ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের নির্বাচনী মাঠে দেখা যাচ্ছে ব্যাপক সরবতা। গ্রাম থেকে শহর, হাট-বাজার থেকে অলিগলি-সবখানেই এখন ভোটের আলোচনা। জেলার ৮টি সংসদীয় আসনের মধ্যে প্রচার-প্রচারণার দিক থেকেও সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে এই আসনটি। জেলা সদর হওয়ায় সবার নজর এখন টাঙ্গাইল-৫ এর দিকে।
এই সরব প্রচারণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক ও ধানের শীষের প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। ধারাবাহিক গণসংযোগ, বহুমাত্রিক প্রচারণা ও নেতাকর্মীদের সক্রিয়তায় ইতোমধ্যেই তিনি নির্বাচনী মাঠ জমিয়ে তুলেছেন বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৪ লাখ ৬২ হাজার ৪১২ জন ভোটারের বিপরীতে এ আসনে প্রার্থী ১০ জন। সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ছাড়া আসনটিতে প্রার্থী হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আহসান হামীব মাসুদ, বাংলাদেশ কংগ্রেসের এ কে এম শফিকুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের খন্দকার জাকির হোসেন, গণসংহতি আন্দোলনের ফাতেমা আক্তার, স্বতন্ত্র মো. ফরহাদ ইকবাল, জাতীয় পার্টির মো. মোজাম্মেল হক, গণঅধিকার পরিষদের মো. শফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ সুপ্রীম পার্টির মো. হাসরত খান ভাসানী এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সৈয়দ খালেকুজ্জামান মোস্তফা। তবে প্রচারণার মাঠে দৃশ্যমান উপস্থিতি, জনসম্পৃক্ততা ও কার্যক্রমের দিক থেকে সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর ধারেকাছে অন্য কোনো প্রার্থী নেই, এমনটাই মনে করছেন অনেক ভোটার ও স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা।
জানা গেছে, তফসিল ঘোষণার পর থেকেই পুরোদমে মাঠে নেমে পড়েন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তিনি বিভিন্ন ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও পাড়া-মহল্লায় গণসংযোগ করছেন। কখনও হাটে-ঘাটে, কখনও দোকানপাটে, আবার কখনও কৃষকদের মাঠে গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলছেন। সাধারণ মানুষের খোঁজখবর নিচ্ছেন, তাদের সমস্যার কথা শুনছেন এবং ধানের শীষ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন পর টাঙ্গাইল-৫ আসনে এমন সরব নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিনই মিছিল, গণসংযোগ, পথসভা ও মাইকিং দেখা যাচ্ছে। এসব কর্মসূচির বেশিরভাগেই সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে টুকুর।
প্রচারণায় ভিন্নমাত্রা আনতে ডিজিটাল মাধ্যমেও জোর দিয়েছেন তিনি। মুঠোফোনে সরাসরি ভোটারদের কল দিয়ে সালাম ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন, একই সঙ্গে ভোট প্রার্থনা করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার নির্বাচনী বার্তা, উন্নয়ন পরিকল্পনা ও প্রচারণার বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়মিত প্রচার করা হচ্ছে। এতে তরুণ ভোটারদের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
এছাড়া মাঠ পর্যায়ের প্রচারণা চলছে দিনভর। রিকশা, সিএনজি ও পিকআপে মাইকিংয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী বার্তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। কোথাও কোথাও পিকআপে ঘুরে ঘুরে বাউলশিল্পী ও নাট্যশিল্পীদের পরিবেশনায় আয়োজন করা হচ্ছে বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান। গান, নাটক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাওয়া হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করেছে।
প্রচারণার দৃশ্যমান দিক থেকেও এগিয়ে আছেন টুকু। শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত বিভিন্ন সড়ক, বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে তার সমর্থনে ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টারের উপস্থিতি চোখে পড়ছে। দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, প্রতিটি ওয়ার্ড ও ইউনিয়নে আলাদা আলাদা টিম গঠন করে প্রচারণা চালানো হচ্ছে, যার ফলে ব্যানার-ফেস্টুনের সংখ্যাতেও অন্য প্রার্থীদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে ধানের শীষের প্রচারণা।
দলীয় নেতাকর্মীরাও সক্রিয়ভাবে মাঠে কাজ করছেন। বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ইউনিয়নে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি পথসভা, লিফলেট বিতরণ, মিছিল ও মতবিনিময় সভা অব্যাহত রয়েছে।
নির্বাচনী প্রচারণায় টুকু ভোটারদের কাছে উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন। তিনি বলছেন, টাঙ্গাইলকে সন্ত্রাস, মাদক, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাংমুক্ত আধুনিক ও নিরাপদ জেলায় পরিণত করাই তার প্রধান লক্ষ্য। দলমত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই যেন শান্তিতে বসবাস করতে পারে, সেই লক্ষ্যেই তিনি ভোটারদের সহযোগিতা কামনা করছেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ধারাবাহিক গণসংযোগ, বহুমুখী প্রচারণা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মাধ্যমে টাঙ্গাইল-৫ আসনের নির্বাচনী মাঠে প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। এসব কার্যক্রমের কারণে এ আসনের নির্বাচনী লড়াই ক্রমেই জমে উঠছে।
এসকে/আরআই