ফরিদপুর–১ (আলফাডাঙ্গা, বোয়ালমারী ও মধুখালী) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলামের প্রার্থিতা নিয়ে থাকা অনিশ্চয়তার অবসান হয়েছে। তথ্য গোপন ও নথিপত্রে গরমিলের অভিযোগে করা আপিল খারিজ করে তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এতে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ আসনে নির্বাচনী মাঠ অনেকটাই স্পষ্ট হলো।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে এই আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। উভয় পক্ষের বক্তব্য ও দাখিল করা নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে কমিশন এই সিদ্ধান্ত দেয়।
এর আগে ফরিদপুর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা খন্দকার নাসিরুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন। তবে ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন একই আসনের এনডিএফ মনোনীত প্রার্থী শাহ মো. আবু জাফর। আপিল আবেদনে তিনি অভিযোগ করেন, খন্দকার নাসিরের আয়কর সনদ ও হলফনামায় তথ্যগত গরমিল রয়েছে এবং রিটার্নিং কর্মকর্তা তাঁকে নিয়মবহির্ভূতভাবে নথিপত্র সংশোধনের সুযোগ দিয়েছেন।
শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশন অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ায় শাহ জাফরের আপিল খারিজ করে দেয় এবং রিটার্নিং কর্মকর্তার দেওয়া সিদ্ধান্ত বহাল রাখে।
নির্বাচন কমিশনের এই চূড়ান্ত রায়ের খবর ফরিদপুর–১ আসনের বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছালে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা যায়।
রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় খন্দকার নাসিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি শুরু থেকেই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলাম। সত্যের জয় হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সঠিক ও নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে—এ জন্য আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।’ তিনি আরও বলেন, ‘কোনো ষড়যন্ত্রই আমাকে নির্বাচন থেকে দূরে সরাতে পারেনি। এখন আমার একমাত্র লক্ষ্য এই আসনের অবহেলিত মানুষের অধিকার ফিরিয়ে আনা এবং সুষ্ঠু ভোটের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা।’
ইখা