এইমাত্র
  • ঈদুল আজহাতেই রিজার্ভ বাড়ল ৩১ কোটি ৮৩ লাখ ডলার
  • অস্ট্রেলিয়াকে ১৪১ রানের টার্গেট দিল টাইগাররা
  • হজের প্রথম ফিরতি ফ্লাইটে দেশে ফিরলেন ৪১৭ হাজি
  • টসে হেরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ
  • দুপুরে ভারত যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
  • ঈদে ৭ খামার থেকে ৭০ লাখ টাকার গরু কেনেন সেই ইফাত
  • এরপর গুলি করলে আমরাও পাল্টা গুলি করব: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
  • সুনামগঞ্জ পুলিশের উদ্যোগে বন্যার্তদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ
  • শ্রমিক-মালিক স্বার্থ রক্ষায় শ্রম আইন হালনাগাদ হচ্ছে: শ্রম প্রতিমন্ত্রী
  • সৌদিতে মৃত হজযাত্রীর সংখ্যা ৯০০ ছাড়িয়েছে, নিখোঁজ অনেকে
  • আজ শুক্রবার, ৭ আষাঢ়, ১৪৩১ | ২১ জুন, ২০২৪
    দেশজুড়ে

    শরীয়তপুরে দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ, ও‌সি ক্লোজ

    নয়ন দাস, শরীয়তপুর প্রতিনিধি প্রকাশ: ৯ জুন ২০২৩, ০৮:৩৭ পিএম
    নয়ন দাস, শরীয়তপুর প্রতিনিধি প্রকাশ: ৯ জুন ২০২৩, ০৮:৩৭ পিএম

    শরীয়তপুরে দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ, ও‌সি ক্লোজ

    নয়ন দাস, শরীয়তপুর প্রতিনিধি প্রকাশ: ৯ জুন ২০২৩, ০৮:৩৭ পিএম

    শরীয়তপুরের দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুই ব্যবসায়ীকে থানায় আটকে রেখে ৭২ লাখ টাকা চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

    মঙ্গলবার (৬ জুন) ভুক্তভোগীর বড় ভাই পুলিশ সুপার বরাবর অভিযোগ করেছেন। ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    আজ শুক্রবার (০৯ জুন) এ ঘটনায় পদ্মা দ‌ক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ও‌সি) শেখ মোহাম্মদ মোস্তা‌ফিজুর রহমান‌কে ক্লোজ ক‌রে পু‌লিশ লাই‌ন্সে সংযুক্ত করা হ‌য়ে‌ছে। এছাড়া ন‌ড়িয়া সা‌র্কেল অ‌তি‌রিক্ত পু‌লিশ সুপার রা‌সেল ম‌নির‌ স্বপ‌দে বহাল র‌য়ে‌ছেন।

    পুলিশ, ভুক্তভোগী ও অভিযোগ সূত্রে জানায়, গত ২৩ মে দ্রুত বিচার আইনে পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানায় একটি ছিনতাই মামলা হয়। মামলায় শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার নাওডোবা আহম্মেদ চোকদার কান্দি এলাকার সাদ্দাম চোকদার, বকুল চোকদারসহ নয়জনকে আসামি করা হয়। সেই মামলায় ২৯ মে সাদ্দাম, বকুল ও সাইদুল উচ্চ আদালত থেকে জামিনে নেন। জামিনে আসার পর ৩০ মে রাতে তারা এ মামলার আরেক আসামি আনোয়ারকে নিয়ে ঢাকা কেরানীগঞ্জ সাদ্দামের বন্ধু আলমগীর চোকদারের বাসায় যান। ওইদিন রাতে তথ্য পেয়ে সেই বাসায় হাজির হন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাসেল মনির ও ওসি মোস্তাফিজুর রহমান, জাজিরা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রুবেল বেপারীসহ ১০/১২ পুলিশ সদস্য।

    অভিযোগে বলা হয়, এ সময় সাদ্দাম তাদের জামিনের কাগজ দেখালে তা ছিঁড়ে ফেলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। পরে পুলিশ সাদ্দাম ও বকুলকে লাথি, কিল-ঘুষি, চড়থাপ্পড়সহ পুলিশের লাঠি (ডান্ডা) দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। একপর্যায়ে প্লাস দিয়ে হাত ও পায়ের নখ তুলে ফেলা হয়। সাদ্দাম পানি পান করতে চাইলে ছোট ভাই বকুলকে দাঁড় করিয়ে মুখে প্রস্রাব করতে বলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাসেল মনির। পরে সাদ্দামের শরীরে প্রস্রাব করেন বকুল। এমন নির্যাতন চলে রাত ১টা থেকে পরদিন ৩১ মে সকাল ৮টা পর্যন্ত।

    অভিযোগ সূ‌ত্রে আ‌রো জানা যায়, কিছুক্ষণ পর ওই চারজনকে গামছা ও কালো কাপড় দিয়ে চোখ বেঁধে গাড়িতে করে জাজিরা প্রান্তে পদ্মা সেতুর নিচে আনা হয়। পরে সাদ্দাম ও বকুল এবং সাইদুল ও আনোয়ারকে পৃথক দুই স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও ওসি সাদ্দাম-বকুলকে বলেন, সাইদুল-আনোয়ারকে ক্রসফায়ার দিয়ে দিয়েছি। তোরা ৭২ লাখ টাকা দিবি, তা না হলে তোদেরও ক্রসফায়ার দিয়ে দেওয়া হবে। এভাবে সারাদিন রেখে রাতে পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানায় এনে ৭২ লাখ টাকা চাঁদা চেয়ে বেত ও কাঠ লাঠি দিয়ে আবার বেধড়ক মারা হয় সাদ্দাম ও বকুলকে। সারারাত চলে এমন বর্বর নির্যাতন। এরপর টাকার জন্য বকুলের স্ত্রী সানজিদা, দুই বছরের সন্তান, বাবা রশিদ চোকদার, মা রমেলা ও চাচাতো ভাই আবু জাফর ঠান্ডুকে থানায় এনে সারারাত আটকে রাখা হয় এবং শারীরিক নির্যাতন করা হয়।

    অভিযোগে আ‌রো উ‌ল্লেখ করা হয়, ঘটনার পরে আত্মীয়-স্বজনরা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও ওসির কাছে পাঁচটি চেকের মাধ্যমে ৭২ লাখ টাকা দিলে নির্যাতন থেকে মুক্তি মেলে সাদ্দাম ও বকুলের। এরপর ১ জুন বিকেলে সাদ্দাম ও বকুলসহ চারজনকে শরীয়তপুর আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়। পরে তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক রিমান্ড না মঞ্জুর করেন এবং ৬ জুন সাদ্দাম ও বকুলসহ চারজনই আদালত থেকে জামিনে মু‌ক্তি পায়।

    ছিনতাই মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২১ মে দুপুরে পদ্মা সেতু জাজিরা প্রান্তের নাওডোবা এলাকার বঙ্গবন্ধু এক্সপ্রেসওয়ের সোহাগ পরিবহন থেকে জাজিরা উপজেলার বাসিন্দা শাহীন আলম শেখ (২০) ও সেকেন্দার মাদবরকে (৫১) জোরপূর্বক নামিয়ে তাদের সঙ্গে থাকা বিদেশি ডলার, মোবাইলসহ অন্যান্য জিনিসপত্র ছিনতাই করে নিয়ে যায় স্থানীয় সাদ্দাম চোকদার, বকুল চোকদারসহ ১০/১১ জন। যার আনুমানিক মূল্য ২১ লাখ ১৫ হাজার ২৫০ টাকা ধরা হয়েছে। এ ঘটনায় ২৩ মে শাহীন আলম শেখ বাদী হয়ে পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানায় সাদ্দাম, বকুলসহ নয়জনের নাম এবং অজ্ঞাতনামা পাঁচ/ছয়জনকে আসামি করে একটি ছিনতাই মামলা করেন।

    তবে শাহীন আলম শেখ ও সাদ্দাম চোকদারের সঙ্গে দীর্ঘদিন যাবত ব্যবসা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে শত্রুতা রয়েছে বলে জানান ভুক্তভুগীরা।

    আসামী সাদ্দাম চোকদার ও বকুল চোকদার বলেন, আমাদের আটজনের বিরুদ্ধে পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানায় একটি ছিনতাই মামলা হয়। সেই মামলায় আমরা তিনজন হাইকোর্ট থেকে জামিনে আসি। তবুও আমাদের থানায় ও একটি বাড়িতে আটকে ৭২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন নড়িয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাসেল মনির ও পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান। আমাদের বেধড়ক মারধর করেন তারা। শুধু তাই নয় প্লাস দিয়ে হাত ও পায়ের নখ তুলে ফেলেন তারা। তখন আমরা যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিলাম। তবু মায়া হয়নি তাদের। ৩০ ঘণ্টা নির্যাতন করলেও কোন খাবার বা ওষুধ দেয়নি তারা। পরে বড় ভাই ঠান্ডু চোকদারের কাছে দুটি ঘর বিক্রি করতে বাধ্য হই। ঠান্ডু চোকদার তার চাচা রশিদ চোকদারের মাধ্যমে পাঁচটি চেকের মাধ্যমে ৭২ লাখ টাকা দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও ওসিকে।

    ঠান্ডু চোকদার বলেন, ছিনতাই মামলার ঘটনায় ৩১ মে বকুলদের বাড়িতে দুই পক্ষ সালিসে বসে। দরবারে সিদ্ধান্ত হয় ২১ লাখ টাকা বাদীকে দিয়ে দেবে বিবাদীরা। কিন্তু এটা মেনে নেয়নি বাদীপক্ষ। সেখানে আমি উপস্থিত ছিলাম। আমার অপরাধ আমি বলেছিলাম মামলায় উল্লেখিত ২১ লাখ টাকা দেওয়া হবে বাদীকে। কিন্তু তাদের দাবি ছিল ৭২ লাখ টাকা। দরবার শেষে যখন বাড়ি যাই, তখন পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানার ওসি তদন্ত সরুজ, এসআই ফিরোজ আল মামুনসহ সাত-আটজন আমাকে ধরে থানায় নিয়ে যায়। পরে কাপড় দিয়ে চোখ বেঁধে ওসির রুমে নিয়ে রাত ১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত আমাকে মারধর করে। আমি চিৎকার করলে চোখ খুলে দিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নড়িয়া সার্কেল রাসেল মনির বলেন, তুই ৭২ লাখ টাকা দিয়ে সাদ্দাম ও বকুলকে ছাড়িয়ে নিবি। তখন রাজি হলে আমাকে ছেড়ে দেয়। পরে ছোট ভাই সাদ্দাম ও বকুলকে বাঁচাতে আমার চাচা রশিদ চোকদারের মাধ্যমে পাঁচটি চেকে ৭২ লাখ টাকার চেক দিই ওসি মোস্তাফিজুর রহমানকে।

    এ ঘটনায় পদ্মা দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান অ‌ভি‌যো‌গের বিষয় অস্বীকার করে মু‌ঠোফোনে বলেন, ছিনতাই মামলার বাদীপক্ষ তাদের মারধর করেছে। এ বিষয়ে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই। চেক বিষয়েও আমার জানা নেই। এসব অ‌ভি‌যোগ মিথ্যা।

    এ ব্যাপারে নড়িয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাসেল মনিরের সা‌থে বারবার যোগা‌যো‌গের চেষ্টা করা হ‌লেও তা‌কে পাওয়া যায়‌নি। তার মোবাইল ফোনে কল দিলেও সে রি‌সিভ ক‌রে‌নি।

    শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার মো. সাইফুল হক বলেন, গত ২৩ মে পদ্মা দক্ষিণ থানায় দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা হয়। এই মামলার প্রেক্ষিতে পরবর্তী কিছু ঘটনা ঘটেছে ব‌লে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের রিপোর্ট তিন কার্যদিবসে জমা দিতে বলা হয়েছে। ই‌তোম‌ধ্যে ও‌সি‌কে ক্লোজ ক‌রে পু‌লিশ লাই‌ন্সে সংযুক্ত করা হ‌য়ে‌ছে। তদন্ত রিপোর্টে তাদের সম্পৃক্ততা পেলে আইগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    পিএম

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    চলতি সপ্তাহে সর্বাধিক পঠিত

    সর্বশেষ প্রকাশিত

    Loading…