প্রথম দেখায় মনে হতে পারে সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলছে লাউ। কিন্তু বাস্তবে এগুলো লাউ নয়, বরং রাখাইন বা বার্মিজ জাতের বেগুন। স্থানীয়ভাবে যা ‘রাখাইন বেগুন’ নামে পরিচিত। একেকটি বেগুনের ওজন ১ থেকে ২ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে।
বরগুনার তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের অঙ্কুজানপাড়া এলাকার কৃষক মং মং রাখাইন এই জাতের বেগুন চাষ করে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তিনি এক একর জমিতে প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ করে এ বেগুনের চাষ করেছেন। বাজারে চাহিদা ও দাম ভালো থাকায় প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ১২০ টাকায়। এখন পর্যন্ত তিনি প্রায় ২ লাখ টাকার বেগুন বিক্রি করেছেন।
মং মং রাখাইনের মতো একই উপজেলার বড়বগী ইউনিয়নের নয়াভাইজোড়া এলাকার কৃষক মুনছুর মুন্সিও এক একর জমিতে এই জাতের বেগুন চাষ করেছেন। বীজ বপনের মাত্র তিন মাসের মধ্যেই ক্ষেতজুড়ে এসেছে বাম্পার ফলন। দারুণ উৎপাদন দেখে আনন্দিত তিনি।
চাষি মং মং রাখাইন বলেন, “একেকটি বেগুনের ওজন ১ থেকে ২ কেজি পর্যন্ত হচ্ছে। প্রতিটি গাছেই ১২ থেকে ১৫ কেজি পর্যন্ত ফলন পাওয়া যাচ্ছে। অন্যান্য জাতের তুলনায় রোগ-বালাই কম, সেচও লাগে কম। স্বাদেও এটি অতুলনীয় এবং বিচি খুবই কম। বাজারে চাহিদা থাকায় আর্থিকভাবে এটি অনেক লাভজনক।”
চাষি মুনছুর মুন্সি বলেন, “এই জাতের বেগুনের বীজ রোপণের মাত্র ৯০ দিনের মধ্যেই ফলন পাওয়া যায়। সার, চারা, শ্রমিক, সেচ ও বালাইনাশকসহ একরপ্রতি খরচ হয় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা। প্রতি কেজি বেগুন ৬০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি করেছি। এখন পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ টাকার মতো বিক্রি হয়েছে। আরও ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা বিক্রি করতে পারব।”
তিনি আরও জানান, কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় আশপাশের কৃষকরাও এ বেগুন চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
তালতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু জাফর মো. ইলিয়াস বলেন, “আমাদের উপজেলায় প্রতি বছর ৮ থেকে ১০ হেক্টর জমিতে রাখাইন জাতের বেগুন চাষ হয়। লাভ বেশি হওয়ায় দিন দিন চাষের পরিমাণ বাড়ছে।”
তিনি আরও বলেন, “কৃষি বিভাগ সব সময় কৃষকদের পাশে রয়েছে। মাঠপর্যায়ে গিয়ে নিয়মিত পরিদর্শন ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। চাষিদের যেকোনো সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
ইখা