নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে দুর্নীতি, দালালদের দৌরাত্ম্য, অব্যবস্থা, গ্রাহকদের ভোগান্তির ঘটনা নতুন নয়৷ প্রতিনিয়ত পাসপোর্ট সংক্রান্ত কাজে এসে বাড়তি টাকা গোনার পাশাপাশি সীমাহীন হয়রানির শিকার হচ্ছেন সেবাপ্রত্যাশীরা৷ আর সেসব ঘটনা গোপন রাখতে 'সাংবাদিক ঠেকাও' মিশনে নেমেছেন অফিস সহকারী ফারুক ইসলাম৷ পুরো কার্যালয়টিই যেন এখন ফারুকের দখলে৷
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে সময়ের কণ্ঠস্বরের প্রতিনিধি ও অন্য একটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিনিধি পাসপোর্ট অফিসের অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্যানুসন্ধান করতে যান৷ সাংবাদিকদের উপস্থিতির কথা জেনে নিচে নেমে আসেন ফারুক৷ মূল ফটকের সামনেই সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা দেন৷ ফারুক দাবি করেন, ভেতরে প্রবেশ করতে হলে ঢাকার আগারগাঁওয়ের বিভাগীয় অফিস থেকে লিখিত অনুমতি আনতে হবে৷
একপর্যায়ে তিনি সাংবাদিকদের সাথে দুর্ব্যবহার করেন এবং তাদেরকে বের করে দিতে নিরাপত্তারক্ষীদের বারবার বলতে থাকেন৷ ঘটনাটি ভিডিও করার চেষ্টা করলে ফারুক প্রতিবেদকের কাছ থেকে মোবাইল কেড়ে নেন৷
ফারুকের ব্যবহারের জন্য পরবর্তীতে উপপরিচালক শামীম আহমেদ সাংবাদিকদের কাছে দুঃখপ্রকাশ করেন এবং মোবাইল ফেরত দেন৷
পাসপোর্ট অফিসে উপস্থিত থাকা সেবাপ্রত্যাশীদের সাথে কথা বলে জানা যায় ফারুকের আদ্যোপান্ত৷ মনজুর আহমেদ নামের এক গ্রাহক জানান, সব কাগজপত্র ঠিক থাকার পরেও তাকে চারবার কাউন্টার থেকে ফেরত দেয়া হয়৷ পরে দালালচক্রের মাধ্যমে পাসপোর্ট অফিসে কর্মরত এক 'দরবেশ'- এর শরণাপন্ন হলে বাড়তি দুই হাজার টাকা ঘুস দেয়ার সাথে সাথেই তার কাজটি করে দেয়া হয়৷
নূরজাহান বেগম নামে এক গ্রাহক জানান, দালালের মাধ্যমে তিন হাজার টাকা বেশি দিয়ে পাসপোর্ট করাচ্ছেন তিনি৷ দালাল তাকে জানিয়েছেন, ঘুসের এই টাকা অফিসের সিন্ডিকেটকে ভাগবাটোয়ারা করে দিতে হয়৷ ঘুস না দিলে বিভিন্ন অজুহাতে গ্রাহকদের হয়রানি করে ওই সিন্ডিকেট৷
পাসপোর্ট অফিসের একজন নিরাপত্তারক্ষী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দুর্নীতির পুরো সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণ ফারুকের হাতে৷ ঘুস নিয়ে পাসপোর্ট করা, রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট করে দেয়াসহ বিভিন্ন অনিয়মের মূল হোতা ফারুক৷ এসব যাতে গণমাধ্যমে না আসে, সেজন্যই সাংবাদিকদের প্রবেশে অলিখিত নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন ফারুক৷
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ফারুক আহম্মেদকে একাধিকবার মোবাইল ফোনে কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি৷
এসআর