মুসলিম বিশ্বের শান্তি, স্থিতি ও সমৃদ্ধি কামনা তারেক রহমানের
পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে দেশবাসীসহ মুসলিম বিশ্বের সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শেয়ার করা এক পোস্টে তিনি এ কামনা করেন।পোস্টে তারেক রহমান লিখেছেন, শাবান মাসের একটি মহিমান্বিত রাতের নাম শবে বরাত। এ উপলক্ষে আমি বাংলাদেশসহ মুসলিম বিশ্বের সকল মুসলমানের অব্যাহত সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করি।তিনি লিখেন, বরাত অর্থ নাজাত বা মুক্তি, শবে বরাতের রাতের গুরুত্ব অপরিসীম। শবে বরাতে পরম করুণাময় তার বান্দার জন্য খুলে দেন রহমত আর দয়ার ভান্ডার। তাই এ রাতের ফজিলত ও মর্যাদা অনেক বেশী। এই রজনী জানান দেয় রমজানের আগমনী বার্তা। এই পবিত্র রাতে ধর্মপ্রাণ বান্দারা সারারাত আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের আশায় নিজেদের ভুল-ভ্রান্তি, ত্রুটি-বিচ্যুতির জন্য মহান আল্লাহ’র নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এই রাতে এমন নেক আমল করা উচিৎ, যার মাধ্যমে আল্লাহ’র রহমত ও মাগফিরাত লাভ করা যায়। বিএনপি চেয়ারম্যান লিখেন, এ রাতের আরেকটি তাৎপর্য হলো নাজাত পাওয়া। বিশ্বাসী মুসলমানগণ সকল অনাচার, অপকর্ম ও অপবিত্রতা থেকে পরিত্রাণ পেতে আল্লাহ’র কাছে প্রার্থনা করেন এবং মহান রাব্বুল আলামীন অনুগ্রহ প্রার্থীদের প্রতি অনুগ্রহ করেন। আমরা সবাই সহিংসতা, রক্তপাত, হিংসা, বিদ্বেষ পরিহার করে মানব জাতির বৃহত্তর কল্যাণে সহিষ্ণুতা, সংযম ও সৌহার্দ্য অর্জনে নিজেদের নিবেদিত রাখবো, মহিমান্বিত রাতে আমাদের এই নিবেদন নিশ্চয়ই আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কবুল করবেন। তিনি আরও লিখেন, বিশ্ব শান্তিসহ বিশ্ব মুসলিমের ঐক্য, সংহতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নিকট আমরা একান্ত মোনাজাত করবো। আমি পবিত্র শবে বরাতের এই রজনীতে দেশ, জাতি তথা মুসলিম বিশ্বের উত্তরোত্তর উন্নতি, কল্যাণ ও শান্তি কামনা করছি।এফএস
নির্বাচনে প্রশাসন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকবে: বরিশালে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে প্রশাসন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, নির্বাচনকে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক করতে সর্বোচ্চ সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে।সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বরিশাল শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে বিভাগের প্রতিটি জেলা ও উপজেলার কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, নির্বাচন উপলক্ষে সারাদেশে প্রায় ১ লাখ সেনাবাহিনী সদস্য, দেড় লাখ পুলিশ, ৩৭ হাজার বিজিবি, ১০ হাজার র্যাব, ৫ হাজার নৌবাহিনী সদস্য, প্রায় ৫ হাজার কোস্ট গার্ড এবং প্রায় ৬ লাখ আনসার সদস্য মোতায়েন করা হবে।তিনি বলেন, “নির্বাচন ও গণভোটকে শান্তিপূর্ণ, অংশগ্রহণমূলক ও উৎসবমুখর করতে আমরা সবাই প্রস্তুত। সেই লক্ষ্যে আমাদের প্রস্তুতিও সন্তোষজনক।”প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “এবার নির্বাচনে প্রশাসন একেবারেই নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও নিরপেক্ষভাবেই দায়িত্ব পালন করবে।” তিনি আরও জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন থাকবে।সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি। এ সময় বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।ইখা
জাতীয়
সব দেখুন
জুলাই গ্রাফিতির ১০ টাকার নতুন নোট আসছে আগামীকাল
‘বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপত্য’ শীর্ষক নতুন ডিজাইন ও সিরিজের ১০ টাকা মূল্যমানের ব্যাংক নোট আগামীকাল মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) থেকে বাজারে ছাড়ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব কমিউনিকেশন্স অ্যান্ড পাবলিকেশন্স থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন ডিজাইন ও সিরিজের সব মূল্যমানের (১০০০, ৫০০, ২০০, ১০০, ৫০, ২০, ১০, ৫ ও ২ টাকা) নোট মুদ্রণের উদ্যোগ নিয়েছে। এরই মধ্যে ১,০০০, ৫০০, ১০০, ৫০ ও ২০ টাকার নতুন নোট বাজারে প্রচলনে এসেছে।এর ধারাবাহিকতায় গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর স্বাক্ষরিত নতুন ডিজাইনের ১০ টাকার নোট আগামীকাল মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) থেকে প্রথমবারের মতো বাজারে ছাড়বে। প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিস থেকে নোটটি ইস্যু করা হবে। পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্যান্য অফিস থেকেও বিতরণ করা হবে।বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, নতুন ১০ টাকার নোটটির আকার ১২৩ মিলিমিটার × ৬০ মিলিমিটার। নোটের সম্মুখভাগে বাম পাশে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের ছবি এবং মাঝখানে ব্যাকগ্রাউন্ডে জাতীয় ফুল শাপলার ছবি রয়েছে। পেছন ভাগে মুদ্রিত হয়েছে গ্রাফিতি ২০২৪-এর চিত্র। নোটটির রঙে গোলাপির আধিক্য রয়েছে।নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে- নোটের সম্মুখভাগের বাঁ পাশে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ, ঢাকার ছবি ও মাঝখানে ব্যাকগ্রাউন্ডে পাতা, কলিসহ প্রস্ফুটিত জাতীয় ফুল শাপলার ছবি এবং নোটের পেছন ভাগে গ্রাফিতি ২০২৪-এর ছবি মুদ্রিত আছে।তাছাড়া জলছাপে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মুখ, ইলেকট্রোটাইপ জলছাপে ‘১০’, বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোগ্রাম, ২ মিলিমিটার চওড়া রং পরিবর্তনশীল নিরাপত্তা সুতা, See-Through ইমেজ ও মাইক্রোপ্রিন্ট। এর নিচে উজ্জ্বল ইলেকট্রোটাইপ জলছাপে ‘10’ এবং ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোগ্রাম’ রয়েছে। নোটটিতে গোলাপি রঙের আধিক্য রয়েছে। নোটটি নাড়াচাড়া করলে নিরাপত্তা সুতার রং লাল থেকে সবুজে পরিবর্তিত হবে বলেও জানানো হয়।বাংলাদেশ ব্যাংক আরো জানায়, নতুন ১০ টাকার নোট বাজারে এলেও বর্তমানে প্রচলিত সব কাগুজে নোট ও ধাতব মুদ্রা আগের মতোই বৈধ থাকবে। পাশাপাশি মুদ্রা সংগ্রাহকদের জন্য ১০ টাকার নমুনা (Specimen) নোটও মুদ্রণ করা হয়েছে, যা বিনিময়যোগ্য নয়। এসব নমুনা নোট নির্ধারিত মূল্যে টাকা জাদুঘর বিভাগ, মিরপুর থেকে সংগ্রহ করা যাবে।এমআর-২
ভোটকেন্দ্রে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতের নির্দেশ ডিএমপি কমিশনারের
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে ঢাকা মহানগরের প্রতিটি সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টার দিকে ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ডিএমপির প্রণীত নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়ন ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত এক সমন্বয় সভায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে এসব কথা বলেন তিনি। ডিএমপি কমিশনার বলেন, ভোটকেন্দ্রে যেন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। থানা এলাকা থেকে দূরবর্তী কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নজরদারি রাখতে হবে। থানা এলাকায় পুলিশি টহল আরও জোরদার করতে হবে।অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, এবারের নির্বাচন ভিন্ন প্রেক্ষাপটে হচ্ছে এ বিষয় মাথায় রেখে দায়িত্ব পালন করতে হবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন থাকবে এবং আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।সমন্বয় সভায় যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (অপারেশনস) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে সার্বিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় বিভিন্ন মতামত দেন এবং কমিশনার বিভিন্ন নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। সভায় অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন) মো. সরওয়ার, বিপিএম-সেবা, (অতিরিক্ত আইজি); অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম, পিপিএম-সেবা; অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম) মো. মাসুদ করিম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম বিপিএম, পিপিএম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (লজিস্টিকস, ফিন্যান্স অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট) হাসান মো. শওকত আলী, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান, যুগ্ম পুলিশ কমিশনারগণ, উপ-পুলিশ কমিশনারগণ, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনারগণ, সহকারী পুলিশ কমিশনার, ডিএমপির সকল থানার অফিসার ইনচার্জগণ ও বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। পরে গণমাধ্যমে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এ তথ্য জানান।এমআর-২
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এমডি স্ত্রীসহ গ্রেফতার
শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী বিথীসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।রবিবার (০১ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে উত্তরা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি) আদালতে হাজির করে তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই রোমের মিয়া।ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালতে জামিনের বিষয়ে শুনানি হবে বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই তাহমিনা আক্তার।জানতে চাইলে উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি রফিক আহমেদ জানান, ১১ বছরের এক শিশু গৃহকর্মীকে বীভৎসভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটা মামলা হয়েছে। সেই মামলায় গত রাত সাড়ে ৩টার দিকে সাফিকুর রহমান, তার স্ত্রী বীথি এবং বাসার অন্য দুই গৃহকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।এমআর-২
সচিবালয়ে মবের উৎপত্তি নিয়ন্ত্রণ না করলে নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে: টিআইবি
সরকার পরিচালনার কেন্দ্রস্থল সচিবালয় থেকে মবের উৎপত্তি হয়েছে এবং নিয়ন্ত্রণ না করলে তা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে। এমনটাই দাবি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানের।আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ের কনফারেন্স কক্ষে এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন।ভোটের মাঠে মবের ভয় দেখছেন কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘বাংলাদেশে মবের বিষয়টি শুরু হয়েছে সরকারের ভেতর থেকে। সরকার পরিচালনার কেন্দ্রস্থল সচিবালয়, সেখানে থেকে কিন্তু মবের উৎপত্তি। সরকার মবকে ক্ষমতায়িত করেছে। মবের কারণে সরকারের নৈতিক ভিত্তি দুর্বল হয়েছে। নিয়ন্ত্রণ না করলে মব নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে।’সংবাদ সম্মেলনে ‘কর্তৃত্ববাদ পতন-পরবর্তী দেড় বছর: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক গবেষণার প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।এ বিষয়ে ইফতেখারুজ্জামান মন্তব্য করেন, রাজনৈতিক দল ও আমলাতন্ত্র জুলাই আন্দোলন থেকে কোনো শিক্ষা নেয়নি। তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দল ও আমলাতন্ত্র নিজেদের স্বার্থ বজায় রাখতে চায়। এ কারণে ঐকমত্য কমিশনের প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত আমরা যে ন্যারেটিভ তাদের কাছ থেকে শুনেছি যে, সরকারের হাত-পা বেঁধে দেবেন না। জনগণের কাছে জবাবদিহি, সরকার ব্যবস্থার জন্য চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স উপস্থাপনা করা হয়েছিল। প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাদের আপত্তি ছিল।’ অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বিচার, সংস্কার, নির্বাচন, রাষ্ট্র পরিচালনা, অনিয়ম-দুর্নীতি ও অংশীজনের ভূমিকা নিয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত গবেষণা চালায় টিআইবি। যেখানে জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ, জুলাই যোদ্ধাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট উদ্যোগ, রাষ্ট্র সংস্কারসহ ১৮টি পদক্ষেপের অগ্রগতি-ঘাটতি ও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয় গবেষণা প্রতিবেদনে। এইচএ
এবার জ্বালানি উপদেষ্টার ফোন নম্বর হ্যাকড
নিজের ব্যক্তিগত ফোন নম্বর হ্যাক হয়েছে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্ন্তী বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে এ তথ্য জানান তিনি।পোস্টে ফাওজুল কবির লিখেন, ‘আমার ফোন নম্বরটি হ্যাক হয়েছে। আমি কোনো অর্থ সাহায্য চাচ্ছি না। এ ধরনের অনুরোধ উপেক্ষা করুন। ধন্যবাদ।’এমআর-২
‘নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে অসংখ্য অপতথ্য মোকাবেলা করতে হচ্ছে’
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে অসংখ্য অপতথ্য মোকাবেলা করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাকা ইনটারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে এক সংলাপে এ কথা বলেন তিনি।প্রেস সচিব বলেন, নানামুখী অপতথ্য মোকাবেলায় সরকারের সক্ষমতা সীমিত। তবুও অন্তর্বর্তী সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।তিনি বলেন, ভারতীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশকে নিয়ে নিয়মিত মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে। বিভিন্নজন নামে-বেনামে ইউটিউব চ্যানেল খুলেও মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে বলেও অভিযোগ তার।প্রেস সচিব বলেন, পরিস্থিতি মোকাবেলায় আইনের কঠোর প্রয়োগ হওয়া দরকার। মিথ্যা খবর প্রচারের ফলে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে আইনি ব্যবস্থার সুযোগ থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।এমআর-২
ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ডিএমপির ৯৮৯ মামলা
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের দায়ে ৯৮৯টি মামলা করেছে।আজ রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ কর্তৃক রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে এসব মামলা করা হয়। ডিএমপির ট্রাফিক সূত্রে জানা যায়, ট্রাফিক-রমনা বিভাগে ১ টি বাস, ১ টি কাভার্ডভ্যান, ৪ টি সিএনজি ও ১৭ টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৪২ টি মামলা হয়েছে।ট্রাফিক-লালবাগ বিভাগে ১ টি বাস, ২ টি ট্রাক, ২ টি কাভার্ডভ্যান, ৫ টি সিএনজি ও ৩৯ টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৫৬ টি মামলা হয়েছে।ট্রাফিক-মতিঝিল বিভাগে ৫ টি বাস, ৬ টি ক্যাভার্ডভ্যান, ৫১ টি সিএনজি ও ৮২ টি মোটরসাইকেলসহ মোট ১৫৬ টি মামলা হয়েছে।ট্রাফিক-ওয়ারী বিভাগে ৩ টি বাস, ১০ টি ট্রাক, ৭ টি কাভার্ডভ্যান, ৭ টি সিএনজি ও ৩৯ টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৭৯ টি মামলা হয়েছে।অন্যদিকে ট্রাফিক-তেজগাঁও বিভাগে ১ টি বাস, ৭ টি কাভার্ডভ্যান, ৮ টি সিএনজি ও ২১ টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৬০ টি মামলা হয়েছে।ট্রাফিক-মিরপুর বিভাগে ২ টি বাস, ১৮ টি ট্রাক, ১৭ টি কাভার্ডভ্যান, ৩৪ টি সিএনজি ও ২৪১ টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৩৯০ টি মামলা হয়েছে।ট্রাফিক-উত্তরা বিভাগে ১ টি বাস, ১ টি ট্রাক, ৪ টি কাভার্ডভ্যান, ১০ সিএনজি ও ৫২ টি মোটরসাইকেলসহ মোট ১১০ টি মামলা হয়েছে।ট্রাফিক-গুলশান বিভাগে ৩ টি বাস, ১ টি ট্রাক, ১ টি কাভার্ডভ্যান, ৫ টি সিএনজি ও ৩৩ টি মোটরসাইকেলসহ মোট ১০০ টি মামলা হয়েছে।এছাড়াও অভিযানকালে মোট ৩১৪ টি গাড়ি ডাম্পিং ও ১৭২ টি গাড়ি রেকার করা হয়েছে।ঢাকা মহানগর এলাকায় ট্রাফিক শৃঙ্খলা রক্ষায় ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।এইচএ
রমজানে ৬৫০ টাকায় গরুর মাংস বিক্রি করবে সরকার
প্রতি বছরের মতো এবারও রমজানে সুলভমূল্যে মাংস, দুধ ও ডিম বিক্রি করবে সরকার। প্রতি কেজি গরুর মাংস ৬৫০ ও প্রক্রিয়াজাত মুরগির মাংস ২৫০, প্রতি লিটার দুধ ৮০ এবং প্রতিটি ডিম ৮ টাকা করে বিক্রি হবে।রবিবার (০১ ফেব্রুয়ারি) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে রমজান কেন্দ্রিক ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি সংক্রান্ত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি সভায় গত বছরের চেয়ে এবছর পণ্য বিক্রির স্থান বৃদ্ধির নির্দেশ দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। এবার ৪৮টি স্থানে এসব পণ্য বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।এ বিষয়ে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ান জানান, ‘বরাবরের মতো এবছরও ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি করা হবে। আমরা চাই রমজান মাসে রোজাদারদের কষ্ট কিছুটা লাঘব করতে। এজন্য আমরা কাজ করছি।তিনি আরও বলেন, এরই মধ্যে এসব পণ্য সরবরাহকারী অংশীজনদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা গত বছরের চেয়ে এবছর বেশি জায়গায় পণ্য বিক্রির ব্যবস্থা করবেন।এমআর-২
সর্বশেষ প্রকাশিত
রাজনীতি
সব দেখুন
মুসলিম বিশ্বের শান্তি, স্থিতি ও সমৃদ্ধি কামনা তারেক রহমানের
পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে দেশবাসীসহ মুসলিম বিশ্বের সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শেয়ার করা এক পোস্টে তিনি এ কামনা করেন।পোস্টে তারেক রহমান লিখেছেন, শাবান মাসের একটি মহিমান্বিত রাতের নাম শবে বরাত। এ উপলক্ষে আমি বাংলাদেশসহ মুসলিম বিশ্বের সকল মুসলমানের অব্যাহত সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করি।তিনি লিখেন, বরাত অর্থ নাজাত বা মুক্তি, শবে বরাতের রাতের গুরুত্ব অপরিসীম। শবে বরাতে পরম করুণাময় তার বান্দার জন্য খুলে দেন রহমত আর দয়ার ভান্ডার। তাই এ রাতের ফজিলত ও মর্যাদা অনেক বেশী। এই রজনী জানান দেয় রমজানের আগমনী বার্তা। এই পবিত্র রাতে ধর্মপ্রাণ বান্দারা সারারাত আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের আশায় নিজেদের ভুল-ভ্রান্তি, ত্রুটি-বিচ্যুতির জন্য মহান আল্লাহ’র নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এই রাতে এমন নেক আমল করা উচিৎ, যার মাধ্যমে আল্লাহ’র রহমত ও মাগফিরাত লাভ করা যায়। বিএনপি চেয়ারম্যান লিখেন, এ রাতের আরেকটি তাৎপর্য হলো নাজাত পাওয়া। বিশ্বাসী মুসলমানগণ সকল অনাচার, অপকর্ম ও অপবিত্রতা থেকে পরিত্রাণ পেতে আল্লাহ’র কাছে প্রার্থনা করেন এবং মহান রাব্বুল আলামীন অনুগ্রহ প্রার্থীদের প্রতি অনুগ্রহ করেন। আমরা সবাই সহিংসতা, রক্তপাত, হিংসা, বিদ্বেষ পরিহার করে মানব জাতির বৃহত্তর কল্যাণে সহিষ্ণুতা, সংযম ও সৌহার্দ্য অর্জনে নিজেদের নিবেদিত রাখবো, মহিমান্বিত রাতে আমাদের এই নিবেদন নিশ্চয়ই আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কবুল করবেন। তিনি আরও লিখেন, বিশ্ব শান্তিসহ বিশ্ব মুসলিমের ঐক্য, সংহতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নিকট আমরা একান্ত মোনাজাত করবো। আমি পবিত্র শবে বরাতের এই রজনীতে দেশ, জাতি তথা মুসলিম বিশ্বের উত্তরোত্তর উন্নতি, কল্যাণ ও শান্তি কামনা করছি।এফএস
মুসলিম বিশ্বের শান্তি, স্থিতি ও সমৃদ্ধি কামনা তারেক রহমানের
পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে দেশবাসীসহ মুসলিম বিশ্বের সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শেয়ার করা এক পোস্টে তিনি এ কামনা করেন।পোস্টে তারেক রহমান লিখেছেন, শাবান মাসের একটি মহিমান্বিত রাতের নাম শবে বরাত। এ উপলক্ষে আমি বাংলাদেশসহ মুসলিম বিশ্বের সকল মুসলমানের অব্যাহত সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করি।তিনি লিখেন, বরাত অর্থ নাজাত বা মুক্তি, শবে বরাতের রাতের গুরুত্ব অপরিসীম। শবে বরাতে পরম করুণাময় তার বান্দার জন্য খুলে দেন রহমত আর দয়ার ভান্ডার। তাই এ রাতের ফজিলত ও মর্যাদা অনেক বেশী। এই রজনী জানান দেয় রমজানের আগমনী বার্তা। এই পবিত্র রাতে ধর্মপ্রাণ বান্দারা সারারাত আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের আশায় নিজেদের ভুল-ভ্রান্তি, ত্রুটি-বিচ্যুতির জন্য মহান আল্লাহ’র নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এই রাতে এমন নেক আমল করা উচিৎ, যার মাধ্যমে আল্লাহ’র রহমত ও মাগফিরাত লাভ করা যায়। বিএনপি চেয়ারম্যান লিখেন, এ রাতের আরেকটি তাৎপর্য হলো নাজাত পাওয়া। বিশ্বাসী মুসলমানগণ সকল অনাচার, অপকর্ম ও অপবিত্রতা থেকে পরিত্রাণ পেতে আল্লাহ’র কাছে প্রার্থনা করেন এবং মহান রাব্বুল আলামীন অনুগ্রহ প্রার্থীদের প্রতি অনুগ্রহ করেন। আমরা সবাই সহিংসতা, রক্তপাত, হিংসা, বিদ্বেষ পরিহার করে মানব জাতির বৃহত্তর কল্যাণে সহিষ্ণুতা, সংযম ও সৌহার্দ্য অর্জনে নিজেদের নিবেদিত রাখবো, মহিমান্বিত রাতে আমাদের এই নিবেদন নিশ্চয়ই আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কবুল করবেন। তিনি আরও লিখেন, বিশ্ব শান্তিসহ বিশ্ব মুসলিমের ঐক্য, সংহতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নিকট আমরা একান্ত মোনাজাত করবো। আমি পবিত্র শবে বরাতের এই রজনীতে দেশ, জাতি তথা মুসলিম বিশ্বের উত্তরোত্তর উন্নতি, কল্যাণ ও শান্তি কামনা করছি।এফএস
গাজীপুরে জামায়াত আমিরের আগমণ উপলক্ষে ব্যাপক প্রস্তুতি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গাজীপুরের প্রাণকেন্দ্র ঐতিহাসিক ভাওয়াল রাজবাড়ী মাঠে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিশাল নির্বাচনী জনসভা। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি)এই জনসভা সফল করতে দলীয় প্রস্তুতি, কর্মসূচি ও প্রত্যাশা তুলে ধরতে গাজীপুর মহানগর জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে সোমবার এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামীকাল মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে ভাওয়াল রাজবাড়ী মাঠে অনুষ্ঠিতব্য এই জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা ডা. শফিকুর রহমান। জনসভায় সভাপতিত্ব করবেন গাজীপুর মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক জামাল উদ্দিন। এছাড়াও ১১ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ জনসভায় বক্তব্য রাখবেন বলে জানানো হয়।সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ডা. শফিকুর রহমানের এই আগমন শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং গাজীপুরবাসীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করবে। জনসভায় দেশ ও জাতির চলমান সংকট, ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা, সুশাসন, ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য উপস্থাপন করা হবে। বক্তারা সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান, এই জনসভার বক্তব্য ও বার্তা বস্তুনিষ্ঠভাবে জাতির সামনে তুলে ধরতে।গাজীপুরবাসীর উদ্দেশে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দীর্ঘদিন পর অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রত্যাশায় মানুষ মুখিয়ে আছে। এই জনসভা সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাবে। সর্বস্তরের জনগণকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে জনসভাকে সফল করার আহ্বান জানানো হয়। একইসঙ্গে প্রশাসনের দায়িত্বশীল মহলের প্রতি জনসভায় আগত নেতৃবৃন্দ ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়।সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন গাজীপুর মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমীর অধ্যাপক জামাল উদ্দিন। উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর আব্দুল হাকিম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও গাজীপুর মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি আবু সাঈদ মুহাম্মদ ফারুক, মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আজহারুল ইসলাম মোল্লা, গাজীপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি প্রিন্সিপাল মুস্তাফিজুর রহমান খান, ইসলামী ছাত্রশিবির গাজীপুর মহানগর সভাপতি রেজাউল ইসলাম, গাজীপুর জেলা সভাপতি ইয়াসিন আরাফাত, গাছা থানা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাস্টার মিয়াজ উদ্দিন, গাজীপুর মেট্রো সদর থানা জামায়াতের সিনিয়র নায়েবে আমীর মো. ছাদেকুজ্জামান খানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।পিএম
আইডি হ্যাক হতে পারে না, তারা মিথ্যা বলছেন: তারেক রহমান
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, একটি রাজনৈতিক দলের একজন নেতা পরিষ্কারভাবে দুদিন আগে বলেছেন, যেসব মহিলা, যেসব মা-বোনেরা কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে যান, তাদেরকে (ইঙ্গিত করে) এমন একটি শব্দ ব্যবহার করেছেন, যা কলঙ্কস্বরূপ। এই কথা বলার পরে যখন তীব্র সমালোচনা শুরু হলো, তখন তারা বলছেন, আমাদের আইডি নাকি হ্যাক হয়ে গিয়েছিল। এই বিষয়ে যারা বিশেষজ্ঞ তারা পরিষ্কার ভাষায় বলেছেন, আইডি এভাবে হ্যাক হতে পারে না। তারা মানুষের কাছে মিথ্যা কথা তুলে ধরছেন।সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর পৌনে ১টার দিকে খুলনার প্রভাতী স্কুলমাঠে অনুষ্ঠিত বিএনপির নির্বাচনি জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।তারেক রহমান বলেন, ‘দেশের জনসংখ্যা প্রায় ২০ কোটি, এর মধ্যে অন্তত ১০ কোটি নারী। এই বিশাল নারী সমাজকে পেছনে রেখে যত বড় পরিকল্পনাই করা হোক না কেন, দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।তিনি বলেন, বাংলাদেশের লক্ষাধিক নারী পোশাক শিল্পে কাজ করে দেশের অর্থনীতিকে সচল রেখেছেন। নিম্ন মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের নারীরা দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সংসার চালাতে স্বামীর পাশাপাশি কাজ করছেন। অথচ তাদেরই আজ অপমান করা হচ্ছে।বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘যারা ইসলাম কায়েমের কথা বলেন, তারা ভুলে যাচ্ছেন—নবী করিম (সা.)-এর সহধর্মিণী হযরত বিবি খাদিজা (রা.) ছিলেন একজন সফল ব্যবসায়ী। তাহলে নারীদের কর্মজীবনকে অপমান করার এখতিয়ার কারও নেই।’বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রতিটি পরিবারে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে দলের চেয়ারম্যান বলেন, এই কার্ডের মাধ্যমে নারীদের ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী করে তোলা হবে, যাতে তারা কারও মুখাপেক্ষী হয়ে না থাকেন।খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট অঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, এক সময়ের শিল্পনগরী খুলনা আজ মৃতপ্রায়। বিএনপি সরকার গঠন করলে এই অঞ্চলকে আবার জীবন্ত শিল্পনগরীতে রূপান্তর করা হবে। নারী-পুরুষ উভয়ের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে।তরুণ সমাজের জন্য আইটি পার্ক ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালু করা হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে ঋণ, সার, বীজ ও কীটনাশক সহজে পাওয়া যাবে। পাশাপাশি বর্তমানে যেসব কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ রয়েছে, তা সুদসহ মওকুফ করা হবে।এমআর-২
কক্সবাজারকে সিঙ্গাপুর বা হংকংয়ের চেয়ে উন্নত করা হবে: জামায়াত আমির
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, কক্সবাজারের মহেশখালীকে স্মার্ট ইকোনমি জোন হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এছাড়া মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দরকে কেন্দ্র করে এটাকে আমরা আল্লাহ চাইলে সিঙ্গাপুর বা হংকংয়ের চেয়ে আরও ভালো মানে নিয়ে যেতে পারবো।আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) কক্সবাজারের মহেশখালীতে নির্বাচনী জনসভায় তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন।পচে যাওয়া নেতৃত্ব দিয়ে আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণ সম্ভব নয় মন্তব্য করে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বস্তাপচা রাজনীতির পরিবর্তনই আমাদের লক্ষ্য। জাতিকে বিভক্ত নয়, ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে উল্লেখ করে জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, আগামী ১৩ তারিখ থেকে বাংলাদেশ পাল্টে যাবে, নতুন বাংলাদেশের উদয় হবে।ক্ষমতায় গেলে কক্সবাজারবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি লবণ শিল্পকে রক্ষা এবং আধুনিকায়ন করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। একই সঙ্গে চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও মামলা বাণিজ্য বন্ধেরও ঘোষণা দেন জামায়াত আমির।জাতিকে বিভক্ত নয়, ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে উল্লেখ করে জামায়াতের আমির বলেন, আগামী ১৩ তারিখ থেকে বাংলাদেশ পাল্টে যাবে, নতুন বাংলাদেশের উদয় হবে।এসময় নির্বাচনী জনসভায় দাঁড়িপাল্লা মার্কার পাশাপাশি হ্যাঁ ভোটের পক্ষে ভোট চান ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা।এইচএ
রাজার ছেলে রাজা হবে, এমন তত্ত্বে আমরা বিশ্বাসী নই: জামায়াত আমির
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘দেশের সাধারণ মানুষ বিএনপিকে লাল কার্ড দেখাবে। আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে জনগণ একটি নতুন বাংলাদেশ পাবে।’ তিনি বলেন, রাজার ছেলে রাজা হবে—এমন মতবাদে জামায়াত বিশ্বাস করে না।আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) কক্সবাজার শহরের মুক্তিযোদ্ধা মাঠে জামায়াত আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতির সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, 'রাজার ছেলে রাজা হবে—এমন মতবাদে আমরা বিশ্বাসী নই। এদেশে এমপি, মন্ত্রী কিংবা প্রধানমন্ত্রী; যেই হোক না কেন, অপরাধ করলে তার বিচার নিশ্চিত করতে চাই। আমরা ন্যায়বিচার ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চাই।'বেলা ১২টার পর ডা. শফিকুর রহমান সমাবেশস্থলে পৌঁছান এবং বক্তব্য রাখেন। এর আগে, সকালে তিনি জেলার মহেশখালীতে অপর একটি জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন।এইচএ
ক্ষমতায় গেলে নারীদের মাথায় তুলে রাখবো: জামায়াত আমির
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, নারী নিপীড়নের বিরুদ্ধে কথা বলায় গোপনে আমার পেছনে লাগা হয়েছে। পেছনের লোকেরা পেছনে পড়ে থাকবে, আমরা ক্ষমতায় গেলে নারীদের মাথার ওপর তুলে মর্যাদা দিয়ে রাখা হবে।আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) কক্সবাজার পৌর শহরের বাহারছড়ায় মুক্তিযোদ্ধা (গোলচক্কর) মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।তিনি বলেন, ১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় এলে সবখানেই ইনসাফ কায়েম করা হবে। ন্যায় প্রতিষ্ঠাই হবে আমাদের মূল কাজ। সবকিছু ক্ষমা করা হলেও জুলাই হত্যার বিচার নিশ্চিত করা হবে।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে নতুন বাংলাদেশ পাবে দেশবাসী। আমরা সরকার গঠনের সুযোগ পেলে নারীদের মাস্টার্স পর্যন্ত ফ্রি পড়ালেখার সুব্যবস্থা করা হবে। ইনসাফের মাধ্যমে ন্যায় প্রতিষ্ঠাই হবে আমাদের মূল কাজ।’তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ২০১৮ বা ২০২৪ এর নির্বাচন নয়। এ নির্বাচন ফ্যাসিবাদকে লাল কার্ড দেখানোর নির্বাচন। জুলাই যোদ্ধাদের প্রত্যাশা পূরণের নির্বাচন।হেভিওয়েট ১২ তারিখ মাপা হয়ে যাবে উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘কক্সবাজারের অনেক আসনে নাকি হেভিওয়েট প্রার্থী আছে। তারা আমাদের প্রার্থীকে ভয় দেখাচ্ছে। আমাদের দাঁড়িপাল্লায় রায় দিয়ে তাদের ওয়েট মাপবে জনগণ।’জামায়াত আমির বলেন, ‘জুলাই যোদ্ধাদের দাবি ছিল কাজ, বেকার ভাতা নয়। শিক্ষিত যুবকদের হাতে কাজ তুলে দিয়ে বলবো, এবার এগিয়ে যাও। কাজের মধ্য দিয়ে প্রমাণ করো তুমিই বাংলাদেশ।’কক্সবাজার কেন সিঙ্গাপুর ও সাংহাই হতে পারলো না—এমন প্রশ্ন রেখে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘কক্সবাজারের চারটি আসন ১১ দলকে তুলে দিলে নুরের মেলায় একটি সুশৃঙ্খল পর্যটন জেলা উপহার দেওয়া হবে।’নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হিসেবে কক্সবাজার পৌর শহরের বাহারছড়ায় মুক্তিযোদ্ধা (গোলচত্বর) মাঠে সমাবেশ করেছে ১১ দলীয় জোট। সকালে মহেশখালীর জনসভা শেষে দুপুর ১টা ৫ মিনিটে কক্সবাজারের জনসভায় আসেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।এর আগে, সকাল ১০টায় শুরু হয় সমাবেশে কার্যক্রম। সমাবেশকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই জেলার কুতুবদিয়া, পেকুয়া, টেকনাফ, উখিয়া, রামু, মহেশখালী, চকরিয়া ও কক্সবাজার সদরসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে নেতাকর্মীরা দলে দলে সমাবেশস্থলে জড়ো হতে শুরু করেন। মাঠে দলীয় ব্যানার, ফেস্টুন ও স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।এইচএ
‘যাদের কাছে নারীদের সম্মান নেই, তাদের কাছে দেশ নিরাপদ হতে পারে না’
যাদের কাছে নারীদের সম্মান নেই, তাদের কাছে দেশ নিরাপদ হতে পারে না বলে জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে খুলনায় বিএনপির নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।জামায়াতকে উদ্দেশ করে তারেক রহমান বলেন, তারা সুযোগ পেলে নারীদের কেমন অপমান করবে, তা একাত্তর সালে আমরা দেখেছিলাম। যাদের কাছে নারীদের সম্মান নেই, তাদের কাছে দেশ নিরাপদ হতে পারে না। জামায়াতের দলেও নারী আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা তো ঘর থেকে বের হচ্ছেন। তাহলে তাদের পরিচয় কী? এখন নারীদের চিন্তা করতে হবে, তাদের (জামায়াত) কীভাবে জবাব দেবে। সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, একটি মহল বলার চেষ্টা করছে, ভোট গণনায় সময় লাগবে। ষড়যন্ত্র আবার শুরু হয়েছে। যারা নারীদের হেয় করছে, মিথ্যা বলছে তারাই আবার ষড়যন্ত্র করছে। ছলচাতুরীর চেষ্টা করছে। সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। এই অধিকার রক্ষায় সতর্ক থাকতে হবে। ‘প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে মুক্তিযোদ্ধারা স্বাধীন করেছিলেন। একইভাবে চব্বিশ সালে দেশ রক্ষা করেছে ছাত্রজনতা’, যোগ করেন বিএনপির চেয়ারম্যান। তারেক রহমান বলেন, ১৬ বছর অনেক আন্দোলন করেছি। গুম-খুনের শিকার হয়েছে বিএনপি। ভোটের অধিকার মানুষ প্রয়োগ করতে পারেনি। জাতীয় নির্বাচন থেকে স্থানীয় নির্বাচনেও একই অবস্থা ছিল। এখন সময় এসেছে। ১২ তারিখে মানুষ তার অধিকার প্রয়োগ করবে। বিএনপি বিশ্বাস করে কথার ফুলঝুরি নয়, দেশকে সামনের দিকে নিতে হবে। সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়তে চান জানিয়ে তিনি বলেন, বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে মেধা এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে বিবেচনা করা হবে। তিনি বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে গৃহিণীদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেব, যাতে তাদের কারো মুখাপেক্ষী হতে না হয়। শিল্পনগরী মৃতনগরীতে পরিণত হয়েছে। বিএনপি সরকার গঠন করলে জীবিত শিল্প নগরী হিসেবে খুলনাকে গড়ে তুলবো। সেখানেও নারীদের কর্মসংস্থান তৈরি হবে। তরুণদের জন্য আইটি পার্ক গড়ে তুলবো। কৃষকদের কৃষি কার্ড দিতে চাই। দেশকে পুনর্গঠনের প্রতীক ধানের শীষ মন্তব্য করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করার অভিজ্ঞতা বিএনপির আছে। একইসঙ্গে দুর্নীতির করাল গ্রাস থেকে বের করার অভিজ্ঞতা আছে বিএনপির।এমআর-২
চলতি সপ্তাহে সর্বাধিক পঠিত
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ফ্রি ইন্টারনেট পাবে সবাই: মাহদী আমিন
বিএনপি যদি ক্ষমতায় যায়, তাহলে সবার জন্য বিনা মূল্যে ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন। পাশাপাশি দলটি জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিতেও কাজ করবে বলে জানিয়েছেন তিনি। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাজধানীতে ‘আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে আইসিটি সেক্টরের ভূমিকা ও করণীয়’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ কথা জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘আসন্ন নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে বিএনপি জয়লাভ করে সরকার গঠন করবে।’তিনি আরও জানান, ‘১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জয়লাভ করলে বাংলাদেশের জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে কাজ করবে বিএনপি।’তিনি আরও বলেন, ‘যারা মেধাবী তাদের জন্য জুতসই সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার পরিকল্পনায় এ বিষয়গুলো রেখেছেন।’ আরডি
‘কিছু অর্বাচীন বালকদের হাত থেকেও দেশকে রক্ষা করতে হবে'
শেখ হাসিনার হাত থেকে দেশ পরিত্রাণ পেয়েছে। পাশাপাশি কিছু অর্বাচীন বালকদের হাত থেকেও দেশকে রক্ষা করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাজধানীর পল্টনের আনন্দ ভবনে বায়রা ও হাব নেতাদের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।মির্জা আব্বাস বলেন, ‘কিছু ছেলে আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়ে লম্বা লম্বা কথা বলছে। ঘুম থেকে উঠে আল্লাহর নাম না নিলেও তারা আমার নাম নেয়। আরে ভাই, ঘুম থেকে উঠে আল্লাহর নাম নাও, প্রশংসা করো।’তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকা ৮ আসনে তারা এমন কিছু করতে চাচ্ছে যাদের সারাদেশের ভোট বন্ধ হয়ে যায়। তবুও আমরা ধৈর্য ধরে আছি, সহ্য করে আছি। কিন্তু ধৈর্য্যের বাঁধ ভাঙ্গবে না। বিএনপি স্বচ্ছ নির্বাচন চায়।’তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচন কেউ দান করেনি। কেউ কেউ বলে ৫ আগস্ট সবকিছু করে ফেলেছে, অথচ ১৭ বছর আমরা কী পরিমাণ ত্যাগ করেছি। শেখ হাসিনা পালানোর পালানোর পর আমাদের যেই রকম ভালো থাকার কথা ছিলো, সেই রকম ভালো আমরা নেই। কোন স্বার্থের জন্য মির্জা আব্বাসকে কেউ এক কাপ চা খাওয়াতে পারেনি।’এসময় নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশে বিলম্ব করা হলে তা মেনে নেয়া হবে না জানিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘ভোটের পর যদি ১২ ঘন্টার বেশি ফল দিতে দেরি করে, সেটা কোনভাবেই মেনে নেয়া হবে না। এজন্য ভোটের আগে দরকার হলে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। কেন্দ্র ভিত্তিক ফল ঘোষণার আগে কোন পোলিং এজেন্ট কেন্দ্র ছাড়বে না।’
উনি সকালে উঠে আল্লাহর নাম নিয়ে চাঁদাবাজি শুরু করেন: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
ঢাকা-৮ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, পাবলো এসকোবার কার্টেল কিং ছিলেন তেমনি ঢাকা-৮ আসনেও তার মতো একজন রয়েছেন। উনি সকাল বেলা উঠে আল্লাহর নাম নিয়ে চাঁদাবাজি শুরু করে। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে ঢাকা-৮ আসনে নির্বাচনি প্রচারণায় গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘যতই শক্তিশালী হোক না কেন, তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসবো। সমাজের সবচেয়ে উপরস্থ কর্মকর্তা ব্যক্তি উনি। সকাল বেলা উঠে আল্লাহর নাম নিয়ে চাঁদাবাজি শুরু করে।’তিনি বলেন, ‘এখানে অনেকগুলা অসভ্য মানুষদের পাল্লায় পড়েছি। কথা বলে গ্যাংস্টারদের ভাষায়। জুনিয়রদেরকে ভালোবাসা ও সম্মান দিতে শিখেনি। একটা আইয়ামে জাহেলিয়াতে আছি। পাকিস্তানের একজন গ্যাংস্টার আছে দাউদ ইব্রাহিম, তেমনি এখানেও এ ধরনের দাউদ ইব্রাহিমরা চলে এসেছে।’তিনি আরও বলেন, ‘ভোটের মাধ্যমে আপনারা তাদেরকে সভ্য করবেন। ভোটের মাধ্যমে আগামী ১২ তারিখে আমরা আইয়ামে জাহেলিয়া থেকে মুক্ত হতে চাই। ভোটের মাধ্যমে আমরা যারা মানুষের সঙ্গে বেয়াদবি করছে, সন্ত্রাসী আচরণ করছে; আমরা তাদের থেকে মুক্ত হতে চাই।’আরডি
ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার পর্দা নামছে আজ
মাসব্যাপী আয়োজিত ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার পর্দা নামছে আজ। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ছুটির দিন হওয়ায় শেষদিনেও ভালো বেচাকেনার প্রত্যাশা করছেন ব্যবসায়ীরা।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার শেষ দিনের বিক্রি তুলনামূলক বেশি হতে পারে। বিশেষ করে ছুটির দিনে মেলার সমাপ্তি হওয়ায় অনেক ক্রেতাই শেষ মুহূর্তে কেনাকাটার সুযোগ নিতে এসেছেন। কর্মদিবসে দর্শনার্থীর সংখ্যা কম থাকলেও ছুটির দিনগুলোতে ছিল উল্লেখযোগ্য ভিড়।তবে ব্যবসায়ীদের একটি বড় অংশ বলছেন, পুরো মেলার সময়জুড়ে ব্যবসা প্রত্যাশামতো হয়নি। রাষ্ট্রীয় শোক পালনের কারণে এবার তিন দিন কম সময় পেয়েছেন তারা। এর পাশাপাশি মেলার শুরুতে বৈরী আবহাওয়া এবং জাতীয় নির্বাচনের প্রভাবও বেচাবিক্রিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে দাবি করছেন অনেকে।অন্যদিকে, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) জানিয়েছে, সার্বিক হিসাবে এবছর মেলায় ক্রেতা ও দর্শনার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় এবছর দর্শনার্থীর সংখ্যা প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি ছিল। পাশাপাশি ভ্যাট আদায়ও বেড়েছে প্রায় ৮ শতাংশ।শেষ দিনের ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে অধিকাংশ স্টল ও প্যাভিলিয়নে দেওয়া হচ্ছে বিশেষ মূল্যছাড়। কোথাও ১০ শতাংশ, কোথাও আবার ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ে পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে উপহার ও গিফট ভাউচারের নানা অফার, যা শেষ দিনে কেনাকাটার আগ্রহ বাড়িয়েছে।উল্লেখ্য, ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ৩০তম আসর চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি উদ্বোধন করা হয়। পহেলা জানুয়ারি উদ্বোধনের পরিকল্পনা থাকলেও পরে তা পরিবর্তন করে পূর্বাচলের ৪ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত বিবিসিএফইসি ভবনে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।আরডি
রাজধানীতে রেস্টুরেন্টে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধসহ আহত ৮
রাজধানী ঢাকার ওয়ারীতে অবস্থিত ‘পাস্তা ক্লাব’ রেস্টুরেন্টে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে দগ্ধসহ ৮ জন আহত হয়েছেন।গতকাল শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ১০টা ১৫ মিনিটে ওয়ারী থানাধীন বাটা শোরুম ভবনের তৃতীয় তলায় অবস্থিত ‘পাস্তা ক্লাব’ রেস্টুরেন্টের রান্নাঘরে এ ঘটনা ঘটে।আহতরা হলেন- শাহ আলাম (৪৫), ইউনুস (৩০), সৌরভ (২৫), মেহেদী (২৫), মোস্তফা (২৭), আবির (২২), জসিম (২৮) ও কামরুল (২০)। প্রত্যক্ষদর্শী ইউসুফ শেখ নামে একজন জানান, বিস্ফোরণের শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে স্থানীয় লোকজন ও পথচারীদের সহযোগিতায় আহতদের উদ্ধার করে রাত আনুমানিক ১১টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। ৬ আহত ও ২ জন দগ্ধ হওয়ায় তাদের চিকিৎসা চলছে।ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. হারুন অর রশিদ জানান, ওয়ারীতে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় বার্ন ইনস্টিটিউটে কামরুল এবং জসিম নামে ২ জনকে নিয়ে আসা হয়েছে। এদের মধ্যে কামরুলের শরীরের ৮ শতাংশ এবং জসিমের শরীরের ৩ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, ওয়ারীতে একটি রেস্টুরেন্টে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ ও আহতসহ ৮ জনকে ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগ ও বার্ন ইউনিটে নিয়ে আসা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে ছেড়ে দেওয়া হবে এবং দগ্ধ ২ জনকে বার্ন ইউনিটে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।এইচএ
নিপা ভাইরাস: বেনাপোল বন্দরে নেই বিশেষ সতর্কতা
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে নিপা ভাইরাসের সংক্রমণের খবর ছড়িয়ে পড়লেও বাংলাদেশ–ভারত সীমান্তের অন্যতম ব্যস্ত প্রবেশদ্বার বেনাপোল স্থলবন্দরে এ নিয়ে এখনো কোনো বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো নির্দেশনা না আসায় বন্দর এলাকায় নজরদারি সীমাবদ্ধ রয়েছে শুধু যাত্রীদের শরীরের তাপমাত্রা মাপায়।বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ ও শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নিপা ভাইরাস প্রতিরোধ বা বিশেষ স্ক্রিনিংয়ের বিষয়ে এখনো স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ থাকায় প্রতিদিনই বেনাপোল দিয়ে যাত্রী যাতায়াত চলছে। যাত্রী সংখ্যা আগের তুলনায় কম হলেও বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে এক হাজারের বেশি পাসপোর্টধারী এই বন্দর দিয়ে পারাপার করছেন।বেনাপোল বন্দরের ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস এলাকার বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখা গেছে, যাত্রী ও অপেক্ষমান অনেকের মুখে মাস্ক নেই। তবে ইমিগ্রেশনে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের মাস্ক পরতে দেখা গেছে। চেকপোস্টে পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করছেন কয়েকজন স্বাস্থ্যকর্মী। বর্তমানে এখানে একজন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, একজন সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক এবং একজন এনজিওকর্মী দায়িত্বে রয়েছেন।স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে দুই নার্স নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হলেও তারা এখন সুস্থ আছেন। সেখানে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ায় সংক্রমণ আর ছড়ায়নি বলে জানানো হয়েছে। এ কারণে এখন পর্যন্ত সব যাত্রীর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার নির্দেশনা আসেনি। তবে নিয়মিতভাবে থার্মাল স্ক্যানারের মাধ্যমে শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হচ্ছে। উপসর্গ পাওয়া গেলে তখন পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের পুলিশ পরিদর্শক সৈয়দ মোর্ত্তজা আলী বলেন, “ভারত থেকে আসা প্রত্যেক যাত্রীকে ইমিগ্রেশন কাউন্টারে প্রবেশের আগে মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মাস্কবিহীন যাত্রীদের বিনা মূল্যে মাস্ক দেওয়া হচ্ছে।”বেনাপোল ইমিগ্রেশনে দায়িত্বরত উপসহকারী মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুল মজিদ জানান, “সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী হ্যান্ডহেল্ড থার্মোমিটার দিয়ে যাত্রীদের তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোনো যাত্রীর শরীরে নিপা ভাইরাসের লক্ষণ পাওয়া যায়নি। তবে আমরা সতর্ক অবস্থায় আছি।”বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, ভারতে নিপা ভাইরাস ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা নেই এবং চলাচলে কোনো বিধিনিষেধ আরোপের প্রয়োজনও নেই। সংস্থাটি জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা ১৯৬ জনকে পরীক্ষা করা হলেও কারও শরীরে ভাইরাস শনাক্ত হয়নি।ডব্লিউএইচওর মতে, নিপা ভাইরাস মূলত বাদুড়ের মাধ্যমে ছড়ায়। মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম। তবে সীমান্তবর্তী এলাকায় বাদুড়ের উপস্থিতির কারণে সতর্ক থাকা জরুরি। এ কারণে খেজুর রস ও খোলা ফল খাওয়ার বিষয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।উল্লেখ্য, ভারতের উত্তর ২৪ পরগনার দুই নার্সের শরীরে নিপা ভাইরাস শনাক্ত হলেও তারা ধীরে ধীরে সুস্থ হচ্ছেন। সংক্রমণের উৎস শনাক্তে ইতিমধ্যে ভারতের কেন্দ্রীয় দল বাদুড়ের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা কার্যক্রম চালাচ্ছে।ইখা
ক্রিকেটার সাকিবের দেশে ফেরা নিয়ে জল্পনা, বাড়িতে সংস্কারকাজ
ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের মাগুরার বাড়িতে সংস্কারের কাজ চলছে। আর এতেই ভক্তদের মনে প্রশ্ন উঠেছে- তবে কি দেশে ফিরছেন সাকিব আল হাসান? বিসিবির এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় ফিটনেস ঠিক থাকলে জাতীয় দলে খেলানো হতে পারে সাকিবকে। এরপরই তার নিজ জেলা মাগুরার বাড়িতে চলে সংস্কার কাজ। এসব খবরে আনন্দিত ও উচ্ছ্বসিত ক্রিকেট ভক্তরা। সাকিবের দেশে ফেরা গুঞ্জনে ভক্তদের মনে আনন্দ বিরাজ করছে।টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশ দলের পিছিয়ে থাকার খবরে সম্প্রতি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) থেকে এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় যে, সাকিব আল হাসানের ফিটনেস ঠিক থাকলে তাকে জাতীয় দলে ফেরানোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। এই খবরের পরপরই মাগুরা শহরের সাহা পাড়ায় অবস্থিত ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের নিজ বাড়িতে চলছে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ। বাড়ির গেইটে কাজ করছে ওয়েল্ডিং মিস্ত্রী। সাজানো হচ্ছে বাড়ির আঙিনা।সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সাকিবের বাড়ির দুটি গেইটে তালা দেওয়া। তবে পরিচ্ছন্নতার কাজ করা হয়েছে বাড়িটিতে। তিনতলা ভবণের সামনের থাই গ্লাসগুলো পরিষ্কার করা হয়েছে। গেইটের কাজ করানো হয়েছে। বাড়ির প্রাচীরের সংস্কার কাজ করা হয়েছে। বাড়িটি রুপ নিয়েছে নতুনভাবে। গেইটের কাজ করার সময় ওয়েল্ডিং মিস্ত্রী মাসুদ জানান, শুনেছি সাকিব আল হাসান বাড়ি ফিরবেন। এজন্যই গেইটের কাজ করানো হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে সাকিব আল হাসানের পরিবারের কারো সাথে যোগাযোগ করা যায়নি।উল্লেখ্য, দেশে ২৪শে জুলাই আন্দোলনের পরে আর দেশে ফেরেননি সাকিব আল হাসান। তিনি আওয়ামী লীগের মাগুরা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ছিলেন।ইখা
কয়লা ও শিল্প দূষণ বন্ধ করে সুন্দরবনের জলাভূমি রক্ষার দাবি
কয়লা দূষণ ও অপরিকল্পিত শিল্পায়ন বন্ধ করে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের জলাভূমি রক্ষার দাবি জানিয়েছেন পরিবেশবাদীরা। তাদের অভিযোগ, মানুষের কর্মকাণ্ডে সুন্দরবনের নদী–খাল ও জলাভূমি মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে পড়ছে, যা জীববৈচিত্র্যের জন্য ভয়াবহ হুমকি।সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় মোংলার কাপালিরমেঠ গ্রামে বিশ্ব জলাভূমি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক মানববন্ধনে বক্তারা এসব কথা বলেন। মানববন্ধনের আয়োজন করে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), সুন্দরবন রক্ষায় আমরা ও পশুর রিভার ওয়াটারকিপার।বক্তারা বলেন, রামসার কনভেনশন অনুযায়ী ১৯৯২ সালে সুন্দরবনকে আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি হিসেবে ঘোষণা করা হলেও বর্তমানে কয়লা দূষণ, শিল্প বর্জ্য, বিষ প্রয়োগে মাছ নিধন ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে এই জলাভূমি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। পশুর নদীসহ সুন্দরবনসংলগ্ন নদীগুলোতে বিষাক্ত পারদের উপস্থিতি বন্যপ্রাণী ও জলজ জীবের জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনছে।মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সুন্দরবন রক্ষায় আমরা’র সমন্বয়কারী ও পশুর রিভার ওয়াটারকিপার পরিবেশযোদ্ধা মো. নূর আলম শেখ।প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. নূর আলম শেখ বলেন, সুন্দরবনের প্রাণ পশুর নদীতে উন্মুক্তভাবে কয়লা পরিবহন ও খালাস–বোঝাই কার্যক্রম চলছে। রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের দূষণে সুন্দরবনের প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য বিপর্যস্ত। কয়লা, শিল্প, প্লাস্টিক-পলিথিন ও বিষের দূষণ বন্ধ না করলে সুন্দরবনের জলাভূমি রক্ষা করা সম্ভব নয়।জেলে সমিতির নেতা আব্দুর রশিদ হাওলাদার বলেন, সুন্দরবনের নদী ও খালগুলোতে মাছ দ্রুত কমে যাচ্ছে। রামপাল কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ না হলে মাছসহ জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে।ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)-এর নেত্রী কমলা সরকার বলেন, সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর জীবন ও জীবিকা আজ চরম সংকটে। মুনাফালোভী চক্রের তৎপরতায় সুন্দরবনের প্রাণপ্রকৃতি আতঙ্কগ্রস্ত। সুন্দরবন রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে।এ ছাড়া মানববন্ধনে বক্তব্য দেন জেলে সমিতির নেতা আব্দুর রশিদ হাওলাদার, অ্যাডভোকেট সার্বভৌম, নাগরিক নেতা রাকেস সানা, উন্নয়নকর্মী প্রসেনজিৎ সরদার, ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ-এর হাছিব সরদার, পশুর রিভার ওয়াটারকিপার স্বেচ্ছাসেবক মেহেদী হাসান, যুব নেতা আরাফাত আমিন দুর্জয়সহ অনেকে।মানববন্ধনে সুন্দরবন রক্ষার দাবিতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার প্রদর্শন করা হয়।ইখা
মোংলায় পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের কর্মবিরতি
নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশসহ সাত দফা দাবিতে মোংলায় সরকারি চাকরিজীবীরা দ্বিতীয় দিনের মতো দুই ঘণ্টার কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে পৌর মার্কেটের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, গত সাত বছর ধরে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে আসলেও সরকার কর্মচারীদের ন্যায্য দাবি আমলে নিচ্ছে না। গত ৫ ডিসেম্বর লক্ষাধিক কর্মচারীর অংশগ্রহণে মহাসমাবেশের পর ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে গেজেট প্রকাশের আশ্বাস দেওয়া হলেও তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।বক্তারা অভিযোগ করেন, ২১ জানুয়ারি কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর অর্থ উপদেষ্টা গেজেট প্রকাশ না করে নতুন কমিটি গঠনের মাধ্যমে সময়ক্ষেপণ করছেন। এ ছাড়া জ্বালানি উপদেষ্টার এক বক্তব্যে ‘বর্তমান সরকার পে-স্কেল বাস্তবায়ন করবে না এবং আন্দোলন স্তিমিত রাখতেই কমিশন গঠন করা হয়েছিল’—এমন মন্তব্য প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি করেছে।চাকরিজীবীদের সাত দফা দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—২০১৫ সালের পে-স্কেলের গেজেটে বাতিল হওয়া তিনটি টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল, বেতন জ্যেষ্ঠতা সংরক্ষণ, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে গ্রাচুইটির পাশাপাশি পেনশন চালু এবং গ্রাচুইটির হার ৯০ শতাংশের পরিবর্তে ১০০ শতাংশ নির্ধারণ।এদিকে আন্দোলনকারীরা জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার সকাল ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’ অভিমুখে ‘ভূখা মিছিল’ কর্মসূচি পালন করা হবে।কর্মসূচিতে মোংলা পোর্ট পৌরসভা কর্মচারী সংসদের সভাপতি মো. নিজাম উদ্দিনের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন সংগঠনের সেক্রেটারি ও খুলনা বিভাগীয় কর্মচারী ফেডারেশনের পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক মো. শাহিন, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্মচারী সংঘের সাবেক অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন চৌধুরী জাহিদ, এডহক কমিটির সদস্য মো. আল আমিন, বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন বাগেরহাট জেলা সেক্রেটারি অধ্যাপক কহিনুর সরদারসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মচারী নেতারা। কর্মসূচিতে মোংলা পোর্ট পৌরসভার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মচারীরা অংশ নেন।ইখা
সন্ত্রাস-চাঁদাবাজমুক্ত জনপদ গড়তে চান সব প্রার্থী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাট-৩ নির্বাচনী আসন রামপাল-মোংলার চার রাজনৈতিক দলের পাঁচ প্রার্থী রাতদিন চষে বেড়াচ্ছে নির্বাচনী মাঠ। সব প্রার্থী ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রচারে গুরুত্ব দিচ্ছেন রামপাল-মোংলাকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজমুক্ত করে শান্তি ও সমৃদ্ধির জনপদে পরিণত করার। সংখ্যালুঘু পরিবারসমূহকে অভয় দান করে আশ্বস্ত করছেন তাদের জানমালের নিরাপত্তায় কঠোর হবেন। যেকোনো মূল্যে রামপাল-মোংলাকে অসম্প্রদায়িক চেতনা বজায় রেখে সব ধর্মবর্ণের মানুষের জন্য রামপাল-মোংলাকে নিরাপদ ঠিকানায় পরিণত করবেন। এই আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রার্থী লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম। তার সঙ্গে সতন্ত্র ঘোড়া প্রতীকের বাগেরহাট-২ আসনের সাবেক এমপি বাগেরহাট জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ এইচ সেলিম। প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের অধ্যক্ষ শেখ জিল্লুর রহমান এবং জাসদ মনোনীত তাঁরা প্রতীকের মো. হাবিবুর রহমান মাস্টার।মাঠ পর্যায়ে ঘুরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নির্বাচনী এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে ভোট নিয়ে তেমন কৌতূহল নেই। অনেকেই বলেছেন দেশের বর্তমান পরিবেশ পরিস্থিতি দেখে বোঝা যাচ্ছে না আদৌও ভোট হবে কি না। আবার কেউ কেউ বলেছেন রামপাল-মোংলায় নির্বাচন নিয়ে অতীত অভিজ্ঞতার কথা। বলেছেন বিগত সময়ে রামপাল-মোংলায় কয়েকটি নির্বাচনে মানুষ কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেনি। পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে গিয়ে অনেকেই মারধরের শিকার হয়েছেন। ছাড়তে হয়েছে এলাকা। আগের নির্বাচনগুলোর অভিজ্ঞতা যাদের রয়েছে তারা এখনো ভোট দেওয়ার কথা ভাবছে না। পরিবেশ পরিস্থিতি দেখে হয়তো সিদ্ধান্ত নেবে। উপজেলা নির্বাচনী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই নির্বাচনী আসনে ভোটার সংখ্যা দুই লাখ ৬৬ হাজার ৮৬৪। এরমধ্যে এক লাখ ৩২ হাজার ৩৫১ পুরুষ ও এক লাখ ৩৪ হাজার ৫০৯ জন নারী ভোটার এবং ৪ জন তৃতীয় লিঙ্গের। এই আসনের একটি পৌরসভা ও উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নের মধ্যে ভোট কেন্দ্র রয়েছে ১০৬টি। বিভিন্ন কেন্দ্রে মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে ৫২১টি কক্ষে।আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, রামপাল-মোংলা নির্বাচনী এলাকায় ২২টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকায় রাখা হয়েছে।এই আসনে নির্বাচনী প্রার্থীদের প্রচার প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে স্থানীয়রা বলেছেন, লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বাগেরহাট জেলা বিএনপির অন্যতম সহ-সভাপতি এবং সেভ দ্য সুন্দরবন ফাউন্ডেশন-এর চেয়ারম্যান হিসেবে দীর্ঘ দিন ধরে এলাকায় আর্তসামাজিক ও পরিবেশ রক্ষায় কাজ করে আসছেন। এলাকায় তার বিশেষ জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতাও রয়েছে। রামপাল-মোংলাব্যাপী তার রয়েছে রাজনৈতিক প্রভাববলয়।রামপাল-মোংলায় বিএনপিতে আগে যে কোন্দল ছিল তাও মিটে গেছে। সবাইকে মাঠে দেখা যাচ্ছে ধানের শীষের প্রচারে। সেদিক থেকে ভালো অবস্থানে আছেন বিএনপি প্রার্থী। তবে ভোটের মাঠে বিএনপি প্রার্থীর সঙ্গে সমান পাল্লা দিয়ে প্রচারে আছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ। এই দুই প্রার্থীর প্রচার কৌশল দেখে অনেকেই বলেছেন এবারের নির্বাচনী সমীকরণ মিলানো কঠিন হবে। মাঠ পর্যায়ে ঘুরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নানা সামাজিক ও মানবিক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন, মাঠে, ঘাটে, পাড়ামহল্লায় গিয়ে দল ও নিজের পক্ষে জনমত গড়ে তুলেছেন। একই কায়দায় প্রচার মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের অধ্যক্ষ শেখ জিল্লুর রহমান। তার পক্ষে নেতাকর্মীরা হাতপাখা প্রতীক হাতে নিয়ে শোডাউন করে গ্রামে গ্রামে গিয়ে ভোট চাচ্ছেন। এই আসনের অপর প্রার্থী জাসদ মনোনীত মো. হাবিবুর রহমান মাস্টার। তার প্রতীক তাঁরা।যদিও এই প্রতীকটি এ অঞ্চল তথা রামপাল-মোংলার মানুষের কাছে তেমন পরিচিত নয়। সে-কারণে প্রতীক পরিচয় ভোটারদের কাছে স্পষ্ট করতে প্রার্থী ও দলের নেতাকর্মীরা ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে যাচ্ছেন।প্রগতিশীল ধারার রাজনীতিতে থাকা এই প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারে ও তারদের ইশতেহারও নতুন। রাজনৈতিক বন্দোবস্ত, বেকারত্ব দূর, সন্ত্রাস, নৈরাজ্যমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় তাদের দলের নিজের ভাবনার কথা তুলে ধরে ভোটারদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছেন।ইখা
হোমনায় গ্রামীন এলাকায় ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক অর্থদণ্ড
কুমিল্লার হোমনায় একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্স, ল্যাব টেকনিশিয়ান ও এক্স-রে ম্যান ছাড়াই সেবা প্রদান এবং অনুমানভিত্তিক রিপোর্ট সরবরাহের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে।সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার চান্দেরচর বাজারে অবস্থিত ‘রিয়াব ডিজিটাল হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে’ এই অভিযান চালানো হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আহাম্মেদ মোফাচ্ছের। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী সার্জন ডা. মো. মামুন অর রশিদ।ম্যাজিস্ট্রেট আহাম্মেদ মোফাচ্ছের জানান, প্রতিষ্ঠানটি সেবা গ্রহণকারীদের জীবন ও নিরাপত্তাকে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। প্রমাণিত অভিযোগের ভিত্তিতে ‘ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯’-এর ৫২ ধারা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিকে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়।অভিযান শেষে ম্যাজিস্ট্রেট আরও জানান, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।এনআই
'নির্বাচনের পবিত্র দায়িত্ব পালনে বেইমানি বরদাশত করা হবে না'
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, "নির্বাচনের পবিত্র দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের বেইমানি সহ্য করা হবে না।" তিনি শতভাগ সততা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রতি কঠোর আহ্বান জানান।সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি) সাতকানিয়া উপজেলা পরিষদ হলরুমে ভোটগ্রহণ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভা ও দিনব্যাপী নির্বাচনী প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।জেলা প্রশাসক বলেন, "বহু রক্তের বিনিময়ে দেশ আজকের অবস্থানে এসেছে। এই রক্তের ক্ষত মেরামতের সময়ে কোনোভাবেই বিবেক বিক্রি মেনে নেওয়া হবে না।" তিনি স্পষ্ট করে জানান, নির্বাচনের দায়িত্ব পালনে সামান্য শৈথিল্য কিংবা অসততা থাকলে তা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে। প্রিজাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ভোটগ্রহণের দিন নিজের সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে, কারণ এই দেশেই তাদের সন্তান ভবিষ্যতে বড় হবে।নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে নিরপেক্ষতাহীনতা, স্বজনপ্রীতি কিংবা অবহেলার বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, এবারের নির্বাচন ও গণভোটে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম সুরক্ষা অ্যাপ, সিসিটিভি ক্যামেরা এবং বডি-ওর্ন (Body-worn) ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে।গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভোটারদের মধ্যে এ বিষয়ে জানার আগ্রহ থাকবে। তাই কর্মকর্তাদের গণভোট সংক্রান্ত বিধিবিধান সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, "ব্যক্তিগতভাবে কারও কোনো দলের প্রতি ভালোবাসা থাকতেই পারে, তবে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের সময় সেই ভালোবাসা প্রকাশ করা যাবে না। ভালোবাসা থাকতে হবে কেবল রাষ্ট্রের প্রতি এবং নিজের সাংবিধানিক দায়িত্বের প্রতি।"অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক গোলাম মাঈনউদ্দীন হাসানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান।দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণে সাতকানিয়া উপজেলার ১২৬ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ৭১০ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং ১ হাজার ৪২০ জন পোলিং অফিসার অংশ নেন।এনআই
সীতাকুণ্ডে রিকশা গ্যারেজে যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে একটি রিকশা গ্যারেজ থেকে সজিব (৩০) নামে এক যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার বাড়বকুণ্ড উত্তর মাহামুদাবাদ বাজারতলী এলাকার একটি গ্যারেজ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সজিব স্থানীয় বাবুল মিয়ার রিকশা গ্যারেজে কাজ করতেন। তার বাড়ি কুমিল্লা জেলায়। দুপুরে গ্যারেজ খোলা নিয়ে মালিক বাবুলের সঙ্গে কর্মচারী সজিবের কথা-কাটাকাটি ও ঝগড়া হয়। এরপর বিকেলেই গ্যারেজের ভেতর তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহিনুল ইসলাম বলেন, "উদ্ধার করা মরদেহটির মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং শরীর রক্তাক্ত ছিল। হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ করছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।"এনআই
‘আমি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলেছি, তাই আমার বিরুদ্ধে লেগেছে’
বাংলাদশে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, মায়েরা আমাদের মাথার তাজ। তাদের সর্বোচ্চ সম্মান দিতে হবে। কয়েকদিন আগে আমার বিরুদ্ধে লেগে গেছে। লেগে লাভ হবে না, নিজেরা ফেঁসে যাবে। আমি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলেছি, তাই আমার বিরুদ্ধে লেগেছে। সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।জামায়াত আমির বলেন, ঋণখেলাপি ও দুর্নীতিবাজদের হাতে দেশ ছেড়ে দেওয়া যাবে না। ঋণ খেলাপি, ব্যাংক ডাকাতি, চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজের বিরুদ্ধে হবে আগামীর বাংলাদেশ।তিনি বলেন, ডাকসু (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ) দিয়ে শুরু, জকসুতে (জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ) এসে থেমেছে আপাতত। আগামী ১২ তারিখ ইতিহাস সৃষ্টি হবে।জামায়াত আমির আরও বলেন, এইবার নির্বাচনে বীর চট্টলার মানুষ সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে। যারা ১৩ তারিখ থেকে নতুন বাংলাদেশ দেখতে চান, তারা ১১ দলীয় জোটকে ক্ষমতায় আনবেন। ১৮ কোটি মানুষের স্বপ্ন পূরণে জামায়াত এবার ক্ষমতায় আসবে। আমরা যেন রাষ্ট্রের সবকিছু বণ্টন করে দিতে পারি।অনুষ্ঠানের শেষে চট্টগ্রাম উত্তরের সাতটি আসনে প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান।এমআর-২
ফটিকছড়িতে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা সরঞ্জাম চুরি!
আর মাত্র নয় দিন পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এর আগেই চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে একটি ভোটকেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা সরঞ্জাম চুরির ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার মাইজভান্ডার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০৫ নম্বর ভোটকেন্দ্র থেকে এনভিআরসহ বিভিন্ন নির্বাচনী সরঞ্জাম চুরি হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ২৯ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি ভোরের কোনো এক সময় এ চুরির ঘটনা ঘটে।বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আহমদ হোসেন মুফ্তি জানান, বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেল চারটায় নিয়মিত সময়েই বিদ্যালয় ছুটি হয়। এরপর শুক্র, শনি ও রোববার বিদ্যালয় বন্ধ ছিল। সোমবার সকালে বিদ্যালয়ে এসে তিনি একাধিক কক্ষের তালা ভাঙা দেখতে পান।তিনি বলেন, “বিদ্যালয়ের ভেতরে ঢুকে দেখি, নির্বাচনী নিরাপত্তার জন্য সম্প্রতি স্থাপন করা সিসিটিভি ক্যামেরার এনভিআর, রাউটার ও মনিটর নেই। এছাড়া আইপিএস, ব্যাটারি, কম্পিউটারের মাউস ও কিবোর্ড, সাউন্ড বক্স, ব্যাংকের চেকবই, বিদ্যালয়ের ঘণ্টাসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম চুরি হয়েছে। প্রয়োজনীয় নথিপত্রও তছনছ করা হয়েছে।”ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে ফটিকছড়ি থানা পুলিশ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয় বলে জানান তিনি।প্রধান শিক্ষক আরও দাবি করেন, দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী মো. জোবায়ের অনুপস্থিত থাকায় এই চুরির ঘটনা ঘটেছে।তিনি বলেন, “তিন দিন ধরে তিনি বিদ্যালয়ে ছিলেন না। তিনি চুরির দায় স্বীকার করেছেন। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম চুরির ঘটনায় তার দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।”খবর পেয়ে ফটিকছড়ি থানার একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী মো. জোবায়েরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম বলেন, “পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নৈশপ্রহরীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অভিযোগ দিলে নিয়মিত মামলা গ্রহণ করা হবে।”এ বিষয়ে ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, “ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অল্প সময়ের মধ্যেই প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পুনরায় স্থাপন করে সিসিটিভি ক্যামেরা সচল করা হবে।”ইখা
'নির্বাচন কমিশনকে দাফন' করে ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ
ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন) আসনে নির্বাচনী আচরণবিধি প্রকাশ্যে লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন জাতীয় পার্টি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মুফতি রায়হান জামিল। কর্মসূচির অংশ হিসেবে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষ ভূমিকার অভাবের অভিযোগ এনে প্রতীকীভাবে নির্বাচন কমিশনকে ‘দাফন’ করা হয়।অভিযোগে বলা হয়, নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী একটি ইউনিয়নে একটি ব্যানার এবং একটি ওয়ার্ডে একটি নির্বাচনী ক্যাম্প স্থাপনের বিধান থাকলেও এই আসনের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ব্যানার ও ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এতে নির্বাচনী আচরণবিধি চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে।এ ছাড়া প্রকাশ্যে ভোটারদের খিচুড়ি খাওয়ানো, চায়ের দোকানে বিনামূল্যে চা সরবরাহ, অবৈধভাবে পোস্টার লাগানো এবং নিয়ম ভেঙে গাড়ি শোডাউন দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। এসব কর্মকাণ্ড নির্বাচন কমিশনের নজরদারির অভাবে ঘটছে বলে দাবি করেন সংশ্লিষ্টরা।এসব অনিয়মের প্রতিবাদে সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় চরভদ্রাসন উপজেলার গোপালপুর ঘাটে মুফতি রায়হান জামিলের নেতৃত্বে এই প্রতীকী প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে নির্বাচন কমিশনকে ‘মৃত ঘোষণা’ করে কবর দেওয়ার মাধ্যমে কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণ অবিলম্বে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন বন্ধ করে একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেন।এনআই
গাজীপুরে জামায়াত আমিরের আগমণ উপলক্ষে ব্যাপক প্রস্তুতি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গাজীপুরের প্রাণকেন্দ্র ঐতিহাসিক ভাওয়াল রাজবাড়ী মাঠে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিশাল নির্বাচনী জনসভা। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি)এই জনসভা সফল করতে দলীয় প্রস্তুতি, কর্মসূচি ও প্রত্যাশা তুলে ধরতে গাজীপুর মহানগর জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে সোমবার এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামীকাল মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে ভাওয়াল রাজবাড়ী মাঠে অনুষ্ঠিতব্য এই জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা ডা. শফিকুর রহমান। জনসভায় সভাপতিত্ব করবেন গাজীপুর মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক জামাল উদ্দিন। এছাড়াও ১১ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ জনসভায় বক্তব্য রাখবেন বলে জানানো হয়।সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ডা. শফিকুর রহমানের এই আগমন শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং গাজীপুরবাসীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করবে। জনসভায় দেশ ও জাতির চলমান সংকট, ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা, সুশাসন, ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য উপস্থাপন করা হবে। বক্তারা সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান, এই জনসভার বক্তব্য ও বার্তা বস্তুনিষ্ঠভাবে জাতির সামনে তুলে ধরতে।গাজীপুরবাসীর উদ্দেশে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দীর্ঘদিন পর অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রত্যাশায় মানুষ মুখিয়ে আছে। এই জনসভা সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাবে। সর্বস্তরের জনগণকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে জনসভাকে সফল করার আহ্বান জানানো হয়। একইসঙ্গে প্রশাসনের দায়িত্বশীল মহলের প্রতি জনসভায় আগত নেতৃবৃন্দ ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়।সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন গাজীপুর মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমীর অধ্যাপক জামাল উদ্দিন। উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর আব্দুল হাকিম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও গাজীপুর মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি আবু সাঈদ মুহাম্মদ ফারুক, মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আজহারুল ইসলাম মোল্লা, গাজীপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি প্রিন্সিপাল মুস্তাফিজুর রহমান খান, ইসলামী ছাত্রশিবির গাজীপুর মহানগর সভাপতি রেজাউল ইসলাম, গাজীপুর জেলা সভাপতি ইয়াসিন আরাফাত, গাছা থানা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাস্টার মিয়াজ উদ্দিন, গাজীপুর মেট্রো সদর থানা জামায়াতের সিনিয়র নায়েবে আমীর মো. ছাদেকুজ্জামান খানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।পিএম
ভৈরবে কলেজ শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় গ্রেপ্তার ২
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে আলোচিত কলেজ শিক্ষার্থী আবু সুফিয়ান হত্যার ঘটনায় মামলার প্রধান আসামি মেরাজ মিয়া (২৬) ও তার সহযোগী ইব্রাহীম ওরফে নিদানকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে রেলওয়ে থানা পুলিশ। সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।এর আগে রোববার (০১ ফেব্রুয়ারি) রাতে উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের বাঁশগাড়ি এলাকা থেকে মেরাজকে এবং পৌর শহরের পঞ্চবটী এলাকা থেকে ইব্রাহীম ওরফে নিদানকে গ্রেপ্তার করা হয়। মেরাজ পঞ্চবটী এলাকার মুর্শিদ মিয়ার ছেলে এবং নিদান একই এলাকার জয়নাল মিয়ার ছেলে। ভৈরব রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সাঈদ আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।ওসি জানান, গত ২৯ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) রাত ১২টায় পৌর শহরের নিউটাউন এলাকার একটি রেস্তোরাঁ সংলগ্ন রেললাইনের পাশ থেকে কলেজ শিক্ষার্থী আবু সুফিয়ানের (১৯) রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আবু সুফিয়ান কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার কর্শাকড়িয়াইল ইউনিয়নের বাদে কড়িয়াল এলাকার আবু তাহের মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় ৩১ জানুয়ারি (শনিবার) রাতে নিহতের বাবা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে ভৈরব রেলওয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।মামলা দায়েরের পর রোববার রাতে প্রধান আসামি মেরাজকে তার শ্বশুরবাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যে নিদানকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মেরাজ হত্যার দায় স্বীকার করেছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও উদ্ধার করা হয়েছে। আসামিরা জানায়, ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে তারা আবু সুফিয়ানকে হত্যা করেছে। গ্রেপ্তারকৃত মেরাজ একজন চিহ্নিত ছিনতাইকারী এবং তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ১৪টি মামলা রয়েছে। তার সহযোগী নিদানের বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা রয়েছে।ওসি আরও জানান, ২৯ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জগামী এগারসিন্দুর ট্রেনে করে ভৈরবে এসেছিলেন আবু সুফিয়ান। রাত ১০টা থেকে ১২টার মধ্যে যেকোনো সময় তিনি ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে প্রাণ হারান। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।উল্লেখ্য, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ভৈরবসহ পুরো জেলায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠলে পুলিশ তৎপর হয়ে ওঠে এবং মামলা দায়েরের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রধান আসামিদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।এনআই
টঙ্গীতে রিভলবারসহ যুবক গ্রেপ্তার
গাজীপুরের টঙ্গীতে একটি রিভলবারসহ এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে গাজীপুর মহানগর দক্ষিণ (বিভাগ) গোয়েন্দা পুলিশ।রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার দিকে টঙ্গীর মধ্য আরিচপুর এলাকা থেকে রিভলবারসহ ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম ইজাজুল ইসলাম (৪০)। তিনি গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী থানার কৃষ্ণপুর গ্রামের নূরুল ইসলামের ছেলে।সোমবার দুপুরে গাজীপুর মহানগর দক্ষিণ বিভাগের গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রোববার দিবাগত রাতে টঙ্গীর মধ্য আরিচপুর এলাকার গার্লস স্কুল সড়কে অবৈধ অস্ত্র আদান-প্রদানের তথ্য পায় পুলিশ। পরে ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইজাজুল ইসলামকে আটক করা হয় এবং তার কাছ থেকে একটি রিভলবার জব্দ করা হয়।রাতেই গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে টঙ্গী পূর্ব থানায় মামলা দায়ের শেষে সোমবার দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।এনআই
দৌলতদিয়ায় শাহ মখদুম ফেরিতে অগ্নিকাণ্ড
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় শাহ মখদুম নামের একটি ফেরিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ফেরিতে যাত্রী ও বিভিন্ন যানবাহন ছিল।সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে ৪ নম্বর ফেরিঘাটে নোঙর করা ফেরিটির ইঞ্জিন অংশের সাইলেন্সার পাইপ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ করে সাইলেন্সার পাইপের ভেতর থেকে আগুন বের হতে দেখা যায়। প্রথমে বিষয়টি তেমন গুরুতর না হলেও আগুন দীর্ঘ সময় ধরে জ্বলতে থাকায় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে ফেরিতে থাকা যাত্রী ও যানবাহনগুলো দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়। খবর পেয়ে গোয়ালন্দ ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।গোয়ালন্দ ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার আব্দুল বাসেদ খান জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই। তদন্ত সাপেক্ষে আনুমানিক ২০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণ করা হয়েছে।বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, দৌলতদিয়া ৪ নম্বর ফেরিঘাটে শাহ মখদুম ফেরিতে একজস্ট পাইপের কার্বন রিলিজ হওয়ার সময় সাদা এবং কালো ধোঁয়া বের হয়। উক্ত পাইপে প্রচণ্ড তাপ উৎপন্ন হওয়ায় ফেরিতে থাকা নিজস্ব ফায়ার ফাইটিং ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়। সতর্কতা হিসেবে গোয়ালন্দ ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতা নেওয়া হয়। বর্তমানে ফেরিটি চলাচলে নিয়োজিত আছে।এনআই
হিজলায় ১২ লাখ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ, ৪ জেলের অর্থদণ্ড
জাটকা নিধন প্রতিরোধ অভিযানের অংশ হিসেবে বরিশালের হিজলায় মেঘনা নদীতে দিনব্যাপী যৌথ অভিযান চালানো হয়েছে। মৎস্য অধিদপ্তর, উপজেলা প্রশাসন ও হিজলা নৌ-পুলিশের এই অভিযানে ১২ লাখ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ এবং ৪ জন জেলেকে জাটকা ধরার অপরাধে আটক করা হয়।সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হিজলা উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলম। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন হিজলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভ্র জ্যোতি বড়াল।আটককৃত জেলেদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১৮ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। জব্দকৃত জালগুলো পরবর্তীতে আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়।অভিযানে মৎস্য বিভাগ ও নৌ-পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। মৎস্য কর্মকর্তা জানান, জাটকা রক্ষায় জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।এনআই
ভোলায় ক্লিনিকে ভুল ইনজেকশনে প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ
ভোলার একটি বেসরকারি ক্লিনিক ‘হাবিব মেডিকেল সেন্টারে’ ভুল ইনজেকশন পুশ করায় গর্ভের সন্তানসহ ফাবিয়া আক্তার (২০) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের স্বজনরা ক্ষুব্ধ হয়ে ক্লিনিকে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে।সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে শহরের হাবিব মেডিকেল সেন্টারে ওই প্রসূতি ও তার অনাগত সন্তানের মৃত্যু হয়। নিহত ফাবিয়া আক্তার ভোলা সদর উপজেলার বাপ্তা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নাহিদের স্ত্রী। তার স্বামী নাহিদ ঢাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ করেন।জানা গেছে, সোমবার সকালে ফাবিয়ার প্রসব বেদনা দেখা দিলে তাকে হাবিব মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে দায়িত্বরত নার্সরা স্বাভাবিক প্রসবের উদ্দেশ্যে ফাবিয়ার শরীরে একটি ইনজেকশন পুশ করেন। এর পরপরই ফাবিয়ার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং কিছুক্ষণ পর তার মৃত্যু হয়। কর্তৃপক্ষের অবহেলা, চিকিৎসক না থাকা এবং ভুল চিকিৎসায় ফাবিয়ার মৃত্যু হয়েছে দাবি করে স্বজনরা ক্লিনিকে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।নিহতের স্বজনদের দাবি, হাবিব মেডিকেলে ভুল ইনজেকশন দেওয়ায় ফাবিয়ার মৃত্যু হয়েছে। তারা ক্লিনিকটি বন্ধসহ জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। খবর পেয়ে নৌবাহিনী ও পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বেশ কয়েকটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।এদিকে স্ত্রী ও সন্তানকে হারিয়ে দিশেহারা স্বামী নাহিদ বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। এ বিষয়ে হাবিব মেডিকেল সেন্টারের দায়িত্বশীল কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের দাপ্তরিক মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও কেউ রিসিভ করেননি।এনআই
ইউটিউব থেকে শেখা বরই চাষে বদলে গেছে আবু জাফরের ভাগ্য
বাগানের চারদিকে তাকালেই চোখে পড়ে শুধু বরই আর বরই। থোকায় থোকায় ঝুলে থাকা ফলের ভারে গাছগুলো নুইয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও মনে হয়, পাতার চেয়েও বরই বেশি। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই দূরদূরান্ত থেকে ক্রেতারা ছুটে আসছেন বাগানে। সুমিষ্ট স্বাদের বরই খেয়ে পছন্দ করে কিনে নিচ্ছেন অনেকে।এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার সদর ইউনিয়নের জৌতা গ্রামের আবু জাফরের বলসুন্দরী বরই বাগানে।জৌতা গ্রামের বাসিন্দা আবু জাফর দেশের সুনামধন্য নেছারিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে কামিল পাস করেছেন। কারও অধীনে চাকরি করার আগ্রহ না থাকায় চাকরির পেছনে না ছুটে নিজ উদ্যোগে কিছু করার স্বপ্ন দেখেন তিনি। বাড়ির সামনে একটি মুদি দোকান দিয়ে ব্যবসা শুরু করলেও সেখানে আশানুরূপ সাফল্য পাননি।দুই বছর আগে ইউটিউব দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে অনলাইনে ঝিনাইদহ থেকে বরইয়ের চারা সংগ্রহ করেন আবু জাফর। এরপর ৫০ শতক জমিতে বরই চাষ শুরু করেন। সে সময় তার খরচ হয় প্রায় ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা। প্রথম বছরেই সেই উদ্যোগ সফলতায় রূপ নেয়। ওই মৌসুমে তিনি প্রায় ২ লাখ টাকার বরই বিক্রি করেন।সাফল্যের ধারাবাহিকতায় চলতি মৌসুমে কৃষি বিভাগের সহায়তায় তিনি প্রায় দেড়শতক জমিতে বরই চাষ করেছেন। তার বাগানে বলসুন্দরী, ভারতকুল, কাশ্মীরি ও আপেল কুল জাতের প্রায় ৪০০টি গাছ রয়েছে। প্রতিটি গাছেই এসেছে বাম্পার ফলন। চলতি মৌসুমে প্রায় ৫ লাখ টাকার বরই বিক্রি হবে বলে আশাবাদী এই চাষি। তবে এ মৌসুমে শ্রমিকসহ আনুষঙ্গিক খরচ হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টাকা।আবু জাফর জানান, তার বাগানে কোনো ধরনের রাসায়নিক সার বা কীটনাশক ব্যবহার করা হয় না। নিজ উদ্যোগে তৈরি করা জৈব সারই ব্যবহার করেন তিনি। এতে একদিকে যেমন উৎপাদন খরচ কমেছে, অন্যদিকে বরইয়ের স্বাদ ও মান বেড়েছে বলে মনে করছেন ক্রেতারা। তার বাগানের বরই এখন আশপাশের এলাকায় ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে।বরই কিনতে আসা এম এ হান্নান বলেন, “বরই মৌসুমে বাজার থেকে না কিনে আমি জাফরের বাগান থেকেই ১৩০ টাকা কেজি দরে কিনেছি। বরই খুব সুস্বাদু হওয়ায় আত্মীয়স্বজনদের উপহার হিসেবেও পাঠিয়েছি।”আবু জাফরের সাফল্য দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছেন স্থানীয় যুবক মো. সোহরাব হোসেন। তিনি বলেন, “এ বছর আমি স্বল্প পরিসরে ৫০টি গাছ দিয়ে বরই চাষ শুরু করেছি। ফলনও ভালো আসছে। জাফরের সাফল্য দেখে অনেকেই বরই চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।”এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মিলন বলেন, “এই সফল কৃষি উদ্যোক্তার পাশে শুরু থেকেই কৃষি বিভাগ রয়েছে। বরইয়ের চারা, কৃষি উপকরণ, প্রশিক্ষণ এবং জৈব সার উৎপাদনে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও এই সহায়তা অব্যাহত থাকবে।”ইখা
নির্বাচনে প্রশাসন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকবে: বরিশালে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে প্রশাসন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, নির্বাচনকে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক করতে সর্বোচ্চ সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে।সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বরিশাল শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে বিভাগের প্রতিটি জেলা ও উপজেলার কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, নির্বাচন উপলক্ষে সারাদেশে প্রায় ১ লাখ সেনাবাহিনী সদস্য, দেড় লাখ পুলিশ, ৩৭ হাজার বিজিবি, ১০ হাজার র্যাব, ৫ হাজার নৌবাহিনী সদস্য, প্রায় ৫ হাজার কোস্ট গার্ড এবং প্রায় ৬ লাখ আনসার সদস্য মোতায়েন করা হবে।তিনি বলেন, “নির্বাচন ও গণভোটকে শান্তিপূর্ণ, অংশগ্রহণমূলক ও উৎসবমুখর করতে আমরা সবাই প্রস্তুত। সেই লক্ষ্যে আমাদের প্রস্তুতিও সন্তোষজনক।”প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “এবার নির্বাচনে প্রশাসন একেবারেই নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও নিরপেক্ষভাবেই দায়িত্ব পালন করবে।” তিনি আরও জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন থাকবে।সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি। এ সময় বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।ইখা
বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেনের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন তালুকদারকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে মদনপুরা ইউনিয়নের পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রবিবার (১ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকার বারডেম জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। রবিবার রাতে তাঁর মরদেহ বাউফলে আনা হয়।দাফনকালে উপস্থিত ছিলেন বাউফল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সোহাগ মিলু, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আতিকুর রহমানসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা। এ ছাড়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্য, জনপ্রতিনিধি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা জানাজা ও দাফন কার্যক্রমে অংশ নেন।বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন তালুকদারের মৃত্যুতে বিভিন্ন মহল গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।ইখা
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০ম বার্ষিক নাট্যোৎসব শুরু
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সাত দিনব্যাপী ‘১০ম বার্ষিক নাট্যোৎসব ২০২৬’ শুরু হয়েছে। নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের আয়োজনে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো কলা ভবনের জিয়া হায়দার ল্যাবের সামনে এ নাট্যোৎসবের উদ্বোধন করা হয়।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, নাটক, সাহিত্য ও সিনেমা সমাজের দর্পণ। নাটকের মাধ্যমে সমাজের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো সহজ ও আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করা যায়। এতে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ বিষয়গুলো অনুধাবন করতে পারে। নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা সমাজের বিচ্ছিন্ন জনগোষ্ঠীকে একত্রিত করার সক্ষমতা অর্জন করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শিক্ষার্থীদের পরিবেশনা জাতীয় কবির নামে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম আরও ছড়িয়ে দেবে।বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের কোর্স শিক্ষক সহকারী অধ্যাপক নুসরাত শারমিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. ইসমত আরা ভূঁইয়া ইলা। উদ্বোধনী পর্ব সঞ্চালনা করেন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মাজহারুল হোসেন তোকদার।নাট্যোৎসব উপলক্ষে এদিন একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ভবন থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুরোনো কলা ভবনে এসে শেষ হয়।নাট্যোৎসবে সাত দিনে মোট ১৪টি নাটক মঞ্চায়িত হবে। প্রতিদিন দুটি করে নাটক পরিবেশিত হবে। প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা ও রাত ৮টা ৩০ মিনিটে নাটক শুরু হবে। নাটকগুলোর নির্দেশনা, পরিচালনা ও পরিবেশনায় অংশ নিচ্ছেন নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা।পিএম
ভালুকায় ভোটের হাওয়া: প্রতিশ্রুতি আর গণসংযোগে মুখর প্রার্থীরা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনে নির্বাচনী তৎপরতা ক্রমেই তীব্র হয়ে উঠছে। ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গণসংযোগ, পথসভা, উঠান বৈঠক, লিফলেট বিতরণ ও জনসভায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে তাঁরা তুলে ধরছেন উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি এবং এলাকার বিদ্যমান সমস্যা সমাধানের পরিকল্পনা। পাশাপাশি নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বানও জানানো হচ্ছে।দীর্ঘদিন পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনায় ভালুকার ভোটারদের মধ্যেও বাড়ছে আগ্রহ ও উদ্দীপনা। বিএনপি, স্বতন্ত্র, গণ অধিকার পরিষদ, এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীদের প্রচারণায় উপজেলা জুড়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফখরউদ্দিন আহমেদ বাচ্চু ধানের শীষ প্রতীকে উপজেলার বিভিন্ন ওয়ার্ডে দিনব্যাপী গণসংযোগ ও পথসভা করছেন। বক্তৃতায় তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে প্রতিটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড এবং সাধারণ মানুষের জন্য স্বাস্থ্য কার্ড চালু করা হবে। পাশাপাশি ভালুকায় অবকাঠামো, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ মোর্শেদ আলম হরিণ প্রতীকে প্রচারণায় গুরুত্ব দিচ্ছেন তরুণদের কর্মসংস্থান, কৃষিপণ্য বিপণন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং নারী শিক্ষার প্রসারে। তাঁর ভাষায়, দলীয় চাপ নয়, ভোটারদের প্রত্যাশাই তাঁর রাজনীতির মূল ভিত্তি।এনসিপির প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম শাপলাকলি প্রতীকে কৃষি ভর্তুকি, সারের সহজলভ্যতা এবং গ্রামীণ সড়ক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। অপরদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. মোস্তফা কামাল হাতপাখা প্রতীকে নৈতিকতা ও ইসলামী মূল্যবোধের ভিত্তিতে সমাজ গঠনের অঙ্গীকার তুলে ধরছেন।এদিকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও গণভোটকে কেন্দ্র করে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। সরকারি দপ্তর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পৌরসভা ও জনবহুল এলাকায় গণভোট ও নতুন বাংলাদেশ বিষয়ক ব্যানার-বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে সভা ও লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে সরকারি উদ্যোগগুলোর প্রচার করা হচ্ছে।ভালুকা আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫৯ জন। উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় রয়েছে মোট ১০৭টি ভোটকেন্দ্র—এর মধ্যে ৭টি নারী, ৭টি পুরুষ ও ৯৩টি সাধারণ কেন্দ্র।ভালুকা পৌরসভার বাসিন্দা হাবিবুর রহমান বলেন, “এবার নির্বাচন অনেক জমজমাট। প্রার্থীরা অনেক প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তবে আমরা চাই, যিনি নির্বাচিত হবেন তিনি যেন কথা নয়, কাজের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করেন।”আরেক ভোটার সজিব খান বলেন, “কৃষি কার্ড বা ভর্তুকির চেয়ে আমাদের বেশি দরকার ন্যায্য দামে ফসল বিক্রির নিশ্চয়তা।”রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে ভালুকায় চার থেকে পাঁচজন প্রার্থীর মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠতে পারে। জোরদার প্রচারণা ও ভোটারদের উচ্চ অংশগ্রহণের কারণে এ আসনে একটি প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন তাঁরা।ইখা
ত্রিশাল ভূমি অফিসে ফিরছে মানুষের আস্থা
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা ভূমি অফিসের নাম শুনলেই একসময় সাধারণ মানুষের চোখে ভেসে উঠত দালালচক্র, দীর্ঘসূত্রতা ও হয়রানির চিত্র। সেই চিত্র বদলাতে শুরু করেছে। অনিয়ম ও পুরোনো সংস্কৃতি ভেঙে অফিসটিতে ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা। এতে সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরে আসছে বলে জানান সেবাগ্রহীতারা।এই পরিবর্তনের নেতৃত্বে রয়েছেন বর্তমান সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহবুবুর রহমান। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি ভূমি অফিসে মধ্যস্বত্বভোগী ও দালালচক্রের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেন। এর ফলে অফিস প্রাঙ্গণে দালালদের উপস্থিতি কমে গেছে।এখন সেবাগ্রহীতারা কোনো মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই সরাসরি ভূমি অফিসে এসে সেবা নিতে পারছেন। বিশেষ করে ই-নামজারি (মিউটেশন) প্রক্রিয়ায় গতি আসায় ভোগান্তি কমেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ফাইল নিষ্পত্তি হচ্ছে বলে জানান একাধিক সেবাগ্রহীতা।ভূমি অফিসে নিয়মিত ‘গণশুনানি’ আয়োজন করা হচ্ছে। এসব গণশুনানিতে সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ শোনার পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রেই তাৎক্ষণিক সমাধান দেওয়া হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিজেই সাধারণ মানুষের পাশে বসে তাদের সমস্যার কথা শুনছেন।এই সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থার ফলে অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও দায়িত্ববোধ বেড়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এতে অনৈতিক লেনদেনের সুযোগ অনেকাংশে কমে এসেছে।ভূমি অফিসের কার্যক্রম শুধু দাপ্তরিক কাজেই সীমাবদ্ধ নেই। গত কয়েক মাসে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বে ব্রহ্মপুত্র নদ ও ফসলি জমি রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলন ও মাটি কাটার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযান চালানো হয়েছে। পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে।উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা সেবাগ্রহীতারা জানান, আগে যেখানে একটি কাজের জন্য মাসের পর মাস ঘুরতে হতো, এখন সেখানে সম্মানের সঙ্গে দ্রুত সেবা পাওয়া যাচ্ছে।এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহবুবুর রহমান বলেন, “প্রশাসন জনগণের সেবক। সরকারি সেবা নিতে এসে কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয়, সেটিই আমার লক্ষ্য। ভূমি সেবাকে শতভাগ স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত করতে আমরা কাজ করছি।”ইখা
গৌরীপুরে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে কলেজছাত্রীর আত্মহত্যা
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে লামিয়া আক্তার মিম (২১) নামে এক কলেজছাত্রী আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে গৌরীপুর রেলওয়ে জংশনের আউটার সিগন্যালের বাইরে গজন্দর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।নিহত লামিয়া গৌরীপুর সরকারি কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি উপজেলার গাভীশিমুল গ্রামের সাদিকুল ইসলামের মেয়ে।পারিবারিক সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্কের পর গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর লামিয়া ও রাকিব (৩০) গোপনে বিয়ে করেন। সম্প্রতি বিষয়টি উভয় পরিবারের মধ্যে জানাজানি হলে রাকিবের পরিবার এই বিয়ে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। এতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন লামিয়া।নিহতের বড় বোন সামান্তা নাজনীন জানান, সম্প্রতি পরিবারের পক্ষ থেকে লামিয়ার বিয়ের জন্য পাত্র খোঁজা হলে সে গোপন বিয়ের বিষয়টি জানায়। পরে বিষয়টি নিয়ে রাকিবের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার বাবা আবুল কাসেম লামিয়াকে মেনে নিতে স্পষ্টভাবে অস্বীকৃতি জানান। এ সময় রাকিবের পরিবারের পক্ষ থেকে লামিয়ার সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।তিনি আরও জানান, রবিবার রাতে রাকিব লামিয়ার ফোন রিসিভ না করায় সে মানসিকভাবে আরও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। সোমবার সকালে ঘুম থেকে উঠে পরিবারের সদস্যরা লামিয়াকে ঘরে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে ট্রেন দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পোশাক দেখে মরদেহ শনাক্ত করেন তারা।এ বিষয়ে রাকিবের বাবা আবুল কাসেম বিয়ে মেনে না নেওয়ার প্রসঙ্গে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তিনি জানান, ঘটনার পর লামিয়ার পরিবারের সঙ্গে আপোষ-মীমাংসার চেষ্টা চলছে।গৌরীপুর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদ বলেন, খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রেলস্টেশনের আউটার সিগন্যালের বাইরে থেকে লামিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।গৌরীপুর রেলজংশনের স্টেশন মাস্টার সফিকুল ইসলাম জানান, সোমবার সকাল ৬টা ৪২ মিনিটে ময়মনসিংহ থেকে জারিয়াগামী লোকাল ট্রেনটি গৌরীপুর জংশন ছাড়ে। ওই ট্রেনের নিচে পড়ে এক তরুণীর মৃত্যুর খবর তারা পেয়েছেন।ইখা
নান্দাইলে খাল খননের দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন
ময়মনসিংহের নান্দাইলে আচারগাঁও ইউনিয়নের ধরগাঁও মৌজার ছেতরাবিল এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকারি খাস জমিতে খাল খননের দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে ছেতরাবিল সংলগ্ন এলাকায় বারুইগ্রাম, ডাংরী, ঘোষপালা ও ধরগাঁও গ্রামের বাসিন্দাদের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধনে স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খননের জন্য প্রশাসনের অনুমতি ও সহযোগিতা দাবি করা হয়।মানববন্ধন ও সমাবেশে বক্তারা বলেন, ছেতরাবিল এলাকায় পানি নিষ্কাশনের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে চারটি গ্রামে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এতে কৃষিকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সরকারি খাস জমি ও রেকর্ডীয় খাল থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে খনন না হওয়ায় কৃষকেরা ফসল ঘরে তুলতে পারছেন না।বক্তারা অভিযোগ করেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে নিজেরা স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খননের উদ্যোগ নিলে খাসজমি দখলে থাকা একটি পক্ষ এতে বাধা দিচ্ছে। এ অবস্থায় জনকল্যাণমূলক এই কাজে যেন কেউ বাধা দিতে না পারে, সে জন্য প্রশাসনের আইনি সহযোগিতা প্রয়োজন।তাঁরা আরও বলেন, যুগ যুগ ধরে ভরাট হয়ে যাওয়া সরকারি খালটি দ্রুত খনন করা হলে এলাকার শত শত একর জমি চাষাবাদের আওতায় আসবে। একই সঙ্গে অকাল বন্যার ঝুঁকি কমবে এবং কৃষকদের ফসল ও বসতভিটা রক্ষা পাবে। সম্প্রতি কৃষিপণ্য পরিবহনের সুবিধার্থে একটি নতুন সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। ওই সড়কের দুপাশের ফসলি জমিতে যাতে জলাবদ্ধতা না হয়, সে জন্যও খাল খনন জরুরি।মানববন্ধন ও সমাবেশে বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা পল্লী ডাক্তার লিটন সরকার, সাবেক ইউপি সদস্য মো. আব্দুল গণি, মানবাধিকার সংগঠক মো. নাঈমুল গণি ভূঁইয়া (পলাশ), নূরে আলম সিদ্দিকী, সমাজসেবক মো. তারা মিয়া ও আফতাব উদ্দিন। এ সময় চার গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তি ও কয়েক শ মানুষ কর্মসূচিতে অংশ নেন।ইখা
পরিবারতন্ত্র ভাঙতে হলে শাপলাকলিকে ভোট দিতে হবে: আসিফ মাহমুদ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, শাপলাকলিকে ভোট দিলে বাংলাদেশ ন্যায় ও ইনসাফের পথে এগোবে। তিনি বলেন, এই প্রতীকে ভোট পড়লে পঞ্চগড়ে চাঁদাবাজি, ঘুষ আর মামা-চাচার পরিচয়ে চাকরি পাওয়ার সংস্কৃতি বন্ধ হবে।সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাতে পঞ্চগড়ের সাতমেরা হাইস্কুল মাঠে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।তিনি আরও বলেন, শাপলাকলিকে ভোট দিলে প্রতিটি পরিবারে অন্তত একজনের কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। দেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে পরিবারতন্ত্র চলে আসছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত ৫৪ বছরে কমিশনারের ছেলে কমিশনার, চেয়ারম্যানের ছেলে চেয়ারম্যান, এমপি-মন্ত্রীর ছেলে এমপি-মন্ত্রী হয়েছে। প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, আপনারা কি চান না একদিন কৃষকের ছেলে, মুদি দোকানদারের ছেলে কিংবা রিকশাচালকের ছেলে এমপি হোক।আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, পঞ্চগড়-১ আসন বাংলাদেশের এক নম্বর আসন। এই আসনে কি দুই নম্বর প্রার্থী নির্বাচিত হবে, নাকি এক নম্বর আসনে এক নম্বর প্রার্থীই নির্বাচিত হবে, সেই সিদ্ধান্ত আপনাদের নিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি উপস্থিত জনতার প্রতি শাপলাকলিকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।তিনি দাবি করেন, অতীতে পঞ্চগড় আঞ্চলিক বৈষম্যের শিকার হয়েছে। এই আসনে এমপি ও মন্ত্রী থাকলেও সাধারণ মানুষের জীবনমান বদলাতে তারা কার্যকর ভূমিকা রাখেননি। তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর সারজিস আলম দায়িত্বশীলদের সঙ্গে যোগাযোগ করে রাস্তাঘাট উন্নয়ন ও পর্যটন শিল্পের বিকাশে কাজ করেছেন। তিনি এমপি না হয়েও গত দেড় বছরে এলাকায় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন।তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি শাপলাকলিকে ভোট দিয়ে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী সারজিস আলমকে নির্বাচিত করা গেলে এমপি হিসেবে তিনি আরও শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারবেন। বিগত তিনটি নির্বাচনে ভোট দিতে না পারার কথা উল্লেখ করে তিনি ভোটারদের ফজরের নামাজের পর থেকেই কেন্দ্রে উপস্থিত থেকে নিজের ভোট দেওয়ার পাশাপাশি অন্য ভোটারদের ভোট নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন পঞ্চগড়-১ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও এনসিপির উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এবং জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির মাওলানা ইকবাল হোসাইন।এর আগে সন্ধ্যায় পঞ্চগড় চিনিকল মাঠ থেকে এনসিপির প্রার্থী, জামায়াতের জেলা আমিরসহ অন্যান্য নেতাদের নিয়ে একটি খোলা ট্রাকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। পরে শতাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে শোভাযাত্রাসহ তারা সাতমেরা হাইস্কুল মাঠে পৌঁছান।এফএস
রংপুর–২ আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের ইঙ্গিত
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রংপুর–২ (তারাগঞ্জ–বদরগঞ্জ) আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থীদের মধ্যে ভোটের প্রতিযোগিতা এবার বেশ জমে উঠেছে।আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে তিন দলের প্রার্থীরাই জোরেশোরে প্রচার–প্রচারণা চালাচ্ছেন। ভোটারদের সমর্থন পেতে তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনসংযোগ করছেন, দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। নিজ নিজ দলের নেতা–কর্মীরাও মাঠে সরব রয়েছেন।এ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোহাম্মদ আলী সরকার। জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে লাঙ্গল প্রতীকে লড়ছেন আনিছুল ইসলাম মণ্ডল। আর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে নির্বাচন করছেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম।দীর্ঘদিন ধরে এই আসনটি জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের প্রভাবাধীন এলাকা হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ না নেওয়ায় রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তন এসেছে। এতে সুযোগ দেখছে জামায়াতে ইসলামী। এর আগেও এটিএম আজহারুল ইসলাম এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জয় পাননি। তবে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় জামায়াতের এই হেভিওয়েট প্রার্থী এবার জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।অন্যদিকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ আলী সরকার একসময় জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ছিলেন। পরে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। তিনি বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। স্থানীয় রাজনীতিতে তার প্রভাব রয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। বিএনপির নেতাকর্মীদের দাবি, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে এই আসনে বিজয়ের ভালো সম্ভাবনা রয়েছে তাদের প্রার্থীর।জাতীয় পার্টির প্রার্থী আনিছুল ইসলাম মণ্ডলও এর আগে এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। রংপুর অঞ্চলকে জাতীয় পার্টির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দলের কর্মী–সমর্থকদের বিশ্বাস, ঐতিহ্যগত ভোটব্যাংক এবং আওয়ামী লীগের একটি অংশের ভোট পেয়ে এবারও জাপা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এগিয়ে থাকবে।ভোটারদের মধ্যেও রয়েছে নানা মতামত। কুর্শা ইউনিয়নের ঘনিরামপুর এলাকার বাসিন্দা মো. বাদশা মিয়া বলেন, “আমি আমার ভোট আমার পছন্দের প্রার্থীকে দেব। দুর্নীতিবাজ কাউকে সংসদে পাঠানো উচিত নয়। সৎ ও যোগ্য মানুষই নির্বাচিত হোক।”সয়ার ইউনিয়নের শ্যামগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “নির্বাচনের সময় প্রার্থীরা অনেক প্রতিশ্রুতি দেয়, কিন্তু নির্বাচিত হওয়ার পর সাধারণ মানুষের খোঁজ খুব কমই রাখে। তাই এবার বুঝে–শুনে ভোট দিতে চাই।”সব মিলিয়ে রংপুর–২ আসনে এবারের নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। ভোটের মাঠে শেষ পর্যন্ত কারা এগিয়ে থাকবে, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে ভোটের দিন পর্যন্ত।ইখা
দেবীগঞ্জে বালুবোঝাই ট্রাকের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে বালুবোঝাই ট্রাকের চাপায় এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে দেবীগঞ্জ পৌরসভার পাকড়িতলা এলাকায় বোদা–দেবীগঞ্জ মহাসড়কের মদিনা কোল্ড স্টোরেজের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত ব্যক্তির নাম সমেশ চন্দ্র বর্মন (৩৮)। তিনি দেবীগঞ্জ উপজেলার পামুলী ইউনিয়নের কাটনহারী আরাজী এলাকার হরি কিশোর বর্মনের ছেলে। সমেশ দেবীগঞ্জ পৌর শহরের মায়ের হাসি স্মার্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ল্যাব টেকনিশিয়ান হিসেবে কর্মরত ছিলেন।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো রোববার রাতেও কর্মস্থল থেকে মোটরসাইকেলে করে বাড়ির পথে রওনা দেন সমেশ। পথে পাকড়িতলা এলাকায় পৌঁছালে দেবীগঞ্জ শহরমুখী একটি বালুবোঝাই ট্রাক তাঁকে ধাক্কা দেয়। ট্রাকটি তাঁকে চাপা দিয়ে প্রায় ১৫ ফুট দূর পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলটি তেমন ক্ষতিগ্রস্ত না হলেও ট্রাকের নিচে পিষ্ট হন সমেশ। খবর পেয়ে স্থানীয়রা দেবীগঞ্জ থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে জানায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল সম্পন্ন করে আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।দুর্ঘটনার পরপরই ট্রাকটি জব্দ করা হয়। স্থানীয়দের সহায়তায় ট্রাকচালক সাদ্দাম হোসেন (৩৬) কে আটক করে পুলিশ। তিনি ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার বলিদাহপাড়া এলাকার বাসিন্দা।এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই আপন চন্দ্র রায় বাদী হয়ে দেবীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম মনিরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, নিহতের মরদেহ সুরতহাল শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় রবিবার দিবাগত রাতেই মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, পাকড়িতলা এলাকার মোড়টি সড়কের অন্য অংশের তুলনায় প্রশস্ত হওয়ায় ভারী যানবাহন সেখানে অতিরিক্ত গতিতে ওভারটেকিংয়ের চেষ্টা করে। কিন্তু মোড় পার হওয়ার পর সড়ক হঠাৎ সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়।তারা আরও বলেন, ওই স্থানে চালকদের সতর্ক করতে রাম্বল স্ট্রিপস থাকলেও তা মূলত ছোট যানবাহনের গতি কমাতে কার্যকর। ভারী ট্রাকের ক্ষেত্রে এসব ব্যবস্থা তেমন ফলপ্রসূ নয়, ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়।ইখা
শহীদের বোনের মাটির ব্যাংক ও ডিম উপহার, মঞ্চে অশ্রুসিক্ত ফখরুল
বক্তব্য দিচ্ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। হঠাৎ মঞ্চে এসে দাঁড়ালেন স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শহীদ আল মামুনের বোন। ভাইয়ের স্মৃতি চারণ করতে করতে নিজের জমানো মাটির ব্যাংক আর কয়েকটা মুরগির ডিম তুলে দিলেন ফখরুলের হাতে। বললেন, ‘আমার ভাইটা বিএনপিকে ভালোবাসত, নির্বাচনের জন্য এই সামান্য দানটুকু গ্রহণ করেন। এমন দৃশ্য দেখে নিজেকে সামলাতে পারলেন না ৭৯ বছর বয়সী এই রাজনীতিক; জনসভার মঞ্চেই আবেগ আপ্লুত পড়লেন মির্জা ফখরুল।রবিবার ঠাকুরগাঁওয়ের মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের কাজীপাড়া এলাকায় আয়োজিত এক নির্বাচনী পথসভায় এই আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।নিজের দীর্ঘ ৩৫ বছরের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের স্মৃতিচারণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, "আমি নতুন লোক না, বয়স হয়েছে ৭৮ বছর। যখন প্রথম আসি তখন কি চুল পাকা ছিল? তখন যুবক ছিলাম। ৯১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ৩৫ বছর ধরে আপনাদের সঙ্গে আছি। একটা লোক বলতে পারবেন মির্জা আলমগীর একটা কাজ করে পাঁচটা টাকা খেয়েছে? বলতে পারবেন না। উল্টো বাবার জমি-ব্যবসা বিক্রি করে রাজনীতি করছি। সততা আমাদের রক্তে আছে বলে আমরা বুক টান করে আপনাদের সামনে দাঁড়িয়েছি।"তিনি আরও যোগ করেন, "এটাই বোধহয় আমার শেষ নির্বাচন। যে বয়স হয়েছে, আর নির্বাচন আমি করতে পারব না। আপনাদের কাছে কি ধানের শীষে একটা ভোট আশা করতে পারি না?পথসভায় কৃষকদের আশ্বস্ত করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ক্ষমতায় গেলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে। মা-বোনদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, "কিস্তিতে এনজিওর কাছ থেকে ঋণ নিয়ে আপনারা অনেক কষ্ট করেন। সময়মতো দিতে না পারলে মুরগি কেড়ে নেয়। তারেক রহমান সাহেব বলেছেন, আমি মায়েদের আর কষ্ট করতে দেব না। এনজিওর যত সুদের টাকা আছে ওটা আমি নিয়ে নিব, আমি পে করব।"অন্যান্য দলের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, "কোরআন শিক্ষার নাম করে কেউ কেউ বলছে দাঁড়ি পাল্লায় ভোট দিলে বেহেশত পাওয়া যাবে। এটা হতে পারে না। কোনো মার্কা ভোট দিলে বেহেশতে যাওয়া যাবে না। বেহেশতে যেতে হলে আল্লাহর নির্দেশ পালন করতে হবে, সৎ হতে হবে।"নির্বাচন বাঞ্ছাল করার ষড়যন্ত্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "এবার নির্বাচন কেউ বন্ধ করতে পারবে না। দেশের মানুষ জেগে গেছে। আপনারা শুধু ভোট কেন্দ্র পাহারা দেবেন যেন কেউ দুষ্টামি করতে না পারে।"বক্তব্যের শেষ দিকে শহীদ আল মামুনের বোনের দেওয়া উপহার হাতে নিয়ে মির্জা ফখরুল আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, "এই মেয়েটা তার মাটির ব্যাংকের জমানো টাকা নির্বাচনের জন্য দিয়ে দিল। আল্লাহ এই মেয়েটার আকুতি কবুল করেন।" এরপর তিনি উপস্থিত জনতাকে নিয়ে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং ১২ তারিখ ধানের শীষ মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।এফএস
ফুলবাড়ীতে জাতীয় পার্টির সভাপতিসহ তিন জনপ্রতিনিধির বিএনপিতে যোগ
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে বিএনপির পৃথক নির্বাচনী জনসভায় জাতীয় পার্টির উপজেলা সভাপতিসহ তিন জনপ্রতিনিধি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন।যোগদানকারীরা হলেন—ফুলবাড়ী উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ও সদর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মইনুল ইসলাম, নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের কিশামত শিমুলবাড়ী ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য আমিনুল হক আমিন এবং চরগোরকমন্ডল ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আয়াজ উদ্দিন।দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে ফুলবাড়ী সদর ইউনিয়নের কবিরমামুদ ওয়ার্ডে উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত ধানের শীষের নির্বাচনী জনসভায় অংশ নেন মইনুল ইসলাম। এ সময় তিনি বিএনপির আদর্শের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে আনুষ্ঠানিকভাবে দলে যোগ দেন এবং জনসভায় বক্তব্য রাখেন।একই রাতে নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে আয়োজিত আরেকটি নির্বাচনী জনসভায় ইউপি সদস্য আয়াজ উদ্দিন ও সাবেক ইউপি সদস্য আমিনুল হক আমিন বিএনপিতে যোগ দেন। বিএনপির নেতাকর্মীরা ফুল দিয়ে তাঁদের বরণ করে নেন।পৃথক দুটি জনসভায় কুড়িগ্রাম–২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদসহ জেলা বিএনপি, উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান মুকুল বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ও নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের দুই জনপ্রতিনিধি স্বেচ্ছায় বিএনপির আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দলে যোগ দিয়েছেন।ইখা
জামায়াত আমিরের পোস্টের মন্তব্যের প্রতিবাদে ভাঙ্গুড়ায় ঝাড়ু মিছিল
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্টে কর্মজীবী নারীদের নিয়ে থাকা আপত্তিকর মন্তব্যের প্রতিবাদে পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ঝাড়ু মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল পাঁচটার দিকে ভাঙ্গুড়া উপজেলার কলেজ মোড় থেকে ঝাড়ু মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি শরৎনগর বাজারের ডাকবাংলোর সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।সমাবেশে অংশ নেওয়া কর্মজীবী নারীরা বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রতিটি সংকট ও আন্দোলনে নারীরা ঘরে ও বাইরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। সেখানে নারীদের নিয়ে এ ধরনের কটূক্তি অত্যন্ত নিন্দনীয় ও অবমাননাকর। ইসলামে নারীর সর্বোচ্চ সম্মানের কথা বলা হয়েছে, অথচ সেই সম্মানিত নারীদেরই অপমান করা হচ্ছে।বক্তারা এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, নারীদের নিয়ে করা ওই বক্তব্যের জন্য ডা. শফিকুর রহমানকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।উল্লেখ্য, শনিবার বিকেলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমিরের এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া একটি পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। তবে এ বিষয়ে দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট আইডি হ্যাক হওয়ার কারণে ওই বিভ্রান্তিকর পোস্টটি প্রকাশিত হয়েছে।ইখা
সিংড়ায় বিএনপির হামলায় এনসিপির কার্যালয়ে ভাঙচুর, আহত ১
নাটোরের সিংড়া উপজেলায় এনসিপির কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অবরুদ্ধ করার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনুর সমর্থকদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এনসিপির এক কর্মী আহত হয়েছেন।রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১ টার দিকে সিংড়া উপজেলার সুকাশ ইউনিয়নের মৌগ্রামে অবস্থিত এনসিপির অস্থায়ী কার্যালয়ে।প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা মৎস্যজীবি দলের সাবেক সভাপতি ও সুকাশ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস আকন্দ, ইউপি সদস্য আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে প্রায় ২৫-৩০ জন ব্যক্তি এনসিপির কার্যালয়ের সামনে পিকনিক করছিল। ওই সময় কার্যালয়ে থাকা ১০-১২ জন এনসিপির সমর্থক তাদের একটু দূরে গিয়ে পিকনিক করতে অনুরোধ করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা কার্যালয়ে হামলা চালায়।হামলাকারীরা কার্যালয় ভাঙচুর করে এবং ভেতরে থাকা এনসিপির কর্মীদের প্রায় ১ ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখে। এ সময় সুলতান নামের এক এনসিপি কর্মীকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়।সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুন নূর বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এসআর
চৌহালীতে ভাষা মতিনের জন্মভূমির অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নেই শহীদ মিনার
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের অবিস্মরণীয় ও অসাধারণ ব্যক্তিত্বের অধিকারী সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার ছেলে আব্দুল মতিন। তাকে ‘ভাষা মতিন’ বলেই ডাকেন স্থানীয়রা। অথচ তার জন্মভূমির অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নেই শহীদ মিনার। এতে শহীদদের শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি তাদের সম্পর্কে জানতে পারছে না এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হাজারও শিক্ষার্থী।তবে কিছু কিছু স্কুলে কলাগাছ কিংবা বাঁশ দিয়ে দিয়ে তৈরি শহীদ মিনারে শহীদদের শ্রদ্ধা জানায় শিক্ষার্থীরা। অনেক বিদ্যালয়ে তাও সম্ভব হয় না।চৌহালী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, চৌহালী উপজেলায় পাঁচটি কলেজ, ২০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ১৭টি মাদরাসা ও উপজেলায় ১২৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২২টি এবতেদায়ী মাদরাসা, ১৩০টি আনন্দ স্কুল, ৩৬টি ইসলামিক ফাউন্ডেশন স্কুল, ২০টি কেজি স্কুল ও কৃষি মাঠ স্কুল রয়েছে। এছাড়া বেশ কয়েকটি নতুন প্রাইমারি স্কুল প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বেশিরভাগই নেই শহীদ মিনার। ভাষা মতিনের জন্মভূমি চৌহালী উপজেলার প্রতিষ্ঠিত কলেজ ও বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ছাত্র-ছাত্রীরা জানতে পারছে না ভাষা আন্দোলনের সঠিক ইতিহাস।খাষকাউলিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, আমরা টেলিভিশনে প্রতি বছরই দেখি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রভাতফেরি ও শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া করা হয়। আমাদের বিদ্যালয়গুলোতে শহীদ মিনার না থাকায় আমরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে পারছি না।কোদালিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কামাল, জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র রহিম সেখ, কোরবান আলী ও হযরত শেখ জানায়, একুশে ফেব্রুয়ারি, ২৬ মার্চ, ১৬ ডিসেম্বর শিক্ষকরা ভোরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে বলেন। এরপর পতাকা উত্তোলন করে শিক্ষার্থীরা যার যার মতো করে বাড়ি ফিরে যায়। তবে শহীদ মিনার না থাকায় শহীদদের যথাযথভাবে শ্রদ্ধা জানাতে পারে না তারা।তবে এ ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসন শহীদ মিনার নির্মাণের ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস। এসআর
নওগাঁয় পে-স্কেলের দাবিতে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ
নওগাঁয় নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশসহ সাত দফা দাবিতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মচারীরা বিক্ষোভ ও কর্মবিরতি পালন করেছেন।সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের ব্যানারে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন বিভিন্ন দপ্তরের কর্মচারীরা। সকাল ৯টার দিকে তারা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।এদিন সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে দুই ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করা হয়। এতে সরকারি সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন।জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সেবা নিতে আসা সাইফুল ইসলাম বলেন, তিনি খাস জমির বন্দোবস্ত সংক্রান্ত কাজের জন্য রাজস্ব শাখায় এসেছিলেন। আজই ছিল কাজ শেষ করার শেষ দিন। কিন্তু এসে দেখেন, পে-স্কেলের দাবিতে কর্মচারীরা আন্দোলনে রয়েছেন, অফিসে কেউ নেই।আদালতে সেবা নিতে আসা রহিদুল সরকার বলেন, তাঁর একটি দেওয়ানি মামলার আপিল শুনানি রয়েছে। সে জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করতে এসেছিলেন। কিন্তু কোনো কর্মচারী অফিসে না থাকায় তিনি বিপাকে পড়েছেন। শুনানি পিছিয়ে গেলে তাঁর জন্য বড় সমস্যা তৈরি হবে বলে জানান তিনি।বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কর্মচারীরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কর্মচারীরা বৈষম্যহীন বেতন কাঠামোর দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু সরকার নানা অজুহাতে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন করছে না। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে বর্তমান বেতন দিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে।তাঁরা বলেন, সরকার বিভিন্ন দাবিতে উদ্যোগ নিলেও পে-স্কেল বাস্তবায়নে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। দ্রুত দাবি বাস্তবায়ন না হলে আগামী নির্বাচনে দায়িত্ব পালন না করার পাশাপাশি নির্বাচন বয়কটের ঘোষণাও দেন আন্দোলনকারীরা।আন্দোলনকারী হাফিজুর রহমান শুভ বলেন, “নো পে-স্কেল, নো ইলেকশন। আমাদের দাবি আদায় না হলে আমরা কোনো নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করব না, ভোটেও অংশ নেব না।”আরেক আন্দোলনকারী নাহিদ আল-সালাম বলেন, “আমাদের বারবার আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে। পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য কমিশন গঠন করেও তা কার্যকর করা হয়নি। এখন বলা হচ্ছে, এটি নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব। তাহলে এই সরকার কেন কমিশন গঠন করল? বৈষম্য দূর না হলে মানুষ আবারও আন্দোলনে নামবে।”কর্মচারীদের সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—২০১৫ সালের পে-স্কেলের গেজেটে বাতিল হওয়া তিনটি টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল, বেতন জ্যেষ্ঠতা সংরক্ষণ, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে গ্রাচুইটির পাশাপাশি পেনশন চালু এবং গ্রাচুইটির হার ৯০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০০ শতাংশ নির্ধারণ।ইখা
ঈশ্বরদীতে ব্যবসায়ীর কাছে নির্বাচনী খরচের চাঁদা চাওয়ার অভিযোগ
পাবনার ঈশ্বরদীতে ধানের শীষের নির্বাচন পরিচালনার খরচ হিসেবে এক ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবী ও ২ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে। রবিবার (০১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের বড়ইচারা এলাকায় অবস্থিত বঙ্গ মিলার্স লিঃ এর প্রধান ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে।এ ঘটনায় রবিবার সন্ধ্যায় পৌর শহরের ইস্তা এলাকায় নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও ঈশ্বরদী পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক রুমন আলী।রুমন আলী অভিযোগ করে বলেন, সকল নিয়ম মেনেই দীর্ঘদিন যাবৎ ঈশ্বরদীর বড়ইচারা এলাকায় অবস্থিত বঙ্গ মিলার্স লিঃ এ বিভিন্ন মালামাল সরবরাহ করে আসছি। শনিবার দুপুরে উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক হাসান আলী বিশ্বাসের নির্দেশে ঈশ্বরদী পৌর কৃষক দল নেতা আলম ওরফে ডাকাত আলম, জামরুল ইসলাম, আলম হোসেন ও শহিদুল ইসলাম চেনু সরদার সহ অজ্ঞাত কয়েকজন বিএনপি মনোনীত পাবনা-৪ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবের নির্বাচন পরিচালনার খরচ হিসেবে ১০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা প্রায় দুই লক্ষ টাকার মালামাল (এসডিবি ও এলডিবি পলিথিন) লুট করে নিয়ে যায় এবং একটি ইঞ্জিন চালিত ভুটভটি গাড়ি ভাঙচুর ও চালককে মারপিট করে।তিনি আরো বলেন, এর আগেও গত ২৮ জানুয়ারি হাসান আলী বিশ্বাসের নির্দেশে আলম ডাকাত চাঁদা দাবী করেছিলেন। বর্তমানে নিজের জীবন ও ব্যবসায়ীক নিরাপত্তা নিয়ে চরম হুমকির মুখে আছি। নির্বাচনের আগেই যদি এ ধরনের পরিস্থিতি সম্মুখীন হয় তবে নির্বাচন পরবর্তীতে হাবিবুর রহমান হাবিব এমপি নির্বাচিত হলে আমরা কিভাবে ব্যবসা করব। এ বিষয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে ঈশ্বরদী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হবে বলেও জানান ভুক্তভোগী রুমন আলী। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত বঙ্গ মিলার্স লিঃ এ কর্মরত কর্মচারী বাচ্চু হোসেন, কোম্পানির অভ্যন্তরে মুরগি সরবরাহকারী শুভ হোসেন, ডিম সরবরাহকারী মনির হোসেন সহ অন্যান্যরা বিভিন্ন সময় এমন হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন।এদিকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সলিমপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক হাসান আলী বিশ্বাস জানান, এ ঘটনায় কে বা কাহারা সম্পৃক্ত তা আমার জানা নেই। তবে আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না এবং কাউকে কোন নির্দেশও দেইনি। তবে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও অভিযুক্ত ডাকাত আলম ও পাবনা-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি সম্ভব হয়নি। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ঈশ্বরদী থানার উপ-পরিদর্শক জামাল মিয়া জানান, মুঠোফোনে জানতে পারি প্রান কোম্পানির অভ্যন্তরে ঝামেলা চলছে। পরে দুপুরেই ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। তবে এখনো লিখিত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।এসআর
সুনামগঞ্জ ২: জামায়াত প্রার্থী নির্বাচনী প্রচারের গাড়ি ভাঙচুর, আহত ২
সুনামগঞ্জ ২ (দিরাই শাল্লা) আসনের জামায়াত ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী শিশির মনিরের নির্বাচনী প্রচারের গাড়ি ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা।হামলায় প্রচার গাড়িতে থাকা ২ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাতে দিরাইয়ের তাড়ল এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।স্থানীয় এলাকাবাসী ও দিরাই থানা পুলিশ জানায়, প্রতিদিনের মত সুনামগঞ্জ ২ আসনের জামায়াতের প্রার্থী শিশির মনিরের নির্বাচনী প্রচারণা শেষে তার প্রচারের গাড়িটি দিরাইয়ের তাড়ল এলাকায় আসা মাত্র দুটি মোটরসাইকেল হেলমেট পরিহিত অবস্থায় এসে শিশির মনিরের নির্বাচনী প্রচারের গাড়ি ভাঙচুর করে।দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক বলেন, দিনব্যাপী নির্বাচনী প্রচারণা শেষে যখন জামায়াত প্রার্থীর নির্বাচনী গাড়িটি দিরাইয়ের তাড়ল এলাকায় আসে তখন দুর্বৃত্তরা তার গাড়ি ভাঙচুর করে।তিনি আরও জানান, সেই দুজনের হেলমেট পড়া থাকায় তাদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশ চেষ্টা করছে আসামিদের ধরতে কিংবা চিহ্নিত করতে।সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) রাকিবুল হাসান রাসেল বলেন, হামলার ঘটনার বিষয়ে খুঁজ নেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।এসআর
সুনামগঞ্জ ২: জামায়াত প্রার্থী নির্বাচনী প্রচারের গাড়ি ভাঙচুর, আহত ২
সুনামগঞ্জ ২ (দিরাই শাল্লা) আসনের জামায়াত ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী শিশির মনিরের নির্বাচনী প্রচারের গাড়ি ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা।হামলায় প্রচার গাড়িতে থাকা ২ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাতে দিরাইয়ের তাড়ল এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।স্থানীয় এলাকাবাসী ও দিরাই থানা পুলিশ জানায়, প্রতিদিনের মত সুনামগঞ্জ ২ আসনের জামায়াতের প্রার্থী শিশির মনিরের নির্বাচনী প্রচারণা শেষে তার প্রচারের গাড়িটি দিরাইয়ের তাড়ল এলাকায় আসা মাত্র দুটি মোটরসাইকেল হেলমেট পরিহিত অবস্থায় এসে শিশির মনিরের নির্বাচনী প্রচারের গাড়ি ভাঙচুর করে।দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক বলেন, দিনব্যাপী নির্বাচনী প্রচারণা শেষে যখন জামায়াত প্রার্থীর নির্বাচনী গাড়িটি দিরাইয়ের তাড়ল এলাকায় আসে তখন দুর্বৃত্তরা তার গাড়ি ভাঙচুর করে।তিনি আরও জানান, সেই দুজনের হেলমেট পড়া থাকায় তাদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশ চেষ্টা করছে আসামিদের ধরতে কিংবা চিহ্নিত করতে।সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) রাকিবুল হাসান রাসেল বলেন, হামলার ঘটনার বিষয়ে খুঁজ নেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।এসআর
টানা ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
ট্রান্সফরমার মেরামত, সঞ্চালন লাইন উন্নয়ন কাজের জন্য আজ সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকাল থেকে সিলেট নগরীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় টানা ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। গতকাল রবিবার (২৫ জানুয়ারি) সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-৩ এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সোমবার সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৩৩ কেভি গোটাটিকর ও জগন্নাথপুর এবং ১১ কেভি বরইকান্দি, স্টেশন, কদমতলী, শিববাড়ী, লালাবাজার, কামারবাজার ও মাসুকগঞ্জ ফিডারের আওতাধীন নগরীর অন্তত ৬২টি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকা এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে বরইকান্দি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, সুনামপুর, কামুসনা, ধরাধরপুর, পুরান তেতলী, টেকনিক্যাল রোড, খোজারখলা, বাবনা পয়েন্ট, পুলেরমুখ, ঝালপাড়া, চাঁদনীঘাট, কদমতলী, রেলওয়ে স্টেশন, বঙ্গবীর রোড, মোমিনখলা, বারখলা, গালিমপুর, মুন্সিবাজার, আলমনগর, পিঠাকরা, ফরহাদপুর, গাঙপাড়, বনগাঁও, কামালবাজার, পুরানগাঁও, ছোট দিঘলী, বাইপাস রোড, মাসুক বাজার, তাজপুর, মিরেরগাঁও, গুপ্তেরগাঁওসহ আশপাশের এলাকা।তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ হলে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। সাময়িক এ ভোগান্তির জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-৩ এর কর্তৃপক্ষ।এইচএ
সুনামগঞ্জে আড়াই শতাধিক ভারতীয় শটগানের গুলিসহ যুবক আটক
সুনামগঞ্জে আড়াই শতাধিক ভারতীয় শটগানের গুলিসহ এক যুবককে আটক করেছে র্যাব। রবিবার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে জেলার সদর উপজেলার আব্দুজ জহুর সেতু এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।র্যাব সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯-এর একটি দল ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় একটি ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে সন্দেহভাজন এক যুবককে আটক করা হয়। পরে তার সাথে থাকা একটি ব্যাগ তল্লাশি করে ভারত থেকে আনা শটগানের সিসার গুলির ৬টি প্যাকেট জব্দ করা হয়। প্রতিটি প্যাকেট কসটেপ দিয়ে মোড়ানো ছিল এবং প্রতিটিতে ১০টি করে সিসার গুলি পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে আড়াই শতাধিক সিসার গুলি জব্দ করে র্যাব।বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন র্যাব-৯-এর এএসপি মো. আব্দুল্লাহ আল নোমান (বা সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা)। তিনি জানান, আটককৃত যুবক বর্তমানে র্যাব হেফাজতে রয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাব সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলেও তিনি জানান।এনআই
শায়েস্তাগঞ্জ র্যাব-৯ এর অভিযানে এয়ারগান উদ্ধার
র্যাব-৯ এর অভিযানে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থেকে ১টি এয়ারগান উদ্ধার হয়েছে।শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাতে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাব-৯ সিলেটের মিডিয়া অফিসার অতিঃ পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ।এর আগে শুক্রবার রাত ১০টায় র্যাব-৯ সিপিসি-৩ শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল অস্ত্র উদ্ধারের বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার নূরপুর ইউনিয়নের সুতাং বাজারে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক সংলগ্ন এলাকার এয়ারগান পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।এ প্রেক্ষিতে ব্যাপক তল্লাশী করে হলুদ রঙের প্লাস্টিকের বস্তায় মোড়ানো পরিত্যক্ত অবস্থায় ১টি এয়ারগান উদ্ধার হয়। ওই সময় এয়ারগানটির সাথে সংশ্লিষ্ট কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে র্যাব-৯ এর তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। উদ্ধারকৃত এয়ারগানটি নাশকতার কাজে ব্যবহার করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে উদ্ধারকৃত এয়ারগানটি জিডি মূলে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এসআর
অনলাইন ভোট
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনের দিন গণভোট আয়োজন করা হবে। আপনি কি এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?
আন্তর্জাতিক
সব দেখুন
অ্যান্টার্কটিকায় উল্টো বইছে স্রোত, বাড়ছে লবণাক্ততা
অ্যান্টার্কটিকার বরফে ঢাকা রহস্যময় সমুদ্র তার চিরচেনা চরিত্র বদলে ফেলছে। প্রকৃতির প্রাচীন নিয়ম ভেঙে সমুদ্রের গভীরে থাকা উষ্ণ পানি আচমকা উপরে উঠে আসছে, আর উপরিভাগের শীতল পানি চলে যাচ্ছে নিচে। সমুদ্র স্রোতের এই আকস্মিক উল্টো রথ এবং পানির ক্রমবর্ধমান লবণাক্ততা দেখে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানীরা। তাদের মতে, এই পরিবর্তন শুধু মেরু অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং সমগ্র পৃথিবীর জলবায়ু ও বাস্তুতন্ত্রকে বড় ধরনের বিপদে ফেলতে পারে।ব্রিটেনের ন্যাশনাল ওশানোগ্রাফিক সেন্টারের (এনওসি) সাম্প্রতিক এক রিপোর্টে এই পরিবর্তনের চিত্র উঠে এসেছে। মহাকাশের কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে পাঠানো তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০১৬ সাল থেকে অ্যান্টার্কটিকা সংলগ্ন সমুদ্রে লবণের পরিমাণ অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। বিজ্ঞানীদের দাবি, দক্ষিণ গোলার্ধে সমুদ্রের গভীর স্তরের সঞ্চালন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ উল্টে না গেলে এমনটা হওয়া অসম্ভব। এর ফলে সমুদ্রের গভীরে শত শত বছর ধরে জমা থাকা তাপ এবং কার্বন ডাই অক্সাইড এখন উপরে উঠে আসছে।সাধারণত অ্যান্টার্কটিকায় বরফ গলে যে মিষ্টি পানি তৈরি হয়, তা সমুদ্রের উপরিভাগে থাকে। এই শীতল পানি নতুন করে বরফ জমার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। কিন্তু বর্তমানে নিচ থেকে উঠে আসা লবণাক্ত ও উষ্ণ পানি এই চক্রকে বাধা দিচ্ছে। উষ্ণ জল এখন নিচ থেকেই বরফকে গলিয়ে দিচ্ছে, ফলে নতুন করে বরফ জমার আর কোনো সুযোগ থাকছে না। পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত অ্যান্টার্কটিকায় যে পরিমাণ বরফ গলেছে, তা আয়তনে আস্ত গ্রিনল্যান্ডের সমান।বিজ্ঞানীরা এই পরিবর্তনের সুদূরপ্রসারী প্রভাব নিয়ে সতর্ক করেছেন» সমুদ্রের গভীর থেকে বেরিয়ে আসা তাপ বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে বিশ্ব উষ্ণায়নকে আরও বাড়াবে।» এই পরিবর্তনের ফলে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে অতিবৃষ্টি, শক্তিশালী ঝড় এবং চরম তাপপ্রবাহের মতো দুর্যোগ বেড়ে যাবে।» দ্রুত বরফ গলার ফলে সমুদ্রের জলস্তর বেড়ে গিয়ে উপকূলীয় এলাকাগুলো প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।» সমুদ্রের এই অস্বাভাবিক আচরণে পেঙ্গুইনসহ অ্যান্টার্কটিকার অনন্য জীববৈচিত্র্য ও সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র ধ্বংসের মুখে পড়বে।বিজ্ঞানীদের মতে, সমুদ্রের পানিতে কোনো কাঁটাতার নেই; তাই অ্যান্টার্কটিকার এই ক্ষত দ্রুতই সারা বিশ্বের সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়বে। এই ধারা বজায় থাকলে দক্ষিণ মহাসাগরে স্থায়ী পরিবর্তন চলে আসতে পারে, যা মানবসভ্যতার জন্য এক অশনি সংকেত।এবি
যৌন নিপীড়কের নথিতে রাজকন্যা, রাজপুত্ররা যে কারণে আলোচনায়
মার্কিন কর্তৃপক্ষ গত শুক্রবার নতুন করে কিছু নথি প্রকাশ করেছে। সেগুলো কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টেইন ফাইল সংশ্লিষ্ট। নথিগুলোতে কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির ছবিও আছে। এর আগে প্রকাশিত নথির মাধ্যমে আলোচনায় এসেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প থেকে শুরু করে মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস, বাণিজ্য সচিক হাওয়ার্ড লুটনিক ও ব্রিটিশ ব্যবসায়ী রিচার্ড ব্র্যানসন। নতুন প্রকাশিত নথির মাধ্যমে আলোচনায় আসা ব্যক্তিরা কীভাবে এপস্টেইনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তা তুলে ধরা হলো। নরওয়ের রাজকন্যাসম্প্রতি প্রকাশিত কয়েক লাখ নথিতে নরওয়ের রাজকন্যা মেটে-মারিটের নাম অন্তত ১ হাজার বার এসেছে। দেশটির গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এপস্টেইন ও মেটের মধ্যে আদান-প্রদান হওয়া ইমেইলগুলো ২০১১ থেকে ২০১৪ সালের। একটি ইমেইলে মেটে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘আমার ১৫ বছর বয়সী ছেলের ওয়ালপেপারের জন্য সার্ফবোর্ড বহনকারী দুই নারীর নগ্ন ছবি দেওয়া কি কোনো মায়ের জন্য অশোভন হবে?’মেটের ছেলে মারিয়াস বর্গ হোইবি বর্তমানে ২৯ বছর বয়সী। চার নারীকে ধর্ষণসহ মোট ৩৮টি অপরাধের অভিযোগে ওসলোর জেলা আদালতে তাঁর বিচার প্রক্রিয়া শুরুর অপেক্ষায়। এরমধ্যেই ছেলেকে নিয়ে এপস্টেইনের সঙ্গে মেটের বার্তা আদান-প্রদানের তথ্য সামনে এলো।নথি প্রকাশের পর গত শনিবার মেটে-মারিট বলেন, ‘এপস্টাইনের সঙ্গে যে কোনো ধরণের যোগাযোগ রাখার জন্য আমি গভীরভাবে অনুতপ্ত। আমার বিচারবুদ্ধি তখন ঠিক ছিল না।’ নরওয়ের রাজপ্রাসাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালে এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন মেটে-মারিট। তাঁর তখন মনে হয়েছিল, রাজকন্যার সঙ্গে যোগাযোগকে অন্য মানুষদের সামনে নিজের ব্যক্তিগত প্রভাব হিসেবে উপস্থাপন করতেন এপস্টেইন।সাবেক ব্রিটিশ রাজপুত্রএপস্টেইন কেলেঙ্কারিতে আবারও ফেঁসে গেছেন ব্রিটিশ রাজ পরিবারের সাবেক সদস্য প্রিন্স অ্যান্ড্রু। নতুন ছবিতে দেখা যাচ্ছে, পৃথকভাবে মেঝেতে শুয়ে থাকা চার নারীর ওপর হাঁটু গেড়ে বসে আছেন অ্যান্ড্রু। ছবিগুলো কবে তোলা তা জানা যায়নি।গত বছরের অক্টোবরে রাজা তৃতীয় চার্লস তাঁর ভাই অ্যান্ড্রুর রাজকীয় পদবি ও সম্মাননা বাতিল করেন। তবে এখনও তিনি প্রিন্স অ্যান্ড্রু নামেই বেশি পরিচিত। মৃত্যুর আগে ভার্জিনিয়া জুফ্রে নামে এক নারী অভিযোগ করেছিলেন, তাঁকে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সঙ্গে তিনবার যৌন সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করা হয়েছিল। এর মধ্যে দুটি ঘটনা তাঁর ১৭ বছর বয়সের।নতুন নথি প্রকাশের পর অ্যান্ড্রুকে নিয়ে শনিবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের কাছে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা। জবাবে স্টারমার বলেন, তিনি মনে করেন মার্কিন কংগ্রেসে অ্যান্ড্রুর সাক্ষ্য দেওয়া উচিত। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত সাবেক ব্রিটিশ দূতওয়াশিংটনে এক সময় ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত ছিলেন পিটার ম্যান্ডেলসন। এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগে গত বছর তাঁকে দায়িত্ব থেকে বরখাস্ত করা হয়। নতুন নথি ফাঁসের পর রোববার লেবার পার্টি থেকেও পদত্যাগ করেছেন পিটার। ব্রিটিশ গণমাধ্যমে প্রকাশিত ব্যাংকিং রেকর্ড অনুযায়ী, ২০০৩ ও ২০০৪ সালে এপস্টাইনের অ্যাকাউন্টে ম্যান্ডেলসন ৭৫ হাজার ডলার স্থানান্তর করেছিলেন। যদিও তিনি বিবিসিকে জানিয়েছেন, এ ধরণের লেনদেনের রেকর্ড তাঁর কাছে নেই।লেবার পার্টির সাধারণ সম্পাদকের কাছে লেখা এক চিঠিতে ম্যান্ডেলসন বলেন, ‘যেসব অভিযোগকে আমি মিথ্যা বলে বিশ্বাস করি, সেগুলো তদন্ত করা প্রয়োজন।’ ম্যান্ডেলসন উল্লেখ করেন, দলকে বিব্রতকর পরিস্থিতি থেকে বাঁচাতে তিনি পদত্যাগ করছেন।নতুন প্রকাশিত ছবিতে টি-শার্ট ও অন্তর্বাস পরা এক নারীর পাশে ম্যান্ডেলসনকে দেখা গেছে। ওই নারীর মুখের অংশ মার্কিন কর্তৃপক্ষ অস্পষ্ট করে দিয়েছে। ম্যান্ডেলসন বিবিসিকে বলেছেন, তিনি ওই নারীকে চিনতে পারছেন না। জায়গাটি কোথায় তাও শনাক্ত করতে পারছেন না।এপস্টেইনের দ্বারা ভুক্তভোগীদের কাছে গত জানুয়ারিতে ক্ষমা চেয়েছিলেন ম্যান্ডেলসন।এবি
এআই দিয়ে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা খুঁজবে ভারত
ভারতে কয়েক মাস ধরে নাগরিকত্ব শনাক্ত নিয়ে বিশেষ কর্মসূচি চলছে। এর অংশ হিসেবে অবৈধভাবে বসবাসকারী অভিবাসী হিসেবে আটকের পর অনেককে সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন ক্যাম্পে আটক রাখার ঘটনাও ঘটছে। এ কার্যক্রম নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের মধ্যেই নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটির মহারাষ্ট্র প্রশাসন। বেআইনিভাবে বসবাসকারী বাংলাদেশি এবং রোহিঙ্গাদের চিহ্নিত করতে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করবে তারা। খবর বিবিসির।বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে অবৈধ অভিবাসী সন্দেহে মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন বাসিন্দার নথিপত্র যাচাই করছে পুলিশ। এরপর বেআইনিভাবে সেখানে বসবাসকারী বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা চিহ্নিত করতে এআই কাজে লাগানোর কথা বলা হয়েছে।এনডিটিভির এক অনুষ্ঠানে সম্প্রতি মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেভেন্দ্র ফডনবীশ ঘোষণা করেন যে, মুম্বাই প্রশাসনের হয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা চিহ্নিত করার কাজটি করছে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (আইআইটি)। তবে প্রযুক্তিটি কীভাবে ব্যবহার করা হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে আইআইটি মুম্বাইয়ের কাছ জানতে চাওয়া হলেও কোনো প্রশ্নের জবাব তাৎক্ষণিক পাওয়া যায়নি।কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন যে, সম্ভবত একজন বাংলাদেশি বা একজন রোহিঙ্গা কীরকম দেখতে হন, তারা কীভাবে কথা বলেন, কেমন পোশাক পরেন, কোন অঞ্চলের বাসিন্দা- এরকম নানা তথ্য দেওয়া থাকবে এআই টুলকে। এছাড়া তাদের সঙ্গে বাংলায় কথা বলার ধরনও শেখানো হবে যন্ত্রকে। তবে এ প্রক্রিয়ায় নির্ভুলভাবে বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিত করা প্রায় অসম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন এআই বিশেষজ্ঞরা।দীর্ঘদিন ধরে নাগরিকত্ব নিয়ে আন্দোলন ও গবেষণা করা অর্থনীতিবিদ প্রসেনজিৎ বসু প্রশ্ন তুলছেন, ‘কোটি কোটি টাকা খরচ করে বিভিন্ন রাজ্যে তো ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধন করা হয়েছে বা কাজ চলছে, সেখানে কতজন বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা পাওয়া গেল? সেই হিসাব আগে সরকারগুলো দিক। এসআইআরের (ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিশেষ কর্মসূচি) মতো প্রক্রিয়াতেও বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী বা রোহিঙ্গা পাওয়া গেল না, আর এখন আবার এআই টুল আনা হচ্ছে। পুরোটাই একটা মিথ্যাচার।এর আগে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী গত জানুয়ারির মাঝামাঝি এনডিটিভির এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা চিহ্নিত করার বিষয়টি জানিয়েছিলেন। এনডিটিভির ওয়েবসাইটে ওই খবরের প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে: ‘মুখ্যমন্ত্রী ফডনবীশ বলেছেন, একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার টুল তৈরি করা হচ্ছে, যেটা দিয়ে রাজ্যে বেআইনি বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করা যাবে।’কলকাতা ভিত্তিক ‘মিডিয়াস্কিল্স ল্যাব’– এর প্রতিষ্ঠাতা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশেষজ্ঞ জয়দীপ দাশগুপ্ত বলেন, ‘আমরা এটাকে লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল বলি। ’তার কথায়, ‘ধরুন যন্ত্রকে শিখিয়ে দেওয়া হবে যে একজন টিপিকাল বাংলাদেশি মুসলমান কেমন দেখতে হন– তিনি টুপি পরেন কিনা, গোঁফ ছাড়া দাড়ি রাখেন কিনা বা নারীদের ক্ষেত্রে বোরকা পরেন কিনা, কীভাবে কথা বলেন– হয়ত এসব তথ্য শেখানো হবে। সেগুলোর ওপরে ভিত্তি করে যন্ত্র ঠিক করবে যে একজন ব্যক্তি বাংলাদেশি না রোহিঙ্গা না ভারতীয়। অর্থাৎ বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের প্রোফাইল ঠিক করা হবে সম্ভবত।’তিনি আরও বলেন, কিন্তু এখানে সমস্যাটা হচ্ছে একই ধরনের দাড়ি রাখা বা টুপি পরা তো ভারতের বাংলাভাষী মুসলমানেরও অভ্যাস। আবার বহু হিন্দুও তো দাড়ি রাখেন, নানা ধরনের টুপি পরেন। তাহলে যন্ত্র একজন বাংলাদেশি মুসলমানের সঙ্গে একজন ভারতীয় মুসলমান বা ভারতীয় হিন্দুর পার্থক্য বুঝবে কী করে?’মহারাষ্ট্রে এআই প্রযুক্তি দিয়ে নাগরিকত্ব শনাক্তের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে তথ্য প্রযুক্তি ক্ষেত্রের বড় বহুজাতিক কোম্পানির প্রিন্সিপাল সায়েন্টিস্ট অরিজিৎ মুখার্জী বলেন, ‘বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা চিহ্নিত করার জন্য যে তথ্য দেওয়া হবে যন্ত্রকে, সেখানে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কাজ করবে না তো’। তিনি বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সবকিছুই নির্ভর করে তাকে কী ধরনের তথ্য দেওয়া হচ্ছে, যাকে আমরা ট্রেনিং ডেটা বলি, তার ওপরে। এ ধরনের একটা কাজ করতে গেলে লাখ লাখ কথার নমুনা শেখাতে হবে যন্ত্রকে। সেগুলোর পৃথকীকরণ কারা করবে? সেখানে যে রাজনৈতিক পক্ষপাত হবে, তা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়। তাই ফলাফলও পক্ষপাতদুষ্ট হবে।’বাংলাদেশ আর ভারতের সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোতে অনেক জায়গাতেই বাংলা ভাষায় কথা বলেন মানুষ। যেমন বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলের ভাষায় ভারতের ত্রিপুরা বা আসামের বরাক উপত্যকার বহু মানুষ কথা বলেন। একইভাবে রাজশাহীর দিকে যে ভাষায় কথা বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ অঞ্চলের মানুষের মুখের ভাষাও এক।আবার ভারতের মধ্যেও একেকটি অঞ্চলের বাঙালিদের মুখের ভাষা একেকরকম। পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া জেলার মানুষ যেভাবে কথা বলেন, তা কলকাতার মানুষের কথার থেকে আলাদা। আবার কলকাতার মানুষের মুখের ভাষার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলীয় শিলিগুড়ির মানুষের কথা বলার ধরন ভিন্ন।সায়েন্টিস্ট অরিজিৎ বলেন, পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার আর বাংলাদেশের লালমনিরহাটের মানুষের মুখের ভাষা কি আলাদা করা যায়? মানুষের কথা বলার ভাষা তো আর রাজনৈতিক সীমারেখা মানে না। তাই এআই দিয়ে ‘বাংলাদেশিদের মুখের ভাষা’ আলাদাভাবে চেনা স্বপ্নই থেকে যাবে।রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের আশঙ্কাএআই বিশেষজ্ঞদের কথায় বোঝা যাচ্ছে, যেভাবে একজন ব্যক্তিকে বাংলাদেশি বলে চিহ্নিত করা হতে পারে, সেখানে যে ভারতীয় মুসলমান– এমনকি ভারতীয় হিন্দুও ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে যেতে পারেন।নাগরিকত্ব ইস্যু নিয়ে যারা আন্দোলন করছেন কয়েক বছর ধরে, তারা প্রশ্ন তুলছেন, পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন রাজ্যে তো ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া চলছে– তাতে কত বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা খুঁজে বের করা গেছে? এখন এআই টুল দিয়ে কি আদৌ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী সঠিকভাবে শনাক্ত করা যাবে?অর্থনীতিবিদ ও সদ্য কংগ্রেস দলে যোগ দেওয়া প্রসেনজিৎ বসু বলেন, ‘বহু অর্থ ব্যয় করে তো পশ্চিমবঙ্গ, উত্তর প্রদেশ, তামিলনাড়ুসহ বিভিন্ন রাজ্যে এসআইআর বা নাগরিকত্ব যাচাই করা হচ্ছে অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিত করার জন্য! কত জনকে ধরা গেল– সেই হিসাব দেওয়া হোক আগে।’গত প্রায় ১০ মাসে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে যেখানে দেখা গেছে, পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের বাংলাাভাষী মুসলমানদের বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে আটক করে রাখা হয়েছে, অনেককে আইনসিদ্ধ পদ্ধতির বাইরে গিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো হয়েছে।যদিও যাদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাদের অনেকে সত্যিই বেআইনিভাবে ভারতে বসবাস করছিলেন, কিন্তু একাধিক ঘটনায় প্রমাণ পাওয়া গেছে যে, সত্যিকারের ভারতীয় বাংলাভাষী মুসলমানদেরও ‘অনুপ্রবেশকারী’ তকমা দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো হয়েছে।এবি
৯ বছর প্রেমের পর বিয়ে, রেশ না কাটতেই ২ মাসের মাথায় স্বামীকে হত্যা
উত্তরপ্রদেশের বেরেলিতে একটি মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ৯ বছরের দীর্ঘ প্রেমের পর হওয়া বিয়ের মাত্র দুই মাসের মাথায় স্ত্রীর হাতে প্রাণ হারিয়েছেন স্বামী। ৩৩ বছর বয়সী জিতেন্দ্র কুমার যাদবকে গত ২৬ জানুয়ারি ইজ্জতনগর এলাকার একটি ভাড়া বাসায় মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। শুরুতে প্রতিবেশীদের জানানো হয়েছিল জিতেন্দ্র গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। কিন্তু ময়নাতদন্তের রিপোর্টে ‘শ্বাসরোধ করে হত্যা’র প্রমাণ মেলায় পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে এক শিউরে ওঠার মতো তথ্য।পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী গত ২৫ নভেম্বর জিতেন্দ্র এবং জ্যোতির বিয়ে হয়েছিল ছাত্রজীবনের দীর্ঘ সম্পর্কের পরিণতি হিসেবে। তবে বিয়ের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই টাকা নিয়ে তাদের মধ্যে তিক্ততা শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, জিতেন্দ্র জ্যোতির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে ২০ হাজার টাকা তুলে অনলাইন জুয়ায় হেরে যান, যা নিয়ে তাদের মধ্যে নিয়মিত ঝগড়া হতো। গত ২৬ জানুয়ারি এই বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক চরমে পৌঁছালে জ্যোতি তার বাবা কালীচরণ, মা চামেলি এবং ভাই দীপককে ডেকে পাঠান।তদন্তে উঠে এসেছে, জ্যোতির পরিবারের সদস্যরা বাসায় আসার পর জিতেন্দ্রর সঙ্গে তাদের হাতাহাতি হয়। এক পর্যায়ে জ্যোতির বাবা, মা এবং ভাই জিতেন্দ্রর হাত-পা চেপে ধরেন এবং সেই অবস্থায় জ্যোতি তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার জন্য জিতেন্দ্রর গলায় একটি মাফলার পেঁচিয়ে জানালার গ্রিলের সঙ্গে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। এরপর তারা প্রতিবেশীদের ডেকে নাটক করেন যে জিতেন্দ্র আত্মহত্যা করেছেন।শুরুতে পুলিশ একে আত্মহত্যার প্ররোচনা হিসেবে মামলা করলেও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পর তা সরাসরি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জ্যোতি নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন এবং জানিয়েছেন যে ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে তিনি এই কাজ করেছেন।জিতেন্দ্র বেরেলির ইন্ডিয়ান ভেটেরিনারি রিসার্চ ইনস্টিটিউটে চুক্তিবদ্ধ কর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং জ্যোতি উত্তরপ্রদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশনে কন্ডাক্টর হিসেবে কাজ করতেন। এই ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যে জ্যোতি ও তার বাবা-মাকে গ্রেফতার করেছে, তবে তার ভাই দীপক এখনও পলাতক রয়েছে।সূত্র: এনডিটিভি। এবি
ইরান যুদ্ধ নিয়ে ভীত নয়, উদ্বেগ অন্য জায়গায়: আরাগচি
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, তার দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধে ভয় পাচ্ছে না, বরং উদ্বিগ্ন হচ্ছে তাদের কথা চিন্তা করে— যারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে যুদ্ধের জন্য মুখোমুখি অবস্থানে নিয়ে যেতে ইন্ধন দিচ্ছেন।গত কাল রোববার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানে তিনি বলেছেন, “আমি যুদ্ধ নিয়ে উদ্বিগ্ন নই, বরং আমার উদ্বেগ হলো ইরান ইস্যুতে ওয়াশিংটনের সার্বিক পরিস্থিতি যথাযথভাবে যাচাই না করা এবং ভুল ও অসম্পূর্ণ তথ্যের ওপর নির্ভর করার প্রবণতা। এটা নিশ্চিত যে কিছু মহল, গোষ্ঠী অবশ্যই আছে— যারা শুধুমাত্র নিজেদের স্বার্থের জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তবে আমার মনে হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অন্যের কথায় প্রভাবিত না হয়ে নিজে চিন্তা-ভাবনা করবেন।”প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সংলাপ সম্পর্কিত এক প্রশ্নের উত্তরে সিএনএনকে সৈয়দ আরাগচি বলেন, “একটি অর্থপূর্ণ আলোচনার ভিত্তি হলো আস্থা এবং দুর্ভাগ্যবশত, আমরা আলোচনার সঙ্গী কিংবা অংশীদার হিসেবে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলেছি। তাই যে কোনো সংলাপের আগে প্রথম কাজ হলো এই আস্থার সংকট দূর করা।”“কিছু মিত্রস্থানীয় দেশ এ ব্যাপারে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতা করছে। তারা আমাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। এটা কঠিন, কিন্তু তারা চেষ্টা করছে। আমার মনে হয়, যদি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আলোচক দল একটি সুষ্ঠু ও ন্যায়সঙ্গত সমঝোতা চুক্তির প্রস্তাব নিয়ে এগিয়ে আসে— তাহলে ফের আলোচনা হতে পারে।”“মানে আমরা চাই— যুক্তরাষ্ট্র আমাদের ওপর থেকে তার নিষেধাজ্ঞাগুলো প্রত্যাহার করে নিক। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ‘নো নিউক্লিয়ার উইপন’ এবং আমরা তার সঙ্গে, তার এ আহ্বানের সঙ্গে পুরোপুরি একমত। আমরা কখনও পরমাণু অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা করব না…শুধু তার বিনিময়ে যেন ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলো প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।”“যুক্তরাষ্ট্র যদি চায়, তাহলে এমন একটা সমঝোতা হতে পারে। সেই সুযোগ এখনও ভালোভাবেই আছে।”যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরাকে হামলা করে, তাহলে ব্যাপক বিপর্যয় ঘটবে বলে সতর্কবার্তাও দিয়েছেন সৈয়দ আরাগচি। সিএনএনকে তিনি বলেছেন, “গত বছর জুন মাসে যে ১২ দিনের সংঘাত হয়েছিল— সেটি ছিল মূলত ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ ছিল। পরে শেষ পর্যায়ে এতে যুক্তরাষ্ট্র যোগ দেয়। এ কারণে সেই সংঘাত ছড়িয়ে পড়তে পারেনি।”“তবে যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে হামলা করে, তাহলে তা হবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ। সেই ক্ষেত্রে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে এই যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার সমূহ আশঙ্কা রয়েছে।”সূত্র : এএনআইএবি
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা শুরুর নির্দেশ দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনা শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি) দেশটির বার্তা সংস্থা ফার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানায়। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক পদক্ষেপ এড়াতে একটি চুক্তি হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদ প্রকাশ করেছিলেন।ফার্সের প্রতিবেদনে নাম প্রকাশ না করা এক সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার দ্বার উন্মুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনা করবে, যদিও আলোচনার কোনো তারিখ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।এই প্রতিবেদনটি সরকারি পত্রিকা ‘ইরান’ ও সংস্কারপন্থি দৈনিক ‘সার্ঘ’ এও প্রকাশিত হয়েছে।এমআর-২
এপস্টেইন ফাইলস ঘিরে ব্রিটেনে তোলপাড়, দল থেকে সাবেক মন্ত্রীর পদত্যাগ
কুখ্যাত যৌন অপরাধী এপস্টেইনের নথিতে নাম আসার পর যুক্তরাজ্যে লেবার পার্টি থেকে পদত্যাগ করেছেন সাবেক মন্ত্রী লর্ড ম্যান্ডেলসন। তিনি বলেন, নতুন করে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরির কারণ তিনি হতে চান না। এপস্টেইনের সঙ্গে অতীতে যোগসূত্র থাকায় গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূতের পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ নতুন করে যেসব নথি প্রকাশ করেছে সেখানেও তার নাম এসেছে। এসব নথি অনুযায়ী, ২০০৩ ও ২০০৪ সালে এপস্টেইন ২৫ হাজার ডলার করে তিন দফায় লর্ড ম্যান্ডেলসনকে মোট ৭৫ হাজার ডলার দিয়েছিলেন।লেবার পার্টির জেনারেল সেক্রেটারিকে দেওয়া চিঠিতে লর্ড ম্যান্ডেলসন জানান, এই সপ্তাহে জেফরি এপস্টেইনকে নিয়ে তৈরি হওয়া ক্ষোভের সঙ্গে আমি আবারও যুক্ত হয়ে পড়েছি। এতে আমি অনুতপ্ত বোধ করছি এবং এ বিষয়ে দুঃখিত।তিনি বলেন, কুড়ি বছর আগে আমাকে অর্থ দেওয়ার অভিযোগ মিথ্যা বলেই আমি বিশ্বাস করি। এর কোনও প্রমাণ নেই এবং আমি মনে করতে পারছি না। এগুলো আমাদের যাচাই করে দেখতে হবে। এটি করার সময় আমি লেবার পার্টির জন্য নতুন করে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করতে চাই না এবং সেজন্য আমি দলের সদস্যপদ থেকে সরে যাচ্ছি।ম্যান্ডেলসন বলেন, আমি আবারও সেই নারী ও মেয়েদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার সুযোগ নিতে চাই, যাদের কথা অনেক আগেই শোনা উচিত ছিল। আমি সারা জীবন লেবার পার্টির আদর্শ ও সাফল্যের জন্য নিবেদিত ছিলাম। আর এই সিদ্ধান্ত নিয়ে দলের স্বার্থেই কাজ করছি বলে মনে করছি।এর আগে, রোববার লর্ড ম্যান্ডেলসন বলেছিলেন, নতুন প্রকাশিত নথিগুলো বস্তুনিষ্ঠ কি না সেটি তিনি জানেন না। এপস্টেইনের সাথে পরিচিত হবার জন্যই আবারও দুঃখ প্রকাশ করেছেন তিনি।এপস্টেইন দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরও তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন তিনি। পাশাপাশি তিনি স্পষ্টভাবে ভুক্তভোগী নারী ও মেয়েদের কাছে ক্ষমা চান। লেবার দলের এমপি গর্ডন ম্যাকি বিবিসি রেডিও ৪’কে বলেন, এপস্টেইন-সংক্রান্ত সাম্প্রতিক তথ্য প্রকাশ পাওয়ায় তার ভুক্তভোগীরা ন্যায্যভাবেই ক্ষুব্ধ হবেন। তিনি বলেন, লর্ড ম্যান্ডেলসন লেবার পার্টি থেকে পদত্যাগ করে সঠিক কাজই করেছেন।কনজারভেটিভ পার্টির এক মুখপাত্র প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সমালোচনা করে বলেন, ম্যান্ডেলসনকে বহিষ্কার না করে তাকে নিজে থেকে পদত্যাগ করতে দেওয়াটা ভুল ছিল। এর আগে রোববার কনজারভেটিভ নেতা কেমি ব্যাডেনক দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী যেন লর্ড ম্যান্ডেলসনের পার্টি সদস্যপদ স্থগিত করেন এবং এপস্টেইনের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে তদন্ত শুরু করেন।এদিকে, হাউজিং সেক্রেটারি স্টিভ রিড বলেন, লর্ড ম্যান্ডেলসনের সঙ্গে এপস্টেইনের কথিত আর্থিক সম্পর্কের বিষয়ে সরকার আগে কিছু জানত না। বিবিসির লরা কুনসবার্গ এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি এ কথা বলেন।লর্ড ম্যান্ডেলসনের দীর্ঘকাল ধরেই লেবার পার্টির সাথে যুক্ত থাকার ইতিহাস আছে। তার দাদা হার্বার্ট মরিসন ১৯৪৫ সালে ক্লেমেন্ট অ্যাটলির সরকারের একজন মন্ত্রী ছিলেন। লর্ড ম্যান্ডেলসন ১৯৮০-এর দশক থেকেই লেবার পার্টির হয়ে কাজ শুরু করেন।স্টারমার তাকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তাকে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত হিসেবে ওয়াশিংটনে পাঠিয়েছিলেন। যদিও পরের বছরের সেপ্টেম্বরে এপস্টিনের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব নিয়ে নতুন তথ্য প্রকাশ পাওয়ার পর তাকে ওই পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়।যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে তিনি হাউস অব লর্ডস থেকে ছুটিতে ছিলেন। ই-মেইলে জানা যায়, ২০০৮ সালে এপস্টেইন দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরও লর্ড ম্যান্ডেলসন তার সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন এবং তাকে সমর্থনমূলক বেশ কয়েকটি বার্তাও পাঠান।এপস্টেইন ২০০৮ সালে সমঝোতার মাধ্যমে দোষ স্বীকার করেছিলেন। তিনি সে সময় কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। পরে ২০১৯ সালে যৌন পাচারের মামলা বিচার শুরুর অপেক্ষায় থাকাকালে নিউইয়র্কের একটি কারাগারে এপস্টেইনের মৃত্যু হয়।যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সবশেষ যেসব নথি প্রকাশ করেছে সেগুলো এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত প্রকাশিত সবচেয়ে বড়সংখ্যক নথি। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে প্রথম উঠে আসে, এসব নথির মধ্যে থাকা ব্যাংক স্টেটমেন্টে এপস্টেইনের জেপি মরগান ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে লর্ড ম্যান্ডেলসনের নামে তিনটি আলাদা অর্থপ্রদানের তথ্য আছে।লর্ড ম্যান্ডেলসন সে সময় হার্টলপুলের লেবার এমপি ছিলেন। তবে এই তিনটি পেমেন্টের অর্থ আদৌ সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলোতে জমা হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত নয়।সর্বশেষ নথিতে যুক্তরাষ্ট্রে সাবেক ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত লর্ড ম্যান্ডেলসনের কিছু ছবিও পাওয়া গেছে, যেখানে তাকে অন্তর্বাস পরা অবস্থায় দেখা যায়। যদিও এটি পরিষ্কার নয় যে কোথায় এগুলো তোলা হয়েছে।এমআর-২
এবার কিউবাকে আল্টিমেটাম দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
ভেনেজুয়েলায় অভিযান চালানোর পর এবার কিউবা-কে আল্টিমেটাম দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, যদি ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিতে না আসে হাভানা, তাহলে নিকট ভবিষ্যতে মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে পড়বে কিউবা।চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই আদেশে বলা হয়, কোনো দেশ যদি কিউবায় তেল রপ্তানি করে— তাহলে সেই দেশের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হবে।ট্রাম্প এই আদেশে স্বাক্ষরের পর মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শিনবাউম সম্প্রতি এক বিবৃতিতে এ প্রসঙ্গে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের এই নির্দেশের সরাসরি প্রভাব পড়বে কিউবার হাসপাতাল, খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাসহ কিউবার জনগণের মৌলিক পরিষেবাগুলোতে। এর জেরে অচিরেই দেশটিতে বড় আকারে মানবিক বিপর্যয়কর পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।রোববার ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের কাছে সাংবাদিকরা কিউবা সংক্রান্ত নির্বাহী আদেশ এবং মেক্সিকোর প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চান। জবাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “বেশ, কিউবা যদি আমাদের কাছে আসে এবং একটি সমঝোতা বা চুক্তিতে পৌঁছাতে চায়, তাহলে আমার মনে হয় না যে কোনো মানবিক বিপর্যয় দেখা দেবে। কারণ সেক্ষেত্রে সব কিছু আবার আগের মতো স্বাভাবিক অবস্থায় চলতে থাকবে।”“আমাদের একটা ব্যাপার অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে কিউবার বর্তমান পরিস্থিতি বেশ খারাপ। তাদের অর্থ নেই, তেল নেই…এতদিন তারা ভেনেজুয়েলার তেল ও অর্থের ওপর নির্ভরশীল ছিল। সে দু’টোর কোনোটাই এখন নেই।” গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে নিয়ে আসে মার্কিন সেনারা। বর্তমানে তারা নিউইয়র্ক সিটির ফেডারেল কারাগারে বন্দি আছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশেই এ অভিযান পরিচালিত হয়েছিল।ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযানের পর দেশটির জ্বালনি তেলের উত্তোলন, পরিশোধন ও বিক্রয়ের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সর্বময় কর্তৃত্ব আরোপ করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এই কর্তৃত্ব অনির্দিষ্টকালের জন্য থাকবে বলে ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি।কিউবার কাছ থেকে ঠিক কী চান— তা স্পষ্ট করেননি ট্রাম্প। তবে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, যদি কিউবা চুক্তিতে না আসতে চায়— সে ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী কিউবান নাগরিকদের ‘পুশ ইন’ করা হতে পারে।”“আমি আশা করছি যে নিকট ভবিষ্যতে কিউবা একটি সমঝোতায় আসতে চাইবে। যদি তা না হয়, তাহলে দেশটির প্রচুর সংখ্যক মানুষ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন, তাদের আমরা কিউবায় ফেরত পাঠানো শুরু করব।”এমআর-২
ইউরোপীয় রাষ্ট্রদূতদের তলব করল ইরান
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-কে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করার প্রতিবাদে তেহরানে থাকা সব ইউরোপীয় দেশের রাষ্ট্রদূতদের তলব করেছে ইরান।সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এ তথ্য জানান।ইইউ’র এই সিদ্ধান্তকে ‘একটি কৌশলগত ভুল’ এবং ‘ইরানের প্রতি অপমান’ বলে অভিহিত করেছেন বাঘাই। তিনি জানান, রাষ্ট্রদূতদের তলব করা ছিল ‘ন্যূনতম পদক্ষেপ’ এবং এর জবাবে (আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা) তেহরান আরও কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে। এর আগে, ইউরোপীয় দেশগুলোর সেনাবাহিনীকে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ হিসেবে ঘোষণা করে ইরান। রোববার (১ জানুয়ারি) ইরানি সংসদের স্পিকার এই তথ্য জানান। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা করার পর তেহরানের এই পাল্টা সিদ্ধান্ত এলো। এদিকে, চলমান উত্তেজনা মধ্যে পরমাণু চুক্তি ইস্যুতে আলোচনায় বসার ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। চলতি সপ্তাহেই দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে তুরস্কের আঙ্কারায় বৈঠক আয়োজনের চেষ্টা করছে কয়েকটি দেশ। একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তারা চলতি সপ্তাহেই ইরানের সঙ্গে এই ধরনের আলোচনা শুরু করতে চায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, তুরস্ক, মিশর ও কাতার যৌথভাবে চলতি সপ্তাহে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় এই বৈঠকটি আয়োজনের উদ্যোগ নিচ্ছে। প্রস্তাবিত এ বৈঠকে হোয়াইট হাউসের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অংশ নিতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা অ্যাক্সিওসকে জানান, পরমাণু চুক্তির আহ্বান জানিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য এবং বিপরীতে সামরিক অভিযানের হুমকি কোনো প্রতারণামূলক কৌশল নয়। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে। ট্রাম্প নিজেই একে ‘বিশাল নৌবহর’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে, যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করলে এটি একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে পরিণত হবে বলে সতর্ক করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি। এমআর-২
বিল গেটসকে ‘গোপন রোগের’ ওষুধ জোগাড় করে দিতেন এপস্টেইন
রাশিয়ার মেয়েদের সঙ্গে যৌন সম্পর্কে জড়াতেন মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। কুখ্যাত এপস্টেইন ফাইলে এমন তথ্য জানা গেছে। সেই সময় তিনি একবার যৌনরোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছিলেন এবং ওষুধ জোগাড় করে দিতেন এপস্টেইন।যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের প্রকাশিত বহুল আলোচিত ওই নথিতে ওঠা অভিযোগগুলোর জবাবে বিল গেটস জানান, এসব দাবি ‘সম্পূর্ণ হাস্যকর এবং পুরোপুরি মিথ্যা।’নথিতে বলা হয়েছিল, ‘রুশ মেয়েদের’ সঙ্গে যৌন সম্পর্কে জড়ানোর পর যৌনবাহিত রোগে (এসটিডি) আক্রান্ত হয়ে গেটস নাকি সমস্যায় পড়েছিলেন। গেটসের এক মুখপাত্র এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন।গেটসের মুখপাত্র জানান, এই নথিগুলো কেবল এটুকুই প্রমাণ করে যে এপস্টেইন গেটসের সঙ্গে স্থায়ী কোনো সম্পর্ক গড়ে তুলতে না পেরে হতাশ ছিলেন এবং ফাঁদে ফেলতে ও মানহানি করতে তিনি কত দূর যেতে পারেন।এই নতুন অভিযোগগুলো সামনে আসে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জেফরি এপস্টেইন–সংক্রান্ত তদন্তের সঙ্গে যুক্ত বিপুল পরিমাণ নথি প্রকাশ করার পর। এতে প্রায় ৩০ লাখ পৃষ্ঠার নথি, ২ হাজার ভিডিও এবং ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।নথিগুলোর মধ্যে এমন একটি খসড়া বিবৃতি পাওয়া যায়, যা এপস্টেইন গেটসের দীর্ঘদিনের বিজ্ঞানবিষয়ক উপদেষ্টা বরিস নিকোলিচের নামে লেখার চেষ্টা করেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওই খসড়ায় দাবি করা হয়, গেটসের হয়ে নানা কর্মকাণ্ডে তিনি জড়িত ছিলেন—যার মধ্যে ছিল কথিতভাবে ‘রুশ মেয়েদের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের পর সৃষ্ট সমস্যার মোকাবিলায়’ গেটসকে ওষুধ জোগাড় করে দেওয়া।নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, এপস্টেইন নিজের সুনাম বাঁচাতে গেটস তাকে ছেড়ে দেওয়ায় ক্ষুব্ধ ছিলেন। এক ইমেইলে এপস্টেইন লেখেন, ছয় বছরের সম্পর্ক গড়ে ওঠার পরও গেটস তাদের বন্ধুত্বকে ‘অগ্রাহ্য ও পরিত্যাগ’ করেছেন।২০২১ সালে গেটস সিএনএনকে বলেছিলেন, এপস্টেইনের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল ‘একটি বড় ভুল’। তিনি দাবি করেন, গেটস ফাউন্ডেশনের জন্য অনুদান পাওয়ার আশায় তিনি এপস্টেইনের সঙ্গে কয়েকবার নৈশভোজে অংশ নিয়েছিলেন।এপস্টেইনের সঙ্গে গেটসের বন্ধুত্বই গেটস ও তার সাবেক স্ত্রী মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটসের বিচ্ছেদের একটি কারণ ছিল বলেও জানা যায়।সাম্প্রতিক নথি প্রকাশে আরও দেখা যায়, এতে বহু উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তির নাম রয়েছে—যাদের মধ্যে আছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, টেসলার প্রধান ইলন মাস্ক, সাবেক প্রিন্স অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর এবং খ্যাতিমান ভারতীয়-মার্কিন চলচ্চিত্র নির্মাতা মীরা নায়ার।এমআর-২
বিনোদন
সব দেখুন
জেলে যাওয়ায় কাছের বন্ধুরাও নুসরাত ফারিয়ার সঙ্গে ছবি মুছে ফেলেন
গ্রেপ্তার ও কারাবাসের দীর্ঘ কয়েকমাস পর অবশেষে সম্প্রতি পডকাস্টে সেই অভিজ্ঞতার কথা সামনে আনলেন ঢালিউড চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়া। বিমানবন্দরে নাটকীয়ভাবে গ্রেপ্তার হওয়া এবং পরবর্তী ২ দিনের জেলজীবন তার জীবনের অনেক চেনা মানুষকে নতুন করে চিনিয়েছে। শুটিংয়ের উদ্দেশ্যে থাইল্যান্ড যাওয়ার সময় বিমানবন্দরে গিয়েই তিনি প্রথম পরিস্থিতির ভয়াবহতা টের পান।ফারিয়া জানান, তার বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছে- এমন খবর তিনি আগেই শুনেছিলেন। তবে সে সময় দেশের বাইরে থাকায় বিষয়টি নিয়ে খুব একটা গুরুত্ব দেননি। ফারিয়া বলেন, গানের শুটিংয়ের জন্য থাইল্যান্ড যাচ্ছিলাম। ইমিগ্রেশনে যাওয়ার আগ পর্যন্ত ভাবিনি এমন কিছু হতে পারে। পুলিশ যখন আমাকে আটকে দিল, আমি ভেবেছিলাম হয়তো কোনো ভুল হচ্ছে।কিন্তু তারা যখন আমাকে ডিটেনশন রুমে নিয়ে গেল, তখন বুঝতে পারলাম আমি গ্রেপ্তার হতে যাচ্ছি। মুহূর্তের মধ্যে আমার পৃথিবীটা যেন থমকে গিয়েছিল।কারাগার থেকে বের হওয়ার পরের অভিজ্ঞতা জানিয়ে নুসরাত ফারিয়া বলেন, জেলে কাটানো মাত্র দুই দিনেই তিনি জীবনের বড় শিক্ষা পেয়েছেন। সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি ছিল তার চারপাশের মানুষদের আচরণে।এই ঘটনার পর সবচেয়ে কাছের বন্ধুরাও সামাজিক মাধ্যম থেকে তার সঙ্গে থাকা ছবি সরিয়ে ফেলেন। যেন তারা স্পষ্ট করে দিতে চান, এই মুহূর্তে তার সঙ্গে কোনোভাবে যুক্ত থাকতে চান না। অনেকে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন, কারণ তিনি তখন ঝামেলায় ছিলেন। নুসরাত ফারিয়ার ভাষ্য, এই মাত্র ৪৮ ঘণ্টাই আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছে কে আমার আপন, আর কে নয়। ফারিয়া বলেন, যাদের জন্য বছরের পর বছর নিঃস্বার্থভাবে সবকিছু উজাড় করে দিয়েছি, সেই মানুষগুলোর অস্তিত্বও নতুন করে চিনেছি।আজ তারা ফিরতে চাইলেও তাদের গ্রহণ করা সম্ভব হবে না। সম্পর্ক, বন্ধুত্ব, আত্মীয়তা- সবখানেই বড় পরিবর্তন দেখেছি। তবে কিছু মানুষও পেয়েছেন এই ঘটনার পর, যাদের জন্য আপ্লুত এই অভিনেত্রী। ফারিয়া বলেন, এই ঘটনাটার পর যাদের সঙ্গেই আমার দেখা হয়েছে, বয়স্ক মানুষ থেকে শুরু করে বাচ্চা পর্যন্ত- সবার চোখেই আমি সেই দৃষ্টি দেখেছি। যেন তারা বলতে চেয়েছে, আমরা তোমার জন্য দোয়া করেছিলাম, আমরা চাইছিলাম তুমি ফিরে আসো। আমরা বুঝতে পেরেছিলাম, সবকিছু ভুল দিকে যাচ্ছে।উপস্থাপকের প্রশ্নের জবাবে নুসরাত ফারিয়া জানান, এক দিন, এক দিন এক রাত আমাকে জেলে থাকতে হয়েছিল। সেখানে সময় কাটানোর অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ইভেন ইনসাইড দেম… জেলের ভেতরে জেলারের থেকে শুরু করে সবাই যে সহানুভূতি আর ভালোবাসা দিয়ে আমাকে ট্রিট করেছে, আমি বলব- আমি ভেরি ব্লেসড। এটা পুরোপুরি আলাদা এক অভিজ্ঞতা।তবে বিষয়টি খুব বেশি বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করতে চান না জানিয়ে তিনি বলেন, এটা খুব কনফিডেনশিয়াল, সবাই জানুক- আমি তা চাই না। কিন্তু আমি রেসপেক্টেড ছিলাম, আমাকে নাইসভাবে ট্রিট করা হয়েছে। কোনো ধরনের ডিসরেসপেক্ট ছিল না, বরং আমি ভালোবাসাই পেয়েছি।নিজের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার কথাও তুলে ধরেন নুসরাত ফারিয়া বলেন, আমার তো খাওয়াই হজম হয়নি, প্রায় ৪৮ ঘণ্টা আমি কিছু খাইনি। কিন্তু দেখেছি, মানুষজন আমাকে লতি দিয়ে ভাত খাইয়ে দিচ্ছে। সকালে রুটি ছিঁড়ে মিষ্টি কুমড়া দিয়ে খাওয়াচ্ছে।তিনি আরও বলেন, আমি শুধু মনে করতে পারি—আমার চোখ দিয়ে টিয়ারড্রপ পড়ছে, আর ওরা আমাকে খাইয়ে দিচ্ছে। এমন মানুষ, যাদের আমি চিনি না, হয়তো জীবনে আর কখনো দেখবও না। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে নুসরাত ফারিয়া বলেন, আমি মন থেকে দোয়া করি, আল্লাহ যেন তাদের সব কষ্ট দূর করে দেন। কারণ ওই ক্রুশাল মোমেন্টে তারা আমার সঙ্গে কিছু না হয়ে শুধু ভালো আর দয়ালুই ছিল।উল্লেখ্য, গত বছরের ১৮ মে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নুসরাত ফারিয়াকে আটক করা হয়। বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে থাইল্যান্ড যাওয়ার সময় ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে ভাটারা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর ‘হত্যাচেষ্টা’র অভিযোগে ভাটারা থানায় একটি মামলা করা হয়, যেখানে ফারিয়াকে আসামি করা হয়। মামলার নথিতে তাকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির অন্যতম অর্থ জোগানদাতা হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছিল। গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।এইচএ
বিমানবন্দরে নিরাপত্তারক্ষীর হাতে আটকালেন শাহরুখ খান
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে বলিউড মেগাস্টার শাহরুখ খানের নতুন একটি ভিডিও। বিমানবন্দরের চেকিংয়ে ক্যামেরাবন্দি হন এ অভিনেতা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এই সময়ের প্রতিবেদন বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) মুম্বাই বিমানবন্দরে পা রাখেন শাহরুখ। এ সময় নায়ক পরেছিলেন আকাশি রংয়ের হুডি ও জিন্স প্যান্ট। মাথায় কালো টুপিও।ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, মুম্বাই বিমানবন্দরে চেকিংয়ের সময় এক নিরাপত্তারক্ষী তাকে আটকে দেন। হঠাৎ শাহরুখকে সানগ্লাস খুলে ফেলতে বলেন। এমন পরিস্থিতিতে নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে কোনও তর্ক-বিতর্কে জড়াননি অভিনেতা। বরং বিরক্তি প্রকাশ না করে সহযোগিতা করতে যায় তাকে। নিরাপত্তারক্ষীর কথায় সানগ্লাস খুলে হাসেন শাহরুখ। নিরাপত্তা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতেই গার্ডের কাঁধে হাত রেখে চলে যান। এ ভিডিও নেটদুনিয়ায় মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে। বলিউড কিং খ্যাত এ তারকার ব্যবহারে মুগ্ধ নেটিজনরা। প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মন্তব্যের ঘরে এক ভক্ত লেখেন, ‘এই জন্যই তিনি রাজা।’ আরেক জন লেখেন , ‘একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে শাহরুখ খান জানেন যে এটি নিরাপত্তারক্ষীর কর্তব্য। যা তিনি সততার সঙ্গেই পালন করেছেন।’ বর্তমানে ‘কিং’ সিনেমা নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন শাহরুখ খান। নতুন এ সিনেমায় মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করছেন শাহরুখের একমাত্র মেয়ে অভিনেত্রী সুহানা খান। ‘কিং’ সিনেমায় জনপ্রিয় তারকাদের মধ্যে দেখা যাবে রানি মুখার্জি, দীপিকা পাডুকোন এবং অভিষেক বচ্চনকে। সিদ্ধার্থ আনন্দের পরিচালনায় নতুন এ সিনেমার পোস্টার ইতিমধ্যে প্রকাশ করা হয়েছে নেটদুনিয়ায়। এইচএ
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সম্মানিত হচ্ছেন ৩০ জন
২০২৩ সালের জন্য চলচ্চিত্রের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার’ ঘোষণা করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে ২৮টি ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য মোট ৩০ জন শিল্পী ও কুশলীকে এই পুরস্কারের জন্য মনোনীত করে। এবারের আসরে চলচ্চিত্রের সর্বোচ্চ সম্মান আজীবন সম্মাননা যৌথভাবে পাচ্ছেন প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ এবং বরেণ্য চিত্রগ্রাহক ও নির্মাতা আব্দুল লতিফ বাচ্চু। বছরের শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র নির্বাচিত হয়েছে কে. এম. হালিমুজ্জামান (খন্দকার সুমন) প্রযোজিত সিনেমা ‘সাঁতাও’। একই সিনেমার জন্য শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পরিচালকের পুরস্কারও জিতেছেন খন্দকার সুমন।এদিকে, প্রথম সিনেমা দিয়েই বাজিমাত করেছেন আফরান নিশো ‘সুড়ঙ্গ’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরস্কার পাচ্ছেন। অন্যদিকে ‘সাঁতাও’ সিনেমার জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী নির্বাচিত হয়েছেন আইনুন পুতুল।পার্শ্বচরিত্রে শ্রেষ্ঠ অভিনেতার সম্মাননা পাচ্ছেন মনির আহমেদ শাকিল (সুড়ঙ্গ) এবং শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন নাজিয়া হক অর্ষা (ওরা সাত জন)। শ্রেষ্ঠ খল চরিত্রে আশীষ খন্দকার (অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন) এবং শ্রেষ্ঠ কৌতুক চরিত্রে শহীদুজ্জামান সেলিম (সুড়ঙ্গ) জয়ী হয়েছেন। শিশু শিল্পী শাখায় শ্রেষ্ঠ হয়েছেন মো. লিয়ন এবং বিশেষ পুরস্কার পাচ্ছেন আরিফ হাসান আনাইরা খান (উভয়ই ‘আম কাঁঠালের ছুটি’ সিনেমার জন্য)।আবার, সংগীতে একক প্রাধান্য দেখিয়েছে ‘প্রিয়তমা’ ও ‘সুড়ঙ্গ’। ‘ও প্রিয়তমা’ গানের জন্য বালাম শ্রেষ্ঠ গায়ক এবং ‘সুড়ঙ্গ’ সিনেমার জন্য অবন্তী দেব সিঁথি শ্রেষ্ঠ গায়িকা নির্বাচিত হয়েছেন। 'ঈশ্বর' গানের জন্য শ্রেষ্ঠ গীতিকার হিসেবে সোমেশ্বর অলি এবং সুরকার হিসেবে প্রিন্স মাহমুদ পুরস্কৃত হয়েছেন। শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক হয়েছেন ইমন চৌধুরী (অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন)।সেরা কাহিনিকার হিসেবে ফারুক হোসেন (প্রিয়তমা), চিত্রনাট্যকার হিসেবে নিয়ামুল মুক্তা (রক্তজবা) এবং শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতা হিসেবে যৌথভাবে রায়হান রাফী ও সৈয়দ নাজিম উদ দৌলা (সুড়ঙ্গ) নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া শ্রেষ্ঠ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হিসেবে ‘মরিয়ম’ এবং প্রামাণ্য চলচ্চিত্র হিসেবে ‘লীলাবতী নাগ: দ্য রেবেল’ রাষ্ট্রীয় এই স্বীকৃতি পেয়েছে।এফএস
তারেক রহমানের প্রিয় সিনেমা ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’, দেখেছেন ৮ বার
দীর্ঘ দেড় যুগের নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত রয়েছেন তারেক রহমান। নির্বাচনী এ ডামাঢোলের মাঝে বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম মধ্যবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন তিনি। তাকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রভাবশালী সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিন গতকাল বুধবার (২৮ জানুয়ারি) একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।সেখানে তাকে আখ্যা দেওয়া হয়েছে ‘Bangladesh’s Prodigal Son’ বা ‘বাংলাদেশের প্রত্যাবর্তিত সন্তান’ হিসেবে।প্রতিবেদনটিতে এক পর্যায়ে তারেক রহমান তার পছন্দের একটি সিনেমার একটি উক্তি ব্যবহার করে নিজের অবস্থান ও দৃষ্টিভঙ্গির জানান দিয়েছেন। সেটি হ্যারিসন ফোর্ড অভিনীত সিনেমা ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’। তিনি জানান, এই ছবিটি তার খুব প্রিয়। মোট ৮বার তিনি সিনেমাটি দেখেছেন বলেও জানিয়েছেন টাইম ম্যাগাজিনকে।তিনি বলেন, ‘আমি সম্ভবত আটবার এটি দেখেছি!’প্রতিবেদনের এক পর্যায়ে উল্লেখ করা হয়, তারেক রহমান মৃদুভাষী এবং অন্তর্মুখী বলে মনে হয়। তর্কে না গিয়ে শুনতেই বেশি পছন্দ করেন। লন্ডনে তার প্রিয় বিনোদন ছিল রিচমন্ড পার্কে ঘুরে বেড়ানো, চিন্তায় ডুবে থাকা, অথবা ইতিহাসের বই পড়া।এতে আরো বলা হয়, তারেক রহমানকে একজন নীতিনির্ধারক হিসেবে দেখা হয় যিনি যেকোনো বিষয়ে তথ্য এবং পরিসংখ্যান সংগ্রহ করতে পারেন। তিনি ১২,০০০ মাইল খাল খনন করতে চান জলস্তর পূরণ করতে, ভূমির অবক্ষয় রোধে বছরে ৫ কোটি গাছ লাগাতে এবং ধোঁয়ায় ঢাকা রাজধানীকে শ্বাস নিতে সাহায্য করার জন্য ৫০টি নতুন সবুজ স্থান বপন করতে। আবর্জনা পোড়ানো বিদ্যুৎ জেনারেটর স্থাপন, অভিবাসী শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য কারিগরি কলেজ পুনর্নির্মাণ এবং চাপা রাজ্য স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে উপশম করতে বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে অংশীদারিত্বের পরিকল্পনা রয়েছে তার।আরেকটি অংশে উল্লেখ করা হয়, তারেক রহমানের কোনো অভিযোগ নেই। তিনি মনে করেন, তার প্রত্যাবর্তন কারো ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে হয়নি । বরং জনগণের ভাগ্য উন্নত করার দৃঢ় সংকল্পের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েই তিনি দেশে ফিরেছেন।সেখানে তিনি স্পাইডার-ম্যান ছবির ‘মহান শক্তির সাথে মহান দায়িত্ব আসে’ উক্তিও ব্যবহার করেন। তারেক বলেন, ‘আমি এই কথাটা খুব বিশ্বাস করি।’এইচএ
অর্থ-বাণিজ্য
সব দেখুন
এলপি গ্যাসের দাম বাড়ল
দেশে ভোক্তা পর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বেড়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৫০ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৩৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি) দাম বাড়ানোর নতুন ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকেই নতুন দাম কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজির দাম ১ হাজার ৩০৬ টাকা থেকে ৫০ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৩৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে গত ৪ জানুয়ারি সবশেষ সমন্বয় করা হয় এলপি গ্যাসের দাম। সে সময় ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৫৩ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৩০৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। একইসঙ্গে সোমবার অটোগ্যাসের দামও বাড়িয়েছে বিইআরসি। ফেব্রুয়ারি মাসে ভোক্তা পর্যায়ে ২ টাকা ৩৪ পয়সা বাড়িয়ে অটোগ্যাসের মূসকসহ দাম প্রতি লিটার ৬২ টাকা ১৪ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে গত ৪ জানুয়ারি সবশেষ সমন্বয় করা হয় অটোগ্যাসের দাম। সে সময় ভোক্তা পর্যায়ে ২ টাকা ৪৮ পয়সা বাড়িয়ে অটোগ্যাসের মূসকসহ দাম প্রতি লিটার ৫৯ টাকা ৮০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল।এমআর-২
অস্থির স্বর্ণের বাজার, ভরিতে কমেছে ৬৫৯০ টাকা
সোনার বাজারে অস্থিরতা যেন কাটছেই না। আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামার প্রভাব পড়ছে দেশের বাজারেও। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই ফের সোনার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা। এতে ভরিপ্রতি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫১ হাজার ১৮৪ টাকা।বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা ৪৫ মিনিট থেকে নতুন এই দাম কার্যকর হবে। এদিন বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটির বৈঠকে স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।এর আগে গত রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঘোষণা দিয়ে আজ থেকে ভরিপ্রতি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৯২৫ টাকা কমানো হয়েছিল। তবে রাতের সেই সিদ্ধান্তের পর সোমবার সকালে আবারও দাম কমানোর ঘোষণা এলো।নতুন দর অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৬ হাজার ২৯৮ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৩৯ হাজার ৭৫৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা কমিয়ে নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫ হাজার ৫২০ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬৮ হাজার ১৯৫ টাকা। তবে স্বর্ণের দাম কমলেও রুপার দামে কোনো পরিবর্তন হয়নি। বাজুসের তথ্যমতে, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৭ হাজার ২৯০ টাকা, ২১ ক্যারেটের রুপা ৬ হাজার ৯৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপা ৫ হাজার ৯৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৪ হাজার ৪৩২ টাকা অপরিবর্তিত রয়েছে।এইচএ
জ্বালানি তেলের পর এবার এলপিজির নতুন দাম নির্ধারণ আজ
জ্বালানি তেলের পর এবার ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম নতুন করে সমন্বয় করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি)। ভোক্তা পর্যায়ে এই মাসে এলপিজির দাম বাড়ছে নাকি কমছে, তা জানা যাবে আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি)। এক মাসের জন্য এলপিজির নতুন দাম ঘোষণা করা হবে এদিন।গতকাল রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিইআরসির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে এ তথ্য।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সৌদি আরামকো ঘোষিত ফেব্রুয়ারি (২০২৬) মাসের সৌদি সিপি অনুযায়ী এই মাসের জন্য ভোক্তা পর্যায়ে বেসরকারি এলপিজির মূল্য সমন্বয় সম্পর্কে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের নির্দেশনা সোমবার দুপুর ৩টায় ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইইবি) ঢাকাস্থ কমিশন কার্যালয়ের শুনানি কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে ঘোষণা করা হবে।জানুয়ারি মাসে দেশে ভোক্তাপর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৩০৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। আর গত ডিসেম্বরে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ২৫৩ টাকা নির্ধারণ করেছিল বিইআরসি।ইতোমধ্যে ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের নতুন দাম নির্ধারণ করেছে করেছে সরকার। বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবার ২ টাকা করে কমানো হয়েছে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম।নতুন দর অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেল ১০০ টাকা, প্রতি লিটার কেরোসিন ১১২ টাকা, প্রতি লিটার পেট্রোল ১১৬ টাকা এবং প্রতি লিটার অকটেন ১২০ টাকায় বিক্রি হবে ফেব্রুয়ারি মাস জুড়ে। গতকাল রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) থেকে কার্যকর হয়েছে জ্বালানি তেলের নতুন এই দাম।জানা গেছে, বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ গত বছরের মার্চ থেকে শুরু করেছে সরকার। এরপর থেকে প্রতি মাসেই নতুন দাম ঘোষণা করা হচ্ছে। বর্তমানে জ্বালানি তেলের দর নির্ধারণ ছাড়াও আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে মিল রেখে প্রতি মাসে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম নির্ধারণ করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।এইচএ
জানুয়ারিতে রেমিট্যান্সে রেকর্ড, দেশের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ
২০২৬ সালের সদ্য বিদায়ী জানুয়ারি মাসে ৩.১৭ বিলিয়ন বা ৩১৭ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় পাঠিয়েছেন বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। দেশীয় মুদ্রায় (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে) এর পরিমাণ ৩৮ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা। যা এ যাবৎকালে তৃতীয় সর্বোচ্চ। এটি ২০২৫ সালের একই মাসের চেয়ে ৪৫ দশমিক ৪১ শতাংশ বেশি। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে জানা গেছে, নতুন বছরের প্রথম মাসে ৩১৭ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে। যা গত বছরের একই সময়ে তুলনায় ৯৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার বেশি এসেছে। গত বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে এসেছিল ২১৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার।এদিকে চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত (প্রথম ৬ মাস) রেমিট্যান্স ১ হাজার ৯৪৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার। যা গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ১ হাজার ৫৮৬ কোটি ২০ লাখ ডলার। সে হিসাবে গত বছরের তুলনায় ৩৪৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার বেশি এসেছে।এর আগে, দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি (৩.২৯ বিলিয়ন) ডলারের রেমিট্যান্স আসার রেকর্ড রয়েছে। ২০২৪–২৫ অর্থবছরের মার্চ মাসে ঈদ কেন্দ্র করে এসেছিল সেটি। এখন পর্যন্ত এটিই দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসার রেকর্ড। আর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ডটিও ছিল গত বছরের মে মাসে ২৯৭ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স।এফএস
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট: যে ২ দিন বন্ধ থাকবে ব্যাংক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি (বুধ ও বৃহস্পতিবার) দেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংক বন্ধ থাকবে।আজ রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভাইজরি ডেটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড এনালিটিক্স ডিপার্টমেন্ট (এসডিএডি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।এতে বলা হয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গত ২৫ জানুয়ারির এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি।উক্ত দুই দিন বাংলাদেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংক বন্ধ থাকবে। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ এর ৪৫ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে দেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।এইচএ
সরকারি ৪ ব্যাংকে আমানত বেড়েছে ৫০ হাজার কোটি টাকা
নানা কৌশলে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে সরকারি ব্যাংকগুলো। বিশাল অংকের খেলাপির মধ্যেই বছর শেষে ৪ প্রতিষ্ঠানে আমানত বেড়েছে ৫০ হাজার কোটি টাকা। নগদ অর্থ আদায় হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার ও রেমিট্যান্স আয় প্রায় ৬৫ হাজার কোটি টাকা। বেড়েছে খেলাপি অর্থেরও আদায়। পরিকল্পিতভাবেই অনিয়ম, সেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় মেকানিজমেই সরকারি ব্যাংকগুলো থেকে ঋণের নামে অর্থ সরিয়ে নেয় লোপাটকারীরা। আওয়ামী সরকার পতনের পর যার চিহ্ন স্পষ্ট হতে শুরু করে। কিন্তু থমকে না দাঁড়িয়ে নতুন উদ্যোমে কাজ শুরু করে ব্যাংকগুলোর নতুন পর্ষদ। গ্রাহকদের আস্থা ধরে রেখে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের বিদায় বছরের রিপোর্ট বলছে, ধীরে ধীরে ঠিক হচ্ছে রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোর ভাঙা মেরুদণ্ড।তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ব্যাংকগুলোতে গ্রাহকরা জমা রেখেছেন ৫০ হাজার ৪৩০ কোটি টাকা। ক্যাশ রিকভারি হয়েছে ৪ হাজার ২৫৫ কোটি টাকা। প্রবাসীদের আয়েও চমক দেখিয়ে রেমিট্যান্স আয় হয়েছে ৬৫ হাজার কোটি টাকা।এরমধ্যে সোনালী ব্যাংকের আমানত বেড়েছে ১৪৮৫৮ কোটি টাকা। দুই হাজার কোটি টাকা কমে খেলাপি দাঁড়িয়েছে ১৬২৫০ কোটি টাকায়। ক্যাশ রিকভারি হয়েছে ১২০৩ কোটি, রেমিট্যান্স আয় ১৮৪২ কোটি ও পুনতফসলি করেছে ৭৫০ কোটি টাকা। এক বছরে অগ্রণী ব্যাংকের আমানত বেড়েছে ১৩৮৩৬ কোটি টাকা। শ্রেণিকৃত ঋণ ২ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৩৮.৬৫ শতাংশে। ক্যাশ রিকভারি ১০৩৭ কোটি টাকা। রেমিট্যান্স এসেছে চার ব্যাংকের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৩৯৬১ কোটি টাকা।জনতা ব্যাংক ২০২৫ সালে সর্বোচ্চ আমানত সংগ্রহকারী, ১৫৭৪০ কোটি টাকা। পুনঃতফসিল করেছে ৪৮০০ কোটি টাকা। ক্যাশ রিকভারি ৯১৫ কোটি আর ব্যাংকটিতে প্রবাসী আয় এসেছে ২৭৫৫৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা।রুপালী ব্যাংকের আমানত বেড়েছে ৬ হাজার কোটি টাকা। খেলাপি ৬ শতাংশ কমে বর্তমানে মোট ঋণের ৩৬ শতাংশে। আর রেমিট্যান্সে এসেছে ১৪৭৬ কোটি টাকা।সোনালী ব্যাংকের এমডি ও সিইও মো. শওকত আলী জানান, খেলাপি অর্থ আদায়ের হার বাড়ায় মার্চের মধ্যে আশান্বিত পর্যায়ে নামবে মন্দ ঋণের পরিমাণ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং ও ইন্সুরেন্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শহীদুল জাহীদ জানান, ব্যাংকগুলোকে সবচেয়ে বেশি সংকটে রেখেছে হেভিওয়েট খেলাপিদের মাধ্যমে বেহাত হওয়া হাজার হাজার কোটি টাকার ঘাটতি। যা রাজনৈতিক সরকারের সহযোগিতা ছাড়া উদ্ধার সম্ভব নয়।আর্থিক খাতের দীর্ঘ পথচলা সরকারি ব্যাংকগুলোর। দেশের যে কোনো সংকট বা দুর্যোগে নানাভাবে ভূমিকা রাখে এই প্রতিষ্ঠানগুলো। তাই বৃহৎ স্বার্থে আর্থিক খাতে নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি পরিচালনায় স্বচ্ছ ও স্বাধীন ভাবমূর্তি ধরে রেখে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ সংশ্লিষ্টদের।এইচএ
দেশের রিজার্ভ বেড়ে ৩৩.৩৪ বিলিয়ন ডলার
দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে এখন ৩৩ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানান।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবশেষ তথ্য মতে, ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৩ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলার। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ৭৪৮ দশমিক ৯৫ মিলিয়ন বা ২৮ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে।এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩২ দশমিক ৬২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর বিপিএম-৬ পদ্ধতিত রিজার্ভ ছিল ২৮ দশমিক ০২ বিলিয়ন ডলার। প্রসঙ্গত, নিট রিজার্ভ গণনা করা হয় আইএমএফের বিপিএম-৬ পরিমাপ অনুসারে। মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায় বিয়োগ করলে নিট বা প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ পাওয়া যায়।এমআর-২
এলপি গ্যাসের দাম বাড়ল
দেশে ভোক্তা পর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বেড়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৫০ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৩৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি) দাম বাড়ানোর নতুন ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকেই নতুন দাম কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজির দাম ১ হাজার ৩০৬ টাকা থেকে ৫০ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৩৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে গত ৪ জানুয়ারি সবশেষ সমন্বয় করা হয় এলপি গ্যাসের দাম। সে সময় ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৫৩ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৩০৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। একইসঙ্গে সোমবার অটোগ্যাসের দামও বাড়িয়েছে বিইআরসি। ফেব্রুয়ারি মাসে ভোক্তা পর্যায়ে ২ টাকা ৩৪ পয়সা বাড়িয়ে অটোগ্যাসের মূসকসহ দাম প্রতি লিটার ৬২ টাকা ১৪ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে গত ৪ জানুয়ারি সবশেষ সমন্বয় করা হয় অটোগ্যাসের দাম। সে সময় ভোক্তা পর্যায়ে ২ টাকা ৪৮ পয়সা বাড়িয়ে অটোগ্যাসের মূসকসহ দাম প্রতি লিটার ৫৯ টাকা ৮০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল।এমআর-২
অস্থির স্বর্ণের বাজার, ভরিতে কমেছে ৬৫৯০ টাকা
সোনার বাজারে অস্থিরতা যেন কাটছেই না। আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামার প্রভাব পড়ছে দেশের বাজারেও। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই ফের সোনার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা। এতে ভরিপ্রতি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫১ হাজার ১৮৪ টাকা।বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা ৪৫ মিনিট থেকে নতুন এই দাম কার্যকর হবে। এদিন বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটির বৈঠকে স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।এর আগে গত রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঘোষণা দিয়ে আজ থেকে ভরিপ্রতি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৯২৫ টাকা কমানো হয়েছিল। তবে রাতের সেই সিদ্ধান্তের পর সোমবার সকালে আবারও দাম কমানোর ঘোষণা এলো।নতুন দর অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৬ হাজার ২৯৮ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৩৯ হাজার ৭৫৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা কমিয়ে নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫ হাজার ৫২০ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬৮ হাজার ১৯৫ টাকা। তবে স্বর্ণের দাম কমলেও রুপার দামে কোনো পরিবর্তন হয়নি। বাজুসের তথ্যমতে, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৭ হাজার ২৯০ টাকা, ২১ ক্যারেটের রুপা ৬ হাজার ৯৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপা ৫ হাজার ৯৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৪ হাজার ৪৩২ টাকা অপরিবর্তিত রয়েছে।এইচএ
জ্বালানি তেলের পর এবার এলপিজির নতুন দাম নির্ধারণ আজ
জ্বালানি তেলের পর এবার ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম নতুন করে সমন্বয় করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি)। ভোক্তা পর্যায়ে এই মাসে এলপিজির দাম বাড়ছে নাকি কমছে, তা জানা যাবে আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি)। এক মাসের জন্য এলপিজির নতুন দাম ঘোষণা করা হবে এদিন।গতকাল রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিইআরসির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে এ তথ্য।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সৌদি আরামকো ঘোষিত ফেব্রুয়ারি (২০২৬) মাসের সৌদি সিপি অনুযায়ী এই মাসের জন্য ভোক্তা পর্যায়ে বেসরকারি এলপিজির মূল্য সমন্বয় সম্পর্কে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের নির্দেশনা সোমবার দুপুর ৩টায় ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইইবি) ঢাকাস্থ কমিশন কার্যালয়ের শুনানি কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে ঘোষণা করা হবে।জানুয়ারি মাসে দেশে ভোক্তাপর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৩০৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। আর গত ডিসেম্বরে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ২৫৩ টাকা নির্ধারণ করেছিল বিইআরসি।ইতোমধ্যে ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের নতুন দাম নির্ধারণ করেছে করেছে সরকার। বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবার ২ টাকা করে কমানো হয়েছে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম।নতুন দর অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেল ১০০ টাকা, প্রতি লিটার কেরোসিন ১১২ টাকা, প্রতি লিটার পেট্রোল ১১৬ টাকা এবং প্রতি লিটার অকটেন ১২০ টাকায় বিক্রি হবে ফেব্রুয়ারি মাস জুড়ে। গতকাল রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) থেকে কার্যকর হয়েছে জ্বালানি তেলের নতুন এই দাম।জানা গেছে, বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ গত বছরের মার্চ থেকে শুরু করেছে সরকার। এরপর থেকে প্রতি মাসেই নতুন দাম ঘোষণা করা হচ্ছে। বর্তমানে জ্বালানি তেলের দর নির্ধারণ ছাড়াও আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে মিল রেখে প্রতি মাসে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম নির্ধারণ করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।এইচএ
জানুয়ারিতে রেমিট্যান্সে রেকর্ড, দেশের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ
২০২৬ সালের সদ্য বিদায়ী জানুয়ারি মাসে ৩.১৭ বিলিয়ন বা ৩১৭ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় পাঠিয়েছেন বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। দেশীয় মুদ্রায় (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে) এর পরিমাণ ৩৮ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা। যা এ যাবৎকালে তৃতীয় সর্বোচ্চ। এটি ২০২৫ সালের একই মাসের চেয়ে ৪৫ দশমিক ৪১ শতাংশ বেশি। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে জানা গেছে, নতুন বছরের প্রথম মাসে ৩১৭ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে। যা গত বছরের একই সময়ে তুলনায় ৯৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার বেশি এসেছে। গত বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে এসেছিল ২১৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার।এদিকে চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত (প্রথম ৬ মাস) রেমিট্যান্স ১ হাজার ৯৪৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার। যা গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ১ হাজার ৫৮৬ কোটি ২০ লাখ ডলার। সে হিসাবে গত বছরের তুলনায় ৩৪৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার বেশি এসেছে।এর আগে, দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি (৩.২৯ বিলিয়ন) ডলারের রেমিট্যান্স আসার রেকর্ড রয়েছে। ২০২৪–২৫ অর্থবছরের মার্চ মাসে ঈদ কেন্দ্র করে এসেছিল সেটি। এখন পর্যন্ত এটিই দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসার রেকর্ড। আর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ডটিও ছিল গত বছরের মে মাসে ২৯৭ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স।এফএস
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট: যে ২ দিন বন্ধ থাকবে ব্যাংক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি (বুধ ও বৃহস্পতিবার) দেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংক বন্ধ থাকবে।আজ রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভাইজরি ডেটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড এনালিটিক্স ডিপার্টমেন্ট (এসডিএডি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।এতে বলা হয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গত ২৫ জানুয়ারির এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি।উক্ত দুই দিন বাংলাদেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংক বন্ধ থাকবে। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ এর ৪৫ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে দেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।এইচএ
শিক্ষাঙ্গন
সব দেখুন
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০ম বার্ষিক নাট্যোৎসব শুরু
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সাত দিনব্যাপী ‘১০ম বার্ষিক নাট্যোৎসব ২০২৬’ শুরু হয়েছে। নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের আয়োজনে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো কলা ভবনের জিয়া হায়দার ল্যাবের সামনে এ নাট্যোৎসবের উদ্বোধন করা হয়।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, নাটক, সাহিত্য ও সিনেমা সমাজের দর্পণ। নাটকের মাধ্যমে সমাজের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো সহজ ও আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করা যায়। এতে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ বিষয়গুলো অনুধাবন করতে পারে। নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা সমাজের বিচ্ছিন্ন জনগোষ্ঠীকে একত্রিত করার সক্ষমতা অর্জন করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শিক্ষার্থীদের পরিবেশনা জাতীয় কবির নামে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম আরও ছড়িয়ে দেবে।বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের কোর্স শিক্ষক সহকারী অধ্যাপক নুসরাত শারমিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. ইসমত আরা ভূঁইয়া ইলা। উদ্বোধনী পর্ব সঞ্চালনা করেন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মাজহারুল হোসেন তোকদার।নাট্যোৎসব উপলক্ষে এদিন একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ভবন থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুরোনো কলা ভবনে এসে শেষ হয়।নাট্যোৎসবে সাত দিনে মোট ১৪টি নাটক মঞ্চায়িত হবে। প্রতিদিন দুটি করে নাটক পরিবেশিত হবে। প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা ও রাত ৮টা ৩০ মিনিটে নাটক শুরু হবে। নাটকগুলোর নির্দেশনা, পরিচালনা ও পরিবেশনায় অংশ নিচ্ছেন নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা।পিএম
সাপ্লাই চেইনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মার্কেটিংয়ের ভবিষ্যত নিয়ে জ্ঞান বিনিময়
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ফ্রম ডেটা টু ডিসিশন: দ্য ফিউচার অব মার্কেটিং ইন দ্য এজ অব এআই এন্ড ডেটা সাপ্লাই চেইন’ শীর্ষক এক জ্ঞান বিনিময় সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের নবযুগ মিলনায়তনে মার্কেটিং বিভাগের আয়োজনে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।সেমিনারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর যুগে মার্কেটিং খাতের পরিবর্তন এবং ডেটা বা উপাত্ত নির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণের গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. আব্দুল মোমেন। এছাড়াও মূল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেসলে বাংলাদেশ পিএলসি-এর ফুড অ্যান্ড বেভারেজ বিভাগের লিড (ডিমান্ড অ্যান্ড সাপ্লাই প্ল্যানিং) ফয়সাল আলম এবং ডিমান্ড অ্যান্ড সাপ্লাই প্ল্যানার কাজী সামি আল-জাবির।প্রধান আলোচকের বক্তব্যে ফয়সাল আলম বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বে কেবল পণ্য উৎপাদন ও বিপণনই শেষ কথা নয়। ভোক্তার আচরণ বুঝতে এবং সঠিক ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নিতে ডেটা বিশ্লেষণের কোনো বিকল্প নেই। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এই প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করে তুলেছে। শিক্ষার্থীদের এখন থেকেই এই প্রযুক্তিবান্ধব মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।’অপর আলোচক কাজী সামি আল-জাবির সাপ্লাই চেইন ও মার্কেটিংয়ের মধ্যে সমন্বয়ের ওপর জোর দেন এবং বিভিন্ন এআই টুল সম্পর্কে বুনিয়াদি জ্ঞান প্রদান করেন। তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যৎ করপোরেট জগতে টিকে থাকতে হলে পাঠ্যপুস্তকের জ্ঞানের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন জরুরি।’সেমিনারে মার্কেটিং বিভাগের প্রভাষক সুমনা আক্তার সুমি ছাড়াও বিভিন্ন বিভাগের ও বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোমেন জানান, শ্রেণিকক্ষের তাত্ত্বিক শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শিল্পখাতের বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। প্রশ্নোত্তর পর্বের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আলোচকদের কাছ থেকে ক্যারিয়ার ও আধুনিক মার্কেটিং বিষয়ক বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর জেনে নেন। পিএম
সনদ পেল বাকৃবির ১৯৭ জন ভেটেরিনারি ইন্টার্নশিপ শিক্ষার্থী
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ভেটেরিনারি অনুষদের ৫৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ‘২২তম ইন্টার্নশিপ সনদ বিতরণ অনুষ্ঠান’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন কক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন ডিন কাউন্সিলের আহ্বায়ক ও মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ বিভাগের পরিচালক ড. মনোরঞ্জন ধর।ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন অধ্যাপক ড. কে. এইচ. এম. নাজমুল হুসাইন নাজির। আরও বক্তব্য দেন কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মজিদ, কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমিরুল ইসলাম, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. জোয়ার্দ্দার ফারুক আহমেদ এবং আইআইএফএসের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মাহবুব আলম। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন অধ্যাপক ড. জিয়াউল হক।প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া ইন্টার্নশিপ সম্পন্নকারী নবীন প্রাণিচিকিৎসকদের অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, দেশের প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে দক্ষ ও নৈতিক ভেটেরিনারিয়ানদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষাজীবনে অর্জিত তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি ইন্টার্নশিপে পাওয়া ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা পেশাগত জীবনে যথাযথভাবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।উপাচার্য আরও বলেন, আধুনিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক প্রাণিচিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে মানবিকতা, পেশাগত সততা ও দায়িত্ববোধের সমন্বয় প্রয়োজন। নতুন প্রজন্মের ভেটেরিনারিয়ানদের সেই মানসিকতা নিয়েই এগিয়ে আসতে হবে।এ বছর ৯ জন বিদেশি শিক্ষার্থীসহ মোট ১৯৭ জন শিক্ষার্থী ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করেছেন। এর মধ্যে ৫০ জন বিদেশে এবং বাকিরা দেশে ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করেন। অনুষ্ঠানে সনদপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস ও আনন্দঘন পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়।এসআর
ফের বাড়ল এসএসসির ফরম পূরণের সময়
চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় আবারও বাড়িয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। ফরম পূরণের সময় আরো চার দিন বৃদ্ধি করা হয়েছে। নতুন সময়সীমা অনুযায়ী, পরীক্ষার্থীরা আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত বিলম্ব ফিসহ ফরম পূরণ করতে পারবেন।আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।এতে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিলম্ব ফিসহ ফরম পূরণের সময় ২ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বর্ধিত করা হলো। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শিক্ষার্থীরা এই সময়ের মধ্যে ফরম পূরণ সম্পন্ন করতে পারবেন এবং ‘সোনালী সেবার’ মাধ্যমে ফি জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৫ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে আরো বলা হয়, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের উল্লিখিত সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণের কাজ সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে।এইচএ
তথ্য-প্রযুক্তি
সব দেখুন
হ্যাকার থেকে রক্ষা পেতে স্ক্যাম অ্যান্ড্রয়েডের ৪টি নতুন স্মার্ট ফিচার
ব্যবহারকারীদের আরও নিরাপদ ও সংযুক্ত রাখতে অ্যান্ড্রয়েডে যুক্ত হলো একগুচ্ছ নতুন ফিচার। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তায় তৈরি এসব সুবিধা প্রতিদিনের যোগাযোগকে করবে আরও সহজ, নিরাপদ ও স্মার্ট। সন্দেহজনক মেসেজ শনাক্ত করা থেকে শুরু করে বন্ধু–পরিবারের লাইভ লোকেশন দেখা কিংবা গাড়ি পার্ক করা অবস্থায় গেম খেলা সবই এখন আরও সহজ অ্যান্ড্রয়েডে। জেনে জেনে নেয়া যাক অ্যান্ড্রয়েডের নতুন ৪টি ফিচার সম্পর্কে। সন্দেহজনক মেসেজে সঙ্গে সঙ্গে সতর্কবার্তা: প্রতারণা থেকে ব্যবহারকারীদের রক্ষা করতে গুগল মেসেজেসে যুক্ত হয়েছে এআই-চালিত স্ক্যাম ডিটেকশন। এই ফিচার সন্দেহজনক কথোপকথনের ধরণ শনাক্ত করে আগেই সতর্ক করে দেবে। অনেক সময় নিরীহ মেসেজ থেকেই ধীরে ধীরে প্রতারণা শুরু হয় এই ফিচার সেই ঝুঁকি চিহ্নিত করে রিয়েল-টাইম সতর্কবার্তা দেবে। প্রয়োজনে এক ক্লিকেই মেসেজ ব্লক ও রিপোর্ট করা যাবে। ভালো খবর হলো, এই প্রক্রিয়া পুরোপুরি ডিভাইসের মধ্যেই সম্পন্ন হয় আপনার ব্যক্তিগত কথোপকথন থাকবে সম্পূর্ণ নিরাপদ।লাইভ লোকেশন শেয়ার করে থাকুন নিশ্চিন্ত: এবার ফাইন্ড মাই ডিভাইস অ্যাপেই বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে লাইভ লোকেশন শেয়ার করা যাবে। কারও সঙ্গে দেখা করার সময় বা প্রিয়জন নিরাপদে বাসায় পৌঁছেছেন কি না সেটা নিশ্চিত করতে এই ফিচার বেশ কাজে আসবে। ম্যাপে সরাসরি দেখা যাবে আপনার পরিচিতদের অবস্থান। কাকে, কত সময়ের জন্য লোকেশন দেখাবেন সবকিছুই থাকবে আপনার নিয়ন্ত্রণে, সঙ্গে থাকবে নিয়মিত রিমাইন্ডার।গাড়ি পার্ক করা অবস্থায় গেমিংয়ের মজা: অ্যান্ড্রয়েড অটোতে যুক্ত হয়েছে নতুন গেমিং সুবিধা। গাড়ি পার্ক করা থাকলে এখন গাড়ির স্ক্রিনেই খেলা যাবে জনপ্রিয় গেমগুলো। অপেক্ষার সময়টুকু আর বিরক্তিকর নয় গেম খেলেই কাটানো যাবে সময়।কেনাকাটায় স্মার্ট সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে ক্রোম: অ্যান্ড্রয়েডে ক্রোম ব্রাউজারে যুক্ত হয়েছে নতুন শপিং ইনসাইট। এখন পণ্যের দামের ইতিহাস, মূল্য কমার নোটিফিকেশন কিংবা বিভিন্ন ওয়েবসাইটের দাম তুলনা করা যাবে সহজেই। ঠিক সময়ে কেনাকাটা করতে চাইলে ক্রোমের অ্যাড্রেস বারে থাকা “প্রাইস ইস লো” নোটিফিকেশনই হয়ে উঠবে আপনার গাইড।সব মিলিয়ে, অ্যান্ড্রয়েডের এই নতুন ফিচারগুলো শুধু প্রযুক্তিগত আপডেট নয় বরং ব্যবহারকারীদের দৈনন্দিন জীবনকে আরও নিরাপদ, সংযুক্ত ও স্বস্তিদায়ক করে তুলতেই এই উদ্যোগ। প্রযুক্তির সঙ্গে নিরাপত্তা ও সুবিধার ভারসাম্য রাখতেই অ্যান্ড্রয়েডের এই নতুন পদক্ষেপ।এইচএ
হোয়াটসঅ্যাপ-ফেসবুক -ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারে গুনতে হবে টাকা
সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় এক আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে টেক জায়ান্ট মেটা। জনপ্রিয় তিন প্ল্যাটফর্ম— হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকের জন্য বিশেষ প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন চালুর পরিকল্পনা করছে মার্ক জাকারবার্গের এই সংস্থা। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই নতুন সেবাটি বর্তমান ‘মেটা ভেরিফাইড’ বা ব্লু টিক সাবস্ক্রিপশন থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হবে। মূলত যারা সাধারণ ব্যবহারকারীদের তুলনায় একটু বেশি আধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করতে চান, তাদের কথা মাথায় রেখেই এই বিশেষ পেইড প্ল্যান নিয়ে আসছে মেটা।দীর্ঘ সময় ধরে এই তিনটি অ্যাপই বিশ্বজুড়ে বিনামূল্যে ব্যবহার করা গেলেও এখন আয়ের নতুন উৎস খুঁজছে সংস্থাটি। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিতে বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পর সেই ব্যয় সামলাতে এই প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিবেদনগুলো বলছে, এই প্রিমিয়াম সেবার মূল আকর্ষণ হবে মেটার উন্নত ‘মানুস এআই এজেন্ট’। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা স্মার্ট রিপ্লাই, দ্রুত কন্টেন্ট তৈরির সুবিধা এবং স্বয়ংক্রিয় নানা কাজ সহজেই সেরে নিতে পারবেন। এছাড়া ইনস্টাগ্রামের জন্য ‘ভাইবস’ নামক একটি নতুন এআই টুল যুক্ত হতে পারে, যার মাধ্যমে আকর্ষণীয় ছোট এআই ভিডিও তৈরি করা সম্ভব হবে। ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীদের দীর্ঘদিনের কিছু ব্যক্তিগত চাহিদাও এই প্রিমিয়াম মডেলে জায়গা পেতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। যেমন—কে আপনাকে ফলো করছে না তা দেখার বিশেষ সুবিধা কিংবা অন্য পক্ষকে না জানিয়েই গোপনে তাদের ‘স্টোরি’ দেখার অপশন। হোয়াটসঅ্যাপের ক্ষেত্রেও প্রিমিয়াম গ্রাহকদের জন্য বাড়তি কাস্টমাইজেশন এবং এআই-চালিত চ্যাট ফিচার যুক্ত হতে পারে। তবে মেটা কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, এই নতুন সুবিধাগুলো নেওয়া পুরোপুরি ব্যবহারকারীর ইচ্ছার ওপর নির্ভর করবে। যারা অর্থ খরচ করতে চান না, তারা আগের মতোই বর্তমানের ফ্রি ভার্সনটি ব্যবহার চালিয়ে যেতে পারবেন।নতুন এই পদক্ষেপের ফলে গোপনীয়তা নিয়ে ব্যবহারকারীদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে হোয়াটসঅ্যাপে বিজ্ঞাপনের আনাগোনা বাড়ার পর অনেকেই আশঙ্কা করছেন যে তাদের ব্যক্তিগত তথ্য ভবিষ্যতে এআই প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহার করা হবে কি না। যদিও মেটার দাবি, ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত সুরক্ষার নীতিতে কোনো পরিবর্তন আনা হবে না। মূলত উন্নত এআই অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতেই এই প্রিমিয়াম মডেলের আবির্ভাব ঘটছে। এখন দেখার বিষয়, সোশ্যাল মিডিয়ার এই নতুন ব্যবসায়িক মডেলে সাধারণ ব্যবহারকারীরা কতটা সাড়া দেন এবং মেটার এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয়।এইচএ
শিশুদের মানসিক ক্ষতির অভিযোগে ফেসবুক, টিকটক ও ইউটিউবের বিরুদ্ধে মামলা
যুক্তরাষ্ট্রে নজিরবিহীন মামলার মুখে পড়েছে বিশ্বের ৩ জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্লাটফর্ম ফেসবুক, গুগল ও টিকটক। কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতি আসক্তি তৈরি এবং এর ফলে মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করার অভিযোগে আদালতের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে জনপ্রিয় এই ৩ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে। এএফপির প্রতিবেদন মতে, স্থানীয় সময় সোমবার (২৬ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলসে ফেসবুক, টিকটক ও ইউটিউবের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা, অ্যালফাবেট ও বাইটড্যান্সের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) থেকে আদালত এই মামলার জুরি নির্বাচন শুরু করবে। এই মামলাকে মার্কিন বিচার ব্যবস্থার ইতিহাসের একটি ‘মাইলফলক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন বিশ্লেষকরা।এই মামলার রায় ৩ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিরুদ্ধে গেলে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে এ ধরনের আরও হাজারো মামলার ঢেউ উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে। আদালতে মেটার সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গকে সাক্ষ্য দিতে ডাকা হতে পারে বলে জানা গেছে। কম বয়সি শিশু, তরুণ ও তরুণীরা ওই তিন প্রতিষ্ঠানের সেবা ও পণ্য ব্যবহার করে অবসাদ, খাবারে অনাসক্তি, মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি, এমনকি, আত্মহত্যাও করেছেন—এমন দাবি করেছেন বাদী পক্ষের হাজারো মানুষ। বাদী-পক্ষের আইনজীবীরা ১৯৯০ ও ২০০০ এর দশকে তামাক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা আইনি কৌশল বেছে নিচ্ছেন। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে বিশ্বখ্যাত সিগারেট উৎপাদন ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ‘ত্রুটিপূর্ণ’ পণ্য বিক্রির অভিযোগ আনা হয়েছিল। বিচারক নিয়োগের পর আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে বিচারপতি ক্যারোলিন কুল-এর আদালতে মামলার কার্যক্রম শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই মামলা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন ১৯ বছর বয়সি এক মার্কিন নারী। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার খাতিরে শুধু নামের আদ্যাক্ষর ‘কে জি এম’ ব্যবহার করে তার পরিচয় দেয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তির কারণে তিনি ‘মানসিক ক্ষতির’ শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ। যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের মামলা ও আদালতের অভিযোগ গ্রহণের নজির নেই। সোশাল মিডিয়া ভিক্টিমস ল সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা ম্যাথু বার্গম্যান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এবারই প্রথম কোনো সমাজমাধ্যম প্রতিষ্ঠানকে শিশুদের ক্ষতি করার অভিযোগে বিচারকদের সামনে দাঁড়াতে হচ্ছে।’ বার্গম্যানের আইনজীবীরা এ ধরনের প্রায় এক হাজার মামলার দায়িত্বে আছেন। আইনজীবীদের এই প্রতিষ্ঠানটি অনলাইনে তরুণ-তরুণীদের ক্ষতি করার জন্য সমাজমাধ্যম প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহির আওতায় আনার অঙ্গীকার করেছে। বার্গম্যান বলেন, ‘কে জি এম ও তার পরিবার যে একটি আদালতকক্ষে বিশ্বের সবচেয়ে বড়, ক্ষমতাবান ও বিত্তবান প্রতিষ্ঠানগুলোর মুখোমুখি দাঁড়াতে পেরেছেন, এটাই একটি উল্লেখযোগ্য ও গুরুত্বপূর্ণ বিজয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এটা বুঝতে পারছি যে এ ধরনের মামলাগুলো জেতা অনেক কঠিন এবং আগের, একই ধরনের ঘটনার নজির ও তথ্য-প্রমাণ টেনে বিজয়ী হওয়ার দায়ভার আমাদের ওপর বর্তেছে। আমাদেরকে প্রমাণ করতে হবে, এসব প্রতিষ্ঠান এমনভাবে তাদের প্ল্যাটফর্ম ডিজাইন করেছে যা কেজিএম-এর (মানসিক) ক্ষতি নিশ্চিত করে। এই দায়িত্ব আমরা খুশি মনেই কাঁধে নিয়েছি।’ এই বিচারের রায় ভবিষ্যতে একই ধরনের সব মামলার রায়কে সরাসরি প্রভাবিত করবে বলে মত দেন বার্গম্যান। গত সপ্তাহে অপর সমাজমাধ্যম স্ন্যাপচ্যাট আদালতের বাইরে চুক্তি করে এই মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছে। ওই চুক্তির বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্লাটফর্মগুলোর দাবি, মার্কিন যোগাযোগ নৈতিকতা আইনের ২৩০ ধারা তাদেরকে সুরক্ষা দিচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহারকারীরা কী পোস্ট করছেন, তা নিয়ে কোনো ধরনের দায়বদ্ধতা থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোকে রেহাই দেয় এই ধারা। তবে মামলায় বিবাদীদের যুক্তি—সমাজমাধ্যম প্রতিষ্ঠান এমনভাবে তাদের প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে, যা মানুষের মনোযোগ ধরে রাখে। পাশাপাশি সেখানে এমন সব কনটেন্টের প্রচারণা করা হয়, যা ব্যবহারকারীদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটায়। বার্গম্যান আরও বলেন, ‘আমরা সমাজমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম থেকে ক্ষতিকারক কন্টেন্ট সরিয়ে নিতে না পারার জন্য মূল প্রতিষ্ঠানগুলোকে দায়ী করছি না।’ তার ভাষায়, ‘তাদের দোষ, তারা এমনভাবে প্ল্যাটফর্মগুলো বানিয়েছে যা শিশুদের আসক্ত করে তোলে। তাদের এলগরিদম এমন যে শিশুরা কনটেন্ট থেকে চোখ সরাতে পারে না।’ ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নর্দার্ন ক্যালিফোর্নিয়া ও অন্যান্য অঙ্গরাজ্যের ফেডারেল আদালতেও একই ধরনের অভিযোগে অসংখ্য মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলার বিষয়ে উল্লেখিত তিন প্রতিষ্ঠান গণমাধ্যমের কাছে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। এইচএ
প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রজাপতির জীবনরহস্য উন্মোচনের চেষ্টা
মোনার্ক জাতের প্রজাপতির বৈচিত্রময় জীবনরহস্য ও গতিপথ উন্মোচনে নতুন এক পদ্ধতি অবলম্বন করতে যাচ্ছেন একদল মার্কিন বিজ্ঞানী। এই পদ্ধতিতে প্রজাপতির পাখায় ট্র্যাকিং ডিভাইস বসিয়ে অনুসরণ করা হবে গতিপথ। সেলুলার প্রযুক্তির এই ছোট ট্যাগগুলো মানচিত্রে প্রজাপতি চলাচলের সুনির্দিষ্ট পথ ফুটিয়ে তুলতে পারে। যার মাধ্যমে তাদের অভিবাসনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। হলদে ডানার কালো ডোরাকাটা দাগ বিশিষ্ট বড় জাতের প্রজাপতি মোনার্ক। যাদের গতিপথ রহস্যে ঘেরা। শীতকাল কাটাতে তারা পাড়ি দেয় হাজার হাজার মাইল পথ। কানাডা ও উত্তর আমেরিকা থেকে স্থানান্তরিত হয়ে সুদূর লাতিন আমেরিকার দেশ ম্যাক্সিকোয় জায়গা করে নেয়। যা কোনো পোকামাকড়ের দীর্ঘতম অভিবাসন প্রক্রিয়া। এই দীর্ঘ যাত্রাপথে তারা কোথায় যায়, কোন কোন পথ ব্যবহার করে এবং কিভাবেই বা স্থানীয় প্রজাতি থেকে নিজেদের আলাদা করে রাখে তা ঘিরে রয়েছে হাজারো প্রশ্ন।সেই রহস্যের জট খুলতে গবেষণা করে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্সটন এবং মায়ামি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিজ্ঞানী। মোনার্ক জাতের প্রজাপতির পিঠে ক্ষুদ্র ও হালকা ওজনের রেডিও ট্যাগ বসাতে যাচ্ছেন গবেষকরা। এসব ডিভাইস পোকামাকড়ের ভ্রমনের সময় অবস্থানের তথ্য ও গতিবিধি নজরদারির সুযোগ করে দেবে। গবেষণা প্রকল্পের প্রধান গবেষক ড. শন বার্চার বলেন, আমার দক্ষতার ক্ষেত্র ছিল প্রজাপতি নিয়ে গবেষণা। আর ইসলার দক্ষতা ছিল প্রযুক্তি, ড্রোন ও এআইয়ের মতো বিষয়। আমরা ভাবছিলাম দুজন মিলে কী করা যায়। একই সময়ে বাজারে নতুন এক প্রযুক্তি আসে, যেখানে খুব ছোট ট্যাগ প্রজাপতির গায়ে লাগিয়ে তাদের গতিপথ অনুসরণ করা যায়। এই প্রযুক্তিটি আমাদের দুজনের আগ্রহের মধ্যে পড়ে। তখনই আমরা সিদ্ধান্ত নিই এটি ব্যবহার করে আমরা একটি প্রকল্প গড়ে তোলার চেষ্টা করবো।ট্যাগগুলো সেলুলার ট্র্যাকিং টেকনোলজি দ্বারা তৈরি। এতে ব্লুটুথ সিগনাল ও ছোট সৌর প্যানেল ব্যবহার করা হয়েছে, যা ব্যাটারি ছাড়াই তথ্য পাঠাতে সক্ষম। আশপাশে থাকা যেকোনো রিসিভার এমনকি স্মার্টফোনও এই সিগনাল শনাক্ত করতে পারে। কোম্পানির মতে, এই প্রযুক্তির ফলে ট্যাগগুলো প্রজাপতির পুরো জীবনকালজুড়ে কার্যকরভাবে কাজ করতে সক্ষম। ট্যাগ থেকে পাওয়া তথ্য ইন্টারঅ্যাকটিভ মানচিত্রে দেখানো হয়, যেখানে প্রজাপতিগুলোর চলাচলের সুনির্দিষ্ট পথ স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। এতে মনার্ক প্রজাপতিগুলো কীভাবে পথ খুঁজে নেয়, কোথায় থামে এবং পরিবেশগত উপাদান অভিবাসনে কী প্রভাব ফেলে সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা পাওয়া যায়। গবেষকদের মতে, একই প্রযুক্তি শিগগিরই ড্রাগনফ্লাই ও পঙ্গপালসহ অন্যান্য পোকামাকড়ের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা যেতে পারে, যা পরিবেশগত গবেষণার পাশাপাশি বিধ্বংসী পোকা মাকড়ের আগমন শনাক্তের মাধ্যমে মানবিক সহায়তাতেও কাজে আসতে পারে।এইচএ
আয় বাড়তে চ্যাটজিপিটিতে ওপেনএআই চালু করলো বিজ্ঞাপন
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক জনপ্রিয় চ্যাটবট চ্যাটজিপিটিতে এবার বিজ্ঞাপন যুক্ত করতে যাচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কোম্পানি ওপেনএআই। আসছে সপ্তাহগুলোতেই পরীক্ষামূলকভাবে এই বিজ্ঞাপন চালু হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) এক ব্লগ পোস্টে ওপেনএআই জানায়, আসন্ন কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই চ্যাটজিপিটিতে বিজ্ঞাপন পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হবে। প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে এই বিজ্ঞাপন দেখানো হবে এবং তা সীমাবদ্ধ থাকবে ফ্রি ও নিম্নস্তরের সাবস্ক্রিপশন ব্যবহারকারীদের জন্য। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, চ্যাটজিপিটির ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার সঙ্গে সঙ্গে পরিচালন ব্যয়ও দ্রুত বাড়ছে। সেই ব্যয় সামাল দিতেই নতুন আয়ের উৎস হিসেবে বিজ্ঞাপন চালুর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।পরীক্ষামূলক এই বিজ্ঞাপন কার্যক্রম সফল হলে ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশেও এবং আরও বিস্তৃত পরিসরে বিজ্ঞাপন চালু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে পেইড বা প্রিমিয়াম ব্যবহারকারীরা আপাতত এই বিজ্ঞাপনের বাইরে থাকবেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলেও, বিজ্ঞাপন চ্যাটজিপিটির ব্যবহার অভিজ্ঞতায় কতটা প্রভাব ফেলবে—সেদিকেই এখন নজর থাকবে গ্রাহকদের।এইচএ
৫৪ বছর পর আবারও চাঁদে মানুষ পাঠাচ্ছে নাসা
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ সংস্থা নাসা জানিয়েছে, আর্টেমিস টু মিশন উৎক্ষেপণ হবে ৬ ফেব্রুয়ারি। এটি হবে ১৯৭২ সালের পর মানুষের প্রথম চাঁদ অভিযান। মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে সংস্থাটি।এই মিশনের যাত্রা হবে ১০ দিনের। এতে অংশ নেবেন নাসার তিন নভোচারী। তারা হলেন রিড উইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার ও ক্রিস্টিনা কোচ। তাদের সঙ্গে থাকবেন কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন। তারা চাঁদের চারপাশ ঘুরে আবার পৃথিবীতে ফিরে আসবেন।আর্টেমিস টু মিশনে চাঁদের পৃষ্ঠে নামা হবে না। তবে এই মিশন ভবিষ্যতের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে ২০২৭ সালের আর্টেমিস থ্রি মিশনের পথ তৈরি হবে। ওই মিশনে বহু বছর পর আবার মানুষ চাঁদে পা রাখবে।এই উৎক্ষেপণের সময়সূচি খুব সীমিত। পৃথিবী ও চাঁদের কক্ষপথের কারণে এই সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। মূল উৎক্ষেপণ হবে ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে। এখান থেকেই এক সময় অ্যাপোলো মিশনগুলো চাঁদের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল।যদি ৬ ফেব্রুয়ারি উৎক্ষেপণ সম্ভব না হয়, তাহলে বিকল্প তারিখ রাখা হয়েছে। সম্ভাব্য তারিখগুলো হলো ৭, ৮, ১০ ও ১১ ফেব্রুয়ারি।৫৩ বছর ধরে কোনো মানুষবাহী মহাকাশযান নিম্ন পৃথিবী কক্ষপথের বাইরে যায়নি। আর্টেমিস টু সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটাতে যাচ্ছে।এই মিশনে ব্যবহার করা হবে ওরিয়ন মহাকাশযান। এটি বহন করবে নাসার স্পেস লঞ্চ সিস্টেম বা এসএলএস রকেট। উৎক্ষেপণের পর প্রথমে মহাকাশযানটি পৃথিবীর চারপাশে ঘুরবে। সেখানে জীবনধারণ ব্যবস্থা পরীক্ষা করা হবে। এরপর এটি চাঁদের দিকে যাবে।চাঁদের কাছ দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় এর মাধ্যাকর্ষণ শক্তি ব্যবহার করা হবে। সেই শক্তিতে ভর করে মহাকাশযানটি আবার পৃথিবীর পথে ফিরে আসবে।এমআর-২
আইন-আদালত
সব দেখুন
অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করতে প্রস্তুত নৌবাহিনী: সহকারী নৌ-প্রধান
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে ভোলায় নৌবাহিনীর প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে নৌবাহিনীর দায়িত্বপূর্ণ এলাকা ও ভোটকেন্দ্রগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন নৌবাহিনীর সহকারী প্রধান (অপারেশন্স) রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ মুসা।সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পরিদর্শন শেষে ভোলা সদর নৌবাহিনী কন্টিনজেন্টে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব তথ্য জানান।এর আগে, তিনি স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।প্রেস ব্রিফিংয়ে রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ মুসা বলেন, সাধারণ জনগণ যেন নির্বিঘ্নে ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সে লক্ষ্যে বাংলাদেশ নৌবাহিনীসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে রয়েছে। ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে নৌবাহিনীর কন্টিনজেন্ট মোতায়েন ও টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।তিনি আরও জানান, ভোটকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থলপথে যানবাহন টহলের পাশাপাশি নৌপথে পর্যাপ্ত সংখ্যক বোট ও সংশ্লিষ্ট এলাকায় নৌবাহিনীর জাহাজ মোতায়েন রয়েছে। যে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দক্ষতা ও দৃঢ়তার সঙ্গে মোকাবিলায় নৌ-বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত।তিনি বলেন, একটি গ্রহণযোগ্য ও দৃষ্টান্তমূলক নির্বাচন আয়োজনে নৌবাহিনী স্থানীয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে।সরকার, নির্বাচন কমিশন, স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও গ্রহণযোগ্যভাবে অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।এফএস
প্রবাস
সব দেখুন
দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত
দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গ শহরে সন্ত্রাসীদের গুলিতে খালেদ নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। আজ শনিবার জোহানেসবার্গ শহরের ইন্ড স্ট্রিট এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।নিহত খালেদের বাড়ি বাংলাদেশের সিলেট জেলায়। স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশিদের বরাতে জানা যায়, তিনি তার মামা এডভোকেট আফরোজ উদ্দিনের মালিকানাধীন একটি ব্যবসা পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন। প্রতিদিনের মতো আজও দোকানে করতে গেলে সন্ত্রাসীরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।গুলিবিদ্ধ অবস্থায় খালেদকে দ্রুত উদ্ধার করে জোহানেসবার্গের একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে তার মরদেহ হাসপাতালেই রাখা হয়েছে।খালেদ জোহানেসবার্গে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত মুখ। তার আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে গভীর শোক ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।এফএস
লাইফস্টাইল
সব দেখুন
ঘাড় ব্যথা থেকে প্রতিকারের উপায়
অনেকেরই ঘাড় ব্যথা একটি নিত্যনৈমিত্তিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান যুগে দীর্ঘ সময় কম্পিউটারে কাজ করা, স্মার্টফোন ব্যবহারের আধিক্য এবং ভুল ভঙ্গিতে ঘুমানোর কারণে এই সমস্যাটি সাধারণ মনে হলেও এটি কখনো কখনো গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। এক সপ্তাহের বেশি ঘাড়ে ব্যথা থাকলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।ঘাড় ব্যথা তীব্র হলে তা আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ব্যাপক ব্যাঘাত ঘটায়, তাই সময়মতো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং এর কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি।চিকিৎসকদের মতে, ঘাড় ব্যথার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে দীর্ঘক্ষণ একই ভঙ্গিতে বসে থাকা বা মাথা নিচু করে কাজ করা, যা ঘাড়ের পেশিতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। এ ছাড়া দুর্ঘটনাজনিত আঘাত, খেলাধুলার সময় চোট বা মেরুদণ্ডের জটিল সমস্যা যেমন স্পন্ডাইলোসিস এই ব্যথার জন্য দায়ী হতে পারে। ঘাড়ের পেশিতে অতিরিক্ত টানের ফলে সৃষ্ট মাসল স্প্যাজম যেমন কষ্টদায়ক হতে পারে, তেমনি সংক্রমণ, টিউমার বা আর্থ্রাইটিসের মতো রোগও এই ব্যথার উৎস হতে পারে।ঘাড় ব্যথার লক্ষণ হিসেবে মূলত ঘাড়ে তীব্র বা হালকা ব্যথা, জ্বালাপোড়া অনুভব করা, ব্যথা হাতে বা বাহুতে ছড়িয়ে পড়া এবং ঘনঘন মাথাব্যথা দেখা দিতে পারে।ঘাড় ব্যথার চিকিৎসা সাধারণত এর কারণ ও তীব্রতার ওপর নির্ভর করে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যথানাশক বা পেশি শিথিলকারী ওষুধ সেবনের পাশাপাশি ফিজিওথেরাপি ব্যায়াম ঘাড়ের পেশি শক্তিশালী করতে অত্যন্ত কার্যকর।এ ছাড়া ব্যথা কমাতে হিট বা আইস থেরাপি এবং মেরুদণ্ডের চাপ কমাতে ট্রাকশন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। বিশেষ ক্ষেত্রে স্টেরয়েড ইনজেকশন বা সবশেষে সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে।তবে প্রতিরোধের কিছু অভ্যাস গড়ে তুললে এই সমস্যা থেকে দূরে থাকা সম্ভব। দীর্ঘ সময় একভাবে বসে না থেকে মাঝে মাঝে বিরতি নেওয়া, কম্পিউটারে কাজ করার সময় সঠিক ভঙ্গি বজায় রাখা এবং নিয়মিত ঘাড়ের ব্যায়াম করা জরুরি। পাশাপাশি শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং ভারী বস্তু তোলার সময় সতর্কতা অবলম্বন করলে মেরুদণ্ড ও ঘাড়ের ওপর বাড়তি চাপ এড়ানো যায়।নিজেই করুন প্রতিকার: প্রতিদিনকার রুটিনে কিছু পরিবর্তন এনে সাধারণ ঘাড় ব্যথার প্রতিকার করা যায়। বসে থাকার সময় আপনার মেরুদণ্ড যেন সরলরেখায় থাকে এবং কান সরাসরি আপনার কাঁধের ওপরে থাকে। দীর্ঘ সময় একটানা বসে কাজ না করে এক ঘণ্টা পরপর ১০ মিনিট বিরতি নিন। যদি দীর্ঘ দূরত্বে ভ্রমণ করেন বা দীর্ঘ সময় ধরে কম্পিউটারে কাজ করেন, তবে উঠে পড়ুন, ঘুরে দেখুন এবং ঘাড় ও কাঁধ সামনে–পেছনে প্রসারিত করুন। কাজের টেবিল–চেয়ার ও কম্পিউটার এমনভাবে সামঞ্জস্য করুন, যাতে মনিটর চোখের স্তরের সমান থাকে। এইচএ
