রাজধানীর উত্তরায় সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের বর্বরোচিত হামলায় আহত অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য ও ‘আলাল গ্রুপ’-এর প্রটোকল অফিসার মাহবুব আলম (৫৭) মারা গেছেন।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এদিকে, এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার পর র্যাব রাজধানীর শ্যামলী এলাকা থেকে ছিনতাইকৃত লাইসেন্সধারী শটগান ও চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে।
গত শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উত্তরা ১৪ নম্বর সেক্টরের ১২ নম্বর রোডে ২৪ নম্বর বাসার সামনে ডিউটিরত ছিলেন মাহবুব আলম। র্যাব-১-এর মিডিয়া কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাকিব হাসান জানান, একটি সাদা প্রাডো গাড়ি, একটি নিসান এক্সট্রেইল এবং একটি মোটরসাইকেলে আসা ৬ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি অতর্কিতভাবে তার ওপর হামলা চালায়।
হামলাকারীরা মাহবুব আলমকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় আঘাত করে এবং একপর্যায়ে তার কাছে থাকা লাইসেন্সধারী শটগানটি ছিনিয়ে নিয়ে সেটি দিয়েই তার মুখের বাম পাশের চোয়ালে গুরুতর জখম করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ত্রাসীরা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে প্রাডো গাড়ি থেকে এক ব্যক্তিকে জোরপূর্বক অন্য একটি গাড়িতে তুলে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
ঘটনার পর নিহতের ছেলে আব্দুল্লাহ বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন। মামলার পর ছায়া তদন্ত শুরু করে র্যাব। রোববার রাত ১টা ৪৫ মিনিটে র্যাব-১ ও ডিএমপি’র যৌথ অভিযানে শেরেবাংলা নগর থানার শ্যামলী কল্যাণ সমিতির একটি গার্মেন্টস গোডাউন থেকে একটি প্লাস্টিকের বস্তায় লুকানো অবস্থায় ছিনতাইকৃত তুর্কি শটগান ও ৪ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।
নিহত মাহবুব আলমের গ্রামের বাড়ি চাঁপিনাঞ্জগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায়। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
উত্তরা পশ্চিম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. কামরুল জানান, মামলাটি এখন হত্যা মামলা হিসেবে গণ্য হবে। র্যাব ও পুলিশ যৌথভাবে এই হামলা ও অপহরণে জড়িতদের শনাক্ত এবং গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
এসআর