এইমাত্র
  • বাংলাদেশ অংশ না নিলে বিশ্বকাপ খেলবে যে দল
  • দেবীগঞ্জে বৈধ ওয়ারিশ বাদ দিয়ে সনদ প্রদানের অভিযোগ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে
  • শাকসু নির্বাচন স্থগিত আদেশের বিরুদ্ধে চেম্বার আদালতে আবেদন
  • ভারত থেকে দুই লাখ টন সিদ্ধ চাল আমদানির অনুমতি দিল সরকার
  • নির্বাচনী নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৮ লাখ সদস্য, থাকছে ড্রোন-ডগ স্কোয়াড
  • ঈশ্বরদীতে চিরকুট লিখে অপরিচিত নারীর কোলে শিশু রেখে পালালেন মা
  • শাকসু নির্বাচন স্থগিত
  • মাস্তুল ফাউন্ডেশনের যাকাত কনফারেন্স অনুষ্ঠিত
  • জমে উঠেছে ইউরোপের শীর্ষ ৫ লিগের শিরোপা লড়াই
  • চাটমোহরে বালতির পানিতে পড়ে শিশুর মৃত্যু
  • আজ সোমবার, ৬ মাঘ, ১৪৩২ | ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
    দেশজুড়ে

    দেবীগঞ্জে বৈধ ওয়ারিশ বাদ দিয়ে সনদ প্রদানের অভিযোগ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে

    নাজমুস সাকিব মুন, পঞ্চগড় প্রতিনিধি প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:৩২ পিএম
    নাজমুস সাকিব মুন, পঞ্চগড় প্রতিনিধি প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:৩২ পিএম

    দেবীগঞ্জে বৈধ ওয়ারিশ বাদ দিয়ে সনদ প্রদানের অভিযোগ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে

    নাজমুস সাকিব মুন, পঞ্চগড় প্রতিনিধি প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:৩২ পিএম
    ছবি: দেবীডুবা ইউনিয়ন পরিষদ ভবন (ইনসেটে পরেশ চন্দ্র রায়)

    পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে একটি পরিবারের একাধিক বৈধ ওয়ারিশের নাম বাদ দিয়ে ওয়ারিশন সনদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দেবীডুবা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পরেশ চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে।

    অনুসন্ধানে জানা গেছে, দেবীগঞ্জ উপজেলার দেবীডুবা ইউনিয়নের সোনাপোতা এলাকার বাসিন্দা আবুল হোসেন মৃত্যুকালে দুই স্ত্রী, সাত মেয়ে ও দুই ছেলে রেখে যান। তবে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ইস্যু করা একটি ওয়ারিশন সনদে তার মোট ওয়ারিশ হিসেবে মাত্র সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এতে প্রথম স্ত্রীসহ তার ঘরের দুই মেয়ে ও এক ছেলের নাম বাদ পড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

    ২০২২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি দেবীডুবা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ১১২ নম্বর স্মারকে ইস্যু করা ওই ওয়ারিশন সনদে আবুল হোসেনের স্ত্রী হিসেবে মোছা ছকিনা খাতুন, ছেলে মো. আব্দুল্লাহ মাসুদ এবং মেয়ে মোছা রহিমা বেগম (রিনা), মোছা মনোয়ারা পারভীন, মোছা আয়শা সিদ্দিকা, মোছা রুনা লায়লা ও মোছা সেরিনা আক্তারের নাম উল্লেখ করা হয়। তবে সেখানে তাঁর প্রথম স্ত্রী মঞ্জুয়ারা খাতুন, দুই মেয়ে মোছা আনজুমা হাসনেয়ারা ও মোছা ফাতেমা বেগম এবং ছেলে মো. মোজাম্মেল হকের নাম নেই।

    কিন্তু পারিবারিক তথ্য ও স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত তথ্যে জানা যায়, আবুল হোসেনের দুই স্ত্রী ছিলেন মঞ্জুয়ারা খাতুন ও মোছা ছকিনা খাতুন। তাঁর সন্তানদের মধ্যে সাত মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছেন। এ ছাড়া মানিক নামে এক ছেলে পিতার মৃত্যুর আগেই অবিবাহিত অবস্থায় মারা যান।

    এ বিষয়ে দেবীডুবা ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য উমাপদ রায় বলেন, ‘মৃত আবুল হোসেনের দুই স্ত্রী ও নয়জন সন্তানসহ মোট ওয়ারিশ ১১ জন। অথচ আলোচিত ওয়ারিশন সনদে মাত্র সাতজনের নাম রয়েছে। এতে কয়েকজন বৈধ ওয়ারিশের নাম বাদ পড়েছে, যা সঠিক নয়।’

    ওয়ারিশন সনদে নিজের মা ও বোনদের নাম না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে আবুল হোসেনের ছেলে মো. মোজাম্মেল হক বলেন, ‘আমার বাবার দুইজন স্ত্রী ছিলেন এবং আমরা তিন ভাই ও সাত বোন। এর মধ্যে মানিক নামে একজন ভাই আমার বাবার মৃত্যুর আগে অবিবাহিত অবস্থায় মারা যান। আমার মা বড় স্ত্রী। অথচ আমার মা, আমাকে এবং আমার দুই বোনের নাম ওয়ারিশন সনদে দেওয়া হয়নি। আমাদের পিতৃপরিচয় কেড়ে নেওয়া হয়েছে। আমি দাবি জানাচ্ছি, অতিসত্বর এই ওয়ারিশন সনদ বাতিল করা হোক।’

    অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, জমির নামজারির সময় সৎ মা ও ভাইবোনদের নাম বাদ দিয়ে কেবল নিজের মা ও বোনদের নাম উল্লেখ করে ভূমি অফিসে কাগজপত্র দাখিল করেন আবুল হোসেনের ছেলে মো. আব্দুল্লাহ মাসুদ।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুল্লাহ মাসুদ কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। ওয়ারিশন সনদ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে জমিসংক্রান্ত আলোচনা করতে থাকেন এবং বারবার দেখা করার অনুরোধ জানান। একপর্যায়ে তিনি জানান, যিনি অভিযোগ করেছেন, তাকে সঙ্গে নিয়ে এলে তিনি বিষয়টি ব্যাখ্যা দেবেন।

    অন্যদিকে অভিযোগ রয়েছে, ওয়ারিশন সনদ প্রদানের ক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে যথাযথ যাচাই-বাছাই ও প্রয়োজনীয় তদন্ত ছাড়াই আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে চেয়ারম্যান পরেশ চন্দ্র রায় এতে স্বাক্ষর করেছেন।

    তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দেবীডুবা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পরেশ চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমি শপথ নিয়েছি ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি। অথচ ওয়ারিশনে তারিখ দেওয়া হয়েছে ২০২২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি। আমি এই ওয়ারিশনে স্বাক্ষর করিনি। আমার স্বাক্ষর এডিট বা জাল করা হয়েছে।’

    স্বাক্ষর জাল করে তৈরি করা ভুয়া ওয়ারিশন সনদ বাতিলের কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অভিভাবক হিসেবে আছেন। তার সঙ্গে পরামর্শ করে এ বিষয়ে জানাব।’

    এই বিষয়ে জানতে স্থানীয় সরকারের উপপরিচালকের (অতিরিক্ত দায়িত্ব) দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সীমা শারমিনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে বক্তব্য জানতে চেয়ে বার্তা পাঠানো হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

    ইখা

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    চলতি সপ্তাহে সর্বাধিক পঠিত

    সর্বশেষ প্রকাশিত

    Loading…