মাদারীপুর-২ আসনের নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভোটের ফলাফল প্রত্যাখান করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মিল্টন বৈদ্য। এ সময় এই আসনের বিএনপির বিজয়ী প্রার্থী জাহান্দার আলী মিয়ার বিরুদ্ধে ভোটে নানা কারচুপির অভিযোগ তোলেন তিনি।
শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজৈর উপজেলার আমগ্রাম এলাকায় প্রার্থী নিজ বাড়িতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এ সময় তার বাড়িতে পরিবারের লোকজন ছাড়াও শতশত কর্মী সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে পরাজিত প্রার্থী মিল্টন বৈদ্য বলেন, ‘অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল আমি প্রত্যাখান করছি। আশা ছিল, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে ভোট হবে। প্রভাবমুক্ত পরিবেশে ভোট হবে সেটাই ভেবেছিলাম। কিন্তু দেখা গেছে, মাদারীপুর সদরের রাস্তি, কুলপদ্বীসহ অনেকগুলো কেন্দ্রে আমার এজেন্টকে বের করে দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের রেজাল্ট শিটে ফলাফল ঘোষণার আগেই এজেন্টদের থেকে সই রেখে তাদের বের করে দেওয়া হয়েছে। সদরে দুপুর ৩টা পর্যন্ত ২০ থেকে ২৫ শতাংশ ভোট পড়লেও আধাঘন্টার ব্যবধানে মধ্যে ১৫ শতাংশ ভোট বেড়ে যায়, যা ছিল সন্দেহজনক। বিষয়গুলো নির্বাচনের দিন আমি অনেক কেন্দ্রেই হাতেনাতে ধরে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। কিন্তু তাতে কোন কাজ হয়নি। প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থাও নিতে পারেনি।’
মিল্টন বৈদ্য আরো বলেন, নির্বাচনে জনগণ যে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে তার প্রতিফলন ঘটেনি। নির্বাচনের পূর্নাঙ্গ ফলাফলের আগেই প্রার্থী বিজয় মিছিল করেছে। বিএনপির ডামি প্রার্থী শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে তার ভাই লিটন খান ও শিপন খান দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ মিছিল নিয়ে আমার বাড়িতে হামলা চলাতে এসেছিল। কিন্তু আমার কর্মী সমর্থকরা প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এতে আমার কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে আমার ভোটাররা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। আমার বাড়িতে দিনরাত পুলিশ পাহারা দিচ্ছে। আমার কর্মী সমর্থক ও ভোটারদের বাড়িতে কে পাহারা দেবে? নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকে রাজৈর এলাকায় ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হচ্ছে। আমি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
এসআর