এইমাত্র
  • জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের মনোনয়ন বৈধ
  • শীতে বিপর্যস্ত ফুলবাড়ী, বইছে শৈত্যপ্রবাহ
  • পর্দা উঠল আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার
  • বাধা-বিঘ্ন পেরিয়ে অদম্য আশার মেডিকেলে ভর্তির স্বপ্ন জয়
  • তাসনিম জারার মনোনয়নপত্র বাতিল
  • রায়পুরের চরাঞ্চলে খিরার বাম্পার ফলন
  • নিবন্ধন আইন সংশোধন, চালু হচ্ছে ই-রেজিস্ট্রেশন
  • টাঙ্গাইল-৫ আসনে বিএনপির সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা
  • বিএনপির চেয়ারম্যান হচ্ছেন তারেক রহমান, যা আছে গঠনতন্ত্রে
  • অবকাশকালীন ছুটি শেষে কাল খুলছে সুপ্রিম কোর্ট
  • আজ শনিবার, ২০ পৌষ, ১৪৩২ | ৩ জানুয়ারি, ২০২৬
    আন্তর্জাতিক

    পাকিস্তানে ইউটিউবার-সাংবাদিকসহ ৭ জনের ‘ডাবল’ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশ: ৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩৫ এএম
    আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশ: ৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩৫ এএম

    পাকিস্তানে ইউটিউবার-সাংবাদিকসহ ৭ জনের ‘ডাবল’ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশ: ৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩৫ এএম

    পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের একটি সন্ত্রাসবিরোধী আদালত (এটিসি) ইউটিউবার আদিল রাজা, সাংবাদিক ওয়াজাহাত সাঈদ খান, সাবির শাকির ও শাহীন সেহবাই, টিভি অ্যাঙ্কর হায়দার রাজা মেহদি, বিশ্লেষক মোঈদ পীরজাদা এবং সাবেক সেনা কর্মকর্তা আকবর হোসেনকে ‘পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা’ সংক্রান্ত মামলায় প্রত্যেককে দুটি করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। শুক্রবার (০২ জানুয়ারি) এই রায় ঘোষণা করেন এটিসি’র বিচারক তাহির আব্বাস সিপরা।

    ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ সালের ৯ মে পাকিস্তানে সংঘটিত দাঙ্গা–হাঙ্গামা সংশ্লিষ্ট মামলায় এ রায় দেয়া হয়। ওইদিন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের গ্রেপ্তারের পর দেশজুড়ে সহিংস বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ওই দাঙ্গার সময় সরকারি ও সামরিক স্থাপনাতেও ভাঙচুর চালানো হয়।

    এদিকে রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা ওই সময় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে সহিংসতা উসকে দেয়া, সহায়তা করা ও তা ছড়িয়ে দেয়ার মাধ্যমে ‘ডিজিটাল সন্ত্রাসে’ জড়িত ছিলেন।

    আদালত সূত্র জানায়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলার রায় তাদের অনুপস্থিতিতে বিচার (ট্রায়াল ইন অ্যাবসেনশিয়া) শেষে ঘোষণা করা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা প্রয়োগ করে পরিচালিত হয় এই বিচার কার্যক্রম।

    আদালতের আদেশ অনুযায়ী, আদিল রাজা, ওয়াজাহাত সাঈদ খান, শাহীন সেহবাই ও হায়দার রাজা মেহদির বিরুদ্ধে ইসলামাবাদের রামনা থানায় মামলা দায়ের করা হয়। অপরদিকে সাবির শাকির, আকবর হোসেন ও মোঈদ পীরজাদার বিরুদ্ধে মামলা ছিল আবপাড়া থানায়।

    রায়ে আদালত ‘পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা বা তাতে সহায়তা’ এবং ‘ফৌজদারি ষড়যন্ত্র’—এই দুই অভিযোগে প্রত্যেককে দুটি করে সশ্রম যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। পাশাপাশি প্রতিটি অপরাধের জন্য পাঁচ লাখ রুপি করে জরিমানাও ধার্য করা হয়েছে।

    এছাড়া পাকিস্তান দণ্ডবিধির (পিপিসি) ১২১-এ ধারা অনুযায়ী, প্রত্যেককে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও দুই লাখ রুপি জরিমানা দেয়া হয়েছে। এই ধারাটি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার ষড়যন্ত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত। একই সঙ্গে পিপিসির ১৩১ ধারায় (সেনা সদস্যদের বিদ্রোহে প্ররোচনা বা দায়িত্ব থেকে বিচ্যুত করার চেষ্টা) আরও ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও দুই লাখ রুপি জরিমানা আরোপ করা হয়েছে। এছাড়া সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ১৯৯৭-এর অধীনে তিনটি পৃথক অভিযোগে প্রত্যেককে তিন দফায় পাঁচ বছর করে কঠোর কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এসব অপরাধে প্রত্যেককে দুই লাখ রুপি করে জরিমানাও দিতে হবে।

    আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, কোনো অপরাধের জরিমানা পরিশোধে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট দণ্ডের সঙ্গে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড যুক্ত হবে। তবে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৮২-বি ধারার সুবিধা দেয়া হয়েছে, অর্থাৎ আগে আটক অবস্থায় কাটানো সময় সাজা ভোগের মেয়াদ হিসেবে গণ্য হবে। একই সঙ্গে সব সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়।

    আদালত আরও জানান, দণ্ডপ্রাপ্তদের ইসলামাবাদ হাইকোর্টে সাত দিনের মধ্যে আপিল করার অধিকার রয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে, অভিযুক্তরা ধরা পড়লে তাদের গ্রেপ্তার করে সাজা কার্যকরের জন্য কারাগারে পাঠাতে।

    মামলার বিচারকালে রাষ্ট্রপক্ষ ২৪ জন সাক্ষী উপস্থাপন করে। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন পাবলিক প্রসিকিউটর রাজা নাভিদ হোসেনকায়ানি এবং অভিযুক্তদের পক্ষে আদালত নিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট গুলফাম আশরাফ গোরাইয়া।

    এবি

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    Loading…