এইমাত্র
  • আধুনিকতায় বদলে যাচ্ছে বেনাপোল স্থলবন্দরের চেহারা
  • ফখরুলের মুখে মানুষের জানমালের নিরাপত্তা ‘ভূতের মুখে রাম নাম’
  • ত্রিশালে স্কুল-মাদ্রাসা কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত
  • ৪ ঘণ্টা পর ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক
  • টাঙ্গাইলে বিকল হওয়া কমিউটার ট্রেন উদ্ধার
  • কালীগঞ্জে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় প্রাণ গেল কলেজছাত্রের
  • অবশেষে বাড়লো বিদ্যুতের দাম
  • ইতিহাসে ৩০ ফেব্রুয়ারি যেভাবে একবারই এসেছিল
  • নামাজে যাওয়ার পথে গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ গেল শিক্ষকের
  • জয়পুরহাটে হত্যা মামলায় ৯ জনের যাবজ্জীবন
  • আজ বৃহস্পতিবার, ১৬ ফাল্গুন, ১৪৩০ | ২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪
    দেশজুড়ে

    টাঙ্গাইলে আওয়ামী রাজনীতিতে খান পরিবারের বিদায় ঘণ্টা বাজছে!

    রাইসুল ইসলাম লিটন, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি প্রকাশ: ২৮ নভেম্বর ২০২৩, ১০:২৩ পিএম
    রাইসুল ইসলাম লিটন, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি প্রকাশ: ২৮ নভেম্বর ২০২৩, ১০:২৩ পিএম

    টাঙ্গাইলে আওয়ামী রাজনীতিতে খান পরিবারের বিদায় ঘণ্টা বাজছে!

    রাইসুল ইসলাম লিটন, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি প্রকাশ: ২৮ নভেম্বর ২০২৩, ১০:২৩ পিএম
    টাঙ্গাইল-৩ আসনে মনোনয়ন থেকে বাদ পড়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খান।

    আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পায়নি টাঙ্গাইলের আলোচিত খান পরিবারের কেউ। ফলে জেলাজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে প্রভাবশালী এই পরিবারটি। আওয়ামী লীগের একাংশের ধারণা, এর মধ্যদিয়ে দলীয় রাজনীতি থেকে খান পরিবারের বিদায় ঘণ্টা বাজতে শুরু করেছে।

    জানাগেছে, মহান স্বাধীনতার পর থেকে টাঙ্গাইলে আওয়ামী লীগের রাজনীতি আবর্তিত হয়েছে মূলত: শহরের প্রভাবশালী সিদ্দিকী ও খান পরিবারকে কেন্দ্র করে। দীর্ঘ ৫২ বছরে নানা কারণে সিদ্দিকী ও খান পরিবার নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাতে একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে। ১৯৯৯ সালে সিদ্দিকী পরিবারের অন্যতম সদস্য বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বীরোত্তম আওয়ামী লীগ ছেড়ে কৃষক শ্রমিক জনতালীগ নামে আলাদা দল গঠন করেন। এরপর থেকে সিদ্দিকী পরিবারের বড় ছেলে আবদুল লতিফ সিদ্দিকী আওয়ামী লীগে থাকলেও পরিবারের অন্য সদস্যরা আওয়ামী লীগ থেকে দূরে সরে যায়। কাদের সিদ্দিকী আলাদা দল গঠন করে তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে আদর্শিক পিতা মেনে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের আদর্শ ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ করেন।

    এ সময় বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করলেও আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীক নৌকা ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতীক গামছার মধ্যে যোজন যোজন দূরত্ব সৃষ্টি হয়। সিদ্দিকী পরিবারের বড় ছেলে আবদুল লতিফ সিদ্দিকী আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য ও সরকারের মন্ত্রী থাকাবস্থায় নিউ ইয়র্কের একটি সভায় ইসলাম ধর্ম নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য দিয়ে সমালোচিত হন।

    পরে ইসলাম পন্থী দলগুলোর আন্দোলনের মুখে আবদুল লতিফ সিদ্দিকী মন্ত্রীত্ব, আওয়ামী লীগের পদ হারান এবং সর্বশেষ জাতীয় সংসদ থেকে পদত্যাগ করেন। এ সুযোগে খান পরিবার টাঙ্গাইলের আওয়ামী লীগের একচ্ছত্র কান্ডারী হিসেবে আবির্ভুত হয়।

    আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন থাকায় খান পরিবারের সদস্য সহিদুর রহমান খান মুক্তি টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র, আমানুর রহমান খান রানা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। শুধুমাত্র লতিফ সিদ্দিকীর নির্বাচনী এলাকা কালিহাতী উপজেলা ব্যতিত প্রায় সর্বত্র খান পরিবারের অনুসারীরা গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নির্বাচিত-মনোনীত হন।

    ২০১২ সালে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ পাওয়া নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদের সঙ্গে খান পরিবারের দূরত্ব সৃষ্টি হয়। খান পরিবার সবচেয়ে ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটায় ২০১৩ সালে। এ বছরের ১৮ জানুয়ারি পৌর এলাকায় কলেজপাড়া থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার তিন দিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদী হয়ে সদর থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

    গোয়েন্দা পুলিশের তদন্তে জেলার আওয়ামী রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী খান পরিবারের চার ভাই সাবেক সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা, সাবেক পৌর মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি, জাহিদুর রহমান খান কাকন ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পা হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে আসে।

    সূত্র বলছে, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদ হত্যাসহ হামলা-মামলা, অত্যাচার-নির্যাতন, জমি দখল ইত্যাকার নানা বিষয়ে বেপরোয়া হয়ে পড়ায় ধীরে ধীরে খান পরিবার জনবিচ্ছিন্ন হতে শুরু করে।

    সম্প্রতি টাঙ্গাইলের আটটি আসনের মধ্যে চারটিতেই বর্তমান সংসদ সদস্যদের আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দেয়নি। তাদের জায়গায় নতুন চারজনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। বাদ পড়া নেতাদের মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম (ভিপি জোয়াহের), টাঙ্গাইলের আলোচিত খান পরিবারের আতাউর রহমান খান, টাঙ্গাইল সদরের সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেন ও কালিহাতী থেকে নির্বাচিত মোহাম্মদ হাছান ইমাম খান সোহেল হাজারী রয়েছেন।

    জানা গেছে, টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খান এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাননি। তিনি আলোচিত খান পরিবারের কর্তা ও সাবেক সংসদ সদস্য শামসুর রহমান খানের ভাই এবং আমানুর রহমান খান রানার বাবা। শামসুর রহমান খান এ আসন থেকে সাত বার আওয়ামী লীগের মনোনয়নে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনবার সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। আমানুর রহমান খান রানা ২০১২ সালে উপ-নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এবং ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য হন।

    আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদ হত্যা মামলায় আমানুর রহমান খান রানা ও তার ভাইয়েরা অভিযুক্ত হওয়ার পর তারা আত্মগোপন করেন। পরে ২০১৮ সালের নির্বাচনে আতাউর রহমান খান আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য হন।

    আওয়ামী লীগ নেতাদের একাংশ বলছেন, নির্বাচিত হয়ে সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খান পরিবারের সদস্যদের নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। এলাকার উন্নয়ন কাজে তার সিদ্ধান্ত সব সময়ই গৌন ছিল। তার ছেলে সাবেক সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা নিজস্ব বলয় তৈরি করে তাদের মাধ্যমে উন্নয়ন কাজ করেছেন। ফলে স্থানীয় আওয়ামী লীগের সাথে আরও দূরত্ব সৃষ্টি হয়। একারণে দল আতাউর রহমান খানকে মনোনয়ন দেয়নি। এবার তার জায়গায় জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ডা. কামরুল হাসান খানকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    সর্বশেষ প্রকাশিত

    Loading…