বাবার মৃত্যুর পর অভিভাবহীন হয়ে পড়েন রাফিয়া সুলতানা আশা। উপায় না পেয়ে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েই বসেন বিয়ের পিড়িতে। তবে মায়ের অদম্য ইচ্ছা, স্বামীর সহযোগিতায় অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন তিনি।
ছোটবেলা থেকেই বাবার স্বপ্ন ছিল চিকিৎসক হবেন আশা। বাবা চলে গেলেও সেই স্বপ্নের দেখা পেয়েছেন তিনি। চলতি বছর টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ হয়েছে তার।
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার কাচন ডুমুরিয়া গ্রামে বাড়ী রাফিয়া সুলতানা আশার। তিনি ওই এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য মরহুম আশরাফ আলীর বড় মেয়ে।
জানা গেছে, ৩ বোনের মধ্যে আশা বড়। অন্য দুই বোন পড়াশোনা করছেন মাধ্যমিক ও প্রাথমিকে। বাবার মৃত্যুর পর সবার দায়িত্ব এসে পড়ে মা বিলকিস বানুর কাধে।
সেনুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক, পীরগঞ্জ বনিক উচ্চ বিদ্যালয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার পর প্রতিবেশী স্কুল শিক্ষক তরিকুল ইসলামের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হোন আশা। বিয়ের পরেও সবার সম্মতি নিয়ে পীরগঞ্জ সরকারি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে পরীক্ষা দেন মেডিকেলে ভর্তির।
আশা বলেন, ‘বাবার ইচ্ছে ছিল আমি চিকিৎসক হয়ে গ্রামের সাধারণ মানুৃষের পাশে দাঁড়াবো। আমি সেই স্বপ্ন পুরণ করতে পরিশ্রম করছি। মা ও আমার স্বামী আমাকে সহযোগিতা করছেন, সাহস যোগাচ্ছেন। আমি কৃতজ্ঞ আমার শিক্ষকদের প্রতি, তারা ছোটবেলা থেকে সাহস দিতেন, উৎসাহ দিতেন।’
আশার মা বিলকিস বানু বলেন, ‘স্বামী মারা যাওয়ার কারণে অসহায় হয়ে পড়েছিলাম। ছেলে নেই, তিন মেয়ের অভিভাবক বলতে আমি। নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে বিয়ে দিয়েছিলাম। তবে জামাই ও মেয়ের শ্বশুড়বাড়ীর লোকজন তাকে পড়াশোনা করাবে কথা দিয়েছিল। কথা রেখেছে।’ মেয়ের জন্য দোয়া চান তিনি।
আশার প্রাথমিকের শিক্ষক আব্দুল মাজেদ বলেন, ‘তার (আশা) বাবা স্কুলে ভর্তির সময় বলেছিলেন, মেয়েটাকে দিয়ে গেলাম। তাকে চিকিৎসক বানাবো, সেইভাবে পড়াবেন। তার বাবা চলে গেছেন ৫ বছর হলো। মেয়েটার অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও মেধায় বাবার স্বপ্ন পুরণ হতে চলেছে। আমরা সবাই দোয়া করছি।’
স্বামী তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘মাঝে মাঝেই ভেঙ্গে পড়তো আশা। তাকে উৎসাহ দিয়েছি, তার মেধা রয়েছে। আমি খুব আশাবাদী সে ভালো কিছু করবে দেশের জন্য, এলাকার জন্য।’
ইখা