ঝিনাইদহের মহেশপুরে দুর্বৃত্তদের হামলায় প্রেসক্লাব কার্যালয় ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ের পাশেই অবস্থিত 'প্রেসক্লাব মহেশপুর' কার্যালয়ে এই হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রেসক্লাব সূত্রে জানা গেছে, রাতে অজ্ঞাত কয়েকজন ব্যক্তি কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। দুর্বৃত্তরা অফিস কক্ষের আসবাবপত্র তছনছ করে এবং আলমারি ও ড্রয়ার ভেঙে একটি ল্যাপটপ, নগদ টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যায়। হামলার সময় কার্যালয়ে কেউ উপস্থিত ছিলেন না।
ঘটনার কিছু সময় পর স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দকে খবর দেন। পরে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সাংবাদিকেরা সেখানে গিয়ে ভাঙচুরের তাণ্ডব দেখতে পান। এ সময় কার্যালয়ের দরজা-জানালা ও আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।
প্রেসক্লাবের সভাপতি সরোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া এক যৌথ বিবৃতিতে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাঁরা বলেন, "সাংবাদিকদের সংগঠনের ওপর এ ধরনের হামলা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। এটি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানে হামলা নয়, বরং স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর আঘাত।" নেতৃবৃন্দ দ্রুততম সময়ের মধ্যে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলেও তাঁরা উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, "আমরা বিষয়টি শুনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
ঘটনার পর মহেশপুরে কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করে, স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
এনআই