভিডিওটি জাহাঙ্গীর নামে এক ব্যক্তি মোবাইলে ধারণ করেন। পরে জাহাঙ্গীর তার মোবাইলটি নেদু মিয়া নামে এক ব্যক্তির নিকট বিক্রি করে দেন। 

    অভিযোগে রাধিকা আরো উল্লেখ করেন, সাংবাদিক হরিশ কৌশলে সেই আলোচিত ভিডিওটি সংগ্রহ করে তা ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে রাধিকার কাছে দুই লাখ টাকা দাবি করেন এবং  টাকা দিতে না পারায় সেই ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেন।

    বিষয়টি সম্পর্কে জানতে নেদু মিয়ার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, যে ভিডিও নিয়ে কথা হচ্ছে সেই ভিডিওর ব্যাপারে আমি কিছু জানি না। আমি পুরনো ফোন কেন-বেচা করি। ফোন নেওয়ার সময় মালিকের উপস্থিতিতে ফোন রিসেট দেওয়া হয়। আর সাংবাদিক হরিশ রায়কে ভিডিও দেওয়াতো পরের কথা, তার সাথে আমার কখনো সামনা-সামনি কথা হয়নি।

    এইদিকে হরিশ চন্দ্র রায় ও রাধিকা রানী রায়ের একটি কল রেকর্ড প্রতিবেদকের নিকট আসে। সেখানে রাধিকা ওই ঘটনার ভিডিও ধারণ ও কিভাবে তা ছড়িয়ে পড়েছে পুরো বিষয়টির বর্ণনা দেন।

    ভিডিও ভাইরালের পর তা এডিট করে বানানো হয়েছে বলে নিজেদের পক্ষে দুইজনই সাফাই গাইলেও আদালতে মামলার নথিতে রাধিকা নিজেই স্বীকার করেছেন যে গত বছর ১৪ ফেব্রুয়ারী তিনি ও উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী মদন মোহন রায় একই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। মামলা দায়ের করে রাধিকা নিজেই বিষয়টিকে স্বীকৃতি দিয়েছেন বলে নেটিজেনদের মধ্যে নতুন করে সমালোচনা শুরু হয়েছে।

    মামলার বিষয়ে হরিশ চন্দ্র রায় বলেন, আমাকে হয়রানির উদ্দেশ্যে এই মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আমি কিছুই জানতাম না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও ভাইরালের পরে রাধিকা নিজেই  জানিয়েছেন কিভাবে ভিডিও ধারণ ও ভাইরাল হলো। 

    এই বিষয়ে জানতে রাধিকা রানী রায়ের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

    আরইউ

    বিরামপুরে ১৭ মাদ্রাসাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

    সদ্য ঘোষিত দাখিল পরীক্ষায় ৫০ ভাগের নিচে পাশ করা দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার ১৭টি মাদ্রাসাকে ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

    নোটিশ প্রাপ্ত মাদ্রাসা সমূহ হচ্ছে, খয়েরবাড়ী দাখিল মাদ্রাসা (০%), ঝানজার দাখিল মাদ্রাসা (৪৫%), বিরামপুর চাঁদপুর ফাজিল মাদ্রাসা (৩৯%), হাবিবপুর দাখিল মাদ্রাসা (৪৭.০৫%), বিজুল কামিল মাদ্রাসা (৩৪.২১%), আয়ড়া দাখিল মাদ্রাসা (২৪.৩১%), চতুরপুর দাখিল মাদ্রাসা (৩৪.৬১%), খাঁনপুর দাখিল মাদ্রাসা (২৬.৯২%), পুইনন্দা দাখিল মাদ্রাসা (২৫%), ভবানীপুর দাখিল মাদ্রাসা (৪০.৯০%), কানিকাটাল দাখিল মাদ্রাসা (৩৬.৩৬%), দাউদপুর দাখিল মাদ্রাসা (৪০%), বেপারীটোলা দাখিল মাদ্রাসা (৩৩.৩৩%), চড়াইভিটা দাখিল মাদ্রাসা (৪০%), চকশুলবান দাখিল মাদ্রাসা (৩১.৮১%), বিরামপুর শালবাগান বালিকা দাখিল মাদ্রাসা (৩৪.৬১%) এবং বিরামপুর আদর্শ বালিকা দাখিল মাদ্রাসা (১৫.৭৮%)।

    উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শমসের আলী মন্ডল কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদানের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

    প্রসঙ্গত, এবারের দাখিল পরীক্ষায় বিরামপুর উপজেলায় ২২টি মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রী এবার দাখিল পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে। এর মধ্যে খয়েরবাড়ী দাখিল মাদ্রাসা থেকে ২৪জন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও কেউ পাশ করেনি। পক্ষান্তরে মুকুন্দপুর ফাজিল মাদ্রাসা, কাটলা দাখিল মাদ্রাসা, দক্ষিণ শাহাবাজাপুর দাখিল মাদ্রাসা, পলিপ্রয়াগপুর দাখিল মাদ্রাসা ও বিরামপুর পৌরসভা দাখিল মাদ্রাসা ব্যতিত অবশিষ্ট ১৬ মাদ্রাসা থেকে অর্ধেকের কম শিক্ষার্থী পাশ করেছে। এই ফলাফল বিপর্যয়ের প্রেক্ষিতে সাত দিনের মধ্যে উপযুক্ত কারণ দর্শানোর জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শমসের আলী মণ্ডল মোট ১৭ মাদ্রাসাকে ১৩মে নোটিশ প্রদান করেছেন।


    আরইউ

    কালিগঞ্জে শর্ট সার্কিট থেকে আগুন, ২৫ দোকান-ঘর পুড়ে ছাই

    লালমনিরহাট কালীগঞ্জে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২৫ দোকান ঘর পুড়ে ছাই গেছে। এতে অন্তত ২ থেকে আড়াই কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। 


    বৃহস্পতিবার (১৬ মে) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কালীগঞ্জ উপজেলার তুষভান্ডার  বাজারে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পরে ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিট প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। 


    তুষভান্ডার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুর ইসলাম  জানান, সকালে ইউনিয়নের তুষভান্ডার বাজারে একটি ঔষদের দোকান থেকে প্রথমে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশপাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে একঘণ্টারও বেশি সময় চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় ২৫টি দোকান-ঘর পুড়ে গেছে।


    কালীগঞ্জের ইউএনও জহির ইমাম বলেন, স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সাভির্সের সহযোগিতায় ৪টি ইউনিট প্রায় দেড় ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণ আনে। ধারণা করা হচ্ছে বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকে এ আগুনের সূত্রপাত। তবে ক্ষয়ক্ষতির ব্যবসায়ীদের দাবি অগ্নিকাণ্ডে তাদের দুই কোটি ৬৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।


    কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ কবির  অগ্নিকাণ্ডের সত্যাতা নিশ্চিত করে বলেন, অগ্নিকাণ্ডে ছোট-বড় প্রায় ২৫টি দোকান ঘর পুড়ে গেছে। অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে কালীগঞ্জ  ফায়ার সাভিসের ১টি ইউনিট এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। 

    এআই 

    প্রচন্ড তাপদাহে রংপুরে ভ্যান চালকের মৃত্যু

    রংপুর নগরীর জাহাজ কোম্পানীর মোড়ে ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের সাথে ফার্নিচারের দোকানে মালমাল তোলার সময় জাফর ওরফে কালু নামের এক ভ্যান চালকের মৃত্যু হয়েছে। তার বাড়ি রংপুর সিটি করপোরেশনের হাসনা বাজার এলাকায়।

    বৃহস্পতিবার (১৬ মে) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

    এসময় প্রতক্ষদর্শীরা জানান,  কালু কোম্পানীর মালামাল দোকানে তোলার সময় হঠাৎ বুকে প্রচন্ড ব্যাথা অনুভব করলে পরে সকলে মিলে তাকে চেয়ারে বসিয়ে মাথায় পানি দেয়। এর পর হঠাৎ সে শুয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয় ।

    তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি হিটস্ট্রোকে মৃত্যুবরণ করেছেন। পরে কালুর পরিবারের স্বজনরা এসে তার মরদেহ বাসায় নিয়ে যায়।

    আরইউ


    বগুড়ায় ছিনতাই হওয়া ধানবোঝাই ট্রাকসহ তিনজন গ্রেফতার

    বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার রণবাঘা বাজার এলাকা থেকে ছিনতাই হওয়া ধানবোঝাই ট্রাক উদ্ধারসহ তিন ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 

    শুক্রবার (১৭ মে) বেলা ১২টায় প্রেস ব্রিফিং করে নন্দীগ্রাম থানা পুলিশ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। প্রেস ব্রিফিংয়ে বগুড়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুর রশিদ সরকার জানান, গত ২৯ এপ্রিল রণবাঘা বাজারের ধান ব্যবসায়ী ওয়াজেদ আলী ২৬৫ বস্তা ধান যার মূল্য ৭ লাখ টাকা চট্রো-মেট্রো-১১-৪৩৩৭ ট্রাকে লোড করে দিনাজপুরের সোনালী অটো রাইস মিলে পাঠান। পথিমধ্যে ওই ধানবোঝাই ট্রাকটি ছিনতাই হয়ে যায়। এরপর নন্দীগ্রাম থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

    নন্দীগ্রাম থানা পুলিশ ছিনতাইকৃত ধান উদ্ধারের জন্য জোর তৎপরতা চালিয়ে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় এবং সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৬ মে ধারাবাহিক এবং সিরিজ অভিযান পরিচালনা করে ঢাকা জেলার আশুলিয়া উপজেলার জিরাবো ফুলতলা হতে ট্রাক চালক মো. সামিউল হক (৪২) ও ঘটনার সাথে জড়িত মো. মামুন (২৬) এবং মো. মাসুদ (২৯) কে গ্রেফতার করে। এছাড়া তাদের দেওয়া তথ্যমতে জামালপুর সদর উপজেলা এলাকা হতে তাদের ব্যবহৃত ট্রাকটি উদ্ধার করা হয়। এরপর পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলা এলাকা থেকে ২৬৫ বস্তা ধান উদ্ধার করা হয়েছে।

    নন্দীগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজমগীর হোসেইন বলেন, গ্রেফতারকৃতদের আজ ১৭ মে শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

    এমআর

    দীর্ঘ সাড়ে ১০ মাস পর হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার

    নওগাঁর বদলগাছীতে চাঞ্চল্যকর মাদ্রাসা ছাত্র সাকিব হত্যা মামলার প্রধান আসামি আকবরকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ।

    গ্রেপ্তারকৃত আসামি আকবর হোসেন উপজেলার জাইজাতা গ্রামের মো: হেলাল হোসেনের ছেলে। দীর্ঘ ১০ মাস ২০ দিন পর তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। এ নিয়ে মামলার পাঁচ আসামিই গ্রেপ্তার হয়েছে পুলিশের হাতে। 

    শুক্রবার ( ১৭ মে)  দুপুরে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুবুর রহমান তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার  (১৬ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আকবরকে তার নিজ বাড়ী থেকে গ্রেপ্তার করেন পুলিশ।

    থানা পুলিশ এবং মামলা সূত্রে জানা যায়, নিহত সাকিব হোসেন মহাদেবপুর উপজেলার ফতেপুর গ্রামের আলতাফ হোসেনের ছেলে। সাকিব ফতেপুর মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র ছিলেন। গত ১৯ শে জুন সাকিব ভ্যান নিয়ে বাহিরে যায়। বাড়িতে ফিরে না আসলে পরিবার থানায় জিডি করে। তার এক সপ্তাহ পর মাতাজিহাট রোডে গাবনা ভোবন ব্রিজের নিচে স্থানীয়রা একটি লাশ দেখতে পায়। পরে থানায় জানালে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। পরিবার লাশের পরিচয় সনাক্ত করে থানায় এজাহার দাখিল করে। এর ২৪ ঘন্টার মধ্যে থানা পুলিশ সাকিব হত্যার রহস্য উদঘাটনসহ হত্যায় জড়িত ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে।

    ছিনতাই এর উদ্দেশ্যে মাদ্রাসার ওই ছাত্রকে হত্যা করা হয়েছে বলেও তারা জানান। মামলার প্রধান আসামি আকবর হোসেন দীর্ঘ দিন দেশের বিভিন্ন জায়গায় পালিয়ে থাকে। ফলে আদালত আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। তথ্য প্রযুক্তি এবং গোপন সংবাদের ভিক্তিতে  মামলার প্রধান আসামি আকবর নিজ বাড়িতে অবস্থান করছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

    এমআর

    সিরাজগঞ্জে কভার্ডভ্যানে মিলল ২১৬ কেজি গাঁজা, গ্রেপ্তার ২

    সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় একটি কভার্ডভ্যান থেকে ২১৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে; যাদের মাদক মামলার আসামি বলছে র‌্যাব।

    শুক্রবার (১৭ মে)ভোর সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার চরহামকুড়িয়া এলাকার নাটোর-বনপাড়া মহাসড়ক থেকে তাদের আটক করা হয় বলে র‌্যাব-১২ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মারুফ হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

    আটকরা হলেন-কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার রাজাকাচর গ্রামের নুরু মিয়ার ছেলে আলামিন (২২) ও বাঙ্গরাবাজার উপজেলার চাবিতলা গ্রামের ইসমত আলীর ছেলে এরশাদ ওরফে হৃদয় (২৭)।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “একটি কভার্ডভ্যানে গাঁজা বহন করার গোপন সংবাদে র‌্যাব-১২ সদর কোম্পানির কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার মোহাম্মদ ইলিয়াস খানের নেতৃত্বে চরহামকুড়িয়া এলাকায় অস্থায়ী চেকপোস্ট বসানো হয়। সেখানে বিভিন্ন গাড়িতে তল্লাশি চালানোর এক পর্যায়ে একটি কভার্ডভ্যান জব্দ করা হয়।

    “এরপর ওই কভার্ডভ্যানে তল্লাশি করে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা ২১৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ সময় আটক করা হয় কভার্ডভ্যানে থাকা আলামিন ও এরশাদকে।”

    এ ঘটনায় তাড়াশ থানায় মামলা হয়েছে। এছাড়া আটকদের বিরুদ্ধে আগের দুইটি মাদকের মামলা রয়েছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে র‌্যাব।

    এসএফ 

    মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে রাবিতে দু'পক্ষের সংঘর্ষ

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায় গাঁজা সেবনকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার আনুমানিক বিকাল সাড়ে চারটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

    প্রত্যক্ষদর্শীসূত্রে জানা যায়, চারুকলার রফিকের দোকানের সামনে পুলকের(চারুকলা ১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষ) সাথে বন্ধন (ফিন্যান্স ১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষ) ও তার বন্ধুদের হাতাহাতি হয়। হাতাহাতির এক পর্যায়ে বন্ধন ও তাদের বন্ধুরা পুলককে মারধর করা শুরু করে। পুলকও তার হেলমেট দিয়ে বন্ধনের মাথায় আঘাত করে। এরপর বন্ধন আরো কয়েকজনকে নিয়ে রফিকের দোকানে অবস্থানরহ পুলককে আবার মারধর করে। এক পর্যায়ে পুলকের সাথে থাকা অপুকেও আঘাত করে। বন্ধনের গ্রুপ রফিকের দোকান ভাঙচুর করে।

    এ ঘটনায় চারুকলার গ্রাফিক ডিজাইনের ২০১৬-১৭ সেশনের মেহেদী হাসান পুলক বলেন, তারা চারুকলার মুক্তমঞ্চের পিছনে বসে গাঁজা সেবন করছিলো। আমি এবং অপু ভাই তাদেরকে মানা করলে  একটা সময় তারা আমার সাথে ধাক্কাধাক্কি করে। এক পর্যায়ে ওরা আমকে মারধর করা শুরু করে। এক পর্যায়ে মারামারি করতে করতে আমরা পাশের রফিক ভাইয়ের দোকানে চলে যাই। পরে আমি সবাইকে ফোন দিয়ে আসতে বলি। রাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গালিব ভাইকেও আসতে বলি। এদিকে বন্ধনরা বাঁশ, লাঠি হাতে প্রায় ৪০/৫০ জন জড়ো হয়ে রফিক ভাইয়ের দোকানে এসে আমাকে মারধর শুরু করে। অপু ভাইকেও মারধর করে। অপু ভাইয়ের গাড়ি ভাঙচুর করে। আমি তাদেরকে এভাবেও বলি যে গালিব ভাইরা আসছেন,  তারা আসলে কথা বলি কিন্তু তারা শুনেনি, তারা মারধর করতে থাকে। তারপর চিকিৎসার জন্য মেডিকেলে এসেও নামতে পারছিলাম না। তারপরে ভাইরা আসলো পরে চিকিৎসা নেই।

    অন্যদিকে ফাইন্যান্স বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী বন্ধন গাঁজা খাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, চারুকলায় অবস্থানকালে হঠাৎ ক্যাম্পাসের কয়েকজন আমার কাছে জানতে চায় তোরা কারা? কি করতে এসেছিস এখানে? আমরা নিজেদের পরিচয় দেওয়ার পর তাদের সাথে কথা-কাটাকাটি হয়। তারপর সেখানে অপু ভাই এবং পুলক ভাই উপস্থিত হয়। তখন তারা আমাদের সাথে খারাপ আচরণ করে এবং আমার কাপড় ধরে টানাটানি করে এবং চর থাপ্পর দেয়৷ তখন আমার জামা ছিঁড়ে যায়। তখন তাদের মধ্যে একজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করে এবং মাথা ফাটিয়ে দেয়।

    এদিকে দোকানদার রফিক বলেন, বন্ধনরা আমার দোকান ভাঙচুর করে এবং ৫-৬ হাজার টাকা নিয়ে যায়। আমি নিঃস্ব হয়ে গেলাম।

    এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আসাবুল হক বলেন,কী নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত তার সঠিক খবর জানিনা কিন্তু এখানে এসে জানতে পারি গাজা খাওয়াকে কেন্দ্র করে ঘটনাটি ঘটেছে।যারা মার খেয়েছে তারাও আমাদের ছাত্র আবার যারা মারছে তারাও বলতেছে তারা ছাত্র কিন্তু আমরা জানিনা তারা কারা।যেহেতু ঘটনাটি চারুকলা অনুষদের ভিতরে ঘটেছে তাই আমি তাদের বলেছি ডীন বরাবর একটি আবেদনপত্র লেখতে তারপর ডীন তা তদন্ত করে ব্যাবস্থা নিবে। তারপর আমরাও জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবো।

    চারুকলা অনুষদের ডীন বলেন,আমি এবং আরও কয়েকজন অফিসিয়াল কাজে ব্যস্ত ছিলাম। ঘটনার কথা শুনে এখানে আসার পর শুনি বহিরাগতরা(ওরা কারা কোন ডিপার্টমেন্ট আমি জানিনা) বসে গাজা খাচ্ছিলো। আমাদের কিছু ছাত্র এখানে বসা ছিল তারা গাজা খেতে নিষেধ করাতে এখানে বাকবিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কি হয়।

    ঘটনার পর বন্ধন, অপু ও পুলককে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেলে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়।

    এফএস

    শিক্ষক হওয়া হলো না সুরভীর, পারিবারিক কলহে মৃত্যু

    প্রেমের সম্পর্ক থেকে বিয়ে। কিন্তু স্বামীর বেকারত্ব প্রেমের সংসারে দেখা দেয় কলহের সংসারে। আর এই কলহের জেরেই অকালে প্রাণ দিতে হলো সুরভীকে। সুরভীর শিক্ষক হওযার স্বপ্ন, যেন স্বপ্ন রয়ে গেল!

    বলছি রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার এক সুরভীর কথা। পারিবারিক কলহের জেরেই বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে পালিয়েছে স্বামী। পারিবারিক কলহের জেরে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করছেন পুলিশ। 

    বুধবার (১৫ মে) দিবাগত রাতের কোনো এক সময় এমন ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। 

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোদাগাড়ী পৌর সদরের গোদাগাড়ী গ্রামের সিঙ্গাপুর প্রবাসী তরিকুল ইসলামের মেয়ে সুরভী খাতুনের (২৮) মেডিকেল মোড়ের শামসুদ্দীন ইসলাম ধলু মাস্টারের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে প্রেমের সম্পর্ক করে ২০২১ সালের বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে (১৪ ফেব্রুয়ারী) রাতে বিয়ে হয়।

    বিয়ের পর থেকেই স্বামী মোস্তাফিজুর রহমান এক রকম বেকার অবস্থায় জীবন-যাপন করতেন। এই নিয়ে পরিবারের মধ্যে হতাশা ও অসন্তোষ কাজ করতো।

    বুধবার (১৫মে) বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) নিয়োগের ফলাফল প্রকাশিত হয়। এদিন স্ত্রী সুরভী খাতুন মায়ের বাড়িতে থাকায় রাতে সেখানে যান মোস্তাফিজুর রহমান। এনটিআরসিএর ফলাফলে সুরভী খাতুন উত্তীর্ণ হন। অপরদিকে স্বামী মোস্তাফিজুর রহমান একই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও উত্তীর্ণ হতে পারেননি। এ নিয়ে তাদের দুজনের মধ্যে ঝগড়া হয়। দীর্ঘদিন থেকে কর্মহীন থাকায় মোস্তাফিজুর রহমানের শাশুড়িও তাকে বকাঝকা করেন। এভাবেই রাতে তারা ঘুমিয়ে পড়েন।

    সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে সুরভির মা তাদের ডাকতে গেলে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে ঘরে ঢুকে দেখেন মেয়ে বিছানায় পড়ে আছে। জামাই মোস্তাফিজুর রহমান ঘরে নেই। তড়িঘড়ি করে সুরভীকে গোদাগাড়ী ৩১ শষ্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত্যু হয়েছে বলে ঘোষণা করেন।

    পরে গোদাগাড়ী মডেল থানা পুলিশ জানতে পেরে ঘটনা স্থলে গিয়ে মৃত্যুর প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে এবং মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করে।

    এ নিয়ে গোদাগাড়ী সার্কেল সহকারি পুলিশ সুপার ( এএসপি) সোহেল রানা বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক কলহের জেরে তাকে হত্যা করা হয়েছে। মৃত সুরভীর গলায় হালকা দাগ বুঝা গেছে। মনে হচ্ছে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ভোর ৫ টার দিকে স্থানীয় একজন মোস্তাফিজকে রাস্তায় দেখেছে তাতে মনে হয়েছে সে অপরাধ করেছে। আমরা তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি। মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানান তিনি। 

    আরইউ

    দেউলিয়া হবার পথে ব্যাংক, হতাশা-আতঙ্কে গ্রাহকরা

    হতাশা বাড়ছে মৌলভীবাজারের আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের ডিপিএস ও ফিক্স ডিপোজিটসহ অন্যান্য স্কিমে লাভের আশায় টাকা জমা রাখা গ্রাহকদের। 

    নিয়মিত লেদদেনকারী গ্রাহকরা চরম হতাশা নিয়ে বলছেন এতোদিন থেকে এমন আর্থিক সংকট থাকলেও তা থেকে উত্তরণের কোনো পথই বের করতে পারছে না সংশ্লিষ্টরা। কেবল আশ্বাসেই গ্রাহকদের সময় ক্ষেপণ করছেন।

    গ্রাহকরা বলছেন- আমরা এই শাখার কর্মকর্তাদের সার্বিক আচরণে মনে করছি এই ব্যাংক এখন দেউলিয়া হওয়ার পথে। আমাদের জমাকৃত টাকা কীভাবে আমাদের হাতে পাবো এমন দুশ্চিন্তায় এখন রাতদিন একাকার। 

    মৌলভীবাজার প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি বিশিষ্ট সাংবাদিক ও ছড়াকার কবি আবদুল হামিদ মাহবুব গত ১৪ মে (মঙ্গলবার) সকালের দিকে ওই ব্যাংকের নিজ একাউন্ট থেকে ৫৫ হাজার টাকা উত্তোলনের জন্য চেক নিয়ে গেলে তাকে টাকা না দিয়েই ফিরিয়ে দেন ব্যাংক কর্মকর্তারা। কারণ হিসেবে জানান- ব্যাংকে পর্যাপ্ত টাকা নেই। তিনি ওই চেকের ছবি দিয়ে তার ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন।

    আইসিবি ইসলামী ব্যাংক মৌলভীবাজার শাখায় গিয়েছিলাম টাকা উঠাতে। ব্যাংক থেকে বললো ক্যাশ সংকট। টাকা দিতে পারবে না। জানতে চাইলাম কতদিন ধরে এই অবস্থা? উপস্থিত গ্রাহকরা জানলেন দুই মাস ধরে। ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন- আমাদের কিছুই করণীয় নেই। যত পারেন বাংলাদেশ ব্যাংকে অভিযোগ করুন। বাংলাদেশ ব্যাংকই আমাদের এই অবস্থার মধ্যে ফেলেছে। তার ওই লেখাটি কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শতাধিক শেয়ার হয়। অর্ধশতাধিক কমেন্ট পড়ে। তাতে অনেকই এই ব্যাংকের দায়িত্বহীনতা ও দেউলিয়াত্ব নিয়ে নানা মন্তব্য লিখেন। 

    মৌলভীবাজার শহরের ব্যস্ততম এলাকা চৌমোহনার কোর্ট রোড এলাকায় আইসিবি ইসলামী ব্যাংক মৌলভীবাজার শাখা। প্রতিদিন শতাধিক গ্রাহক টাকা উঠাতে গিয়ে টাকা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। নিজের টাকা ব্যাংক থেকে উঠাতে না পারায় অনেককেই সমস্যা পোহাতে হচ্ছে।

    জানা যায় গেল ঈদের ছুটির দুইদিন পরও টাকার ঘাটতি থাকায় ব্যাংকের এই শাখাটি বন্ধ ছিল। গেল ৬ই মে টাকার অভাবে প্রায় ৩ ঘণ্টা বন্ধ ছিল। পরে প্রধান কার্যালয় থেকে গ্রাহকদের কিছু টাকা পাওয়া গেলে তালা খুলে অফিস কার্যক্রম শুরু হয়। এখনো ব্যাংকের অর্ধেক সাটার বন্ধ ও অর্ধেক খুলে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এ রকম প্রায় দিনই বিভিন্ন সময় বন্ধ রাখতে হয়েছে কার্যক্রম। ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা টাকা না পেয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গালমন্দও করছেন। বড় ধরনের ঝক্কি-ঝামেলারও শঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ নিয়ে জেলা শহরজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের মৌলভীবাজার শাখার কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারী বলেন- টাকা না পাওয়া ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের গালিগালাজ শুনতে শুনতে আর সহ্য হচ্ছে না। টাকার সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ব্যাংকটি বন্ধ রাখলে ভালো হতো। তারা জানালেন এখন প্রতিদিনই নানা উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন।

    মাওলানা আবুল কালাম বলেন, ৫০ হাজার টাকা তুলতে আইছি (এসেছি)। এখনো (সকাল ১১টা) কত দিবা, (দিবেন) তাদের সাথে কথা অয়নি (হয়নি), এখন যা দেইন (দেন)।

    উপস্থিত গ্রাহকদের পরে ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেও জানা গেছে, রোজার কিছুটা আগে থেকে আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের এই শাখায় নগদ টাকার সংকট চলছে। যেসব গ্রাহক ৫০ হাজার বা ১ লাখ টাকা তুলতে চাইছেন, তাঁদের কাউকে ১০ হাজার, আবার কাউকে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হচ্ছে। বেশ কিছুদিন ধরেই এভাবে চলায় গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেকেই আতঙ্কে টাকা তুলতে ভিড় করছেন। সাধারণত যেখানে প্রতিদিন ৪০–৫০ জন গ্রাহক টাকা তুলতে আসতেন, সেখানে এখন ১০০–১৫০ জন আসছেন। কেউ কেউ টাকা কবে তুলতে পারবেন, সেই খোঁজ নিতে ব্যাংকে আসেন। এই শাখায় বর্তমানে চার শতাধিক গ্রাহক রয়েছেন বলে কর্মকর্তারা জানান।

    আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের মৌলভীবাজার শাখার ব্যবস্থাপক মো. তোফাজ্জল হোসেন বিষয়টি স্বীকার করে বলেন- বাংলাদেশ ব্যাংকের সবল ও দুর্বল ব্যাংক এ রকম একটি ঘোষণার পর সবাই টাকা উত্তোলন করতে হুমড়ি খেয়ে পড়ে। জমা না দিয়ে সবাই একসঙ্গে টাকা উত্তোলন করতে থাকায় এই সমস্যাটি প্রকট হয়। তবে যে একেবারেই লেনদেন হচ্ছে না তা এমন নয়। আমরা কমবেশি করে গ্রাহক সন্তুষ্ট রাখার চেষ্টা করছি। আমাদের চলমান এই সমস্যার বিষয়টি হেড অফিস অবগত। তারা আমাদেরকে আশ্বস্ত করছেন খুব শিগগিরই প্রয়োজনীয় ফান্ড দেবেন। এই শাখায় গ্রাহক রয়েছেন প্রায় ৬-৭শ’ জন। তবে সংকট দ্রুত কাটবে বলে তিনি গ্রাহকদের আশ্বস্ত করেন।

    এমআর

    হবিগঞ্জে শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মামলা

    হবিগঞ্জের লাখাইয়ে রিবন রুপা দাস (৪০) নামে এক স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধারের ২ দিন পর মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার (১৫ মে) দুপুরে মামলাটি দায়ের করেন শিক্ষিকা রিবন রুপা দাসের স্বামী অজয় দাশ।

    বিষয়টি নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ খলিলুর রহমান। তিনি জানান, ৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ৪/৫ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছে। 

    শিক্ষিকা রিবন রুপা দাস লাখাই উপজেলার ভবানীরপুর গ্রামের অজয় দাশের স্ত্রী। তিনি স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০২২ সালে শিক্ষকতায় জাতীয় পর্যায়ে সেরা উদ্ভাবক হয়েছিলেন তিনি। এর আগে ২০১৮ সালে হবিগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি ছিলেন লাখাই উপজেলার শ্রেষ্ঠ জয়িতা।

    প্রসঙ্গত, গত (১২ মে) রোববার বিকেলে উপজেলার ঝনঝনিয়া নদীর পাড় থেকে ওই স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ উদ্ধারের পর থেকে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়। 

    আরইউ

    রৌদ্রজ্জ্বল ফুটবল মাঠে হঠাৎ বজ্রপাত, খেলোয়াড় নিহত

    সিলেটের জৈন্তাপুরে মেঘবৃষ্টিমুক্ত রৌদ্রজ্জ্বল ফুটবল  মাঠে আকম্মিক  বজ্রপাতে খেলোয়াড়ের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। নিহত যুবকের নাম সবুজ আহমেদ (২২)। সে ২ নং জৈন্তাপুর ইউনিয়ন পরিষদের অন্তর্ভুক্ত কেন্দ্রী গ্রামের সগির আহমেদের পুত্র।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,  বুধবার ( ১৫ মে) বিকেল সাড়ে চার ঘটিকায় নিজপাট ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত গোয়াবাড়ী ফুটবল মাঠে বজ্রপাতে এই নিহতের ঘটনা ঘটে। ওইদিন ফুটবল ট্রুর্ণামেন্টের ম্যাচে ৪ নং বাংলাবাজার টিমের সাথে খেলার পূর্বে মাঠে নেমেছিলো একাদশের সাথে থাকা নিহত সবুজ।

    এ সময় খেলোয়াড় ও অতিথিদের সাথে কুশল বিনিময়ের এক পর্যায়ে মেঘমুক্ত আকাশে হঠাৎ তীব্র বজ্রপাত হলে তাৎক্ষণিকভাবে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে সবুজ। এ সময় তার নাভীর নিচের অংশে ফুটবল জার্সিতে পুড়ে যায়। বাকি সব খেলোয়াড় ও কলাকুশলীরা অক্ষত থাকে।এ সময় দ্রুত সবুজকে গোয়াবাড়ী মাঠ থেকে জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

    বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাজুল ইসলাম। তিনি জানান ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশের টিম নিহতের বাড়ীতে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরী করেছে। রাত নয় ঘটিকায় নিহতের জানাযা সম্পন্ন হওয়া কথা রয়েছে বিকেল ৫ টায় তার মরদেহ কেন্দ্রীস্হ বাড়ীতে নিয়ে গেলে সেখানে এক বেদনাবিধুর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে বজ্রপাতে নিহত সবুজের বাড়ী বিকেল ৫ টায় তার মরদেহ দেখতে আসেন জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল আহমেদ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে সালিক রুমাইয়া।

    এ সময় তারা নিহত  সবুজের বাবা সহ শোকার্ত পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান এবং তার বাবার হাতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নগত বিশ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা তুলে দেন। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন, জৈন্তাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম, নিজপাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইন্তাজ আলি, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান,  ব্যবসায়ী আবদুল আহাদ,স্হানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল হালিম, উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার আজিজুল হক খোকন,  জৈন্তাপুর বিয়াম ডাঃ কুদরত উল্লাহ স্কুলের অধ্যক্ষ আবু সুফিয়ান বিলাল সহ অন্যান্যরা।

    এফএস

    এক যুগ ধরে ধারাবাহিক বলাৎকার, অতিষ্ঠ হয়ে শিক্ষককে হত্যা

    ইফতেখার রশিদ মাহি (২২)। দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে তাকে প্রাইভেট টিউশনি পড়াতেন গৃহশিক্ষক মুক্তারুল হক। পঞ্চম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় ভয়ভীতি দেখিয়ে মাহিকে বলাৎকার করেন মুক্তারুল। এরপর থেকে ধারাবাহিকভাবে মাহিকে বলাৎকার করে আসছিলেন তিনি। যুবক বয়সে এসেও মাহিকে বলাৎকারের চেষ্টা করেন ওই গৃহশিক্ষক। তাতে রাজি না হওয়ায় মাহির ছোট বোনকে ধর্ষণের হুমকি দেন মুক্তারুল। এর প্রতিশোধ নিতেই মাথায় আঘাত করে গৃহশিক্ষক মুক্তারুলকে হত্যা করেন মাহি।

    নিহত মুক্তারুল হক সিলেটের জৈন্তাপুরের তেলীজুরী গ্রামের রহমত আলীর ছেলে। অভিযুক্ত মাহি একই গ্রামের বজলুর রশিদ শামীমের ছেলে।

    হত্যাকাণ্ডের দেড় বছর পর সোমবার (১৩ মে) পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে মূল আসামি মাহিকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দেন মাহি।

    মঙ্গলবার (১৪ মে) তাকে আদালতে হাজির করা হলে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন মাহি। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

    এর আগে ২০২২ সালের ৪ ডিসেম্বর সকালে সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার তেলীজুরী এলাকায় সিলেট-তামাবিল সড়কের পাশ থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় মুক্তারুল হকের (৩৬) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় নিহতের বাবা রহমত আলী বাদী হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে জৈন্তাপুর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। জৈন্তাপুর থানা পুলিশ কিছুদিন তদন্তের পর তদন্তভার গ্রহণ করে পিবিআই সিলেট জেলা।

    পিবিআই জানায়, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের পর সোমবার (১৩ মে) অভিযান চালিয়ে ঢাকার মালিবাগ চৌধুরীপাড়ার একটি পোশাক কারখানা থেকে মূল আসামি ইফতেখার রশিদ মাহিকে (২২) গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

    জিজ্ঞাসাবাদে মাহি পিবিআইকে জানিয়েছেন, মুক্তারুল তাকে দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে প্রাইভেট পড়াতেন। তিনি যখন পঞ্চম শ্রেণিতে পড়তেন তখন থেকে মুক্তারুল তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বলাৎকার শুরু করেন। পাশাপাশি অশ্লীল দৃশ্য মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে রাখেন। বিভিন্ন সময় বাধা দিলে তাকে ব্লেড দিয়ে দুই উরুতে অসংখ্য জখম করেন। অশ্লীল দৃশ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে এবং স্কুলের পরীক্ষায় ফেল করানোর ভয় দেখিয়ে তাকে দীর্ঘ বছর যাবৎ বলাৎকার করে আসছিলেন গৃহশিক্ষক মুক্তারুল।

    জিজ্ঞাসাবাদে মাহি আরও জানান, শেষ পর্যায়ে যুবক বয়সে এসেও তাকে বলাৎকার করতে চাইলে তিনি বাধা দেন। এ সময় মুক্তারুল মাহির নবম শ্রেণি পড়ুয়া ছোট বোনকে ‘নষ্ট’ করার হুমকি দেন। সেটি সহ্য করতে না পেরে মুক্তারুলকে খুন করার পরিকল্পনা করেন মাহি।

    ২০২২ সালের ৩ ডিসেম্বর অতীতের মতো মুক্তারুল মাহিকে তাদের বাড়ির পেছনে বলাৎকারের উদ্দেশ্যে ডাকলে মাহি সন্ধ্যার পর সেখানে যান এবং সেখানে থাকা কাঠ দিয়ে মুক্তারুলের মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে হত্যা করেন। এরপর মরদেহ তার বাড়ির রাস্তার পাশে জমিতে টেনে নিয়ে ফেলে দেন। এরপর মাহি বাড়িতে এসে পুকুরে গোসল করে নফল নামাজ পড়ে ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপের খেলাও দেখেন। পরদিন তিনি রামপ্রসাদ গ্রামে তার নানাবাড়িতে চলে যান। এর কিছুদিন পর খালার বাড়ি থেকে ঢাকায় গিয়ে একটি গার্মেন্টসে চাকরি নেন। এরপর আর এলাকায় আসেননি।

    মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই’র উপপরিদর্শক ঝলক মোহন্ত বলেন, ঘটনার তদন্তভার পেয়ে অনুসন্ধান শুরু করা হয়। এক পর্যায়ে তথ্য প্রযুক্তির সহযোগিতায় ঘটনার রহস্য উদঘাটন করা হয়। পরে সোমবার (১৩ মে) অভিযান চালিয়ে ঢাকার মালিবাগ চৌধুরীপাড়ার একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি থেকে মূল আসামি ইফতেখার রশিদ মাহিকে (২২) গ্রেপ্তার করা হয়।

    তিনি বলেন, গ্রেপ্তারের পর সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। মঙ্গলবার তাকে বিজ্ঞ আদালতে হাজির করা হলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    এমআর

    ভোটের আড়াই বছর পর বিজয়ী হলেন পরাজিত প্রার্থী

    মৌলভীবাজারের খলিলপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের সদস্য পদে পরাজিত হওয়ার আড়াই বছর পর আদালতে গিয়ে বিজয়ী হলেন পরাজিত প্রার্থী সৈয়দ মুজাহিদ আলী। আদালত ভোট পুনর্গণনা করে সৈয়দ মুজাহিদ আলীকে ১০৩ ভোটের ব্যবধানে জয়ী ঘোষণা করেন। 


    গত ৩০ এপ্রিল মৌলভীবাজার সিনিয়র সহকারী জজ নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুমিনুল হকের আদল এই রায় দেন


    আদলত সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ২৬ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার সদর উপজেলার খলিপুর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে  ৫নং ওয়ার্ডে ভোট গণনার পূর্বে প্রিসাইডিং অফিসার ও রিটানিং কর্মকর্তারা অভিনব কায়দায় ফুটবল প্রতীকের মো. আবু সুফিয়ানকে বিজয়ী ঘোষণা করে কেন্দ্র থেকে চলে যান। এতে ৯৮ ভোটের ব্যবধানে সৈয়দ মুজাহিদ আলীকে পরাজিত দেখানো হয়।


    এরপর সৈয়দ মুজাহিদ আলী মৌলভীবাজার নির্বাচনী আদালতে মামলা দায়ের করেন। বিচারক মুমিনুল হক দীর্ঘ বিচারকার্য সম্পাদন করে ব্যালেট বক্সগুলো তলব করে এবং প্রকাশ্যে আইনজীবীদের উপস্তিতিতে আদালতে ভোট পুনরায় গণনা করে। এতে দেখা যায় টিউবওয়েল প্রতীকে ভোট পড়েছে ৬৮০টি ও ফুটবল প্রতীক পড়েছে ভোট।


    এ ঘটনায় জড়িত প্রিসাইডিং অফিসার খালিশপুর মাদরাসার উপাধ্যক্ষ মো. ইলয়াছ আলী, রিটানিং কর্মকর্তা উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোতাহের বিল্লাহর বিরুদ্ধে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনে সুপারিশ প্রেরণের নির্দেশও দিয়েছেন আদালত।

    আরইউ

    অনলাইন ভোট

    আন্তর্জাতিক

    সব দেখুন
    ওমরাহ করতে ৮ হাজার কিলোমিটার পথ হাঁটলেন যুবক
    পবিত্র ওমরাহ হজ পালন করতে দীর্ঘ ৮ হাজার কিলোমিটার পায়ে হেঁটে সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ফ্রান্সের যুবক মোহাম্মেদ বুলাবিয়ার। বুধবার (১৫ মে) ৮ হাজার কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে ১৩টি দেশ অতিক্রম করে তিনি মদিনায় পৌঁছেছেন।এ পথ পাড়ি দিতে দীর্ঘ দুই বছর ধরে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন তিনি। ২০২৩ সালের ২৭ আগস্ট মোহাম্মেদ বুলাবিয়ার পায়ে হেঁটে পবিত্র ওমরাহ পালনের জন্য প্যারিস থেকে যাত্রা শুরু করেন। এরপর সুইজারল্যান্ড, ইতালি, স্লোভাকিয়া,ক্রোয়েশিয়া, বসনিয়া, মন্টিনিগ্র, আলবেনিয়া,মেসিডোনিয়া, গ্রিস, তুরস্ক এবং জর্ডান হয়ে সৌদি আরবে পৌঁছান। বুলাবিয়ার বলেন, তার সঙ্গে একটি ম্যাপ এবং ২৫ কেজি ওজনের একটি ব্যাগ ছিল।অধিকাংশ রাত তিনি মসজিদে কাটিয়েছেন।অনেকে তাকে নিজ গৃহের মতো স্বাগত জানিয়েছেন।দীর্ঘ এই যাত্রা পথে তাকে কঠিন আবহাওয়ার সঙ্গেও মোকাবিলা করতে হয়েছে। বুলাবিয়ার গ্রীষ্ম মৌসুমে যাত্রা শুরু করেন, এরপর বসন্ত থেকে শুরু করে শরৎ, শীত, এবং ঝড় ও বজ্রপাতের মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। এছাড়া গ্রিসে পৌঁছানোর পর ব্যাপক তুষার ঝড়ের মধ্যে পড়েন, এজন্য সৌদি আরব পৌঁছাতে এক সপ্তাহ দেড়ি  হয়। ছোট বেলা থেকেই তার পায়ে হেঁটে ওমরাহ করার ইচ্ছা ছিল। শেষ পর্যন্ত  সেটা সে করতে  পেরেছেন । এফএস
    খারকিভে চলছে ‘কঠিন লড়াই’: জেলেনস্কি
    ইউক্রেনের খারকিভ শহর ঘিরে ‘কঠিন লড়াই’ চলছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি বলেন, পরিস্থিতি ‘অত্যন্ত কঠিন’, তবে তা ‘নিয়ন্ত্রণে’ রয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ মে) খারকিভের শীর্ষস্থানীয় সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপের পর জেলেনস্কি এসব কথা বলেন। খবর বিবিসির।এর আগে গত সপ্তাহে ইউক্রেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভ সীমান্তে আকস্মিক অভিযান শুরু করে রুশ বাহিনী। ইতোমধ্যে তারা বেশ কিছু এলাকা নিজেদের দখলে নিয়েছে, যা গত ১৮ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ বলে মনে করা হচ্ছে।  বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বার্তা আদান-প্রদানের অ্যাপ টেলিগ্রামে জেলেনস্কি লিখেছেন, ‘ইউক্রেনের সেনারা রুশ বাহিনীর উল্লেখযোগ্য ক্ষতি করার চেষ্টা করছে। এলাকাটির বর্তমান পরিস্থিতি ভয়াবহ। সেখানে আমাদের আরও সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে।’মূলত ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে হামলার শুরুতেই খারকিভ শহরের উপকণ্ঠে পৌঁছে যায় রুশ বাহিনী। তবে ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর তীব্র প্রতিরোধের মুখে তারা আবারও সীমান্তে ফিরে যেতে বাধ্য হয়। নতুন করে খারকিভ সীমান্তে রাশিয়ার আকস্মিক হামলায় কিছুটা হকচকিত হয়ে পড়ে সেনা ও অস্ত্র সংকটে ভুগতে থাকা ইউক্রেনীয় বাহিনী।এসএফ
    ১০ হাজারের বেশি বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাবে যুক্তরাজ্য
    অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদের ফেরত পাঠাতে সম্প্রতি বাংলাদেশের সঙ্গে ফাস্ট ট্র্যাক রিটার্ন চুক্তি করেছে যুক্তরাজ্য। এই চুক্তির আওতায় অ্যাসাইলাম আবেদন প্রত্যাখান হওয়া বাংলাদেশি নাগরিকদের দেশে ফেরত পাঠানো হবে।অ্যাসাইলাম আবেদন প্রত্যাখান হওয়া বাংলাদেশি নাগরিকদের সংখ্যা হতে পারে ১০ হাজারেরও বেশি। বৃহস্পতিবার (১৬ মে) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ।প্রতিবেদন মতে, অ্যাসাইলাম আবেদন করে ব্যর্থ হওয়া আশ্রয়প্রার্থীদের ফাস্ট-ট্র্যাক রিটার্ন চুক্তির অধীনে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে। গত বছর প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশি ভিসা নিয়ে ব্রিটেনে প্রবেশ করেছেন শুধুমাত্র স্থায়ীভাবে দেশটিতে থাকার প্রয়াসে। আর দেশটিতে প্রবেশের পর আশ্রয়ের আবেদন জমা দিয়েছেন তারা।টেলিগ্রাফ বলছে, অভিবাসীরা গত বছরের মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, কর্মী বা ভিজিটর ভিসায় ব্রিটেনে এসে রাজনৈতিক আশ্রয় দাবি করেছেন। মূলত ব্রিটেনে প্রবেশের ‘পেছনের দরজা’ হিসেবে কাজে লাগানোর প্রয়াসে এসব ভিসা ব্যবহার করেছেন তারা। তবে দেশটিতে বাংলাদেশিদের প্রাথমিক আশ্রয় আবেদনের মাত্র ৫ শতাংশই সফল হয়েছে। অর্থাৎ ১০ হাজারের বেশি বাংলাদেশিকে যুক্তরাজ্য থেকে ফেরত পাঠানো হবে।দ্য টেলিগ্রাফ বলছে, চলতি সপ্তাহে লন্ডনে স্বরাষ্ট্র বিষয়ক প্রথম যৌথ ইউকে-বাংলাদেশ ওয়ার্কিং গ্রুপে উভয় পক্ষ রিটার্ন চুক্তিটিতে সম্মত হয়। এই চুক্তির অধীনে ব্যর্থ আশ্রয়প্রার্থীরা ছাড়াও বিদেশি নাগরিকদের যারা অপরাধী এবং যেসব ব্যক্তি ভিসা নিয়ে ব্রিটেনে প্রবেশের পর বাড়তি সময় অতিবাহিত করেছেন তাদেরও নির্বাসনের কাজ সহজ হবে।এছাড়া রিটার্ন চুক্তিটির ফলে বাধ্যতামূলক কোনো সাক্ষাৎকার ছাড়াই অভিযুক্তদের দেশে ফেরত পাঠনো যাবে কারণ এসকল অভিবাসীদের দেশ থেকে ফেরত পাঠানোর জন্য সহায়ক প্রমাণ রয়েছে।যুক্তরাজ্যের অবৈধ অভিবাসন বিষয়কমন্ত্রী মাইকেল টমলিনসন বলেন,অবৈধভাবে এখানে আসা বা থাকা বন্ধ করার জন্য অবৈধ অভিবাসীদের অপসারণের কাজ ত্বরান্বিত করা আমাদের পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বাংলাদেশ যুক্তরাজ্যের একটি মূল্যবান অংশীদার এবং আমরা তাদের সঙ্গেথে এই ইস্যুর পাশাপাশি অন্যান্য বিভিন্ন বিষয়ে আমাদের সম্পর্ক জোরদার করছি।টেলিগ্রাফ বলছে, ভিসা নিয়ে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের পর আশ্রয় আবেদনকারীদের মধ্যে সবার ওপরে রয়েছে পাকিস্তানিরা। দেশটির প্রায় ১৭ হাজার ৪০০ জন নাগরিক যুক্তরাজ্যে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন। এরপরই রয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশি আশ্রয় আবেদনকারীর সংখ্যা প্রায় ১১ হাজার। এরপরই ভারতের ৭ হাজার ৪০০ জন, নাইজেরিয়ার ৬ হাজার ৬০০ জন এবং আফগানিস্তানের রয়েছে ৬ হাজার জন।এসএফ
    ইমরান খানের ছবি ফাঁস, তদন্তের নির্দেশ
    পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলটির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের একটি ছবি প্রকাশ করার পর তা নিয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। এমনকি বৃহস্পতিবার সোশ্যাল মিডিয়া ছবিটি ফাঁস হওয়ার পর তদন্ত শুরু করেছেন আদালত। সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে জিও নিউজ।পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা আজ (বৃহস্পতিবার) ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জাতীয় জবাবদিহিতা ব্যুরোর (এনএবি) একটি মামলার শুনানির জন্য আদালতের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চের সামনে হাজির হন। এ সময় তার একটি ছবি তোলা হয়। ছবিটি পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ফাঁস করা হয়। পিটিআই থেকেও ছবিটি প্রকাশ করা হয়।পাঁচ সদস্যের বেঞ্চে পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতি কাজী ফয়েজ ঈসা, বিচারপতি আমিনুদ্দিন খান, বিচারপতি জামাল খান মান্দোখাইল, বিচারপতি আতহার মিনাল্লাহ ও বিচারপতি হাসান আজহার রিজভি ছিলেন।বর্তমানে পাকিস্তানের আদিয়ালা জেলে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। গত বছর তোশাখানা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় তাকে। এরপর এই প্রথম শুনানির জন্য সুপ্রিম কোর্টে হাজির হয়েছেন (ভিডিও কনফারেন্সে) ইমরান খান।পিটিআই নেতারা মামলার কার্যক্রমের সরাসরি সম্প্রচার পুনরায় শুরু করার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছেন।সূত্র জানিয়েছে, ছবি ফাঁসের বিষয়টি তদন্ত করছে সুপ্রিম কোর্ট।এফএস
    ‘শত্রু’ ভেবে নিজেদের ৫ সেনাকে হত্যা
    ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় ভুলবশত ‘শত্রু’ ভেবে নিজেদের পাঁচ সেনাকে হত্যা করেছে ইসরাইল। এছাড়া একই ঘটনায় আহত হয়েছে আরও সাতজন, যার মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।বুধবার (১৫ মে) উত্তর গাজার জাবালিয়ায় এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।এক প্রতিবেদনে নিহত সেনাদের নাম প্রকাশ করেছে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইসরাইল। এরা হলেন: এলির ক্যাপ্টেন রয় বেইট ইয়াকভ (২২), কার্নেই শোমরনের  স্টাফ সার্জেন্ট গিলাদ আরিয়ে বোইম (২২), টাইবেরিয়াসের সার্জেন্ট ড্যানিয়েল চেমু (২০), কারমিয়েলের সার্জেন্ট ইলান কোহেন (২০) এবং তেল আবিবের স্টাফ সার্জেন্ট বেতজালেল ডেভিড শাশুয়া। তারা সবাই প্যারাট্রুপারস ব্রিগেডের ২০২তম ব্যাটালিয়নে কর্মরত ছিলেন। আইডিএফ প্রাথমিক তদন্তে জেনেছে, বুধবার সকালে ইসরাইলি ট্যাংক বাহিনী ওই এলাকায় পৌঁছায়। এর কয়েক ঘণ্টা পর প্যারাট্রুপার বাহিনীর সদস্যরাও সেখানে গিয়ে পোস্ট স্থাপন করে। এদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে জাবালিয়া শরণার্থীশিবিরে প্যারাট্রুপার বাহিনীর একটি দল পৌঁছায়। ট্যাংক বাহিনী সেখানে একটি ভবনে অবস্থান করছিল। এর একটি জানালা দিয়ে তারা প্যারাট্রুপার বাহিনীর সদস্যদের দেখতে পায়। এ সময় তাদের হাতে বন্দুক দেখে মনে করেন তারা শত্রুপক্ষ। ফলে তাদের লক্ষ্য করে বোমা ছোড়েন তারা (ট্যাংক বাহিনী)। আর এতেই ওই দলের পাঁচ সেনার মৃত্যু হয়। এ ঘটনার আরও তদন্ত হবে বলে জানিয়েছে আইডিএফ।এসএফ 
    চীন-রাশিয়ার সম্পর্ক নিয়ে যা বললেন পুতিন
    চীন ও রাশিয়ার মধ্যকার সম্পর্ক সুবিধাবাদী ও কারো বিরুদ্ধে পরিচালিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।বৃহস্পতিবার (১৬ মে) চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে বৈঠককালে তিনি এ কথা বলেন।তিনি আরো বলেছেন, এটি মৌলিক গুরুত্বের বিষয় যে রাশিয়া এবং চীনের মধ্যে সম্পর্ক সুবিধাবাদী এবং কারো বিরুদ্ধে পরিচালিত নয়। বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আমাদের সহযোগিতা আজ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্থিতিশীলতার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করছে। পুতিন বলেছেন, রাশিয়া এবং চীন একসাথে ন্যায়বিচারের নীতি এবং একটি গণতান্ত্রিক বিশ্বব্যবস্থাকে সমর্থন করে, যা আন্তর্জাতিক আইনের ওপর ভিত্তি করে বহুমুখী বাস্তবতা এবং একটি বিশ্বব্যবস্থাকে প্রতিফলিত করে। আমি জোর দিয়ে বলতে চাই, চীনে এসে আমি আপনার সাথে দেখা করতে পেরে খুব খুশি।তার বর্তমান সফর দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার সামগ্রিক জটিলতার নিরসনে একটি অতিরিক্ত প্রেরণা যোগাবে বলে পুতিন আশা প্রকাশ করেছেন।উল্লেখ্য, পুতিন দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বৃহস্পতিবার চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে এসে পৌঁছেছেন। মার্চের নির্বাচনে পুনরায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর এটাই পুতিনের প্রথম বিদেশ সফর। তবে গত ছয়মাসে চীনে এটি তার দ্বিতীয় সফর।সফরকালে পুতিন ইউক্রেনে তার যুদ্ধ প্রচেষ্টা এবং দেশের বিচ্ছিন্ন অর্থনীতির জন্যে ব্যাপক সহায়তা পাওয়ার চেষ্টা করবেন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।এসএফ
    আবারও পেট্রোল-ডিজেলের দাম কমালো পাকিস্তান
    পেট্রোল ও ডিজেলের দাম অনেকখানি কমিয়েছে অর্থনৈতিকভাবে সংকটে থাকা পাকিস্তান। বুধবার (১৫ মে) বিজ্ঞপ্তি জারি করে তেলের নতুন মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়।মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ১৫ দশমিক ৩৯ রুপি এবং ডিজেলের দাম ৭ দশমিক ৮৮ রুপি কমানো হয়েছে। নতুন নির্ধারিত এই মূল্য কার্যকর করা হয়েছে আজ বৃহস্পতিবার থেকে।সেই অনুযায়ী বৃহস্পতিবার থেকে পাকিস্তানের সব এলাকায় প্রতি লিটার পেট্রোল ২৮৮ দশমিক ৪৯ রুপির পরিবর্তে ২৭৩ দশমিক ১০ রুপিতে এবং প্রতি লিটার ডিজেল পূর্বের ২৮১ দশমিক ৯৬ রুপির পরিবর্তে ২৭৪ দশমিক ০৮ রুপিতে বিক্রি হচ্ছে।অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আন্তর্জাতিক বাজারদর অনুসারে জাতীয় তেল ও গ্যাস নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষকে (ওগরা) জ্বালানি তেলের নতুন দাম নির্ধারণের নির্দেশ দিয়েছিল সরকার। ওগরা’র সুপারিশ অনুযায়ী নতুন এই মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।’প্রসঙ্গত, গত বেশ কিছুদিন ধরে জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে মন্দাভাব চলছে। তবে এই মন্দাভাব শাপে বর হয়েছে পাকিস্তানের জন্য। চলতি মে মাসেই এই নিয়ে টানা দ্বিতীয় বারের মতো জ্বালানি তেলের দাম কমল পাকিস্তানে।বছরের পর বছর ধরে অব্যবস্থাপনা, অপচয় ও দুর্নীতির কারণে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ তলানিতে ঠেকেছে পাকিস্তানের। ফলে ওষুধ-জ্বালানিসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য আমদানি করতেও হিমসিম খেতে হচ্ছে দেশটিকে।গত বছর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ঋণ সংস্থা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে ৩০০ কোটি ডলার ঋণ নিয়েছে। দ্বিতীয় দফা ঋণের জন্য আইএমএফ প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা চলছে ইসলামাবাদের।এসএফ
    ইন্দোনেশিয়ায় বিমানের ইঞ্জিনে আগুন: হজ ফ্লাইটের জরুরি অবতরণ
    ৪৫০ জন যাত্রী ও ১৮ জন ক্রু নিয়ে বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করেছে ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় বিমান পরিষেবা সংস্থা গারুদার একটি উড়োজাহাজ। ফ্লাইটের বেশিরভাগ যাত্রীরা পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশে সৌদি আরবে যাত্রা করেছিলো, ছিলো সাধারণ যাত্রীরাও। ইঞ্জিনে আগুন ধরে যাওয়ায় বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণে বাধ্য হয় সেটি। খবর, সেন্ট্রাল নিউজ এশিয়া (সিএনএ)।ফ্লাইটটি স্থানীয় সময় বিকাল ৩.৩০ মিনিটে সুলতান হাসানউদ্দিন বিমানবন্দর ত্যাগ করে এবং বিকাল ৫.১৫ মিনিটে নিরাপদে বিমানবন্দরে ফিরে আসে। গারুদার নির্বাহী পরিচালক ইরফান সেতিয়াপুত্র তার বিবৃতিতে বলেছেন, প্রাথমিকভাবে স্থানীয় সময় রাত সোয়া ৯টায় মদিনার প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা ছিল। বিমানটি টেক অফের পরপরই সেটির একটি ইঞ্জিনে আগুন লাগে। সম্ভবত ফ্লাইট শুরুর আগে সেটি ভালোভাবে পরীক্ষা করা হয়নি। আগুন দেখতে পাওয়া মাত্র পাইলট তাৎক্ষণিকভাবে বিমান অবতরণের সিদ্ধান্ত নেন।উল্লেখ্য, বিমানটি অবতরণের দুই ঘণ্টার মধ্যে যাত্রীদের জন্য নতুন আরেকটি বিমানের বন্দোবস্ত করেছে গারুদা। সেই সঙ্গে মেরামতের জন্য গ্রাউন্ডেড করা হয়েছে আগুন লাগা বিমানটিকে।এসএফ
    ১০ কোটি গাছ লাগিয়ে ‘ম্যানগ্রোভ বনভূমি’ বানাবে মরু শহর দুবাই
    ম্যানগ্রোভ বলতে সমুদ্র উপকূলে জোয়ার-ভাটায় প্লাবিত বিস্তীর্ণ জলাভূমিকে বোঝায়। ম্যানগ্রোভ বন জোয়ার-ভাটায় বিধৌত লবণাক্ত সমতলভূমি। পৃথিবীর ১১৮টি দেশে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৮০০ বর্গ কিলোমিটারজুড়ে ম্যানগ্রোভ বন আছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গজুড়ে গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার মোহনায় গড়ে ওঠা সুন্দরবন হচ্ছে পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন।এবার ‘ম্যানগ্রোভ বনভূমি’ তৈরিতে নতুন উদ্যোগ নিলো মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই। এজন্য মরু শহর দুবাইতে ১০ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। সিএনএন'র প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই শহরের ৭০ কিলোমিটার উপকূলজুড়ে বিশ্বের বৃহত্তম উপকূলীয় নগর সংস্কার প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে। দেশটির পক্ষ থেকে ‘দুবাই ম্যানগ্রোভ’ নামের উদ্যোগের অধীনে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এর আওতায় উপকূলে বৃহৎ একটি ম্যানগ্রোভ বা লবণাক্ত জলাবন গড়ে তোলা হবে। সেখানে ১০ কোটির বেশি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এই বনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠবে উপকূলীয় এলাকার পুরো বাস্তুসংস্থান।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুবাইয়ের উপকূল সংস্কারের এ উদ্যোগ নিয়েছে টেকসই শহর নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ইউআরবি। প্রতিষ্ঠানটির তথ্যানুযায়ী, উপকূলে গাছ লাগানোর ফলে প্রতি বছর ১২ লাখ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষিত হবে, যা সড়ক থেকে ২ লাখ ৬০ হাজার গ্যাসচালিত গাড়ি বন্ধের সমান।ইউআরবির প্রতিষ্ঠাতা ও নগর পরিকল্পনাবিদ বাহারাশ বাঘেরিয়ান বলেন, ম্যানগ্রোভ হলো উপকূলীয় ক্ষয় এবং সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধির বিরুদ্ধে প্রকৃতির নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। দুবাইয়ের মতো যেকোনও উপকূলীয় শহরের জন্য এটি বড় উদ্বেগের বিষয়।বাঘেরিয়ান বলেন, বর্তমানে আমরা গবেষণা পর্যায়ে রয়েছি। প্রকল্প শুরুর জন্য প্রাথমিকভাবে ছয়টি স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব স্থানের সংস্কারের জন্য নকশা করা হচ্ছে। প্রকল্প ২০৪০ সাল নাগাদ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।ইউআরবির অন্য নকশাগুলো এখনও পরিকল্পনা পর্যায়ে রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০৪০ সালের মধ্যে এক হাজার কিলোমিটার সাইকেল চালানোর জন্য রাস্তা তৈরি ও দুবাই রিফ নামের ভাসমান দ্বীপ তৈরি। 
    দুবাইয়ে ২ হাজার ৬৩৬ কোটি টাকার গোপন সম্পদের মালিক ৩৯৪ বাংলাদেশি
    বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ধনাঢ্য ব্যক্তিরা দুবাইয়ের আবাসন খাতে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন। তাদের এ তালিকায় রয়েছেন ৩৯৪ বাংলাদেশি। তাদের ২ হাজার ৬৩৬ কোটি টাকা মূল্যের ৬৪১টি সম্পত্তি রয়েছে সেই দেশে। সম্পত্তির মালিকের এ তালিকায় আরও রয়েছেন বিভিন্ন দেশের বড় ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। এমনকি বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞায় থাকা ব্যক্তি, অর্থ পাচারকারী ও অপরাধীরাও সেখানে বিপুল সম্পদের মালিক। একটি বৈশ্বিক অনুসন্ধানি সাংবাদিকতা প্রকল্প মঙ্গলবার এ তালিকা প্রকাশ করেছে।তালিকায় দেখা গেছে, দুবাইয়ে সবচেয়ে বেশি সম্পদ রয়েছে ভারতীয়দের। সেখানে ৩৫ হাজার প্রপার্টির মালিক ২৯ হাজার ৭০০ ভারতীয়। এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন পাকিস্তানিরা। দেশটির ১৭ হাজার নাগরিকের দুবাইয়ে ২৩ হাজার প্রপার্টি রয়েছে। এর মূল্য ১ হাজার ২৫০ কোটি ডলার।বাংলাদেশি নাগরিকদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তবে সংবাদে যে মানচিত্র প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে বাংলাদেশিদের সংখ্যা, সম্পদের পরিমাণ এবং দাম রয়েছে। তাদের নিয়ে পৃথক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করতে পারে একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।‘দুবাই আনলকড’ শীর্ষক এ অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা প্রকল্পের সমন্বয় করেছে অর্গানাইজড ক্রাইম অ্যান্ড করাপশন রিপোর্টিং প্রজেক্ট (ওসিসিআরপি) ও নরওয়ের সংবাদমাধ্যম ই-টোয়েন্টিফোর। এ প্রকল্পে অংশ নিয়েছে ৫৮টি দেশের ৭৪টি সংবাদমাধ্যম। প্রতিবেদনটি ওসিসিআরপির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।এই অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় অংশ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাময়িকী ফোর্বসও। সব মিলিয়ে ফোর্বস ২২ ধনকুবের ও তাদের পরিবারের সদস্যদের মালিকানাধীন ৬০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের ৭৬টি সম্পত্তির খোঁজ পেয়েছে। বিশ্বের চারটি মহাদেশের ১০টি দেশ থেকে এসেছেন তারা।যুক্তরাজ্য, মিসর, সাইপ্রাসের নাগরিকদেরও সম্পদ রয়েছে দুবাইয়ে। দুবাইয়ে গোপনে সম্পদ গড়া ব্যক্তিদের এ তালিকায় রয়েছে দারিদ্র্যপীড়িত ও যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানের অন্তত সাত নাগরিকের নামও। তাদের মধ্যে ছয়জন রাজনৈতিক ও একজন নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ব্যক্তি।পাকিস্তানের দৈনিক ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফাঁস হওয়া নথি অনুযায়ী, দুবাইয়ে ১৭ হাজার পাকিস্তানি সম্পদের মালিক। তবে তথ্য-উপাত্ত ও অতিরিক্ত সূত্র ব্যবহার করে এ সংখ্যা ২২ হাজারের মতো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।এ ছাড়া তালিকায় চীন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের পাশাপাশি ইয়েমেন, নাইজেরিয়া ও কেনিয়ার মতো দেশের নাগরিকরাও রয়েছেন। আরও রয়েছেন নিষেধাজ্ঞার অধীনে থাকা মিয়ানমারের একজন অস্ত্র ব্যবসায়ী।ছয় মাসে বাংলাদেশিদের মালিকানাধীন ১ হাজার ৪৪টি কোম্পানি দুবাই চেম্বারের সদস্যপদ নিয়েছে। তাতে দুবাই চেম্বারের সদস্যপদ পাওয়া বাংলাদেশিদের মালিকানাধীন কোম্পানির মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৯৭৫টি। দুবাইয়ে বহু বাংলাদেশির অবৈধ সম্পদ রয়েছে বলে মনে করা হয়।এসএফ

    বিনোদন

    সব দেখুন
    হাতে প্লাস্টার নিয়েই কানে দ্যুতি ছড়ালেন ঐশ্বরিয়া
      প্রতিবছরই কানের লাল গালিচায় দ্যুতি ছড়ান বলিউড অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন। মেয়ে আরাধ্যকে নিয়ে ৭৭তম কান চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে গত বুধবার ভারত ছাড়েন অভিনেত্রী। তবে মুম্বাই বিমানবন্দরে পাপারাজ্জিদের ক্যামেরায় ধরা পড়ে তাঁর হাতের প্লাস্টার। আর তাতেই ছিল শঙ্কা! এবার কি তাহলে কানের লাল গালিচায় হাঁটতে দেখা যাবে না তাঁকে। অবশ্য গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যাবেলা যখন তিনি রেড কার্পেটে হাঁটলেন, সব দ্বন্দ্ব-শঙ্কা যেন উড়ে গেল ফুৎকারে।ঐশ্বরিয়ার রূপের জৌলুশ আর পোশাকের অনন্যা ছাপিয়ে তাঁর ভাঙা হাতে নজর গেল না কারুর! প্রতি বছরের মতো এবারও ঐশ্বরিয়ার পোশাক ছিল আকর্ষণের কেন্দ্রে। রেড কার্পেটে অভিনেত্রী হেঁটেছেন ফাল্গুনি-শেন পিককের কালো-সোনালি গাউন পরে।গাউনের লম্বা টেইল নজর কাড়ল সবার। উনের টেইল (লেজ) জুড়ে সোনালি ফুল যেন বিকশিত হয়েছে। বয়সের ছাপ একেবারেই ধরা পড়ল না, লাল গালিচায় ঐশ্বরিয়ার কালো জাদু মুগ্ধতা ছড়িয়েছে।কালো গাউনের সঙ্গে তাঁর ক্যাটস আইলাইনার ও বোল্ড লিপ ছিল এক্কেবারে মানানসই। সোনালি স্টেটমেন্ট দুলও চোখ টানল। ডান হাতে সাদা প্লাস্টার নিয়েও কালো গাউন পরে চেনা ছন্দে হেঁটে চমকে দেন ঐশ্বরিয়া। সেই ছবি-ভিডিও অনলাইনে ভাইরাল। একজন লিখেছেন, ‘কে বলবে তাঁর হাতে চোট লেগেছে! আপনার আত্মবিশ্বাস দেখে কুর্নিশ জানাতে হয়। আপনাকে ছাড়া লাল গালিচা অসম্পূর্ণ।’ কান চলচ্চিত্র উৎসবে দীর্ঘদিন ধরেই ভারতকে প্রতিনিধিত্ব করছেন সাবেক এই মিস ওয়ার্ল্ড। তাঁর বেশির ভাগ পোশাক ফ্যাশন উৎসাহীদের কাছ থেকে বেশ প্রশংসা পেয়ে এসেছে।হাতে প্লাস্টার নিয়েই কি কানের লাল গালিচায় হাঁটবেন ঐশ্বরিয়াহাতে প্লাস্টার নিয়েই কি কানের লাল গালিচায় হাঁটবেন ঐশ্বরিয়া২০০২ সালে কান চলচ্চিত্র উৎসবে ভারী সোনার গয়না পরে হেঁটেছিলেন ঐশ্বরিয়া। ওই বছরই তাঁর ছবি দেবদাস সেখানে প্রিমিয়ার হয়েছিল। সেবার অভিনেতা শাহরুখ খান ও পরিচালক সঞ্জয় লীলা বানসালির সঙ্গে উপস্থিত হয়েছিলেন তিনি।এরপর থেকে প্রায় প্রতিবছরই উৎসবে হাজির থেকেছেন এই অভিনেত্রী। অ্যাশ প্রায় দুই দশক ধরে কানে প্রসাধনী জায়ান্ট ল’রিয়ালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।এমএইচ
    মিঠুন- শ্রীদেবীর পরকীয়ায় মুখ খুললেন ‘প্রাক্তন’
    ভারতীয় কিংবদন্তী অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী যিনি একাধারে বাংলা আর হিন্দি উভয় চলচ্চিত্রে কাজ করে পেয়েছেন ব্যাপক জনপ্রিয়তা। ৭০ এর দশকে বিনোদন দুনিয়ায় ঝড় তুলেছিলেন মিঠুন। পুরুষ ও মহিলা, উভয়ের মধ্যেই মিঠুনকে নিয়ে ক্রেজ ছিল চোখে পড়ার মতো। মিঠুনের হেয়ারস্টাইল, পোশাক নকল করতেন সেই সময়ের তরুণ সমাজ। এই স্টাইলে হয়তো মন মজেছিল শ্রীদেবীরও। সুদীর্ঘ কেরিয়ারে অনেকের সঙ্গে নাম জড়ায় ডিস্কো ডান্সার অভিনেতার। তবে শ্রীদেবীর মতো চর্চা, আর কাউকে নিয়ে হয়নি। প্রয়াত অভিনেত্রী শ্রীদেবীর সঙ্গে একসময় মিঠুন চক্রবর্তীর সম্পর্কের খবর নিয়ে সরগরম হয়েছিল পুরো টলিউড ইন্ডাস্ট্রি। যদিও মিঠুন, জীবনের এই অধ্যায়কে সামনে আনতে চান না। তবে কিছুদিন আগে এক সাক্ষাৎকারে, মিঠুন আর শ্রীদেবীকে নিয়ে কথা বললেন মমতা শঙ্কর।শোনা যায়, বিবাহিত মিঠুনেরই প্রেমে পড়েছিলেন শ্রীদেবী। আর দুজনের ঘনিষ্ঠতা কানে আসে যোগিতা বালিরও। স্বামীর সঙ্গে শ্রীদেবীর অবৈধ সম্পর্ক মেনে নিতে পারেননি যোগিতা। শোনা যায়, তিনি আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছিলেন সেই সময়। এমনকি ইন্ডাস্ট্রির অন্দ্মলহলে শোনা যায় যে, গোপনে নাকি বিয়েও করেছিলেন তাঁরা। কিন্তু শ্রীদেবী যখন বুঝতে পারেন মিঠুন তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ চান না, তখন সম্পর্ক থেকে সরে যান প্রয়াত অভিনেত্রী।  তবে এই সব ঘটনার কোন প্রমাণ নেই, সবটাই ছড়িয়েছে লোকমুখে। সম্প্রতি নিবেদিতা অনলাইনকে এই অধ্যায়ের ব্যাপারে মুখ খুলে মমতা শঙ্কর বলেন, ‘একসময় কলকাতায় দেখা হয়েছিল, নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে। আমি ওকে বলেছিলাম, ‘তুই তো খুব ভালো আছিস, এদিকে শ্রীদেবী ওদিকে যোগিতা’। আমার কথা শুনে ও বলেছিল, ‘মম বলিস না, বললে একদিকে তুইও কাঁদতে আরাম্ভ করবি। আমিও কাঁদতে আরাম্ভ করব।’ এটা কেন বলেছিল, কী জন্য বলেছিল, আমি বলতে পারব না।’ প্রসঙ্গত, মিঠুন আর মমতা শঙ্করের মধ্যে ছিল একসময় ভালোবাসার সম্পর্ক, যা শুরু হয়েছিল মৃগয়ার সেটে। দুজনের বিয়ের কথাও হয়েছিল। পাকা হয়েছিল তারিখও। তবে তা ভেঙে যায়। শোনা যায় একটু সময় চেয়েছিলেন মিঠুন তাই তখনই বিয়ে করতে চাননি। এই সম্পর্ক পরে আর এগোয়নি। তারপরে অবশ্য দুজনের মধ্যে সম্পর্ক অনেক স্বাভাবিক হয়। প্রজাপতি সিনেমাতে স্ক্রিনশেয়ারও করেছেন তাঁরা।এবি   
    শিল্পী সমিতির নতুন নির্বাচন চাওয়ায় নিপুণকে বেহায়া বললেন জায়েদ খান
    চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন শেষ হয়েছে কয়েক দিন আগে। এবারের নির্বাচনে ডিপজলের কাছে পরাজিত হয়েছেন নিপুণ। আর মাহমুদ কলি হেরেছেন মিশা সওদাগরের কাছে। এদিকে প্রথমে এই ফলাফল নিপুণ মেনে নিলেও গত বুধবার (১৫ মে) সকালে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সদ্যঃসমাপ্ত নির্বাচনের ফলাফল বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছে নির্বাচনে পরাজিত সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী নাসরিন আক্তার নিপুণ। রিটে মিশা-ডিপজলের নেতৃত্বাধীন কমিটির দায়িত্ব পালনে নিষেধাজ্ঞাও চাওয়া হয়েছে। বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের হাইকোর্ট বেঞ্চে রিট আবেদনটি দায়ের করা হয়েছে।তবে এই ঘটনাই, সদ্য বিদায় নেওয়া চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অভিনেত্রী নিপুণ আক্তারকে বেহায়া বলেছেন আরেক সাধারণ সম্পাদক ও অভিনেতা জায়েদ খান। একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে হাজির হয়ে এমন মন্তব্য করেন তিনি।জায়েদ খান বলেন, একজন মানুষ লোভে পড়ে কি করে এতোটা বেহায়া হতে পারেন যেখানে উনি (নিপুণ আক্তার) নিজেই মেনে নিয়ে বলে গিয়েছিলেন যে, সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে। অথচ এখন বলছে যে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘এ ধরনের নোংরা মনমানসিকতার শিল্পীকে সকল শিল্পী মিলে প্রতিহত করবেন। আইন বা রিটের বিষয়ে তো আমি কিছু বলতে পারব না, তবে নতুন কমিটিকে মালা পরিয়ে দিয়ে এখন আবার উল্টো কথা বলেন। এটা দ্বৈতনীতি। এত জঘন্য শিল্পী হতে পারেন না। উনি শিল্পী নামের কলঙ্ক। ’শিল্পী সমিতির নতুন কমিটির দায়িত্ব পালনে নিপুণের রিট প্রসঙ্গে জায়েদ বলেন, ‘এটি উনি আলোচনায় থাকার জন্য করেছেন। ওনার আলোচনায় আসা দরকার। পাশাপাশি কিছু লোক বুঝিয়েছেন। ওনার কারণে সব শিল্পীরা নিচে নেমে যাচ্ছেন। ’উল্লেখ্য, গত ১৯ এপ্রিল বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২৪-২০২৬ মেয়াদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে ২৬৫ ভোট পেয়ে মিশা সভাপতি পদে বিজয়ী হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দী মাহমুদ কলি ১৭০ ভোট পান। অন্যদিকে ২২৫ ভোট পেয়ে ডিপজল পেয়েছেন ২২৫ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী নিপুণ ১৬ ভোট কম পেয়ে ২০৯ ভোট নিয়ে হেরে যান।এবি
    ‘গোলাপি রানি’ হয়ে লাল গালিচায় মুগ্ধতা ছড়ালেন উর্বশী
    প্রতিবারের মতো এবারেও ফ্রান্সের দক্ষিণ উপকূলীয় শহর কানে বসেছে চলচ্চিত্র দুনিয়ার সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর ‘কান চলচ্চিত্র উৎসব।’ গত ১৪ মে পর্দা উঠেছে ৭৭তম এই আসরের। ইতোমধ্যে জমকালো এই আয়োজনে নজরকাড়া লুকে ভিড় জমাচ্ছেন দেশি-বিদেশি সব তারকা।তবে এবার গোলাপি রানি হয়ে কানের লাল গালিচায় মুগ্ধতা ছড়ালেন উর্বশী রাউতেলা। বরাবরের মতো এবারের আসরেও আবেদনময়ী লুকে রূপের দ্যুতি ছড়িয়েছেন তিনি। কানের প্রথম দিনে লাল গালিচায় তোলা কিছু ছবি ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন উর্বশী। ক্যাপশনে অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘কান চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে।’ তাতে দেখা যায়, গোলাপি রঙের গাউনে সেজেছেন তিনি।প্রিয় তারকাকে এমন লুকে দেখে প্রশংসা করছেন উর্বশীর ভক্তরা। রীতিমতো মন্তব্যের ঝড় উঠেছে অভিনেত্রীর কমেন্টসবক্সে। একজন লিখেছেন, ‘তোমার সৌন্দর্যের সঙ্গে কেউ পাল্লা দিতে পারবে না। এমনকি কাইলি জেনারও নয়।’ আরেকজন লেখেন, ‘গোলাপি রানি।’ভারতীয় গণমাধ্যমের সূত্র অনুসারে, উর্বশীর গাউনটি ডিজাইন করেছেন তারকা ডিজাইনার খালেদ ও মারওয়ান। লেবাননের বৈরুতে অবস্থিত আউত কুচার নামে একটি ফ্যাশন হাউজ তৈরি করেছে অভিনেত্রীর পোশাকটি।তবে এর আগেও কান উৎসবে গোলাপি পোশাক পরে  আলোচনায় আসেন এই নায়িকা। কান চলচ্চিত্র উৎসব ২০২৩-এর প্রথম লুকে গোলাপি বল গাউনে ডিজনি প্রিন্সেসের অবতারে ধরা দিয়েছেলেন তখন উর্বশী, কিন্তু তখন তাঁর পোশাকের থেকে গলার নেকপিসই বেশি আলোচিত হয়। সবার চোখ গলায় যেতেই চক্ষুচড়কগাছ! কারণ অফ-শোল্ডার গাউনের সঙ্গে গলায় টিকটিকি জড়িয়ে হাজির হয়েছেলেন নায়িকা! দুটি সুবিশাল টিকটিকি তাঁর গলা জড়িয়ে রয়েছে। সঙ্গে কানেও টিকটিকি দুল! উর্বশী মানেই চমক, এবারও নতুন চমকে সামনে এসেছে এই নায়িকা।  প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালে মিস ডিভা ইউনিভার্স খেতাব জেতেন উর্বশী। একই বছর মিস ইউনিভার্স আসরে ভারতের প্রতিনিধিত্বও করেন তিনি। এখন পর্যন্ত সুন্দরী প্রতিযোগিতায় সবচেয়ে বেশি বিজয়ী হওয়ার রেকর্ড রয়েছে তার। পাশাপাশি বলিউডের বেশ কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করে নজর কাড়েন উর্বশী। এবি 

    অর্থ-বাণিজ্য

    সব দেখুন
    ‘নতুন করে রিজার্ভ চুরির খবর ভুয়া’
    ভারতের একটি অনলাইনে প্রকাশিত রিজার্ভ চুরি সংক্রান্ত প্রতিবেদনের সত্যতা নাকচ করে দিয়ে বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন করে রিজার্ভ চুরির ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বুধবার (১৫ মে) বাংলাদেশ ব্যাংক এ সংক্রান্ত একটি বিবৃতি দেয়।বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিউইয়র্ক ফেডের সঙ্গে লেনদেনে নিশ্চয়তার ক্ষেত্রে বর্তমানে তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নীতি চালু রয়েছে। ভারতীয় অনলাইনে যে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, তা ভুয়া।বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মেজবাউল হক গণমাধ্যমকে বলেছেন, রিজার্ভ চুরির খবরটি সম্পূর্ণ ভুয়া। আমরা খোঁজ নিয়ে দেখেছি, রিজার্ভ চুরির কোনো ঘটনা ঘটেনি।ভারতের অনলাইনে রিজার্ভ চুরির প্রতিবেদন প্রকাশের পর ব্যাংকপাড়াসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে প্রতিবেদনটির সত্যতা নাকচ করা হয়।প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের নিউইয়র্ক শাখায় রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের হিসাব থেকে ১০০ কোটি ডলার চুরির চেষ্টা চালায় অপরাধীরা। তবে শেষ পর্যন্ত তারা ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি করতে সক্ষম হয়। চুরি হওয়া অর্থের মধ্যে শ্রীলঙ্কায় চলে যায় দুই কোটি ডলার। বাকি ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার ফিলিপাইনের আরসিবিসি ব্যাংক হয়ে দেশটির বিভিন্ন ক্যাসিনোয় ঢুকে যায়। চুরি যাওয়া অর্থের মধ্যে এখন পর্যন্ত সব মিলিয়ে ৩ কোটি ৪৬ লাখ ডলার উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি ৬ কোটি ৬৪ লাখ ডলার এখনো ফেরত পাওয়া যায়নি। আরইউ
    স্বর্ণের অলংকার বিক্রয়ে নতুন হার নির্ধারণ
     স্বর্ণের অলংকার বিক্রয়ে নূন্যতম মজুরি ৬ শতাংশ ও পারচেজে বাদের হার কমালো বাংলাদেশ জুয়েলারি অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। আজ (মঙ্গলবার, ১৪ মে) বাজুসের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় মজুরি পুনর্নির্ধারণ করা হয়।নতুন নিয়মানুযায়ী স্বর্ণের অলংকার এক্সচেঞ্জ বা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ ও পারচেজ বা ক্রেতার নিকট থেকে ক্রয়ের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ বাদ যাবে। ইতোপূর্বে স্বর্ণের অলংকার এক্সচেঞ্জের ক্ষেত্রে ৯ শতাংশ ও পারচেজ ক্ষেত্রে ১৩ শতাংশ বাদের নিয়ম কার্যকর ছিল।এছাড়া বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাথে সামঞ্জস্য রেখে স্বর্ণের অলংকার বিক্রয়ের সময় নূন্যতম মজুরি ৬ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য স্বর্ণের অলংকার বিক্রয়ের সময় ভারতে ১২ শতাংশ, শ্রীলংকায় ৮ শতাংশ, চীনে ১৫ শতাংশ, ইতালিতে ২০ শতাংশ, হংকংয়ে ৩০ শতাংশ, মালয়শিয়ায় ৩৫ শতাংশ, অষ্ট্রেলিয়ায় ২০ শতাংশ, যুক্তরাষ্ট্রে ৬ শতাংশ, যুক্তরাজ্যে ১৪ শতাংশ পর্যন্ত মজুরি গ্রহণ করা হয়।বাংলাদেশের সব জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের স্বর্ণের অলংকার এক্সচেঞ্জ বা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ ও পারচেজ বা ক্রেতার কাছ থেকে ক্রয়ের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ বাদের নিয়ম কার্যকর এবং স্বর্ণের অলংকার বিক্রয়ের সময় ক্রেতার কাছ থেকে ৬ শতাংশ মজুরি নেয়ার অনুরোধ জানান।এমএইচ
    ঢাকার খামারগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশে চলছে কোরবানির পশু বিক্রি
    চাঁদ দেখা সাপেক্ষে এবার ঈদুল আজহা ১৭ জুন (সোমবার) উদযাপিত হতে পারে। কোরবানির এক মাস হাতে থাকলেও ফার্মগুলোতে কোরবানিযোগ্য পশু বিক্রি শুরু হয়ে গেছে আরো কয়েকমাস আগেই।রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় পশু হাট বসলেও ঢাকা শহরের ব্যস্ত জীবনের চাপে হাটে গিয়ে পছন্দসই পশু কেনা হয়ে উঠে না অনেকের। ঢাকায় যেখানে মানুষ থাকতেই কত রকম ঝামেলা পোহাতে হয়, সেখানে বাসায় গরু রেখে যত্ন নেওয়া, নিয়মিত খাবার খাওয়ানো, গোসল করানো একটা আলাদা চাপ হয়ে দাঁড়ায়। তাই ফার্মে গিয়ে অগ্রিম বুকিং দিয়ে আসছে অনেক ক্রেতারা। এই কারণেই খামারিদেরও বেশ ব্যস্ত সময় যাচ্ছে এখন। মঙ্গলবার (১৪ মে) রাজধানীর মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ এলাকার আল মদিনা ক্যাটেল ফার্ম, সাদেক এগ্রো, বাবু এগ্রোসহ বেশ কিছু খামার ঘুরে খামারিদের গরু প্রস্তুতি, বিক্রি, চাহিদাসহ ইত্যাদি বিষয়ে খোঁজ-খবর নেওয়ার চেষ্টা করেছেন প্রতিবেদক। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি খামার বেশ পরিপাটি করে সাজানো হয়েছে। খাবার খাওয়ানো, গোসল করানো, ক্রেতাদের ঘুরে ঘুরে পশু দেখানো থেকে শুরু করে বেশ ব্যস্ত এবং উৎসবমুখর সময় পার করছে খামারিরা।আল মদিনা ক্যাটেল ফার্মের একজন খামারি রাজু মন্ডল বলেন, আলহামদুলিল্লাহ আমাদের এখানে বর্তমানে তিন শতাধিকের বেশি গরু এবং মহিষ আছে প্রায় ২০টির মতো। শাহীওয়াল, হোলস্টাইন, ব্রাহমা, মীর কাদিম, সিন্ধি, ভুট্টি জাতের গরুসহ প্রায় ১০-১২টি জাতের গরু এবং থাই মহিষও আছে। বছরের শুরু থেকেই চলে বুকিং এ প্রক্রিয়া, অনেক ক্রেতা আছে একদম বছরের শুরুতেই আমাদের এখানে পশু বুকিং দেন এবং মাঝেমধ্যে এসে দেখে যান।তিনি আরো জানান, মহিষ আসলে অনেকে শখ করে কোরবানি দেন। মহিষে যদিও লাভ গরুর তুলনায় কম এবং তাতে খরচও বেশি। যেহেতু ক্রেতারা বুকিং দেবার পর যাবতীয় খরচ আমরা বহন করি, তারপরও চেষ্টা করি ক্রেতাদের খুশি রাখতে। তাই কিছু মহিষও রেখেছি আমরা।পশুর দাম প্রসঙ্গে খামারি রাজু মন্ডল বলেন, এবার গবাদিপশুর দাম তুলনামূলক বেশি এবং ঈদের যত দিন ঘনিয়ে আসবে ততো দাম বাড়ার সম্ভবনা আছে। এর প্রধান কারণ হলো গোখাদ্যের দাম বৃদ্ধি। প্রায় প্রতিদিনই কেজিতে ৫-১০ টাকা দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। যদি এমন করে বৃদ্ধি পেতেই থাকে তাহলে আমাদের কিছু করার থাকবে না, দাম আরো বৃদ্ধি পাবে। আর যদি এই সুযোগে বর্ডার ক্রস করে গরু আসে তাহলে বাজার পরিস্থিতি আরো এলোমেলো এবং লস প্রজেক্ট হবে।সাদিক এগ্রোর কর্মকর্তা আব্দুর রহিম ইসলাম জানান, তাদের ওখানে প্রায় ১৬০০টি ষাঁড় গরু প্রস্তুত আছে। যারমধ্যে সর্বনিম্ন ২ লাখ এবং সর্বোচ্চ প্রায় ৪০ লাখ টাকার গরু আছে। বেচা বিক্রি শুরু হয়ে গেছে আরো অনেক আগে থেকেই, ইতোমধ্যে ২০০ গরু বিক্রি হয়ে গেছে। আমরা বুকিংকৃত গরু ফ্রি হোম ডেলিভারি দিয়ে থাকি।দাম প্রসঙ্গে তিনি জানান, গত বছরের তুলনায় এবার গরুর দাম কম। খাবারের দাম ৬৫% বেড়েছে কিন্তু গরুর দাম বাড়েনি। তবে সামনে গরুর দাম বাড়বে, কারণ কোন খামারিরা চাইবে না লোকশান দিয়ে বিক্রি করতে। তাই আমাদের কিছুই করার থাকবে না।মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলছে, এ বছর কোরবানির জন্য চাহিদা রয়েছে ১ কোটি ১০ লাখ পশুর। আর প্রস্তুত আছে ১ কোটি ৩০ লাখ। চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি আছে। চাহিদার তুলনায় কোরবানির প্রস্তুতকৃত বেশি থাকায়, স্বাভাবিকভাবেই বাজার অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে পড়ার সম্ভবনা কম। তবে এরমধ্যে যদি বর্ডার পার হয়ে গরু আসে এবং সিন্ডিকেট সক্রিয় হয় তাহলে কোরবানির বাজার এলোমেলো হবার সম্ভবনা থাকবে বলে মনে করছেন খামারিরা। 
    এপ্রিলে খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি ১০.২২ শতাংশ
    এপ্রিল মাসে খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি ৩৫ বেসিস পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ২২ শতাংশ। সোমবার (১৩ মে) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এ তথ্য জানিয়েছে।বিবিএস জানায়, গত মার্চে খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ। তবে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি গত মার্চের তুলনায় এপ্রিলে ৭ বেসিস পয়েন্ট কমে ৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ হয়েছে।বিবিএসের তথ্যে আরও জানা গেছে, গত মার্চ মাসে ভোক্তা মূল্য সূচক (সিপিআই) বেড়েছে, ৯ দশমিক ৮১ শতাংশ।গত এপ্রিলে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি ৩০ বেসিস পয়েন্ট কমে ৯ দশমিক ৩৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। মার্চে এটি ছিল ৯ দশমিক ৬৪ শতাংশ।এসএফ
    আরও বাড়লো স্বর্ণের দাম
    ভরিতে এক হাজার ৮৩২ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের একভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ১৭ হাজার ২৮২ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। শনিবার (১১ মে) সন্ধ্যায় এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। রোববার (১২ মে) থেকেই নতুন এ দাম কার্যকর হবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ১৭ হাজার ২৮২ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ১১ হাজার ৯৫১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৯৫ হাজার ৯৬০ টাকা ও সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৭৯ হাজার ৩৩৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে, গত ৭ মে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ১ লাখ ১৫ হাজার ৪৫০ টাকা নির্ধারণ করে বাজুস। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ১০ হাজার ২০১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৯৪ হাজার ৪৫৫ টাকা ও সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৭৮ হাজার ৯০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এ নিয়ে গত ২৪ দিনের ব্যবধানে দেশের বাজারে ১৫ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করল বাজুস। যার মধ্যে ৯ বার দাম কমানো হয়েছে, আর বাড়ানো হলো ৬ বার। উল্লেখ্য, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ২২ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। যেখানে ১১ বার দাম বাড়ানো হয়েছে, আর কমানো হয়েছে ১১ বার। আর ২০২৩ সালে দাম সমন্বয় করা হয়েছিল ২৯ বার।এমএইচ
    প্রয়োজনে ঢাকায়ও লোডশেডিং দেওয়া হবে: বিদুৎ প্রতিমন্ত্রী
    প্রয়োজন হলে ঢাকা এবং আশেপাশের এলাকায় দেওয়া হবে লোডশেডিং বলে জানিয়েছেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। শুক্রবার (১০ মে) সকালে রাজধানীর বারিধারায় নিজ বাসভবনে এক ব্রিফিংয়ে একথা জানান তিনি।তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে আগামীতে ঢাকা এবং আশেপাশের এলাকায় লোডশেডিং করানো হবে। ধীরে ধীরে বিদ্যুতের ভর্তুকি থেকে বেরিয়ে আসার পরিকল্পনা চলছে।প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, তিতাসের পুরানো লাইন সংস্কারের পরিকল্পনা আছে। এই সংস্কার করানো গেলে গ্যাস নিয়ে ভোগান্তি কমে আসবে।দাম বৃদ্ধি নিয়ে নসরুল হামিদ বলেন, তেলের দাম প্রতি মাসে কমবে বাড়বে। তবে বিদ্যুতের দাম বছরের চারবার কমবে-বাড়বে।এসময় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, সামনের হিটওয়েভের জন্য প্রস্তুতি আছে। সময় মতো অর্থের জোগান দেওয়া হলে, কোনো সমস্যা হবে না।এসএফ
    নির্বাচন ও বৌদ্ধ পূর্ণিমার ছুটিতে টানা ৫ দিন আমদানি-রপ্তানি বন্ধ
    শনিবার থেকে সোমবার (১৮ মে-২০ মে) ভারতের উত্তর ২৪ পরগণা জেলার বনগাঁতে লোকসভা নির্বাচন, মঙ্গলবার (২১ মে) যশোরের শার্শা উপজেলা নির্বাচন ও বুধবার (২২ মে) বৌদ্ধ পূর্ণিমার সরকারি ছুটি বিধায় বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে দু‘দেশের মধ্যে টানা পাঁচদিন আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকবে।তবে ভোটের কারণে মেডিকেল ইমার্জেন্সি রোগীরা বাংলাদেশ থেকে ভারতে ভ্রমণের জন্য ও পচনশীল পণ্য ধারণকারী যানবাহন বৈধ কাগজপত্র সাপেক্ষে চলাচল করতে পারবে।শুক্রবার (১৭ মে) সন্ধ্যা ৬ টা থেকে ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া (২০ মে) শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ আদেশ বলবৎ থাকবে বলে ভারতের উত্তর ২৪ পরগণা জেলার জেলা ম্যাজিট্রেট শ্রী শরদ কুমার দ্বিবেদী স্বাক্ষরিত ১৬ মে এক পত্রে জানানো হয়েছে।ভারতীয় নির্বাচন কমিশনার এর নির্দেশে ২৪ পরগনা জেলার জেলা ম্যাজিট্রেট পেেত্র ১৭ মে সন্ধ্যা ৬ টা থেকে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত সব কিছু বন্ধ থাকবে। পত্রে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪(২) এর অধীনে তাকে প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগে ১৯৭৩ সালের আইনে উভয় দেশের জনগণকে চলাচলে নিয়ন্ত্রণ করে এ আদেশ জারি করেন। অর্থ্যাৎ ১৮, ১৯ ২০ টানা তিনদিন আমদানি-রপ্তানি ও মেডিকেল ভিসায় অসুস্থ যাত্রী ছাড়া কেউ আসা-যাওয়া করতে পারবে না বলে চিঠিতে উল্লেখ করেছেন।এদিকে সোমবার (২০ মে) ওপারে সরকারি ছুটিতে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকলেও বেনাপোল বন্দরে পণ্য খালাস প্রক্রিয়াসহ পণ্য ওঠানামা স্বাভাবিক থাকবে।তবে ২১ ও ২২ মে কাস্টমস ও বন্দরে কোন কার্যক্রম হবে না। এ সময়ে পাসপোর্টযাত্রী চলাচল স্বাভাবিক থাকবে বলে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৩ মে) সকাল থেকে আবারও এ পথে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য চলবে বলে দু‘পাড়ের বন্দর ব্যবহারকারী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন।বিষয়টি নিশ্চিত করে বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্টস স্টাফ এসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক সাজেদুর রহমান ও ভারতের পেট্রাপোল সিএন্ডএফ স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক কার্ত্তিক চক্রবর্তী জানান, আগামী সোমবার (২০ মে) ভারতের উত্তর ২৪ পরগণা জেলার বনগাঁতে লোকসভা নির্বাচন উপলক্ষে এদিন আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত কাজকর্মের সাথে সম্পৃক্ত সিঅ্যান্ডএফ মালিক, কর্মচারী, হ্যান্ডলিং শ্রমিক, ট্রাকচালকরা নিজ নিজ এলাকায় থাকবেন ভোট দেওয়ার জন্য।সরকারি ভাবে ছুটি ঘোষনা করা হয়েছে। নির্বাচন উপলক্ষে ১৭ মে থেকে ২০ মে টানা তিনদিন আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকবে। মঙ্গলবার (২১ মে) যশোরের শার্শা উপজেলা নির্বাচন উপলক্ষে সাধারন ছুটি ঘোষনা ও বুধবার (২২ মে) বৌদ্ধ পূর্ণিমার জন্য সরকারি ছুটি বিধায় বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে দু‘দেশের মধ্যে টানা পাঁচদিন আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকবে।বৃহস্পতিবার (২৩ মে) সকাল থেকে পুরোদমে আবারো চলবে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম। বেনাপোল চেকপোস্ট পুলিশ ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম জানান, এ পথে পাঁচদিন আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকলেও দু‘দেশের মধ্যে পাসপোর্টযাত্রী চলাচল স্বাভাবিক থাকবে। ভারতের নির্বাচন উপলক্ষে তিনদিন যাত্রী চলাচল সীমিত করার কোন পত্র আমরা পায়নি।বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক রেজাউল করিম জানান, ভারত-বাংলাদেশে নির্বাচন ও বৌদ্ধ পূর্ণিমার সরকারি ছুটিতে শনিবার (১৭ মে) থেকে বুধবার (২২ মে) পর্যন্ত টানা পাঁচদিন বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকবে।তবে শনি, রবি সোমবার আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকলেও বেনাপোল কাস্টমস হাউজ ও বন্দরে কার্যক্রম চলবে। মঙ্গল ও বুধবার উপজেলা নির্বাচন ও বৌদ্ধ পূর্ণিমার সরকারি ছুটিতে বন্দর ও কাস্টমসের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আবার এ পথে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য চলবে বলে তিনি জানান।উল্লেখ্য ইতিপূর্বে ভারতে শুধুমাত্র নির্বাচনের দিন আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থেকে আসছে। পাসপোর্টযাত্রীদের চলাচল স্বাভাবিক ছিল। স্বাধীনতার পর এই প্রথম দু‘দেশের চেকপোস্ট দিয়ে পাসপোর্টযাত্রী নির্বাচনের আগে দুইদিন ও নির্বাচনের দিন যাতায়াত সীমিত করলো ভারতের নির্বাচন কমিশনার।এসএফ
    ‘নতুন করে রিজার্ভ চুরির খবর ভুয়া’
    ভারতের একটি অনলাইনে প্রকাশিত রিজার্ভ চুরি সংক্রান্ত প্রতিবেদনের সত্যতা নাকচ করে দিয়ে বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন করে রিজার্ভ চুরির ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বুধবার (১৫ মে) বাংলাদেশ ব্যাংক এ সংক্রান্ত একটি বিবৃতি দেয়।বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিউইয়র্ক ফেডের সঙ্গে লেনদেনে নিশ্চয়তার ক্ষেত্রে বর্তমানে তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নীতি চালু রয়েছে। ভারতীয় অনলাইনে যে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, তা ভুয়া।বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মেজবাউল হক গণমাধ্যমকে বলেছেন, রিজার্ভ চুরির খবরটি সম্পূর্ণ ভুয়া। আমরা খোঁজ নিয়ে দেখেছি, রিজার্ভ চুরির কোনো ঘটনা ঘটেনি।ভারতের অনলাইনে রিজার্ভ চুরির প্রতিবেদন প্রকাশের পর ব্যাংকপাড়াসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে প্রতিবেদনটির সত্যতা নাকচ করা হয়।প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের নিউইয়র্ক শাখায় রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের হিসাব থেকে ১০০ কোটি ডলার চুরির চেষ্টা চালায় অপরাধীরা। তবে শেষ পর্যন্ত তারা ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি করতে সক্ষম হয়। চুরি হওয়া অর্থের মধ্যে শ্রীলঙ্কায় চলে যায় দুই কোটি ডলার। বাকি ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার ফিলিপাইনের আরসিবিসি ব্যাংক হয়ে দেশটির বিভিন্ন ক্যাসিনোয় ঢুকে যায়। চুরি যাওয়া অর্থের মধ্যে এখন পর্যন্ত সব মিলিয়ে ৩ কোটি ৪৬ লাখ ডলার উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি ৬ কোটি ৬৪ লাখ ডলার এখনো ফেরত পাওয়া যায়নি। আরইউ
    স্বর্ণের অলংকার বিক্রয়ে নতুন হার নির্ধারণ
     স্বর্ণের অলংকার বিক্রয়ে নূন্যতম মজুরি ৬ শতাংশ ও পারচেজে বাদের হার কমালো বাংলাদেশ জুয়েলারি অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। আজ (মঙ্গলবার, ১৪ মে) বাজুসের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় মজুরি পুনর্নির্ধারণ করা হয়।নতুন নিয়মানুযায়ী স্বর্ণের অলংকার এক্সচেঞ্জ বা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ ও পারচেজ বা ক্রেতার নিকট থেকে ক্রয়ের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ বাদ যাবে। ইতোপূর্বে স্বর্ণের অলংকার এক্সচেঞ্জের ক্ষেত্রে ৯ শতাংশ ও পারচেজ ক্ষেত্রে ১৩ শতাংশ বাদের নিয়ম কার্যকর ছিল।এছাড়া বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাথে সামঞ্জস্য রেখে স্বর্ণের অলংকার বিক্রয়ের সময় নূন্যতম মজুরি ৬ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য স্বর্ণের অলংকার বিক্রয়ের সময় ভারতে ১২ শতাংশ, শ্রীলংকায় ৮ শতাংশ, চীনে ১৫ শতাংশ, ইতালিতে ২০ শতাংশ, হংকংয়ে ৩০ শতাংশ, মালয়শিয়ায় ৩৫ শতাংশ, অষ্ট্রেলিয়ায় ২০ শতাংশ, যুক্তরাষ্ট্রে ৬ শতাংশ, যুক্তরাজ্যে ১৪ শতাংশ পর্যন্ত মজুরি গ্রহণ করা হয়।বাংলাদেশের সব জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের স্বর্ণের অলংকার এক্সচেঞ্জ বা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ ও পারচেজ বা ক্রেতার কাছ থেকে ক্রয়ের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ বাদের নিয়ম কার্যকর এবং স্বর্ণের অলংকার বিক্রয়ের সময় ক্রেতার কাছ থেকে ৬ শতাংশ মজুরি নেয়ার অনুরোধ জানান।এমএইচ
    ঢাকার খামারগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশে চলছে কোরবানির পশু বিক্রি
    চাঁদ দেখা সাপেক্ষে এবার ঈদুল আজহা ১৭ জুন (সোমবার) উদযাপিত হতে পারে। কোরবানির এক মাস হাতে থাকলেও ফার্মগুলোতে কোরবানিযোগ্য পশু বিক্রি শুরু হয়ে গেছে আরো কয়েকমাস আগেই।রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় পশু হাট বসলেও ঢাকা শহরের ব্যস্ত জীবনের চাপে হাটে গিয়ে পছন্দসই পশু কেনা হয়ে উঠে না অনেকের। ঢাকায় যেখানে মানুষ থাকতেই কত রকম ঝামেলা পোহাতে হয়, সেখানে বাসায় গরু রেখে যত্ন নেওয়া, নিয়মিত খাবার খাওয়ানো, গোসল করানো একটা আলাদা চাপ হয়ে দাঁড়ায়। তাই ফার্মে গিয়ে অগ্রিম বুকিং দিয়ে আসছে অনেক ক্রেতারা। এই কারণেই খামারিদেরও বেশ ব্যস্ত সময় যাচ্ছে এখন। মঙ্গলবার (১৪ মে) রাজধানীর মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ এলাকার আল মদিনা ক্যাটেল ফার্ম, সাদেক এগ্রো, বাবু এগ্রোসহ বেশ কিছু খামার ঘুরে খামারিদের গরু প্রস্তুতি, বিক্রি, চাহিদাসহ ইত্যাদি বিষয়ে খোঁজ-খবর নেওয়ার চেষ্টা করেছেন প্রতিবেদক। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি খামার বেশ পরিপাটি করে সাজানো হয়েছে। খাবার খাওয়ানো, গোসল করানো, ক্রেতাদের ঘুরে ঘুরে পশু দেখানো থেকে শুরু করে বেশ ব্যস্ত এবং উৎসবমুখর সময় পার করছে খামারিরা।আল মদিনা ক্যাটেল ফার্মের একজন খামারি রাজু মন্ডল বলেন, আলহামদুলিল্লাহ আমাদের এখানে বর্তমানে তিন শতাধিকের বেশি গরু এবং মহিষ আছে প্রায় ২০টির মতো। শাহীওয়াল, হোলস্টাইন, ব্রাহমা, মীর কাদিম, সিন্ধি, ভুট্টি জাতের গরুসহ প্রায় ১০-১২টি জাতের গরু এবং থাই মহিষও আছে। বছরের শুরু থেকেই চলে বুকিং এ প্রক্রিয়া, অনেক ক্রেতা আছে একদম বছরের শুরুতেই আমাদের এখানে পশু বুকিং দেন এবং মাঝেমধ্যে এসে দেখে যান।তিনি আরো জানান, মহিষ আসলে অনেকে শখ করে কোরবানি দেন। মহিষে যদিও লাভ গরুর তুলনায় কম এবং তাতে খরচও বেশি। যেহেতু ক্রেতারা বুকিং দেবার পর যাবতীয় খরচ আমরা বহন করি, তারপরও চেষ্টা করি ক্রেতাদের খুশি রাখতে। তাই কিছু মহিষও রেখেছি আমরা।পশুর দাম প্রসঙ্গে খামারি রাজু মন্ডল বলেন, এবার গবাদিপশুর দাম তুলনামূলক বেশি এবং ঈদের যত দিন ঘনিয়ে আসবে ততো দাম বাড়ার সম্ভবনা আছে। এর প্রধান কারণ হলো গোখাদ্যের দাম বৃদ্ধি। প্রায় প্রতিদিনই কেজিতে ৫-১০ টাকা দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। যদি এমন করে বৃদ্ধি পেতেই থাকে তাহলে আমাদের কিছু করার থাকবে না, দাম আরো বৃদ্ধি পাবে। আর যদি এই সুযোগে বর্ডার ক্রস করে গরু আসে তাহলে বাজার পরিস্থিতি আরো এলোমেলো এবং লস প্রজেক্ট হবে।সাদিক এগ্রোর কর্মকর্তা আব্দুর রহিম ইসলাম জানান, তাদের ওখানে প্রায় ১৬০০টি ষাঁড় গরু প্রস্তুত আছে। যারমধ্যে সর্বনিম্ন ২ লাখ এবং সর্বোচ্চ প্রায় ৪০ লাখ টাকার গরু আছে। বেচা বিক্রি শুরু হয়ে গেছে আরো অনেক আগে থেকেই, ইতোমধ্যে ২০০ গরু বিক্রি হয়ে গেছে। আমরা বুকিংকৃত গরু ফ্রি হোম ডেলিভারি দিয়ে থাকি।দাম প্রসঙ্গে তিনি জানান, গত বছরের তুলনায় এবার গরুর দাম কম। খাবারের দাম ৬৫% বেড়েছে কিন্তু গরুর দাম বাড়েনি। তবে সামনে গরুর দাম বাড়বে, কারণ কোন খামারিরা চাইবে না লোকশান দিয়ে বিক্রি করতে। তাই আমাদের কিছুই করার থাকবে না।মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলছে, এ বছর কোরবানির জন্য চাহিদা রয়েছে ১ কোটি ১০ লাখ পশুর। আর প্রস্তুত আছে ১ কোটি ৩০ লাখ। চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি আছে। চাহিদার তুলনায় কোরবানির প্রস্তুতকৃত বেশি থাকায়, স্বাভাবিকভাবেই বাজার অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে পড়ার সম্ভবনা কম। তবে এরমধ্যে যদি বর্ডার পার হয়ে গরু আসে এবং সিন্ডিকেট সক্রিয় হয় তাহলে কোরবানির বাজার এলোমেলো হবার সম্ভবনা থাকবে বলে মনে করছেন খামারিরা। 
    এপ্রিলে খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি ১০.২২ শতাংশ
    এপ্রিল মাসে খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি ৩৫ বেসিস পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ২২ শতাংশ। সোমবার (১৩ মে) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এ তথ্য জানিয়েছে।বিবিএস জানায়, গত মার্চে খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ। তবে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি গত মার্চের তুলনায় এপ্রিলে ৭ বেসিস পয়েন্ট কমে ৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ হয়েছে।বিবিএসের তথ্যে আরও জানা গেছে, গত মার্চ মাসে ভোক্তা মূল্য সূচক (সিপিআই) বেড়েছে, ৯ দশমিক ৮১ শতাংশ।গত এপ্রিলে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি ৩০ বেসিস পয়েন্ট কমে ৯ দশমিক ৩৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। মার্চে এটি ছিল ৯ দশমিক ৬৪ শতাংশ।এসএফ
    আরও বাড়লো স্বর্ণের দাম
    ভরিতে এক হাজার ৮৩২ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের একভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ১৭ হাজার ২৮২ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। শনিবার (১১ মে) সন্ধ্যায় এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। রোববার (১২ মে) থেকেই নতুন এ দাম কার্যকর হবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ১৭ হাজার ২৮২ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ১১ হাজার ৯৫১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৯৫ হাজার ৯৬০ টাকা ও সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৭৯ হাজার ৩৩৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে, গত ৭ মে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ১ লাখ ১৫ হাজার ৪৫০ টাকা নির্ধারণ করে বাজুস। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ১০ হাজার ২০১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৯৪ হাজার ৪৫৫ টাকা ও সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৭৮ হাজার ৯০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এ নিয়ে গত ২৪ দিনের ব্যবধানে দেশের বাজারে ১৫ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করল বাজুস। যার মধ্যে ৯ বার দাম কমানো হয়েছে, আর বাড়ানো হলো ৬ বার। উল্লেখ্য, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ২২ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। যেখানে ১১ বার দাম বাড়ানো হয়েছে, আর কমানো হয়েছে ১১ বার। আর ২০২৩ সালে দাম সমন্বয় করা হয়েছিল ২৯ বার।এমএইচ

    শিক্ষাঙ্গন

    সব দেখুন
    শেখ হাসিনা স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে রাবিতে আলোচনা সভা
    শেখ হাসিনা স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। শুক্রবার (১৭ মে) সকাল সাড়ে ১০টায় শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সিনেট ভবনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. সুলতান-উল-ইসলাম (প্রশাসন) এবং সভাপতিত্ব হিসেবে ছিলেন আরেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. হুমায়ুন কবীর (শিক্ষা)। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধিকর্তা অধ্যাপক এস এম এক্রাম উল্লাহ। আরও উপস্থিত ছিলেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. অবায়দুর রহমান প্রামানিক, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম সাউদ, জনসংযোগ দপ্তরে প্রধান প্রণব কুমার পান্ডে সহ অনেকেই।এ সময় ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে একটি আনন্দ মিছিল নিয়ে এসে আলোচনা সভায় যোগাযোগ দেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান বাবু ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ-হিল-গালিব সহ ২ শতাধিক নেতা-কর্মী।আলোচক অধ্যাপক এস এম এক্রাম উল্লাহ বলেন, বাঙালি জাতীয়তাবাদী দর্শন, অসাম্প্রদায়িক,ধর্মনিরপেক্ষ, গণমুখী, প্রগতিবাদী ও মানবতাবাদী। আর বর্তমান  বাংলাদেশে এই জাতীয়তাবাদ চেতনাকে ধরে রাখা সম্ভব নয় একমাত্র শেখ হাসিনা ব্যতিত। কারণ তিনি আমাদের অনুভবে, চিন্তায়, চেতনায় ও আদর্শে  আছেন। বাঙালিকে একত্রিত করার জন্য, দেশপ্রেমী জনগণকে একত্রিত করার জন্য, দেশকে কে রক্ষা করার জন্য এবং মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকারের নিশ্চিত করার জন্য ১৯৮১ সালের ১৭মে তার প্রত্যাবর্তন অত্যন্ত জরুরি ছিল। প্রত্যাবর্তনের শুরুতেই গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠার শক্তিশালী অ্যাডভোকেট হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি গণতন্ত্রের জন্য  জন্য লড়াই ও সংগ্রাম করেছেন এবং ভবিষ্যতে করবেন বলে আমরা আশাবাদী। আরও বলেন, তিনি স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করে জেনারেলজে এরশাদ এবং জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে আন্দোলন ঘরে তোলেন। তিনিই প্রথম যে সামরিক শাসকের বিরুদ্ধে কথা বলেন। সে সময় তিনি বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে নিজেকে নিয়োজিত করে বাঙালি জাতিকে সামরিক শাসন থেকে মুক্ত করেন। এসব আন্দোলনের একমাত্র কারণ হলো বাংলাদেশ এবং দেশের জনগণের প্রতি প্রেম, মায়া ও মমতা। তিনি বাংলাদেশ এবং দেশের জনগণের জন্য নিবেদিত, বিচলিত এবং চিন্তিত। এক কথায় তিনি দেশ প্রেমিক। বঙ্গবন্ধু যেমন দেশের মানুষের মুক্তির জন্য নিজেকে উৎসর্গ করে গেছেন তেমনি তিনি দেশের মানুষের হাত এবং ভোটের অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম করে চলছে।প্রধান অতিথি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতানুল ইসলাম বলেন, স্বৈরাচারের রক্ত চক্ষু উপেক্ষা করে উনার প্রত্যাবর্তন আমরা বাংলাদেশের মানুষ পুনর্শৃঙ্খলা মুক্ত ও পুনর্স্বাধীনতা লাভের  কোষালগ্ন হিসেবে তুলনা করতে পারি। তিনি সেদিন সমগ্র বাঙালি জাতির আশা-ভরসার আস্থার সোনালী সূর্য হিসেবে পরিচিত হয়েছিলেন। যা আজ পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। তারে প্রত্যাবর্তন ১৯৭২ সালের ১০শে জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের সাথে তুলনা করা যায়। তার প্রত্যাবর্তনে এই বাংলার প্রকৃতি আনন্দ ও কষ্টে কান্নায় জর্জরিত হয়ে পড়েছিল।উপ-উপাচার্য  হুমায়ুন কবীর বলেন,আজকে আমাদের কৃষি বিপ্লবের ফলে কেউ না খেয়ে আছে এমনটা কেউ বলতে পারবেনা। আসলে বাংলাদেশের মতো ছোট্ট একটি দেশে ১৮ কোটি মানুষের তিন বেলা খাবার,সামাজিক নিরাপত্তা,শিক্ষা, চিকিৎসা সবকিছু নিশ্চিত করা চ্যালেঞ্জের বিষয় কিন্তু বর্তমান বিশ্বের বিরূপ পরিস্থিতিতেও শেখ হাসিনা সবকিছু নিশ্চিত করেছেন। এসএফ
    অধিভুক্ত সাত কলেজের বিজ্ঞান ইউনিটের পরীক্ষা আজ,আসন প্রতি লড়বে ৪ জন
    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট  প্রোগ্রামে বিজ্ঞান ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা আজ।এ বছর বিজ্ঞানী ইউনিটের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে শেষ হতে যাচ্ছে অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের ভর্তি পরীক্ষা।শুক্রবার (১৭ মে) সকাল ১১টা থেকে বহু নির্বাচনি প্রশ্নে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এ পরীক্ষা। এ বছর ইউনিটটির প্রতি আসনের বিপরীতে লড়বেন ৪ জন ভর্তিচ্ছু।বিজ্ঞান ইউনিটের ৮ হাজার ৬১৯টি আসনের বিপরীতে আবেদন জমা পড়ছে ৩২ হাজার ৮৫০টি। সে হিসেবে প্রতি আসনের জন্য লড়বেন প্রায় ৪ জন ভর্তিচ্ছু। পরীক্ষার নির্ধারিত সময় থাকবে এক ঘণ্টা। ভর্তি পরীক্ষায় পাস নম্বর ৪০। ৪০-এর কম নম্বর পেলে তাকে ভর্তির জন্য যোগ্য বিবেচনা করা হবে না। তবে ভুল উত্তরের জন্য কোনো নেগেটিভ মার্ক নেই।বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিজ্ঞান ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে শেষ হচ্ছে এবারের সাত কলেজের আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের ভর্তি কার্যক্রম। এবার ৯ হাজার ৯৭৯ টির বিপরীতে আবেদন করেছেন ৩২ হাজার ৮৫০ জন ভর্তিচ্ছু।এর আগে, ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে ভর্তিচ্ছুদের পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ নিয়ে কিছু নির্দেশনা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। নির্দেশনাগুলো হলো- পরীক্ষার হলে পরীক্ষার্থীদের নির্ধারিত প্রবেশপত্র এবং উচ্চ মাধ্যমিকের মূল রেজিস্ট্রেশন কার্ড সঙ্গে রাখতে হবে। পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষার ১ ঘণ্টা পূর্বে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে।প্রশ্ন ও উত্তরপত্রে লেখার জন্য কালো কালির বলপয়েন্ট কলম ব্যবহার করতে হবে। কোনো ধরনের ক্যালকুলেটর নিয়ে প্রবেশ করা যাবে না। এছাড়াও ঘড়ি, মোবাইল ফোন, ব্লু-ট্রুথ বা যেকোনো ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস সঙ্গে রাখা যাবে না। পরীক্ষা চলাকালে পরীক্ষার্থীর দুই কান দৃশ্যমান হতে হবে। কোভিড-১৯ সংক্রমণ রোধে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতে হবে।এর আগে, সরকারি সাত কলেজের ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটে ১০ মে এবং ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটে ১১ মে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১১টায় শুরু হয়ে এ পরীক্ষা শেষ হয় বেলা ১২টায়। পরীক্ষা শেষ হওয়ার তিন দিনের মাথায় দুই ইউনিটের ফলাফল মঙ্গলবার (১৪ মে) ভর্তি সংক্রান্ত ওয়েবসাইটে এ ফলাফল প্রকাশ করা হয়।এসএফ
    মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে রাবিতে দু'পক্ষের সংঘর্ষ
    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায় গাঁজা সেবনকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার আনুমানিক বিকাল সাড়ে চারটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীসূত্রে জানা যায়, চারুকলার রফিকের দোকানের সামনে পুলকের(চারুকলা ১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষ) সাথে বন্ধন (ফিন্যান্স ১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষ) ও তার বন্ধুদের হাতাহাতি হয়। হাতাহাতির এক পর্যায়ে বন্ধন ও তাদের বন্ধুরা পুলককে মারধর করা শুরু করে। পুলকও তার হেলমেট দিয়ে বন্ধনের মাথায় আঘাত করে। এরপর বন্ধন আরো কয়েকজনকে নিয়ে রফিকের দোকানে অবস্থানরহ পুলককে আবার মারধর করে। এক পর্যায়ে পুলকের সাথে থাকা অপুকেও আঘাত করে। বন্ধনের গ্রুপ রফিকের দোকান ভাঙচুর করে।এ ঘটনায় চারুকলার গ্রাফিক ডিজাইনের ২০১৬-১৭ সেশনের মেহেদী হাসান পুলক বলেন, তারা চারুকলার মুক্তমঞ্চের পিছনে বসে গাঁজা সেবন করছিলো। আমি এবং অপু ভাই তাদেরকে মানা করলে  একটা সময় তারা আমার সাথে ধাক্কাধাক্কি করে। এক পর্যায়ে ওরা আমকে মারধর করা শুরু করে। এক পর্যায়ে মারামারি করতে করতে আমরা পাশের রফিক ভাইয়ের দোকানে চলে যাই। পরে আমি সবাইকে ফোন দিয়ে আসতে বলি। রাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গালিব ভাইকেও আসতে বলি। এদিকে বন্ধনরা বাঁশ, লাঠি হাতে প্রায় ৪০/৫০ জন জড়ো হয়ে রফিক ভাইয়ের দোকানে এসে আমাকে মারধর শুরু করে। অপু ভাইকেও মারধর করে। অপু ভাইয়ের গাড়ি ভাঙচুর করে। আমি তাদেরকে এভাবেও বলি যে গালিব ভাইরা আসছেন,  তারা আসলে কথা বলি কিন্তু তারা শুনেনি, তারা মারধর করতে থাকে। তারপর চিকিৎসার জন্য মেডিকেলে এসেও নামতে পারছিলাম না। তারপরে ভাইরা আসলো পরে চিকিৎসা নেই। অন্যদিকে ফাইন্যান্স বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী বন্ধন গাঁজা খাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, চারুকলায় অবস্থানকালে হঠাৎ ক্যাম্পাসের কয়েকজন আমার কাছে জানতে চায় তোরা কারা? কি করতে এসেছিস এখানে? আমরা নিজেদের পরিচয় দেওয়ার পর তাদের সাথে কথা-কাটাকাটি হয়। তারপর সেখানে অপু ভাই এবং পুলক ভাই উপস্থিত হয়। তখন তারা আমাদের সাথে খারাপ আচরণ করে এবং আমার কাপড় ধরে টানাটানি করে এবং চর থাপ্পর দেয়৷ তখন আমার জামা ছিঁড়ে যায়। তখন তাদের মধ্যে একজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করে এবং মাথা ফাটিয়ে দেয়।এদিকে দোকানদার রফিক বলেন, বন্ধনরা আমার দোকান ভাঙচুর করে এবং ৫-৬ হাজার টাকা নিয়ে যায়। আমি নিঃস্ব হয়ে গেলাম। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আসাবুল হক বলেন,কী নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত তার সঠিক খবর জানিনা কিন্তু এখানে এসে জানতে পারি গাজা খাওয়াকে কেন্দ্র করে ঘটনাটি ঘটেছে।যারা মার খেয়েছে তারাও আমাদের ছাত্র আবার যারা মারছে তারাও বলতেছে তারা ছাত্র কিন্তু আমরা জানিনা তারা কারা।যেহেতু ঘটনাটি চারুকলা অনুষদের ভিতরে ঘটেছে তাই আমি তাদের বলেছি ডীন বরাবর একটি আবেদনপত্র লেখতে তারপর ডীন তা তদন্ত করে ব্যাবস্থা নিবে। তারপর আমরাও জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবো।চারুকলা অনুষদের ডীন বলেন,আমি এবং আরও কয়েকজন অফিসিয়াল কাজে ব্যস্ত ছিলাম। ঘটনার কথা শুনে এখানে আসার পর শুনি বহিরাগতরা(ওরা কারা কোন ডিপার্টমেন্ট আমি জানিনা) বসে গাজা খাচ্ছিলো। আমাদের কিছু ছাত্র এখানে বসা ছিল তারা গাজা খেতে নিষেধ করাতে এখানে বাকবিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কি হয়।ঘটনার পর বন্ধন, অপু ও পুলককে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেলে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়।এফএস
    রাবিতে ২৩তম আন্তর্জাতিক গণিত সম্মেলন শুরু
    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) দুই দিনব্যাপী ২৩তম আন্তর্জাতিক গণিত সম্মেলন শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ গণিত সমিতি ও রাবি গণিত বিভাগ ‘দ্যা ল্যাঙ্গুয়েজ অব সায়েন্স’ শীর্ষক প্রতিপাদ্য নিয়ে এই সম্মেলন আয়োজন করেছে। বৃহস্পতিবার (১৬ মে) সকাল ৯:৩০ মিনিটে রাবির শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সিনেট ভবনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল ওয়াদুদ, এমপি। রাবি গণিত বিভাগের অধ্যাপক মো. জুলফিকার আলীর সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ গণিত সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মো. শহিদুল ইসলাম ও রাবি বিজ্ঞান অনুষদের অধিকর্তা অধ্যাপক নাসিমা আখতার। অনুষ্ঠানে পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. সুলতান-উল-ইসলাম ও উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মো. হুমায়ুন কবীর। গণিত বিভাগের সভাপতি ও সম্মেলনের সচিব অধ্যাপক মো. আসাবুল হক অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বলেন, বিজ্ঞান ও বিজ্ঞানের প্রক্রিয়া মানুষকে আজ এই জায়গাতে নিয়ে এসেছে। আমরা নানা ঔপনিবেশিক ও রাজনৈতিক কারণে পিছিয়ে পড়েছি। কিন্তু আমাদের পূর্বপুরুষরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের অবদান রেখেছে। আমাদেরকে পথ দেখিয়েছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর নাম ধরে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর সেই চেতনায় কাজ করে যাচ্ছেন। ড. শামসুজ্জোহা রক্ত দিয়ে আমাদের দেখিয়ে গেছেন শিক্ষক ও ছাত্ররা মিলে কি করতে পারে। আমাদের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা তাদের বিজ্ঞানকে প্রচার করছে এবং করবে। জীবন যখন শুরু হয় তখন থেকে অংক শুরু হয় এবং শেষ দিন পর্যন্ত তা স্থায়ী হয়। বাঙালি সাহসী, মেধাবী ও শক্তিশালী জাতি। আমরা নিজ মেধা ও মননশীলতায় সব বাধা উপেক্ষা করে এগিয়ে যাচ্ছি। আগামীতে এই ধারা অব্যাহত থাকবে।সম্মেলন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) তাঁর বক্তৃতায় বলেন, বিজ্ঞানের অন্যতম স্তম্ভ হচ্ছে গণিত। এই বিষয়কে কেন্দ্র করে বিজ্ঞানের অন্যান্য বিষয়ও প্রভাবিত হয়। জ্ঞান-বিজ্ঞানের উন্নয়নের এই যুগে গণিত অপরিহার্য। সম্মেলনে উপস্থাপিত প্রবন্ধসমূহ থেকে গণিত ও প্রাসঙ্গিক বিষয়ে গবেষণার ধারা ও আগামীর করণীয় সম্পর্কে পথরেখা পাওয়া যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।অনুষ্ঠানে উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) তাঁর বক্তৃতায় বলেন, বর্তমান বিশ্বে জ্ঞান-বিজ্ঞানে উদ্ভাবন ও উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি হচ্ছে গণিত। গণিতই হচ্ছে মূল ধারার বিজ্ঞানের ‘দর্শন’। আমরা পদার্থবিজ্ঞান বা রসায়ন অথবা কম্পিউটার সায়েন্স যে বিষয়ের কথাই বলি না কেন তার ব্যাকরণ হচ্ছে গণিত। কাজেই মৌলিক বিজ্ঞানে দক্ষতা অর্জন করতে হলে আমাদের অবশ্যই গণিত জানতে হবে। এই সম্মেলন সেই লক্ষ্য পূরণে সহায়ক হিসেবে কাজ করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (আইআইটি)- বোম্বে’র অধ্যাপক দীপঙ্কর চৌধুরী। তিনি ‘অ্যাপ্লাইড ম্যাথেমেটিক্স ইন সাসটেইনেবল আর্থকোয়েক রেজিস্টেন্ট ডিজাইন অব জিও-স্ট্রাকচার্স’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। সম্মেলনে ২০টি টেকনিক্যাল সেশনে প্রায় ১৩০টি গণিত ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ের গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপিত হবে। প্রথম দিনে আজ বৃহস্পতিবার ৯টি ও পরদিন ১১টি সেশন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনে বাংলাদেশ ও বিদেশ থেকে প্রায় দুইশত জন গণিত ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ের শিক্ষক, গবেষক ও পেশাজীবী অংশ নিচ্ছেন।আরইউ

    তথ্য-প্রযুক্তি

    সব দেখুন
    গুগল ম্যাপে লাইভ লোকেশন ট্র্যাক করবেন যেভাবে
    গুগল থেকে লাইভ লোকেশন শেয়ার করার মাধ্যমে প্রিয়জন বা কাছের মানুষদের খুব সহজেই ট্র্যাক করা যায়। ফলে এখন আর কাউকে অযথা খোঁজাখুঁজি কিংবা নিরাপত্তার প্রশ্নে পড়ে থাকতে হয় না।গুগল ম্যাপ এখন নাগরিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে কোনো সময় যে কোনো স্থানের দূরত্ব, যাতায়াতের সবচাইতে নির্ভেজাল রুটসহ নানাবিধ ফিচার রয়েছে এতে। তবে লাইভ লোকেশন শেয়ারিং ফিচার আজকাল এতো বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে যে, অধিকাংশই এই ফিচারের সুবিধা গ্রহণ করে থাকেন।গুগল ম্যাপে যেমন যে কোনো শহরের রুট সম্পর্কে জানা যায়, তেমনি কোন রাস্তা ব্যবহার করলে সবচাইতে সুবিধাজনক উপায়ে কম সময়ে এবং যানজট মুক্ত রাস্তা ব্যবহার করে গন্তব্যে পৌঁছানো যায় সেই নির্দেশনা দেয় অ্যাপটি। তাই এর মাধ্যমে কাছের মানুষেরা কোথায় আছে তা যেমন জানা যায়, তেমনি বিপদে পড়লে লোকেশন শেয়ার করলে সহজেই উদ্ধার হওয়া সম্ভব।লোকেশন শেয়ারের ফিচারটি ব্যবহার করতে প্রথমে গুগল প্লে-স্টোর থেকে গুগল ম্যাপ ডাউনলোড করতে হবে। এরপর গুগল ম্যাপে নিজের জিমেইলটি সংযুক্ত করতে হবে। সেখানে ডিভাইসের ডান পাশের উপরের দিকে জিমেইল অ্যাকাউন্টটির প্রোফাইল ছবি চিহ্নিত অপশনে ক্লিক করলেই অ্যাকাউন্ট সেটিংসে প্রবেশ করা যাবে।এই সেটিংসেই লাইভ লোকেশন নামের একটি অপশন রয়েছে। সেই অপশনটি ক্লিক করলে অপশনটি চালু হবে। এরপর সেইখানে একটি লিংক পাওয়া যাবে, যা কাছের মানুষের যে কোনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা মেইলে শেয়ার করলে, সেই ব্যক্তি ঘরে বসেই লাইভ লোকেশন দিয়ে সবসময় তাকে লক্ষ রাখতে পারবে। তবে এর জন্য প্রতিনিয়ত ইন্টারনেট সংযোগ থাকতে হবে।এসএফ
    যেসব কারণে মোবাইল চার্জ হতে দেরিতে হয়
    ব্যস্ত শহরে সময় কীভাবে চলে যায়, তা টেরই পাওয়া যায় না। তবে ব্যস্ত সময় যতই পার করুন না কেন, মোবাইল ছাড়া এক মিনিটও চলার উপায় নেই। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ চার্জ দিয়েও অনেক সময় স্মার্টফোনে ফুল চার্জ হয় না। আবার কখনও সময় লাগে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি। এতে বিড়ম্বনায় পড়তে হয় ব্যবহারকারীদের।মোবাইল শতভাগ না চার্জ হওয়া বা দেরিতে চার্জ হওয়ার ‘যন্ত্রণায়’ ভোগেন অনেকেই। আবার কারো কারো ফোনে এক ঘণ্টার ভেতরেই চার্জ হয়। কী কারণে ধীর গতিতে ফোন চার্জ হয় তা অনেকেই বুঝতে পারেন না।চলুন জেনে নেয়া যাক কেন দেরিতে ফোন চার্জ হয়-খারাপ ক্যাবল: খারাপ ক্যাবল ব্যবহারের ফলে ফোনে ধীরে চার্জ হতে পারে। অনেকে এক ক্যাবল সব ডিভাইসে ব্যবহার করেন। এটি ঠিক নয়। এভাবে অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে ক্যাবলের ভেতরে ছোট যে কাটা থাকে, সেগুলো বেঁকে যায়।ফোনে ধীরে চার্জ হলে প্রথম কাজ হবে ক্যাবল পরীক্ষা করে দেখা। সমস্যা পেলে বা চার্জ ঠিকমতো না হলে ক্যাবল পাল্টে ফেলুন। তবে নতুন ক্যাবল কেনার ক্ষেত্রেও সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। দোকানে বসেই ক্যাবল পরীক্ষা করে দেখতে হবে যে ফোন দ্রুত চার্জ নিচ্ছে কি না।পুরোনো ফোন: ফোনের বয়স বেশি হলে চার্জ নেয়ার ক্ষমতা কমে যায়। এটি হার্ডওয়্যার সমস্যার কারণে হয়।চার্জিং পোর্টে সমস্যা: অনেক সময় চার্জিং পোর্টে সমস্যার কারণে ফোন চার্জ হতে বেশি সময় লাগতে পারে। মূলত চার্জার ঠিকভাবে সংযোগ না পাওয়ার কারণে চার্জিং প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। এ কারণে ফোন ধীর গতিতে চার্জ হলে অনুমোদিত সার্ভিস সেন্টার থেকে চার্জিং পোর্ট সারিয়ে নিতে হবে।ব্যাটারির সমস্যা: চার্জার কিংবা ক্যাবল ঠিক থাকলেও অনেক সময় ব্যাটারির সমস্যা দেখা দিতে পারে। ফলে চার্জের গতি কমার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে চার্জ দ্রুত ফুরিয়ে যাওয়া, স্মার্টফোন গরম হওয়া কিংবা অস্বাভাবিক হারে চার্জের পরিমাণ বাড়া-কমার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।এমন সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত ব্যাটারি পরিবর্তন করতে হবে।ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ: ফোনের স্ক্রিন মূলত বেশি ব্যাটারি টানে। এরপর ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ। কিছু অ্যাপ আছে যেগুলো ব্যবহার না করলেও চার্জ নিতে থাকে। এগুলো বন্ধ করে দিতে পারেন।দুর্বল পাওয়ার সোর্স: পিসির মাধ্যমে ফোন চার্জ দিলে খুব ধীরে চার্জ হবে। তাই এটি নিয়ে হা-হুতাশ করার কিছু নেই। চার্জের জন্য ওয়্যারলেস চার্জার ব্যবহার না করাই ভালো। একটি ডিভাইসের জন্য একটি চার্জার রাখবেন। এরপরেও যদি চার্জ ধীরে হয়, তাহলে আপনার বাড়ির বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় (হোম-ওয়ারিং) সমস্যা থাকতে পারে।চার্জে বসিয়ে মোবাইল ব্যবহার: অনেকেই মোবাইল চার্জে বসিয়ে ফেসবুক স্ক্রল করেন বা গেম খেলেন। যার ফলে সে সময় মোবাইল ধীর গতিতে চার্জ নেয়। চার্জের সময় ফোনের ডিসপ্লে অন থাকলেও চার্জের গতি কমে যায়। বেশি রেজ্যুলেশনে ইউটিউব দেখলেও এমন হতে পারে।ফোনে দ্রুত চার্জ পেতে হলে ডিভাইসটিকে বিশ্রাম দিতে হবে।এসএফ
    বাংলাদেশে ‘ওয়ানপ্লাস’ স্মার্টফোনের যাত্রা শুরু
    বাংলাদেশে অফিসিয়ালি যাত্রা শুরু করল চীনের স্মার্টফোন ব্র্যান্ড ‘ওয়ানপ্লাস’। এখন থেকে এই ব্র্যান্ডের অফিসিয়াল ফোন দেশেই পাওয়া যাবে। মিলবে বিক্রয়োত্তর সেবাও। ওয়ানপ্লাস স্মার্টফোনের ভক্তরা এতদিন জনপ্রিয় এই ব্র্যান্ডের ফোন অননুমোদিত মাধ্যম থেকে কিনতেন। ফলে বিক্রয়োত্তর সেবা থেকে বঞ্চিত হতেন।মঙ্গলবার (১৪ মে) সন্ধ্যায় ঢাকার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জনপ্রিয় স্মার্টফোন ব্র্যান্ড ‘ওয়ানপ্লাস’ বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরুর ঘোষণা দেয়।অনুষ্ঠা‌নে জানা‌নো হয়, বাংলা‌দে‌শে ওয়ানপ্লা‌সের যাত্রা হ‌য়ে‌ছে নর্ড এন৩০ ম‌ডেল‌টির হাত ধ‌রে। এই ম‌ডেল‌টি বাংলা‌দে‌শে তৈ‌রি। যার দাম মাত্র ১৬ হাজার টাকা। এই ফো‌নে মিল‌বে ৪ জি‌বি র‌্যাম ও ১২৮ জি‌বি রম। এতে র‌য়ে‌ছে মি‌ডিয়া‌টেক ডায়‌মেন‌সি‌টি প্রসেসর, ৫০০০ এমএএইচ ব‌্যাটা‌রি এবং ৩৩ ওয়া‌টের সুপার‌ভুক ফ্ল‌্যাশ চা‌র্জিং প্রযু‌ক্তি। আগামী ২২ মে থে‌কে ফোন‌টি বাংলা‌দে‌শে‌র বাজা‌রে পাওয়া যাবে।‘ওয়ানপ্লা‌স’ বাংলা‌দে‌শের সিইও মেঙ্ক ওয়াং ব‌লেন, “সারাবিশ্বের মানুষের জন্য সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য; আর বাংলাদেশে যাত্রা শুরু মধ্য দিয়ে আমাদের এই লক্ষ্য পূরণের দিকে আরও একধাপ ‍এগিয়ে গেলাম। স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের মাধ্যমে আমরা একটি প্রোডাক্ট ইকোসিস্টেম তৈরি করবো, যা ক্রেতাদের জন্য আকর্ষণীয় মূল্য সর্বাধুনিক আরও সহজলভ্য করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।”এ সময় ‘ওয়ানপ্লাস’ বাংলা‌দে‌শের আফটার সেলস সা‌র্ভিস ডি‌রেক্টর মো. রুবা‌য়েত ফের‌দৌস চৌধুরী ব‌লেন, আমরা নির্ভর‌যোগ‌্য বিক্রয় পরবর্তী সেবার গুরুত্ব বু‌ঝি। তাই, দে‌শের সকল ওয়ানপ্লাস ব‌্যবহারকারী‌দের জন‌্য ইতিবাচক অভিজ্ঞতা নি‌শ্চিত কর‌তে আমরা আমা‌দের গ্লোবাল ভার্স‌ন স্মার্ট‌ফোনের ডিস‌প্লে‌র ভা‌র্টিক‌্যাল লাইনের সমস‌্যায় ফ্রি রি‌পেয়ার সা‌র্ভিস দে‌বে।তি‌নি আরও জানান, ওয়ানপ্লা‌সের সকল ফো‌ন ও ব‌্যাটা‌রি‌তে ১২ মা‌সের ওয়‌্যা‌রে‌ন্টি মিল‌বে। বাংলা‌দেশ জু‌ড়ে ৩৫‌টি স্থা‌নে ২২‌টি সা‌র্ভিস সেন্টার এবং ১৩‌টি সা‌র্ভিস প‌য়ে‌ন্টের মাধ‌মে বিক্রয় পরবর্তী সেবা পাওয়া যাবে।পুরনোকে ঝেড়ে ফেলে নতুনের সন্ধানে প্রতিনিয়ত এগিয়ে যাওয়ার ব্র্যান্ড স্লোগান ‘নেভার সেটেল’কে মূলমন্ত্র করে বিশ্বের লাখো মানুষকে অনুপ্রাণিত করে যাচ্ছে ওয়ানপ্লাস।অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে ওয়ানপ্লাসের ফ্ল্যাগশিপ মডেল থেকে শুরু করে নর্ড সিরিজের ফোন, স্মার্টফোন মডিউল এবং আইওটি ডিভাইস প্রদর্শন করা করা হয়।উল্লেখ্য, ‘ওয়ানপ্লা‌স’ মূলত চীনের প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। যাদের যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০১৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর। শুরুতে ফ্লাগশিপ কিলার স্মার্টফোন ব্র্যান্ড হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। অর্থাৎ ফ্লাগশিপ ফোনের ফিচার কম দামের ফোনে পাওয়া যেত। ধীরে ধীরে ব্র্যান্ডটি তরুণদের মনে জায়গা করে নেয়। বাজারে আসে ওয়ানপ্লাসের একের পর এক স্মার্টফোন।এসএফ
    সাইবার হামলা কমলেও তথ্য পুনরুদ্ধারে ব্যয় বেড়েছে দ্বিগুণ
    দেশে সাম্প্রতিক সময়ে সাইবার হামলা কমলেও তথ্য পুনরুদ্ধারে ব্যয় বেড়েছে। সাইবার সিকিউরিটি প্রতিষ্ঠান সফোসের বার্ষিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ তথ্য।‘স্টেট অফ র‍্যানসমওয়্যার ২০২৪’ শীর্ষক এ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত বছরে মুক্তিপণ দেওয়ার হার আগের তুলনায় গড়ে ৫০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।২০২৩ সালে র‍্যানসমওয়্যার সাইবার হামলায় গড়ে ৪ লাখ থেকে ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত মুক্তিপণ দেওয়ার কথা জানিয়েছে ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানগুলো। তবে এটি শুধু মুক্তিপণের খরচের একটি অংশ মাত্র। মুক্তিপণ বাদে তথ্য পুনরুদ্ধারের গড় ব্যয় ছিল ২০ লাখ ৭৩ হাজার ডলার। সফোসের আগের বছরের প্রতিবেদন অনুযায়ী যা ছিল ১০ লাখ ৮২ হাজার ডলার। অর্থাৎ প্রতিবেদন অনুযায়ী এবারের তথ্য পুনরুদ্ধারের গড় ব্যয় আগের চেয়ে প্রায় ১০ লাখ ডলার বেশি।নতুন প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুক্তিপণের পরিমাণ বাড়লেও র‍্যানসমওয়্যার সাইবার হামলার ঘটনার হার এবার কিছুটা কমেছে। এই বছরের সমীক্ষা অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানগুলোতে র‍্যানসমওয়্যার হামলা হয় ৫৯ শতাংশ; যা ২০২৩ সালের সমীক্ষায় ছিল ৬৬ শতাংশ। ছোট আকারের প্রতিষ্ঠানগুলোকেও (যাদের আয় ১০ মিলিয়ন ডলারেরও কম) র‍্যানসমওয়্যার হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়। গত বছরে এমন প্রতিষ্ঠানের প্রায় অর্ধেক (৪৭ শতাংশ) র‍্যানসমওয়্যারের শিকার হয়। ২০২৪ সালের প্রতিবেদনে আরও দেখা গেছে, মুক্তিপণের ৬৩ শতাংশের দাবি ছিল এক মিলিয়ন ডলার বা তার বেশি এবং ৩০ শতাংশের দাবি ছিল ৫ মিলিয়ন ডলারের বেশি। এ ছাড়া, যে প্রতিষ্ঠানগুলোর আয় ৫০ মিলিয়ন ডলারের কম, তাদের ৪৬ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের কাছে হামলাকারীরা লাখ লাখ ডলার মুক্তিপণ দাবি করে। অর্থাৎ, তুলনামূলকভাবে কম র‍্যানসমওয়্যার হামলা চালিয়েও এবার হামলাকারীদের অর্থ আয়ের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে।প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে যে, ৩২ শতাংশ প্রতিষ্ঠানই র‍্যানসমওয়্যার হামলার শিকার হয়েছে তাদের দুর্বল সাইবার সিস্টেমের কারণে। এ ছাড়া ২৯ শতাংশ প্রতিষ্ঠান এ ধরনের হামলার শিকার হয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক ডকুমেন্টের অননুমোদিত ব্যবহার বা কম্প্রোমাইজড ক্রেডেনশিয়ালের কারণে এবং ২৩ শতাংশ প্রতিষ্ঠান হামলার শিকার হয়েছে ক্ষতিকর ই-মেইলের মাধ্যমে।স্টেট অফ র‍্যানসমওয়্যার ২০২৪ প্রতিবেদনটির তথ্য ৫ হাজার সাইবার সিকিউরিটি বা আইটি বিশেষজ্ঞ থেকে নেওয়া হয়েছে। এটি একটি ভেন্ডর ভিত্তিক সমীক্ষা যার সময়কাল ছিল ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারি মাস। প্রতিবেদনটি তৈরিতে অংশ নিয়েছে আমেরিকা, ইএমইএ এবং এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের মোট ১৪টি দেশ। এসএফ
    বজ্রপাতের সময় ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস সুরক্ষায় যা করবেন
    এখন কালবৈশাখীর সময়। হঠাৎ হঠাৎ ঝড়, বজ্রপাত আর বৃষ্টি শুরু হয়ে যাচ্ছে। বৃষ্টির সময় টানা দীর্ঘক্ষণ ধরে চলতে পারে বজ্রপাত। এই সময় টিভি, ফ্রিজ, ল্যাপটপ বা কম্পিউটার নষ্ট হওয়ার খবর পাওয়া যায় অনেক বেশি। তাই এ সময় আপনার ইলেক্ট্রনিকস ডিভাইস সুরক্ষিত রাখতে সতর্ক হন। চলুন জেনে নেওয়া যাক বজ্রপাত বা বৃষ্টির সময় ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস কীভাবে সুরক্ষায় রাখবেন।ঝড়বৃষ্টি বা বজ্রপাতের সময় ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস সুরক্ষায় যে কাজগুলো করতে পারেন—১. বাড়ির সব ধরনের বৈদ্যুতিক সংযোগের সঙ্গে আর্থিং ব্যবস্থা করুন। সম্ভব হলে বজ্রপাতের সময় মেইন লাইনের সঙ্গে বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখুন।২. ফ্রিজ বা এসির সঙ্গে সরাসরি বৈদ্যুতিক সংযোগ থাকলে তা খুলে রাখাই নিরাপদ। এমনকি এ সময় এসি চালানো থেকেও বিরত থাকুন।৩. বজ্রপাতের সময় ফোন ব্যবহার বিপজ্জনক নয়। তবে তা ঘরের মধ্যে। ছাদে বা রাস্তায় খোলা জায়গায় থাকলে ফোন ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। বজ্রপাতের সময় ফোন ব্যবহার করলে আপনি বজ্রপাতের শিকার হতে পারেন।৪. বজ্রপাতের সময় বা বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর টিভি বন্ধ রাখুন। এই সময় ডিশ বা ইন্টারনেটের সংযোগ খুলে রাখতে পারেন। ৫. ঝড়বৃষ্টির সময় রাউটার বন্ধ রাখুন। এতে অনেক দিন পর্যন্ত রাউটার ভালো থাকবে। এমনকি এর সঙ্গে সরাসরি কোনো ডিভাইস সংযুক্ত থাকলে সেটিও রক্ষা পাবে।৬. বজ্রপাতের সময় ল্যাপটপ, স্মার্টফোন কিংবা যে কোনো ডিভাইস চার্জ দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। চার্জারের সঙ্গে লাগানো থাকলে তা খুলে দিন।৭. বাড়ির ডেস্কটপ বা কম্পিউটারের সঙ্গে ইন্টারনেট সংযোগ থাকলে তা বন্ধ করে দিন। এমনকি এ সময় ডেস্কটপ বা ল্যাপটপ চালানো থেকেও বিরত থাকুন। যদিও রাউটারের সঙ্গে ওয়াইফাই সংযোগে থাকা মোবাইল বা ল্যাপটপের ক্ষেত্রে তাদের বজ্রাঘাতে নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে বাড়ির বিদ্যুতের সঙ্গে ল্যাপটপ বা রাউটারের সংযোগ থাকলে তা বিছিন্ন করে দিন। এ ছাড়া বজ্রপাত বা বৃষ্টির সময় বৈদ্যুতিক অনেক ডিভাইসের দিকে নজর রাখলেও অনেকে নিজের স্মার্টফোন সুরক্ষার বিষয়টি ভুলে যায়। অনেকে ভাবেন কি-ই বা হবে। তবে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা এর প্রতিবেদন থেকে জানা যায় বজ্রপাতের সময় স্মার্টফোন ব্যবহারে মারাত্বক ক্ষতি হতে পারে।প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বজ্রপাতের সময় ঘরের ভেতরে থাকলে স্মার্টফোন ব্যবহার করা যেতে পারে। কিন্তু এই সময় ইন্টারনেট বন্ধ রাখাই ভালো। তবে যদি মারাত্মক আকারে বজ্রপাত হয় সে ক্ষেত্রে ফোনটি পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে পারেন। না হলে স্মার্টফোনটির তো বটেই, যিনি সেটি ব্যবহার করছেন, তারও বিপদ হতে পারে।এসএফ
    জাকারবার্গের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ মাস্কের
    মেটা’র সিইও মার্ক জাকারবার্গের বিরুদ্ধে ক্রমাগত বিস্ফোরক অভিযোগ আনেন টেসলা ও স্পেসএক্সের কর্ণধার ইলন মাস্ক। বিশেষত মাস্ক যখন টুইটার কিনেছেন, তখন থেকেই তিনি জাকারবার্গের প্রতি আক্রমণ বাড়িয়ে দিয়েছেন।কোনো কারণে ফেসবুক বা মেটার কোনো প্রোডাক্ট ডাউন থাকলে রীতিমতো উচ্ছ্বাস করে কটাক্ষও করেন মাস্ক। এবার জাকারবার্গের ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামের বিরুদ্ধে আরও বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন টেসলা, বোরিং কোম্পানি, এক্স-এর মালিক।ইলন মাস্ক অভিযোগ করে বললেন, ‘জাকারবার্গের মেটা খুব লোভী। ওরা বিজ্ঞাপনদাতাদের থেকে ধার করে ক্যাম্পেইন চালিয়ে তাদের সঙ্গে কার্যত প্রতারণা করে।’এসএফ

    আইন-আদালত

    সব দেখুন
    ১০৮ বার পেছাল সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন
    সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ ১০৮ বার পেছাল। আগামী ৩০ জুন প্রতিবেদন দাখিলের পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন আদালত।বৃহস্পতিবার (১৬ মে) মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু এদিন মামলার তদন্ত সংস্থা র‍্যাব প্রতিবেদন দাখিল করেনি। এজন্য ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুবুল হকের আদালত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন এ তারিখ ঠিক করেন।আলোচিত এ হত্যা মামলায় রুনির বন্ধু তানভীর রহমানসহ মোট আসামি আটজন। অন্য আসামিরা হলেন-বাড়ির নিরাপত্তারক্ষী এনাম আহমেদ ওরফে হুমায়ুন কবির, রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মিন্টু ওরফে বারগিরা মিন্টু ওরফে মাসুম মিন্টু, কামরুল হাসান অরুণ, পলাশ রুদ্র পাল ও আবু সাঈদ। আসামিদের প্রত্যেককে একাধিকবার রিমান্ডে নেওয়া হলেও তাদের কেউই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি।২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকার পশ্চিম রাজাবাজারে মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারোয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি নিজেদের ভাড়া বাসায় নির্মমভাবে খুন হন। পরদিন ভোরে তাদের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়।এরপর নিহত রুনির ভাই নওশের আলম রোমান রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। প্রথমে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন ওই থানার এক এসআই। চার দিন পর চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়।দুই মাসেরও বেশি সময় তদন্ত করে রহস্য উদঘাটনে ব্যর্থ হয় ডিবি। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে একই বছরের ১৮ এপ্রিল হত্যা মামলাটির তদন্তভার র‍্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সেই থেকে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনও মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি সংস্থাটি।এসএফ

    প্রবাস

    সব দেখুন
    দার্জিলিং বেড়াতে গিয়ে বাংলাদেশি পর্যটকের মৃত্যু
    ভারতের দার্জিলিংয়ে বেড়াতে গিয়ে বাংলাদেশি এক পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। ৬৫ বছর বয়সী ওই পর্যটকের নাম এস কে আজিজুল হক বলে জানা গেছে।হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন সেখানকার কার্শিয়াং হাসপাতালের চিকিৎসকরা। আজিজুল বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা। ঢাকার মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা ছিলেন তিনি।দার্জিলিং জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আজিজুল হক একাই দার্জিলিং বেড়াতে গিয়েছিলেন। বুধবার (১৫ মে) সকালে মিতালী এক্সপ্রেসে পশ্চিমবঙ্গের নিউ জলপাইগুড়ি রেলস্টেশনে যান তিনি। সেখান থেকে তিনি এক বাংলাদেশি সহযাত্রীর সঙ্গে শেয়ারে দার্জিলিং যাচ্ছিলেন। কার্শিয়াংয়ের রোহিনীর কাছে গাড়ির মধ্যেই হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক এ কর্মকর্তা। দ্রুত তাকে নেওয়া হয় কার্শিয়াং হাসপাতালে। কিন্তু চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন তাকে।আজিজুল হকের সহযাত্রী মো. ফজলুর রহমান জানান, সহযাত্রী হিসেবে ট্রেনেই তাদের পরিচয় হয়। নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে নামার পর থেকেই অসুস্থ বোধ করছিলেন আজিজুল হক। মাঝে পরিবারকে ফোন করেও অসুস্থতার কথা জানিয়েছিলেন। এরপর তিনি ওই অবস্থাতেই শেয়ার গাড়িতে দার্জিলিংয়ের উদ্দেশে রওনা দেন। রাস্তায় খাওয়া-দাওয়াও করেন। এর কিছুক্ষণ পরেই চলন্ত গাড়িতে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে তাকে হাসপাতালে নিলে মৃত বলে ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।এদিকে বাংলাদেশি পর্যটক মৃত্যুর এ ঘটনায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু হয়েছে কার্শিয়াং থানায়। ইতোমধ্যে নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে সেখানকার পুলিশ। পরিবারের সদস্যরা পৌঁছালে মরদেহের ময়নাতদন্ত হবে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ৷ এরপর নিয়মমাফিক দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেবে পুলিশ।এআই 

    লাইফস্টাইল

    সব দেখুন
    বিয়ে না করলে হতে পারে ভয়াবহ অসুখ
    বর্তমান সময়ে অনেকেই মনে করেন বিয়ে মানেই ঝামেলা। বিশেষ করে অনেক পুরুষের মাঝেই বিয়ে নিয়ে অনাগ্রহ রয়েছে। তারা মনে করেন যে, বিবাহিত পুরুষের তুলনায় তারা সমাজ ও সংসারের দায়িত্ব থেকে মুক্ত। তাই তারা এই সব ঝামেলা থেকে মুক্ত থাকতে চান। স্বাধীন ভাবেই জীবন কাটাতে চান। কিন্তু জানেন কি! এই আপাত শান্তির মাঝেই আশঙ্কা আছে এক বড় বিপদের।   সম্প্রতি ইউরোপিয়ান সোসাইটি অব কার্ডিওলজি ও জার্মানির ইউনিভার্সিটি হসপিটাল ওয়ারজবার্গের কমপ্রিহেনসিভ হার্ট ফেলিওর সেন্টারের গবেষণায় উঠে এসেছে, অবিবাহিত পুরুষদের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার সমস্যা অনেক বেশি।গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, অবিবাহিত পুরুষেদের অল্প বয়সে জীবনহানি হওয়ার আশঙ্কা বিবাহিত পুরুষের থেকে অনেকটাই বেশি। সামাজিক জীবনে মেলামেশা কম হওয়ার কারণে অবিবাহিত পুরুষদের এই ধরনের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই বেশি থাকে।গবেষণায় দেখা গেছে, জটিল রোগে আক্রান্ত হলে সেই পরিস্থিতি সামলানোর আত্মবিশ্বাস বিবাহিত পুরুষদের অনেকটাই বেশি থাকে। গবেষকদলের এক চিকিৎসকের মতে, জনসংযোগ মানুষের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করার শক্তি অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়। শুধুমাত্র জীবনসঙ্গী নয়, দীর্ঘায়ু হওয়ার জন্য সামাজ জীবনের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করা খুবই জরুরি।এবি

    Loading…