বরগুনার পাথরঘাটায় এক যুবককে কুপিয়ে হাত বিচ্ছিন্ন করার জেরে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর গণপিটুনিতে মো. আবুল বাসার সুজন (৩৮) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার রায়হানপুর ইউনিয়নের মধ্য লেমুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। উত্তেজিত জনতা সুজনের চোখ উপড়ে ফেলার পাশাপাশি তাঁর ঘরবাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বলে জানা গেছে। নিহত সুজন ওই এলাকার মৃত বজলু মিয়ার ছেলে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি এলাকায় চিহ্নিত সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে মোবাইল সংক্রান্ত একটি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে একই এলাকার মন্টু মিয়ার ছেলে কালু মিয়াকে (২০) মারধর করেন সুজন। খবর পেয়ে কালুর বড় ভাই রিয়াজ (২৮) ঘটনাস্থলে গেলে সুজন তাঁর ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে চড়াও হন। এ সময় সুজন রিয়াজকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাঁর একটি হাত দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেন। গুরুতর আহত রিয়াজকে উদ্ধার করে প্রথমে মঠবাড়িয়া এবং পরবর্তীতে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক।
রিয়াজের ওপর এমন নৃশংস হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে রায়হানপুর ইউনিয়নের লেমুয়া গ্রামে উত্তেজনা দেখা দেয়। কয়েকশ এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে সুজনের বাড়িতে হামলা চালায়। বিক্ষুব্ধ জনতা সুজনকে গণপিটুনি দেয় এবং একপর্যায়ে তাঁর চোখ উপড়ে ফেলে। এ সময় সুজনের বসতবাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে দুপুর ২টার দিকে পাথরঘাটা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় সুজনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
পাথরঘাটা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অশিত বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। নিহতের লাশ বর্তমানে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, পুরো এলাকায় বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। ঘটনার নেপথ্যে থাকা মূল কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু হয়েছে। আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এনআই